Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৫. হাত ধরার অপরাধে জাত যাবে না

    না, হাত ধরার অপরাধে জাত যাবে না, পুরুষ নয় মেয়েমানুষ। বিহ্বল দৃষ্টি এক বিধবা! শীর্ণ দেহ পোড়া রং। নবকুমারও বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শুনতে পায়, সত্য তার নিজস্ব সবল ভঙ্গীতে বলছে, হাতে যখন পেয়েছি, আর ছাড়ি? মেয়ে নিয়ে চলে এস তুমি আমার কাছে। আমার যদি দুবেলা দুমুঠো জোটে, তোমারও একবেলা একমুঠো জুটবে। আমার ছেলে দুটো যদি খেতে পরতে পায়, তোমার মেয়েটাও পাবে।

    শুনে গায়ের রক্ত হিম হয়ে যায় নবকুমারের। এসব আবার কি কথা?

    কে এ? কোথায় এর মেয়ে? সত্যর সঙ্গে কী সম্পর্ক এর? আবার হঠাৎ সেই হিম হয়ে যাওয়া রক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠল। পুরুষের রক্ত!

    নবকুমারের সঙ্গে একবার পরামর্শ পর্যন্ত না করে দু-দুটো মানুষকে খেতে পরতে দেবার ভরসা দিয়ে বাড়িতে জায়গা দিতে চাইতে সত্য! এতই বা সাহস কেন মেয়েমানুষের? নবকুমার কিছু বলে না বলে বড় বাড় বেড়ে গেছে!

    নবকুমারের চিরদিনের প্রাণের বন্ধু নিতাই, বিনি অপরাধে তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। যার জন্যে মনের দুঃখে, ঘেন্নায়, অভিমানে স্বভাবটাই খারাপ করে ফেলল ছেলেটা। নবকুমারের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকলে কখনই এসব ঘটত না। মেসে কত রকম কুসঙ্গ।

    নবকুমারের চোখে জল এসে গেল। তার পর ভাবল, এখন কিনা কে কোথাকার একটা মাগী, নবকুমার যাকে সাতজনও চোখে দেখে নি, তাকে বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করবার ষড়যন্ত্র আঁটা হচ্ছে।

    চালাকি!

    চলবে না, এসব চলবে না। নবকুমার সাফ জবাব দিয়ে দেবে–নবকুমারের বাড়িতে এসব চালাকি চলবে না।

    নির্ঘাৎ সত্যর বাপের বাড়ির দেশের লোক। তাই এত ভালবাসা! সত্যি বলতে কি একটা ঈর্ষাও অনুভব করে নবকুমার। নবকুমারের সম্পূর্ণ অপরিচিত জগতের কাউকে যে সত্য মনে জায়গা দেবে এ অসহ্য। হোক না সে মেয়েমানুষ, তবুও!

    মনের কথা যে মন ছাড়া আর কেউ জানতে পারে না, এ বাঁচোয়াতেই পৃথিবী টিকে আছে। নইলে পৃথিবী তার সমাজ সভ্যতা শিক্ষা সংস্কৃতি সব কিছুর বড়াই নিয়ে কোন কালে রসাতলের অতল তলায় তলিয়ে যেত।

    মনের কথা অন্যে টের পায় না।

    নিতান্ত মনের মানুষটাও না।

    এই আনন্দের যথেচ্ছ নেচে বেড়াচ্ছে মানুষ, যত পারে বড় বড় কথা বলছে। আর স্নেহ প্রেম ভালবাসার মহিমা দেখাচ্ছে। তা এ রহস্যটা মানুষ নিজেও খেয়াল করে না, এই যা মজা।

    নবকুমারও খেয়াল করে না, বিধাতার কাছে এ কত বড় পাওয়া পেয়ে বসে আছে সে। মনে মনে তাই শুধু সত্যকেই বাক্যবাণে বিদ্ধ করে না, বিধাতাপুরুষকেও করে। করে বিধাতা নবকুমারকে পুরুষ আর সত্যকে মেয়ে করেছেন বলে। সহ্য হচ্ছে না। এই হাত ধরা দৃশ্য আর সহ্য হচ্ছে না।

    গলা ঝাড়ার শব্দ করল নবকুমার।

    এতক্ষণ সত্য নিজের ঝোঁকে ছিল, খেয়াল করে নি আর, আর একজন তো দরজার দিকে পিঠ করে দাঁড়িয়ে। গলার শব্দে উভয়েই সচকিত হল। বিধবাটি একটু সরে গেল।

    আর সত্য ধরা হাতটা ছেড়ে দিয়ে হাত তুলে মাথার কাপড়টা টানল।

    বুদ্ধিমতী সত্য অবশ্য তক্ষুনি হৈ-হৈ করে আবির্ভূত মহিলার পরিচয় দিতে এল না স্বামীর কাছে। তা ছাড়া লজ্জা-শরম বলেও কথা আছে। গুরুজনদের সামনে বরের সঙ্গে কথা বলা চলে না। তাই মাথার কাপড়টা টেনে গলা নামিয়ে আস্তে বলল, চল বৌ, ও ঘরে গিয়ে বসবে চল।

    নবকুমার ভেবেছিল যা বলবে গলা চড়িয়ে বলবে, যাতে ওই মেয়েমানুষটার কানে পৌঁছয়। যাতে সে বুঝতে পারে বাড়ির প্রকৃত কর্তা কে। আর এও বুঝতে পারে বৃথা আশায় প্রলুব্ধ হয়ে কোনও লাভ নেই তার। সত্য ছেলেমানুষ, না বুঝেসুঝে কি না কি বলেছে, সেটা ধোপে টিকল না। এ সবই আশা করছিল নবকুমার।

    কিন্তু গলা চড়ল না।

    শুধু চড়ল না নয়, প্রায় বাকস্ফূর্তিই হল না। একটা গমগমে রাগ-রাগ ভাব নিয়ে চান করে এসে খেতে বসল।

    ভাতের থালা ধরে দিতে দিতে সত্য প্রশ্ন করে, এত বেলা অবধি গিয়েছিলে কোথায়?

    নবকুমার পাতের উপর হুস করে সমস্ত ডালটা একসঙ্গে ঢেলে ফেলে ভাত মাখতে মাখতে গম্ভীর গলায় বলল, যেখানেই যাই না, তোমার কাছে তার কৈফিয়ৎ দিতে হবে নাকি?

    শোন কথা! কী কথার কী উত্তুর! কৈফিয়ৎ দিতে হবে, এ কথা কে বলেছে? নাইতে খেতে বেলা গড়িয়ে গেল, তাই শুধাচ্ছি।

    না, শুধোতে হবে না। তেমনি গলাতে চালিয়ে যায় নবকুমার, শুধোবার কোনও এক্তিয়ার নেই তোমার। কি জন্যে শুধোবে? তুমি আমায় মেনে চল? তাই আমি তোমায় মেনে চলব?

    সত্য অবাক হয়ে বলে, রোদের তাতে হঠাৎ মাথাটা গরম হয়ে গেল নাকি? কী বলছ আবোল-তাবোল?

    আবোল-তাবোল! আবোল-তাবোল বকছি আমি? আর নিজে যখন বলা নেই কওয়া নেই—

    গলা চড়াবার ব্যর্থ চেষ্টায় বিষম খায় নবকুমার।

    অগত্যাই তখন সত্যর চিকিৎসাধীন হতে হয় সত্যর বীরপুরুষ স্বামীকে। জল-বাতাস, মাথায় ফু। ধাতস্থ হতে সময় লাগে।

    আর ধাতস্থ হওয়া মাত্রই সত্য নিম্নস্বরে বলে, সংসারে আর দুজন মানুষ বাড়ল, একটু জানিয়ে রাখছি তোমায়। নইলে যেমন মতিবুদ্ধি তোমার, হঠাৎ হৈ-চৈ লাগাবে- কে এরা, কোথা থেকে এল?

    নবকুমার বলতে পারত, তা সে কথা তো জিজ্ঞেস করবই আমি। সত্যিই তো–কে এরা, কোথা থেকে এল? কেন এল? আর আমিই বা খামোকা দুটো মানুষকে সংসারে জায়গা দিতে যাব কিসের জন্যে?

    বলতে পারল না।

    সেই বিষম-খাওয়া ধরা-গলায় যা বলল সেটা হচ্ছে এই, তা আমাকে জানাবার কি আছে? তুমি যা ভালো বুঝবে

    কার গলা?

    নবকুমারের?

    নবকুমার এ কথা বলল কেন?

    এতক্ষণ ধরে এই কথাটা বলবার জন্যেই কি “মহলা” দিচ্ছিল নবকুমার মনে মনে?

    .

    সেই সেদিন পঞ্চুর মার সঙ্গে একবারের জন্যে দেখা করে গিয়ে পর্যন্ত দত্তবাড়ির “পানসাজুনি”র প্রাণটা যে কেন দেয়ালে মাথা কুটতে চাইছিল তা ভগবানই জানেন। আর তার সাক্ষীও শুধু তিনিই।

    তাই আবার যখন এদিন সে দিনদুপুরে পঞ্চুর মাকে ধরে বসল, চুপি চুপি আর একবার আমায় নিয়ে যাবি? তখন পঞ্চুর মা হাঁ হয়ে গেল।

    বলল, হ্যাঁগা, সেদিন তো কথাই কইলে না! আবার আজ যাবে বলছ মানে?

    কি জানি পঞ্চুর মা, মনটা কেমন টানছে। আমার একটা ছোট বোন ছিল, অনেকটা তেমনি দেখতে।

    পঞ্চুর মা বোধ করি একটা তবু মানে পেয়ে আশ্বস্ত হয়। তবে এ প্রশ্ন তোলে–দিন-দুপুরে চুপি-চুপিটা সম্ভব কি করে?

    সে বুদ্ধি পানসাজুনিই দিয়েছে। কালীতলায় যাবার নাম করে বেরিয়ে পড়া। ঠনঠনের মা কালী জাগ্রত কালী, তাঁর কাছে সময়-অসময় যায়ও সবাই। দূরও বেশী নয়, এই তো একটু গেলেই।

    দেবীদর্শনেই এসেছিল পানসাজুনি বামুনদিদি। আর সে দর্শন তার মিলেছিল।

    তারপর তো সেই নবকুমারের প্রবেশ।

    শঙ্করী বলে, ঠাকুরঝি বলে ডাকবার মুখ নেই, তবু বলতে বড় সাধ যাচ্ছে তাই বলছি, মিথ্যে ছেলেমানুষি করো না সত্য ঠাকুরঝি, তুমি যা বলছ তা হবার নয়।

    হবার নয়?

    সত্য জোরালো গলায় বলে, কিন্তু কেন হবার নয়, সেই কথাটাই আমায় বোঝাও কাটোয়ার বৌ! ভুল-ভ্রান্তি মানুষেই করে, তা বলে কস্মিনকালে আর সে ভুল শোধরাতে পাবে না সে?

    শোধরাব বললেই হল? সমাজ সে আবদার শুনবে? শঙ্করী নিঃশ্বাস ফেলে বলে, মেয়েমানুষ যে মাটির পাত্তর ঠাকুরঝি, ও তো ছুঁৎ লেগেই গেল!

    মেয়েমানুষ যে মাটির পাত্তর, এ কথা বুঝি বিধাতাপুরুষ তার গায়ে দেগে দিয়ে ধরাভূমিতে পাঠিয়েছিল? সত্য তীক্ষ্ণ স্বরে বলে, আর বেটাছেলেকে সোনার বাসন বলে ছাপ মেরে পাঠিয়েছিল? তাই তাদের বেলা যা করুক তাই বাহবা! হ্যাঁ, অন্যায়ই তুমি করেছিলে সত্যি, খুব করেছিলে। তুমি বয়সে বড়, গুরুজন সম্পর্ক, বলাটা আমার শোভা পায় না, তবু না বলেও পারছি না, যা করেছিলে তা মহাপাতক। তখন জ্ঞান-বুদ্ধি ছিল না, পুরো বুঝতে পারি নি, কিসের জন্যে কি! কিন্তু পরে তো বুঝেছি। বুঝে মিথ্যে বলব না, মনে মনে তোমায় নোড়া দিয়ে ছেঁচেছি আমি। শুধু মহাপাতক বলেই নয়, বাবার মতন মান্যিমান মানুষের উঁচু মাথাটা যে তুমি হেঁট করে দিয়েছিলে, সেই ঘেন্নার জ্বালায় তোমায় শতেক ধিক দিয়েছি। তবে এও তো সত্যি, অতি পাতকেরও প্রাচিত্তির আছে। যেমন মহাপাতক করেছ তুমি, তার মহা প্রাচিত্তিরই করেছ। তুষানলে জ্বলে জ্বলে খাক হয়েছ।

    সত্য ঠাকুরঝি!

    শঙ্করী আবেগ-কম্পিত স্বরে বলে, মান্যে ছোটর কথা বলি না, তবে তুমি আমার চেয়ে বয়সে আদ্দেক, তাই পায়ের ধুলো নিলাম না তোমার। কিন্তু জিজ্ঞেস করি, রাতদিন যে আমি তুষানলে জ্বলছি, এ তুমি কেমন করে টের পেলে?

    শোন কথা! এর আবার টের পাবার কি আছে? প্রেত্যক্ষ দেখতে পাচ্ছি না? দিষ্টিহীন তো নই? তুষানলে যে জ্বলছ, সে সাক্ষী দিচ্ছে তোমার ওই পোড়াকাঠ দেহ। কি সোনার বর্ণ রং ছিল, কী মোমে গড়া দেহ ছিল তোমার, সেটা তো আর ভুলি নি! তা যাক, রূপ গেছে বালাই গেছে, থাকলে আর কী ধুয়ে জল খেতে? ওই রূপই কাল হয়ে দংশন করেছে তোমায়। গেছে যাক, কিন্তু শরীর স্বাস্থ্যটা তো দেখতে হবে? গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে এহকালের বালাইটা ঘোচাও নি যখন?

    শঙ্করী কাতর কণ্ঠে বলে, সেই ইচ্ছে কি আর হয় নি ঠাকুরঝি? রাতদিন সে ইচ্ছে হয়েছে, কিন্তু পারি নি। ওই পেটের জঞ্জালটাই পায়ের বেড়ি হয়েছে। আমিই মহাপাতকী, ওর আর অপরাধ কী! ত্রিজগতে কেউ নেই ওর, মরে ওকে কোথায় ভাসিয়ে দিয়ে যাবো?

    সত্য ঝঙ্কার দিয়ে বলে, যাক সে সুমুতিটুকু যে হয়েছিল তাও মঙ্গল। একে তো এই পাতকের বোঝা, তার উপর আবার আত্মঘাতী মরণের পাপ! নরকেও ঠাই হত না। যাক গে মরুক গে, গতস্য শোচনা নাস্তি। এখন সোজা কথা হচ্ছে–এতাবৎ যা করেছ, এখন আমার চোখে যখন ধরা পড়েছ, আর তোমার শুদ্দুরের দাস্যবিত্তি করা চলবে না!

    শঙ্করী বিষণ্ণ হাসি হেসে বলে, বয়েস হয়েছে, ছেলেপুলের মা হয়েছ, তবু স্বভাবটি তোমার দেখছি ঠিক তেমনি ডাকাবুকো আছে সত্য-ঠাকুরঝি। কিন্তু জগৎকে চিনতেও বাকি আছে। আমায় ঘরে ঠাই দিলে তোমাকে কি আর কেউ ঘরে ঠাঁই দেবে?

    হঠাৎ সত্যর মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। একটু মুখ টিপে হাসে সে। তার পর বলে, কে ঘরে ঠাই দেবে না? তোমার ননদাই?

    বালাই ষাট! তা বলছি না। তিনি তোমায় চিরকাল রাজরাণী, মাথায় মণি করে রাখুন। এই সমাজের কথা বলছি। জানাজানি হয়ে গেলে

    জানাজানি হয়ে যাবার আবার কি আছে কাটোয়ারী বৌ! আমি কি লুকোছাপ করব? আমি তো ঠিক করছি আজই বাবাকে পত্তর দেব। বাবা এই কাজ করেছি আমি, এখন আমায় মারতে হয় মার, কাটতে হয় কাট আর রাখতে হয় রাখ!

    বাবা শব্দটা শুনেই শঙ্করী সহসা দু হাত জোড় করে কপালে ঠেকায়।

    সেই বাবা নামক মানুষটার উদ্দেশে কি ভগবানের উদ্দেশে?

    বোধ করি ভগবানের উদ্দেশে।

    সাহস করে সেই বাড়ি, মানুষগুলো, সর্বোপরি সেই দৃপ্তমূর্তি দেবোপম ব্যক্তিটি সম্পর্কে কোনও প্রশ্নই করতে সাহস ছিল না শঙ্করীর। ভয়, লজ্জা, অপরাধের সঙ্কোচ, এসব তো আছেই, তার ওপর এক আশঙ্কার আতঙ্ক। যদি প্রশ্ন করতে গিয়ে শোনে, মানুষটা নেই? সে বড় ভয়ঙ্কর!

    কিন্তু সত্য বলছে, বাবাকে পত্তর লিখব। তাই কপালে হাত ঠেকিয়েছে শঙ্করী।

    আতঙ্কটা যাবার সঙ্গে সঙ্গে ভয় লজ্জা সঙ্কোচ সবই যেন একটু সরে দাঁড়ায়। যেন শঙ্করীর অবস্থা দেখে দয়া হয়েছে ওদের।

    তাই শঙ্করী ঈষৎ ইতস্তত করে বলেই ফেলে, মামাঠাকুরের শরীরগতিক মঙ্গল?

    শরীরগতিক!

    সত্য নিঃশ্বাস ফেলে বলে, খুব ভাল নয়, তবে মানুষটাকে তো জান? ভাঙব তবু মচকাব না। নইলে মা মারা যাওয়ার পর থেকে ভেতরে ভেতরে দেহ ভেঙে গেছে। কলকাতায় আসার আগে দেখা করে এলাম তো।

    মা মারা যাওয়া!

    শঙ্করী ভাবে, এ ‘মা’ রামকালীরই মা, দীনতারিণী। ভাবে তা তিনি মরবেন এটা তো আশ্চয্যিও নয়, দুঃখের নয়, তার নাকি রামকালী হৃদয়বান পুরুষ, মাতৃশোককে মর্যাদা দিয়েছেন। তবু বলে, তিনি জ্ঞানবান মানুষ হয়ে এত কাতর হয়েছেন? তা বড়দিদিমা মারা গেছেন কতদিন হল?

    বড়দিদিমা!

    সত্য ভুরু কুঁচকে বলে, ঠাকুরমার কথা শুধোচ্ছ? মারা গেছেন এই ক’বছর যেন হল। আমি আমার মার কথা বলছি। মা তো চলে গেছেন

    সত্য চুপ করে যায়।

    গলার কম্পন কেউ ধরে ফেলবে, এতে সত্যর বড় লজ্জা।

    শঙ্করী স্তম্ভিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, মেজমামীমা মারা গেছেন?

    সত্য নীরব

    সত্য নতদৃষ্টি।

    অনেকক্ষণ পর শঙ্করী একটা পরিতাপের নিঃশ্বাস ফেলে বলে, কতদিন হল?

    এই আমার বড় খোকা তখন আঁতুড়ে।

    আস্তে আস্তে উদ্বেলিত নিঃশ্বাস শান্ত হয়ে যায়। ক্রমশ ধীরে ধীরে কখন যে নিঃশ্বাস ফেলার ধাপ থেকে গল্প করার অবস্থায় এসে পৌঁছে গেছে ওরা, তা ওদের নিজেদেরই খেয়াল থাকে না।

    অতীত স্মৃতির রোমন্থনে সময়ের জ্ঞান হারায় বুঝি।

    শঙ্করী প্রশ্নকত্রী।

    সত্য উত্তরদাত্রী।

    শঙ্করী যেন গভীর সমুদ্রে হাতড়ে হাতড়ে কী এক হারানো মানিক খুঁজতে চাইছে, আর সত্য যেন শঙ্করীর সেই প্রশ্নের হাতড়ানির মধ্যে দিয়ে ফিরে পাচ্ছে তার হারানো শৈশবকে।

    নিত্যানন্দপুরের রামকালী কবরেজের অন্তঃপুরটা না একদা সশস্ত্র-প্রহরী-বেষ্টিত অন্ধকার কারাগারের মত লাগত শঙ্করীর?

    তবে আজ সেই অন্তঃপুরটা আলোকোজ্জ্বল স্বর্গের মতো মনে হচ্ছে কেন তার?

    সেই স্বৰ্গকে স্বেচ্ছায় হারিয়েছে শঙ্করী! ভাঙা মাটির বাসনের মত হেলায় পথের ধুলোয় আছড়ে ফেলে শয়তানের ছলনায় স্বর্গে!

    অনেক কথা অনেক নিঃশ্বাস।

    ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।

    তবু আবার একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলে সত্য, আজ তুমি ওই দত্তবাড়ির পানসাজুনিগিরি করছ কাটোয়ার বৌ, কিন্তু এর থেকে হাজার গুণ মর্যাদা ছিল যদি তুমি কবরেজবাড়ির উঠোনটা ঝেটিয়েও খেতে।

    মতিচ্ছন্ন! পূর্বজন্মের মহাপাতক! আর কিছু বলার নেই আমার।

    যাই হোক, তুমি আর দ্বিধা করো না বৌ, মেয়ে নিয়ে একবস্ত্রে চলে এস। পেটের ভেতরের অন্তন্ন তো আর এক কথায় ধুয়ে মুছে সাফ হবে না, তবে পরনের ওই সব পতিত বস্ত্র পরিত্যাগ দিতে হবে। ও ত্যাগ না দিলে গলদ আর দূর হতে চাইবে না। সে যাক, মেয়ে কত বড়টা হল?

    কত বড়? মানে বয়সের কথা বলছ? শঙ্করীর চোখের ছায়ায় যেন একটু ধূসর শূন্যতা। সে শূন্যতার স্পর্শ তার কণ্ঠে এসে লাগে।

    বয়েস? তোমার কাছে আর লুকোছাপা করব না ঠাকুরঝি, পষ্টই বলছি–বয়েস চৌদ্দ উতরে গেছে এই মাঘে।

    মাঘে! তাহলে পনেরোই! পনেরো চলছে! সত্য বিমূঢ় ভাবে বলে, বিয়ে?

    বিয়ে! শঙ্করী ক্ষুব্ধ ব্যাঙ্গমিশ্রিত একটু হাসে। এ ব্যঙ্গ ভাগ্যকে। এ ক্ষোভ সত্যর প্রশ্নতে।

    সত্য একটু চুপ করে থেকে বলে, তা যাদের সংসারে আছ, তারা কিছু বলে না? তাদের কি জবাব দাও?

    শঙ্করী তেমন একটু হেসে বলে, সে জবাব আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম। বলেছি পাঁচ বছরের বিয়ে, সাত বছরে বিধবা, শ্বশুরবাড়ি চক্ষে দেখে নি

    সত্য ইতিমধ্যে শিউরে উঠেছে।

    বল কি বৌ, কি সব্বনেশে মা তুমি! আইবুড়ো মেয়েটাকে বিধবা বলে পরিচয় দিয়েছ? সমগ্র পৃথিবীতে এমন কথা কেউ কখনো শুনেছে? বলি এই কাণ্ডটা যে করে রেখেছ, আজন্ম তো তাকে আলোচাল কাঁচকলা গিলতে হচ্ছে?

    তা হচ্ছে বৈকি। আমার যা তারও তাই। তার বেশী জুটছেই বা কোথা থেকে ঠাকুরঝি?

    সত্য পরিতৃপ্ত সুরে বলে, তা যেন হল। কিন্তু এর পর ওর বিয়ে দেবে কি করে?

    শঙ্করী নিঃশ্বাস ফেলে বলে, সে পরিচয় না দিলেই কি বিয়ে দিতে পারতাম ঠাকুরঝি? বাপ ঠাকুন্দার পরিচয়হীন মেয়েকে কে বৌ বলে ঘরে তুলবে?

    সত্য ভুরু কুঁচকে বসে থাকে কিছুক্ষণ, তার পর বলে, তা সেই নগেন না কে, যার সঙ্গে বিয়ে তোমার হয়েছিল বললে–

    ফাঁকি, ফাঁকি, সব ফাঁকি, বুঝলে ঠাকুরঝি, সেই নরকের কীট পাপিষ্ঠ শয়তান ফাঁকি দিয়ে আমাকে–, রুদ্ধকণ্ঠ পরিষ্কার করে বলে শঙ্করী, কী বলব ঠাকুরঝি, ওই ভোগায় না পড়লে কি দুর্মতি হত আমার? বলল, কলকাতায় এখন বিধবা বিয়ের চল হয়েছে। কত অল্পবয়সী বিধবা আবার সুখে-স্বচ্ছন্দে ঘর করছে। সেই ভোগায় ভুলে পাতালের সিঁড়িতে পা ফেললাম।

    সত্য বিরসমুখে বলে,তা হলে বিয়ে করে নি?

    না, সে মিথ্যে বলব না, করেছি। বিধবা বিয়ে দিতে রাজী হয় এমন পুরুত ডেকে অগ্নি নারায়ণ সাক্ষী করে ঠাট একটা দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই বিয়েকে যদি সে মনেপ্রাণে সত্যি বলে মানত, তা হলে কি পেটে সন্তান এসেছে শুনেই আমাকে ছেঁড়া কাপড়ের মতন ফেলে চলে যেত?

    তা যাক। সত্য একটা অস্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, তার চরিত্তিরের উপযুক্ত কাজই সে করেছে। কিন্তু তুমি তো একপ্রকার ধর্মে খাঁটি আছ। আর তোমার মেয়েকেও অধর্মের সন্তান বলে চলে না। বিধবা বিয়ে আমার চোখে অবিশ্যি ভাল ঠেকে না, তবে মন্দের ভাল। বড় বড় পণ্ডিতেরা যখন শান্তর পড়ে বুঝেসুঝে বিধান দিয়ে রেখেছেন, তখন একেবারে তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁদের চেয়ে আমি পণ্ডিত নই। তবু বলব কাটোয়ার বৌ, মেয়ের এই মিথ্যে বিধবা পরিচয়টা তোমার দেওয়া উচিত হয় নি। তার কাছেও তো একটা জবাব আছে? সে যখন বড় হবে, পাঁচজনের বিয়েথাওয়া গয়নাকাপড় ঘরবর দেখবে, তখন তার প্রাণের ভেতরটি কেমন করবে? তখন তোমায় একদিন শুধাবে না, মা, মা হয়ে তুমি আমার এই করলে–

    শঙ্করী কথায় মাঝখানেই উদাস গভীর সুরে বলে, সে জিজ্ঞেসের গোড়াও মেরে রেখেছি ঠাকুরঝি। তাকে ওই কথাই বুঝিয়ে রেখেছি। বলেছি পাঁচ বছর বয়সের ঘটনা, তোর স্মরণে নেই।

    বৌ! আবেগ-কম্পিত স্বরে শুধু এই একাক্ষর শব্দটুকু উচ্চারণ করে সত্য।

    শঙ্করী সত্যর সেই ক্ষুব্ধ বিস্মিত আহত মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, তা তুমি শতেক ঝাটা মারতে পার ঠাকুরঝি, কিন্তু এ ছাড়া আর কোনও উপায় আমি দেখতে পাই নি। বলতে পার আমি মা নই রাক্ষসী, কিন্তু তবু তো সেই দুর্দিনে গর্ভসুদ্ধ গঙ্গায় ডুবে মরতে পারি নি? আর ওর জন্যেই দোর দোর ঘুরেছি, হাজার লাথি ঝাটা খেয়েছি, মান-অপমান জলাঞ্জলি দিয়েছি, আর আজ সোনারবেনের দাসত্ব করে ভাত খাচ্ছি। কিন্তু বাড়ি ভাল নয়। লোকে বলে অন্নদাতার নিন্দে করতে নেই, তবু না বলে উপায় নেই, সোমত্ত মেয়ে নিয়ে ও বাড়িতে থাকা কাঁটা হয়ে থাকা। শুধু মেয়েটাকে যদি তুমি চুপ করে যায় শঙ্করী।

    অনেকক্ষণ নীরবতার পর সত্য আস্তে বলে, নাম কি রেখেছ?

    নাম! শঙ্করীর কণ্ঠে যেন অপরাধের সুর বাজে, দু মাস বয়স থেকে হাসিটা লক্ষ্মীছড়ির এত মন-কাড়া ছিল যে নাম রেখে বসেছিলাম সুহাসিনী!

    তা অপরাধের সুর আসাই স্বাভাবিক, ওই হতভাগ্য মেয়েটার নাম ‘মলিনা’ কি ‘অশ্রুমতী’ নিদেনপক্ষে ছায়া’ কি ‘দাসী’ এমনি একটা হলেই যেন শোভা পেত।

    কিন্তু সত্য সে খোটা দিল না। সত্য বলল, তা মন্দ নয়। সে যাক, বাড়ি যখন অমন বলছ, আর তো থাকা ঠিক নয়। মেয়ে নিয়ে অবিলম্বে চলে এস।

    .

    হ্যাঁ, বাড়ি ওদের অমনি! নবকুমারের কাছে বসে সত্য চাপা তীব্র স্বরে বলে, ভদ্রঘরের মেয়ের এসব কথা মুখে আনলেও পাপ, তবে অবস্থাটা তোমায় স্পষ্ট করে খুলে না বললেও তো বুঝবে না তুমি। ওই রূপের ডালি মেয়ে নিয়ে কি কাঁটা হয়ে থাকে বৌ বুঝে দেখ। বলে, নীচের তলায় রান্নাবাড়ির কাছে একখানা ছোট ঘর আছে, তাতে নাকি কাঠ-ঘঁটে থাকত, সেই ঘর পরিষ্কার করে মায়ে-ঝিয়ে আছে। কেন? না পাছে কারুর চোখে পড়ে যায়! দিনান্তে একবার নাইতে খেতে ঘর থেকে বেরোতে দেয় মেয়েকে, তাও নিজের কড়া পাহারায়। আইবুড়ো মেয়েটাকে বিধবা পরিচয় দিয়ে রেখে দিয়েছে! ভাব কষ্ট!

    নবকুমার কিন্তু বেশী বিচলিত হয় না, বরং নিতান্ত ব্যাজার মুখে বলে, তা সে যার কথা সে বুঝবে, তোমার এত আগ বাড়াবার দরকার কি? শুধু গরীব দুঃখী অবীরে বিধবা ভাজ হত তার মানে ছিল। এসব কি? না না, এসব কেচ্ছাকেলেঙ্কারী আমার বাড়িতে ঢোকানো চলবে না। বাসাতেই এসেছি, তা বলে তো বেওয়ারিশ নই আমি। মা শুনলে আর আমার মুখ দেখবে, না তোমার হাতে জল খাবে?

    সত্য স্থিরকণ্ঠে বলে, বলার আমার অনেক কথা ছিল, কিন্তু বলব না সে সব। শুধু বলছি, আমি যদি তাদের মত করাতে পারি?

    হ্যাঁ, মত করাতে পার! নবকুমার বলে ওঠে, এ তোমার কাছা-আলগা নবকুমার বাঁড়ুয্যের কিনা, যে তোমার কথায় উঠবে বসবে! সে বড় শক্ত ঘাঁটি!

    সত্য ভ্রূভঙ্গী করে বলে, নিজের মুখে নিজের ব্যাখ্যানটা আর নাই করলে। বেশ, ওনাদের মতটা পেলেই তো হল?

    তা তোমাকে বিশ্বাস নেই। তুমি যা ডাকাত, হয়তো শ্বশুর-শাশুড়ীর গলায় গামছা মোড়া দিয়ে মত আদায় করবে। কিন্তু এত ঝামেলায় দরকার কি শুনি? আমি বলে দিচ্ছি-আমার সংসারে ওসব চলবে না।

    সত্য সহসা ভ্রূভঙ্গী ত্যাগ করে উদাস মুখে বলে, বেশ তাই ভাল। সেই কথাই বলে দেব ভাজকে। বলব, না বৌ, এ সংসারে তোমার ঠাই হবে না, ভুল করে ভেবেছিলাম, সংসারটা বুঝি আমার, তা মস্ত একটা হাতুড়ির ঘায়ে ভুলটা ভেঙেছে। চোখ ফুটে গেছে। ভালই হল, শিক্ষা হয়ে গেল।

    নবকুমার বসে পড়ে।

    নবকুমার চোখে সর্ষেফুল দেখে।

    নবকুমার সমস্ত বীরত্ব ত্যাগ করে ওই সেই চিরমুখস্থ কথাটা বলে বসে, হল তো! অমনি রাগ হয়ে গেল? রাগের কথা কিছু বলি নি আমি। শুধু বলেছি সুখে থাকতে ভূতের কীল খাওয়া কেন?

    সত্যর মুখের কাঠিন্য কিছুটা হ্রাস হয়।

    সত্য স্থির স্বরে বলে, আর একদিন তোমার এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম, আজ আবার দিচ্ছি, কীল খাওয়া কেন জান? মানুষ জাতটা মানুষ’ বলে। গরু-গাধা পাখী-পক্ষী নয় বলে।

    আর ওই যে আবার একটা মেয়ে রয়েছে

    রয়েছে সে কথা তো হয়েই গেছে।

    সেও মায়ের মত হবে কি না—

    যাতে না হয় সেই চেষ্টাই করতে হবে।

    সত্য উঠে যায় দৃঢ় সংকল্পের মুখ নিয়ে।

    .

    সুহাসিনী!

    ডাকনাম সুহাস।

    হ্যাঁ, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রূপের ডালিই হচ্ছে। শঙ্করীর বাস্তুহারা কৈশোর মূর্তি যেন ওর মধ্যে এসে পুনর্বাসন করেছে। এত দুঃখ-ধান্ধা, এত লাঞ্ছণা-গঞ্জনা, মায়ের এত কড়া শাসন, তবু কলায় কলায় ভরে উঠেছে দেহ। পনেরো কলা ভর ভর, আর একটা কলা হলেই সম্পূর্ণ।

    মেয়ের মুখ দেখে শঙ্করীর বুক ভয়ে ওঠে। মেয়ের রূপ দেখে শঙ্করীর বুক কেঁপে ওঠে। তাই কখনো মেয়েকে কোলে নিয়ে কাঁদে, কখনো মেয়েকে দাঁতে পেষে।

    মেয়েকে দাঁতে পেষা তো নয়, নিজেকেই জাঁতার পেষা। কিন্তু করবে কি শঙ্করী, তার যে বেড়া আগুন!

    যেদিন সত্য হাত ধরে বসল–সে রাত্রে মেয়েকে যাচ্ছেতাই করল শঙ্করী। বলল, তবে আন খানিক বিষ আন, তুইও খা, আমিও খাই। সকল জ্বালা জুড়োক। সকল সমস্যা মিটুক।

    কথাটা এই, মার মারফত সত্যর প্রস্তাব শুনে সুহাস একেবারে বেঁকে বসেছে। ওসব অনাসৃষ্টির মধ্যে যেতে রাজী নয় সে। অনেক হাঁড়ির হালের শেষ, অনেক ঘাটের জল পার করে এতদিনে যদি পায়ের তলায় একটু মাটি মিলেছে, যার তুল্য নেই রাজবাড়িতে আশ্রয় জুটে গেছে, এখন আবার অনিশ্চিতের সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে যাবার কী দরকার?

    আপনার লোক!

    তিনকুলে কেউ ছিল না, একমুঠো পোড়ামুড়ি নিয়ে কেউ এগিয়ে আসে নি, এখন হঠাৎ ভূঁই ফুড়ে আপনার লোক গজাল! হতে পারে কোন এক সময় দেশের লোক ছিল, কিন্তু তাতে কি চারখানা হাত-পা বেরোচ্ছে? হঠাৎ তার এত দরদ উথলে ওঠবার কারণটাই বা কি? আর কিছুই নয়, বিনি মাইনের দাসী-রাধুনী পেয়ে যাবার আশ্বাস। ভেবেছে দুটো দরদের কথা কয়ে একবার বাড়িতে পুরে ফেলতে পারলে হয়।… শঙ্করী যেমন বোকা তাই বুঝতে পারে না, এর পর একূল ওকূল দুকূল যাবে।

    হ্যাঁ, প্রথমটায় এত কথাই বলেছিল সুহাস। এত কথাই বলতে পারে সে। অবিশ্যি আর কারুকে নয়, শুধু মাকেই। মায়ের ওপর দাপটের অবধি নেই। জন্মাবধি যত দুঃখ-কষ্ট অভাব-অসুবিধে পেয়েছে, চিরদিন তার ঝাল ঝেড়েছে মায়ের ওপর।

    তবু তো সম্পূর্ণ ইতিহাস জানে না। সত্যি ইতিহাস জানে না। জানে–গর্ভে নিয়ে বিধবা বলে সে সন্তানকে অপয়া বলে দূর দূর করেছিল বাড়ির লোক, তাই শঙ্করী দুঃখে অভিমানে মেয়ে নিয়ে পথে বেরিয়েছিল।

    সেইটাই অভিযোগ সুহাসের।

    মার অবিমৃষ্যকারিতাতেই যে তাদের এই হাঁড়ির হাল সে বিষয়ে সন্দেহ নাস্তি।

    যাক, সে যাহোক হয়ে গেছে।

    এখন আবার এ কী!

    মায়ে ঝিয়ে তর্ক বাধে।

    শঙ্করী যাচ্ছেতাই করে মেয়েকে।

    এবং সুহাস সতেজে বলে, ঠিক আছে। আমি যখন এতই পাথর তোমার গলার, সে পাথর সরিয়ে দিয়ে যাব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }