Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাস – বার্ট্রান্ড রাসেল

    বার্ট্রান্ড রাসেল এক পাতা গল্প493 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৬. অসূয়ণকারী এবং সন্দেহবাদীগণ

    ২৬. অসূয়ণকারী এবং সন্দেহবাদীগণ

    বৌদ্ধিকভাবে সমসাময়িক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বিভিন্ন যুগে ছিল বিভিন্নরকম। কোনো কোনো সৌভাগ্যের যুগে তাঁদের সঙ্গে পরিবেশের মোটামুটি একটা সামঞ্জস্য থাকত- সন্দেহ নেই, যে সমস্ত সংস্কার তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় মনে হতো তার ইঙ্গিত তাঁরা দিতেন কিন্তু তাঁদের যথেষ্ট বিশ্বাস থাকত সে ইঙ্গিতগুলো সমাদৃত হবে এবং যদি সংস্কারগুলো নাও সম্পন্ন হতো তাহলেও যে বিশ্বে তারা বাস করতেন সে বিশ্ব তাদের অপছন্দ হতো না। অন্য সময় তারা ছিলেন বিপ্লবী, মনে করতেন মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন কিন্তু আশা করতেন অংশত তাঁদের সুপারিশের জন্য এই পরিবর্তনগুলো নিকট ভবিষ্যতে রূপায়িত হবে। এবং আরও অন্য সময়ে তারা বিশ্ব সম্পর্কে হতাশ হয়েছেন এবং বোধ করেছেন, যদিও তারা নিজেরা জানেন প্রয়োজনটা কী, সেটা ঘটবার কোনো আশা নেই। এই মনোভাব সহজেই গভীরভাবে হতাশায় ডুবে যায়, ফলে মনে হয় পার্থিব জীবন মূলত মন্দ এবং উত্তমের আশা থাকে শুধুমাত্র ভবিষ্যৎ জন্মে কিংবা কোনো অলৌকিক পরিবর্তনে।

    কোনো কোনো যুগে সমসাময়িক বিভিন্ন মানুষ এই সবকটি দৃষ্টিভঙ্গির কোনো না কোনোটা গ্রহণ করেছেন। উদাহরণ, বিচার করুন উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম অংশ। গ্যেটে ছিলেন স্বচ্ছন্দ, বেন্থাম একজন সংস্কারক, শেলী বিপ্লবী এবং লিওপার্দি দুঃখবাদী। কিন্তু অধিকাংশ যুগে মহান লেখকদের একটি প্রধান সুর ছিল। ইংল্যান্ডে এলিজাবেথের আমলে ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে তারা স্বচ্ছন্দ ছিলেন, ফ্রান্সে ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ তাঁরা বিপ্লবী হয়েছিলেন, জার্মানিতে ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে তাঁরা জাতীয়তাবাদী হয়ে গিয়েছেন।

    যাজক সম্প্রদায়ের আধিপত্যের যুগে খ্রিষ্টিয় পঞ্চম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত তাত্ত্বিকভাবে যা বিশ্বাস করা হতো এবং কার্যক্ষেত্রে যা অনুভব করা যেত তার ভিতরে একটা দ্বন্দ্ব ছিল। তাত্ত্বিকভাবে, জগৎ ছিল অশ্রুর গুণ্ঠন, দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে আগামী বিশ্বের জন্য প্রস্তুতি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে বইগুলোর লেখকরা প্রায় সবাই যাজক হওয়ায় চার্চের ক্ষমতাতে উৎসাহিত না হয়ে পারেননি, এবং তাঁরা প্রচুর পরিমাণে এক বিশেষ ধরনের কর্মতৎপরতার সুযোগ পেতেন এবং এর প্রয়োজন আছে বলে বিশ্বাস করতেন। সেইজন্য তাঁদের মানসিকতা ছিল শাসক শ্রেণির মতো, অচেনা পৃথিবীতে যাঁরা নিজেদের নির্বাসিত মনে করেন তাঁদের মতো নয়। সমগ্র যুগ জুড়ে যা চালু ছিল সেই অদ্ভুত দ্বৈত মনোভাবেরই এটা একটা অংশ, তার কারণ চার্চের ভিত্তি যদিও অতি জাগতিক বিশ্বাস তবুও চার্চ ছিল দৈনন্দিন জগতের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

    খ্রিষ্টধর্মের অতি-জাগতিক মনোভাবের মানসিক প্রস্তুতির শুরু হেলেনায়িত যুগে এবং তা নগর রাষ্টের পতনের সঙ্গে যুক্ত। আরিস্ততেলেসের যুগ পর্যন্ত গ্রিক দার্শনিকদের কোনো কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলেও তারা বিশ্বজগৎ সম্পর্কে প্রধানত হতাশায় ভুগতেন না, রাজনৈতিকভাবেও নিজেদের নিষ্ফল মনে করতেন না। কখনো কখনো তারা পরাজিত দলের অন্তর্ভুক্ত হলেও, তাঁদের পরাজয়ের কারণ ছিল দ্বন্দ্বজ দুর্ঘটনা, জ্ঞানীদের অনিবার্য শক্তিহীনতার কারণে নয়। এমনকি যাঁরা পুথাগরস ও প্লাতনের মতো কোনো সময় রূপময় জগৎকে নিন্দা করে অলৌকিক মুক্তি খুঁজেছেন তাদেরও শাসকশ্রেণিকে সাধু ও ঋষি তৈরি করার ব্যবহারিক পরিকল্পনা ছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতা যখন মাকেদনীয়দের হাতে চলে গেল তখন স্বাভাবিকভাবে গ্রিক দার্শনিকরা রাজনীতি থেকে সরে এসে ব্যক্তিগত সদগুণ কিংবা মুক্তির সমস্যায় আত্মনিয়োগ করলেন। তারা আর প্রশ্ন করতেন নাঃ মানুষ কী করে উত্তম রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে পারে? তার বদলে তারা প্রশ্ন করতেনঃ এই দুর্নীতিপরায়ণ বিশ্বে মানুষ কী করে সদগুণান্বিত হতে পারে কিংবা এই দুঃখ-কষ্টের জগতে সুখী হতে পারে? এ কথা সত্য, এ পরিবর্তন ছিল শুধুমাত্র পরিমাণগত। এই জাতীয় প্রশ্ন আগেও করা হয়েছে এবং পরবর্তী স্টোইকরাও কিছুকালের জন্য রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করেছেন- তবে সেটা রোমের রাজনীতি, গ্রিসের নয়। তা সত্ত্বেও পরিবর্তনটা কিন্তু বাস্তবই ছিল। কিছুদিনের জন্য রোমক যুগে স্টোইকদের ভিতরে যারা আন্তরিকভাবে চিন্তা করতেন ও বোধ করতেন তাঁরা ক্রমশ অধিক পরিমাণে ব্যক্তিনিষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত চিন্তনে ব্যস্ত রইলেন, শেষে খ্রিষ্টধর্ম একটি ব্যক্তিগত মুক্তির শাস্ত্র বিবর্তিত করল, জীবনের উদ্দেশ্য সরবরাহ করল এবং সৃষ্টি হলো চার্চের। এই ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না যার সঙ্গে দার্শনিকরা মনপ্রাণ দিয়ে সংযুক্ত হতে পারেন, সুতরাং বিধিসঙ্গত ক্ষমতার আকাক্ষা তৃপ্ত হওয়ার উপযুক্ত কোনো পথ ছিল না। এই কারণে যে দার্শনিকদের জীবনকালে নগররাষ্ট্র তাদের নিজের প্রতি আনুগত্য আকর্ষণ করতে পারত তাদের তুলনায় হেলেনায়িত যুগের দার্শনিকরা মানুষ হিসেবে অনেক সীমাবদ্ধ ছিলেন। তখনও তারা চিন্তা করতেন, কারণ, চিন্তা পরিত্যাগ করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না, কিন্তু তাঁদের চিন্তা বৈষয়িক জগতে ফলপ্রসূ হবে- এ রকম আশা সামান্যই থাকত।

    আলেকজান্দ্রসের সময় চারটি দার্শনিক গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত দুটি গোষ্ঠী- স্টোইক ও এপিকুরীয়, এদের নিয়ে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে বলা হবে। এই অধ্যায়ে আমাদের আলোচ্য বিষয় অসূয়ক (Cynics-সিনিক) ও সন্দেহবাদী (Sceptics-স্কেপটিক)।

    এগুলোর প্রথম গোষ্ঠীর উৎপত্তি হয়েছিল প্রতিষ্ঠাতা দিঅগেনেস-এর মাধ্যমে, সাতেসের শিষ্য আন্তিস্থেনেস (Antisthenes)-এর কাছ থেকে, তিনি ছিলেন প্লাতনের চাইতে কুড়ি বছরের বড়। আন্তিস্থেনেসের ছিল উল্লেখযোগ্য চরিত্র, কোনো কোনো বিষয়ে তাঁর চরিত্রের সাদৃশ্য ছিল তলস্তয়ের চরিত্রের সঙ্গে। সাতেসের মৃত্যুর পর পর্যন্ত তিনি তাঁর সতীর্থদের সঙ্গে অভিজাত সমাজেই থাকতেন এবং তাঁর ভিতরে প্রতিষ্ঠান বিরোধী কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। কিন্তু কোনো একটি ঘটনার ফলে আগে তিনি যে সমস্ত জিনিসকে মূল্যবান মনে করতেন সেগুলোকে ঘৃণা করতে শুরু করলেন ঘটনাটি হতে পারে আথিনার পরাজয় কিংবা সাতেসের মৃত্যু কিংবা দার্শনিক কচকচিতে তাঁর অনীহা- তখন তিনি আর তরুণ নন। সহজ ধর্ম প্রবণতা ছাড়া কিছুতেই তার চাহিদা ছিল না। তিনি মিশতেন খেটে খাওয়া লোকদের সঙ্গে এবং পোশাক পরিচ্ছদও ব্যবহার করতেন তাদের মতো। উন্মুক্ত স্থানে প্রচার করা শুরু করলেন, এমন ঢঙ-এ যা অশিক্ষিত লোকদের বোধগম্য হতো। তাঁর মতে সমস্ত সূক্ষ্ম দর্শনই ছিল মূল্যহীন; সম্ভবপর জ্ঞান সাধারণ মানুষের আহরণযোগ্য। তিনি বিশ্বাস করতেন প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়া-তে এবং এই বিশ্বাস নিয়ে অত্যন্ত বেশি দূর অগ্রসর হয়েছিলেন। তাঁর মতে কোনো সরকার থাকবে না, থাকবে না কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি, বিবাহ কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠিত ধর্ম। তিনি নিজে না হলেও তাঁর অনুগামীদের ক্রীতদাসপ্রথার নিন্দা করতেন। ঠিক কঠোর তপস্বী তিনি ছিলেন না কিন্তু বিলাসকে তিনি ঘৃণা করতেন এবং ঘৃণা করতেন সমস্ত রকমের ইন্দ্রিয়জ কৃত্রিম আনন্দকে। তিনি বলতেন আনন্দলাভ করার চাইতে আমি বরং উন্মাদ হব।

    আন্তিস্থেনেসের খ্যাতিকে অতিক্রম করেছিল তাঁর শিষ্য দিঅগেনেস-এর খ্যাতি। দিঅগেনেস ছিলেন কৃষ্ণসাগরের তীরে সিনোপ থেকে আগত এক তরুণ, প্রথম দর্শনে তাকে তাঁর (আন্তিস্থেনেস) পছন্দ হয়নি; এক কুখ্যাত মুদ্রাবিনিময়কারীর সন্তান, সেই পিতাকে মুদ্রা বিকৃত (defacing) করার জন্য কারাবাস করতে হয়েছিল। আন্তিস্থেনেস ছেলেটি চলে যেতে বলেছিলেন কিন্তু সে তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি। তিনি তাঁকে লাঠি দিয়ে মেরেছিলেন কিন্তু সে যায়নি। সে চেয়েছিল প্রজ্ঞা এবং বুঝতে পেরেছিল দেওয়ার মতো প্রজ্ঞা আন্তিস্থেনেসের আছে। তার জীবনের লক্ষ্য ছিল তার বাবারই মতো মুদ্রা বিকৃত করা তবে অনেক বৃহৎ মানে। সে চেয়েছিল বিশ্বে প্রচলিত সমস্ত মুদ্রার মর্যাদাহানি করতে। প্রতিটি প্রথাগত শীলমোহরই মিথ্যা। মানুষদের, রাজা এবং সেনাপতির ছাপ দেওয়া হয়েছে। যে বস্তুগুলোতে সম্মান, প্রজ্ঞা, সুখ ও সম্পদের ছাপ দেওয়া হয়েছে সেগুলো সবই আসলে মিথ্যা দিয়ে খোদাই করা সস্তা ধাতু।

    তিনি সিদ্ধান্ত করেছিলেন কুকুরের মতো জীবনযাপন করবেন, সেজন্য তাঁর নাম হয়েছিল সিনিক (cynic), তার অর্থ কুকুর সদৃশ (canine)। তিনি সমস্ত প্রচলিত রীতি বর্জন করেছিলেন-তা হোক ধর্মের, আচার-ব্যবহারের, পোশাকের, বাসস্থানের, খাদ্যের কিংবা শোভনতার। শোনা যায়, তিনি একটা গামলায় থাকতেন তবে গিলবার্ট মারে ভরসা দিয়ে বলেছেন- আসলে ঐ কথাটি ভুল : তিনি থাকতেন একটা বড় জালাতে, আদিম যুগে সমাধিস্থ করার জন্য যে জালা ব্যবহার করা হতো সেরকমই একটা জিনিস। তিনি থাকতেন ভারতীয় ফকিরের মতো ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করে। তিনি ভ্রাতৃত্ব প্রচার করতেন শুধুমাত্র সমগ্র মনুষ্যজাতির সঙ্গেই নয়, সমস্ত পশুদের সঙ্গেও। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যার সম্বন্ধে তাঁর জীবনকালেও নানা কাহিনি প্রচলিত ছিল। সবাই জানেন আলেকজান্দ্রস কী করে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি আলেকজান্দ্রসের কোনো আনুকূল্য চান কিনা। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন শুধুমাত্র আমার আলোকে বাধা না দেওয়া (অর্থাৎ চোখের সামনে থেকে সরে যাও-অনুবাদক)।

    এখন আমরা যাকে সিনিকাল বলি দিঅগেনেসের শিক্ষা মোটেই সেরকম ছিল না, ছিল তার বিপরীত। তার তীব্র আসক্তি ছিল সদগুণের প্রতি, যার তুলনায় পার্থিব সম্পদ তাঁর কাছে একেবারেই মূল্যহীন। তিনি অনুসন্ধান করতেন সদগুণ ও আকাক্ষা থেকে মুক্তির সাহায্যে নৈতিক স্বাধীনতা ও সৌভাগ্য যে সমস্ত সম্পদ দান করতে পারে সেগুলো সম্পর্কে নিস্পৃহ হোন, তাহলেই আপনি ভয় থেকে মুক্তি পাবেন। আমরা দেখব এ বিষয়ে তাঁর মতবাদ স্টোইকরা গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু সভ্যতার সুবিধাগুলোকে পরিত্যাগ করার ব্যাপারে নয়। তাঁর মতে প্রমেথিয়স (Prometheus)-কে শাস্তি দেওয়া যথাযথ হয়েছিল কারণ তিনি এমন সব প্রকৌশল নিয়ে এসেছিলেন যা আধুনিক জীবনে জটিলতা ও তলস্তয়ের সাদৃশ্য আছে তবে তাঁদের চেয়ে তাঁর আচরণ অনেক বেশি সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।

    আরিস্ততেলেসের সমসাময়িক হলেও তাঁর মতবাদের মেজাজ ছিল হেলেনায়িত যুগের। গ্রিক দার্শনিকদের ভিতরে যারা সানন্দে পৃথিবীর দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন তাঁদের ভিতরে আরিস্ততেলেসই শেষ, তার পরে প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো রূপে ছিল পলায়নী দর্শনশাস্ত্র। পৃথিবী মন্দ, সুতরাং চেষ্টা করা যাক পৃথিবী থেকে স্বতন্ত্র হতে। বাইরের সম্পদ অনিশ্চিত- সে সম্পদ ভাগ্যের দান, আমাদের শ্রমের পুরস্কার নয়। শুধুমাত্র ব্যক্তিনিষ্ঠ সম্পদই- সদ্‌গুণ কিংবা পরিত্যাগ করার মাধ্যমে তৃপ্তি নিশ্চিত এবং সেইজন্যই জ্ঞানীরা শুধুমাত্র এগুলোর মূল্য দেবেন। ব্যক্তিগতভাবে দিঅগেনেস নিজে ছিলেন জীবনীশক্তিতে পূর্ণ কিন্তু হেলেনায়িত যুগের সমস্ত মতবাদের মতোই তাঁর মতবাদ ছিল ক্লান্ত মানুষদের কাছে আবেদন- বিফলতার ফলে যে মানুষদের জীবনের উৎসাহ উদ্দীপনা ধ্বংস হয়েছে। এ মতবাদ শিল্প কিংবা বিজ্ঞান কিংবা রাষ্ট্রনীতি কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্মের উন্নয়নের জন্য তৈরি হয়নি। এ মতবাদ শুধুমাত্র ছিল শক্তিশালী মন্দের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

    জনপ্রিয় হওয়ার কালে সিনিক মতবাদের কী হয়েছিল সেটা পর্যবেক্ষণ করা কৌতূহলোদ্দীপক। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের প্রথম দিকে সিনিকরাই ছিলেন ফ্যাসান, বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয়াতে। তারা ছোট ছোট উপদেশাবলি প্রকাশ করতেন, তাতে বোঝানো হতো পার্থিব সম্পত্তি ছাড়া বেঁচে থাকা কত সহজ, সাধারণ খাদ্য খেয়ে লোকে কত সুখী হতে পারে, শীতকালে মূল্যবান পোশাক পরিচ্ছদ ছাড়াও কীভাবে দেহের উষ্ণতা রক্ষা করা যায় (মিশরের ক্ষেত্রে সেটা সত্য হতে পারে!), নিজের দেশের জন্য ভালোবাসা থাকা কীরকম বোকামি কিংবা কীরকম বোকামি নিজের ছেলেমেয়ে বা বন্ধুবান্ধব মারা গেলে শোকার্ত হওয়া। সিনিক মতবাদ জনপ্রিয় করায় ব্যাপৃত তেলেস (Teles) বলছেন, আমার স্ত্রী কিংবা পুত্র মারা গিয়েছে, সেটা কি নিজেকে অযত্ন করার সপক্ষে কোনো যুক্তি- যে আমি এখনও বেঁচে আছি? সেক্ষেত্রে নিজের সম্পত্তি দেখাশোনা না করা কি সঠিক?১২ আলোচনার এই স্তরে এই সরল জীবন সম্পর্কে কোনো সহানুভূতি বোধ কঠিন হয়ে পড়ে, ব্যাপারটা তখন হয়ে পড়েছে অতিরিক্ত সরল। ভাবতে ইচ্ছা হয় এই উপদেশগুলো কারা উপভোগ করেছেন। তাঁরা কি ধনিকশ্রেণি, যারা ভাবতে চাইতেন দরিদ্রের কষ্টের কথা কাল্পনিক? না কি তাঁরা ছিলেন নতুন দরিদ্র যারা সফল ব্যবসায়ীদের ঘৃণা করতে চেষ্টা করেছিলেন? অথবা সেই সমস্ত স্তাবকবৃন্দ যারা নিজেদের বিশ্বাস করাতে চাইতেন- যে দান তাঁরা গ্রহণ করছেন তার কোনো গুরুত্ব নেই? তেলেস একজন ধনীকে বলছেনঃ আপনি উদার হস্তে দান করছেন আর আমি সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করছি, আমি নীচু কিংবা হীনভাবে নিজেকে ছোট করিনি কিংবা ক্ষোভও প্রকাশ করিনি। খুব সুবিধাজনক মতবাদ। জনপ্রিয় সিনিক মতবাদ বিশ্বের ভালো জিনিসগুলোকে পরিত্যাগ করতে শেখায়নি, শুধুমাত্র শিখিয়েছিল সেগুলো সম্পর্কে কিছুটা নিস্পৃহ হতে। অধমর্ণের ক্ষেত্রে এটা উত্তমর্ণের কাছে কৃতজ্ঞতার ঋণ স্বল্প করার রূপ ধারণ করতে পারে- এ থেকে বোঝা যাবে সিনিক শব্দের অর্থ কেন তার দৈনন্দিন অর্থে রূপান্তিত হয়েছিল।

    সিনিক মতবাদের ভিতরে যা সর্বশ্রেষ্ঠ সেটা প্রবেশ করে স্টোইক মতবাদের ভিতরে, সে মতবাদ ছিল পূর্ণতর এবং সুগঠিত দর্শনশাস্ত্র।

    সন্দেহবাদ একটি গোষ্ঠীর মতবাদরূপে ঘোষণা করেন পুরর (Pyrrho) তিনি আলেকজান্দ্রসের সৈন্যবাহিনীতে ছিলেন এবং যুদ্ধে তাদের সঙ্গে ভারতের মতো দূরদেশ পর্যন্ত গিয়েছিলেন। মনে হয় এর ফলে তিনি ভ্রমণের যথেষ্ট স্বাদ পেয়েছিলেন এবং নিজের নগর এলিস- এ জীবনের অবশিষ্ট অংশ কাটিয়েছিলেন, সেখানেই ২৭৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তাঁর মৃত্য হয়। তাঁর মতবাদে খুব বেশি নতুন কিছু ছিল না, শুধু ছিল পূর্বতন সন্দেহগুলোকে খানিকটা সুসম্বদ্ধ করা এবং এগুলোর খানিকটা সামঞ্জস্য বিধান করা। ইন্দ্রিয় সাপেক্ষ সন্দেহগুলো অতি আদিম যুগ থেকে গ্রিক দার্শনিকদের অসুবিধায় ফেলেছিল, একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন তাঁরা, যারা পার্মেনিদেস এবং প্লাতনের মতো ইন্দ্রিয়ানুভূতিজ জ্ঞানের মূল্যকে অস্বীকার করেছিলেন এবং তাঁদের অস্বীকৃতিকে বৌদ্ধিক গোঁড়ামির সপক্ষে সুযোগরূপে ব্যবহার করেছিলেন। সফিস্টদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রতাগরস ও গর্গিয়সদের ক্ষেত্রে বোধের অনিশ্চিয়তা আপাতদৃষ্ট দ্বন্দ্ব ব্যক্তিনিষ্ঠার পথপ্রদর্শক হয়েছিল, এর সঙ্গে নিউমের ব্যক্তিনিষ্ঠার বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। মনে হয় পুরর (তিনি বুদ্ধিমানের মতো কোনো বই লিখে যাননি) যৌক্তিক ও বৌদ্ধিক সন্দেহবাদকে ইন্দ্রিয় সম্পর্কিত সন্দেহবাদের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। শোনা যায়, তার মত ছিল একটি কর্মধারার বদলে অন্য একটি কর্মধারাকে পছন্দ করার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। কার্যক্ষেত্রে, এর অর্থ ছিল মানুষ যে দেশে বসবাস করে সেই দেশের রীতিনীতি মেনে চলবে। একজন আধুনিক শিষ্য প্রতি রবিবার গির্জায় যাবেন এবং সঠিকভাবে নতজানু হবেন কিন্তু যেরকম অনুমান করা হয় এ কর্মে উদ্বুদ্ধ হওয়ার মতো সেরকম কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস তাঁর থাকবে না। প্রাচীন সন্দেহবাদীরা পৌত্তলিকতার ক্রিয়াকাণ্ড সম্পূর্ণই পালন করতেন, এমনকি অনেক সময় নিজেরা ছিলেন পুরোহিত। সন্দেহবাদ তাঁদের নিশ্চয়তা দিয়েছিল এই আচরণকে ভুল প্রমাণিত করা যায় না এবং কাণ্ডজ্ঞান (তাঁদের দর্শনশাস্ত্রের মৃত্যুর পরও তা বেঁচেছিল) এই আচরণের সুবিধা সম্পর্কে তাদের নিশ্চয়তা দিয়েছিল।

    স্বভাবতই সন্দেহবাদ অনেক অ-দার্শনিক মনের কাছে আবেদন করেছিল। লোকে বিভিন্ন দার্শনিক গোষ্ঠীর পার্থক্য এবং তাঁদের কলহের তিক্ততা লক্ষ্য করেছিল ও সিদ্ধান্ত করেছিল- সবাই একইভাবে জ্ঞানের ভান করছে কিন্তু আসলে সে জ্ঞানলাভ অসম্ভব। সন্দেহবাদ ছিল অলস লোকের সান্ত্বনা, কারণ, এই দর্শন দেখিয়ে দিয়েছে অজ্ঞ লোক আর বিখ্যাত পণ্ডিত- দুপক্ষই একই রকম অজ্ঞ। প্রকৃতিগতভাবে যাদের একটি পরম সত্য শাস্ত্রীয় বচন প্রয়োজন তাদের কাছে এটা সন্তোষজনক না হতে পারে কিন্তু হেলেনায়িত যুগের প্রতিটি মতবাদের মতোই সন্দেহবাদ মানুষের দুশ্চিন্তার প্রতিষেধকরূপে নিজেকে সুপারিশ করেছিল। ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন চিন্তা? এটা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। বরং উপভোগ করুন বর্তমানকে, অনাগত এখনও অনিশ্চিত। এই সমস্ত কারণে সন্দেহবাদ জনসাধারণের ভিতরে যথেষ্ট সাফল্যলাভ করেছিল।

    লক্ষ্য করা উচিত- সন্দেহবাদ শুধুমাত্র সন্দেহের দর্শনশাস্ত্র নয় কিন্তু সে দর্শনকে অভিহিত করা যায় গোঁড়া সন্দেহের দর্শন নামে। বৈজ্ঞানিক বলেন, আমার মনে হয় এটা ঐরকম কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। বৌদ্ধিক কৌতূহলী বলেন, এটা কীরকম তা আমি জানি না কিন্তু তা খুঁজে বার করার আশা রাখি। সন্দেহবাদী দার্শনিকরা বলেন, কেউ জানে না, কখনো কেউ জানবেও না। এই উপাদানগত গোঁড়ামি দার্শনিক তন্ত্রটিকে ভঙ্গুর করে। তারা যে গোঁড়াভাবে জ্ঞানলাভের সম্ভাবনা অস্বীকার করেন, সন্দেহবাদীরা অবশ্য সে কথা মানেন না কিন্তু তাঁদের অস্বীকৃতি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

    কিন্তু পুরর-এর শিষ্য তিমন (Timon) এমন কতকগুলো বৌদ্ধিক যুক্তি উত্থাপন করেছিলেন গ্রিক যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেগুলোর উত্তর দেওয়া খুবই কঠিন। যুক্তিবিদ্যার মাত্র একটি অংশই গ্রিকরা মানতেন, সেটা অবরোহী যুক্তি এবং এউক্লিদের মতো সমস্ত অবরোহণই শুরু হতো সাধারণ নীতি থেকে, সেগুলোকে বলা হতো স্বতঃসিদ্ধ। তিমন এইরকম নীতি পাওয়ার সম্ভাবনা অস্বীকার করেছেন। সুতরাং প্রতিটি জিনিসই প্রমাণ করতে হবে অন্য কোনো জিনিসের সাহায্যে এবং প্রতিটি যুক্তিই হয় চক্রবৎ হবে নয়তো নাস্তি থেকে ঝুলন্ত একটি অনন্ত শৃঙ্খল হবে। দুটির কোনো ক্ষেত্রেই কিছু প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আমরা দেখতে পাই, এই যুক্তি মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী আরিস্ততেলেসীয় দর্শনশাস্ত্রের শিকড় ছিন্ন করে দেয়।

    আমাদের যুগে কয়েক ধরনের সন্দেহবাদ উপস্থিত করেছেন এমন কিছু লোক যারা কোনোক্রমেই সম্পূর্ণরূপে সন্দেহবাদী নন, তাঁরা প্রাচীনকালের সন্দেহবাদীদের অনেকের মনেই উদয় হয়নি। তারা পরিঘটনাকে সন্দেহ করেননি কিংবা প্রশ্ন করেননি সেই প্রস্তাবগুলোকে যেগুলো পরিঘটনাবলি সম্পর্কে আমাদের প্রত্যক্ষ জ্ঞানকে (তাদের মতে) প্রকাশ করে। তিমন-এর অধিকাংশ গবেষণা হারিয়ে গেছে তবে দুটি অবশিষ্ট অংশ এ সম্পর্কে দৃষ্টান্ত উপস্থিত করবে। একটি বলছে, পরিঘটনা সমসময়ই বৈধ। অপরটি বলছে, মধু যে মিষ্টি এ কথা জোরের সঙ্গে বলতে আমি অস্বীকার করি, তবে মধু মিষ্টি মনে হয়- এ কথা আমি সম্পূর্ণ মেনে নেব।১৪ একজন আধুনিক সন্দেহবাদী দেখিয়ে দেবেন- পরিঘটনা শুধুমাত্র ঘটে এবং সেটা বৈধও নয়, অবৈধও নয়; বৈধতা কিংবা অবৈধতা অবশ্যই একটা বিবৃতি এবং কোনো বিবৃতিই পরিঘটনার সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকতে পারে না যে, সেটা মিথ্যা হতে পারবে না। একই কারণে তিনি বলবেন, মধুকে মিষ্টি মনে হয়;- এ বিবৃতির সম্ভাব্যতা খুবই বেশি, পরম নিশ্চিত নয়।

    কতকগুলো বিষয়ে তিমন-এর মতবাদের সঙ্গে হিউমের বক্তব্যের খুবই সাদৃশ্য রয়েছে। তাঁর মতে যা কখনোই পর্যবেক্ষণ করা যায়নি (উদাহরণ- পরমাণু), সে সম্পর্কীয় অনুমিতি কখনোই বৈধ নয়। কিন্তু পর্যবেক্ষণকালে দুটি পরিঘটনা যদি বারংবার একত্রে দেখা যায় তাহলে একটি থেকে আর একটি অনুমিতি সম্ভব।

    তিমন তার দীর্ঘ জীবনের শেষাংশ আথিনাতে কাটিয়েছেন এবং ২৩৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সেখানেই মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পুরর-এর দার্শনিক গোষ্ঠীর গোষ্ঠীরূপের অবসান হয়। ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হলেও তাঁর মতবাদগুলো একটু পরিবর্তিত আকারে আকাদেমি গ্রহণ করে, আকাদেমি ছিল প্লাতনীয় ঐতিহ্যের প্রতিনিধি।

    এই আশ্চর্যজনক দার্শনিক বিপ্লব যিনি করেছিলেন তাঁর নাম ছিল আর্কেসিলায়স (Arcesilaus), তিনি ছিলেন তিমন-এর সমসাময়িক, ২৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে বৃদ্ধাবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। অধিকাংশ লোক প্লাতনের নিকটে গ্রহণ করেছিলেন একটি অতীন্দ্রিয় বৌদ্ধিক জগৎ এবং মরদেহের তুলনায় অমর আত্মার শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু প্লাতনের বহুদিক ছিল এবং কোনো কোনো বিষয় সাপেক্ষ বলা যেত তিনি ছিলেন সন্দেহবাদের শিক্ষক। প্লাতনীয় সক্রাতেস স্বীকার করেন তিনি কিছুই জানেন না, স্বভাবতই এ কথাকে আমরা শ্লেষ বলে মনে করি কিন্তু ব্যাপারটা গুরুত্বের সঙ্গেও ভাবা যেত। তার অনেকগুলো কথোপকথনেই কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেই এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য পাঠককে এক সন্দিহান অবস্থায় রেখে দেওয়া। কিছুক্ষেত্রে (যথা, পার্মেনিদেসের শেষ অর্ধে), যে কোনো প্রশ্নের দুটি দিকই সমানভাবে সমর্থন করা সম্ভব, এটা দেখানো ছাড়া আর কোনো লক্ষ্য নেই বলে মনে হয়। প্লাতনীয় দ্বন্দ্ববাদকে পদ্ধতি না বলে শেষ বক্তব্য বলা যায় এবং এভাবে গ্রহণ করলে এটা সন্দেহবাদের সপক্ষে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করবে। মনে হয় আর্কেসিলায়স নিজেকে যাঁর অনুগামী বলে ঘোষণা করতেন তার ব্যাখ্যা এভাবেই করেছিলেন। তিনি প্লাতনের মুণ্ডুচ্ছেদ করেছিলেন কিন্তু যে ধড় পড়েছিল সেটা ছিল নির্ভেজাল।

    .

    আর্কেসিলায়স-এর শিক্ষণ পদ্ধতিতে প্রশংসনীয় অনেককিছু ছিল, অবশ্য যে তরুণদের তিনি শিক্ষা দিতেন তাঁরা যদি এই শিক্ষা থেকে উদ্ভুত মানসিক জড়ত্ব এড়াতে পারতেন। তিনি নিজে যুক্তিরূপে কোনো বিষয় উপস্থিত করতেন না কিন্তু কোনো ছাত্র একটি বিষয় উপস্থিত করলে তার বিরোধিতা করতেন। অনেক সময় তিনি পরস্পর দুবার দুটি পরস্পরবিরোধী প্রস্তাব উপস্থিত করতেন, দেখিয়ে দিতেন কী করে যে কোনো একটির সপক্ষে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তর্ক করা যায়। বিদ্রোহ করার মতো যথেষ্ট তেজস্বী কোনো ছাত্র নৈপুণ্য শিখতে পারত এবং শিখতে পারত হেত্বাভাস এড়ানো; ঘটনা হলো, চাতুর্য ও সত্যে অনীহা ছাড়া আর কিছু কোনো ছাত্র শিখেছিল বলে মনে হয় না। আর্কেসিলায়স-এর প্রভাব এত অধিক ছিল যে, প্রায় দুই শতাব্দী পর্যন্ত আকাদেমি সন্দেহবাদী হয়ে থেকেছিল।

    এই সন্দেহবাদী যুগের মাঝামাঝি একটা মজার ব্যাপার ঘটেছিল। কারনিয়াদেস (Carneades) নামে আর্কেসিলায়স-এর এক সুযোগ্য উত্তরাধিকারী আকাদেমির প্রধান হয়েছিলেন, ১৫৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তিনজন দার্শনিকের এক কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে আথিনা থেকে রোম-এ পাঠানো হয়। তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। তাঁর প্রধান সুযোগের পক্ষে রাজদূতের সম্মান কোনো বাধা হওয়ার কারণ বলে তার মনে হয়নি সুতরাং রোমে একগুচ্ছ বক্তৃতা দেওয়ার কথা তিনি ঘোষণা করলেন। সেই সময় যে সব রোমক তরুণরা গ্রিকদের চালচলন নকল করতে ও গ্রিক সংস্কৃতি গ্রহণ করতে উৎসুক ছিল তারা দলে দলে কারনিয়াদেসের বক্তৃতা শুনতে এল। তাঁর প্রথম বক্তৃতা ছিল সুবিচার সম্পর্কে আরিস্ততেলেস ও স্নাতনের মতামত ব্যাখ্যা এবং নৈতিক ও মানসিক উন্নতিসাধনের পক্ষে বক্তৃতাটি ছিল অতি উত্তম। কিন্তু তার দ্বিতীয় বক্তৃতা ছিল- প্রথম বক্তৃতায় তিনি যা বলেছেন তার সবটারই বিরোধী, সেগুলো নাকচ করে কিন্তু বিপরীত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ছিল প্রতিটি সিদ্ধান্ত যে অনিশ্চিত- তা দেখানো। প্লাতনের সাতেসের যুক্তি ছিল- যে অনিশ্চিত- তা দেখানো। প্লাতনের সাতেসের যুক্তি ছিল- যে অবিচার ভোগ করছে তার তুলনায় যে অবিচার করছে তার ক্ষতি হয় বেশি। তাঁর দ্বিতীয় বক্তৃতায় কারনিয়াদেস এই মতের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো তাদের দুর্বল প্রতিবেশিদের উপর অন্যায় আক্রমণ করেই বড় হয়েছে, রোমে অন্তত এ কথা ঠিক অস্বীকার করা যেত না। জাহাজডুবির সময় দুর্বলতর কারও জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন রক্ষা করতে পারেন আপনি এবং না করাটাই বোকামি। মনে হয় তিনি ভাবতেন স্ত্রীলোক ও শিশুরা ছিল প্রথমে- এই নীতি ব্যক্তিগত জীবন রক্ষার সহায়ক নয়। কোনো বিজয়ী শক্তির হাত থেকে পালাবার সময় আপনি কী করবেন- যখন আপনা ঘোড়াটি গেছে কিন্তু একজন আহত সাথিকে ঘোড়াসমেত পেলেন? আপনার যদি বুদ্ধি থাকে তাহলে ন্যায়ের আদেশ যাই হোক না কেন, আপনি সেই সহযোদ্ধাকে জোর করে ঘোড়া থেকে নামিয়ে ঘোড়াটি দখল করবেন। যে প্লাতনকে অনুসরণ করে এই সমস্ত নৈতিক উন্নতির অসহায়ক যুক্তি তার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর কিন্তু মনে হয় আধুনিক মনা রোমক যুবকদের এ নীতি খুশি করেছিল।

    এই নীতি একজন মানুষকে খুশি করেনি, তিনি হলেন বড় কাতো (Coto), তিনি প্রতিভু ছিলেন কঠিন, অনমনীয়, বুদ্ধিহীন ও পাশবিক নীতিশাস্ত্রের, যার দ্বারা রোম কার্থেজকে পরাজিত করেছিল। তারুণ্য থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত তিনি সরল জীবনযাপন করেছেন, ভোরে উঠতেন, কঠিন দৈনিক শ্ৰম অভ্যাস করতেন, শুধুমাত্র আকাঁড়া খাবার খেতেন এবং একশত পেন্সের অধিক মূল্যের পোশাক কখনোই পরতেন না। রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর সততা ছিল কঠোর, সমস্তরকম ঘুষ ও লুণ্ঠন পরিহার করতেন। যে সমস্ত সদগুণ তিনি অভ্যাস করতেন অন্যান্য রোমকদের কাছ থেকেও সে অভ্যাস জোর করে আদায় করতেন এবং জোরের সঙ্গে বলতেন একজন দুষ্ট লোককে অভিযুক্ত করা ও তার পশ্চাদ্ধাবন করাই একজন সৎ লোকের শ্রেষ্ঠ কাজ। তিনি তার সাধ্যমতো প্রাচীন রোমক কঠোর আচার ব্যবহার প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করতেন।

    তাছাড়াও মানিলিয়স (Manilius) নামে একজনকে সেনেট থেকে কাতো বার করে দিয়েছিলেন, পরের বছর তাঁর কনসাল (Consul-প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যের শাসকদ্বয়ের একজন) হওয়ার কথা ছিল, তার একমাত্র অপরাধ ছিল তিনি দিনের বেলায় তাঁর মেয়ের সামনে নিজের স্ত্রীকে অতিরিক্ত প্রেমের সঙ্গে চুমু খেয়েছিলেন? এইজন্য তাঁকে তিরষ্কার করে কাতো বলেছিলেন, তাঁর স্ত্রী একমাত্র মেঘ ডাকার সময় ছাড়া কখনোই তাকে চুমু খায়নি।

    ক্ষমতাসীন অবস্থায় তিনি বিলাসিতা ও ভোজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তিনি তার স্ত্রীকে শুধু নিজের সন্তানদেরই নয়, ক্রীতদাসদের সন্তানকেও বুকের দুধ দিতে বাধ্য করেছিলেন এই ভেবে যে, একই দুধে পুষ্টি লাভ করার ফলে দাসীদের সন্তানরা তাঁর নিজের সন্তানদের হয়তো ভালোবাসবে। তাঁর ক্রীতদাসরা যখন বৃদ্ধ হয়ে কাজের অনুপযুক্ত হয়ে যেত তখন তিনি নির্দয়ভাবে তাদের বিক্রি করে দিতেন। তিনি দাবি করতেন তার ক্রীতদাসরা সবসময়ই হয় কাজ করবে কিংবা ঘুমোবে। তিনি তাঁর ক্রীতদাসদের পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়ায় উৎসাহিত করতেন। কারণ, তারা পরস্পরের বন্ধু হবে এটা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। কোনো ক্রীতদাস গর্হিত কাজ করলে তিনি অপর ক্রীতদাসদের ডেকে পাঠাতেন এবং তাদের প্ররোচিত করতেন অপরাধীর প্রাণদণ্ড ঘোষণা করতে। তারপর জীবিতদের সামনে নিজের হাতে দণ্ডদান করতেন।

    কাতো এবং কারনিয়দেসের ভিতরে বৈসাদৃশ্য ছিল পরিপূর্ণঃ একজন ছিলেন কঠোর ও ঐতিহ্যিক নৈতিকতার জন্য পাশবিক, অপরজন ছিলেন নৈতিকতায় শিথিল ও হেলেনায়িত জগতের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার দ্বারা অত্যধিক সংক্রামিত হওয়ার দরুন নীচমনা ও ইতর।

    তরুণরা যখন গ্রিকভাষা শিখতে শুরু করল এবং গ্রিকভাষার সম্মান বাড়তে লাগল, প্রথম থেকেই মারকস কাতো এগুলোকে অপছন্দ করতেন। তাঁর ভয় ছিল রোমক যুবকরা বিদ্যা ও বাগ্মিতার লোভে অস্ত্রের সম্মান ও গৌরব একেবারেই পরিত্যাগ করবে….। রাষ্ট্রদূতরা বহুদিন এখানে রয়েছেন এবং বাইরে কোথাও যাননি, সেইজন্য সেনেট-এ খোলাখুলি তাদের দোষ ধরলেন ও তার বিচারে তারা ছিল ধূর্ত এবং যা করবে সে বিষয়ে সহজেই লোককে রাজি করাতে পারবে। এবং গ্রাহ্য করার অন্য কোন কারণ যদি নাও থাকে, তাহলে শুধু এই কারণেই তারা কোনো ওজর বার করতে প্ররোচিত হতে পারে এবং গ্রিসের সন্তানদের পড়াতে তাদের আবার দেশের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হোক ও রোমের সন্তানদের বাদ দিক যাতে তারা আগের মতো সেনেটের আদেশ আর আইন মান্য করতে শেখে। তখন এইভাবেই তিনি সেনেট-এ বললেন, অনেকে ভেবেছেন কারনিয়াদেস সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত ক্রোধ কিংবা আক্রোশ ছিল। কিন্তু কারণটি হলো তিনি সাধারণভাবে দর্শনশাস্ত্রকে ঘৃণা করতেন।

    কাতো-র দৃষ্টিভঙ্গিতে আথিনীয়রা ছিলেন আইন সম্পর্কে অজ্ঞ নিকৃষ্টতর জীব, তাঁরা যদি বুদ্ধিজীবীদের অগভীর তর্কের দ্বারা নিম্নগামী হয়ে থাকেন তাতে কিছু এসে যায় না কিন্তু রোমক তরুণদের করতে হবে কঠোর নীতিপরায়ণ, সাম্রাজ্যবাদী, নির্মম ও নির্বোধ। কিন্তু তিনি বিফল হয়েছিলেন, পরবর্তী রোমকেরা তাঁর অনেক দোষই ধরে রেখেছিলেন কিন্তু কারনিয়াদেসের থেকেও কিছু দোষ গ্রহণ করেছিলেন।

    কারনিয়াদেসের (খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ১৮০ থেকে ১১০) পর আকাদেমির পরবর্তী প্রধান হন একজন কার্থেজীয়, তাঁর আসল নাম ছিল হাবাল (Hasdrubal) কিন্তু গ্রিকদের সঙ্গে কাজকর্মে তিনি নিজের ক্লিতমাখস (Clitomachus) নামে পরিচয়ই পছন্দ করতেন।

    কারনিয়াদেস বক্তৃতা দেওয়াতেই নিজেকে আবদ্ধ রেখেছিলেন কিন্তু ক্লিতমাখস তা করেননি, তিনি চারশ-র বেশি বই লিখেছিলেন, তার ভিতরে কিছু ছিল ফিনিকীয় ভাষায়। মনে হয় তার নীতিগুলো কারনিয়াদেসের নীতির মতোই। কতকগুলো বিষয়ে সে নীতিগুলো কাজের ছিল। ভবিষ্যদ্বাণী, জাদুবিদ্যা এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এই দুজন সন্দেহবাদী নিজেদের নিয়োগ করেছিলেন, এগুলো ক্রমশই ব্যাপক থেকে ব্যাপকতরভাবে প্রসারিত হচ্ছিল। এছাড়া তারা একটি গঠনমূলক মতবাদও সম্প্রসারিত করেন, সেটা সম্ভাব্যতার পরিমাণ বিষয়েঃ যদিও আমাদের নিশ্চয়তাবোধ কখনোই যুক্তিসঙ্গত নয় তবুও কতকগুলো জিনিসের সত্য হওয়ার সম্ভাবনা অন্য কতকগুলোর থেকে বেশি। কার্যক্ষেত্রে সম্ভাব্যতাই আমাদের নির্দেশক হওয়া উচিত, কারণ, সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোর ভিতরে যার সম্ভাবনা অধিক তাকে নিয়ে কাজ করাই যুক্তিসঙ্গত। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে অধিকাংশ আধুনিক দার্শনিকদের মতৈক্য হবে। দুর্ভাগ্যক্রমে, যে বইগুলোতে এগুলো লেখা ছিল সে বইগুলো হারিয়ে গেছে এবং যে সমস্ত ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা দিয়ে মতবাদটির পুনর্গঠন কঠিন।

    ক্লিতমাখসের পর আকাদেমি আর সন্দেহবাদী রইল না এবং আন্তিওখসের (তাঁর মৃত্যু হয় ৬৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে) পর থেকে বহু শতাব্দী পর্যন্ত আকদেমির মতবাদগুলোর সঙ্গে স্টোইকদের মতবাদের পার্থক্য খুঁজে বার করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

    তবে সন্দেহবাদ মুছে যায়নি। ক্ৰিতীয় আয়েনেসিদেমস (Aenesidemus)-এর দ্বারা এই তত্ত্বের পুনরুন্মেষ হয়, তিনি এসেছিলেন নসস থেকে, আমরা যতদূর জানি ওখানে হয়তো দুহাজার বছর আগেও সন্দেহবাদীর অস্তিত্ব ছিল, পশুদের কত্রীর দেবত্ব সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে অসৎ চরিত্রের স্তাবকদের তারা আনন্দদান করতেন। আয়েনেসিদেমসের কাল অনিশ্চিত। তিনি কারনিয়াদেস প্রবর্তিত সম্ভাব্যতার মতবাদ বাতিল করেন এবং সন্দেহবাদের আদিমতম রূপে ফিরে যান। তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল, খ্রিষ্টিয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে বিদ্রুপাত্মক সাহিত্য রচয়িতা লুকিয়ান (Lucian) তাঁকে অনুসরণ করেন। তাছাড়া আরও কিছুকাল পরে অনুসরণ করেন সেক্সতস এমপিরিকস (Sextus Empiricus), তিনি প্রাচীন যুগের একমাত্র সন্দেহবাদী দার্শনিক, যার লেখা আজও পাওয়া যায়। যথা, তার একটি পুস্তিকা আছে, ঈশ্বর বিশ্বাস বিরোধী যুক্তি, এডুইন বেভান তাঁর পরবর্তী গ্রিক ধর্ম (Later Greek Religion) গ্রন্থে ৫২-৫৬ পৃষ্ঠায় এই পুস্তিকার অনুবাদ করেছেন এবং তিনি বলেছেন বইটি সম্ভবত সেক্সস এমপিরিকস নিয়েছিলেন কারনিয়াদেসের কাছ থেকে, ক্লিতমাখস এরকমই বলেছিলেন।

    এই পুস্তিকা শুরু হয়েছে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে, তাতে বলা হয়েছে সন্দেহবাদীরা আচরণে গোঁড়া ও কার্যক্ষেত্রে আমরা সন্দেহবাদীরা পৃথিবীর রীতি অনুসরণ করি কিন্তু এ সম্পর্কে আমাদের কোনো মতামত নাই। আমরা দেবতাদের সম্পর্কে এমনভাবে বলি যেন তাদের অস্তিত্ব আছে এবং দেবতাদের আমরা পূজা করি ও বলি যে, তাঁরা দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেন। এ কথা বলি কিন্তু বিশ্বাস প্রদর্শন করি না এবং গোঁড়ামির সমর্থকদের হঠকারিতা এড়িয়ে যাই।

    তারপর তিনি যুক্তি দিচ্ছেন ঈশ্বরের প্রকৃতি নিয়ে মানুষে মানুষে পার্থক্য হয়, উদাহরণ, অনেকে বলেন তিনি দেহী, অনেকে বলেন বিদেহী। তাঁর সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তার উপাধি জানা আমাদের সম্ভব নয়। ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বপ্রকাশ নয় সুতরাং এর প্রমাণ প্রয়োজন। এরকম কোনো প্রমাণ সম্ভব নয়, সেটা দেখানোর জন্য খানিকটা বিভ্রান্তিকর যুক্তি আছে। তারপর তিনি আলোচনা করেছেন মন্দের সমস্যা নিয়ে এবং নিম্নলিখিত কথাগুলো দিয়ে উপসংহার টেনেছেন : যারা দৃঢ়ভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে বলেন তারা একটা অধর্ম এড়াতে পারেন না। তারা যদি বলেন ঈশ্বর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে তাঁরা তাঁকে সমস্ত মন্দ কর্মের কর্তা বলেছেন। অন্যদিকে, তারা যদি বলেন তিনি শুধুমাত্র কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেন কিংবা তিনি কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন না, তাহলে বলতে হয় তিনি অনিচ্ছুক দাতা কিংবা তিনি অক্ষম এবং এরকম করা স্পষ্টতই অধার্মিক কাজ।

    খ্রিষ্টিয় তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত সন্দেহবাদ কিছু সংস্কৃতি সম্পন্ন মানুষের মনকে নাড়া দিত কিন্তু এ মতবাদ ছিল যুগের হাওয়ার বিরোধী, সে হাওয়া তখন ক্রমশই বেশি বেশি করে গোঁড়া ধর্ম ও মুক্তির মতবাদের দিকে ঝুঁকছিল। শিক্ষিত লোকেরা ভিতরে রাষ্ট্রীয় ধর্ম সম্পর্কে অসন্তোষ সৃষ্টি করার মতো যথেষ্ট শক্তি তখনও সন্দেহবাদীর ছিল কিন্তু তার বদলে, এমনকি শুদ্ধ বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলেও এই মতবাদের দেওয়ার মতো সুস্পষ্ট সঠিক কিছুই ছিল না। রেনেসাঁ-র পর থেকে ধর্মতত্ত্বের সন্দেহবাদের অধিকাংশ সমর্থকরাই ঐ মতবাদের বদলে গ্রহণ করেছিলেন বিজ্ঞানের উত্সাহী বিশ্বাস কিন্তু প্রাচীনকালে সেই সন্দেহের অনুপূরক কিছু ছিল না। সন্দেহবাদীদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে প্রাচীন জগৎ তাঁদের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেল। অলিম্পীয়দের অবমূল্যায়নের ফলে প্রাচ্যধর্মের আক্রমণের পথ খোলা রইল, খ্রিষ্টধর্মের বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের সমর্থন লাভের চেষ্টায় এই প্রাচ্যধর্মগুলো ব্যস্ত ছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য মেটামরফসিস – ফ্রানজ কাফকা
    Next Article সক্রেটিসের আগে – বার্ট্রান্ড রাসেল

    Related Articles

    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কেন আমি ধর্মবিশ্বাসী নই – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    সুখের সন্ধানে – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    অপেক্ষবাদের অ, আ, ক, খ – বারট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কর্তৃত্ব ও ব্যক্তিসত্তা – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    ধর্ম ও বিজ্ঞান – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    দর্শনের সমস্যাবলি – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }