Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৮. সংসারসুদ্ধ সকলেই আশা করেছিল

    সংসারসুদ্ধ সকলেই আশা করেছিল প্রস্তাবটা সারদার দিক থেকেই উঠবে। কারণ সত্যিই কি আর এতটা বেয়েক্কেলে আর চক্ষুলজ্জাহীন হবে সে? কিন্তু আক্কেল সম্পর্কে নিতান্ত উদাসীন হয়েই অনেকগুলো দিন কাটিয়ে দিল সারদা। চক্ষুলজ্জার প্রকাশ দেখা গেল না।

    তাহলে?

    চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো ছাড়া তো উপায় নেই। কিন্তু সেই আঙুলটা বাড়ায় কে? যে মুখরা সারদা, সুযোগ পেলে গুরুজনকেও রেয়াত করে কথা কয় না। ঘোমটার মধ্যে থেকেই এমন কুটুস কামড়টি দেয়, তাতে কামড়াহতের সর্বাঙ্গে জ্বালা ধরে যায়।

    কাজেই আড়ালে-আবডালে সমালোচনা উদ্দাম হয়ে ওঠে। বস্তুত এখনকার অবস্থা এই, সারদা যখনই যে কাজে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় গিয়ে পড়ে, দেখে দু তিনটি মুখ একত্র হয়ে গুঞ্জরণ করছে, সারদা গিয়ে পড়তেই ঝপ করে গুঞ্জরণটা থেমে যায় এবং মুখগুলি বিভক্ত হয়ে গিয়ে সহসা যা থোক একটা কাজরে কথা নিয়ে সোরগোল শুরু করে দেয়।

    সারদা কি বোঝে না কি কথা হচ্ছিল ওদের? বোঝে বৈকি। বুকে মাথা থেকে পা অবধি রি রি করে জ্বলে ওঠে তার, তবু বুঝতে না পারার ভানটাই চালিয়ে যায় সে। চালায় এই জন্যে, জানে। বুঝতে পেরেছি বলার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত ব্যাপারটা নিরাবরণ হয়ে যাবে, যেটুকু চক্ষুলজ্জার আড়ালে আবডালে রেখে ঢেকে বলছে ওরা, সেটুকু ঘুচে গিয়ে প্রকাশ্য আক্রমণের পথে নেমে আসবে। কাজেই ওই মুখোমুখিটা যতক্ষণ এড়ানো যায়! ১৭০

    তা ছাড়া এমনিতেই সারদা বিশেষ আত্মস্থ, গায়ে পড়ে কিছু বলতে যাওয়া বা জবাব দিতে যাওয়া ওর স্বভাবই নয়।…

    কিন্তু ওঁরাই এবার গায়ে পড়ে বলতে আসার সংকল্প গ্রহণ করেছেন। সারদার নিজের শাশুড়ী আর পিসশাশুড়ী শশীতারা। এই পিসশাশুড়ীটিকে জীবনে এই প্রথম দেখল সারদা। কারণ প্রায় বছর তিরিশ পর তিনি পিত্রালয়ে এসেছেন। এতদিন বিরতির কারণ অবশ্য বৈবাহিক কলহ। তা দুই বৈবাহিকের একজন তো বহুদিন গত হয়েছেন, কুণ্ড রামকালী আর শশীতারার বাবা জয়কালী। অপরটি অর্থাৎ শশীতারার শ্বশুর নাকি এতদিন বেঁচে থেকে পুত্রবধূর পিত্রালয়ের পথের কাঁটাটি দৃঢ়মূল রেখেছিলেন।

    সম্প্রতি তার শ্রাদ্ধ চুকেছে, শশীতারা এত বছর পরে পিত্রালয়ে এসেছেন। এখন কিছুদিন থাকবেন।

    এসে দিন দুই লেগেছে তার সংসারের হালচাল বুঝতে, তারপর কার্যক্ষেত্রে নেমেছেন। সংসারে নিজের ভাই কুঞ্জর প্রতিপত্তিহীন অবস্থা ও সতাতো ভাই রামকালীর বোলবোলাও দাপটটা তার বুকে শেল বিধেছে, এবং রাসুর প্রথম পক্ষ’র নিলজ্জতায় গালে হাতে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

    অবাক হয়ে বলেছেন, হ্যাঁগা, ও বুড়োমাগী গায়ের জোরে বর আগলে বসে থাকবে, আর সোমত্ত যুবতী বৌটা শাশুড়ীর ঘরে শুয়ে ঘরের আড়া গুনবে? এ তোমরা চলতে দিচ্ছ? বলি ছেলেটার কথাও তো ভাবতে হবে? তার টাটকাটি রইল ধামাচাপা দেওয়া, আর শুকনো বাসিটায় মন সন্তোষ করে থাকার জুলুম? এতখানি বয়সে এমন কথা শুনি নি দেখি নি!

    সারদার শাশুড়ি সুদীর্ঘকালের অদেখা ননদিনীটিকে পরম আত্মীয়ের অধিকার দিয়ে বিগলিত স্বরে বলেন, দেখ ঠাকুরঝি দেখ। যত থাকবে ততই বুঝবে। একে তো তোমার দাদার ওই মিনমিনে স্বভাবের জন্যে আমি চিরদিন বড় হয়েও ছোট, হাঁড়ি-হেঁসেল ছাড়া আর কিছু দেখলাম না। তার ওপর বৌটি হয়েছেন জাহাবাজ। এমনিতে দেখবে ওকে কারুর সাতে-পাঁচে নেই, কিন্তু অহঙ্কারে মটমট। কারুর মতে চলাতেও যাও দিকি? চলবে না। আর এমন রাশভারী প্রিকিতি, ডেকে একটা কথা বলতে সাহস হয় না।

    তোমাদের হয় না, আমার হবে। শশীতারা দৃঢ় রায় দেন, এ নিঘিনেপনার বিহিত আমি করে ছাড়ব।

    বিহিত করতে ভাজকে নিয়ে এজলাসে এসে আসামীকে তলব করলেন শশীতারা।

    সারদা এল, ঘার হেট করে বসে ঘোমটার মধ্যে থেকেই মৃদু অথচ স্পষ্ট স্বরে বলল, কি বলছ?

    শশীতারা নড়েচড়ে বসে হাতপাখা নাড়তে নাড়তে বললেন, বলছি একটা নেয্য কথা। মনে কিছু করো না। আক্কেল যাদের শরীরে নেই, তাদের আক্কেল করাতে হলে চোখে আঙ্গুল দেওয়া ভিন্ন তো গতিও নেই। তাই দেব। তাতে চোখে যদি তোমার জ্বালা ধরে, আমায় কিন্তু দুষো না বাছা!

    সারদার কণ্ঠ থেকে একটু হাসির আওয়াজ পাওয়া গেল, তোমাদের দুষব? এত আসপদ্দা আমার পিসীমা?

    আসপদ্দা! শশীতারা পাখার বেগটা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, না, আসপদ্দা তোমার দেখি না বটে, কিন্তু আক্কেলটুকুও তো তিলমাত্তর দেখি না বাছা! নতুন বৌমার দিকটা তো একেবারে ভাবছ না!

    পরক্ষণে শশীতারা আর তার ভাজকে অবাক করে দিয়ে সারদার মৃদুকণ্ঠের স্পষ্ট স্বর ধ্বনিত হয়, আমি না ভাবলাম, তোমরা এতজনে তো ভাবছ!

    এতজনে ভাবছি? আমরা এতজনে ভাবছি! তুমি যে অবাক করলে বড় বৌমা! আমরা ভেবে তার কী উবগারটা করতে পারব শুনি? তুমি এদিকে আত্মঘাতী হবার ভয় দেখিয়ে সোয়ামীকে শাসিয়ে রেখেছ, ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে সে, আমরা কি করব? এই তো সিদিনকে রাত্তিরে ছোঁড়াটাকে হাত ধরে হিঁচড়ে এনে বললাম, রাসু, তুই ইদিকে আয়। ঘরের তো অভাব নেই বাড়িতে। এ ঘরে নবাবী পালঙ্ক না থাক, সোয়ামী পেলে নতুন বৌয়ের এখন আমতক্তাই রাজতক্তা। তা আনতে কি পারলাম? ভয়ে সিটিয়ে হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে গেল। বলে কি, তাহলে তোমাদের বড়বৌ আপ্তঘাতী হবে! ….হ্যাঁ গা, বাপ তো তোমার শুনলাম ভালমানুষ, তোমার এ কী ছোটলোকমি।

    শশীতারার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মধ্যে যেন একটা তীব্র বিদ্যুৎ ঝলসে ওঠে। বিদুৎটা আর কিছু নয়, সারদার চোখের আগুন। হঠাৎ মুখ তুলতে গিয়ে মাথার ঘোমটাটা খসে গিয়েছিল সারদার। ঘোমটাটা আবার একটু তুলে মুখ প্রায় অনাবৃত রেখেই সারদা বলে, দশচক্রে ভগবান ভূত হয় পিসীমা, তায় মানুষ তো কোন্ ছার! পাকেচক্রে ভদ্রলোকের মেয়ে ছোটলোক হয়ে উঠবে এতে আর আশ্চয্যি কি!

    একে মুখ খোলা, তাতে এই বাকি!

    সারদার শাশুড়ী বোধ করি নিজের মর্যাদা সম্পর্কে এবার সচেতন না হয়ে পারেন না। তাই নথপরা মুখ ঘুরিয়ে বলে ওঠেন, মুখের ঘোমটা খুলে শাশুড়ীর সঙ্গে ঝগড়া করছ তুমি বড় বৌমা! বুকের পাটা তোমার এত কিসের? জান, জন্মের শোধ বাপের বাড়ি বিদেয় করে দিতে পারি তোমায়?

    এজলাসটা বোধ করি সারদার ধারণার জগতে ছিল, আর সওয়ালের জন্যে প্রস্তুতও ছিল সে। তাই তীক্ষ্ণ একটু হাসির সঙ্গে বললে, জন্মের শোধ যদি যেতেই হয় তো বাপের বাড়ি যাব কেন? যমের বাড়ি তো কেউ কেড়ে নেয় নি!

    শশীতারা এবার চাকা নথ ঘুরিয়ে ঝঙ্কার দিয়ে ওঠেন, যমের বাড়ির ভয় দেখিয়ে আমাদের জব্দ করতে পারবে না বড় বৌমা, আমরা নাসু নই। বলি ওই যে একটা ঘরের মেয়ে এসেছে, যার বাপ ঘরবসতের দ্রবিতে বাড়ি ভরিয়ে দিয়েছে, তার দাবি-দাওয়াটা মানবে না তুমি? আর ওই রূপের কান্তি টাটকা পদ্মফুল, সোয়ামীকে তুমি এর ভোগ থেকে বঞ্চিত করছ, এতে যে তোমার নরকেও ঠাই হবে না!

    হঠাৎ হেসে উঠে সারদা দিব্যি স্পষ্ট গলায় বলে, ভালই তো পিসীমা! নরকে ঠাই না হলে সগৃগে যাব! দুটো বৈ তো আর দশটা জায়গা নেই!

    দুটো গিন্নীকে হতবাক করে দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে সারদা, তালের বড়া খেতে চেয়েছে ছোট ঠাকুরপো, তালগুলো মেড়ে রাখিগে।

    অর্থাৎ তোমাদের কাঠগড়া থেকে ফসকে পালাচ্ছি এবার।

    শশীতারা বোঝেন, যেমন ভেবেছিলেন, ঠিক তেমনটি। ধিক্কার দিয়ে বিচলিত করে কার্যসিদ্ধ করা যাবে না। অন্য চাল চালেন তিনি। বলেন, সভ্যতা-ভব্যতার পাঠশালায় দেখছি একেবারেই পড় নি তুমি বড় বৌমা। গুরুজনের সামনে থেকে অনুমতি না নিয়ে উঠতে আমি আমার শ্বশুরবাড়ির দিকের কোন ঝি-বৌকে কখনও দেখি নি। আমরা নিজেরাও–গুরুজন ডেকে একটা কথা শুধোলে ঘাড় নেড়ে, হ্যাঁ হু করে উত্তর দিয়েছি, উঠে যেতে না বললে ঘাড় গুঁজে বসে থেকেছি।

    সারদাকে এতেও অপ্রতিভ করা যায় না, সে তেমনি মদু হাসির সঙ্গে বলে, বসবার অবকাশ থাকলে তো বসে থাকাও একটা সুখ পিসীমা!

    হুঁ! কথার পিঠে কথা দেওয়াই তোমার লোগ দেখছি। হাবাগঙ্গা শাউড়ী পেয়েছ, তাই এমন দুরবস্থা হয়েছে। যাক বলি শোন, আপস-মীমাংসার কথাই কইছি। ঘরণী গিন্নী বেটার মা তুমি, অনেকদিন তো সোয়ামীকে ভোগ করলে! ওকে একেবারে ভাসিয়ে দিলে চলবে কেন? ওরও আগুন সাক্ষী বিয়ে। আমি বলি কি, একটা পালা ঠিক করো।

    মনে মনে হাসেন শশীতারা, একবার যদি রাসুকে নতুনের নেশা ধরিয়ে দেওয়া যায়, তারপর দেখা যাবে তোমার কত আদর থাকে! দেখা যাবে কোথায় থাকে তোমার ঐ তেজ! ওই বৌয়ের আস্বাদ পেলে, তুমি গলায় দড়ি দিলে কি জলে ডুবলেও কিছু এসে যাবে না রাসুর!

    ‘পালা’র বুদ্ধিটা মাথায় আসার জন্যেই নিজেকে নিজে তারিফ করেন শশীতারা।

    কিন্তু সারদা সে তারিফ বেশীক্ষণ বজায় থাকতে দেয় না। তীক্ষ্ণকণ্ঠে বলেন, তোমাদের অনুমতি না নিয়েই যাচ্ছি, পিসীমা। এসব নীচু কথা শুনতে মাথা কাটা যাচ্ছে।

    আঁ আঁ? কী বললি? আমরা নীচু কথা কইছি? ছোটলোকের বেটি, হাঘরের মেয়ে। বলতে জিভ আড়িয়ে গেল না! শশীতারা ধেই ধেই করে নেচে ওঠেন, খুব উঁচু কথাটা তুমি কইছ বটে! একলা খাব, একলা পরব, একলা ভোগ করব, এই তো মহত্ত্বের কথা! পালা কথাটা নিচু কথা হল! বলি তাতে তো দুই দিকই রক্ষে হয়!

    সারদার বোধ করি কী একটা কঠিন কথা মুখে আসে, কিন্তু সেটা কষ্টে দমন করে বলে, দুদিক রক্ষের দরকার নেই, একদিকই রক্ষে করো তোমরা।

    এরপর আর দাঁড়ানো চলে না।

    মান-সম্মান বজায় রাখা শক্ত হবে। সারদার নিজের চোখই তাকে অপদস্থ করে ছাড়বে।

    .

    দু-টো গিন্নীকে পাথর করে দিয়ে চলে যায় সারদা।

    এই চরম অপবাদের মুহূর্তে ভুবনেশ্বরীকে মনে পড়ে তার। সারদার ভাগ্যটাই মন্দ, নইলে অমন একটা স্নেহের আশ্রয় হারায় সে? ভুবনেশ্বরীর কি এখন মরবার বয়স?

    হ্যাঁ সারদা নির্লজ্জ, সারদা বেহায়া, সারদা স্বার্থপর। কিন্তু পরার্থপরতায় উদার হবার ভাগ্য সে পেল কবে? ভাগ্য যে তাকে বঞ্চনাই করেছে। আর সে বঞ্চনা এসেছে তার গুরুজনদের হাত থেকেই।

    গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান তার আসরে কোথা থেকে? বিষপাত্রের বিনিময়ে কে অমৃতপাত্রের উপহার নিতে হাত বাড়ায়?

    শশীতারা গাল হাত দিয়ে অভয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, মান্যে বড় গুরুজন তুমি বৌ, তোমার পায়ের ধুলো নেবারই কথা। তবু বলি, তোমার পায়ের ধুলোয় গড়াগড়ি দিতে ইচ্ছে করছে। এই কালকেউটে নিয়ে ঘর করছ তুমি?

    কুঞ্জ-গৃহিণী কপালে হাত ঠেকিয়ে বলেন, অদেষ্ট ঠাকুরঝি!

    আসল কথা অদেষ্ট’টা তাঁর নিজের কাছে ধরা পড়েছে এই সম্প্রতি। ননদিনীর দিব্যদৃষ্টির প্রভাবে। এবং এযাবৎ বোকামি করে এসেছেন, সুদে-আসলে সেটা উসুল করে নিতে ইচ্ছে হচ্ছে তাঁর।

    ওই কালনাগিনীর দিক থেকে রাসুর মন একেবারে ঘুরিয়ে দিতে পারি, এমন ‘ওষুধ’ আমার জানা আছে বৌ শশীতারা চাপা হিংস্র স্বরে বলেন, অব্যর্থ তুক। রাসু তোমার ছটফটিয়ে নতুন বৌর পায়ে পড়বে, বড়বৌকে জন্মের বিষ দেখবে!

    ভাজ অবাক হয়ে বলেন, সত্যি ঠাকুরঝি, তেমন ওষুধ তোমার জানা আছে?

    শশীতারার মুখে একটি বিচিত্র হাসি ফুটে উঠে, জানা না থাকলে আর তোমার ননদাইকে অমন কেন গোলাম করে রেখেছি? বয়সকালে কি কম দুর্দান্ত ছিল নাকি? সম্পর্ক অসম্পর্ক মানত না, রূপসী মেয়েমানুষ দেখলেই উন্মাদ হয়ে উঠত। এক বাণীবুড়ী শেখাল আমায় সেই তুক, তার পর থেকে এমন নেলাখেপা হয়ে গেল যে, আমি বৈ আর কিছু জানে না। আমি উঠতে বললে ওঠে, বসতে বললে বসে, খেতে বললে খায়, ঘুমুতে বললে ঘুমোয়। আমার মুখের দিকে ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে থাকে। আমি বলি থাক, ওই আমার ভাল, নাই বা রোজগার করল, নাই বা হট্টগোল করে বেড়াল, ভাতের তো অভাব নেই ঘরে। আমার আঁচলটিতে তো বাবা রইল জন্মের শোধ!

    রাসুর মা ইতস্তত করে বলেন, কোন শেকড়বাকড় নাকি? রাসুর কোন ক্ষতি হবে না তো?

    শোন কথা! সে কাজ আমি করব? এ আর কিছুটি নয়, শুধু একজনের থেকে মন ঘুরে আর একজনের ওপর পড়া। তাহলে বলি শোন, তোমার কপালক্রমে এই পরশুই আমাসে আসছে– একেবারে দুপুররাতে নতুন বৌমা যদি এলোচুলে বিবস্ত্র হয়ে একটা কলাগাছের গোড়ায় এক ঠোকায় একটি ছুঁচ বিধে দিয়ে আসতে পারে, তাহলে

    কথা শেষ হয় না শশীতারার, সারদার ছেলে দৌড়ে এসে বলে, তোমরা শীগগির চলে এস, মেজঠাকুদ্দা অজ্ঞান হয়ে গেছে।

    মেজঠাকুদ্দা! মানে রামকালী! যিনি জ্ঞানের পারাবার! রামকালী অজ্ঞান হয়ে গেছেন, এ কী অদ্ভুত ভাষা?

    সকলেই দৌড়ায়। তবে কি রামকালীও ভুবনেশ্বরীর মত বিনা নোটিশে

    ব্যাপারটা এত জানাজানি হল, ভিতরবাড়িতে পড়ে গিয়ে। বারবাড়িতে পড়লে অন্তত মেয়েমহলের দল এভাবে ধারেকাছে গিয়ে হা-হুতাশ করতে পারত না।

    যাদের স্পর্শের অধিকার আছে তারা মুখে মাথায় জল ঢেলে গঙ্গা বইয়ে দিল, বাড়িতে যত হাতপাখা এনে জড় করল। এ শুধু দুর্ভাবনাই নয়, এক প্রকার রোমাঞ্চও। যে মানুষটার মুখের দিকে কেউ কোনদিন স্পষ্ট করে তাকিয়ে দেখবার সাহস পায় নি, সে মানুষটা অসহায়ভাবে চোখ মুদে পড়ে আছে, তাকিয়ে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কেমন তার নাকমুখ, করুণা করা যাচ্ছে তাকে জল দিয়ে বাতাস দিয়ে, এটা প্রায় সুখের পর্যায়েই পড়ে।

    সারদাও একখানা হাতপাখা নিয়ে এসেছিল, আর দূর থেকে বাতাস করছিল এবং ভাবছি, আশ্চর্য এতদিন ঘর করছি মানুষটা কেমন দেখতে তা তো কোনদিন দেখি নি! একেই কি বলে “তপ্ত কাঞ্চন-বৰ্ণাভাং_”

    ভয়ঙ্কর একটা আবেগের আলোড়নে চোখে ছলাৎ করে জল এসে যায় সারদার, এ হেন স্বামীকে ফেলে চলে যেতে হয়েছে মেজখুড়িকে? আর তাই বুঝি স্বর্গেও তিষ্ঠোতে পারছেন না, আকর্ষণ করে টেনে নিয়ে যেতে চাইছেন নিজের কাছে? মনের মত স্বামী এমনি জিনিস! তার পর চোখ মুছে ভাবল, মেজখুড়ো আমাদের মায়া কাটিয়ে চললেন!

    কিন্তু আপাতত দেখা গেল সারদার আশঙ্কা অমূলক। চিরশান্ত চিরসুকুমার ক্ষীণশক্তি ভুবনেশ্বরীর আকর্ষণ মাধ্যাকর্ষণের চেয়ে জোরালো হল না।

    রামকালী চোখ মেললেন।

    চারদিকে এতগুলো মুখ দেখে ভুরুটা ঈষৎ কুঁচকে গেল, আবার চোখ বুঝলেন। আর অনেকক্ষণ পরে বললেন, আমাকে বাইরে চণ্ডীমণ্ডপে বিছানা করে দাও।

    .

    হ্যাঁ, বাইরেই শুলেন রামকালী। মেয়েদের এই হা-হুতাশ তাঁর অসহ্য, নিজের কাছে নিজে ভয়ানক লজ্জিত হচ্ছেন। রামকালীর পক্ষে এ হেন দুর্বলতা ক্ষমার অযোগ্য। রামকালী জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেছেন। পাঁচজনে মুখে-মাথায় জল দিল, হা-হুতাশ করল, এর চাইতে ঘৃণ্য ব্যাপার আর কি আছে!

    এ রকমটা হল কেন?

    অনেকদিন থেকেই যেন ভিতরে ভিতরে একটা ক্ষয় চলছে, যেন একটা ভাঙনের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। শরীর খারাপ হয়ে গেছে। সেই থেকেই গেছে।

    রামকালীর মধ্যেও একটা আবেগের আলোড়ন উঠল। সেই ছোটখাটো মানুষটা, যাকে রামকালী কোনদিনই পুরো একটা মানুষ বলে গণ্য করেন নি, সে যে দৃঢ়কঠিন রামকালীর ভিতরের এতটা শক্তি হরণ করে ফেলবে এ রামকালীর ধারণার মধ্যেই ছিল না।

    ভুবনেশ্বরী সম্পর্কে যে তাঁর একটা বাৎসল্যমিশ্রিত প্রীতি ছিল, জীবনের কোন আদর্শে, কোন চিন্তায়, কোন সুখদুঃখে তাকে ডাক দেন নি। আজ মনে হচ্ছে সম্পূর্ণ বিচার করেন নি রামকালী স্ত্রীর উপর। চিরদিন যাকে ছোট ভেবে এসেছেন, সে হয়তো এমন ছোট ছিল না, যাকে সামান্য ভেবেছেন, সে হয়তো সামান্য নয়। রামকালী যদি তাকে স্নেহের সঙ্গে কিছু শ্রদ্ধাও দিয়ে হৃদয়ের সহধর্মিণী করে তুলতে পারতেন, হয়তো সারাটা জীবন এতখানি নিঃসঙ্গ হয়ে থাকতেন না।

    মৃত্যুর মহিমায় ভুবনেশ্বরী যেন বড় হয়ে উঠেছে।

    বিছানায় শুয়ে শুয়েই সংকল্প করলেন রামকালী, শীঘ্রই তীর্থযাত্রা করবেন। বায়ু-পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছে।

    বায়ু পরিবর্তন ভিন্ন ভাঙন ধরা স্বাস্থের ক্ষয়পূরণ সম্ভব নয়।

    তীর্থযাত্রার সংকল্প ঘোষণা করলেন রামকালী।

    .

    দু-তিনটে দিন রামকালী সম্পর্কে উদ্বেগ নিয়েই দিন গেছে সকলের, রাসু বারবাড়িতে চণ্ডীমণ্ডপেই রাত কাটিয়েছে, কাকার নিষেধ সত্ত্বেও, চুপি চুপি–তার অলক্ষ্যে।

    আজ আবার স্বাভাবিকত্ব এল সংসারে। যদিও রামকালীর তীর্থযাত্রার সংকল্পে ভয় ভাবনা আতঙ্ক দেখা দিল, তবু সেটা তো আজই নয়। তীর্থযাত্রার অনেক তোড়জোর।

    রাসুকে আজ শশীতারা আবার ডেকে পাঠালেন। বললেন, দেখ, পুরুষের চামড়া যদি গায়ে থাকে তো বৌয়ের নাকে-কান্নায় ভিজিস নে। আপ্তঘাতী অমনি হলেই হল! আজ তুই ইদিককার ঘরে শুবি।

    তিন-তিনটে রাত বাইরের ঘরে কাটিয়ে রাসুরও মন চঞ্চল, এ প্রস্তাবে আরও চঞ্চল হয়ে ওঠে। অথচ তার সায় দেবার উপায় নেই। এ যেন পেটে খিদে, সামনে সুখাদ্য অথচ মুখ বাধা!

    তাছাড়া রাসু সারদা নয় যে এসব কথার পিঠে কথা কইবে। লজ্জায় ঘাড় হেঁট করে থাকে সে। শশীতারা বোঝেন মৌনং সম্মতি লক্ষণম্। হৃষ্টচিত্তে বলেন, তোকে কিছু ভাবতে হবে না, তুই শুধু খাওয়ার পর আমার ঘরে এসে বসবি। পিসি-ভাইপোয় গল্প করবার ছুতোয় রাতটা একটু ঘোর করে দেব, তার পর–আহা নতুন বৌটার মনের দিকে একটু তাকাবি না তুই? ভাববি না তার কথা?

    রাসুর চোখে জল এসে পড়ে, সে তাড়াতাড়ি সরে যায়। নতুন বৌয়ের কথা ভাবছে না সে? অহরহই তো ভাবছে!

    কিন্তু যাকে নিয়ে এত দুর্ভাবনা শশীতারার, সে কোথায়? পাটমহলের লক্ষ্মীকান্ত বাড়ূয্যের নাতনী পটলী?

    সে যেন একটা অদ্ভুত ভয়ে কাঠ হয়ে আছে। এতদিনে অবশ্য সে চিনে ফেলেছে কে তার সতীন। সতীনকে যে এতটাই ভীতিকর মনে হয় তা বুঝি ধারণা ছিল না তার। সারদার মুখের দিকে কোনদিন ভাল করে তাকাতে পারে না সে, কথা বলা তো দূরের কথা।

    অথচ সারদা হরদমই তার সঙ্গে কথা বলে। সংসারের সবাইকে খেতে দেওয়ার ভার যে সারদারই হাতে-অগত্যাই পটলীকে তার হাতে পড়তে হয়েছে। তার শাশুড়ী দু-চারদিন নিজের এক্তারে রাখবার চেষ্টা করে অক্ষমতাবশতই হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

    সারদা ফি-হাত ডাকে, নতুনবৌ, খাবে এসো।…নতুনবৌ, এখন মুড়ি খাবে? নতুনবৌ, তুমি মাছের পেটি ভালবাস না দাগা? নতুনবৌ, তুমি হ্যাঁচা আমের আচার খাও না? নতুনবৌ, আচারের তেল দিয়ে কৎবেল মেখে খেয়েছ কোনদিন? খাবে তো বল মাখি?

    নতুনবৌ যে কার নতুন বৌ সে কথা যেন জানে না সারদা। কুটুম্বের মেয়ে এসেছে, তাকে আদরযত্ন করছে ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী।

    আজও ফুলুরি আর তিলপিটুলি বেগুনভাজা করে এক বাটি হাতে নিয়ে ডাকতে এসেছিল সারদা নতুনবৌকে, খাবে গরম গরম?

    পটলী মাথা নেড়ে বলল, না।

    সারদা একটু আশ্চর্য হল। কারণ নতুনবৌ কোনদিন কিছুতেই না করে না। করে না বলে মনে মনে বরং একটু কৌতুকই অনুভব করে সারদা। ভাবে, ভাল করে খাইয়ে-দাইয়ে ঠাণ্ডা করে রাখা যাবে ওকে।

    পটলী যে ভয়েই না করতে পারে না, সেটা বোঝে না সারদা। হয়তো বোঝার কথাও নয়। আজ না শুনে বলে, কেন গো, খাবে না কেন, খিদে নেই?

    পটলী মাথা আরও নিচু করে মাথাটা আর একবার নাড়ে।

    সারদা একটু চুপ করে থেকে মুচকি হেসে বলে, কেন বল তো নতুনবৌ? তোমার তো কখনও অগ্নিমান্দ্য দেখি নে!

    এরপর নতুনবৌয়ের দিক থেকে কোনও সাড়া আসে না, শুধু তার ঘাড়টা আরও নুয়ে পড়ে। সারদা চলে যেতে উদ্যত হয়ে বলে, তবে নয় দুটো তিলের নাড়ু পাঠিয়ে দিই গে, খেয়ে জল খাও।

    এবার হঠাৎ নতুনবৌ বলে ওঠে, তুমি আমায় এত যত্ন করো কেন?

    সারদা বোধ করি এ প্রশ্নের জন্য আদৌ প্রস্তুত ছিল না, তাই হঠাৎ একটু থতমত খেয়ে যায়, তবে সে মুহূর্তের জন্য। পরক্ষণেই তীক্ষ্ণ একটু হেসে বলে, করব না কেন, যত্ন করবারই তো সম্পর্ক গো!

    এতক্ষণ ঘাড় নিচু ছিল, এবার বোধ করি অজ্ঞাতসারেই মুখটা তুলে ফেলে পটলী, আর দীর্ঘ পল্লবচ্ছন্ন দুটি চোখের কোল বেয়ে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে তার। সে চোখের দৃষ্টিতে ফুটে ওঠে একটা অসহায় ভর্ৎসনা। সে দৃষ্টি সারদার উপর নিবদ্ধ রেখেই বলে, তামাশা করছ?

    মুখরা সারদা সহসা যেন মূক হয়ে যায়। ওই দুফোঁটা চোখের জলের দিকে তাকাতে পারে না, আর ভগবান জানেন কোন এক অদ্ভূত হৃদয়-রহস্যে সারদার নিজের চোখ দুটোও জলে ভরে ওঠে।

    তবু নিজেকে সামলে নিয়ে সে বলে, করলামই বা একটু তামাশা! করতে নেই?

    পুটলীর বোধ করি এক্ষণে খেয়াল হয় যে, তা চোখ দুটো শুধু দু’ফোঁটা জল ফেলেই ক্ষান্ত হয়নি। তাই সে দুটোকে নামিয়ে ফেলে এবার। আর কষ্টে গলার স্বর পরিষ্কার করে বলে, আমি তো তোমার শত্তুর, আমাকে বিদেয় করে দাও না? তুমি বাঁচ, আমিও বাঁচি।

    সারদা ঈষৎ বিষণ্ণ কৌতুকে বলে, আমি না হয় বাঁচব, তোর বাঁচবার হেতু?

    তোমার বুকের পাথর হয়ে আর সংসারসুদ্ধ সকলের দয়ার পাত্র হয়ে থাকতে হয় না, সেই বাচান?

    সারদা আর একবার মূক হয়। দেখে নতুনবৌয়ের হেঁটমুণ্ডের অন্তরাল থেকে জল ঝরে ঝরে তার কোলের উপর জড়ো হয়ে থাকা ফর্সা ফর্সা ফুলো ফুলো দুখানি করপল্লবের ওপর পড়েই চলেছে।

    স্তব্ধ হয়ে অনেকক্ষণ সেই দিকে তাকিয়ে থাকে সারদা, তার পর সহসাই আত্মস্থ হয়ে শান্ত দৃঢ়কণ্ঠে বলে, চোখ মোছ, নতুনবৌ, আর কাঁদতে হবে না।

    তোমার পায়ে ধরি দিদি, আমায় পাঠমহলে পাঠিয়ে দাও।

    শোন কথা, আমি কি পাঠিয়ে দেবার কর্তা? সারদা হেসে ওঠে, বলে আমার ওপরই হুকুমজারি হয়েছে–জন্মের শোধ বিদেয়! সে যাক, বলি এত রূপযৌবন নিয়ে কেঁদে মরবি আর হেরে পালাবি কি লো? লড়াই করে সতীনের কাছ থেকে বর কেড়ে নিবে নে?

    লড়াই-টড়াই আমি কিছু চাই না দিদি।

    লড়াই চাস না! কি মুশকিল, তবে তো খয়রাত করতে হয়! সারদা তেমনি বিষণ্ণ কৌতুকে বলে, তুই দেখছি আমার সব মজা মাটি করে দিলি। লড়াই করতে বসলে জোরের পরীক্ষে হয়, দান-খয়রাত করতে গেলে যে বেবাক সবটাই তুলে দেওয়া ছাড়া গতি থাকে না।

    ব্যাকুল আবেগে উচ্চারণ করে নতুনবৌ।

    আমার কিছু চাই না দিদি।

    সারদা হাসে, কিছু চাস না? বরও চাস না?

    না।

    সারদা বলে, কিন্তু জগতের কি নিয়ম জানিস, না চাইলে সব জিনিস মেলে চাইতে বসলেই হাতছাড়া! ইস, কথা কইতে কইতে এমন খাসা তিলপিটুলি বেগুনভাজাগুলো নেতিয়ে গেল। খা, খেয়ে ফেল, মন ভাল হবে।

    .

    মেজঠাকুদ্দা!

    রামকালী একখানা সরু খাতার উপর ঝুঁকে পড়ে আসন্ন তীর্থযাত্রার হিসেবের খসড়া করছিলেন, হঠাৎ রাসুর ছোট ছেলের এই ডাকে চমকে স্নেহকোমল স্বরে বললেন, কি দাদা?

    মা বলছে, মা তোমার কাছে ভিক্ষে চাইবে।

    এ আবার কী অভূতপূর্ব কথা!

    রামকালী বিমূঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেন।

    দরজার ওপাশে রাসুর বৌয়ের উপস্থিতি টের পান। প্রায় বিচলিত স্বরে বলেন, কি বলছ দাদা, বুঝতে পারলাম না তো!

    এবার মাধ্যমের গুরুত্ব হারায়। মাধ্যমকে মাধ্যম মাত্র করে সারদা মৃদু কণ্ঠে বলে, খোকন বল, মা বলছে কখনো কিছু চায় নি মা, বাড়ির বড়বৌ, একটা ভিক্ষে চাইছে।

    রামকালী ধারণা করেন, এ আর কিছু নয়, রাসুর দ্বিতীয় পক্ষ ঘটিত নাটক। নির্ঘাত সপত্নী অসহিষ্ণু এই মেয়েটি সতীনকে তার পিত্রালয়ে পাঠানোর প্রস্তাব করতে এসেছে। বিরূপ চিত্তে গম্ভীর হাস্যে বলেন, ভিক্ষেটা কি, সেটা না জানলে তো সাদা কাগজে দস্তখত করা যায় না বড় বৌমা! দেবার ক্ষমতা যদি আমার না থাকে!

    খোকা বল, আপনি ইচ্ছে করলেই হয়।

    রামকালী যদিও রাসুর বৌয়ের এই অসমসাহসিকতায় স্তম্ভিত হন, তবু ঈষৎ চমৎকৃতও হন। হঠাৎ একটা অতি অসমসাহসী মেয়ের কথা মনে পড়ে গিয়ে মনটা শিথিল হয়ে যায়! বলেন, মাকে বল দাদাভাই, ইচ্ছে করবার মত হলে অবশ্যই করব।

    খোকা বল, আপনি তীর্থে যাচ্ছেন আমার মাকে সঙ্গে নিন।

    এ আবার কি কথা!

    এ যে রামকালীর ধারণার অগোচর, স্বপ্নের অগোচর। এই কথা বলতে এসেছে রাসুর বৌ! মেয়েটা পাগল নাকি! তবে নাকি নিতান্তই হাস্যকর অলীক কথা, তাই ঈষৎ কৌতুকের সুরে বলেন, তোমার মাকে নিয়ে যাই এত সাধ্যি কি আমার আছে দাদাভাই? তুমি বড় হও, মাকে নিয়ে যাবে।

    মেজঠাকুদ্দা, মা বলছে তামাশা করে উড়িয়ে দিলে হবে না, মা সত্যি ভিক্ষে চাইতে এসেছে।

    রামকালী আর মাধ্যমকে গ্রাহ্য করেন না, বলেন, বড় বৌমা, তোমার প্রার্থনাটা যে বড় অসম্ভব। আমি পুরুষমানুষ, কোথায় উঠব, কোথায় থাকব, কিভাবে ঘুরব

    মেজঠাকুদ্দা, মা বলছে, মা কষ্ট করতে হারবে না। তোমার রান্না করা, বাসন মাজা–এর জন্যেও তো একটা লোক চাই। মা সব করে দেবে।

    দাদাভাই, তোমার মা ছেলেমানুষ, সবটা বুঝতে পারছেন না। সম্ভব হলে আমাকে দুবার বলতে হত না। তোমার মাকে বল, বাড়ির বড়বৌ বলে আমার কাছে একটা আবদার করলেন, রাখতে পারছি না, এটা আমারও কষ্ট। আমি তার বদলে তার নামে খাসে কুড়ি বিঘে ধানজমি লেখাপড়া করে দেব। তার আদায় থেকে উনি যা খুশি করতে পারবেন। আর তুমি যখন বড় হবে—

    .

    খোকা বল বাবা, বিষয়-সম্পত্তিতে মার কোন দরকার নেই।

    খাসে কুড়ি বিঘে ধানজমি!

    এতেও একটু প্রলোভিত হল না মেয়েটা? আশ্চর্য তো! সত্যি বলতে কি, এ সংকল্প রামকালীর সহসা আজকের নয়। কিছুদিন থেকেই ভাবছিলেন তিনি, এই ধরনের একটা কিছু করবেন। ওই মেয়েটাকে তিনি যতই সাধারণ হিংসুটে মেয়েছেলে ভেবে আসুন, ওর সম্পর্কে কোথায় যেন একটু অপরাধবোধ তাকে হৃদয়ের গভীর স্তরে পীড়িত করত। তাই ভাবতেন ক্ষতি পূরণার্থে

    কিন্তু মেয়েটা বলে কি? বিষয়-সম্পত্তিতে তার দরকার নেই?

    একটু চুপ করে থেকে বলেন, তবে আর কি করব বল দাদাভাই! যাতে লোকে নিন্দে করতে পারে, এমন কাজ কি করে করা যায়!

    মেজঠাকুরদ্দা, তুমি তো লোকনিন্দেকে ডরাও না?

    লোকনিদেকে ডরাই না!

    রামকালী যেন হঠাৎ অদ্ভুত অজানা একটা রহস্যের রাজ্যের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। এরা সব রামকালীকে ভাবে কি? রামকালী সম্পর্কে রামকালীর অপরিচিত যে একটা জগৎ আছে, তাদের ধারণাটা কি? একটা কৌতুকের বিস্ময়ে স্বল্পবাক রামকালী আজ একটু বেশী কথাই বলে ফেলেন।

    লোকনিন্দকে ডরাই না একথা কে বলে দাদু? ডরাই বৈকি। সত্যি নিন্দের কাজ করলে– রামকালীও কথা সমাপ্ত করতে করতে ভাবেন–শেষ করতে গিয়ে থামেন। এই অবসরে এতক্ষণের নম্র আর মৃদু চাপা কণ্ঠস্বরটা প্রায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, খোকা বল, আপনার যদি একটা দুঃখিনী মেয়ে থাকত, তাকে তীর্থে নিয়ে গেলে লোকে নিন্দে করত?

    রামকালী স্তব্ধ হয়ে যান!

    অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন, আচ্ছা দাদু, তোমরা ভেতরে যাও। আমাকে একটু ভাবতে দাও।

    হ্যাঁ, ভাববেন রামকালী। অনেক কিছু ভাববেন। এইটুকু মেয়েটা কুড়ি বিঘে ধান জমির মোহ ত্যাগ করে তীর্থে যেতে চায় কোন্ মানসিক অবস্থায় তা ভাববেন, আর ভাববেন মোক্ষদাকে সঙ্গে নিয়ে রাসুর বৌয়ের প্রার্থনাটা পূরণ করা যায় কিনা! মোক্ষদার হাত ভেঙেছে, পা-টা-তে মজবুত আছে। তার জীবনেও তো কখনো কিছু হয়নি। এ কর্তব্যটা করা উচিত ছিল রামকালীর।

    রান্না-ভাঁড়ার ঘরের জীবগুলো সম্পর্কে এত বেশি করে কখনও ভাবেন নি রামকালী।

    একটা মেয়ে তাকে মাঝে মাঝেই ভাবাত। অনেক দিন সে রামকালীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। আশ্চর্য হয়ে ভাবছেন রামকালী, কতদিন তার কথা ভাবি নি!

    সে পাছে ভাবে বলে রামকালীর অসুখের খবর দেওয়া হয় নি। কিন্তু তীর্থযাত্রার খবর! সেটাও কি না দিলে চলবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }