Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. আসর-সাজানো বরাসনে

    আসর-সাজানো বরাসনে বসবার সময় আর ছিল না, হুড়মুড়িয়ে একেবারে কলতলায় খেউরী করিয়ে স্নান করিয়ে নিয়ে সোজা নিয়ে যেতে হবে সম্প্রদানের পিঁড়িতে। সেই পিঁড়িতেই ধান দুর্বে আর আংটি দিয়ে পাকা দেখা অনুষ্ঠানের প্রথাটা পালন করে নিতে হবে।

    অবিশ্যি সারাদিনে অন্তত বার পাঁচ-ছয় চর্বচোষ্য করে খেয়েছে রাসু, কিন্তু কি আর করা যাবে! এরকম আকস্মিক ব্যাপারে ওসব মানার উপায় কোথায়? বলে কত মেয়েরই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে করে। এই তো লক্ষ্মীকান্তরই এক জ্ঞাতি ভাইপোর মেয়ের বিয়ে হল সেবার ঘুমন্ত মেয়েটাকে মাঝরাতে টেনে তুলে। গ্রামের আর কার বাড়িতে বর এসেছিল বিয়ে করতে, তার পর যা হয়। কোথা থেকে যেন উঠে পড়ল কন্যেপক্ষের কুলের খোঁটা, তা থেকে বাচসা অপমান, পাত্ৰ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    যাক সে কথা, মূল কথা হচ্ছে, আকস্মিকের ক্ষেত্রে চর্বচোষ্য খেয়েও বিয়ের পিঁড়িতে বসা যায়।

    কথা হচ্ছে—এখন রাসুকে নিয়ে।

    রাসুর অবস্থাটা কি?

    সে কি এখন খুব একটা অন্তর্দ্বন্দ্বে পীড়িত হচ্ছে?

    তীব্র একটা যন্ত্রণা, ভয়ঙ্কর একটা অনুতাপ, প্রবল একটা মানসিক বিদ্রোহের আলোড়ন রাসুকে ছিন্নভিন্ন করছিল? বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ এই চিলের মত ছোঁ মেরে উড়িয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে এনে আরও একটা সাতপাকের বন্ধনে বন্দী করে ফেলবার চক্রান্তে কাকার ওপর কি রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছিল রাসু?

    না, রাসুর মুখ দেখে তা মনে হচ্ছে না।

    বলির পাঁঠার অবস্থা ঘটলেও ভয়ে বলির পাঁঠার মত কাঁপছিলও না রাসু, শুধু কেমন একটা ভাবশূন্য ফ্যালফেলে মুখে নিজের নির্দেশিত ভূমিকা পালন করে চলছিল সে।

    হ্যাঁ, এই আকস্মিকতার আঘাতে বেচারা রাসুর শুধু মুখটাই নয়, মনটাও কেমন ভাবশূন্য ফ্যালফেলে হয়ে গিয়েছে। সেখানে সুখ-দুঃখ ভাল-মন্দ দ্বিধা-দ্বন্দু কোন কিছুরই সাড়া নেই।

    সে-মনে ধাক্কা লাগল স্ত্রী-আচারের সময়। সে ধাক্কায় খানিকটা সাড় ফিরল।

    সে সাড়ে মনের মধ্যে একটা ভয়ানক কষ্ট বোধ করতে থাকল রাসু।

    সাত এয়োতে মিলে যখন মাথায় করে শ্ৰী, কুলো, বরণডালা, আইহাঁড়ি, চিতের কাঠি, ধুতরো ফলের প্রদীপ সাজানো থালা ইত্যাদি নিয়ে বরকনেকে প্ৰদক্ষিণ করছিল, ধাক্কাটা লাগল। ঠিক তখন।

    এয়োদের অবশ্য একগলা করে ঘোমটা, কিন্তু তার মধ্যেও আদল বলে একটা কথা আছে। যে বৌটির মাথায় বরণডালা, আর আদলটা ঠিক সারদার মতন, যদিও দিনের বেলা হঠাৎ সারদার মুখটা দেখলে রাসু ঠিক চিনতে পারবে কিনা সন্দেহ, তবুও আদালটা চেনে। ওই রকম বেগনী রঙের জমকালো একখানা চেলিও যেন সারদাকে মাঝে মাঝে পরতে দেখেছে রাসু। পাড়ার কারুর বিয়েটিয়েতে কি সিংহবাহিনীর অঞ্জলি দেবার সময়।

    দেখেছে অবিশ্যি নিতান্ত দূর থেকে, আর ভাল করে তাকাবার সাহসও হয় নি। কারণ রাতদুপুরের আগে, সমস্ত বাড়ি নিযুতি না হওয়া পর্যন্ত কাছাকাছি আসবার উপায় কোথা? আর তখন তো। সারদা সাজসজ্জা গহনাৰ্গাটির ভারমুক্ত। তা ছাড়া সারদা ঘরে ঢুকেই কোণের প্রদীপটা দেয় নিভিয়ে। বলে, কে কমনে থেকে দেখে ফেলে যদি!

    অবিশ্যি দেখবার পথ বলতে কিছুই নেই। রামকালী চাটুয্যের বাড়ির দরজা-কপট তো আর পাড়ার পাঁচজনের মত আমাকাঠের নয় যে ফাটা-ফুটো থাকবে, মজবুত কাঁঠালকাঠের লোহার পাতমোরা দরজা। দরজার কড়া-ছেকলগুলোই বোধ করি ওজনে দুপাঁচ সের। আর জানলা? সে তো জানিলা নয়, গবাক্ষ। মানুষের মাথা ছাড়ানো উঁচু তে ছোট্ট ছোট্ট খুপরি জানলা, সেখানে আর কে চোখ ফেলবে? তবু সাবধানের মার নেই।

    গ্ৰীষ্মকালে অবশ্য পুরুষরা এ রকম চাপা ঘরে শুতে পারেন না, তাদের জন্যে চণ্ডীমণ্ডপে কিংবা ছাতে শেতলপাটি বিছিয়ে রাখা হয় ভিজে গামছা দিয়ে মুছে মুছে। সেখানে তাকিয়া যায়, হাতপাখা যায়, গাড় গামছা যায়, বয়ে নিয়ে যায় রাখাল ছেলেটা কি মুনিযটা। কর্তাদের অসুবিধে নেই।

    প্ৰাণ যায় বাড়ির মহিলাদের, আর নববিবাহিত যুবকদের। তারা প্ৰাণ ধরে বারবাড়িতে শুতে যেতে পারে না, অথচ ভেতরবাড়ির ঘরের ভিতরের গুমোটিও প্রাণান্তকর।

    তবে সারদার মত বৌ হলে আলাদা। সারদা এই গ্রীষ্মকালে সারারাত্তির পাখা ভিজিয়ে বাতাস করে রাসুকে।

    প্ৰাণের ভেতরটা হঠাৎ কেমন মোচড় দিয়ে উঠল রাসুর। গতকাল রাত্ৰেও সারদা সেই পতিসেবার ব্যতিক্রম করে নি। রাসু মায়া করে বার বার বারণ করছিল বলে কচি ছেলেটার গরমের ছুতো করে নেড়েছে। সারদা। আর সব চেয়ে মারাত্মক কথা, যেটা মনে করে হঠাৎ বুকটা এমন মুচড়ে মুচড়ে উঠছে রাসুর, মাত্ৰ কাল রাত্তিরেই সারদা তাকে ভয়ানক একটা সত্যবদ্ধ করিয়ে নিয়েছিল।

    বাতাস দিতে বারণ করার কথায় চুপি চুপি হেসে বলেছিল। সারদা, এত তো মায়া, এ মায়ার

    রাসু ঠিক বুঝতে পারে নি, একটু অবাক হাসি হেসে বলেছিল, চিরকাল কি গরম থাকবে?

    আহা তা বলছি নে। বলছি-, রাসুর বুকের একবারে কাছে সরে এসে সারদা বলেছিল, সতীনজ্বালার কথা বলছি। তখন কি আর মায়া করবে? বলবে কি আহা ওর সতীনে বড় ভয়!

    রাসু যতটা নিঃশব্দে সম্ভব হেসে উঠেছিল, হেসে বলেছিল, হঠাৎ দিবাস্বপ্ন দেখছি নাকি! সতীনাওলা আবার কে দিলে তোমায়!

    দেয় নি, দিতে কতক্ষণ?

    অনেকক্ষণ! আমার আমন দু-চারটে বৌ ভাল লাগে না। দরকারও নেই।

    সারদা। তবু জেরা ছাড়ে নি, আর আমি বুড়ো হয়ে গেলে? তখন তো দরকার হবে!

    রাসু ভারি কৌতুক অনুভব করেছিল, আবার হেসে ফেলে বলেছিল, এ যে দেখি হাওয়ার সঙ্গে মনান্তর! তুমি বুড়ো হয়ে যাবে, আর আমি বুঝি জোয়ান থাকব?

    আহা, পুরুষ ছেলে কি আর অত সহজে বুড়ো হয়? তা ছাড়া ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ ছেলে, দেখতে সোন্দর। এত পয়সাওলা মানুষ তোমরা, কত ভাল ভাল সম্বন্ধ আসবে তোমার, তখন কি আর আমার কথা–

    হঠাৎ আবেগে কেঁদে ফেলেছিল সারদা।

    অগত্যাই নিবিড় করে কাছে টেনে নিয়ে বৌকে আদর সোহাগ করে ভোলাতে হয়েছে রাসুকে। বলতে হয়েছে, সাধে কি আর বলেছি হাওয়ার সঙ্গে মনান্তর।! কোথায় সতীন তার ঠিক নেই, কাঁদতে বসলো! ওসব ভয় করো না।

    আরও অনেক বাক্য বিনিময়ের পর পতিব্ৰতা সারদা স্বামীকে আশ্বাস দিয়েছিল, তা বলে তোমাকে আমি এমন সত্যবন্দী করে রাখছি নে যে আমি মরে গেলেও ফের বে করতে পারবে না। আমি মলে তুমি একটা কেন একশটা বে করো, কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে নয়।

    নয়, নয়, নয়! হল তো? তিন সত্যি করেছিল রাসু।

    মাত্র গতরাত্রে।

    আর আজ সেই রাসু, এই টোপর চেলি পরে কলাতলায় দাঁড়িয়ে আছে, এই মাত্তর যে গিন্নীমানুষটা বরণ করছিল সে বলে উঠেছে, কড়ি দিয়ে কিনলাম, দড়ি দিয়ে বাঁধলাম, হাতে দিলাম মাকু, একবার ভ্যা কর তো বাপু!

    একটা মানুষকে কতবার কেনা যায়?

    বাঁধা জিনিসটাকে আবার কি ভাবে বাঁধা যায়?

    হায় ভগবান, রাসুকে এমন বিড়ম্বনায় ফেলে কি সুখ হল তোমার?

    আহা, রাসু যদি ঠিক আজকেই গায়ে না থাকত! রুগী দিদিমাকে দেখতে এমন তো মাঝে মাঝে গা ছেড়ে ভিনগায়ে যায় রাসু। আজই যদি তাই হত! যদি দিদিমা বুড়ী টেসে গিয়ে ওখানেই আজ আটকে ফেলত রাসুকে!

    যদি ঠিক এই সময় জ্ঞাতিগোত্তর কেউ মরে গিয়ে অশৌচ ঘটিয়ে রাখত রাসুদের! যদি রাসুরও এদের সেই বরটার মতন আচমকা একটা শক্ত অসুখ করে বসত!

    তেমন কোন কিছু ঘটলে তো আর বিয়ে হতে পারত না!

    কন্যাদায়গ্ৰস্ত বিপন্ন ভদ্রলোকের বিপদের কথা মনের কোণেও আসে না রাসুর, মরুক চুলোয় যাক ওরা, রাসুর এ কী বিপদ হল!

    এ যদি কাকা রামকালী না হয়ে বাবা কুঞ্জবেহারী হত! বাবা যদি বলত, ভদ্রলোকের বিপদ উপস্থিত রাসু, দ্বিধা-দ্বন্দূের সময় আর নেই, চল ওঠ। তা হলেও হয়ত বা রাসু খানিক মাথা চুলকোতে বসত!

    কিন্তু এ হচ্ছে যার নাম মেজকাকা, যার হুকুমের ওপর আর কথা চলে না।

    অনেক যদির শেষে অবশেষে হতাশচিত্ত রাসু এ কথাও ভাবল, আর কিছুও না হোক, যদি গতরাত্রে রাসুগ্ৰীষ্মের কারণে বারবাড়িতে শুতে যেত! তা হলে তো ওই সত্যবন্দীর দায়ে পড়তে হত না তাকে!

    এর পর কি আর জন্মে কোন দিন কোন ব্যাপারে রাসুকে বিশ্বাস করতে পারবে সারদা? বিশ্বাস করতে পারবে, এক্ষেত্রে রাসু বেচারাও সারদার মতই নিরূপায়? কোন হাত ছিল না তার! নাঃ, বিশ্বাস করবে না। সারদা, বলবে, বোঝা গেছে বোঝা গেছে! বেটা ছেলেদের আবার মন-মায়া! বেটা ছেলের আবার তিন-সত্যি!

    কিন্তু কথাই কি আর কখনো কইবে সারদা? হয়তো জীবনে আর কথা কইবে না। রাসুর সঙ্গে, নয়তো দুঃখে অভিমানে মনের ঘেন্নায়— হঠাৎ রাসুর মনশ্চক্ষে বিশালকায় চাটুয্যেপুকুরের কাকচক্ষু জলটার দৃশ্য ভেসে ওঠে।

    মনের ঘেন্নায় আজ রাত্তিরেই সারদা কিছু একটা করে বসবে না তো!

    বুকের ভেতরটা কে যেন খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চিরে চিরে নুন দিচ্ছে। রাসু বুঝি আর চুপ করে থাকতে পারবে না, বুঝি হাউমাউ করে চেঁচিয়ে উঠবে।

    না, চেঁচিয়ে ওঠে নি। রাসু, তবে মুখের চেহারা দেখে কন্যাপক্ষের কে একজন বলে উঠল, বাবাজীর কি শরীর অসুস্থ বোধ হচ্ছে?

    আবার বিয়ের বরের শরীর অসুস্থ!

    লক্ষ্মীকান্ত একবার এই হিতৈষী-সাজা দুর্মুখটার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকালেন, তারপর গম্ভীর কণ্ঠে আদেশ দিলেন, ওরে কে আছিস, আর একখানা হাতপাখা নিয়ে আয় দিকি, নতুন নাতজামাইয়ের মাথার দিকে বাতাসটা একটু জোরে জোরে দে।

    জোর জোর বাতাসে মুখের চেহারাটা রাসুর সত্যি একটু ভাল দেখাল। আর না দেখালেই বা কি, ততক্ষণে তো বিয়ে সাঙ্গ হয়ে গেছে, বরকনেকে লক্ষ্মীর ঘরে প্ৰণাম করিয়ে বাসরে বসাতে নিয়ে যাচ্ছে সবাই ধরে ধরে, পায়ের গোড়ায় ঘটি ঘটি জল ঢালতে ঢালতে।

    সেখানে আবারও তো সেই সেবারের মতন উপদ্রব হবে! সারদার বাপের বাড়ির সেই সব মেয়েমানুষদের বাক্যি আর বাঁচালতা মনে করলে রাসুর এখনো হৃৎকম্প হয়।

    আবার তেমনি ভয়ঙ্কর একটা অবস্থার মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে এখন রাসুকে!

    সম্পূর্ণ অসহায়, সম্পূর্ণ নিরস্ত্র।

    হঠাৎ রাসু দার্শনিকের মত নিজের ব্যক্তিগত দুঃখজ্বালা ভুলে একটা বিরাট দর্শনের সত্য আবিষ্কার করে বসে!

    মানুষ কি অদ্ভুত নির্বোধ জীব!

    এই কুশ্রী কদৰ্যতাকে ইচ্ছে করে জীবনে বার বার সোধে নিয়ে আসে, বার বার নিজেকে কানাকড়িতে বিকেয়!

    পরদিন সকালে এখানে বৌছত্ৰ আঁকা হচ্ছিল।

    ইচ্ছে-শখের বিয়ের মত নিখুঁত করে বাহার করে না হোক নিয়মপালাটা তো বজায় রাখতে হবে?

    আর এত বড় উঠোনটায় যেমন-তেমন করে একটু আলপনা ঠেকাতেও এক সেরা পাঁচ পো চাল না ভিজোলে চলবে না।

    তা সেই পাঁচপো চালই ভিজিয়ে দিয়েছিলেন রামকালীর খুড়ী নন্দরাণী। রামকালীর নিজের খুড়ী নয়, জেঠতুতো খুড়ী। সংসারের যত কিছু নিয়মলক্ষণ নিতাকিতের কাজের ভার নন্দরাণীর আর কুঞ্জর বৌয়ের উপর। কারণ ওরাই দুজন হচ্ছে একেবারে অখণ্ডপোয়াতি। কুঞ্জর বৌয়ের তো সাতটি ছেলেমেয়েই ষোটের কোলে খোসমেজাজে বাহাল তবিয়াতে টিকে আছে।

    নন্দরাণীর অবশ্য মাত্র দু-তিনটিই।

    সে যাক, বিয়ের ব্যাপারে নিয়মপালার কাজের সব কিছুই যখন নন্দরাণীর দখলে–তখন এক্ষেত্রেই বা তার ব্যতিক্রম হবে কেন? কাজেই রাসুর এই বিয়েটাকে মনে মনে যতই অসমর্থন করুন নন্দরাণী, পুরো পাঁচপো আতপ চালই ভিজিয়ে দিয়েছিলেন তিনি উঠোনে বৌছত্তর আঁকতে। দুধে আলতার প্রকাণ্ড পাথর বসিয়ে তাকে কেন্দ্র করে আর ঘিরে ঘিরে দ্রুতহস্তে ফুল লতা শাঁখ পদ্ম একে চলেছিলেন নন্দরাণী; সাঙ্গ হতে কিছুকিঞ্চিৎ দেরি আছে এখনও, সহসা রাখাল ছোঁড়া ঘর্মািক্ত কলেবরে ছুটতে ছুটতে এসে উঠোনের দরজায় দাঁড়িয়ে আকর্ণবিস্তৃত হাস্যে জানান দিল, বরকনে এয়েলো গো! আমি উই-ই দীঘির পাড় থেকে দেখতে পেয়েই ছুটে ছুটে বলতে এনু।

    তা তো এলো- নন্দরাণী বিপন্নমুখে এদিক ওদিক তাকিয়ে ঈষৎ উচ্চকণ্ঠে বলে ওঠেন, দিদি, বরকনে এসে পড়ল শুনছি—

    বরকনে! এসে পড়ল!

    দীনতারিণী কুটনো ফেলে ছুটে এলেন, এখুনি এসে পড়ল? রামকালীর কি এতেও তাড়াহুড়ো?

    বারবেলা পড়বার আগেই বোধ করি নিয়ে এসেছেন রামকালী।

    যদিচ ভাসুরপো, তথাপি ধনে-মানে এবং সর্বোপরি বয়সে বড়। কাজেই নন্দরাণী রামকালী সম্পর্কে ছেন দিয়েই বাক্যবিন্যাস করেন। এখনো করলেন।

    দীনতারিণী বারবেলা শব্দটায় মনকে স্থির করে নিয়ে বললেন, তা হবে। তা তোমাদের নেমকন্মর সব প্ৰস্তুত?

    নন্দরাণী আরও ব্যস্ত হাতে হাতের কোজ সারতে সারতে বলেন, প্রস্তুত তো একরকম সবই, কিন্তু দুধটা যে ওথলাতে হবে! সেটা আবার এখন কে করবে?

    দুধা! তাই তো!

    ওথলানোর দরকার বটে!

    বৌ এসে সদ্য উথলে পড়া দুধ দেখলে, সংসার নাকি ধন-ধান্যে উথলে ওঠে।

    দীনতারিণী উদ্বিগ্ন মুখে প্রশ্ন করলেন, বড় বৌমা কোথায় গেলেন?

    বড় বৌমা? সে তো রান্নাশালে! তাড়াহুড়ো করে একঘর বেঁধে রাখতে হবে তো! বৌ এসে দৃষ্টি দেবে।

    বড় বৌমা অর্থ রাসুর মা। তাকে তাই বলে তো নন্দরাণী।

    কারণ নন্দরাণী বয়সে রাসুর মার সমবয়সী হলেও মান্যে বড়, সম্পর্কে খুড়-শাশুড়ী, কাজেই বৌমা।

    যাই হোক, কুঞ্জর বৌ রান্নাশালে।

    অতএব দুধ ওথলাতে আর কাউকে দরকার। ওদিকে বর-কনে আগতপ্ৰায়।

    দীনতারিণী মনশ্চক্ষে চারিদিক তাকিয়ে নেন, আর কে আছে? অখণ্ডপোয়াতি সোয়ামীর প্রথম পক্ষী!

    দ্বিতীয় তৃতীয় পক্ষ দিয়ে তো আর পুণ্যকর্ম হবে না?

    কে আছে?

    ওমা, ভাবার কি আছে?

    সারদাই তো আছে!

    তাকেই ডাক দেওয়া হোক তবে। একা ঘরের কোণে বসে রয়েছে মনমরা হয়ে, কাজকর্মে ডাকলে তবু মনটা অন্যমনস্ক হবে–তা ছাড়া নতুন লোক নির্বাচনের সময়ই বা কোথা?

    সত্য উঠোন পার হচ্ছিল তীরবেগে, দীনতারিণী তাকেই ডাক দিলেন, এই সত্য, ধিঙ্গী অবতার! যা দিকিনী, বড় না।তবৌমাকে ডেকে আন দিকিন শীগগির, বরকনে এসে পড়ল পেরায়, দুধ ওথলাতে হবে।

    বৌকে? বড়দার বৌকে ডেকে দেব? সত্য দুই হাত উলটে বলে, বৌ কি আর বৌতে আছে? ভোর থেকে মাটিতে পড়ে কেন্দে কেন্দে মরছে!

    কেঁদে কেঁদে মরছে? দীনতারিণী বিরক্ত কণ্ঠে বলে ওঠেন, একেবারে মরছেন। কেন, এতে মরবার কি হল? ওমা, শুভদিনে ইকি অলক্ষণে কাণ্ড! যা, শীগগির ডেকে আন।

    সত্য এদিক ওদিক তাকিয়ে বলে, কে বাবা ডাকতে যায়! তুমি তো বললে কাঁদবার কি হয়েছে? বলি নিজের যদি হত? সতীন আছে কাঁদবে না, আহ্লাদে উর্ধবাহু হয়ে নাচবে মানুষ! হেঁ! কই, কোথায় কি আছে তোমাদের? আমিই দিচ্ছি। দুধ জ্বাল দিয়ে!

    তুই? তুই দিবি দুধ জ্বল?

    কেন, দিলেই বা! সত্য সোৎসাহে বলে, পিসঠাকুমা যে সেবার খুন্তির দিদির বিয়েতে বলল, সত্যর বছর ঘুরে গেছে, এখন এয়োডালায় হাত দিতে পারে!

    বছর ঘুরে অর্থাৎ বিয়ের বছর ঘুরে।

    সেটা আর স্পষ্টাম্পষ্টি উচ্চারণ করল না। সত্য।

    দীনতারিণী সন্দিগ্ধ সুরে বলেন, বছর ঘুরলেই বুঝি হল? ঘরবসতি না হলে—

    জানি নে বাবা। রাখো তোমাদের সন্দ। আমি এই হাত দিলাম।

    বলেই সত্য দাওয়ার পাশে দুখানা ইট পাতা উনুনের উপর জ্বলে বসানো ছোট্ট সরা চাপা মাটির হাঁড়িটার নিচে ফুঁ দিতে শুরু করে।

    ঘুঁটের আগুন জ্বলছে ধিকি ধিকি, ফুঁ পেড়ে দু-চারখানা নারকেলপাতা ঠেলে দিলেই জ্বলে উঠবে। দাউ দাউ করে। তা গোছালো মেয়ে নন্দরাণী নারকেল পাতার গোছাও এনে রেখেছেন পাশে।

    সত্যর সকল কাজই উদ্দাম।

    তার ফুঁয়ের দাপটে বরকনে আসার আগেই দুধ ওথলাতে শুরু করল। উথরে ধোঁয়া ছড়িয়ে ভেসে গেল। গড়িয়ে পড়ে।

    দীনতারিণী হাঁ হাঁ করে উঠলেন, ওরে একটু রয়ে-বসে, নতুন বৌ ঢোকা মাত্তর যেন দেখতে পায়।

    কথা শেষ হবার আগে বাইরের উঠোনে শাঁখ বেজে উঠল।

    অর্থাৎ শুভাগমন ঘটেছে নতুন বৌয়ের।

    মোক্ষদা শাঁখ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাইরে। আজ পূর্ণিমা, বিধবাদের ঘরে রান্নার ঝামেলা নেই, কোন এক সময় আমকাঁঠাল ফল মিষ্টি খেলেই হবে। কাজেই আজ ছুটি মোক্ষাদাদের।

    ছুটিই যদি, তবে ছোটাছুটি না করবেন কেন মোক্ষদা? স্নান তো করতেই হবে জল খাবার আগে।

    তাই মোক্ষদাই অগ্রণী হয়ে বারবাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে আছেন। আছেন শাঁখ হাতে নিয়ে।

    শুভকর্মে বিধবারা সমস্ত কর্মে অনধিকারী হলেও, এই একটি কর্মে তাদের অধিকার আছে, সমাজ অথবা সমাজপতিরা বোধ করি এটুকু আর কেড়ে নেন নি, ক্ষ্যামা-ঘেন্না করে ছেড়ে দিয়েছেন। শাক আর উলু।

    অতএব সেই অধিকারটুকুর সম্যক সদ্ব্যবহার করতে থাকেন মোক্ষদা রাসুর দ্বিতীয় অভিযানান্তে। ৩।বর্তন উপলক্ষ্যে।

    দীনতারিণী উদ্‌গ্ৰীব হয়ে এগিয়ে যেতে যেতে চমকে উঠে বলেন, আমন করে ফুঁ দিচ্ছিস যে সত্য? পোড়ালি বুঝি?

    সত্য তাড়াতাড়ি সত্য গোপন করে ফেলে বলে, পোড়াবো কেন, হুঁ!

    তবে হাতে ফুঁ পাড়ছিস কেন?

    এমনি।

    যাক এবার উনুনে ফুঁ পাড়, ঢোকার সময় যেন আর একবার দুধটা ফেপে ওঠে, তা উঠেছে, বৌ পয়মন্ত হবে। সেবার বরং-

    কথা শেষ হবার আগেই রামকালীর গভীর কণ্ঠনিনাদ ধ্বনিত হল, তোমাদের ওই সব বরণ-টরণ তাড়াতাড়ি সেরে ফেলো ছোটপিসী, পিছনে পিছনে পাড়া ঝেটিয়ে অবগুণ্ঠনবতীর দল।

    .

    বিয়েটা যেভাবে আর যে অবস্থাতেই ঘটে থাকুক, বৌভাতের যজ্ঞি। একটা করতেই হবে। আমোদ-আহ্লাদের প্রয়োজনে নয়, সমাজ-জানিত করবার প্রয়োজনে। খামকা একদিন হূঁট করে লক্ষ্মীকান্ত বাঁড়ুয্যের পৌত্রী এসে চাটুয্যেবাড়ির অন্দরে সামিল হল, কাকে-পক্ষীতে টের পেল না, এটা তো আর কাজের কথা নয়। তার প্রবেশটা যে বৈধ, এ খবরটুকুর একটা পাকা দলিল তো থাকা চাই।

    দলিল আর কি! লিখিত্ব পড়িত্ তো কিছু নয় সই-সবুদও নয়, মানুষের স্মরণ-সাক্ষ্যই দলিল তা সেই স্মরণ-সাক্ষ্য আদায় করতে হলে গ্রাম-সমাজকে একদিন গলবস্ত্ৰে ডেকে এনে উত্তম ফলার খাইয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য উপায় কি?

    তা ছাড়া বাঁড়ুয্যেদের মেয়ে যে চাটুয্যে পরিবারভুক্ত হল, তার স্বীকৃতিটাও তো দিতে হবে? বৌভাতের যজ্ঞিতে নতুন বৌয়ের হাত দিয়ে ভাত পরিবেশন করিয়ে জ্ঞাতিকুটুম্বের কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি নেওয়া।

    অতএব বিয়েতে যজ্ঞির আয়োজন না করলেই নয়। আগে থেকে বিলিবন্দেজ নেই, হুট্‌ক্কারি করে বিয়ে, তাই ভোজের আয়োজনেও হুড়োহুড়ি লেগে গেছে। অনুগত জনের অভাব নেই রামকালীর, দিকে দিকে লোক ছড়িয়ে দিয়েছেন। জনাইতে মনোহরার বায়না গেছে, বর্ধমানে মিহিদানার। তুষ্ট গয়লাকে ভার দেওয়া হয়েছে দৈ-এর, আর ভীমে জেলেকে ডেকে পাঠিয়েছেন মাছের ব্যবস্থা করতে। কোন পুকুরে জাল ফেলবে ক-মণ তোলা হবে, এই সব নির্দেশ দিচ্ছিলেন রামকালী, সহসা সেই আসরে এসে উপস্থিত হলেন মোক্ষদা।

    এ তল্লাটে রামকালীকে ভয় করে না এমন কেউ নেই, বাদে মোক্ষদা। রামকালীর মুখের উপর হক কথা শুনিয়ে দেবার ক্ষমতা একা মোক্ষদা রাখেন। নইলে দীনতারিণী পর্যন্ত তো ছেলেকে সমীহ করে চলেন।

    অবিশ্যি ভাবা যেতে পারে রামকালীকে হক কথা শুনিয়ে দেবার সুযোগটা আসে কখন? যে মানুষটা কর্তব্যপালনে প্রায় ত্রুটিহীন, তাকে দুকথা শুনিয়ে দেবার কথা উঠছে কি করে?

    কিন্তু ওঠে।

    মোক্ষদা ওঠান। কারণ মোক্ষদার বিচার নিজের দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে। রামকালীর মতে যেটা নিশ্চিত কর্তব্য, প্রায়শই মোক্ষদার মতে সেটা অনর্থক বাড়াবাড়ি।

    তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হক কথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় সত্যবতী। হবে না-ই বা কেন? রামকালী যদি এমন মেয়ে গড়ে তোলেন যেমন মেয়ে ভূ-ভারতে নেই, তাহলে আর কথা শোনানোয় মোক্ষদার দোষ কি? সৃষ্টিছাড়া ওই মেয়েটাকে তাই যখন-তখন তার বাপের সামনে হাজির করে ন ভূতো ন ভবিষ্যতি করতেই হয় মোক্ষদাকে।

    আজও তাই রামকালীর দরবারে একা আসেন নি মোক্ষদা, এনেছেন সত্যবতীকে সঙ্গে করে। সত্যবতীও এসেছে বিনা প্ৰতিবাদে। অবশ্য প্ৰতিবাদে লাভ নেই বলেই হয়তো এই অপ্ৰতিবাদ। অথবা হয়তো এটা তার নির্ভীকতা।

    ভীমে জেলের উপস্থিতির কালটুকু অবশ্য নিঃশব্দে দাঁড়িয়েছিলেন মোক্ষদা। কথার শেষে ভীম রামকালীকে দণ্ডবৎ হয়ে প্ৰেণাম করে চলে যাবার পরীক্ষণেই মোক্ষদা যেন ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

    এই নাও রামকালী, তোমার গুণের অবতার কন্যের হাতের চিকিচ্ছে করো এবার। আর চেরটাকালই করতে হবে তোমাকে, এ মেয়েকে তো আর শ্বশুরঘর থেকে নেবে না। একটু দম নিলেন মোক্ষদা।

    মোক্ষদা দম নেবার অবকাশে রামকালী মৃদু হেসে বলেন, কি? কি হল আবার?

    হয়েই তো আছে সমস্তক্ষণ, মোক্ষদা দুই হাত নেড়ে বলেন, উঠতে বসতেই তো হচ্ছে। কাটছে ছিঁড়ছে ছড়ছে। এই আজ দেখা মেয়ের হাতের অবস্থা। পুড়িয়ে-ঝুড়িয়ে এতখানি এক ফোস্কা! আবার বলে কি বলতে হবে না বাবাকে, এমনি সেরে যাবে! দেখো তুমি নিজের চক্ষে।

    ইত্যবসরে রামকালী মেয়ের হাতখানা তুলে ধরে শিহরিত হয়েছেন।

    কী ব্যাপার? এ কি করে হল?

    কি করে হয়েছে শুধোও-ওকেই শুধোও। মেয়ের গুণের কথা এত বলি, কথা কানে করো না তো! তবে তোমাকে এই বলে রাখছি রামকালী, এই মেয়ে হতেই তোমার ললাটে দুঃখু আছে।

    কথাটা নতুন নয়, কাঁহ ব্যবহৃত। কাজেই রামকালী যে বিশেষ বিচলিত হন এমন নয়। তবে বাইরে গুরুজনকে সমীহ করবার শিক্ষা রামকালীর আছে, তাই বিচলিত ভাবটা দেখান।

    নাঃ, মেয়েটাকে নিয়ে—! আবার কি করলি? এত বড় ফোস্কা পড়ল কিসে?

    দুধ ওথলানো হচ্ছিল গো। কালকে যখন রেসো বৌ নিয়ে এসে ঢুকল, উনি গেলেন পাতা জ্বেলে দুধ ওথলাতে! আর এও বলি, এত বড় বুড়ো ধিঙ্গী মেয়ে, এটুকু করতে হাতই বা পোড়ালি কি दळल?

    রামকালী মেয়ের হাতের অবস্থাটা নিরীক্ষণ করে ঈষৎ গম্ভীর হয়ে মেয়ের উদ্দেশেই বলেন, আগুনের কাজ তুমি করতে গেলে কেন? বাড়িতে আর লোক ছিল না?

    সত্য ঘাড় নিচু করে বলে, বেশী জ্বালা করছে না। বাবা।

    জ্বালা করার কথা হচ্ছে না, করলেও সে জ্বালা নিবারণের ওষুধ অনেক আছে। জিজ্ঞেস করছি, তুমি আগুনে হাত দিতে গেলে কেন?

    সত্য এবার ঘাড় তোলে। তুলে সহসা নিজস্ব ভঙ্গীতে তড়বড় করে বলে ওঠে, আমি কি আর সাধে আগুনে হাত দিয়েছি বাবা, বড়বৌয়ের মুখ চেয়েই দিয়েছি। আহা বেচারী, একেই তো সতীনকাঁটার জ্বালা তার ওপর আবার দুধ ওথলাবার হুকুম। মানুষের প্রাণ তো!

    সত্যর এই পরিষ্কার উত্তরপ্রদানে এক রামকালীই নয়, মোক্ষদাও তাজ্জব বনে যান। এ কী সর্বনেশে মেয়ে গো! ওই হোমরাচোমরা বাপের মুখের ওপর এই চোটপাট উত্তর! গালে হাত দিয়ে নির্বাক হয়ে যান মোক্ষদা। কথা বলেন রামকালীই। দুই ভ্রূ কুঁচকে ঝাঁঝালো গলায় বলেন,

    কি জিনিস সে কথা তুমি তোমার মেয়ের কাছেই এবার শেখে। রামকালী! মোক্ষদা সত্যবতীর আগেই তীক্ষ্ণ বিদ্রুপের স্বরে বলেন, আমরা এতখানি বয়সে যা কথা না শিখেছি, এই পুঁটকে ছুঁড়ী তা শিখেছে! কথার ধুকড়ি!

    সত্য এই সব উলটোপালটো কথাগুলো দুচক্ষের বিষ দেখে। কেন রে বাপু, যখন যা সুবিধে তখন তাই বলবে কেন? এই এক্ষুণি সত্যকে বলা হলো বুড়ো ধিঙ্গী, আবার এখন বলা হচ্ছে পুঁটকে ছুঁড়ী! সবই যেন ইচ্ছে-খুশী!

    রামকালী পিসীর দিকে একনজর তাকিয়ে নিয়ে জলদগম্ভীর স্বরে কন্যাকে পুনঃপ্রশ্ন করেন, কই, আমার কথার জবাব দিলে না? বললে না। সতীনকাটা কি জিনিস আর তার জ্বলাটাই বা কী বস্তু?

    কী বস্তু সে কথা কি ছাই সত্য জানে? তবে বস্তুটা যে খুব একটা মর্মবিদারি দুঃখজনক, সেটা বোধ করি জন্মাবার আগে থেকেই জানে। তাই মুখটা যথাসম্ভব করুণ করে তুলে বলে, সতীন মানেই তো কাটা বাবা! আর কাটা থাকলেই তার জ্বালা আছে! বড়বৌ-এর প্রাণে তো এখন তুমি সেই জ্বালা ধরিয়ে দিলে–

    থামো! হঠাৎ ধমকে উঠলেন রামকালী। বিচলিত হয়েছেন তিনি, বাস্তবিকই বিচলিত হয়েছেন এতক্ষণে। বিচলিত হয়েছেন মেয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে নয়, সহসা মেয়ের অন্তরের মলিনতার পরিচয় পেয়ে।

    এ কী?

    এ রকম তো ধারণা ছিল না তার ছিল না হিসাবের মধ্যে। এটা হল কোন্ ফাঁকে? সত্যবতীর বহুবিধ নিন্দাবাদ তার কানে এসে ঢোকে, সে-সব তিনি কখনোই বড় একটা গ্রাহ্য করেন না। করেন শুধু মেয়ের স্বভাব-প্রকৃতিতে একটা নির্মল তেজের প্রকাশ লক্ষ্য করে। সত্যর হৃদয়ে হিংসাদ্বেষের ছায়ামাত্র নেই, এইটাই জমা ছিল হিসাবের খাতায়, এহেন নীচ হিংসুটে কথাবার্তা শিখে ফেললো সে কখন? কিন্তু বাড়তে দেওয়া ঠিক নয়, শাসনের দরকার।

    তাই আরও বাঘ-গর্জনে বলে ওঠেন, কেন, সতীন কিসে এত ভয়ঙ্করী হল? সে এসে ধরে মারছে তোমাদের বড়বৌকে?

    বার বার বাঘা-হুমকিতে সত্যবতীর চোখে জল উপচে এসে পড়ছিল, কিন্তু সহজে হার মানে না সে। আর কাঁদার দৈন্যটা প্রকাশ হয়ে পড়বার ভয়ে কষ্টে ঘাড় নিচু করে ধরা গলায় বলে, হাতে না মারুক, ভাতে মারছে তো? বড়বৌ একলা একেশ্বরী ছিল, নতুন বৌ হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসল–

    আ, ছি ছি ছি!

    রামকালী শিউরে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। মুখ দেখে মনে হল, সত্যবতী যেন সহসা তাঁর যত্নে আঁকা একখানি ছবিকে মুচড়ে দুমড়ে ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে।

    এই ফাঁকে মোক্ষদা আবার একহাত নেন, ওই শোনো! শোনো মেয়ের কথার ভঙ্গিমে! সাধে বলি কথার ভশ্চায্যি! বুড়ো মাগীদের মতন কথা, আর ছেলেপেলের মতন দস্যিচাল্লি! হরঘড়ি অবাক করে দিচ্ছে কথার জ্বালায়!

    রামকালী পিসীর আক্ষেপে কান না দিয়ে তিক্তবিরক্ত স্বরে বললেন, এমন ইতর কথাবার্তা কোথা থেকে শিখেছ? ছি ছি ছি! লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে আমার। উড়ে এসে জুড়ে বসা মানে কি? এক বাড়িতে দুটি বোন থাকে না? সতীনকে কাঁটা না ভেবে বোন বলে ভাবা যায় না?

    .

    বাবা এত ঘেন্না দেওয়ার পর অবশ্য সত্যবতীর সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। একসঙ্গে অগুনতি ফোঁটা ঝর ঝর করে ঝরে পড়ে চোখ থেকে গালে, গাল থেকে মাটিতে। পড়তেই থাকে, হাত তুলে মোছে না সত্য।

    রামকালী চাটুয্যে আর একবার বিচলিত হন। সত্যবতীর চোখে জল! এটা যেন একটা অদৃষ্টপূর্ব দৃশ্য মনে হচ্ছে। মনে হল ঘেন্নাটা বোধ করি একটু বেশী দেওয়া হয়ে গেছে।

    ঔষধে মাত্রাধিক্য, রামকালীর পক্ষে শোচনীয় অপরাধ। মনে পড়ল, মেয়েটার হাতের ফোস্কাটাও কম জ্বালাদায়ক নয়। এখুনি প্রতিকার করা দরকার। তাই ঈষৎ নরম গলায় বলেন, এরকম নীচ কথা আর বলো না, বুঝলে? মনেও এনো না। সংসারে যেমন ভাই বোন ননদ দেওর জা ভাসুর সব থাকে, তেমনি সতীনও থাকে, বুঝলে? কই দেখি হাতটা!

    হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে সত্যবতী নিজের উদ্বেল হৃদয়ভারকে সামলাতে চেষ্টা করে দাঁতে ঠোঁট চেপে।

    মোক্ষদা বোঝেন মেঘ উড়ে গেল। হয়ে গেল রামকালীর মেয়ে শাসন করা। ছি ছি ছি! আর দাঁড়াতে ইচ্ছে হল না, বললেন, যাক গে, শাস্তি শাসন হয়ে গেছে তো? এবার মেয়েকে সোহাগ করো বসে বসে। তুমিই দেখালে বটে বাবা!

    রঙ্গমঞ্চ থেকে বিদায় নেন মোক্ষদা।

    রামকালী আশু প্রতিকার হিসাবে একটা প্রলেপ মেয়ের ফোস্কা ঘায়ে লাগাতে লাগাতে সহসা আবার বলেন, আজকের কথা মনে থাকবে তো? আর কোন দিন এ রকম কথা বলো না, বুঝলে? মানুষ তো বনের জানোয়ার নয় যে খালি হিংসেহিংসি কামড়াকামড়ি করবে! সকলের সঙ্গে মিলেমিশে সবাইকে ভালবেসে পৃথিবীতে থাকতে হয়।

    বাবার গলায় আপসের সুর।

    অতএব ফের একটু সাহস সঞ্চয় হয় সত্যবতীর। তা ছাড়া প্রাণটা তো ফেটে যাচ্ছে বাবার ধিক্কারে। কিন্তু তারই বা দোষ কোথায় বুঝে উঠতে পারে না সত্যবতী। সবাইকে ভালবেসে থাকাই যদি এত ধম্মে হয়, তা হলে সেঁজুতি বত্তটি করতে হয় কেন?

    মনের চিন্তা মুখে প্রকাশ হয়ে পড়ে সত্যর, তাই যদি, তা হলে সেঁজুতি বত্ত করতে হয় কেন বাবা? পিসঠাকুরমা তো এ বছর থেকে আমাকে ফেন্তুকে আর পুণ্যিকে ধরিয়েছে!

    রামকালী এবার বিরক্তির বদলে বিস্মিত হন। সেঁজুতি বত্ত সম্পর্কে অবশ্য তিনি সম্যক অবহিত নন, কিন্তু যাই হোক, কোনও একটি ব্রত যে মানবতাবোধ-বিরোধী হওয়া সম্ভব, সেটা ঠিক ধারণা করতে পারেন না। তাই প্রলেপের হাতটা ঘরের কোণে রক্ষিত মাটির জালার জলে ধুতে ধুতে বলেন, ব্রতের সঙ্গে কি?

    কি নয় তাই বলো না কেন বাবা? চোখের জল শুকোবার আগেই সত্যর গলার সুর শুকনো খটখটে হয়ে ওঠে, সেঁজুতি বত্তর যত মন্তর সব সতীনকাটা উদ্ধারের জন্যে নয়?

    রামকালী একটুক্ষণ চুপ করে থাকেন।

    কোথায় যেন একটু আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। হু, এই রকমই একটা কিছু গোলমেলে ব্যাপার ঢুকে গিয়েছে মেয়ের মাথায়। নচেৎ সত্যর মুখে অমন কথা!

    হাতে অনেক কাজ।

    তবু রামকালী বিবেচনা করলেন, সদুপদেশের দ্বারা কন্যার হৃদয়-কানন হতে সতীন-কণ্টকের মূলোৎপাটন করা কর্তব্য; তাই ভুরু কুঁচকেই বললেন তাই নাকি? সে মন্তরটা কি?

    মন্তর কি একটা বাবা? সত্যবতী মহোৎসাহে বলে, গাদা গাদা মন্তর। সব কি ছাই মনেই আছে! ভেবে ভেবে বলছি রোসো। প্রথমে তো আলপনা আঁকা। ফুল-লতার নকশা কেটে তার ধারে কোণে হাতা-বেড়ি হড়িকুড়ি এস্তক ঘর-সংসারের প্রত্যেকটি জিনিস এঁকে নেওয়া। তা’পর একোটা একোটা ধরে ধরে মন্তর পড়তে হয়। হাতায় হাত দিলাম, বললাম–

    হাতা, হাতা, হাতা,
    খা সতীনের মাথা।
    খোরায় হাত দিয়ে
    খোরা গোরা পোরা,
    সতীনের মাকে ধরে নিয়ে যাক
    তিন মিনসে গোরা।

    তা’পর

    বেড়ি বেড়ি বেড়ি
    সতীন মাগী চেড়ী।
    বঁটি বঁটি বঁটি
    সতীনের ছেরাদ্দর কুটনো কুটি।
    হাঁড়ি হাঁড়ি হাঁড়ি,
    আমি যেন হই জন্ম-এয়োস্ত্রী,
    সতীন কড়ে রাঁড়ী।

    চুপ চুপ।

    রামকালী জলদগম্ভীর স্বরে বলেন, এই সব তোমাদের মন্তর?

    এই সব যে ব্রতের মন্তর হওয়ার উপযুক্ত নয়, সেই সত্যটা যেন সত্যর বোধের জগতে সহসা এই মুহূর্তে একটা চকিত আলোক ফেলে যায়। সে উৎসাহের বদলে মৃদুস্বরে বলে, আরও তো কত আছে–

    আরও আছে? বটে! আচ্ছা বলো তো শুনি আরও কি কি আছে! দেখি কি ভাবে তোমাদের মাথাগুলো চিবানো হচ্ছে! জানো আরও?

    হ্যাঁ। সত্য বড় করে ঘাড় কাত করে বলে, আর হচ্ছে–

    ঢেঁকি ঢেঁকি ঢেঁকি,
    সতীন মরে নিচেয় আমি উপুর থেকে দেখি!

    তা’পর গে

    অশ্বথ কেটে বসত করি,
    সতীন কেটে আলতা পরি।
    ময়না ময়না ময়না,
    সতীন যেন হয় না।

    তা’পর একমুঠো দুব্বো ঘাস নিয়ে বলতে হয়, ‘ঘাস মুঠি ঘাস মুঠি, সতীন হোক কানা কুষ্ঠি’। গয়না এঁকেও ছুঁয়ে ছুঁয়ে মন্তর আছে–

    বাজু বন্দ পৈছে খাড়ু,
    সতীনের মুখে সাত ঝাড়।

    পান এঁকে বলতে হয়–

    ছচি পান এলাচি গুয়ো–
    আমি সোহাগী, সতীন দুয়ো—

    আচ্ছা থাক হয়েছে। আর বলতে হবে না।

    রামকালী হাত নেড়ে নিবৃত্ত করেন, এসব গালমন্দকে তোমরা পূজোর মন্তর বল?

    আমরা বলি কি গো বাবা? সত্যবতী তার পণ্ডিত বাপের এহেন অজ্ঞতায় আকাশ থেকে পড়ে চোখ গোল গোল করে বলে, জগৎ সুদ্ধ সবাই বলে যে। সতীন যদি বোনের মত হবে, তবে এত মন্তরের স্রেজন হবে কেন? বোনের খোয়ারের জন্যে কি কেউ বত্ত করে? আসল কথা বেটাছেলেরা তো আর সতীনের মর্ম বোঝে না, তাই একটা ঢোক গিলে নেয় সত্য, কারণ বেটাছেলে সম্পর্কে পরবর্তী যে বাক্যটি জিভের আগায় এসে যাচ্ছিল, সেটা বাবার প্রতি প্রয়োগ করা সমীচীন কিনা বুঝতে না পেরে দ্বিধা এল।

    রামকালী গম্ভীর মুখে বলেন, তা হোক, এ ব্রত তোমরা আর করো না।

    করো না!

    ব্রত করো না!

    মাথায় বজ্রপাত হল সত্যর।

    এ কী আদেশ! এখন উপায়?

    একদিকে পিতৃআজ্ঞে, অপরদিকে ‘ব্রেতোপতিত’। বেতোপতিত হলে তো জলজ্যান্ত নরক; পিতৃআজ্ঞে পালন না করার পাতকটা ঠিক কতদূর গর্হিত না জানা থাকলেও, সেই পাতকের পাতকীকেও যে নরকের কাছাকাছি পৌঁছতে হবে এ বিষয়ে সত্য নিঃসন্দেহ।

    অনেকক্ষণ দুজনেই স্তব্ধ।

    তার পর আস্তে আস্তে কথাটা তোলে সত্য, ধরা বত্ত উজ্জাপন না করে ছেড়ে দিলে যে নরকগামিন হতে হবে বাবা!

    না, হবে না। এসব ব্রত করলেই নরকগামী হতে হয়।

    পিসঠাকুরমাকে তা হলে তাই বলব?

    কি বলবে?

    এই ইয়ে– সেঁজুতি করতে তুমি মানা করেছ?

    আচ্ছা থাক, এখুনি তাড়াতাড়ি তোমার কিছু বলবার দরকার নেই। যা বলবার আমিই বলব এখন। তুমি যাও এখন। হাতটা সাবধান। কোথাও ঘষটে ফেলো না।

    সত্যবতীর অবস্থাটা দাঁড়ায় অনেকটা ন যযৌ, না তস্থৌ।

    বাবার হুকুম চলে যাওয়ার, অথচ মনের মধ্যে প্রশ্নের সমুদ্র। সে সমুদ্রের ঢেউ আর কার পায়ের কাছে আছড়ে পড়লে সুরাহা হবে– বাবা ছাড়া?

    বাবা!

    কি আবার?

    বত্তটা যদি অন্যায়, সতীন যদি ভাল বস্তু, তা হলে বড় বৌয়ের অত কষ্ট হচ্ছে কেন?

    বড়বৌ? রাসুর বৌ? কষ্ট হচ্ছে? সে তোমাকে বলেছে তার কষ্ট হচ্ছে?

    রামকালীর কণ্ঠে ফের ধমকের সুর ছায়া ফেলে।

    কিন্তু সত্যবতী দমে না।

    ধিক্কারে দমে বটে সত্য কিন্তু ধমকে নয়। তাই বাকভঙ্গীতে সতেজতা এনে মোক্ষদার ভাষায় ‘কথার ভশ্চায্যি’র মতই তড়বড় করে বলে, বলতে যাবে কেন বাবা? সবই কি আর মুখ ফুটে বলতে হয়? চেহারা দেখে বোঝা যায় না? কেঁদে কেঁদে চোখ-মুখ বসে গেছে, অমন যে সোনার বণ্ন, যেন কালি মেড়ে দিয়েছে। পরশু থেকে মুখে একবিন্দু জল দেয় নি। নোকনজ্জায় বলছে বটে পেটব্যথা করছে তাতেই খিদে নেই, তাতেই কাঁদছি, কিন্তু বুঝতে সবাই পারছে। কে আর ঘাসের ভাত খায় বল? মড়ার ওপর খাড়ার ঘা, তার ওপর আবার আজ নতুন বো’র হাতের সুতো খোলা! কেউ বলছে বড়বৌকে অন্য ঘরে দিয়ে ওই ঘরেই নেমকর্ম হবে, কেউ বলছে আহা থাক। বড়বৌ নাকি ও বাড়ির সাবি পিসীকে বলেছে, অত ধন্দয় কাজ নেই, চাটুয্যে-পুকুরে অনেক জায়গা আছে, তাতেই আমার ঠাই হবে।

    সর্বনাশ!

    প্রমাদ গণেন রামালী।

    মেয়েমানুষের অসাধ্য কাজ নেই।

    কে বলতে পারে মেয়েটা সত্যিই ওরকম কোন দুর্মতি করে বসবে কি না। এও তো মহাজ্বালা। কোথায় ভদ্রলোকের জাত-মান উদ্ধারের কথা ভেবে আনন্দ করবি, তা নয় এই সব প্যাঁচ!…. কেন, ত্রিভুবনে আর কারো সতীন হয় না?

    হয়েছে আর কি, ওইসব অখদ্যে ব্রতপার্বণ করিয়ে শিশুকাল থেকে মেয়েগুলোর পরকাল ঝরঝরে করে রাখা হয়েছে কিনা!

    মেয়েমানুষ জাতই কুয়ের গোড়া।

    ঘরের লক্ষ্মী বলে সৌজন্য দেখালে কি হবে, এক-একটি মহা অলক্ষ্মী!

    নইলে রেসোর এই বৌমা, কি বা বয়স, তার কিনা এত বড় কথা! জলে ডুবে মরবার সংকল্প। ছি ছি!

    এই কথা বলেছেন বড় বৌমা?

    অন্ধকার-মুখে বলেন রামকালী।

    সাবি পিসী তো বলছিল।

    বাবার মুখ দেখে এবার একটু ভয়-ভয় করে সত্যর। কিন্তু ভয় করলে তো চলবে না। তারও যে কর্তব্য রয়েছে– বাবাকে চৈতন্য করাবার।

    এত বোধবুদ্ধি বাবার, অথচ সোয়ামী আর একটা বিয়ে করে আনলে মেয়েমানুষের প্রাণ ফেটে যায় কিনা সে জ্ঞান নেই! আর যদি না ফাটবে, তা হলে কৈকেয়ী কেন তিন যুগে হেয় হয়েও রামকে বনবাসে পাঠিয়েছিলেন? কথক ঠাকুরের কথাতেই তো শুনেছে সত্য।

    রাজার রাণী তিনি, তার মনে এত বিষ!

    আর বড়বৌ বেচারী নিরীহ ভালমানুষ, শুধু মনের ঘেন্নায় নিজে মরতে চেয়েছে।

    সত্যর প্রাণে এত দাগা লাগার আরও একটা কারণ, বড়বৌকে দুটো সান্ত্বনার কথা বলবার মুখ তার নেই। নেই তার কারণ, এই মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক নাটকের নায়ক হচ্ছেন স্বয়ং সত্যবতীরই বাবা। ইশারায় ইঙ্গিতে ঘরে-পরে সকলেই তো রামকালীকেই দুষছে।

    দুষবার কথাও। ছেলের মায়ের যে গৌরব আলাদা। বড়বৌ যদি ছেলের মা না হত তা হলে কথা ছিল। কেঁদে কেঁদে যদি ওর বুকের দুধ শুকিয়ে যায়, ছেলে বাঁচবে কিসে?

    .

    এদিকে রামকালী ভাবছেন বৌটাকে শায়েস্তা করার উপায় কি? গ্রামসুদ্ধ লোক নেমন্তন্ন করেছেন, রাত পোহালেই যজ্ঞি, ও যদি সত্যিই কিছু একটা অঘটন ঘটিয়ে বসে! অনেক ভেবে গলাটা ছেড়ে বললেন, ওসব হচ্ছে ছেলেবুদ্ধির কথা! তুমি আমার হয়ে বৌমাকে গিয়ে বলো গে, ওসব ছেলেমানুষী বুদ্ধি ছেড়ে দিতে। বলো গে, বাবা বললেন, মন ভাল করব ভাবলেই মন ভাল করা যায়। বলো গে, উঠুন, কাজকর্ম করুন, ভাল করে খান-দান, মনের গলদ কেটে যাবে।

    সত্য আর একবার বাবার অজ্ঞতায় কাতর হয়। তবে শুধু কাতর হয়ে চুপ করেও থাকে না। একটু তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে, তা যদি কেটে যেত, তা হলে তো মাটির প্রিথিবীটা সগগো হত বাবা! রুগীর চেহারা দেখে তুমি ওপর থেকে বলে দিতে পারো তার শরীরের মধ্যে কোথায় কি হচ্ছে, আর মানুষের মুখ দেখে বুঝতে পারো না তার প্রাণের ভেতরটায় কি হচ্ছে? নিজের চোক্ষে প্রেত্যক্ষ একবার দেখবে চল তা হলে!

    সহসা কেন কে জানে রামকালীর গায়ে কি রকম কাটা দিয়ে উঠল। চুপ করে গেলেন তিনি। তার অনেকক্ষণ পর হাত নেড়ে মেয়েকে ইশারা করলেন চলে যেতে।

    এর পর আর চলে না যাওয়া ছাড়া উপায় কি? সত্য মাথা হেঁট করে আস্তে আস্তে ঘর থেকে চলে যায়।

    কিন্তু এবারের ডাকের পালা রামকালীরই, আচ্ছা শোনো।

    সত্যবতী ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়।

    শোনো, বৌমাকে তোমার কিছু বলবার দরকার নেই, তুমি শুধু, মানে ইয়ে, তোমাকে খালি একটা কাজ দিচ্ছি

    রামকালী ইতস্তত করছেন।

    সত্যবতী অবাক হয়ে যায়।

    নাঃ, আর যাই হোক বাবাকে কখনো এমন ইতস্তত করতে দেখে নি সত্য!

    কিন্তু এ হেন পরিস্থিতিতেই বা কবে পড়েছেন রামকালী?

    সত্যিই কি সত্যবতী তার চৈতন্য করিয়ে দিল নাকি? তাই রামকালী অমন বিব্রত বিচলিত?

    বাবা কি করতে বলছিলেন?

    ও হ্যাঁ, বলছিলাম যে তুমি তোমাদের বড়বৌ-এর একটু কাছে কাছে থাকো গে, যাতে তিনি ওই পুকুরের দিকেটিকে যেতে না পারেন।

    সত্যবতী মুহূর্তকাল স্তব্ধ থাকে। বোধ করি বাপের আদেশের তাৎপর্যটা অনুধাবন করতে চেষ্টা করে। তার পর খুব সম্ভব অনুধাবন করেই নম্র গলায় বলে, বুঝেছি, বৌকে চোখে চোখে রেখে পাহারা দিতে বলছ।

    পাহারা!

    রামকালী যেন মরমে মরে যান।

    তার আদেশের ব্যাখ্যা এই!

    বিরক্তি দেখিয়ে বলেন রামকালী, পাহারা মানে কি? কাছে থাকবে, খেলাধুলো করবে, যাতে তার মনটা ভাল থাকে।

    সত্যবতী সনিঃশ্বাসে বলে, ওই হল, একই কথা। কথায় বলে, যার নাম ভাজা চাল তার নাম মুড়ি, যার মাথায় পাকা চুল তারেই বলে বুড়ী। কিন্তু বাবা, পাহারা নয় দিলাম, ক’দিন ক’রাত দেব বলো? কেউ যদি আত্মঘাতী হব বলে প্রিতিজ্ঞে করে, কারুর সাধ্যি আছে আটকাতে? শুধুই তো চাটুয্যে-পুকুরের জল নয়, ধুতরো ফল আছে, কুঁচ ফল আছে, কলকে ফুলের বীচি আছে

    চুপ চুপ!

    রামকালী আতপ্ত নিঃশ্বাসে দাহ ছড়িয়ে বলে ওঠেন, চুপ করো। তোমার সেজ ঠাকুমা দেখছি ঠিকই বলেন। এত কথা শিখলে কোথা থেকে তুমি? যাও তোমাকে কিছু করতে হবে না, যাও!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দশটি উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }