Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    অমিতাভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প518 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আলোক ভাষা – শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

    আমি জীবনে প্রথম সমুদ্র দেখেছিলাম ওয়ালটেয়ারে। যে-বাড়িতে উঠেছিলাম, সেটিকে বাড়ি না বলে অট্টালিকা বলাই বোধ হয় ভালো। ওয়ালটেয়ার রেলস্টেশনে নেমে ঘোড়ায় টানা যে গাড়িতে উঠেছিলাম, সে গাড়ির গাড়োয়ান আমার কাছ থেকে ‘কোথায় যাব’ সেই ঠিকানা শুনে এরাস্তা-সেরাস্তা করে এই অট্টালিকারই পিছনের উঠোনে এনে নামিয়ে বলল, এই সেই বাড়ি।

    আমি নতুন এসেছি, কাগজে লেখা ঠিকানাটা আবার দেখে নিয়ে বললাম, এই যে রাস্তায় এসে পড়লাম, এটাই কি বিচ রোড?

    সে তার ভাষায় যা বললে তার বাংলা হল, না বাবু, এটা বিচ রোড নয়, সেটা গেছে বাড়ির সামনে দিয়ে। সেদিকে যেতে গেলে একটু ঘুর হত বলে এই রাস্তায় এলাম, এটাই সংক্ষিপ্ত পথ

    আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ওয়ালটেয়ার নামটা শুধু জানা ছিল, এ সম্বন্ধে আর কিছু ধারণায় ছিল না। তাই ওর ভাড়া মিটিয়ে আমার সুটকেস-বেডিং হাতে নিয়ে একটু এগিয়েই আমার চেনা লোকটির সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। আমার এখানে এসে এঁরই সঙ্গে দেখা করার কথা। ইনিই আমার কোম্পানির মালিকদের একজন। আমাকে দেখে একটু হেসে বললেন, এসেছ? এসো। এই গলি দিয়ে সামনে চলে যাও। সামনের দিকেই আমাদের ঘর। বাক্স-বেডিং নামাও, ওসব রামলু নেবে খন।

    পরে জেনেছিলাম রামলু হচ্ছে চাকরের নাম। ওঁর হাঁক ডাকে সে এসে গেল। ছোকরা চাকর, বয়স ষোলো-সতেরোর বেশি নয়। সে আমাকে পথ দেখিয়ে সামনের দিকে নিয়ে চলল। মালিকদের যিনি একজন, তিনি বললেন, তুমি যাও, আমি মিনিট দশেক পরে আসছি একটা দরকারি কাজ সেরে। উনি চলে গেলেন।

    আমি যে পথটি ধরলাম সেটি ‘পথ’ নয়, সাড়ে তিন ফিট চওড়া ভিতরের বারান্দা। তার ডান দিকে সারি সারি ঘরের দরজা, যেখানে অন্য ভাড়াটেরা থাকে। রামলুর পিছন পিছন পা ফেলতে গিয়ে বুঝলাম, সামনে একটু এগোলেই আমাদের ঘরে পৌঁছে যাব। ডান দিকে পড়ল অন্য দুটি ঘরের দুটি দরজা, তাদের সামনে পর্দা টাঙানো আর বাঁ-দিকে নিরেট দেওয়াল, ওটা নিশ্চয়ই কোনো ঘর তার দরজা সামনের দিকে। রামলুকে দেখলাম সামনের ঘরের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল। বুঝলাম ওটাই আমাদের ঘর। সরু বারান্দাটা শেষ হয়েছে ওই ঘরের দরজা ছাড়িয়ে দু-পা ফেলবার পর। এখানে একটা রেলিং, রেলিং-এর বাঁ-দিক দিয়ে সিঁড়ি নেমে গেছে নীচে। সেটা ভালো করে দেখবার জন্য রেলিং-এর কাছে এগিয়ে যেতেই সামনে যে দৃশ্য পড়ল, তা দেখে চমকে গেলাম।

    সেই আমার প্রথম সমুদ্র দর্শন। রেলিং-এর বাঁ-দিকে যে সিঁড়ির কথা বলেছিলাম, সেই সিঁড়ি দিয়ে আট-দশটা ধাপ নামলেই সবুজ ঘাসে-মোড়া চমৎকার ‘লন’ একটি। তার বাঁ-পাশ দিয়ে পাথরে-গাঁথা অট্টালিকাটির প্রশস্ত সিঁড়ি নেমে গেছে একটা পিচ ঢালা রাস্তার ওপর, চওড়ায় যেটা যোলো ফিটের বেশি হবে না। পরে জেনেছিলাম, এরই নাম ‘বিচ রোড।’ এই বিচ রোডটি পার হলেই সমুদ্রের অপরিসর বালুবেলা। তারপরেই সমগ্র দিগন্ত জুড়ে সমুদ্রের বিস্তার হয়েছে। বালুবেলার ওপর ঢেউ এসে পড়ছে সাদা সাদা ফেনা নিয়ে। অদূরে বিশাল সমুদ্রের ঢেউ ভাঙছে, যাকে বলে ‘ব্রেকার’। আর ভাঙার পরেই শব্দ হচ্ছে, যেন কোনো ক্রুদ্ধ সিংহ গর্জন করছে! সমুদ্র জুড়ে রং-ই বা কী! আকাশটা ফিকে নীল। দিগন্তের কাছে সমুদ্র যেখানে আকাশের সঙ্গে মিশেছে, সেখানটা একটু কালো। যেন দিগন্ত জুড়ে কেউ একটা কালো সরলরেখা টেনে দিয়েছে। তার ওপরে আকাশে শোভা পাচ্ছে সাদা সাদা মেঘ; তারা যেন দলবেঁধে নিরুদ্দেশ যাত্রা করেছে।

    সমুদ্রের রং ঘোর নীল, কিন্তু তীরের দিকে যেখানে ঢেউ ভাঙছে, সেখানকার রং সবুজ-সবুজ আর ঢেউয়ের মুখে সাদা ফেনা। সেই সাদা রং তার সঙ্গে মিশে সবুজ, নীল ঘোর নীল, আর দিগন্তে কালোর আভাষ— সব মিলিয়ে রঙের যে সমাবেশ ঘটিয়েছে, তা দেখে অভিভূত হয়ে যেতে হয়।

    এই পরিবেশে আমি সাত বছর কাটিয়েছিলাম। মাঝে কিছু কালের সমুদ্র ভ্রমণ বাদ দিলে ওই অট্টালিকার ডান পাশের সামনের দিককার ঘরখানায় আমার কেটেছিল সমস্তটা সময়। অট্টালিকার ডান পাশের বর্ণনা দিয়েছি, বাঁ-পাশেও ঠিক ওইরকম ঘর রয়েছে। রয়েছে ওইরকম সবুজ ঘাসে মোড়া লন। ডাইনে- বাঁয়ে সামনের ঘরগুলিকে রেখে চওড়া সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলা পর্যন্ত। বাড়িটা দোতলা। বিচরোডে বা সমুদ্রের অপরিসর বালুবেলায় দাঁড়ালে বাড়িটাকে চমৎকার দেখা যায়। সামনে, মাঝখানে মূল সিঁড়ি, সিঁড়ি দিয়ে মূল বাড়িটিতে ঢুকলে একটা বাঁধানো চাতাল পড়বে। তার দু-পাশে অর্থাৎ ডাইনে-বাঁয়ে দুটি বিশাল দরজা। সামনে সিঁড়ি, একটু ঘুরে একটা ল্যান্ডিং বা পাঠাতন তৈরি করে দোতলায় উঠে গেছে। দোতলায় ওঠবার আগে যে চাতালটির কথা বললাম, তার ডাইনে-বাঁয়ের যেকোনো দরজা দিয়ে ঢুকলেই পড়বে চওড়া বারান্দা। তার একপাশে পড়বে একটা করে বেশ বড়ো ঘর। তার সামনেও আর একটা ঘর। সমুদ্রের দিক থেকে তাকালে বাঁ-দিকে পড়বে আমাদের সেই শোবার ঘরখানা। আর আমাদের দিকে চওড়া বারান্দার ধারের যে ঘরটার কথা বললাম, সেটা ছিল আমাদের অফিস ঘর। শোভা পাচ্ছে চওড়া একটা টেবিল, চেয়ার, টেলিফোন ইত্যাদি। তার মানে আমাদের শোবার ঘর থেকে বেরুলেই সামনে চওড়া বারান্দা, তার বাঁ-দিকে আমাদের অফিস ঘর। ডান দিকে রেলিং, ওখানে পরে একটা ইজিচেয়ার পেতে রেখেছিলাম বসে বসে সমুদ্র দেখার জন্য। এই বারান্দার পরেই দরজা, যেটা খুলে চাতালে পা দিয়ে ডান দিকে ঘুরে চওড়া পাথরের সিঁড়ি ভেঙে বিচ রোডে নেমে যাওয়া যায়। আবার আমাদের শোবার ঘরের ডান দিকেও একটা অপরিসর সিঁড়ি আছে রেলিং দেওয়া। অনায়াসে সিঁড়ি দিয়ে আমাদের দিককার সবুজ ‘লনে নেমে যাওয়া যায়, যার কথা আমি সবার আগেই বলেছি।

    এর থেকে বোঝা যায়, আমাদের শোবার ঘর আর অফিস ঘর খুব কাছাকছি। অফিস ঘরের কথা আমাদের এ-কাহিনিতে অনাবশ্যক, কিন্তু শোবার ঘরটার কথা একটু বলতে হবে। এ-ঘরটার সামনের দিকটা একটু গোলাকার, তাতে বড়ো বড়ো তিনটি জানলা বসানো। সমুদ্র দেখা যায় শুয়ে শুয়ে। ছুটির দিনে দুপুরে একটু ঘুমোবার পর যখন চোখ মেলেছি, তাকিয়ে দেখি, সমুদ্রশিয়রী জানালগুলিতে যেন নীল পর্দা ঝুলছে! ঝড়-বাদলের দিনে আরও চমৎকার। ঢেউগুলি আরও উঁচু উঁচু হয়ে এসে ভেঙে পড়েছে। তার জলের কণা এসে লেগেছে আমার বিছানায়, আমার শরীরে।

    এই ঘরে আমার একা কেটেছিল পুরো একটি বছর। দ্বিতীয় বছরেই আমার বাড়ির লোকজন এসে ঘর ভরিয়ে ফেলল, হইচই চিৎকার! এটা আসেনি, ওটা নিয়ে এসো, এঃ! এ আবার কী মাছ! এ আবার খাওয়া যায় নাকি! দে ফেলে দে, নিয়ে আয় নতুন মাছ! কিংবা এ আবার কীরকম দেশ বাবা! এখানে পটল পাওয়া যায় না— ইত্যাদি। সবই খাওয়া পরার গল্প, দেওয়া-নেওয়ার হিসেব।

    কিন্তু যখন আমি একা ছিলাম, আমার মালিকদের একজন যিনি ছিলেন, তিনি আমাকে কাজ-টাজ বুঝিয়ে দিয়েই চলে গেলেন। কোথাও কোনো অসুবিধা নেই। অফিস ঘরে চলছে অফিসের কাজ। অফিস ঘরের পিছনেই ছিল বিরাট রান্নাঘর, তার এক পাশে খাবার টেবিল। তার পিছনের বারান্দার অংশটা আমি কাঠের তক্তা দিয়ে ঘিরে স্নানের ঘর-টর করিয়ে নিয়েছিলাম। ফলে, আমার শোবার ঘরের লাগোয়া যে ঘরখানা স্নানের ঘরের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, সেটা আর একটি শোবার ঘরে পরিণত হল। সেখানেও বড়ো একখানা খাট পাতা বাড়তি বিছানা বিছানো, অন্য কেউ এলে ওখানে থাকতে পারে। আমার শোবার আসল ঘরখানাও আমি মনের মতো সাজিয়ে নিয়েছিলাম। এখানেও ছিল বড়ো খাট বা পালঙ্ক, ছিল বই রাখার আলমারি, ছিল আমার লেখবার টেবিল ও চেয়ার। চেয়ারে বসে একটু লিখি আর একটু তাকাই জানালা দিয়ে নীল সমুদ্রের দিকে। দিনেরবেলা অফিসের লোকজন আসে, আসে আমার রান্নার লোক আর কাজের লোক। রাত আটটা- সাড়ে আটটার মধ্যেই তাদের কাজকর্ম সেরে চলে যায়, তারপরে আমি একেবারে একা। ছুটির দিনে যদি সিনেমা দেখতে যাই, তাহলেও ন-টার পরে ফিরে আসি। বাকি রাতটাও আমার কাটে একা। আমি, আর জানলার বাইরে আমার সমুদ্র।

    সমুদ্রকে দিনেও যেমন দেখি, রাতেও তেমনি দেখি। চাঁদ যখন ওঠে, সমুদ্র জুড়ে যখন অবারিত জ্যোৎস্না ঝিকমিক করতে থাকে, তখন এক দৃশ্য। আবার অন্ধকার রাত্রে তারায় ভরা আকাশের নীচে সমুদ্রের আর এক দৃশ্য। ঢেউয়ের মাথায় ফসফরাস জ্বলানো সবুজ আলো যখন ঝিলিক দেয়, তখন সব দেখে-টেখে অভিভূত হয়ে যেতে হয়।

    কখনো কখনো আমার ঘুম ভেঙে যেত রাত তিনটে নাগাদ। কোণের দিকের একটা জানালাই ছিল আমার সব থেকে পছন্দের। সেখানে গিয়ে দাঁড়াতাম। জ্যোৎস্নারাতে মনে হত সমুদ্র আর আকাশের মাঝখানটা যেন আলোয় আলোয় ভরে গেছে। একধরনের চাপা স্নিগ্ধ আলো। জ্যোৎস্নার আলো। মেঘের কোলে আকাশে সাঁতার দিচ্ছে চাঁদ। আর তার স্নিগ্ধ নরম আলো যেন পুঞ্জ পুঞ্জ হয়ে সারা সমুদ্রের বুক জুড়ে ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে।

    এরকমই একটি দিনে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। অন্তত আমার কাছে— অদ্ভুত। সেদিন আকাশে চাঁদ ছিল না। কালো আকাশ জুড়ে তারার মেলা। রাত তিনটে হবে, ঘুম ভেঙে উঠে সেই আমার প্রিয় কোণের জানালাটার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছি, একটা ব্যাপার দেখে অবাক হয়ে গেলাম। আকাশের এক প্রান্তে একটা একটু বড়ো তারা জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। তার থেকে একটা আলোর রেখা ঠিকরে পড়েছে সমুদ্রের বুকে, আর সেখান থেকে সেই আলোর রেখা এসে সমুদ্র পার হয়ে ঠিক যেন এসে ছুঁয়েছে আমাকে।

    এরকম হয়তো আগেও হয়েছে এই এক বছরের মধ্যে, কিন্তু আমার লক্ষ পড়ল সেদিন সেই প্রথম। স্নিগ্ধ তারাটির দিকে অপলক তাকিয়ে আছি। একসময় মনে হল সে যেন আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার আলোর সংকেত পাঠাচ্ছে আমার কাছে। আলোর সেই সরলরেখা সমুদ্র স্পর্শ করে সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে আমার অন্তরে এসে প্রবেশ করছে। আজও সেকথা ভাবতে অবাক লাগে। সেদিন সেই আলোর ভাষায় আমি যেন অনেক কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম। যেন অনেকে মিলে একসঙ্গে কথা বলতে চাইছে। কেউ তারা থেকে আমার সঙ্গে কথা বলছে না। আমার নিজেরই মনের মধ্যে কথাগুলি যেন সরব হয়ে উঠছে। চারদিক নিস্তব্ধ, সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই, শুধু আমারই কানে বাজছে একসঙ্গে অনেক কণ্ঠের কাকলি। কিন্তু কথাগুলো যে কী তা বুঝতে পারছি না।

    একসময় বিরক্ত হয়ে নিজেই বলে উঠলাম আঃ!

    বলতে বলতে হাত দিয়ে কান দুটো চেপেও ধরলাম।

    মুহূর্তে সব চুপ হয়ে গেল। কানের ওপর থেকে হাত সরালাম। সমুদ্রের সংগীত শুধু শোনা যায়। শুনতে শুনতে মনে হল, এ সংগীতেও একটা ছন্দ আছে। যেন তালে তালে বাজছে সমুদ্রের এই সংগীত! দিনেরবেলা যাকে গর্জন বলে ধারণা হয়, নিশুতি রাত্রে কান পেতে শুনছি বলে তাকেই এখন সংগীত বলে মনে হচ্ছে। কণ্ঠসংগীত নয়— যন্ত্রসংগীত। তবলা অথবা পাখোয়াজের তাল সমৃদ্ধ বোলের মতো। তালটাকেও মনে হচ্ছে ‘যৎ’ তাল। যেন সে অশ্রুত মহান সংগীতের সঙ্গে সমুদ্র তাল রেখে যাচ্ছে।

    এই সব ভাবছি আর সংগীত শোনবার চেষ্টা করছি, এমন সময় মনে হল, সেই আলোর ভাষা যেন আবার মুখর হয়ে উঠেছে। এবার অনেকের কণ্ঠস্বর নয়, একটিমাত্র কণ্ঠ। যেন আমার ছেলেবেলাকার ডাকনাম ধরে কে যেন বহুদূর থেকে হঠাৎ ডেকে উঠল!

    চমকে উঠলাম। এ যে অত্যন্ত চেনা গলা ওয়ালটেয়ারের যে সময়কার কথা বলছি, তখন আমার বয়স পঁচিশ-ছাব্বিশ। আর যার কণ্ঠস্বর শুনলাম, তার কণ্ঠস্বর শেষ শুনেছি আমি দশ বছর বয়সে। যখন আমার দশ বছর বয়স, তখনি তো আমার দিদি মারা গিয়েছিল।

    আবার দিদি ডেকে উঠল আমার নাম ধরে। এবার গলা আরও স্পষ্ট, তবু আমার সন্দেহ গেল না। নিজের মনেই প্রশ্ন করলাম, কে তুমি? সত্যি বলো।

    সে বললে, আমি স্মৃতি।

    তুমি আমার দিদি নও?

    হ্যাঁ, দিদি। তবে, স্মৃতি। বলতে পারো, তোমার দিদির স্মৃতি।

    আমাকে ডাকছ কেন?

    সে বলল, এখানে কী করতে এসেছিস?

    চাকরি।

    হ্যাঁ রে, আমার সেই হারমোনিয়ামটা আছে না?

    হ্যাঁ আছে। কলকাতার বাড়িতে।

    কেউ বাজায়?

    না।

    বাজাবেই বা কী করে? সময় কোথায়?

    বলে, দিদির স্মৃতি আবার সরব হল, গান গাইতে কত ভালোবাসতুম। রেকর্ড শুনে রেডিয়ো শুনে গান তুলতুম। মাস্টার রেখে গান শেখাবার পয়সা কোথায় বাবার? অতি কষ্টে আমার আবদার রাখতে গিয়ে বাবা একটা হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিল। যখন-তখন সেই হারমোনিয়াম নিয়ে বসতুম বলে মা কত বকত।

    সঙ্গে সঙ্গে সব আমার মনে পড়ে গেল। বাবা হচ্ছেন সামান্য স্কুল মাস্টার। ক-টা টাকাই বা তখন মাস্টারদের মাইনে ছিল? আমরা সব ছোটো ছোটো, বাবার একার আয়েই সংসার চলে। পাঁচ-পাঁচটি ভাই-বোন আমরা। দিদি সবার বড়ো, তারপরে আমি। দিদি আর আমার মধ্যে ছিল ছয় বছরের ব্যবধান, আমাদের দু-জনের মধ্যে আরও দুটি ভাই ছিল, তারা জন্মেই মারা গিয়েছিল। তাদের বাদ দিয়েই আমাদের সংখ্যা ছিল পাঁচ। আমাদের সংসারে দেওয়া-নেওয়ারই হিসেব ছিল বেশি। বাবা স্কুলে পড়ানো ছাড়াও টিউশানি করতেন। কিন্তু তাতেও কুলোত না। এটা চাই ওটা চাই শুনে শুনে বাবা অতিষ্ট হয়ে উঠতেন। তার ওপরে ছিল আমাদের আবদার। দিদির অবশ্য কোনো চাহিদা ছিল না। সে যখন হারমোনিয়াম পেয়ে গেল, তখন যেন হাতে একেবারে স্বর্গ পেল। আর তার কিছু চায় না। সত্যি, আমার দিদিটা ছিল একেবারে অন্যরকম। বিভোর হয়ে গান গাইত। কখনো মীরার ভজন, কখনো রবীন্দ্রনাথ, এক এক করে কম গান গলায় তোলেনি আমার দিদি। স্কুলে যেত, বইও পড়ত, কিন্তু সময় ও সুযোগ পেলে গানই ছিল তার চর্চার বিষয়। কিন্তু কতটুকু সময় সে দিতে পারত? হয়তো তন্ময় হয়ে গাইছে, ‘শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ, পথে পথে’, –অমনি রান্নাঘর থেকে ভেসে এল মায়ের দাবড়ানি, রাখ এখন তোর পাগলামি, আগে এসে কচিটাকে ধর, ককিয়ে সারা হচ্ছে।

    গান থামিয়ে দিদিকে ছুটতে হত আমার সব থেকে ছোটো ভাইটাকে ধরতে, শান্ত করতে। কিছুক্ষণ পরে ভাই শান্ত হলে দিদি হয়তো হারমোনিয়াম ছেড়ে খালি গলাতেই গুন গুন করছে, ‘মৈনে চাকর রাখো জি’, –মার বকুনি শুরু হল আবার, ওসব ছেড়ে রান্না ঘরে একটু এসো না! এদিকে যে হিমসিম খেয়ে গেলুম! দাওনা রুটি ক-খানা একটু বেলে!

    আমার সন্দেহ হত, মা কি দিদিকে দেখতে পারে না? উঠতে-বসতে দিদিকে বকত মা। অথচ দিদি কখনো টু শব্দটি করত না। আমি যখন আরও একটু বড়ো হলাম, তখন বড়ো মায়া হতে লাগলো দিদির ওপর। ওকে বাবাও বকে পড়া ঠিকমতো না করলে, মা-ও বকে মার হাতে হাতে কাজে সাহায্য না করলে। তবু ওরই মধ্যে ওর গুনগুনানি শেষ হত না। কতদিন দিদির কাজ আমি গিয়ে করে দিতাম। ঝি আসেনি, দিদি বাসন মাজছে। এ আমি গিয়ে হাত লাগাতাম। দিদি আঁতকে উঠত, বলত, পড়া ছেড়ে তুই উঠে এলি? মা কী বাবা দেখতে পেলে আমাকে আর আস্ত রাখবে না।

    তা হোক, তুই সর তো, আমি ঠিক মেজে দেবো।

    কথা হত আমাদের দুই ভাই-বোনে রাত্রিবেলায়। মা-বাবা আর ভাই-বোনরা ঘুমিয়ে পড়লে মাঝে মাঝে আমরা পা টিপেটিপে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠতাম। আমাদের বাড়িটা ছিল ছোটো, আর একতলা। আমার ছোটোবেলায় ধারণা ছিল বাড়িটা বুঝি আমাদের। কিন্তু বড়ো হয়ে জানলাম, তা নয়। বাড়িটা ভাড়াবাড়িই বটে। কিন্তু সে যাক। সেসব রাত্তিরে হয়তো ছিল এমনি তারায় ভরা কালো আকাশ। আজ ঠিক মনে করতে পারছি না। দিদি আর আমি এক কোণে বসেছি, দিদি চাপা গলায় গুনগুন করে গাইত, ‘তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যতদূরে আমি যাই!’

    আমি ওর গান শুনতে শুনতে এক-একদিন বলতাম, হ্যাঁ দিদি, তুই সবসময় এত দুঃখের গান গাস কেন?

    দুঃখের গান বুঝি। দিদি বলত, অতশত জানি না, এসব গাইতেই আমার ভালো লাগে। ওসব চটুল গান আমার একটুও পছন্দ নয়। জানিস, আমাদের ক্লাসের কবিতা? কবিতা কর? সে একটা গান শিখেছে। কী সুন্দর সে গান! আমি সবটা এখনও তুলতে পারিনি। সুরটা শুনবি? ‘আবার যদি ইচ্ছা করো আবার আসি ফিরে। দুঃখ-সুখের ঢেউ খেলানো এই সাগরের তীরে!’

    সেই আমার দিদি আমার গান-পাগল দিদি হঠাৎ চলে গেল মাত্র ষোলো বছর বয়সে আমাদের সবাইকে ছেড়ে। খুব জ্বর হল, তারপরে বলত, মাথা ব্যথা মাথা ব্যথা! ডাক্তার এসে ওষুধ দিল, কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে। তারা বলল, এখন এনেছেন? অনেক দেরি হয়ে গেছে!

    এখনকার দিন হলে হয়তো বাঁচানো যেত, কিন্তু তখনকার দিনে সন্ন্যাস রোগের তেমন কোনো চিকিৎসা ছিল না। গোড়ায় ধরা পড়লে হয়তো বাঁচানো যেত, কিন্তু যখন হাসপাতালে দেওয়া হল, তখন আর করবার কিছু ছিল না। হাসপাতালের ডাক্তাররা খুবই চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কিছুতেই আর শেষ রক্ষা হল না। দিদি যখন গেল, তখন আমার বয়স মাত্র দশ বছর। কতটুকুই বা বুঝতাম সংসারকে?

    যাই হোক, দিদির স্মৃতি মনে পড়ার জন্যই হোক আর তার আলোর ভাষায় তার কণ্ঠস্বর শুনেই হোক, ভিতরটা যেন মুচড়ে উঠল! নিজেকে সামলাতে একটু দেরি হল।

    কী ভাবছিস? –আবার সেই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম।

    বললাম, ভাবছি? তোর সব কথাই। দিদি, তুই হঠাৎ চলে গেলি কেন রে? ও রোগটা তোর হল কেন? ওই বয়সে?

    দিদি বলল, রোগটা কেন হল জানি না। কিন্তু চলে আসতে হল কেন, সেটা জানি।

    বল না শুনি?

    দিদি বলল, আমার গান ছিল আমার প্রাণের জিনিস। সেটা কেউ বুঝল না, সেটার কেউ কদর করল না, তাই আমাকে চলে আসতে হল।

    বললাম, দিদি, তোর একটা গান এখন খুবই মনে পড়ছে। সেই যে গাইতিস না? আবার যদি ইচ্ছা করো আবার আসি ফিরে। সত্যি বল, ফিরতে তোর ইচ্ছা করে না?

    দিদির কণ্ঠস্বর বললে, আমি তো ফিরেছিলুম। কিন্তু —

    দিদি ‘কিন্তু’ বলেই চুপ করে গেল, আর কথা বলল না।

    আমি বললাম, ‘কিন্তু’ কী? বল? এই দিদি?

    দিদি উত্তরে সেকথা এড়িয়ে গেল, বললে, হ্যাঁ রে, আমাদের বাড়ির পশ্চিম দেওয়ালের পিছনে যে কদম্ব গাছটা ছিল, তাতে আজও ফুল ফোটে, তাই না? আহা, বাদলার কালে যখন ফুল ফুটত, সে একটা দেখবার মতো দৃশ্য হত বটে! একটু হাওয়া বাড়লে আমাদের সারা বাড়ি জুড়ে কদমফুলের কেশর ছড়িয়ে পড়ত।

    বললাম, একবার হল কী জানিস? ফুলে ফুলে গাছটা একেবারে ভরে গেল। অত ফুল কোনো বার হয় না। সেবার হল। ছাদে উঠে দেখি, গাছটা যেন সর্বাঙ্গ দুলিয়ে নিঃশব্দে হাসছে। ফুলে ফুলে ছড়িয়ে পড়েছে সে হাসির রেশ! সেদিনই মনে হয়েছিল, গাছটা বুঝি জীবন্ত, তার মুখে কথা ফোটে না, কিন্তু সে সর্বাঙ্গ দুলিয়ে- সারা ডালপালা জুড়ে ফুল ফুটিয়ে সে তার ভাব প্রকাশ করতে জানে। ছাদে আমাকে দেখামাত্রই যেন আমাকে বলল, দেখো তুমি। কত ফুল এবার ফুটিয়েছি।

    কিন্তু সে-ই শেষবার। এরপরেই যাদের গাছ তারা গাছটাকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলল। কোথায় গেল তার হাসি, কোথায় গেল তার অমন খুশি হওয়ার বহিঃপ্রকাশ!

    দিদি শুনে বললে, ইস!

    তারপরে কিছুক্ষণ কাটল নীরবতার মধ্যে, তারপরে আবার শোনা গেল তার কণ্ঠস্বর, হ্যাঁ রে, আমাদের দক্ষিণের দেওয়াল ঘেঁষে যে বাতাবি লেবুর গাছটা উঠেছিল, সেটা কাটা পড়েনি তো?

    না। সে এখন ফল দিচ্ছে, জানিস দিদি?

    দিদির কণ্ঠস্বরে খুশির আবেশ লাগলো, আহা, তাই বুঝি? হ্যাঁ রে, লেবু গাছের গা জড়িয়ে একটা তেলাকুচো উঠেছিল, সেটার কী খবর? কী সুন্দর সাদা সাদা ফুল ফোটাত সে। তাই না?

    আজও ফোটায় দিদি। হাওয়ায় হাওয়ায় সে ফুলগুলি যখন দোলে, তখন মনে হয় নীরব কোনো সংগীতের সঙ্গে তারা যেন তালু রাখছে।

    হ্যাঁ, ওই তাল। ছন্দ। সমস্ত জগৎ জুড়েই এই ছন্দের দোলা। ছন্দহীনতা এই জগতের নিয়ম নয়। হ্যাঁ রে, সেই পেয়ারা গাছটা আছে? আজও ফল দেয়?

    বললাম, হ্যাঁ দিদি। আজও দেয়। তুই কত ভালোবাসতিস ওই পেয়ারা খেতে!

    দিদি বলল, কত পাখি আসত, না রে?

    পাখি? বললাম, কদম গাছে কত পাখিই না আসত! দুর্গা-টুনটুনি, দোয়েল, শ্যামা, এ ছাড়া শালিকের দল তো ছিলই। তা ছাড়া, নাম না-জানা কত পাখি আসত। একটা পাখির বুক ছিল টকটকে লাল। পাখি এখনও কিছু কিছু আসে, লেবু গাছটায় গিয়ে বসে, কিংবা পেয়ারা গাছটায়। কিন্তু তেমন সমারোহ আর নেই।

    দিদি বলল, একটা বুলবুল পাখি আসত মনে আছে? মাথার ঝুঁটি? ভোরবেলায় কদম গাছে বসে বসে গান গাইত। কী তার সুরেলা গলা! তোদের ঘুম ভাঙাতে রোজ সে আসত, তোর মনে পড়ে?

    হ্যাঁ, তা পড়ে বই কী!

    দিদি বলল, কদম্ব গাছে সে এসে বসত, গান গাইত, তবু তোদের ঘুম ভাঙত না বলে সে চলে আসত তোদের জানালার কাছে লেবু-গাছটায়, কখনো-বা পেয়ারা গাছটায়। প্রাণ ঢেলে সে গান গাইত। আরও তো বাড়ি ছিল ও অঞ্চলে, আরও তো কত গাছ ছিল। সেসব জায়গায় সে যেত না, যেত শুধু তোদের বাড়িতেই। তোদেরকেই গান শোনাতে সে ভালোবাসত। তার গান যদি তোরা মন দিয়ে শুনতিস। তো বুঝতে পারতিস, অনেক গানই ওর গানের ছন্দের সঙ্গে মিলে যায়! তুই যদি গাইতিস, ‘মৈনে চাকর রাখো জি’, দেখতিস মিলে যেত। যদি গাইতিস, ‘শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ পথে পথে’, দেখতিস সে-ও মিলে যেত। এমনকী ‘তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যতদূরে আমি যাই’, কিংবা ‘আবার যদি ইচ্ছা করে আবার আসি ফিরে’ গাইলে তা-ও মিলে যেত।

    সত্যি দিদি!

    একেবারে সত্যি। যদি ধৈর্য ধরে কান পেতে শুনতিস, তাহলে ওর ছন্দটাকে ধরতে পারতিস। দেখতিস ওইসব গানগুলিই মিলে যাচ্ছে।

    তখন যে ছোটো ছিলাম, ছটফটে ছিলাম। বুঝতাম না কিছুই। খেলায় মত্ত হতাম, কখনো ড্যাংগুলি খেলছি, কখনো গুলতি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

    দিদি বললে, আমি চলে যাবার পর দুটি বছর কেটে গিয়েছিল। তখন তোর বারো বছর বয়স, বুঝলি? যখন বুলবুলি পাখিটা তোদের কাছে আসত, তখন তোর বারো বছর বয়স। তখন একটু বুঝে চলবার বুদ্ধি তোর হয়েছিল। ওর গান শুনতে শুনতে আমার কথা যদি একটু ভাবতিস, তাহলে ওই গানগুলি তোর ঠিক মনে পড়ত। আর যদি মনে পড়ত, তাহলে তুই যা করেছিলি, তা কি করতে পারতিস?

    কী করেছিলাম দিদি!

    ভুলে গেলি! –দিদির কণ্ঠস্বর ভেসে এল, কদম্ব গাছটার ডালে বসে ভোরবেলা সে বিভোর হয়ে গান গাইছে, অন্য কোনো দিকে তার দৃষ্টি ছিল না। সে যদি বুঝত গুলতি নিয়ে তুই তাকে তাক করছিস, তাহলে সে ঠিক উড়ে পালাত। তোর কি মনে আছে? তুই তাকে গুলি দিয়ে গুলতি ছুড়লি, লাগলো গিয়ে ঠিক তার মুখে। যে ঠোঁটে সে গান গাইছিল, সেখান দিয়ে বেরিয়ে এল রক্ত, সে টপ করে মাথা ঘুরে রক্তবমি করতে করতে মাটিতে পড়ে গেল। তুই তোর এক বন্ধুর সঙ্গে দেওয়াল টপকে কদম্ব গাছটার তলায় এসে ওকে তুলে নিলি দুই হাতে। তখনও ওর প্রাণটা যায়নি, বুকের কাছটা ধুকপুক করছে, তোর নাম ধরে ডাকবার চেষ্টা করছে, বলছে, তুই! তুই আমাকে মারলি! আমাকে! যে আমি তোকে ভালোবাসি বলে তোকেই ভোরবেলা গান শোনাতে আসতাম!

    কী বলছ তুমি, দিদি!

    দিদি বলল, অমিই আবার ওই বুলবুল হয়ে জন্মেছিলাম। বিশেষ করে তোর মায়া কাটাতে পারিনি বলে তোর কাছে গিয়ে প্রাণমন ঢেলে তোকে গান শোনাতাম। কে যে কীভাবে তোদের আশেপাশে আসে, তা তোরা জানবার চেষ্টা করিস না, বুঝবার চেষ্টা করিস না। ওই কদম্ব গাছটারও প্রাণ ছিল, সেও এক জন্মে আমাদের আত্মীয় ছিল। ওই পেয়ারা গাছ, ওই লেবু গাছ, ওরাও আমাদের পরমাত্মীয়। শুধু আমরা চিনতে পারি না। তাই ভুল করি। কেন ভুল করিস ভাই? যখন তোদের ‘দিদি’ হয়ে ছিলাম, আমাকে গান গাইতে দেওয়া হল না, মর্মে মর্মে দুঃখ অনুভব করেছিলাম বলে চলে এলাম তোদের ছেড়ে। কিন্তু মায়া যাই কোথা? পাখি হয়ে আবার গেলাম তোদের গান শোনাতে। কোনো ক্ষতি তো করিনি? তবু আমাকে অমন করে হঠাৎ মেরে ফেললি কেন ভাই, এক অসৎ বন্ধুর প্ররোচনায়?

    আমি ওর কথা শুনে ডুকরে উঠলাম, দিদি!

    চমকে চোখ তুলে দেখি কখন ভোর হয়ে গেছে! বিচ রোডে বেড়াতে বেরিয়েছেন একটি মানুষ, তিনি হঠাৎ আমার ওই কান্নাভরা চিৎকার শুনে থমকে দাঁড়িয়েছেন, মুখ ফিরিয়ে আমাকে দেখছেন, ভাবতে চেষ্টা করছেন। কী হল ব্যাপারটা?

    আমি চট করে জানালা থেকে সরে এলাম। ওঁকে মুখ দেখাতে পারলাম না।

    [ সেরা ভূত সেরা গোয়েন্দা, আনন্দ প্রকাশন, ১৯৯৯ (প্রথম প্রকাশকাল অজ্ঞাত)]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }