Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    অমিতাভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প518 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিশির ডাক – শ্রীঅখিল নিয়োগী (স্বপন বুড়ো)

    ঝন্টু যখন একেবারে ছেলেমানুষ— মানে কোলের ছেলে— তখন তার মায়ের শক্ত অসুখ করে। সেইজন্যে সে আহ্লাদী পিসির কোলে মানুষ হয়। আহ্লাদী পিসি ঝন্টুর বাবার দূর সম্পর্কের এক বোন, মাথায় একটু কেমন যেন ছিট আছে বলে শ্বশুরঘর করতে পারেনি। আবার কারণে-অকারণে এলোমেলো আহ্লাদীর মতো কথা বলে। সেইজন্যে তার নাম হয়েছে আহ্লাদী। বাড়ির ছেলেমেয়েদের সে তাই আহ্লাদী পিসি। মায়ের অসুখ থেকে সেই যে ঝন্টুকে সে কোলে তুলে নিলে, তার পরেই ছেলেটা ওর এমন ন্যাওটা হয়ে গেল যে মায়ের অসুখ ভালো হলেও আহ্লাদী পিসি আর ওকে কোল থেকে নামাতে চায়নি। ঝন্টুও আহ্লাদী পিসি বললে একেবারে অজ্ঞান। আহ্লাদী পিসি স্নান করিয়ে দেবে, খাইয়ে দেবে, জামা-কাপড় পরিয়ে দেবে আর ঘুম পাড়িয়ে দেবে। পিসিকে না হলে ঝন্টুর একমুহূর্ত চলে না। ঝন্টুর মা-ও সংসারের সাত ঝামেলায় দিবা-রাত্তির জড়িয়ে থাকেন, তাই আহ্লাদী পিসির কোলে ছেলে ফেলে দিয়ে তাঁরও সকলরকমে নিশ্চিন্দি।

    আহ্লাদী পিসি মাছ খেতে বড়ো ভালোবাসে। বিশেষ করে শোল মাছ। ঝন্টু, যখন একটু বড়ো হল, সে পিসির জন্যে নানারকম মাছ ধরে নিয়ে আসে। পিসি এক গাল হেসে বলে, ‘ভাগ্যিস আমার ঝন্টু ছিল, তাই দুটো মাছ-ভাত খেয়ে বাঁচি!’

    বর্ষার সময় যখন দেশের নদী-নালা ভরাট হয়ে আসে— নিজেদের পুকুরে জল পড়ে, ঝন্টু গভীর রাত্রে গিয়ে পোলো দিয়ে নানা জাতীয় মাছ ধরে নিয়ে আসে; বিশেষ করে আহ্লাদী পিসির জন্যে শোল মাছ যদি পায় তবে তার মুখে আর হাসি ধরে না।

    আহ্লাদী পিসি ঝন্টুর বাবার সংসারেই থাকে বটে, তবে তার নিজেরও বেশ কিছু টাকা আছে। সেই টাকা আহ্লাদী পিসি যক্ষের মতো আগলে রাখে। শুধু ঝন্টুকে মাঝে মাঝে মিষ্টি কিনে খাওয়ায়। ঝন্টুর মা ঠাট্টা করে বলেন, ঠাকুরঝি, এমন করে তোমার টাকাগুলি নয়-ছয় করে ফেলো না।

    আহ্লাদী পিসি রাগ করে উত্তর দেয়, আমার টাকা আমি যা খুশি করব, রাস্তায় ছড়িয়ে দেব, তাতে কার কী!

    আসল কথা হচ্ছে, এই ব্যাপার নিয়ে বাড়ির সবাই আহ্লাদী পিসিকে ক্ষ্যাপায়!

    আহ্লাদী পিসি মরলে যে ঝন্টুই গয়ায় তার পিণ্ডি দেবে— এই কথাই সে গর্বে সবাইকে বলে বেড়ায়!

    এই আহ্লাদী পিসি হঠাৎ তিন দিনের জ্বরে মারা গেল।

    দিব্যি শক্ত-সমর্থ আহ্লাদী পিসি… দেহে রোগ-বালাই নেই— এমনভাবে যে হঠাৎ মারা যাবে তা বাড়ির কেউ ধারণাই করতে পারেনি। দুর্দান্ত দস্যি ছেলে ঝন্টু …আহ্লাদী পিসির মৃত্যুর পর কে যেন তার মুখে বোবা-কাঠি ছুঁইয়ে দিয়েছে। কারো সঙ্গেই কথা কয় না, খায় না দায় না, উদাস চোখে একদিকে তাকিয়ে থাকে। ছেলে যেন দিন দিন শুকিয়ে যেতে লাগলো।

    এই ব্যাপারে ঝন্টুর মা বিশেষ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ঝাড়-ফুঁক-তাবিজ- মাদুলি— কিছুতেই কিছু নয়! ঝন্টুর দেহের রক্ত কে যেন শুষে নিতে লাগলো। বাড়িসুদ্ধ লোক ভেবে কিছু কূলকিনারা পায় না!

    রাত্তিরে ঘুমের ঘোরে ঝন্টু কখনো কখনো ধড়মড় করে উঠে বসে।

    মা শুধোন, হ্যাঁরে ঝন্টু, বিছানার ওপর উঠে বসলি কেন? এখন তো অনেক রাত। ঘুমিয়ে পড়!

    ঝন্টু ফ্যালফ্যাল করে এদিক-ওদিক তাকায়, তারপর ফিসফিস করে মাকে বলে, আহ্লাদী পিসিমা আমার কানের কাছে ডাকল যে!

    শুনে মা শিউরে ওঠেন। ঝন্টুর গায়ে-মাথায়-পিঠে হাত বুলিয়ে দেন। মুখে বলেন, রাম-রাম-রাম!

    পাড়ার পাঁচজন বউ-ঝি বলে, অ ঝন্টুর মা, ওর দিকে বেশ কড়া নজর রেখো, পোড়ামুখী আহ্লাদী মরেও ওকে ভুলতে পারেনি। তাই বুঝি এখনও আশেপাশে ঘুরঘুর করছে!

    ঝন্টুদের বাড়ির নীচে পুকুরপাড়ে একটা শ্যাওড়া গাছ; গাঁয়ের লোকেরা হাট থেকে সওদা করে ফেরবার মুখে ওই শ্যাওড়া গাছের ডালে কাকে যেন বসে থাকতে দেখেছে।

    বৃন্দাবন গাঙ্গুলী একদিন নাকি একেবারে সামনাসামনি পড়ে গিয়েছিলেন। বললেন, ভাগ্যিস আমি বুদ্ধি করে পৈতেটা জড়িয়ে ধরে গায়ত্রী জপ করতে শুরু করলাম! নইলে ঝন্টুদের পুকুরের খালে আমার ঘাড় মটকে রাখত! –এইভাবে সারা গাঁয়ে একটা চাপা ফিসফিস আলোচনা! কেউ বিশ্বাস করে, কেউ হেসে উড়িয়ে দেয়!

    তখন আষাঢ় মাস। আশেপাশের নদী-নালা বর্ষার জলে ভরাট হয়ে গেছে। ঘোলা জল পাক খেতে খেতে ধানের জমি ভরিয়ে, মাঠ-ঘাট ডুবিয়ে, উঁচু-নীচু গাঁয়ের পথগুলিকে পেছল করে ঝন্টুদের বাড়ির পুকুরের খালে ঢুকছে।

    তখন বোধ করি দুপুররাত। এমন একটা আবছা জ্যোছনা ফুটেছে যে আশেপাশে দূরে সব কিছু নজরে পড়ে, কিন্তু ভালো করে ঠাহর করা যায় না। মনে হয় যেন একটা পাতলা কুয়াশা জ্যোছনার সঙ্গে মিশে গোটা গ্রামটাকে ঘিরে রেখেছে।

    মায়ের পাশে শুয়ে ঝন্টু অকাতরে ঘুমুচ্ছে। ওদের বাড়ির রান্নাঘরের পেছন দিক দিয়ে একটা কালো বেড়াল বিকটভাবে ডেকে চলে গেল। কোথায় কোন ঝোপে বসে একটা ভূত-ভূত্তম পাখি একটানা বেসুরোভাবে ডেকে বিরক্তি জাগিয়ে তুলছে। একটা থমথমে ঝিমঝিমে ভাব…

    এমনি সময় ঝন্টুর হঠাৎ মনে হল— ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আহ্লাদী পিসি ওকে ডাকছে। আহ্লাদী পিসি বলছে, ওরে ঝন্টু, শিগগির আয়— তোদের পুকুরের খালে নতুন জল এসেছে। কত মাছ উঠেছে… দেখবি আয়! তোর পোলোটা নিয়ে আসতে ভুলিসনি যেন!

    আচমকা ঝন্টুর ঘুমটা ভেঙে গেল। সে বিছানার ওপর উঠে বসল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলে, সবাই অকাতরে ঘুমুচ্ছে। তার মায়ের ডান হাতটি ওর গায়ের ওপর ছিল। আস্তে আস্তে হাতটা সে সরিয়ে রাখলে।

    আহ্লাদী পিসি বলেছে পোলো নিয়ে যেতে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো ঝন্টু পাশের ঘরে ঢুকল। ওইখানেই পোলো থাকে। বেড়ালের মতো খুব সাবধানে পা-টিপে-টিপে সে পোলো নিয়ে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল।

    কে যেন কানের কাছে বললে, দরজাটা ভেজিয়ে দে ঝন্টু, নইলে ওরা জেগে উঠবে। ঝন্টু, বিনা প্রতিবাদে তাদের ঘরের দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে হনহন করে পুকুরের খালের ধারে চলে গেল।

    নিশুতি রাত… কেউ কোথাও জেগে নেই… কলকল করে বর্ষার জল ঢুকছে খালে… ঝন্টু ছপ্ ছপ্ করে পোলো ফেলছে আর রাশি রাশি মাছ ধরছে। এত শোল মাছ কোথেকে এল— ঝন্টু ভেবে কূলকিনারা পায় না। ও যে খালৈ সঙ্গে এনেছিল, সেটা মাছে ভরতি হয়ে গেল। কীসের যেন একটা পোড়া গন্ধ ক্রমাগত তার নাকে আসছিল। কার আকর্ষণে ঝন্টু সেই মাছ-ভরতি খালৈ নিয়ে এগিয়ে চলল! এ কী! এ যে সেই শ্যাওড়া গাছ!

    ফিসফিস কথা কানে এল।

    —আমায় শোল মাছ পোড়া খাওয়াবি ঝন্টু?

    ঝন্টু অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলে, শ্যাওড়া গাছের ডালে লাল শাড়ি পরে দিব্যি পা ঝুলিয়ে কে যেন বসে আছে! আহ্লাদী পিসি না? দেখতে ঠিক সেইরকম!

    এতক্ষণে ঝন্টুর জ্ঞান যেন ফিরে এল। আহ্লাদী পিসি তো মরে গেছে! ও তাহলে কার ডাকে এই নিশুতি রাতে মাছ ধরতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে? ভয়ে ওর মাথার চুলগুলো খাড়া হয়ে উঠল। সে প্রাণপণ চেষ্টা করল পালিয়ে যেতে…. কিন্তু পা দুটো কিছুতেই উঠছে না! মনে হচ্ছে এঁটেল মাটির কাদায় যেন বসে গেছে! শেষকালে মনে জোর এনে ঝন্টু মরিয়া হয়ে ছুটতে শুরু করে দিলে। পেছন থেকে আহ্লাদী পিসির নাকি সুরে কান্না শোনা গেল, ওঁরে ঝঁন্টু, শোঁল মাঁছগুলো আঁমায় দিয়ে যা— আঁমি আর কিচ্ছু চাঁইনে—

    যত আহ্লাদী পিসির কথা কানে আসে ঝন্টু তত ছোটে! হঠাৎ সে দেখলে একটা বিরাট লম্বা হাত শ্যাওড়া গাছের ওদিক থেকে এসে তার হাতের মাছের খালৈ ছিনিয়ে নিয়ে গেল!

    একটা আর্তনাদ করে ঝন্টু সেইখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। তার চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে লোকজন এসে যখন পৌঁছুলো, ওর মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরুচ্ছে!

    অনেক ভূত-তাড়ানো রোজা, বহু মন্তর, রাশি রাশি তাবিজ, কবচ, মাদুলি … কিছুতে কিছু না… ঝন্টু অসাড় হয়ে পড়ে থাকে— ডাকলে সাড়া দেয় না!

    অবশেষে মায়ের বুকভাঙা কান্নায় তিনদিন পর ঝন্টু চোখ চেয়ে তাকালো। কিন্তু কী হয়েছিল কোনো কথাই সে মনে করে গুছিয়ে বলতে পারে না, শুধু বোকার মতো ড্যাবডেবে চোখে চেয়ে থাকে।

    গাঁয়ের মাতব্বর, পাড়াপ্রতিবেশী সবাই বললে, দেখ ঝন্টুর মা, এখন থেকে ঝন্টুকে একেবারে চোখে চোখে রাখতে হবে। পেতনিরা ওইরকম করে নিশির ডাকে ভুলিয়ে জলার ধারে নিয়ে ঘাড় মটকে রাখে।

    শুনে ঝন্টুর মার বুকের রক্ত শুকিয়ে যায়। সারারাত ধরে ছেলের শিয়রে বসে জেগে থাকে মা। ঘন ঘন দীর্ঘনিশ্বাস পড়তে থাকে। ভাবে আমার শান্তির সংসারে এ কী হল! কী কুক্ষণেই পরের মেয়েকে ঘরে ঠাঁই দিয়েছিলাম!

    এদিকে তারপর থেকেই বাড়ির লোকে একটা অবাক কাণ্ড লক্ষ করতে লাগলো।

    পাথরের মূর্তির মতো পাগলা পাগলা চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকে ঝন্টু।

    হঠাৎ সে বলে বসল, আমি পোড়া শোল মাছ খাব।

    অমনি সঙ্গে সঙ্গে কোত্থেকে একটা পোড়া শোল মাছ ঘরের মাঝখানে এসে পড়ল! ভয়ে আঁতকে উঠল সবাই।

    ব্যাপার দেখে বাড়ির লোকে ঘন ঘন রাম নাম জপ করতে লাগলো।

    কিন্তু আস্তে আস্তে ব্যাপারটা সহজ হয়ে এল— যখন দেখা গেল যে, ঝন্টু যখন যা চায় কোনো অদৃশ্য হস্ত যেন সঙ্গেসঙ্গে তাই এনে হাজির করে!

    সেদিন দুপুর গরমে আই ঢাই করতে করতে ক্ষীণকণ্ঠে ঝন্টু বললে, মা, এক গেলাস ঠান্ডা জল দাও না!

    মুখের কথা খসাতে যতটুকু সময়!

    দেখা গেল শ্বেতপাথরের সুন্দর একটি গেলাসে টলটলে পরিষ্কার জল। ঝন্টু সেই জল খেতে যাচ্ছিল— কিন্তু ওর মা হাত দিয়ে সব টুকুন মেঝেতে ফেলে দিয়ে বললেন, কক্ষনো মুখে দিসনে ঝন্টু ওসব পেতনিতে জোগাচ্ছে!

    আরও একটি জিনিস লক্ষ করা গেল যে, এই জাতীয় ভৌতিক কাণ্ড রাত্তির বেলাতেই ঘটছে।

    সন্ধের পর পাড়ার গিন্নিবান্নিরা দল বেঁধে আসত ঝন্টুকে দেখতে। কথায় কথায় গাঙ্গুলী গিন্নি বললেন, আমার জর্দা গিয়েছে ফুরিয়ে! কাশীর জর্দা না হলে আবার আমার মুখে রোচে না!

    আপন মনে ঝন্টু বললে, তুমি কাশীর জর্দা খাবে ঠানদি? সঙ্গেসঙ্গে ঠন্ করে মেঝেতে পড়ল একটি কৌটো!

    গাঙ্গুলী গিন্নি অবাক হয়ে চিৎকার করে উঠে বললেন, এই তো কাশীর জর্দা! একেবারে নতুন কৌটো! কোত্থেকে এল ঝন্টুর মা?

    আর যারা আশেপাশে ছিল— ব্যাপারটা জানত— তারা উত্তর দিলে, গাঙ্গুলী গিন্নি বুঝি জানো না? সব ওই আহ্লাদী পেতনিতে জোগাচ্ছে।

    জর্দার কৌটোটা গাঙ্গুলী গিন্নি হাতে তুলে নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু যেই আহ্লাদী পেতনির কথা শুনলেন অমনি রাম রাম করতে করতে একেবারে নিজেদের বাড়ির দিকে পা চালিয়ে দিলেন।

    এইভাবে নানা জাতীয় ঘটনা ঘটতে লাগলো। হঠাৎ চাঁপা ফুলের গন্ধে গোটা বাড়িটা ম-ম করতে লাগলো, তার পর মুহূর্তেই পচা মাছের গন্ধে লোকে নাকে কাপড় দিয়ে পালিয়ে যেতে পথ পায় না!

    পাড়ার ছেলেরা সবাই মিলে ঘিরে রয়েছে ঝন্টুকে… কোথাও কিছু নেই …হঠাৎ রাশি রাশি ইট পাটকেল পড়তে শুরু হল। কিন্তু মজা এই যে, একটি ঢিলও ঝন্টুর গায়ে লাগলো না। যেসব ছেলেরা ঘিরে রয়েছে ওকে, তাদের মাথায় পিঠে ক্রমাগত ভাদ্রের তালের মতো এসে দমাদ্দম পড়তে থাকে! বাপ রে মা রে করে তখন যে-যেদিকে পারে পালিয়ে যায় ওরা।

    যতদিন ব্যাপারটা তামাশা থাকে লোকে ভিড় জমায়… কৌতূহলী হয়ে বসে থাকে পেতনির কাণ্ড দেখতে। কিন্তু কত রাত্তির লোকে এইভাবে না ঘুমিয়ে জাগতে পারে?

    কাজেই আস্তে আস্তে ভিড় পাতলা হয়ে আসতে লাগলো। গমগমে বাড়ি আবার মানুষ-জন-শূন্যি… থমথমে হয়ে এল।

    কীসের যেন দুঃস্বপ্ন দেখে মাঝরাত্তিরে ঝন্টুর মায়ের ঘুম ভেঙে যায়! মা ছেলেকে বুকের কাছে প্রাণপণে টেনে নেন। বাঁশঝাড়ের পেছন দিকে যেখানে একটানা ঝিঁঝি ডেকে চলে, সেখানে নাকিসুরে কার যেন হাসির রেশ শুনতে পাওয়া যায়।

    মা চমকে উঠে বসেন। ছেলের মাথায় হাত রেখে সারারাত ধরে দুর্গা নাম জপ করতে থাকেন। কেবলি মনে হয় তাঁর কোলের ছেলেকে কে যেন ছিনিয়ে নিতে আসছে।

    সেদিন সন্ধে থেকেই একটানা ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছে।

    দূর বনে প্রহরে প্রহরে শেয়াল ডাকছে… মনে হচ্ছে যেন ওরাও খুব ভয় পেয়েছে। পাখি-পাখালিরা কখন যে গিয়ে যার যার বাসায় সেঁধিয়েছে— কেউ খবর রাখে না! গেরস্ত বাড়ির গোয়ালগুলিতে গোরুগুলো এমনভাবে হামলাচ্ছে যে, মনে হয় তারা অশুভ কোনো ইঙ্গিত পেয়েছে। মাঝে মাঝে কাল-প্যাঁচার চ্যাঁচানি কানে ভেসে আসছে।

    শ্মশানের দিক থেকে একটা শোঁ শোঁ হাওয়া গাঁয়ের বুক চিরে উত্তর অঞ্চলের জলাভূমির ওপর দিয়ে বইছে! মনে হচ্ছে কোনো প্রেতিনি বুঝি নিশ্বাস ফেলছে!

    গাঁয়ের পথে আজ একটিও লোক নেই। কোনো বাড়িতে একটি ছোটো ছেলেও কেঁদে উঠছে না! মনে হচ্ছে রুদ্ধ আতঙ্কে সবাই প্রহর গণনা করছে!

    ঝন্টুদের বাড়িতে আজ সবাইকে কি কাল-ঘুমে পেয়েছে… কে জানে!

    সন্ধেবেলা উনুনে আগুন পড়েনি। বামুনদিদি ঘুঁটে আর কয়লা সাজাতে গিয়ে সেইখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে। বাইরের ঘরে বাড়ির কর্তারা সন্ধে থেকেই দাবা-পাশা খেলতে বসেন! তাঁদের চিৎকারে দশটা আশেপাশের বাড়ির লোকে ঘুমুতে পারে না। আজ আঁধার ঘনিয়ে আসবার সঙ্গে সঙ্গে দাবার ছক একপাশে সরিয়ে রেখে সবাই ফরাসের ওপর কেউ চিত, কেউ উপুড় হয়ে পড়ে অঘোরে নাক ডাকিয়ে ঘুমুচ্ছে!

    ঝর ঝর ঝর— অবিশ্রান্ত বর্ষণ চলছে— তারই একটানা শব্দের সঙ্গে তাল বজায় রেখে খানা ডোবায় ব্যাঙেরা আসর জমিয়ে তুলেছে। আকাশের সমস্ত তারা মেঘে মেঘে ঢাকা পড়েছে। মাথার ওপর কালপুরুষ একটা সাঙ্ঘাতিক কিছু ঘটবে বলে বুঝি এক চোখে দম বন্ধ করে প্রহর গণনা করছে!

    মায়ের পাশে শুয়ে অকাতরে ঘুমুচ্ছে ঝন্টু। এমন ঘুম যে দেখে মনে হয় ওর দেহে বুঝি প্রাণ নেই!

    আকাশের বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া, ঝিঁঝির ডাক, ব্যাঙের শব্দ, প্যাঁচার চ্যাঁচানি আর কালপুরুষের নীরব ইঙ্গিত ওকে যেন এমনভাবে ঘুম পাড়িয়েছে যে সে ঘুম আর ভাঙবে না!

    কিন্তু হঠাৎ বেড়ার পাশে কার ফিসফিসে কথা শোনা গেল।

    –ঝন্টু, উঠে আয়, জলার ধারে আজ মাছ থই-থই করছে!

    ঝন্টু একমুহূর্তে সচকিত হয়ে ওঠে।

    আবার সেই ফিসফিসে আহ্বান ভেসে এল।

    উদাস দৃষ্টিতে ঝন্টু উঠে বসল।

    কার ডাক— কোথায় যেতে হবে— কিচ্ছু জানে না— তবু সে মায়ের কোল ছেড়ে উঠে দাঁড়াল পাগলের মতো।

    আবার সেই বাঁশবনের কানাকানির মতো কার যেন আহ্বান! – আজ আর পোলো নিসনে ঝন্টু, খ্যাপলা জালটা হাতে নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার সঙ্গে বেরিয়ে আয় —

    এই প্রহেলিকাময় নিশির ডাকে সাড়া না দিয়ে উপায় নেই!

    ঝন্টু খ্যাপলা জালটা কাঁধের ওপর তুলে নিলে, তারপর দরজার হুড়কোটা খুলে ফেলে উঠোনে বেরিয়ে এল।

    সঙ্গেসঙ্গে কানে-তালা-লাগানো মেঘের গর্জন— আর বাদুড়ের ডানার ঝটপটি!

    কিন্তু মেঘের ডাকেও কারো ঘুম ভাঙলো না!

    ছায়ামূর্তির হাতছানিতে ঝন্টু জলার দিকে এগিয়ে যায়।

    পথে অন্ধকার এত জমাট বেঁধে আছে… তবু ওর পথ চলতে কোনো অসুবিধে হয় না!

    ওই যে ওইখানে। কত মাছ ঘাই মারছে…! তুই দেখতে পারছিস নে ঝন্টু? এগিয়ে যা, ছুড়ে দে খ্যাপলা জাল—

    অশরীরীর নির্দেশ শুনে ঝন্টু, একেবারে জলার মধ্যে পা চালিয়ে দিলে। তারপর কচুরিপানার দামের মধ্যে তার দেহটা যে কোথায় তলিয়ে গেল— সারা গাঁয়ের কেউ জানতে পারল না!

    শুধু ঝন্টুদের বাড়ির কালো বেড়ালটা ওর মায়ের দরজার কাছে কেঁদে কেঁদে ফিরতে লাগলো।

    মায়ের কাল-ঘুম তবু ভাঙল না!

    ***

    পরদিন জেলেরা যখন ঝন্টুর মৃতদেহটা জালে টেনে তুললে, সারা গাঁয়ের লোক একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ল।

    গাঁয়ের একজন বর্ষীয়সী মহিলা কপাল চাপড়ে বললেন, আহ্লাদী পোড়ারমুখী পেতনি হয়েও ওকে ভুলতে পারেনি— তাইতো রাহু হয়ে ঝন্টুকে কোলে টেনে নিলে!

    .

    বহু বছর হয়ে গেছে, এখনও গাঁয়ের লোকেরা একটু বেশি রাত্তিরে জলার ধার দিয়ে যেতে ভয় পায়!

    শেষ রাত্তিরের দিকে কে যেন ওখানে কেঁদে কেঁদে, এলো চুল উড়িয়ে বুক চাপড়িয়ে ছুটোছুটি করে!

    [ পরশমণি (দেব সাহিত্য কুটীর), ১৯৫২ ]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }