Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পিতা পুত্রকে – চাণক্য সেন

    চাণক্য সেন এক পাতা গল্প276 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পিতা পুত্রকে – ১১

    এগারো

    ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেবার জন্য মহকুমার সব স্কুলের পরীক্ষার্থীদের যেতে হলো মাদারীপুর। সেখানে তো হোটেল ছিল না, মাদারীপুর শহর হলেও, আধা গ্রাম। বরিশাল ও ফরিদপুরের সমান প্রভাব এই মহকুমা শহরে, লোকেদের কথাবার্তায় বরিশালী টান। আমাদের গ্রামের আনন্দ সেন মহাশয় মাদারীপুরে সুদক্ষ মোক্তার, স্কুল পাস করা ডাক্তারের মতো, কলেজ পাস করা উকিলেল নিচে। গণেশপুরের পরীক্ষার্থীদের বেশিরভাগই তাঁর গৃহে আতিথ্য পেত। বেশ বড় একটা বাইরের ঘরে প্রকাণ্ড সতরঞ্চি, তার উপর সাদা চাদর পেতে দেওয়া হয়েছিল, আমরা চারটি পরীক্ষার্থী সেখানে সাদরে আশ্রিত হয়েছিলাম। পরীক্ষায় বসতে হতো দশটা থেকে পাঁচটা, অন্নদা সেন মশাইয়ের বাড়িতে ফিরে আসতেই জলখাবার, রাত্রিতে তাঁদের রান্নাঘরের বারান্দায় পরিবারের পুরুষদের সঙ্গে আহার।

    মাদারীপুর যেতে হলো গণেশপুর থেকে নৌকায় সুরেশ্বর, সেখান থেকে স্টিমার। গণেশপুর ছেড়ে ‘দূর দেশে’ যাবার অভিজ্ঞতা আমার তিনবার হয়ে গেছে। মামার বিয়ের সময় মার সঙ্গে কলকাতা, তখন আমি নিতান্তই বালক, তার কোনো স্মৃতি নেই মনের পর্দায়। বিজনকাকার বিয়েতে ঢাকা গিয়েছিলাম, তার আবছা স্মৃতি রয়ে গেছে একটি পরম সুন্দরী বালিকাকে ঘিরে। অষ্টম ক্লাসে পড়ার সময় নাক-ভর্তি পলিপাশ অপারেশন করার জন্য বাবা নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা, অপারেশন মোটেই ভালো হয়নি, ঢাকা মেডিক্যাল স্কুলে ইএনটি সার্জন ছিল না। আমার নাক থেকে রক্ত ঝরে জামা ভেসে গিয়েছিল, তাতে বাবা খুব কেঁদেছিল, এটা আমার মনে আছে। আরও দুটো স্মৃতি রয়ে গেছে মনে। আমার রাঙ্গা ঠাকুমার বাবা ঢাকা শহরে, রমনা পেরিয়ে ‘উয়ারী’ পল্লিতে বাড়ি করেন, আমরা বাপ ছেলে সেখানে আতিথ্য পেয়েছিলাম। এই মহাশয় ‘বৈদ্যরা ব্রাহ্মণের চেয়ে জাতিতে বড়’ এই ‘শাস্ত্রীয় সত্য’ প্রমাণ করে কয়েকখানা কিতাব ও প্রবন্ধ লিখেছিলেন তিনি নিজের পদবি বদলে দিয়েছিলেন ‘শর্মা’-তে— তিনি ছিলেন দাসশর্মা। আমার পিতৃদেবকে অনেক বুঝিয়েও ‘সেনশর্মা’ বা ‘সেনগুপ্তশর্মাতে’ উত্তীর্ণ করতে পারেননি। তিনি বাড়ির সব পুজো, দুর্গাপুজো পর্যন্ত নিজে করতেন, ‘পুরোহিত দর্পণ’ ছিল তাঁর কণ্ঠস্থ। তাঁর নিজেদের পুত্রদের নিয়ে হতাশার কথা আমার মতো কিশোরকে ও অনেকক্ষণ ধরে বলে যেতেন, বলা শেষ হলে প্রশ্ন করতেন, “বুঝেছ আমার দুর্ভাগ্য?” আমি ভয়ে ভয়ে বলতাম ‘বুঝেছি’ তিনি তৎক্ষণাৎ জোর গলায় বলে উঠতেন, ‘ছাই বুঝেছ’। তাঁর মাথার বিরাট টিকি দু’তিনবার লাফ দিত।

    সেই ঢাকা শহরের এক টুকরো সোনার স্মৃতি সারা জীবন আমার মনে লেগে রয়েছে। বর্ষা সন্ধ্যার মেঘলা আকাশে এক ছটা লাল আবিরের মতো।

    একটি মেয়ের সঙ্গে আমার ‘ভাব’ হয়েছিল।

    তার নাম ভুলে গেছি। সে আমার চেয়ে বছরখানেকের ছোট ছিল। শুধু মনে আছে তার মা পরমা সুন্দরী ছিলেন, মেয়েটি ছিল কাঞ্চন বর্ণ, বড় বড় চোখ, মাথায় এক ঝাঁক ঝাঁকড়া চুল, মুখে সব সময় হাসির হিল্লোল।

    তারা নিশ্চয়ই যোগেশচন্দ্র দাসশর্মা মশাইদের আত্মীয় ছিলেন, থাকতেন রমনায়, বড় একটা মাঠ ও মন্দির পেরিয়ে পৌঁছতে হতো তাদের বাড়ি। আমি ক’বার তাদের বাড়ি গেছি মনে নেই, শুধু মনে আছে, গেলে আমাদের আলাদা করা যেত না, কত কী সব কী যে কথা বলেছি ঈশ্বর জানেন, কিন্তু খুব মনে আছে তাকে বলেছিলাম, এই, জান, আমি তোমাকে ভালোবাসি, জবাবে সে বড় বড় চোখ দুটি আমার চোখে রেখে বলেছিল, আমিও ভালোবাসি তোমাকে।

    এই নাম ভুলে যাওয়া মেয়েটি আমার জীবনে প্রথম প্ৰেম।

    নামহীন বনফুলের মতো আমার জীবন-জঙ্গলে সে অমর।

    প্রেমে পড়া, ভালোবাসা আমার পক্ষে খুব সহজ ছিল। সেই উমেশবাবুর বৈষ্ণব পদাবলী আমার মনকে নরম-গরম করে দিয়েছিল। জীবনে আমি অনেক নারীকে ভালোবেসেছি, পেয়েছি অনেক নারীর ভালোবাসা, তাদের প্রত্যেকের প্রভাব চিহ্নিত হয়ে রয়েছে তিনকুড়িদশের ইতিহাসে। পুত্র, তোমাকে তাদের কথা বলব, তাদের বাদ দিলে আমার জীবনের অনেকখানি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডালপালা কেটে নিলে বৃক্ষের কাণ্ডটা যেমন প্রবল হয়েও দুর্বল হয়ে পড়ে।

    ভালো পড়ুয়াদের খাতির একটু বেশি জোটে। স্কুলে ‘ভালো ছাত্র’ এই সুনাম অন্নদা সেন মহাশয়ের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অন্নদাবাবু নিজে আমাকে বলেছিলেন, “তোমাকে কিন্তু ডিস্ট্রিক্ট স্কলারশিপ পেতে হবে।”

    তাঁর একটি মেয়ে, বয়স আমার মতো হবে, পনেরো পা-দেওয়া, আমাদের রাত্রির আহারের সময় উপস্থিত থাকত। সরল, সুশ্রী, খোলা মন, ঈষৎ প্রগলভ মেয়ে, শোভনা। শোভনা আমাকে একদিন বাড়ির ভিতর নিয়ে গেল। তাঁর মা’র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে।

    আমার পিতামহ রজনীকান্ত বিখ্যাত ব্যক্তি, পিতা দুর্জয়সিংহ শান্ত নিবিড় পুকুরের মতো গভীর, সুস্থির, নিঃসঙ্গ স্কুল মাস্টার।

    সেকালের সমাজে এই টিকেট নিয়ে অনেকের বাড়িতেই প্রবেশ করা যেত।

    শিক্ষকদের সম্মান ছিল গ্রামীণ সমাজে প্রচুর। পণ্ডিত ব্রাহ্মণদের মতোই।

    শোভনার মাকে প্রণাম করতে তিনি একটা কাঠের হাতহীন চেয়ারে বসতে বললেন আমাকে।

    মা, বোন, ভাইদের— তখন আমার দুটি ভাই— খবর নিলেন। বাবা সুস্থ আছেন কি না জিজ্ঞাসা করলেন। শোভনা একটা প্লেটে করে নাড়ু ও মোওয়া এনে দিল। বলল, “এগুলো সব খেতে হবে।” আমি বাধ্য ছেলে, সবগুলো খেয়ে নিলাম।

    শোভনা মাকে বলল, “ছেলেটি ভালোই, কী বলো মা? বেশ কথা শোনে।” বলেই খিলখিল করে হেসে উঠল। আমি ভীষণ সংকুচিত হয়ে গেলাম।

    শোভনা বলল, “পড়াশোনায় ভালো ছেলেরা সাধারণত বোকা—বোকা হয়ে থাকে। তোমাকে দেখে তা তো মনে হচ্ছে না।”

    মা ধমকে উঠলেন, “কী সব বলছিস, খুকি! ও কী ভাববে?” আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, “এই মেয়েটা ভীষণ বাজে বকে। যাকে যা বলতে নেই, তাকে তাই বলে বসে। কিছু মনে করে বলে না কিন্তু।”

    শোভনা বলল, “ক্লাসে ফেল করা মেয়ের মুখের কথার কোনো মানে হয় নাকি?”

    মা বললেন, “ও কিন্তু আবার বাজে কথা বলছে। প্রথম বিভাগে নাইন থেকে টেনে উঠেছে। আসছে বছর ম্যাট্রিক দেবে।”

    এবার আমি বললাম, “তারপর?”

    শোভনা বলল, “তারপর দুটো পথ খোলা। একটা পথ নিয়ে যায় কলেজে, ইউনিভার্সিটিতে। অন্য পথ শ্বশুর বাড়ি।”

    শোভনা আমাকে ‘তুমি’ বা ‘তুই’ একটা সম্বোধনও করেনি।

    আমি প্রশ্ন করে বসলাম, “তুমি কোন্ রাস্তা নেবে?”

    শোভনা বলল, “গাঁয়ের ছেলেরা মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে শেখে না। ‘তুমি’ বলছ কেন? ‘আপনি’ বলবে।”

    আমি বললাম, “আমি তোমার এক ক্লাস উপরে পাড়ি। তুমি আমাকে আপনি বলবে, আমি তোমাকে বলব তুমি।”

    “ওরে বাবা! এক মুহূর্তে দাদা হতে চাইছে!” চেঁচিয়ে উঠল শোভনা, সঙ্গে সঙ্গে হেসে গড়িয়ে পড়ল।

    চারদিন পরীক্ষা চলছিল আমাদের। চারদিনই শোভনার সঙ্গে সন্ধেবেলায় গল্প হতো। আমাদের সম্বোধন স্বাভাবিক সরলতায় প্রথম থেকেই ‘তুমি’তে ধার্য হয়েছিল। শোভনা কথাবার্তায় সপ্রতিভ, আমিই বরং লাজুক। শোভনার ভাষায় ‘গ্রামের ছেলে’!

    পরীক্ষা শেষ হলে আমি গণেশপুরে ফিরে গেলাম। রিকশা চেপে স্টিমার স্টেশনে যেতে হবে। শোভনা রাস্তায় এসে আমাকে বিদায় দিল।

    বলল, “মনে থাকবে আমাকে?”

    আমি বললাম, “গ্রামের ছেলেরা সহজে কাউকে ভোলে না।”

    “তুমি কবে যাচ্ছ কলকাতা?”

    “পাস তো করি।”

    শোভনা হেসে উঠল, “পাস করা নিয়েও সন্দেহ! লোকে বলে তুমি তুখোড় পড়ুয়া।”

    আমি বললাম, “ভালো পাস না করলে আমার কলেজে পড়া হবে না।”

    বিস্মিত হয়ে শোভনা বলল, “কেন?”

    “কলেজে পড়ার খরচ বাবা নাও যোগাতে পারেন।”

    শোভনা আবার হেসে উঠল, “ভগবানকে ডেকো, হবেই হবে।” তখুনি মিহি গলায় গেয়ে উঠল শোভনা : “নিশিদিন/ভরসা রাখিস, ওরে মন, হবেই হবে/ যদি পণ করে থাকিস/ সে পণ তোমার রবেই রবে।”

    আমি বললাম, “তুমি যে গাইতে পার তা তো জানতাম না।”

    শোভনা বলল, “যাবার আগে জানিয়ে দিলাম, আরও অনেক গুণ আছে, ধৈর্য ও সময় থাকলে ক্রমে ক্রমে জানতে পারবে। পূজার সময় গ্রামে আসছ তো?”

    “নিশ্চয়ই।”

    “আমরাও যাব। তখন আবার দেখা হবে।”

    আমরা দুজনে দুজনের চোখে চোখ রাখলাম। চারটি চোখেই জল।

    পনেরো বছরের বুক কত সহজেই ভরা নদী হয়ে ওঠে। পনেরো বছরের আঁখি কত সহজে শিশিরভেজা সবুজ পাতার মতো কাঁপে ।

    আমি হঠাৎ আবিষ্কার করলাম শোভনার চুলে একগুচ্ছ করবী। ওপরে তাকিয়ে দেখতে পেলাম আকাশ ঘন নীল।

    পনেরো বছরের গ্রাম বাংলার ছেলেটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠল :

    “অলকে তার একটি গুছি করবী ফুল রক্তরুচি,
    নয়ন করে কী ফুল চয়ন নীল গগনে দূরে দূরে।”

    “বাপরে বাপ!” চমকে উঠল শোভনা, “তুমি এসব কবিতা শিখলে কী করে?”

    আমি বললাম, “এটা একটা গান, কলের গানে শুনেছি।”

    “কলের গান! ও! গ্রামোফোন!” শোভনা হেসে ভেঙে পড়ল। “ওঃ একেবারে গেঁয়ো ছেলে তুমি।”

    আমি তখন রিকশায় বসে পড়েছি। বললাম, “চলি তাহলে শহুরে মেয়ে!”

    শোভনা আমার জীবনের প্রথম মেয়ে বন্ধু। বেশিদিন বাঁচেনি সেই বন্ধুত্ব। শোভনাই বাঁচেনি বেশিদিন। শোভনা দীর্ঘজীবী হলেও আমাদের বন্ধুত্বের আয়ু নিশ্চয় দীর্ঘ হতে পারত না।

    পঞ্চান্ন বছর আগে ছেলে-মেয়েদের বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ ছিল। এইটুকু আমার চেয়ে শোভনা ভালো জানত।

    তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষার ফল বের হয়ে গেল। আমি ডিস্ট্রিক্ট স্কলারশিপ পেলাম না। তিনটি বিষয়ে ‘লেটার’ পেলাম— ইংরেজি, বাংলা, সংস্কৃত। গণিতে পেলাম ৬১ নম্বর।

    উচ্ছ্বসিত প্রশংসা দিল না কেউ আমাকে। স্কুলে হেডমাস্টার ছিলেন না। অন্য শিক্ষকগণ খুশি হলেন, সঙ্গে সঙ্গে জিলার প্রথম না হতে পারার জন্যে দুঃখিত। মা খুশি হলেন নিশ্চয়ই, কিন্তু তিনটে বিষয়ে ‘লেটার’ পাওয়ার মাহাত্ম্য বুঝতে পেরেছেন তা মনে হলো না। জ্যেঠামশাই এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। শরিকদের পরিবারে গুরুজনদের মুখে হাসি ফুটল না।

    কয়েকদিন পরে পিতৃদেবের পোস্টকার্ড এল। মাকে লেখা। “শ্রীমান ম্যাট্রিকুলেশনে ভালোই ফল করিয়াছে। এইবার তাহাকে কলিকাতায় গিয়া কলেজে পড়িতে হইবে। যাইবার পথে আমার কাছে কয়েকদিন থাকিয়া যাইবে, ইহাই স্থির করিয়াছি। সুরেশ্বর হইতে স্টিমার মেঘনা ও ভৈরবী নদী পথে খুলনা আইসে। শ্রীমান তাহাতেই আসিবে।”

    আমার কাকামনি তখন কলকাতায়, বেকার। তিনি খুব বাহবা দিয়ে চিঠি লিখলেন আমাকে। “তুমি আমাদের বংশের সবচেয়ে ভালো ফল লাভ করিয়া ম্যাট্রিকুলেশন পাস করিয়াছ। তোমাকে বুকে জড়াইয়া ধরিতে ইচ্ছা হইতেছে।”

    উমেশবাবু দুঃখ পেয়েছিলেন অঙ্কে ‘লেটার’ না পাওয়াতে কিন্তু সে দুঃখে ভার ছিল না। তিনি বলেছিলেন, তোমাকে বৈষ্ণব পদাবলী শিখিয়েছি। রস, রূপ, গন্ধে ভরে উঠবে তোমার জীবন। জীবন মধুময়, পৃথিবী সুন্দর, পবন সুগন্ধ, কৃষ্ণপ্রেম যে পেয়েছে তার বৈভবের অভাব নেই।

    আজ মনু গেহ গেহ করি মানলু
    আজ মনু দেহ ভেল দেহা।
    আজু তিহি মোহে অনুকূল হো অল
    টুটল সবহুঁ সন্দেহা।

    “তোমার জীবন অনুকূল হোক। তুমি যেখানেই থাক, ‘মতি রহু তুয়া পরসঙ্গ।” উমেশ মাস্টার স্রোতের বুকে তৃণের মতো ভেসে অতীত হয়ে যাবে, কত কিছু ঘটনা ঘটবে তোমার জীবনে, সুখের পরে দুঃখ আসবে, রৌদ্রের পরে প্রভঞ্জন, শুধু মনে রেখো: “জাতি জীবন ধন তুমি।”

    বিষাদ মেঘ ঘনিয়ে এল গণেশপুরের একটা প্রাচীন বাড়ির ‘দক্ষিণের ঘরে।” পুত্র গ্রামের পাঠ শেষ করে যাচ্ছে কলকাতা, কলেজে পড়বে, মানুষ হবে, সেই বিষাদ মেঘে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝিলিক : এই বিয়োগের সতরঞ্চি আশা, উত্তেজনা, স্বপ্নের সুতোয় বোনা। আমার চোখে সবকিছু নতুন। নতুন করে দেখছি আমি পদ্মানদীর ছলছল ঢেউ, বকপাখিগুলোকে মনে হচ্ছে সুদূর হাতছানি, তৃণ-লতা-বৃক্ষরাজির নিবিড় সবুজের অশ্রুস্নিগ্ধ স্পর্শ লাগছে আমার শরীরে। ডালিম গাছটা তার অসংখ্য লাল ফুলগুলো প্রজাপতির ডানার মতো রঙের দাপটে তুলে ধরেছে আমার সামনে। ভবিষ্যতের ইশারা জানাচ্ছে পনেরো বছরের একটি ছেলেকে। এত পাখির এত কূজন এর আগে কানে বাজেনি আমার, বাতাস কোমল পরশ দিয়ে যাচ্ছে এক তরুণ দেহে, আকাশ কোন দিগন্ত থেকে অজানা ভবিষ্যতের দিকে হাতছানি দিচ্ছে। মালতী, কামিনী, যুঁই, স্থলপদ্ম, গন্ধরাজ, গাঁদা, কচুরিপানা, শাপলা যতকিছু ফুটত আমাদের বাগানে, জঙ্গলে, পুকুরে, পথের ধারে! তাদের সকলের মন্ত্রহীন বাগ্ময়তার মধ্যে আমি চরে বেড়াচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মুহূর্ত বুক ফেটে কান্না আসছে, যখন দেখছি মা’র বিষণ্ন মুখ, আমার এক-আত্মা বোন মধুর মুখ ও চলাফেরা, দু’ভাই কানু ও ভানুর ব্যথাতুর চোখ। পনেরো বছর বয়সে আমি অনেক পাকা হয়ে গেছি, পাঁচ বছর মা’র সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংসার চালিয়েছি, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব যেন আমারও কাঁধের ওপর এসে গেছে। এখন মাকে সবকিছু একা সামলাতে হবে। জ্যেঠামশাই অভিভাবক হিসেবে সবকিছু দেখবেন নিশ্চয়, তবু মা’র সঙ্গে বসে বসে সংসার চালাবার দৈনন্দিন অনেক ‘সমস্যা’ আমি আলোচনা করেছি। আমি বুঝতে পারছি মা-মধু-কানু-ভানু-সবাই অদূর ভবিষ্যতে গণেশপুর ছেড়ে চলে যাবে, মাকে একা একা গ্রামে বেশিদিন রাখা চলবে না। মধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে তিন বছর বাড়িতে পড়ছে, ওকে স্কুল কলেজে পড়াতে হবে। আমার গণেশপুর ছাড়া আর একটি ভদ্র পরিািবরের গ্রাম ছেড়ে শহরবাসের সূচনা এ কথাটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে, সবাইকে যে “শীঘ্রই” খুলনা অথবা কলকাতা যেতে হবে তা নিয়ে রোজ আমাদের মা ছেলেমেয়েদের মধ্যে উত্তপ্ত উৎসাহিত আলোচনা।

    কানু বলে রেখেছে, দাদা, আমরা যখন কলকাতা যাব, খাটগুলো সব নিয়ে যাব কিন্তু! আমরা ওর কথা শুনে হেসেছি, কিন্তু এত বড় একটা ব্যবহারিক ঘোষণার মধ্যে হাসির কী আছে কানু তা একেবারেই বুঝতে পারছে না।

    বাবা খুলনা পর্যন্ত যাবার ভাড়া পাঠিয়েছিলেন। মা তাঁর বহুকষ্টে জমানো তহবিল থেকে পুরো দুটো টাকা বাড়তি খরচার জন্য দিলেন। একটা টিনের বাক্সে ধুতি, তিনটে শার্ট, দুটো গেঞ্জি, একখানা গামছা, একখানা পাঞ্জাবী গুছিয়ে দিলেন মা।

    মা’র চরণধূলি আর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে, সব গুরুজনদের প্রণাম করে নারায়ণ ঘর, দুর্গা মণ্ডপ, কালীপূজার ঘরে প্রণত হয়ে আমি এক বসন্ত প্রভাবে গণেশপুরের পদ্মা নদীতীরে নৌকায় চেপে বসলাম। জ্যেঠামশাইয়ের সঙ্গে কানু, মধু, ভানুও এল আমাকে তুলে দিতে। নৌকাতে আরও তিনজন যাত্রী ছিল, জ্যেঠামশাই তাদের বারবার করে অনুরোধ করল, আমার উপর তারা যেন নজর রাখে।

    জীবনের দ্বিতীয়ার্ধে আমি প্রায় সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু সেই আমার জীবনের প্রথম ঐতিহাসিক যাত্রার সঙ্গে কোনো যাত্রার তুলনা হতে পারেনি। একটি নিতান্ত সাধারণ স্বল্পবিত্ত বাঙালি পরিবারের পনেরো বছরের ছেলের জীবনে অ্যাডভেঞ্চার বলে কিছু ছিল না। আমাদের প্রথম ও শেষ মন্ত্র ছিল আত্মরক্ষা। আমি ড্যানিয়েল ডুফোর ‘রবিনসন ক্রুশো’ পড়েছিলাম। সেই দুঃসাহসী ইংরেজ সমুদ্রের অলঙ্ঘনীয় আহ্বানে আত্মীয়-স্বজনের উপদেশ অগ্রাহ্য করে জাহাজে চেপে বেরিয়ে পড়েছিল, ভীষণ প্রভঞ্জন, পাহাড় প্ৰমাণ সমুদ্রের ঢেউ, বার বার জাহাজডুবি, লোকজনহীন আফ্রিকার দ্বীপে বছরের পর বছর কাটিয়েছিল। সেই অসম দুঃসাহসিক ভ্রমণ কাহিনি পড়ে বারে বারে দেহ রোমাঞ্চিত, মন ভীতচকিত হয়েছে আমার। আমি পরাধীন দেশের সবেমাত্র স্কুল পাস করা তরুণ, বাবা আমার দরিদ্র স্কুল মাস্টার। মা’র বছরে চারখানার বেশি শাড়ি জোটে না, অনেক আত্মীয়-স্বজন আমার পিতার সামান্য রোজগারের উপর নির্ভরশীল। আমি গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যাচ্ছি যেমন যায় সব ভদ্রঘরের ছেলেরাই, ভবিষ্যতের ডাকে। পরিষ্কার নয় সে ডাক আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই পড়াশুনার পর কী আমি হব—শিক্ষক, না ডাক্তার, না উকিল! কলেজে পড়তে পারব কিনা তাও নিশ্চিত নয়, যদিও মনে মনে দৃঢ় বিশ্বাস আমার বাবা ব্যবস্থা করবেনই। আমার যাত্রার মধ্যে নাটক নেই, কাহিনি নেই, শুধু আছে তরুণ বুকের দুরুদুরু ভয় মাখা স্বপ্ন, আর ছেড়ে আসা মা-ভাইবোনদের জন্য ব্যথা। সঙ্গে রয়েছে পনেরো বছরের জীবনের বাড়তি প্রাপ্তি— উমেশবাবুর মুখে উচ্চারিত বৈষ্ণব পদাবলী, ঢাকার রমনার সেই (এখন) নাম ভুলে যাওয়া মেয়েটির বড় বড় চোখের চাহনি, শোভনার সপ্রতিভ হাসির ফোয়ারা। রয়ে গেছে, আমার লুকানো একেবারে একতরফা প্রেম, খুড়তুতো দিদি গৌরীর মধুর স্মৃতি।

    আমি পিছুটান মানুষ নই, অতীত মন্থন নয় আমার স্বভাব। যে যায় সে যায়: জীবন চলে, চলে, চলে : ‘চরৈবেতি’, বলেছেন উপনিষদের ঋষি। সুদূর, তুমি সুদূর, আমাকে পেছনে টেনো না, আমার কাছে তুমি অশান্ত নীরব অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, ‘তরঙ্গ উঠে প্ৰাণে, দিগন্তে কাহার পানে/ ইঙ্গিতের ভাষায় কাঁদে, নাহি নাহি কথা।’ গণেশপুর কোনোদিনও আমার মন থেকে নিশ্চিহ্ন হবে না আমি জানতাম। পরিণত বয়সে দেখেছি যে সব পর্দায় সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে গাঁথা রয়েছে, স্মৃতি ছায়াছবির মনের গণেশপুর তার মধ্যে প্রথম। কিন্তু গণেশপুর কখনো আমাকে পিছু ডাকেনি। দুবার আমি ফিরে এসেছি গণেশপুরে, পূজার সময়, দুবারই মনে হয়েছে আমি শেষ ত্রিশের গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছি, যেখানে জীবনের প্রবাহ প্রবল, যেখানে পৃথিবী এসে মিশেছে, ক্ষণি ধারায় বা স্রোতধারায়, আমার মতো এক যুবকের জীবনেও। ইতিহাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সেই সময়, ভারতবর্ষে সুভাষ বসুর নেতৃত্ব নিয়ে কংগ্রেসে বিরাট আলোড়ন, অবস্থিত নেতাদের মনে বিরাট আতঙ্ক। বহু মানুষের স্নায়ুতে সংগ্রামের নতুন প্রবাহ ধাক্কা দিচ্ছে ইউরোপের রাজনৈতিক ঘটনাবলি। হিটলার আমাদের কমবেশি প্রিয়, কেননা তিনি সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ ফরাসি শক্তির শত্রু। গণেশপুরে এসব প্রবল ঘটনাপ্রবাহের সামান্য উত্তাপ আমি অনুভব করেছি। জেনেছি ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো, তাঁর তালগাছসম উঁচু শরীর ও বিরাট নাসিকা নিয়ে একমনে ভারতের গাভীকূলের সেবা করে যাচ্ছেন, গো-পালনই তাঁর মতে ভারতকে সবল করবে, স্বরাজের অনিশ্চিত সীমানার দিকে ধীরে আস্তে নিয়ে যাবে।

    এই ইতিহাসের চৌমাথায় যখন ভারত ও পৃথিবী পৌঁছাচ্ছে, একটি বাঙালি তরুণ অথবা প্রথম প্রবাহের যুবক, তার মাতৃভূমি, পনেরো বছরের মাতৃ-আশ্রয় গণেশপুর গ্রাম ত্যাগ করে চলল কলকাতার উদ্দেশ্যে, ‘আমার অনেক পথ পাড়ি দিবার আছে, আছে অনেক অঙ্গীকার পালনের অপেক্ষায়’– কিন্তু পদ্মায় নদী একটুও বাড়ন্ত উচ্ছ্বাস দেখাল না। প্রকৃতি দেখাল না এতটুকুও বেশি চাঞ্চল্য। আমার বুকের স্বপ্ন ও আশা ভেসে গেল চোখের নোনা জলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রীকৃষ্ণকীর্তন – চণ্ডীদাস
    Next Article ডিসেন্ট অফ ম্যান – চার্লস ডারউইন (অসম্পূর্ণ বই)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }