Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পৃথিবীর ইতিহাস ২ – সুসান ওয়াইজ বাউয়ার

    ইশতিয়াক খান এক পাতা গল্প641 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬০. রোম প্রজাতন্ত্র

    অধ্যায় ৬০ – রোম প্রজাতন্ত্র

    খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ থেকে ৫০১ সালের মধ্যে দৃশ্যপটে কেল্ট ও কার্থেজিয়ানদের আবির্ভাব হলো, আর রোম তাদের রাজাদের পরিত্যাগ করল।

    সদ্যবিজয়ী সাইরাস এশিয়া মাইনরে লিদিয়া অভিযান শেষ করার ভার দিলেন হারপাগাসকে। তিনি লিদীয় মিত্রদের দখলে থাকা উপকূলীয় আইওনিয়ান শহরগুলো দখল করতে গেলেন।

    হেরোডোটাস আমাদের জানান, হারপাগাসের এই অভিযানে একধরনের তাসের ঘর ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে। সাইরাস উপকূলের একদম মাঝে অবস্থিত ফোশিয়ায় অভিযান শুরু করেন। এ শহরের মানুষগুলো ‘গ্রিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়েছিলেন।’

    তারা তখন পাথরের দেয়াল তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হামলার শিকার হয়ে শহরবাসী হারপাগাসকে জানালেন, তারা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হতে পারে, যদি তিনি এক দিনের জন্য আক্রমণ থামিয়ে তাদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করার সুযোগ দেন। তিনি তাই করলেন। আর এই সুযোগে ফিশিয়ানরা তাদের ‘পেন্টেকন্টার’ (একধরনের বড় জাহাজ)-এ করে নারী, শিশু, সব ব্যক্তিগত সম্পদসহ পালিয়ে গেলেন। ফলে, পারশিয়ানরা ফিশিয়ার নিয়ন্ত্রণ পেলেও সেখানে ছিল না কোনো পুরুষ।

    ,

    ইতোমধ্যে সিরনাস, দ্বীপে (কর্সিকার গ্রিক নাম) ফিশিয়ানরা একটি বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন, যার নাম ছিল আলালিয়া। ফিশিয়ানদের অর্ধেক নাগরিক নিজ ভূমির জন্য মর্মবেদনায় ভুগতে লাগলেন। তারা সেই ফেলে আসা শহরের দিকে রওনা হলেন। বাকিরা আলালিয়ার পথে যাত্রা করলেন।

    কর্সিকায় থিতু হয়ে ফিনিশীয়রা একটি বাণিজ্যভিত্তিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী হলেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য পেনটেকনটারগুলো খুবই উপযোগী ছিল। এই জাহাজগুলো বৈঠা বাওয়ার জন্য ৫০ জন মাঝি, ডেকের ক্রু ও ক্যাপ্টেনসহ আরও অনেক মানুষকে জায়গা দিতে সক্ষম ছিল। তারা সবাই প্রয়োজনে যুদ্ধে যোগ দিতে পারতেন। ফলে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের চেয়ে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে পেন্টেকন্টার বেশি উপযোগিতা দেখায়। সাধারণ জাহাজগুলোতে খুব বেশি হলে ৫/৬ জন মানুষ থাকতে পারে। ফিশিয়ানরা চেয়েছিল ভূমধ্যসাগরের পশ্চিমদিকের সব বাণিজ্যিক পথগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। এই পথগুলোর দিকে তখনও গ্রিকরা সেভাবে নজর দেয়নি।

    পশ্চিমের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য তারা উপকূলে একটি উপনিবেশ স্থাপন করে। এ অঞ্চলটি বর্তমানে ‘দক্ষিণ ফ্রান্স’ নামে পরিচিত।

    এই নতুন কলোনির নাম দেওয়া হয় মাসালিয়া। এই উপনিবেশটির মাধ্যমে গ্রিক বণিকরা বেশ কয়েকটি ছোট ছোট গোত্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, যে গোত্রগুলো তখনো খুব বেশি পরিচিত হয়ে উঠতে পারেনি। তারা ছিল মূলত বর্বর গোত্র, যারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করেই বেশ সময় অতিবাহিত করত। এই বর্বর যোদ্ধারা উপকূল থেকে বহু দূরের ভূখণ্ড থেকে এসেছিল। সঙ্গে এনেছিল স্বর্ণ ও লবণ, অ্যাম্বার (একধরনের তৈলস্ফটিক) ও পশমের কাপড় আর সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান পণ্য, টিন।

    এসময় ফিশিয়ানরা কেল্টদের মুখোমুখি হল।

    ‘কেল্ট’ হচ্ছে আরও একটি অ্যানাক্রোনিসটিক নাম। অর্থাৎ, এই জাতি পৃথিবী আসার আরও অনেক পরে তাদেরকে এই নাম দেওয়া হয়। কেন্দ্ৰীয় ইউরোপের পশ্চিম অংশে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ থেকে ৫০০ সালের মধ্যে যাযাবরের মতো ঘুরতে থাকা কিছু গোত্রকে এই নাম দেওয়া হয়। গ্রিক ও রোমান, উভয় জাতিই পরবর্তীতে তাদেরকে ‘কেল্ট’ বা ‘গল’ নাম দেয়। তবে ওই ১০০ বছর তাদের কোনো ‘জাতিগত’ পরিচয় ছিল না। তারা একই উৎস থেকে আসা ছড়ানো-ছিটানো গোত্র ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

    তারা ইন্দো-ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ, বহুবছর আগে তারা কাসপিয়ান ও কৃষ্ণসাগরের মাঝামাঝি জায়গা থেকে এসেছিলেন। এ অঞ্চলটির দখলে ছিল হিতিত, মাইসেনীয় ও আর্য জাতি। এই চার জাতির ভাষায় অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যা থেকে ধারণা করা যায়, তারা সবাই একই জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করে চারটি ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। হিতিতরা পশ্চিমে এশিয়া মাইনরের দিকে এগিয়ে যায়। মাইসেনীয়রা শুরুতে পশ্চিমে গেলেও পরবর্তীতে উত্তরে গ্রিক উপদ্বীপে বসতি গড়ে। ‘কেল্ট’রা উত্তরে আল্পস পর্বতের কাছে এবং পরিশেষে, আরিয়ান বা আর্যরা প্রথমে পূর্বে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণে ভারতে বসতি গড়ে।

    এই ইন্দো-ইউরোপীয় যাযাবর জাতি, যারা পরবর্তীতে কেল্ট নাম পায়, তারা লিখতে জানতেন না। তাই আমরা, ইতিহাসবিদরা শুধু তাদের রেখে যাওয়া কবর ও অন্যান্য পণ্য থেকে এই জাতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা চালাতে পারি। যতদিনে মাসালিয়া শহরটি নির্মাণ করা হয়েছিল (খ্রিস্টপূর্ব ৬৩০ সাল), ততদিনে আধুনিক অস্ট্রিয়া থেকে দক্ষিণের লোয়েরে নদী পর্যন্ত মৃত মানুষকে কবর দেওয়ার বিশেষ এক পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা এটাকে হলস্টাট সভ্যতা বলে থাকি। এই নামকরণের পেছনে কারণ হল এই জাতির রেখে যাওয়া সবচেয়ে সুপরিচিত দুই অবস্থান—একটি কবরস্থান ও দানিউব নদীর দক্ষিণে একটি লবণের খনি।

    হলস্টাট গোত্রের সদস্যরা তাদের কবরে স্বর্ণের গয়না, তলোয়ার ও বর্শা রেখে দিতেন। এ ছাড়া খাবার, পানি ও পাত্রও রেখে দেওয়া হত, যাতে মৃতরা এগুলো ব্যবহার করতে পারে। কোনো গোত্রপ্রধান বা নেতা মারা গেলে, তাদের কবরের চারপাশে অন্যান্য যোদ্ধাদের কবর খোঁড়া হত, যাদের হাতে থাকত দীর্ঘ লোহার তৈরি তলোয়ার। এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে দামি উপকরণ। হলস্টাট গোত্রের বণিকরা তাদের ওয়াগন চালিয়ে মাসালিয়াতে নিয়ে আসতেন। এতে অ্যামবার, লবণ ও টিন থাকত। আধুনিক যুগের কর্নওয়ালের খনির মতো দূরবর্তী জায়গা থেকে এই ওয়াগনগুলো আসত। এগুলো সবই ছিল মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য উপকরণ। এসব পণ্যের বাণিজ্যের মাধ্যমে মাসালিয়া খুব দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল শহরে পরিণত হয়।

    মাসালিয়ার ভিত্তি ফিশিয়ান বাণিজ্য খুবই লাভজনক হয়ে ওঠে। এ বিষয়টি খুব দ্রুত এতরুসকানদের গাত্রদাহের কারণে পরিণত হয়। এতরুরিয়া প্রোপার খুব ব্যস্ত ছিল—তারা উত্তর দিকে দূরদূরান্তে শহর প্রতিষ্ঠা করছিল। এতরুসকানরা যে অঞ্চলকে নিজেদের আওতাধীন, অদখলকৃত ভূখণ্ড ভাবছিল, সেগুলোর দিকে আগ্রাসী গ্রিকরা নজর দেয়। আধুনিক ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একের পর এক গ্রিক উপনিবেশ মাথাচাড়া দিতে শুরু করে। মোনাকো, নিস ও সেইন্ট টোপাজ—তিন অঞ্চলেই আদি জনবসতি গড়ে উঠেছিল গ্রিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মাধ্যমে।

    এ-ধরনের চাপের মুখে এতরুরিয়ার স্বাধীন শহরগুলো নিজেদের মধ্যে জোট সৃষ্টি করে। কারণ খুব সহজ—গ্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এক শতাব্দী আগে, একইভাবে ইতালির পাঁচ এতরুসকান শহর একত্রিত হয়ে রোমের বিরুদ্ধে লড়েছিল। এবার ১২টি এতরুসকান শহর গ্রিক অ্যাম্ফিকটিওনস-এর আদলে জোটবদ্ধ হয়। তাদের লক্ষ্য এক হলেও নিজ নিজ রাজনৈতিক স্বাধীনতা অটুট ছিল। এই এতরুসকান লিগ খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ সালের দিকে গঠিত হয়। এতে ভেই, তারকুইনি ও ভলসিনি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    এত বড় জোট তৈরি করেও এই এতরুসকান লিগের পক্ষে ফিশিয়ান হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা ছিল না। ফিশিয়ানরা চাইলেই গ্রিক মিত্রদের হাজারো জাহাজকে যেকোনো চলমান যুদ্ধে ডেকে নিয়ে আসতে পারত। হেরোডোটাস জানান, এই নিরুপায় পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে এতরুসকানরা কার্থেজিয়ানদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হল।

    আমরা খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ সালের ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছি। সেসময়ই কার্থেজের বয়স ছিল ৩০০ বছরেরও বেশি। আফ্রিকার উত্তর উপকূলে, ভূমধ্যসাগরের তলদেশে ছিল এর অবস্থান। ফিনিশীয় ফেডারেশন তখন ঢিমেতালে চলছিল। এই জোটের সবচেয়ে পুরনো দুই শহর, টির ও সিডন ততদিনে সাইরাসের দখলে ছিল। কিন্তু এই দুই শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত কার্থেজের ছিল নিজস্ব রাজত্ব। ৫৫০ সালে কার্থেজের রাজা ছিলেন মাগো। ইতিহাসে প্রথম কার্থেজীয় রাজা হিসেবে তার নামটাই আমরা জানতে পারি।

    এই ‘মাগো’ (জননী বা মায়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই) রাজার আমলে কার্থেজ ভূমধ্যসাগরে তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। গ্রিকরা তাদের চারপাশে সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকলেও এতে কার্থেজিয়ানদের তেমন আপত্তি ছিল না, যেমনটা ছিল এক্রসকানদের। তারা আলালিয়ায় ফিশিয়ানদের বিরুদ্ধে হামলায় যোগ দিতেও বেশ উৎসাহী ছিল। অ্যারিস্টটলের ‘পলিটিকস’ বইতে এই জোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘একদা একবার এতরুসকান ও কার্থেজিয়ানরা ব্যবসা-বাণিজ্যের খাতিরে সমন্বিত সম্প্রদায় গঠন করেছিল।’

    আলালিয়া বা কর্সিকায় গ্রিকরা এই হামলার বিষয়ে ইঙ্গিত পেয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। হেরোডোটাস জানান, ‘ফিশিয়ানরা ৬০টি জাহাজ প্রস্তুত রাখল। তারা সারডিনিয়ান সাগরে শত্রুর মোকাবিলা করতে গেল।’ এই যুদ্ধের ৪০টি ফিশিয়ান জাহাজ ধ্বংস হল আর বাকি ২০টি এত খারাপভাবে ক্ষতির শিকার হল যে সেগুলো আর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার উপযোগী ছিল না। কিন্তু এগুলো সমুদ্রযাত্রার মতো অবস্থায় ছিল। ফলে ফিশিয়ানরা পাল তুলে কর্সিকায় ফিরে এল। আবারও তারা তাদের নারী ও শিশুদের জাহাজে উঠিয়ে ইতালির একেবারে দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত গ্রিক শহর রেজিয়ামে পালিয়ে গেল।

    তৎকালীন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নৌযুদ্ধের তালিকায় আলালিয়ার যুদ্ধ দ্বিতীয় স্থান দখল করেছিল। তৃতীয় রামেসেস-এর নৌযুদ্ধ ছিল প্রথম অবস্থানে। এই যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এতরুসকানরা ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর জাতিতে পরিণত হয়। তারা কর্সিকা দখল করে নেয়। ফিশিয়ানরা তাদের পেন্টেকন্টারে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল—তারা কোনো গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়। এতরুসকানরা নিজেরাই অসংখ্য উপনিবেশ গড়ে তোলে। স্পেনের উপকূল পর্যন্ত তাদের এই কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। তিবার উপদ্বীপের উত্তরের অংশে তারাই ছিল সবচেয়ে ক্ষমতাবান।

    মাসালিয়ার সঙ্গে আলালিয়ার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, কিন্তু এতরুসকানরা এটি ধ্বংস করেনি। মূল শহর ধ্বংস করার পর ছোটখাটো শহরগুলো নিয়ে তারা খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছিল না। মাসালিয়া খুব সম্ভবত অল্প কিছুদিন অস্তিত্ব-সংকটে ভুগেছিল। কিন্তু ধ্বংস তো দূরে থাক, এই শহর আজও বহাল তবিয়তে টিকে আছে। মাসালিয়া থেকে নামটা বদলে শুধু মার্সেই হয়েছে।

    উল্লেখিত যুদ্ধের ফলে কার্থেজও নিজেদেরকে বিস্তৃত করার সুযোগ পায়। এতরুসকানদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তারা সারডিনিয়ার শাসনভার নেওয়ার দাবি জানায়। পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গ্রিকদের উৎপাত না-থাকায় তারা সেদিক দিয়েও স্পেনের উপকূল পর্যন্ত তাদের দখল বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

    গ্রিকরা পিছু হটেছিল। কার্থেজিয়ান ও এতরুসকানরা ভূমধ্যসাগরে দাপট দেখাচ্ছিল। অপরদিকে, রোমও বসে ছিল না—তাদের আকার ও ক্ষমতা, দুটোই বাড়ছিল। রোম যত বেশি ভূখণ্ড দখল করছিল, ততই বাড়ছিল এই সভ্যতার অভ্যন্তরীণ কোন্দল। রোমের রাজার জন্য দেশ শাসন করা খুবই ঝামেলার ছিল। রোম সাম্রাজ্যের এক অংশের মানুষ অপর অংশের মানুষকে এতটাই ঘৃণা করত যে তারা একে অপরের মধ্যে বিয়েও করতে রাজি হত না।

    এক্রসকান শাসনামলে রোমের রাজা ও প্রজারা নিজেদের মধ্যে একধরনের বন্দোবস্ত করে নেয়, যা ছিল কিছুটা সাইরাসের ধরন, কিছুটা সর্বময় ক্ষমতাসম্পন্ন রাজতন্ত্র বা অ্যাথেন্সের মতো, জনগণের ক্ষমতায় দেশশাসনের সমন্বয়। তিন ধরনের শাসনব্যবস্থার কোনোটিই পুরোপুরি প্রযোজ্য ছিল না। এই খিচুড়ি- শাসনব্যবস্থার তেমন কোনো ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায় না। রোমের ইতিহাসবিদরা সে-আমলের শাসনব্যবস্থা নিয়ে বেশি কিছু না লিখে বরং আরও অনেক পরের শাসনব্যবস্থাকে ঐ আমলের শাসনব্যবস্থা হিসেবে নথিবদ্ধ করেন। তবে এটুকু নিশ্চিত, রাজার শাসন চালু থাকলে রোমে সবসময়ই দেশের জনসাধারণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হত।

    রোমের ইতিহাসবিদ ভারো উল্লেখ করেন, আদি যুগে রোমের মানুষকে তিন ধরনের ‘গোত্রে’ ভাগ করা হত। খুব সম্ভবত তারা ছিলেন : স্যাবাইন, ল্যাশিয়াল ও এক্রসকান। লাইভি নামের অপর এক ইতিহাসবিদ দাবি করেন, সারভিয়াস তুলিয়াস রোমের মানুষকে ছয়টি শ্রেণিতে ভাগ করেন। এক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষ নয়, বরং ধনসম্পদের পরিমাণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। সবচেয়ে ধনী রোমানদের কাছে প্রত্যাশা ছিল তারা ব্রোঞ্জের তৈরি শিরস্ত্রাণ, ঢাল, বর্ম, তলোয়ার ও বর্শা দিয়ে শহরের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত হবে। সবচেয়ে দরিদ্রদের বলা হত শুধু গুলতি ও পাথর নিয়ে আসতে। রোমের রাজার অধীনস্থ প্রজা হলেও, প্রতিটি নাগরিককেই তাদের নিজ শহরের সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্ব দেওয়া হত। এমনকি, তারা কে কোথায় হামলা চালাবেন, সেটাও নিজেরাই ঠিক করে নিতে পারতেন। রোমান নাগরিকদের হাতে এহেন ক্ষমতা থাকায় স্বভাবতই তারা খুব বেশিদিন রাজার শাসন মানতে পারেননি।

    সারভিয়াস তুলিয়াসের ৪৪ বছরের শাসনামলের শেষের দিকে রাজতন্ত্র ধসে পড়ে।

    এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি হচ্ছে সারভিয়াস তুলিয়াসের ভাইপো তারকুইন দ্য ইয়ংগার। সে শুধু উচ্চাভিলাষীই নয়, তার মধ্যে অশুভ বুদ্ধির কোনো অভাব ছিল না। সে তার ছোটভাইয়ের স্ত্রী তুলিয়ার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল।

    লাইভির পর্যবেক্ষণ : ‘অশুভ শক্তিগুলোর মাঝে একধরনের চৌম্বক আকর্ষণ কাজ করে। এরা একে অপরকে আকর্ষণ করে।’ তারকুইন দ্য ইয়ংগার (তরুণতর তারকুইন) নিজেই বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টিকে ঝামেলা হিসেবে বিবেচনা করে তিনি ও তার প্রেমিকা তুলিয়া তাদের নিজ নিজ সঙ্গী-সঙ্গিনীকে হত্যা করে একে অপরকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

    লাইভি বলতে থাকেন, ‘সেদিন থেকে শুরু করে, বর্ষীয়ান ব্যক্তি সারভিয়াসের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যায়।’ শেক্সপিয়ারের চরিত্র লেডি ম্যাকবেথের মতো, তুলিয়াও ছিলেন উচ্চাভিলাষী—তিনি ভেবেছিলেন তার নতুন স্বামী রাজা হবেন। খুব শিগগির সারভিয়াসের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠল। তুলিয়া তাকে বললেন, ‘আমি এমন এক স্বামী চাই না, যে শুধু আমার স্বামী হয়েই খুশি—আমি এমন একজনকে চাই যার রাজা হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে’।

    তুলিয়ার কথায় প্রণোদিত হয়ে তারকুইন একপর্যায়ে হুড়োহুড়ি করে দরবারকক্ষে ঢুকে পড়লেন। সেসময় সারভিয়াস তুলিয়ায়স সেখানে ছিলেন না। তারকুইন তার সিংহাসনে বসে পড়লেন এবং নিজেকে রাজা হিসেবে ঘোষণা দিলেন। সারভিয়াস এই কাহিনি শুনে দ্রুত দরবারকক্ষে দৌড়ে গেলেন। কিন্তু তারকুইন বর্ষীয়ান রাজাকে নিজ হাতে বাইরের সড়কে ছুড়ে ফেললেন। সেখানে ব তার ভাড়াটে খুনেরা এই বৃদ্ধ রাজাকে হত্যা করল। লাইভি মন্তব্য করেন, ‘সারভিয়াসের মৃত্যুর সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে রাজার শাসন শেষ হল। এরপর আর কোনো রোমান রাজা কখনোই আর মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে রাজত্ব করতে পারেনি।’

    তারকুইন রাজাকে উৎখাত করার পর তার নতুন নামকরণ হল : তারকুইনিয়াস সুপারবাস বা ‘তারকুইন দ্য প্রাউড’ (গর্বিত তারকুইন)। তিনি একটি দেহরক্ষী বাহিনী গঠন করে রোমের নাগরিকদের বশীভূত করার চেষ্টা চালান। তিনি সারভিয়াস তুলিয়াসের প্রতি অনুগত সব ব্যক্তিকে ফাঁসি দেন। তিনি নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এনে তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেন। লাইভি বলেন, ‘তিনি জোর করে ক্ষমতা দখল করেন, যার প্রতি তার কোনো বৈধ দাবি ছিল না।’

    জনগণ তাকে নির্বাচিত করেনি। সিনেট তার সিংহাসনে আরোহণের অনুমোদন দেয়নি। যেহেতু তিনি তার প্রজাদের ভালোবাসা পাননি, তাই তিনি ভীতি সঞ্চার করে রাজত্ব করার চেষ্টা চালান। তিনি যাদেরকে সন্দেহ বা অপছন্দ করতেন, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন অথবা সম্পতি ক্রোকের ‘উপহার’ দিতেন। দেশশাসন সংক্রান্ত সব ধরনের বিষয়ে সিনেটের সঙ্গে আলোচনার প্রচলিত প্রথাটি তিনি ভেঙে দেন। তিনি যার সঙ্গে ইচ্ছে, তার সঙ্গেই মৈত্রী তৈরি করতেন এবং এ বিষয়ে সিনেট বা হাউজ অব কমন্স-এর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা চিন্তাতেও আনতেন না।

    এর সবই ছিল গুরুতর অপরাধ। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ের অনিয়ম ঘটল যখন তার ছেলে, অর্থাৎ রোমের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী, লুকরেশিয়া নামে এক অভিযাত নারীকে ধর্ষণ করেন। লুকরেশিয়া ছিলেন তার এক বন্ধুর স্ত্রী। লজ্জা ও অপমানে লুকরেশিয়া আত্মহত্যা করেন। তার মরদেহ পাবলিক স্কোয়ারে পড়ে ছিল, আর তার স্বামী তার স্ত্রীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে দেশের জনগণের কাছে সাহায্য চাইতে থাকেন চিৎকার করে। ধর্ষণের প্রতিবাদ দ্রুতই রাজপরিবারের সব সদস্যের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে রূপ নেয়।

    তারকুইন দ্য প্রাউড সেসময় রোমের বাইরে ছিলেন। তিনি প্রতিবেশী শহর আরদিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। যখন এই বিক্ষোভের সংবাদ তার কানে গেল, তিনি দ্রুত রোমের উদ্দেশে রওনা হলেন। কিন্তু ততক্ষণে বিদ্রোহের আগুন পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। লাইভির বর্ণনায়, ‘তারকুইন দেখলেন, শহরের তোরণ তার জন্য বন্ধ করে রাখা আছে এবং তাকে নির্বাসনে পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়েছে।’ সেনবাহিনী ‘উৎসাহ নিয়ে’ এই বিদ্রোহে যোগ দেয়। ফলে তারকুইন বাধ্য হয়ে তার ছেলেকে নিয়ে উত্তরে ইক্ররিয়ায় পালিয়ে যান।

    লুকরেশিয়ার শোকসন্তপ্ত স্বামী ও তার এক বিশ্বাসভাজন বন্ধুকে শহরের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সেনা-সদস্যদের ভোটে তারা নির্বাচিত হন। এক্ষেত্রে শুধু সারভিয়াস তুলিয়াসের প্রতি অনুগতরাই ভোট দেওয়ার অনুমতি পান।

    এই দুই ব্যক্তিকে রাজার মতো ক্ষমতা দেওয়া হয়। তারা যুদ্ধে যাওয়া বা অন্যান্য সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। তবে এক্ষেত্রে একটি পার্থক্য ছিল। তাদের এই ক্ষমতা শুধু এক বছরের জন্য এবং তারা একে অপরের সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারতেন। তাদেরকে ‘কনসাল’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়, যা ছিল রোমান সরকার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদ। এভাবেই রাজতন্ত্র থেকে মুক্তি পায় রোম এবং ‘রোমান প্রজাতন্ত্রের’ ধারণার জন্ম হয়।

    ইতিহাসের এই পর্যায়ের জন্য আমাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিঃসন্দেহে লাইভি। তার মতে, তারকুইন দ্য প্রাউডকে শহর থেকে বের করে দেওয়ার পর রোমের ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায়।

    প্রায় ১০০ বছর আগে, তারকুইন দ্য এলডার রোমের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সেসময় থেকেই এতরুসকানরা রোম শাসন করে আসছে। তবে ৫৩৫ সালে আলালিয়ার নৌযুদ্ধে জয়লাভের পর থেকে এতরুসকানদের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখা দুষ্কর হয়ে পড়ে।

    তারকুইন দ্য প্রাউডকে বহিষ্কারের পর থেকেই এতরুসকান গোত্রের ক্ষমতার ক্ষয় হতে থাকে। তারকুইন এক শহর থেকে অপর শহরে যেয়ে রোমান-বিরোধী জোট সৃষ্টির প্রচেষ্টা করেন। ‘আমার আর তোমার শরীরে একই রক্ত বইছে—এই যুক্তি দেখিয়ে তাদের দলে টানার চেষ্টা করেন তিনি। ভেই আর তারকুইনি তার আহ্বানে সাড়া দেয়। তারকুইনের নেতৃত্বে মোটামুটি সমীহ-জাগানিয়া এক বাহিনী রোমের দিকে যাত্রা করে। তাদের উদ্দেশ্য, এতরুরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে আবারও এতরুসকান ক্ষমতার প্রতিষ্ঠা করা।

    রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল যুদ্ধ করেও এই জোট পরাজিত হল। এরপর এতরুসকানরা আবারও রোমে হামলা চালানোর পাঁয়তারা করতে লাগল। কিন্তু এবার এই বাহিনীর নেতৃত্বে এলেন লার্স পোরসেনা—এতরুসকান নগরী ক্লুসিয়ামের রাজা।

    এবারে হামলার খবর পেয়ে রোমবাসীরা আতঙ্কিত হলেন। তারা কোনোমতে ভেই আর তারকুইনকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু লার্স পোরসেনার ছিল বীর হিসেবে সুখ্যাতি। ভয়ে রোম নগরীর উপকণ্ঠে যেসব কৃষক বসবাস করতেন, তারা তাদের ক্ষেত-খামার ফেলে শহরের প্রাচীরের ভেতরে আশ্রয় নিলেন।

    রোম নগরীর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল বেশ অদ্ভুত। এর তিনদিকে প্রাচীর থাকলেও পূর্বপ্রান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বলতে শুধু তিবার নদীখানাই উপস্থিত ছিল। সবার ধারণা ছিল, এই নদী পেরিয়ে আসা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু নদী পেরিয়ে সরাসরি শহরে ঢোকার একটি রাস্তা ছিল। শহরের বাইরে, পূর্বাঞ্চলের ‘জানিকুলাম’ নামের ভূখণ্ড থেকে একটি কাঠের তৈরি সেতুর মাধ্যমে শহরের একেবারে কেন্দ্রে চলে আসা যেত।

    বুদ্ধিমান লার্স পোরসেনা প্রাচীরে হামলা না চালিয়ে জানিকুলাম দখল করে নিলেন। তার অধীনস্থ এতরুসকান সেনাবাহিনী পিঁপড়ার মতো পিলপিল করে এসে খুব সহজেই সেখানে অবস্থান নিলেন। সেখানে অল্প কিছু রোমান সেনা টহল দিচ্ছিলেন—তারা লার্সের সেনাবাহিনী দেখেই অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালালেন। তারা সেই কাঠের সেতু দিয়ে শহরের নিরাপদ জায়গায় সরে গেলেন।

    তবে হোরাশিয়াস নামক এক সেনা অটল রইলেন। তিনি সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে অস্ত্র হাতে অবস্থান নিলেন। লাইভির ভাষায়, তিনি ‘পলাতকদের মাঝে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র’, যিনি ‘তরবারি আর ঢাল নিয়ে হামলা ঠেকাতে প্রস্তুত’ হলেন।

    রোমান কিংবদন্তি আমাদের জানায়, এই হোরাশিয়াস একাই এতরুসকানদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্ত রাখতে সক্ষম হন। একপর্যায়ে রোমান সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিস্ফোরক উপকরণ নিয়ে এসে সেতুটি উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।

    তাকে তার সহযোদ্ধারা চিৎকার করে সেতু দিয়ে ফিরে আসার অনুরোধ জানাচ্ছিল, কিন্তু হোরাশিয়াস তাতে কর্ণপাত করেননি। তিনি সেতু ধ্বংস হওয়ার আগপর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান।

    সেতু ধসে পড়ায় এতরুসকানরা আর আগাতে পারলেন না। রোমানরা সাময়িক বিজয়ে উল্লসিত হলেন। বীরযোদ্ধা হোরাশিয়াস তার ভারী বর্ম ও অস্ত্রসহ পানিতে পড়ে গেলেন। তিনি সাঁতরে নদী পার হয়ে গেলেন। লাইভি জানান, ‘এ ছিল এক মহান কীর্তি। কিংবদন্তিতূল্যও বলা যায়। খুব সম্ভবত বছরের পর বছর তার নামটি মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হবে।’

    জেরুজালেমের প্রাচীর ছেড়ে সেন্নাশেরিবের সরে যাওয়ার মতোই হোরাশিয়াসের সেতু প্রতিরক্ষা দেওয়ার কাহিনিটি মূলত অমরত্ব পেয়েছে এক কাব্যের কারণে। টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকআউলের ‘লে’জ অব এইনশেন্ট রোম কবিতায় হোরাশিয়াসকে ব্রিটিশদের জন্য অনুকরণীয় সাহসিকতার উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

    সেতু প্রতিরক্ষা দেওয়ার উপাখ্যানটি সাহসিকতায় পরিপূর্ণ হলেও এতে থামেনি এতরুসকান-হামলা। পোর্সেনা পুরো জানিকুলামজুড়ে তার সেনাদলকে বিস্তৃত করলেন। তিনি পুরো নদীতে ব্যারিকেড তৈরি করলেন যাতে রোমে জাহাজে করে বাইরে থেকে কোনো খাবার ঢুকতে না পারে। এরপর তিনি বড় ও ভারী অস্ত্র দিয়ে রোমের প্রাচীর ভাঙার উদ্যোগ নিলেন। দীর্ঘসময় ধরে এই যুদ্ধ চলতে থাকলেও কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করতে পারেনি। অবশেষে পোর্সেনা রোমের সঙ্গে সন্ধি চুক্তিতে সম্মত হলে। দুই শহরের মাঝে সাক্ষরিত হল এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি। তবে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মাঝে বৈরীতা একবিন্দুও কমল না।

    এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, এতরুসকান ও রোমানদের একই পর্যায়ের ক্ষমতা রয়েছে। এতরুসকানদের জন্য এটা একধরনের পরাজয় ছিল, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলকে পরাভূত করে রেখেছিল। অপরদিকে, একই বছরে রোম, কার্থেজকে মিত্র হিসেবে পায়। তারা তিবার নদীর দক্ষিণ উপকূলকে এতরুসকান নয়, বরং রোম সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    ‘রাইজ অব রোমান এমপায়ার’ নামের বইতে পলিবিয়াস এ চুক্তির বিস্তারিত উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত এখানে উল্লেখ করা হয়।

    চুক্তির খুঁটিনাটি থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—রোমানরা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তিত ছিল আর কার্থেজিয়ানরা মূলত একটি বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য সৃষ্টিতে মনোযোগ দিয়েছিল।

    অপরদিকে, দৃষ্টিসীমা থেকে হারিয়ে যায় এতরুসকানরা। পো নদীর কাছে অবস্থিত ভুখণ্ডটিও তারা হারাতে বসেছিল। আল্পস পর্বতের ওপর থেকে ইতালির উত্তরাঞ্চল দিয়ে একদল কেল্টিক যোদ্ধা তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল।

    লাইভির মতে, জনসংখ্যা বিস্ফোরণই কেল্টদের এহেন অবস্থান পরিবর্তনের কারণ। গল রাজ্যে মানুষ এত বেড়ে গিয়েছিল যে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ কারণে গলের কেল্টদের রাজা তার দুই ভাইপোকে দুইদল অনুসারীসহ দুইদিকে পাঠিয়ে দেন। নতুন ভূখণ্ড খুঁজে পাওয়ার উদ্দেশে। একজন জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলে যায় আর অপরজন বিশাল বাহিনী নিয়ে আল্পস-এর দিকে এগিয়ে যায়। তারা পর্বত পেরিয়ে টাইসিনাস নদীর কাছে এতরুসকানদের পরাজিত করে। সেখানেই গোড়াপত্তন হয় আজকের মিলান শহরের। সে আমলে শহরটির নাম ছিল মেডিওলানিয়াম।

    এখানেই তাদের এই আগ্রাসন থামেনি। লাইভি এ-ধরনের অন্তত চারটি গল আগ্রাসনের বর্ণনা দেন। প্রতিটি হামলায় আল্পস-এর দক্ষিণের শহরগুলোতে বসবাসরত এতরুসকানদের বিতাড়ন করা হয়। পো নদীর উপত্যকায় তারা নিজেরা নতুন করে শহর নির্মাণ করে। এরপর গল থেকে আগত কেল্টদের চতুর্থ বাহিনীটি এসে দেখে ইতোমধ্যে আল্পস থেকে পো পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়ে গেছে। তাই তারা ডিঙিনৌকা করে নদী পার হয়ে যেয়ে আপেনাইন রিজের মাঝের অংশে এতরুসকানদের নির্বাসন দিল।

    এতরুসকানদের জন্য কেল্টরা ছিল এক মূর্তিমান আতঙ্ক। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা যোদ্ধাদের দেখলেই তাদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যেত। ‘কেল্ট’ শব্দের উৎস ইন্দো-ইউরোপীয়, যার অর্থ হল ‘আঘাত করা’। রোমান ও গ্রিকরা এই নাম দিয়েছিল তাদেরকে। তাদের কবরে যেসব অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে আছে সাত ফুট লম্বা বল্লম, ধারালো লোহার তরবারি, রথ, শিরস্ত্রাণ ও ঢাল। পলিবিয়াস মন্তব্য করেন, তারা নলখাগড়া ও পাতার তৈরি বিছানায় ঘুমাত। তারা মাংস খেত এবং যুদ্ধ ও কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কিছু করত না। তারা যুদ্ধবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী ছিল।

    এই আগ্রাসনগুলো শুরু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৫০৫ সালের দিকে। সেসময় থেকে কেল্টিক ঐতিহ্যে আসে আমূল পরিবর্তন। পুরনো হলস্ট্যাট মহল্লাগুলোর রীতিনীতি বদলে নতুন সংস্কৃতির আবির্ভাব ঘটে।

    নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকেই দক্ষিণে, ইতালির দিকে আগ্রাসনে মনোযোগ দেয় কেল্টরা।

    পরবর্তীতে রোমান ইতিহাসবিদ জাস্টিন আমাদের জানান, গলরা নিজেদের মধ্যে মারামারি ও হানাহানি করতে করতে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে পড়েছিল। নতুন- পুরনো ঐতিহ্যের সংঘাতের নিরসন করতেই তারা ইতালিতে হাজির হয়। এখানে এসে যথারীতি এতরুসকানদের ঝেঁটিয়ে বিদেয় করে তারা একে একে মিলান, দি কোমো, ব্রেসিয়া, ভেরোনা, বেরগামো, ত্রেন্তো ও ভিচেঞ্জা শহর নির্মাণ করে।

    কিছু কেল্ট নাগরিক হয়তোবা ইউরোপের পশ্চিম উপকূলে, এমনকি সাগর পেরিয়ে ব্রিটেনেও পৌঁছে গেছিল। সেসময় ব্রিটেন-দ্বীপে যারা বসবাস করছিল, তাদের বিষয়ে আমাদের তেমন কিছুই জানা নেই। শুধু আমরা জানি তারা আকাশের পুজো করত এবং এজন্য তারা সারিসারি পাথর সাজিয়ে কিছু স্তম্ভ নির্মাণ করেছিল।

    এসব স্থাপনার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাতটি হল আমাদের সবার পরিচিত ‘স্টোনহেঞ্জ’। এর নির্মাণ শুরু হয়েছিল খুব সম্ভবত ৩১০০ সালের দিকে এবং তা পরবর্তী ২০০ বছর ধরে চলে। কিন্তু এই আকাশের পূজারিরাও কেল্টদের হাত থেকে নিস্তার পায়নি। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সাল নাগাদ ব্রিটেনের কবরস্থানগুলোতে প্রথমবারের মতো রথ দেখা দিতে শুরু করে, যা দক্ষিণ জার্মানির লা তেনে কবরস্থানের সঙ্গে মিলে যায়।

    উত্তরের এসব আগ্রাসনের জবাবে রোমান রিপাবলিকের সরকারব্যবস্থায় আসে পরিবর্তন। ভালো মানুষ লাইভি আমাদের জানান, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। ফলে, প্রথমবারের মতো, একজন একনায়ক শাসক নিযুক্ত করার প্রস্তাব আসে।’ বছরটি ছিল ৫০১—এই প্রজাতন্ত্রের গোড়াপত্তনের মাত্র আট বছর পর।

    এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হিসেবে জরুরি সামরিক অবস্থাকে তুলে ধরা হয়। কাছাকাছি শহরগুলোর সঙ্গে সংঘাত, স্যাবাইনদের বৈরী মনোভাব, অন্যান্য লাতিন শহর থেকে হামলার সম্ভাবনা,

    হামলার সম্ভাবনা, ‘সাধারণ জনগণের’ বিদ্রোহ করার আশঙ্কা—এসবের পাশাপাশি, নিঃসন্দেহে উত্তর থেকে দক্ষিণে ধেয়ে আসা সম্ভাব্য আগ্রাসন সমগ্র উপদ্বীপটিকে উদ্বেগে আচ্ছন্ন করে তোলে।

    তবে সে আমলের একনায়করা এখনকার মতো অসীম ক্ষমতা ভোগ করতেন না। রোমান একনায়কদের ক্ষমতা প্রতি মেয়াদে মাত্র ছয়মাস স্থায়ী হত এবং শাসক কনসালরা তাদের নিয়োগ দিতেন। প্রায়ই কনসালদের থেকেই এই একনায়ক নির্বাচন করা হত। এই একনায়কের ভূমিকা ছিল বহিঃশত্রুর কাছ থেকে আসা নজিরবিহীন হুমকির মোকাবিলা করে রোমকে সুরক্ষিত রাখা। তবে শহরের ভেতরেও তিনি অনেক অস্বাভাবিক ক্ষমতা উপভোগ করতেন। রোমের প্রাচীরের বাইরে কনসালরা যেকোনো রোমান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারতেন। কিন্তু শহরের ভেতরে কাউকে শাস্তি দিতে হলে সেটার কর্তৃত্ব থাকত ভোটারদের হাতে। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন সেই একনায়ক—তিনি যেকোনো জায়গায় রোমানদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারতেন।

    রোমের প্রথম একনায়কের মূল দায়িত্ব ছিল আগ্রাসী গল, লাতিন ও এতরুসকানদের মোকাবিলা করা। কিন্তু পাশাপাশি, রোমের অবাধ্য জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আনাও ছিল তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। লাইভি বিষয়টি পরিষ্কার করেন, ‘রোমে প্রথমবারের মতো একনায়কের নিয়োগ দেওয়া হল। সবাই সড়কে দাঁড়িয়ে, যুদ্ধ-কুঠার উঁচিয়ে তাকে বরণ করে নিল।’ এই পেশিশক্তির প্রদর্শনীতে সাধারণ জনগণের মনে ভীতির সঞ্চার করে। এই একনায়কের কাছ থেকে কেউ ভালোবাসা বা দয়া প্রত্যাশা করছিল না। বরং চুপচাপ তার বশ্যতা মেনে নেওয়া বা এই ‘অন্তর্নিহিত আনুগত্য’ দেখানো ছিল জরুরি।

    এই অন্তর্নিহিত আনুগত্যকে রোমের প্রথম সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এই প্রথম প্রজাতন্ত্রের নাগরিক অধিকারগুলোকে স্থগিত রেখে বশ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল—তবে এটাই শেষ নয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপদ্মজা – ইলমা বেহরোজ
    Next Article পৃথিবীর ইতিহাস ১ – সুসান ওয়াইজ বাউয়ার

    Related Articles

    ইশতিয়াক খান

    পৃথিবীর ইতিহাস ১ – সুসান ওয়াইজ বাউয়ার

    July 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }