Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পৃথিবীর ইতিহাস ২ – সুসান ওয়াইজ বাউয়ার

    ইশতিয়াক খান এক পাতা গল্প641 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৪. মিশরের অ্যাসিরীয়রা

    অধ্যায় ৫৪ – মিশরের অ্যাসিরীয়রা

    ৬৮১ থেকে ৬৫৩ সালের মধ্যে বর্বরদের হাতে ফ্রিজিয়ার পতন হয়, অ্যাসিরীয়রা ব্যাবিলনের পুনর্নির্মাণ করে এবং মিশর তাদের হাতছাড়া হয়।

    নাবু’র মন্দিরে সেন্নাশেরিব মারা যাওয়ার পর অ্যাসিরীয়া গভীর দুর্যোগে পড়ে যায়।

    বাইবেলের বুক অব ইজাইয়াহ-এর মাঝে সংরক্ষিত বর্ণনা মতে, সেন্নাশেরিবের হত্যাকারী দুই আততায়ী ‘আরারাতের ভূখণ্ডে পালিয়ে যান’। এর অর্থ খুব সম্ভবত এটাই যে, তারা উত্তরাভিমুখে পালিয়ে যান, যেখানে উরারতু’র পর্বতময় অঞ্চল অবস্থিত ছিল। প্রথম রুসাসের আত্মহত্যার পর এই রাজত্ব ধীরে ধীরে নিজেদের ফিরে পাচ্ছিল। নতুন রাজা দ্বিতীয় রুসাস (প্রথম জনের নাতি) তার সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি অ্যাসিরীয়দের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজার হত্যাকারীদের আশ্রয় দিলেন।

    ইতোমধ্যে সেন্নাশেরিবের বাকি ছেলেদের মধ্যে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে তীব্র যুদ্ধ দেখা দিল। অবশেষে জয়ী হলেন সবচেয়ে ছোটছেলে এসারহাদোন। তিনি একটি প্রিজমের উপর (পাথরের তৈরি পিলার, যার ৬ থেকে ১০টি পাশ ছিল) লেখা তার বার্তা ছিল এরকম :

    ভাইদের মধ্যে আমি সবার চেয়ে ছোট ছিলাম। কিন্তু আশুর ও শমেশ, বেল ও নাবু’র আদেশ মতে আমার বাবা আমাকে আমার ভাইদের মাঝে নির্বাসন দেন।

    তিনি শমেশকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এটাই কি আমার উত্তরাধিকারী?

    দেবতারা উত্তর দিলেন, ‘তিনি আপনার দ্বিতীয় সত্তা’।

    একথা শুনে আমার ভাইদের মাথা পাগল হয়ে গেল।

    তারা দেবতাদের অবজ্ঞা করে তরবারি উঁচু করলেন, এই নিনেভেহ’র মধ্যখানে।

    কিন্তু আশুর, শমেশ, বেল, নাবু, ইশতার—সকল দেবতা এসব দুষ্কৃতিকারীর এহেন কর্মকাণ্ডে ক্রোধ দেখালেন এবং তাদের শক্তিমত্তা, দুর্বলতায় রূপান্তরিত হল। সবাই আমার কাছে বশ্যতা স্বীকার করলেন।

    .

    নিঃসন্দেহে এসারহাদোন রাজমুকুট জিতে নিলেন। তবে তার বৃদ্ধ পিতার হত্যাকাণ্ডের আগেই তাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার গল্পটায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। বরং মনে হয়, তার সিংহাসনে আরোহণকে বৈধতা দেওয়ার জন্যই এ গল্প উদ্ভাবন করা হয়েছে।

    সিংহাসনে বসার পর এসারহাদোন টের পেলেন, তার সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ক্ষয় দেখা দিয়েছে। সরকারি চিঠি থেকে জানা যায়, প্রায় অ্যাসিরীয় প্রদেশগুলোতে অবস্থিত ১৫-১৬টি গুরুত্বপূর্ণ শহর দীর্ঘদিন ধরে নজরানা পাঠাচ্ছে না। সেন্নাশেরিব তাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের কোনো চেষ্টাই করেননি। এছাড়াও, সেন্নাশেরিবের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ব্যাবিলনের ধ্বংসস্তূপকে ঘিরে চালদিয়ান বিদ্রোহ দানা বেঁধে ওঠে। বলাই বাহুল্য, এর নেতৃত্বে ছিলেন আমাদের প্রিয় মেরোদাক-বালাদানের ছেলে। তার নাম ছিল নাবু-জেরকেত্তি-লিশার এবং তিনি উপসাগরের মাথায় বসে কয়েক বছর ধরে বিট-ইয়াকিন শাসন করছিলেন। তিনি সকল গোত্র থেকে সেনা সংগ্রহ করলেন এবং পুরনো ব্যাবিলন সাম্রাজ্য দখলের ইচ্ছা নিয়ে প্রথম শহর হিসেবে উর দখল করতে এলেন।

    এসারহাদোন অনুধাবন করলেন, মেরোদাক-বালাদানের ‘অতৃপ্ত আত্মা অ্যাসিরীয়ার রাজাদের বিরক্ত করতেই থাকবে। তাই এ সমস্যার পাকাপাকি সমাধান করতে তিনি সেনা পাঠালেন। নাবু-জেরকেত্তি-লিশার এলামে পালালেন। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে তিনি আবিষ্কার করলেন, এলামের সদ্য-অভিষিক্ত নতুন রাজা নতুন অ্যাসিরীয় শাসককে চটাতে আগ্রহী ছিলেন না। নাবু-জেরকেত্তি- লিশারকে গ্রেপ্তার করা হল এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল।

    একইসঙ্গে এসারহাদোন প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাবিলনের উদ্দেশে টাকা ও জনবল বিনিয়োগ করতে লাগলেন।

    সেন্নাশেরিবের উন্মত্ত ধ্বংসযজ্ঞের পরিণাম ভালো ছিল না। ব্যাবিলনের মতো পবিত্র ও প্রাচীন শহর ধ্বংসের ঘটনার তার নিজের সভাসদরাও খুশি ছিলেন না। এমনকি দেশের জনগণও নয়। ব্যাবিলনের দেবতারা তাদেরও অনেক কাছের জন। ব্যাবিলন থেকে মারদুকের মূর্তি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই দেবতাদের প্রতি অপমান হিসেবে দেখেন এবং স্বর্গ থেকে যেকোনো মুহূর্তে শাস্তি নেমে আসতে পারে, এই ভয়ে তারা ভীত ছিলেন।

    এসারহাদোনের নিজস্ব নথি মতে, তিনি মারদুকের প্রতি ভালোবাসা থেকে ব্যাবিলন পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এ সিদ্ধান্ত তার জন্য কিছুটা ঝামেলার ছিল। তিনি যদি মারদুকের প্রতি অপমানের প্রতিকারের প্রতি অনেক বেশি সময় দিয়ে ফেলেন, তাহলে সেটি একাধারে তার পিতার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। সেক্ষেত্রে তিনি ‘স্বর্গীয় ক্ষমতায়’ রাজা হওয়ার যে অজুহাত ব্যবহার করছিলেন, সেটাতে সন্দেহের অবকাশ দেখা দেবে।

    এই সমস্যার সমাধানে তিনি ব্যাবিলন ধ্বংসের বিষয়টি ব্যাখ্যা করার সময় তার পিতার কথা একেবারেই চেপে গেলেন। ব্যাবিলনের ‘বন্যার’ বর্ণনায় তিনি ‘মানুষের হাত এ থাকার বিষয়টি উপেক্ষা করলেন এভাবে :

    আগের কোনো এক রাজার রাজত্বে,
    ব্যাবিলনে ছিল অশুভ লক্ষণ।
    সেখানে ছিল অপরাধ, অবিচার, মিথ্যে,
    বাসিন্দারা দেবতাদের অবমাননা করতেন।
    নিয়মিত পূজাও করতেন না, ভেটও দিতেন না,
    তারা এলামের ঋণ পরিশোধ করতে মন্দিরের সম্পদ লুঠ করতেন,
    ব্যাবিলনের সব সম্পদ তারা অন্যদের দেওয়ার হন্য হাতিয়ে নিলেন।
    আমার সময়কালের আগে, মারদুক ব্যাবিলনের ওপর ক্ষিপ্ত হলেন,
    আরাহতু নদীতে এল জলোচ্ছ্বাস এবং শহর পরিণত হল এক ধ্বংসস্তূপে,
    ব্যাবিলন পরিণত হল এক মৃতনগরীতে,
    নলখাগড়া আর পপলার গাছ জন্মাল সেই পরিত্যক্ত নগরীতে,
    দেব-দেবীরা তাদের উদ্দেশে নিবেদিত মিনারকে ত্যাজ্য করলেন,
    বাসিন্দারা অন্যত্র আশ্রয় নিতে ছুটলেন।

    নিঃসন্দেহে এটি এক ভয়াবহ ইতিহাস ছিল। কিন্তু একইসঙ্গে এটি একধরনের অসামান্য অপপ্রচারও ছিল। ‘আমার কালের আগে’ কথাটি খুবই অর্থবহ; এর মাধ্যমে এসারহাদোন তার নিজের কাছ থেকে যেমন দায় সরালেন, তেমনি পিতাকেও কলুষযুক্ত রাখলেন। দেবতারা রাগ করে ব্যাবিলন ছেড়ে চলে গেছেন, এই বর্ণনা বাস্তব সত্য ‘গরুর গাড়িতে করে তাদেরকে (মূর্তি) অ্যাসিরীয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে’-এর চেয়ে অনেক শ্রুতিমধুর ছিল। এলামের কাছে ধর্না দেওয়ায় মারদুক ক্ষিপ্ত হয়েছেন, ‘আগের রাজার’ ওপর দোষ চাপানো, ‘আরাহতুর জলোচ্ছ্বাস’–এ সবই সুনিপুণ মিথ্যের জালে তৈরি রোমান্টিক ইতিহাস।

    মারদুকের মূর্তি অ্যাসিরীয়াতেই থেকে গেল। ফলে ব্যাবিলনের বাসিন্দারা বুঝতে পারলেন, তাদের দেবতা ব্যাবিলনের বৈধ রাজার সঙ্গেই আছেন। ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে এসারহাদোন মন্দির ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করলেন এবং রাস্তাগুলোকে নতুন করে পাকা করলেন। তিনি প্রতিটি সড়কে তার নিজের উদ্দেশে স্তুতিবাক্য লেখানোর ব্যবস্থা করলেন। এসাগিলার মন্দির কমপ্লেক্স পর্যন্ত সড়কের ওপর অসংখ্য ইটে লেখা ছিল, ‘মারদুকের দেবতার উদ্দেশে—এসারহাদোন, সমগ্র বিশ্বের রাজা, অ্যাসিরীয়া ও ব্যাবিলনের রাজা।

    মেরোদাক-বালাদানের বিট-ইয়াকিন গোত্রের ভ্রাতৃসম গোত্র বিট-ডাক্কুরি গোত্র অবস্থা বেগতিক দেখে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে উদ্যত হল। তারা ব্যাবিলনে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করল। তবে এসারহাদোন চালদিয়ানদের বিশ্বাস করতে প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি বেশ মজার একটি উত্তর পাঠালেন।

    চিঠির শুরুতে লিখলেন : ‘রাজার কাছ থেকে অ-ব্যাবিলনীয়দের প্রতি বার্তা।

    আমি তোমাদের কাছে পুরোপুরি অর্থহীন এই চিঠি ফেরত পাঠাচ্ছি। এমনকি, এর সিল-গালাও খোলা হয়নি। তোমরা হয়তো বলবে, ‘কেন তিনি এটা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিলেন?’।
    যখন ব্যাবিলনের নাগরিকরা, যারা আমার অনুগত ও যারা আমাকে ভালোবাসে, তারা আমার কাছে চিঠি পাঠায়, তখন আমি তাদের চিঠি খুলে পড়ি। কিন্তু কেন আমি অপরাধীদের হাতে লেখা চিঠি গ্রহণ করব, আর কেনইবা সেটা আমি পড়ব?

    এই চিঠি পাঠানোর পর এসারহাদোন চালদিয়ানদের ব্যাবিলনের দক্ষিণ ভূখণ্ড থেকে বিতাড়ন করার জন্য সেনা পাঠালেন। তাদের উদ্দেশ্য, চালদিয়ানদের তাদের আদি নিবাস, অর্থাৎ জলাভূমিতে পাঠিয়ে দেওয়া।

    ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্ব দিকে এক নতুন হুমকির সৃষ্টি হচ্ছিল। কাস্পিয়ান সাগরে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে-বেড়ানো যাযাবর গোত্রের সদস্যরা একীভূত হচ্ছিল অ্যাসিরীয়রা এই নবাগতদের জিমিররাই বলে অভিহিত করে। পরবর্তীতে ইতিহাসবিদরা তাদেরকে সিম্মেরিয়ান নামে অভিহিত করে।

    পর্বত থেকে আসা আরও অসংখ্য যাযাবরদের মতো, সিম্মেরিয়ানরাও অন্য সবকিছুর চেয়ে যুদ্ধ-সক্ষমতায় এগিয়ে ছিল। অ্যাসিরীয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে তাদের অভিযান এশিয়া মাইনরের একপ্রান্তে অবস্থিত সিলিসিয়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারা উরারতিয়ান রাজা দ্বিতীয় রুসাসের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনা এসারহাদোনের নজরে আসে। সিম্মেরিয়ান ও উরারতিয়ান জোট তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

    উত্তরের সীমান্তকে আরও বলিষ্ঠ করতে এসারহাদোন ককেশাস পর্বতমালা থেকে নেমে আসা দ্বিতীয় আরেক দল যাযাবরের সঙ্গে একটি সাময়িক জোট গঠন করেন। এক সিম্মেরিয়ান ও উরারতিয়ানদের বিরুদ্ধে এই স্কাইথিয়ানরা একটি বাড়তি ‘হাত’ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এসারহাদোন তাদেরকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতেন না। এসারহাদোনের আমলে সূর্যদেবতা শামাশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল, যার উদাহরণ হিসেবে কিছু ট্যাবলেট আজও টিকে আছে। সেখানে বলা হয় :

    হে মহান প্রভু শামাশ, উরারতুর রাজা রুসাস কি সেনা নিয়ে আসবে, এবং সিম্মেরিয়ান (বা তাদের কোনো মিত্র) কি যুদ্ধ, হত্যা ও লুটপাট করবে?
    হে মহান প্রভু শামাশ, আমি যদি আমার কোনো এক কন্যাকে স্কাইথিয়ানদের রাজার সঙ্গে বিয়ে দিই, তবে কি তিনি আমাকে নিয়ে ভালো ভালো কথা বলবেন? শান্তি নিয়ে সত্য ও সৎ কথাবার্তা বলবেন? তিনি কি আমার মৈত্রীচুক্তির প্রতি সম্মান রাখবেন এবং আমাকে যা তুষ্ট করে, তা বলবেন?
    হে মহান প্রভু শামাশ, সিম্মেরিয়ান অথবা মেদেস বা অন্য কোনো শত্রুর বাহিনী কি আক্রমণ করবে? তারা কি সুড়ঙ্গপথে, মই বেয়ে অথবা মিথ্যে মৈত্রীচুক্তির মাধ্যমে শহরগুলো দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চালাবে?

    তবে এসব প্রশ্নের কোনো সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল না।

    পরিশেষে এসারহাদোন খ্রিস্টপূর্ব ৬৭৬ সালে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য হলে। সিম্মেরিয়ান যাযাবররা পশ্চিমে অনেক দূর এগিয়ে এসে ফ্রিজিয়ার সীমান্তে হাজির হলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

    সমৃদ্ধশালী ফ্রিজিয়ানরা অসহায় ছিলেন না। তাদের গ্রামগুলো পাহাড়ের চূড়ায় ছিল এবং বাড়িগুলো পাথরের তৈরি শক্ত ভিত্তির উপর নির্মাণ করা হয়। হাজারো বছর পরেও প্রতিরক্ষার কথা মাথায় রেখে নির্মিত এই বাসভবনগুলো টিকে রয়েছে। মাইডাস শহরের মাইডাস স্মৃতিস্তম্ভটি উদীয়মান সূর্যের দিকে মুখ করে নির্মাণ করা হয়। বাকি সব উঁচু দালানগুলোও একই নকশায় নির্মিত। সূর্যোদয়ের সময় এর ধূসর পৃষ্ঠ কিছু সময়ের জন্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং নকল দরজাগুলো জ্বলজ্বল করতে থাকে।

    কিন্তু এত সতর্কতার পরেও সিম্মেরিয়ানদের অতর্কিত হামলা তাদেরকে শশব্যস্ত করে তুলল। ফ্রিজিয়ান সেনাবাহিনী পিছিয়ে এসে রাজধানী গরডিয়ান্সে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী ও শহরগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করল-তাদের প্রত্যাশা, শহরের উঁচু প্রাচীর তাদেরকে সুরক্ষা দেবে। কিন্তু সিম্মেরিয়ানরা প্রাচীর পেরিয়ে এপারে চলে আসে এবং পুরো শহরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাদের রাজা মাইডাস (তিগলাথ- পিলেসারের আমলের মাইডাসের নাতি) বুঝতে পারলেন, পরাজয় অবধারিত।

    রাজপ্রাসাদের ভেতরে তিনি আত্মহত্যা করলেন। রোমের ইতিহাসবিদ প্রায় ৬০০ বছর পর আমাদের জানান, তিনি ষাঁড়ের রক্ত পান করে আত্মহত্যা করেন। নিঃসন্দেহে মরিয়া হয়েই তিনি এ-ধরনের অদ্ভুত মৃত্যু বেছে নেন।

    এসারহাদোন এই হুমকির মুখোমুখি হতে তার সেনাবাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেলেন। সিলিসিয়ার যুদ্ধে এসারহাদোন জয়ী হলেন। তিনি সিমেরীয় রাজা তিউশপাকে নিজহাতে হত্যা করেন। এ বিষয়ে তিনি শিলালিপিতে গর্ব প্রকাশ করেন।

    এসারহাদোনের আক্রমণে সিমেরীয় আগ্রাসন প্রতিহত হল এবং এশিয়া মাইনরের পশ্চিম অঞ্চলটি ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গেল। তবে ফ্রিজিয়ার পতন হল। ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া গ্রামগুলো আর কখনোই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এককালে ফ্রিজিয়ান বণিকদের পদচারণায় মুখরিত বাণিজ্যিক রুটগুলো আরও পশ্চিমের গ্রামবাসীদের দখলে চলে গেল। তারা লিডিয়ান নামে পরিচিত ছিলেন। পূর্বাঞ্চলের সমতলভূমি ধ্বংসের পার তাদের রাজা গাইগেস এশিয়া মাইনরের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলেন।

    ততদিনে ২৫তম রাজবংশের নুবিয়ান ফারাওদের অধীনে মিশর কমবেশি একতাবদ্ধ হয়েছে। ৮ বছর ধরে এই স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থেকেছে। বেশ কয়েক বছর আগে সেন্নাশেরিবের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন তিরহাকাহ। সে-যুদ্ধে কোনো ফল আসেনি। সেই রাজপুত্র তিরহাকাহ এখন রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেছেন। এসারহাদোন তার পিতার শুরু করা অভিযানের পরিসমাপ্তি চেয়েছিলেন।

    এসারহাদোনের সপ্তম বছরে দেবতার আশীর্বাদসহ তিনি সমগ্র অ্যাসিরীয় বাহিনী নিয়ে মিশরের উদ্দেশে রওনা হলেন।

    তিরহাকাহ দীর্ঘ অপেক্ষার পর ক্ষমতা পেয়েছিলেন। তিনি এসারহাদোনের অপেক্ষায় হাত-পা ছেড়ে বসে থাকার লোক ছিলেন না। মিশরীয় বাহিনী ফিলিস্তিনি শহর আশকেলনের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে আশকেলনের যোদ্ধারা তাদের সঙ্গে যোগ দেন এবং এই যৌথবাহিনী এসারহাদোনের মোকাবিলা করার জন্য অপেক্ষায় থাকে। যতক্ষণে অ্যাসিরীয়রা সেখানে এসে পৌঁছায়, ততক্ষণে তারা ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। দক্ষিণের উদ্দেশে এই দীর্ঘ পদযাত্রায় তারা যাযাবর আরব-গোত্রদের মোকাবিলা করতে বাধ্য হন। যাযাবররা অ্যাসিরীয়দের খাদ্য ও অস্ত্রের ভালো অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

    যুদ্ধ খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অল্প সময়ের মাঝেই তিরহাকাহ’র বাহিনী জয়ী হয়।

    বদ্বীপ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন এসারহাদোন। তিরহাকাহ মিশরে ফিরে গেলেন এবং বেশকিছু অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে হাত দিলেন। আগের ফারাওদের মতো তিনিও এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তার মাহাত্ম্যের প্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেন। এসব প্রকল্পের মাঝে ছিল নুবিয়ায় অবস্থিত আমুনের সুবিশাল মন্দির।

    কিন্তু এসারহাদোন পুরোপুরি পিঠটান দেননি। তিনি নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। দুই বছর পর, খ্রিস্টপূর্ব ৬৭১ সালে তিনি আবারও ফিরে আসেন। এবার তার বিশ্রাম নিয়ে এবং নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সতেজ বাহিনী নিয়ে আসেন তিনি। মিশরের প্রতিরক্ষাব্যূহকে দুমড়েমুচড়ে সামনে এগিয়ে যান তিনি। তার বাহিনী বদ্বীপ থেকে প্রতিপক্ষকে তাড়া করে মেমফিস পর্যন্ত নিয়ে যায়। সেখানে মিশরের তিরহাকাহ তার সর্বশক্তি নিয়ে শেষবারের মতো নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চালান।

    যখন তিনি বুঝলেন, যুদ্ধে অ্যাসিরীয় বাহিনীর জয় অবধারিত, তখন তিরহাকাহ যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে পিঠটান দিলেন এবং দক্ষিণে তার পূর্বপুরুষদের ভূখণ্ডের দিকে চলে গেলেন।

    এসারহাদোন তার স্ত্রী ও পুত্রসহ পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে আটক করলেন। তিনি বেশ কয়েকজন সভাসদকে হত্যা করলেন এবং পুরো দলটিকে বন্দি করে নিনেভেহ শহরে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। তিরহাকাহর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তিনি অভিজাত বংশীয় বেশকিছু মানুষকে বন্দি করলেন, যাদের মধ্যে ছিলে সাইসের রাজার ছেলে। তিনি তাদের সবাইকে নিনেভেহতে নিয়ে অ্যাসিরীয় হওয়ার দীক্ষা দেওয়ানোর ব্যবস্থা নিলেন।

    তিনি বিশ্বস্ত গভর্নরদের হাতে মিশরের দায়ভার দিয়েছিলেন। তবে এই ‘বিশ্বস্ততা খুব বেশিদিন টেকেনি। এসারহাদোন নিনেভেহ পৌঁছানোর আগেই তাদের আসল রূপ প্রকাশ পায়। সাইসের গভর্নরের নাম ছিল নেচো। তিনিই শুধু বিশ্বস্ত থেকে যান, কারণ তার ছেলে তখনো এসারহাদোনের হাতে জিম্মি ছিলেন। তবে অন্যান্য শহরের রাজ-প্রতিনিধিরা খুব শিগগির অ্যাসিরীয়ার নির্দেশ অবজ্ঞা করতে লাগলেন।

    খবর পেয়ে নিনেভেহ থেকে আবারও মিশরের উদ্দেশে রওনা হলেন এসারহাদোন। তবে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

    এসারহাদোনের প্রয়াণের পর সিংহাসনে বসলেন তার প্রিয় ছেলে এবং তার নিজের হাতে নির্বাচিত উত্তরাধিকারী আশুরবানিপাল। তবে একইসঙ্গে তিনি তার আরেক তরুণ সন্তান শামাশ-শুম-উকিনকে ব্যাবিলনের ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি তার বড়ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে একজন সার্বভৌম শাসক হিসেবে ব্যাবিলন শাসন করতে লাগলেন। আশুরবানিপালের আনুষ্ঠানিক অভিষেকের এক বছর পর ব্যাবিলনে তার অভিষেক হয়। শহরে প্রবেশের সময় তার সঙ্গে ছিল দেবতা মারদুকের ছবি, যিনি অবশেষে ‘নিজ শহরে’ ফিরে আসছিলেন। আশুরবানিপাল এক শিলালিপিতে এটা লেখানোর ব্যবস্থা করেন : ‘এসবই ঘটে আমার শাসনামলে’।

    মহান দেবতা, সবার প্রভু-মারদুক আনন্দ-উল্লাসের মাঝে ব্যাবিলনে প্রবেশ করলেন এবং তার বাসা খুঁজে নিলেন এবং আমি ব্যাবিলনের সম্মানজনক অবস্থান ফিরিয়ে দিলাম এবং আমি শামাশ-শুম-উকিন, আমার প্রিয় ভাইকে ব্যাবিলনের রাজা বানালাম।

    তারপর তিনি তার পিতার পথ অনুসরণ করে মিশরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন। ততদিন তিরহাকাহ আবারও নিজ সিংহাসন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন। আশুরবানিপাল মিশরের ভেতর ঝড়ের বেগে আগ্রাসন চালিয়ে দক্ষিণের থেবেসে পৌঁছে গেলেন। তিনি অ্যাসিরীয়দের প্রতি অনুগত নন এরকম প্রতিটি রাজাকে হত্যা করেন। শুধু অ্যাসিরীয়াপন্থী সাইসের রাজা নেচোকে ছাড় দিলেন তিনি। তার পিতা যেসব মিশরীয় অভিজাত পরিবারের সন্তানদের নিনেভেহ শহরে ধরে নিয়ে গেছিলেন, তিনি তাদের থেকে ৩ জনকে মিশরের প্রতিনিধি-রাজার পদ দিলেন। নেচোর পুত্র সাম্মেটিকাসকে অ্যাসিরীয়া থেকে ফিরিয়ে এনে তার পিতার শহরের অপরপ্রান্তে অবস্থিত পূর্বাঞ্চলীয় শহর আথরিবিসের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল।

    পিতা ও পুত্র সম্মিলিতভাবে বাকি সব শহর শাসনের দায়িত্ব পেলেন।

    তিরহাকাহ তখনো বেঁচে ছিলেন। এবার তিনি দক্ষিণের একেবারে শেষপ্রান্তে উচ্চ নুবিয়ায় চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি চতুর্থ ক্যাটারাক্টের কাছাকাছি অবস্থিত নাপাতা শহরে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি তার চাচাতো ভাইকে উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচন করেন। ধারণা করা হয়, তার নিজ পুত্রকে নিনেভেহ শহরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিরহাকাহর মৃত্যুর পর তার চাচাতো ভাই তানতামানি এমন এক রাজ্যের রাজত্ব পেলেন, যেটি অ্যাসিরীয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

    কিন্তু তারপর তাতানামি একটি স্বপ্ন দেখলেন।

    অভিষেকের ১ বছর পর, রাজা রাতের ঘুমের সময় স্বপ্নে দেখলেন, তার ২ কাঁধের ওপর ২টি সাপ বসে আছে। তখন তিনি জেগে উঠলেন, কিন্তু সাপগুলোকে আর খুঁজে পেলেন না (স্বভাবতই)।

    রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এটা আমি কেন দেখলাম?’

    তার কাছে উত্তর এল, ‘দক্ষিণের ভূখণ্ড আপনার; উত্তরাঞ্চলকেও আপনি নিজের করে নিন। দুই দেবী আপনাকে আশীর্বাদ দিয়েছে। এই ভূখণ্ড পুরোপুরি, অবিভক্তভাবে আপনার।’

    এই দৈব নির্দেশনা পেয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিলেন, মিশরকে অ্যাসিরীয়া ও প্রতিনিধি রাজাদের করায়ত্ত থেকে ছিনিয়ে আনতে হবে।

    প্রথম কয়েকটি যুদ্ধ তিনি খুব সহজেই জিতে নিলেন। অ্যাসিরীয়রা আবারও প্রস্থান করেছিল এবং স্থানীয়রা অ্যাসিরীয় গভর্নরদের শাসন মেনে নিতে ইচ্ছুক ছিল না।

    নীলনদের তীর ধরে তাতানামি আগাতে লাগলেন। প্রায় প্রতিটি শহরেই তাকে স্বাগত জানানো হল এবং তিনি মিত্রদের কাছ থেকে বাড়তি সেনাও পেলেন।

    মেমফিসে এসে তিনি তার প্রথম, প্রকৃত বাধার মুখে পড়লেন। সাইস রাজত্বের নেচো এই নুবিয়ান যোদ্ধাকে ঠেকানোর জন্য তড়িঘড়ি করে অ্যাসিরীয় সৈন্যসমৃদ্ধ একটি জোড়াতালি দেওয়া বাহিনী নিয়ে দক্ষিণের দিকে রওনা হয়েছিলেন।

    পরবর্তী যুদ্ধে নেচোর পতন হল। তার ছেলে সাম্মেটিকাস যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিলেন। কিন্তু প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজেকে বদ্বীপের অভিজাতদের মাঝে চরম অজনপ্রিয় হিসেবে আবিষ্কার করলেন। তারা অ্যাসিরীয় শাসনের পরিবর্তে নুবিয়ার শাসনকে শ্রেয় মনে করত। হেরোডোটাস জানান, একপর্যায়ে সাম্মেটিকাস বদ্বীপ এলাকার ১১ শাসকের হাত থেকে বাঁচার জন্য জলাভূমিতে আশ্রয় নেন। অবশেষে তার স্থান হয় সাইস অঞ্চলে, অ্যাসিরীয় ঘাঁটির পেছনের অংশে অবরুদ্ধ অবস্থায়।

    ইতোমধ্যে সমগ্র বদ্বীপ জুড়ে উৎসব শুরু হয় আর তানতামানি আমুন দেবতার কাছে জয়ের জন্য প্রার্থনা করছিলেন। এ বিষয়টি একটি স্মারক স্টেলেতে খোদাই করা হয়েছে এভাবে, ‘আমুনের নির্দেশনা চলে কেউ দিকভ্রান্ত হতে পারে না!”

    শিগগির আশুরবানিপাল ফিরে এলেন। সঙ্গে আনলেন সুবিশাল বাহিনী। খ্রিস্টপূর্ব ৬৬৩ সালে তিনি সাম্মেটিকাসের মুমূর্ষু বাহিনীর সঙ্গে তার নিজ বাহিনী যুক্ত করলেন। এই সম্মিলিত বাহিনী পুরো বদ্বীপ জুড়ে তাণ্ডব চালাল। দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণে পালাতে বাধ্য হলেন তানতামানি এবং মানবজাতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো থেবেস শহর লুটপাটের শিকার হল এবং এই শহরে যৌথবাহিনী আগুন ধরিয়ে দিল। আমুনের মন্দির ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হল। এর মধ্যে থাকা ধনসম্পদ লুট করা হল, প্রাচীরগুলো ধ্বংস করা হল এবং এর দরজার মুখে থাকা রুপার তৈরি ২টি মিনার বহন করে নিনেভেহ শহরে নিয়ে যাওয়া হল। থেবেসের ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে, দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনা ‘অ্যাসিরীয়দের অমান্য করার পরিণামের’ উদাহরণ হিসেবে প্রচারিত হত।

    তারপর আশুরবানিপাল সব প্রতিনিধি রাজাদের বরখাস্ত করলেন এবং সাম্মেটিকাসকে মিশরের একমাত্র ফারাও হিসেবে নিয়োগ দিলেন। তবে অ্যাসিরীয়া থেকে মিশর এতটাই দূরে ছিল যে, সেখানে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন করা বেশ দুষ্কর ছিল। আশুরবানিপালকে এই দেশটি নিজের করায়ত্তে রাখতে হলে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও অনড় একজন প্রতিনিধি প্রয়োজন ছিল।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিরীয়দের সঙ্গে ওঠাবসা করলেও, সাম্মেটিকাস অতটা বিশ্বস্ত ছিলেন না।

    আশুরবানিপালের পক্ষে যুদ্ধের লড়ার স্বপক্ষে তার একমাত্র যুক্তি ছিল ‘কৌশল’। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তার জীবনের বড় একটি অংশ শত্রুদের বেষ্টনীতে কাটিয়েছেন। সেসময় তার ছিল না কোনো ক্ষমতা, এবং ছিল না কোনো নিজের থাকার জায়গা। তিনি পুরোপুরি শত্রুর কৃপার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ক্ষমতা হাতে পাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি ধীরে ধীরে অ্যাসিরীয়ার প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাতে লাগলেন।

    খ্রিস্টপূর্ব ৬৫৮ নাগাদ সাম্মেটিকাস লিডিয়ার রাজা গাইজেসের কাছে গোপন দূত পাঠাতে লাগলেন। তখন তিনিই ছিলেন এশিয়া মাইনরের একমাত্র ক্ষমতাধর সার্বভৌম শাসক। গাইজেস মিশরীয়দের পুনরুত্থানের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। মূলত, অ্যাসিরীয়দের ক্ষমতা খর্ব হয়, এরকম যেকোনো উদ্যোগের সঙ্গে তিনি থাকতে চাইতেন। গাইজেস সাম্মেটিকাসকে সাহায্য করার জন্য মিশরে বাড়তি সেনা পাঠালেন। যুদ্ধ কবে শুরু হবে, এই অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তারা বিরক্ত হয়ে বিভিন্ন দেওয়া গ্রাফিতি এঁকে রাখে। এসব গ্রাফিতি আজও ওয়াদি আলফার মন্দিরের দেয়ালে দেখা যায়।

    আরও ৫ বছর পর, খ্রিস্টপূর্ব ৬৫৩ সালে তিনি বিদ্রোহ করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে করেন। বদ্বীপে মোতায়েন করা অ্যাসিরীয় সেনাদের বিরুদ্ধে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন এবং তাদের মেরে কেটে পশ্চিমে সেমাইটদের অঞ্চলে পাঠিয়ে দিলেন। তারপর তিনি সাইসকে তার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিলেন এবং থেবেসের সবচেয়ে শক্তিমান অভিজাত পরিবারে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিলেন। এতে তার প্রতিপত্তি প্রথম ক্যাটারাক্ট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল (ক্যাটারাক্ট বিষয়ে জানতে এ বইয়ের প্রথম খণ্ড পড়ুন)।

    আরও দক্ষিণে নুবিয়ার ক্ষমতা বারবার স্থানীয় শাসকদের হাতবদল হতে লাগল। মিশরের তেমন কোনো প্রভাব এ অঞ্চলের ওপর পড়েনি। প্রথম ক্যাটারাক্টের উত্তরে মিশর আরও একবার একজন প্রকৃত ফারাওর (যদিও তিনি অ্যাসিরীয় হিসেবে বড় হয়েছেন) আওতায় চলে এল। তিনিও পুরনো অনেক ফারাওর মতো নিজেকে ‘দুই ভূখণ্ডের একীভূতকারীর’ হিসেবে দাবি করলেন এবং নিজেকে মিশরের প্রধান দেবতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে ঘোষণা দিলেন। মিশরে অনেক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘মাআত’ বা স্বর্গীয় আইন ফিরে এল। জন্মভূমি সাইস শহরকে ঘিরে সাম্মেটিকাসের সাই রাজবংশ বা মিশরের ২৬তম রাজবংশের শাসনামল এভাবেই শুরু হল।

    মিশরের বিদ্রোহে গাইজেসের তেমন কোনো সুবিধা হয়নি। সিম্মেরিয়ানরা নিজেদের পুনর্গঠিত করে পশ্চিমের দিকে পদযাত্রা শুরু করে। এবার অ্যাসিরীয়রা এই সংঘাতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আশুরবানিপাল গাইজেসের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন; সেই লিডিয়া থেকে মিশরে সেনা পাঠানো বিষয়ে। রাজা ডুগডাম্মের অধীনস্থ সিম্মেরিয়ান বাহিনী লিডিয়ার সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে গাইজেসের মৃত্যু হয় এবং সারডিস শহরে অবাধ লুটতরাজ চলে। ডুগডাম্মে আরও দক্ষিণে এগিয়ে যান। এতে তার বাহিনী অ্যাসিরীয় ভূখণ্ডের বেশি কাছে চলে আসে। আশুরবানিপাল চেয়েছিলেন সিম্মেরিয়ানরা অপর এক জাতিকে শিক্ষা দিক, কিন্তু তাদেরকে নিজ ভূখণ্ডের ধারে কাছেও ভিড়তে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না।

    তিনি উত্তরে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তখন রাজসভার পুরোহিতরা এক দৈববাণী শুনালেন, যা শুনে তিনি বেশ ভড়কে গেলেন।

    তারা তাদের রাজাকে বললেন, ‘আপনার ভূমির ওপর আসবে হামলা, এবং সমগ্র ভূখণ্ড ধ্বংস হয়ে যাবে।’ তবে আশুরবানিপালের সৌভাগ্য, সারডিসে লুটপাট চালানোর অল্পদিন পর ডুগডাম্মে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই রোগের উপসর্গ হিসেবে তার পুরুষাঙ্গে গ্যাংগ্রিন হয় এবং তার বমির সঙ্গে রক্ত বের হতে থাকে। এই রোগের কারণে তিনি তার দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আশুরবানিপাল তার উত্তরের যুদ্ধযাত্রা বাতিল করেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপদ্মজা – ইলমা বেহরোজ
    Next Article পৃথিবীর ইতিহাস ১ – সুসান ওয়াইজ বাউয়ার

    Related Articles

    ইশতিয়াক খান

    পৃথিবীর ইতিহাস ১ – সুসান ওয়াইজ বাউয়ার

    July 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }