Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পিতা পুত্রকে – চাণক্য সেন

    চাণক্য সেন এক পাতা গল্প276 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পিতা পুত্রকে – ১৫

    পনেরো

    বাবা একটা সাইকেল রিকশা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন। বাক্স বিছানা পায়ের নিচে রেখে প্রথম আমি, পরে বাবা তাতে চেপে বসলেন। বাবা গন্তব্যস্থান আগেই বলে রেখেছিলেন। শীর্ণদেহ মাঝবয়সী রিকশাওয়ালার সব ভারটা তুলতে কষ্ট হলো কিন্তু একবার তোলা হয়ে গেলে সে রিকশা চালিয়ে চলল, আমার মনে হলো না, তার আর কষ্ট হচ্ছে। এবার বাবা প্রথম কথা বললেন, “স্টিমারে কোনো কষ্ট হয়নি তো?”

    আমি বললাম, “না, একটুও না।”

    “বাড়ি থেকে দুবেলার খাবার দিয়ে দিয়েছিল?”

    “হ্যাঁ। লুচি, তরকারি।”

    “বাড়ির সব খবর ভালো?”

    “ভালো। ভানুর পেটটা খারাপ যাচ্ছিল, সত্য কবিরাজের ওষুধ খেয়ে ভালো আছে।”

    কথা শেষ। আমার পিতৃদেব ও আমি এর আগে কখনো পরস্পরের মধ্যে এতগুলো বাক্য বিনিময় করিনি। আমি রীতিমতো অস্বস্তি বোধ করছি। দনিজেকে বিব্রত মনে হচ্ছে। আমার মনে তখনও রাত্রির ভৈরব ঢেউ তুলছে। মাকে কাছে পেলে মন উজাড় করে কথা বলতাম। বাবাকে ও সব বলা যায় না।

    তবু নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলে বসলাম, “জাহাজের সারেঙ লোকটা খুব ভালো। অনেক পড়াশোনা করেছে। আমাকে বুঝিয়ে দিল কী করে জাহাজ চালাতে হয়।”

    বাবা বললেন, “ওরা চট্টগ্রামের মুসলমান। ভয়ঙ্কর লোক ওরা।”

    “এ সারেঙ হিন্দু।”

    “কী নাম?”

    নামটা তো আমাকে বলেছিল। একটুও মনে নেই আমার। শুধু মনে আছে, “আমার আবার নাম কী! আমি জাহাজের সারেঙ। নাবিক। আমার আর কোনো পরিচয় নেই।”

    বাবাকে বললাম, “বলেছিল, মনে করতে পারছি না।”

    আবার দুজনে চুপ। পথ দেখছি অনেক দীর্ঘ। একটা চড়াই-এ এসে রিকশাওয়ালা সিট থেকে নেমে দুবাহু দিয়ে জোরে রিকশা টানতে লাগল। লোকটার সারা দেহ ঘামে ভিজে গেছে। পরনে লুঙ্গি, গায়ে ছেঁড়া গেঞ্জি। মাথায় চুল নেই বললেই হয়। সব ঝরে পড়ে গেছে। আমার মনে হলো, আমাদের দুজনের নেমে যাওয়া উচিত। তাহলে রিকশার ভার কম হবে।

    বাবা কি আমার মনে কথা শুনতে পেয়েছিলেন? নিজেই লোকটাকে বললেন, “দাঁড়া, আমরা নেমে যাচ্ছি। তুই রিকশাটা টেনে নিয়ে উত্রাইয়ে নিয়ে আয়। তখন আমরা আবার বসব।”

    আমরা দুজনে নেমে পড়লাম।

    পায়ে হেঁটে চলতে চলতে বাবার হঠাৎ মনে পড়ল, আমার হয়তো ক্ষিধে পেয়েছে।

    প্রশ্ন করলেন, “সকালে কিছু খেয়েছিস? ক্ষিধে পেয়েছে?”

    চড়াই উঠবার সময় বাবার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বুঝতে পারলাম। বাবা সাংঘাতিক হাঁপানিতে ভোগেন। বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ বেরোচ্ছে গলা দিয়ে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে।

    আমি তখন দরকার মতো মিথ্যে বলতে শিখে গেছি। নিজেকে রক্ষা করতে অনেক সময় মিথ্যে বলতে হয়। শত্রুর হাত থেকে শুধু নয়, নিকটতম প্রিয়জনের হাত থেকেও। বাবার কাশি আরম্ভ হলো। এ কাশি আর পরিচিত। দেখলাম একটু পরেই কাশি বন্ধ হয়ে গেল।

    নিজেই বললেন, “গরমকালটা ভালোই থাকি, কষ্ট হয় শীতের মাসগুলো।”

    আমি বললাম, “আপনি বিপিন সরকার নামে কাউকে চেনেন?”

    স্মৃতির জঙ্গলে একটু খোঁজার চেষ্টা করে বাবা বললেন, “না।”

    “এখানে মিউনিসিপ্যালিটির কেরানি। আমার পাশেই উনি বিছানা পেতে নিয়েছিলেন। মাসিমা আমাকে সকালে খাইয়ে দিয়েছেন।”

    বাবা নীরব হলেন। উৎরাইতে রিকশার চেন পড়ে গেল।

    আমি বললাম, “মিউনিসিপ্যালিটির খুব নিন্দে করলেন মাসিমা। কী যেন ‘নাগ’। বললেন, তার কুনজরে পড়ে ভদ্রলোকের উন্নতি হচ্ছে না।”

    “কে বলল?”

    “ওঁর স্ত্রী। মাসিমা।”

    বাবা এবার একটু কঠিন স্বরে বললেন, “রায় বাহাদুর বলদাস নাগ। তাঁর বাড়িতেই আমি থাকি। ছেলেমেয়েদের পড়াই। খেতে থাকতে পাই। তোকেও ওখানেই নিয়ে যাচ্ছি।”

    বুঝতে পারলাম অজান্তে নিষিদ্ধ স্থানে প্রবেশ করেছি। চুপ করে গেলাম। নীরব পিতা-পুত্রকে নিয়ে কিছুক্ষণ পর সাইকেল রিকশাওয়ালা একটা বিরাট দালান বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়াল। গেট বন্ধ। গেটের সামনে লাঠিধঘারী প্রহরী। বাবা ও আমি দুজনেই রিকশা থেকে নামলাম। বাবা সাইকেল রিকশাওয়ালাকে তার পাওনা দিয়ে দিলেন। ময়লা গামছা দিয়ে সে তার দেহ, মাথা মুছতে লাগল। বাবা প্রহরীকে বললেন, আমার বাক্স বিছানা ভেতরে নিয়ে যেতে। “আমার ঘরে রেখে দিও।”

    রিকশাওয়ালা জল চাইল। বাবা তাকে দাঁড়াতে বললেন। গেটের পরেই বেশ বড় লন, ঘাসগুলো কিন্তু সবুজ নয়। অনেক রকম ফুলের গাছ লনের চার কিনারে। জমির ওপরেও তৈরি করা হয়েছে, এখন যাকে বলি ফ্লাওয়ার-বেড। লনের মাঝখানে ইটের পথ। বাবা একটু পরে রিকশাওয়ালাকে ডেনে লনের ওপর বিছানো দীর্ঘ পাইপের মুখটা তুলে ধরলেন। দুহাত পেতে পেট ভরে লোকটা জল খেল। তারপর সেলাম করে গেটের বাইরে গিয়ে সাইকেল রিকশায় প্যাডেল করতে করতে একটু সময়ের মধ্যে চোখের বাইরে চলে গেল।

    গণেশপুরে, তোমার মনে পড়বে, দুখানা সাইকেল ছিল। দুটোই জমিদার বাড়ির। লোকেদের পায়ে হেঁটে দূরত্ব ভাঙতে হতো। অথবা জলপথে নৌকোয়। মানুষ ঘাড়ে, পিঠে, মাথায় বোঝা বইত। গরুর গাড়িও ছিল না। আমি অবশ্য ঢাকা শহরে সাইকেল রিকশা দেখেছি, চড়েছি। এই মুহূর্তে আমার মন শহর সম্বন্ধে বিরূপ হয়ে উঠল। মনে হলো গণেশপুর গ্রাম ঢাকা, খুলনা থেকে অনেক ভালো। মানুষ গ্রামে খাটে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাটে। কিন্তু শহরে তারা যেন পশু হয়ে যায়। গণেশপুরে আমাদের বাড়িতে কয়লার বস্তা মাথায় চাপিয়ে মুটে আসত। তারা জল চাইলে আমি বা আমার বোন মধু বলতাম, ছায়ায় একটু বসো। ঘরে গিয়ে মাটির কলস থেকে এক ঘটি জল ও কয়েকখানা বাতাসা এনে দিতাম মুটেকে। বাগান বা লনের পাইপ থেকে পানি পান করতে হতো না তাকে। বাবা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ছুটিতে বাড়ি আসতে স্টিমার বন্দর থেকে। তিন ক্রোশ পথ। সঙ্গে বিছানা বয়ে আনত এক মুটে। পায়ে হাঁটার মধ্যে একটা মর্যাদা আছে, আত্মসম্মান আছে, এখন মনে হলো আমার। মানুষে টানা রিকশা বা সাইকেল রিকশা চেপে পথ অতিক্রম করার মধ্যে রয়েছে নিষ্ঠুরতা। পশুর কাজ করে পয়সা কামাতে হয় শহরে গরিবদের। স্টিমার বন্দরে অনেক ভিখিরি দেখেছিলাম। গণেশপুরে ভিক্ষা করত না কেউ। বাউলরা একতারা বাজিয়ে গান করতে আসত। আমরা বাড়ির প্রায় সবাই, বুড়োরা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতম গান শুনতে। কেউ কেউ পয়সা দিত। ফকির আসত আল্লাহ্ আল্লাহ্ উচ্চারণ করতে করতে। পরনে আলখাল্লা, গলায় নানবারকম পাথর। হার, ছোট্ট শাঁখের একরাশি মালা। লম্বা জট পাকানো চুল কাঁধ ছাড়িয়ে পিঠ পর্যন্ত নেমে এসেছে। দেখলে ভয় পেতাম আমরা ভাইবোনেরা। মা হয় নিজে, না হয় অন্য কাউকে দিয়ে দু’চার মুঠো চাল দিয়ে দিতেন ফকিরদের। আমরা তাদের ভিখিরি মনে করতাম না। মাঝে মধ্যে এক একটা লোক আসত পেটে ক্ষিদে নিয়ে। পুরো আহার দেবার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। কিন্তু খালি হাতে, পেটে ক্ষিধে নিয়ে তাদের আমরা দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতাম না। হয় একটু চিঁড়ে, না হয় দু-চারটে মোওয়া, অথবা খানিকটা মুড়ি গুড়ের সঙ্গে দেওয়া হতো ক্ষুধার্ত মানুষকে। এবং এক ঘটি জল। একটা পাগল ছিল গণেশপুরে। মুখে তার কথা ছিল না। বোবা নয়, নির্বাক। মাসে একদিন সে এসে রান্নাঘরের অনতিদূরে লিচুগাছের নিচে চুপচাপ বসে থাকত। আমি অথবা মধু তাকে কলাপাতায় ডাল ও ভাত দিয়ে আসতাম। কখনো তাকে আমরা তাড়িয়ে দিইনি। ভাত-ডাল খেয়ে, জল পান করে, কলাপাতা জঙ্গলে ফেলে দিয়ে চলে যেত পাগল মানুষটা। বিড় বিড় করে কখনো কখনো কী সব বলত। আমরা তার এক বর্ণও বুঝতাম না। তাকে নিয়ে আমাদের কোনো কৌতূহল ছিল না। পাগল লোকটা গণেশপুরের অঙ্গ, সমাজচিত্রের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সংযুক্ত ছিল। শহরের মানুষ, ভিখিরিদের মানুষ মনে করে না। গণেশপুর গ্রামের ভিখারিরা মানুষ ছিল। হতভাগা, ক্ষুধার্ত, গৃহহীন, গরিবের চেয়েও গরিব। তথাপি মানুষ।

    এত সব কথা ও স্মৃতি আমার মনকে ভরে রেখেছিল। বাবা যখন একটা ছোট্ট দালান বাড়ির সামনে আমাকে অপেক্ষা করতে বলে নিজে ঘরের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন, তখন দেখতে পেলাম একজন লোক ঐ ছোট বাড়িটার ডান দিকে পরিষ্কার দৃশ্যমান একটা বিরাট বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেল। বাবা ছোট বাড়িটার ভেতরে। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে শুনতে পাচ্ছি বাবার কাশির শব্দ।

    কিছুক্ষণ পরে যে লোকটি বাড়ির ভিতর চলে গিয়েছিল, সে ফিরে এল। তার ফেরার শব্দের জন্যেই বোধহয় বাবা অপেক্ষা করছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনিও বেরিয়ে এলেন। তাঁর হাত পা ধুলোমাখা, ধুতি হাঁটুর ওপরে, পা খালি। তাঁকে পরিশ্রান্ত মনে হলো।

    লোকটা তাকে বলল, “বড়মা একে ভেতরে ডাকছেন।”

    বাবা আমাকে বললেন, “রায়বাহাদুরের পত্নী, এ বাড়ির বড়মা, তোকে ডেকে পাঠিয়েছেন। এর সঙ্গে যায়। উনি যা বলেন সেই মতো কাজ করিস।”

    আমি ভেতরে ভেতরে রেগে উঠছিলাম, এতক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায়।

    বাবাকে প্রশ্ন করলাম, “আপনি কী করছিলেন ঘরটার মধ্যে আমাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে?”

    বাবা ব্যস্ত হয়ে বললেন, “ওসব পরে হবে, এখন তুই ওঁর সঙ্গে যা বড়বাড়িতে।”

    বাড়িটা বড়ই বটে। প্রবেশ রাস্তাকে ইঁট ও লাল সুড়কিতে মনোহর করে রাখা হয়েছে। প্রবেশ রাস্তার দু’ধারে রং-বেরং টবে নানারকম ফুল ও গাছ। ধবধবে সাদা মার্বেলের আটটা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয় বারান্দায়। বারান্দাটা বিরাট লম্বা ও চওড়া, সবটাই শ্বেতপাথরের। ভেতরে ঢুকে প্রকাণ্ড বসার ঘর। এমন সব আসবাব যা আমি বইয়ে পড়েছি, চোখের সামনে দেখে কেমন হতভম্ব হয়ে গেছি। লোকটা আমাকে বলল, “আপনি বসুন এখানে। আমি বড়মাকে খবর দিচ্ছি।”

    বিরাট বসবার ঘরের জমি লাল সিমেন্টের। দুপাশে দুটো সোফাসেট কার্পেটের ওপর। অনেকগুলো বাড়তি চেয়ার। দুটো সোফাসেটের মাঝখানে দুই মার্বেলের টেবিল। ঘরে কয়েকখানা পাথর ও পিতলের মূর্তি। দেওয়ালে বড়লাট লর্ড লিনলিথগো, বঙ্গের গভর্নর (নাম ভুলে গেছি) সম্রাট জর্জ দ্য সিকস্থ ও আরও কিছু ইংরেজের। ঘরখানাকে দেখা আমার তখনও অনেকটা অসমাপ্ত, অন্দরের দরজার পর্দা তুলে প্রবেশ করলেন এক মহিলা, আমি তাঁর পানে বিস্ময় নীরব চোখে তাকিয়ে রইলাম।

    “তুমি অনেকক্ষণ বসে আছ, বাবা?” মহিলা এগিয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়ালেন। আমি স্বতঃপ্রবণ হয়ে তাঁকে প্রণাম করলাম।

    “মাস্টার মশাইকে আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি। তিনি আমার নাতি নাতনিদের পড়ান। তাঁর কাছে শুনেছি তুমি খুব ভালো করে পাস করেছ ম্যাট্রিকুলেশন। এখন কলকাতায় গিয়ে পড়বে। তোমার পথে কষ্ট হয়নি তো?”

    আমার বিস্ময়ের ঘোর তখনও কাটেনি।

    বললাম, “কোনো কষ্ট হয়নি।”

    বড়মা বললেন, “সকাল থেকে নিশ্চয়ই কিছু খাওনি। ভেতরে এসো, তোমার খাবার তৈরি।”

    তাঁর পিছনে পিছনে আমি কয়েকটা ঘর পার হয়ে যে ঘরে পৌঁছালাম, সেটা নিশ্চয়ই খাবার ঘর।

    প্রকাণ্ড ঘরটা। পর পর আলমারিতে অনেক চিনেমাটির বাসন। ডাইনিং সেট বলে কিছু যে আছে তা আমার জানাই ছিল না। আমি চিনেমাটির কাপ-ডিস, খাবার প্লেট দেখেছি। দেওয়াল জুড়ে একটা আলমারিতে সারি সারি ঝকঝকে স্টেইনলেস স্টিলের বাসন। চকচকে লাল মেঝের ওপর পিঁড়ি পাতা, তার সামনে থালা ভর্তি লুচি, ডাল, তরকারি, বেগুন ভাজা। থালার পাশে এক গ্লাস জল।

    বড়মা বললেন, “নাও, খেতে বসো। ক্ষিধেয় তোমার মুখ শুকিয়ে গেছে।”

    আমার পরনে সেই পোশাক যা আমি গণেশপুর ছাড়বার সময় পরেছিলাম। সেই নীল পপলিনের শার্ট, পায়ে রবারের পাম্প শু। স্নান হয়নি, সারা শরীর নোংরা লাগছে। আমি দেখতে পেলাম, এ খাবার ঘরে দেওয়ালের সঙ্গে হাত মুখ ধোবার ব্যবস্থা আছে। সাবান আছে। তোয়ালে এবং মুখ দেখার মতো দেওয়ালে আয়না। আমি সাবান দিয়ে হাত ধুলাম, বেশ কিছু সময় নিয়ে মুখ ধুলাম, তোয়ালে দিয়ে মুখ হাত মুছলাম। আয়নায় নিজের মুখ দেখে হাসি পেল। আয়নার মুখটাও হাসল।

    পিঁড়ির ওপর আমি সোজা টান হয়ে বসলাম। লুচি তরকারি মুখে পুরে বুঝতে পারলাম পেট ক্ষিধেয় কাতর। ধীরে আস্তে নিজেকে খাওয়ালাম।

    পাশে একখানা আসনে বসে ‘বড়মা’ প্রশ্ন করতে লাগলেন—

    “গ্রামের বাড়ির সবাই ভালো আছেন তো?”

    আমি খাওয়া বন্ধ করে বললাম, “ভালো।”

    “ক’ ভাই, ক’ বোন তোমরা?”

    “তিন ভাই, এক বোন।”

    “তুমি সকলের বড়ো?”

    “হ্যাঁ, আমার পরে বোন মাধুরী, পর পর দু’ভাই।”

    “তোমার মা নিশ্চয়ই খুব দক্ষ মহিলা। তোমাদের তো একাই থাকতে হয়?”

    এ প্রশ্নের তো কোনো জবাব ছিল না। আমি শুধু ‘বড়মা’র মুখের পানে তাকিয়ে রয়েছি।

    “তুমি তো কিছুই খাচ্ছ না! শুধু আমাকে দেখছ! খেয়ে নাও। লুচি ঠান্ডা হয়ে যাবে।”

    আমি খাওয়াতে মন দিয়েছি, মাথা নিচু করে নয়। সটান সোজা হয়ে বসে।

    বড়মা হঠাৎ বলে উঠলেন, “কী দেখছ আমার মধ্যে? অমন করে তাকিয়ে রয়েছ কেন?”

    কে যেন চাবুক মারল আমাকে। আমি বুঝতে পারিনি তাঁর মুখ থেকে আমার দৃষ্টি সরতে চায়নি। আমার মনে হয়নি আমি কোনো দোষ করেছি। অনায়াসে প্রশ্নের উত্তরে বললাম, “আপনি কী সুন্দর! ঠিক দুর্গা প্রতিমার মতো মুখ আপনার। তাই দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে আমার।”

    বড়মার গৌরবর্ণ মুখ লাল হয়ে গেল। নিজের অজ্ঞাতেই তাঁর আঁচল উঠে এসে ঢেকে দিল চিবুক, দাঁত, নাকও। হঠাৎ তিনি হেসে উঠলেন। আঁচল সরিয়ে নিলেন মুখখানা থেকে।

    “সত্যি সুন্দর লাগছে আমাকে তোমার?”

    “আমি এত সুন্দর মুখ, এমন সুন্দর মা কোথাও দেখিনি।”

    মহিলার চোখে জল এসে গেছে।

    “তুমি গ্রামের সহজ সরল ছেলে। তাই এত সহজে কথাগুলো বলতে পারলে।”

    আমি বললাম, “প্রতিবছর আমাদের বাড়িতে দুর্গাপূজা হয়। দুর্গামায়ের মূর্তি তৈরির থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত কুমোরদের সঙ্গে লেগে থাকি। আপনাকে তো ভগবান নিজের হাতে তৈরি করেছেন।”

    আর এক ঝলক হাসি উছলে পড়ল বড়মার মুখ থেকে।

    প্রসঙ্গ বদলে তিনি জানতে চাইলেন কলকাতায় আমি কার সঙ্গে থাকব, কোন কলজে পড়ব।

    “থাকব আমার কাকার কাছে। বাবার ছোট ভাই। আমার একই কাকা। কাকামণি বলি তাঁকে। তিনি গণিতের অধ্যাপনা করতেন পাটনায়, নেপালে, পাঞ্জাবে। এখন তাঁর চাকরি নেই। কোন্ কলেজে পড়ব জানি না। কলকাতায় গেলে ঠিক হবে। যে কলেজ আমাকে বৃত্তি দেবে, মাইনে নেবে না, সেখানেই পড়ব আমি।”

    বড়মা’র মুখখানা ঈষৎ মলিন হলো।

    “তাই কর।” বললেন উনি, “মাস্টারমশাইয়ের পক্ষে গ্রামের সংসারের খরচ মিটিয়ে কলেজে টাকা পাঠানো কঠিন হবে।”

    একটু পরে, “তোমার বাবার মতো সজ্জন মানুষ বেশি নেই। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত খেটে যান তোমাদের জন্য। হাঁপানিতে কষ্ট পান, তবু টিউশনি ছাড়েন না। তুমি বড় হয়ে সবার অভাব দূর করবে। তুমি তো শুনেছি তিন দিন থাকবে এখানে। মাস্টারমশাইকে বলে দিয়েছি এ ক’দিন আমার নাতি নাতনিদের পড়াতে হবে না। সন্ধে থেকে রাত অবধি তোমার সঙ্গে কাটাতে পারবেন। আর দু’খানা লুটি দেবো তোমাকে?”

    “না, না” বলে উঠলাম আমি। “ভীষণ পেট ভরে গেছে।” তখন দুটি সন্দেশ ও জল খেয়ে আমি খাওয়া শেষ করেছি।

    বড়মা উঠলেন। আমিও। এগিয়ে গিয়ে আমি মুখ হাত ধুয়ে নিলাম। রবারের জুতো খাবার ঘরের বাইরের দিকে রেখেছিলাম। সে দিকে পা বাড়াতে গিয়ে শুনতে পেলাম :

    “বাইরের মুনসিজীর ঘরে তোমার বাবা বাস করেন। তুমি রাত্রে এই বাড়ির ভেতরে শোবে। তোমার জন্য বিছানা তৈরি রাখবে বলে দিয়েছি আমি রঘুকে। রঘু এখন তোমাকে তোমার বাবার কাছে নিয়ে যাবে।”

    আমি জুতো পরে নিয়েছি। বিদায় নেবার আগে বললাম, “ভীষণ পেট ভরে খেয়েছি। বাবার যদি খুব অসুবিধা না হয় আমি তাঁর কাছেই শোব। মেঝেতে শোবার অভ্যেস আছে আমার। যদি বড় বাড়িতে শুতে না আসি অপরাধ নেবেন না।”

    ‘বড়মা’র মুখখানা হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে

    “তুমি এমন সুন্দর করে কথা বলতে শিখেছ কার কাছে?”

    আমি তাঁর মুখখানার ওপর স্থির দৃষ্টি রেখে বললাম, “আমার মা।” আর একটা বাক্য মুখে এসেও অনুচ্চারিত রয়ে গেল, “গণেশপুরে ফেলে আসা কান্নাভরা আমার মা।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রীকৃষ্ণকীর্তন – চণ্ডীদাস
    Next Article ডিসেন্ট অফ ম্যান – চার্লস ডারউইন (অসম্পূর্ণ বই)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }