Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা (দ্বিতীয় খণ্ড, দ্বিতীয় সংখ্যা) – দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত

    দীনেশচন্দ্র সেন এক পাতা গল্প423 Mins Read0
    ⤷

    ধোপার পাট – অজ্ঞাত লেখক

    ভূমিকা

    ১। ধোপার পাট।

    ‘ধোপার পাট’ পালাটির অধিকাংশ মৈমনসিংহের অন্তর্গত সাকুয়াইবাট্টাগ্রাম নিবাসী রজনীকান্ত ভদ্র এবং অবশিষ্টাংশ চরশম্ভুগঞ্জবাসী দীন গোপ এবং কীর্ত্তনখোলার ‘মধুর বাপ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নিকট হইতে সংগৃহীত হয়। চন্দ্রকুমার ১৯২৪ সালের ১৫ই নবেম্বর তারিখে আমাকে পালা-গানটি পাঠান। পালাটি ৪৬৯ ছত্রে সমাপ্ত; আমি ইহাকে ১৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত করিয়াছি।

    তরুণ বয়স্ক রাজকুমার ও রজক-কন্যা কাঞ্চনমালার প্রেমকাহিনী অবলম্বনে এই পালা-গানটি রচিত। এই গীতিকাটির অনেক ছত্রই বৈষ্ণবকবিদিগকে স্মরণ করাইয়া দিবে,— সে সম্বন্ধে আমরা পরে আলোচনা করিব। একদিকে চপলমতি নবীন প্রেমিক রাজকুমারের উদ্দাম এবং সাহসিক প্রেমনিবেদন; অপরদিকে স্বীয় অবস্থাবৈগুণ্য এবং সামাজিক-হীনতায় ম্রিয়মাণ ভীরু কাঞ্চনমালার সশঙ্ক, দ্বিধাপূর্ণ অথচ পরিপূর্ণ আবেগময় প্রেমের ভাব কবি অতি সুচারুরূপে অঙ্কন করিয়াছেন গল্প-ভাগও অতি সুকৌশলে গ্রথিত হইয়াছে। এই গীতিকার বৈশিষ্ট্য ইহার অনাড়ম্বর সংযতভাব এবং বাক্যপল্লবশূন্যতা। গল্প-ভাগরচনায় “মহুয়ার” ন্যায় এই গানেও নাট্যকৈৗশল বহুল পরিমাণে দৃষ্ট হয়। পুকুরপাড়ের দৃশ্য, বর্ষার অভিসার, প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন প্রভৃতি চিত্র পর-পর অতি সুন্দরভাবে সাজান হইয়াছে। সহসা রাজক্রোধে গল্পের গতি পরিবর্ত্তিত হইয়া পাঠকের চিত্তে পর্য্যাপ্তপরিমাণে কৌতূহল-রসের সৃষ্টি করিয়াছে। রাজকুমারের কাঞ্চনমালার সহিত দেশত্যাগ, নূতন দেশের রজকের গৃহে আশ্রয় গ্রহণ, গৃহকর্ম্মে ও ব্যবসায়ে আশ্রয়দাতাকে সাহায্যপ্রদান প্রভৃতি ব্যাপারে আখ্যান-ভাগের রচনানৈপুণ্য সূচিত হইয়াছে। তার পর রাজকুমারীর প্রেমপত্র প্রণয়ি-যুগলের অনাবিল প্রেমপ্রবাহের মধ্যে একটা বৃহৎ অন্তরায়ের সৃষ্টি করিয়া ফেলিল,— তজ্জন্য পাঠক একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। তমসাগাজীর কাহিনীও অপ্রত্যাশিত ভাবে গল্পের বৈচিত্র্য সাধন করিতেছে। তাহার বাণিজ্যযাত্রার বিবরণের শেষভাগে বৃদ্ধ রজকের চিত্রটির অবতারণায় করুণ ‘রসের অভিনব উৎস প্রবাহিত হইয়াছে। পরিত্যক্তা কাঞ্চনমালা যে ভাবে নদীর জলে আত্মবিসর্জ্জন করিল, তাহাতে ত্যাগওপ্রেমের মহিমার অপূর্ব্ব শ্রী ফুটিয়া উঠিয়াছে। পাছে রাজকুমার তাহার মৃত্যু সংবাদে ব্যথিত ও অনুতপ্ত হন, এজন্য কাঞ্চন করজোড়ে প্রকৃতিকে তাঁহার মৃত্যু কথা গোপন করিতে অনুরোধ করিতেছেন। সম্মুখে তাহাঁদের অতীত সুখের স্মৃতি বহন করিয়া পত্র-শয্যার চিহ্ন এখনও বিদ্যমান। যেখান হইতে বঁধুর বংশী-সঙ্কেত শুনিয়া কাঞ্চন পাগলিনী হইয়া ছুটিতেন, নদীতীরে সেই স্মৃতিজড়িত স্থান এখনও রহিয়াছে। এই মিলনের মিলনান্ত অধ্যায় চিরতিমিরাবৃত। অতীত সুখস্মৃতি এবং বর্ত্তমান ব্যথার সন্ধিস্থলে রাজকুমারের পরম কল্যাণ কামনা করিতে করিতে অভিশপ্তা কাঞ্চনমালা নিজদেহ অনন্তে ভাসাইয়া দিয়া তাহার স্বর্গীয় প্রেমের উপসংহার করিলেন। এই গানে বাঁশের বাঁশীর যে সুরটি বাজিয়াছে, আদর্শ প্রেমের যে চিত্রটি ফুটিয়াছে, তাহা অপর এক যুগে বৈষ্ণবেরা ভাষাসম্পদে বিচিত্র করিয়া উপস্থিত করিয়াছেন। যদিও এই গানটির মধ্যে অনেক ছত্র চণ্ডীদাসের পদের সঙ্গে মিলিয়া যায়, তথাপি আমরা বলিতে বাধ্য যে এই সকল কৃষকের গান আদৌ বৈষ্ণবপ্রভাবে রচিত হয় নাই। ইহাতে ছায়া-নিবিড় বাঙ্গলার পল্লী-হৃদয়ের সহজ ভাব-প্রবণতার সেই বিশাল খনি আবিষ্কৃত হইয়াছে, যাহা হইতে বৈষ্ণবেরা তাঁহাদের রত্নরাজী আহরণ করিয়াছিলেন। বৈষ্ণর কবি ও কৃষক কবি, কেহ কাহারও নিকট ঋণী নহেন। ইঁহাদের উভয়েই বাঙ্গালাদেশের ভাবখনির সন্ধান পাইয়াছিলেন; সেই ভাবমূলক যে সব চলিত-কথা দেশময় প্রচলিত ছিল, এবং সহজিয়ারা যাহা সাধনার দ্বারা উপলব্ধি করিয়াছিলেন, সেই চলিত-কথার ঋণ বৈষ্ণব কবি এবং কৃষক কবি উভয়েই গ্রহণ করিয়াছিলেন। যদি বৈষ্ণব কবিদের অপূর্ব্ব পদের সন্ধান এই সকল কৃষক কবি জানিতেন, তবে তাহাদের ভাষা কিছুতেই এত অমার্জ্জিত এবং প্রাকৃত-প্রধান থাকিতে পারিত না। ভাব ও রচনাভঙ্গীতে অনুমান হয় এই কবিতাটি চতুর্দ্দশ শতাব্দীতে রচিত হইয়াছিল।

    ধোপার পাট

    চিতান
    বিরহ বিচ্ছেদের জ্বালায় প্রাণ বাঁচে না।
    একি যন্ত্রণা পিরীতে দুইদিন আমার সুখ হল না।

    (ধুয়া)

    (১)

    কাঞ্চন।

    পুষ্করিণীর চাইর পারেরে ফুট্‌ল চাম্‌পা ফুল।
    ছাইরা[১] দেরে চেংরা বন্ধু ঝাইড়া[২] বান্‌তাম[৩] চুল॥২
    পুষ্করিণীর পারে বন্ধু পাতার বিছানা।
    রাইতে[৪] আইও[৫] রাইতে যাইও বন্ধু দিনে করি মানা॥৪
    দুষ্‌মণ পাড়ার লোক দুষ্‌মণি[৬] করিবে।
    এমন কালে দেখলে বন্ধু কলঙ্ক রটাবে॥৬
    বাপ আছে আছে মাও কি বলিবে তারা।
    তোমার আমার কলঙ্কে বন্ধু ভাইঙ্গা পড়বে পাড়া[৭]॥৮

    হস্ত ছাড় পরাণের বন্ধু চলিয়া যাইতাম[৮] ঘরে।
    কি জানি কক্ষের কলসী ভাসাইয়া নেয় সুতে[৯]॥১০
    দূরে বাজে মনের বাঁশী ঐ না কলাবনে।
    তোমার সঙ্গে অইব[১০] দেখা রাত্রি নিশাকালে[১১]॥১২

    (রাজপুত্র)

    জল ভরিতে যাওলো কন্যা তিন সন্ধ্যা[১২] বেলা।
    এইখানে খারাইয়া শুন আমার মনের কথা॥১৪
    হাটু বাইয়া পরে কেশ যৌবন হইল ভারী।
    কহিব মনের কথা দণ্ড দুই চারি॥১৬
    চইক্ষেতে[১৩] অপরাজিতা গায়ে চাম্পা ফুল।
    আমি যে পাগল হইয়াছি কন্যা দেইখ্যা তোমার মাথার চুল॥১৮
    রাজ্যধন যা আছে লো কন্যা বাপেরে কহিয়া।
    সর্ব্বস্ব তোমারে দিয়া করবাম তোমারে বিয়া॥২০
    আমি না পাগল কন্যা যোয়াইয়ের[১৪] চিলা।
    এইখানে থাকিয়া কন্যা শুন আমার কথা॥২২

    “হাত ছাড় সোনার বন্ধু লাজে মইরা যাই।” ৫ পৃঃ
    (কাঞ্চন)

    হাত ছাড় সোণার বন্ধুরে লাজে মইরা যাই।

    ×× ×× ×× ××[১৫]

    দিনের বেলায় দেখ্যা লোকে কইব[১৬] কলঙ্কিনী।
    মাও আছে বাপ আছে কি কইব শুনি॥২৫
    তোমার না বাপ মাও রাজ্যের না রাজা।
    বাপের ধোপা আমার বাপ তোমার বাপের পর্‌জা[১৭]॥২৭
    চান্দ হইয়া কেন জমিনে বাড়াও হাত।
    লোকে যে বলিবে মন্দ শুনিয়া পরছাৎ[১৮]॥২৯
    সোণার ভোমরা তুমি খাইবা ফুলের মধু।
    আলাগিয়া[১৯] পিরীতে মজ্‌লে না পাইবে সুখ॥৩১
    হাত ছাড়রে বন্ধু চলিয়া যাইবাম ঘরে।
    চিত্তে ক্ষম। দিয়া বন্ধু ছাইড়া দেও মোরে॥৩৩

    (রাজপুত্র)

    সতা কর সুন্দর কন্যালো সত্য কর রইয়া।
    নিশাকালে আইবা[২০] তুমি ফুলের মধু লইয়া॥৩৫
    এইখানে থাকিয়া আমি বাজাইবাম বাঁশী।
    এইখানে তোমারে লইয়া কাটাইবাম নিশি॥৩৭
    এইখানে পাতিয়া রাখ[২১] বাশ পাতার বিছান।
    তোমারে লইয়া বুকে দেখবাম স্বপন॥৩৯

    (কাঞ্চন)

    কাপড় যে ধোওলো কন্যা করিয়া সোহাগ।
    এইনা কাপড়ে পাইছি তোমার পাঁচ আঙ্গুলের দাগ॥৪১
    এই কাপড় পাইয়া আমার ঘুচিয়াছে সন্দ।
    কাপড়ে পাইছি তোমার[২২] মালার গন্ধ॥৪৩
    কেমনে সত্য করিরে কুমার ঘরে বাপ মাও।
    ছাইড়া দেও চেংরা বন্ধু আমার মাথা খাও॥৪৫
    আষাইঢ়া[২৩] নদীরে যেমন পাগল হইয়া যায়।
    মনেরে বোঝাইয়া বন্ধু রাখা নাহি যায়॥৪৭
    শুইলে স্বপনে দেখি তোমার চান্দমুখ।
    নিশাকালে অভাগীর এই মাত্র সুখ॥৪৯
    আজি যদি পারিরে বন্ধু আজি যদি পারি।
    মাও বাপ ছাড়িয়া আইবাম[২৪] এই সত্য করি॥৫১
    দিনের সাক্ষী সুরুজরে রাইতের সাক্ষী তারা।
    আর সাক্ষী তুমি কুমার সাম্‌নে আছ খারা॥৫৩

    (২)

    কাঞ্চন

    পার্‌লামনা পার্‌লামনা বন্ধু মইলাম মাথার বিষে,
    রে বন্ধু পারলামনা। (ধুয়া)
    সত্যভঙ্গ হইলরে কুমার পারলাম না আসিতে।
    মাও বাপ জাইগ্যা আছে আসিবাম কেমনে॥২

    ঘর কইলাম বাহির রে বন্ধু পর কইলাম আপন[২৫]।
    অবলার কুলভয় হইল দূষমণ॥৪
    কিসের কুল কিসের মান আর না বাজাও বাঁশী।
    মনপ্রাণে হইয়াছি তোমার শ্রীচরণের দাসী॥৬
    একটু খানি থাকরে বন্ধু একটু খানি রইয়া।
    কাচা ঘুমে বাপ মাও না পড়ুক ঘুমাইয়া[২৬]॥৮
    আসমানেতে কাল মেঘ ডাকে ঘন ঘন।
    হায় বন্ধু আজি বুঝি না হইল মিলন॥১০
    বৃষ্টি পড়ে টুপুর টুপুর বাইরে কেন ভিজ।
    ঘরের পাড়ে মানের[২৭] পাতা কাইট্যা মাথায় ধর॥১২
    ভিজিল সোণার অঙ্গ রাত্রি নিশাকালে।
    অভাগী নিকটে থাকলে মুছাইতাম কেশে[২৮]॥১৪
    সংসার ঘুমাইয়া আছে কেবল বাজে বাঁশী[২৯]
    হইয়া ঘরের বাহির কোন পথে আসি॥১৬
    কাট্যা গেছে কালা মেঘ চান্দের উদয়।
    এই পথে যাইতে গেলে কুল মানের ভয়[৩০]॥১৮

    ডাল নাই পাল নাই ফুটিয়া না রইছেরে ফুল।
    বন্ধুরে পাইলে আমার কিসের জাতি কুল[৩১]॥২০

    (৩)

    নদীরে কোন দিকে যাও বইয়া
    কোত্থেকে আইলেরে নদী, কিসের লাগিয়ারে([৩২])
    কোন দিকে যাও বইয়া। (ধুয়া)২
    সোণার বরণ পরভাতরে আবের চাকামাখা।
    কোন পাখী উড়িয়া আইল সোণার বরণ পাখা([৩৩])॥৪
    জমীনে পড়িলে পাখী জমীন খানা বেড়ে।
    আশমানে উড়িলে পাখী আশমান না জুড়ে॥৬

    এই পাখী ধরিতে গেলে খাচা নাই যে পাই।
    কোথায় রাখি প্রাণের পাখী কোন বা দেশে যাই[৩৪]॥৮
    কেন বা পোষাইল[৩৫] নিশি কি দোষ দেখিয়া।
    নিশি ভোরে গেল বন্ধু আমারে ছাড়িয়া॥১০
    বুকেতে লইয়া বন্ধে[৩৬] রাইত করিলাম ভোর।
    কোন বা পথে চইল্যা গেল আমার মনচোর॥১২
    নিশিভোরে চইল্যা গেল কাচা ঘুম লইয়া।
    মাটিতে কি শুইছে বন্ধু খাটপালং ছাড়িয়া[৩৭]॥১৪
    আমারে কি আছে মনে সেত রাজার বেটা।
    বড়র সঙ্গে ছোটর পিরীত দশের মধ্যে খুটা[৩৮]॥১৬
    বাউন[৩৯] হইয়া কেন চান্দে বাড়াই হাত।
    পরবোধ[৪০] দিতে পোড়া মনে না পাই কিছু আর॥১৮

    ডুবরে গাগড়ী[৪১] তুমি ডুব নদীর জলে।
    এই মত ডুবাইল বন্ধু আমারে অকূলে॥২০
    ডুবাইয়া গাগড়ী তোমায় তুইলা লইলাম কাঁকে।
    আমারে দেখিয়া লোকে কাণাকাণি করে॥২২
    গলায় আইঞ্চল[৪২] বাইন্দ৷[৪৩] গাগড়ী লইয়া।
    মনে লয় ডুইব্যা মরি বন্ধুর লাগিয়া॥২৪
    আইজ যদি আইসরে বন্ধু বাটায় রাখবাম পান।
    জীবন যৈবন দিব সইপ্যা দিবাম কুলমান[৪৪]॥২৬
    বাপ ছাড়বাম মাও ছাড়বাম বাড়ী ঘরের আশা।
    দেশ ছাড়িয়া লইবাম জঙ্গলাতে বাসা॥২৮

    (8)

    (সংবাদ দাতা)

    জমীদার জমীদার কি কর বসিয়া।
    তোমার পুত্ত্র পাগল হইল ধুবনীর লাগিয়া॥২
    রাজার বাড়ীর কাপড় ধোয়[৪৫] পিরিপাণের খাকী।
    তোমার পুত্ত্রু পাগল হইল সেই কন্যা দেখি॥৪
    নামত কাঞ্চনমালা কাঞ্চন বরণ।
    সেই কন্যার সঙ্গে হইল তাহার মিলন॥৬
    চান্দ রাহুতে যেন হইল মিলন।
    ঘটাইল দুষমণ্ ধুবা এতেক বিড়ম্বন॥৮


    এই কথা শুন্যা রাজা ক্রোধেতে জ্বলিল।
    ধুবারে আনিতে রাজা লাঠিয়াল পাঠাইল॥১০
    হাতেতে লড়িত ভর[৪৬] কান্ধেতে গাটুরী[৪৭]।
    কাঁপতে কাঁপতে আইল গোধা[৪৮] ভগমানের[৪৯] বাড়ী॥১২
    পরাস কইরা[৫০] বইসাছে রাজা লোক লস্করে।
    হাত যুইড়া দাণ্ডাইল গোধা ধর্ম্মের গোচরে॥১৪
    ধোপা— দুইদিন গেছে বিষ্টি বাদল ঝড়ে আর তুফানে।
    কাপড় না বাতায়[৫১] এই দারুণ দুর্দ্দিনে॥১৬
    তে কারণে মআরাজা[৫২] আমার অবগতি।
    বচর[৫৩] না শুকাইতে আইল দুর্গতি॥১৮
    ক্রোধেতে কাঁপিছে অঙ্গ কি কহিবাম তোরে।
    রাগের সঙ্গে কহে রাজা হাটকাইল্যা[৫৪] গোধারে॥২০
    রাজা— বয়স হইয়াছে কন্যার না দিস বিয়া।
    আমার পুত্ত্র পাগল হইল কন্যারে দেখিয়া॥২২
    আইজ যদি না দেও বিয়া রাত্রি পোষাইলে।
    আমার লস্করে গিয়া ধইরা আনব চুলে॥২৪
    ধোবা— বাগুয়া[৫৫] যে আছে মালী কামলার কাজ করে।
    রাইত পোষাইলে আমি দিবাম বিয়া তার লগে॥২৬

    লড়িতে করিয়া ভর ধুবা তার বাড়ী যায়।
    ধুবা ধুবনীর কান্দনে রজনী পোষায়॥২৮
    কইবা গেল রাজার পুত্ত্র কইবা কাঞ্চন মালা।
    দেশেতে পড়িল ঢোল[৫৬] গানের হইল পালা[৫৭]॥৩০

    (৫) প্রান্তর-পধ

    (কাঞ্চন)

    আমি বিরহিনী যে বন্ধু আমি বিরহিনী।
    অন্ধকারে বনের পথ না চিনি রে বন্ধু না দেখি না চিনি॥২
    নদীর তীরে কেওয়া বন ভইরা রইছে ফুলে।
    হস্ত ধরিয়া লও এইনা নদীর কুলে॥৪
    চলিতে না পারিরে বন্ধু যৈবন হইল ভারী।
    রে বন্ধু যৈবন হইল ভারী।
    এইখানে শুইয়া বন্ধু কাটাইবাম নিশি[৫৮]॥৬

    (রাজপুত্ত্র)

    আরও একটু যাওলো কন্যা বাপের মুল্লুক ছাড়ি।
    বাপের মুল্লুক ছাইড়া আমরা হইবাম দেশান্তরী॥৮
    রাত্রি বুঝি পোষায় রে কন্যা কালিয়ারী[৫৯] হইল।
    এই দেশ ছাড়িয়া কন্যা অন্য দেশে চল॥১০
    আশ্রা[৬০] যদি পাইল কন্যা ভাগ্যিমানের[৬১] বাড়ী।
    তা না হইলে জন্মের মতন হইবাম বনচারী॥১২

    বনে বনে ফিরবাম কন্যালো তোমারে লইয়া।
    ভোগ্‌[৬২] লাগলে বনের ফল খাইবাম পারিয়া॥১৪
    গাছের তলায় বাড়ী ঘর পাতার বিছানা।
    বনের বাঘ ভালুক তারা হইব আপনা॥১৬

    (কাঞ্চন)

    রাত যে পোষাইলরে বন্ধু চান্দর ঝিলিমিলি।
    তোমার বাপের মুল্লুক বুঝি আইলাম রে ছাড়ি॥১৮
    বাপেতে কান্দিবেরে কুমার কালুকা বিয়ানে[৬৩]।
    অভাগিনী মায়ে মাথা ভাঙ্গিবে পাষাণে॥২০
    তুমি ছাড়লা বাড়ী ঘর আমি কুলমান।
    অবলা হইয়া হইলাম নিদয় পাষাণ॥২২
    রাত্রি না পোষাইলে দেখবাম খুরাই নদীর ঘাট।
    রাত্রি না পোষাইলে দেখবাম হাইল ধানের মাঠ[৬৪]॥২৪
    রাত্রি না পোষাইলে দেখবাম তোমার আমার বাড়ী।
    রাত্রি না পোষাইলে দেখবাম পাড়ার নরনারী॥২৬
    রাত্রি না পোষাইলে শুনবাম অইনা পাখীর গান।
    রাত্রি না পোষাইলে দেখবাম ভোরের আসমান[৬৫]॥২৮
    রাত্রি না পোষাইলে দেখবাম সেইনা বাগের[৬৬] ফুল।
    জন্মের মত ছাইরা আইলাম মাও বাপের কুল॥৩০
    রে বন্ধু মাও বাপের কুল॥

    (রাজপুত্ত্র)

    না কাইন্দ না কাইন্দ লো কন্যা চিত্তে দেও ক্ষমা।
    ঘর ছাড়ি বনবাসী হইবাম দুইজনা॥৩২
    না কাইন্দ না কাইন্দ লো কন্যা না কান্দিও আর।
    এক সুতায় গাথা রইল ঐনা ফুলের হার॥৩৪
    কি শুনি কি শুনি কন্যা ঐনা নদীর ঘাটে।
    কোন রাজার মুল্লুক এই আইস্যাছি হেথাকে[৬৭]॥৩৬

    (৬)

    রাজপুত্ত্র (সেই নগরের এক ধোপার প্রতি)

    রাজার বাড়ীর ধুবারে কাপড় ধইয়া[৬৮] খাও।


    আশা দিয়া রক্ষা কর এই দুইটি প্রাণী।
    দুঃখে পইড়াছি আমি সঙ্গেতে দুষ্কিণী[৬৯]॥৩
    বাপে দিল খেদাড়িয়া তুমি ধর্ম্মের বাপ।
    বিপাকে পড়িয়া আইলাম মনে পাইয়া তাপ॥৫
    চান্দ সুরুজে যেন পথে দেখা পাইয়া।
    অবাক্ষি[৭০] লাগিয়া ধুবা রহিল চাহিয়া॥৭
    সূর্য্যের সমান পুরুষ আর চান্দের সমান নারী।
    এহারা হইবে কোন রাজার ঝিয়ারী॥৯

    (ধোপা)

    পুত নাই ক্ষেত নাই আমার ঘরে থাক।
    ঘরেতে অদুনা[৭১] তারে মা বলিয়া ডাক॥১১

    তোমরা হইলা পুত্ত্রু কন্যা ঘরের লছ্‌মী[৭২]।
    রাজার বাড়ীর কাপড় ধইয়া খাই আমি॥১৩

    (রাজপুত্র)

    শুন শুন ধর্ম্মের বাপ কহি যে তোমারে।
    রাজার বাড়ীর কাপড় ধইয়া দিবাম তোমারে॥১৫
    আমি যে ধুবার পুত্ত্র কাপড় ধইতে জানি।
    ঘরের কাজ করব কন্যা হইয়া ধুবানী১৭
    তুমিত হইবা বাপ আমরা ছাওয়াল।
    এইখানে থাকিয়া আমরা কাটাইবাম কাল॥১৯


    (৭)

    রাজকন্যা— “নিত্যি নিত্য ধওরে কাপড় বাপের বাড়ীর ধুপা।
    এমন কইরা ধইতে কাপড় না দেখি কখন॥”২
    ধাই আইসা খবর কয় রুক্মিণীর কাছে।
    নূতন আইসাছে ধুপা তোমার কাপড় কাচে॥৪
    চান্দের মতন রূপ দেখিতে সুন্দর।
    এই ধুপা হইব কোন রাজার কোঙর॥৬
    এক কন্যা আসিয়াছে সঙ্গেতে তাহার।
    কহিতে তাহার রূপ অতি চমৎকার॥৮
    চামর ঢুলাইয়া পড়ে শিরে চিকণ কেশ।
    কাঞ্চা সোণার বরণ নবীন বয়েস॥১০
    অতসী ফুলের বণ্ণ[৭৩] সব্ব শইল[৭৪] তার।
    কহিতে তাহার রূপ লোকে চমৎকার॥১২

    এই কথা শুনিয়া কন্যা কি কাম করিল।
    ধুপানীরে আন্‌তে কন্যা ধাই পাঠাইল॥১৪


    রাজকন্যা রুক্মিণী ধোপার প্রতি

    “আচরিত কথা ধুপানীর শুনাইল ধাই।
    গয়বী মিলন নাকি ঝি আর জামাই॥১৬
    আজ যে কাপড় লইয়া আইসে তোমার ঝি।
    তাহার সহিতে আমি পাতিব সহেলা॥”১৮
    আইজ যায় কাইল যায় করে আনাগুনী।
    দেখিয়া কন্যার রূপ পাগল রুক্মিণী॥২০
    প্রাণ সই বলি করে কুলাকুলি।
    দুইজনে মনসুখে হইল মেলামেলি॥২২

    (৮)

    এক মাস দুই মাস তিন মাস যায়।
    একদিন রুক্মিণী তবে কন্যারে সুধায়॥২
    “কোথায় বাড়ী কোথায় ঘর কোথায় মাতাপিতা।
    কোথা হইতে কেন আইলা যাইবা বা কোথা॥৪
    মাও ছাড়লা বাপ ছাড়লা নবীন বয়সে।
    দেশ ছাড়লা বাড়ী ছাড়লা কোন কর্ম্মদোষে॥৬
    কাঞ্চন পুরুষ দেখি তোমার নাগর।
    বলেতে করিয়া চুরি করল দেশান্তর॥৮
    অথবা পিরীতে মইজ্যা কইল দেশান্তরী।
    পূর্ব্বাপর কথা কন্যা কও সবিস্তারী॥১০


    সুবুদ্ধি আছিল কন্যার কুবুদ্ধি হইল।
    আদ্যন্ত কথা কন্যা রুক্মিণীরে কইল॥১২


    রুক্মিণী (জনান্তিকে)

    “কাঞ্চন পুরুষ এই আইসে আর যায়।
    এই নাগর ধুবার যুগ্যী[৭৫] মনে না জোয়ায়॥১৪
    ধুবার ঘরে না জন্মিল জন্মিল রাজার ঘরে।
    কপালে আছিল তাই এত দুঃখ করে॥১৫
    নিত্যি নিত্যি আইসে ধুপা কাপড় লইয়া।
    উদামা[৭৬] খেড়কীর পথে আমি থাকি চাইয়া॥১৮
    ভমরা আছিলা তুমি হইলা গোবরিয়া[৭৭]।
    ধুবার কন্যা আনল তোমায় পিরীতে মজাইয়া॥”২০
    সুবুদ্ধি রাজার কন্যা কুবুদ্ধি হইল।
    কাপড়ের ভাজে পত্র সঙ্কেতে রাখিল॥২২

    সঙ্কেত-পত্র

    “শুন শুন প্রাণের বন্ধুরে না চিনি না জানি।
    দেখিয়া তোমার রূপ হইলাম পাগলিনী॥২৪
    কর্ম্মদোষে দোষী তুমি রাজারে ভাঁড়াও।
    উড়িয়া বনের মধু বনফুলে খাও॥২৬
    আইল বসন্ত কাল ঐনা ফাল্গুন মাসে।
    কোকিলার কলরব ফুলে জোয়ার[৭৮] আসে॥২৮
    আবির লইয়া খেলে নাগরা নাগরী।
    এমন কালে কাপড় লইয়া আইস রাজার বাড়ী॥[৭৯]৩০

    একদণ্ড পাইতাম তোমায় কইতাম মনের কথা।
    সঙ্কেতে বুঝিয়া লইবা রুক্মিণীর মনের কথা॥৩২


    (৯)

    পুরুষ ভ্রমরা জাতি ফুলের মধু খায়।
    বাসি থইয়া টাট্‌কা ফুলের মধু খাইতে চায়॥২
    একদিন কাঞ্চন মালায় কুমার কহে ডাক দিয়া।
    তিন মাস আসি আমি বিদেশ ভরমিয়া॥৪
    এই তিনমাস তুমি থাক ধুবার ঘরে।
    দুইজনে দেখা হইব এই তিন মাস পরে॥৬
    অত না ভাবিল কন্যা শত না ভাবিল[৮০]।
    সরল হইয়া কন্যা নাগরে বিদাইল॥৮


    একমাস দুইমাস তিনমাস যায়।
    রাজবাড়ীতে বাজে ঢোল শব্দ শুনা যায়॥১০
    জয় জোকার না উঠে ঐনা রাজার বাড়ী।
    অদুনায় জিজ্ঞাসা করে ধোপার ঝিয়ারী॥১২
    শুন শুন অদুনা মাগো কহি যে তোমারে।
    কিসের বাদ্যি কিসের ঢোল শুনি রাজার পুরে॥১৪
    অদুনা সংবাদ কয় ঝিয়েরে আসিয়া।
    কোন দেশের রাজার সঙ্গে রুক্মিণীর বিয়া[৮১]॥১৬
    তিন মাস হইল বন্ধু হইল দেশান্তরী।
    চাইর মাস হইল বন্ধু না ফিরিল বাড়ী॥১৮

    পাঁচ মাস যায় কন্যার আইব[৮২] আমার আশে।
    ছয় মাস যায় কন্যার উপাসে আয়াসে॥২০
    সাত মাস যায় কন্যার চক্ষে নাহি ঘুম।
    আট মাসে কাঞ্চা বাঁশে ধরিলেক ঘুণ॥২২
    নয় মাসে না আসিল আশা হইল ফাঁকি।
    বছর গোঁয়াইতে আর দুই মাস বাকী॥২৪
    দশ মাস দশে শূন্য বুক হইল খালী।
    এগার মাসেতে কন্যা কাটিব শিকলী[৮৩]॥২৬
    বার মাস তের রাইত এইরূপে যায়।
    আসিব বলিয়া বন্ধু আশার আশায়॥২৮
    রাত্রিতে জ্বালাইয়া বাতি কাঁদিয়া নেবাইল।[৮৪]
    এক বছর গেল বন্ধু ফিরিয়া না আইল॥


    কান্দে বিরহিণী কন্যালো নদীর কূলে বইয়া।
    কোন দেশ হইতে আইলা নদীরে যাইবা দূরের পানে॥৩২
    দুষ্কিণীর দুষ্কের কথা কইও বন্ধুর স্থানে।
    আমার মনের কথা কইও বন্ধুর কাণে॥৩৪
    দূরে থাক্যা আইলারে ডিঙ্গা পাল টাঙ্গাইয়া।
    এই ডিঙ্গায় নি আইছে সাধু বন্ধের খবর লইয়া[৮৫]॥৩৬
    কতদেশে যাওরে ডিঙ্গা কত দেশে যাও।
    আমার বন্ধুরে তুমি দেখিতে নি পাও॥৩৮

    আমার লাগ্যা আন্‌ব বন্ধে হীরামতীর ফুল।
    দুই ফোটা চক্ষের জল দিবাম সেই ফুলের মূল[৮৬]॥৪০
    গেল গেলরে বন্ধু এও দিনের আশা।
    আজি রাত্রি পোষাইলে কাইল দিনের আশা॥৪২
    কাইল দিন চইল্যা গেলে কা’ল হইল কাল।
    অপযশী হইলামরে বন্ধু দুষ্কেরি কপাল[৮৭]॥৪৪


    (১০)

    রাজার বাড়ীর তাগীদদার দুরন্ত হইয়া।
    একদিন ধোবারে কয় নিরলে ডাকিয়া॥২
    তোমার ঘরেতে আছে নবীন কুমারী।
    পাঁচশ’ টাকা দিবাম তোমায় দিবাম জমী বাড়ী॥৪
    আমার পর্‌তাপে গাভুনী গাভ[৮৮] ছাড়ে।
    আমার কথা না রাখিলে জানে[৮৯] মারবাম্ তোরে॥৬
    দেখা করাইবা তারে আমার না লগে।
    কাঁপিয়া ঝাপিয়া ধুবা কয় ধুবনীর আগে॥৮
    তাগিদদারে বাড়ী ঘর পুইড়া কর্‌ব চাই।
    পরের কন্যার লাগ্যা কেন আমরা দুঃখু পাই॥১০


    ধোপাণী (অদুনা)

    ধর সুন্দর কন্যা মোর কথা ধর।
    এক বচ্ছর বঞ্চিলা তুমি আমার ঘর॥১২
    তুমি লো ধর্ম্মের কন্যা আমি তোমার মাও।
    আজ রাত্রি রাখ কথা মোর মাথা খাও॥১৪
    দুরন্ত তাগীদ্‌দারে দুষ্‌মণ হইল।
    কিমত সন্ধানে জানি তোমারে দেখিল॥১৬
    তুমি থাকিলে কন্যা মরিব পরাণে।
    বাড়ী ঘর পুইড়া ছাই করিব আগুনে॥১৮
    ধর্ম্ম রাখ সতী কন্যা যাও অন্য ঠাঁই।
    আজ রাইতে বিপদে রক্ষা করকাইন গোঁসাই॥২০


    (১১)

    পীরের কান্দা[৯০] তামসা গাজী[৯১] ধানের বেপারী।
    পাঁচখানা পান্‌সী লইয়া করে সদাগরী॥২
    উত্তর হইতে আসে ভাঙ্গাইয়া ধান।
    নদীর পারে লাগাইল ডিঙ্গা পাঁচখান॥৪
    সঙ্গে ছিল ভাগীদার কোন কাম করিল।
    খারাই নদীর পারে ডিঙ্গা ভিড়াইল॥৬
    নদীর কূলেতে বইয়া[৯২] কান্দিছে সুন্দরী।
    ভাগীদারের কাছে কথা শুনিল বেপারী॥৮
    পোলা[৯৩] নাই পুতী[৯৪] নাই সংসারের আশা।
    কন্যারে লইয়া সঙ্গে চলিল তামসা॥১০


    তামসা গাজীর বাড়ীত কন্যা গীর[৯৫] কাজ করে।
    ভাত রাঁধিতে কন্যার দুই আঁখি ঝুরে॥১২
    উঠান ঝাড়িতে কন্যার হইল উনমতি।
    কন্যার চক্ষের জলে ভাসে বসুমতী॥১৪
    কলসী লইয়া কন্যা যায় নদীর জলে।
    বিনা সুতে গাঁথে মালা দুই আঁখির জলে॥১৬
    দুইয়েতে সোহাগ করে পাইয়া কন্যায়।
    দুষ্কের কারণ কন্যা খুইজা নাহি পায়॥১৮
    তমসা গাজি “বাণিজ্যে যাইবাম লো কন্যা মোরে দেও কইয়া।
    কিবা চিজ[৯৬] আনিবাম তোমার লাগিয়া॥২০
    তুমি ত ধর্ম্মের ঝি আমরা বাপ মাও।
    না পাইয়া পাইয়াছি ধন খদার দোয়ায়॥”২২
    এই কথা শুনিয়া কন্যা কান্দিতে লাগিল।
    কি ধন চাহিবে কন্যা খুজিয়া না পাইল॥২৪
    যে ধন হারাইয়াছে কন্যার সে ধনের কথা কভু
    কওন না যায়॥৫ ২


    তিন মাস তের দিন গুঁজুরিয়া গেল।
    নান। দ্রব্য লইয়া গাজী বাড়ীতে ফিরিল॥২৭
    ঝিনাইর ফুল[৯৭] আনিয়াছে কটরা[৯৮] ভরিয়া।
    মতীর মালা আনিয়াছে কন্যার লাগিয়া॥২৯
    আর ত কিনিয়া আন্‌ছে অগ্নি পাটের সাড়ী।
    আর ত কিনিয়া আন্‌ছে কমরের ঘুঙ্গুরী॥৩১
    আর বেকী[৯৯] বেক্ষারু[১০০] নাকের বলাক।
    খাইবার জন্য আন্‌ছে মৌমাছির চাক্॥৩৩

    শুক্‌না মাছ আটীর আটী ঝাপায় ভরিয়া।
    কত কত দব্ব আন্‌ছে ডিঙ্গায় করিয়া॥৩৫


    দূর না দেশর কথা এক এক করি।
    ঘরের নারীর কাছে গাজী কহিছে বিস্তারী॥৩৭
    এক দেশ দেইখ্যা আইলাম উলু ছনের ছানি।
    আর এক দেশ দেখ্যা আইলাম গাছের আগ পানি[১০১]॥৪০
    মর্দ্দানাতে রান্ধে বাড়ে নারীতে বায় হাল।
    হাটবাজারে নারী ফিরে পালের পাল॥৪১
    নদীর কিনারে দেখলাম মইষের বাতান।
    ছড়াতে[১০২] পড়িয়া হরিণ করে জল পান॥৪৪
    পাড়[১০৩] পর্ব্ব‌ত কত যাই ডিঙ্গাইয়া।
    কত কত দূরের দেশ আইলাম দেখিয়া॥৪৫
    কত কত নদী দেখলাম তীরে ছুটে পানি।
    কত কত দেখিলাম সাউদের[১০৪] তরণী॥৪৭
    কত কত রাজার মুলুক আইলাম দেখিয়া।
    ঘরণীর[১০৫] কাছে কথা কয় বিস্তারিয়া॥৪৯
    আর এক দেখিলাম আচরিত[১০৬] বাণী।
    এমন আচানক[১০৭] কথা কভু নাহি শুনি॥৫১
    রাজার মুল্লুক সেই বড় বড় ঘরে।
    এক ধুবা কাপড় ধয় নদীর কিনারে॥৫৩
    বয়স হইয়াছে বড় চক্ষু দুইটি ঘোলা।
    আস্তে কথা নাহি শুনে কানে লাগ্‌ছে তালা॥৫৫
    রাজার বাড়ীর ধুবা কাপড় ধইয়া খায়।
    একখান কাপড় ধইতে সাত দিন যায়॥৫৭

    বড় দুঃখু হইল মনে ধুবারে দেখিয়া।
    জিজ্ঞাসা করিলাম তারে আপনা ভাবিয়া॥৫৯
    পুত নাই ক্ষেত নাই অভাগা কপাল।
    এক কন্যা ছিল তার শুন কহি হাল॥৬১
    কলঙ্কিনী হইয়া কন্যা কুল ভাঙ্গাইল।
    কুলটা হইয়া কন্যা বাপেরে ছাড়িল॥৬৩
    চক্ষে নাহি দেখে বাপ কাণে নাহি শুনে।
    এত দুঃখু ধুবা তবে ধইরা রাখে প্রাণে॥৬৫
    নদীর কূলে বইয়া[১০৮] কান্দে মা, মা, বলিয়া।
    ধুবার দুগ্‌গতি আইলাম নয়ানে দেখিয়া॥৬৭
    এই কথা কাঞ্চনমালা যখন শুনিল।
    বাপের লাগিয়া কন্যা কান্দিতে লাগিল॥৬৯
    পুত নাই ক্ষেতরে নাই নাইরে তাতে দোষ।
    অইয়া[১০৯] পুত মইরা গেলে সে বড় আপশোষ॥৭১


    কাঞ্চন— “শুন শুন ধর্ম্মের বাপ বলি যে তোমারে।
    বাপের কাছে লইয়া যাও শীঘ্র কইরা মোরে॥৭৩
    ধুবার ঘরে জন্ম লইলাম হইয়া ধুবার ঝি।
    কপালের দুঃখু কথা কহিবাম কি॥৭৫
    কর্ম্মদোষে ধর্ম্ম গেল হইলাম কলঙ্কিনী।
    বুকের মধ্যেতে জ্বলে তোষের[১১০] আগুনি॥৭৭


    (১২)

    কাঞ্চনের পিতা ধোপা

    ঝি গো কি কহিবাম তোরে।
    ছোট কালে পাল্যাছিলাম কত দুঃখু করে॥২
    তোর দুঃখে মা তোর ছাইড়া সকল আশা।
    জন্মের মত লইয়াছে নদীর কূলে বাসা[১১১]॥৪
    এই ঘাটে কাপড় ধই চক্ষে বহে পানি।
    কন্যা হইয়া হইলা তুমি নিদয়া পাষাণী॥৬
    বাপের আগে কাইন্দা কয় যত দুঃখের কথা।
    দেশে বিদেশে ঘুইরা পাইল যত বেথা॥৮
    রাজার বাড়ীর খবর কন্যা পাইল বাপের আগে।
    সকল হারাইছে কন্যা কর্ম্মের অনুরাগে[১১২]॥১০
    বিয়া কইরা রাজার পুত্ত্রু সুখে বস্যা খায়।
    স্বপ্নেও একদিন কন্যারে না জিগায়॥১২
    শুকাইল চক্ষের জল মুখে শব্দ নাই[১১৩].
    কর্ম্মদোষে বিড়ম্বনা কার মুখ চাই॥১৪
    কলঙ্কিনী হইলাম কেমনে দেখাই মুখ।
    এই দেশে থাকিয়া বাপ আছে কিবা সুখ॥১৬
    ধোপা— “দুর্ম্মতিয়া হইল কন্যা কি কাম করিলে।
    হইয়া কুলের কন্যা কুলে কালি দিলে॥১৮
    তোমার লাগিয়া আমি জিয়ন্তে তে মরা।
    কর্ম্মদোষেতে আমি হইলাম কপাল পোড়া॥২০


    বড়র সঙ্গে ছোটর পিরীত হয় অগঠন[১১৪]।
    উচা গাছে উঠ্‌লে যেমন পড়িয়া মরণ॥২২
    জমীন ছাইড়া পাও দিলে শূন্যে না লয় ভর।
    হিয়ার মাংস কাট্যা দিলে আপন না হয় পর॥২৪
    ফুলের সঙ্গে ভমরার পিরীত যেমন আগে বুঝা দায়।
    এক ফুলের মধু খাইয়া আর ফুলেতে যায়॥২৬
    মেঘের সঙ্গে চান্দের ভালাই[১১৫] কত কাল রয়।
    ক্ষণে দেখি অন্ধকার ক্ষণেকে উদয়॥২৮
    কুলোকের সঙ্গে পিরীত শেষে জ্বালা ঘটে।
    যেমন জিহ্বার সঙ্গে দাঁতের পিরীত আর ছলেতে কাটে[১১৬]॥৩০
    না বুঝিয়া না শুনিয়া আগুনে হাত দিলে।
    কর্ম্মদোষে অভাগিনী আপনি মজিলে॥৩২
    এক প্রেমেতে মারে কন্যা আর প্রেমে জিয়ায়।
    যে প্রেমে কলঙ্ক ঘটে সে প্রেম কেবা চায়॥৩৪
    চক্ষের কাজল কন্য। ঠাঁই গুণেতে কালী।[১১৭]
    শিরেতে বান্ধিয়া লইলে কলঙ্কের ডালি॥৩৬
    বাপে কান্দে ঝিয়ে কান্দে গলা ধরাধরি।

    (১৩)

    রাজ্যের লোক নাই সে জানে কন্যা আইসে[১১৮] বাড়ী॥৩৮
    এক পাগলী আইল রাজ্যে পথে পথে ঘুড়ে।
    এই সে দেখি এই সে নাই কেউ না চিন্‌তে পারে॥২

    হাওরের বাকুণ্ডি[১১৯] যেমন ধুলা নেয় সে উড়ি।
    এক দণ্ড থির নাই পথে পথে ঘুড়ি॥৪
    গাছের তলায় নদীর পারে এই আছে নাই।
    কখন হাসে কখন কান্দে কখন গান গায়॥৬


    বইসা আছে রুক্মিণী যে পালঙ্ক উপরে।
    পন্থের পাগল নারী পরবেশে অন্দরে॥৮
    চান্দের সমান রাজার পুত্ত্রু দরবারে বসিয়া।
    সবাই বলে পাগল যায় এই পথ দিয়া॥১০
    কত দিনে রাজ্য জুইড়া এই আনিগুনি।
    আর না দেখিল কেউ সেই পাগলিনী॥[১২০]॥১২
    মেঘের মুখে চান্দের আলো তারার ঝিকিমিকি।
    ক্ষণে ক্ষণে আন্ধাইর পথ চক্ষে নাহি দেখি॥১৪
    আষাঢ়িয়া ভরা নদী ভরা কূলে কূলে।
    দৌরিয়া আইল ভাবের পাগল সেইনা নদীর কূলে॥১৬
    দেওয়ায় ডাকে ঘন ঘন বিষ্টি পড়ে রইয়া।
    নদীর ঘাটেতে কন্যা আইল দৌরিয়া॥১৮
    কাঞ্চন— “মনের দুঃখু মিটিয়াছে মিটিয়াছে আশা।
    দেখিলাম বন্ধুর মুখ মনের ছিল আশা॥২০
    সুখেতে থাকগো বন্ধু সুন্দর নারী লইয়া।
    সুখে কর গীর বাস জনম ভরিয়া॥২২
    না লইও না লইও বন্ধু কাঞ্চনমালার নাম।
    তোমার চরণে আমার শতেক পরণাম[১২১]॥২৪

    এইনা ঘাটেতে আছে পাতার বিছানা।
    সুখেতে রজনী দোয়ে করেছি বঞ্চনা॥২৬
    মনে না রাইখরে বন্ধু সেই দিনের কথা।
    আর না রাখিও মনে সেই মালা গাথা॥২৮
    রাইতের নিশি আনি গুনি তোমার বাঁশীর গানে।
    অভাগিনীর কথা বঁধুরে না রাখিও মনে॥৩০
    আমি মইরাছি নদী না বলিও কারে।
    টুনী পঙ্খী নাহি জানে না কইও বন্ধুরে॥৩২
    নদীর কূলের বিরিক্ষ[১২২] লতা ডালে ঘুমাও পাখী।
    আমার কথা না কহিও বন্ধের নিকটে॥৩৪
    আশমানের চান্দ তারা কহি যে তোমরারে।
    আমি যে মইরাছি কথা না কইও বন্ধেরে॥৩৬
    না কইও না কইও বাপ আমি আইছি দেশে।
    তোমার চরণে পরণাম জানাই উদ্দিশে॥৩৮
    কাণে কাণে কইরে বাতাস কাণাকাণি কথা।
    তোমার কাছে কহিবাম যত মনের কথা॥৪০
    রাত্রিকালের সাক্ষী তুমি দিবাকালের সাক্ষী।
    কলঙ্কিণীর কথা জান দেশের পশু পঙ্খী॥৪২
    আমি যে আইছি দেশে আমার মাথা খাও।
    আমার মরণ কথা বন্ধে না জানাও॥৪৪
    দেশের লোকে নাই সে জানে আমার মরণ কথা।
    কি জানি শুনিলে বন্ধু পাইবে মনে বেথা॥৪৬
    কোন দেশ হইতে আইছরে ঢেউ যাইবা কোথাকারে।
    আমারে ভাসায়ে নেও দুস্তর সাগরে॥৪৮
    তারা হইল নিমি ঝিমি রাত্র নিশাকালে।
    ঝম্প দিয়া পড়ে কন্যা সেইনা নদীর জলে॥৫০

    .

    টীকা

    1. ছাইরা=ছাড়িয়া।
    2. ঝাইড়া=ঝাড়িয়া।
    3. বান্‌তাম=বাঁধিব।
    4. রাইতে=রাত্রিতে।
    5. আইও=আসিও।
    6. দুষ্‌মণি=শত্রুতা।
    7. পাড়া ভাঙ্গিয়া পড়িবে অর্থাৎ পাড়ায় রাষ্ট্র হইয়া পড়িবে।
    8. যাইতাম=যাইব।
    9. কি জানি=সুতে। কি জানি যদি কাঁখের কলসী স্রোতে ভাসাইয়া নিয়া যায়।
    10. অইব=হইবে।
    11. রাত্রি নিশাকালে=গভীর রাত্রে। রাত্রির গভীর অংশকে বাঙ্গালায় ‘নিশা’ বলিত। প্রাচীন বাঙ্গালায় ‘নিশা’ অর্থ অনেক স্থলেই রাত্রি নহে, রাত্রির গভীর অংশ—দ্বিতীয় প্রহরের পরে।
    12. তিন সন্ধ্যা=সন্ধ্যা যখন বেশ ঘনাইয়া আসে, সেই সময়কে পাড়াগাঁয়ে ‘তিন সন্ধ্যা’ বলে।
    13. চইক্ষেতে=চোখেতে।
    14. যোয়াইয়ের চিলা=জোয়ারের সময় মাছের আশায় চিল গুলি পাগলের মত উড়িতে থাকে।
    15. এখানে একটি ছত্রের অভাব দেখা যায়।
    16. কইব=কহিবে।
    17. পরজা=প্রজা। ইহার পূর্ব্বের ছত্রের ‘না’ শব্দের দুইটি প্রয়োগ অর্থশূন্য
    18. পরছাৎ=পশ্চাৎ।
    19. আলাগিয়া=আল্‌গা, অল্পসময়ের জন্য, সাময়িক।
    20. আইবা=আসিবে।
    21. রাখ=রাখিবে।
    22. এইখানে একটি শব্দ নাই, সম্ভবতঃ “ফুলের” কিংবা “গাঁথা” এইরূপ কোন শব্দ ছিল।
    23. আষাইঢ়া=আষাঢ় মাসের।
    24. আইবাম=আসিব।
    25. Cf. “ঘর কৈনু বাহির, বাহির কৈনু ঘর।
      পর কৈনু আপন, আপন কৈনু পর।”— চণ্ডীদাস।
    26. পিতামাতার ঘুম এখনও কাঁচা আছে। তাঁহাদের একটু গাঢ় নিদ্রা হউক। ‘না’ শব্দটি এখানে অর্থ শূন্য।
    27. মানের=মানকচুর।
    28. কেশে চরণ মুছাইবার কথাটা যেন কতকটা মামুলী হইয়া গিয়াছে, কিন্তু অঙ্গ মোছাইবার কথায় কত আদর, কত প্রাণের স্নেহ প্রদর্শিত হইয়াছে।
    29. সমস্ত সংসার নিস্তব্ধ, একমাত্র বাঁশীর সুরটি কানে আসিতেছে। সাংসারিক কলরব শাস্ত হইলে সমস্ত কামনা-বাসনার অতীত সাধকের চিত্রে যেমন একমাত্র ভগবানের ডাক শোনা যায়, এই ছত্রটিতে সেই ভাবের একটি ইঙ্গিত আছে।
    30. তুলনা”=কহিও কহিও বঁধুরে সই কহিও বঁধুরে।
      গমন বিরোধী হ’ল পাপ শশধরে ৷—চণ্ডীদাস।
    31. এই সকল পদ হইতে স্পষ্ট বোঝা যায় চণ্ডীদাসের রাধা-কৃষ্ণ পদগুলির ভিত্তি কোথায়। এসকল চণ্ডীদাসের পরবর্ত্তী কি না বলিতে পারি না, কিন্তু সমস্ত বাঙ্গলা দেশে যেসকল কবিতা কোন পূর্ব্ব যুগে ফুলের মত ছড়াইয়া পড়িয়াছিল, তাহারাই পরবর্ত্তী বৈষ্ণব কবিতার যোগান দিয়াছে, তাহা স্পষ্ট বোঝা যায়। এই পদটি পড়িলে স্বভাবতই চণ্ডীদাসের
      “এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা, কেমনে আইলে বাটে।
      আঙ্গিনার মাঝে বঁধুয়া ভিজিছে দেখে যে পরাণ ফাটে॥”
      প্রভৃতি পদ মনে পড়িবে।
      এই প্রেমবৃক্ষের ডালপালা নাই, সাংসারিক হিসাবে ইহার তলার কোন আশ্রয় পাইবে না। কেবল একটি মাত্র ফুলের আকর্ষণ ইহার আছে। কবি বলিতেছেন, সাংসারিক আশ্রয় চাইনা, বঁধুকে পাইলে জাতিকুলমান না থাকিলেই বা কি?
    32. এই যে আমার জীবনে প্রেমের স্রোত, ইহা কোথা থেকে আসিয়াছে, এবং ইহা আমাকে কোথায় লইয়া যাইবে? নদীকে সম্বোধন করিয়া নায়িকা নিজের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করিতেছেন।
    33. এই সোণার যৌবন স্পর্শে আমার জীবনকে স্বপ্নময় করিয়া কোন্ সোণার পাখী আমার কাছে আসিল? আবের চাকামাখা = মাঝে মাঝে অভ্রখণ্ড।
    34. ইনি রাজার ছেলে, আমি সামান্য নারী। ইঁহাকে আমি কোথায় রাখিব? “আশমান না জুড়ে”—“না” শব্দটি অর্থ শূণ্য।—আকাশে রাখিলে আকাশ জুড়িয়া যায়। আমার স্বর্গের কল্পনা হইতেও ইনি উঁচু; ইঁহাকে হাত বাড়াইয়া নাগাল পাই না। আমার সামান্য সংসারের পক্ষে ইনি অতি বড়। ইনি আমার দুরাশার স্বপ্ন, ইঁহাকে না রাখিলে আমার জীবন থাকে না। অথচ কি করিয়াই বা রাখি? ইঁহাকে রাখিবার মতন পিঞ্জর কোথায় পাই?
    35. পোষাইল=পোহাইল।
    36. বন্ধে = বন্ধুকে।
    37. আজ আমার কি চরম সৌভাগ্য, অথবা কি চরম দুর্ভাগ্য! যিনি কোন দিন খাটপালঙ্গ ভিন্ন শয়ন করেন নাই, তিনি আমার জন্য মাটিতে শুইয়াছিলেন। আমার জন্য সারারাত্রি জাগিয়া তিনি একটু ঘুমাইতেও অবসর পাইলেন না, চোখে কাঁচা ঘুম লইয়া তাঁহাকে তাড়াতাড়ি যাইতে হইল।
    38. আমার জন্য তিনি দশজনের নিন্দাভাজন হইয়াছেন। কারণ তিনি বড়, আমি ছোট। এই মিলন তাঁহার পক্ষে একান্ত অশোভন।
    39. বামন।
    40. প্রবোধ।
    41. কলসী। আমি পথ দেখিতে পাইতেছি না, কলসীটি অতলজলে ডুবিলে যেরূপ কুল কিনারা কিছু দেখিতে পায় না, আমার অবস্থ। সেইরূপ।
    42. অঞ্চল।
    43. বাঁধিয়া।
    44. আজ আমি আর লজ্জার খাতির রাখিব না। আজ একান্তই তোমার হইব।
    45. ধয়=ধোয়, পিরপানের খাকি=গালাগালির কথা, অতি তুচ্ছ ব্যক্তি।
    46. হস্তে যষ্টি ভর করিয়া।
    47. কাপড়ের বস্তা।
    48. ধোপার নাম।
    49. ভগবান্=রাজা
    50. পরাস=ফরাস্ ঢালা। বিছান। পাতিয়া।
    51. বাতায়=শুকায়।
    52. মআরাজা=মহারাজ।
    53. বচর=বস্তু।
    54. হাটকাইল্যা=যে হাটের কাপড় সাফ্ করে, অতি নীচ ব্যক্তি।
    55. বাগুয়া নামক।
    56. দেশেতে…ঢোল—রাজপুত্ত্র ও কাঞ্চন মালাকে পাওয়া যাইতেছে না, পুরষ্কার ঘোষণা করিয়া ঢোলের বাদ্যের সঙ্গে এই সংবাদ প্রচারিত হইল।
    57. গানের প্রথম পালা বা অংশ শেষ হইল।
    58. অনূঢ়া নবীনা পথশ্রমে অনভ্যস্তা; তাই বিশ্রামের জন্য রাজপুত্ত্রকে অনুরোধ করিতেছেন।
    59. কালিয়ারী=ঈষৎ আলো।
    60. আশ্রা=আশ্রয়।
    61. ভাগ্যিমানের=ভাল কোন গৃহস্থের।
    62. ভোগ=ভুক্, ক্ষুধা।
    63. কালুকা বিয়ানে=কল্য প্রভাতে। “বিয়ানে পরের বাড়ী কোন লাজে আস”। চণ্ডীদাস
    64. হাইল=শালি ধান, রাত্রি পোহাইলে আর থুরাই নদী কিংবা চিরপরিচিত সেই সকল শালি ধানের মাঠ দেখিতে পাইব না।
    65. যে প্রভাত কালের আকাশ রোজ রোজ আমাদের বাড়ীর ফাঁক দিয়া দেখিতে পাইতাম, সে আকাশ আর দেখিতে পাইব না।
    66. বাগানের।
    67. হেথাকে=এখানে।
    68. ধইয়া=ধুইয়া, এই ছত্রের পরে একটি ছত্র পাওয়া যাইতেছে না।
    69. দুষ্কিণী=দুঃখিনী।
    70. অবাক্ষি=নির্ব্বাক, অবাক্।
    71. অদুনা ঐ ধোপার স্ত্রীর নাম।
    72. লছমী=লক্ষ্মী।
    73. বণ্ণ=বর্ণ।
    74. সর্ব্ব শইল=সর্ব্ব শরীর।
    75. যুগ্যী=যোগ্য।
    76. উদামা=উন্মত্ত ভাবে,
    77. গোবরিয়া=গোবরের পোকা। “গেবরা পোকা যেন বসিল পদ্মে”।
      গোপাল উড়ে
    78. জোয়ার=যৌবন, সম্পূর্ণশ্রী।
    79. যখন চার দিকে বসন্ত-কালের নানা উৎসব, এ সময় কি তোমার কাপড়ের বস্তা মাথায় করিয়া রাজ প্রাসাদে আসা শোভা পায়?
    80. কাঞ্চনমালা অতশত কিছু চিন্তা করিল না, রাজপুত্রের নিদারুণ মনোভাবের আভাষ সে জানিত না, সরল মনে তাঁকে বিদায় দিল।
    81. এই বিবাহ যে তাহার প্রাণাধিক রাজপুত্রের সঙ্গে তখনও কাঞ্চন তাহা জানে না।
    82. আইব=আসিবে। আমার আশায় সে অবশ্য আসিবে। মনকে চোখ ঠার দিয়া সে বৃথা আশায় ভুলাইল।
    83. কাটিব শিকলী=আমার শিকলী এবার কাটিবে, অর্থায় আশা নিরাশায় পরিণত হবে।
    84. তিনি আসিবেন বলিয়া সারারাত্রি প্রদীপ জ্বালাইয়া প্রতীক্ষা করিত, এবং প্রাতে নিবাইত।
    85. এই নৌকায় কি বন্ধুর সংবাদ নিয়া আসিয়াছে?
    86. তুমি রাজার পুত্র, তুমি আমার জন্য হীরামতির ফুল আনিবে। আমি ভিখারিণী আমি তাহার মূল্য কি দিব? আমি দুই ফোটা অশ্রু মূল্য দিয়া তাহা গ্রহণ করিব।
    87. এই পদে পুনরায় বৈষ্ণব কবিদিগের পদ মনে পড়িবে।
      “কাল অবধি করিয়া বঁধু গেল।
      “ভেল পরভাত পুছই সব হু
      কহ কহ রে সখি কালি কব হুঁ।”
      বিদ্যাপতি
    88. গাভুনী=গর্ভবর্তী রমণী, গাভ=গর্ভ।
    89. জানে=প্রাণে।
    90. পীরের কান্দা=
    91. তামসা গাজি=এক ব্যক্তির নাম।
    92. বইয়া=বসিয়া।
    93. পোলা=পুত্র।
    94. পুতী=কন্যা।
    95. গিরকাজ=গৃহকার্য্য।
    96. চিজ=দ্রব্য।
    97. ঝিনাইর ফুল=ঝিনুকের ফুল।
    98. কটরা=কৌটা।
    99. বেঁকী=পূর্ব্ববঙ্গে গুঁজরী বেকী বলে কতকটা আধুনিক পাঁয়জোরের মত।
    100. বেক্ষারু=বাঁকমল।
    101. নারিকেল ফল
    102. ছড়া=জলের ঝরণা।
    103. পাড়=পাহাড়।
    104. সাউদের=সাধুর।
    105. ঘরণী=গৃহিণী।
    106. অচরিত=অপূর্ব্ব।
    107. আচনক=অদ্ভুত।
    108. বইয়া=বসিয়া।
    109. অইয়া=হইয়া, জন্মিয়া।
    110. তোষের=তুষের।
    111. তোর মাতা তোর অভাবে চিরদিনের জন্য নদীকূলে চিতায় আশ্রয় লইয়াছে।
    112. অনুরাগে=ফলে, দোষে।
    113. রাজপুত্র বিবাহ করিয়া সুখী হইছেন, এই সংবাদে কাঞ্চনের চক্ষের জল শুকাইয়া গেল, মুখের কথা মুখে মিলাইয়া গেল।
    114. অগঠন=অশোভন, অঘটন
    115. ভালাই=ভালবাসা।
    116. আর ছলাতে=কোন ছলে “জিহ্বার সঙ্গেতে, দন্তের পীরিতি, সুবিধা পাইলে কাটে”—চণ্ডীদাস।
    117. কালী চক্ষে থাকিলে তাহা কাজল হয়, অন্যত্র তাহা কলঙ্ক হয়, অস্থানে প্রেম স্থাপন করিলে সেইরূপ তাহা কলঙ্কের কারণ হয়।
    118. বাপ কন্যাকে চিনিল এবং কন্যা বাপকে চিনিল, কিন্তু কন্যা যে বাড়ী ফিরিয়াছে, সেদেশের লোক তাহা জানিতে পারিল না।
    119. বাকুণ্ডি=ঘূর্ণিত চক্র।
    120. সেই পাগলিনী একদিন মাত্র রাজপুত্র ও রুক্মিণীকে রাজ-অন্তঃপুরে দেখিয়া আসিল, তার পরদিন হইতে কেহ আর তাকে দেখিতে পাইল না।
    121. Cf. “তোমার চরণে বঁধু শতেক পরণাম।
      তোমার চরণে বঁধু লিখ আমার নাম॥
      লিখিতে দাসীর নাম লাগে যদি পায়।
      মাটিতে লিখিয়া নাম চরণ দিও তায়॥” চণ্ডীদাস
    122. বিরিক্ষ=বৃক্ষ।
    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপুর্ব্ববঙ্গ গীতিকা (চতুর্থ খণ্ড, দ্বিতীয় সংখ্যা) – দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত
    Next Article সতী – দীনেশচন্দ্র সেন

    Related Articles

    দীনেশচন্দ্র সেন

    পদাবলী মাধুর্য্য – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    মৈমনসিংহ গীতিকা – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    বৈদিক ভারত – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    বঙ্গভাষা ও সাহিত্য -১ম খণ্ড – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    বৃহৎ বঙ্গ – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    সতী – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }