Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩২. এ এক আশ্চর্য সকাল

    যেন এই সকালের আকাশের কোন লুকনো পৃষ্ঠপটে নিথর হয়ে আছে অনেক রহস্য, অনেক আনন্দ, অনেক ভয়। সেই রহস্য আস্তে আস্তে উন্মোচিত হবে, সেই আনন্দ ধীরে ধীরে প্রসন্ন হাসি হাসবে, অথচ সেই ভয়মুঠোয় চেপে রাখরে সমস্ত সত্তাকে। তাই উচ্ছ্বসিত হতে বাধবে, উল্লসিত হতে বাধবে যতটা জুটছে তার সবটা গ্রহণ করতে বাধবে।

    এই আশ্চর্য নতুন সকাল সেই অজানিতের ইশারা নিয়ে তাকিয়ে রইল সত্যবতীর মুখোমুখি।

    সত্যবতী অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল তার মুখের দিকে। ভাবল, আকাশটা কি রকম অন্যরকম!

    অথচ সত্য যে এইমাত্র এই স্বপ্ন-শহরের মাটিতে পা ফেলল, আর তার আকাশে চোখ মেলল তাও নয়। গতকাল বিকেলে এসে উঠেছে সে পাথুরেঘাটার এই একতলা বাসাবাড়িটায়।

    তবু ভোর সকালে ঘুম ভেঙে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বেশ খানিকক্ষণ দাওয়ায় দাঁড়িয়ে রইল সত্য বিমূঢ়ের মত।

    মনে পড়ল না, ঠিক এই মূহুর্তে ওর কোন কাজ আছে।

    যে জীবনটা অভ্যস্ত ছিল, তার কাজগুলো যেন নিজেরাই সজীব হয়ে পর পর সামনে এসে দাঁড়াত, কিন্তু চিরপরিচিত গণ্ডির সেই নিত্য কাজগুলো ঝাঁপসা হয়ে গেছে। এলোকেশীর হাতের কাটা খাল দিয়ে আর ডোঙা ভাসবে না সত্যর। এবার সত্যকে নিজে হাতে খাল কাটতে হবে।

    .

    কোথায় যেন ভোরের পাখীরা ডাকছিল, সত্যর মনে হল ওরা আর কি নিত্যেনন্দপুর থেকে উড়ে উড়ে সত্যর সন্ধান করতে এসেছে, না বারুইপুরের কোন এক অজানা গাছের ডালে বসে সত্যকে ডাক দিচ্ছে! বলছে, সত্য, তুমি ভুল করতে বসেছ! দ্যাখ বিবেচনা কর, এখনও হয়তো সময় আছে ফেরবার!

    সত্য কি সত্যই ভুল করল?

    নইলে বুকের ভেতরটায় এমন ভয়-ভয় করছে কেন? কেন নিজেকে কেমন যেন অসহায় লাগছে?

    দাঁড়িয়ে থাকতে বল পাচ্ছে না সত্য, তাই বসে পড়ল দাওয়ার ধারে। ভাবল হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে এসে বোধ হয় মাথাটা হালকা লাগছে। একটুক্ষণ বসে নিয়ে স্নান করতে গেলেই হবে। আজকের দিনটা পর্যন্ত ইচ্ছেমত, কাল থেকে নবকুমার কাজে লাগবে।

    পাড়াগাঁয়ের কাছারী-বাড়ি’র চাকরি নয়, এ একেবার কলকাতা শহরের অফিসের চাকরি। ভাত দিতে এক পলক এদিক ওদিক করলে চলবে না। সত্যকে শুনিয়ে শুনিয়ে এলোকেশীর এক বান্ধবী অবহিত করিয়ে দিয়েছিলেন, বুঝবেন ঠ্যালা! স্বাধীন সংসার করার মজা বুঝবেন! আপিসের ভাত যে কী বউ জানেন না তো! দেখে এসেছিলাম সেবার কালীঘাটে আমার পিসতুতো ভায়েদের বাড়ি গিয়ে। একটা মানুষের ভাত যোগাতে তিন-তিনটে বৌ হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে। তোমার বৌ অবিশ্যি করিকম্মা, তবে শাশুড়ী-ননদের তলায় তলায় কাজ, আর এক হাতে হরিদ্বার গঙ্গাসাগর’– অনেক তফাৎ!

    এলোকেশী বলেছিলেন, পারবে। বুকের পাটার জোরেই পারবে। তবে খোয়ার হতে আমার ছেলেটারই হবে। বাছা আমার জগতের কিছু জানে না, তাকে গলায় গামছা বেঁধে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে জুততে গেল। যাক–ভগবান দেখছেন!

    বান্ধবী বলেছিলেন, তা তো সত্যি। যে অন্যায় পথে সুখ করতে যাবে, তার বিচার ভগবান অবিশ্যিই করবেন সংসার করা মানে তো আর মাছের ল্যাজা ভাত খাওয়া নয়, তার অনেক হ্যাঁপা। কথাতেই আছে–একলা ঘরে চতুর্ভুজে খেতে বড় সুখ, মারতে এলে ধরতে নেই ওইটাই যা দুখ।

    এর পর আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল, ঠ্যালা বুঝলেই নবুর বৌ পালিয়ে আসতে পথ পাবেন না!

    সত্য সেদিন মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসেছিল। কিন্তু আজ সত্য একটু যেন ভয় পাচ্ছে। ভাবছে এই শহরকে আমি বুঝতে পারব তো? আপনার করতে পারব তো? এ শহর আমাকে “আয়” বলে কাছে টানবে তো? এখানে আমাকে নিষ্পরের মত, বেচারীর মত, থাকতে হবে না তো?

    না আপিসের ভাত’কে ভয় সত্যর, ভয় করে না একা হাত’কে। সত্যর ভয় অপরিচয়ের ভয়।…

    মা!

    বড় থোকা তুড়ু এসে দাঁড়িয়েছে পিছনে। নীলাম্বর নাম দিয়েছিলেন তুড়ুক সোয়ার, সেই থেকে তুড়ু। ভাল নাম সাধন। প্রথম সন্তানটি নষ্ট হয়ে গেছে, তাই এটি সাধনার ধন। অতএব সেই ঘেঁষা নাম।

    তুড়ুর ফোলা ফোলা চোখে অগাধ বিস্ময়।

    সত্য তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে বলে, উঠে পড়েছিস! ভাই ওঠে নি?

    না।

    আর তোদের বাবা?

    না।

    তা উঠবেন কেন? আয়েসটি যে নবাবী! কাল থেকে বুঝবেন মজা!

    আলিস্যি ভেঙে উঠে দাঁড়ায় সত্য।

    কী বোকার মত বসেছিল এতক্ষণ! কী ভাবছিল আবোলতাবোল! নতুন জায়গায় সব ব্যবস্থা করে নিতে কম তো দেরি হবে না!

    গতকাল সন্ধ্যায় রান্না হয় নি।

    ভবতোষ মাস্টার ঘর-দোর দেখিয়ে-শুনিয়ে ওদের সরিয়ে রেখে বলেছিলেন, তুমি তা হলে এদের সামলে-সুমলে নিয়ে বসো নবকুমার, বৌমাকে বলো বেলা থাকতে প্রদীপ জ্বালাবার ব্যবস্থা করে ফেলতে, নতুন জায়গা। আমি তোমাদের জন্যে কিছু খাবার নিয়ে আসছি। এখন আর রান্নাবান্নায় কাজ নেই

    সত্য ঘরের ভিতর থেকে দরজার শিকল নেড়েছিল।

    নবকুমার সেদিক থেকে ঘুরে এসে হাত কচলে বলেছিল, আপনি আবার বৃথা কষ্ট করবেন কেন? ইয়ে মানে–যাহোক করে দুটো ভাত ফুটিয়ে নেবে অখন।

    ভবতোষ মাস্টার একবার সেই দরজার দিকে দৃষ্টিপাত করে সরাসরি অন্তরালবর্তিনীকেই উদ্দেশ করে বলে উঠেছিলেন, যাহোক করে করতেও অনেক ল্যাঠা বৌমা, কাল সকাল থেকেই একেবারে নতুন করে পত্তন করো। কাল আমি একটা বাসনমাজার ঠিকে-ঝি যোগাড় করে নিয়ে আসব। আজ বাজার থেকে পুরী-তরকারি মিষ্টি এনে….

    নবকুমার হঠাৎ বলে উঠেছিল, বাজারের পুরী-তরকারি? কলকাতায় পা দিতে দিতেই ভাতটা খোয়াব?

    হেসে উঠেছিলেন ভবতোষ মাস্টার।

    বলেছিলেন, নাঃ, তুমি একেবারে মান্ধাতার আমলেই আছ নবকুমার! জাতটা খোয়াচ্ছ কিসে? আমি কি ম্লেচ্ছ হোটেলের খানা এনে খাওয়াতে চাইছি তোমায়? দেশে তোমরা ময়রার ঘরের জিলিপি মেঠাই ফুলুরি বেগুনি খাও না? এও সেই ময়রার দোকানের।

    নবকুমার মাথা চুলকেছিল…।

    ইয়ে মানে, ওই তরকারি-টরকারি বলছিলেন তাই বলছি। একটা দিনের জন্যে কেন আর…

    ভবতোষ মাস্টার জোর দিয়ে বলেছিলেন, শুধু একটা দিন কেন, এমন অনেক দিনই হতে পারে নবকুমার। বৌমা একা মানুষ। শরীর-অশরীর আছে। কোনদিন যদি ভাতের হাঁড়ি নামাতে না পারলে! তা ছাড়া জলখাবার বলে কথা আছে। কলকাতায় এত হরেক খাবার, খাবে না ছেলেপুলে? তোমায় তো আমি দোকানের ভাত খেতে বলছি না। তবে যদি বৌমার তেমন আপত্তি থাকে…

    আর একবার শেকল নড়ে উঠেছিল।

    নবকুমার ঘুরে এসে বলেছিল, না, ইয়ে মানে ওদিকে আপত্তির কিছু নেই। বলছে, আপনি যা বলবেন তাই শিরোধার্য। আপনি হিতৈষী বন্ধু গুরু। আপনার…

    হয়েছে হয়েছে। অত ভাল ভাল কথা বেশী খরচ করবার দরকার নেই নবকুমার। তোমরা খেয়েদেয়ে একটু সুস্থ হও, আমি দেখে বাসায় যাই।

    নিজের পয়সায় একরাশ খাবার এনেছিলেন ভবতোষ মাস্টার। পুরী তরকারি চমচম রাবড়ি। সাজা পানও এনেছিলেন। বিহ্বল হয়ে গিয়েছিল ছোট ছেলে দুটো। কী সোনার দেশে এল তারা!

    নিতাইয়ের সঙ্গে একসঙ্গে থাকবার ব্যবস্থা হয়েছে, কিন্তু এদের সঙ্গে একসঙ্গে এসে উঠতে পারে নি নিতাই। কদিন পরে আসবে। রাত্রে তাই একবার প্রস্তাব করেছিলেন ভবতোষ, একা ভয় পাবে না তো নবকুমার? নতুন জায়গা। বল তো যে কদিন না নিতাই আসে, রাতে আমি তোমাদের পাহারা দিই?

    নবকুমার হাতে চাঁদ পাচ্ছিল।

    কিন্তু সে চাঁদ মুঠোয় পেতে দিল না সত্য। শেকল নেড়ে জানাল, মাস্টার মশাইয়ের কষ্ট পাবার দরকার নেই, দরজার হুড়কো লাগিয়ে বেশ থাকবে তারা।

    ভবতোষ চলে গিয়েছিলেন।

    আর চলে যাবার পর সত্যকে এক হাত নিয়েছিল নবকুমার। চিরকাল যেটা বলে সেটা বলেই বসেছিল।

    সব তাতেই দুঃসাহস প্রকাশ! ভগবান যে কেন তোমাকে বেটাছেলে না করে মেয়েছেলে গড়েছিল তাই ভাবি!

    সত্যর মুখ কঠিন হয়ে ওঠে নি। সত্য হেসে ফেলেছিল। গলা খুলে। নিজের এই খোলা হাসির শব্দ নিজের কানেই অপরিচিত ঠেকেছিল সত্যর।

    তবু খোলা গলাতেই বলেছিল, ভাববার কি আছে? তোমাকে ভগবান বেটাছেলে করে গড়েছে। অপরের পিত্যেশ করলে চলবে কেন? বারো মাস তো অপরে করবে না? তবে? গোড়া থেকেই মনের জোর করে পায়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করা উচিত।

    সন্ধ্যার অন্ধকারে মিটমিটে প্রদীপের ছায়ায় এ বল খুঁজে পেয়েছিল সত্য, আর সকালের হীরে ঝকঝকে আলোয় দুর্বল হয়ে পড়বে?

    না, পড়বে না। সত্য আঁচল কোমরে জড়িয়ে নেমে পড়েছে কাজে। নেমে পড়ল নতুন জীবনসংগ্রামে।

    এ সংসার সত্যর নিজের। নিজের ছাঁচে, নিজের ভাবে, নিজের স্বপ্নে একে গড়ে তুলবে সত্য।

    .

    ভবতোষ বাসার ঘরদোর সব ধুইয়ে মুছিয়ে রান্নাঘরে উনুন পাতিয়ে রেখেছিলেন। আনিয়ে রেখেছিলেন ঘুঁটে কয়লা। কাল নবকুমারের মাধ্যমে কয়লার উনুন জ্বালার পদ্ধতিটাও শিখিয়ে দিয়ে গেছেন সত্যকে। সেই পদ্ধতিতে উনুনে আগুন দিতে দিতে হঠাৎ ভারি অবাক লাগল সত্যর। যেভাবে ইচ্ছে কাজ করতে পারে সত্য, কেউ কোথাও চোখ দেবার নেই, ছল ধরবার কি খুঁত ধরবার নেই। এ কী অদ্ভুত অনুভূতি।

    এ কী অপূর্ব সুখ!

    এই সুখটার ধারণা নিয়েই তো মুক্তির লড়াই করে নি সত্য। ও শুধু চেয়েছিল তেমন দেশে চলে আসতে, যেখানে রোগে ডাক্তার আছে, ছেলেদের জন্য ভাল ইস্কুল আছে, পুরুষদের জন্যে কাজ আছে।

    নিজের জন্যে ভাল কি আছে, সে কথা ভেবে দেখে নি সত্য। শুধু জেনেছিল নিন্দে আছে, ধিক্কার আছে। এখন দেখছে আরো অনেক আছে। স্বাধীনতার সুখ মানে তা হলে এই? মাথার ওপর সর্বদা উদ্যত খাড়ার বদলে অনেক উঁচুতে আলো-ঝকঝক আকাশ থাকা?

    শহরের মেয়েরা যে কেন বিদ্যেয়-বুদ্ধিতে অনেক উঁচু, তার মানে বুঝতে পারে সত্য। যারা এত পাচ্ছে, তারা তার প্রতিদান দেবে বৈকি!

    হঠাৎ একটু স্তব্ধ হয়ে গেল সত্য।

    সেও তো অনেক পাবে, তার বদলে দিতে পারবে তো কিছু!

    রান্নাঘর থেকে বেরোতে গিয়ে থতমত খেয়ে ফের ঘরে ঢুকে পড়তে হল সত্যকে! ভবতোষ উঠোনে দাঁড়িয়ে। উঠোন বলতে সত্যর পরিচিত জিনিস নয়। শানবাঁধানো চারচৌকো খানিকটা জায়গা মাত্র। পাড়াগাঁয়ে একে চাতাল বলে।

    সে যাই হোক, ভবতোষ সেখানে দাঁড়িয়ে গলাখাকারি দিলেন, তারপর বললেন, নবকুমার আছ নাকি?

    বাবা ঘুমুচ্ছে।

    সাড়া দিল খোকা।

    ভবতোষ গলা চড়ালেন, এখনো ঘুমুচ্ছে? কাল থেকে যে দশটায় অফিস যেতে হবে। আমি এই একজন লোক ঠিক করে আনলাম, মেয়েলোক। খোকা, তোমার মাকে তা হলে বল, কথাবার্তা কয়ে নিতে। আমি অবশ্য মোটামুটি বলে নিয়ে এসেছি। বাসন মাজা, ঘর মোছা, ছাড়া কাপড় কাঁচা, কয়লা ভাঙা, উনুন ধরানো, মশলা পেষা এইসব করতে হবে। মাইনে মাসে বারো আনা, জলপানি চার আনা। তবে মাথায় মাখতে তেল একটু দিতে হবে। চান না করলে তো আর মশলা পেশা চলবে !

    নবকুমারের সাড়া পাওয়া যায় না। ঘরের মধ্যে বিঘল সত্য এই সকালেও ঘামতে থাকে।

    সব কাজই যদি ঝি করবে, সত্য তা হলে কী করবে?

    শুধু বাসন মাজার জন্যেই হলে তো হত।

    ভবতোষ সঙ্গের স্ত্রীলোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কই গো বাছা, এগিয়ে এস। ওই ওদিকে মা রয়েছেন, তার সঙ্গেই বলা-কওয়া করে নাও। এখন থেকেই লেগে যাও তা হলে। এই তো রাতের শকড়ি ঘটিবাটি পড়ে রয়েছে।

    আর বেশীক্ষণ লজ্জাবতীর ভূমিকার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখা সম্ভব হল না সত্যর। মাথায় কাপড়টা টেনে দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে নম্র গলায় বলে ফেলল, এত সবের জন্যে বলার দরকার ছিল না। ঘরের কাজ নিজেই চালিয়ে নিতে পারব–

    ভবতোষ প্রথমটা একটু থতমত খেলেন, কারণ সত্য এসে কথা বলবে, আশা করেন নি। তারপর সামলে উঠে বললেন, কেন? লোক যেক্ষেত্রে রাখাই হচ্ছে, সবই করবে। এমনিতে শুধু বাসন মাজলেও তো আট আনার কম রাজী হচ্ছে না। আর গণ্ডা চারেক পয়সা দিলেই

    পয়সার জন্যে না– সত্য এবার প্রায় স্পষ্ট গলায় বলে ওঠে, নিজের অব্যেস খারাপের জন্যে বলছি। সব কাজ লোক দিয়ে করালে আয়েস এসে যাবে। সময়ই বা কাটবে কিসে?

    ভবতোষ মিনিটখানেক হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন। কথাটা হৃদয়ঙ্গম করতে এ সময়টুকু লেগে যায় তার।

    শ্বশুরবাড়িতে খেটে খেটে হাড়কালিকরা কোন মেয়ে যে বাসায় এসে “আয়েস” করতে চায় না, এ তাঁর অভিনব মনে হল। ছাত্র নবকুমারের স্ত্রীটি সম্পর্কে অবশ্য তিনি বরাবরই একটু সমীহ ভাবাপন্ন, তবু আজ যেন তার সম্পর্কে আরও বেশি অবহিত হলেন।

    হয়তো বা কিঞ্চিৎ অভিভূতও।

    তার পর ধীরস্বরে বললেন, মেয়েছেলেদের জন্যে আরো অনেক ভাল ভাল কাজ আছে বৌমা, তাতেও সময় কাটবে। তা ছাড়া অবকাশকাল ঘরে বসে বসে লেখাপড়ার চর্চা করলেও

    কথা শেষ হল না, নবকুমার বেরিয়ে এল ঘর থেকে চোখ রগড়াতে রগড়াতে। তটস্থ হয়ে বলল, মাস্টার মশাই আবার সক্কালবেলাই কষ্ট করে

    না, কষ্ট আর কি! এই কাজের লোক ঠিক করে আনলাম। দেখিয়ে শুনিয়ে দাও একে। এবার একটা গোয়ালা ঠিক করে দিতে পারলেই সব ব্যবস্থা হয়ে যায়।

    আপনি আর কত কষ্ট করবেন? সত্য বলে ওঠে।

    আর সঙ্গে সঙ্গে চমকে ওঠে নবকুমার।

    দরজার শেকল নাড়া পর্যায়টা কখন পার হল? এভাবে স্পষ্টাস্পষ্টি কথা! অবাক কাণ্ড!

    ভবতোষ বলেন, আমাকে যদি তোমরা পর ভাবো নবকুমার, তবেই কুণ্ঠা বোধ করবে। আমি কিন্তু তোমাদের পর ভাবছি না।

    না না, সে কি? পর মানে?

    নবকুমার কথার খেই হারায়। এবং বোধ করি আপনি ভাবার প্রমাণ দেখাতেই তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, আমি তো এই ভাবছিলাম আপনার সঙ্গে হাটটা ঘুরে আসি। কোন্ কোন্ বারে হাট বসে এখানে?

    ভবতোষ হাসেন।

    বলেন, কলকাতায় রোজই হাট।

    ও! প্রত্যেক দিন বাজার বসে?

    তা বসে। একটা নয়, অনেক বাজার। তা আজ আর তোমাকে যেতে হবে না, আমিই ব্যবস্থা করছি। তুমি বরং বাড়ির কাজে, মানে কি সুবিধে অসুবিধে–

    বাড়ির কাজে কিছু আটকাবে না–, সত্যর ধীর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হয়। তার পর ঘরের মধ্যে থেকে একটা ধামা বার করে এনে নবকুমারের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায় সত্য।

    .

    এমনি করেই আরম্ভ হয় সত্যর শহরে সংসার।

    নিজের সংসার।

    কদিন পরে নিতাই আসে।

    নবকুমার বলে, ওকে আর তোমার লজ্জা করলে চলবে না। একসঙ্গে থাকা, ভাইয়ের মত, বাড়িতে আর দ্বিতীয় মেয়েছেলে নেই, ভাত বেড়ে দেবে তুমি

    সত্য মৃদ্যু হেসে বলে, অত বলবার কি আছে? আমাকে কি তোমার খুব লজ্জাবতী মনে হয়?

    আহাহা, ইয়ে তা নয়। মানে লজ্জা আর কোথা? মাস্টার মশাইয়ের সঙ্গেই তো তুমি দিব্যি কথা চালাচ্ছ… বুঝলি নিতাই, প্রথম দিন আমি তো তাজ্জব! যদি ভাগ্যিস মা নেই সামনে। খুব সাহসী, বুঝলি? মাস্টার মশাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে আমারই তো–

    নিতাই এক নজর সত্যর দিকে দৃষ্টিপাত করে বলে, বৌঠানকে এতদিন দেখেও চিনতে পারলে না নব? তোমার আমার মাটি দিয়ে গড়া উনি নন। তোমার অনেক ভাগ্য তাই..

    হঠাৎ ওদের চমকে দিয়ে হেসে ওঠে সত্য, নাও, নাওয়া-খাওয়া শিকেয় তুলে এখন দুই বন্ধুতে ভাগ্যবিচার শুরু হয়ে গেল! আচ্ছা ঠাকুরপো, তুমিই বল, মাস্টার মানে হল গিয়ে গুরু, কেমন কিনা? তা গুরুকে লজ্জা করলে চলবে কেন? ভক্তি করব, ছেদ্দা করব, মান্য করব, ভয়-লজ্জা করব কেন? আমি তো ওনার কাছে ইংরিজি পড়ব ঠিক করেছি।

    কী বললে?

    নবকুমার জ্যা-মুক্ত ধনুকের মত ছিটকে ওঠে, কি শিখবে?

    বললাম তো।

    পাগলামি করো না। বেশী বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। যা রয় সয় তাই ভাল। কলকেতায় এসেছ, বাসার সংসার করছ, এ পর্যন্ত একরকম, তা বলে

    তা ইংরিজি শিখব বলেছি বৈ তো গাউন পরে হোটেলে খানা খেতে যাব বলি নি? কৌতুকের হাসিতে জোড়া ভুরু নেচে ওঠে সত্যর, উফুল মুখ লাল হয়ে ওঠে, নিতাইয়ের দিকে সরাসরি তাকিয়েই বলে, তোমার বন্ধুর সবতাতেই ভয়! ঘরে বসে বসে বই পড়ে যদি একটু জ্ঞান-বিদ্যে অর্জন করা যায়, তাতে দোষটা কি বল তো? নাকি মেলেচ্ছ অক্ষর ছুঁলেও জাত যাবে?

    নবকুমার গম্ভীরভাবে বলে, তা একরকম তাই বৈকি। যতই হোক হিন্দুর মেয়ে!

    আর নিজে হিন্দুর ছেলে নও?

    বেটাছেলের কথা আলাদা।

    আলাদার কিছু নেই। ধর্মের কাছে সব সমান। আর যদি জাত যাওয়ার কথাই বল– আর একবার কৌতুকের আলো ফুটে ওঠে সত্যর মুখে, সে তা হলে অনেক দিনই গেছে।

    অ্যাঁ!

    অ্যাঁ!

    যুগপৎ দুই বন্ধুরই মুখবিবর হাঁ হয়েই থেকে যায় বুজতে ভুলে।

    সত্য মৃদু মৃদু হাসতেই থাকে।

    একটু চৈতন্য লাভ করে নবকুমার বলে, ইংরিজি পড়েছ তুমি?

    সামান্য সামান্য। নিজের চেষ্টায় যা হয়। তোমার বই দুটো তো ছিল ঘরে।

    তাজ্জব!

    নিতাইয়ের কণ্ঠ থেকে শুধু এইটুকু স্বর নির্গত হয়।

    কিগো ঠাকুরপো, আমার হাতে চলবে তো? নাকি জাত যাওয়ার হাতে খাবে না?

    কথা নেই বার্তা নেই সহসা নিতাই এক হাস্যকর কাজ করে বসে। প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সত্যর পায়ের কাছে সাষ্টাঙ্গে এক প্রণাম করে।

    সত্য অবশ্য এর জন্যে প্রস্তুত ছিল না। দু পা পিছিয়ে যায়। তারপর ধীরস্বরে বলে, যাক ঠাকুরপো, গুরুজন বলে মানলে তাহলে? বেশ। নাও এবার বাধ্যতা কর। তোমার তো এখনো দুদিন ছুটি, চান করে খেয়ে ভাইপোদের নিয়ে ইস্কুলে ভর্তি করতে যাও দিকিন। কদিন এসেছে, কেবল খেয়ে খেলিয়ে বেড়াচ্ছে। যার জন্যে এত কাণ্ড করে কলকাতায় আসা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }