Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    অমিতাভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প518 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ডাইনি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তোমাদের একালে ডাইনি নাই। ডাকিনি নাই। মায়াবিনী নাই।

    সে হিসেবে একালের ছেলেরা ভাগ্যবান।

    আমাদের আমলে, মানে চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বৎসর আগে ডাইনি ছিল। ডাইনি, ডাকিনি, মায়াবিনী। একালের ছেলেরা ডাইনি ডাকিনির কথা শুনে হেসে উঠবে। কিন্তু সে আমলে আমাদের অন্তরাত্মা ভয়ে শুকিয়ে যেত এদের নামে।

    আমাদের গ্রামে আমাদেরই বাইরের বাড়ির পূর্বপ্রান্তে বড়ো একটা পুকুর, বড়ো বড়ো তালগাছে ঘেরা। তার উত্তর-পূর্ব কোণে ছিল স্বর্ণ ডাইনির ঘর।

    একেবারে গ্রামের প্রান্ত। একপাশে জেলেপাড়া— অন্য পাশে বাউরিপাড়া- মাঝখানে খানিকটা খালি জায়গা। সেই খালি জায়গায় একটা অশ্বত্থ গাছ। সেই গাছতলায় ছোটো একখানি ঘর। তারপর, অর্থাৎ স্বর্ণের বাড়ির পর পূর্বদিকে আর বসতি নাই, প্রান্তর চলে গিয়েছে। বালি আর লালচে মাটির প্রান্তর। সেই প্রান্তরের মধ্যে লালুকচাঁদা নামে পুকুরটা ছিল গ্রামের শ্মশান, এখানে অবশ্য শবদাহ করা হত না, মুখাগ্নি করা হত। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে থাকত— মড়ার বিছানা মাদুর, বালিশ ন্যাকড়া বাঁশ, মাটির সরা ভাঁড় আধ-পোড়া কুঁচি কাঠি। পুকুরটার উপরে একটা ঝাঁকড়া বটগাছ। দিনের বেলাতেও কেউ সে গাছতলায় যেত না। রাত্রে সেটা জমাট অন্ধকারের মতো থমথম করত।

    স্বর্ণ নিজের ঘরের দাওয়ায় বসে তাকিয়ে থাকত— সেই বটগাছটার দিকে।

    আমরা তাই ভাবতাম।

    নইলে— প্রান্তরটা যেখানে শেষ হয়েছে— সেখানেই শুরু হয়েছে ধানের খেত। সবুজ শস্যক্ষেত্র। কিন্তু ডাইনি কি সবুজ ভালোবাসে? না— বাসতে পারে?

    স্বর্ণ ডাইনি। আমাদের দেশের ভাষায় ‘স্বনা ডান’।

    শুকনো কাঠির মতো চেহারা, শক্ত দু-পাটি দাঁত, একটু কুঁজো, মাথায় একমাথা কাঁচা-পাকা চুল। চোখ দুটো নরুণে-চেরা চোখের মতো ছোটো। তাতে খয়েরি রঙের তারা। বিচিত্র স্থির দৃষ্টি। ভাবলেশহীন শুষ্ক— যেন খটখট করত দুটো হলদে পাথর ওই শুকনো ডাঙার বুকে। ডাইনির দৃষ্টি!

    এই দৃষ্টিতে ডাইনিরা কচি নধর দেহের, সুন্দর সুশ্রী মানুষের, তরুণী নববধূর দেহের অস্থি চর্ম মেদ মাংস ভেদ করে— ভিতরে প্রবেশ করে— খুঁজত প্ৰাণপুত্তলি। তাকে পেলে চুষে চুষে তারা খেয়ে ফেলে। নধর মানুষ শুকিয়ে অস্থিচর্মসার হয়ে যায়, সোনার মতো দেহের বর্ণ কালো হয়ে যায়; তরুণী নববধূর সব লাবণ্য ঝরে পড়ে; শুধু মানুষ কেন কচি পাতায় ভরা লকলকে সতেজ গাছ অকস্মাৎ শুকিয়ে যায়। ডাইনিরা তারও সরস প্রাণটুকু দৃষ্টিযোগে পান করে নেয় নিশ্বেষ

    স্তব্ধ গ্রীষ্মের দ্বিপ্রহরে তালগাছের মাথায় চিল চ্যাঁচায়— চি-ই-ই-লো! চি-ই- ই-লো, চি-ই-ই-লো!

    কান পেতে শুনলে শুনতে পাওয়া যায়— ঘরের দাওয়ায় এসে ডাইনি তার সুরে সুর মিলিয়ে সংগীত গাইছে— অনুনাসিক মিহি সুরে গাইছে— হি-ই-ই-ই-হু। হি-হ-হ-হ-হুঁ!

    রাত্রে— গভীর রাত্রে স্বর্ণ ডাইনির ঘরের দেওয়ালে কান পাতলে শোনা যায় – শব্দ উঠছে— হুট-পাট, হুট-পাট, হুট-পাট।

    বাট বইছে স্বর্ণ। যারা ডাইনি তারা ভগবানের অভিশম্পাতে রাত্রে মাটির উপর বুকে হেঁটে বেড়ায়। বাট বয়।

    ভয় হয় না এর পর?

    ***

    স্বর্ণ তরিতরকারি বেচে বেড়াত। ওই ছিল তার জীবিকা। তিন-চার ক্রোশ দূরের হাট থেকে কিনে আনত, বেচত আশপাশের গ্রামে। পান, কাঁচকলা, পাকারম্ভা, শাক, কুমড়ো এইসব। আমাদের গ্রামে সে বেচত না। আশপাশের গ্রামেই বেচত। গ্রামের কারও বাড়িতে ঢুকতে সে চাইত না। কী জানি কার অনিষ্ট সে কখন করে বসবে! তার ভিতর যে লোভটা আছে, সে যখন লক লক করে জিভ বার করে— তখন তো স্বর্ণের বারণ শুনবে না। কিন্তু স্বর্ণ যে লজ্জায় মরে যাবে। ছি-ছি-ছি! ওর ভিতরের ডাইনিটা তো ওর অধীন নয়। সেই তো ওর জীবনের মালিক, তারই হুকুমে ওকে চলতে হয়। তার হুকুম ছাড়া ওর মরবারও অধিকার নেই। তার ভিতরের যে ডাইনিটা সে যে এক সিদ্ধ-বিদ্যা, তাকে কোনো নতুন মানুষকে না-দেওয়া পর্যন্ত স্বর্ণ মরবে না।

    স্বর্ণের মাসি কি কে যেন ছিল ডাইনি।

    মৃত্যুকালে আত্মীয়স্বজনদের খবর পাঠিয়েছিল। কিন্তু কেউ যায়নি। ভয়ে যায়নি, যদি সে কোনো কৌশলে তাকে দিয়ে যায় ওই সর্বনাশা ভয়ংকর বিদ্যা! সে যে ডাইনি হয়ে যাবে।

    মৃত্যুর পর স্বর্ণ গেল। নিশ্চিত হয়েই গেল। বিদ্যা সে তো কাউকে দিয়ে গিয়েছে। নইলে মরণ হল কেমন করে? গিয়ে দেখলে— তখন মাসির অনেক আত্মীয় এসেছে, মাসির যা ছিল ভাগ করে নিয়েছে। সকলে চলে গেল। বিধবা তরুণী স্বর্ণ বসে রইল দাওয়ার উপর। তার যেমন অদৃষ্ট!

    হঠাৎ ম্যাও ম্যাও শব্দ করে মাসির পোষা বেড়ালটি তার গা ঘেঁষে বসল। ওটাকেই কেউ নিয়ে যায়নি। বেড়ালটা তার গায়ে গা ঘষলে, গর গর শব্দ করলে, লেজটা উঁচু করে তার নাকে-মুখে ঠেকিয়ে দিলে। যেন বললে— আমাকে তুমি নিয়ে চলো। তুমি কিছুই পাওনি, আমাকেও কেউ নেয়নি।

    স্বর্ণের মায়া হল। নিয়ে এল বেড়ালটা। মাছ ভাত দুধ খাওয়ায়, কোলের কাছে নিয়ে শোয়। পাশের জেলে পাড়ায় যায়, বাউরি পাড়ায় যায়।

    সেদিন হইচই উঠল জেলে পাড়ায়।

    জেলেদের একটা কচি ছেলের কী হয়েছে। ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছে, আর কাঁদছে— কাঁদছে যেন বেড়ালের মতো আওয়াজ করে! –এ্যাঁ-ও। অবিকল বেড়ালের শব্দ।

    গুণিন এল। গুণিন দেখে বললে— ডাইনির কাজ! কিন্তু—

    কিন্তু কী?

    ডাইনটা মনে হচ্ছে—

    বলতে হল না শেষটা— স্বর্ণের বেড়ালটা ছুটে এল উঠনে, রোঁয়া ফুলিয়ে লেজ

    ফুলিয়ে– এ্যাঁ-ও শব্দ করে থাবা পেতে বসল।

    —এই। এই তো বেড়ালটা, এইটাই ডাইন।

    —বেড়াল ডাইন?

    —হ্যাঁ। কোনো ডাইন মরবার সময় ওকে দিয়ে গেছে ডাইনি বিদ্যে।

    —ঠিক কথা। স্বর্ণের মাসি ছিল ডাইনি। বেড়াল তো তারই! কী সর্বনাশ!

    একটা জোয়ান জেলের ছেলে— দুরন্ত ক্রোধে— বসিয়ে দিলে এক লাঠি তার মাথার উপর। মাথাটা প্রায় চুর হয়ে গেল। কিন্তু তবু মরল না। লেজ পাছড়াতে লাগল, নখগুলো বের করে মাটির উপর আঁচড়াতে লাগল।

    গুণীন বললে— সাবধান! কেউ কাছে যাবে না। ও এখন ডাইন মন্ত্রটি দেবার চেষ্ট করবে। নইলে ওর মৃত্যু হবে না।

    সে মন্ত্র পড়লে, নিজের অঙ্গবন্ধন করলে— তারপর সন্তর্পণে লেজে ধরে বের করে ফেলে দিয়ে এল গ্রামের প্রান্তে।

    স্বর্ণ ঘরে বসে সভয়ে কেঁপে উঠল।

    লোকে তাকে গাল দিয়ে গেল। কেন এনেছিল সে ওই পাপকে।

    সন্ধের মুখে ক-টি ছেলে পথ দিয়ে গেল— তারা বলে গেল— বেড়ালটা এখনও মরেনি। ইঃ কী গোঙাচ্ছে; বাপরে! শিউরে উঠল তারা।

    স্বর্ণ গেল চুপি চুপি। না-দেখে থাকতে পারলে না।

    সাদা দুধের মতো বেড়ালটার রং- রক্তে-ধুলোয় পিঙ্গল হয়ে গেছে। কী যন্ত্রণাকাতর শব্দ!

    স্বর্ণ এগিয়ে গেল— দু-পা, এক-পা করে।

    তাকে স্পর্শ করলে।

    বেড়ালটা মরে গেল।

    স্বর্ণের এ কী হল?

    স্বর্ণের চোখে এ কী দৃষ্টি! এ কী হল তার? এ সব সে কী দেখছে? ওই যে গর্ভবতী ছাগলটা যাচ্ছে— তার গর্ভের মধ্যে দুটি ছাগল ছানাকে দেখতে পাচ্ছে। ওই যে কলা গাছটা— ওর ভেতর দেখতে পাচ্ছে— কলার মোচা।

    তার জিভ সরস হয়ে উঠছে! লক লক করে উঠছে!

    এ কী হল তার? হে ভগবান!

    ***

    এমনি করে নাকি স্বর্ণ হয়েছিল ডাইনি।

    সে আবার কাউকে ডাইনি বিদ্যে দেবে— তবে তার মরণ হবে। নইলে ওই মাথা- ভাঙা বেড়ালটার মতো কাতরাবে, কাতরাবে, কাতরাবে— তবু তার মৃত্যু হবে না।

    মৃত্যু চোখের সামনে বসে থাকবে।

    ও বলবে— আমাকে নাও গো! আমাকে নাও।

    মৃত্যু বলবে— কী করে নেব? ওই বিদ্যে তুই আগে কাউকে দে— তবে নেব। নইলে তো পারব না! স্বর্ণের হাত নাই তার ভিতরের ডাইনির উপর। সে কি গ্রামের কারুর বাড়ি যেতে পারে? বাপরে!

    আমার অনেক বয়স পর্যন্ত স্বর্ণ বেঁচে ছিল। আমি বলতাম— স্বর্ণ পিসি।

    ছেলেবেলায় কখনো তার সামনে যেতে সাহস হত না। বড়ো হবার পর ওপথে গিয়েছি-এসেছি; নিজের ঘরের আধো-অন্ধকার আধো-আলোর মধ্যে চুপ করে বসে থাকতে দেখেছি। চুপ করে বসে থাকত। কারও সঙ্গে কথা বলত না। কেউ কথা বললে— তাড়াতাড়ি দু-একটা জবার দিয়ে ঘরে ঢুকে যেত।

    আমার বিশ-বাইশ বছর বয়স যখন হল, তখন আমি তার বেদনা বুঝলাম। মর্মান্তিক বেদনা ছিল তার। নিজেও সে বিশ্বাস করত সে ডাইনি। কাউকে স্নেহ করে সে মনে মনে শিউরে উঠত। কাউকে চোখে দেখে ভালো লাগলে চোখ বন্ধ করত; চোখের ভালো লাগার অবাধ্যতাকে তিরস্কার করত। তার আশঙ্কা হত, সে বুঝি তাকে খেয়ে ফেলবে; হয়তো-বা খেয়ে ফেলেছে বলে শিউরেও উঠত। মনে হত ডাইনিমন্ত্র বিষাক্ত তার ভালোবাসা— লোভ হয়ে তিরের মতো গিয়ে তাকে বিঁধে ফেলেছে তার হৃৎপিণ্ডে।

    ডাইনিতে আজ আর বিশ্বাস করি না। এ-কালের ছেলেরাও করে না। কিন্তু স্বর্ণ ডাইনির ডাইনিত্বের একটি বিচিত্র পরিচয় আমার স্মৃতিতে অক্ষয় হয়ে আছে। সেই কথাটি বলব।

    তখন আমার বয়স নয় কি দশ। কিন্তু ঘটনাটি আজও মনে হয় এই ক-দিন আগের দেখা ঘটনা। হঠাৎ শুনলাম— ও-পাড়ার অবিনাশ দাদাকে স্বর্ণ ডাইন খেয়েছে। অর্থাৎ ডাইনে নজর দিয়ে— দৃষ্টিবানে বিদ্ধ করেছে, তার ভিতরে প্রবেশ করে তাকে শুষে খাচ্ছে। গ্রামটা একেবারে তোলপাড় করে উঠল। বিখ্যাত গুণিন ছিলেন আমাদেরই বাড়িতে। আমার বাবা গ্রামের বাইরে বাগানে তারা-মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেইখানে থাকতেন এক সন্ন্যাসী— পশ্চিম দেশীয় সাধু। আমি তাঁকে বলতাম গোঁসাইবাবা; অর্থাৎ গোস্বামী বাবা। তিনি জানতেন অনেক বিদ্যা। তাঁকে খবর দেওয়া হল। তিনি এলেন; আমি তাঁরই সঙ্গে গেলাম স্বর্ণ ডাইনের কীর্তি দেখতে এবং গোঁসাইবাবার ডাইন তাড়ানো দেখতে।

    অবিনাশ দাদা, অবিনাশ মুখুজ্জের বয়স তখন সতেরো-আঠারো। বাড়িতে আছে মা আর দুই বোন। অবিনাশ দাদার মা— গোঁসাইবাবাকে বলেন গোঁসাই দাদা। অবিনাশ দাদা বলেন— গোঁসাই মামা। অবিনাশ দাদার বাড়ি তখন লোকে লোকারণ্য; স্বর্ণ ডাইন অবিনাশকে খেয়েছে, রামজি সাধু ঝাড়বেন।

    মেটে কোঠার উপরে অবিনাশ দাদা শুয়ে আছেন চোখ বন্ধ। প্রবল জ্বর। ডাকলে সাড়া নাই। মাথার শিয়রে বসে মা। পাশে বসে বোন। চোখের জল ফেলছেন। রামজি সাধু গিয়ে একপাশে বসলেন তার পাশেই আমি।

    ডাকলেন— ভাগনা। অবিনাশ ভাগনা।

    কোনো উত্তর দিলেন না অবিনাশ দাদা।

    —অবিনাশ! এ! গায়ে নাড়া দিলেন।

    এবার অবিনাশ ঘুরে শুল। বললে— মর হা-ঘরে গোঁসাই। আমি মেয়েছেলে। আমার গায়ে হাত দিচ্ছিস কেন?

    —হুঁ! তু কৌন? মেয়েছেলে? কে রে তু?

    অবিনাশ উত্তর দিল না।

    —এ! তু কে রে? এ?

    —বলব না।

    — বলবি না।

    —না।

    মন্ত্র পড়া শুরু হল। বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়েন আর ফুঁ দেন— ছু! ছু! ছু!

    পরিত্রাহি চিৎকার করে অবিনাশ। বলছি, বলছি, বলছি!

    তবু মন্ত্র পড়া চলল, সঙ্গে সঙ্গে ফুৎকার। —ছু! ছু! ছু!

    —বাবা রে, মা রে! মরে গেলাম রে! ও গোঁসাই আর মেরো না! বলছি আমি বলছি।

    —বোল! বোল তু কে? বোল!

    —-আমি স্বর্ণ!

    আজও স্পষ্ট কানে শুনতে পাচ্ছি। -আমি স্বর্ণ! চোখে সব দেখতে পাচ্ছি! থাক সেকথা!

    গোঁসাই প্রশ্ন করলেন— স্বর্ণ? তু কাহে হিয়া? আঁ? এখানে কাহে?

    —আমি একে খেয়েছি যে।

    —হাঁ— হাঁ। উ তো জানছি। ওহি তো শুধাচ্ছি— কাহে— কাহে খেলি?

    —কী করব? আমার ঘরের ছামনে দিয়ে এই বড়ো বড়ো আম হাতে নিয়ে যাচ্ছিল, আমি থাকতে পারলাম না, আমি আম না পেয়ে ওকেই খেলাম।

    —কাহে, তু মাঙলি না কাহে? কাহে বললি না— হামাকে দাও?

    —কী করে বলব? একে লোভের কথা, তার উপরে মেয়েলোক, আমি লজ্জায় বলতে পারলাম না।

    —হাঁ! তব ইবার তু যা। ভাগ।

    —না। তোমার পায়ে পড়ি, যেতে আমাকে বলো না।

    আদেশের সুরে,গোঁসাই বললেন— যা তু। হামি বলছে।

    —না। বিদ্রোহ ঘোষণা করলে অবিনাশদার মুখ দিয়ে স্বর্ণ ডাইনি।

    —না? আচ্ছা। এ দিদি, আন সরষা।

    সরষে এল। হাতের মুঠায় সরষা নিয়ে বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ে— ছুঁ শব্দে ফু দিয়ে ছিটিয়ে মারলেন অবিনাশ দাদার গায়ে।

    চিৎকার করে কেঁদে উঠল অবিনাশ দাদা— বাবারে, মারে, ওরে মেরে ফেললে রে। ওরে বাবা রে!

    আবার মারলেন সরষের ছিটে।

    —যাচ্ছি, যাচ্ছি, যাচ্ছি, আমি যাচ্ছি, আর মেরো না। আমি যাচ্ছি।

    —যাবি?

    —হ্যাঁ, যাব।

    সঙ্গে সঙ্গেই অবিনাশ কেঁদে উঠল— ওগো, যেতে যে পারছি না গো।

    —পারছিস না? চালাকি লাগাইয়েছিস, আঁ? হাত তুললেন রামজি সাধু, মারবেন ছিটে। অবিনাশ চিৎকার করলে আবার না না। যাব, যাচ্ছি।

    — যাবি?

    —হ্যাঁ যাব।

    —তব্ এক কাম কর। ঘরের বাহারে একঠো কলসিমে জল আছে, দাঁতে উঠাকে লে যা। নেহি তো—

    —তাই, তাই যাচ্ছি।

    জ্বরে অচেতন অবিনাশ উঠে দাঁড়াল। দাদার মা ধরতে গেলেন। রামজিবাবা বললেন— না। ঘর থেকে অবিনাশ বের হল। চোখে বিহ্বল দৃষ্টি তার। ঘরের বাইরে দোতালার বারান্দায় জলপূর্ণ কলসি আগে থেকেই রাখা ছিল, সেটার কানা দাঁতে কামড়ে তুলে নিলে। দাঁতে ধরেই সে নেমে গেল সিঁড়ি বেয়ে, উঠানে নামল, বাইরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল, দাঁত থেকে কলসিটা খসে পড়ে ভেঙে গেল, সে নিজেও পড়ে গেল মাটির উপর— ধরলেন গোঁসাইবাবা। এবার বিপুল বলশালী পশ্চিম দেশীয় সন্ন্যাসী কিশোর বা সদ্য-যুবা অবিনাশকে ছোটো ছেলেটির মতো পাঁজাকোলে করে তুলে উপরে এনে বিছানায় শুয়ে দিলেন। গোঁসাইবাবার পাশে পাশেই রয়েছি আমি। এবার গোঁসাইবাবা ডাকলেন- অবিনাশ! মামা!

    — অ্যাঁ?

    —কেমন আছ?

    —ভালো আছি।

    কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবিনাশ দাদার জ্বর ছেড়ে গেল। আমার শিশুচিত্তে ডাইনি আতঙ্ক দৃঢ়বন্ধ হয়ে গেল। স্বর্ণ সে দফা যে মার খেয়েছিল, একথা বলাই বাহুল্য।

    অনেকদিন পর, তখন আমার বয়স তেরো-চোদ্দো বৎসর। স্বর্ণ হঠাৎ আমাদের বাড়ি যাওয়া-আসা শুরু করলে। পান তরকারি নিয়ে আসত। শুনলাম, ফুল্লরাতলায় যাওয়া-আসার পথে মায়ের সঙ্গে স্বর্ণের কথাবার্তা হয়েছে। মা তাকে বলতেন, ঠাকুরঝি। ওইটুকুতেই সে কৃতার্থ।

    স্বর্ণ আসত এর পর আমাদের বাড়ি। আমার ভয় চলে গেল। স্বর্ণকে বুঝতে লাগলাম। পথে যেতাম, দেখতাম স্বর্ণ নিজের দাওয়ায় বসে আছে আকাশের দিকে চেয়ে, অথবা আধো-অন্ধকার ঘরের দুয়ারটিতে ঠেস দিয়ে বসে আছে। নিঃসঙ্গ পৃথিবী পরিত্যক্ত স্বর্ণ।

    স্বর্ণ ছাড়া আরও অনেক ডাইনি ছিল। তার চেয়ে গল্প ছিল অনেক বেশি। প্রকাণ্ড মাঠে একটা অশ্বত্থগাছ ছিল। মাঠটার চারিদিকে আর যে গাছগুলি ছিল সেগুলি সবই বট, মাঝখানে ওই অশ্বত্থগাছটি খানিকটা হেলে দাঁড়িয়েছিল। একদিকের শিকড় উঠে বেরিয়ে পড়েছিল, মনে হত গাছটার আধখানা আছে আধখানা নাই। শুনতাম ওটা ডাকিনির গাছ। দেশে নাকি ছিল ভারি এক গুণিন। কাউরের অর্থাৎ কামরূপের বিদ্যাও তার জানা ছিল। একদিন গরমকালের রাত্রে গ্রামের প্রান্তে বসে কয়েক জন বন্ধুবান্ধব মিলে গান গল্প করছে, এমন সময় আকাশপথে একটা শব্দ শোনা গেল। প্রচণ্ড বেগে যেন একখানা মেঘ উড়ে চলেছে। সকলে বিস্মিত হল— এ কী? আশ্চর্য মেঘ তো!

    গুণিন হেসে বললে— মেঘ নয়, গাছ উড়ে চলেছে।

    —গাছ? গাছ উড়ে চলে? –কি বলছ?

    —চলে। কামরূপের ডাকিনি বিদ্যা যারা জানে, তারা গাছে বসে বিদ্যার প্রভাবে গাছকে উড়িয়ে নিয়ে চলে— দেশ থেকে দেশান্তর। ডাকিনি চলেছে আকাশপথে।

    বিশ্বাস করলে না কেউ। বললে— তুমি ধোঁকা দিচ্ছ।

    —দেখবে?

    —দেখাও।

    গুণিন হাঁকতে লাগল মন্ত্র। আকাশে একটা চিৎকার উঠল, চিলের মতো চিৎকার, একসঙ্গে যেন বিশ-পঁচিশটা চিল দুরন্ত ক্রোধে আকাশের বুক চিরে চিৎকার করে উঠল, ঈ—!

    সকলে ভয়ে কেঁপে উঠল। কিন্তু গুণিন আপন মনে মন্ত্র উচ্চারণ করেই চলল। মেঘের মতো জিনিসটির গতি থামল না, কিন্তু সে সামনে আর ছুটল না। পাক খেয়ে ঘুরতে লাগল। ঘুরতে ঘুরতে মাটির উপর নেমে এল এক অশ্বত্থগাছ। গুণিনের মন্ত্র তখনও থামেনি। মাটি ফাটল, গাছের শিকড় মাটির সেই ফাটলে ঢুকল, গাছটি এখানে জন্মানো গাছের মতো সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার চেয়েও বিস্ময়ের কথা— গাছের মাথায় দেখা দিল অপরূপ সুন্দরী এক মেয়ে, একপিঠ এলোচুল কিন্তু সম্পূর্ণ বিবস্ত্ৰ।

    লোকে মাথা হেঁট করলে।

    ডাকিনি বললে— আমাকে নামালে তুমি গুণিন, দশের সামনে এই অবস্থায়! আমাকে লজ্জা দিলে? আমি ডাকিনি হলেও মেয়েছেলে, আমার লজ্জা রক্ষা করো, আমাকে কাপড় দাও।

    গুণিন হাসল।

    ডাকিনি তখন হাত বাড়িয়ে বললে দাও, কাপড় দাও।

    গুণিন হেসে ঘাড় নাড়লে। —সবুর করো। সবুর করো।

    কিন্তু যারা গুণিনের সঙ্গী— তাদের সবুর হল না; একজন বললে— ছি ভাই! গুণিন তাকে ধমক দিলে – না।

    ততক্ষণে আর একজন অতর্কিতে গুণিনের কাঁধের গামছাখানাই টেনে মেয়েটিকে ছুড়ে দিলে। গুণিন আঁতকে উঠল— করলি কি? করলি কি?

    ডাকিনি খিলখিল করে হেসে উঠল। গামছাখানায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত সামনের দিকে ঢেকে নিয়ে হেঁট হয়ে পায়ের দিকে গামছাটার প্রান্তটা ধরে উপরের দিকে টেনে নিয়ে পিছনের দিকে মাথা পার করে ফেলে দিলে। গুণিন মর্মান্তিক চিৎকার করে উঠল— সকলে সভয়ে দেখলে, গুণিনের দেহের চামড়াও পায়ের দিক হতে ছিঁড়ে ক্রমশ মাথার দিকে গুটিয়ে পিছনের দিকে উলটে গেল। চামড়া ছাড়ানো মানুষটা পশুর মতো আর্তনাদ করে উঠল। ডাকিনির খিলখিল হাসি উচ্চ থেকে উচ্চতর হয়ে উঠল। সে গিয়ে আবার চাপল সেই গাছে। গুণিন সেই অবস্থাতেই তখনও মন্ত্র পড়ছিল; মন্ত্র আধখানার বেশি পড়তে পারলে না সে। গাছটা আধখানা উঠল না, আধখানা ছিঁড়ে আবার উঠল আকাশে। আবার আকাশে শব্দ হতে লাগল। উড়ন্ত মেঘের মতো চলে গেল— কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে। ওই অশ্বথ গাছটা সেই আধখানা গাছ।

    আজ সে কালের পরিবর্তন হয়েছে। ডাইনিও আজ আর নাই বললেই হয়। ডাইনিতে বিশ্বাস ধীরে ধীরে লোপ পেয়ে আসছে। অশিক্ষার গাঢ় অন্ধকারে যারা আজও ডুবে আছে তাদের মধ্যে হয়তো আছে। সে কালের ডাইনির বিচিত্র গল্পও আজ লোকে ভুলে আসছে। এই গল্পগুলির মধ্যে শুধু অন্ধ বিশ্বাসই তো নাই— আছে কত মানুষের মর্মান্তিক বেদনা। সারাটা জীবন তারা এই অপবাদের গ্লানি বহন করে চলত, নিজেরাও বিশ্বাস করে নিত এই অপবাদকে সত্য বলে, আর ভগবানকে ডাকত— স্বর্ণের মতো— আমার এ-লজ্জার বোঝা নামিয়ে দাও প্রভু, এ ভয়ংকর জীবনের অবসান করো। চোখের জল মুছে ফেলত কাপড়ের আঁচলে; মাটিতে কোনোক্রমে একফোঁটা ঝরে পড়লে শিউরে উঠত; মা বসুমতীর বুক যে জ্বলে উঠবে!

    [ মৌচাক, বৈশাখ ১৩৫৮ (এপ্রিল ১৯৫১) ]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }