Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পিপলী বেগম – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প50 Mins Read0
    ⤶

    ৩. নাচতে পিপলীর ভাল লাগে

    নাচতে পিপলীর সব সময়ই ভাল লাগে। আজ যেন আরো ভাল লাগল। মনে হল সারাদিন সে শুধু নেচেই যাবে। নেচেই যাবে।

    তোমার নাচ কি শেষ হয়েছে, পিপলী?

    জি, রাণী-মা।

    এখন বল কি বলতে এসেছ?

    আপনাকে আমি পছন্দ করি না, রাণী-মা?

    আমাকে তুমি পছন্দ কর না?

    না।

    শুনে দুঃখিত হলাম। আমার উপর কি তোমার প্রচণ্ড রাগ আছে?

    আছে।

    তোমার কি ইচ্ছা করছে আমাকে মেরে ফেলতে?

    হ্যাঁ, ইচ্ছা করছে।

    বল কেন ইচ্ছা করছে।

    পিপলী নেচে-নেচে খানিকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আবার কথা বলা শুরু করার আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নিল —

    রাণী মা?

    বল, আমি শুনছি।

    আমরা সব সময় বলি –পিপীলিকা সম্প্রদায়ের মহান রাণী –আপনার মঙ্গল হোক, কল্যাণ হোক। আমরা সব সময় আপনার মঙ্গল চাই, কল্যাণ চাই —-কিন্তু আপনি আমাদের মঙ্গল চান না।

    এ রকম কথা কেন বলছ?

    রাণী-মা, আমি অনেক চিন্তা করেছি। চিন্তা করে করে বের করেছি। কিভাবে বের করেছি বলব রাণী মা?

    বল।

    কালো পিপড়াদের সঙ্গে আমাদের একবার যুদ্ধ হল। আপনার কি মনে আছে রাণী-মা?

    মনে আছে। আমার স্মৃতিশক্তি ভাল, পিপলী বেগম। আমার স্মৃতিশক্তি খুবই ভাল। আমার সবকিছু মনে থাকে। আমি কিছুই ভুলি না। যুদ্ধের কথা আমার মনে আছে। সেই যুদ্ধে তোমার বাবা কালো পিপড়াদের হাতে বন্দি হয়েছিলেন এই খবরও আমি জানি। তোমার বাবার জন্যে আমার দুঃখ হয়।

    কিন্তু রাণী-মা, যুদ্ধ শুরু হবার পর যখন আমাদের অবস্থা খুব খারাপ হল –তখন আরো সৈন্য পাঠানোর জন্যে খবর পাঠানো হল। আপনি বললেন, প্রয়োজন নেই। আমাদের কিন্তু তখনো অনেক অনেক সৈন্য ছিল। আপনি ইচ্ছা করলেই সৈন্য পাঠাতে পারতেন।

    আমাকে তো সবকিছু ভাবতে হয় পিপলী। খাবার নিয়ে সামান্য যুদ্ধে যদি আমার সব সৈন্য চলে যায় তাহলে কিভাবে হবে? আমরা কত বিপদ-আপদের মধ্যে বাস করি! আমাদের শক্ত সৈন্যবাহিনী দরকার। তুমি তো জান না, পিপলী, পিপড়াদের সবাই সৈন্য হয় না। যাদের জন্ম হয় মাথায় কাঁটা নিয়ে, তারাই হয় সৈন্য। দশ হাজার ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে দেখা যায় এদের মধ্যে সৈন্য মাত্র বিশ-পঁচিশটা।

    হ্যাঁ, তাও ঠিক রাণী-মা। হাজার হাজার ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। আপনি নিজে পরীক্ষা করে দেখেন এদের মধ্যে কজন সৈন্য। তাঁদের আপনি বাঁচিয়ে রাখেন। বাকিদের মেরে ফেলেন। এটা কি ঠিক রাণী-মা?

    অবশ্যই ঠিক। পিপড়ার রাণী কখনো ভুল কাজ করতে পারে না। ভুল কাজ করার তাদের নিয়ম নেই। সব পিপড়াদের বাঁচিয়ে রাখলে অবস্থা কি হত ভেবে দেখ। পিপড়ার সংখ্যা যেত বেড়ে। এদের কোত্থেকে খাবার দিতাম? এদের বাড়ির ব্যবস্থাই বা কিভাবে করতাম? কাজেই পিপড়ার সংখ্যা বাড়ানো যাবে না।

    পিপড়ার সংখ্যা বাড়ানো যাবে না, কিন্তু সৈন্যের সংখ্যা বাড়ানো যাবে। আপনার সৈন্য বাড়ছে –হুঁ হু করে বাড়ছে।

    তুমি তো ভুল কথা বললে পিপলী। খুব ভুল কথা। আমার সৈন্য তো বাড়ছে। আমাদের সৈন্য বাড়ছে। ঐ সৈন্যরা, তুমি যখন বিপদে পড়বে, তখন তোমার পাশে দাঁড়াবে।

    তা কিন্তু রাণী-মা দাঁড়ায় নি। আমাদের শত শত কর্মী পিপড়া কালোদের হাতে ধরা পড়ল। আমরা দল বেঁধে ছুটে গেলাম আপনার কাছে। আপনি আমাদের সঙ্গে দেখাও করেন নি।

    রাণীর নিয়ম তুমি জান না পিপলী। রাণী শুধু তাকেই দেখা দেন, যাকে তিনি ডেকে পাঠান। তোমাকে আমি ডেকে পাঠিয়েছি বলেই দেখা দিয়েছি। তোমার কি আরো কিছু বলার আছে?

    আছে।

    বল, আমি শুনছি। আমি খুব মন দিয়ে তোমার কথা শুনছি।

    আবারো কালো পিপড়াদের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হচ্ছে। আপনি সৈন্য পাঠান নি। আপনি সাধারণ পিপড়াদের পাঠিয়েছেন। এরা যুদ্ধ করতে জানে না। এরা যাচ্ছে আর মারা যাচ্ছে।

    মৃত্যু খুব স্বাভাবিক ব্যাপার পিপলী। সবাইকে মরতে হয়। মৃত্যু নিয়ে দুঃখ করতে নেই।

    আপনার সৈন্যরা যুদ্ধ করবে না?

    প্রয়োজন হলেই করবে। প্রয়োজন এখনো হয়নি। পিপলী কথা বলতে বলতে তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছ। তুমি কি আরো কিছু খাবে?

    না।

    আমি কি বলি জান? আমি বলি –কিছু খেয়ে নাও।

    রাণী-মা’র ইঙ্গিতে দুটি পিপড়া থালায় করে আরো খাবার নিয়ে এল। নিশা ফুলের মধু। পিপলী খুব আরাম করে খেল। এত ভাল লাগল তার। এবারো ইচ্ছা করল থালাশুদ্ধ খেয়ে ফেলতে। শুধু তাই না –তার নাচতেও ইচ্ছা করল। এই খাবারের মধ্যে কি কিছু আছে –যা খেলে এ রকম হয়? খুব আনন্দ হয়, ভয় কেটে যায়? মনের মধ্যে যেসব লুকানো কথা আছে সেসব বলে ফেলতে ইচ্ছা করে।

    রাণী-মা।

    বল পিপলী বেগম।

    আমার গান গাইতে ইচ্ছা করছে। নাচতে ইচ্ছা করছে।

    বেশ তো গান গাও। গান শুনতে আমার খুব ভাল লাগে।

    পিপলী বেগম গান ধরল —

    ভাল লাগছে ভাল লাগছে।
    আমার বড় ভাল লাগছে।
    মজা লাগছে মজা লাগছে
    আমার বড় মজা লাগছে।
    আনন্দ হচ্ছে আনন্দ হচ্ছে।
    আমার বড় আনন্দ হচ্ছে।

    রাণী মা।

    বল পিপলী।

    আমাদের বাড়ির খুব অভাব। মাটির অভাবে বাড়ি তৈরী হচ্ছে না। মাটি আনতে হয় অনেক দূর থেকে। পথে পথে বিপদ। শত শত পিপড়া মাটি আনতে গিয়ে মারা পড়ে রাণী-মা।

    যে কোন কাজেই বিপদ আছে পিপলী।

    খুব কাছেই এক জায়গায় মাটি পাওয়া গিয়েছিল রাণী-মা। অনুসন্ধানী পিপড়া খুব ভাল মাটির খোঁজ এনেছিল। বাড়ি তৈরির এত ভাল মাটি না-কি হয় না। আপনি সে মাটি পছন্দ করেন নি। আপনি চেয়েছেন –দূরের জায়গা থেকে মাটি আনতে।

    হ্যাঁ, তা চেয়েছি। দূরের মাটির খুব সুন্দর গন্ধ। আমি সুঘ্রাণ পছন্দ করি।

    আমার কিন্তু অন্য কথা মনে হয়। আমার কি মনে হয় জানেন রাণী-মা –আমার মনে হয় আপনি সবাইকে দূরের পথে পাঠান যাতে তারা মারা পড়ে। কারণ আপনি পিপড়ার সংখ্যা কমাতে চান।

    তোমার বুদ্ধি ভাল পিপলী। আসলেই আমি পিপড়ার সংখ্যা কমাতে চাই। আমরা সংখ্যায় কম থাকলে আমাদের খাদ্যের অভাব হবে না। রাণীকে অনেক কিছু ভাবতে হয় পিপলী। অনেক কিছু।

    আপনি অনেক কিছু ভাবেন না। আপনি শুধু নিজের কথাই ভাবেন।

    তোমার কথা কি শেষ হয়েছে?

    হয়েছে।

    তুমি যখন নাচানাচি করছিলে তখন তোমার পা লাল দাগের ভেতর পড়েছিল। লাল দাগে পা পড়া কি তা তো তুমি জান পিপলী। জান না?

    জানি।

    যদি জান, তাহলে বল তো কি শাস্তি?

    নির্বাসন।

    হু, নির্বাসন। নির্বাসনের শাস্তি আগে ছিল –এখন তা বদলেছি। এখন থেকে শাস্তি হচ্ছে মৃত্যু। আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যু। আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যু।

    রাণী মা আমার পা কিন্তু লাল দাগে পড়ে নি। আমি খুব সাবধান ছিলাম।

    রাণীর সঙ্গে তর্ক করার শাস্তিও কিন্তু মৃত্যুদন্ড। আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যু।

    এই শাস্তি কবে থেকে চালু হল রাণী-মা?

    এখন থেকে। আজ থেকে তবে তোমার বয়স অল্প। এবং আমি দয়া দেখাতে ভালবাসি বলেই তোমাকে নির্বাসন দেব। আগুনে পুড়িয়ে মা’রব না। তোমার নির্বাসন হবে অন্ধকূপে। সেখানে আলো নেই, বাতাস নেই এবং খাদ্য নেই তোমার মৃত্যু হবে –তবে কিছুদিন বেঁচে থাকবে। কিছুদিন বেঁচে থাকাও তো ভাগ্যের ব্যাপার। তাই না পিপলী বেগম?

    জী রাণী-মা, ভাগ্যের ব্যাপার। আপনার অসীম দয়া।

    রাণী-মা’র নির্দেশে মেয়ে সৈন্যরা এসে পিপলীকে ধরে নিয়ে গেল। পিপলী অবাক হয়ে দেখল –মেয়ে সৈন্যরাও সবাই অন্ধ। তারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে কূপের দিকে। পিপলী বেগম বলল, অন্ধ কূপে ফেলার আগে আমি কি আমার মা এবং দাদীমা’র সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি?

    ওরা কর্কশ গলায় বলল, না।

    পিপলী বলল, আমি কোন কথা বলব না, শুধু একবার তাঁদের দেখব।

    না

    অনেক দূর থেকে দেখব –শুধু একবার।

    না।

    তারা পিপলীকে অন্ধকূপে ফেলে দিল। গহীন সেই কূপ। পিপলী পড়ছে তো পড়ছেই। মনে হচ্ছে এই কূপ কখনো শেষ হবে না। ঘড়ঘড় শব্দে কূপের মুখ পাথর-চাপা দেয়া হল। চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। সেই অন্ধকার ভয়াবহ অন্ধকার। পিপলী ডাকল –মা! মাগো! কেউ তার ডাক শুনতে পেল না। সে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। দেয়ালে ঘা খেয়ে তার কান্নার শব্দ তার কাছেই ফিরে আসছে। মনে হচ্ছে অসংখ্য পিপলী বেগম এক সঙ্গে কাঁদছে।

    .

    গল্প এই পর্যন্ত বলে মতিন সাহেব হাই তুলে বললেন, এবার খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমুতে গেলে কেমন হয়? রাত কম হয়নি। তিন মেয়েই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল –না-না-না। নীলু বলল, পিপলী বেগমকে জেলখানায় রেখে গল্প শেষ করা যাবে না। কিছুতেই না। কিছুতেই না। কিছুতেই না।

    আমাকে কি করতে হবে?

    তা আমি জানি না।

    বিলু বলল, বাবা রাণী-মাকে আমার এত ভাল মনে হয়েছিল, সে এখন এত খারাপ হল কি ভাবে?

    তা তো আমি বলতে পারি না, মা।

    তিলু বলল, ঐ দেশে রাজা নেই, বাবা?।

    না। পোকা-মাকড়দের দেশে রাজা নেই বললেই হয়। মৌমাছিদের বেলাতেই দেখ। ওদের আছে রাণী মৌমাছি। রাজা মৌমাছি বলে কিছু নেই। মৌমাছিদের রাণী মহাসুখে থাকে। অন্য মৌমাছিদের কষ্ট করে নিয়ে আসা মধু চুকচুক করে খায়। অন্যরা খেটে মরে তার জন্যে।

    নীলু বলল, অন্যরা খাটাখাটানি না করলেই হয়। অন্যরা কেন বলে না –তুমি পচা রাণী, আমরা তোমার কাজ করব না। করব না, করব না।

    মতিন সাহেব বললেন, এরকম কিছু বললে তো হবে না। কীট-পতঙ্গের জগতে এই ধরনের কথা বলা যায় না। ওদের জগতের আইন-কানুন, খুবই কড়া। ওদের জগতের রাজা-রাণীদের আইন বড়ই কঠিন আইন।

    নীলু কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, আমাদের পিপলী বেগম যে অন্ধকূপে চলে গেল, এখন কি হবে বাবা?

    দেখা যাক কি হয়।

    ও কি ছাড়া পাবে?

    বুঝতে পারছি না। গল্প শেষ হোক। শেষ হলে বোঝা যাবে।

    মতিন সাহেব আবার শুরু করলেন –চরম বিপদে পিপড়াদের কি করতে হয় তা স্কুলে শেখানো হয়। যেমন পানিতে পড়ে গেলে কি করতে হবে, আগুনের কাছাকাছি চলে গেলে কি করতে হবে –এইসব। কিন্তু অন্ধ কূপে কাউকে আটকে ফেললে কি করতে হবে স্কুলে তা শেখানো হয় নি। কোন বই এও কিছু লেখা নেই। পিপলী বেগম অনেক উঁচু থেকে নিচে পড়েছে, কিন্তু ব্যথা পায়নি। তার কারণ সে স্কুলে বইএ পড়েছে –উঁচু থেকে হঠাৎ নিচে পড়ে গেলে কি করতে হয়। মাটির দিকে পা এবং শুড় বাড়িয়ে দিতে হয়। প্রচণ্ড চাপে পা, শুড় ভেঙে যাবে তবে ভয় পাবার কিছু নেই। শুড় ও পা সবই গজাবে। নতুন পা এবং নতুন গঁড় হবে আগের চেয়েও মজবুত।

    পিপলী প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছে। তার শুড় ভেঙেছে কিন্তু পা ভাঙে নি। সে তীব্র ব্যথা নিয়ে এখন এগুচ্ছে অন্ধের মত। কেন এগুচ্ছে তাও জানে না। সে বুঝতে পারছে পুরো জায়গাটা পাথরের তৈরি। মাটির তৈরি হলে মাটি ফুটো করে বের হবার একটা চেষ্টা করা যেত। অবশ্যি সে চেষ্টা করলে লাভ হত না, কারণ মাটি ফুটো করার বিদ্যা সে জানে না।

    পিপলীর ভয় ভয় করছে। একা থাকার ভয়। অন্ধকারের ভয়। ভয় কাটানোর জন্যে সে বলল –কেউ কি আছে?

    তার নিজের কথাই দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এল। বার বার শব্দ হতে লাগল, কেউ কি আছে? কেউ কি আছে? কেউ কি আছে?

    ভয় লাগছে। পিপলীর প্রচণ্ড ভয় লাগছে। ভয় লাগলে কি করতে হয় স্কুলে পড়িয়েছে। ভয় পেলে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়। কি কি প্রশ্ন করতে হয় তাও বইয়ে লেখা। সেই প্রশ্নের জবাব নিজেকেই দিতে হয়। প্রশ্নগুলির জবাব দিলেই ভয় কমে যাবার কথা। পিপলী নিজেকে প্রশ্ন করা শুরু করল।

    পিপলী, তুমি কি ভয় পাচ্ছ?

    হ্যাঁ।

    খুব বেশি ভয় পাচ্ছ?

    হ্যাঁ।

    কেন ভয় পাচ্ছ, পিপলী?

    কারণ জায়গাটা খুব অন্ধকার।

    তুমি যে ভয় পাচ্ছ তাতে কি কোন লাভ হচ্ছে –অন্ধকার কমে যাচ্ছে?

    না।

    তাহলে ভয় পাচ্ছ কেন? ভয়ে তোমার কোন লাভ হচ্ছে না। বরং ক্ষতি হচ্ছে। কাজেই ভয় দূর কর। যা করছিলে কর। তুমি এখন কি করছ?

    হাঁটছি।

    তাহলে হাঁটতে থাক। তুমি কি গান জান?

    জানি।

    গান গাইতে গাইতে হাঁট।

    পিপলী গান ধরল —

    এসো ভাই, গান গাই
    গান গেয়ে মজা পাই

    গান গাইতে গাইতে পিপলী এগুচ্ছে –হঠাৎ ধমকের শব্দে সে চমকে উঠল —-কে গান গায়?

    পিপলী থমকে দাঁড়াল। ভীত গলায় বলল, আমি।

    আমি কোন পরিচয় নয়। আমার নাম পিপলী বেগম।

    তুমি মেয়ে পিপড়া?

    হ্যাঁ

    এসো পিপলী, এসো। আজ আমাদের বড়ই আনন্দের দিন। আজ আমাদের হৃদয় আনন্দে পরিপূর্ণ হল। এতদিনের প্রতিক্ষার অবসান হল।

    আমি কিছুই বুঝতে পরাছি না। আপনি কে?

    আমার নাম অরং। আমি অতি বৃদ্ধ এক পিলিলিকা। রাণী-মা তোমাকে যেমন নির্বাসন দিয়েছেন, আমাকেও দিয়েছেন। আমার মত হাজার হাজার পিপড়াকেও দিয়েছেন। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আমরা অপেক্ষা করেছি একটি মেয়ে পিপড়ার জন্যে। আজ তোমাকে পাওয়া গেল। কি আনন্দ! কি আনন্দ।

    পিপলী অন্ধকারে কিছুই বুঝতে পারছে না। কিন্তু টের পাচ্ছে এই বুড়ো পিপড়া যার নাম অরং, সে আনন্দে লাফাচ্ছে। হাততালি দিচ্ছে। অরং কি পাগল? পাগল হবারই কথা। দীর্ঘদিন অন্ধ কূপে থেকে থেকে মাথা খারাপ হয়েছে। পিপলী ক্ষীণ গলায় ডাকল –বৃদ্ধ অরং।

    কি গো মা!

    আপনি এমন লাফালাফি করছেন কেন?

    খুব আনন্দ হচ্ছে তো মা –তাই লাফালাফি করছি।

    আপনি পাগল হয়ে যাননি তো?

    হতেও পারি। হয়ত আনন্দে পাগল হয়ে গেছি। তুমি সত্যি পিপলী বেগম তো? আমি স্বপ্ন দেখছি না তো?

    না, আপনি স্বপ্ন দেখছেন না। আপনি দয়া করে আমার হাত ধরুন। হাত ধরে নিয়ে চলুন। আমার ভীষণ ভয় লাগছে।

    অরং এসে হাত ধরল।

    তারা হাঁটতে শুরু করল। মাঝে মাঝে বৃদ্ধ অরং পিপলীর হাত ছেড়ে দিয়ে খানিকক্ষণ নাচানাচি করে নেয়। বিকট শব্দে চিৎকার করে। পাওয়া গেছে, পাওয়া গেছে। পিপলী বেগম চলে এসেছে। তারপর আবার হাঁটা শুরু করে। তারা নানান সুরঙ্গ পার হল। পথ যেন শেষ হতেই চায় না। হাঁটতে হাঁটতে তারা এক সময় সুরঙ্গ ছেড়ে একটা খালি ময়দানে এসে পড়ল। সেখানে হাজার হাজার পিপড়া অপেক্ষা করছে। পিপড়াগুলিকে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু এদের নিঃশ্বাসের শব্দ পিপলী শুনতে পাচ্ছে।

    বৃদ্ধ অরং চেঁচিয়ে বলল, সুসংবাদ। সবার জন্যে সুসংবাদ। বড়ই সুসংবাদ। আমরা পেয়ে গেছি পিপলী বেগমকে। এতদিন যার জন্যে আমরা অপেক্ষা করছিলাম, তাকে আমরা পেয়ে গেছি। সবাই হাততালি দিন।

    তুমুল হাততালি হল। শুধু হাততালি না –সবাই একসঙ্গে লাফাতে লাগল। পিপলী কিছুই বুঝতে পারল না। সে অরংকে কানে কানে বলল, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। এসব কি হচ্ছে?

    বুঝবে, কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝবে। তোমাকে সব বুঝিয়ে দেয়া হবে। আমরা এতদিন তোমার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম —পেয়ে গেছি। আমরা পেয়ে গেছি।

    সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল, পেয়ে গেছি। আমরা পেয়ে গেছি।

    তাদের লাফালাফি, হৈচৈ আর থামতেই চায় না। এক সময় তারা বৃদ্ধ অরং এবং পিপলীকে কাঁধে তুলে নাচতে লাগল। এবং বিকট স্বরে চেঁচাতে লাগল –পাওয়া গেছে, পাওয়া গেছে। পিপলী আবারো ফিসফিস করে বৃদ্ধ অরংকে বলল, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

    বৃদ্ধ অরং বলল, আমাদের পিপলী বেগম কিছুই বুঝতে পারছে না। এখন তাকে আমরা সব বুঝিয়ে দেব। আপনারা হৈচৈ বন্ধ করুন।

    হৈচৈ থেমে গেল।

    বৃদ্ধ অরং বলল, পিপলী বেগম, তুমি খুব মন দিয়ে আমার কথা শুনবে। শুধু শুনলে হবে না। কথা শুনবে এবং সেই সঙ্গে বুদ্ধি দিয়ে জ্ঞান দিয়ে বিচার করবে।

    পৃথিবীতে অসংখ্য পিপীলিকা গোত্র আছে। সব গোত্রেরই রাণী আছে। আমাদের গোত্রেরও আছে। আমাদের রাণীদের সঙ্গে অন্য রাণীদের কিছু অমিল আছে। অমিলগুলি মন দিয়ে শোন —

    এই রাণী মা, আমাদের কোন খাবার খান না। যত ভাল খাবারই হোক তিনি পুরোটা ফিরিয়ে দেন। ঠিক না?

    ঠিক ঠিক।

    সব গোত্রের পিপীলিকা রাণী থাকেন পিপীলিকাদের মাঝখানে। তিনি থাকেন, মাঝখানে তাঁকে ঘিরে থাকে অন্যরা। তিনি কখনোই আলাদা থাকেন না। আমাদের রাণীমা থাকেন আলাদা। অনেক আলাদা। ঠিক কিনা বল তো পিপলী?

    ঠিক ঠিক?

    সব গোত্রের রাণী-মা’র কাছে যাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের রাণী-মা’র কাছে যাওয়া যায় না। তিনি থাকেন লাল দাগের ভেতরে। সেই লাল দাগের ভেতরে কেউ গেলে সঙ্গে সঙ্গে নির্বাসন। কেন বল তো পিপলী বেগম?

    আমি জানি না।

    চিন্তা কর।

    চিন্তা করে কিছু পাচ্ছি না।

    রাণী-মা লাল দাগ দিয়ে রেখেছেন যাতে কেউ তাঁর কাছে যেতে না পারে। তিনি সাধারণত কাউকে দেখা দেন না। তবু যদি ভুলে কেউ দেখে ফেলে সে জন্যেই এই সতর্কতা। কারণ কেউ ভালমত তাকালেই বুঝে ফেলবে আমাদের রাণী-মা আসলে অন্ধ।

    রাণী মা অন্ধ।

    হ্যাঁ অন্ধ। আমাদের রাণী মা জন্মান্ধ।

    সে কি!

    শুধু রাণী-মাই না, রাণী-মা’র প্রাসাদে যারা থাকে তারাও অন্ধ। যে মেয়েসৈন্যরা রাণী-মাকে ঘিরে থাকে তারাও অন্ধ।

    হ্যাঁ তাই তো!

    এখন বল, এই পৃথিবীতে কোন্ প্রজাতি জন্মান্ধ?

    উই পোকা।

    এখন বল পিপলী বেগম –রাণী মা কি তোমাকে কোন খাবার দিয়েছিলেন?

    হু। নিশা ফুলের মধু।

    পিপীলিকার কি খাদ্য তা স্কুলে পড়ানো হয়? হয় না!

    হয়।

    সেখানে নিশা ফুলের মধু নামের কোন খাবারের নাম পড়েছ?

    না।

    এই খাবার কাদের খাবার জান?

    জানি না।

    এটা হচ্ছে উই পোকাদের খাবার।

    উইপোকাদের খাবার?

    হ্যাঁ। ওরা এই খাবার সংগ্রহ করে। খায়। খেয়ে নাচানাচি করে।

    এখন কি বুঝতে পারছ আমাদের রাণী-মা আসলে একটি জন্মান্ধ উইপোকা? এই জন্যে তিনি আমাদের খাবার খান না।

    বুঝতে পারছি।

    কি ভয়ংকর ঘটনা! তাই না পিপলী?

    হ্যাঁ, তাই এতবড় একটা ঘটনা অথচ কেউ বুঝতে পারল না কেন?

    পারবে না কেন? পেরেছে। অনেকেই বুঝতে পেরেছে। অনেকেই অনুমান করেছে। তবে যারাই অনুমান করেছে –তাদেরই জায়গা হয়েছে এই অন্ধকূপে।

    পিপলী হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। তার হতভম্ব ভাব কাটতে সময় লাগল। সে বলল, একটা উইপোকা কি করে আমাদের রাণী হয়ে বসল?

    অরং দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, মাঝে মাঝে পিপীলিকা গোত্রে এরকম হয়। উইপোকা এসে পিপড়ার রাণীকে মেরে তার জায়গা দখল করে নেয়। কাজটা তারা এমনভাবে করে যেন কেউ কিছু বুঝতে না পারে। জন্মান্ধ উইপোকা অসম্ভব ধূর্ত। তবে আমরা এখন তাকে উচিত শিক্ষা দেব।

    কিভাবে?

    সেটা তুমি ঠিক করবে। তুমি যেভাবে শিক্ষা দিতে চাও! সেই ভাবেই শিক্ষা দেয়া হবে। হুকুম দিতে হবে তোমাকে।

    পিপলী অবাক হয়ে বলল, আমাকে কেন?

    তুমি একটা বড় ব্যাপার এখনো ধরতে পারছ না। পিপীলিকা গোত্রের একটা প্রধান নিয়ম হল রাণীর হুকুম ছাড়া তারা কিছু করতে পারে না। তাদের কিছু করতে হলে রাণীর হুকুম লাগে।

    আমরা এই অন্ধকূপে দীর্ঘদিন পড়ে আছি। এই জায়গাটা পাথরের তৈরী। কিন্তু আমরা খুঁজে খুঁজে এমন একটা জায়গা বের করেছি যা মাটির তৈরি। আমাদের কর্মী পিপড়ারা অল্প কিছুদিন পরিশ্রম করলেই এই মাটিতে সুরঙ্গ তৈরী করে ফেলতে পারবে। কিন্তু তারা তা করবে না –যতদিন পর্যন্ত না রাণী হুকুম দিচ্ছেন। এখন পিপলী বেগম, তুমি হবে আমাদের রাণী। তুমি আমাদের হুকুম দেবে।

    আমিই রাণী?

    হ্যাঁ, তুমি রাণী। এখানে আমরা যারা আছি তারা সবাই পুরুষ। পিপীলিকা গোত্র পুরুষের হুকুমে চলে না। তাদের রাণীর হুকুম লাগে। এখন তুমি আমাদের রাণী। তুমি হুকুম দেবে, আমরা কাজ শুরু করব।

    আপনারা মুখে বললেই আমি রাণী হয়ে যাব?

    এ ছাড়া আর উপায় কি?

    বৃদ্ধ অরং একটুক্ষণ থেমে বলল –পিপলী বেগম এখন থেকে আমাদের রাণীমা। রাণীর কল্যাণ হোক! মঙ্গল হোক!

    সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে বলল, রাণী-মা’র কল্যাণ হোক। মঙ্গল হোক। পিপীলিকা গোত্রের মহান রাণী –আমরা আপনার হুকুমের অপেক্ষা করছি।

    পিপলী বলল, হুকুম দেবার আগে আমি জানতে চাচ্ছি এই যে দীর্ঘদিন আপনারা বেঁচে আছেন, কিভাবে বেঁচে আছেন। খাদ্য পেয়েছেন কোথায়?

    বৃদ্ধ অরং বলল, সেই দুঃখের কাহিনী আপনার না শোনাই ভাল রাণী-মা। আমাদের মধ্যে যারা মারা গেছেন –তাদেরকে আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া আমাদের উপায় ছিল না। আমরা জানি পিপীলিকা গোত্রের কাছে আমরা অপরাধ করেছি। অপরাধের যে শাস্তি আপনি দেবেন সেই শাস্তিই আমরা মাথা পেতে নেব।

    পিপলী বলল, আপনারা অপরাধ করেছেন। বিশেষ ভয়ংকর পরিস্থিতির কারণে অপরাধ করেছেন বলেই আমি তা ক্ষমা করলাম। এখন আপনাদের মধ্যে যারা কর্মী তাঁরা সুরঙ্গ খোঁড়ার কাজে লেগে যান। যারা কর্মী নন তারাও সুরঙ্গ খোঁড়ার কাজে সাহায্য করবেন।

    সুরঙ্গ খোঁড়া শেষ হবার পর আমরা কি করব রাণী-মা?

    তা ঠিক করা হবে যখন আমরা অন্ধকূপ থেকে বের হব, তখন। আপনারা কাজে লেগে পড়ুন। শুধু বৃদ্ধ অরং থাকবেন আমার পাশে। আর সবাই কাজে যাবেন।

    সব পিপড়া একসঙ্গে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বৃদ্ধ অরং রইল পিপলী বেগমের কাছে। পিপলী ফিসফিস করে বলল, সুরঙ্গ খোঁড়া শেষ হলে আমরা কি করব?

    অরং বলল, তা তো রাণী-মা আপনাকেই ঠিক করতে হবে।

    আপনি আমাকে বুদ্ধি দেবেন না?

    পিপীলিকা গোত্রে রাণীকে বুদ্ধি দেবার নিয়ম নেই।

    শুনুন, বৃদ্ধ অরং আমি সব পুরানো নিয়ম-কানুন ভাঙব। আমি করব নতুন নতুন নিয়ম। আমার নতুন নিয়মে আপনি বা আপনার মত যারা জ্ঞানী তারা আমাকে বুদ্ধি দিতে পারবেন। এখন আমাকে বুদ্ধি দিন।

    বৃদ্ধ অরং বলল, উইপোকা রাণীকে খুব সহজেই সরানো যাবে। জন্মান্ধ উইপোকা আলো সহ্য করতে পারে না। আমরা এমনভাবে মাটি ফুটো করব যেন আলো গিয়ে পড়ে উইপোকা রাণীর প্রাসাদে। এতেই কাজ হবে।

    এ ছাড়া আর কোন বুদ্ধি কি আপনার আছে?

    আমরা মাটি ফুটো করে সরাসরি উইপোকা-রাণীর প্রাসাদে চলে যেতে পারি। তখন আমাদের যুদ্ধ করতে হবে রাণীর নারী সৈন্যদের সাথে। সেইসব সৈন্যদের সবাই অন্ধ। কাজেই আমাদের যুদ্ধে জেতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাছাড়া একবার সত্য প্রকাশ হয়ে পড়লে পিপীলিকা সৈন্যরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে।

    মাটি কেটে সুরঙ্গ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বিপুল উৎসাহে সবাই মাটি কাটছে। নতুন রাণী পিপলী বেগম এগিয়ে গেল। শান্ত গলায় বলল, আমিও মাটি কাটব। আমাকে দেখিয়ে দিন কিভাবে মাটি কাটতে হয়।

    অরং অবাক হয়ে বলল, আপনি হচ্ছেন সবার রাণী-মা। আপনি সুরঙ্গ কাটবেন তা-কি করে হয়?

    সবাই কাজ করবে, আমি বসে বসে দেখব তা হয় না। তাছাড়া আমি তো আপনাদের বলেছি –আমার রাজত্বের নিয়ম-কানুন আলাদা। আজ থেকে নতুন নিয়ম –কেউ বসে থাকতে পারবে না। সবাইকে কাজ করতে হবে।

    .

    সুরঙ্গ কাটা হয়েছে। আলো এসে পড়েছে অন্ধকূপে। দলে দলে পিপড়া বের হয়ে আসছে। সবার সামনে আছে নতুন রাণী পিপলী বেগম। নতুন রাণীর মুখ হাসি-হাসি হলেও চোখ দুটি বিষণ্ণ। তার সামনে অনেক সমস্যা, অনেক দায়িত্ব। সবাই তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে এক বিশাল গোত্রের রাণী। তার চোখ বিষণ্নতো হবেই।

    .

    মতিন সাহেব হাই তুলে বললেন –গল্প শেষ। মায়েরা, চল ভাত খাই। খাবার পর সবাই ঘুমুতে যাও। তিলু বিলু খাবার টেবিলে চলে গেল। শুধু নীলু গম্ভীর মুখে বসে রইল। মতিন সাহেব বললেন, কি হল মা? তুমি এমন কঠিন মুখ করে বসে আছ কেন? নীলু রাগী গলায় বলল, বাবা, গল্প মোটেও শেষ হয়নি। তুমি শেষটা এখনো বলনি। শেষটা না বললে আমি ঘুমুতে যাব না।

    মতিন সাহেব বললেন, শেষটা কি মা?

    শেষটায় নতুন রাণী পিপলী বেগম, উইপোকা রাণীকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে।

    আচ্ছা বেশ, তাড়িয়ে দিল। তারপর?

    তারপর পিপলী বেগম বলবে –এখন থেকে পিপড়াদের আর স্কুলে যেতে হবে না।

    সে কি?

    ওদের স্কুলের কোন দরকার নেই, বাবা। ওদের স্কুল ভাল লাগে না।

    তোমার স্কুল ভাল লাগে না বলে ওদেরও ভাল লাগবে না, তা তো না। ওদের স্কুল খুবই ভাল লাগে।

    না বাবা, তুমি জান না ওদের স্কুল ভাল লাগে না।

    আচ্ছা বেশ, ওদের স্কুল ভাল লাগে না।

    পিপলী বেগম বলবে –আজ থেকে স্কুল নেই, পড়াশোনা নেই। সবাই শুধু আনন্দ করবে। হৈচৈ করবে।

    ঠিক আছে করবে।

    আর পিপলী বেগম বলবে, এখন থেকে দেশে কোন সৈন্য থাকবে না।

    তা কি করে হয় মা? সৈন্য ছাড়া ওদের চলবে কি করে?

    ওদের সৈন্য ভাল লাগে না, বাবা। ওরা সৈন্যকে ভয় করে।

    তুমি ভয় কর। কিন্তু তাই বলে ওরা কেন ভয় করবে।

    না, ওরাও করে।

    আচ্ছা বেশ, ওরাও করে। এখন খেতে চল মা যাও মা।

    .

    রাতের খাবার শেষ করে নীলু বাবার গলা জড়িয়ে ঘুমুতে গেল। এবং এক সময় ঘুম-ঘুম গলায় বাবার কানে কানে বলল, বাবা, আমার খুব পিপলী বেগম হতে ইচ্ছা করছে।

    ⤶
    1 2 3
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনৌকাডুবি – চলিত ভাষার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article পেন্সিলে আঁকা পরী – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }