Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. বসেছে কাব্যপাঠের আসর

    বসেছে কাব্যপাঠের আসর।

    ঋতুরঙ্গ কাব্য। বর্ষাখণ্ড শেষ করে প্রকৃতিদেবী সবেমাত্র শরৎখণ্ডের মলাটখানি খুলে ধরেছেন, এখনও তার ভিতরের শ্লোক পড়তে বাকী এখনও কাশের বনে বনে শুরু হয় নি শ্বেতচামরের ব্যজনারতি, শুধু ভোরের বাতাসে লেগেছে অকারণ পুলকের স্পন্দন। শুধু আকাশের নীলে দর্পনের স্বচ্ছতা, পাখীদের শিষে উল্লাসের তীক্ষ্ণতা। দেবী অনন্তকাল ধরে একই কাব্য আবৃত্তি করে চলেছেন, শেষ লাইনের পরই আবার গোড়ার লাইন, তবু সে কাব্য পুরনো হয়ে যায় নি, পুরনো হয়ে যায় না। অনন্তকালের মানুষের কাছে বয়ে নিয়ে আসে আশার বাণী, প্রত্যাশার স্বপ্ন, উৎসাহের সুর।

    উৎসাহের জোয়ার লেগেছে বাংলার গ্রামে গ্রামে। প্রতীক্ষার উৎসাহ।

    মা দুর্গা আসছেন!

    আসছেন বাপের বাড়ি। কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে। এ কথা গল্পকথা নয়, বাংলার অন্তরের সত্য বিশ্বাসের কথা। বৎসরান্তে মা মাতৃরূপে আর কন্যারূপের সমন্বয় সাধন করে নেমে আসেন মাটি-মায়ের কোলে, এসে মায়ের কাছে সুখদুঃখের কথা কন, বিদায়কালে চোখের জল ফেলেন, এ কথা কি অবিশ্বাসের? দেবতার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন পাতিয়ে, দেবতাকে ঘরের লোক করে নিয়েই তো বাঙ্গালির ঘরকনা। তাই তারা শিবের বিয়ে দেয়, ইতু-মনসার ‘সাধ’ দেয়, ভাদুকে সোহাগ করে আর পার্বতাঁকে পতিগৃহে পাঠাতে চোখের জলে বুক ভাসায়। আর সবাই তবু দেবদেবী, উমা যে সেই ঘরের মেয়ে। মহিমায় তার সহস্র নাম থাক, আসল নাম যে সেই উমা নামটি। শরৎ পড়তেই ভিখারী বৈষ্ণবরা সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায় খঞ্জনীর তালে তালে। আয় মা উমাশশী, নিরখি মুখশশী, দিবানিশি আছি আসার আশায়।

    হয়তো একটি গ্রামে একটি মাত্র ভাগ্যবানের বাড়িতেই কন্যারূপিণী জগন্মাতার পদার্পণ ঘটবে, কিন্তু গ্রামের প্রতিটি ঘরের অন্তরবীণায় বাজছে আগমনীর সুর।

    এবারে আশ্বিনের প্রথম দিকেই পূজো, তাই ভাদ্র পড়তে পড়তেই সাজ সাজ রব। সংসারের নিত্য রান্না খাওয়া বাদে অন্য সব কিছুতেই যে করা চাই মাসখানেকের মত আয়োজন। পূজোর মাসে তো আর কেউ মুড়ি ভাজবে না, চিড়ে কুটবে না, মুড়কি মাখবে না, পক্কান্ন রাঁধবে না, মেটে ঘরের দেয়াল নিকোবে না? এমন কি সলতে পাকানো, সুপুরি কাটা, নারকেলকাঠি চাছা, সবই সেরে রাখতে হবে দেবীপক্ষ পড়ার আগে। কোজাগরীর পর আবার এসব কাজে হাত, আবার কথায় ফোড় তোলা, আর তার সঙ্গে সদ্য-বিগত উৎসবের স্মৃতি রোমন্থন।

    ভাদ্র মাসে শুধু যে আগমনীর প্রস্তুতি তাও তো নয়, বর্ষার পর যে অনেক কাজ এসে জোটে গেরস্তর মেয়েদের। স্যাঁৎসেঁতে বিছানা কথা, তোরঙ্গে তোলা কাপড় চাঁদর, ভাঁড়ারের সচ্ছরের মজুত বড়ি আচার, মশলাপাতি, ডাল কড়াই,–সব কিছুকে টেনে ভাদুরে রোদ খাওয়ানো তো কম কাজ নয়।

    ভুবনেশ্বরীর মা নেই, ভাজেরাই সংসারের গিন্নী, কদিন থেকে দুপুরভোর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তারা। আজ পড়েছে নাড় দিয়ে। হাঁড়িভর্তি মুগের নাড়ু, নারকেলের নাড় করে মাচায় তুলে রাখতে পারলে মাসখানেকের মত জলপানের দায়ে নিশ্চিন্দি। আর পূজোর মাসে ছেলেপুলের পাতে দুটো ভালমন্দ দিতেও হয়। ভুবনেশ্বরীর বড় ভাজ নিভাননী জোর হাতে নারকেল কুরছিল আর ছোট ভাজ সুকুমারী আঁতা ঘুরিয়ে মুগ ভাঙছিল, হঠাৎ উঠোনের দরজার শিকল নড়ে উঠল।

    এই দেখ কাজের গুরু কামাই, নিভাননী নিচু গলায় বলে,কে আবার এখন বেড়াতে এল কাজ পণ্ড করতে! নে ছোট বৌ, ওঠ, দুয়োর খোল্।

    সুকুমারীর অবশ্য মনোভাবটা ঠিক বড় জায়ের সমর্থক নয়, একঘেয়ে কাজ করতে করতে বাইরের হাওয়া একটু ভালই লাগে তার। নিভাননী যদি একটু গল্প-গাছা করতে জানে, মুখ বুজে খালি কাজ আর কাজ।

    দরজা খুলেই সুকুমারী উল্লাসধ্বনি করে ওঠে, ওমা কি আশ্চর্য, পুবের সূয্যি কি পশ্চিমে উঠেছে আজ, না যার মুখ কখনও দেখি নি তার মুখ দেখে ঘুম থেকে উঠেছি?

    এ হেন সংলাপে নিভাননীরও ব্যাজার মুখ কৌতূহলে সরস হয়, সে মুখ বাড়িয়ে বলে, কে এলো গো, কার সঙ্গে এত রসের কথা?

    এই যে ডুমুরের ফুল, ঠাকুরঝি। বলে সুকুমারী তাড়াতাড়ি ননদের পা ধোবার জল আনতে ছোটে। ভুবনেশ্বরী মুখের ঘোমটা নামিয়ে দাওয়ায় বসে পড়ে ধুলো পা ঝুলিয়ে। ভাদ্দরের কড়া রোদে তার ফর্সা মুখটা লাল-টকটকে হয়ে উঠেছে, ঘোমটা দেওয়ার দরুন চুলের গোড়ায় আর গলার খাঁজে ঘাম গড়াচ্ছে।

    এমন করে ভররোদে হেঁটে আসা ভুবনেশ্বরীর পক্ষে সত্যিই অভাবনীয় ঘটনা। একে তো আসাই তার কম, তাছাড়া যদি আসার বাসনা প্রকাশ করে, পাকি করে পাঠিয়ে দেন রামকালী। যদিও এর জন্যে বাড়ির আর পাঁচজন ঠেস্-টিটকারি দিতে ছাড়ে না, পাড়ার সমবয়সী বৌরা বলে ‘বাদশার বেগম’, তবু রামকালীর নির্দেশ মেনে চলতেই হয়।

    কিন্তু আজ ব্যাপারটা কি?

    পা ধোবার জল আর গামছা এগিয়ে দিয়ে একখানা ঝালর-বসানো হাতপাখা নিয়ে ননদকে বাতাস করতে থাকে সুকুমারী। একে তো গুরুজন, তায় আবার বড়লোকের ঘরনী।

    কার সঙ্গে এলে? নিভাননী প্রশ্ন করে।

    ভুবনেশ্বরী কিন্তু সে কথার উত্তরের আগেই বলে ওঠে, পাখায় ঝালর বসিয়েছে কে গো?

    কে আবার, ছোটগিন্নি! নিভাননী অগ্রাহ্যে মুখ বাঁকিয়ে বলে, রাতদিন যিনি সংসারের সব্বতাতে বাহার কাটছেন!

    সুকুমারীর মুখটা চুন হয়ে যায়, ভুবনেশ্বরী তাড়াতাড়ি বলে, তা বাহার কাটা তো ভালই, কেমন খাসা দেখাচ্ছে!

    হোক গে, নিভাননী আর একবার মুখ বাঁকায়, এখন অবধি তো গাই দোয়াতে শিখল না, কুলো পাছড়াতে পারল না। পেঁকিশালে গিয়ে যা রঙ্গ, যদি দেখ তো বুঝবে। না পারে ‘পাড়’ দিতে, না পারে হাতে হাতে নেড়ে দিতে, পাড়াপড়শীকে তোয়াজ করে ডেকে এনে কাজ উদ্ধার করতে হয়। আসল কাজ চুলোয় দিয়ে ভাঁড়ারের হাঁড়ি-কলসীর গায়ে চিত্তির কেটে, শিকের দড়িতে কড়ির থোপনা গেঁথে, আর পাখার ঘাড়ে শালুর ঝালর ঝুলিয়ে গেরস্তর সগৃগের সিঁড়ি হবে!

    ভুবনেশ্বরী দেখে হিতে বিপরীত, এই সূত্র ধরে নিভাননী আরও কোথায় গিয়ে পৌঁছবে কে জানে! তা হলে তো আসল কাজই মাটি। ছোট ভাজকেই যে আজ তার দরকার। তবু ভুবনেশ্বরী আবার একটা ভুল চালই করে বসে। বসে এইজন্যেই যে নিচুতলাদের নিন্দাবাদ করে ওপরওয়ালাদের প্রসন্ন রাখার যে চিরন্তন কৌশল, সে কৌশলটা তার ভাল আয়ত্তে নেই বলেই। নিজের বাড়িতে তো সেই ভয়ে সে কথাই কয় না সহজে। দেখে ঘোমটা আর নীরবতা অনেক বিপদের রক্ষক। কিন্তু এটা নাকি ভুবনেশ্বরীর বাপের বাড়ি, তাই সাহসে ভর করে বলে বসে, কেন বাপু, এই তো বেশ ডাল ভাজছে। মুড়ি ভাজতেও পারে। অত বড় একখানা শহরের মেয়ে, আর কত পারবে?

    তা বটে! নিভাননী একটি উত্তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে বলে, শহর কখনও চোখে দেখিনি, তার মম্মও জানি নে। ঘর-সংসারই বুঝি, আর বুঝি মেয়েমানুষের সেখানে হেরে গেলে লজ্জায় মাথা কাটা যায়… বসো একটু, গুড়ের পানা করে আনি, রোদে এসেছ।

    রোদের সময় ঘরে কিছু না থাক, আখের গুড় জলে গুলে তাতে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ এদিকে আছে, নিভাননীর মগজে সেই সহজটাই আসে। কিন্তু সুকুমারীর ওই গুড়ের পানা জিনিসটায় বিষম বিতৃষ্ণা, তাই সে বড়জায়ের ওপর কথা-কওয়া-রূপ অসমসাহসিক কাজটাও করে বসে ননদের প্রতি সমীহে। সসংকোচে বলে ফেলে, কেন দিদি, মিছরি নারকেল গাছের ডাব তো পাড়ানো রয়েছে ঘরে!

    রয়েছে সেটা নিভাননীর মনে ছিল না, কিন্তু মনে পড়িয়ে দেওয়ায় অপদস্থের একশেষ হয়ে যায় সে। কে জানে ননদ মনে করল কিনা, ইচ্ছে করেই ডাবের কথাটা বিস্মৃত হয়েছে সে। এই ছোট বৌটা দেখতে ভালমানুষ হলে কি হবে, টিপে ডান। কিন্তু এক্ষেত্রে নিভাননীকে মনের রাগ মনে চেপে হাসতেই হয়। হেসে বলতেই হয়, অই দেখ, ভাগ্যিস মনে করলি ছোটবৌ! আমার অমনিতর ভুলো মনই হয়েছে আজকাল, বুঝলে ঠাকুরঝি! ঠাকুর-জামাইয়ের কাছ থেকে এবার একটা সিঁতিশক্তির ওষুধ খেতে হবে। যা তবে ছোটবৌ, দুটো ডাব কেটে আন্ গে।

    আহা, কেন ব্যস্ত হচ্ছ বড়বৌ? ভুবনেশ্বরী অকারণে গলা নামিয়ে বলে, আমি এসেছি বিশেষ একটা দরকারে পড়ে, এখুনি চলে যেতে হবে।

    ওমা শোন কথা! এখুনি চলে যেতে হবে কি গো? কি এমন বিশেষ দরকার পড়ল? এলেই বা কার সঙ্গে, যাবেই বা কার সঙ্গে? একা নাকি?

    একা? ভুবনেশ্বরী হেসে ওঠে, সে আর এ কাঠামোয় হবে না। এসেছি পিসশাশুড়ির সঙ্গে। দুয়োর থেকে আমাকে ছেড়ে দিয়ে গেলেন, আবার ফিরতি মুখে ডেকে নিয়ে যাবেন। চুপিসারে চলে এসেছি, ঘরে কেউ জানে না।

    ঠাকুরজামাই? নিভাননী রহস্যের হাসি হাসে।

    ভুবনেশ্বরী নিভাননীর ঠাকুরজামাইয়ের প্রসঙ্গেই মাথার কাপড়টা একটু টেনে বলে, তিনি তো ভিন গাঁয়ে গেছেন রুগী দেখতে, নইলে আর এত বুকের পাটা! নিতান্ত কারে পড়েই আসা। পিসশাশুড়ী সইয়ের বাড়ি আসছেন শুনে খুব কাকুতি করলাম, বলি, ওই পথ দিযেই তো যাবে পিসীমা! তা সেদিকে ভাল আছেন মানুষটা, কেউ শরণ নিলে তাকে বুক দিয়ে আগলান।

    তা কাজটা কি?

    এবার ভুবনেশ্বরী থতমত খায়, কাজটা কি সেটা নিভাননীর সামনে বলা সঙ্গত কিনা এতক্ষণে খেয়াল হয়। আসলে এসেছে সে সুকুমারীর কাছে একখণ্ড লেখা কাগজ নিয়ে, যে কাগজের হিজিবিজি রেখাগুলো এক দুর্বোধ্য কুটি হেনে তার দিকে ক্রমাগত তাকিয়ে আছে আজ কদিন থেকে।

    সত্যবতীর লেখা একখণ্ড কাগজ।

    জিনিসটা ভুবনেশ্বরীকে ভাবিয়ে তুলেছে। ঘরের কোণে ঘাড় গুঁজে লিখছিল সত্যবতী, হঠাৎ বুঝি দালানে কুমোর এল এই বার্তা পেয়ে ছুটে চলে গিয়েছিল নেড়ু পুণ্যি আরও কুচোকাঁচাঁদের সঙ্গে, কাগজখানা চৌকিতে পাতা শেতলপাটির তলায় খুঁজে রেখে। ভুবনেশ্বরী কৌতূহলপরবশ হয়ে পাটিটি ঈষৎ উঁচু করে তুলে দেখতে গিয়েছিল কেমন আখর সত্যর হাতের কিন্তু দেখতে গিয়েই স্তম্ভিত হয়ে গেল, গোটা গোটা আখরে ঠিক পদ্যর ছাঁদে এ কি লিখছিল সত্য?

    নকল করছিল?

    কিন্তু নকল করবে যদি তো সামনে বই খোলা কই? সর্বনেশে মেয়ে নিজেই পয়ার বাঁধছে নাকি? ভয়ে বুকের রক্ত হিম হয়ে গিয়েছিল ভুবনেশ্বরীর, কিন্তু কাকে দেখিয়ে রহস্যের মীমাংসা হবে?

    রামকালীকে তার বড় ভয়।

    রাসুকে বলতে গেলে পাঁচকান হবার সম্ভাবনা। তাছাড়া বাড়িতে আর যারা লিখন-পঠনক্ষম, সকলেই তো ভুবনেশ্বরীর শ্বশুর ভাসুর, ভেবে আর কুলকিনারা পাচ্ছিল না বেচারা। তারপর সহসাই মনে পড়ল সুকুমারীর কথা।

    সুকুমারী পড়তে জানে।

    বামালটা সরিয়ে ফেলে সুকুমারীর কাছে আসার তাল খুঁজছিল সে দু-তিন দিন থেকে। আড়চোখে দেখেছে, সত্য কখন একসময় শেতলপাটি উল্টে লণ্ডভণ্ড করে খোজাখুঁজি করেছে, আবার ‘ধুত্তোর’ বলে নতুন কাগজ নিয়ে বসেছে! সে কাগজে আর কোন্ রহস্যের রেখা এঁকেছে সত্য, সে কথা ভুবনেশ্বরীর অজ্ঞাত, জিজ্ঞেস করতে গেলে সত্য মারমুখী হয়। বাড়ির লোকের জ্বালায় যে একদণ্ড নিরিবিলিতে বসবার জো নেই তার, এ কথা স্পষ্ট গলায় ঘোষণা করতে বাধে না সত্যবতীর।

    অতএব এই টুকরোটুকুই ভরসা।

    ঘাড় গুঁজে গুঁজে কি এত লেখে সে জানবার জন্যে মায়ের মন নানা কারণেই ব্যাকুল হয়। ব্যাকুল হয় কৌতূহলে, ব্যাকুল হয় আশঙ্কায়।

    সত্যকে যে শ্বশুরবাড়ি যেতে হবে!

    হায়, সত্য যদি ভুবনেশ্বরীর মেয়ে না হয়ে ছেলে হত! বাপের উপযুক্তই হত। কিন্তু ভুবনেশ্বরীর কপালে এক তরকারি নুনে বিষ। একটা সন্তান, তা মেয়ে!

    কি গো ঠাকুরঝি, বাক্যি-ওক্যি নেই কেন? নিভাননী অবাক হয়। এত কুণ্ঠা কিসের?

    গরীব ননদ নয় যে আশঙ্কা করবে ধার চাইতে এসেছে ভাজের কাছে।

    আর চেপে রাখা চলে না, ঢোক গিলে বলতেই হয় ভুবনেশ্বরীকে– এসেছিলাম ছোট বৌয়ের কাছে, একটা কাগজ পড়ানোর দরকার ছিল।

    কাগজ! নিভাননী আকাশ থেকে পড়ে, কাগজ কিসের? কোন পাট্টা কোবালা নাকি?

    না না,ওমা সে কি? সে সব আমি কোথায় পাব? এ ইয়ে–একটু চিঠির মতন।

    চিঠির মতন! সেটা আবার কি বস্তু ঠাকুরঝি? আর সে পড়ানোর লোক তোমার বাড়ি হাঁটকে একটা পুরুষ বেটাছেলে কাউকে পেলে না, সাতপাড়া ডিঙিয়ে একটা মেয়েমাগীর কাছে পড়তে এলে? কিছু গোপন বুঝি?

    সুকুমারী গিয়েছে ডাব কাটতে। ভুবনেশ্বরী অসহায় ভাবে একবার এদিক ওদিক তাকিয়ে সহসাই দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে বলে, কি যে বলো বড়বৌ, গোপন আবার কি? এই সত্যর একটু লেখা। বলি অষ্টপ্রহর কি এত লেখে বসে দেখি তো! বাড়িতে কাউকে দেখালে রসাতল করবে তো মেয়ে?

    নিভাননীর কানে আসতে বাকী ছিল না–সত্য লেখাপড়া করছে, তবু অজ্ঞের ভানে বলে, বল কি ঠাকুরঝি, সত্যও কি তার ছোটমামীর মতন লেখাপড়া করছে? কালে কালে হল কি? বলি মেয়ে কি তোমার শামলা এঁটে কাছারী যাবে? সবাই তো তোমার ভাইদের মতন ভালমানুষ নয় যে, যা ইচ্ছে তাই চলে যাবে, শ্বশুররা এ খবর টের পেলে?

    কি করব বড়বৌ, জানোই তো তোমাদের ননদাইকে কেমন একজেদা? মেয়ে বললে পড়ব তো পড়ুক। মেয়ে আকাশের চাঁদ চাইলে চাঁদ পেড়ে আনতে যাবেন এমন মানুষ। তাই তো ভাবলাম, কি লেখে বসে দেখি! ছেলেবুদ্ধি!

    বড় একটা পাথরবাটিতে ডাবের জল নিয়ে এসে দাঁড়াল সুকুমারী।

    ও বাবা কত! এত পারব না ছোটবৌ, তুমি একটু ঢেলে নাও। বলে ভুবনেশ্বরী।

    খাও না, রোদে এসেছ।

    তা হোক, অতটা নয় বাপু।

    অগত্যাই খানিকটা ঢালাঢলি করতে হল সুকুমারীকে। ভুবনেশ্বরী ইত্যবসরে ব্যাপারটাকে লঘুর পর্যায়ে ফেলবার বুদ্ধিটা এঁচে নিয়েছে, তাই ডাবের জলে চুমুক দিতে দিতে ঝট করে বাঁ হাতের মুঠো থেকে কাগজের টুকরোটা এগিয়ে দিয়ে বলে, এই নাও বিদ্যেবতী বৌ, পড় দিকিন এটা! আমরা তো চোখ থাকতে অন্ধ!

    জন্ম জন্ম যেন অন্ধই থাকি বাবা- নিভাননী বিষমুখে বলে, যে জাতের দশহাত কাপড়ে কাছা নেই, তাদের আবার এত চোখ-কান ফোঁটার দরকার কি? বলে, কিন্তু জিনিসটার ওপর এমন ভাবে হুমড়ে পড়ে, দেখে মনে হয় চোখ-কান থাকলে মুহূর্তে গ্রাস করে ফেলত। ভুবনেশ্বরী যাই বলুক, জিনিসটায় যেন রহস্যের গন্ধ।

    সুকুমারী কাগজখানা উল্টে-পাল্টে বলে, কি এ?

    কি তা আমি বলব কেন? তুমি বলো? কৌতুকের হাসি হাসে ভুবনেশ্বরী।

    একটা তো ত্রিপদী ছন্দের দেবীবন্দনা দেখছি, কার লেখা? খুব ভাল হাতের লেখা তো?

    ত্রিপদী ছন্দ শব্দটা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়, কিন্তু দেবীবন্দনা কথাটার অর্থ জানা, তাই ভুবনেশ্বরীর বুক থেকে যেন একটা পাহাড় নেমে যায়, তবে জিনিসটা দোষণীয় নয়।

    পড় তো শুনি?

    সুকুমারী একটু শঙ্কিত দৃষ্টিতে বড়জায়ের দিকে তাকায়। নিভাননীর সামনে পড়া? তিনি এটাকে কোন আলোয় নেবেন? গুরুজনের প্রতি অসম্মাননা? কিন্তু নিভাননীই অভয় দেয়, নাও, পড়ই শুনি। হাবা কালা কানা অন্ধদের জ্ঞান দাও।

    অতএব সুকুমারী একটু কেশে একটু ইতস্তত করে পড়ে–

    এসো মা জননী                  দুর্গে ত্রিনয়নী,
    এসো এসো শিবজায়া,
    সন্তানের ঘরে                     এসো দয়া করে,
    মহেশ্বরী মহামায়া।
    তোমারে হেরিতে                 আশাভরা চিতে
    রয়েছি আকুল হয়ে,
    আসিবে মা তুমি                  এই মর্ত্যভূমি,
    পুত্র কন্যা সাথে লয়ে।
    একটি বৎসর                     শূন্য আছে ঘর
    দুঃখে আছি নিরবধি,
    দিবস রজনী                      কাটে দিন গুনি,
    কবে দিন দেবে—

    ওমা এ কি, শেষ নেই যে? সুকুমারী অবাক হয়ে বলে, এ স্তোত্তর কোথায় পেলে ঠাকুরঝি?

    আর বল কেন? ভুবনেশ্বরী কুণ্ঠা দমন করতে হাতপাখাখানা তুলে জোরে জোরে নাড়তে নাড়তে বলে, সত্যর কীত্তি। লিখছিল–কুমোর এসে কাঠামো বাধছে শুনে ফেলে দিয়ে ছুটে গেল। আমি কুড়িয়ে তুলে–

    তা নকল করেছে কোথা থেকে?

    সকৌতূহল প্রশ্ন করে সুকুমারী।

    নকল করেছে তা মনে হল না ছোটবৌ, ভুবনেশ্বরী যাকে বলে, দোনামোনা সেই সুরে বলে, ও মুখপুড়ী নিয্যস নিজেই বেঁধেছে।

    কি যে বল ঠাকুরঝি, সুকুমারীর কণ্ঠে অবিশ্বাস, নিজে বাঁধবে কি? অতটুকু মেয়ে এসব কথার মানে জানে?

    জানে না কি করে বলি বৌ, মুখপুড়ী লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার ননদাইয়ের কবরেজী শাস্তরের বইগুলো পর্যন্ত টেনে পড়তে বসে।

    সে কথা আলাদা। পারুক না পারুক আম্বা করে বসে কিন্তু ছন্দ বেঁধে আখর মিলিয়ে এত বড় স্তোত্তর তৈরি কি সোজা নাকি?

    ছোটবৌয়ের এই অবিশ্বাসের সুর ভুবনেশ্বরীকে ঈষৎ থতমত করছিল, কিন্তু মেঘ উড়িয়ে দিল নিভাননী, যে নিজে এতক্ষণ মুখে আষাঢ়ের মেঘ নামিয়ে ছোটজায়ের অবলীলাক্রমে’র দিকে তাকিয়ে দিল। সুকুমারীর কথা শেষ হতেই হাত নেড়ে বলে উঠল নিভাননী, তা এতে আশ্চয্যি হবার কি আছে ছোটবৌ? ঠাকুরঝি মনে বেদনা পাবে তাই রেখে-ঢেকে বলা, ঠাকুরঝির ওই মেয়েটিই কি সোজা? কতদিন আগে ভোদার নামে ছড়া বাঁধে নি ও? এ নয় মা-দুগগার নামে বেঁধেছে। তবে ভাবনার কথা বটে। ঠাকুর-জামাইয়ের দবদবায় আমরা দশজনা নয় মুখে চাবি দিয়ে আছি, কিন্তু কুটুম তো তা মানবে না? একবার টের পেলে–

    কথা শেষ হল না, মোক্ষদার হন্তদন্ত মূর্তি দেখা গেল খোলা দরজার সামনে। চলে এস মেজবৌমা, ঝটপট চলে এস, ওদিকে এক কাণ্ড হয়েছে।

    কাণ্ড হয়েছে!

    কী সেই কাণ্ড!

    ভুবনেশ্বরীর মুখে কথা যোগায় না, হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। সুকুমারী তো আগেই ঘোমটা টেনে বসেছে। তবে নিভাননীর কথা আলাদা, এ বাড়ির গিন্নীর পদটা তার, এগিয়ে গিয়ে বলে, কিসের কাণ্ড মাউইমা?

    আর বলো না বাছা। সইয়ের বাড়িতে বসেছি কি না-বসেছি, রাখলা ছোঁড়া রণপা নিয়ে গিয়ে হাজির। কি সমাচার? না শীগগির চল, সত্যর শ্বশুরবাড়ি থেকে লোক এসেছে। ভাগ্যিস দিদিকে বলে এসেছিলাম সইয়ের বাড়ি যাচ্ছি।

    নাঃ, মোক্ষদার কথা শেষ হতে পারে না, সহসা ভুবনেশ্বরী ডুকরে কেঁদে উঠেছে।

    ওমা ও কি। কাঁদছ কেন মেজবৌমা? চল চল, অপিক্ষের সময় নেই। কিন্তু চলবে কে?

    ভুবনেশ্বরীর শুধু পা দুখানাই নয়, সমস্ত লোমকূপগুলো পর্যন্ত যে অবশ হয়ে গেছে।

    সত্যর শ্বশুরবাড়ি থেকে লোক!

    অতএব আর সন্দেহ কি যে সমস্ত জানাজানি হয়ে গেছে। তা ছাড়া আর কি অর্থ থাকতে পারে এরকম বিনা নোটিসে হঠাৎ শ্বশুরবাড়ির লোক আসার? কোথায় কে ঘরশত্রু বিভীষণ আছে সে গিয়ে পলাগিয়ে দিয়েছে সত্যর এই মারাত্মক অপরাধের আর সত্যর বাপের ওই ভয়ানক দুঃসাহসের খবর। এর পর? এর পর আর কি ভুবনেশ্বরী ভাবতে পারে না, শুধু ডুকরোনোর মাত্রাটা বাড়িয়ে বলে ওঠে, ওগো পিসীমা গো, তুমি আমাকে এখানে মেরে ফেলে রেখে যাও, বাড়ি অবধি যেতে পারবো না আমি।

    আহা অধোয্য হচ্ছ কেন মেজবৌমা? মোক্ষদা দেহটাকে প্রায় উলটোমুখো ঘুরিয়ে ব্যস্ত কণ্ঠে বললেন, এখনকি অধোয্যের সময়? এক্ষুনি না যেতে পারো একটু সামলে নিয়ে ভেজের সঙ্গে যেও, আমি চললাম। পা তো আমারও কাঁপছে, কে জানে কী বার্তা নিজে এসেছে! তা বলে কোত্তব্য ত্যাগ করা চলে না। আচ্ছা, আমি এগোলাম।

    ‘রণপা’ ব্যতীতই রণপায়ের বেগে অদৃশ্য হয়ে যান মোক্ষদা।

    .

    ভুবনেশ্বরী যখন নিভাননীর সঙ্গে সন্তর্পণে খিড়কি দরজা দিয়ে ঢুকল, তখন বাড়ির চেহারা নিস্পন্দ।

    যেন এইমাত্র কেউ একটা শোকসংবাদ পাঠিয়েছে।

    তা হলে?

    নিভাননী ফিসফিস করে বলে, বাড়ি এমন থমথমে কেন বল তো ঠাকুরঝি? মন তো ভাল নিচ্ছে না। আর পোড়া মনের স্বধৰ্ম্মই তো কু-কথা গাওয়া। জামাইয়ের কিছু দুঃসংবাদ নেই তো?

    আধমরা মানুষটাকে চৌদ্দ আনা মেরে নিভাননী হৃষ্টচিত্তে উঠোনে পা দিয়ে এদিক ওদিক তাকায়।

    দালানে কারা যেন নিঃশব্দে জটলা করে বসে রয়েছে, ঘোমটা দিয়ে বোধ করি সারদা ঘোরাঘুরি করছে, ছোট ছেলেমেয়েগুলোর পাত্তা নেই।

    এসো ঠাকুরঝি উঠে এসো, নিয়তি যা করবে তা সইতেই হবে, এখন দেখি গে চল কার কি হল।

    নিভাননী নিজে বুঝতে পারুক না-পারুক, তার অবচেতন মনের একটা ফটোগ্রাফ নিতে পারলে সেখানে একটা প্রত্যাশার ছবি দেখতে পাওয়া যেত। জামাইটির কিছু হলেই যেন প্রত্যাশাটি পূর্ণ হয়। নন্দাইয়ের দবদবা সেই গহন গভীরে যে একটি অনির্বাণ দাহ সৃষ্টি করে রেখেছে, সেটাও বুঝি কিঞ্চিৎ শীতল হয় এমন একটা কিছু হলে।

    ভুবনেশ্বরী কিন্তু দাওয়ায় উঠে দালানের চৌকাঠ পার হবার সাহস সঞ্চয় করতে পারে না, উঠোনের পৈঠেতেই বসে পড়ে বলে, আমার হাত পা উঠছে না বড়বৌ, তুমি দেখ গে।

    শোন কথা! তুমি এখেনে এমন করে বসে থাকলে চলবে কেন? ভীমের গদা বুকে পড়লেও তো বুক পেতে নিতে হবে ঠাকুরঝি! কণ্ঠস্বর সহানুভূতিতে কোমল হয়ে আসে নিভাননীর, চল, আমি তোমায় আগলে দাঁড়াই গে।

    ভয় যতই তীব্র হোক, ভয়ের আকর্ষণটাও যে ততোধিক তীব্র। কাজে কাজেই উঠে পড়ে ভুবনেশ্বরী। আস্তে আস্তে দাওয়ায় উঠে দালানের কোণের দিকের একটা জানলায় উঁকি মারে। নিভাননী অবশ্য দরজায় পৌঁচেছে।

    কিন্তু ব্যাপারটা কি হল?

    ভালমন্দের মত তো কিছু দেখাচ্ছে না। অন্তত সত্যর শ্বশুরবাড়ি থেকে আগতা হৃষ্টপুষ্টাঙ্গী রমণীটির হিসেবে তো মনে হচ্ছে পুরোপুরি ভালই।

    হয় কোনও দাসী, নচেৎ নাপিতমেয়ে, এ ছাড়া আর কে-ই বা আসবে? যেই হোক, আপাতত তার আদরটা প্রায় মহারাণীর মত। জল খাওয়াতে বসানো হয়েছে তাকে, চারিদিকে ঘিরে বসে আছেন দীনতারিণী, কাশীশ্বরী, মোক্ষদা, শিবজায়া, ছোটজেঠী, তা ছাড়া আশ্রিতা প্রতিপালিতার ঝাঁক।

    সকলের মুখের চেহারাতেই একটি ভক্তি-বিনম্র সমীহ ভাব।

    আর মধ্যমণিটির মুখচ্ছবিতে অহংবোধের দৃপ্ত মহিমা। তার সামনে কানাউঁচু বড়সড় পাথরের খোরা, তার মধ্যস্থলে মন্দিরাকৃতি শুকনো চিড়ের স্থূপ, পাশে একটি উঁচু কালো পাথরবাটি ভর্তি দই এবং সন্নিকটে একখানি অঙট কলার পাতে স্থাপিত ছড়াখানেক চাটিম কলা, গণ্ডাচারেক দেদো মণ্ডা, একরাশ ফেনী বাতাসা এবং ক্ষীরের ছাঁচ, চন্দ্রপুলি, নারকেলনাড়, বেসননাড়ু ইত্যাদি বেশ একটি বড়গোছের সম্ভার।

    অর্থাৎ ঘরে সংসারে যত প্রকারের মিষ্ট বস্তু ছিল, সব কিছু দিয়ে তুষ্ট করার চেষ্টা চলছে কুটুমবাড়ির নাপতিনীকে।

    হ্যাঁ, নাপতিনীই।

    মালুম হয় দীনতারিণীর কথাতেই। নিতান্ত কাকুতিভরা কণ্ঠে বলছেন তিনি, আর দুটোখানি চিড়ে দিই নাও নাপিত বেয়ান, আর বেয়ানই বা কেন, হিসেবে তো মেয়ে সুবাদ হচ্ছ, মেয়ে বলি। আর দুটো চিড়ে একেবারে মেখে জব্দ করে নাও মেয়ে, দইয়ে ভিজলে ও আর কটা? সেই কোন ভোরে বেরিয়েছে। রোদে একেবারে মুখচোখ সিটিয়ে গেছে।

    ভুবনেশ্বরী বোধ করি বিহ্বলতার বশেই জানলা ছাড়তে ভুলে গিয়েছিল, নিষ্পলক নেত্রে ঠায় তাকিয়েছিল সেই দেবমূর্তি আর তার নৈবেদ্যের দিকে, হঠাৎ একসময় পিছনে একটা মৃদুকণ্ঠের আভাসে চমকে ফিরে তাকাল, পিছনে সারদা।

    এখানে দাঁড়িয়ে কেন মেজখুড়িমা?

    দাঁড়িয়ে কেন? এমনি। ঘরে ঢুকতে পা উঠছে না। ও কেন এসেছে বড়বৌমা?

    কেন আর? সারদা অস্ফুট ম্রিয়মাণ গলায় বলে, এসেছে মস্ত উদ্দেশ্য নিয়ে। বৌ নিয়ে যাবার বার্তা পাঠিয়েছেন তাঁরা। আশ্বিন পড়তেই নিয়ে যাবেন বলছে।

    আশ্বিন পড়তেই! বলো কি বড়বৌমা! এই কদিন বাদ?

    তাই তো বলছে। একেবারে নাকি পুরুত দিয়ে দিন দেখিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁরা।

    কিছুক্ষণ স্তব্ধ থেকে ভুবনেশ্বরীর বুক ছিঁড়ে একটা প্রশ্ন ওঠে, সত্য টের পেয়েছে?

    তা আর পায় নি?

    কি করছে?

    তা তো জানি না খুড়িমা। ভয়ে ভয়ে ঘরে গিয়ে সেঁধিয়েছে বোধ হয়!

    আমি যে বাড়ি ছিলাম না–এটা কেউ টের পেয়েছে?

    এবার সারদা একটু সত্য গোপন করে, বলতে পারছি না মেজখুড়িমা, বোধ হয় পান নি কেউ। গোলেমালে ব্যস্ত আছেন সবাই।

    সত্য কথা বলা চলে না।

    কারণ অনুপস্থিত ব্যক্তি সম্পর্কে যে ধরনের আলোচনা হয়, সেটা যথাযথ প্রকাশ করলে লাগিয়ে দেওয়া ভাঙিয়ে দেওয়ার পর্যায়ে পড়ে।

    ব্যস্ত থাকলেই বাঁচন ভুবনেশ্বরী আর একটা দীর্ঘশ্বাস-বাক্যে উচ্চারণ করে। কিন্তু এখন হঠাৎ এ কি বিপদ বড়বৌমা!

    বড়বৌমা কিছু বলার আগেই নাপিত-মেয়ের মাজা-ঘষা চাচা গলাটি ধ্বনিত হয়, বাপ বাড়ি নেই বলে মত দিতে ছুতো করছ কেন মাউইমা? আমি তো আর আজই নে যাচ্ছি না। আমাকে এ মাসের কটা দিন এখেনে থেকে একেবারে আশ্বিনের তেসরা তারিখে নিয়ে যেতে বলেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }