Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পিতা পুত্রকে – চাণক্য সেন

    চাণক্য সেন এক পাতা গল্প276 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পিতা পুত্রকে – ৮

    আট

    যতীনবাবু খুন হবার পরেই ঝড় উঠল গণেশপুর গ্রামে। ঝড় তো নয়, প্রভঞ্জন। একপাল বন্দুকধারী পুলিশ পাঁচখানা গ্রাম ছেয়ে ফেলেছে। ষোলো-সতেরো বছর বয়সের ছেলেরা যেসব বাড়িতে, সেখানে পুলিশ ঢুকে খানাতল্লাসি করল। পনেরোটি তরুণ ও যুবককে হাতবেড়ি পরিয়ে ধরে নিয়ে গেল। তার মধ্যে গণেশপুর হাইস্কুলেল দশম শ্রেণির চারটি ছাত্র। গণেশপুরের বাড়ি থেকে আরও দুজন যুবক।

    পাবলিক লাইব্রেরি বন্ধ করে দেওয়া হলো। ব্যায়ামাগার উঠে গেল।

    পুলিশ অনেক খুঁজেও অনন্তদাকে পেল না। আমাদের বাড়ি পর্যন্ত খুঁজতে এসেছিল। আমাদের বাড়ি থেকে চারটে ছেলে স্কুলে যেত। আমি ছাড়া বাকি তিনটি ‘পুবের ঘরে’ জ্ঞাতি ভাই। সবচেয়ে বড়টি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। আমি তো মাত্র অষ্ট শ্রেণির বালক।

    তাই পুলিশ যখন আবার আমাদের বাড়িতে ঢুকল আমরা সবাই চকিত ও ভীত হলাম।

    রণজিৎ জ্যেঠামশাই শনিবার রাত্রে বাড়ি ফিরতেন, সোমবার প্রত্যুষে ভোজেশ্বর চলে যেতেন।

    তিনি বাড়িতে নেই। ‘উত্তরের ঘরে’র জ্যেঠামশাই বাইরের পুকুরে ছিপ ফেলে অসীম ধৈর্যের সঙ্গে মাছের জন্য ব্যর্থ অপেক্ষা করছিলেন। তিনিই দুটো পুলিশকে নিয়ে এলেন বাড়িতে। একজনের হাতে বন্দুক, অন্যজনের হাতে লাঠি।

    পুলিশ জানতে চাইল, এ বাড়িতে বিজন সেনগুপ্ত বলে কেউ আছে কিনা।

    জ্যেঠামশাই বললেন, “না।”

    “বিজন সেনগুপ্ত এ বাড়ির লোক নয়?”

    জ্যেঠামশাই বললেন, “হ্যাঁ, এ বাড়ির লোক, কিন্তু তার বাস কলকাতায়, সে গ্রামের বাড়িতে আসে না।”

    “বিজন সেনগুপ্ত তো টেররিস্ট!”

    জ্যেঠামশাই বললেন, “বিজন আমার খুড়তুতো ভাই। সে কয়েক বছর রাজবন্দী ছিল। এখন ছাড়া পেয়ে কলকাতায় আছে শুনতে পাই। পিতার মৃত্যুর পর সে আর গ্রামে ফিরে আসে নি। তার খবর আমাদের জানা নেই।”

    “অমলেন্দু দাসগুপ্ত কি এ বাড়ির কেউ হয়?”

    “অমলেন্দু এ বাড়ির জামাই। বিজনের ভগ্নিপতি। মাদারীপুরের লোক।”

    “অমলেন্দু দাসগুপ্ত তো ভীষণ টেররিস্ট!”

    “সেও রাজবন্দী ছিল। এখনও হয়তো আছে। দেউলিতে। আমরা তার কোনো খবর রাখি না।”

    “এটা তো রজনীকান্তের বাড়ি?”

    “তিনি আমার স্বর্গত জ্যেঠামশাই।”

    “তাঁর পরিবারের কে কে আছে এই বাড়িতে?”

    “বড় ছেলে দুর্জয় খুলনাতে স্কুলমাস্টার। ছোট ছেলে সূর্যকান্ত পাঞ্জাবে অধ্যাপক। দুর্জয় সিংহের পরিবার এ বাড়িতে বাস করে। তার স্ত্রী, দুটি ছেলে, একটি মেয়ে।

    জ্যেঠামশাই ভুলে গেছেন আমার আর একটি ভাই জন্মেছে বছর খানেক আগে। তার নাম ভানু।

    “ছেলের বয়স কত? কোন ক্লাসে পড়ে?”

    “ছেলের বয়স তেরো, পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে।”

    “তাকে ডেকে দিন।”

    আমাকে নিয়ে এসে পুলিশের সামনে দাঁড় করালেন জ্যেঠামশাই।

    “তুমি লাইব্রেরিতে যেতে প্রতি সপ্তাহে, তাই না?” লাঠিধারী পুলিশ প্রশ্ন করল আমাকে।

    “হ্যাঁ।”

    “কেন?”

    “বই আনতে।”

    “কী বই?”

    “বাংলা বই।”

    “কয়েকটার নাম করতে পার।”

    আমি একসঙ্গে অনেকগুলো উপন্যাসের নাম বলে দিলাম। পুলিশ দুজনই কেমন ভড়কে গেল। এত লেখক ও বইয়ের নাম এর আগে একসঙ্গে তারা কোনোদিনও শোনেনি।

    “খুব পড়ুয়া ছেলে তুমি?”

    আমি চুপ করে রইলাম।

    “ব্যায়াম করতে যেতে?”

    “না।”

    “ছোরা খেলা, বা লাঠি খেলা?”

    “না।”

    “কেন?”

    “আমার খেলতে ভালো লাগে না।”

    “তুমি অনন্তদাকে তো চিনতে?”

    “এক দুবার দেখেছি।”

    “তোমার সঙ্গে কথা বলতেন না?”

    “আমি তো ছোট্ট ছেলে।”

    “এ বাড়িতে এসেছে কখনো?”

    “না।”

    বন্দুকধারী পুলিশ বলে উঠল, “অনন্ত তোমাদের ঘরে লুকিয়ে রয়েছে, আমরা জানতে পেরেছি।”

    কথাগুলো শুনে আমি হেসে ফেললাম।

    পুলিশ দুজন একেবারেই তৈরি ছিল না আমাকে হাসতে দেখতে।

    বললাম, “আসুন না, ঘরে খুঁজে দেখুন, অনন্তদা আমাদের বাড়ি চেনেনই না।”

    এবার পুলিশ দুজন হেসে ফেলল। অবাক হবার পালা আমাদের। আমাদের জানা ছিল না পুলিশও হাসে।

    বন্দুকধারী পুলিশ বলল, “খুব স্মার্ট ছেলে তুমি। স্কুলের হেডমাস্টার আমাদের বলেছেন, তুমি ইন্টার স্কুল বিতর্কে প্রথম হয়ে সোনার মেডেল পেয়েছ। ইংরেজ সরকারের দারুণ প্রশংসা করেছ।”

    আমি বললাম, “মেডেল দেবার কথা ছিল। দেয়নি।”

    .

    পনেরোটি যুবককে বন্দি করে হাজতে রেখে দিল পুলিশ একমাস। তারপর একে একে পাঁচজনকে ছেড়ে দিল। এদের সবাইকে মহকুমা শহর মাদারীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ছাড়া-পাওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজন সত্যদা, সত্য চক্রবর্তী, আমাদের স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার পিতা মাদারীপুরে উকিল। তাকে স্কুলে পড়তে দেওয়া হবে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল মাস্টারমশাইদের মধ্যে। কয়েকজন শিক্ষক একত্র হয়ে বলেছিলেন, রাজনৈতিক অপরাধের সন্দেহে ধৃত ছাত্রকে স্কুলে রাখলে কর্তৃপক্ষ বিরূপ হবেন, জমিদার বাড়ির চৌধুরীরা আপত্তি করতে পারেন। আমরা শুনেছিলাম ছোট চৌধুরী সাহেব আপত্তি তুলেও ছিলেন। কিন্তু নতুন হেড মাস্টার মশাই, যিনি মাত্ৰ বছরখানেক চব্বিশ পরগনার একটি স্কুল থেকে এসেছেন আমাদের স্কুলে, প্রবল আপত্তি জানালেন। নির্দোষ বিবেচিত হয়ে পুলিশ যাকে ছেড়ে দিয়েছে, আদালতের হুকুমে নয়, স্কুল তাকে দোষী করতে পারবে না। তিনি নাকি ছোট চৌধুরী সাহেবকে বলেছিলেন সত্য চক্রবর্তীকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আরও বলেছিলেন, দেশপ্রেম, দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম কোনো গর্হিত কাজ নয়, যদিও সন্ত্রাসবাদ নিশ্চয়ই অত্যন্ত গর্হিত।

    আমাদের সত্যদা, অতএব স্কুলেই রয়ে গেল। তার মুখে শোনা গেল পুলিশ পনেরোটি ধৃত যুবককে বিস্তর মারধোর করেছে অপরাধ স্বীকারের জন্য। সে নিজেও প্রহৃত হয়েছে, পিঠে তার প্রহারের দাগ রয়েছে। আদালতে কেস তুলবার আগে পুলিশ রাজসাক্ষী পাওয়ার জন্য বেপরোয়া হয়ে রয়েছে।

    এক বছরের মধ্যে গণেশপুর ‘ছাত্রযুবকদের মামলা’ (সংবাদপত্রের ভাষায়) আদালতে উঠল। আদালত বসল জমিদার চৌধুরী বাড়ির বিশাল অভ্যর্থনা কক্ষে। মাদারীপুরের মহকুমা শাসক বিচারক। তিনি একটা চকচকে-ঝকঝকে মোটর লঞ্চে গণেশপুরের নদীতীরে দু’সপ্তাহের নিবাস নিলেন। জমিদার বাড়ির আতিথ্য গ্রহণ করলেন না, কিন্তু তাঁদের পাঠানো প্রাতঃরাশ থেকে সান্ধ্য ভোজনের আহার্যে তাঁর আপত্তি হলো না।

    যতদূর মনে পড়ছে এসডিও মহাশয়ের নাম ছিল সুশীল কুমার চ্যাটার্জী। আইসিএস, খুব অল্প বয়স, পঁয়ত্রিশের বেশি নয়, ছিমছাম সুপুরু, ‘বোট’ থেকে নেমে ঘোড়ায় চেপে কোর্টে আসতেন প্ৰতিদিন সকালে, চারজন বন্দুকধারী ঘোড়সওয়ার রক্ষী দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে। ঠিক সাড়ে দশটায় আমাদের স্কুলের মাঠ পেরিয়ে জমিদার বাড়ির সদর দরজায় প্রবেশ করতেন। আমরা ছাত্ররা, আমাদের শিক্ষকরা ক্লাস থেকে বেরিযে লাইন করে দাঁড়িয়ে যেতেন এই অভিনব দৃশ্য দেখার জন্য। একমাত্র হেডমাস্টার মশাই নিজের অফিস ঘরে বসে কাজ করে যেতেন।

    গণেশপুরে ‘ছাত্র ও যুবকদের’ বিচার সারা বঙ্গে আলোড়ন তুলেছিল। বন্দীদের পক্ষে দশ-বারোজন উকিল, দুজন অ্যাডভোকেট, এঁরা সবাই হয় মাদারীপুর, নয় জিলা শহর ফরিদপুর, নয় বঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে এসেছেন। ডিঙ্গামানিক, মধুপুর, চাকদহ এই তিনখানা পাশাপাশি গ্রামের বর্ধিষ্ণু গৃহস্থ বাড়িতে তাঁদের আবাসন তৈরি হয়েছে। এঁরা টাকা পয়সা না নিয়েই বন্দীদের জন্যে লড়ছেন। যাতায়াতের খচরও কলকাতার বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল কংগ্রেস যোগান দিচ্ছেন। দুজন অ্যাডভোকেট, যদিও তাঁদের নাম আমি একদম ভুলে গেছি, ছিলেন আইনজীবী হিসেবে খ্যাতিসম্পন্ন।

    সরকারের পক্ষে জিলা ও মহকুমার প্রধান প্রসিকিউটর ও তাঁদের সহকারীবৃন্দ। গুজব শোনা গেল কলকাতা থেকে স্বয়ং অ্যাডভোকেট জেনারেলও একদিনের জন্য আসবেন, কিন্তু এলেন না।

    কোর্টে যেতে কোনো বাধা ছিল না। শুধু পঞ্চাশ জনের বেশি দর্শককে ঢুকতে দেওয়া হতো না। আসামিদের পিতা, কাকা, জ্যেঠা ইত্যাদির প্রথম প্রবেশ অধিকার। আমরা ছাত্রেরা প্রতিদিন পাঁচজন যাবার অনুমতি পেয়েছিলাম। কিন্তু দেখা গেল কোর্টে যাবার উৎসাহ বেশি ছাত্রের নেই।

    তাই আমি দুদিন কোর্টে বিচার দেখার সুযোগ পেয়ে গেলাম। হেড মাস্টার মশাই এ সুযোগ করে দিলেন। শুধু বললেন, আমাকে এসে বলবে কী হচ্ছে-না হচ্ছে। আমি যা বলতাম, তা থেকে তিনি কতটুকু আদালতের আবহাওয়া ও মতিগতি বুঝতে পারতেন আমার জানবার উপায় ছিল না। আমি নিজেই বুঝতাম খুব সামান্য। পুলিশ অনেক সাক্ষী জোগাড় করেছিল। তাদের মধ্যে ছিল গ্রামের কয়েকজন ভদ্রলোক, আরও অনেক বেশি ‘ছোটলোক’। মাদারীপুর, কলকাতা, বরিশাল থেকে নিয়ে আসা কয়েকজন পুরুষ, দশটি নারী, যাদের বলা হতো বেশ্যা, যে শব্দটার সঙ্গে এই আমার প্রথম পরিচয়। মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বেশ্যা মানে কী, শুনেছিলাম, “ওরা খারাপ মেয়ে মানুষ।”

    দুজন রাজসাক্ষীও পুলিশ তৈরি করতে পেরেছিল। তাদের মধ্যে একজন গণেশপুরের যুবক হেরম্ব, ডাক্তার শীলের ছেলে, যার মাত্র দু’বছর বিয়ে হয়েছিল, প্রথম বন্দীদের মধ্যে যে ছিল একজন।

    সরকার পক্ষের সাক্ষীরা বলেছিল, আসামিরা অনন্তদার মন্ত্র শিষ্য, তারা রোজ ছোরা, তলোয়ার, লাঠি খেলা শিখত। তাদের ব্রত ইংরেজ ও তাদের বংশবদ ভারতীয় রাজপুরুষদের হত্যা করা, গোয়েন্দাদের খুন করা বা পঙ্গু করে দেওয়া। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে ভয়ে দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করত। বলত সব টাকা সন্ত্রাসবাদ সংগ্রামের জন্যে। তারা অনুশীলন করত পিস্তল খেলা, পিস্তল চালানো। একথা তারা নিজেরাই সগর্বে ঘোষণা করত। অনন্ত ছিল অনুশীলন দলের নেতা। জঙ্গলে দেখা যেত আসামিদের সে গেরিলা যুদ্ধ শেখাচ্ছে, আসামিরা বলত তারা ধনীদের বাড়িতে হানা দিয়ে টাকা পয়সা ধনদৌলত লুঠ করবে। দুজন ব্যক্তি সাক্ষী দিলেন আসামিদের তিন—চারজন তাদের বাড়িতে ডাকাতি করেছে। সবাইকে পিস্তল দেখিয়ে রুদ্ধ কণ্ঠ করে বড় গলায় ঘোষণা করেছে, এ ধন আমরা নিচ্ছি ইংরেজদের মারবার জন্য, আপনারা পুলিশ ডাকলে আপনাদেরও খুন করা হবে। দু-তিন বছর ধরে আসামিদের ও তাদের অনুগতদের অত্যাচারে গ্রামের বিত্তবান পরিবারগুলোকে সর্বদা আতঙ্কের সঙ্গে বসবাস করতে হয়েছে…

    কয়েকটা কোর্ট দৃশ্য এখনও আমার মনে আছে।

    হেড মাস্টার মশাইয়ের সাক্ষ্যটা সবচেয়ে বেশি।

    তাঁকে সাক্ষীর চেয়ারে বসিয়েছেন জেলার প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর।

    “আপনি কবে থেকে গণেশপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক?”

    “এক বছর নয় মাস তেরো দিন।”

    “এর আগে কোথায় শিক্ষকতা করেছেন?”

    “চব্বিশ পরগনার—গ্রামের হাই স্কুলে।”

    “হেড মাস্টার ছিলেন?”

    “না। অ্যাসিসটেন্ট হেড মাস্টার।”

    “গণেশপুর, ডিঙ্গামানিক গ্রাম আপনার ভালো করে জানা আছে?”

    “মোটামুটি জানা আছে।”

    “আপনি গ্রামের ভদ্রলোকের বাড়ি যান? বন্ধু পরিবার তৈরি হয়েছে আপনার?”

    “বিশেষ নয়।”

    “গণেশপুর যে সন্ত্রাসবাদীদের একটা কেন্দ্র হয়ে গেছে এ খবর আপনি জানতেন?“

    “না।”

    “এ বিষয়ে আপনার কোনো সন্দেহ আছে?”

    “না, যা আমি জানি না তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারি কী করে!”

    “আপনার স্কুলের ছাত্ররা যে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে শিক্ষা পাচ্ছিল সেটা জানতেন?”

    “এমন খবর আমি এখনও পাইনি।”

    “আসামিদের মধ্যে আপনার স্কুলের দশম শ্রেণির তিনটে ছাত্র রয়েছে, নাম রমেশ বসু, ধনঞ্জয় রায়, আর সুভাষ মল্লিক, এদের আপনি কতটুকু জানেন?”

    “স্কুলের উচ্চতম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে যতটুকু জানা দরকার ও সম্ভব ততটুকু।”

    “আপনি এদের পড়ান?”

    “দশম শ্রেণিতে আমি ইংরেজি পড়াই। সব ছাত্রকেই ইংরেজি পড়তে হয়।”

    “স্কুলে এদের আচার-ব্যবহারে আপনি উগ্র রাজনৈতিক ব্যবহার নিশ্চয়ই পেয়েছেন?“

    “না, তা পাই নি।”

    “স্কুলের বাইরে এরা কী করত না করত আপনার জানার কথা নয়?”

    “না। কোনো নালিশ আমি পাইনি এদের সম্বন্ধে।”

    “আপনাকে যা প্রশ্ন করা হয়েছে ঠিক তারই জবাব দেবেন, বাড়তি কিছু বলা আপনার পক্ষে অনুচিত হবে, বে-আইনিও।”

    “আপনার প্রশ্নের জবাব তো দিয়েছি!”

    “আমাদের কাছে খবর আছে আপনি নিজেই সন্ত্রাসবাদের সমর্থক। এ বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন?”

    “খবর সত্যি নয়।”

    “আপনি সুভাষ বসুকে প্রশংসা করে প্রবন্ধ লেখেননি?”

    “লিখেছি।”

    “তার মানে আপনি ইংরেজ সরকারের বিরোধী।”

    আসামিপক্ষের উকিল প্রশ্নে আপত্তি জানালেন। এ প্রশ্ন এক্ষেত্রে অবান্তর। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আপত্তি অগ্রাহ্য করে হেড মাস্টার মশাইকে প্রশ্নের জবাব দিতে আদেশ করলেন।

    হেড মাস্টার মশাই বললেন, “আমি সুভাষচন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধা করি। তাঁর প্রশংসা করি।”

    “আপনি কি চান না ইংরেজ সরকার ভারত থেকে বিদায় নিক? হ্যাঁ, কি না, জবাব দিন।”

    “হ্যাঁ।”

    “তাহলে নিশ্চয়ই যারা ইংরেজ শাসন খতম করবার জন্য সহিংস পথ নিয়েছে তাদের প্রতি আপনি সহানুভূতিশীল?”

    “এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভুল। ইংরেজ শাসন দূর করবার অহিংস পথও আছে। আমি তারই সমর্থক।”

    “সুভাষচন্দ্র বসু কি অহিংস পথের নেতা?”

    “আমি তার মধ্যে সহিংস কিছু দেখতে পাইনি।”

    “হেড মাস্টার মশাই, আপনার স্কুলের ছাত্ররা সন্ত্রাসবাদী হয়ে গেছে, আপনি কি তারও খবর জানেন না। এতে কি প্রমাণ হয় না যে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আপনি হয় ব্যর্থ নয়তো ছাত্রদের সন্ত্রাসবাদী হতে আপনি সক্রিয় অথবা পরোক্ষ উৎসাহ দিয়ে থাকেন?”

    “আমার বিশ্বাস গণেশপুর হাই স্কুলের কোনো ছাত্র সন্ত্রাসবাদী নয়।”

    পাবলিক প্রসিকিউটর চেঁচিয়ে উঠলেন, “আপনার বিশ্বাস ভুল। এ মামলায় তা প্রমাণিত হবে। আমার আর কোনো প্রশ্ন নেই।”

    আসামিদের পক্ষ থেকে একজন উকিল হেড মাস্টার মশাইকে প্রতি-জেরা করলেন।

    “চব্বিশ পরগনার গ্রামের হাই স্কুলে আপনার বেশ সুনাম ছিল, তাই না?”

    “আমার তো তাই ধারণা!”

    “তাঁরা আপনার পদত্যাগ গ্রহণ করতে চাননি। তা না?”

    “তাঁরা আমাকে রাখতে ইচ্ছুক ছিলেন।”

    “আপনি হেড মাস্টার পদের আকর্ষণেই কি শুধু গণেশপুর হাই স্কুলে চাকরি নিলেন?”

    “একটা কারণ ছিল তাই। অন্য কারণ ছিল আমি শহর থেকে দূরে প্রকৃত গ্রামের ছাত্রদের শিক্ষক হতে ইচ্ছুক ছিলাম।”

    “এ ইচ্ছার কারণ?”

    “কিছুটা আদর্শবাদ বলতে পারেন। তাছাড়া শহর, শহরতলীর জীবন আমার ভালো লাগে না।”

    “হেড মাস্টার মশাই, আপনার পিতা কি মহাত্মা গান্ধীর শিষ্য ছিলেন?”

    “হ্যাঁ, গান্ধীজীর ওয়ার্ধা আশ্রমে তিনি বাস করতেন। ওখানকার স্কুলে পড়াতেন।”

    “পিতার প্রভাব আপনার ওপর প্রবল ছিল নাকি?”

    “ছিল। এখনও আছে। আমার জীবনে তাঁর চেয়ে শ্রদ্ধেয় আর কেউ নেই।”

    “তিনি কি আপনাকে জীবন যাপন বিষয়ে কোনো উপদেশ দিয়েছিলেন ওয়ার্ধায় চলে যাবার আগে? “

    “আমার পিতৃদেব আমাকে বলেছিলেন, শিক্ষকতার চেয়ে মহান জীবিকা নেই। যদি পার গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা কোরো।”

    উকিল মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছিলেন, “আমার আর কোনো প্ৰশ্ন নেই।”

    বিচারের ছ’মাস পরে হেড মাস্টার মশাই স্কুল ছেড়ে চলে গেলেন। অনেকে বলল, তিনি নিজেই স্কুল ছেড়ে চলে গেলেন। আবার এও শোনা গেল জমিদার ছোট চৌধুরী সাহেব তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। তাঁর মতে, আমাদের স্কুলের হেড মাস্টার আসলে উগ্র জাতীয়তাবাদী।

    একদল স্ত্রীলোক সরকার পক্ষের সাক্ষী ছিল। এরা ঘড়িসার বাজার থেকে নিয়ে আসা বেশ্যা। এরা আদালতকে বলেছিল, আসামিরা নিয়মিত এদের কাছে যেত, মদ খেত, হুল্লোড় করত, অনেক টাকা খরচ করত। সে সব টাকা, আসামিরা বলত, আসত ডাকাতি থেকে।

    একটি বেশ্যার সাক্ষী মনে আছে।

    ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর, “আপনার নাম কী?”

    ছোটখাটো মোটাসোটা পান-বিচানো অনেক গহনা-পরা স্ত্রীলোকটি বলেছিল ‘জবা’।

    “কোথায় থাকেন?“

    “ঘড়িসার বাজারে।”

    “কাজ করেন?”

    “হ্যাঁ।”

    “কী কাজ করেন?”

    “বাবুদের সেবা করি।”

    “আসামিদের মধ্যে কাকে কাকে আপনি চেনেন?”

    “তিনজনকে।”

    “কী তাদের নাম?”

    “পলাশ, তুফান, হিমালয়?”

    “এগুলো কি আসল নাম?”

    “ও নামেই আমি এদের চিনি।”

    “এই তিনজনেক আপনি আসামিদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন?”

    “পাচ্ছি।”

    “আদালতকে দেখিয়ে দিন কারা এই পলাশ, তুফান, হিমালয়।” স্ত্রীলোকটি তিনজন আসামিকে দেখিয়ে দিল।

    “কী করে এদের চেনেন আপনি?”

    “এরা আমার কাছে আসত।”

    “কেন?”

    “স্ফূর্তি করতে।”

    “মদ নিয়ে আসত?”

    আসামিপক্ষের উকিল এ প্রশ্নে আপত্তি জানালেন। আদালতকে বললেন, “ইয়োর অনার, পাবলিক প্রসিকিউটর লিডিং কোশ্চেন করছেন।”

    বিচারক তাঁর আপত্তি অগ্রাহ্য করে ‘জবা’কে প্রশ্নের উত্তর দিতে আদেশ দিলেন।

    জবা বলল, “নিয়েও আসত, বাজার থেকে কেনাও হতো।”

    “আর কিছু আনত?”

    “অনেক টাকা থাকত এদের কাছে।”

    “আর কিছু?”

    “অন্তত দুদিন এদের কাছে পিস্তল ছিল।”

    “আপনি দেখেছিলেন?”

    “হ্যাঁ, পিস্তলটা এরা আমার চোখের সামনে মাটিতে রেখেছিল।”

    “কী বলত এরা নিজেদের মধ্যে? যা আপনি নিজে শুনতে পেতেন?”

    “বলত, কটা বাড়িতে চুরি-ডাকাতি করে টাকা পেয়েছে।”

    “আর কিছু?”

    “বলত নাশিলন দলের নেতারা এখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে সম্ভারবাদী দল তৈরি করছে।”

    “নাশিলন বলতে কি আপনি অনুশীল বোঝাচ্ছেন? সন্তারবাদী বলতে সন্ত্রাসবাদী!”

    আসামি পক্ষের উকিলরা একসঙ্গে আপত্তি করে উঠলেন। একজন বললেন, “ইয়োর অনার, পাবলিক প্রসিকিউটর আসামিকে প্রকাশে তালিম দিচ্ছেন।”

    এবার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আপত্তি মেনে নিলেন।

    পাবলিক প্রসিকিউটর জেরা করলেন, “এই তিন আসামি প্রায়ই আপনার ঘরে যেত?”

    “হ্যাঁ, সপ্তাহে একবার তো বটেই। মাঝে মাঝে দু’বার।”

    “মদ্যপান করত?”

    “করত।”

    “আপনাকেও মদ খেতে হতো?”

    “হতো।”

    “এরা আপনার সঙ্গে আর কী করত?”

    “সবকিছুই করত!”

    “তিনজনেই?”

    “তিনজনেই।”

    “একসঙ্গে, না পর পর?”

    “দুটোই।”

    “কত টাকা দিত আপনাকে?”

    “কখনো পঞ্চাশ, কখনো ত্রিশ।”

    “আপনার সাধারণ প্রাপ্যের বেশি?”

    “প্রারপো মানে কী?”

    “যা আপনি সাধারণত নেন খদ্দেরের কাছ থেকে তার বেশি?”

    “হ্যাঁ।”

    “আপনার কাছে আসামিরা কখনো কিছু গচ্ছিত রেখেছিল?”

    “দু-তিনবার রেখেছিল।”

    “কি?”

    “কাগজপত্র।”

    পাবলিক প্রসিকিউটর কতগুলো ইস্তাহার পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে স্ত্রীলোকটির চোখের কাছে রেখে জানতে চাইলেন, “এগুলো?”

    “হ্যাঁ।”

    “তুমি জান এগুলো কী? “

    “ওরা বলেছিল এগুলো খুব গোপন দরকারি কাগজপত্র।”

    “তুমি পড়তে পার?”

    পাবলিকব প্রসিকিউটর সহজেই ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে নেমে এসেছিলেন সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে করতে।

    “না।”

    “আসামিরা বলেছিল এগুলো গোপন?”

    “হ্যাঁ।”

    আসামিপক্ষের উকিল আপত্তি করলেন। বিচারক আপত্তি গ্রহণ করলেন না।

    “তুমি রাখতে রাজি হয়েছিলে কেন?”

    “আমাকে একশো টাকা দিয়েছিল।”

    “এগুলো পুলিশের হাতে গেল কী করে?”

    “পুলিশ আমার ঘরে এসেছিল, আমিই পুলিশকে দিয়েছিলাম।” আসামিপক্ষের জেরা করেছিলেন কলকাতা থেকে আসা এক নামকরা অ্যাডভোকেট।

    “আচ্ছা জবা দেবী, পলাশ মানে কী জানেন?”

    “পলাশ মানে পলাশ ফুল।”

    “তুফান?”

    “তুফান মানে—ঐ যা প্রতি বছর হয়ে থাকে। ঝড়, বৃষ্টি, বাতাস।”

    “হিমালয় মানে জানেন?”

    “না।”

    “কখনো শুনেছেন নামটা?”

    “না।”

    “প্রথম কার মুখে শুনলেন?”

    “পুলিশের মুখে।”

    “পলাশ আর তুফান কথা দুটোও তো তাই?”

    “হ্যাঁ।”

    “কথাগুলো পুলিশই আপনাকে শিখিয়েছিল, তাই না? আপনি বেশ বুদ্ধিমতী, চটপট শিখে নিয়েছিলেন।”

    জবা দেবী প্রশংসা শুনে হাসলেন।

    “আসামিদের নাম পুলিশই আপনাকে বলে দিয়েছিল, তাই না?”

    “না, আসামিরাই বলেছিল।”

    “জবা দেবী, আপনার খদ্দেররা নিজেদের নাম বলে?”

    “বলে।”

    “আর কয়েকটা নাম বলতে পারেন?

    “মনে নাই।”

    “কিন্তু এ নাম তিনটে তো খুব মনে আছে। এটা কী করে হলো?” জবা দেবীর কপালে ঘাম দেখা দিয়েছে।

    “পুলিশ বারবার বলে শিখিয়ে আপনাকে মুখস্থ করিয়েছে, তাই না?”

    জবা দেবীর কপাল থেকে ঘাম ঝরছে।

    “দেখুন জবা দেবী, এই আসামিরা যুবক। এদের মা বোন আছেন, বাবা আছেন, এরা কেউ বিয়ে করেনি। আপনার সাক্ষ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে এরা মদ খায়, চুরি-ডাকাতি করে, বেশ্যা বাড়ি যায়, মানে, এরা খুব বদ ছেলে। আপনি এদের সবার দিকে পরিষ্কার করে তাকিয়ে দেখুন। এরা কি বদ ছেলে বলে মনে হয় আপনার?

    জবা দেবী আসামিদের মুখের পানে তাকাতে পারছেন না। মাথা নিচু করে আছেন।

    “আচ্ছা, জবা দেবী, আপনার ব্যবসায়ে পুলিশদের সর্বদা খুশি রাখতে হয়। তাই না?”

    “হ্যাঁ, আমরা সবাইকে খুশি রাখতে চেষ্টা করি।”

    “কিন্তু পুলিশদের তো খুব ভয় করেন আপনারা, তাই না-কি? পুলিশ আপনাদের কারণে অকারণে ধরে নিয়ে যায়। এসব এড়ানোর জন্য পুলিশকে মাসে মাসে টাকা দিতে হয় আপনাকে। আমি কি ভুল বলছি?”

    জবা দেবী চুপ করে রইলেন।

    ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ করলেন, “প্রশ্নের জবাব দাও।”

    অ্যাডভোকেট বললেন, “ইয়োর অনার, ইনি বেশ্যা হতে পারেন, তবুও স্ত্রীলোক। এঁর মানসম্মান, লজ্জা, সরম আছে। আমাদের পণ্ডিতেরা বলেছেন, ‘মৌনং সম্মতি লক্ষণম’।”

    অ্যাডভোকেট বললেন, “এ মাসে পুলিশ আপনাকে পাকড়ে হাজতে রেখেছিল। রাখে নি?”

    “রেখেছিল।”

    “আর কাকে? আপনার সঙ্গে যেসব বেশ্যারা এসেছেন তাদেরও তো?”

    “আমি জানি না।”

    “কিন্তু পুলিশ দাবি করছে, আপনাদের ঘরে ভীষণ বিপদকারী স্বদেশি যুবকরা আসে, স্ফূর্তি করে, গোপন কাগজপত্র রেখে যায়, সে জন্যে অনেক টাকা দেয়। আপনাকে তাই বলেনি?”

    “বলেছিল।”

    “আপনাকে ভয় দেখান নি, যদি আপনি পুলিশদের শেখানো কথা সাক্ষীতে না বলেন আপনার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, আপনাকে জেলে পাঠানো হবে?”

    “না।”

    “সহসা সারা আদালত কাঁপিয়ে কলকাতার অ্যাডভোকেট ভীষণ চড়া গলায় পৃথিবীর সবটুকু ক্রোধ ও হিংসা টেনে এনে জবা দেবীর একেবারে মুখোমুখি হয়ে গর্জে উঠেছিলেন, “সত্যি কথা বলুন, মিথ্যা বললে পাপ হবে আপনার। এতগুলো যুবকের জীবন নিয়ে মিথ্যে খেলবেন না। আপনি নারী। আপনার নিজেরও একটি ছেলে আছে। সত্যি কথা বলুন। আদালতে সর্বদা সত্যি বলতে হয়। আপনি ধর্মসাক্ষী করে সত্যি ছাড়া আর কিছু বলবেন না কবুল করেছেন। বলুন আমি যা বলেছি তা সত্যি কিনা?”

    জবা দেবী এবার একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বলেছিলেন, “সত্যি।”

    .

    আদালতে দারুণ চাঞ্চল্য। সরকারপক্ষের উকিলরা উত্তেজিত, পুলিশরা ক্রুদ্ধ।

    অ্যাডভোকেট বললেন, “জবা দেবী আসামিদের দিকে তাকান। “ জবা দেবী চোখের জল মুছে তাকালেন।

    “হিমালয় কার নাম বলুন তো?”

    “কী নাম?”

    “হিমালয়।”

    জবাদেবী তখন সব শেখানো নাম ভুলে গেছেন। বললেন, “জানি না।”

    অ্যাডভোকেট মশাই আদালতকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, “ইয়োর অনার, এসব সাক্ষীকে পুলিশের মাধ্যমে মিথ্যে শেখানো হয়। আমার আর কোনো প্রশ্ন নেই।”

    বিচার একসঙ্গে পনেরো দিন চলছিল। একমাস পরে এসডিও সুশীল চট্টোপাধ্যায় ‘রায়’ ঘোষণা করেছিলেন। চারজন আসামিকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে মুক্তি দিয়েছিলেন। বাকিদের পাঁচ বছর থেকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড। ‘রায়ে’ যুবক সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ প্রবেশ করার জন্য প্রচুর ক্ষেদ প্রকাশিত হয়েছিল। প্রত্যেক স্কুলের কর্তৃপক্ষকে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এসডিও ভয় দেখিয়েছিলেন, এ সন্ত্রাসবাদের অঙ্কুরগুলো এখনই উৎপাটিত না হলে সরকারকে ভাবতে হবে স্কুলগুলোকে চালু রাখা হবে কি না।

    আসামিপক্ষ থেকে আপিল করা হলো সেসন্‌স কোর্টে। বিচারক ছিলেন শৈবাল গুপ্ত। বিখ্যাত মানুষ। আইসিএসদের মধ্যে যাঁরা কিছুটা স্বাধীনমনা, তাঁদের প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগে সরিয়ে দেওয়া হতো। বাঙালিদের মধ্যে যাঁরা বিচারের স্বাধীনতায় সারা দেশের শ্রদ্ধাভাজন হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্নদাশঙ্কর রায় ও শৈবাল গুপ্তের নাম প্রথম পঙ্ক্তিতে। অন্নদাশঙ্কর একই সঙ্গে স্বাধীন বিচারক ও লেখক হিসেবে আমাদের কৈশোরেই নাম করেছিলেন। আমি তার ‘দেশে বিদেশে’ পড়ে বিমুগ্ধ হয়েছিলাম। পরবর্তী জীবনে অন্নদাশঙ্করের সঙ্গে কিছুটা পরিচয় হবার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি।

    শৈবাল গুপ্ত পুরো মামলাটাকে ডিসমিস করিয়ে দিয়েছিলেন। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশীল চট্টোপাধ্যায়, অনুসন্ধানী পুলিশ, গণেশপুর হাই স্কুলের বোর্ডের চেয়ারম্যান, জমিদার বাড়ির ছোট চৌধুরী : কেউ তাঁর থেকে রেহাই পাননি। এতগুলো যুবকের নীবন বয়সকে এভাবে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়ার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাঁর “রায়ে’ ধিকৃত হয়েছিল। শৈবাল গুপ্তের ‘রায়’ সারা বাংলাদেশে তীব্র চাঞ্চল্য এনেছিল। ‘আনন্দবাজার, ‘অমৃতবাজার’ তো বটেই, ইংরেজ শক্তির মুখপাত্র ‘স্টেটসম্যান’ ও ‘টাইমস্ অব ইন্ডিয়া’তেও পুলিশ নিন্দিত হয়েছিল এ ধরনের একটা প্রচ্ছন্ন মিথ্যে কেস তৈরি করার জন্য। শুধু হার্ড লাইন ‘ক্যাপিটাল’ সাপ্তাহিক শৈবাল গুপ্তকে বিচারকের সীমা ‘অতিক্রম করার’ জন্য সমালোচনা করেছিলেন। ‘ক্যাপিটাল’ কট্টর সাম্রাজ্যবাদী সাপ্তাহিক। সম্পাদের নাম টাইসন। পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, পুলিশ ভুল করেছে নিশ্চয়ই। এ কেসটা তৈরি করা ঠিক হয়নি। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের বিষ যে ক্রমে ক্রমে তরুণ-যুবক মানসে ঢুকে গেছে এর প্রমাণ রয়েছে অনেক। অতএব জজ্ গুপ্ত পুলিশ ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে অত তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করে বিচারের সীমানা উৎরে রাজনীতির সীমানায় প্রবেশ করে ফেলেছেন।

    এ মামলা গণেশপুরকে আরও একবার বঙ্গবাসীর মানসপটে চিহ্নিত করে দিল। প্রথমবার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে রজনীকান্তের ভূমিকা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রীকৃষ্ণকীর্তন – চণ্ডীদাস
    Next Article ডিসেন্ট অফ ম্যান – চার্লস ডারউইন (অসম্পূর্ণ বই)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }