Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    অমিতাভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প518 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তর সিকিমের ভূত বাংলো – সমরেশ বসু

    এবার আমি তোমাদের গোগোলের গল্প শোনাতে পারলাম না। তাই ঠিক করেছি, এ বছরে, আমার নিজে চোখে দেখা একটা ভূতুড়ে ঘটনার কথা তোমাদের শোনাব। ভূতুড়ে ঘটনাটা সত্যি ভূতের কাণ্ডকারখানা কিনা, সেটা তোমরাই বিচার করবে।

    প্রায় চৌদ্দো বছর আগে আমি প্রথম সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে বেড়াতে গিয়েছিলুম। কোথায় কোন হোটেলে উঠব, সেসব আগের থেকেই ঠিক করা ছিল। কিন্তু সেখানে কারোকেই চিনি নে। আমি একলা মানুষ। গল্প করার কথাবার্তা বলার লোক নেই। একমাত্র হোটেলের মালিক আর তার মেয়ে বউ ছাড়া। হোটেলের মালিক ছিল একজন বাস্তুহারা তিব্বতী। চীনারা যখন তিব্বত দখল করে নিয়েছিল, তখন দলাই লামার সঙ্গে হাজার হাজার তিব্বতী ভারতবর্ষে চলে আসে, আর নানান জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এখনও সেই সব তিব্বতীরা আমাদের দেশেই থেকে গিয়েছে।

    গ্যাংটক শহরের সবচেয়ে বড়ো সৌন্দর্য হল, প্রায় দু-কিলোমিটার জায়গা অনেকটাই সমতল। শহরের বাজার, দোকানপাট, হোটেল রেস্টুরেন্ট, সবই সেই সমতল রাস্তার দু-ধারে। আর এই রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে, নীল আকাশের গায়ে সবসময়েই দেখতে পেতাম, কাঞ্চনজঙ্ঘার বেশ বড়ো একটা অংশ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, তুষারাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘার রংও বদলাতে থাকত। সেই দিকে তাকালে, বাকিটা সবই নীচের পাহাড়ি অঞ্চল, গাছপালায় নিবিড় সবুজ আর নীল দেখাত। আবার অন্য দিকে পাইন দেবদারু নানা গাছের ফাঁকে ফাঁকে, পুলিশের ব্যারাক, সরকারি অফিসগুলো দেখা যেত। সমতল পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই চলে যেতাম, এককালের রাজা ছগিয়ালের প্রাসাদের দিকে। সেখানে একটি বৌদ্ধ মন্দিরে দেখতাম, তিব্বতী লামা ও ভক্তরা গম্ভীর স্বরে মন্ত্রোচ্চারণ করছেন। আর একটি অনির্বাণ প্রদীপ সবসময়েই জ্বলছে। অনির্বাণ প্রদীপ মানে হল, যে-প্রদীপ একবার জ্বালালে আর কখনো নিভবে না। তিব্বতী বৌদ্ধদের কাছে এ অনির্বাণ প্রদীপ খুবই পূণ্যের জিনিস।

    দু-দিন বাদেই এক বাঙালি ভদ্রলোক এসে আমার সঙ্গে আলাপ করলেন। তিনি একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সংবাদদাতা। জিজ্ঞেস করলুম, ‘কী করে জানলেন আমি এখানে এসেছি?’

    সাংবাদিক ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘আমাদের কাছে কোনো সংবাদই চাপা থাকে না। কলকাতার এক খবরের কাগজের সাংবাদিক বন্ধু আমাকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, আপনি গ্যাংটক বেড়াতে এসেছেন। খবর পেয়েই হোটেলগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানলুম, আপনি এই হোটেলে উঠেছেন। তাই আপনার সঙ্গে আলাপ করতে এলুম।’

    আমিও ভদ্রলোককে পেয়ে খুশি হলুম। তিনি ওঁর বাড়িতে আমাকে নিয়ে গেলেন। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাঁদের একটি চার পাঁচ বছরের মেয়ে ছিল। হাসিখুশি মেয়েটির সঙ্গেও আমার খুব ভাব জমে গিয়েছিল। সে আমাকে গ্যাংটকের অনেক গল্প শোনাত। সাংবাদিক ভদ্রলোক গ্যাংটকের যা-কিছু দেখবার, সবই আমাকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। তিনিই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, মিলিটারি ক্যাপ্টেন টি. কে. বাসুর সঙ্গে। টি. কে. বাসু অর্থাৎ তাপসকুমার বসু।

    গ্যাংটকের মতো জায়গায়, একজন বাঙালি মিলিটারি ক্যাপ্টেনের সঙ্গে আলাপ হওয়া খুবই সৌভাগ্যের বিষয়। ক্যাপ্টেন বাসু একদিনের আলাপেই আমার এমন বন্ধু হয়ে গেলেন, পরের দিনই তিনি আমাকে তাঁদের মিলিটারি মেসে দুপুরে খাবার নিমন্ত্রণ করলেন। বললেন, ‘আপনি হোটেলেই তৈরি হয়ে বসে থাকবেন। আমি নিজে না আসতে পারলে, গাড়ি পাঠিয়ে দেব। মিলিটারি ড্রাইভার আপনার খোঁজ করে আপনাকে নিয়ে যাবে।’

    গ্যাংটকের মতো জায়গায়, এরকম একজন ক্যাপ্টেনকে পেয়ে আমার খুবই আনন্দ হল। পরের দিন একজন মিলিটারি পোশাক পরা সর্দারজী অর্থাৎ শিখ ড্রাইভার বেলা এগারটায় হোটেলে এলেন। আমি হোটেলের নীচের তলায় রেস্টুরেন্টে বসেছিলুম। ড্রাইভার সর্দারজী হোটেলের মালিককে আমার নাম বলতেই, তিনি আমাকে দেখিয়ে দিলেন। সর্দারজী আমাকে একটি ছোটো চিরকুট দিলেন। তাতে লেখা ছিল, ‘দাদা, ড্রাইভার যশোবন্ত সিং আপনাকে নিয়ে আসবে। আপনি এর সঙ্গে চলে আসবেন। ইতি, তাপস।

    আমি যশোবন্ত সিংয়ের সঙ্গে একটা জিপে চেপে বেরিয়ে পড়লুম। সমতল পাহাড়ি পথে গিয়ে, মিলিটারি মেসে যেতে আমার রীতিমতো ভয় হয়েছিল। মেসটা ছিল একটা পাহাড়ের মাথায়। রাস্তাটা এমন উঁচু আর খাড়া, একটু এদিক- ওদিক হলেই একেবারে সোজা যমালয়ে চলে যেতে হবে।

    যাই হোক, মেসে পৌঁছোলুম। সামনে লন। একটা গাড়ির পক্ষে পুরোপুরি পাক খাবার মতো জায়গাও নেই। মেস রুমটা বেশ বড়ো। ক্যাপ্টেন টি. কে. বাসু ছাড়াও আরও বেশ কিছু ভদ্রলোক, ভদ্রমহিলা ছিলেন। ভদ্রলোকেরা সকলেই নানা স্তরের অফিসার। এবং যিনি মিলিটারি ডাক্তার ছিলেন, তিনি একজন ওড়িয়া। ক্যাপ্টেন বাসু ছাড়া আর কোনো বাঙালি না থাকলেও, সকলের সঙ্গেই আমার খুব ভাব হয়ে গেল।

    .

    অনেকরকম রান্না হয়েছিল। সবই দেশীয় রান্না। মাংসের বিরিয়ানি, কাবাবের কোনো তুলনা ছিল না। খাওয়া-দাওয়া মিটতেই প্রায় বেলা তিনটে বেজে গিয়েছিল। ক্যাপ্টেন বাসুই ছিলেন মেসের ইনচার্জ। আর মেসের গায়েই ছিল তাঁর ছোটো দুই কুঠরির থাকবার ঘর। সেখানে বিশ্রাম নেবার সময়েই ক্যাপ্টেন বাসু আমাকে বললেন, ‘উত্তর সিকিম হল মিলিটারির হাতে। সেখানে সাধারণ মানুষ, এখান থেকে যেতে পারে না। বিশেষ অনুমতি লাগে। আর উত্তর সিকিমে যারা বাস করে, তারাও কেউ এদিকে আসতে পারে না। এই সীমান্ত অঞ্চলে, সামরিক কড়াকড়ি খুব বেশি। তবে আপনি যদি উত্তর সিকিমে বেড়াতে যেতে চান, আমি তার ব্যবস্থা করতে পারি। আমাদের সঙ্গে গেলে আপনার কোনো অনুমতির দরকার হবে না।’

    আমি তো শুনে খুবই খুশি। তখনই রাজি হয়ে গেলুম।

    .

    দু-দিন পরেই, সকালবেলা একটা জোংগা জিপে চেপে আমরা উত্তর সিকিমের পথে রওনা হলুম। জোংগা জিপ এমন গাড়ি, যা খাড়া পাহাড়ি পথে চলতে পারে। ক্যাপ্টেন বাসু ছাড়া, আমি, আর ডাক্তার মেজর মোহান্তি, এবং তাঁর স্ত্রী ছিলেন। গাড়ির চালক ছিলেন সেই যশোবন্ত সিং।

    উত্তর সিকিমের পথটা গিয়েছে তিস্তার উৎসের দিকে। অর্থাৎ তিস্তা যেখান থেকে, বরফ গলে, পাহাড় থেকে নেমে, শিলিগুড়ির পাশ দিয়ে সমতলে নেমেছে। আমরা সেই ওপরে উঠছিলুম। আর আস্তে আস্তে পাহাড় পর্বতের দৃশ্যও বদলে যাচ্ছিল। খুব সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে, খাড়া পাহাড়ের গা ঘেঁষে আমাদের জিপ চলছিল। আর তিস্তাকে একটা সরু নীল ফিতের মতো অনেক নীচে দেখা যাচ্ছিল। গাছপালা কমতে কমতে, আমরা পৌঁছে গিয়েছিলুম বরফের রাজত্বে। চারদিকের পাহাড়ই অধিকাংশ বরফে ঢাকা।

    রাত্রে আমরা যেখানে থাকব, সেখানে রান্নার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু দুপুরের খাবার সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। ঠিক হয়েছিল, একটা বাংলোয় আমরা দুপুরের খাবার খাব। সেখানেই একটু বিশ্রাম করব। বাংলোটা মিলিটারির অধীনেই ছিল। কিন্তু ডাক্তার মেজর মোহান্তির স্ত্রী মিসেস মোহান্তি ভয় পেয়ে বললেন, ‘আমি শুনেছি, ওটা ভূত বাংলো। আমি ওখানে ঢুকব না।’

    মিসেস মোহান্তির কথা শুনে সবাই হেসে উঠলেন। ক্যাপ্টেন বাসু বললেন, ‘দিনেরবেলা সেখানে আপনার ভয় পাবার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া, বাংলোটা মিলিটারি পাহারা দেয়। বাইরের ঘরে অফিসাররা মাঝে মাঝে অফিসের কাজ নিয়েও বসেন। দুটি খুব ভালো শোবার ঘর আর বাথরুম আছে। আমরা আছি, আপনার কোনো ভয় নেই।’

    প্রায় বেলা একটার সময় আমরা সেই বাংলোর সামনে এসে দাঁড়ালাম। চারদিকেই বরফে আবৃত পাহাড়। উত্তরে, আকাশের গায়ে তুষার ঢাকা পর্বত ছাড়া কিছু নেই। কোথাও কোনো শব্দ নেই। এমনকী একটা পাখির ডাকও শোনা যায় না। বাংলোর গেটেই দেখা গেল, বন্দুক হাতে একজন সিকিমি সৈনিক পাহারা দিচ্ছে। আমাদের আসার সংবাদ নাকি আগেই দেওয়া হয়েছিল। সিকিমি সৈনিক মিলিটারি কায়দায় সেলাম ঠুকে, বাংলোর দরজার তালা খুলে দিল। আমরা ভিতরে ঢুকলুম।

    বাংলোর বাইরের ঘরটা বেশ বড়ো। সোফা-সেট ছাড়াও রয়েছে মস্তবড়ো একটা টেবিল। অনেকগুলো চেয়ার। টেবিলের ওপর রাখা জলভরা কাচের জাগ। অনেক প্লেট থাকে থাকে সাজানো। আর ডজন খানেক জলের গেলাস।

    আমি বাংলোর ভিতরের অন্যান্য ঘরগুলো দেখে এলুম। সত্যি বেশ সুন্দর সাজানো ঘর। খাটের বিছানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। ডাক্তার মোহান্তি নিজেই মিসেস মোহান্তিকে নিয়ে একটি শোবার ঘরে ঢুকলেন। ক্যাপ্টেন বাসু ড্রাইভাররের সাহায্যে গাড়ি থেকে খাবার নামিয়ে টেবিলের ওপর সাজালেন। ডাক্তার মোহান্তি বাইরের ঘরে এসে বললেন, ‘আমার স্ত্রীর ভয় কেটে গেছে। উনি বাথরুমে গেছেন। এখন বেশ খুশি।’

    আমার খুব শীত করছিল। তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে একটা শোবার ঘরে গিয়ে, কম্বল মুড়ি দিয়ে খানিকক্ষণ বিশ্রাম করবার জন্য ব্যস্ত হয়েছিলুম। এই সময়ে হঠাৎ মিসেস মোহান্তির একটা আর্ত চিৎকার ভেসে এল। তিনি ছুটতে ছুটতে বাইরের ঘরে এলেন। দেখলাম, তাঁর দু-চোখ ভয়ে ও আতঙ্কে বিস্ফারিত। মুখে বোধ হয় জল দিয়েছিলেন। মুখটা ভেজা। আমরা সবাই তাঁকে একটা সোফায় বসিয়ে দিলুম। তিনি প্রথমে কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না। তারপরে কোনোরকমে যা বললেন, তা হল, বাথরুমের জানলাটা নাকি হঠাৎ যেন বাতাসের ঝাপটায় খুলে যায়। জানলায় কোনো গরাদ ছিল না। জানলায় দেখা যায় বিকট দর্শন একটা মুখ। মাথায় লম্বা লম্বা চুলে বেণি পাকানো, অথচ মুখে ঝুলের মতো গোঁফ দাড়ি। সে হাসছিল না কী করছিল বোঝা যায়নি। কেবল তার মস্ত লাল জিভ আর বোগড়া বোগড়া বড়ো দাঁত দেখা গিয়েছিল। সে অদ্ভুত শব্দ করে, মিসেস মোহান্তির দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। তখনই তিনি কোনোক্রমে দরজার ছিটকিনি খুলে বেরিয়ে আসেন।

    সব শুনে ক্যাপ্টেন বাসু তৎক্ষণাৎ সিকিমি সৈনিকটিকে নিয়ে বাইরে ছুটে গেলেন। ডাক্তার মিসেস মোহান্তির পাশে বসে তাঁকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করছিলেন। আমি মনে মনে অবাক হচ্ছিলুম। আশেপাশে কোনো মানুষের বসতি নেই। ওরকম অদ্ভুত মূর্তি এই বরফে ঢাকা পাহাড়ে কোথা থেকে এল?

    মিসেস মোহান্তি আবার বললেন, ‘ক্যাপ্টেন বাসু আমার সব কথা না শুনেই চলে গেলেন। সেই মূর্তি দেখে, আমি যখন ছিটকিনিটা খোলবার চেষ্টা করছি, তখন হঠাৎ মূর্তিটার চেহারা বদলে গেল। দেখলাম, একটা মাথায় এলানো চুল পাহাড়ি মেয়ে খিলখিল করে হাসছে। তার গলায় অনেক রঙের পাথরের মালা। সে তার এমন লম্বা হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল, ছিটকিনি না খুলতে পারলে সে আমাকে নির্ঘাত ধরে ফেলত। তোমরা কি সেই বিকট হাসি শুনতে পাওনি?’

    ডাক্তার মোহান্তি মাথা নেড়ে বললেন, ‘আমি কিছুই শুনতে পাইনি।’

    মিসেস মোহান্তি আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, বললুম, ‘না, আমিও কিছু শুনতে পাইনি।’

    প্রায় পনেরো মিনিট পরে ক্যাপ্টেন বাসু ফিরে এসে জানালেন, কোথাও কিছু দেখতে পাননি। কাছে-পিঠের মধ্যে বাংলোর পিছনে, পাহাড়ের ওপরে একটি বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। সেখানে একটি আলাদা কাঠের বাড়িতে একটি তিব্বতী পরিবার রয়েছে। সেখানে ওরকম কোনো মানুষের মূর্তি দেখা যায়নি, তা ছাড়া, ক্যাপ্টেন বাসু সিকিমি সৈনিকটিকে নিয়ে এত তাড়াতাড়ি গিয়েছিলেন, কেউ পালাতে গেলে তিনি নিশ্চয়ই দেখতে পেতেন। তা ছাড়া সিকিমি সৈনিকটি বলল, পিছনের পাহাড়ে তিব্বতী পরিবারটি খুবই ভালো। তারা এই পাহাড়ে খুব কষ্ট করে কিছু ফসল করে, আর তা খেয়েই, বুদ্ধের সেবা করে বেঁচে আছে।

    যাই হোক, খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। খিদেও পেয়েছিল সকলেরই। বাইরের ঘরের বড়ো টেবিল ঘিরে আমরা সবাই খেতে বসে গেলাম। বন্ধ কাচের জানলা দিয়ে বাইরে, ওপারের পাহাড়ে বরফের ওপর রোদের ঝিকিমিকি দেখা যাচ্ছিল। পরোটা, আলুর দম, শুকনো করে রান্না মাংস আর মিষ্টি ছিল দুপুরের খাবার। আর বড়ো ফ্লাস্কে ছিল গরম কফি।

    ক্যাপ্টেন বাসুকে বলে আমি ভিতরে একটি শোবার ঘরে গেলুম। জোংগা জিপে অনেকটা পথ এসে, আর পেট ভরে খেয়ে, আমার যেন শীতটা আরও বেশি লাগল। কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পড়লুম। ঘুমের দরকার ছিল না। ঘুম আসছিলও না। আমি একটু আরাম করতেই চাইছিলুম। শুয়ে শুয়ে মিসেস মোহান্তির দেখা ঘটনার কথা ভাবছিলুম।

    ভাবতে ভাবতেই আমার যেন একটু তন্দ্রার ঘোর এসে গিয়েছিল। শুনতে পেলুম, ঘরের মধ্যে যেন কেউ পায়চারি করছে। তারই তালে তালে ঠুং ঠুং শব্দ হচ্ছে। আর আমার নাকে আসছে একটা মিষ্টি সুগন্ধ। আমার তন্দ্রা কেটে গেল। চোখ মেলে তাকালুম। দেখলুম, একটি অদ্ভুত দেখতে মেয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। কিন্তু বাথরুমের দরজাটা খোলাই রইল।

    দরজাটা কি খোলাই ছিল? মনে করতে পারলুম না। হয়তো স্বপ্নই দেখছিলুম তন্দ্রার ঘোরে। কোনোরকমে কম্বলের ঢাকা খুলে, খাট থেকে নেমে, বাথরুমের দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিলুম। দিয়েই আবার গিয়ে শুয়ে পড়লুম। এর পরেও আমাদের অনেকটা পথ যেতে রাত্রি হয়ে যাবে। এসব পাহাড়ি পথে রাত্রে চলাটা নিরাপদ নয়। কোথায় যে রাস্তায় ধস নেমে আছে, কেউ বলতে পারে না। আর আমরা এমন একটা সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে চলেছি, যেকোনো সময়েই বিদেশি সৈনিকের গুলি ছুটে আসতে পারে।

    আবার বোধ হয় আমার একটু তন্দ্রা এসেছিল। শুনতে পেলুম, ঘরের মেঝেয় কেউ হেঁটে বেড়াচ্ছে। আমি চোখ মেলে তাকিয়ে অবাক হয়ে দেখলুম, গলা থেকে হাঁটু অবধি লাল পোশাক পরা একটি লোক ঘরের একটা জানলার কাছ থেকে দরজা অবধি হেঁটে বেড়াচ্ছে। পায়ে মোজা আর জুতো। মাথায় টুপি পরা থাকলেও, লম্বা চুল বেরিয়ে পড়েছে। আর তার ফর্সা মুখে গোঁফ দাড়িও রয়েছে। আশ্চর্য! এ কোথা থেকে এল? আমি উঠে বসে জিজ্ঞেস করলুম, ‘কে আপনি? এ ঘরে এলেন কেমন করে?’

    লোকটি আমার দিকে একবার তাকাল। তারপর বাথরুমের দরজা খুলে ভিতরে চলে গেল। দরজাটা বন্ধ করে দিল। আশ্চর্য! সত্যিই ভূত বাংলো নাকি? আমি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লুম। পায়ে জুতো গলিয়ে, বাথরুমের দরজা খুললুম। কেউ কোথাও নেই! কেবল বড়ো জানলার কাচের পাল্লা দুটো খোলা। জানলার বাইরে জংলি ঝোপঝাড়। আমি এগিয়ে গিয়ে জানলায় উঁকি দিতে গেলুম। তৎক্ষণাৎ দরজাটা শব্দ করে বন্ধ হয়ে গেল।

    আমি লাফ দিয়ে দরজার কাছে গিয়ে পাল্লা ধরে টানলুম। কিন্তু দরজাটা বাইরে থেকে কেউ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি চিৎকার করে ডাকলুম, ‘ক্যাপ্টেন বাসু, দরজাটা খুলে দিন!’

    তখনই জানলার কাছে খিলখিল হাসি শুনতে পেলুম। ফিরে তাকিয়ে দেখি, চুল এলো করা একটা পাহাড়ি মেয়ে জানলার বাইরে দাঁড়িয়ে হাসছে। মুখটা তার মোটেই খারাপ নয়। গলা থেকে তার বুক অবধি নানা রঙের পাথরের মালায় ঢাকা। তাকে আমার পাগলি ছাড়া কিছুই মনে হল না। আমি তার দিকে তেড়ে গেলুম। সে ভয় না পেয়ে তার একটা হাত ভিতরে বাড়িয়ে দিল। আমি সে হাতটা ধরতে গেলুম। অমনি সে হাতটা সরিয়ে নিল। আমি ওর এলো চুল ধরবার জন্য হাত বাড়ালুম। সে পেছিয়ে গেল, আর খিলখিল করে হাসতে লাগল।

    আমি এমনই ক্ষেপে গেলুম, বড়ো জানলাটায় উঠে বাইরে লাফ দিয়ে পড়লুম। মেয়েটি বোধ হয় ভাবতে পারেনি, আমি এমন একটা কাণ্ড করতে পারি। সে দৌড় দিল। আমিও তার পিছনে পিছনে ছুটলুম। কিন্তু জংলি ঝোপঝাড়ের মধ্যে সে যে কোথায়, দেখতে পেলুম না। অথচ তার হাসি শুনতে পেলুম। হাসির শব্দ লক্ষ করে আমিও জংলি ঝোপে ঢুকে পড়লুম। এ নিশ্চয়ই কোনো মতলববাজ মানুষদের ব্যাপার। হাসির শব্দ লক্ষ করে ছুটতে ছুটতে, হঠাৎ একসময়ে আমি বাংলোর সামনে পাহাড়ের খাদের ধারের রাস্তায় এসে পড়লুম। তখন আর হাসি শোনা যাচ্ছে না। জংলি ঝোপও নেই।

    অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লুম। আর একটু হলে আমি হাজার হাজার ফুট নীচে পড়ে যেতুম। উত্তরের আকাশে তুষারাবৃত পর্বতের গায়ে রোদে নানা রং খেলছে। আমি বাংলোর দিকে এগিয়ে গেলুম। দেখলুম সিকিমি সৈনিকটি বাংলোর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। ঘরে ঢুকে দেখলুম, ডাক্তার মেজর মোহান্তি আর ক্যাপ্টেন বাসু দুটো ছোটো সোফায় গা এলিয়ে চোখ বুজে আছেন। মিসেস মোহান্তি বড়ো সোফায় শুয়ে ঘুমোচ্ছেন। আমার পায়ের শব্দে ক্যাপ্টেন বাসু চোখ মেললেন। জিজ্ঞেস করলেন, এর মধ্যে আবার বাইরে গেলেন কখন?’

    বললুম, ‘ঘর থেকে এসে বলছি।’

    আমি যে-ঘরে শুয়েছিলুম, সে-ঘরে ঢুকে বাথরুমের দরজাটা দেখলুম। অবাক কাণ্ড! সত্যি বাইরে থেকে বাথরুমের দরজাটার ছিটকিনি বন্ধ। কে বন্ধ করতে পারে?

    আমি শোবার ঘর থেকে বাইরের ঘরে এলুম। ক্যাপ্টেন বাসুকে ইশারায় ডেকে ঘরের বাইরে গিয়ে সব কথা বললুম। তিনি শুনে খুব অবাক হয়ে বললেন, ‘আমরা কেউ আপনার শোবার ঘরে ঢুকিনি। কোনো মেয়ের হাসিও শুনতে পাইনি।’

    আমরা দু-জনেই দু-জনের মুখের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলুম।

    এ ভূতুড়ে ব্যাপারের কোনো ব্যাখ্যাই আমি আজ পর্যন্ত খুঁজে পাইনি। আমার ধারণা, ওখানে এমন কিছু লোক হয় তো আছে, যারা চায় না, বাংলোয় এসে কেউ থাকুক। ওখান থেকে চলে আসবার সময় সিকিমি সৈনিকটিকে জিজ্ঞেস করেছিলুম, সে কখনো কিছু দেখেছে কিনা। সে পরিষ্কার বলল, ‘না, সে রকম কিছু দেখলেই আমি গুলি চালিয়ে দিতুম।’

    দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমার কাছে বন্দুক বা রিভলবার কিছুই ছিল না। কিন্তু ক্যাপ্টেন বাসু আর ডাক্তার মেজর মোহান্তির কাছে রিভলবার ছিল, সেইজন্যই কি ভূতেরা তাঁদের দেখা দেয়নি? কে জানে।…

    [ আরাধনা (দেব সাহিত্য কুটীর), ১৯৮৪ ]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }