Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুনশ্চ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    নাটক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প582 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছেলেবেলা

    আবার আমরা ফিরে যাই সত্যজিতের ছেলেবেলায়। ১৯২৭ সালের জানুয়ারি মাস, সত্যজিতের যখন পাঁচ বছর বয়স, ইউ রায় অ্যান্ড সন্স দেউলিয়া হয়ে গেল। এক-শো নম্বর গড়পার রোডের বাড়ি ছেড়ে দিতে হল। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা। দেবর মুক্তিদারঞ্জনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন উপেন্দ্রকিশোরের স্ত্রী বিধুমুখী, অল্প কিছুদিন পরে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

    সুপ্রভা দেবী শিশুপুত্রকে নিয়ে উঠলেন ছোটো ভাই পি কে দাশের বাড়ি। সেটা ১৯২৬-এর শেষের দিক কিংবা ১৯২৭-এর গোড়ার কথা। শুরু হল এক নতুন জীবন, জমিদারি প্রভাবের বাইরে অন্য এক পরিবেশে।

    গড়পার রোডের বাড়িতে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলেন সত্যজিৎ। পৃথিবীর আলো দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ছাপাখানার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। জন্ম থেকেই যাঁর ব্লক-মেকিং, ছবি তোলা, এসবের সঙ্গে পরিচয়, যাঁর ধমনীতে উপেন্দ্রকিশোর-সুকুমারের রক্ত, তিনি যে উত্তরকালে রং-তুলি আর কলম হাতে অসাধারণ হয়ে উঠবেন তাতে আর বিচিত্র কি! উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন রং ও চিত্রবিদ্যায় অসামান্য শিল্পী, সুকুমার রায় বিলেত থেকে ফোটোগ্রাফি সম্বন্ধে বিশেষ শিক্ষা অর্জন করে এসেছিলেন, কুলদারঞ্জন ছবি এনলার্জের ব্যাপারে ছিলেন বিশেষ পারদর্শী— ছবি আর ছবি তোলার ব্যাপারটা সত্যজিতের অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রেই পাওয়া।

    যখন ছোট ছিলেন...
    যখন ছোট ছিলেন…

    গড়পার থেকে সত্যজিৎ তাঁর মার সঙ্গে ভবানীপুরের বকুলবাগানে মামাবাড়িতে এলেন। তখন তাঁর বয়স আর কত, ছয়ে পা দেবেন মাত্র। এই মামা ছিলেন সেজো মামা, প্রশান্ত কুমার দাশ, সত্যজিতের সোনামামা। একটু গম্ভীর প্রকৃতির হলেও আমুদে মানুষ, মুখে মুখে অঙ্ক কষতে পারতেন। এখানে থাকতেই বায়োস্কোপের সঙ্গে সত্যজিতের প্রথম পরিচয়। তখনও টকি হয়নি, নির্বাক ছবির যুগ। বেনহুর, কাউন্ট অফ মন্টেক্রিস্টো, থিফ অফ বোগদাদ, আঙ্কল টম’স কেবিন, এমন সব ভালো ভালো ইংরেজি ছবি দেখার সুযোগ সে সময় হয়েছিল সত্যজিতের। ‘আঙ্কল টম’স কেবিন’ ছবিটা দেখে কেঁদে কেঁদে চোখ লাল করে ফেলেছিলেন।

    বকুলবাগানে থাকতেই সুবিনয় রায়ের সম্পাদনায় সন্দেশ দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হয়েছিল। ছোটোদের মাসিক পত্রিকা রামধনুর তখন রমরমা অবস্থা। বকুলবাগান আর টাউনসেন্ড রোডের মোড়ে ১৬নং টাউনসেন্ড রোড থেকে ওটা বেরুত। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের হুকাকাশির গোয়েন্দা কাহিনি তখন একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ‘সোনার হরিণ’, ‘ঘোষ চৌধুরির ঘড়ি’, ‘পদ্মরাগ’-এর মতো ভালো গোয়েন্দা কাহিনি আজও খুব কম লেখা হয়। বালক সত্যজিতের দারুণ ভালো লেগেছিল হুকাকাশিকে। ছোটোবেলায় গোয়েন্দা কাহিনির প্রতি তাঁর এই আকর্ষণ হয়তো ভাবীকালে ফেলুদা চরিত্র সৃষ্টিতে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছিল।

    এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ওই বাড়িতেই অনেকদিন ধরে রয়েছে শিশুসাহিত্য পরিষদের কার্যালয়। সপ্তাহে একদিন শিশু সাহিত্যিকরা ওখানে মিলিত হন। এই শিশুসাহিত্য পরিষদ থেকেই প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিককে দেওয়া হয় ‘ফটিক স্মৃতি পুরস্কার’। সত্যজিৎ রায়কে এই পুরস্কার দিতে পেরে শিশুসাহিত্য পরিষদ গর্বিত।

    বকুলবাগানেই ইস্কুলে ভরতি হলেন সত্যজিৎ। ইস্কুলের নাম হচ্ছে, বালীগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল। তখন তাঁর বয়স নয়, ভরতি হলেন ক্লাস সিক্সে। ছোটোবেলা থেকেই কিন্তু ছবি আঁকায় তিনি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন, ফলে ইস্কুলে ড্রইং মাস্টারের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠতে তাঁর দেরি হয়নি।

    বকুলবাগানে ছোটো মাসি কনক দাশও থাকতেন। তিনি ভালো গাইতেন। হিজ মাস্টারস ভয়েস থেকে তাঁর গান রেকর্ড করা হয়েছিল। বিয়ের পর তিনি হয়েছিলেন কনক বিশ্বাস।

    ক্লাস নাইনে যখন পড়েন তখন সত্যজিতের সোনামামা বেলতলা রোডে বাসা বদল করলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশংকর রায়ের বাড়ির পাশের বাড়ি।

    আগেই বলা হয়েছে, সুকুমার রায়ের ঠিক পরেই ছিলেন পুণ্যলতা। তাঁর বিয়ে হয়েছিল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অরুণনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে। তিনি ছিলেন বিহার কাডারের, তাই হাজারিবাগ, দ্বারভাঙা এসব জায়গায় তাঁকে থাকতে হয়েছিল। নলিনী দাশ তাঁদেরই মেয়ে। সুকুমার রায় নলিনী দাশের বড়ো মামা, সত্যজিৎ মামাতো ভাই। সত্যজিতের চাইতে প্রায় পাঁচ বছরের বড়ো নলিনী দাশ। সুকুমার রায়ের মৃত্যুর পর ছোটোবেলায় সত্যজিৎ তাঁর মার সঙ্গে প্রায় প্রত্যেক বছরই পিসি পুণ্যলতার বাড়ি বেড়াতে যেতেন। সত্যজিতের নিনিদি (নলিনী দাশ) ছোট্ট সত্যজিৎকে আদর করে তাঁদের খেলার আসরে টেনে নিতেন। যতই বছর কাটতে লাগল সত্যজিৎ আস্তে আস্তে তাঁদের খেলার একজন অপরিহার্য সাথী হয়ে উঠলেন (ছুটিতে যখন যেতেন)।

    নলিনীদির মুখে শুনেছি ছোটোবেলা, ওঁদের একটা মজার খেলা ছিল হনোলুলু। পাঁচ-সাতজন নিলে খেলা। প্রথম তিনজন মিল রেখে তিনটি লাইন বলবে, চতুর্থজন বলবে, হনোলুলু প্যা প্যা প্যা প্যা। সেই ছড়ার কোনো মাথামুণ্ডু নেই, যেমন—

    প্রথমজন— হনোলুলু বাদাম ভাজা

    দ্বিতীয়জন— হনোলুলু জিভে গজা

    তৃতীয়জন— হনোলুলু মজা মজা

    চতুর্থজন— হনোলুলু প্যা প্যা প্যা প্যা।

    সত্যজিৎ অল্প বয়সেই এই খেলায় নলিনীদিদের সঙ্গে মেতে উঠেছিলেন।

    আরেকটা ছিল গল্প লেখা খেলা। প্রথমজন গল্পের টাইটেল আর দেড় লাইন লিখে দ্বিতীয় খেলুড়েকে দেবে, তবে প্রথম লাইনটা মুড়ে। দ্বিতীয়জন লেখকের নাম লিখে আর ওই আধলাইন পুরো করে আরও দেড় লাইন লিখবে, তারপর তার নিজের প্রথম লাইনটা মুড়ে তৃতীয় খেলুড়েকে দেবে। এভাবে একটা ছোটো গল্প যতক্ষণ না হয় সবার মধ্যে ভাঁজ করা কাগজটা ঘোরাফেরা করবে। শেষ পর্যন্ত গল্প যা দাঁড়াত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তারই মধ্যে খেলুড়েদের মজা আর উদ্ভট চিন্তাভাবনার অন্ত ছিল না।

    নিজেরাই সব মজার মজার খেলা আবিষ্কার করতেন। কোনো একটা ফুলের আদ্য অক্ষর একজন কাগজে লিখে সেটা মুড়ে পরের জনকে দিতেন, তিনি আবার আরেকটা ফুলের আদ্য অক্ষর লিখে তৃতীয় জনকে দিতেন, এভাবে সেটা কি ফুলের নামে গিয়ে যে শেষ হত তা আগে থেকে কারও বোঝবার উপায় ছিল না। বলা বাহুল্য, বালক সত্যজিৎও এসব খেলায় শুধু অংশই গ্রহণ করতেন না, পাঁচ-ছ বছর বড়ো দাদা-দিদিদের সঙ্গে সমান তালে খেলতেন।

    দশ-বারো বছর বয়সেই সত্যজিৎ ছবি আঁকায় দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। নলিনী দাশের বয়স যখন আঠারো, তখন তিনি কলেজে পড়েন। সত্যজিতের তখন বোধহয় ক্লাস নাইন। কলেজের এক অধ্যাপককে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হবে। নলিনীদিরা একটা বিদায় সম্ভাষণ তৈরি করেছেন। একটা আর্ট পেপারে সুন্দর করে সেটা লিখতে হবে। কে লিখবে, কে লিখবে। হাতের কাছেই সত্যজিৎ। তখন তাঁর বয়স আর কত, তেরোর বেশি নয়। তাঁকে বলতেই তিনি খুশি হয়ে কাজে লেগে গেলেন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে সারাদিন ধরে ছবির মতো কাজটা তিনি শেষ করলেন। ওই বয়সেই তাঁর মধ্যে একাগ্রতা আর দায়িত্ববোধের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল।

    যখন তিনি বাড়িতে বসে ছবির কাজ করেন, কিংবা সন্দেশ-এর লেখা পড়েন বা ইলাসট্রেশন করেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। তারই মধ্যে কত লোক দেখা করতে আসেন, কিন্তু তাঁর কাজের বিরাম নেই। হয়তো কথা বলছেন সেই সঙ্গে তাঁর তুলি চলছে। এক সময় তো সন্দেশ পত্রিকার প্রায় ছবিই তিনি আঁকতেন।

    ছোটোবেলায় পিসি পুণ্যলতা চক্রবর্তীর বাড়িতে আরেকটা আকর্ষণ ছিল সত্যজিতের। যখনই তিনি যেতেন, তা সময়টা যাই হোক না কেন, সত্যজিৎকে খুশি করার জন্য সেটা বড়দিন হিসেবে পালন করা হত। নলিনীদির খুড়তুতো দাদা কল্যাণ চক্রবর্তী সাজতেন ‘ফাদার ক্রিসমাস’।

    একটা লাল সোয়েটার আর মাথায় লাল টুপি, মুখে তুলো দিয়ে দাড়ি-গোঁফ এঁটে কল্যাণবাবু ঢুকতেন সত্যাজিতের শোবার ঘরে। পিঠে একটা থলি, ফাদার ক্রিসমাস সবাইকে উপহার বিতরণ করবেন। থলিতে কিন্তু বেশ কিছু খালি টিনের কৌটো, সেগুলো ঝমঝম বাজিয়ে ফাদার ক্রিসমাস দিতেন তাঁর আগমন বার্তা। খাটের বাঁজুর ওপর টাঙানো বড়ো একটা মোজার মধ্যে ফাদার ক্রিসমাস রাখতেন সত্যাজিতের জন্য ভালো একটা উপহার। অন্যদের ভাগ্যে হয়তো জুটত মিছিমিছি উপহার। কিন্তু সেটাই দারুণ মজার ব্যাপার হত।

    সত্যজিৎ তখন খুব ছোটো, শুধু তাঁকে আনন্দ দেবার জন্যেই এ খেলা চালু হয়েছিল। কিন্তু ওই বয়সেই তিনি একদিন প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, শুধু তাঁর জন্যে উপহার কেন, নিনিদিরা পাবে না কেন? তারপর থেকে তাঁদের জন্যেও উপহারের ব্যবস্থা হয়েছিল। সেটা হয়তো একটা মটরশুঁটি কিংবা তেমন কিছু, কিন্তু তাতেই সবাই খুশি। ফাদার ক্রিসমাসের উপহার তো বটে। তবে, ওই ঘটনা থেকে বালক সত্যজিতের মনের প্রসারতার পরিচয় পাওয়া যায়।

    .

    সুকুমার রায়ের মাতামহ দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন একজন নির্ভীকচেতা, তেজস্বীপুরুষ। সুকুমার রায়ের মধ্যেও সেই গুণের বিকাশ ঘটেছিল। একবার খ্রিস্টান মিশনারিদের এক কাগজে শিক্ষিতা মেয়েদের সম্বন্ধে অত্যন্ত অপমানজনক একটা চিঠি ছাপা হয়েছিল, লিখেছিল এক ছাত্র। সেটা পড়ে সুকুমার এত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে, সঙ্গে সঙ্গে কাগজের অফিসে গিয়ে পত্রলেখকের ঠিকানা জেনে তার বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন। ছেলেটিকে চেপে ধরতেই সে তার অপরাধ স্বীকার করেছিল, ঈর্ষাপ্রণোদিত হয়েই সে চিঠিখানা লিখেছিল। সে তার উক্তি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়ে একটা চিঠি দিল। সুকুমার সেই চিঠি নিয়ে ওই কাগজের সম্পাদক পাদরি সাহেবের সঙ্গে দেখা করলেন, অমন কুরুচিপূর্ণ চিঠি ছাপাবার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। পাদরি সাহেব খুব লজ্জিত হয়েছিলেন, তাঁর অজান্তেই নাকি চিঠিটা ছাপা হয়েছিল। যাহোক, ছেলেটির ক্ষমা চেয়ে লেখা চিঠিটা পরের সংখ্যায় ছাপা হবে এই প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন এবং কথাও রেখেছিলেন।

    সুকুমার সেদিন সকালেই পত্রিকাটা পড়ে বেরিয়ে গেছিলেন, সারাদিন অভুক্ত থেকে যখন বাড়ি ফিরলেন তখন বেলা গড়িয়ে গেছে। একটা অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য এমন সৎসাহস আজ খুব কমই চোখে পড়ে। এই যে মানসিক দৃঢ়তা, এছাড়া মানুষ অপরের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারে না। সত্যজিৎ রায়ের জীবনেও এর ব্যতিক্রম নয়, তাই তিনি বিশ্ববরেণ্য হয়েছেন।

    ১৯৬১ সালের মে মাসে সত্যজিৎ দিল্লি গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের জীবনী নিয়ে তোলা ছবিটি নিয়ে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী জনপথ হোটেলে তাঁকে ফোন করে সামাজিক উন্নয়নের ব্যাপারে একটা ছবি তুলতে অনুরোধ করেছিলেন। ওই ছবি তোলার আর্থিক অনুদান তাঁর হাতেই ছিল। সত্যজিৎ কিন্তু আগ্রহ প্রকাশ করেননি। ও বিষয়ে ছবি তোলার ব্যাপারে তাঁর তেমন উৎসাহ ছিল না। পরে ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকে আরও দুটি ছবির প্রস্তাব এসেছিল, শেষেরটি হল তাঁর বাবা জহরলাল নেহরুর জীবনী নিয়ে একটা ছবি। দুটো প্রস্তাবই সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সত্যজিৎ। পরে অবশ্য চীনের আগ্রাসী ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অখণ্ডতার উপর একটা ছবি তুলতে তিনি সম্মত হয়েছিলেন, কিন্তু শেষপর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি। সে কথায় পরে আসব। অনেক চিত্রপরিচালকই প্রধানমন্ত্রীর কন্যার কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পেলে লাফিয়ে উঠতেন, কিন্তু সত্যজিৎ অন্য ধাতুতে গড়া। তাঁর মানসিক দৃঢ়তা সাধারণ মানুষের মতো হলে তিনি কি আর আজকের সত্যজিৎ রায় হতেন!

    লোকনাথ মৃত্যুশয্যায় তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণমণির কাছে যে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছিলেন তা নিষ্ফল হয়নি। তাঁদের একমাত্র সন্তান শ্যামসুন্দর বা কালীনাথের বংশধররা ছড়িয়ে পড়েছিলেন চারদিকে, উজ্জ্বল করেছিলেন বংশের মুখ। শুধু ছেলেদের দিকেই নয়, মেয়েদের দিকেও প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল।

    উপেন্দ্রকিশোর জমিদারির যে অংশ পেয়েছিলেন, তা সবই প্রায় বন্ধক ছিল। ওখান থেকে টাকা আসাও বন্ধ। অবস্থা দেখতে সুকুমার গেলেন ময়মনসিং, আর ফিরলেন কালাজ্বর নিয়ে। তখন ও রোগের সুচিকিৎসা ছিল না।

    একদিন বাগানে তিনি বসে আছেন, বিলেতের এক বন্ধু দেখা করতে এসেছেন। হঠাৎ দুজনের চোখ পড়ল বাচ্চা সত্যজিতের উপর। তিনি একটা সবুজ রঙের খেলনা ব্যাঙ নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছেন। ওটায় দম দিচ্ছেন আর খেলনা ব্যাঙটা লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে। আনন্দে হাততালি দিচ্ছেন শিশু সত্যজিৎ।

    তারপরই চোখ দুটো বড়ো বড়ো হয়ে গেল বাচ্চার। আরেকটা ব্যাঙ। ওটাও লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে, কিন্তু স্প্রিংয়ের দম ছাড়াই। টলতে টলতে বাবার কাছে চলে এল বাচ্চা, দম ছাড়াই ব্যাঙটা লাফাচ্ছে কি করে জানতে! খেলনা ব্যাঙের পাশে যে আসল একটা ব্যাঙ এসে পড়বে তা সে কি করে জানবে!

    সুকুমারের মৃত্যুশয্যায় রবীন্দ্রনাথ কয়েকবারই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। শেষবার তিনি এসেছিলেন ১৯২৩ সালের ২৯ আগস্ট। সুকুমারকে তিনি তাঁর লেখা নয়টি গান গেয়ে শুনিয়েছিলেন। তার মধ্যে কয়েকটি জীবনের আনন্দের। হয়তো সত্যজিতের বিস্মৃত স্মৃতিতে সে গান আর সুর মনের মধ্যে গাঁথা হয়ে গিয়েছিল। তাই রবীন্দ্রনাথের জীবনী নিয়ে ছবি করার সময় তিনিও গানে ভরে দিয়েছিলেন।

    গড়পারের বাড়ি ছেড়ে আসার কিছুদিন পর সত্যজিতের মা লেডি অবলা বসু প্রতিষ্ঠিত বিধবাদের জন্য ইস্কুল বিদ্যাসাগর বাণী ভবনে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি সেখানে মেয়েদের সেলাই এবং লেখাপড়া শেখাতেন। এ কাজের জন্য তাঁকে কলকাতার দক্ষিণ অঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে যেতে হত। এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, অমন মা না পেলে সত্যজিতের প্রতিভার হয়তো বিকাশ ঘটত না। অত বড়ো বনেদি পরিবারের স্বচ্ছল অবস্থা থেকে একেবারে নিঃসম্বল অবস্থায় ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, তবু ভেঙে পড়েননি সুপ্রভা দেবী। একমাত্র সন্তানকে আগলে রেখেছিলেন, এতটুকু দুঃখের ছোঁয়া লাগতে দেননি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল ছেলে বড়ো হবে, অমন যাঁর বাপ-ঠাকুরদা, সে ছেলে সাধারণ হতে পারে না। সত্যিই বাপ-ঠাকুরদার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মায়ের মুখে আনন্দের, গর্বের হাসি ফোটাতে পেরেছিলেন সত্যজিৎ। ১৯৬০ সালে চোখ বোজবার আগে দেশে-বিদেশে ছেলের সম্মান দেখে গিয়েছিলেন জননী সুপ্রভা। পুত্র গৌরবে নিশ্চয়ই তাঁর বুক ভরে উঠেছিল।

    তবে একটা সান্ত্বনার কথা, দেউলিয়ার মামলায় বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন, সত্যজিৎ যতদিন নাবালক থাকবেন ততদিন প্রতি মাসে গড়পারের বাড়ি ভাড়ার একটা নির্দিষ্ট অংশ পাবেন তাঁর মা। উপেন্দ্রকিশোরের কলেজের এক বন্ধু ছিলেন প্রধান উত্তমর্ণ, বাড়িটা তাঁর ভাগেই পড়েছিল। সৌভাগ্যের বিষয়, তিনি ওই আদেশ পালন করেছিলেন। সত্যজিতের ছোটোবেলায় লেখাপড়ার জন্য অন্তত কারও কাছে হাত পাতার দরকার হয় নি।

    অবিশ্যি মামাবাড়িতে সত্যজিতের অনাদর হয়নি কখনো। তাঁর সোনামামা প্রশান্ত কুমার দাশ যখন ছাত্র ছিলেন, ভগ্নীপতির কাছে অনেক বিষয়ে তিনি সাহায্য পেয়েছিলেন। দিদি আর ভাগ্নেকে আদর করে নিজের কাছে রেখে সেই ঋণ তিনি শোধ করবার চেষ্টা করেছিলেন।

    মামাবাড়িতে একটা গুণ সত্যজিতের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছিল যা পরবর্তীকালে ছবি করার ব্যাপারে খুব কাজে এসেছিল। মামাবাড়িতে গান-বাজনার চর্চা ছিল, সেদিকে তিনি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ছোটোবয়সেই সংগীত সম্বন্ধে তাঁর মনে গড়ে উঠেছিল একটা ধ্যানধারণা। সংগীত সৃষ্টির সেই বোধ হয় প্রথম সূচনা [এখানে বলে রাখা ভালো, উপেন্দ্রকিশোর খুব ভালো বেহালা বাজাতেন এবং সংগীত রচনা করতেন। সুকুমার রায়ও সুন্দর সুন্দর সংগীত রচনা করেছেন। সংগীতের প্রতি সত্যজিতের অনুরাগ বংশের ধারা]। অনেকেই হয়তো জানেন না, সিনেমায় সংগীত সৃষ্টি করার আগে অনেক সময় সত্যজিৎ শিস দিয়ে প্রথমে সেটা মনে মনে ভেঁজে নিতেন।

    সত্যজিৎ জন্মেছিলেন ছোটোখাটো একটি বাচ্চা, চোদ্দো বছর বয়স থেকে হঠাৎ তিনি মাথায় বাড়তে থাকেন। ইস্কুলের পড়া শেষ হবার পর তাঁর মা ঠিক করলেন, ছেলেকে যেমন করেই হোক প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াবেন, যেখানে পড়েছিলেন তাঁর বাপ-ঠাকুরদা। ততদিনে তিনি খুব লম্বা হয়ে গেছেন, রায় পরিবারে অত দীর্ঘদেহী আগে বোধ হয় কেউ ছিলেন না। প্রায় সাড়ে ছ-ফুট, বাঙালিদের মধ্যে এমন উঁচু মাথা হাজারে মেলে না। শুধু বাঙালি কেন, ভিন রাজ্যের মানুষদের মধ্যেও এমন দীর্ঘদেহী সচরাচর নজরে পড়ে না। বাঙালিদের মধ্যে বিধানচন্দ্র রায়ের কথা মনে পড়ে। ডা. রায় প্রতিভাধর মানুষ ছিলেন বলেই বোধ হয় সত্যজিতের মধ্যে প্রতিভার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা না করলে ‘পথের পাঁচালী’ বোধ হয় কোনোদিনই মুক্তি পেত না। মৃত্যু হত এক প্রতিভার, আমরা বঞ্চিত হতাম মহৎ সৃষ্টি থেকে। বিধানচন্দ্র রায়ের কাছে আমরা তথা সারা পৃথিবীর মানুষ এ ব্যাপারে ঋণী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলিপিকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article কাহিনী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    কাহিনী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 25, 2025
    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    লিপিকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 24, 2025
    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    গীতাঞ্জলি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 24, 2025
    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    দুই বোন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 24, 2025
    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    শিশু – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 19, 2025
    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    ক্ষণিকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }