Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি ১ – বদরুদ্দীন উমর

    বদরুদ্দীন উমর এক পাতা গল্প515 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯. পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটি

    নবম পরিচ্ছেদ – পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটি

    ১. পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটির প্রতিষ্ঠা

    ‘পূর্ব-বাঙলায় প্রচলিত বাংলা ভাষা প্রমিতকরণ, সহজীকরণ ও সংস্কারের প্রশ্ন পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ৯ই মার্চ, ১৯৪৯, পূর্ব-বাঙলা সরকার ‘পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটি’ নামে একটি কমিটি স্থাপন করেন।[১] ঐ একই সরকারী প্রস্তাবে (পূর্ব-বাঙলা সরকার প্রস্তাব নং ৫৯০ ইডেন) নিম্নলিখিতভাবে কমিটির শর্তনির্দেশ করা হয়:

    ১. পূর্ব-বাঙলার জনগণের ভাষা (বাংলা ব্যাকরণ, বানান ইত্যাদি সহ) সহজীকরণ, সংস্কার ও প্রমিতকরণের প্রশ্ন বিবেচনা করিয়া সে বিষয়ে সুপারিশ করা।

    ২. যে সমস্ত বিদেশী টেকনিক্যাল এবং অন্যান্য শব্দের পরিভাষা উপরোক্ত ভাষায় নেই সেগুলির জন্য নোতুন শব্দ ও ফ্রেজ কিভাবে গঠন করা যায় এবং সেগুলিকে কিভাবে যতদূর সম্ভব অনুবাদ করা যায় তার উপায় নির্দেশ করা।

    ৩. উপরোক্ত ভাষাকে কিভাবে পাকিস্তান এবং বিশেষ করে পূর্ব-বাঙলার প্রতিভা ও সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় সে বিষয়ে কমিটি অন্য যা কিছু প্রয়োজন বোধ করেন সেই অনুসারে পরামর্শ দান।[২]

    মৌলানা আকরম খাঁর সভাপতিত্বে সরকারী ও বেসরকারী ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত এই কমিটির সদস্যদের নাম নীচে উল্লিখিত হলো:

    ১. মৌলানা মোহাম্মদ আরকম খাঁ, সভাপতি

    ২. হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরী, প্রাদেশিক মন্ত্রী

    ৩. ডক্টর আবদুল মোতালেব মালিক, প্রাদেশিক মন্ত্রী

     

     

    ৪. ডক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চ্যান্সেলর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ৫. মৌলানা আবদুল্লাহ আল-বাকী, এমএলএ

    ৬. ডক্টর মহম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যক্ষ বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ৭. আবুল কালাম শামসুদ্দীন, এমএলএ সম্পাদক, দৈনিক আজাদ

    ৮. সৈয়দ আবুল হাসনাত মহম্মদ ইসমাইল, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, পূর্ব-বাঙলা সরকার, ঢাকা।

    ৯. মীজানুর রহমান, ডেপুটি সেক্রেটারী, শিক্ষা বিভাগ, পূর্ব বাঙলা সরকার।

    ১০. মাজউদ্দিন আহমদ, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, মুরারীচাঁদ কলেজ, সিলেট।

     

     

    ১১. শাইখ শরাফউদ্দিন, অধ্যক্ষ, ইসলামী ইন্টারমিডিয়েট কলেজ।

    ১২. একিউএম আদমউদ্দিন, অধ্যাপক, ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, নওগাঁ, রাজশাহী।

    ১৩. মৌলভী জুলফিকার আলী, স্বত্বাধিকারী, আলাবিয়া প্রেস, চট্টগ্রাম।

    ১৪. গণেশ চন্দ্র বসু, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৫. মোহিনী মোহন দাস।

    ১৬. গোলাম মুস্তফা, হেড মাস্টার, সেক্রেটারী৩

    উপরোক্ত সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদেরকে কমিটির সদস্য করা হয়:

     

     

    ১. ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, অধ্যক্ষ, বাঙলা বিভাগ, রাজশাহী কলেজ।

    ২. আবদুল মজিদ, পূর্ব-বাঙলা সরকারের বাংলা অনুবাদক

    ৩. অজিতকুমার গুহ, অধ্যাপক জগন্নাথ কলেজ, ঢাকা।[৩]

    কমিটির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে কমিটির মধ্যে আরও কিছু কিছু পরিবর্তন করা হয়। গোলাম মোস্তফা সেক্রেটারী হিসাবে কাজ করতে অক্ষম হওয়ায় তাঁর পরিবর্তে ইসলামী ইন্টারমিডিয়েট কলেজের অধ্যক্ষ শ‍ইখ শরাফুদ্দীন ৯ই মে, ১৯৪৯, সেক্রেটারীর পদে নিযুক্ত হন। এর পর শাইখ শরাফুদ্দীনের স্থানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক নজমুল হোসেন চৌধুরী সেক্রেটারী নিযুক্ত হন। তিনি ২১শে মে, ১৯৪৯, নোতুন পদে যোগদান করে সে বছরই ৩০শে জুন অবসর গ্রহণ করেন। এর পর শিক্ষা বিভাগের আবু সাঈদ মাহমুদ ১৯শে জুলাই, ১৯৪৯, পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটির সেক্রেটারীরূপে কার্যভার গ্রহণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান। এ ছাড়া শিক্ষা বিভাগের আহমদ হোসেনকে অংশকালীন সেক্রেটারী হিসাবে নিযুক্ত করা হয়।[৪]

     

     

    ১৯৪৯ এর ডিসেম্বর মাসে ডক্টর মালেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসাবে করাচীতে চলে যান এবং তাঁর স্থানে বেসামরিক বিভাগের মন্ত্রী সৈয়দ মহাম্মদ আফজল কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন।[৫] গণেশচন্দ্র বসু কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকার পর আর সদস্য হিসাবে থাকতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় ১৯৫০-এর মে মাসে তাঁর স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হরনাথ পালকে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু এর পর হরনাথ পালও কমিটির সদস্য হিসাবে থাকতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় ঢাকার জগন্নাথ কলেজের অধ্যাপক অজিতকুমার গুহ ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন।[৬]

    গোলাম মোস্তফা পর পর কমিটির অনেকগুলি বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ার জন্যে তাঁর পরিবর্তে বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদকে ১৯৫০ এর জুন মাসে কমিটির সদস্য নিযুক্ত করা হয়।[৭] সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মোহিনী মোহন দাসের মৃত্যুর পর তাঁর স্থানে ১৯৫০ এর মার্চ মাসে কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন পূর্ব-বাঙলা সরকারের তফশিলী শিক্ষার স্পেশাল অফিসার আম্বিকাচরণ দাস।[৮]

     

     

    কবি গোলাম মোস্তফার সাথে পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটির সম্পর্কচ্ছেদের ব্যাপারে পূর্ব বাঙলা সরকারের প্রাক্তন শিক্ষা ডিরেক্টর আবুদল হাকিম বলেন:

    কবি এই সময় একটা শক্তিশালী ভাষা বিরোধী মিশ্রচক্রের সান্নিধ্যে এসে তাদের বেড়াজালে আটকা পড়বার মতো হয়েছিলেন। চক্র নানা ছলে রটাতে চেষ্টা করছিল যে এত বড় জনপ্রিয় বাঙালী কবিও তাদের সাথে রয়েছেন এবং বাঙলা ভাষাকে উর্দু হরফে লিখবার প্রস্তাবে রাজী হয়েছেন। কবি যে ভাষা-সংস্কার কমিটির সেক্রেটারী ছিলেন তদ্বারা উক্ত মতের পরিপোষক সুপারিশ করাবার জন্য ঐ চক্র থেকে পীড়াপীড়ি শুরু হয়।[৯] …
    কবিকে যাঁরা ঘনিষ্ঠভাবে জানতেন তাঁরা কখনই বিশ্বাস করতে পারতেন না যে তিনি বাঙলা ভাষা বিরোধী উক্ত চক্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে তাদের কার্য সিদ্ধির সহায়ক হতে পারেন।[১০]

    এ সম্পর্কে ভাষা কমিটির অন্যতম সদস্য এবং গোলাম মোস্তফার পরবর্তী সেক্রেটারী শাইখ শরাফুদ্দীন বলেন:

     

     

    আরবী ভাষায় সুপণ্ডিত না হলেও কুরআন মজিদ পাঠ ও তরজমা উপলক্ষে আরবী ভাষার প্রতি তিনি বিশেষভাবে ঝুঁকে পড়েন। এমন কি তিনি বাংলা ভাষাতেও আরবী হরফ ব্যবহারের বিশেষ পক্ষপাতী ছিলেন। এই কারণে কেউ কেউ তাঁকে বাংলা আরবী হরফের উদ্যোক্তা এডুকেশন সেক্রেটারী ফজলী সাহেবের ধামাধরা বলে বিদ্রূপ করতেন। কিন্তু তাঁরা বোধহয় জানে না যে, প্রকৃত ব্যাপারটি এর বিপরীত। কারণ গোলাম মোস্তফা সাহেবকে পূর্ববঙ্গ ভাষা কমিটির সেক্রেটারী নিযুক্ত করার পরপরই ফজলী সাহেবের সঙ্গে মতবিরোধের ফলেই তিনি ঐ কমিটির সেক্রেটারী পদ ত্যাগ করেন; এমন কি এই উপলক্ষে তাঁর আসল সরকারী চাকরী হেড মাস্টারী পদেও ইস্তফা দিয়ে তিনি নিবিষ্টভাবে সাহিত্য সাধনায় ব্রতী হন।[১১]

    উপরোক্ত দুইজনের বক্তব্য থেকে একথা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে কবি গোলাম মোস্তফা আরবী হরফ প্রবর্তন ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের সাথে বহুভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু একথাও আবার সত্য যে ভাষা কমিটির সেক্রেটারী হিসাবে, কর্তৃপক্ষ মহলের সাথে তাঁর একটা মতানৈক্য ঘটে, যার ফলে তিনি সরাসরি ইস্তফা না দিলেও কমিটির বৈঠকগুলিতে যোগদানে বিরত থাকেন এবং সেজন্যে পরিশেষে কমিটির সদস্যপদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গণেশচন্দ্র বসু এবং হরনাথ পালও যে কমিটির সাথে একমত হতে না পারার জন্যে তার থেকে বিদায় গ্রহণ করেন সে বিষয়েও কোন সন্দেহ নেই। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ বাংলা ভাষাকে ইসলামী করার এবং বাঙলা ভাষায় আরবী অক্ষর প্রবর্তনের নানা প্রচেষ্টার তোলপাড়ের মধ্যে অমুসলমান হিসাবে কমিটির আবহাওয়া তাঁদের পক্ষে রীতিমতো অস্বস্তিকরই ছিলো।

     

     

    ২২শে ও ২৩শে জুন, ১৯৪৯, মৌলানা আকরম খাঁর সভাপতিত্বে পূর্ব বাঙলা ব্যবস্থাপক সভার কমিটি রুমে ভাষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।[২২ তারিখে অনেকগুলি প্রশ্নের উপর বিস্তারিত আলোচনার পর স্থির হয় যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতামত সংগ্রহের জন্যে একটি প্রশ্নমালা প্রস্তুত করে সেটিকে ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করা দরকার। এর পর দিনের বৈঠকে প্রশ্নমালাটির একটি খসড়া পেশ করা হয় এবং সেটি বহুক্ষণ আলোচনার পর পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত অবস্থায় গৃহীত হয়।[১২]

    ২. কমিটির কার্যপ্রণালী

    ২৩শে জুন যে প্রশ্নমালাটি কমিটির দ্বারা গৃহীত হয় সেটি প্রাদেশিক ব্যবস্থা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সংবিধান সভার সদস্য; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কোর্টের সদস্য; ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সদস্য ও কর্মচারী; সেক্রেটারিয়েট ও শিক্ষা ডাইরেক্টরেটের কর্মচারী; সকল জেলা ও বিভাগীয় কর্মচারী, মাদ্রাসা ও কলেজের অধ্যক্ষ; সমস্ত সরকারী মাধ্যমিক স্কুল এবং কয়েকটি বাছাবাছা বেসরকারী মাধ্যমিক স্কুল; সমস্ত জেলা বোর্ড, লোকাল বোর্ড, জেলা স্কুল বোর্ড ও মিউনিসিপ্যালিটি; এবং সকল শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে মতামতের জন্যে পাঠানো হয়।[১৩]

     

     

    সর্বমোট ১২০০ কপি প্রশ্নমালা উপরোক্ত ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয় এবং তার মধ্যে ৩০৪ জন সেগুলি ফেরত পাঠিয়ে তার মাধ্যমে কমিটিকে নিজেদের মতামত জানান। এই উত্তরগুলির সারাংশ তৈরি করে একটি ছোট পুস্তিকা ছাপা হয় এবং সেটি বিবেচনা এবং পর্যালোচনার জন্যে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।[১৪]

    এ ছাড়া রেডিও পাকিস্তান এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রশ্নমালাটি প্রচার করা হয় এবং জনসাধারণকে সে সম্পর্কে তাঁদের মতামত কমিটির কাছে পাঠানোর জন্যে তাঁরা অনুরোধ জানান। এর ফলে সংবাদপত্রে ও সাময়িক পত্রিকাদিতে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং কমিটি এইভাবে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধের মতামতও বিবেচনা করেন।[১৫] অনেকে সরাসরিভাবে কমিটির কাছে লিখিতভাবে তাঁদের মতামত জানান। কমিটি তাঁদের রিপোর্টে এ প্রসঙ্গে তিনজনের নাম উল্লেখ করেন : ইব্রাহীম খাঁ, ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি; ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ; এবং আবদুল মজিদ, পূর্ব-বাঙলা সরকারের বাংলা অনুবাদক ও রেজিস্ট্রার অব পাবলিকেশন্স।[১৬]

     

     

    কমিটি রিপোর্টে বলেন যে তাঁরা তাঁদের মতামত গঠনের ক্ষেত্রে অনেকগুলি বইপত্রের দ্বারাও উপকৃত হন। এ সমস্ত বইয়ের লেখকদের মধ্যে কতকগুলি নাম তাঁরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। যেমন : ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ আবুল হাসনাত মহম্মদ ইসমাইল, ফিরদৌস খান, মৌলভী জুলফিকার আলী, ‘হেকমতী হুরুদে’র লেখক জাফর আলী। এ ছাড়া ‘Farsight’ ছদ্মনামে লিখিত একটি রচনা এবং তমদ্দুন মজলিশ কর্তৃক প্রকাশিত অপর একটি পুস্তিকার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন।[১৭]

    ৩. ভাষা কমিটির বৈঠক

    ২৩শে জুন, ১৯৪৯, ভাষা কমিটির বৈঠকে কয়েকজন সদস্য বলেন যে সরকার ভাষা কমিটির যে শর্তনির্দেশ করেছেন তাতে হরফ পরিবর্তনের কোন কথা নেই এবং সেই হিসাবে হরফ পরিবর্তনের সম্পর্কে আলোচনা কমিটির এখতেয়ার বহির্ভূত। কিন্তু অন্যেরা বলেন যে ‘সংস্কার’ এবং ‘সহজীকরণে’র কথা যখন বলা হয়েছে তখন তার মধ্যেই হরফের প্রশ্ন এসে যেতে পারে এবং সেটাও বিবেচনা করা দরকার। কিছুক্ষণ এ বিষয়ে আলোচনার পর সভাপতি আকরম খাঁ এই মর্মে অভিমত প্রকাশ করেন যে সরাসরি হরফের কথা উল্লিখিত না হলেও হরফের প্রশ্নটি পূর্ব-বাঙলার লোকের ‘প্রতিভা ও সংস্কৃতি’র সাথে জড়িত, কাজেই সেটি কমিটির আলোচনার এখতেয়ারভুক্ত।[১৮]

     

     

    এ সময় একজন সদস্য জানতে চান যে কমিটির কাজের সাথে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ জড়িত আছে কিনা। এর উত্তরে সভাপতি বলেন যে শর্তনির্দেশের ১ এবং ৩ ধারায় ‘পূর্ব বাঙলার জনগণ’ এই ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে; কাজেই সংখ্যালঘুরাও তার অন্তর্গত।[১৯] এই প্ৰশ্ন খুব সম্ভবতঃ গণেশচন্দ্র বসু উত্থাপন করেন এবং মৌলানা আকরম খাঁর ব্যাখ্যায় তাঁর সন্দেহভঞ্জন না হওয়ায় তিনি কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে নিজের অসম্মতির কথা তাঁদেরকে জানান। এই বৈঠকের পর তিনি কমিটির কোন পরিবর্তী বৈঠকে আর যোগদান করেননি।

    ১৯৫০ এর ১০ই মার্চের বৈঠকে অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন; কাজেই সেদিন বিশেষ কোন আলোচনা হয়নি। তবে মোটামুটিভাবে তাঁরা স্থির করেন যে ভাষা সমস্যার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে বিবেচনার জন্যে কয়েকটি সাব-কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।[২০]

    ৩রা মে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে স্থির হয় যে হরফ পরিবর্তনের প্রশ্নে রোমান হরফের কথা বিবেচনার কোন প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে উর্দু হরফই প্রাসঙ্গিক। কাজেই উর্দু হরফ এবং সহজীকৃত বাংলা হরফের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা দরকার।[২১] হরফ প্রশ্নের উপর অনেক আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে সহজীকৃত বাংলা হরফ অথবা উর্দু হরফ প্রবর্তনের প্রশ্নটি আপাততঃ স্থগিত রেখে এই দুই হরফের উপযোগিতা প্রথমে পরীক্ষা করে দেখা দরকার। তার জন্যে উপরোক্ত দুই হরফে অক্ষরজ্ঞান বিস্তারের উপর বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনের উপরেও তাঁরা গুরুত্ব আরোপ করেন।[২২]

     

     

    এই পর্যায়ে কয়েকজন সদস্য উল্লেখ করেন যে উর্দু হরফের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকার একটা পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেছেন; কাজেই সে বিষয়ে নোতুনভাবে আর কিছু করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আলোচনার পর কমিটি স্থির করেন যে কেন্দ্রীয় সরকার যে পরীক্ষা কার্য হাতে নিয়েছেন তার নির্ভরতা যাচাই করার জন্যে তাঁরা যে অবস্থায় এবং যে বিষয়গুলি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন সেই বিষয়গুলি নিয়েই আরো পরীক্ষা চালানো দরকার।[২৩]

    এই সিদ্ধান্তের পর ডক্টর শহীদুল্লাহ প্রস্তাব করেন যে এই জাতীয় পরীক্ষা শুধু উর্দু এবং সহজীকৃত বাংলা অক্ষরেও চালানো দরকার। তাঁর প্রস্তাব অন্য কোন সদস্য সমর্থন না করায় সেটি বাতিল হয়ে যায়।[২৪]

    সেদিনের বৈঠকে কমিটি বাংলা ভাষার সংস্কার ও সহজীকরণের জন্যে একটি সাব-কমিটি নিযুক্ত করেন। সেই কমিটিতে থাকেন: মৌলানা আকরম খাঁ (সভাপতি), হাবিবুল্লাহ বাহার, ডক্টর মহম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ আবুল হাসনাত মহম্মদ ইসমাইল, অজিতকুমার গুহ, ডক্টর এনামুল হক এবং আবদুল মজিদ।[২৫]

    ১৯শে ও ২০শে অগাস্ট ভাষা কমিটির চতুর্থ বৈঠকে আরো দুটি সাব-কমিটি গঠিত হয়। বিদেশী শব্দ বাংলায় শব্দান্তরিত করার জন্যে যে সাব-কমিটি তাঁরা গঠন করেন তাতে থাকেন: মৌলানা আকরম খাঁ (সভাপতি), আবুল হাসনাত ইসমাইল, শাইখ শরাফুদ্দীন, একিউএম আদমউদ্দীন এবং আবুল সাঈদ মাহমুদ (কনভেনর)।[২৬] উর্দু হরফ সাব-কমিটির সদস্য থাকেন: মৌলানা আকরম খাঁ (সভাপতি), শাইখ শরাফুদ্দীন, একিউএম আদমউদ্দীন, জুলফিকর আলী এবং আবু সাঈদ মাহমুদ (কনভেনর)।[২৭]

    ১৯ শে সেপ্টেম্বর ভাষা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে হরফ প্রশ্নের উপর কতকগুলি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে কমিটি উর্দু হরফ সাব-কমিটির রিপোর্টেটি আলোচনা করেন। সাব- কমিটির রিপোর্টটিতে বলা হয়:

    সুতরাং যেহেতু আরবীতে কোরাণ পাঠ সকল মুসলমানের জন্যে বাধ্যতামূলক ও সেই হিসাবে প্রস্তাবিত প্রাথমিক শিক্ষা স্কীমে পাঠ্যতালিকাভুক্ত এবং বাংলা ও উর্দু (উর্দু হচ্ছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা) উভয় ভাষাই প্রস্তাবিত মাধ্যমিক শিক্ষা স্কীমে উর্দুভাষী ও বাংলাভাষী শিশুদের জন্যে অবশ্য পাঠ্য বিষয় এবং যেহেতু সহজীকৃত অবস্থাতেও বাংলা হরফ একাধিক হরফের ভার লাঘব করবে না উপরন্তু চিরকালের জন্যে আমাদের জনগণের উপর একটা নিষ্প্রয়োজনীয় এবং গুরুতর বোঝা চাপিয়ে দিবে তাই হরফ, বানান ও ব্যাকরণের মধ্যে বাস্তবতঃ যতখানি সম্ভব ঐক্য বিধান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই হিসাবে উর্দু হরফ সাব- কমিটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সুপারিশ করছে বাংলা হরফের পরিবর্তে উর্দু হরফ (অর্থাৎ ফারসী ও উর্দু অক্ষর সংযোজিত আরবী হরফ) ব্যবহার অবশ্য প্রয়োজনীয়।[২৮]

    এ ছাড়া নিজেদের মূল সুপারিশকে কার্যকরী করার জন্যে তাঁরা যে পথ নির্দেশ করেন তার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে উর্দু হরফে লেখা বই পড়তে শেখানোর জন্যে শিক্ষকদের শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন এবং মুদ্রক, প্রকাশক ও সংবাদপত্র মালিকদের কাছে উর্দু হরফ চালু করার আবেদন উল্লেখযোগ্য।[২৯]

    উর্দু ভাষা সাব-কমিটির উপরোক্ত সুপারিশগুলি আলোচনার পর ভাষা কমিটি খুব দৃঢ়ভাবে অভিমত প্রকাশ করেন যে, সে পর্যায়ে বাংলা ভাষায় উর্দু হরফ প্রবর্তন বাঞ্ছনীয় অথবা সম্ভব কোনটিই নয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তি দিতে গিয়ে তাঁরা বলেন:

    ক. সহজীকৃত ও সংস্কারপরবর্তী অবস্থায় বাংলা হরফ যে রূপ নেবে তাতে সেটা উর্দু অথবা অন্য যে কোন হরফ থেকে পড়া, লেখা, ছাপানো অথবা টাইপের কাজের পক্ষে অনেক সহজ হবে।

    খ. বাংলা শব্দের উচ্চারণের মধ্যে যে বিশেষত্ব আছে তা উর্দু হরফের মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

    গ. বাংলাতে উর্দু হরফ গ্রহণ করলে বিগত ৫০০ বছরের বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাথে ভবিষ্যৎ বংশধরদের সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন হবে। বাংলা সাহিত্যের বিশাল সম্পদ, যার একটা বড়ো অংশ মুসলিম সাহিত্যিক, কবি ও চিন্তাবিদদের দ্বারা গঠিত, উর্দু হরফে রূপান্তরিত করা এবং সেটা ছাপার ব্যবস্থা করা এক দারুণ কঠিন ব্যাপার। ঘ. উর্দু হরফের আশু প্রবর্তন প্রদেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে লণ্ডভণ্ড করে দেবে এবং সেই হিসাবে সেটা শিক্ষার প্রগতির পক্ষে হয়ে দাঁড়াবে ভয়াবহ। এর দ্বারা যে শুধু যাবতীয় পাঠ্যপুস্তক নোতুন হরফে রূপান্তরিত করার প্রয়োজন দেখা দিবে তাই নয়। এই প্রয়োজন মেটানো প্রায় অসম্ভব এবং তা প্রদেশের সাধ্যের বাইরে। শুধু তাই নয় এতে করে ৫০,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকদের (যারা উর্দু হরফের সাথে পরিচিত নয়) মধ্যে শতকরা ৯০ জন বেকারে পরিণত হবে। তাদেরকে নোতুনভাবে শিক্ষা দেওয়া অথবা তাদের পরিবর্তে অন্যদেরকে নিয়োগ করা সম্ভব হবে না এবং তাতে করে শতকরা ৯০টি স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া লেখক, বইপুস্তক রচয়িতা, সাংবাদিক, মুদ্রক, কম্পোজিটর প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের লোকের রুজি-রোজগার এর ফলে বন্ধ হবে এবং প্রদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে তা ডেকে আনবে বিশৃঙ্খলা।[৩০] এইসব কারণে তাঁরা বাংলা ভাষায় উর্দু হরফ প্রবর্তন না করার সুপারিশ করেন। শাইখ শরাফুদ্দীন এই সুপারিশের বিরোধিতা করায় প্রস্তাবটি ভোটে দেওয়া হয়। মৌলানা আকরম খাঁসহ আটজন সদস্য প্রস্তাবের স্বপক্ষে ভোট দেন। বিরোধিতা করেন শাইখ শরাফুদ্দীন এবং জুলফিকার আলী। এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে শ‍ইখ শরাফুদ্দীন নিজের বক্তব্য পৃথকভাবে রেকর্ড করেন।[৩১]

    কমিটি এর পর অবশ্য উর্দু ভাষার প্রচলনের জন্যে যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করে একটি পৃথক প্রস্তাব নেন, যাতে তাঁরা বলেন যে স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে বাধ্যতামূলকভাবে উর্দু শিক্ষার প্রবর্তন করা দরকার। এই প্রসঙ্গ উর্দু ভাষার সংস্কারের প্রয়োজনের কথাও অবশ্য তাঁরা উল্লেখ করেন।[৩২]

    ১৯শে সেপ্টেম্বরের এই বৈঠকে ভাষা সংস্কার সাব-কমিটির রিপোর্টও আলোচিত হয় এবং সে বিষয়ে ভাষা কমিটি তাঁদের প্রস্তাবে সাব-কমিটির সুপারিশগুলিকে অনুমোদন করেন। সেগুলিকে কার্যকরী করার জন্যে সরকারের কাছে তাঁরা নিজেরাও কতকগুলি বিশেষ সুপারিশ জানান।[৩৩]

    বাংলা ভাষা, বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা বর্ণমালা, বানান পদ্ধতি ও হরফ নোতুন টেকনিক্যাল ও বিদেশী শব্দ বাছাই এবং বিদেশী শব্দের শব্দান্তকরণ ইত্যাদি বিষয়ে ভাষা কমিটি অনেক রকম সুপারিশ করে।

    ভাষা সংস্কার সাব-কমিটির রিপোর্টটিকে প্রায় হুবহু অনুমোদন করে সর্বত্র সহজ বাংলার দ্রুত প্রচলনের জন্যে তাঁরা প্রাদেশিক সরকারকে ভালোভাবে তাগিদ দেন।[৩৪] ‘সাধু ভাষা’ ও ‘চলিত ভাষা’ আধুনিক বাংলার এই দুই ঢংকেই তাঁরা স্বীকৃতি দেন।

    ১. পূর্ব-বাঙলায় প্রচলিত সরল শব্দবিন্যাস ও সহজ বাক্যরীতির ব্যবহার দ্বারা ভাষায় সংস্কৃত প্রভাব যথাসম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে;

    ২. মুসলিম লেখকদের প্রকাশভঙ্গী ও ভাবসমূহ ইসলামী আদর্শের সাথে Strictly conform করা উচিত এবং

    ৩. পূর্ব-বাঙলায় সাধারণভাবে ব্যবহৃত শব্দ, idiom, phrase, বিশেষত পুঁথি ও বহুল প্রচলিত সাহিত্যে যেগুলি ব্যবহৃত হয় সেগুলি ভাষাতে আরও স্বাধীনভাবে প্রবর্তন করতে হবে।[৩৫]

    উপরিনির্দেশিত নিয়মকানুন অনুসারে কিভাবে বাক্য রচনা করতে হবে সাব-কমিটির রিপোর্টে তার কতকগুলি উদাহরণ দেওয়া হয়। উদাহরণগুলি নীচে উদ্ধৃত করা হলো:

    ক. অরণ্য বিহঙ্গম-কাকলীতে মুখরিত ও নির্ঝরণীর কলনাদে নন্দিত = পাখীর গানে ও ঝর্ণার গানে বন গমগম করিতেছে।

    খ. তিনি যাবতীয় বিষয় আনুপূর্বিক অবগত হইয়া বিস্ময়াপন্ন হইলেন = তিনি সবকিছু আগাগোড়া শুনিয়া তাজ্জব হইলেন।

    গ. যতদিন পৃথিবীতে জীবন ধারণ করিব, ততদিনে তোমায় বিস্মৃত হইব না = তোমাকে সারাজীবন মনে রাখিব।

    ঘ. আমি তোমার জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না = আমি তোমায় কেয়ামতের দিন পর্যন্ত ভুলিব না।

    ঙ. হে কায়িদ-ই-আজম, আমরা তোমার পদে শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিবেদন করি = কায়িদ-ই-আজম, আমরা তোমারে মন-প্রাণে সম্মান করি আর তোমায় সালাম জানাই।

    চ. মাসের পরিসমাপ্তিতে ঋণ শোধ করিব = মাস কাবারিতে দেনা (করজ) আদায় করিব।

    ছ. আমায় দুটো ভাত দাও = আমার চারটা ভাত দাও।

    জ. হিল্লোলিত সমীরে তরঙ্গিনী আন্দোলিত হইতে লাগল = লীলুয়া বাতাসে নদী নাচিতে লাগিল।[৩৬]

    উপরোক্ত উদাহরণগুলি যে কত যান্ত্রিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এই যে সংস্কৃত প্রভাবিত বলে যে বাক্যগুলি উল্লেখ করা হয়েছে সে রকম বাক্য এখন কেউ ব্যবহারই করে না। এমনকি পশ্চিম বাংলার হিন্দু সাহিত্যিকেরা পর্যন্ত সে রকম ভাষার ব্যবহার এখন তো করেনই না বরং তার ব্যবহার হিন্দুরা বহু দিন পূর্বেই বাদ দিয়েছেন। কাজেই সাব-কমিটি এক্ষেত্রে কতকগুলি কাল্পনিক উদাহরণ ইচ্ছামতভাবে গঠন করে সেগুলিকে সহজ করার আপ্রাণ চেষ্টায় চলিত শব্দ এবং দু’ চারটে আরবী ফারসী শব্দ আমদানী করে ভাষার বিপ্লব সৃষ্টি করছেন বলে যে দাবী করেছেন তার কোন সত্যিকার ভিত্তি নেই। উপরন্তু যাঁরা সাহিত্য রচনা করবেন তাঁদের উপর হুকুমদারী করার প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে কমিটির অধিকাংশ সদস্য নিজেদের মুৎসুদ্দী চরিত্র সমগ্র রিপোর্টটির মধ্যে খুব ভালোভাবেই জাহির করেছেন।[৩৭]

    বিভিন্ন পর্যায়ে ভাষা কমিটির বৈঠকগুলিতে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সেগুলিই সুপারিশ হিসাবে সরকারের কাছে পেশ করা হয়। কমিটির অধিকাংশ সুপারিশের সাথেই শাইখ শরাফুদ্দীনের মতানৈক্য ঘটায় মূল রিপোর্টটির সাথে নিজের অভিমতও তিনি রেকর্ড করেন এবং সেটিও কমিটির রিপোর্টের সাথে সরকারের কাছে পেশ করা হয়। শাইখ শরাফুদ্দীন তাঁর সুপারিশে অন্যান্য অনেক কিছুর সাথে বলেন যে দেশের বিপুল সংখ্যক লোক আরবী হরফে বাংলা লেখার পক্ষপাতী কাজেই আরবী হরফ প্রচলনের জন্যে কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তার সাথে প্রাদেশিক সরকারের উচিত ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করা। তিনি আরও বলেন যে উর্দু যেহেতু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা তাই সকল পাকিস্তানীকেই উর্দু শিখতে হবে।[৩৮]

    ৭ই ডিসেম্বর, ১৯৫০, পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটি তাঁদের মূল রিপোর্টকে চূড়ান্ত আকার দেন[৩৯] এবং তাতে নিম্নলিখিত সদস্যেরা স্বাক্ষর প্রদান করেন:

    ১. মোহাম্মদ আকরম খাঁ

    ২. আবদুল্লাহ আল-বাকী

    ৩. মহম্মদ শহীদুল্লাহ

    ৪. সৈয়দ মহম্মদ আফজল

    ৫. হবিবুল্লাহ চৌধুরী

    ৬. মীজানুর রহমান

    ৭. সৈয়দ আবুল হাসনাত মহম্মদ ইসমাইল

    ৮. অজিতকুমার গুহ

    ৯. একিউএম আদমউদ্দিন

    ১০. আবুল কালাম শামসুদ্দীন

    ১১. শামসুন্নাহার মাহমুদ

    ১২. শাইখ শরাফুদ্দীন – অনৈক্যমূলক নোটসহ। [৪০]

    যে দিন ভাষা কমিটির রিপোর্টটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয় সেদিনই সেটি কমিটির সভাপতি মৌলানা আকরম খাঁ কর্তৃক পূর্ব-বাঙলা সরকারের শিক্ষা দফতরের সেক্রেটারীর কাছে প্রেরিত হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রাদেশিক সরকার সেটিকে জনসাধারণের অবগতির জন্যে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। কমিটি ভাষা সংস্কার ইত্যাদি প্রশ্নের বহু প্রতিক্রিয়াশীল সুপারিশ পেশ এবং অনাবশ্যক প্রশ্নের অবতারণা সত্ত্বেও তাঁরা আরবী হরফ প্রচলন ইত্যাদির বিরুদ্ধে দৃঢ় মত পোষণ করেন।

    ভাষা কমিটি স্থাপনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো আরবী হরফ প্রচলনের পক্ষে একটা সুপারিশ আদায় করা। ফজলে আহমদ করিম ফজলী এবং অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা ভাষা কমিটির অন্য সুপারিশগুলির প্রতি কোন গুরুত্ব আরোপের প্রয়োজন আর বোধ করেননি। উপরন্তু সেই রিপোর্টকে চেপে রেখে তার সুপারিশের বিরুদ্ধে সমগ্র পূর্ব-বাঙলায় আরবী হরফ প্রচলনের উদ্দেশ্যে সরকারীভাবে এর পরও তাঁদের উদ্যোগ তাঁরা অব্যাহত রাখেন।

    পাকিস্তানে সামরিক শাসন কায়েম হওয়ার পরই সর্বপ্রথম ভাষা কমিটির এই রিপোর্ট ১৯৫৮ সালেই প্রকাশিত হয়। পূর্বে যে কারণে সরকার রিপোর্টটি প্রকাশ করেননি ঠিক সেই কারণেই আইয়ুব সরকার সেটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন।

    পূর্বে আরবী হরফ প্রচলন সম্ভব না হওয়ায় সরকার রিপোর্টটি প্রকৃতপক্ষে বাতিলই করে দেন। কিন্তু আইয়ুবের সময়ে আরবী হরফ প্রচলনের প্রশ্ন উত্থাপন ছিলো একেবারেই অসম্ভব, কাজেই সেই কারণে রিপোর্টটি তাঁদের পক্ষে চাপা দেওয়ার কোন কারণ ছিলো না। তাঁরা সেটির অন্যান্য প্রতিক্রিয়াশীল সুপারিশগুলিকে সেই পর্যায়ে কার্যকরী করার প্রতিই ছিলেন অধিকতর আগ্রহী এবং সেই আগ্রহের ফলেই তাঁরা রিপোর্টটিকে তাড়াতাড়ি প্রকাশ করে দেন।

    আইয়ুবের স্বৈরাচারী শাসনকালে পূর্ব-বাঙলার সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের ক্ষেত্রে যে বিভিন্ন হামলা এসেছিলো ভাষা কমিটির রিপোর্টের উপর গুরুত্ব প্রদান ছিলো তারই প্রথম পদক্ষেপ।

    তথ্যসূত্র (সংশোধন করা হয়নি) – নবম পরিচ্ছেদ: পূর্ব-বাঙলা ভাষা কমিটি

    ১.

    2.

    ৩.

    8.

    •

    Report of the East Bengal Language Committee, 1946. Officer on Special Duty (Home Dept. ) East Pakistan Govt, Press, Dacca. P 2.

    Report, P2.

    পূর্বোক্ত, পৃ ২-৩। পূর্বোক্ত, পৃ ৩।

    পূর্বোক্ত।

    ৬. পূর্বোক্ত

    ৭.

    পূর্বোক্ত।

    ৮. পূর্বোক্ত, পৃ ৪।

    ৯.

    কবি গোলাম মোস্তফা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা ফিরোজা খাতুন, বাঙলা একাডেমী, ডিসেম্বর

    ১৯৬৭, পৃ ৭৮।

    ১০. পূর্বোক্ত, পৃ ৭৯।[১১. পূর্বোক্ত, পৃ ৫২।

    12. Report, P4.

    13. Report, P 4.

    ১৪. পূর্বোক্ত।

    ১৫. পূর্বোক্ত।

    ১৬. পূর্বোক্ত, পৃ ৬।

    ১৭. পূর্বোক্ত।

    ১৮. Report, পৃ ৭৩।

    ১৯. পূর্বোক্ত।

    ২০. পূর্বোক্ত, পৃ ৭৫।

    ২১. পূর্বোক্ত, পৃ ৭৬।

    ২২. পূর্বোক্ত, পৃ ৭৭।

    ২৩. পূর্বোক্ত।

    ২৪. পূর্বোক্ত।

    ২৫. পূর্বোক্ত।

    ২৬. পূর্বোক্ত, পৃ ৮০।

    ২৭. পূর্বোক্ত, পৃ ৮১।

    ৩২২ | বদরুদ্দীন উমর রচনাবলী খণ্ড ২

    ২৮. পূর্বোক্ত, পৃ ১১২।[২৯. পূর্বোক্ত, পৃ ১১৫।

    ৩০. পূর্বোক্ত, পৃ ৮৫।

    ৩১. পূর্বোক্ত।

    ৩২. পূর্বোক্ত, পৃ ৮৬।[৩৩. পূর্বোক্ত, পৃ ৮৬-৮৭।

    ৩৪. পূর্বোক্ত, পৃ ৭।[৩৫. পূর্বোক্ত।

    ৩৬. পূর্বোক্ত, পৃ ১০২ – ৩।

    ৩৭. পূর্বোক্ত, পৃ ১২।

    ৩৮. পূর্বোক্ত, পৃ ১৫।

    ৩৯. পূর্বোক্ত, পৃ ১৪।

    ৪০. পূর্বোক্ত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক – বদরুদ্দীন উমর
    Next Article সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা – বদরুদ্দীন উমর

    Related Articles

    বদরুদ্দীন উমর

    সাম্প্রদায়িকতা – বদরুদ্দীন উমর

    October 30, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    সংস্কৃতির সংকট – বদরুদ্দীন উমর

    October 30, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা – বদরুদ্দীন উমর

    October 30, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক – বদরুদ্দীন উমর

    October 29, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি ২ – বদরুদ্দীন উমর

    October 29, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমস্যা – বদরুদ্দীন উমর

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }