Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪০. সরল পিসির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি

    সাধন সরল পিসির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নি, তবু সবই প্রকাশ হয়ে পড়ল। প্রকাশ হয়ে পড়ল সদুর দীনতা, আর তার ভাইপোদের মিথ্যা কথা।

    কাঁচা পাকা চুল, বেঁটে খাটো শক্ত সমর্থ চেহারার যে ভদ্রলোকটির বাসা খুঁজে খুঁজে সেদিন পিসির দেওয়া চিঠিখানা পেশ করে এসেছিল ওরা, সেই ভদ্রলোক তার পরের রবিবারের সকালে এদের এখানে এসে হাজির হলেন।

    এ হেন সম্ভাবনার কথা স্বপ্নেও মনে আসে নি ওদের। অবশ্য সেদিন এস্ত শঙ্কিত পলায়নপর ছেলে দুটোকে প্রায় জোর করে দাঁড় করিয়ে তাদের নাম কি, দেশ কোথায়, কলকাতায় বাসা কোন রাস্তায়, ইত্যাদি পক্ষানুপুঙ্খ জেনে নিয়েছিলেন ভদ্রলোক, তথাপি সেটাকে নিছক কৌতূহল ছাড়া কিছু ভাবে নি ওরা দুই ভাই।

    সন্দেহমাত্র করে নি, দু-দিন না যেতেই কৈ গো খোকারা বলে এসে হানা দেবেন।

    এ যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত।

    ভয়ে প্রাণ উড়ে গেল ওদের।

    সভয়ে পরস্পর মুখ-চাওয়াচাওয়ি করল দু ভাই, তারপর সরল নিঃশব্দে দুটো হাত উল্টে এমন একটা বেপরোয়া ভঙ্গী করল, যার অর্থ দাঁড়ায়–তা আমাদের কি দোষ? আমরা তো ওনাকে আসতে বলি নি, পিসি বারণ করে দিয়েছিল তাই না

    কিন্তু

    এটাও বিনা শব্দে শুধু চোখের ইশারায় উচ্চারিত হল, কিন্তু আমরা সেদিন মিছে কথা বলেছি। মা যখন বলল, ইস্কুল থেকে ফিরতে দেরি কেন, তখন বলেছি ইস্কুলে বল খেলা ছিল।

    কিন্তু এত সব ভাববিনিময় মুহূর্তেই ঘটল, কারণ ইত্যবসরেই ভদ্রলোক বাড়ির চৌকাঠ ডিঙিয়ে উঠোনে এসে দাঁড়িয়ে বাজখাঁই গলায় পুনঃপ্রশ্ন করেছেন, খোকারা বাড়ি নেই নাকি? এবং সত্যবতী মাথার কাপড় টেনে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসে স্পষ্ট গলায় উচ্চারণ করেছে, তুড়ু, দেখ তো কে? জিজ্ঞেস কর কাকে চান?

    তুড়ুকে আর কষ্ট করে জিজ্ঞেস করতে হল না, যার কানে যাবার স্বচ্ছন্দেই গেল। আর তিনি সহাস্যে এগিয়ে এসে উত্তর দিলেন, ননদাই গো ননদাই, আপনি হচ্ছেন শ্যালাজ ঠাকুরুন?

    শুনে সত্যবতী হাঁ।

    এইমাত্র নবকুমার বাজারে গেল, আর এখন এই ঝামেলা! কে জানে লোকটা কে! কোন বদবুদ্ধি লোক না বাসা ভুল করে–সেই কথাটাই বলে সত্যবতী, ছেলেদের মাধ্যমে মাত্র করে, তুড়ু বল, আপনি বোধ হয় বাসা ভুল করেছেন–

    বাসা ভুল!

    ভদ্রলোক হেসে উঠলেন, মুকুন্দ মুখুয্যে এত কাঁচা ছেলে নয় যে উচিতমত তল্লাস না করে কারুর অন্দরে ঢুকে পড়বে। দস্তুরমত পাড়ার লোককে শুধিয়ে সঠিক জেনে তবে ঢুকেছি। বলি তুমি বারুইপুরের নীলাম্বর বাঁড়ুয্যের ব্যাটা নবকুমার বাঁড়ুয্যের পরিবার নয়? অস্বীকার কর?

    বলে আপন রসিকতায় হেঁ হেঁ করে টেনে টেনে হাসতে থাকেন।

    কথার ভাষা এবং ভঙ্গিমা এমনি অমার্জিত যে, রাগে আপাদমস্তক জ্বলে যায় সত্যবতীর। নিঃসন্দেহে যে কোন বদলোক, নামটা পরিচয়টা সংগ্রহ করে বাড়ি ঢুকে ভয় দেখাতে চায়।

    চাক। সত্য বামনীকে চেনে না।

    দৃঢ় আর বিরক্ত স্বরে বলে ওঠে সত্যবতী, তুডু বল, পাড়া-পড়শীকে শুধিয়ে কারুর নাম পরিচয় জানা এমন কিছু কঠিন কাজ নয়। আমরা ও নামে কাউকে চিনি না, উনি যেতে পারেন।

    কিন্তু মুকুন্দ মুখুয্যে এত সহজে অপমানিত হন না। হাস্যকণ্ঠ বজায় রেখেই বলেন, চেনো না তা সত্যি! জানার সুযোগ আর ঘটল কই? তোমার ননদ ঠাকরুণ তো আমাকে ত্যাগ দিয়ে নিশ্চিন্দি আছেন। তা এতদিন পরে বিস্মরণ রাজার স্মরণ হল কেন, সেই কথা শুধোতেই আসা। কিন্তু খোকারা, তোমরা একেবারে চুপটি মেরে মুখটি সেলাই করে বসে আছ যে? সেদিন অত আলাপ পরিচয় হল, চিঠি পৌঁছে দিলে, আর আজ যেন চিনতেই পারছ না! মাকে বুঝি বল নি? তাই উনি ‘সোবে’ করছেন লোকটা গুণ্ডা বদমাশ!

    এতক্ষণ তাই-ই ভাবছিল বটে সত্যবতী, কিন্তু ভদ্রলোকের শেষ কথাটায় যেন অকূল সমুদ্রে পড়ে।

    এসব কি কথা!

    বিন্দুবিসর্গও তো বুঝতে পারছে না সত্যবতী। নিজের ছেলেদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল। সেখানে স্পষ্ট অপরাধীর ছাপ। কী এ?

    লোকটা কি বারুইপুরের কেউ?

    তুড়ু খোকা যখন দেশে গিয়েছিল তখন দেখেছে এখন চিনতে পারছে না? কিন্তু চিঠি কিসের? ভগবান জানেন বাবা! একেই তো শ্বশুরবাড়িতে সত্যর নাম জাঁহাবাজ বৌ, আবার এককাঠি বাড়ল বোধ হয় সে বদনাম। ছেলে দুটো যেভাবে শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে আছে, তাতে সন্দেহ নেই ঘটেছে কিছু।

    কিন্তু তথাপি মুখে হারে না সত্য। দৃঢ় হলেও একটু নরম সুরে বলে, খোকা বল, বাড়ির পুরুষজন এখন বাড়ি নেই, আপনি একটু ঘুরে আসুন। যা বলবার তাঁকেই বলবেন।

    মুকুন্দ মুখুয্যে এবার একটু গম্ভীর হন। বলেন, বলবার আমার কিছুই ছিল না। তবে আপনার ননদ ঠাকরুণ শ্রীমতী সৌদামিনী দেবী হঠাৎ তার ত্যাগ দেওয়া স্বামীকে একখানা পত্তর কেন দিলেন, তারই তল্লাস করতে

    ঠাকুরঝি পত্র দিয়েছেন। আপনাকে! মানে আপনি

    যাক এতক্ষণে চিনলে? বাবাঃ, কোথায় ভেবেছিলাম শালার বাড়িতে এসে একটু জামাই-আদর পাব, তা নয়–

    কিন্তু ঠাকুরঝি চিঠি লিখেছেন! সত্য আরক্ত মুখে বলে, আমার বিশ্বাস হচ্ছে না–অসম্ভব।

    মুকুন্দ মুখুয্যে কথাটার অন্য অর্থ ধরেন। বলেন, আহা, নিজে হাতে কি আর লিখেছে? কাউকে ধরে লিখিয়েছে নিশ্চয়। এই তো তোমার এই খোকারাই দিয়ে এল পরশুদিনকে

    আমার খোকারা? পরশুদিনকে?

    সত্যবতীও বিচলিত হয়।

    বিচলিত স্বরে বলে, তুড়ু! খোকা!

    তুড়ু-খোকার নত বদন, যে বদনে অপরাধের কালিমা।

    সত্য যেন একটু অসহায়তা অনুভব করে, আর এই প্রথম বোধ কবি নবকুমারের অনুপস্থিতিতে কাতরতা বোধ করে। মুকুন্দ মুখুয্যের চোখে সত্যর এই বিচলিত ভাবটা ধরা পড়তে দেরি হয় না। এবং ব্যাপারটা অনুধাবন করতেও দেরি হয় না। ছেলেমানুষদের যা হোক বুঝিয়ে চিঠিটা সৌদামিনী চুপিচুপিই পাঠিয়েছে। আগে এটা বুঝলে মুকুন্দ মুখুয্যে অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপিত করতেন। ছেলে দুটো থতমত খেয়ে যাচ্ছে, যাবেই তো, মা জননীটি যে খাণ্ডারনী তা তো বোঝাই যাচ্ছে। বাবাঃ, যেন পুলিসের ধমক!

    কিন্তু মুকুন্দও পুলিসের বাবা।

    আটঘাটটি বেঁধে তবে এসেছেন। চিঠিটা সঙ্গে এনেছেন। তবে ভদ্রলোকের ধারণায় একটু ভুল ছিল। ভেবেছিলেন সৌদামিনী নিশ্চয় কলকাতায় ভাইয়ের বাসায় এসেছে, আর ভাইপোদের সেটুকু চেপে যেতে বলেছে। নইলে সাতজন্মে যে কখনো কোন বার্তা দিল না, সে কেন হঠাৎ…, কিন্তু ধারণাটা ভুল তা তো বোঝাই যাচ্ছে। সৌদামিনী এখানে নেই!

    সত্যি তবে কেন হঠাৎ?

    সে চিন্তা যাক। ফতুয়ার পকেট থেকে সৌদামিনীর সেই গোপনতম দুর্বলতার ইতিহাসটুকু বার করে মেলে ধরেন মুকুন্দ মুখুয্যে দাওয়ার ধারে মেজেয়। আর দেখে এক মুহূর্তেই চিনে ফেলে সত্য– হাতের লেখাটা তারই বড় ছেলের। অর্থাৎ তুড়ুকে দিয়েই লিখিয়েছে সৌদামিনী।

    সমস্ত ঘটনাটা স্পষ্ট হয়ে যেতে দেরি হয় না আর। দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শুধু নিজের ছেলেদের এই দুর্বোধ্য আচরণটা অন্ধকারেই থেকে যায়। সত্যবতীকে বিন্দুবিসর্গ না জানিয়ে এত কাণ্ড করবার সাহস কি করে হল ওদের?

    পড়ে থাকা চিঠিখানিতে চোখ ফেলা মাত্রই পাঠোদ্ধার হয়ে গেছে, কারণ অক্ষরের ছাঁদ আর তার প্রতিটি টান, প্রতিটি বাঁক তো সত্যবতীর মুখস্থ।

    না, প্রেমপত্র নয়, ভাইপোকে দিয়ে লেখানোর আপত্তির কিছুই নেই। সৌদামিনী লিখেছে– পরম পূজনীয় শ্রীচরণকমলেষু–

    বহুকালাবধি আপনার কোনো সংবাদাদি জানি না, আপনিও সংবাদ নেন না অধীনা জীবিত
    কি মৃত। আমার কথা থাক, আপনার সংবাদ পাইতে ইচ্ছা হয়। আমার ভ্রাতা নবকুমার
    কলিকাতায় বাসা করিয়া আছে, তাহার সহিত সাক্ষাৎ হইলে জানিতে পারি। ইহারা নবকুমার
    ভাইজীবনের পুত্র সাধনকুমার ও সরলকুমার। পত্রদানের ধৃষ্টতা মার্জনা করিবেন।
    অধিক কি লিখিব! ভগবানের নিকট নিয়ত আপনার কুশল প্রার্থনা করি।
    শতকোটি প্রণামান্তে
    চরণের দাসী
    শ্ৰীমতী সৌদামিনী দেবী।

    পাঠোদ্ধার করে যেন স্তব্ধ হয়ে যায় সত্য। এই সৌদামিনী দেবী কোন সৌদামিনী? সেই তাদের সদুদি? সেই সদুদি নিয়ত ভগবানের কাছে সেই লোকটার কুশল প্রার্থনা করে? এই বেঁটে-খাটো খাটমুগুরে গড়নের আধবুড়ো লোকটার?

    এও কি সম্ভব?

    সৌদামিনী বিধবা নয় এইটুকু মাত্র জানা যেত ভাত খেতে বসার সময়। হেঁসেলের ভাতটা নিয়ে বসত সে মামীর সঙ্গে, ভাই-বৌয়ের সঙ্গে, মাছের ভাগটা নিয়ে। এই যা।

    তা ছাড়া আর কখনো কোনদিন কোন সময় টের পাওয়া যেত না সদুর স্বামী আছে। আশ্চর্য! আশ্চর্য! মানুষ কী অদ্ভুত জীব গো! শুধু মনে থাকাই নয়, স্বামীর সংবাদের জন্য উতলা হয় সে! এতই হয় যে মান-মর্যাদা জলাঞ্জলি দিয়ে চরণ্যের দাসী সাক্ষরিত চিঠি পাঠায়।

    এ কী দীনতা!

    এ কী দুর্বলতা!

    বয়সকালে চিরদিন স্থির থেকে এখন এই ভাঁটা-পড়া বয়সে এমনই অস্থির হল যে মান-অপমান জ্ঞান হারাল?

    সৌদামিনীর এই পদস্খলন যেন সত্যবতীর মাথাটা লুটিয়ে দিল।

    পদস্খলন!

    হ্যাঁ, পদস্খলনই মনে হল সত্যবতীর। আর অকস্মাৎ তার বড় একটা যা না হয় তাই হল, দুই চোখ জলে ভরে উঠল।

    তবু কষ্টে নিজেকে সামলে মাথার কাপড়টা আর একটু বাড়িয়ে সত্য বড় ননদাইয়ের পায়ের ধুলো নিয়ে শান্তস্বরে বলে, মনে কিছু করবেন না, চেনা-জানা তো নেই কখনো। দাওয়ায় উঠে বসুন। তিনি বাজারে গেছেন, এসে পড়বেন এখনই।

    গুরুজনদের সামনে “উনি” বলাটা অশোভন, তাই “তিনি” বলে সত্যবতী।

    অবশ্য তাতে বুঝতে অসুবিধে হয় না, সংসার করে ঝানু হয়ে যাওয়া মুকুন্দ মুখুয্যের। এতক্ষণে তিনি শালাবৌয়ের আচরণে প্রীত হন এবং প্রণতাকে থাক থাক্‌ করে সৌজন্য দেখিয়ে গর্বিত ভঙ্গীতে উঠে গিয়ে দাওয়ায় পাতা জলচৌকিতে আঁকিয়ে বসেন।

    সত্যবতীর চোখের ইশারায় ছেলেরাও তাদের নবলব্ধ পিসেমশাইকে প্রণাম করে এবং চোখের ইশারাতেই তামাক সেজে আনতে যায় সরল। যদিও নবকুমার তামাক খায় না, তবুও তামাকের পাটটা বাড়িতে রেখেছে সত্যবতী অতিথি-অভ্যাগতদের জন্য।

    আপ্যায়ন করতে হবে বৈকি!

    পিতৃঋণ মাতৃঋণ দেবঋণ গুরুঋণ! তা অলক্ষ্য জগতের, আর তার শোধের কথা তো কথার কথা। আসলে কুটুম্ব-ঋণের তুল্য ঋণ নেই, আর তার শোধটা নিতান্তই প্রত্যক্ষ বাস্তব। দুর্লজ্জ নীতিকে লঙ্ন করবে সত্য, লোকটা কুটুম্ব নামের অযোগ্য বলে?

    তা পারে না?

    এখন আর পারে না।

    এ সেদিনের সেই কিশোরী সত্যবতী নয়, একদা যে শ্বশুরকে অপবিত্র জ্ঞান করে তার পূজোর গোছ করে দিতে অস্বীকৃত হয়েছিল। এ সত্যবতীর অনেক বাস্তববুদ্ধি হয়েছে। এখনকার সত্য জানে কতকগুলো ব্যাপারকে মনের সঙ্গে রফা করতে না পারলেও, বাইরে খানিকটা রফা করে নিতে হয়। নইলে অসামাজিকতা অভদ্রতা ইত্যাদির দায়ে পড়তে হয়। সংসার যখন করতে বসেছে, সামাজিকতার দায় পোহাতে হবে বৈকি।

    তাই একটা নিঃশ্বাস ফেলে রান্নাঘরে ঢুকে উনুনে চাপানো হাঁড়িটা নামিয়ে রাখে। তারপর বড়ছেলেকে হাতের ইশারায় ঘরে ডেকে তার হাতে রসগোল্লা আনবার পয়সা দিয়ে ঘরের দরজার কাছে এসে বসে। সেখান থেকে সরাসরি না হলেও ননদাইকে অবলোকন করা যায়।

    নবকুমার যতক্ষণ না ফিরছে, ততক্ষণ এই বন্ধন-যন্ত্রণা সইতেই হবে তাকে।

    হুঁকোয় একটি সুখটান দিয়ে মুকুন্দ মুখুয্যে রাশভারী গলায় প্রশ্ন করেন, কতদিন হল বাসা করে থাকা হয়েছে?

    সত্য মৃদুস্বরে বলে, অনেক দিন। সাত-আট বছর।

    বল কি? তখন তো তুমি প্রায় কাঁচা যুবতী গো! তা বুড়ো-বুড়ী যে মত দিল? নাকি মরেছে তারা?

    সত্যর ইচ্ছে হয় মুখের সামনে ঘরের দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকে গুম হয়ে। কিন্তু করে। সংক্ষেপে বলে, আছেন। মত না দিলে চলবে কেন? ছেলেদের লেখাপড়া।

    হুঁ, তা বটে। একালে তো আর পাঠশালে পড়া বিদ্যেয় চলবে না। তা মাত্তর ওই দুইটি নাকি? কুচোকাঁচা দেখছি নে তো!

    ২৬৪

    এ কথার আর উত্তর কি দেবে সত্য, চুপ করেই থাকে। আর হয় নি এটা বলতেও বুঝি কোথায় কাঁটার মত একটু বাধে। অদৃশ্য সেই কাটাটা বুঝি আস্তে আস্তে অবয়ব নিচ্ছে এক নিভৃত অন্ধকারে।

    মুকুন্দ কিন্তু নাছোড়, ফের বলেন, বাপের সঙ্গে বেরিয়েছে বুঝি?

    এ প্রশ্নের উত্তরটা সরলই দিয়ে ফেলে, আমরা শুধু দুই ভাই।

    মুকুন্দ যে এর মধ্যে নিরে কী “ভাল” আবিষ্কার করেন কে জানে, সস্মিত মুখে বলেন, তা ভাল! আপদের শান্তি! এ দিব্যি ঝাড়া-হাত-পা-হয়ে যাওয়া। এখন তীর্থ কর ধর্ম কর, দস্যিবিত্তি করে সংসার কর, কোনো বালাই নেই। বাবাঃ, আমার ঘরের এণ্ডিগেণ্ডিগুলো দেখলে আমার মাথা কেমন করে! মানুষের ছাঁ তো নয়, যেন হাঁস-মুরগীর পাল?

    এবার বোধ করি সত্য বিরক্ত হতেও ভুলে যায়, চমৎকৃত হয়েই তাকিয়ে থাকে। বেটাছেলেতে যে এমন ধরনের কথা কইতে পারে এ তার জানা ছিল না। তার বাপের বাড়ির দেশে অনেককে দেখেছ সে, মেয়েলী বেটাছেলেও দেখেছে, দেখেছে নীলাম্বরকে, নবকুমারকে, সত্যর আদর্শ অনুযায়ী ‘পুরুষ বেটাছেলের’ রূপ কোথাও দেখে নি সত্য, কিন্তু এ কী!

    গ্রামের গাইয়ামির মধ্যেও এক ধরনের শোভন-সভ্যতা আছে, এই শহুরে গেঁয়োটাও এক কথায় বিশ্রী কুৎসিত!

    অথচ দেখলে বোঝা যায় লোকটা এককালে ‘সুপুরুষ’ বলেই গণ্য হত। একটু বেঁটে, তবে রংটি হর্তেলের মত, মুখাকৃতি দিব্য, কাঁচা-পাকা হলেও চুলে কেয়ারি আছে, আর সর্ব অবয়বে তোয়াজের চিহ্নটি পরিস্ফুট।

    হাঁস-মুরগীর পালের সংসার হলেও, ভদ্রলোক নিজের তোয়াজটি ভালই বাগিয়ে নেন সন্দেহ নেই। সদুদির সতীনকে মনে মনে একপ্রকার ব্যাঙ্গাত্মক তারিফ করে সত্য।

    কিছুক্ষণ নীরবতা।

    মুকুন্দ হুঁকো টানছেন, সত্য উৎকণ্ঠিত দৃষ্টিতে সদরের দরজার দিকে তাকিয়ে আছে, আর বেচারা সরল মনে মনে কাঠ হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে উদ্যত বজ্রের নীচে প্রতীক্ষারতের মত। এই লোকটা চলে যাওয়ার পর যে তাদের বিচার হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নাস্তি।

    প্রতীক্ষার মুহূর্ত দীর্ঘ। সত্যর মনে হয় নবকুমার যেন কতকাল বাজারে গেছে। আর তুড়ুটাও কম দেরি করছে না। ময়রার দোকান তো এই কাছেই।

    নীরবতা ভঙ্গ করলেন মুকুন্দ।

    বলেন, তা তোমার ননদ ঠাকরুণই বোধ হয় মামা-মামীর সেবা করছে?

    কণ্ঠে যেন একটু চাপা অসন্তোষ। সত্য আস্তে বলে, উনিই তো কাছে আছেন বরাবর।

    তা থাকতেই হবে, বেটা বেটার-বৌ যখন উড়তে শিখেছে। কিন্তু স্বামীর সংসারের প্রতিও তো একটা কর্তব্য আছে? এই তো আমার ঘরে, সংসারটা একটা মানুষ বিহনে ফুটোনৌকার তুল্য। দ্বিতীয় পক্ষটি তো আমার হঘড়ি আঁতুড়ুঘরে ঢুকতে ওস্তাদ, বাচ্ছা-কাচ্ছাগুলোর হাড়ির হাল। এখন বড় গিন্নী এসে থাকলে সবদিকই রক্ষা হয়, আর তারও

    বোধ করি নিতান্তই অসহ্য বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে সত্য এতগুলো কথা বলবার অবকাশ দিয়েছিল লোকটাকে, কিন্তু স্তব্ধতার ঘোর কাটল। আর লোকটা যে সদ্য আগন্তুক এবং হিসেবমত গুরুজন, সে কথা বিস্মৃত হয়ে মৃদু হলেও তীব্রস্বরে বলে উঠল, আপনার অবিশ্যি সবদিক রক্ষে হয়, বিনি মাইনের রাঁধুনী-চাকরানী-ঘরুনী সব পেয়ে যান, কিন্তু তার কী উপকারটা হবে শুনি?

    মুকুন্দ মুখুয্যে ক্ষণকালের জন্য থতমত খেয়ে যান, কারণ এ হেন তীব্রতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে এ কল্পনা নিশ্চয় ছিল না তার, তবে আত্মস্থ হতেও দেরি লাগে না। সেই আত্মস্থ ভঙ্গীতে মৃদু হাস্যের প্রলেপ লাগিয়ে বলেন, শালাবাবুর আমার পরিবার-ভাগ্যিটি তো দেখছি বেশ ভালই। একে রূপসী তায় বিদুষী, নাটক নভেল পড়ার অভ্যেস আছে বোধ হয়! তা জিজ্ঞেসই যদি করলে তো বলি, উপকারের কিছু না হোক পরকালের কাজটাও তো হবে? মামার ঘরে দাস্যবিত্তি করার চাইতে স্বামীর ঘরে দাস্যবিত্তি কিছু আর অপমান্যির নয়?

    সত্য উঠে দাঁড়ায়, ধীর স্বরে চেষ্টা করে বলে, মেয়েমানুষের কোনটা মান্যের আর কোনটা অমান্যের সে জ্ঞান থাকলে আর এ কথা বলতে পারতেন না। তবে ঠাকুরঝি যে আপনাকে ত্যাগ দেয় নি, আপনিই ত্যাগ দিয়েছেন তাকে, জানা আছে আমার সে কথা। এখন সংসারে ঝিয়ের দরকার হয়েছে বলে তার পরকালের চিন্তা নিয়ে মাথা ঘামাতে এসেছেন–

    যতই ধীরভাবে বলতে চেষ্টা করুক, তবু উত্তেজনায় মুখটা লাল হয়ে ওঠে সত্যর। আর এ উত্তেজনা শুধু ওই চোখের চামড়াহীন বর্বরটার নিলর্জতাতেই নয়, সদুর নির্লজ্জতাতেও। এই হতচ্ছাড়া লোকটাকে এসব কথা বলার সুযোগটাও তো সদুই দিয়েছে।

    মুকুন্দ মুখুয্যে এর উত্তরে কী বলতেন অথবা সত্য কিভাবে কথা শেষ করত কে জানে, বাধা পড়লে পিতা-পুত্রের আগমনে। সাধন এসেছে রসগোল্লা নিয়ে, সঙ্গে সঙ্গে নবকুমারও। পথে বাবার সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ায় সমাচারটা জানিয়ে দিয়ে অবহিত করিয়ে এনেছে সাধন। বাবার দেখা পেয়ে যেন আপাতত বেঁচেছে বেচারা, সরাসরি মার মুখোমুখি দাঁড়াতে অন্তত কিছুটা বিলম্ব হবে।

    নবকুমার অবশ্য গুরুজন এবং দুর্লভ কুটুম্বর সম্মান জানে। শশব্যস্তে হাতের জিনিস নামিয়ে হেট হয়ে পায়ের ধুলো নিয়ে সস্মিত বচনে বলে, কী ভাগ্য আমার, পায়ের ধুলো পড়ল এতদিন পরে! কতক্ষণ এসেছেন?

    সত্য ততক্ষণে রসগোল্লার ভাঁড় নিয়ে ঘরে ঢুকে গেছে। মুকুন্দ অন্তরালবর্তিনীর কর্ণগোচর হতে পারে এমন উদাত্ত স্বরে উত্তর দেন, তা এসেছি অনেকক্ষণ! এতক্ষণ হাঁ হয়ে বসে তোমার বিদুষী পরিবারের লেকচার শুনছিলাম। কলকেতারই মেয়ে বুঝি? মেমের কাছে লেখাপড়া শেখা?

    লজ্জায় মাথাটা হেঁট হয়ে যায় নবকুমারের, মুখটা টকটকে হয়ে ওঠে। আর সত্যর প্রতি অপরিসীম ক্রোধে যেন হতবাক হয়ে যায়।

    আস্পদ্দার কী একটা সীমা নেই? কথা বলতে জানে বলে যাকে যা ইচ্ছে বলবে? অতবড় বুড়ো ননদাই, তাও আবার চিরদিনের অদেখা, তার সঙ্গে তো কথা কইবারই কথা নয়, ঘোমটা দিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়বার কথা, তা নয়, এমন কথা শুনিয়েছেন বসে বসে যে এই উপহাসের জুতোটি খেতে হল নবকুমারকে।

    ছি ছি!

    কিন্তু এখন হচ্ছে মনের রাগ মনে চাপা, কিল খেয়ে কিল চুরি। জুতোটাকে বোনাইয়ের রসিকতা বলে ধরে নিয়ে হেঁ হেঁ করে হাসা।

    সেই হাসিই হাসতে থাকে নবকুমার এবং সত্য নিঃশব্দে রসগোল্লার রেকাবি আর জলের গ্লাসটা নামিয়ে বাজারের ধামাটা তুলে নিয়ে ঘরে চলে গেলে বোনাই নিজেই যখন রেকাবিটি হাতে উঠিয়ে ব্যঙ্গ হাস্যে বলেন, জুতো মেরে গরুদান? তা মন্দ নয়। যাক, বামুন মুচি-বাড়িতেও লুচি খেতে ছোটে- তখনও নবকুমার সেই হেঁ হেঁ হাসি হাসতে থাকে। বরং মাত্রাটা আরো বাড়িয়ে দেয়।

    অতঃপর সত্য আর বেরোয় না।

    ছেলে দুটো গুটি গুটি ঘরে ঢুকে বই নিয়ে পড়তে বসে।

    নবকুমারের সঙ্গেই অনেকক্ষণ কথা চালান মুকুন্দ।

    সুহাসিনী বাড়িতে নেই, রবিবার সকালে সে পাশেরই এক বড়লোকের বৌয়ের কাছে লেস বোনা শিখতে যায়। বৌটির ছেলেমেয়ে নেই, বাড়িতে প্রচুর চাকরদাসী, স্বামীটি রবিবার হলেই সক্কাল থেকে তাসের আড্ডায় চলে যায়, অতএব রবিবার সকালে তো বটেই, এমনিতেও বৌটির অফুরন্ত অবকাশ।

    সুহাসিনীর স্কুলে যাবার পথে জানলা দিয়ে ডেকে নিজেই আলাপ করেছিল বৌটি।

    ওই লোকটা থাকতে থাকতে সুহাস না ফিরলেই বাঁচি, রান্না করতে করতে ভাবল সত্য। ফিরলে তো ওরই চোখের সামনে দিয়ে ফিরবে? অতি বদ প্রকৃতির লোক। দেখলে নিশ্চয় ওই সুহাসের কথায় সাতশ কৈফিয়ত চাইবে।

    মানুষ যে কেন এমন অসভ্য হয়!

    আস্তে আস্তে অন্য ভাবনায় চলে যায় সত্য, শুধু কি অসভ্যই হয়? হ্যাংলাও হয় না কি? নইলে সদু ওই বদ লোকটাকে এখনো স্বামীজ্ঞান করে বসে থাকে? শুনেছে নবকুমারের কাছে ইতিহাস। নির্যাতনের জ্বালায় চলে গিয়েছিল সদু, তারপর এই নির্যাতক স্বামীর ঘরে সতীন-কাটা পুঁতেছে, সে খবরও জানা। তবে? এত সত্ত্বেও কি চিরদিন মনে মনে ওর চরণের দাসী হয়ে থেকেছে সৌদামিনী? না ওটা একটা নিয়মরক্ষের পাঠ মাত্র?

    হয়তো এদিকে মামীর নির্যাতনে সাময়িকভাবে কোনদিন ধৈয্যচ্যুত হয়েই এ কাজটা করে বসেছে।

    কিন্তু তাই কি?

    এ তো মনে হচ্ছে বেশ পরিকল্পনার ব্যাপার। রাগের মাথায় কিছু করে ফেলা নয়। পাড়ার কোনো ছেলেপুলেকে দিয়ে লেখালে লোক-জানাজানি হবার ভয়েই হয়তো এতদিন পারে নি। এখন নিজের ভাইপোদের দিয়ে

    সন্দেহ নেই কথাটা প্রকাশ করতে বারণ করেছে ছেলেদের। সদুর ওপর এজন্যেও রাগ হয় সত্যর। পিসি হয়ে লুকোচুরি করার বিদ্যেটায় হাতেখড়ি দিলে তুমি!

    এখন সত্য কি করে ওদের তিরস্কার করবে?

    সেটা কি ঠিক হবে?

    পিসিও তো গুরুজন। তার কাছে যখন কথা দিয়েছে। “সত্যরক্ষা” যে মানুষের জীবনের সারধর্ম, এ কথা সত্যই শিখিয়েছে ছেলেদের।

    কিন্তু যতই যা শেখাও, তুড়ুটা ঠিক তার বাপের ধাচে যাচ্ছে। মেরুদণ্ডহীন অসার। তবে নবকুমারের আবার তার ওপর মুখে তড়পানি আছে, এর সেটা নেই এই যা! মৃদু ভালমানুষ ছেলেটা। কিন্তু ভালমানুষই কি প্রার্থনীয়? ওই ভাল’টা বাদ দিয়ে যেটা হয়, সেটাই যে চায় সত্য।

    সরলটা হয়তো একটু অন্যরকম হবে।

    কিন্তু সে কোন্ রকম?

    সত্যবতীর মনের মধ্যে মানুষের যে ছাঁচ গঠিত আছে, তার ধারে-কাছে পৌঁছবে?

    নাঃ, সে আশা নেই সত্যর। লেখাপড়া শিখবে, রোজগারপত্র করবে, পাঁচজনে “ভাল” বলবে এই পর্যন্ত। তার বেশী নয়, বুঝে নিয়েছে সত্য। যদি তার বেশী হত, এতদিনে ধরা পড়ত সে দীপ্তি, সে ঔজ্জ্বল্য।

    বরং সুহাসিনীর মধ্যে বস্তু দেখতে পায় সত্য, দেখতে পায় দীপ্তির চমক। যে সুহাসিনীর কৈশোরকাল পর্যন্ত কেটেছে এক কুশ্রী পরিস্থিতির মধ্যে। জীবনের বনেদে যার শুধুই শূন্যতা।

    হয়তো সেই জন্যেই।

    আলো আর অন্ধকারের পার্থক্যটা ওর কাছে তীব্র হয়ে ধরা পড়েছে। এদের কাছে সে তীব্রতা নেই। এরা তাই ঝাঁপসা-ঝাঁপসা। চোদ্দ-পনেরো বছর বয়স হল, এখনো বোঝা যাচ্ছে না ওরা নিজেদের নিয়ে কিছু ভাবে কিনা, ভাবতে শিখেছে কিনা। কোনটা ভালো কোটা মন্দ সেটা চিন্তা করে কিনা।

    আশ্চর্য!

    সত্যবতীর মনের মধ্যে যে ছাঁচ, সত্যবতীর গর্ভের উঁচ তার নাগাল পেল না।

    ঈশ্বর জানেন এই সুদীর্ঘকাল পরে সত্যবতীর সত্তার মধ্যে আবার কোন্ ছাঁচ গঠিত হচ্ছে। প্রথমটা ভারী একটা বিপন্নতা বোধ করেছিল সত্য, বিপদ বলে মনে হয়েছিল ঘটনাটাকে, ক্রমশ মনটা কোমল হয়ে আসছে। এমন কি মাঝে মাঝে ভাবতেও ইচ্ছে করছে, পালা বদল হলে মন্দ হয় না, একটি মেয়ে হলে বেশ হয়।

    আজ হঠাৎ মনে হল সত্যবতীর, যদি তা-ই হয়, কে বলতে পারে সে মেয়ে তার পিতামহীর আকৃতি আর প্রকৃতি নিয়ে অবতীর্ণ হবে কিনা!

    হয়তো তাই হবে।

    সত্যবতীর একাগ্র ইচ্ছার নিরন্তর তপস্যা কোনো কাজেই লাগবে না। মেয়ে মানুষের এ এক অদ্ভুত নিরুপায়তা। নিজের রক্ত মাংস মন বুদ্ধি আত্মা সব কিছু দিয়ে যাকে গড়ছি, জানি না সে কী হবে!

    নিঃশ্বাস ফেলে ভাবল, শুনেছি শাস্তরে আছে নরাণাং মাতুলক্রমঃ! কিন্তু মাতুল না থাকলে? দাদামশাইয়ের আত্মজই তো মাতুল? তবে? দাদামশাইয়ের কথা শাস্ত্রে লেখে নি।

    চিন্তায় ছেদ পড়ল।

    বাইরে সেই বাজখাই গলা বেজে উঠল, কই গো বাড়ির গিন্নী, অত লেকচার-টেকচার শুনিয়ে হঠাৎ একেবারে ডুব যে! অধম তাহলে এখন বিদায় নিচ্ছে। মাঝে মাঝে আসতে অনুমতি হবে তো?

    সত্য বাইরে বেরিয়ে এসে হেঁট হয়ে নমস্কার করে শান্ত গলায় বলে, আসবেন বৈকি।

    .

    কিন্তু এতে, ওই শান্ত বচনেতে কোন কাজ হল না।

    মুকুন্দ বিদায় নিতে নবকুমার রে রে করে পড়ল।

    বলি তোমার ব্যাপারটা কী? কী সব যাচ্ছেতাই কথা বলছ মুখুয্যে মশাইকে?

    সত্য বিরক্তভাবে বলে, যাচ্ছেতাই আবার কী বলতে যাব?

    তা যাচ্ছেতাই ছাড়া আবার কী? উনি কিছু যেচে আসেন নি? দিদি তল্লাস করেছিল তাই

    কথা থামিয়ে দিয়ে সত্য বলে ওঠে, সেই ঘেন্নাতেই গলায় দড়ি দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল আমার।

    তার মানে?

    মানে ভেবো খেয়ে দেয়ে নিশ্চিন্দি হয়ে। এখন চান কর গে।

    থাম! বলি দোষটা কি করেছে দিদি? স্বামী তো বটে?

    তা তো নিশ্চয়।

    তবে? নবকুমার সোৎসাহে বলে, মুখুয্যেমশাই যা বললেন, তাতে বুঝলাম ওঁর দুঃখটা। আর যাই হোক লোকটা কপট নয়। বললেন, একসময় দোষ ঘটেছিল ঢের, কুসঙ্গে পড়ে নেশাভাঙ কুকর্ম কিছুই বাকী রাখি নি ভায়া, সতী-সাধ্বীকে লাঞ্ছনাও করেছি। কিন্তু পরে চৈতন্য হয়েছে।

    সত্য নিরীহ গলায় বলে, হয়েছে বুঝি!

    হয়েছে বৈকি। এখন তো ঐ তামাকটুকু ছাড়া আর কোনো নেশাই নেই। তাই বলছিলেন, কত ইচ্ছে হয়েছে গিয়ে ক্ষমা চাই, মামার পায়ে ধরে চেয়ে আনি কিন্তু লজ্জায় পারি নি। তা তোমার দিদি যেকালে আগু বাড়িয়ে লজ্জাটা ভেঙ্গে দিল, তাতে

    তা বেশ তো, সুখের কথা। দিদিকে আনিয়ে নিয়ে আবার নতুন করে গাঁটছড়া বেঁধে পাঠিয়ে দাও। দুই সতীনে সুখে সংসার করুন– বলে একটু তীক্ষ্ণ হেসে সরে যাচ্ছিল সত্য, কিন্তু মুহূর্তে ঘটে গেল এক বিপর্যয়।

    নবকুমার বোধ করি কিছু না ভেবেচিন্তেই ক্ষণপূর্বে শোনা একটি কথা যথাযথ উচ্চারণ করে বসল, তা সে সতীন-জ্বালা আর বেশী দিন নয়। শুনলাম নাকি এ পক্ষের সূতিকা ধরেছে। তবে? সে কাঁটা আর কদিন?

    মুহূর্তে যেন একটা বোমা ফেটে গেল। সত্যবতী উন্মাদের মত নিজের কপালে একটা থাবড়া মেরে চিৎকার করে উঠল, চুপ করবে তুমি? দয়া করে একটু চুপ করবে? যদি তা না পারো তো যে করে পারো, আমায় জন্মের শোধ কালা করে দাও!

    একার সংসারে এতদিন ধরে অরুচি আর অক্ষিদেয় না খেয়ে খেয়ে ভিতরে ভিতরে দুর্বল হয়ে যাওয়া শরীরটা এই উত্তেজনার বার বইতে পারল না। হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেল।

    ছেলে দুটো হাউমাউ করে জল আর পাখা আনতে ছুটল, নবকুমার ঘর থেকে একটা বালিশ এনে সত্যর লুটিয়ে পড়া মাথার তলায় গুঁজে দিতে বসল, আর এই সময় সুহাসিনী ও-বাড়ি থেকে এসে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    আজ ভারী উৎফুল্ল হয়ে আসছিল সুহাস, কারণ তাঁর শিক্ষা-গুরু বৌটি বলেছেন, তুমি যদি ভাই রাজী থাক তো আমার মাস্টারী কর। বড়লোকের বাড়িতে কেবল খেয়ে শুয়ে জীবনে যেন ঘেন্না ধরে গেছে। তোমায় দেখে মনে হয়, যদি তোমার মতন বই-টই পড়তে পারতাম, তা হলেও বা দিনটা কাটত। তা ইস্কুলে যাওয়া তো আর জীবনে হবে না, তবু তোমার কাছে যদি

    মাস মাস আটটা করে টাকা দিতে চেয়েছে সে। সুহাস অবশ্য টাকার কথায় আপত্তি করেছিল, বলেছিল, টাকা কেন ভাই! তুমি আমায় একটা বিদ্যে শেখাচ্ছ, আমি না হয় তার বদলে তোমাকে একটা

    কিন্তু সে হাতে ধরে কাকুতি-মিনতি করেছে। বলেছে, আমায় শখের জন্যে টাকা খরচ করতে তো আমার বর সর্বদা রাজী! একদিন থিয়েটারে নিয়ে যেতে পচিশ-তিরিশ টাকা খরচ করে, এও তো আমার একটা শখ! গুরুকে দক্ষিণে না দিলে বিদ্যে হয় না।

    সুহাস রাজী হয়ে এসেছে।

    উফুল্ল হৃদয়ে সত্যর কাছে বলতে আসছিল, দেখ পিসীমা, বড়লোক মাত্রেই খারাপ হয় না। তাদের মধ্যেও মহৎ আছে–, কিন্তু এসেই এই দৃশ্য।

    তাড়াতাড়ি সবাইকে সরিয়ে দিয়ে সেবার ভারটা হাতে তুলে নিল সে। আর সেই প্রথম খবরটা জানল। আত্মগত ভাবেই বলে ফেলল নবকুমার, শরীরটায় পদার্থ নেই দেখছি। বাচ্চা-কাচ্চা হবার আগে মেয়েছেলে মা-ঠাকুমার কাছে যায়, তা সে গুড়ে তো বালি! বারুইপুরেই পাঠিয়ে দিতে হবে দেখছি!

    কিছুটা সময় দিশেহারা হয়ে তাকাল সুহাস। তার পর নিজের ওপর ধিক্কারে অবাক হয়ে গেল। ছি ছি, এত বড় বুড়ো মাগী সে, এমনই অবোধ! এক ঘরে একসঙ্গে, কিছু টের পায় নি? তুড়ু খোকার চাইতে তা হলে কোন তফাৎ নেই তার? পিসীমার যে শরীরে এমন অবস্থা হয়েছে, প্রথমে তো তারই বোঝা উচিত ছিল। যত্ন-আত্তিও করা উচিত ছিল।

    বুঝতে পারে নি।

    সত্যর ছেলে দুটো এত বড় হয়ে গিয়েছে যে, এ ধরনের চিন্তা মাথাতেই আসে নি। তা শুধু লজ্জাই নয়, আজ সত্যর ওই চৈতন্যহীন পাংশু মুখের দিকে তাকিয়ে অজানা একটা ভয়েও বুকটা কেঁপে উঠল সুহাসের।

    সুহাসের ভাঙা ভাগ্যে যদি তার এই আশ্রয়ের ভেলা ডুবে যায়? যদি সত্যর কিছু ঘটে?

    অনেকদিন পরে ছেলেপুলে হলে তো বিপদ হতে পারে শুনেছে, বুকটা কেঁপে নিথর হয়ে এল সুহাসের। আর বোধ করি এই প্রথম উপলব্ধি করল সত্যকে কতটা ভালবাসে সে। শুধু আশ্রয়ের ভেলা বলেই নয়, মানুষ’টা বলেও প্রাণের আসনে বসিয়ে রেখেছে সুহাস সত্যকে প্রতি মুহূর্তের সংস্পর্শে।

    মা-ঠাকুমা নেই বলে যত্ন পাবে না সত্য? সুহাসের কি বয়েস হয় নি সেবা করবার?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }