Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম প্রহর – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প77 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. আমার হাসপাতাল জীবন

    আমার হাসপাতাল জীবন শুরু হল।

    সোমবার বিকাল চারটায় রহমানের যোগাড়-করা জীপে চড়ে চলে এলাম হাসপাতালে। এই জীবন দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। এখন যেমন খারাপ লাগছে, এক সময় তেমন খারাপ লাগবে না। ফিনাইলের গন্ধও আপন মনে হবে। ডাক্তারদের সঙ্গে পরিচয় হবে। নার্সদের কেউ কেউ হাসপাতালের গল্প শুনিয়ে যাবে। যে-সুইপার বাথরুম পরিষ্কার করতে আসবে, তাকে হয়তো আমি নাম ধরে ডাকব।

    মনসুর খুব উৎসাহ প্রকাশ করতে লাগল, ভালোঁ ঘর, কেমন হাওয়া দেখছি নাকি? ফাসক্লাস।

    ঘরটি ভালোই। পেছনে এক চিলতে বারান্দা। দাঁড়ালে শিশুপার্ক দেখা যায়। সেদিকটা বড়ো সবুজ। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখে ধাঁধা লাগে।

    এই ফরিদ, এটা ইংলিশ বাথরুম।

    বাথরুম খুলেই মনসুর মহা উল্লসিত। ভাবখানা এরকম, যেন ইংলিশ বাথরুম ছাড়া আমি বাথরুম করতে পারি না।

    ফরিদ, ময়লা আছে, সুইপার দিয়ে ক্লীন করিয়ে দেব। পাঁচটা টাকা খাওয়াতে হবে। ফ্লাস্ক খোল, চা খাওয়া যাক।

    রহমান বলল, আমি খাব না। আমার বমি বমি আসছে, হাসপাতালের গন্ধ আমার সহ্য হয় না। মনসুর দাঁত বের করে হাসল, হাসপাতালে ফুলের গন্ধ থাকবে নাকি রে শালা? হাসপাতালে থাকবে ওষুধের গন্ধ, রোগের গন্ধ। যেখানকার যা নিয়ম। এর মধ্যেই মনসুর আবিষ্কার করল ফ্যানের রেগুলেটারটা খারাপ, ধরলেই শক দেয়। বাথরুমের ফ্লাশ কাজ করে না। দরজার ছিটকিনি কাজ করে না। সে নোটবই বের করে লিখে ফেলল। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই নাকি সেসব ঠিক করে ফেলবে। টাকা খাওয়াতে হবে। টাকা খাওয়ালেই সব ঠিক। টাকাটা সে কাকে খাওয়াবে, কে জানে? আমি বললাম, আরেক জন রুগী থাকার কথা না?

    রুগীর বিছানা-বালিশ সবই আছে, রুগী নেই। মনসুর গম্ভীর হয়ে বলল, রুমমেট যাকে পেয়েছিস–মালদার পার্টি। জিনিসপত্র দেখ না। থার্মোফ্লাস্কটা দেখেছি? মিনিমাম এক হাজার টাকা দাম।

    রহমান সত্যি সত্যি অস্বস্তি বোধ করছে। দু বার বলল, ফিনাইলের গন্ধে তার মাথা ধরে যাচ্ছে। কিন্তু মনসুরের ওঠার কোনো তাড়া দেখা গেল না। সে রুগী। সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেল। সেইসঙ্গে এক জন আয়া নিয়ে আসবে, যে নাকি সব দেখেশুনে রাখবে। এটা-সেটা এনে দেবে। অসুবিধা হলে রাত-বিরেতে ডাক্তারকে খবর দেবে। মনসুর বিজ্ঞের মতো বলল, হাসপাতাল কি ডাক্তাররা চালায়। হাসপাতাল চালায় আয়ারা। এক জন ভালো আয়া পাওয়া নাকি ভাগ্যের ব্যাপার। রহমান বিরক্ত হয়ে বলল, ছেলেদের ওয়ার্ডে আয়া আসতে দেবে নাকি? কী যে সব কথাবার্তা

    আয়া নয়, এক জন বেঁটে ছোকরাকে সে ধরে নিয়ে এল, খুব নাকি ওস্তাদ। ছোকরার নাম মজু মিয়া।

     

    নতুন জীবন শুরু হল।

    আমার পাশের বেডের রুগীর নাম জুবায়ের। আনকমন নাম। ভদ্রলোকও বেশ আনকমন। দারুণ ফর্সা এবং দারুণ রোগা। লম্বাও প্রায় ছ ফুটের মত। যখন শুয়ে থাকেন, তখন কেন জানি সাপের মতো লাগে। সাপের উপমাটি ঠিক হল না। সাপের মধ্যে একটা ঘিনঘিনে ব্যাপার আছে, একটা গতি আছে। এর মধ্যে তা নেই। এর চারদিকে একটা আলস্যের ভাব আছে। রোগের জন্যই হয়তো। বয়সও ধরা যাচ্ছে না, পঁচিশ থেকে তিরিশের মধ্যে হবে। রোগা মানুষের বয়স ধরা যায় না। ভদ্রলোক কথা বলেন খুবই কম। আমি যখন বললাম, আমি আজ বিকেলে এসেছি। আপনি অন্য কোথাও ছিলেন, আপনার সঙ্গে সে জন্যই দেখা হয় নি। আমার নাম ফরিদ। তিনি শুধু বললেন, আমার নাম জুবায়ের। আর কোনো কথা হল না।

    ভিজিটিং আওয়ার শেষ হবার পর ভদ্রলোকের স্ত্রী এলেন। তিনি আমার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দিলেন, এ এ্যানি, আমার স্ত্রী।

    এ্যানি নামের মহিলাটি আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসলেন। নরম স্বরে বললেন, আপনাকে কিন্তু ও খুব জ্বালাবে। রাত জেগে বই পড়বে। আগে যে-রুগী ছিল সে রোজ কমপ্লেইন করত।

    আমি করব না। কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।

    কেন, আপনি কি সন্ন্যাসী?

    মেয়েটির মুখ হাসি-হাসি, তাকিয়ে আছে আমার দিকে। উত্তর জানতে চায় হয়তো।

    কি, বলুন। আপনি কি সংসারবৈরাগী?

    জ্বি-না।

    সন্ন্যাসী হওয়া ঠিক না। রাগ, ঘৃণা, অভিমান, অভিযোগ–এসব থাকা উচিত। এসবের দরকার আছে।

    মেয়েরা এত গুছিয়ে কথা বলতে পারে, তা জানা ছিল না। আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ভদ্রমহিলার বয়স তেইশ-চরিশের বেশি হবে না। কালো রঙ। মাথাভর্তি চুল, বেণী করা নেই। পিঠময় ছড়িয়ে দেওয়া। এর দিকে তাকিয়ে বলে দেওয়া যায়–অনেক ছেলেরা এই মেয়েটির প্রেমে পড়েছে। মেয়েটি এদের সবাইকে ছেড়ে ফর্সা ও রোগা পোকটির কাছে এসেছে। কেন এসেছে? কী আছে লোকটির মধ্যে?

    এ্যানির অন্য সব প্রেমিকদের আমার দেখতে ইচ্ছা করল। মেয়েটি বসেছে বিছানার পাশে, কথা বলছে মৃদু স্বরে। কিন্তু কথা বলছে সে একাই। লোকটি শুধু শুনে যাচ্ছে। এমন কি হা-হু পর্যন্ত বলছে না। শুয়ে শুয়ে ওদের কথা শোনা ঠিক হচ্ছে না। আমি বাইরে গিয়ে দাঁড়ালাম। বেশ বড়ো বারান্দা। রুগী দেখতে-আসা লোকজনরা হাঁটাহাটি করছে। একটা লাল সোয়েটার পরা বাচ্চা টুকটুক করে দৌড়াচ্ছে। এই গরমে তাকে সোয়টার পরিয়েছে কেন, কে জানে। আমি ডাকলাম, এই খোকা। এ্যাই। ছেলেটি অবাক হয়ে আমাকে দেখল, তারপর খেলতে লাগল। নিজের মনে। শিশুদের মন পাওয়া খুব কঠিন। এ্যানি বেরিয়ে কয়েক পা এগিয়ে এল।

    ফরিদ সাহেব, যান ভেতরে যান। আমরা এমন কিছু বলি না যে, অন্য কেউ শুনতে পারবে না। আপনি শুধু শুধু কষ্ট করে বাইরে এলেন।

    ওর চোখ ভেজা। কাঁদছিল হয়তে।

    অনেক দিন ধরে সে আর কথা বলে না, শুধু শোনে। কথা বলি আমি একা। আচ্ছা, আজ চলি।

    ওনার কী হয়েছে?

    কী হয়েছে শুনে কী করবেন? ও মারা যাচ্ছে।

    ভদ্রলোক রাত একটা পর্যন্ত বই পড়লেন। আমি চোখ বন্ধ করে পড়ে রইলাম। কেন জানি খুব ক্লান্ত লাগছে। এই অপরিচিত জায়গায় আমার ঘুম আসার কথা নয়, তবু আজ বোধহয় ঘুম আসবে। ভদ্রলোক বাতি নিভিয়ে নরম স্বরে ডাকলেন, ফরিদ সাহেব।

    বলুন।

    ঘুমান নি?

    জ্বি না। নতুন জায়গায় ঘুম আসে না।

    আমারো আসে না। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন, হাসপাতালের প্রথম রাতে আমি মড়ার মতো ঘুমিয়েছিলাম। ওষুধপত্র ছাড়াই দীর্ঘ ঘুম।

    তাই নাকি?

    হ্যাঁ।

    ফরিদ সাহেব, আপনার কি ঘুম পাচ্ছে?

    জ্বি।

    ঘুমাবেন না। কষ্ট করে হলেও জেগে থাকেন। হাসপাতালের অনেক রকম কুসংস্কার আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, যে হাসপাতালের প্রথম রাতে আরাম করে ঘুমায়, সে আর হাসপাতাল ছেড়ে জীবিত অবস্থায় বের হয় না।

    তাই নাকি?

    এই কুসংস্কারটা আগে জানতাম না। জানলে আমি জেগে থাকতাম।

    ভদ্রলোক অন্ধকারের মধ্যেই হাসলেন। যিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে কোনো কথা বলেন নি, তিনি আমার সঙ্গে এত কথা বলছেন কি জন্য?

    ফরিদ সাহেব।

    জ্বি?

    আপনার সঙ্গে সিগারেট আছে?

    জ্বি, আছে।

    দিন একটা। আমার খাওয়া নিষেধ, কিন্তু এখন খেতে ইচ্ছা হচ্ছে। আপনার কি ঘুম পাচ্ছে নাকি?

    মনে হয় পাচ্ছে।

    ঘুমাবেন না, উঠে বসুন। ভুল করবেন না।

    কুসংস্কারটাকে আপনি এত গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন?

    ভদ্রলোক জবাব না দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে টানতে লাগলেন। সিগারেটের আলো এক-এক বার উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। তাঁর ফর্সা মুখ দেখা যাচ্ছিল। এত ফর্সাও মানুষ হয়।

    ফরিদ সাহেব।

    বলুন।

    এ্যানির সঙ্গে আমার ক দিন হয় বিয়ে হয়েছে বলুন তো?

    বলতে পারব না।

    অনুমান করুন।

    দু বছর?

    না। তিন মাস। আমি নিজে তখন আমার অসুখের কথাটা জানি। কিন্তু সেটা গোপন করেই ওকে বিয়ে করেছিলাম। কিছু কিছু মেয়ে থাকে ফরিদ সাহেব যাদের জন্যে যে কোন ধরনের অন্যায় করা যায়।

    তা ঠিক।

    আমি অবশ্যি বিয়ের পরই এ্যানিকে সব খুলে বলি। আপনি শুনলে আশ্চর্য হবেন, সে রাগ করে নি।

    হয়তো রাগ করেছে, আপনাকে বুঝতে দেয় নি।

    ভদ্রলোক জবাব দিলেন না, দীর্ঘ সময় চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন, দেখি, আরেকটা সিগারেট দিন।

    আর খাবেন না।

    এখন সিগারেট খাওয়া না-খাওয়া আমার কাছে সমান। আমি আরেকটি সিগারেট বাড়িয়ে দিলাম।

    ফরিদ সাহেব।

    বলুন।

    ঘুম আসছে?

    হ্যাঁ।

    ঘুমাবেন না। কুসংস্কার হোক, যাই হোক–ঘুমাবেন না।

    ঠিক আছে, ঘুমাব না।

    আপনি যে বললেন সে রাগ করেছে, এটা ঠিক না। রাগ করলে ঠিকই বুঝতে পারতাম। অসুস্থ অবস্থায় মানুষের সেনসিটিভিটি বেড়ে যায়। সে হোট-ঘোট ব্যাপারগুলিও ধরতে পারে।

    তাহলে হয়তো রাগ করেন নি।

    না, করে নি।

    ভদ্রলোকবিছানা থেকে নেমে বাথরুমে গেলেন। ফিরে এলেন অনেকক্ষণ পরে। ঘর পুরোপুরি অন্ধকার নয়। বারান্দায় বাতি জ্বলছে, তার আলোয় ঘরের ভেতরটাও আলোকিত। আবছা করে হলেও সব কিছু চোখে পড়ে। আমি বললাম, আপনি জেগে। আছেন কেন, আপনি শুয়ে পড়ুন।

    হ্যাঁ, শুয়ে পড়ব। ঘুম আসছে। তবে একটা কথা শোনেন-জীবনের উপর আমার একটা রাইট আছে। আছে কিনা?

    হ্যাঁ, আছে।

    যাকে ভালোবাসি, তাকে যদি এক দিনের জন্যেও পেতে চাই, তাহেল সেটা কি খুব অন্যায়?

    না, অন্যায় নয়।

    আপনি আমাকে সান্ত্বনা দেবার জন্যে এটা বলছেন। কিন্তু আপনি মনে মনে এটাকে অন্যায় ভাবছেন।

    না, তা ভাবছি না।

    আমাকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করবেন না। আমি কারো সান্ত্বনা চাই না। এসবের আমার দরকার নেই।

    আমি চুপ করে গেলাম। ভদ্রলোক শুয়ে পড়লেন। এবং বোধহয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লেন। আর কোনো সাড়া পাওয়া গেল না।

    হাসপাতালের নিজস্ব কিছু ব্যাপার আছে। সে কখনো ঘুমায় না। দিন-রাত্রি চৰিশ ঘন্টাই জেগে থাকে। এখন রাত বাজে প্রায় সাড়ে তিনটা, বারান্দায় কাদের কথা শোনা যাচ্ছে। হাসির শব্দও শুনলাম। রুগীদের সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজনেরা কেউ কেউ থাকে। দারুণ অস্বস্তি নিয়ে এরা বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করে।

    রুগীদের কেউ কেউ কাদে। ব্যাথায় কাঁদে কিংবাভয়ে কাঁদে। আয়ারা খাবারের ভাগ নিয়ে দুপুররাত্রে ঝগড়া করতে বসে।

    কমবয়সী ইন্টার্নি ডাক্তাররা নিজেদের মধ্যে রসিকতা করতে করতে বারান্দা দিয়ে হাঁটেন।

    কোনো একটি সময়ে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। রেসিডেন্ট সার্জেন্ট আসেন। নার্সরা ছোটাছুটি করতে থাকে। অপারেশন টেবিলে রুগীকে নিয়ে যাবার জন্যে ঘুমঘুম চোখে চোর হাতে আসে এটেনডেন্টরা। এনেসথেশিয়া যিনি করবেন, তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

    রেসিডেন্ট সার্জেন্ট ধৈর্য হারিয়ে চেষ্টাতে থাকেন।

    ঘুম চটে গিয়েছিল। শুয়ে শুয়ে কত রকম শব্দ শুনলাম। সব অচেনা শব্দ। এই বিচিত্র শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে কত দিন লাগবে কে জানে।

     

    হাসপাতালের খাবারদাবার খুব খারাপ হয় বলে জানতাম। সকালের নাস্তা আমার ভালোই লাগল। এক পিস মাখন-লাগান রুটি, একটি সেদ্ধ ডিম, একটা কলা।

    পাশের বেডের ভদ্ৰলোক ঘুমাচ্ছেন। তাঁর নাশতা ঢাকা পড়ে রইল। তিনি ঘুম থেকে উঠলেন নটার দিকে এবং তার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্ৰকাণ্ড একটি টিফিন কেরিয়ারে করে তাঁর জন্যে খাবার এল।

    ফরিদ সাহেব।

    জ্বি।

    আপনি কি নাশতা করে ফেলেছেন?

    হ্যাঁ।

    এর পর থেকে করবেন না। এ্যানি সব সময় দুজনের জন্যে খাবার পাঠায়। আজ যখন সে আসবে, আপনি তাকে বলে দেবেন কী কী জিনিস আপনার পছন্দ।

    ভদ্রলোকের সঙ্গে সারা দিন আমার আর একটি কথাও হল না। যেন তিনি আমাকে চেনেন না। একটি বই মুখের সামনে ধরে শুয়ে রইলেন। আমি এক বার জিজ্ঞেস করলাম, কী পড়ছেন?

    থ্রিলার।

    বলেই এমনভাবে তাকালেন, যার অর্থ হচ্ছে আমাকে বিরক্ত করবেন না।

    দুপুরের পর থেকে চার দিক অন্ধকার করে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হল। বেশ ভালো ঝড়। আজ কোন ভিজিটার আসবে না। এমন দিনে ঘর থেকে কেউ বেরুবে না।

    আজ অবশ্য কারো আসার কথা নয়। তবু কেউ কেউ হয়তো আসতে চাইবে। পিছিয়ে যাবে ঝড় দেখে। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমাকে দেখতে আসার কেউ নেই।

    আশ্চর্য, যার কথা কখনো ভাবি নি সেই দুলাভাই এসে পড়লেন। দুলাভাই বলাটা ঠিক হচ্ছে কিনা কে জানে। বড়োআপা মারা গেছেন সেই কবে। এর মধ্যে তিনি বিয়ে-টিয়ে করে ঘর-সংসার শুরু করেছেন। পুরনো আত্মীয়তা বা সম্পর্কের কিছুই তো এখন নেই।

    ফরিদ, কেমন আছ?

    ভালো আছি।

    দুলাভাই বেশ কিছু কলা নিয়ে এসেছেন। সেগুলি থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। তাঁর গা বেয়েও পানি ঝরছে।

    গামছা দিয়ে গা মুছে ফেলুন। অসুখ করবে।

    না, কি অসুখ করবে?

    তিনি সাবধানে কলাগুলি বেডের নিচে রাখলেন, মুখে কিছু বললেন না। তাঁর স্বভাব বেশি বদলায় নি। তাকে আগের মতোই ভাবুক মনে হল।

    খবর পেয়েছেন কার কাছে দুলাভাই?

    তোমার বন্ধু মনসুরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

    ও।

    অপারেশনের ডেট দিয়েছে?

    জ্বি-না। টাকাপয়সা লাগবে ফরিদ?

    জ্বি-না। লাগবে না। আপনি চলে যান দুলাভাই, ঠাণ্ডা লাগবে।

    এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে যাব কোথায়? বসি খানিকক্ষণ।

    ফ্লাস্কে চা আছে, খাবেন?

    না, চা খাই না। গ্যাস্ট্রিকের প্রবলেম আছে।

    দুলাভাই খুব সাবধানে শার্টের ভেতরের পকেট থেকে একটা মুখবন্ধ খাম বের করে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলেন।

    কী রাখলেন?

    তেমন কিছু না।

    এটা দুলাভাইয়ের আজ নতুন কিছু না। আগেও অনেক বার এ রকম হয়েছে। হঠাৎ একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে হয়তো আমার মেসে এসেছেন। চুপচাপ বসে থেকেছেন কিছুক্ষণ। যাবার সময় লজ্জিত ভঙ্গিতে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট রেখে। দিয়েছেন টেবিলের উপর।

    টাকা লাগবে না। টাকা কি জন্যে?

    চাটা খাও বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে বেশি কিছু তো না। সেই সামর্থ্যও নেই।

    তিনি এসব কি তার মৃতা স্ত্রীর স্মরণে করেন? কি জানি। মানুষের কত রকম বিচিত্র স্বভাব থাকে। সব মানুষই অবশ্যি বিচিত্র। এক জনের সঙ্গে অন্য জনের কিছুমাত্ৰ মিল নেই। সে জন্যেই কি এক জনের মধ্যে অন্য জনের ছায়া দেখলে আমরা এমন চমকে উঠি? অসংখ্য বার বলি–আজ নিউমার্কেটে একটা ছেলের সঙ্গে দেখা, অবিকল সালামের মতো, ঠিক সেই রকম হাটার ভঙ্গি।

    দুলাভাই খোলা জানালা দিয়ে দূরে তাকিয়ে আছেন। কবি-সাহিত্যিক বোধ হয় এভাবে তাকায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে-থাকতে তাদের চোখের দৃষ্টি কোমল হয়ে ওঠে। দুলাভাইয়ের যেমন হয়েছে। আমি বললাম, দুলাভাই, আপনার বাচ্চারা ভালো?

    হুঁ।

    এই প্রশ্নটি কি আমি তাঁকে দ্বিতীয় বার করলাম? আমার মনে হতে লাগল একটু আগে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে। যখন কথা বলার কিছু থাকে না, তখনই আমরা ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন করি।

    দুলাভাই, আপনি কিছু মনে না করলে একটা সিগারেট খাই।

    আরে ছিঃ ছিঃ, খাও। এই বয়সে মুরুৰি দেখলে চলে? খাও। কোনো অসুবিধা নেই।

    সিগারেট ধরাতে আমার সংকোচ হতে লাগল। মনে হতে লাগল কাজটা অন্যায়। সাধাসিধা ধরনের যে-মানুষটি আমার সামনে বসে আছে, তাকে আরো খানিকটা সন্মান আমার করা উচিত।

    আশ্চর্য, এই দীর্ঘদিনে এক বারও কেন তাঁর খোঁজখবর করি নি? কেন এক দিনও তাঁর বাসায় উপস্থিত হয়ে বলি নি–আপনাকে দেখতে এলাম দুলাভাই, ভালো আছেন তো?

    কেমন করে দুলাভাই তাঁর নতুন সংসার সাজিয়েছেন? হঠাৎ বড দেখতে ইচ্ছে করল। দুলাভাই বললেন, যাই, কেমন? বৃষ্টি কমেছে।

    আমি মৃদু স্বরে বললাম, যদি অসুখ সারে, তাহলে প্রথমেই যাব আপনার বাসায়। দুলাভাই হাসলেন। হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করলেন না। বিশ্বাস নাকরারই কথা। কেউ কথা রাখে না। আমিও নিশ্চয়ই রাখব না। তবু তাঁর তাতে মন খারাপ হবে না। আবারো কোনো একদিন আমাকে দেখতে আসবেন। সংকুচিত ভাবে একটা ময়লা পঞ্চাশ টাকার নোট আমার বালিশের নিচে রেখে দেবেন।

    দুলাভাই চলে যাবার পর দীর্ঘ সময় আমার মন খারাপ থাকল। কেন বলতে পারি না। অত্যন্ত সাধারণ কিছু মানুষ আছে,যারা অন্যদের উপর অসাধারণ প্রভাব ফেলে। খুবই ক্ষণস্থায়ী প্রভাব, তবু তার ক্ষমতা অস্বীকার করার কোনোই উপায় নেই।  মনসুর এসে উপস্থিত হল সন্ধ্যাবেলা। ভিজিটিং আওয়ার শেষ হবার মিনিট পাঁচেক বাকি। আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আসবার দরকারটা কী ছিল?

    আসতাম না। রীনা বলল–ঠাণ্ডার মধ্যে চাটা খেতে ইচ্ছা হবে। ফ্লাস্কটা দিয়ে এস। চা দিয়েছে ফ্লাস্কে করে।

    ফ্লাস্ক তো আমার এখানে একটা আছে। রহমান দিয়ে গেল না?

    সারছে। আমি আবার একটা কিনলাম।

    মনসুর চা ঢালল। পাশের ভদ্রলোককে চা সাধল। তিনি শীতল কণ্ঠে বললেন, চা খাব না।

    দোকানের চা না, ঘরের চা। খান এক কাপ, ঠাণ্ডার মধ্যে ভালো লাগবে। তেজপাতা দেওয়া আছে।

    থ্যাংক য়ু, আমি চা খাব না।

    কী অসুখ আপনার?

    অসুখ নিয়ে আমি কারো সঙ্গে ডিসকাস করি না। কিছু মনে করবেন না।

    না-না, ঠিক আছে।

    মনসুর থাকল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। সে কথা না বলে এক সেকেণ্ডও থাকতে পারে না। সাতটা পর্যন্ত সে ক্রমাগত কথা বলে বলে আমার মাথা ধরিয়ে দিল। আমি বললাম, এখন বাড়ি যা মনসুর।

    এত সকালে বাড়ি গিয়ে করব কী?

    বৌয়ের সঙ্গে গল্প করবি।

    দেখি, যাব। আরেকটু বসি। এমন করছিস কেন?

    ভিজিটিং আওয়ার শেষ হয়ে গেছে, এখন যা।

    মনসুর তবু বসেই রইল। সম্ভবত তার যেতে ইচ্ছে করছে না। তার স্বভাবই এরকম, কোথাও গেলে কিছুতেই উঠতে চাইবে না। বিয়ের পরও সে-স্বভাবের তেমন পরিবর্তন হয় নি।

    ফরিদ, উঠি? কাল রীনাকে নিয়ে আসব।

    আসতে হবে না।

    হবে না কেন?

    আজই আসতে চেয়েছিল। বৃষ্টির জন্যে আনি নি।

    আমি মনসুরকে সিঁড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গেলাম। এই অল্প সময়ের মধ্যেই সে তার শ্বশুরবাড়ির প্রসঙ্গ নিয়ে এল। তার এক মামাশ্বশুর নাকি তাকে কথায় কথায় জিজ্ঞেস করেছেন–তার ঝুীজ আছে কিনা। এই কথা কটি সে বলল নিচু গলায়। এমন কী রহস্যময় কথা যে ফিসফিস করে বলতে হবে? মনসুর বলল,

    এটা কেন জিজ্ঞেস করল বুঝতে পারছিস?

    না।

    একটা ফ্ৰীজ কিনে দেবে আর কি!

    বলিস কি।

    আরে, ওদের কি আর অভাব আছে নাকি?

    সুখী মানুষের মত হাসিমুখে নিচে নামতে লাগল মনসুর। তার মানে কি কোননী দুঃখ নেই? সে কি সত্যি সত্যি এক জন পরিতৃপ্ত সুখী মানুষ।

    আমি মনসুরকে সিঁড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে ঘরে এসে দেখি এক জন বুড়ো ভদ্রলোক এসেছেন আমাদের ঘরে। আমার রুমমেটের বাবা। অবিকল এক রকম চেহারা। বাবা ও ছেলের মধ্যে এমন মিল সচরাচর দেখা যায় না। তারা কথা বলছে নিচু স্বরে। আমি বুড়ো ভদ্ৰলোককে সালাম টালাম কিছু দিতাম। কিন্তু তিনি এক বারও ভালো করে তাকালেন না আমার দিকে।

    আমি বারান্দায় একটা চেয়ার টেনে বসে রইলাম। এক জন প্রফেসর সাহেব সম্ভবত রাউণ্ড দিতে বের হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে তিন জন ছাত্র, এক জন নার্স। প্রফেসর সাহেবকে খুব মেজাজী মনে হল–যাকে দেখছেন তাকেই ধমকাচ্ছেন। আমার সামনে এসে থমকে দাড়ালেন।

    আপনি কি রুগী?

    জ্বি।

    বাইরে বসে আছেন কেন?

    এম্নি বসে আছি।

    যান, ঘরে যান।

    ঘরে গিয়ে ঢুকলাম। প্রফেসর সাহেব বুড়ো ভদ্রলোকের দিকে আগুন চোখে তাকালেন, কিন্তু কিছু বললেন না। বুড়ো ভদ্রলোক নিঃশব্দে বেরিয়ে গেলেন। আমাকে বললেন, আপনার অপেনিংয়ের ডেট দিয়েছে? আমি তাঁর কথা বুঝতে পারলাম না।

    অপারেশনের ডেট হয়েছে কি?

    জ্বি-না।

    প্রিলিমিনারি টেস্ট?

    এখনো কিছু হয় নি।

    সে কি।

    আমি মাত্র গতকাল এসেছি।

    তাতে কি? চৰ্বিশ ঘন্টা তো পার হল। এই যে ইয়ং ডক্টরস, তোমরা করছ। কি?

    ইন্টার্নি ডাক্তাররা নার্ভাস ভঙ্গিতে মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। ডাক্তার সাহেব এগিয়ে এলেন আমার রুমমেটের দিকে।

    জুবায়ের সাহেব আছেন কেমন?

    ভালো।

    কী পড়ছেন?

    থ্রিলার।

    ইন্টারেস্টিং নাকি?

    আছে মোটামুটি।

    আপনার অপারেশন শিডিউল হয়েছে তো?

    জ্বি, কাল।

    কি, নার্ভাস?

    নাহ।

    দ্যাটস গুড। কখন টাইম দিয়েছে?

    সকাল এগারটা।

    আজ বেশি রাত জাগবেন না। শুয়ে পড়বেন।

    জুবায়ের সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না।

    টেনশন কমাবার জন্য দুটি ট্যাবলেট দিচ্ছি, খেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমুবেন।

    ঠিক আছে।

    জুবায়ের সাহেব ঘুমুতে গেলেন না। রাত এগারটা পর্যন্ত নিঃশব্দে থ্রিলার পড়তে লাগলেন। আমি এক বার জিজ্ঞেস করলাম–সিগারেট খেতে চান কিনা। নতুন এক প্যাকেট দামী সিগারেট দিয়ে গেছে রহমান, দিনে চারটার বেশি খাব না–এই চুক্তিতে। জুবায়ের সাহেব সিগারেটের আমন্ত্রণে সাড়া দিলেন না!

    আমি চাদর টেনে ঘুমুতে গেলাম। তখন তিনি ডাকলেন।

    ফরিদ সাহেব।

    বলুন। লক্ষ করেছেন, এ্যানি আজ আসে নি?

    জ্বি, লক্ষ করেছি।

    আপনার কথাও ঠিক হতে পারে।

    কিসের কথা বলছেন?

    ঐ যে বলেছিলেন এ্যানি রাগ করেছে, কিন্তু জানতে দেয় নি।

    আমি কোনো কথা বললাম না।

    কাল আমার অপারেশন, আজ তার আসা উচিত ছিল।

    ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল, আসতে পারেন নি।

    ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে তো অনেকেই এসেছে। তাছাড়া সে আসবে গাড়িতে। ঝড়বৃষ্টিতে তার কী অসুবিধা

    হয়তো মন খারাপ হবে বলে আসেন নি। কিংবা হয়ত শরীর খারাপ।

    দিন একটা সিগারেট। মন খারাপের কথা যেটা বললেন, সেটাই বোধ হয়। ঠিক। ওকে আপনার কেমন লাগল?

    ভালো।

    শুধু ভালো? বেশ ভালো।

    ও একটি একসেপশনাল মেয়ে। দূর থেকে এতটা বোঝা যায় না। ভালো করে না মিশলে আপনি বুঝবেন না।

    আমি চুপ করে রইলাম। জুবায়ের সাহেব গাঢ় স্বরে বললেন, এ্যানির সঙ্গে পরিচয় হওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার। পরিচয়টা স্থায়ী হল না।

    এখনই এত নিশ্চিত হচ্ছেন কীভাবে?

    তিনি থেমে থেমে বললেন, আমি নিজেও এক জন ডাক্তার। দিন, আরেকটা সিগারেট দিন। আমি প্যাকেট বাড়িয়ে দিলাম।

    ফরিদ সাহেব।

    জ্বি।

    আপনি কি বিয়ে করেছেন?

    না।

    বিয়ে করেন নি কেন?

    বিয়ে করার মতো সামর্থ্য কখনো হয় নি।

    শুধু এই জন্যেই বিয়ে করলেন না?

    হ্যাঁ, এই জন্যেই।

    কোনো মেয়ের সঙ্গে কি কখনো পরিচয় হয়েছে?

    আপনি যে অর্থে বলছেন, সেই অর্থে হয় নি।

    ভালো লাগে নি কাউকে?

    লেগেছে।

    তাদের কাউকে কি তা বলেছেন?

    না, বলা হয় নি।

    ফরিদ সাহেব।

    জ্বি।

    বলেন নি কেন?

    সাহস হয় নি।

    বলা উচিত ছিল। এ্যানিকে কিছু বলার সাহস আমারও ছিল না। আমি মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। আর দেখেছেন তো আমাকে, বাশগাছের মত ল। মেডিকেল কলেজে আমার নাম ছিল, বেঙ্গল বেধ্যে, বাংলাদেশের বাশ। তবু আমি সাহস করে বলেছিলাম।

    এ্যানিও কি ডাক্তার?

    হ্যাঁ, সেও ডাক্তার। আমরা একই ইয়ারেই পাশ করি।

    জুবায়ের সাহেব, ঘুমিয়ে পড়েন।

    আজ রাতটা আমি জেগে থাকতে চাই। আজ সারা দিন কী ভেবে রেখেছিলাম জানেন?

    কী?

    এ্যানিকে বলবরাতটা এখানে থেকে যেতে। গল্প করে কাটিয়ে দেওয়া যেত। আপনিও গল্প করতেন আমাদের সঙ্গে। অসুবিধা কিছু ছিল না। কি বলেন?

    না, অসুবিধা কি?

    ফরিদ সাহেব।

    বলেন।

    আপনি কি মৃত্যুর কথা ভাবেন?

    হাসপাতালে আসবার আগে ভাবতাম, এখন ভাবি না।

    এর কারণ কী জানেন?

    না, জানি না।

    চূড়ান্ত ভয়ের মুখোমুখি হলে এণ্ডেলিন নামের একটা এনজাইম প্রচুর পরিমাণে আমাদের শরীরে আসে। তখন আর ভয়টয় থাকে না। আপনার রক্তে এখন এলিন প্রচুর পরিমাণে আছে। কাজেই ভয়টয় লাগছে না। যত দিন যাবে, এণ্ডেলিনের প্রভাব কমে আসতে থাকবে। তখন আবার ভয়। আবার হতাশা।

    আমি কিছু বললাম না। কথাটা হয়তো সত্যি। হাসপাতালে আমার খুব একটা খারাপ লাগছে না। এই কদিনে মৃত্যুর কথা এক বারও মনে হয় নি। যা হবার হবে–এ-রকম একটা ভাব চলে এসেছে। নাকি এরকম ভাব আমার মধ্যে সব সময়ই ছিল?

    মনে হয় ছিল। সংসারে কার জন্যেই আমার কোন বিশেষ টান নেই। মা মারা যাবার তিন দিনের দিন আমি স্কুলের অন্য সব ছেলেদের সঙ্গে পিকনিকে গিয়েছিলাম। সেখানে মায়ের কথা এক বারও মনে হয় নি। আমরা সবাই বোধহয় নিজেদের জন্যেই বাঁচি। জুবায়ের সাহেব যদি সত্যি-সত্যি মারা যান, আমার কি খুব খারাপ লাগবে? সাপের মত লম্বা ফর্সা একটা মানুষ মারা গেলে আমার কী যায় আসে? শুধু আমার কেন, এ জগতের কারোরই কিছু যায় আসে না। এ্যানি নামের এই চমৎকার মেয়েটি হয়তো কিছু দিনের ভেতরই সুস্থ সবল একটি ছেলেকে বিয়ে। করবে। ছুটির দিনে নাটক দেখতে যাবে মহিলা সমিতিতে, ভালোবাসার কথা বলাবলি করবে গভীর রাতে। এদের ঘরে আসবে চমৎকার এক জন বাবু। খুব দুষ্ট হবে বাবুটি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article প্রিয়তমেষু – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }