Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৭. ভাগ্যবানের বোঝা ভগবান বয়

    কথায় বলে, ভাগ্যবানের বোঝা ভগবান বয়! রাসুর বৌ সারদা অবশ্য নিজেকে খুব একটা ভাগ্যবতী মনে করে না, বরং যখন তখন আমার যেমন ভাগ্য বলে আক্ষেপ করতে ছাড়ে না। কিন্তু এক হিসেবে এযাবৎ ভগবান তার বোঝা বয়ে এসেছেন। বয়ে এসেছেন গ্রহ-নক্ষত্রের একটি সুকৌশল সমাবেশ ঘটিয়ে।

    নইলে পাটমহলের লক্ষ্মীকান্ত বাঁড়ুয্যের নাতনীর তো এখনো পাটমহলেই পড়ে থাকবার কথা নয়। কিন্তু তাই পড়ে আছে সে, সারদাকে নিঃসপত্নী রাজভোগের সুযোগ দিয়ে।

    লক্ষ্মীকান্ত নেই, কিন্তু তার পুত্র শ্যামকান্ত বাপের ঠাট-বাট বজায় রেখেছেন। সর্ববিধ আচার-আচরণ মেনে চলেন তিনি। নড়তে-চড়তে পাঁজিপুঁথি দেখেন এবং গ্রহ ফাঁড়া ঠিকুজিকোষ্ঠী ইত্যাদি গোলমেলে ব্যাপারে প্রত্যেক সময় কাশী-প্রত্যাগত জ্যোতিষার্ণব ঠাকুরের উপদেশ গ্রহণ করে থাকেন।

    জ্যোতিষার্ণই পটলীর কোষ্ঠী দেখে তার পতিগৃহে যাত্রা সম্পর্কে একটি বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন।

    ঘোষণা করেছিলেন, আঠারো বছরে পদার্পণের আগে পটলীর স্বামী-সন্দর্শনে বিপদ আছে। উক্ত কলাবধি তার পতিসুখস্থানে রাহুর কটাক্ষ।

    জোতিযার্ণবের ঘোষণায় অবশ্য আশ্চর্য কেউ হয় নি, বরং যেন এ ধরনের একটা কিছু না হলেই আশ্চর্য হত। কারণ পটলীর পতিসুখস্থানে যে রাহুর সৃষ্টি, সে আর জ্যোতিষীকে বলতে হবে কেন? সে তো তার বিয়ের দিনই হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গেছে।

    নেহাৎ নাকি ওর বাপের পূর্বজন্মের পুণ্যি ছিল, তাই সেই বিয়ের বর রামকালী কবরেজের দৃষ্টিপথে পড়ে গিয়েছিল। নয়তো পটলীকে তো বাসররাতেই শাখানোয়া খুলতে হত। আর নয়তো দাপড়া আধাবিধবা হয়ে জীবনটা কাটাতে হত।

    রামকালী কবরেজ ভগবান হয়ে এসে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু অদৃষ্টের ফল কে খণ্ডাবে বল! তাই গ্রহ-নক্ষত্ররা আঙুল তুলে নিষেধ করে রেখেছে, পটলী, তুই স্বামীর দিকে চোখ তুলবি না। অন্তত আঠারো বছর বয়স হবার আগে নয়।

    লক্ষ্মীকান্তর শ্রাদ্ধের সময় সামাজিক আচার অনুযায়ী জামাইকে শ্যামাকান্ত নিমন্ত্রণ করেছিলেন। তবে বাড়িতে কড়া শাসন করে রেখেছিলেন, মেয়ে-জামাইয়ে দেখাশুনো না হয়। কিন্তু ভাগ্যচক্রে জামাইয়ের আসাই হল না। সেইদিনই নাকি জামাইয়ের রক্ত-আমাশা দেখা দিল। কে জানে সের দুই কাঁচা দুধ খাবার ফল কিনা সেটা।

    যাক সে সব তো অতীত কথা।

    শ্যামাকান্ত মেয়ের শ্বশুরকে তার কোষ্ঠীঘটিত বিপর্যয় জানিয়েছিলেন। কাজেই এতদিন ওপক্ষ থেকে বৌ নিয়ে যাবার প্রস্তাব ওঠে নি। দীনতারিণীর অত বড় সমারোহের শ্রাদ্ধেও শ্বশুরবাড়ি আসা হল না তার।

    এক ঘাট করতে যে যেখানে জ্ঞাতিগোত্র ছিল সবাই এসে জড় হল, সত্য পুণ্যি কুঞ্জর পাঁচ পাঁচটা শ্বশুর-ঘরন্তী মেয়ে, শিবজায়ার দৌতুরগুষ্টি, বাকী কেউ থাকে নি বাকী ছিল শুধু পটলী যে নাকি সর্বপ্রধানের এক প্রধান।

    কিন্তু এবার সময় এসেছে।

    আঠারো বছরে পদার্পণ করেছে পটলী। কুঞ্জগৃহিণী অভয়া ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন নতুন বৌকে আনতে। মুখে বলেছেন অবশ্য, আর ফেলে রাখলে কি ভাল দেখায়, কিন্তু ভিতরের উদ্দেশ্য আরো গভীর, উদ্দেশ্য বড় বৌয়ের তেজ অহঙ্কার ভাঙা। সারদার যত তেজ, তত অহঙ্কার। দিন দিন যেন বাড়ছে। সংসারে ভুবনেশ্বরীর শূন্য স্থানটা কেমন করে কে জানে আস্তে আস্তে সারদার দখলে এসে গেছে। ভুবনেশ্বরীর মতই সারদা ভিন্ন যেন সব দিক অচল। কিন্তু ভুবনেশ্বরীর নম্র নীরবতা সারদার মধ্যে নেই, সারদা যতটা চৌকস, ততটাই প্রখর। শাশুড়ীকেও সে ডিঙিয়ে যেতে চায়।

    অথচ দীনতারিণীর মৃত্যুতে গিন্নীর যে পদটা অভয়ার পাবার কথা, তা যেন অভয়া পেল না। অভয়ারা সেই হেঁসেলে চাকরির ঊর্ধ্বে নতুন কিছু হল না, বরং সেটাই আরো জটিল হয়ে উঠেছে। কাশীশ্বরী তো নেই-ই, হঠাৎ পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে মোক্ষদাও কেমন কমজোরি হয়ে গেছেন। কাজেই অভয়াকে সদ্য-স্নানান্তে ওঁদের ঘরেও কিছু গুছিয়ে দিয়ে আসতে হয়। বাটনাটা জলটা।

    মোক্ষদা হাতী হাবড়ে পড়ার নীতি’তেই সেই চির-অস্পৃশ্যার জল স্পর্শ করেন।

    অতএব সমগ্ৰ সংসারটা অনেকটা বেলা পর্যন্ত সারদার হাতেই থাকে। সঙ্গে থাকেন অবশ্য শিবজায়া, থাকেন আরও জ্ঞাতি মহিলারা, কিন্তু আশ্চর্য, সবাই যেন আমে দুধে মিশে গেছে। অভয়া-রূপিণী আঁটির ঠাই হয়েছে ছাইগাদায়। অন্তত অভয়ার তাই ধারণা।

    বৌয়ের এই প্রতাপ, এই দপদপা আর সহ্য করতে পারছেন না অভয়া। ঢিট করতে ইচ্ছে করছে বৌকে। তা অস্ত্র তাঁর হাতে এসে গেছে এবার। শ্যামাকান্ত জানিয়েছেন, আঠারো বছরে পা দিয়েছে পটলী।

    শুনে বুকের জোর বাড়ল অভয়ার। ভাবলেন বড়বৌমার তেজ আসপদ্দা কমুক একটু। সতীন এনে বুকে দিলে মেয়েমানুষ যেমন করে ঢিট হয়, তেমন আর কিসে?

    .

    ওদিকে পাটমহলে মস্ত তোড়জোড়।

    ফাঁড়া কেটেছে এতদিন পরে, ঘরবসত হচ্ছে মেয়ের, ঘরভরা জিনিস দেবার বাসনা পটলীর মা বেহুলার। জিনিস গোছাচ্ছে, আর উঠতে বসতে মেয়েকে উপদেশ দিচ্ছে কিসে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে “একজন” হতে পারে। মেয়েটা যে বড় ন্যাকা-হাবা, তাই ভাবনা বেহুলার।

    তবে অন্যদিকে একটা মস্ত ভরসা আছে পটলীর মার। অলক্ষ্যে প্রতি মূহুর্তে মেয়ের দিকে তাকিয়ে দ্যাখে আর সেই ভরসায় আলো মুখে ফুটে ওঠে। পটলীর সতীনের বয়সটা মনে মনে হিসেব করে সে আলো আরও জোরালো হয়। পটলীর সঙ্গে কার তুলনা?

    একে তো ভরন্ত বয়েস, তায় আবার এতকাল অবধি বাপের ঘরে নিশ্চিন্দির ভাত খেয়ে খেয়ে গড়ন হয়েছে পুরন্ত। আর রূপ? সে তো সেই শৈশভ থেকেই একরকম ডাকসাইটে।

    ঘরে পরে সবাই বরং ওই রূপের জন্যেই খোটা দেয় তাকে। বলে, অতি বড় সুন্দরী না পায় বর, শাস্তরের এ কথাটা নতুন করে প্রমাণ করছিস পটলী তুই। এর থেকে আমাদের কালো খেদি মেয়েরা অনেক ভাল। তোর বয়সী সবাই তিন-চার ছেলের মা হল।

    এখন আবার ভয়ও দেখাচ্ছে অনেকে।

    বলছে, সতীন এখন স্থলকূল দিলে হয়! এযাবৎ একা পাটেশ্বরী হয়ে রয়েছে-পটলীর মা, তুমি মেয়ের গলায় কোমরে ভালমতন রক্ষাকবচ বেঁধে দিও। কে জানে কার মনে কি আছে! মেয়েকে বারণ করে দিও যেন সতীনের হাতের পান জল না খায়!

    .

    আশা আর আশঙ্কা, স্বপ্ন আর আতঙ্ক, এই নিয়ে দিন কাটাতে কাটাতে অবশেষে একদিন পটলীর জীবনের সেই পরম দিনটি এসে পড়ে। শ্বশুরবাড়ি যাত্রা করে পটলী।

    বাড়িটার খানিক খানিক ঝাঁপসা ঝাঁপসা মনে আছে। বড় যে উঠোনটায় বৌছত্তরের উপর গিয়ে দাঁড়িয়েছিল, মস্ত যে দালানটায় তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছিল, ঘাটের যে ধারটায় স্নান করিয়েছিল পটলীকে, যে ঘরে আটদিন বাস করেছিল সে, এইরকম একটু একটু–আর বিশেষ কিছু না।

    অতগুলো মেয়েমানুষের মধ্যে কে যে তার সতীন, সে কথা বুঝতেই পারে নি পটলী। তা ছাড়া বোঝবার চেষ্টাই বা করেছে কে? কেঁদে কেঁদে যার চোখ ফুলে করমচা!

    শুধু তো শ্বশুরবাড়ি আসার কান্না নয়, নিজেকে ভয়ঙ্কর একটা অপরাধী ভেবে আরও কান্নার যোগ হয়েছিল তার সঙ্গে। সত্যি, পটলীর মত মহা-অপয়া ত্রিজগতে আর কে আছে?

    বিয়ের বর বিয়ে করতে এসে রাস্তায় মরে, এমন কথা কে কবে শুনেছে? তার পর আবার এ বাড়ি? বৌভাতের যজ্ঞির দিন বাড়ি যখন রমরম করছে, তখন কিনা বাড়ির একটা জলজ্যান্ত বৌ হারিয়ে গেল! শুনে হা হয়ে গিয়েছিল পটলী।

    পুরুষমানুষ রাস্তায়-ঘাটে বেরিয়ে সাপের পেটে বাঘের পেটে কি চোর-ডাকাতের হাতে পড়ে হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু মেয়েমানুষ? বিশেষ করে বৌ-মানুষ? ঘরের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাবে কি? ভূতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া ব্যাপার ছাড়া আর কিছু ব্যাখ্যা করা চলে না এর।

    সেই ব্যাখ্যাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে সকল কারণের মূল নিজের উপর বিকারে আর ভয়ে যখন খালি কেঁদে আকুল হয়ে যাচ্ছিল, তখন সত্য এসে জ্ঞান দিয়েছিল তাকে।

    হ্যাঁ, ওই আর একটা বস্তু মনে আছে পটলীর।

    সত্য!

    আর্শির মতন চকচকে সেই বড় বড় দুটো চোখ, আর তার উপরকার ঘনকালো জোড়া ভুরু, এখনও যেন স্পষ্ট মনে পড়ে যায় পটলীর।

    পটলীর কান্নার কারণ শুনে সেই ভুরু কুঁচকে বলেছিল সত্য, নিজেকে অপয়া বলে কেঁদে মরছ কেন? ভগবান যার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছে তার তাই হবে। নিজেকে সমস্ত ঘটন-অঘটনের হেত ভাববার হেতু? তুমি যদি না জন্মাতে, এই পৃথিবীর কলকব্জা বন্ধ থাকত?

    অবাক হয়ে গিয়েছিল পটলী তার সেই প্রায় সমবয়সী খুড়তুতো ননদের কথা শুনে। তার জীবনে এ হেন কথা সে কখনো শোনে নি। তাও আবার এতটুকু মেয়ের মুখে!

    অথচ এই কদিন পরে অনবরত সব গুরুজনের মুখে শুনছে পটলী, পটলীই নাকি সকল অঘটনের কারণ।

    পটলীর দোষেই নাকি যত কিছু খারাপ।

    সেই ননদ এখন নিশ্চয় শ্বশুরবাড়ি। কোন মেয়েটা আর পটলীর মত ফাঁড়া নিয়ে বাপের বাড়ি বসে থাকে?

    .

    তোড়জোড় এ বাড়িতেও চলছিল।

    অভয়া যেন একটু বেশী-বেশীই করছেন।

    করছেন ভালবেসে যতটা না হোক, লোক জানাতে। সারদা এবং সারদার সুয়োরা যাতে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে, যে আসছে সে কারো করুণার ভিখিরী হয়ে নয়। আসছে রীতিমত অধিকারের দাবী নিয়ে।

    অবিশ্যি ঘরটা সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু উচ্চারণ করতে পারেন নি, কিন্তু ইশারায় ইঙ্গিতে ব্যক্ত করেছেন, এখন থেকে সারদার উচিত ছেলেদের নিয়ে এদিককার ঘরে শোওয়া। ছেলে ডাগর হয়ে উঠেছে, আর এখন ঘর আগলানো কেন?

    তবে সারদা এসব ইশারা-ইঙ্গিত গায়ে মাখে না। বড় ছেলে ডাগর হয়ে ওঠা অবধি তো তাকে তার কাকাদের কাছে ভর্তি করে দিয়েছে সারদা। নিজের এলাকা ঠিক রেখেছে।

    বড় ছেলে ‘বনু’ বা বনবিহারী তো ছোটকাকা নেড়ুর প্রাণপুতুল ছিল। নেড়ু হারিয়ে যাওয়া অবধি অন্য কাকাঁদের। প্রাণপুতুল অবশ্য সকলেরই, কিন্তু সর্বেসর্বা প্রথম নাতিটিকে অভয়া যেন তেমন দেখতে পারেন না। ছেলেটা শুধু সারদার পেটের বলেই নয়, বড় বেশী মা-ঘেঁষা বলেও। তাই যখন-তখনই তাকে খিঁচিয়ে বলতেন, রাতদিন ছোটকাকা ছোটকাকা! ছোটকাকার যখন বিয়ে হয়ে যাবে?

    মেজকাকা থাকতে ছোটকাকার বিয়ে কেন হবে, অথবা বিয়ে হলে ভাইপোর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধবার কারণটা কি, এ প্রশ্ন করত না ছেলেটা, শুধু সবেগে বলে উঠত, ছোটকাকাকে বিয়ে করতে দেবই না।

    অভয়া আরও খিঁচিয়ে বলেন, তা দিবি কেন? কারুর আর এসে কাজ নেই, ভাগ নিয়ে কাজ নেই। একা তোর মা-ই সব্বস্ব দখল করে বসে থাকুক।

    তা তার সেই ছোটকাকা নিরুদ্দেশই হয়ে গেল, বিয়ে আর হল না।

    অভয়া ভাবেন, এ ঐ অপয়া ছেলেটার বাক্যির ফল।

    আর বাক্যগুলো মার শিক্ষার ফল।

    সারদা হাতের বাইরে বলে অভয়া হাতের মুঠোয় পুরতে পারেন এমন একটি হাতের পুতুলের বাসনা করছেন। তাকে নিয়ে অভয়া সাজাবেন খাওয়াবেন চোখের ইশারায় ওঠাবেন বসাবেন।

    মেজবৌটা এলেও হত!

    অথচ অভয়ার মেজছেলের বিয়ের কথা মুখেও আনছেন না রামকালী। বরং একদিন বড় ভাইয়ের মুখের ওপরই স্পষ্ট বলেছিলেন, ওই অপদার্থটার বিয়ে দিয়ে কি হবে?

    অপদার্থ বলে যে বেটাছেলের বিয়ে হবে না, এমন ছিষ্টিছাড়া কথা ত্রিসংসারে কে কবে শুনেছে? কিন্তু কুঞ্জ চিরদিনই ছোট ভাইয়ের ভয়ে কাঁটা। সমালোচনা যা করেন সে আড়ালে। তাই যা বলেছেন আড়ালেই বলেছেন। নিজে সাহস করে বিয়ের ব্যবস্থা করতে যান নি।

    যাক, এতদিনে অভয়ার একটা নিজস্ব বস্তু পাবার আশা হচ্ছে।

    কিন্তু একেবারে নিঃসংশয় সুখ জগতে কোথা?

    নতুন বৌয়ের বয়সের কথা ভেবে বুকের মধ্যে তেমন স্বস্তি নেই।

    বুড়ো শালিখ কি পোষ মানবে?

    পাকা বাঁশ কি নুইবে?

    .

    কিন্তু পটলী কি পাকা বাঁশ?

    কে জানে পটলী কি!

    মেয়েমানুষ যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ-কেন্দ্রে এসে দাঁড়ায়, ততক্ষণ তাকে কে চিনতে পারে? ভাল মেয়ে লক্ষ্মী মেয়ে এসব বিশেষণ কত ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে যায়।

    পটলী কি তা না জানলেও পটলীর ফাড়া কাটার খবর পাওয়া পর্যন্ত সারদার বুকে বাঁশ পড়েছে। কে যেন সেই বাঁশ দিয়ে অহরহ ডলছে তাকে।

    আর রাসু?

    রাসুরও যন্ত্রণার শেষ নেই।

    মনের মধ্যে দারুণ এক ভয়, অথচ পুলককম্পিত আবেগ। না জানি সেই সাত বছরে মেয়েটি আঠারো বছরের হয়ে কেমনটি হয়েছে। এখান থেকে পত্তর নিয়ে যে গিয়েছিল, সেই রাখুর মা তো এসে বলেছেন, বৌ তো নয়, যেন পদ্মফুল!

    শুনে অবধি এক অবর্ণনীয় সুখকর যন্ত্রণা রাসুর মনকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

    সেই পদ্মফুল কি রাসুর পূজোয় লাগতে দেবে সারদা? নাকি বহুদিন আগের সেই এক দুর্বল মুহর্তের শপথটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বঞ্চিত করে রাখবে রাসুকে?

    সারদা কোনদিনই পদ্মফুল নয়।

    পদ্ম গোলাপ চামেলী মল্লিকা কিছুই নয়, ফুলের সঙ্গেই যদি তুলনা করতে হয় তো বলতে হয় অপরাজিতার গা-ঘেঁষা।

    কিন্তু শ্যামলা রং হলেও তীক্ষ্ণ মুখশ্রী আর অনবদ্য গঠন-সৌকুমার্যের জোরে এ বাড়ির বড়বৌ হয়ে ঢোকবার সৌভাগ্য তার হয়েছিল।

    আর এখন প্রবল ব্যক্তিত্বের জোরে বাড়ির একেবারে শীর্ষস্থানীয় হয়ে বসে আছে সে। কিন্তু রাসু এখনো জীবনরসের সন্ধানী নবীন যুবক। প্রখরা আর মুখরা সারদাকে সে আজকাল ভয় করে।

    অবশ্য স্বামীসেবার নিখুত নৈপুণ্যে বরকে আয়ত্তে রেখে দিয়েছে সারদা নিখুত ভাবেই। এখনো গরমকালের রাতে পাখা ভিজিয়ে বাতাস করে স্বামীকে, শীতের রাতে পিদ্দিমে হাত তাতিয়ে ঠাণ্ডা সিরসিরে হাত-পা গরম করে দেয় তার।

    আর সংসারের কাজে রান্নাঘরের গরমে যতই গলদঘর্ম হোক, শৌখিন বরটির কাছে রাতে শুতে আসার সময় গা-হাত ধুয়ে কোচানো মিহি শাড়িখানি পরতে ছাড়ে না, মাথায় গন্ধ তেলটি দিয়ে একটু চকচকে হয়ে আসতে ভোলে না।

    কিন্তু প্রস্ফুটিত পদ্মের সঙ্গে কি গন্ধ তেল পাল্লা দিতে পারবে?

    .

    বৌ এসে দাঁড়াতেই একা ধন্যি ধন্যি রব উঠল। উঠল দু কারণেই। একে তো বৌয়ের রূপ, তার উপর ঘরবসতের সামগ্রীর বহর।

    রামকালী কবরেজের সংসারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রাচুর্য, ঘর-সংসারের জিনিসপত্র তিনি অপ্রয়োজনেই কতকগুলো করে করিয়ে রেখে দেন, কোন একটা উপলক্ষ হলেই। খুঁজলে বাড়িতে ছোটয়-বড়য় খাবারো জাতা মিলবে, খানষোল শিল। জলের ঘড়া না হোক গোটা চল্লিশ-পঞ্চাশ। তবু মেয়েদের মন!

    সেই শিল-নোড়া আঁতা-কুলো ঘড়া-ঘটি ইত্যাদি করে সংসার-নির্বাহের তুচ্ছ উপকরণগুলোই তাদের মন আহ্লাদে ভরে তোলে।

    সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে, কুটুমের নজর আছে। ঠানদি নন্দরাণী হেসে বলে, না দেওয়ার মধ্যে দেখছি ঢেঁকি। একটা ঢেঁকি দিলেই রাসুর শ্বশুরের ষোলকলা দেওয়া হত। ঘরবসতে বৌমার বেহাই ওইটেই বা বাকী রাখল কেন?

    না, ঢেঁকিটা পটলীর বাবা দেয় নি।

    কিন্তু পটলীকে দিয়েছে!

    আর পটলীই ঢেঁকির মুষল হয়ে অন্তত একজনের বুকের গহ্বরে পাড় দিতে শুরু করেছে।

    তবু সেই টেকির পাড়ের মধ্য থেকেই শক্তি সঞ্চয় করে নেয় সারদা। সংকল্প করে এ সতীনকে সে স্বামীর ধারেকাছে আসতে দেবে না। সেই সিংহবাহিনীর শপথটা রীতিমত কাজে লাগাবে।

    তা ছাড়া আর উপায় কি!

    রাসুকে তো চিনতে বাকী নেই সারদার। এই রূপসীর কাছে আসতে পেলে রাসু তো তদ্দণ্ডেই মাথা মুড়িয়ে তার চরনে নিজেকে বিকিয়ে দেবে।

    .

    প্রথম দিন অবিশ্যি অভয়াই বৌকে কাছে নিয়ে শুলেন এবং অনেক রাত পর্যন্ত জেগে আর জাগিয়ে বৌকে জ্ঞানদান করতে চেষ্টা করলেন…এ সংসারে তার কে আপন কেহ পর! কাকে সমীহ করতে হবে, আর কাকে সন্দেহ করতে হবে।

    কিন্তু পরদিন কি হবে?

    অথবা তারও পরদিন?

    পর পর চিরদিন?

    সারদা সেই কথাই ভাবতে থাকে।

    আজ তো গেল। কিন্তু কাল?

    এবং চিরকাল?

    রাসুর জন্যে না হয় সিংহবাহিনীর শপথ। কিন্তু সংসারের আর দশজনের কী ব্যবস্থা? তাদের প্রশ্নবান যখন বিষের প্রলেপ মেখে বুকে এসে বিধবে? কি উত্তর দেবে সারদা?

    .

    ঘরের প্রদীপ নেভানো, রাসু এখনো বারবাড়ি থেকে আসে নি।

    বৈশাখের দুরন্ত বাতাসে বৈশাখী চাপার মদির গন্ধ, ছোট ছোট গবাক্ষ-পথেও সেই বাতাস ঝলসে জলকে ঢুকে পড়েছে, আর সারা ঘরে ছড়িয়ে দিচ্ছে তার সুবাস।

    এই রাত্রি, এই মোহময় বাতাস, আর এই ব্যথায় টনটনে বুক-এর মাঝখানে কি আনা যায়, সারদা অনেকদিন স্বামীসঙ্গ পেয়েছে, সারদার ছেলের বয়স এখন বারো!

    ভাবা যায়, সারদার জীবনের ভোগপাত্রের দিকে হাত বাড়ানো শোভন নয়, স্বামীর অধিকার স্বেচ্ছায় ত্যাগ করে ভাঁড়ারের হাঁড়িকুঁড়ির মধ্যে জীবনের সার্থকতা খুঁজে বার করাই এখন তার উচিত।

    আশ্চর্য, আশ্চর্য, কিছুতেই কেন বিশ্বাস হচ্ছে না এই ঘর সারদা এত দিন ভোগ করছে?

    বরং দৃষ্টি-অন্ধকার-করে দেওয়া অশ্রু-বাম্পের সঙ্গে বারে বারে মনে হচ্ছে, ক’দিনই বা

    মাঝে মাঝে কাদচ কখনো যে বাপের বাড়ি গিয়ে থেকেছে, সেইগুলোই যেন এখন মনে হচ্ছে বিরাট এক-একটা বিরতি।

    কিন্তু গরীব গেরস্ত বাপ সারদার, কতই বা নিয়ে যেতে পেরেছে মেয়েকে! ওর এই ষোল সতেরো বছরের বিবাহিত জীবনের মধ্যে দিন মাস ঘণ্টা মিলিয়ে হিসেব করলে না হয় চার-পাঁচটা বছর!

    তা হলেও তো হাতে থাকে এক যুগ।

    কখন কোথা দিয়ে গেল সেই দীর্ঘ এক যুগ?

    আস্তে আস্তে ঘরে এস ঢুকল রাসু। বরাবর যেমন ঢোকে। সারদা যে ধরনটাকে ব্যঙ্গহাসিতে অভিষিক্ত করে বলে, চোরের মতন।

    এই নতুন বিয়ের বরের ভঙ্গীটা আর কোনদিনই বদলাল না রাসুর।

    তবে কি সেও টের পায় নি কবে কখন তার বয়স আঠারো থেকে চৌত্রিশে এসে পৌচেছে? টের পায় নি, মাঝখানের সেই বয়সগুলো হাতফসকে পালাল কি করে?

    তাই আজও শয়নমন্দিরে ঢুকতে তার লজ্জা!

    .

    আজ কিন্তু সমস্তটা দিন রাসুর বড় যন্ত্রণায় কেটেছে। অব্যক্ত সেই যন্ত্রণাটা যেন ধরা-ছোওয়া যাচ্ছে না, শুধু মনটা ভারাক্রান্ত করে রেখেছে।

    তা যন্ত্রণার কারণ আছে বৈকি।

    এ যন্ত্রণা শুধু যে রূপসী স্ত্রীকে এখনো চোখে দেখতে পায় নি বলে তা নয়, কর্তব্য নির্ধারণের দ্বন্দ্বই বেচারী রাসুকে এত বিচলিত করছে।

    অতঃপর রাসুর কর্তব্য কি?

    পূর্ব শপথ স্মরণ করে দ্বিতীয়বার মুখদর্শন না করা? সারদার প্রতিই একান্তক অনুরক্তি রেখে চলা? না শপথটা একটা মুখের কথামাত্র বলে উড়িয়ে দিয়ে

    যন্ত্রণা এইখানেই।

    উড়িয়ে দিলে সারদা যদি ভয়ঙ্কর একটা কিছু করে বসে? তা ছাড়া সারদা মর্মাহত হবে, সারদা রাসুকে ধিক্কার দেবে, ঘৃণা করবে, এ কথা ভাবতেও তো বুকটা ফাটছে।

    অথচ সারদার প্রতি সেই আনুগত্যের শপথ রক্ষা করতে গেলে আর একটা নির্দোষ অবলা সরলার প্রতি অবিচার করা হয়। এতদিন পরে স্বামীগৃহ এসে স্বামীর এই নিষ্ঠুরতা দেখে সেও কি দুঃখে লজ্জায় অভিমানে দেহত্যাগ করতে চাইবে না? এতখানি আঘাত তাকে দেওয়া যাবে? যে নাকি বৌ নয়, যেন পদ্মফুল!

    এই দোটানায় রাসু সারাদিন টুকরো টুকরো হচ্ছে।

    তবু ঘরে ঢুকে সহজ হবার চেষ্টা করল রাসু। বলল, উঃ, কী অন্ধকার!

    একটা মাত্র মাটির প্রদীপে মস্ত একখানা ঘরের অন্ধকার দূরীভূত হয় এ কথা রাসুর আমলে হাস্যকর ছিল না। তাই সেই দীপশিখাটুকুর অভাবে রাসু বলল, উঃ, কী অন্ধকার!

    কিন্তু ও পক্ষ থেকে এ সম্পর্কে কোন সাড়া এল না।

    রাসু যথানিয়মে দরজায় হুড়কোটা এঁটে সরে এসে এসে বলল, পিদ্দিম জ্বালো নি যে?

    এবার সারদা কথা বলল।

    আর আশ্চর্য, ভিতরকার সেই বেদনা-বিধুর হাহাকার যখন কথা হয়ে বেরিয়ে এল, এল তীক্ষ্ণ তীব্র একটি ব্যঙ্গের মূর্তিতে। হয়তো এইজন্যই স্বভাব জিনিসটাকে মৃত্যুর ওপার পর্যন্ত বিস্তৃতি দেওয়া হয়েছে।

    সারদা তীক্ষ্ণ হুল ফোঁটানোর সুরে বলে উঠল, আর পিদিম জ্বালার দরকার কি? বাড়িতে যেকালে পুন্নিমা চাঁদের উদয় হয়েছে!

    পূর্ণিমা চাঁদ!

    রাসু সরল, রাসু অবোধ, রাসু এইমাত্র স্বর্গ হতে খসে পৃথিবীতে এসে পড়েছে। পূর্ণিমা চাঁদ মানে?

    ও, মানে জানো না বুঝি? স্বামীকে যেন বিদ্রুপে খানখান করে দেয় সারদা, কেন, বাড়িসুদ্দু সবাই এত ধন্যি ধন্যি গাইছে, আর তোমার কানে ওঠে নি? তোমার দ্বিতীয়পক্ষর রূপেই তো ভুবন আলো গো! তাতেই আর তেল খরচা করে আলো জ্বালি নি!

    রাসু হঠাৎ বল সঞ্চয় করে বলে ওঠে, মেয়েমানুষ বড় হিংসুটে জাত!

    কী! কী বললে? সারদা যেন তীক্ষ্ণতার প্রতিযোগিতায় নেমেছে, মেয়েমানুষ হিংসুটে জাত?

    তবে না তো কি?

    মহাপুরুষ পুরুষজাতটা একেবারে দেবতা, কেমন? সারদা ক্ষুব্ধ গর্জনে বলে, কি বলব– মুখ ফুটে তুলনা করে দেখাতে গেলে মহাপাতকের ভয়, তবু বলি–মেয়েমানুষের অবস্থার সঙ্গে একবার নিজেদের অবস্থা মিলিয়ে দেখ না। পরিবার যদি একবার পরপুরুষের দিকে তাকায়, তা হলে তো মহাপুরুষের মাথায় খুন চাপে!

    রাসু ধিক্কার-বিজড়িত কণ্ঠে বলে, ছি ছি, কিসের সঙ্গে কী! পরপুরুষের নাম মুখে আনতে লজ্জা করল না তোমার? দ্বিতীয় পক্ষ বুঝি পরস্ত্রী? ছিঃ!

    সারদা কিন্তু এ-হেন ধিক্কারেও বিচলিত হয় না, তাই অনমনীয় কণ্ঠে বলে, তা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ যত ইচ্ছে, পক্ষ জুটলে আর পরস্ত্রীতে দরকার? মেয়েমানুষের তো আর সে সুবিধে নেই?

    রাসু হতাশ কণ্ঠে বলে, হিংসেয় জ্বালায় তোমার দিগ্বিদিক জ্ঞান ঘুচে গেছে বড়বৌ, তাই যা নয় তাই মুখে আনছ! নতুন বৌকে আমি আনতে যাই নি, গুরুজনরা বুঝেসুঝে এনেছে। নইলে এযাবৎ কাল তো সেখানেই পড়ে ছিল!

    ওঃ, ইল্লি! দুঃখু যে উথলে উঠছে দেখছি! পড়েই ছিল! আহা-হা, মরে যাই, অথৈ জলে পড়ে থেকেছিল একেবারে!

    সারদা ছুরি দিয়ে কেটে কেটে কথা বলে, আমি কিন্তু সাফ কথা কয়ে দিচ্ছি, ভাগাভাগির ইল্লুতেপনায় আমি নেই। আমায় চাও তো ওকে স্পশ্য করতে পারে না, আর ওকে চাও তো আমি

    হঠাৎ কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যায় সারদার। আর এই রুদ্ধ কণ্ঠই বড় ভয় রাসুর।

    আরও হতাশ গলায় বলে সে, তার আমায় কি করতে বলো? মাথার ওপরকার গুরুজনরা যে ব্যবস্থা দেবে তাই মানব, না চেঁচামেচি করে তার প্রতিবাদ করব?

    কি করবে সে তোমার নিজের বিবেচনা। তুমিও কিছু কচি খোকাটি নও। মাথার ওপরকার গুরুজন যদি বিষ খেতে বলে, খাবে? খুড়োঠাকুর ধম্ম করলেন, ভদ্রলোকের জাত রক্ষে করলেন আমার বুকে বাশ ডলে! এতই যদি ধম্মজ্ঞান, নিজেই কেন—

    বড়বৌ! হঠাৎ ধমকে ওঠে রাসু, কি বলছ কি? উন্মাদ হয়ে গেলে নাকি?

    সারদা ঝপ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে গম্ভীর গলায় বলে, উন্মাদ হবার ঘটনা ঘটলে মানুষ উনাদ হবে, এ আর আশ্চয্যি কি? খুড়োঠাকুর যদি তখন আমার ঘর না ভাঙতেন, তা হলে বরং আজ ওনার ভাঙা ঘর ভরত।

    বড়বৌ! কাকে নিয়ে তুলনা? এসব অকথা কুকথা মুখে উচ্চারণ করলেও মহাপাতক হয় তা জান?

    মুখে উচ্চারণ করলে মহাপাতক, কিন্তু মনে? মনকে কেউ শাসিয়ে রাখতে পারে? যাগ গে, ভাল-মন্দ কিছুই বলব না আমি। আমার যা বলবার বলেছি।

    রাসু আপসের সুরে বলে, অতই বা খাপ্পা হচ্ছ কেন বড়বৌ? তুমি ঘরণী গিন্নী, বলতে গেলে জোয়ান ব্যাটার। তোমার জায়গা কে কাড়ে? তবে লোকদ্যাখতা একটা কথা আছে তো? ওকে একেবারে ভাসিয়ে দিলে

    সারদা গম্ভীরভাবে বলে, মা সিংহবাহিনীর নামে দিব্যি গেলেছিলে, সে কথা বোধ হয় ভুলেই গেছ?

    ভুলে যাব কেন রাসু অসন্তুষ্ট স্বরে বলে, কিন্তু লোকে কি বলবে, সেটাও তো চিন্তা করতে হবে?

    সারদা আবার ঝপ করে উঠে বসে। বলে, কেন, লোককে বোঝাবার উপায় নেই? লোককে বোঝাতে কত কল-কাঠি আছে! লোককে বলতে পার না, কোনও সাধু-ফকির তোমার হাত দেখে বলেছে, ওই দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারকে স্পর্শ করলে তোমার পরমায়ুক্ষয় যোগ আছে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }