Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    অমিতাভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প518 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মেদিনীপুরের বাড়ি – শতদল

    ভূতের ভয় বলে যে কথা আছে সেটা কোথায় খাটে? মানে কাদের বেলায় খাটে? যারা জানে ভূত নামক বস্তুটি আছে, যারা মনে করে ভূত ক্ষতি করে, যাদের ধারণা ভূত দেখতে কদাকার এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী, সাধারণত তাদেরই ভয় করে। কিন্তু ভূত যে কুরূপ, ক্ষতিকারী, অসীম ক্ষমতাশালী এসব তথ্য মানুষ জানল কোথা থেকে? ভূতের কোনো এনসাইক্লোপিডিয়া নেই, নেই কোনো স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান, কোনো অভিধান বা বংশতালিকা, গবেষণাগারেও পরীক্ষা করে দেখার উপায় নেই। তবে কি করে মানুষের ভূত-চিন্তা এল? তাদের চেহারা এবং প্রকৃতিই-বা মানুষ জানল কী করে? আমি ব্যাপারটা চিন্তা-ভাবনা করে এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে, ভূত আছে কি নেই তা জানার আগেই দুষ্টু বা দুরন্ত ছেলেকে শান্ত করতে ‘ঐ জুজু ধরল’ বলে তাকে ভয় দেখানো হয়। তখনই তাকে বলে দেওয়া হয় জুজুকে কেমন দেখতে, সে কী পারে না পারে ইত্যাদি। ব্যস, শিশুমনে একটা ছবি এঁকে নিল। এই জুজুর ভয়ই পরবর্তী জীবনে তার ভূতের ভয়ে পরিণত হল। তাহলে দেখা যাচ্ছে অন্য লোকে ভূতের ভয় ঢুকিয়ে দেয়। বড়ো হয়ে কেউ কেউ সে ভয় কাটিয়ে ওঠে, কেউ পারে না। আমার নিজের কথা বলি— ছেলেবেলায় প্রথমে আমারও ভূতের ভয় ছিল। সেই ভয় ওই ছেলেবেলাতেই কী করে কাটিয়ে উঠেছিলাম সে-কথা বলি— একটু যখন বড়ো হয়েছি হঠাৎ একদিন মনে হল, নিত্যি ভূতের ভয় পুষে রাখার কোনো মানে হয় না। এস্পার-ওস্পার যাহোক একটা হয়ে যাক। এইরকম ভাব মনে উদয় হওয়ার পর থেকে যখন যেখানে ভূতের ভয় লেগেছে বা গা ছমছম করেছে অমনি চেষ্টা করেছি ভূত দেখার। সাধারণত ভয় করলে লোকে আপ্রাণ চেষ্টা করে যেন ভূত না দেখতে হয়। আমি কিন্তু ঠিক উলটোটাই করেছিলাম। ভেবেছিলাম ভূত দেখে প্রথমবার ভয় পেলেও বার কয়েক দেখলে অভ্যস্ত চোখে আর ভয় লাগবে না। বলাবাহুল্য, কোনো বারেই ভূতের দেখা পাইনি। ফলে সাহস বেড়ে গেল বা ভয় কেটে গেল, যাহোক হল একটা-কিছু। এবারে অন্য লোকের কথায় আসি- ভূত দেখেছেন অথচ ভয় করেন না এমন অনেকে আছেন। আমার পিতৃদেব এবং ছোড়দা বারকয়েক ভূত দেখেছেন, কিন্তু ভূতে ভয় ছিল না। যাঁদের বিশ্বাস করা যায় তাঁদের ওপর নির্ভর করা যায়। বিশ্বাসযোগ্য জনের কাছ থেকেই লোকে শিক্ষা নেয়। তাঁরা যা-ই বলুন সবই বিশ্বাস করতে হয়। ভূত সম্পর্কে আমি বাবা ও ছোড়দাকে বেশ অভিজ্ঞ মনে করতাম। তাঁদের কাছ থেকে জেনেশুনেই আমার সে-বিষয়ে জ্ঞান বেড়েছে। ভূত আছে বিশ্বাস করি এবং সেইসঙ্গে এও বিশ্বাস করি যে, ওপরওলা যেমন মানুষের ক্ষমতা বেঁধে দিয়েছেন তেমনি তিনি ভূতের ‘বেলাতেও করেছেন। অর্থাৎ ইচ্ছেমতো মানুষ সব কিছু করতে পারে না, ভূতও ইচ্ছেমতো সব কিছু করতে পারে না। আমাদের গ্রামের মণীন্দ্র তর্ক করে বলেছিল— না রে! তুই জানিস না, ওরা ইচ্ছে করলেই যা খুশি তাই করতে পারে।

    তাই শুনে আমাদের গ্রামে সদ্য ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনার উল্লেখ করে বলেছিলেন— অবনীদা স্ত্রী-ছেলেমেয়েকে ভালোবাসতেন কি না?

    মণীন্দ্র উত্তরে বলেছিল— যথেষ্ট ভালোবাসতেন।

    আমার প্রশ্ন- সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জন করার লোক ছিলেন কি না?

    মণীন্দ্রের জবাব- হ্যাঁ।

    আমার ফের প্রশ্ন— অবনীদা খুন হওয়াতে সংসারটা ভেসে গেল একথা সত্যি কি না?

    মণীন্দ্র জোর দিয়ে বলল— তা তো গেলই। তার সঙ্গে ভূতের ক্ষমতার কী সম্বন্ধ?

    আমি বলেছিলাম— আছে হে আছে। তার আগে আর একটা প্রশ্নের জবাব দাও। অবনীদার খুনি কি এখনও পর্যন্ত ধরা পড়েছে?

    মণীন্দ্রর জবাব সঙ্গে সঙ্গে— না।

    আমি বলেছিলাম— তবেই দ্যাখো, যে খুনের মতো জঘন্যতম অপরাধ করল, যে একটা সুন্দর সংসারকে ভাসিয়ে দিল, নিরপরাধ স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে অনাথ করে দিল, সে এখনও ধরাই পড়ল না, শাস্তিই পেল না। অথচ অবনীদা ইহলোক ছেড়ে প্রেতযোনী যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তো জানতে পারলেন কে খুনি। পারতেন না তাকে ধরিয়ে দিতে? আরও উদাহরণ আছে, আমরা তো খবরে পড়েছি খুন করে লেপকম্বল চাপা দিয়ে মৃতকে সাতদিন ধরে বাড়িতেই লুকিয়ে রেখে দিব্যি সকলে খাওয়া-দাওয়া করেছে, স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাত্রা করে গেছে। কিম্বা স্ত্রীকে খুন করে মৃতদেহ পাচার করতে না-পেরে সেটা মাটিতে পুঁতে রেখে আসামি দিনের-পর-দিন তার ওপর বিছানা পেতে শুয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে। এরকম ক্ষেত্রে কই কোনো সময়েই তো প্রেতাত্মা খুনিকে ভয়ও দেখায় না, ধরিয়েও দেয় না? আমার এইরকম সব মোক্ষম উদাহরণের সামনে মণীন্দ্র কাবু হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত সে আমার সঙ্গে একমত হয়েছিল যে ভূতের ক্ষমতাও সীমিত। আর সীমিত বলেই জ্ঞানী ব্যক্তিরা ভূতকে ভয় করেন না। বাড়িতে নিশ্চিত ভূত আছে জেনেও তাঁরা নির্ভয়ে থাকেন। এইরকম একটা ঘটনা বলব বলেই এত ভণিতা করতে হল। তার মানে মোটেই এই নয় যে সবাই আমার ঘটনা বিশ্বাস করুন। চন্দ্র-সূর্যের মতোই ধ্রুব সত্যি যে, কোনো ক্ষেত্রেই শতকরা একশোভাগ লোককে একদিকে আনা যায় না।

    বাংলা ১৩৫০ সালে দেশজুড়ে প্রবল দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। ভারতের শাসনকর্তা তখন ব্রিটিশ। পৃথিবীতে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা। কবে যে যুদ্ধ শেষ হবে কেউ জানে না। ইংরেজের শত্রুপক্ষের একজন হল জাপান। আমি তখন নিতান্তই শিশু। কিন্তু তবু আমার বেশ মনে আছে— দেখতাম আকাশে লাল লাল জাপানি এরোপ্লেন। সর্বদা আতঙ্ক এই বুঝি বোম্বিং শুরু হল! ছোটোদের মুখে তখন একটা ছড়া ঘুরত। আমারও সেটা মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। ছড়াটা এইরকম—

    সা রে গা মা পা ধা নি
    বোম ফেলেছে জাপানি
    বোমার ভেতর কেউটে সাপ
    বৃটিশ বলে বাপরে বাপ!

    আমি খুব ছোটো হলেও সেই সময়ের সব ব্যাপার মনে আছে। দেশে সমস্ত জিনিসের হাহাকার— চাল নেই, কয়লা নেই, চিনি নেই, নুন নেই, কেরোসিন নেই, পেট্রোল নেই, আরও কত কিছু নেই। কেবল নেই আর নেই। সব রেখে দেওয়া হয়েছে মিলিটারির জন্যে। জনসাধারণের দাম তখন কুকুর-বেড়ালের থেকে বেশি নয়। তারা থাকল বা না থাকল কিছু যায় আসে না। মিলিটারি এবং তাদের পরিবারই তখন সব। তাদের সুযোগ-সুবিধে দিতে হবে, ঠিক রাখতে হবে। তাদের আরামে না রাখলে লড়বে কে? বাজারে সামান্য যা-কিছু পাওয়া যেত বিশেষত খাদ্যদ্রব্য, তার এত দাম যে সাধারণের নাগালের বাইরে। ব্ল্যাক মার্কেট বা ‘কালোবাজার’ কথাটার জন্ম সেই সময়ে। যুদ্ধের সময়ে কালোবাজারি এক একটা টাকার কুমির হয়ে গেল। জনকয়েক মানুষের লোভ কীভাবে বিরাট সংখ্যক মানুষকে বিপন্ন করে দিল, বিপন্ন বললে ভুল হয়, ধ্বংস করে ছাড়ল ১৩৫০ সালের মন্বন্তর তার জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রকৃতির ওপর কারুর হাত নেই। প্রাকৃতিক কারণে দুর্ভিক্ষকে তাই মুখ বুজে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। সেখানে কারুকে দোষ দেওয়ার নেই, দুঃখ নেই। কিন্তু অতি স্বার্থপর লোকের সৃষ্টি কৃত্রিম দুর্ভিক্ষে যখন হাজার হাজার মানুষ মরে যায় তখন শিশু-বৃদ্ধ-স্ত্রীলোকের স্তূপাকার শবের দিকে তাকিয়ে দায়ী সেই মানুষ-পিশাচগুলোর ওপর অন্তর থেকে অভিশাপ আসে— ভগবান, প্রত্যেক জন্মে ওদের আবর্জনার কীট করে পাঠিও। যাই হোক, অন্য প্রসঙ্গে না গিয়ে যা বলছিলাম—

    আমরা সেই দুর্ভিক্ষের সময়ে মেদিনীপুর শহরে। সবে কলকাতা থেকে এসেছি। বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। শালবনীতে এরোড্রোম তৈরি হচ্ছে। বাবাকে সেইজন্যে আসতে হয়েছে। তিনি যেখানেই পোস্টেড হতেন আমাদের সপরিবারে সেখানে নিয়ে যেতেন। কোয়ার্টার পাওয়া গেলে ভালো কথা, না গেলে বাড়ি ভাড়া করা হত। শালবনীর জঙ্গল সাফ করে ‘এয়ার বেস’ তৈরি হচ্ছে। সেখানে ফ্যামিলি কোয়ার্টারের কোনো প্রশ্ন নেই। কাছাকাছি সব থেকে বড়ো শহর মেদিনীপুরে বাড়িভাড়া করা হল। কলকাতা থেকে আমরা মেদিনীপুরে চলে এলাম। প্রথম দর্শনেই আমাদের সকলেরই বাড়িটাকে ভালো লাগল। লাল রঙের একতলা বাড়ি। বিরাট বাগান আছে পেছন দিকে, কুয়ো আছে বাগানে। ওই পাড়াতে এটাই সব থেকে বড়ো ও সুদৃশ্য বাড়ি। আমরা খুশি হলে হবে কি? পাড়ার লোক খুশি হতে দেবে না। কেউ কেউ এসে শুরু করলেন— আপনারা কোথা থেকে আসছেন?

    দাদা বললেন— কলকাতা।

    তাঁদের জবাব— তাই।

    বুঝতে না পেরে হয়তো দাদা জিজ্ঞাসা করলেন— তাই মানে?

    তাঁদের জবাব— স্থানীয় লোক হলে এ-বাড়িতে কখনোই আসতেন না। জেনে-শুনে কি লোকে বিপদে পড়ে?

    দাদা অবাক হয়ে বলেন— কী বলছেন বুঝতে পারছি না তো?

    তাঁদের উত্তর— থাকুন না, জানতে পারবেন।

    দাদা তবু বলেন— যদি সে-রকম কিছু ব্যাপার থাকে বলে দিলে তো আমরা সাবধান হই!

    পড়শীরা যেন কত দরদী! বললেন— না দাদা, আপনাদের সঙ্গে তো ছোটো ছেলেমেয়ে রয়েছে, বলে আর ভয় পাওয়াতে চাইছি না।

    আমরা আসার দু-পাঁচ দিন পর থেকেই প্রতিবেশিনী মেয়ে-বউদের অনেকে মা আর দিদিদের সঙ্গে আলাপ করতে বাড়িতে আসতে লাগলেন। খোদ কলকাতায় বাস করে হয়তো এখন আমরা ধারণা করতে পারি না পাড়ায় নতুন পরিবার এলে যেচে গিয়ে আলাপ করা। মেলামেশার ধরন-ধারণ এখন পালটে গেছে। বাইরে ছোটো শহরে বা গ্রামে-গঞ্জে কিন্তু এখনও এ-রীতি আছে। যাই হোক, আলাপ-পরিচয় পর্ব শেষ হলে প্রায় সব প্রতিবেশিনীই বলে গেলেন— বাড়িটায় বাতাস আছে। ছোটো ছেলেমেয়েদের সাবধানে রাখবেন। সাধারণত যারা জানে না তারা মনে করবে ভালোই তো, বাড়ি গুমোট নয় বাতাস আছে। কিন্তু যারা জানে বাতাসের মানেটা এখানে কী, চোখ গোল গোল হয়ে যাবে। এ হল ভূতের বাতাস। সোজা কথায় বাড়িটায় ভূত আছে। তাই কেউ ভাড়া নেয় না। বাড়িটা খালি পড়ে থাকে। বাড়ির মধ্যে আমি সব থেকে ছোটো। আমার ওপরে দুজন দিদি। দিদি হলেও ছোটো ছোটো মেয়ে তারা। তার ওপরে দুই দাদা। তাঁরা যথেষ্ট বড়ো। অন্তত আমাদের মতো চট করে ভয় পাওয়ার বয়স নয়। বাড়িটায় যে ভূত আছে আমরা তিন ভাইবোন জানতাম না। আমি তো জানতাম না। আমার ওপরের দিদি দুজনও নিশ্চিত জানত না। যদি জানত তাহলে এক সময়ে নির্ঘাত প্রকাশ করে ফেলত। কারণ, আমাদের বয়সের তফাত খুব বেশি ছিল না এবং তিনজনে বাড়িতে সকল সময়ে খেলার সঙ্গী ছিলাম। ছেলেমানুষ আমরা পাছে ভয় পাই, তাই বড়োরা সাবধান থাকতেন। ওই বাড়ি ছাড়ার পর ব্যাপারটা শুনেছিলাম। তখনই শুনেছিলাম পাড়ার লোকরা আলাপ-পরিচয় করার সময়েই জানিয়েছিল ভূত আছে।

    আমাদের ছোড়দা ভাইবোনদের পড়াতেন। কেউ পড়া না করলে বা পর পর ক-টা ভুল করলে হয় একবেলা খাওয়া বন্ধ, নয়তো অন্ধকার ঘরে (সে সময়ে সব বাড়িতে ইলেকট্রিক ছিল না। হ্যারিকেন লন্ঠন জ্বলত) দু-ঘণ্টা বন্দি করে রাখা হত। এ বিধান ছোড়দার। অন্য দাদা ঠিক এ রকম শাস্তি দিতেন না। একবেলা খেতে না-পাওয়া বা সন্ধেবেলা একলা অন্ধকার ঘরে বন্দি থাকা কোনোটাই আমার সহ্য হবে না। তাই মরি কি বাঁচি করে ছোড়দার পড়াটা ঠিক করে রাখতাম। সবচেয়ে বেশি শাস্তি পেত আমার এক দিদি। তার পড়া প্রায়ই মুখস্থ হত না। খাওয়া বন্ধের শাস্তি দিলে মা রাগ করতেন। তাই অন্ধকার ঘরে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে রাখার শাস্তিটাই জুটত তার কপালে। সে-দিদির ভয়-ডর বলে কিছু ছিল না, ওই ছেলেবেলাতেও দুরন্ত ডাকাবুকো ছিল। কাজেই একলা অন্ধকার ঘরে বন্দি থাকাটা দিদি গ্রাহ্যই করত না। ভয়-ডর ছিল না বলে ওই দিদির একটা ডাকনাম ছিল ‘বোম্বেটে’। ওকে বাড়ির বারান্দার শেষ প্রান্তের একটা ঘরে কিছুক্ষণ বন্দি রাখা হত। বাড়িটায় ইলেকট্রিক ছিল না। আমাদের সব ঘরে কেরোসিনের লণ্ঠন জ্বলত। কিন্তু ওই ঘরটা যেহেতু আমাদের ব্যবহার করার বিশেষ দরকার হত না, পড়েই থাকত, সেই জন্যে আলোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না সেখানে। জিনিসপত্তরও বিশেষ কিছু রাখা হত না। ফাঁকা অন্ধকার ঘরটা শাস্তি-ঘর হিসেবে চমৎকার! দিদিকে প্রায়ই বন্দি থাকতে হত সেখানে। মা কিন্তু ব্যাপারটাকে খুব অসন্তোষের চোখে দেখতেন। মাঝে মাঝে দেখতাম দাদাকে আড়ালে বকা-ঝকা করতেন। আমাদের সামনে বকতেন না কখনোই, পাছে আমাদের দাদাকে ভয় করা চলে যায়। আড়ালে বকার সময়ে দু- একবার আমি টের পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে যখন জানতে পেরেছিলাম বাড়িটায় অশরীরীর চলাফেরা আছে তখন বুঝেছিলাম মার বকার কারণ। অবশ্য পাড়ার লোকের কাছে দাদাও তো শুনেছিলেন এ-কথা, তবুও কেন যে একটা ছোটো মেয়েকে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখতেন বুঝি না। আসলে এই দাদা খুব ডানপিটে ছিলেন, কিছুতে ভয়ডর ছিল না। কাজেই ভূতের ভয় গ্রাহ্য করতেন না। সবাইকে সেইরকম মনে করতেন। এই সব লোকের কাছে ভূত জব্দ। যারা ভয় পাত্তাই দেয় না তাদের কাছে ভূত একেবারে কেঁচো। দিদি বাড়িটায় ভয় আছে জানত না। কাজেই কোনো সময়েই ওর ভয় করত না। তবে আমরা ছোটোরা যখন খেলতাম বা গল্পটল্প করতাম তখন কথাপ্রসঙ্গে মাঝে মাঝে ওই দিদি বলত, জানিস, আমাকে ছোড়দা ঘরে বন্দি করে রেখে দেওয়ার সময়ে এক একবার মনে হয় ঘরের এক কোণে একটা বউ বসে আছে! আমরা ঠাট্টা করে বলতাম, তোর সঙ্গে খেলবে বলে বসে থাকে। দিদির এই ‘মনে হওয়া’র কথাটা একবার মা শুনতে পেয়েছিলেন। ব্যস! সত্যিকারের বকুনি সেদিন দিয়েছিলেন ছোড়দাকে। তারপর থেকে অন্ধকার ঘরে বন্দি থাকার শাস্তিটা উঠে গেল।

    প্রকৃত ঘটনাটা কীভাবে কখন আমি জানলাম এবারে তা বলি— বাবা বদলি হয়ে যাচ্ছেন শিবগঞ্জ বলে একটা জায়গায়। আমরা সবাই মেদিনীপুর থেকে শিবগঞ্জ চলে যাচ্ছি। শেষ রাত্তিরে গাড়ি। শীতকালের ভোর চারটে শেষ রাত্তির ছাড়া আর কী? তখন ঘোড়ার গাড়ির খুব চল। সাধারণের যান হিসেবে ঘোড়ার গাড়িকে লোকে বেশ পছন্দ করত। ভাড়ার মোটরগাড়িও পাওয়া যেত, কিন্তু ঠিক এখনকার ট্যাক্সির পর্যায়ে পড়ত না। ফুরনে যেত তারা। তা ছাড়া তাদের মিটারও ছিল না। মিটারের চল তখনও হয়নি। ঘোড়ার গাড়ি বলে রাখা হয়েছিল। ঠিক সময়ে এসে গেল। আমাদের জিনিসপত্তর বাঁধাছাদা শেষ। এ-ঘর থেকে জিনিসগুলো এনে একটা ঘরে সব জড়ো করা হচ্ছে। বাবা শিবগঞ্জে আগেই চলে গেছেন অফিসের লোকের সঙ্গে। আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন দুই দাদা। হঠাৎ আমার মনে পড়ল আমার খেলনার ছোট্ট লাল রঙের মোটরগাড়িটা পাশের ঘরে জানলার কপাটের পেছনে রেখেছিলাম, তোলা হয়নি তো সেটা! একছুটে এসে হাজির হলাম সেই ঘরে। সে-ঘরে মোমবাতিটা ছোটো হয়ে জ্বলছিল তখনও। কাজেই জানলার কপাটের পেছন থেকে মোটরটা খুঁজে নিতে অসুবিধে হল না। ভাগ্যিস শেষ সময়ে মনে পড়েছিল! সব খেলনার মধ্যে আমার প্রিয় খেলনা মোটর। তখন জার্মানি ও জাপানি খেলনায় বাজার ভরতি ছিল। সে-সব খেলনার কী বাহার, আহা! এই টিনের লাল মোটরটা ছিল জাপানি, আমার বেজায় আদরের। এটাকে ভুলে ফেলে গেলে দারুণ কষ্ট হত। এই ঘরের পাশের ঘরটাই শাস্তি-ঘর। খেলনা নিয়ে চলে আসবার সময়ে শুনতে পেলাম মেয়েলি গলার কান্না। ভাবলাম যাবার মুখে দিদিদের কেউ হয়তো অন্যায় কিছু করেছে তাই শাস্তি-ঘরে আটক থেকে কাঁদছে। গ্রাহ্য না করে আবার আগের ঘরে চলে এলাম। ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মার কী বকুনি! — কেন কারুকে কিছু না বলে গিয়েছিলে? কোথায় গিয়েছিলে? দেখলাম ছোড়দাও আমার দিকে কট্‌ট্ করে চেয়ে আছেন। ভয়ে সিঁটিয়ে গেলাম— আমাকেও অন্ধকার শাস্তি-ঘরে পুরে না দেয়। মাকে বললাম, কোথায় গিয়েছিলাম, কেন গিয়েছিলাম। সেইসঙ্গে এও বললাম, দিদি শাস্তি-ঘরে কাঁদছে। একজন দিদিকেই বার বার শাস্তি-ঘরে যেতে হত। কিন্তু কোনোদিন তাকে কাঁদতে শুনিনি। মাকে তাই কান্নার খবরটা দিলাম। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু খবরটা দিয়ে বোকা হয়ে গেলাম। মা ধমকে বললেন— কাঁদুক গে! ওই তো দিদিরা! দেখলাম দুই দিদিই ঘরে রয়েছে। কে কাঁদছে তা হলে? ও নিয়ে আর মাথা ঘামালাম না। মা আর ছোড়দা গম্ভীর হয়ে একবার মুখ চাওয়াচায়ি করলেন। এমন সময়ে ছাদে একটা শব্দ শুনলাম। বাক্স টেনে নিয়ে গেলে যেমন শব্দ হয় সেইরকম। ছোড়দা হাতঘড়ি দেখে মাকে বললেন— সময়টা একই। এর মানেটা তখন বুঝতে পারিনি। পরে পেরেছিলাম। যথাসময়ে বলব। শব্দটা শুনে আমার মনে হয়েছিল হয়তো ছাদের কোনো জিনিস ঘোড়ার গাড়িওলাকে দিয়ে আর এক দাদা নামাবার ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘোড়ার গাড়িওলাদের নিয়ে দাদাকে সদর দরজার দিক থেকে আসতে দেখলাম। দাদা এসে বললেন— চলো চলো সব, আর দেরি কোরো না। সঙ্গের লোকদের বললেন— সামান উঠাও।

    আমরা গাড়িতে এসে বসলাম। মালপত্তর তোলার পর গাড়ি ছাড়বে, এমন সময়ে একজন দিদি বলল— আরে! ট্রেনে জল খাওয়া হবে বলে যে গেলাসটা বার করে রেখেছিলাম সেটা যে ঘরেই পড়ে রইল! থামাও, থামাও গাড়ি।

    মা তীব্র আপত্তি করে বললেন– থাক গে। একবার যখন সবাই দুগ্‌গা দুগ্‌গা বলে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছি আর গেলাস আনতে যেতে হবে না।

    তখন তো প্লাসটিক বা স্টেনলেস স্টিল বাসনের চল হয়নি, গেলাসটা ছিল কাঁসার। কাঁসার বাসনের দাম চিরকাল। তবুও মা আনতে দিলেন না।

    আমাদের ঘোড়ার গাড়ি বাড়ির গলি ছাড়িয়ে বাঁক নেওয়া পর্যন্ত মা জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে সমানে ফেলে আসা বাড়িটার দিকে চেয়ে রইলেন। ছোড়দা মাকে হেসে জিজ্ঞাসা করলেন, বাড়িটার জন্যে মন কেমন করছে? মা যেন চেতনা ফিরে পেয়ে বললেন— না রে! দেখছিলাম। দাদা জিজ্ঞাসা করলেন— কী দেখছিলে বলো তো?

    মা বললেন— দেখছিলাম…, এখন সকলের সামনে বলতে মানা নেই, একটা ঘোমটা মাথায় দেওয়া বউ ছাদ থেকে ঝুঁকে দেখছিল। মুখটা ঘোমটার জন্যে দেখতে পাচ্ছিলাম না, তবুও বোঝা যাচ্ছিল, যতক্ষণ দেখতে পেলাম, আমাদের চলে যাওয়ার দিকে ঘাড় ফিরিয়ে আছে।

    ছোড়দা আক্ষেপ করে বললেন— ইস্! আমাকে একটু বললে না? একবারও দেখতে পেলাম না পেতনিটাকে। কেবল শব্দই শুনে গেলাম!

    আমরা তিন ভাইবোন সেই প্রথম ঘোড়ার গাড়িতে জানতে পারলাম বাড়িটায় পেতনি ছিল। তখন আমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল— কেন অন্ধকার ঘরটায় বন্দি থাকার সময়ে দিদির মনে হত ঘরে আর একটা বউও আছে, কেন অন্ধকার ঘরে আটক থাকার শাস্তি দিলে দাদাকে মা বকাবকি করতেন, কেন ছাদে বাক্স টানার শব্দ শুনে মা আর ছোড়দা মুখ চাওয়াচায়ি করেছিলেন, আর কেনই-বা ছাদে ওই শব্দ শুনে ছোড়দা মাকে বলেছিলেন ‘সময়টা একই’। অর্থাৎ প্রত্যেকদিন শেষ রাতে ঠিক ওই সময়ে ছাদে ওই আওয়াজটা মা ও ছোড়দা শুনতেন।

    মা-র কাছে পরে শুনেছিলাম যে, ওই বাড়ির মালিক ছিল একটা বউ। তাকে দেখাশোনা করার কেউ ছিল না। শেষদিকে সে একাই থাকত ওই বাড়িতে। সে নাকি ওই শাস্তি-ঘরেই মরে পড়ে ছিল তিন-চার দিন ধরে। কেউ জানতে পারেনি। শেষে পচা গন্ধ পেয়ে পাড়ার লোকেরা এসে দরজা ভেঙে ঢুকে বউটার মৃতদেহ দেখতে পায়। আমাদের আগে আরও অনেকে ভাড়া এসেছে ওই বাড়িতে। কিন্তু কেউই নাকি তিন-চার দিনের বেশি টিকতে পারেনি। ভয় পেয়ে পালিয়েছে। আমরাই কেবল এক-দেড় মাস কাটিয়ে গেলাম।

    [ নিশুতি রাতের মহাত্মা (নিউ বেঙ্গল প্রেস), ২০১৪ পুনর্মুদ্রণ (প্রথম প্রকাশকাল অজ্ঞাত) ]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }