Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    অমিতাভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প518 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছবি – শিশিরকুমার মজুমদার

    বেশ কিছুদিন অসুখে ভোগার পর ডাক্তারবাবুর পরামর্শে চেঞ্জে যাওয়াই ঠিক করলাম। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায় তাই নিয়েই যত ভাবনা। কারণ এর আগে কখনো কলকাতার বাইরে যাইনি।

    সব চিন্তার অবসান ঘটাল আমার অনেক দিনের বন্ধু সরল দত্ত। চাকুন্দিয়াতে ওদের একটা বাগান বাড়ি আছে। সে বাড়িটা খালিই পড়ে থাকে বছরের বেশিরভাগ সময়। কালেভদ্রে সরলদের কেউ ওখানে যায়। সব কথা শুনে, ও আমাকে ওখানে যেতেই পরামর্শ দিল।

    জিনিসপত্র গুছিয়ে একদিন পা বাড়ালাম চাকুন্দিয়ার পথে। ট্রেন কখন যে চাকুন্দিয়া পৌঁছাবে তা জানা ছিল না। তাই ভাবনার পড়লাম। পাশের ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করে জানলাম, পৌঁছাবে সন্ধ্যাবেলায়। শুনে বেশ ভাবনায় পড়লাম। অজানা অচেনা পাহাড়ে জায়গা, বেশ একটা ভয়ই হল।

    সন্ধ্যাবেলাই চাকুন্দিয়ায় নামলাম। স্টেশন থেকে শহর বেশ দূরে, যেতে হবে টাঙ্গায়, তাই দেরি না করে তারই একটা চড়ে রওনা দিলাম সরলদের বাড়ির দিকে।

    পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গভীর জঙ্গলে ঢাকা পাথুরে লাল পথ। সোজা গেছে শহরের দিকে। একনজরেই জায়গাটা আমার ভালো লেগে গেল। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যের অনেক কথাই সরলের কাছে শুনেছি। তখন থেকেই মনে মনে চাকুন্দিয়াকে ভালোবেসে ফেলেছি। এবারে এসে দেখছি সরল মিথ্যা কিছু বলেনি। সত্যিই চাকুন্দিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য অপূর্ব।

    ছবি আঁকা আমার পেশা। এ ব্যাপারে কলকাতায় একটু নামও হয়েছে। খ্যাত- অখ্যাত অনেকেরই ছবি আঁকায় ডাক আসে আজ-কাল। আঁকিও। তবে প্রকৃতি আর পরিবেশ নিয়ে ছবি আঁকতে যে আনন্দ পাই, তার কাছে আর কোনো ছবিই ছবি না

    শারীরিক অসুস্থতার জন্য কিছুকাল সবই বন্ধ ছিল। এখন রং তুলি ক্যানভাস সবই সঙ্গে এনেছি। একটু সুস্থ হলে চাকুন্দিয়ার খান কয়েক ল্যান্ডস্কেপ এঁকে নিয়ে যাব বলে।

    দত্ত ভিলার গেটের সামনে টাঙ্গা এসে থামল। বোগেনভিলার সাজানো মস্ত গেটের সামনে আলো হাতে মালী দাঁড়িয়ে ছিল। টাঙ্গা থেকে নেমে পরিচয় দিতেই সে বলল, আমারই জন্য অপেক্ষা করছে। খবরটা দেরিতে পাওয়ায় স্টেশনে যেতে পারেনি। আমাকে নমস্কার জানিয়ে ও বলল, ‘তোর কোনো অসুবিধা হবে না সাহেব। আমি টেলি পেয়ে সব ব্যবস্থাই করে রেখেছি।

    মালপত্র সব ও ঘরে নিয়ে গিয়ে রাখল।

    চারদিক খোলামেলা। সব থেকে ভালো ঘরটাই ও আমার জন্য খুলে দিয়েছে। খাটে বিছানাও তৈরি। একটা চেয়ার টেনে বসতেই ও খবর দিল খাবার তৈরি। ক্লান্তিতে আমার শরীর তখন ভেঙে পড়ছিল। তাড়াতাড়ি খাওয়া-দাওয়া সেরে সেদিনের মতো বিছানা নিলাম।

    পরদিন ভোরে নাম-না-জানা পাখির ডাকে ঘুম ভাঙল। উঠে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই নজরে পড়ল দূরের পাহাড়গুলো। সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একনজরে চারদিক দেখেই আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সত্যিই এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য চমৎকার!

    দত্ত ভিলার লাগোয়া বাগান! দেশি-বিদেশি জানা-অজানা নানান ফুলের গাছে অজস্র ফুল ফুটে রয়েছে। এই সকালেই সেই সব ফুলে প্রজাপতির মেলা। ঠিক করলাম, আশপাশের সব বিউটিস্পটগুলোই ঘুরে দেখব, পারলে তাদের ছবি আঁকব। তবে যতদিন জোর না পাই, দত্ত ভিলার বাগানেই আটকা থাকতে হবে আমাকে।

    চা-জলখাবার দিতে এসে মালী বলল, সে আর তার স্ত্রী দু-জনেই থাকে এখানে। বাগানের শেষে তাদের ঘর। সাহেবরা কেউ এলে ওরাই তাঁদের দেখাশুনা করে। আমাকেও কোনোরকম অসুবিধায় পড়তে হবে না। হাট বাজার, রান্না, সব কাজই ওরা করবে। কলকাতার মালিকের কাছ থেকে ওরা তেমন হকুমই পেয়েছে।

    চা খাওয়ার পর মালী বলল, চল সাহেব তোকে এখন বাগানটা ঘুরিয়ে দেখিয়ে দি। এমন বাগান, এ তল্লাটে আর নেই।

    বেশ কয়েক একর জমি নিয়ে দত্ত ভিলার বাগান। সামনে ফুলের বাগান, পিছনে ফলের। পিছনের বাগানের বিশাল গাছগুলো তাদের ডালপালা ছড়িয়ে জায়গায় জায়গায় আবছায়া শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ইটের কেয়ারির মাঝখানে লাল সুরকির পথ এঁকেবেঁকে চলে গেছে বাগানের মাঝ দিয়ে। দু-পাশে তার চোখ জুড়ানো সবুজ ঘাসের গালিচা পাতা।

    ঝোপে-ঝাড়ে বুলবুলির দল শিস্ দিচ্ছে। দল বেঁধে ছাতারে পাখিরদল ঘাসের উপরে লাফাচ্ছে। পথটা এঁকেবেঁকে একটা ঘন ঝোপের সামনে গিয়ে দু-ভাগ হয়ে এগিয়ে গেছে।

    সে ঝোপ পার হয়েই আমি থমকে দাঁড়ালাম। ঝোপটা বেড় দিয়ে দুটো পথই আবার এক হয়ে গিয়ে শেষ হয়েছে এক রেলিং ঘেরা কবরের সামনে। শ্বেত পাথরের কবর। দেখে মনে হল বহু দিনের পুরোনো।

    মালী বলল, এটা চৌধুরী মেমসাহেবের কবর। এ বাড়ির মালিক আগে ওরাই ছিলেন। এ বাগান ওদেরই হাতে গড়া।

    কবরের রেলিং-এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। কবরের গায়ে খোদাই করা আছে— অঞ্জলি মেরী চৌধুরী।

    জন্ম— ১৮৮৩ খ্রি, মৃত্যু— ১৯০৩ খ্রি।

    মালী বলল, চৌধুরী মেমসাহেব মারা যাওয়ার পর শুনেছি, চৌধুরী সাহেবদের আর কেউই এ বাড়িতে আসেনি। মেমসাহেবের ছেলে এই তো ক-বছর আগে এ বাড়ি দত্ত সাহেবের কাছে বেচে দিয়েছেন।

    ভারি সুন্দর তো এই জায়গাটা। আমার মুখ থেকে হঠাৎই যেন কথাগুলো বার হয়ে এল।

    মালী বলল, দত্ত সাহেব এ বাড়ির অনেক কিছুই ভাঙচুর করেছেন, বদল করেছেন, তবে এতে হাত দেননি। আমিই এর দেখভাল করি। মাঝে মাঝে ফুল চড়াই।

    মালীকে ছুটি দিয়ে বহুক্ষণ আমি কবরটার পাশে একা দাঁড়িয়ে রইলাম। সামনে ফুলের গাছ। দূরে পিছনে পাহাড়ের সারি। মাঝখানে এক শ্বেত পাথরের কবর, এগুলো নিয়ে মনে মনে আমি তখন সুন্দর একটা ছবির কম্পোজিশনের কথাই ভাবছিলাম। বেলা বাড়তে ফিরে এলাম ঘরে। মনে মনে ঠিক করলাম, এখানে আমার প্রথম ছবিখানা হবে ওই কবরকে নিয়েই।

    মালীর যত্ন আর তার বউয়ের হাতের রান্না মুরগির ঝোলভাত খেয়ে ক-দিনেই আমার শরীর বেশ ফিরে গেছে।

    একদিন রোদ ঝলমল সকালে রং তুলি আর ইজেল নিয়ে আমি গেলাম সেই কবরের ছবি আঁকতে। এর মধ্যে অবশ্য বহুবার ওই জায়গাটা আমি ঘুরে এসেছি। কেন জানি না ওখানে গিয়ে বসে থাকতে আমার বেশ ভালো লাগত। দুপুরে উঁচু গাছের ডালে ঘুঘুর ডাক শুনতে শুনতে আমি আমার ছবির কথা ভাবতাম।

    মালী আমার মনের কথা জানতে পেরে হেসেই অস্থির। চার দিকে এত সব জিনিস থাকতে কেন যে আমি ওই কবরের ছবি আঁকব তা ওর মাথায় কিছুতেই ঢুকল না!

    আমার মনেরমতো একটা কোণ বেছে নিয়ে আমি ছবি আঁকা শুরু করলাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সব কিছু ভুলে একেবারে ছবির চিন্তায় ডুব দিলাম। খেয়াল হল মালীর ডাকে। তখন বেশ বেলা হয়ে গেছে।

    কয়েক দিন কাজ করার পর ছবিটা বেশ মনোমতো রূপ পেল। শেষের দিন ছবির সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো নিয়ে এতই তন্ময় হয়ে ছিলাম যে কোনো কিছুতেই আর খেয়াল দিল না। হঠাৎ চমকে উঠলাম, মনে হল কানের কাছে কে যেন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। যেন বলল, এ ছবি এঁকে লাভ কি? এ ছবি তো আর অঞ্জলি মেরী চৌধুরীর ছবি নয়।

    চমকে উঠলেও বেশ হাসিই পেল আমার। এই কবরের ছবিটা নিয়ে বেশ একটু বাড়াবাড়িই করে বসেছি। এই দীর্ঘশ্বাস, এই না শোনা কথা, সবই তার ফল।

    এরপর চাকুন্দিয়ার চারপাশ ঘুরে বেশ ক-টা ছবি আঁকলাম আমি। আর এই ছবি আঁকা নিয়েই আলাপ হল সিবাস্টিন সুরেশ বিশ্বাস মশাইয়ের সঙ্গে।

    তাঁর কাছেই শুনলাম, বহু বছর আগে এক বিদেশি পাদরির পরামর্শে বেশ কিছু বাঙালি খ্রিস্টান পরিবার এই চাকুন্দিয়ায় তাঁদের নিজস্ব একটা কলোনি গড়ে তোলেন। এখানে এসে বসবাসও শুরু করেছিলেন তাঁরা। দেখতে দেখতে ছোটোখাটো একটা শহরের মতো হয়ে উঠেছিল জায়গাটা। কিন্তু এখানে রোজগারের কোনো ব্যবস্থা না থাকাতে একে একে সবারই উৎসাহে ভাটা পড়ছিল। তারপর সেই বিদেশি পাদরি মারা যাওয়ার পর কলোনিতে ভাঙন ধরেছিল। এখন এখানে-ওখানে কয়েকটা বাড়িতে কয়েক ঘর খ্রিস্টান পরিবার যদিও কোনোমতে টিকে আছে, কিন্তু বাদবাকি চাকুন্দিয়া আবার যেন জঙ্গলেই ঢাকা পড়ছে।

    ওঁর কাছেই শুনলাম, চৌধুরী পরিবারের মিসেস চৌধুরী থাকবেন বলেই বাড়ি করেছিলেন। কিন্তু ক-দিন অসুখে প্রায় বিনা চিকিৎসাতেই মারা যান এখানে। তখন তাঁর ছেলের বয়স মাত্র এক বছর। চৌধুরী সাহেব কোনোদিনও থাকেননি এখানে। তিনি এসে ছেলেকে নিয়ে চিরদিনের মতোই কলকাতায় ফিরে যান। সেই ছেলেই বড়ো হয়ে এ বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে দত্ত সাহেবদের কাছে।

    এখানকার কোনো এক পাহাড়ে কী যেন এক খনিজ ধাতুর খোঁজে এসে দত্ত সাহেব প্রথমে ওই বাড়িটা দেখেন। পছন্দ হতেই কেনেন। খনিজ ধাতুর সন্ধান পাননি তিনি। তাই তাঁরও এখানে পাকাপাকি থাকা হয়নি।

    বাড়িটাকে উনি রেখেছেন যত্ন করেই। মাঝেমধ্যে ক-দিনের জন্য ছুটিতে এসে থাকেনও এখানে।

    আমাকে ছবি আঁকতে দেখে বিশ্বাস মশাই বললেন, একটা অনুরোধ করব? যদি কিছু মনে না করেন, আমার বৃদ্ধা মায়ের যদি একটা ছবি এঁকে দেন তো বড়ো উপকার হয়। এটা আমার অনেক দিনের ইচ্ছা। কিন্তু এই জঙ্গলে আর শিল্পী পাব কোথায় বলুন। আপনি যখন এসেই গেছেন, দয়া করে আমার এ ইচ্ছাটা পূরণ করুন।

    আমি ওকে বললাম, ছবি আঁকাই আমার পেশা।

    উনি বললেন, যদিও প্রচুর কিছু আমি দিতে পারব না, তা হলেও সাধ্যমতো আপনাকে কিছু দেব।

    আমি রাজি হলাম। ঠিক হল, আকাশের মেঘলা ভাবটা কেটে গেলেই একদিন উনি আমাকে ওঁর বাড়িতে নিয়ে যাবেন। সেখানেই আমি ওঁর মায়ের ছবি আঁকব।

    সেদিন বিশ্বাস মশাই আমার কাছ থেকে যাওয়ার পরই আকাশের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ল। দেখতে দেখতে ঘন কালো মেঘে চারদিক ছেয়ে গেল। বেশ বুঝতে পারলাম, প্রচণ্ড বৃষ্টি আসছে। আর সে বৃষ্টি সহজে ছাড়বে না।

    একটু পরেই মালী লণ্ঠন জ্বালিয়ে দিয়ে বলল, সাহেব, আজ তাড়াতাড়ি খাওয়া-দাওয়া সেরে নে। যা মনে হচ্ছে ভীষণ ঝড় আসছে। চাকুন্দিয়ার সব ভালো, কিন্তু এখানে একবার ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে তিন-চার দিনের আগে থামতে চায় না। আকাশ দেখে তেমনি হবে মনে হচ্ছে।

    চাকুন্দিয়ার সব কিছুই আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখন এই ভয়ংকর ঝড়ের কথা শুনেও ভালো লাগল। এ তো এক নতুন অভিজ্ঞতা হবে। হয়তো কোনোদিন রং-তুলিতে ধরতে পারব এ ঝড়কেও। সব থেকে বেশি লাভ হল এই যে এখুনি আমাকে বিশ্বাস মশাইয়ের মায়ের ছবি আঁকতে ছুটতে হবে না। কাজটা যদিও করব বলেছি, তবুও মন আমার ওতে তেমন সায় দেয়নি।

    সন্ধ্যা হতেই ঝড় এল। তার কিছু পরেই শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি। বড়ো বড়ো ফোঁটায় বৃষ্টি এসে বন্ধ জানালার ওপরে আছড়ে পড়তে লাগল। সেইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল বাতাসের গোঙানি।

    ভেবেছিলাম বারান্দায় দাঁড়িয়ে ঝড়ের দৃশ্য দেখব। কিন্তু ঝড়ের গর্জন ঘরের মধ্যেই মাঝে মাঝে আমাকে চমকে দিতে লাগল। বেশ বুঝতে পারলাম, মালীর কথাই ঠিক, এই ঝড় বৃষ্টি দু-তিন দিনের আগে থামবে না।

    খাওয়া-দাওয়া শেষ করে একটা বই নিয়ে কিছুক্ষণ কাটাবার চেষ্টা করলাম। সাড়ে ন-টা। বাজতেই বিরক্তি লাগতে লাগল। আলোটাকে কমিয়ে বারান্দার একপাশে রেখে আমি শুয়ে পড়লাম। তখনও বাইরে ঝড়ের গর্জন সমানে চলছে। জানালাগুলোয় জলের প্রচণ্ড ঝাপটা লেগে একটানা ছরছর শব্দ হচ্ছে। সেই শব্দ শুনতে শুনতে একসময় আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

    কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম জানি না। হঠাৎ যেন ঘুম ভেঙে গেল। আধা ঘুম আধা জাগার মধ্যেই বুঝলাম, বাইরে তখনও ঝড়ের প্রলয় চলেছে। পাশ ফিরে শুতে যাব যেই তখুনি হঠাৎ কোথায় যেন গোটা দুই বিড়াল বিশ্রীভাবে ঝগড়া শুরু করল। ঝড়ের আওয়াজ ছাপিয়ে ওদের সেই বেসুরো ওঁয়াও ওঁয়াও চিৎকার চারদিক কাঁপিয়ে তুলল। কী বিভৎস ওদের চিৎকার! এ কী উপদ্রব শুরু হল আজ। শুয়ে শুয়েই ভাবলাম, এখানে তো কোনো বিড়াল দেখেছি বলে মনে হয় না। তবে কি এগুলো জংলি বিড়াল। ঝড়ের দাপটে এসে হাজির হয়েছে লোকালয়ে।

    কিছু ভেবে ঠিক করার আগেই আচমকা বিড়ালের ঝগড়া থেমে গেল। মনে মনে খুশি হয়ে আবার পাশ ফিরে শুলাম। তখনি শুনতে পেলাম, কে যেন ঘরের দরজায় আস্তে একটা ধাক্কা দিল। প্রথমে ভেবেছিলাম ও হাওয়ার কাণ্ড, তাই নির্বিকার হয়ে শুয়েই ছিলাম। কিন্তু আবার ঘন ঘন ধাক্কা পড়াতে অবাক হলাম, এ তো হাওয়া নয়। এত রাতে কে এল আবার।

    উঠে দরজা খুলে দিলাম। আস্তে দরজা ঠেলে তিনি ঘরে ঢুকলেন। তাঁকে দেখে ভীষণ অবাক হলাম। এক বৃদ্ধা, বয়স তাঁর অনেক হয়েছে। মাথা ভরতি সাদা ধবধবে চুল। পরনে তাঁর লাল পেড়ে সাদা শাড়ি। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে উনি বললেন, আমাকে দেখে অবাক হয়েছ মনে হচ্ছে? কিন্তু কী করব বাবা, না এসে আমার আর কোনো উপায় ছিল না। একটা অনুরোধ নিয়ে আমি এসেছি তোমার কাছে। সে অনুরোধ তোমাকে রাখতেই হবে। বলো রাখবে?

    সব কৌতূহল চেপে রেখেই আমি বললাম, কী এমন আপনার অনুরোধ? যার জন্য এমন দুর্যোগের রাতেই আপনার আসার প্রয়োজন হল? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    আমার কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে উনি সামনের চেয়ারটায় বসলেন। আমার দিকে একবার যেন একটু অদ্ভুতভাবেই তাকালেন, বললেন, জানি, এমন অসময়ে এসেছি বলে তোমার মনে হয়তো অনেক কথাই জেগেছে। কিন্তু বাবা বিশ্বাস করো, এমন অসময়ে আসা ছাড়া আমার আর কোনো সময় নেই। ঘরের চারদিক ভালো করে দেখে ফের বললেন, আমার অনুরোধ সামান্যই, তোমাকে আমার একটা ছবি এঁকে দিতে হবে। ছবিটার বড়োই প্রয়োজন বাবা, একজনকে দিতে হবে।

    ওর কথা শুনে থমকে গেলাম আমি। মনে মনে ভাবলাম, স্বপ্ন দেখছি। আবছা আলোয় ওঁর উপস্থিতি যেমনই রহস্যময়, তেমনি অদ্ভুত ওঁর অনুরোধ। আমি কি কোনো পাগলের পাল্লায় পড়লাম। নাকি ইনিই সেই বিশ্বাস মশাইয়ের মা। কিন্তু তাঁর এমনভাবে আসার কী প্রয়োজন ছিল। ছবি তো আমি এঁকে দেবই বলেছিলাম। সেকথা কি উনি জানেন না!

    কেমন করে যেন বৃদ্ধা আমার মনের কথা বুঝতে পারলেন, বললেন, না বাবা, না, আমি পাগল নই। তোমার কোনো ক্ষতি করতেও আসিনি। বলেছি তো বড়ো নিরুপায় আমি। তাই এখন এমনি করেই এসেছি তোমার কাছে। কিন্তু তুমি আর দেরি করো না বাবা, সময়ের দাম অনেক, নাও, আঁকতে শুরু করো।

    ওঁর কথার যে কী উত্তর দেব ভেবেই পেলাম না। কেমন যেন একটা অস্বস্তি আমাকে পেয়ে বসল। বিশ্বাস মশাইয়ের মায়ের মাথায় যে গোলমাল আছে তাতে তো আর কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এখন এর হাত থেকে মুক্তি পাব কেমন করে!

    কিছু বলার আগেই উনি হাসলেন। সে হাসি আমার মনে কেমন যেন ভয় ধরিয়ে দিল। উনি বললেন, জানি ছবি আঁকা তোমার পেশা। আমার ছবি এঁকেও তোমার লোকসান হবে না বাবা। আমিও তোমাকে নিশ্চয়ই কিছু দেব এর পর তো তোমার কোনো আপত্তিই থাকা উচিত নয়। নাও কাজ শুরু করো। কথায় কথায় সময় নষ্ট হল অনেক।

    আমি মরিয়া হয়ে বললাম, কিন্তু এই আবছা অন্ধকারে তো ছবি আঁকা যাবে না। আপনি বরং বৃষ্টি থামলে দিনের বেলায় আসবেন। কথা দিচ্ছি, ছবি এঁকে দেব।

    আমার কথা শেষ হতেই কেমন যেন ছটফট করে উঠলেন বৃদ্ধা। একটা ভয়ংকর দৃষ্টি মেলে আমার দিকে তাকিয়ে একটু বিরক্তিতেই বললেন, তোমার কোনো বাহানাই আমি শুনব না। ছবি তোমাকে এখুনি আঁকতে হবে। বাইরের বারান্দা থেকে লণ্ঠনটা এনে রাখো সামনে। তারপর কাজ শুরু করো।

    মনটা অস্বস্তিতে ভরে উঠল। বেশ বুঝতে পারলাম, ছবি আঁকার একটা অভিনয় না করলে এই বদ্ধ পাগলির হাত থেকে নিষ্কৃতি নেই। বাকি রাতটুকু এভাবেই জেগে কাটাতে হবে। যে ভয়ংকর দৃষ্টিতে এইমাত্র উনি আমার দিকে তাকালেন, এর পরেও যদি আপত্তি করি, তবে ফল যে কী হবে তা বেশ বুঝলাম। একবার ভাবলাম, চেঁচিয়ে মালীকে ডাকি। দু-জনে মিলে ওঁকে নিশ্চয়ই কাবু করতে পারব। কিন্তু তখুনি ওঁর মুখের দিকে নজর পড়তে ভয়ে চমকে উঠলাম। বাপরে, কী ভীষণ দৃষ্টি ওর দু-চোখে! যেন আমার মনের ভিতরেই চলে গেছে সে দৃষ্টি। আমার সব চিন্তাগুলোই তাই ওঁর পড়া হয়ে গেছে।

    না আর দেরি করা ঠিক হবে না। একটা-কিছু এখনই শুরু করতে হবে। লন্ঠনটা বারান্দা থেকে এনে ঘরে রাখলাম। ইজেলটা আলোর পাশে এনে তাতে ক্যানভাস চড়ালাম। কী যে আঁকব জানি না। কিছু-একটা আঁকতেই হবে। নইলে ওর ওই ভয়ংকর দৃষ্টির সামনে আমি বোধ হয় পুড়ে ছাই হয়ে যাব।

    খুশি হয়ে উনি বসলেন গুছিয়ে। বললেন, আমি বসছি বাবা, দেখো আঁকতে তোমার কোনো কষ্টই হবে না। আমি বুড়ো হয়েছি, যদি অন্যায় কিছু করেই থাকি, সেকথা ভুলে যেও বাবা। ছবি আঁকা হয়ে গেলে যখন আমার সব কথা জানবে, দেখো তখন আমার উপরে আর তোমার কোনো রাগই থাকবে না।

    আমি বললাম, আঁকতে যখন হবেই আমাকে তখন একটু স্থির হয়ে বসুন। দেখি চেষ্টা করে কতটা কী করতে পারি।

    সঙ্গে সঙ্গে উনি শান্ত হয়ে বসলেন। একটু হেসে বললেন, আর একটা কথা আছে বাবা, আমার যে ছবিটা তুমি আঁকবে, তা কিন্তু আমার এখনকার ছবি নয়।

    চমকে উঠে আমি বললাম, তার মানে?

    এই ধরো আমার বয়স যখন বছর উনিশ-কুড়ি ছিল, আমার সে বয়সেরই একখানা ছবি আঁকো বাবা। কেমন যেন কাতরভাবেই বললেন উনি!

    এ কী বলছেন আপনি? এ কী করে সম্ভব? আমি ভয় পেয়ে বললাম।

    একথা শুনে উনি যেন কেমন হয়ে গেলেন। কেমন যেন করুণভাবে বললেন, বাবা, তুমি শিল্পী, চেষ্টা করলে এ তুমি নিশ্চয়ই পারবে। আমার সে বয়সেরই একখানা ছবি চাই কি না।

    হাতের রং-তুলি যেন হাতেই আটকে গেল। মাথার ভিতর ঝাঁ-ঝাঁ করতে লাগল। মনে হল চেঁচিয়ে মালীকে ডাক দেওয়াই উচিত। এই বৃদ্ধা পাগলির হাত থেকে নইলে আমার আর কোনোমতেই রক্ষা নেই।

    কেমনভাবে যেন উনি বললেন, আরও একটা কথা বাবা, তুমি আমাকে ছুঁয়ো না কখনো। যেমন করে বসতে বলবে, আমি তেমন করেই বসবো। নাও আর দেরি না করে কাজ আরম্ভ করো। দেখতে দেখতে কাজে মন বসে যাবে তোমার।

    আড় চোখে দেখলাম টেবিলে রাখা ঘড়িতে তিনটে বেজে গিয়েছে। ঘণ্টা দুই কোনোমতে এঁকে ঠেকিয়ে রাখতে পারলেই ভোর হয়ে যাবে। তখন যাহোক কিছু করা যাবে। এত রাতে এই প্রচণ্ড ঝড় জলের মাঝে তো ওঁকে আর চলে যেতে বলতে পারি না আমি।

    ক্যানভাসের উপরে তুলির টান দিতে শুরু করলাম। ওঁর মুখে ভারি সুন্দর হাসি ফুটে উঠল। সেই প্রথম আমার মনে হল ভারি আভিজাত্যপূর্ণ সুন্দর চেহারা ওঁর। উনিশ-কুড়ি বছর বয়সে অপূর্ব সুন্দরীই ছিলেন উনি। সে চেহারার ছবি আঁকতে যেকোনো আর্টিস্টই আগ্রহ দেখাত। মনে মনে ভাবলাম, ওঁর বর্তমানের চেহারা দেখে আমি কি ওঁর সেই অতীত সৌন্দর্যের কল্পনা করতে পারব না? ক্ষতি কী যদি কল্পনায় সেই চেহারার ছবিই আঁকতে চেষ্টা করি। অন্তত সে চেষ্টায় এই বিরক্তিকর পরিস্থিতির কথা ভুলে থাকতে পারব।

    বার বার ওঁর দিকে তাকিয়ে দেখে মন দিয়েই ছবি আঁকা শুরু করলাম। বেশ কিছুক্ষণ বাদে মনে হল সত্যিই তো এ ছবি আঁকতে আমার ভালোই লাগছে। শুধু তাই নয়, আমার তুলির প্রতিটি টানেই যেন খুব তাড়াতাড়ি এক অপূর্ব সুন্দরীর রূপ ক্রমে ক্রমে ফুটে উঠছে ক্যানভাসে। এ ছবি নিশ্চয়ই আমি এঁকে শেষ করতে পারব। আর সে ছবি হবে বৃদ্ধার উনিশ-কুড়ি বছর বয়সেরই ছবি।

    বাইরে তখনও ঝড়ের গোঙানি সমানে চলেছে। চলুক, আঁকতে আর আমার খারাপ লাগছিল না।

    হঠাৎ ঝড় থেমে গেল। উনি যেন কেমন অন্যমনস্ক হয়ে পড়লেন। কেন যেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন আমার দিক থেকে। আমি এগিয়ে গিয়ে আস্তে ওঁর মুখখানা

    ফিরিয়ে দিলাম আমার দিকে। মুহূর্তের স্পর্শে মনে হল আঙুলগুলো যেন বরফের মতো জমে গিয়েছে! কী ঠান্ডা ওর দেহ!

    আমার দিকে তাকালেন উনি। আতঙ্কে ক-পা পিছিয়ে গেলাম আমি। এ কী অসম্ভব দৃষ্টি ওঁর চোখে। কে উনি! কী সর্বনাশ করতে চান উনি আমার!

    মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিলেন বৃদ্ধা, বললেন, আর এক দণ্ডও আমার থাকা চলবে না।

    আঁচলের গিট খুলে কী যেন সব উনি নামিয়ে রাখলেন সামনের টেবিলে। দরজার কাছে এগিয়ে গিয়ে বললেন, চমৎকার এঁকেছ ছবিটা! ঠিক অমনিই দেখতে ছিলাম আমি। যেটুকু কাজ বাকি রইল, মন থেকেই শেষ করে ফেলো বাবা।

    আর দাঁড়ালেন না উনি। বাজ পড়ল কাছেই কোথাও। দরজার বাইরে যেতেই প্রচণ্ড শব্দে ইজেল থেকে ছবিটা ছিটকে পড়ে গেল মাটিতে। সব শক্তি হারিয়ে আমি থমকে দাঁড়িয়ে রইলাম। তখুনি বাইরে কোথাও বিকট সুরে ওঁয়াও ওঁয়াও করে বিড়ালগুলো আবার চেঁচাল কিছুক্ষণ।

    মালীর চিৎকারে হুঁশ এল। আলো নিয়ে ঘরে ঢুকল ও। – এ কি সাহেব, তুই ঘুমাসনি। কিছু হয়নি তো তোর? ছবিটা তুলে ও আবার ইজেলে লাগিয়ে দিল। বলল, বাজ পড়ল বাইরে, তাই দেখতে এলাম তুই কেমন আছিস। কী হয়েছে তোর? অমন করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

    চূড়ান্ত ক্লান্তিতে আমার দেহ মন যেন ভেঙে পড়তে লাগল। কোনোমতে মালীকে বিদায় দিয়ে শুয়ে পড়লাম।

    পরদিন বেলায় ছবিটা দেখে চমকে উঠলেন বিশ্বাস মশাই। বললেন এ ছবি আপনি আঁকলেন কেমন করে? এ তো মিসেস চৌধুরীর ছবি। নিজের রূপ সম্বন্ধে বড়ো অহংকার ছিল ওর মনে। স্বামীর সঙ্গে তাই খুব বেশি বনিবনা ছিল না। সামান্য ব্যাপারে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ছেলেকে আর তার পোষা বিড়াল নিয়ে চলে আসেন এখানে। হয়তো বিচ্ছেদই হয়ে যেত ওদের মধ্যে। একমাত্র ছেলের জন্য তা হতে পারেনি। তবে শুনেছি, মিস্টার চৌধুরী নাকি রাগে তাঁর স্ত্রীর সব স্মৃতিচিহ্নগুলোই সরিয়ে ফেলেছিলেন তাঁর ছেলের সামনে থেকে। এমনকী সব ছবিগুলোও নষ্ট করে ফেলেছিলেন।

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এত কথা আপনি ওদের সম্বন্ধে জানলেন কী করে?

    মিসেস চৌধুরীকে এখানে দেখাশোনা তো আমিই করতাম। বললেন বিশ্বাস মশাই, মিসেস চৌধুরী মারা যাওয়ার এক যুগ পর তো এ বাড়ি বিক্রি হয় দত্ত সাহেবের কাছে। বিক্রির আগে এসেছিলেন মিসেস চৌধুরীর সেই ছেলে— মাইকেল। এখানকার জিনিসপত্রের একটা ব্যবস্থা করতে। আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তার মার কোনো ছবি আছে কারিনা আমার কাছে। মা যখন ওর মারা যায়, তখন ওর বয়স যে মাত্র এক বছর। আমার সঙ্গে শেষবারের মতো ওর মার সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে ও বলেছিল, তোমাকে না দেখার দুঃখ আমি কোনোদিনও ভুলতে পারব না মা। মৃত্যুর পর যদি আত্মা বলে কিছু থাকে তবে আমাকে একবার দেখা দিও। না দেখা দিলে তোমার মুক্তি নেই মা।

    আমি শিউরে উঠে বললাম, সে কী, এ তো একরকম অভিশাপ দেওয়া! একথা বলতে পেরেছিল মাইকেল!

    যাক, এ ছবিই মাইকেলের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবে তার মাকে। বিশ্বাস মশাই শান্ত গলায় বললেন।

    মালী তখনি এসে বলল, সাহেব রাতে বাজ পড়ে চৌধুরী মেমসাহেবের কবরটা ফেটে গিয়েছে।

    বিশ্বাস মশাই একথা শুনে ওর বুকে ক্রুশ চিহ্ন আঁকলেন।

    আমার নজর গেল টেবিলের দিকে। অবাক হয়ে দেখলাম, সেখানে ভিক্টোরিয়ার আমলের এক মুঠো টাকার নীচে একটা কাগজ চাপা রয়েছে। সেটা নিয়ে বিশ্বাস মশাইকে দিতেই উনি পড়লেন, লেখা আছে— একজনের অন্ধ স্নেহ আমাকে এক যুগ অন্ধ করে মাটির নীচে বন্দি করে রেখেছিল। তুমি আমাকে মুক্তি দিলে। তোমার মঙ্গল হোক। সেই স্নেহঅন্ধ মানুষটিরও সময় ফুরিয়ে এসেছে। দোহাই তার মনের কামনা এখুনি পূরণ করো। নইলে হয়তো আমাকে আবার ওই ভয়ংকর অন্ধকারে চিরকালের মতো বন্দি হতে হবে।

    ঘন ঘন নিজের বুকের ওপর ক্রুশ আঁকতে আঁকতে বিশ্বাস মশাই বললেন, এ ছবি এখুনি মাইকেলকে পাঠাতে হবে। তাকে চিঠি দিয়ে দেব, হঠাৎই এটা খুঁজে পেয়েছি বলে। কে জানে কী অবস্থা তার। তারও তো বয়স নেহাত কম হল না।

    [ভূত কুটুমের গল্প, উদয় প্রকাশন, ১৯৮২ (প্রথম প্রকাশকাল অজ্ঞাত) ]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }