Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু

    বুদ্ধদেব বসু এক পাতা গল্প221 Mins Read0
    ⤷

    উনি – অনুবাদক: বুদ্ধদেব বসু

    উনি

    প্রথম যেদিন তাদের বিয়ে ঠিক হল, সেদিন থেকেই বার্তোলিনো তার ভাবী স্ত্রীকে বলতে শুনেছে:

    ‘জানো তো, আমার সত্যিকার নাম কিন্তু লিনা নয়। আমার নাম আসলে কারোলিনা, কিন্তু উনি আমাকে লিনা বলে ডাকতেন, আর সেই থেকে আমার নাম লিনাই হয়ে গেছে। আহা ভারী— ভাল মানুষ ছিলেন উনি, ওই দেখো না তাঁর ছবি’ —

    বলে লিনা বড় একটি ফোটোগ্রাফের দিকে আঙুল তুলল। বার্তোলিনো দেখল, তার ভাবী স্ত্রীর প্রথম স্বামী সিনোর কোসিমো তাদ্দেয়ি তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে টুপি তুলছেন।

    প্রায় নিজের অজান্তে, বার্তোলিনো মৃত ভদ্রলোকের অভিবাদনের প্রত্যুত্তরে নিজের মাথাটি অর্ধেক নিচু করে ফেলেছিল।

    তাদ্দেয়ি ছিলেন একজন বিখ্যাত স্থপতি। তিনি গত হবার পরে তাঁর ছবিটি দেয়াল থেকে নামিয়ে রাখবার কথা তাঁর বিধবা স্ত্রী লিনা সারুল্লির একবারও মনে হয়নি। কেনই বা হবে। তাঁর কাছে লিনার কৃতজ্ঞতা তো কম নয়। তার মান সম্মান, বাড়ি ঘর, সুন্দর সুন্দর আসবাবপত্র সব তো তিনিই তার জন্য করে গেছেন।

    ভাবী দ্বিতীয় স্বামীর অপ্রতিভ ভাব কিছুমাত্র লক্ষ না করে লিনা আরও বলেছে, ‘আমি অবশ্য নাম বদল করতে চাইনি, কিন্তু উনি যা বলতেন, তার উপর আমি আর না বলতে পারতুম না। তুমিও আমাকে ওই নামেই ডেকো, কেমন? কিছু মনে করবে না তো?’

    বার্তোলিনো থতমত খেয়ে বলেছে, ‘না…ইয়ে…না…তা তো ঠিকই।’ দেয়ালের বড় ছবিটি থেকে সে যেন আর চোখ ফেরাতে পারেনি— ভদ্রলোক তারই দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে টুপি তুলে অভিবাদন জানাচ্ছেন।

    তিন মাস পরে যখন আত্মীয়-বন্ধুরা লিনা আর তার স্বামীকে তাদের হানিমুন-যাত্রায় তুলে দিতে স্টেশনে এল, তখন লিনার প্রিয় সখী অর্তেনসিয়া মোত্তা স্বামীর দিকে তাকিয়ে একটি অদম্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললে, ‘বেচারা বার্তোলিনো— লিনার মতো মেয়ের সঙ্গে…’

    ‘কেন, বেচারা কেন?’ তার স্বামী বলে উঠল। ভদ্রলোকের বয়েস হয়েছে, লিনার দ্বিতীয় বিবাহের ঘটকালি বলতে গেলে তিনিই করেছেন, তাই এ বিয়ের কোনওরকম সমালোচনা শুনলেই তাঁর রাগ হত। ‘বেচারা হবার কী হয়েছে? বার্তোলিনো তো বোকা নয়, কেমিস্ট্রিতে তার অসাধারণ দখল।’

     

     

    ‘হ্যাঁ, কেমিস্ট্রিতে,’ বললে অর্তেনসিয়া।

    ‘দেখো তুমি, বার্তোলিনো একেবারে আদর্শ স্বামী হবে। কেমিস্ট্রির কথাই বা কী— যদি একটু গা করে ওর সব কাজ ও ছাপিয়ে বের করত তা হলে দেশের একজন আদর্শ শিক্ষক হতে পারত। তা ছাড়া ও এমন মনখোলা ভালমানুষ—’

    ‘ঠিক বলেছ, নিতান্ত মনখোলা ভালমানুষ।’ লিনার এই দ্বিতীয় হানিমুনের কথা ভেবে অর্তেনসিয়া মনে মনে একটু না হেসে পারল না। প্রথম বারেও রোমে গিয়েছিল লিনা— এবারেও রোমে যাচ্ছে। প্রথম বারে ছিল ফুর্তিবাজ, ধূর্ত, উৎসাহী (কখনও কখনও একটু-বা বেশি উৎসাহী) সিনোর তাদ্দেয়ি, আর এবারে তার জায়গায় এই ছোকরা বার্তোলিনো— মাথায় টাক, অথচ চেহারায় আর অভিজ্ঞতায় ছেলেমানুষ।

    ট্রেন ছাড়বার আগে আনসেলমো-খুড়ো বউকে বলেছিলেন, ‘বার্তোলিনোর একটু দেখাশুনো কোরো… একটু যত্ন-টত্ন কোরো ওকে।’

    লিনা তার প্রথম হানিমুনে আগে একবার রোমে এসে গেছে, দেশ ভ্রমণের সব রহস্য তার জানা— সে সমস্তটা পথ বার্তোলিনোকে প্রায় ছেলেমানুষের মতো হাতে ধরে নিয়ে এল। শেষ পর্যন্ত গাড়ি যখন রোমে পৌঁছোল, সে স্বামীকে বললে, ‘তুমি কিছু ভেবো না— আমি সব করে নিচ্ছি।’ যে-কুলিটা তাদের মালপত্র গোছাচ্ছিল তার দিকে তাকিয়ে সে বললে, ‘হোটেল ভিক্টোরিয়া।’

     

     

    স্টেশনের বাইরেই হোটেল ভিক্টোরিয়ার বাস অপেক্ষা করছিল। ড্রাইভারকে চিনতে পেরে লিনা তার দিকে তাকিয়ে একটু মাথা নাড়ল।

    ‘সুন্দর হোটেলটি দেখো। ছোট্ট ফিটফাট, চাকর-বাকররা চটপটে, একেবারে শহরের মধ্যিখানে, অথচ খরচও খুব বেশি নয়।… ছ’বছর আগে ওঁর সঙ্গে আমার প্রথম হানিমুনে এসে এ হোটেলেই উঠেছিলাম।… তোমারও এটা ভাল লাগবে, দেখো।’

    হোটেলটা লিনার প্রায় বাড়ি-বাড়ি লাগল। তাকে যে কেউ চিনতে পেরেছে এমন মনে হল না, কিন্তু সে সকলকেই ঠিক চিনতে পারছে। ওই তো বুড়ো ‘পিপ্পো’, ছ’বছর আগে এই লোকই তাদের যত্ন-আত্তি করেছিল। সে তাদের দোতলায় এন ১২ নম্বর ঘরে নিয়ে গেল— বেশ বড় ঘরটি, ভাল করে সাজানো, কিন্তু লিনার সে ঘর পছন্দ হল না।

    ‘পিপ্পো, উনিশ নম্বর ঘর কি খালি আছে?’ পিপ্পো খবর নিতে বেরিয়ে গেল, সে ফাঁকে লিনার মনে পড়ল যে ছ’বছর আগে তাঁরও ঠিক এই রকমই হয়েছিল। ওঁর জন্য দোতলায় একটা ঘর ঠিক করে রেখেছিল ওরা, কিন্তু উনি চেয়েছিলেন তেতলায় এন ১৯ নম্বর ঘর।

     

     

    ‘শুনছ, ওখানেই আমরা ভাল থাকব। গোলমাল কম, হাওয়া বেশি। ওই একই ঘর…’

    পিপ্পো ফিরে এসে যখন বললে যে এন ১৯ খালি আছে, লিনা ছেলেমানুষের মতো হাততালি দিয়ে হেসে উঠল। ঠিক সেই ঘরেই সে আবার থাকবে, সেই সব আসবাব, সেইরকম করে সাজানো, জানলার ধারে ঠিক সেই কুলুঙ্গি! কী মজা!

    বলা বাহুল্য, বার্তোলিনো তার আনন্দে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

    ‘কী গো, ঘরটি ভাল লাগছে না তোমার?’ লিনা জিজ্ঞেস করলে।

    উদাসভাবে বার্তোলিনো জবাব দিল, ‘মন্দ কী— তোমার ভাল লাগলেই হল…’

    তারপর লিনা যখন কাপড় ছাড়তে পরদার পিছনে গেল— সে ঘরের খাটটির দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল যে এখানেই, এই বিছানায় তার স্ত্রী তার প্রথম বিবাহিত রাত্রি কাটিয়েছে— কাটিয়েছে তার প্রথম স্বামী সিনোর তাদ্দেয়ির সঙ্গে।… আর অনেক দূর থেকে, তার স্ত্রীর বাড়ির দেয়ালে ঝোলানো ছবিটি থেকে, সিনোর তাদ্দেয়ির মূর্তি তার চোখের সামনে জেগে উঠল— মুচকি হেসে তার দিকে তাকিয়ে তিনি টুপি তুলছেন!

     

     

    হানিমুনের সময়টা তারা যে শুধু সেই একই বিছানায় শুল তা নয়, সেই একই রেস্তোরাঁয় খেল, সেইসব দৃশ্যই দেখে বেড়াল, সেইসব জাদুঘর, সেইসব চিত্রশালা, সেইসব গির্জে, এমনকী সেইসব বাগান— যেখানে-যেখানে ছ’বছর আগে, লিনা তার ‘উনি’র সঙ্গে গিয়েছিল। বার্তোলিনো ভারী লাজুক স্বভাবের মানুষ— কিছুতেই সে মুখ ফুটে বলতে পারলে না যে সেই প্রথম স্বামীর উপদেশ, অভিজ্ঞতা, রুচি, ইচ্ছা-অনিচ্ছা পদে পদে অনুসরণ করে চলতে কত খারাপ তার লাগছে। লিনাও লক্ষ করলে না যে তার ব্যবহারে তার তরুণ স্বামী মনে মনে কী রকম মর্মাহত। আঠারো বছর বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল, তখন সে বলতে গেলে খুকি, কিছুই বোঝে না, জানে না, ওই মানুষটিই তাকে শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে মানুষ করেছে, সে তার প্রথম স্বামীরই তো সৃষ্টি। যা কিছু তার আছে সবই কি ওঁর কাছ থেকেই সে পায়নি— এমনকী, ওঁর থেকে ভিন্নভাবে ভাববার কি অনুভব করবার শক্তিও তার লোপ পেয়ে গিয়েছিল।

    সে যে আবার বিয়ে করেছে তাও তো সিনোর তাদ্দেয়িরই উপদেশ। তিনিই তাকে শিখিয়ে গেছেন যে অশ্রুজলে জীবনের শুশ্রূষা হয় না, জীবিতের জন্য জীবন, আর মৃতের জন্য মৃত্যু। শুধু এই কথা মনে করেই সে বার্তোলিনোকে স্বামীরূপে গ্রহণ করেছিল— আর কোনও কারণে নয়। বার্তোলিনো যদি তাকে ভালবাসে তা হলে তার মতামত মেনে নিয়েই চলবে সে— আর তার মানেই সিনোর তাদ্দেয়ির ইচ্ছা-অনিচ্ছার অনুসরণ করা। তিনিই কর্তা, জীবন-রথের তিনিই সারথি।

     

     

    কিন্তু —যৌবনের অন্ধ অনভিজ্ঞতার বশে বার্তোলিনো ভাবল— অতি সামান্য কিছুও কি লিনা তাকে দিতে পারে না— একটি চুম্বন, একটু আদর, তার প্রথম স্বামী তাকে যা-সব শিখিয়ে গেছে তা থেকে যা আলাদা? এমন কিছু যা ওই মৃত মানুষের কর্তৃত্ব থেকে লিনাকে তখনকার মতো মুক্তি দিতে পারে? কিন্তু কথাটা উল্লেখ করতেও তার লজ্জা, আর বিদ্রোহ করবার কথা সে তো ভাবতেই পারে না।

    হানিমুন থেকে ফিরে এসে একটি অপ্রত্যাশিত দুঃসংবাদ পেল তারা। সিনোর মোত্তা— যিনি তাদের বিয়ের ঘটকালি করেছিলেন— হঠাৎ মারা গেছেন।

    সে নিজে যখন বিধবা হয়েছিল তখন এই মোত্তার স্ত্রী অর্তেনসিয়া তার জন্য যে কত করেছিল তা কি লিনা ভুলতে পারে। সেও ছুটে গেল সখীকে সান্ত্বনা দিতে, সাহায্য করতে। কিন্তু সে বুঝতেই পারলে না যে স্বামীর মৃত্যুর দশ দিন পরেও অর্তেনসিয়া অমন শোকাচ্ছন্ন হয়ে আছে কেন।

    ‘ওর কী হয়েছে বলো তো?’ ফিরে এসে সে তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে।

     

     

    স্ত্রীর বোধশক্তির অভাবে বার্তোলিনো লজ্জায় লাল হল।— ‘মানে— যাই বলো না, ওর স্বামী তো মারা গেছে।’

    ‘ওর স্বামী? তা মরেছে তো কী হয়েছে? বাপের বয়সি স্বামী, তার আবার…’

    ‘তা হলেই বা, তাই বলে কি দুঃখ হতে নেই?’

    ‘বাপের বয়সি, কিন্তু বাপ তো নয়।’ লিনা জোর করেই বললে।

    লিনার কথাই ঠিক। অর্তেনসিয়া লক্ষ করেছিল যে লিনার মুখে বারবার তার মৃত স্বামীর কথা শুনে শুনে বার্তোলিনোর ঘেন্না ধরে গেছে। সে তাই দুঃসহ দুঃখের ভাব ধরে তার মন ভোলাবার চেষ্টা করলে। তার দুঃখ বার্তোলিনোকে এমন গভীরভাবে বিচলিত করলে যে এই প্রথমবার, প্রাণপণে লজ্জা কাটিয়ে উঠে, সে তার স্ত্রীর কাছে বিদ্রোহ করলে।

    ‘তুমি… তুমিও কি কাঁদোনি!’

    সে আরও কিছু বলত হয়তো, কিন্তু লিনা তাকে বাধা দিয়ে বলে উঠল, ‘ওর সঙ্গে আমার তুলনা। প্রথম কথা, উনি ছিলেন…’

     

     

    স্ত্রীর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বার্তোলিনো বলল, ‘উনি তখনও বুড়ো হননি— এই তো?’

    ‘তা ছাড়া… আমিও কি কাঁদিনি? হ্যাঁ, কেঁদেছি বই কী, কত কেঁদেছি… কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নিয়েছি আমি। কিন্তু অর্তেনসিয়া কী করছে? কেবলই কাঁদছে আর কাঁদছে আর কাঁদছে— যেন জীবন ভরে ও কাঁদবেই। জানি, জানি, ওসব মেকি কান্না!’

    মেকি! অসম্ভব! কথাটা শুনে বার্তোলিনোর আরও রাগ হল যত না স্ত্রীর উপর, তার চেয়েও বেশি রাগ হল স্ত্রীর ওই মৃত স্বামী, ওই সিনোর তাদ্দেয়ির উপর। লোকটা এখনও দেয়াল থেকে তাকিয়ে তার দিকে মুচকি হেসে টুপি তুলে আছে, এখনও তার ইচ্ছার, তার মতামতের বশ করে রেখেছে তার স্ত্রীকে!

    ওই ছবি! ওই চিরন্তন হাসি! আর সহ্য হয় না। যেখানেই সে যায়, ভূতের মতো লেগে আছে তার পিছনে। ওই তো, তার চোখের সামনে, হেসে হেসে টুপি তুলে যেন বলছে:

    ‘এবার তোমার পালা— হাত পা ছড়িয়ে বেশ আরাম করে নাও। এ ঘর এককালে আমার আপিস-ঘর ছিল, এখন তোমার কেমিস্ট্রির ল্যাবরেটরি হয়েছে। জীবিতের জন্য জীবন, মৃতের জন্য মৃত্যু। সুখে থাকো, শান্তিতে কাজ করো।’

     

     

    হয়তো সে শোবার ঘরে ঢুকেছে, সেখানেও সিনোর তাদ্দেয়ির মূর্তি মুখের ক্রূর হাসিটি নিয়ে উপস্থিত!

    ‘এসো, এসো। তারপর, ভাল তো? আমার স্ত্রীকে কেমন লাগছে তোমার? আমি তাকে সুশিক্ষা দিয়েছিলাম কি না, বলো! জীবিতের জন্য জীবন, মৃতের জন্য মৃত্যু।’

    না, আর সহ্য হয় না। বাড়ির প্রতিটি কোণ ওই মানুষটা ভরে আছে। বার্তোলিনো এমন যে নির্বিবাদী মানুষ সেও অস্থির হয়ে উঠল, ছটফট করতে লাগল, স্ত্রীর কাছে মনের ভাব লুকোবার চেষ্টা আর তার সফল হল না।

    শেষ পর্যন্ত মনের ভাব লুকোবার চেষ্টাই সে ছেড়ে দিলে। চেষ্টা করল খাপছাড়া হতে, অদ্ভুত হতে, যাতে তার স্ত্রীর পুরনো অভ্যেসগুলি নাড়া খায়। কিন্তু এবারেও সে সফল হল না।

    ‘তোমার চালচলন ঠিক ওঁর মতোই হয়ে উঠছে,’ ঈষৎ শাসনের সুরে লিনা বললে। ‘উনিও বড্ড বেহিসেবি ছিলেন— আহা ভালমানুষ বেচারা!’

     

     

    শিগগিরই বার্তোলিনো বুঝতে পারল যে তার খাপছাড়া ব্যবহার লিনা মনে মনে উপভোগই করেছে। তার এসব কারসাজি লিনাকে ঠিক সেই মানুষটির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, যাকে সে স্ত্রীর মন থেকে মুছে দিতে চায়।

    শেষটায় বিশ্রী একটা ফন্দি তার মনে এল।

    সত্যি বলতে, স্ত্রীর সঙ্গে প্রবঞ্চনা করবার ইচ্ছা তার ততটা ছিল না, যতটা ছিল প্রতিহিংসার উত্তেজনা। সেই মানুষের উপরেই তার আক্রোশ, যে-মানুষ তার আগেই তার স্ত্রীকে দখল করেছিল এবং মরে গিয়েও সে দখল ছাড়েনি। তার অজ্ঞান অনভিজ্ঞ মনে ধারণা হল যে এই দুষ্টুমির ফন্দি একান্তই তার নিজের সৃষ্টি। সে ভাবতে পারল না যে এ দুর্বুদ্ধি অর্তেনসিয়াই তার অবচেতন মনে একটু একটু করে ঢুকিয়েছিল। যখন সে বিয়ে করেনি, তখন তাকে তার পড়াশুনো থেকে চ্যুত করবার অনেক চেষ্টাই অর্তেনসিয়া করেছে, করে ব্যর্থ হয়েছে।

    কুচক্রী অর্তেনসিয়া এবার চালের পিঠে চাল ছাড়ল। ইনিয়ে-বিনিয়ে বার্তোলিনোকে সে বোঝাল যে লিনার মতো প্রিয় সখীর সঙ্গে প্রবঞ্চনা করতে দুঃখে তার বুক ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু বার্তোলিনোকে অনেক আগে থেকেই সে ভালবেসে আসছে, লিনা তখন তাকে চোখেও দেখেনি। সে ভালবাসা নিয়তির মতোই অনতিক্রম্য।

     

     

    এর পরে যা হল, তাতে যে নিয়তির কী হাত থাকতে পারে, বার্তোলিনো কিন্তু তা ভেবে পেল না। বেচারা ভালমানুষ! তার গূঢ় অভিসন্ধিটি যে এত সহজে সম্পন্ন হল তাতে একটু হতাশই হল সে। মনে হল সে যেন ঠকে গেছে। তার পুরনো বন্ধু মোত্তার শোবার ঘরে সে যখন একলা হল, একটু পরেই অনুশোচনায় তার মনটা ভরে গেল। হঠাৎ তার চোখে পড়ল যে বিছানার ধারে মেঝের উপর একটা চকচকে জিনিস পড়ে আছে। ছোট্ট সোনার একটা লকেট, নিশ্চয়ই অর্তেনসিয়ার গলার। সে সেটা কুড়িয়ে নিয়ে অর্তেনসিয়ার অপেক্ষা করতে লাগল। নাড়াচাড়া করতে করতে তার উত্তেজিত আঙুলের চাপে হঠাৎ লকেটের মুখটা গেল খুলে। নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারল না।

    লকেটের ভিতরে একটা ছবি খুব ছোট করে খোদাই করা; সিনোর কোসিমো তাদ্দেয়ির সেই ছবি, তিনি মুচকি হেসে তার দিকে তাকিয়ে টুপি তুলে আছেন।

    —বুদ্ধদেব বসু

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু
    Next Article তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    Related Articles

    বুদ্ধদেব বসু

    বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    আমার ছেলেবেলা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }