Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. রোদে পিঠটা চিনচিন করছে

    রোদে পিঠটা চিনচিন করছে অনেকক্ষণ থেকে, হঠাৎ যেন হু-হু করে জ্বলে উঠল। ওঃ, বকুলগাছের ছায়াটা দাওয়া থেকে সরে গেছে! বেলা তা হলে কম হয় নি! বিপদে পড়লেন মোক্ষদা, দু হাত জোড়া, অথচ পিঠের কাপড়টা সরে গিয়ে সরাসরি রোদটা পিঠের চামড়ায় লাগছে। নিজে দেখতে পাচ্ছেন না মোক্ষদা, আর কেউ কাছে থাকলে দেখতে পেত মোক্ষদার হত্তেল-রঙা পিঠটার কতকাংশ ফোস্কাপড়ার মত লাল হয়ে উঠেছে।

    নাঃ, তসর থানখানা না পরে ভিজে থানখানা পরে আমতেল মাখতে বসলেই হত। ভিজে কাপড়ে যেন দেহের দাহ অনেকটা নিবারণ হয়। কানাউঁচু ভারী ভারী পাথরের খোরা দুখানা খানিকটা টেনে নিয়ে গিয়ে সরে দাওয়ার খুঁটির ছায়াটুকুতে পৃষ্ঠরক্ষা করতে গেলেন মোক্ষদা।

    সমুদ্রে তৃণখণ্ড। তাছাড়া রোদ এখন দৌড়চ্ছে, এখুনি খুটির ছায়া সরবে।

    হঠাৎ মোক্ষদা একটা সত্য আবিষ্কার করে বসলেন। সারা বছরটাই রোদে পুড়ে পুড়ে মরেন তিনি। এই তো কচি আমের আমতেল, এর পরই বাখড়া বাধা আমের গুড়-আম, মসলা-আম, তার পরেই পড়ে যাবে আমসত্ত্বর মরসুম। আর সে মরসুমকে সামলে তোলা তো সোজা নয়। আমসত্ত্বর পালা চুকতে চুকতেই অবশ্য বর্ষা নামে, সেই দু-তিনটে মাসই শুধু রোদে পোড়ার ছুটি, বর্ষা শেষ হতেই দুর্গোৎসবের সুর ওঠে। দুর্গোৎসবের আগে সারা ভাড়ারটাতেই তো ঝাড়া বাছা রোদে দেওয়ার ধুম চলে, তারপর পড়ে তিলের নাড়ুর ধূম।

    বদ্যি চাটুয্যের বাড়ির দুর্গোৎসবের তিলের নাড়ু একটা বিখ্যাত ব্যাপার, হাতে বাগিয়ে ধরে কামড় দিতে পারা যায় না। এত বড় নাড়ু! পক্কান্ন আনন্দ নাড়ু মুড়কির মোয়া সবই কবরেজ-বাড়ির বিখ্যাত, কিন্তু সে সব তো তবু পাঁচহাতের ব্যাপার, নিতান্ত প্ৰতিমার ভোগের উপর্যুক্ত সেরকতক জিনিস গঙ্গাজলে ভোগের ঘরে তৈরী হলেও বিরাট অংশটায় অনেকে হাত লাগায়। কিন্তু তিলের নাড়ুটি সম্পূর্ণ মোক্ষদার ডিপার্টমেন্ট। কারণ তিলের নাড়ুর অমন হাত নাকি —শুধু এ গ্রামে কেন—এ তল্লাটে নেই। তা সেই নাম কি আর আমনি হয়েছে, আগাগোড়া নিজের হাতে রাখেন বলেই না এদিক ওদিক হতে পায় না! বস্তা বস্তা তিল তো এসে হাজির হল, তার পর? সেই তিল ঝাড়া-বাছা, নিখুঁত করে ধুয়ে নিপাট করে রোদে শুকিয়ে ঝুনো করা, ঢেকিতে কোটা, প্ৰকাণ্ড পেতলের সরা চড়িয়ে গুড় জ্বাল দিয়ে দিয়ে নিটুট নিশ্চিছদির ধামায় সেই তিলচুর মেখে মেখে তাড়াতাড়ি গরম থাকতে থাকতে নাড়ু পাকিয়ে ফেলা, এর কোনটা নিজের হাতে না করলে চলে? একবার বুঝি তিলটা কুটেছিল। সেজবৌতে আর বড়বৌমাতে, সেবার তো নাড়ু দিয়ে মজল। আগাগোড়া খোসায় ভর্তি। রঙও হল তেমনি কেলে-কিষ্টি। রামকালী নাড়ু দেখে হেসেছিলেন, প্রশ্ন করেছিলেন, এ নাড়ু কার তৈরী?

    সেই থেকে সাবধান হয়ে গেছেন মোক্ষদা। টেকির গড়ের কাছে কাউকে একটু বসানো ছাড়া আর সব একা করেন।

    দুর্গাপূজোর রোদে পোড়া তো শুধুই তিলের নাড়ু নয়, বাড়ি বাড়ি নেমন্তন্নর কথা বলতে যাওয়া, গুরুপুরুতের বাড়ি সিধে দিতে যাওয়া সে সবও তো মোক্ষদার ডিউটির মধ্যেই। কারণ তিনি ঝিউড়ি মেয়ে। কাশীশ্বরীও কতকটা করেছেন আগে আগে, কিন্তু ইদানীং তিনি রোগে কেমন জবুথবু হয়ে গেছেন। মাঠঘাট ভেঙে রোদে রোদে ঘুরে কাজ উদ্ধার করার সামর্থ্য নেই। মোক্ষদাই সব করেন, আর দিনে অন্তত বার চোদ্দ-পনেরো স্নান করেন।

    কেন কে জানে, আজ রোদের কথাটাই বার বার মনে পড়ছে মোক্ষদার। মনে হল পূজোর ঝঞ্ঝাট কাটতে না-কাটতেই তো বড়ির মরসুম। বছরে বারো-চোদ্দ মণ বড়ি লাগে। আশা-নিরামিষ দুদিকের প্রয়োজনের দায়টা পোহানো হয় এই দিকেই, কারণ বড়িও তো আম-কাসুন্দির মতই শুদ্ধাচারের বস্তু। আর শুদ্ধাচারের ব্যাপারে কাকে দিয়ে নিশ্চিন্ত হবেন মোক্ষদা নিজেকে ছাড়া?

    বড়ি দিতে দিতে মোক্ষদার হত্তেল রঙ কালসিটে মেরে যায়। তবে জিনিস যা হয় তাক লাগাবার মত। ডাকসাইটের হাত। সাবধানীও খুব মোক্ষদা, কাউকে ছুতেই দেন না। সাধ্যপক্ষে, বড় বড় তিজেলে ভরে সরাচাপা দিয়ে সাঙায় তুলে রাখেন, সময়মত বার করে দেন। কত তার স্বাদ। কুমড়ো বড়ি, খাস্তা বড়ি, পোস্ত বড়ি, তিলের বড়ি, জিরের বড়ি, ঝালমশলার বড়ি, টকে-সুক্তয় দিতে মটর-খেসারির বড়ি—ব্যবহার অনেক।

    ওরই মধ্যে মূলোর বড়িটা আবার আলাদা রাখতে হয়, মাঘ মাসে পাছে ভুলে খাওয়া হয়ে যায়। মাঘ মাসে মূলো খাওয়া আর গোমাংস খাওয়ায় তো তফাৎ কিছু নেই। … খুঁটির রোদটা সরে গেছে, পিঠটা আবার চিনচিন করছে। মনটাও যেন চিনচিন করছে।

    বড়িপর্ব সারা হতেই আসে কুল, আসে তেঁতুল।

    কবে তবে রোদে পোড়ার ছুটি?

    সারা বছর ধরে এই রোদে পোড়ার দায়িত্ব মোক্ষদাকে দিয়েছে কে, এ কথা কে বলবে? তবে মোক্ষদা জানেন এটা তাঁরই দায়িত্ব।

    আমতেল মাখা একটা সময়সাপেক্ষ কাজ। চটকে চটকে তেলে-আমে। মিশোতে হবে তো? হয়েছে এতক্ষণে, এবার রাইসরষের মিহিগুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে ক্ৰমাগত রোদ খাওয়ানো।

    কোমরটা টান করে উঠে পড়লেন মোক্ষদা, পিঠের জ্বালা-কয়ার জায়গাটা নড়াচড়া পেয়ে আর একবার হু-হু করে উঠলো। কিন্তু কী আশ্চর্য, সরষে গুঁড়োবার জন্যে রান্নাঘরে এসে ঢুকতেই মনটা হুঁ-হুঁ করে উঠলো কেন?

    ঘরে ঢুকেই হঠাৎ কেমন বোকার মত দাঁড়িয়ে পড়লেন মোক্ষদা। ঘরটা আজ এত বড় দেখাচ্ছে কেন? কই, এমন তো কোন দিন দেখায় না! বরং ভাত বাড়ার সময় পরস্পরের গা বাঁচিয়ে ব্যবধান রেখে ঠাঁই করতে তো জায়গার অকুলানই লাগে।

    ঘরের মধ্যে তো রোদ নেই, তবু এই ছায়াশীতল প্ৰকাণ্ড লম্বা ঘরখানা যেন ওই রোদে খা খাঁ প্ৰকাণ্ড উঠোনটার মতই বা ঝা খা খা করছে। আর সেই খা খা করা ঘরের এক প্রান্তে বড় বড় দুটো উনুন তাদের মাজাঘষা নিকোনো চুকোনো চেহারা নিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে বহু অকথিত শূন্যতার প্রতীকের মত।

    উনুন দুটোকে আজ আগুনের দাহ সহ্য করতে হবে না। ওরা হয়তো এই নিরালা ঘরে স্তব্ধ হয়ে বসে নিজেদের শূন্যতার পরিমাপ করবার অবকাশ পাবে।

    আজ ওদের ছুটি। আজ এদের একাদশী।

    মোক্ষদার ছুটি নেই কেন?

    ঘরের নর্দমার কাছবরাবর একটা জলভর্তি ঘড়া বসানো থাকে-নেহাৎ সময়-অসময়ের জন্যে। মোক্ষাদাই শেষবারের মানের পর এনে রেখে দেন।

    তেল-তেল হাতটা ঘড়া কাত করে ধুয়ে নিয়ে মোক্ষদা। হঠাৎ আছড়া আছড়া জল নিয়ে সজোরে ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারতে লাগলেন, পিঠের রোদে চিনচিনে জায়গাটার জুলুনি একটু ঠাণ্ডা হোক। দূর ছাই, হাত ধুয়ে পুকুরে গেলেই হত, তবু একবার গা-মাথা ভিজিয়ে আসা যেত। গায়ের চামড়াটা খানিক ভিজলেও যেন ভেতরের তেষ্টাটা খানিক কমে।

    একাদশীর দিন তেষ্টা কথাটা মনে আনাও পাপ। এ কি আর জানেন না মোক্ষদা? তায় আবার তার মত বয়স-ভাটিয়ে-যাওয়া শক্তিপোক্ত মজবুত বিধবার! কিন্তু মনে করব না বললেও মনে যদি এসে যায়, সে পাপকে তাড়ানো যায় কোন অস্ত্ৰে?

    রোদ লাগলে বোশেখ-জষ্টির দুপুরে তেষ্টাটা জানান দেয় বেশী। কিন্তু উপায় কি? আজকেই যে যত রাজ্যের বাড়তি কাজ করবার পরম দিন। আজকের মতন এমন অখণ্ড অবসর আর কদিন জোটে।

    রাইসরষের সন্ধানে কুলুঙ্গীতে তুলে রাখা রঙিন ফুলকাটা ছোট ছোট ছোবা হাঁড়ির একটা পাড়লেন মোক্ষদা। সব হাঁড়িতে একেবারে সম্বৎসরের মশলা ঝেড়ে বেছে তুলে রাখা হয়, আর নিত্য প্রয়োজনে দুটি দুটি বার করে কাঁচা ন্যাকড়ার কোণে কোণে পুঁটুলি বেঁধে রাখা হয। শুধু এরকম অনিত্য প্রয়োজনেই মূল ভাঁড়ারে হাত পড়ে।

    একটা পাথরবাটিতে আন্দাজমত সরষে ঢেলে নিয়ে শিল পেতে বসতে যাচ্ছিলেন মোক্ষদা, হঠাৎ দরজার কাছে শিবজায়ার গলা বেজে উঠল, কালে কালে কি হল গো, এ যে কলির চারপো পুরল দেখছি! আমাদের ধিঙ্গ অবতার মেয়ের আস্‌পদ্দার কথাটা শুনেছ ছোটঠাকুরঝি?

    ধিঙ্গী অবতার মেয়ের আস্‌পদ্দার ইতিহাস শোনার আগেই ভাজের আসপদ্দায় রে-রে করে ওঠেন। মোক্ষদা, উঠোনের পায়ে তুমি দাওয়ায় উঠলে সেজবৌ? আর ওইখানেই আমার আচারের খোরা! বলি তোমরা সুদ্ধ যদি এরকম যবন হও—

    শিবজায়া ঈষৎ রুষ্টভাবে বললেন, তোমার এক কথা ছোটঠাকুরবি, উঠোনের পায়ে দাওয়ায় উঠে আসব আমি অমনি আমনি! এই দেখা পায়ে গোবর লেগে। হাতে করে একনাদ এনে পৈঠের নীচেয় ফেলে সেই গোবর দুপায়ে মাড়িয়ে তবেই না উঠেছি!

    নিতান্তপক্ষে পুকুরে নেমে পা ধুয়ে আসা যদি অসম্ভব হয়, তা হলে অনুকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা দিয়ে রেখেছেন মোক্ষদা। তবু সেজবৌয়ের আশ্বাসবাণীতে তেমন নিশ্চিন্ত হলেন না। সন্দিগ্ধ সুরে বললেন, বলি গোবরটা নিজেদের তো? নাকি আর কারুদের ঘরের এটোকাটা খাওয়া গরুর?

    শোন কথা— জেরা থামানোর চেষ্টায় বলে ওঠেন শিবজায়া, তোমাদের উঠোনে আবার অপরের গরুর গোবর আসবে কোথা থেকে?

    কিন্তু থামাতে চাইলেই কি সব জিনিস থামে? মোক্ষদার জেরাও থামল না। তিনি একটু কটুহাস্যে বলে উঠলেন, ও মা লো! আমাদের উঠোনে অন্যের গরুর গোবর আসবে কোথা থেকে? তোমার কথা শুনে মাঝে মাঝে মনে হয়। সেজবৌ, তুমি যেন এইমাত্তর মায়ের পেট থেকে পড়লে!

    শিবজায়া ননদকে খুব ভয় করলেও, তবু ছোট ননদ। তাই বিরক্ত সুরে বলে ফেলেন, নাও বাবা, তোমার কাছে আসাই দেখছি ঝকমারি! গোবিন্দবাড়ি থেকে ফিরতে পথে আমাদের কীর্তিমান মেয়ের কীর্তির কথা শুনে হা হয়ে গেলাম, তাই, থাক গে—

    মোক্ষদা এতক্ষণে একটু নরম হন। প্রায় সন্ধির সুরেই বলেন, কেন, কী আবার করল কে? সত্য বুঝি?

    তবে আবার কে! শিবজায়া ঔদাসীন্য ত্যাগ করে। মহোৎসাহে পুরনো সুর ধরেন, সত্য ছাড়া আর কার এত বুকের পাটা হবে? হারামজাদী নাকি জটার নামে ছড়া বেঁধে পাড়ার গুষ্টিসুদ্ধ ছেলেমেয়েকে শিখিয়ে দিয়েছে, আর গাসুদ্ধ ছেলেপিলে জটাকে কি জটার মাকে দেখলেই ঝোপেবাড়ের আড়াল থেকে শুনিয়ে শুনিয়ে তাই আওড়াচ্ছে। জটার মা তো রেগে গাল দিয়ে শাপশাপান্ত করে একাকার!

    শেষ পর্যন্ত সবটুকু শোনবার জন্যে ধৈর্য ধরে চুপ করে তাকিয়েছিলেন মোক্ষদা, এবার ভুরু কুঁচকে তীক্ষ্ণস্বরে বলে ওঠেন, ছড়া বেঁধেছে মানে কি?

    মানে কি, তাই কি আমিই আগে বুঝতে পেরেছিলাম? মেয়েমানুষ যে আবার ছড়া বাধে বাপের জন্মেও শুনি নি। তাপর পথে আসতে আসতে দেখি একপাল ছোঁড়া হি হি করে হাসতে হাসতে বলছে, জটা মোটা পা গোদা— ভেঙচি কেটে আরও সব কত কি পয়ার ছন্দ বলতে বলতে যাচ্ছে!

    মোক্ষদা আরও ভুরু কুঁচকে বলেন, ছড়া বেঁধেছে সত্য?

    তবে আর বলছি কি!

    ওই মেয়ে হতেই এ বংশের মুখে চুনকালি পড়বে— মোক্ষদা এবার শিলটা পাততে পাততে বলেন, রামকালী চন্দর এখন বুঝছেন না, এর পর টের পাবেন, যখন শ্বশুরঘর থেকে ফেরত দিয়ে যাবে। ভেঙচি-কাটা ছড়া বোধ হয়। জটা বৌ ঠেঙিয়েছিল বলে!

    তবে না তো কি? বলি পরিবারকে আবার না মারে কোন মন্দ? ঢলানি বৌ আমনি তিলকে তাল করে দাঁতকপাটি লাগিয়ে পাড়ায় লোক-জানাজানি করে ছাড়লেন। জটার মা বলছে, ছোঁড়াগুলোর জুলায় নাকি জটা বেচারা ঘরের বার হতে পারছে না, কি গেরো বল দেখি!

    মোক্ষদা ঘাস ঘাস করে শিলে সরষে রাগড়াতে রাগড়াতে বলেন, হাতের কাজটা মিটিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমি বৌমার কাছে। ভাল করে সমঝে দিয়ে আসছি। মায়ের আসকারা না থাকলে মেয়ে কখনও এত বড় বেয়াড়া হয়? পাড়ার ছোঁড়াদের সঙ্গেই বা রাতদিন এত মস্করা কিসের? একটা কলঙ্ক রটে গেলে তখন রামকালীর মুখটা থাকবে কোথায়? পয়সাওলা বলে তো সমাজ রেয়াৎ করবে না!

    শিবজায়ার কাজ কিছুটা সিদ্ধ হল।

    বড় জায়ের নাতনীর বিরুদ্ধে ছোট ননদকে কিছুটা তাতাতে পেরেছেন। শেষবেশ বলেন, তুমি যাই আছ ছোট ঠাকুরঝি, তাই এখনও সংসারে একটা হক কথা হয়, নইলে আমরা তো ভয়ে কাটা!

    ভয় আবার কিসের?

    মোক্ষদা দুম করে শিলটা তুলে ফেলে বলেন, ভয় করব ভূতকে, ভয় করব। ভগবানকে। মানুষকে ভয় করতে যাব কেন? বিধবা পিসিকে ভাত দিয়ে পুষিছে বলে যে হক কথা শুনতে হবে না রামকালীকে, এ তুমি ভেবো না। সেজবৌ! সে যাক, জটার বোর প্রাচিত্তিরের কিছু ব্যবস্থা হয়েছে?

    ওমা, তুমি শোন নি সে কথা? প্ৰচিত্তির তো করবে না!

    করবে না?

    না। রামকালী নাকি ভটাচাৰ্যকে শাসিয়েছে, প্ৰচিত্তিরের বিধান দিলে তাকে গাঁ-ছাড়া করবে!

    তার মানে? আকাশ থেকে পড়লেন মোক্ষদা।

    মানে বোঝ! অহমিকা আর কি! আমি গায়ের মাথা, আমি যা খুশি তাই করব!

    হুঁ।

    মোক্ষদা সরষে-গুঁড়ো-ছড়ানো আচারের খোরা দুটো দুম করে ঘরে তুলে ঘরের কপাটটা টেনে : তুলে দিয়ে বলেন, যাচ্ছি, দেখছি পয়সার বাড় কত বেড়েছে রামকালীর! সত্য আছে বাড়ি?

    বাড়ি! দুপুরবেলা বাড়ি থার্কবারই মেয়ে বটে সে! কোথায় আগানে-বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছে! বেওলা মেয়ের এত বুকের পাটা, এতখানি বয়সে দেখি নি কখনও।

    তসরখানা গুছিয়ে পরে উঠোন পার হয়ে খরা খর পায়ে বেড়ার দরজা খুলে পথে পড়লেন মোক্ষদা। ফিরে তো স্নান করতেই হবে, একবার কেন—কতবার, কিন্তু এসবের একটা হেস্তনেস্ত দরকার।

    জগতের কোথাও কোনও অনাচার ঘটবে, এ মোক্ষদা বরদাস্ত করতে পারবেন না।

    কিন্তু ও কী?

    একটু এগোতেই থমকে দাঁড়াতে হল।

    বজ্রাহতের মতই থমকানি।

    দেখলেন একখানা তেপেড়ে শাড়িতে গাছকোমর বেঁধে, একরাশ রুক্ষ চুল উড়িয়ে একহাঁটু ধুলো মেখে একদল ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমবাগানের মাঝখান দিয়ে চলেছে সত্য হি-হি করতে করতে আর সমস্বরে কি যেন একটা ছড়ার মতই আওড়াতে আওড়াতে।

    দাঁতে দাঁত চেপে আরও একটু এগিয়ে গেলেন। মোক্ষদা, দলের পিছন দিকে একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে সবটা শুনতে চেষ্টা করলেন। হি-হি হাসির চোটে সব শোনা যায় ছাই! তবু বালককণ্ঠের শানানো সুর, আর বার বার উচ্চারণ করছে, কাজেই ক্রমশ সবটাই কর্ণগোচর থেকে মৰ্মগোচর হয়ে যায়।

    শুনতে পেলেন খাজে খাজে। হাসি ছড়ানো সেই ছড়া—

    জটাদাদা পা গোদা
    যেন ভোঁদা হাতী,
    বৌ-ঠেঙানো, দাদার পিঠে
    ব্যাঙে মারে লাথি।
    জটা জটা পেট মোটা–
    দেখিব মজা কেমন সাজা
    যাও না শ্বশুরবাড়ি।

    বলতে বলতে চলে গেল ওরা।

    মোক্ষদা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।

    না, ভাইপোর মেয়ের কবিত্বশক্তির পরিচয়ে অভিভূত হয়ে নয়, স্তম্ভিত হলেন এ মেয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে। একে তিনি শাসন করতে এসেছেন! এর পরে আর একে শাসন করে শায়েস্তা করবার সাধ তাঁর নেই; শুধু এইটে মনে মনে অনুধাবন করলেন—একে নিয়ে চিরকাল জ্বলে-পুড়ে মরতে হবে তাদেরই, কারণ শ্বশুরবাড়ি থেকে তো মারতে মারতে খেঁদিয়ে দেবেই!

    কাগজের চিলতেয় মোড়া গোটাকতক ওষুধে বড়ি আঁচলের গিট থেকে খুলতে খুলতে সত্য তার শানানো গলাটাকে কিঞ্চিৎ নামিয়ে বলল, এই নাও বৌ, কি যেন বটিকা! বাবা বলে দিলেন সকাল সন্ধ্যে একটা করে বটিকা পানের রস দিয়ে খেতে, গায়ে বল পাবে।

    আর গায়ে বল!

    মনের বল তো সমুদ্রের তলায়। ভয়ে বুক কেঁপে থর-থর। জটার বৌ কাতর করুণ কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে, হেই ঠাকুরঝি, তোমার পায়ে ধরি, ওষুধ তুমি নিয়ে যাও। ওষুধ খাচ্ছি। দেখলে ঠাকরুণ। আর আমাকে আস্ত রাখবেন না!

    সত্য গিনির মত গালে হাত দিয়ে বলে, ওমা, শোনো বিত্তান্ত! দেহ দুব্বল হয়েছে, মিনিমাগনায় ওষুধ পাচ্ছ, খেলে শাউড়ী তোমায় মেরে ফেলবে? তুমি যে তাজ্জব করলে গা!

    দোহাই গো ঠাকুরঝি, একটু আস্তে— প্রায় কাঁদো কাঁদো মুখে বলে জটার বৌ, তোমার দুটি পায়ে পড়ছি, ঠাকরুণের কানে গেলে পুকুরে ড়ুবে মরা ছাড়া আর গতি থাকবে না। আমার।

    সত্য এবার একটু গুছিয়ে বসে, বসে অবাক গলায় আস্তে আস্তে বলে, কী শুনলে গো?

    ওই যে মেরে ফেলার কথা বললে! জানো তো ভাই সমস্ত? মামাঠাকুর ওষুধ পাঠিয়ে দিয়েছেন, আর সেই ওষুধ আমি খাচ্ছি! ওরে ব্যাপারে! এই দেখা ঠাকুরঝি, আমার বুকের ভেতর কেমনতর ঢেঁকির পাড় পড়ছে!

    জটার বৌয়ের ওই ব্যাধের তাড়া খাওয়া হরিণের চোখের মত চোখ আর ঘুটের ছাইয়ের মত। পাশুট-রঙা মুখের দিকে তাকিয়ে দেখতে দেখতে হঠাৎ কেমন চিন্তাশীল দেখায় সত্যবতীকে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ওষুধগুলো ফের আঁচলে বাঁধতে বাধতে বলে, আচ্ছা তা হলে ফেরত নে যাই।

    ফেরত!

    মামা ঠাকুরের কাছে!

    আর এক ভয়ে বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে জটার বৌয়ের। আর এবার আর কাঁদো কাঁদো নয়, ভ্যাক করে কেঁদেই ফেলে। ও সত্য ঠাকুরঝি, তোমার পা-ধোওয়া জল খাই, তোমার কেনা গোলাম হয়ে থাকি, ও বড়ি মামাঠাকুরকে ফেরত দিতে যেও না!

    ফেরত দিতে যেও না!

    হঠাৎ সত্য তার নিজের স্বভাবসিদ্ধ হাসি হেসে ওঠে, এই সেরেছে! ব্যায়রামে পড়ে দেখছি তোমার ভীমরতি ধরেছে বৌ! শাউড়ীর ভয়ে ওষুধ খাবে না, আবার ফেরতও দেবে না, তবে বড়িগুলো কি আমি খেয়ে নেব? দাও, তা হলে একখোরা পানের রস করে দাও, সবগুলো একসঙ্গে গুলে গিলে ফেলি।

    জটার বৌ এবার মনের কথা খুলে বলে। শাশুড়ীর অসাক্ষাতে ওষুধ খাবার সাহস তার নেই, বলে কয়ে সাক্ষাতে খাবার তো আরোই নেই, অতএব–

    অতএব পুকুরের জলে!

    পুকুরে?

    সত্যর চোখে আগুন জ্বলে ওঠে। বাবার দেওয়া বড়ি স্বয়ং ধন্বন্তরী, তা জান? এ বাড়ির অপমান করলে, ধন্বন্তরীর অপমান তা জান?

    তবে আমি কী করি?

    ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে জটার বৌ।

    সত্য ওর অবস্থা দেখে কাতর না হয়ে পারে না, একটু ভেবেচিন্তে বলে, তা হলে নয় এক কাজ করি, পিসীকেই দিয়ে যাই, বলি বাবা পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাবা অবিশ্যি বলেছিলেন পিসীকে দিস না, তা হলে খেতে দেবে না, ফেলে দেবে। তুতিয়েপাতিয়ে কাকুতি-মিনতি করে বলে যাই।

    উঠে দাঁড়ায় সত্য, আর সঙ্গে সঙ্গে ওর কাপড়ের একটা খুঁট ধরে হুমড়ে প্রায় ওর পায়ে পড়ে জটার বৌ, ও ঠাকুরঝি, তার চাইতে তুমি আমার গলায় পা দিয়ে মেরে রেখে যাও, আঁশবিটি দে কেটে রেখে যাও আমায়।

    সত্য আবার বসে পড়ে।

    একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলে, আচ্ছা বৌ, তোমাদের এত ভয় কিসের বলতে পার?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }