Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্যারাডাইস লস্ট – জন মিল্টন

    জন মিল্টন এক পাতা গল্প410 Mins Read0
    ⤶

    ১১শ সর্গ

    একাদশ সর্গ

    কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর মাইকেল বলল, তুমি তোমার চোখের সামনে একটি পুরনো জগৎকে শেষ হয়ে যেতে ও একটি নূতন জগৎকে শুরু হতে দেখবে। যেন এক নূতন প্রজন্ম থেকে শুরু হবে মানবজাতির অগ্রগতি। তবু আরো অনেক কিছু দেখতে হবে তোমায়। কিন্তু তোমার দর্শনেন্দ্রিয় স্তিমিত হয়ে এসেছে। তোমার ক্লান্ত ইন্দ্রিয়শক্তিকে সতেজ করার জন্য ঐশ্বরিক সাহায্য দরকার। এরপর কি হবে তা আমি বলব। এখন তা মন দিয়ে শুনবে।

    অবশিষ্ট মানবজাতি নবজীবন লাভ করল মং প্লাবনের পর। কিন্তু মানুষের সংখ্যা তখন নিতান্তই কম। ঐশ্বরিক বিচারের স্মৃতি তখন ভালভাবেই জেগে ছিল তাদের মনে। তারা দৈব ভয়ে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে ঠিক সৎ পথেই চলবে। এইভাবে তারা জীবন যাপন করে বংশবৃদ্ধি করে যাবে। তারা মাঠে শ্রমসহকারে চাষের কাজ করে প্রচুর ফসল ফলাবে। অনেক শস্য, মদ ও তেল উৎপন্ন করবে। মাঝে মাঝে ধর্মীয় উৎসবের অনুষ্ঠান করে তাদের পশুর পাল থেকে বলদ, মেষশাবক অথবা ছাগলছানা দেবতার উদ্দেশ্যে বলি দিয়ে মদের অঞ্জলি দেবে। তারা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পরিবার ও জাতিসহ দীর্ঘকাল সুখে শান্তিতে নিষ্কলুষ ও নির্দোষ জীবন যাপন করবে। পরে তাদের মধ্যে একজন অহঙ্কারী উচ্চাভিলাষী মানুষের আবির্ভাব হবে। সে এই সৌভ্রাতৃত্বমূলক সমাজে সাম্যবস্থায় তৃপ্ত হবে না। সে প্রাকৃতিক নিয়ম লঙঘন করে পৃথিবীর বুক থেকে সব ঐক্য বিনষ্ট করে তার সমাজের ভাইদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে রাজ্য স্থাপন করবে আপন শক্তিবলে।

    ঈশ্বরের বিধানকে অগ্রাহ্য করে সে এক শক্তিশালী শিকারীরূপে যুদ্ধবিগ্রহের কুটিল ফাঁদ পেতে মানুষ ও পশুশিকারে মত্ত হয়ে উঠবে। যারা তার দ্বারা স্থাপিত সাম্রাজ্যের কাছে বশ্যতা বা অধীনতা স্বীকার করবে না, তাদের উপর সে নিষ্ঠুরভাবে পীড়ন ও অত্যাচার চালাবে। সর্বশক্তিমান জগদীশ্বরের কাছে সে দ্বিতীয় সার্বভৌম শক্তিরূপে নিজের প্রতিষ্ঠা দাবি করবে।

    এইভাবে সে ঈশ্বরদ্রোহিতার দ্বারা নাম-যশ অর্জন করবে। অথচ যারা তার এই প্রভুত্বকে স্বীকার করতে চাইবে না তাদের সে বিদ্রোহী হিসাবে চিহ্নিত করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ আনবে।

    যারা তার উচ্চাভিলাষ ও অত্যাচারের শরীক হবে তাদের নিয়ে এক সেনাদল গঠন করে ইডেন উদ্যান থেকে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে এক সমতল প্রান্তর পাবে, যে প্রান্তরের শেষে একটি বিশাল খাদ আছে। সেই খাদই হলো নরকের মুখ।

    সেই প্রান্তরের উপর ইট ও পাথর দিয়ে বহু সৌধসমম্বিত এক নগর প্রতিষ্ঠা করবে। যার চূড়া উচ্চতায় স্বর্গলোকের কাছাকাছি উঠে যাবে। তারা প্রভুত যশ অর্জন করবে। কিন্তু রাজ্যজয়ের মোহে সে যশ শুভ কি অশুভ সেকথা বিচার করতে ভুলে যাবে তারা।

    কিন্তু ঈশ্বর মাঝে মাঝে অদৃশ্য অবস্থায় নেমে আসেন মানুষের জগতে। তাদের আবাসভূমিতে ঘুরে বেড়িয়ে তাদের কর্মকর্ম দেখেন খুঁটিয়ে। সেইসব অহঙ্কারী উচ্চাভিলাষী লোকদের দ্বারা নবনির্মিত নগরটি দেখে তিনি সেই নগরে একদিন নেমে আসবেন। দেখবেন তাদের সেই নগরের স্পর্ধিত চূড়া স্বর্গলোককে আচ্ছন্ন করে ফেলছে। তখন তিনি সেই নগর নির্মাতাদের মুখে বিভিন্ন জাতীয় ভাষা দান করবেন যার ফলে তারা কেউ কারো কথা বুঝতে পারবে না। এর ফলে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ করে নিজেদের গড়া নগর নিজেরাই ধ্বংস করে ফেলবে।

    তাদের গোলমাল, চিৎকার ও তর্জনগর্জন স্বর্গলোকের সবাই শুনতে পাবে এবং তারা সবাই হাসাহাসি করবে।

    আদম এতে অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, হে দুষ্ট মানবসন্তান, ঈশ্বর তো আমাদের জগতের পশুপাখি, জল, স্থল, আকাশ সব কিছুর উপর প্রভুত্ব দান করেছেন, একমাত্র মানুষ ছাড়া। মানুষ মানুষের উপর প্রভুত্ব করবে না। একমাত্র ঈশ্বরই সকল মানুষের প্রভু। কিন্তু তুমি ঈশ্বরের কাছে থেকে সে প্রভুত্ব জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছ। সমগ্র মানবজাতির উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে রাজ্যস্থাপন করেছ। তুমি শুধু মানুষের সব অধিকারকে গ্রাস করনি, স্বর্গ অবরোধ করে সেখানেও তোমার অন্যায় অবৈধ প্রভুত্ব বিস্তার করতে চেয়েছ। কিভাবে তুমি ও তোমার হঠকারী সেনাদলকে বাঁচিয়ে রাখবে ঈশ্বর ও প্রকৃতির রোষ থেকে? হে হতভাগ্য মানবসন্তান, স্বর্গ থেকে প্রতিকূল বাতাস ঈশ্বরের রোষ হিসাবে নেমে এসে তোমাদের নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে দেবে। তোমাদের প্রাণবায়ু স্তব্ধ করে দেবে।

    মাইকেল তখন বলল, তুমি সঙ্গতভাবেই ঐ মানবসন্তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছ। কারণ সে মানুষের যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে শান্তিপ্রিয় মানবজাতির উপর অশান্তি নিয়ে এসেছে। প্রকৃত স্বাধীনতা সব সময় যুক্তির সঙ্গে সহাবস্থান করে।

    কিন্তু সেই যুক্তিকে জোর করে আচ্ছন্ন করে দিলে বা তাকে না মানলে অসঙ্গত উদ্ধত কামনার বেগ শাসনযন্ত্রকে যুক্তিবিবর্জিত করে স্বাধীন মানুষকে দাসে পরিণত করে তোলে। যে শক্তির সে যোগ্য নয় সেই শক্তি দিয়ে তার স্বাধীন চিন্তা ও যুক্তিবোধকে দমিয়ে রাখে। ফলে ঈশ্বরের বিচারে সেই উদ্ধত স্বৈরাচারী মদন রাজা তার থেকে আরও শক্তিশালী রাজাদের কাছে পরাজিত হয়ে তাদের অধীন হয়ে পড়ে। বাইরের স্বাধীনতা হারিয়ে তারা তাদের দাস হয়ে পড়ে। অত্যাচারী অত্যাচারের শিকারে পরিণত। এইভাবে অনেক জাতি অন্য জাতির স্বাধীনতা গ্রাস করে নিজেরাই আবার অপর জারি পরাধীন হয়ে ওঠে। ঈশ্বর এইসব দেখে শুনে এইসব পাপাত্মাদের ভাগ করে তাদের কুপথে চলতে ছেড়ে দেন। নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করে যায় নিজেরা।

    এরপর যারা বেঁচে থাকবে তাদের মধ্যে একজন ধার্মিক লোক থেকে এক নূতন জাতির উদ্ভব হবে ইউফ্রেটিস নদীর ধারে। প্রথমে সেই জাতি পৌত্তলিক ছিল। নির্বোধের মতো পুতুল পূজা করত। মহাপ্লাবন হতে উদ্ধারপ্রাপ্ত ও ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য প্রধান পিতা নোয়া তখন জীবিত থাকলেও সেই জীবম্ভ ঈশ্বরস্বরূপ তাঁকে ছেড়ে তারা যত কাঠ-পাথরকে দেবতা বলে পূজা করত।

    অবশেষে ঈশ্বর একদিন স্বপ্নে আদেশ দেন, পৈতৃক বাড়ি ও সেই সকল দেবতাদের মৃতিগুলিকে ছেড়ে অন্য দেশে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, তার থেকে এক শক্তিশালী জাতির উদ্ভব হবে এবং সেই জাতি ঈশ্বরের আশীর্বাদলাভে ধন্য হবে। কোথায় তিনি থাকেন তা পরে বলে দেবেন।

    ঈশ্বরের সেই প্রত্যাদেশ যথাযথভাবে পালন করলেন তিনি। তিনি জানেন না কোন দেশে কোথায় যাবেন তিনি। তিনি তাঁর গভীর অবিচল বিশ্বাসের জন্য যথাসময়ে ঈশ্বরই তাকে তা বলে দেবেন। তিনি যেখানে তাকে নিয়ে যাবেন।

    মাইকেল আরও বলল, তুমি জান না, কিন্তু আমি জানি, তিনি কোন বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে দক্ষিণ বেবিলনের অন্তর্গত তাঁর জন্মভূমি, গৃহদেবতা ও বন্ধুবান্ধবদের পরিত্যাগ করে অজানার পথে যাত্রা করেন। তাঁর সঙ্গে বহু পশুর পাল আর বহুসংখ্যক ভৃত্য ও অনুচরবর্গও যায়। তিনি একেবারে নিঃস্ব ছিলেন না তখন। তাঁর কাছে যে ধনসম্পদ ছিল তার ভার ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    এইভাবে তিনি আঁর দলবল নিয়ে ক্যান্নানে এসে উপস্থিত হন। জেরুজালেমের উত্তরে মধ্য প্যালেস্টাইনের সমভূমিতে অবস্থিত সেকেম বা মোবে নগরে তাঁর তাঁবুর ছাউনি আমি দেখতে পাচ্ছি।

    ঈশ্বরের নির্দেশে সেখানে গিয়ে তিনি সেই সমগ্র ভূখণ্ড ভঁর ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য দান হিসাবে লাভ করেন। উত্তরে সিরিয়া থেকে দক্ষিণের মরুভূমি পর্যন্ত, পূর্বে হার্মন ও কার্মেন পাহাড় থেকে পশ্চিম সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ড। জর্ডন নদী তার পূর্বদিকের শেষ সীমান্ত। সেই প্রবীণ পিতার বংশ থেকে সমগ্র পৃথিবী ধন্য হবে।

    তাঁর বংশধরের অর্থ হলো মানবজাতির মহান পরিত্রাতা যিনি সাপের মাথায় আঘাত হানবেন। তোমার সামনে তিনি পরিষ্কাররূপে আবির্ভূত হবেন।

    ঈশ্বরের অনুগ্রহীত এই প্রবীণ পিতা পরে পরম ঈশ্বরবিশ্বাসী আব্রাহাম নামে অভিহিত হলেন। তাঁর একটিমাত্র পুত্র আর একটিমাত্র পৌত্র হবে। ধর্মবিশ্বাস, জ্ঞান ও খ্যাতিতে তারা হবে তাঁরই মতো।

    পরে তাঁর পৌত্র তাঁর বারোজন পুত্র নিয়ে ক্যান্নান থেকে নীলনদের দ্বারা বিভক্ত মিশর দেশে চলে যান। তার কনিষ্ঠ পুত্র মিশরেই থাকত এবং কান্নানে তখন দুর্ভিক্ষ চলতে থাকার জন্য সেই কনিষ্ঠ পুত্র তাকে মিশরে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। এই পুত্রটি এমনই কতকগুলি গৌরবজনক কাজ করে মিশর দেশে যার জন্য সে দেশের রাজা ফ্যারাওর পরেই তার স্থান ছিল।

    পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং তার উপজাতি বাড়তে বাড়তে এক জাতিতে পরিণত হয়।

    ঐ দেখ মিশরের নীলনদ মোহ্নর কাছে সাতটি মুখ নিয়ে সমুদ্রে পতিত হয়েছে।

    এদিকে ক্রমে সেই বিদেশাগত জাতির শক্তিবৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে ফ্যারাও তাদের ক্রীতদাসে পরিণত করে অত্যাচার চালাতে থাকে তাদের উপর। তাদের পুত্রসন্তান হলেই শিশু অবস্থাতেই তাদের মেরে ফেলত।

    পরে সেই জাতির মধ্যে দুজন ঈশ্বরপ্রেরিত পুরুষ আসেন। তাঁরা হলেন মোজেস আর এ্যারন। এঁরা রাজার কাছে অঁদের জাতির দাসত্ব থেকে মুক্তির দাবি জানান, মিশর থেকে তাঁরা স্বদেশে ফিরে যেতে চান। কিন্তু তার আগে যে অত্যাচারী নিষ্ঠুর রাজা ঈশ্বরে বিশ্বাস করত না বা তাঁর বিধান মানত না তাকে ককগুলি কুলক্ষণ বা বিভিন্ন দুর্ঘটনার দ্বারা এ বিষয়ে অনুমতি দান করতে বাধ্য করতে হবে।

    ঈশ্বরের বিধানে দেশের সব নদীর জল রক্তে পরিণত হয়ে উঠবে। ব্যাঙ, উকুন ও মাছি ঝাঁকে ঝাঁকে রাজপ্রাসাদ পরিপূর্ণ করে তুলবে। রাজার পশুদের মৃত্যু ঘটবে অকারণে। রাজার সারা দেহ ক্ষত ও ফোঁড়ায় পূর্ণ হয়ে উঠবে। আরঝড়ের সঙ্গে বজ্রাঘাতে বজ্রাগ্নিতে দেশের বহু লোকের জীবননাশ হবে। বহু গাছপালা পুড়ে যাবে। ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল নেমে এসে মাঠের সব সবুজ ফসল খেয়ে ফেলবে। তিন দিন ধরে এক নিবিড় অন্ধকার আচ্ছন্ন করে থাকবে সমস্ত দেশকে। একদিন গভীর রাত্রিতে দেশের সব নবজাত শিশুর মৃত্যু হবে।

    অবশেষে রাজা তাদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের দেশ ছেড়ে যাবার অনুমতি দেয়। কিন্তু তার কঠিন অন্তর বিগলিত হলেও তা আবার বরফের মতো কঠিন হয়ে ওঠে। তাই তার আদেশে তার সৈন্যরা প্রত্যাবর্তনরত সেই বিদেশীদের অনুসরণ করতে থাকে তাদের ধ্বংস করার জন্য।

    সামনে বিশাল সমুদ্র, পিছনে শত্রুসৈন্য। মোজেস তখন সমুদ্রের কূলে এসে তার হাতের অলৌকিক দণ্ডটি তিনবার ঠুকতেই তাদের জন্য সমুদ্রের উপর পথ তৈরি হয়ে গেল। সে পথের দুধারে দুটি স্ফটিকস্বচ্ছ পাথরের প্রাচীর উঠে যায়। মোজেসের জাতির লোকেরা নিরাপদে সমুদ্র পার হয়ে ওপারের কূলে গিয়ে ওঠে।

    এদিকে রাজার সৈন্যরা তাদের সমুদ্রের উপর হেঁটে যেতে দেখে সমুদ্রের জলে নামতেই তারা ডুবে যায়। ওপারে গিয়ে মোজেস তার দণ্ডটি আবার ফুঁকতেই সে পথ অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ফ্যারাও-এর সৈন্যরা সব ডুবে যায়। যুদ্ধোন্মাদ সৈন্যদের যুদ্ধের সাধ মিটে যায়। তাছাড়া যাতে রাজসৈন্যরা পলায়মান মোজেসদের দেখতে না পায় তার জন্য ঈশ্বরপ্রেরিত এক দেবদূত দিনের বেলায় মেঘ এবং রাত্রিবেলায় ঘন অন্ধকার নিয়ে তাদের ঘিরে রেখে অপরিদৃশ্য করে তোলেন তাদের সৈন্যদের চোখ থেকে।

    সমুদ্রের উপকূল থেকে মোজেসরা এবার দুর্গম মরুপথের উপর দিয়ে এগিয়ে চলতে থাকে। ক্রমে তারা ক্যান্নানে গিয়ে উপনীত হয়। কিন্তু ক্যান্নানবাসীরা মোজেসদের দেখে ভীত হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে। মোজেসদের লোকেরা যুদ্ধবিদ্যায় অনভিজ্ঞ থাকায় তারা যুদ্ধ না করে আবার দাসত্বের ঝুঁকি নিয়ে মিশরেই ফিরে আসে।

    সেখানে এসে তারা ঘুরতে ঘুরতে এক নির্জন বিশাল মরুপ্রান্তরের উপর এক রাজ্য স্থাপন করে। বারোটি উপজাতি থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে এক সিনেট বা পরিষদের মাধ্যমে শাসনকার্য চালাতে থাকে তারা। ঈশ্বর সিনাই পর্বতের শিখরদেশে নেমে এসে বজ্রবিদ্যুৎ ও জয়ঢাকের শব্দের মাধ্যমে আইনের বিধানগুলিকে তাদের জানিয়ে দেন।

    অসামরিক ন্যায়বিচার ও শাসনপদ্ধতি, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বলিদানের রীতি এবং মানবজাতির মুক্তির জন্য সাপের মাথায় আঘাত করতে তিনি তাদের শিখিয়ে দেন।

    কিন্তু ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর মরণশীল মানুষের কাছে ভয়ঙ্কর ও দুঃসহ। তাই তারা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানালে তিনি তার যা কিছু বলার তা যেন এবার থেকে তাদের নেতা মোজেসের মাধ্যমে তাদের জানিয়ে দেন। ঈশ্বর তাদের এ প্রার্থনা মঞ্জুর করেন। তিনি তাদের জানিয়ে দেন, প্রাক্তন গুরু বা মাধ্যম ছাড়া ঈশ্বরের কাছে কেউ যেতে পারে না, তার কণ্ঠ শুনতে পায় না।

    এইভাবে ঈশ্বরের নির্দেশে মোজেসের মাধ্যমে আইন ও আনুষ্ঠানিক রীতিনীতির প্রতিষ্ঠা হয়। তাঁর ইচ্ছা ও বিধানের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ আনুগত্য দেখে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন তাদের প্রতি। তিনি তাদের এক নূতন দেশে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দেন।

    তাঁর নির্দেশমতো দেবদারু কাঠের তৈরি স্বর্ণখচিত এক গাড়ি নির্মিত হয়। সেই পবিত্র গাড়ির মধ্যে দুটি দেবদূত এসে অধিষ্ঠিত হয়। তারা তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। এইভাবে তারা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত দেশে এসে উপস্থিত হয়।

    এরপর বলা হবে বহু যুদ্ধ, বহু বাজার ধ্বংস আর রাজ্যজয়ের কথা। বলা হবে কিভাবে একদিন মানুষের আদেশে সূর্য মধ্য আকাশে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সারাদিন, কিভাবে রাত্রির গতি স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষ আদেশ করে, হে সূর্য, হে চন্দ্র, যতদিন না ইসরায়েল জয় করতে পারি ততদিন রুদ্ধ হয়ে থাকবে তোমাদের গতি। এই ঈশ্বরপ্রেরিত মানুষ আইজ্যাকপুত্র তৃতীয় আব্রাহাম নামে অভিহিত হবে এবং তার থেকে নূতন বংশের উদ্ভব হবে, যে বংশ অবশেষে ক্যান্নান জয় করবে।

    এইখানে আদম বলে উঠল, হে ঈশ্বরপ্রেরিত দেবদূত, আমার অন্ধকারের আলো, তুমি আব্রাহাম ও তার বংশ প্রভৃতি অনেক সুন্দর সুন্দর কথা ও কাহিনী বলেছ। এই সব কথা শুনে চোখ আমার খুলে গেছে। আগে আমার ও মানবজাতির ভবিষ্যৎ ভাবনায় আমার যে অন্তর বিব্রত ও জর্জরিত হয়ে উঠেছিল, এখন সে অন্তর সমস্ত দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এখন আমি সেই দিন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যেদিন পৃথিবীর সব জাতি ঈশ্বরের আশীর্বাদে ধন্য হয়ে উঠবে। আমি একদিন নিষিদ্ধ জ্ঞান লাভ করতে গিয়ে ঈশ্বরের যে অনুগ্রহ হারাই সে অনুগ্রহ তারা লাভ করবে ভবিষ্যতে।

    কিন্তু একটা জিনিস আমি বুঝতে পারছি না। বুঝতে পারছি না যে মানবজাতির মধ্যে ঈশ্বর বাস করতে চান পৃথিবীতে, সেই মানবজাতির মধ্যে এত সব আইনকানুন কেন? এত সব পাপের সঙ্গে সেই সব আইনকানুনকে লড়াই করতে হয় কেন? কি করে ঈশ্বর মানুষের সঙ্গে বাস করতে পারেন?

    মাইকেল তখন তাকে বলল, ভেবো না সেই সব মানুষের মধ্যে কোন পাপ থাকবে না। তাই তাদের সহজাত পাপপ্রবৃত্তিকে দমন করার জন্য আইনের বিধান দেওয়া হয়। আইনের বিধান পাপের সঙ্গে লড়াই করে পাপকে সংযত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যখন তারা দেখবে আইন পাপকে প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু সে পাপকে বিদূরিত করতে পারে না, যখন বুঝবে পাপপ্রবৃত্তির প্রতীকস্বরূপ বলদ, ছাগ প্রভৃতি পশুগুলি পাপ-দূরীকরণের এক দুর্বল উপায়মাত্র, তখন তারা ভাববে মানুষের পাপমুক্তির জন্য আরও মূল্যবান রক্তদান দরকার যাতে করে অন্যায়ের উপর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হতে পারে, যাতে তার বিবেকবুদ্ধি জাগ্রত হতে পারে এবং ঈশ্বরের প্রতি ন্যায়পরায়ণ ও বিশ্বস্ত হতে পারে যা কোন আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্মের দ্বারা সম্ভব নয়। তারা বুঝতে পারবে জীবনে ন্যায়নীতি মেনে না চললে ভালভাবে তারা বাঁচতে পারবে না।

    আইন এ বিষয়ে অসম্পূর্ণ হলেও এই আইন তাদের মনকে উন্নততর বিধানের দিকে নিয়ে যাবে। দেহগত কামনা-বাসনার উপর আত্মার প্রাধান্যকে তারা স্বীকার করে নেবে। তখন তাদের উপর আইনের কঠোর বিধান জোর করে চাপিয়ে দিতে হবে না। তারা স্বেচ্ছায় পরম পিতা ঈশ্বরের মহিমা লাভ করতে চাইবে। আইনের বিধানকে ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত ও একাত্ম করে দেখবে।

    তাই মোজেস ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র হলেও শুধু আইনের প্রশাসক ও মন্ত্রণাদাতারূপে। তাদের ক্যান্নানে নিয়ে যেতে পারবে না। খৃস্টের অনুরূপ যীশুই তাদের শত্রু সর্পকুলকে বশীভূত করে তাদের ঊষর প্রান্তর থেকে চিরশান্তির স্বর্গে নিয়ে যাবে। অনেক ঘোরাঘুরির পর অবশেষে ক্যান্নানে উপনীত হবে।

    দীর্ঘকাল তারা সেখানে সুখে-সমৃদ্ধিতে বাস করবে। তারপর সেই জাতির মধ্যে পাপ বৃদ্ধি পেতে পেতে তাদের জাতীয় শান্তিকে বিঘ্নিত করতে থাকলে তখন ঈশ্বর তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবেন। একমাত্র অনুতাপের দ্বারা মানুষ তার পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে।

    ঈশ্বর প্রথমে তাদের বিচারক ও রাজাদের দ্বারা তাদের পাপ থেকে সংযত করার চেষ্টা করবেন। তাদের দ্বিতীয় রাজা বড় ধার্মিক ব্যক্তি হবেন। তার ধর্মাচরণে সন্তুষ্ট হয়ে ঈশ্বর তাকে প্রতিশ্রুতি দেবেন, তার রাজসিংহাসন আদায় হবে। এই রাজার নাম হবে ডেভিড। এই ডেভিডের বংশে এক পুত্রসন্তান হবে যার উপর সমগ্র জাতি আস্থা স্থাপন করতে পারবে। আব্রাহামকে সে কথা বলা হয়েছিল আগেই। তিনি হবেন রাজার রাজা এবং তাঁর রাজ্যশাসনের কোনদিন শেষ হবে না।

    কিন্তু তার আগে ডেভিডের পর আরো কয়েকজন রাজা রাজত্ব করবে। ডেভিডের পুত্র সলোমন সম্পদ ও জ্ঞানে যশস্বী হয়ে উঠবে। একটি মন্দিরের মধ্যে সে ঈশ্বরের বেদী প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু তার প্রজারা হবে পৌত্তলিক এবং ঈশ্বরের বিধান না মেনে নানারূপ পাপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে ঈশ্বরকে রুষ্ট করে তুলবে। তাদের নগরের নাম হচ্ছে বেবিলন। ঈশ্বর তাদের পরিত্যাগ করবেন। তাদের রাজধানী, মন্দির, নগর ও সব পবিত্র বস্তু বিদেশী রাজারা দখল করে নেবে।

    সেই উচ্চ প্রাচীরবেষ্টিত গর্বোদ্ধত নগরীতে তারা সত্তর বছর ধরে বিদেশী শাসকদের অধীনে বন্দী অবস্থায় ছিল। তারপর ঈশ্বর ডেভিডকে অতীতে একদিন করুণা প্রদর্শনের যে প্রতিশ্রুতি দান করেছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তাদের বেবিলন থেকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করলেন। ঈশ্বরের নির্দেশে তাদের প্রভুরাও বেবিলন থেকে তাদের চলে যাবার অনুমতি দিল।

    প্রথমে তারা ঈশ্বরের একটি মন্দির নির্মাণ করে সেখানে দীনহীনভাবে জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে লাগল। ক্রমে তারা সম্পদ ও সমৃদ্ধিলাভ করল। তাদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেল। তারা বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হলো। প্রথমে পুরোহিত বা যাজকদের। মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ দেখা দিল।

    তাদের কাজ হলো মন্দিরে ঈশ্বরের বেদীমূলে উপাসনাকার্য পরিচালনা করা এবং দেশে শান্তি স্থাপন ও রক্ষা করে চলা। তারা পরস্পরে দ্বন্দ্বে প্রবৃত্ত হয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে মন্দিরকে কলুষিত করে তার পবিত্রতা নষ্ট করল। পরে ডেভিডের পুত্রদের আগ্রাহ্য করে রাজদণ্ড কেড়ে নিয়ে রাজক্ষমতা দখল করে নিল।

    ক্রমে একদিন এক বিদেশীর হাতে সে শাসনক্ষমতা হারাল। এই বিদেশী হলো রোমকদের দ্বারা নিযুক্ত জেরুজালেমের শাসনকর্তা রাজা হেরদের পিতা এ্যান্টিকোটার। ফলে তাদের প্রকৃত রাজা মেসিয়ার রাজাধিকার বিবর্জিত অবস্থায় জন্ম হলো।

    তথাপি তাঁর জন্মকালে এক অদৃশ্য তারকা তাঁর আবির্ভাব ঘোষণা করে এবং প্রাচ্যের জ্ঞানী সাধুদের তার জন্মস্থান বেথলেহেমে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে যাতে তারা গন্ধদ্রব্য ও স্বর্ণোপচার দিয়ে সেই নবজাত ঈশ্বরপুত্রের পূজা করতে পারে। একজন দেবদূত তার সেই জন্মস্থানটি রাখালদের দেখিয়ে দেয় এবং সারারাত্রি পাহারা দিতে বলে তাদের। তা শুনে তাড়াতাড়ি করে সেখানে গিয়ে একজন দেবদূতদের দ্বারা গীত প্রার্থনাসঙ্গীত শুনতে পায়।

    সেই নবজাতকের মাতা হলো এক কুমারী, কিন্তু তার পিতা হলেন সর্বশক্তিমান পরম পিতা ঈশ্বর। জন্মসূত্রে তিনি পিতার স্বর্গসিংহাসনের অধিকার লাভ করবেন। এবং তাঁর পিতা তাঁর রাজত্বকে সারা পৃথিবীব্যাপী প্রসারিত করে তাকে দান করবেন ঐশ্বরিক গৌরব।

    এই বলে থামল মাইকেল। কারণ সে দেখল তার কথা শুনে আনন্দের আবেগে অবর্ষণ করছে আদম। কোন কথা বলতে পারছে না।

    অবশেষে আদম কোনরকমে বলল, হে আনন্দ সংবাদের ভবিষ্যৎস্বরূপ চূড়ান্ত আশার পূরণক, যে কথা আমি কতবার বোঝাবার ব্যর্থ চেষ্টা করেছি সে কথা আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি এখন। বুঝতে পারছি কিভাবে আমাদের মহান প্রত্যাশার এক নারীর গর্ভজাত সন্তানের মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠবে সার্থকজ্ঞানে। হে কুমারীমাতা, অভিনন্দন জানাই তোমায়। তুমি ঈশ্বরের প্রেমে সমৃদ্ধ। তবু তুমি আমারই বংশে জন্মলাভ করবে। তুমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের পুত্রকে গর্ভে ধারণ করবে। এইভাবে ঈশ্বরের সঙ্গে মানবজাতির যুদ্ধ হবে। দেবতার সঙ্গে মিলিত হবে মানুষ। এখন বুঝেছি সর্পকুলের মাথায় আঘাত হানার প্রয়োজন আছে। মারাত্মক যন্ত্রণাভোগ করতে হবে তাদের। এখন বল, কোথায় কিভাবে মানুষের সঙ্গে সর্পকুলের বিবাদ বাধে। কিভাবে কখন মানুষ সর্পকুলের মাথায় আঘাত হানে এবং সর্পরাই বা কি করে তাদের পায়ের গোড়ালিতে দংশন করে।

    মাইকেল তখন বলল, মনে ভেবো না মানবজাতির সঙ্গে সর্পকুলের দ্বন্দ্ব এক সাধারণ লড়াই এবং তাদের মাথা ও পায়ের ক্ষত এক সাধারণ আঘাতজনিত ক্ষত। আরও বৃহত্তর শক্তির দ্বারা পর্যদস্ত হবে তোমার শত্রু।

    তাদের মাথায় আঘাতের অর্থ হলো যে সর্পরূপী শয়তান তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে তোমাদের পতন ঘটায় সেই শয়তান স্বর্গ হতে তোমাদের পায়ের তলায় নরকে পতিত হবে। সেই শয়তান নীচে থেকে তোমাদের পায়ে ক্ষত সৃষ্টি করলেও অর্থাৎ তারা তোমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলেও কোন মারাত্মক আঘাত হানতে পারবে না। কারণ তোমাদের পরিজ্ঞাতা তোমাদের সব ক্ষত নিরাময় করে দেবেন। কিন্তু তিনি শয়তানকে একেবারে ধ্বংস করলেন না। তিনি শুধু তোমাদের ও সন্তানদের : মধ্য দিয়ে তাদের সব কাজকে ব্যর্থ করে দেবেন। তবে তার জন্য একদিন যা তোমরা করতে পারনি তাই তোমাদের করতে হবে। অর্থাৎ ঈশ্বরের বিধান লঙ্ঘন করার জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে তার যে শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দান করেছিলেন তোমাদের সে বিধান অবনত মস্তকে মেনে নিতে হবে তোমাদের। তাঁর আদেশ পালন করে যেতে হবে অকুণ্ঠভাবে। তোমরা তা করলে তোমাদের শত্রুরাও সমুচিত শাস্তি পাবে।

    শুধু আক্ষরিক অর্থে আনুগত্য নয়, একমাত্র ঈশ্বরপ্রেমের দ্বারাই ঈশ্বরের বিধানকে সঠিকভাবে মেনে চলা যায়। এই প্রেমের বশবর্তী হয়েই ঈশ্বরপুত্র মানুষের মতো রক্তমাংসের দেহ ধারণ করে অবতীর্ণ হবেন পৃথিবীতে। জীবনে অনেক লাঞ্ছনা ও নিপীড়ন সহ্য করে এক অভিশপ্ত মৃত্যুবরণ করবেন তিনি। যারা তাঁর এই পরিত্রাণে, বিশ্বাস করবে তাদের তিনি নবজীবন দান করে থাকেন।

    কিন্তু তার স্বর্গগত লোকেরা পরম পিতা ঈশ্বরের প্রতি তার আনুগত্য ও অটল বিশ্বাসকে ভুল বুঝবে। তিনি যে মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য এসেছেন সেকথা বুঝতে পারবে না তারা। তাঁকে তারা ঘৃণা করবে। তাকে বিধর্মী বলে গণ্য করে তার বিচার করবে। বিচারে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হবে। তাকে ক্রুসে বিদ্ধ করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হবে। যিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য নবজীবনের বাণী নিয়ে এসেছিলেন পৃথিবীতে, তাকে এইভাবে বধ করা হবে।

    কিন্তু আসলে তিনি সেই মানবজাতির পাপ, অবৈধ আইন ও শত্রুদেরই বিদ্ধ করলেন। কিন্তু যারা তাকে বিশ্বাস করে তাদের কোন আঘাত করলেন না। কিন্তু তাঁর তখন মৃত্যু হলেও আবার পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠলেন তিনি। মৃত্যু তাকে বেশিদিন আবদ্ধ করে রাখতে পারল না সমাধিগহ্বরে।

    তার মৃত্যুর তিন দিন পরে প্রভাতের আলো ফুটে উঠতেই তিনি উঠে পড়লেন তার সমাধিগহুর হতে। মানবজাতির পক্ষ থেকে মৃত্যুর সব দেনা তিনি শোধ করে দেবেন এইভাবে। তোমার মৃত্যুদণ্ড তিনি ভোগ করে মুক্ত করবেন তোমাকে সে দণ্ড হতে। তার এই ঐশ্বরিক কর্ম শয়তানের মাথায় আঘাত করে তার সব শক্তি চর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন। শয়তানের দৃষ্টি বহ্নিস্বরূপ পাপ আর মৃত্যুকে এইভাবে পরাস্ত করবেন তিনি।

    শয়তানের মাথার গভীরে মৃত্যুর ক্ষত অনুপ্রবিষ্ট হবে, তারা মানুষের পায়ে ক্ষত সৃষ্টি করে বিশেষ কিছু করতে পারবে না। তাতে তার মৃত্যু হলেও সে মৃত্যু হবে সাময়িক এবং তারপর তারা অনন্ত জীবন লাভ করবে।

    পুনর্জীবন লাভের পর কিন্তু সেই ঈশ্বরপুত্র বেশিক্ষণ থাকবেন না এই পৃথিবীতে। যে সব ভক্ত শিষ্যরা তাকে বিশ্বাসের সঙ্গে অনুসরণ করবে তাদের কাছে মাঝে মাঝে আবির্ভূত হবেন না। তারা সকল পাপ ও মৃত্যুর অভিশাপ হতে যে মুক্তি লাভ করেছে সে মুক্তির বাণী জগতের মানুষদের মধ্যে প্রচার করার ভার দেবেন তিনি তাদের উপর। তারা নবজাত মানুষদের সব পাপের কলুষ ধুয়ে এক পবিত্র জীবন দান করবে। সেই পবিত্র জীবনে কোথাও মৃত্যু থাকবে না, কারণ তাদের পরিত্রাতা তাদের এই নবজীবনের জন্যই মৃত্যুবরণ করে তাদের চিরমুক্তি দান করে গেছেন ঈশ্বরপুত্র।

    সেদিন হতে শুধু আব্রাহামের সন্তানদের মধ্যেই নয়, সমগ্র জগতে আব্রাহামের ধর্ম প্রচারিত হবে। এইভাবে আব্রাহামের বংশ থেকে সমগ্র মানবজাতি উদ্ধারলাভ করবে।

    এরপর তার ও তোমার শত্রুদের নির্জিত করে বিজয়গৌরবে আকাশপথে স্বর্গে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে সর্পরূপী শয়তানকে শৃঙ্খল আবদ্ধ করে তার সারা রাজ্যে টেনে টেনে বেড়াবেন এবং পরে নির্জীব অবস্থায় ফেলে দেবেন। তারপর ঈশ্বরের স্বর্গসিংহাসনের পাশে ঈশ্বরের দক্ষিণ পার্শ্বে উপবেশন করে পূর্ণ গৌরব ও জ্যোতিতে বিরাজমান হবেন।

    পরে পৃথিবীর ধ্বংস ও শেষ বিচারের দিন তিনি পূর্ণ গৌরবে নেমে এসে মৃত আত্মাদের বিচার করে পাপীদের শাস্তি আর পুণ্যাত্মাদের পুরস্কৃত করে তার স্বর্গরাজ্যে স্থান দেবেন। এই পাপ-পুণ্যের বিচারের ফলে পৃথিবী তখন ইডেন থেকে আরও সুন্দরতর হয়ে উঠবে।

    এই বলে মাইকেল থামল এবং আদম আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলল, হে অনন্ত মঙ্গলের বার্তাবহ, এখন বুঝলাম সমস্ত মৃত্যু অর্থাৎ অমঙ্গল থেকে একদিন এক অফুরন্ত মঙ্গলের উদ্ভব হবে। সমস্ত অশুভ শক্তি শুভ হয়ে উঠবে। সৃষ্টির আদিতে যখন অন্ধকার থেকে আলোর সৃষ্টি হয়, সেই আশ্চর্য ঘটনার থেকে এ ঘটনা আরও আশ্চর্যজনক।

    এখন আমি সংশয়াম্বিত অবস্থায় ভাবছি, আমার কৃত পাপকর্মের জন্য আমি অনুশোচনা করব, না কি সে পাপ থেকে অনেক মঙ্গলজনক ঘটনার উদ্ভব হবে বলে আনন্দ করব। পরম গৌরব ও মঙ্গলময় ঈশ্বর মানুষের অনেক মঙ্গল সাধন করবেন। সমস্ত রোষাবেগের উপর প্রাধান্য লাভ করবে তার মহিমা।

    এখন বল, আমাদের পরম পরিত্রাতা স্বর্গারোহণ করলে তার অল্পসংখ্যক বিশ্বস্ত অনুগামীরা অবিশ্বাসী নাস্তিকদের মধ্যে কি করবে? তাদের ভাগ্যে কি ঘটবে? সত্যের শত্ৰু সেই সব ঈশ্বরদ্রোহীদের কবল থেকে কে তাদের রক্ষা করবে? সেই সব অবিশ্বাসীরা ঈশ্বরপুত্রের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছিল, তার অনুগামীদের সঙ্গে কি তার থেকে খারাপ ব্যবহার করবে না?

    তখন দেবদূত প্রধান মাইকেল বলল, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই করবে। স্বর্গ থেকে ঈশ্বর একজন উদ্ধারকর্তাকে পাঠাবেন। পরমপিতার এক উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি বহন করে আনবেন তিনি। তিনি তাদের মধ্যে তাদের অন্তরাত্মারূপে বাস করবেন। ঈশ্বরপ্রেমের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরবিশ্বাস কিভাবে কাজ করে তার বিধানগুলি তিনি মুদ্রিত করে দেবেন তাদের অন্তরে। তিনি তাদের ন্যায় ও সত্যের পথ দেখাবেন। তিনি তাদের এমন এক আধ্যাত্মিক শক্তি দান করবেন যে শক্তি দিয়ে তারা শয়তানদের সব আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারবে, তার সব অগ্নিগর্ভ শরগুলিকে ব্যর্থ করে দিতে পারবে। মানুষ তখন নির্ভীক চিত্তে তাদের আত্মশক্তির দ্বারা সব নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে এমনভাবে রুখে দাঁড়াবে যে তা দেখে সেই সব গর্বোদ্ধত অত্যাচারীরাও আশ্চর্য হয়ে যাবে।

    ঈশ্বর প্রথমে কয়েকজন সাধুপুরুষকে মানবজাতির মধ্যে তার বাণী প্রচারের জন্য পাঠাবেন। তারপর যারা তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হবে তাদের এমন এক আশ্চর্যজনক শক্তি দান করবেন যার দ্বারা তারা সকল জাতির মানুষের সঙ্গে সকল ভাষায় কথা বলে ধর্মবোধে অনুপ্রাণিত করতে পারবে সকলকে। অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারবে।

    এইভাবে তারা প্রতিটি জাতির মধ্যে বহুসংখ্যক মানুষের হৃদয় জয় করতে পারবে যারা স্বর্গ থেকে আগত ঈশ্বরের বাণী আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করবে।

    অবশেষে সেই ধর্মপ্রচারকেরা তাদের কাজ শেষ করে তাদের নীতি উপদেশ সমম্বিত ধর্মবাণীগুলিকে লিপিবদ্ধ করে মহাপ্রয়াণ করবেন। তারা আগে থেকে সাবধান করে দিয়ে যাবেন, তাদের মৃত্যুর পর যত সব নরখাদক ভয়ঙ্কর নেকড়ের দল ধর্মপ্রচারকের আসনে এসে বসবে যারা ঈশ্বরের পবিত্র বাণী ও নীতি উপদেশগুলিকে নিজেদের অসংযত উচ্চাভিলাষ ও স্বাহপূরণের উপায় হিসাবে ব্যবহার করবে। সত্যের সঙ্গে কুসংস্কার ও প্রথাগত ক্রিয়াকাণ্ডগুলিকে মিলিয়ে ধর্মের মূল সত্যকে কলুষিত করে তুলবে তারা। সে সত্য শুধু বিশুদ্ধ অবস্থায় গ্রন্থে লিপিবদ্ধ থাকবে। অন্তর দিয়ে সে সত্য কেউ বুঝতে চেষ্টা করবে না।

    তারপর সেই সব স্বার্থান্ধ ধর্মপ্রচারকেরা আধ্যাত্মিকতার ভান করে রাজক্ষমতা লাভ করবে। তখন তারা নিজেদেরই ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে ধর্মবিশ্বাসীদের প্রভাবিত করে তাদের বড় বড় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবে। ফলে সেই সব বিধান তাদের অন্তরাত্মা গ্রহণ করতে পারবে না।

    এইভাবে মানবাত্মার উপর জোর করে ঈশ্বরের বাণী চাপিয়ে দিয়ে ঈশ্বরের মহিমাকে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে এক নিষ্ঠুর বন্ধনে আবদ্ধ করবে তারা। ফলে অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ত বিশ্বাস ও প্রেমভক্তির ভিত্তিভূমির উপর ঈশ্বরের যে মন্দির স্থাপিত হয় সে মন্দিরের মহিমাকে ধূলায় লুটিয়ে দেবে তারা। যে মানুষের পৃথিবীতে ঈশ্বরের এক একটি জীবন্ত মন্দির তাদের স্বাধীনতা হরণ করে তাদের মধ্যে প্রভূত ধর্মবিশ্বাস জাগাতে পারবে সে মন্দির ধ্বংস করে দেবে তারা। সেই সঙ্গে নিজেদের ধর্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলবে। যার নিজের মধ্যে কোন ধর্মবিশ্বাস নেই তার মুখে ধর্মের কথা কেন শুনবে লোকে? কি করে তাকে অভ্রান্ত বলে মনে করতে পারবে?

    অবশ্য অনেকেই তা মেনে চলবে। ফলে যারা ধর্মোপাসনার মধ্যে ধর্মের সত্য ও মর্মার্থ উপলব্ধি করার চেষ্টা করবে তাদের উপর জোর অত্যাচার শুরু হবে। কারণ বেশির ভাগ মানুষ তখন বাইরের আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্মের দ্বারাই তাদের ধর্মবোধকে তৃপ্ত করবে। সেই সব নীরস কর্মের মধ্যেই ধর্মের সত্যকে সীমাবদ্ধ দেখে তৃপ্ত হবে। নিন্দার ভয়ে সত্য মুখ লুকোবে, প্রকৃত ধর্মবিশ্বাস কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

    এইভাবে জগৎ চলবে মন্দ ও অশুভ শক্তির হাতে পড়ে, যা কিছু শুভ ও সত্য তা যন্ত্রণায় আর্তনাদ করবে। অবশেষে দুষ্ট ও দুবৃত্তদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আবার তিনি ফিরে আসবেন নারীর গর্ভজাত সন্তানরূপে। একথা আগেই দুর্বোধ্যভাবে বলা হয়েছিল।’

    তোমার পরিত্রাতা এবং প্রভু সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পেরেছ। অবশেষে তিনি স্বর্গ থেকে মেঘের আবরণে নিজেকে আবৃত করে পৃথিবীতে এসে পরম পিতার গৌরব ও মহিমা প্রকাশ করবেন। শয়তান ও তার বিকৃত জগৎকে ধ্বংস করে দেবেন। মানুষের চিত্তকে শোধন করে অক্ষয় শান্তি ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তির উপর এক নূতন স্বর্গ ও পৃথিবী গড়ে তুলবেন। সে পৃথিবীতে অনন্তকাল ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে পরিপূর্ণ আনন্দ ও এক পরম স্বর্গীয় সুখ বিরাজ করতে থাকবে।

    মাইকেলের কথা এইখানে শেষ হলে আদম বলল, হেসত্যদ্রষ্টা, তোমার ভবিষ্যৎবাণী কত শীঘ্র দ্রুতগতি কালের মতো ধাবমান হয়ে সমগ্র জগৎ পরিক্রমা করে এল। তার বাইরেই বিরাট শূন্যতার এক খাদ। যার অনন্ত অতল গভীরতা চোখে দেখা যায় না।

    আমি অনেক উপদেশ অনেক শিক্ষা লাভ করেছি। আমি এবার শান্ত মনে নিশ্চিন্ত হয়ে চলে যাব এখান থেকে। আমি প্রচুর জ্ঞান লাভ করে তৃপ্ত হয়েছি। তার বাইরে কিছু জানতে চাওয়া নির্বুদ্ধিতামাত্র। এখন আমি বুঝতে পেরেছি এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বরের প্রতি প্রেম ও আশঙ্কার সঙ্গে তাঁর সমস্ত বিধান মেনে চলাই সবচেয়ে ভাল। তার উপরেই জগৎ ও জীবনের সব কিছু নির্ভর করে।

    তিনি পরম করুণাময়। তাঁর করুণায় সমস্ত অশুভ শক্তিকে জয় করে মঙ্গল লাভ করা যায়। যারা আপাতদৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ও দুর্বল তারাও তার করুণা ও অনুগ্রহের ফলে পার্থিব শক্তিতে বলবানদের বশীভূত করতে পারে। সত্যের খাতিরে দুঃখভোগের মধ্য দিয়ে জয়ের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারা যায়। ঈশ্বরবিশ্বাসীদের কাছে মৃত্যুও নবজীবনের দ্বার খুলে দেয়। যাঁকে আমি আমার পরম পরিত্রাতা মনে করি তাঁর দৃষ্টান্ত থেকেই এ শিক্ষা লাভ করেছি।

    তখন মাইকেল শেষবারের মতো বলল, এই কথা জেনে তুমি সমস্ত ধর্মের সারমর্ম জেনে ফেলেছ। এক বৃহত্তর জীবনের আশায় অনুপ্রাণিত হবে তুমি। সব নক্ষত্রদের নাম, স্বর্গে ঈশ্বরের সব কর্মপদ্ধতি, ঐশ্বরিক শক্তির সব রহস্য, জলে স্থলে অন্তরীক্ষে প্রকৃতির সব কাজকর্ম, জগতের সব রাজ্য ও সাম্রাজ্যের শাসনপদ্ধতি ও ধনসম্পদের রহস্য সব জানতে পারবে তুমি।

    এইভাবে সব জ্ঞাতব্য বিষয় জানতে পেরে তোমার জ্ঞান বেড়ে যাবে। তার ফলে তোমার ধর্মবিশ্বাস, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, প্রেম, ভালবাসা প্রভৃতি গুণগুলিও বেড়ে যাবে। তখন তুমি এই স্বর্গোদ্যান ছেড়ে আর দুঃখবোধ করবে না। তোমার মনই এক মনোরম স্বর্গোদ্যান হয়ে উঠবে। তুমি আগের থেকে আরও অনেক সুখী হবে। সকল গুণের শ্রেষ্ঠ প্রেম তোমাদের বদান্যতা ও সাবলীলতার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হবে। এখন এই কল্পনার শিখরদেশ এই মর্ত্য থেকে নেমে চল। এখন আমাদের যাওয়ার সময় হয়েছে। ঐ দেখ, নিকটবর্তী এক পাহাড়ে অবস্থিত শিবির থেকে দেবদূত প্রহরীরা একটি জ্বলন্ত তরবারি ঘুরিয়ে ফিরে যাওয়ার সংকেত দান করছে। আর আমরা এখানে একমুহূর্তও থাকতে পারি না।

    যাও, ঈভকে গিয়ে জাগাও। এক মধুর স্বপ্ন দিয়ে শান্ত করে রেখেছি তাকে। সে স্বপ্নে অনেক সুলক্ষণ দেখতে পাবে। এক অকুণ্ঠ আত্মসমর্পণে দৃঢ়সংকল্প হয়ে উঠবে তার অন্তরাত্মা। তুমি সময় বুঝে যা যা আমার কাছে শুনেছ তা সব বলবে তাকে, বিশেষ করে তার ধর্মবিশ্বাস দৃঢ় করার জন্য যা তার জানা দরকার। বলবে মানবজাতির পরম মুক্তিদাতা তারই গর্ভজাত এক সন্তানরূপে জন্মগ্রহণ করবে।

    বলবে, তুমি দীর্ঘকাল বাঁচবে। দুঃখের দিন সব পার হয়ে গেছে। ধর্ম অবলম্বন করে উপাসনার দ্বারা সুখে জীবন অতিবাহিত করবে তুমি।

    মাইকেলের কথা শেষ হতেই পাহাড় থেকে অবতরণ করতে লাগল তারা।

    পাহাড়ের পাদদেশে নেমে এসেই আদম সেই কুঞ্জবনে ছুটে গেল যেখানে ঈভ ঘুমিয়ে ছিল। কিন্তু গিয়ে দেখল, ঈভ আগেই জেগে উঠেছে ঘুম থেকে।

    ঈভ তখন উৎফুল্লভাবে আদমকে বলল, কোথায় গিয়েছিলে, কোথা হতে ফিরে এলে তুমি তা আমি জানি। কারণ ঈশ্বর নিদ্রা ও স্বপ্নের সময়ে মানুষের আত্মার মধ্যেই বিরাজ করেন। গভীর বিষাদ ও দুঃখের ভারে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমি। কিন্তু তিনি আমার সেই ঘুমের মধ্যেই কয়েকটি সুলক্ষণের দ্বারা আমাদের ভবিষ্যৎ সুদিনের কথা বলে দিয়েছেন।

    এখন চল কোথায় যাবে। তোমার সঙ্গে যেকোন স্থানে যাওয়া আর এখানে থাকা সমান কথা। তোমাকে ছেড়ে এখানে থাকা মানে আমার আত্মাহীন ইচ্ছাহীন দেহের অবস্থানমাত্র। তুমি আমারই অপরাধের জন্য নির্বাসিত হয়েছ এখান থেকে। এখন তুমি আমার সব, স্বর্গ-মর্ত্যের সব স্থান তোমার মধ্যেই আছে।

    এখন একটা সান্ত্বনা নিয়ে শান্ত মনে যাচ্ছি এখান থেকে। আমি সব কিছু হারালেও আমি শত অযোগ্য হলেও ঈশ্বরের একটি মহতী অনুগ্রহতে ধন্য হয়েছি, আমারই গর্ভজাত সন্তান অধঃপতিত মানবজাতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে তার হারানো গৌরবের মধ্যে।

    আমাদের আদিমাতা এই কথা বললে আদম তা শুনে সন্তুষ্ট হলো। কিন্তু কোন কথা বলল না। কারণ প্রধান দেবদূত মাইকেল প্রহরীদের সঙ্গে নিকটেই অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য। তারা সবাই পাহাড় থেকে নামছিল। তাদের সামনে সেই জ্বলন্ত তরবারিটি জ্বলন্ত উল্কার মতো তাদের আগে আগে যাচ্ছিল।

    মাইকেল এবার আদম ও ঈভকে দুহাতে ধরে স্বর্গলোকের পূর্বদ্বারে নিয়ে গেল। তারপর সেই খাড়াই পাহাড়ের প্রান্তভাগ থেকে নীচের এক সমতলভূমিতে তাদের নামিয়ে দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    আদম ও ঈভ একবার পিছন ফিরে তাকিয়ে তাদের এতদিনের বাসভূমি সেই স্বর্গোদ্যানের পূর্বদিকটি দেখল। এখন সেই দ্বারপথটিকে ভয়ঙ্কর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দেবদূত প্রহরীরা পাহারা দিচ্ছে।

    স্বতঃস্ফূর্ত কয়েক বিন্দু অশ্রু ঝড়ে পড়ল তাদের চোখ থেকে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে ফেলল তারা। তারা দেখল তাদের সামনে প্রসারিত হয়ে আছে অনন্ত পৃথিবী। কোন্ স্থানটিকে তাদের আবাসভূমি হিসাবে বেছে নেবে, কিভাবে ঐশ্বরিক বিধান তাদের পথ প্রদর্শন করবে তা ভাবতে লাগল তারা। তারপর দুজনে হাত ধরাধরি করে ধীর গতিতে এগিয়ে চলতে লাগল জনমানবহীন পৃথিবীর পথে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleFanny Hill: Memoirs of a Woman of Pleasure – John Cleland
    Next Article লৌহকপাট – জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }