Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    অমিতাভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প518 Mins Read0
    ⤶

    হানাবাড়ির বেগম – বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

    গল্পটি আমার বাবার জ্যাঠামশায়ের মুখে শোনা। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ আমলের ডাকাবুকো পুলিশ কর্তা। নাম বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়। আমরা ডাকতাম, বিশু দাদু। চাকরির খাতিরে ভারতের নানা জায়গায় তাঁকে ঘুরতে হয়েছিল। তাই অভিজ্ঞতার ঝুলি উপচে উঠত ছোটো-বড়ো নানা গল্পে। তাঁর বাড়ি ছিল ভবানীপুরের বলরাম বসু ঘাট রোডে। তখন তাঁর অবসর জীবন চলছিল। ছাদের এক পাশে ছিল তাঁর নিজস্ব মস্ত ঘর। নানা ধরনের মানুষজন আসতেন তাঁর কাছে। কেন না তিনি ছিলেন খুব আড্ডাবাজ মানুষ। গল্প বলতেন একেবারে নাটকের অভিনেতার স্টাইলে। তাঁর প্রিয় বিষয় ছিল বাঘ আর ভূত। তিনি বলতেন এই দুটি বিষয়ে গল্প বলে রাতের পর রাত কাটিয়ে দেওয়া যায়। তিনি গল্প বানাতেন না। যেখানে যেমন অভিজ্ঞতা চাকরি জীবনে লাভ করেছিলেন মুখে মুখে তাই টানা বলে যেতেন।

    আমি তখন খুবই ছোটো। বোধহয় ক্লাস থ্রি কিংবা ফোর-এ পড়ি। বিজয়ার প্রণাম সারতে বাবা, মা আর ছোটো বোনের সঙ্গে দাদুর বাড়ি গেছিলাম। দিনটা ছিল কোজাগরী পূর্ণিমা। দাদুর লাইব্রেরি ঘরে সেদিন বেশ ভিড়। আমাদের আরও অনেক আত্মীয়স্বজন এসেছিলেন দাদুকে প্রমাণ করতে। চা শরবত আর জলখাবারের পর সকলেই একটু উশখুশ করতে লাগল। যেন কোথাও কিছু-একটা বাদ পড়ে যাচ্ছে অথচ সেটা সংকোচবশত মুখে কেউ বলতে পারছে না। ছোটোদের মধ্যে জড়তা বা সংকোচের ব্যাপারটা কম থাকে। তাই আমাদের মধ্যে যারা একটু বড়ো তাদের কেউ কেউ বলেছিল, দাদু একটা ভূতের গল্প বলুন না। ছোটো করে নয়, বেশ বড়ো গল্প চাই। দাদু হেসে বললেন, বটে। ভয় পাবি না তো? আমরা সমস্বরে সবাই না না করে উঠলাম। দাদু বললেন, বেশ। ঠিক আছে তাহলে সবাই মিলে একটা কাজ করো। ওই শতরঞ্জি ক-খানা ছাদে বিছিয়ে বস সবাই। আমি আসছি।

    ছাদ তখন জোছনায় ভাসছে। কলকাতায় সেই সময় এমন আলোর মাত্রা ছাড়া দাপাদাপি ছিল না। আর আলো কম ছিল বলেই পূর্ণিমার রাতে জ্যোৎস্নার বানভাসি হত সর্বত্র। মস্ত ছাদের চারপাশে টবের ওপর নানান ফুলগাছ। বিস্তর সাদা ফুল চাঁদের টুকরো হয়ে লেগেছিল গাছের পাতায় পাতায়। মাঝখানে দুটি শতরঞ্জির ওপর আমরা সকলে। একটু দূরে দাদু বসে একা একটি আরাম কেদারায়।

    প্রায় ষাট বছর আগেকার সেই সন্ধেবেলা আজও চোখ বুজলে দেখতে পাই। চাঁদের আলোয় আমরা সবাই সাদা কালো ফিল্মে তোলা গ্রুপ ছবি হয়ে বসে আছি। মাথার ওপর থেকে নেমে আসছে হলুদ জ্যোৎস্না ধারা। সেই ধারায় আমরা ভিজছিলাম সকলে। বাতাসে ছিল হেমন্তের চিঠি। সবাই উদগ্রীব হয়ে বসে দাদুর গল্পের জন্য। দাদু চুপ করে থেকে যেন পরিবেশ তৈরি করছিলেন তাঁর গল্পের জন্য।

    একটু পরে গলাখাঁকারি দিয়ে দাদু বলেছিলেন, আজ ছোটোরা যখন দলে ভারী তখন ওদের পছন্দের গল্পই হোক। ভূত-ফুত কোনোদিন মানিনি। আজও মানি না। কিন্তু অত বছর আগেকার সেই ঘটনাটা মনে করলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। গল্পটা চলাকালীন কারও যদি অসহ্য মনে হয়, তো বল। গল্প বলা থামিয়ে দেব।

    আমি তখন রাঁচির ডি.এস.পি। ক-দিন হল বদলি হয়ে এসেছি পাটনা থেকে। মস্তবড়ো জুরিসডিকশন। তখনও কিছুই দেখাশোনা হয়নি। সেদিন একটা ডাকাতি মামলার ফাইল নিয়ে বসেছি। এমন সময় টেলিগ্রাফে খবর এল, আমাকে ল্যাম্বার্ড সাহেব তাঁর হাজারিবাগ অফিসে ডেকে পাঠিয়েছেন। এই ল্যাম্বার্ড ছিলেন ইম্পিরিয়াল পোলিস সার্ভিসের ডেপুটি কমিশনার। ভারি হৃদয়বান মানুষ। আমাকে খুব স্নেহ করতেন। হয়তো নতুন কোনো কাজের ভার আমাকে দেওয়ার জন্যই ডেকে পাঠিয়েছেন। এমনটাই ভাবলাম আমি। আমার ড্রাইভার ছিল রমজান। যেমন ওস্তাদ ড্রাইভার তেমনি পাকা রাঁধুনি। তখন ওর সঙ্গে সদ্য পরিচিত হয়েছি অবশ্য। ওকে ডেকে গাড়ি বার করতে বললাম।

    তখন কি আপনারা অ্যামবাসাডার চড়তেন? আমার এক খুড়তুতো ভাই জিজ্ঞেস করল। দাদু হেসে বললেন অ্যামবাসাডার তো এল, স্বাধীনতার পর। হিন্দুস্থান মোটরস তৈরি করত এই গাড়ি। সেই সময় দেশে কোনো মোটর গাড়ির কারখানাই ছিল না। আমাদের জন্য সরকার আমেরিকার উইলস কোম্পানির জিপ আনত জাহাজে করে। দারুণ শক্তপোক্ত গাড়ি। স্পিড উঠত ঘণ্টায় আশি মাইলের মতো। গাড়ি চলত পেট্রোলে। রমজান গাড়িও খুব টিপটিপ রাখত। তা ও এসে জানাল, দেড়শো মাইল রাস্তা যেতে তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টা লেগে যাবে। তখন বাজে প্রায় বিকেল পাঁচটা।

    কোয়ার্টার্সে গিয়ে ইউনিফরম পরে ট্র্যাভেল ব্যাগ, টর্চ লাইট আর চব্বিশ ঘণ্টার সঙ্গী মাউজার সি নাইনটি সিক্স পিস্তল নিয়ে গাড়ির সওয়ার হলাম পনেরো মিনিটের মধ্যে। রমজান গাড়ি ছাড়ার সময় জানাল, দুটো রাস্তা আছে হাজারিবাগ পৌঁছোতে। একটা ওরমানজি, রামগড়, কুজু হয়ে আর একটা কাঁকে এবং পত্রার্ত হয়ে। রমজান জানিয়েছিল সে পত্রাতুর পথ ধরবে। কেন না এ পথটা অপেক্ষাকৃত ছোটো তাই কম সময় লাগবে। মনে রাখতে হবে ওই সময়ের পথঘাট এখনকার মতো চমৎকার ছিল না। আর রাস্তা রাতের বেলায় ঘুটঘুটে অন্ধকার, কেন না ল্যাম্পপোস্টই বসেনি। তবে আজও মনে আছে সেই রাতটাও আজকের মতোই পূর্ণচন্দ্রের ছিল।

    গাড়ি ছাড়ার আধঘণ্টা কিংবা এক ঘণ্টা পর রমজান বলল, এ ক্যয়া অজীব চিজ হো রহা হ্যায়। যো রাস্তা, পকড়না থা ও বদল হো গয়া। হামলোগ ওরমানজি অউর কুজু বা রাস্তা পর আ পৌঁছা। খোদা মালুম, ইয়ে গড়বড়ি ক্যায়সে হো গয়া। আমি বললাম এ রাস্তায় অসুবিধে কী? তার উত্তরে রমজান জানিয়েছিল, ঘুরপথ তো বটেই এবং রাস্তার অবস্থাও ভালো নয়।

    পশ্চিম আকাশে ততক্ষণে লাল রং ধরেছে। রাস্তা খুবই নির্জন। জনপদ চোখেই পড়ছে না। জঙ্গল দু-দিকেই। কখনো-সখনো দু-একটা গ্রাম দূরে দূরে। আমি প্রকৃতি ভালোবাসি, তাই লং-ড্রাইভ সারাজীবন খুব এনজয় করেছি। কিন্তু সেদিন বার বার ঘড়ি দেখছি। সাহেবের ডিনারের আগে না পৌঁছালে কাল সকাল অবধি অপেক্ষা করতে হবে।

    তখনও চারপাশে অস্তরাগের ছবি। পশ্চিম আকাশ ডিমের কুসুমের মতো রক্ত ধরেছে। পাখিরা ধীরে ধীরে ঘরমুখো হবার কথা ভাবছে। হঠাৎ গাড়িটা ঝপ করে দাঁড়িয়ে পড়ল এবং সমস্ত যান্ত্রিক শব্দ একেবারে বন্ধ। রমজান কয়েক বার চাবি-টারি ঘোরালো বটে কিন্তু গাড়ি স্পিকটি নট। রমজান লাফিয়ে নামল গাড়ি থেকে, তারপর বনেট খুলে অনেকক্ষণ ধরে যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়া করল। কিন্তু গাড়ি স্তব্ধ হয়েই রইল। রমজান কপাল চাপড়ে হিন্দিতে যা বলল, তার সহজ বাংলা হল, গাড়ির সব কিছু ঠিকঠাক দেখেই বেরিয়েছি। খারাপ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবু দেখি একবার বনেট খুলে।

    রমজান গাড়ি থেকে নামতেই আমিও নামলাম। সময়টা সম্ভবত ছিল বসন্তকাল। সারা দিন ভ্যাপসা গরম থাকার পর ভারি সুন্দর ফুরফুরে হাওয়া বইছে। বহু দূরে দূরে গ্রামের বাড়ি ঘর। পাহাড়ের একটা হালকা আভাসও যেন দেখা যাচ্ছিল। আমি নিশ্চিত ছিলাম গাড়ি ঠিক হবেই। কিন্তু মিনিট দশেক পর রমজান জানাল, তার বিশ বছরের চাকরি জীবনে এমনটা কখনো ঘটেনি। সে বুঝতেই পারছে না গাড়ি কেন চলছে না। যন্ত্রপাতি সব ঠিক আছে।

    রমজান মাঝরাস্তায় গিয়ে দাঁড়াল। আমাকে সে বলল, যদি হাজারিবাগের দিকে গাড়ি পাই তবে তো হয়েই গেল। নইলে আমি রাঁচি গিয়ে মেকানিক নিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো দিকেই গাড়ির আসা-যাওয়া দেখা গেল না। রমজান বলল, স্যার চলুন আপনার একটা ব্যবস্থা করি আগে। তারপর আমি দেখছি বাকিটা। এই না বলে সে আমার ট্রাভেল ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করল। দেখেছিলাম একটি লোক তাড়াহুড়ো করে গেটটি তালা বন্ধ করছে। রমজান দূর থেকেই চেঁচাল। আমাদের ইউনিফরমে দেখেই সে একটা সেলাম করল তারপর দ্রুত পায়ে এগিয়ে এল আমাদের দিকে।

    লোকটি নাম বাগীশ্বর। সরকারি কেয়ারটেকার। এই বাড়িতে সে সকাল থেকে সন্ধে অবধি ডিউটি করে, তবে বিকেল বিকেল সে বাড়ি ফিরে যায়। কারণ হিসেবে, সে জানিয়েছিল তার বাড়ি বেশ দূর এবং পথে বাঘের উৎপাত আছে। রমজান তাকে দিয়ে গেট খোলাল এবং আমাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঘরে ঢুকল। বাগীশ্বরকে বললাম স্নানের জলের ব্যবস্থা করতে। রান্নাবান্নার ব্যাপারে সে প্রথমেই জানিয়েছিল উনুন ধরাবার কাঠ বা কয়লা কিছুই নেই। কেন না এ বাড়িতে কেউ থাকতে আসে না। আর এ বাড়িতে জিনের উৎপাত আছে এবং এর আগে দু-জন পুলিশের লোক নাকি এখানে রাত কাটানোর কিছুদিনের মধ্যেই মারা গেছে। এবং তারাও নাকি একইভাবে এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এবং তাদেরও গাড়ি খারাপ হয়ে গেছিল।

    রমজান আমাকে বলল, লোকটা মিথ্যে বলছে ভয় দেখাতে। আসলে ওর ছুটি দরকার। আমি বললাম হাজারিবাগের দিকে গাড়ি পেলে তো ল্যাঠা চুকেই গেল, না হলে আমি একাই এখানে রাত কাটিয়ে দেব। পুলিশের চাকরিতে তো আর কম মড়া ঘাঁটিনি। মর্গে বসেও একা রাত কাটিয়েছি। কাজেই ওসব জিন-ফিনকে আমি মোটেই ভয় পাই না। রমজান বলল, স্যার আমি গাড়ির কাছে ফিরে যাচ্ছি। যদি ব্যবস্থা কিছু হয় আপনার কাছে ফের আসছি। আপনি সাবধানে থাকবেন।

    রমজান চলে যেতেই ঘরটা দেখি। পেল্লায় হল ঘর। তবে দেওয়ালে বড়ো বড়ো ফাটল এবং ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ার দাগ সর্বত্র। তবে বিছানা, এবং আসবাবপত্র পরিষ্কার। আলো-টালোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘরের মেঝে লাল রঙের, তবে সেও ফুটিফাটা। কিন্তু প্রত্যহ পরিষ্কার করা হয়। মনটা বেশ প্রসন্ন হয়ে উঠল। কখনো এভাবে পোড়োবাড়িতে এর আগে রাত কাটাইনি। তাই নতুন অভিজ্ঞতা লাভের আনন্দে মনটা বেশ খুশি খুশি লাগছিল। বাইরের বিরাট বারান্দায় একটি রংচটা আরামকেদারা এবং তার সামনে গোল পাথরের টেবিল। সেখানেই আরাম করে বসি। বাগীশ্বর কুয়ো থেকে জল তুলে ভরছে বাথরুমের বাথটবে। সেই শব্দটাই মনে হচ্ছিল পৃথিবীর একমাত্র শব্দ। বাইরে পাখির ডাকাডাকি বন্ধ। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছিল ধীরে ধীরে। একটু পরেই বাগীশ্বর এসে সেলাম করে জানাল, সে এবার যাবে। আর কাল দিনের আলো ফুটলেই চলে আসবে। চীনের এবং খাবার জল সে তুলে রেখে গেল।

    খুব সুন্দর ঠান্ডা বাতাসে তন্দ্রা এসে গেছিল। চটকাটা ভাঙল একটা অদ্ভুত কারণে। আমার ঘাড়ের ওপর কে যেন শ্বাস ফেলল অস্ফুট মেয়েলি গলায় শব্দ করে। আমি সোজা হয়ে বসতেই আবার সব স্বাভাবিক। ততক্ষণে পুব আকাশে মস্ত চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলোয় জঙ্গলভরা সেই ভাঙাচোরা ডাকবাংলোটাকে দেখে আমার হঠাৎ মনে হল, এখানে থাকাটা হয়তো ঠিক হয়নি। ঠিক করলাম, ভালো করে স্নান সেরে পোশাক বদলে রাতের সামান্য খাবার যা সঙ্গে আছে তা খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়ব। যদি তার মধ্যে গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে যায় তা হলে তো আর চিন্তার কোনো ব্যাপার নেই।

    কিন্তু চিন্তার ব্যাপার আবারও ঘটল। ফের কানের ওপর কারোর নিশ্বাস ফেলার অনুভূতি এবং হালকা নিমতেলের গন্ধ। ওই অঞ্চলের মানুষরা সেইসময় গায়ে নিমতেল মাখত। আমি বারান্দা থেকে ঘরে চলে এলাম। টেবিলে রাখা ছিল পাঁচ সেলের হাতি মারা টর্চ আর মাউজার রিভলবার। জার্মানি থেকে তখন পুলিশদের জন্য সরকার আনাত। রিভলবারটা হাতে নিতেই মনে জোর আসে। ঘরের মেঝেতে তখন চাঁদের আলো এসে পড়েছে। বাইরে বিদঘুটে রকমের ঝিঁঝির ডাক। ঘরেও ঝিঁঝির আস্তানা ছিল। কাছে-পিঠে কোথাও একটা তক্ষক থেকে থেকে ডেকে উঠছিল।

    আমি বিছানায় বসেছিলাম। মিনিট দশেক পর আমার মনে হতে লাগল এই ঘরে আমি একা নই। অত্যন্ত কাছে কেউ একজন আমার সঙ্গী হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে আছে। টর্চ জ্বালাতেই সব অবশ্য ভ্যানিশ। যেই না টর্চ নিভিয়েছি অমনি আবার। এবার নিশ্বাসের সঙ্গে নারী কণ্ঠের ফোঁপানি। রিভলবারটা তাক করে টর্চ জ্বালাই। কোথায় কে? হঠাৎ কুকুরের ভয়ংকর চিৎকারে আমি চমকে উঠি। সম্ভবত ফাঁকা বারান্দায় কুকুরটা আশ্রয় নিয়ে থাকবে। তার চিৎকারটা ছিল প্রবল আতঙ্কের। কেউ কেঁউ করতে করতে সে দৌড়ে বেরিয়ে গেল বাড়ি ছেড়ে। শুনেছিলাম মানুষ যা দেখতে পায় না ওরা পায়। বিশেষ করে অশরীরীদের। তবে কি?

    দাদু গল্পের মাঝপথে একটু জিরোতে দম নেয়। ছাদ থমথমে হয়ে আছে। ছোটো-বড়ো সকলের মুখে-চোখে একটা কী হয় কী হয় ভাব! আমরা তো প্রায় জড়াজড়ি করে বসে আছি। কাছে খুব জোর একটা টিকটিকি ডেকে উঠতেই দাদু বলেছিলেন, সে রাতেও কানের কাছে বিকট স্বরে এমন টিকটিকি ডাকছিল। মনটাকে শান্ত করতে স্থির করলাম, পুলিশের উর্দি ছেড়ে বাথটাবে নেমে আরাম করে স্নান করব। পোশাক ছেড়ে একটি তোয়ালে পরে হাতে টর্চ নিয়ে বাথরুমে ঢুকলাম। বাথটাবটার দিকে আন্দাজ করে টর্চ মারতেই আমার হৃদপিণ্ড একেবারে জেনারেটারের মতো শব্দ করে চলতে শুরু করল। আমার হাত-পা তখন পুতুলের মতো স্থির।

    কেন? কেন? কী হয়েছিল বাথটাবে? জানতে চাইল আমাদের কেউ কেউ।

    দেখলাম বাথটাবের স্বচ্ছ জলে একজন দেহাতি মহিলার দেহ ভাসছে! তার চোখ খোলা এবং মাছের মতো স্থির চোখে সে আমাকেই দেখছে। আমি ভীতু নই। টর্চের আলো ফেলে নিশ্চিত হলাম মহিলা মৃত নইলে ভেসে উঠত না। তবে কি কেউ ওকে মেরে রেখে গেছে এখানে? আমি দ্রুত ঘরে ফিরি এবং রিভলবার নিয়ে ফের বাথরুমের দিকে যাই। পুলিশ হিসেবে মৃতদেহ প্রথম দেখা মানেই আমার সরকারি দায়িত্বভার নেওয়া শুরু।

    বাথরুমে ঢুকে ফের টর্চের ফোকাস ফেলি বাথটবের ওপর এবং কনকনে বরফের উপস্থিতি টের পাই আমার মেরুদণ্ড বরাবর। দেখলাম বাথটাবে রয়েছে টলটলে টাটকা জল। মৃতদেহের কোনো চিহ্নমাত্র নেই। মনকে বোঝালাম নিশ্চয়ই কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণে চোখের ভুল হয়ে থাকবে। কাজেই ঠিক করলাম এইবার এই জলেই স্নান করে মনের অস্বস্তি দূর করব। তাই ভেবে ঘরে যাই টর্চটা রাখতে। এবং মেঝেতে টর্চের আলো ফেলতেই আমার পুলিশি সাহস এক লহমায় উবে যায়। দেখি ঘরের মেঝেতে মেয়েলি পায়ের জল ছাপ। কে যেন এইমাত্র জল পায়ে সারা ঘর হেঁটে বেড়িয়েছে। আমি আর দেরি না করে ইউনিফরম পরি। তারপর কাঁধের ব্যাগ, টর্চ আর রিভলবার নিয়ে বেরতে যেতেই দেখি বিছানায় চাঁদের আলো এসে পড়েছে। আর সেই আলো গায়ে মেখে পড়ে আছে বাথটবের সেই দেহাতী মহিলার মৃতদেহ। মাথাটা আমার দিকে ঘোরানো।

    পরের দিন যখন জ্ঞান এল আমি তখন রাঁচি হাসপাতালে। ল্যাম্বার্ড সাহেব স্বয়ং তখন ওখানে। হাসপাতালের বড়ো ডাক্তারকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে কোনোভাবে আমাকে সুস্থ করে তুলতে হবে। কেন না ওই একই পরিস্থিতিতে গত পাঁচ বছরে দুজন অফিসারের মৃত্যু হয়েছিল প্রবল জ্বরে। ডাক্তারদের মতামত ছিল খুব আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ায় দুজনের শরীরেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার গ্রন্থিটি স্রেফ কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল।

    আমি অবশ্য সুস্থ হয়ে উঠেছিলাম। তারপর ওই জায়গায় গিয়ে তদন্তও শুরু করেছিলাম, বাতুলো থেকে মাইল দূরে থাকত ওই যুবতী। ওর নাম ছিল বেগম। একদিন সে ওই গ্রাম থেকে বেপাত্তা হয়ে যায়। কয়েক দিন পর বেগমের লাশ উদ্ধার হয় বাংলোর বাথরুম থেকে। পুলিশের কাছে সে খবর পৌঁছায়নি। তাই মামলাও হয়নি। গ্রামের লোক বলেছিল বেগমকে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছিল কেউ। সে ঘটনাও ঘটেছিল বছর দশেক আগে। অনুসন্ধান করে বেরল বেগমের এক সতীন ছিল, যার নাম মনুয়া। ওই মনুয়াই তার স্বামীর সম্পত্তির লোভে ভাড়া করা খুনি দিয়ে বেগমকে খুন করায়। তারপর এতগুলি বছর কেটে যাওয়ার পর সে বেশ নিশ্চিন্তে সংসার গুছিয়ে করছিল। আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করার পর মনুয়ার ফাঁসি হয়ে যায়। আর আমিও গয়ার প্রেতশিলায় গিয়ে বেগমকে পিণ্ডদান করে আসি। এই দুটি কাজ করে আমার খুব শান্তি হয়েছিল মনে

    বেগমকে আর দেখা যায়নি?

    আমি ফের এক রাত কাটিয়েছিলাম ওই বাংলোয়। একেবারে একা। সে রাতেও চাঁদ ছিল। ওই বাথটাবের তোলা জলে আরামের স্নানও সেরেছিলাম। কিন্তু বেগম আর দেখা দেয়নি। সে যে বিচারের আশাতেই পুলিশের লোককে নিয়ে আসত ওই বাংলোয় তা নিয়ে সেই সময়কার খবরের কাগজে লেখাও হয়েছিল বিস্তর।

    দাদু বেগমকে না দেখলে কী হবে। আমরা ছোটোরা সেই গল্প শোনার পর রাতে ছাদে বাথরুমে কিংবা বিছানায় কাল্পনিক বেগমকে দেখে যে চেঁচিয়ে উঠতাম সে-কথা আজও মনে আছে।

    [ ছুটির জোয়ার (নির্মল বুক এজেন্সী), ২০১৯ ]

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }