Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Ek Pata Golpo এক পাতা গল্প1207 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.০৪ ধর্ম, যুক্তিবাদ ও স্বাধীন সমাজ

    ১

    বিজ্ঞানের প্রগতির পথে ধর্ম প্রতিবন্ধক, এমন একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়। কথাটার সপক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণও আছে। গ্যালিলিওকে ধমর্যাজকদের হাতে নিগ্রহ স্বীকার করতে হয়েছিল। জীব হিসাবে মানুষের ক্রমবিকাশ সম্বন্ধে ডারউইনের মত খৃষ্টধর্ম সহজে মানতে চায়নি। নতুন সত্যের পথে কুসংস্কার বারবারই বাধা হয়েছে। এ সবই স্বীকার্য। তবু ধর্মের প্রতিবন্ধকতাকে খুব বড় করে দেখাবার আগে ঐতিহাসিক সাক্ষ্যের অন্য দিকটার প্রতিও একটু নজর দেওয়া উচিত। মধ্যযুগের শেষভাগে বিজ্ঞানচর্চা ইয়োরোপে নতুন করে শুরু হয় ধর্মের ছায়াতে ধর্ম প্রতিষ্ঠানের ধার ঘেঁষে এই নতুন প্রয়াস বেড়ে ওঠে। চার্চের আওতা থেকেই খৃষ্টীয় তের শতকে রোজার বেকন গণিত ও জ্যোতিষ, পদার্থবিদ্যা ও রসায়নশাস্ত্র বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণার মহত্ত্ব ঘোষণা করেন। সেই থেকে আজ। অবধি বহু বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন অর্থে ঈশ্বরে বিশ্বাসী। ধার্মিক বৈজ্ঞানিকের দৃষ্টিতে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যেন ঈশ্বরের নিজের হাতে লেখা বই,তাই এর সূত্রোদ্ধার মহৎ কাজ।

    ধর্মকে কেন্দ্র করে বহু কুসংস্কার জমে ওঠে। বিজ্ঞানের প্রগতির পথে তারা বাধা হয়। সে বাধা অতিক্রম করেও বিজ্ঞান এগিয়ে চলে। আর কুসংস্কারকে ছাড়িয়েও ধর্মের বাণীর কিছু অর্থ হয় তো অবশিষ্ট থাকে। থাকে কিনা সে কথা পরে বিবেচ্য। তার আগে অন্য একটি প্রসঙ্গ সেরে নেওয়া আবশ্যক।

    বিজ্ঞানের প্রগতি অন্ধবিশ্বাসে বাধা পেয়েছে, এটাই ধর্মান্ধতার একমাত্র বিপদ নয়। তার চেয়েও বড় বিপদ দেখা দিয়েছে অন্য পথে। ধর্মান্ধতার তিক্ততম ফল সাম্প্রদায়িক বিরোধ।

    উদাহরণ দিয়ে কথাটা বোঝান সহজ। ষোড়শ শতকে জার্মানী ছিল শিল্পেবাণিজ্যে-সংস্কৃতিতে ইয়োরোপের অগ্রগণ্য দেশগুলির অন্যতম। তদানীন্তন ইংল্যাণ্ডের তুলনায় জামানীকেই অপেক্ষাকৃত অগ্রসর দেশ বলে ঐতিহাসিক স্বীকার করবেন। অথচ আরও এক শতাব্দী পরে জামানী ইয়োরোপের একটি পিছিয়ে-পড়া দেশ। এর প্রধান কারণটি লক্ষ করবার মত। সতের শতকে ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের ভিতর যে রক্তাক্ত সংগ্রাম শুরু হয় তারই সাংঘাতিক পরিণতি হিসেবে জার্মানী বহুকালের জন্য কি-রাজনীতি, কি-অর্থনীতি, কি-সংস্কৃতি, জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। এর বিষময় ফল পৃথিবীকে বিশ শতক পর্যন্ত ভোগ করতে হয়েছে।

    সতের শতকে অবশ্য শুধু জার্মানীতেই নয়, ইয়োরোপের অধিকাংশ দেশেই সমাজজীবন সাম্প্রদায়িক বিরোধে আলোড়িত হয়ে ওঠে, আর বহু দেশই এর ফলে অল্পবেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু রক্তক্ষয়ের ভিতর দিয়ে একথাটা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, পরধর্মসহিষ্ণুতা ছাড়া সুস্থ সমাজজীবন সম্ভব নয়। এটা ইতিহাসের শিক্ষা। কথাটা আর-একভাবে ধরা যাক। শোনা যায় মানুষ বাস্তব স্বার্থ দিয়ে পরিচালিত। স্বার্থসিদ্ধির কিন্তু দুটো পথ আছে; একটাকে বলা যায় বিরোধ অথবা দস্যুবৃত্তির পথ, অর্থাৎ পরপহরণ বা অপরের ক্ষতি সাধন করে নিজের লাভ; অন্যটি সহযোগিতার পথ, অর্থাৎ সহযোগিতায় সকলের উন্নতি। বিরোধ ও সহযোগিতার ভিতর কোন পথটা মানুষ বেছে নেবে সেটা শুধু বাস্তব অবস্থা দিয়েই নির্ধারিত হয় না; ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের মানসিকতার উপরও সেটা নির্ভর করে। সাম্প্রদায়িক বুদ্ধিতে যখন আমরা উন্মত্ত হয়ে উঠি তখন বিরোধের পথকেই একমাত্র পথ বলে মনে হয়। হিন্দু-আমি ভাবি মুসলমানকে নিধন করেই আমার জয় সম্ভব; মুসলমান-আমি ভাবি হিন্দুকে বধ করে আমার জয়। হিন্দু মুসলমানে যুক্ত প্রয়াসের ভিতর দিয়ে যে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষেরই স্বার্থসিদ্ধির আরও একটা পথ খোলা আছে সাময়িকভাবে সে কথাটা আমরা বিস্মৃত হই। দেশ বিভক্ত হয়।

    সম্প্রদায়বিশেষের প্রতি অন্ধ আনুগত্যকে অস্বীকার করে আধুনিক যুক্তিবাদের উদ্ভব। যুক্তিবাদী নীতির বিচারে এটাই পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ব্যক্তির চরম আনুগত্য কোনো গোষ্ঠিবিশেষের প্রতি নয়, বরং নিজের প্রতি; এবং যেহেতু মানুষে মানুষে সহযোগিতার ভিতর দিয়েই ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধি সম্ভব অতএব সামাজিক সহযোগিতা যুক্তিবাদীর কাম্য। সামাজিক সহযোগিতার অন্বেষণে যুক্তিবাদীর দৃষ্টি কোনো জাতি অথবা সম্প্রদায়বিশেষের পরিধিতে আবদ্ধ নয় বরং নানাভাবে নানা পথে মানুষের সহযোগিতার ক্ষেত্রকে বিস্তৃততর করাই তাঁর লক্ষ্য। আঠার-উনিশ শতকের বহু যুক্তিবাদী তাই নিজেদের পরিচয় দিতেন “মানবতার বন্ধু” বলে। যথাসম্ভব বেশী লোকের যথাসম্ভব বেশী সুখই কাম্য, বেন্থামের এই উক্তিতে সেদিনকার যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় মেলে।

    সম্প্রদায়সর্বস্ব ব্যক্তি বলবেন, সম্প্রদায়ের জন্য মৃত্যু বরণও শ্রেয়। যুক্তিবাদী এতে শংকিত বোধ করবেন। তাঁর মতে এ ধরনের আত্মত্যাগী মনোভাব বিপজ্জনক। ধর্মরোষ অথবা আদর্শবাদী উৎসাহের আতিশয্য নিয়ে সুস্থ সমাজ চলে না। বরং সাধারণ মানুষ। স্বার্থান্বেষণ করবে লাভক্ষতি গণনা করে, যুক্তিবিচারের সাহায্যে, এটাই সমাজজীবনের পক্ষে অধিক নিরাপদ। বিচার-বিবেচনা করে নিজ নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষ মানুষের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্কে আবদ্ধ হবে, এতেই সকলের মঙ্গল। ব্যক্তিস্বার্থকে উপেক্ষা করে নয়, বরং স্বার্থকে আশ্রয় করে যে সহযোগিতা, মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের কঠিন মাটিতে যার মূল, সেই সহযোগিতাই নির্ভরযোগ্য।

    এ ধরনের যুক্তিবাদী দর্শনের লাভক্ষতির অর্থটাও একই সুরে বাঁধা। অগ্নিকুণ্ডে আত্মাহুতিটা ধর্মীয় উৎসাহে কেউ শ্রেয় বিবেচনা করতে পারেন। কিন্তু শ্রেয়ের এমন সংজ্ঞা নিয়ে দুই বিরোধী দল কাজে নামলে সাধারণ জীবন বিপর্যস্ত হবারই সম্ভাবনা। যা-কিছুতে জীবনে আরাম বাড়ে সহজ দৃষ্টিতে তাতেই লাভ; যাতে ক্লেশ বৃদ্ধি পায় তাতে ক্ষতি। এই আটপৌরে সংজ্ঞাটাই বেন্থামী যুক্তিবাদীরা মেনে নিলেন। স্বার্থান্বেষণ মানেই হল আরামের অন্বেষণ। রাষ্ট্র, জাতি বা ধর্মের জন্য আত্মত্যাগে আকুল না হয়ে মানুষ যদি বুদ্ধি বিবেচনার সঙ্গে সুখের অন্বেষণ করে তা হলেই সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা বেশী। সমাজজীবনের ছোট বড় সব সমস্যার আলোচনাতে এই দৃষ্টিভঙ্গীরই প্রয়োজন। করের বোঝা গরীবের চেয়ে ধনীর উপরই বেশী পড়বে কিনা, বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার স্বীকার্য কিনা এবং কোন্ অবস্থায় স্বীকার্য, মৃত্যুদণ্ড উঠিয়ে দেওয়া উচিত কিনা, এইসব প্রশ্নের সমাধানে একমাত্র বিবেচ্য এতে মোটের উপর সমাজে সুখের ভাগটা বাড়বে,

    অসুখের ভাগটা। সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততা ও ধর্মান্ধতার স্থানে এমনি করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, যুক্তিপন্থী, সুখবাদ এলো গণতান্ত্রিক জীবনের ভিত্তি রচনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

    .

    ২

    কিন্তু সুখবাদী দর্শনে জীবন চলে না।

    নিরাসক্ত দৃষ্টি নিয়ে তাকালে জীবনে সুখের চেয়ে দুঃখের ভাগটাই বড় মনে হতে পারে–গৌতম বুদ্ধ থেকে আরম্ভ করে বহুলোকেরই তাই মনে হয়েছে; অতএব যুক্তিবাদী দর্শন অনুযায়ী আত্মহত্যাই কেন শ্রেয় হবে না? আসক্তিহীন মন নিয়ে গণনা করলে সন্তান প্রসব ও পালনে ক্লেশের ভাগটা এতোই বড় যে, কোনো যুক্তিবাদী রমণীর পক্ষে জননী। হতে চাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। সন্তানকে জননী ভালোবাসেন বলেই সন্তান পালনের। ক্লেশও রমণীয়। এখানে সুখ অসুখের হিসাবটা আগে নয়, ভালোবাসাটাই আগে। এই অযৌক্তিক ভালোবাসার প্রভাবেই সাধারণ দৃষ্টিতে যা ক্লেশ তাও সুখদায়ক হয়ে ওঠে। যা কিছু কঠিন সাধনায় লভ্য তার বেলাতেই এই একই কথা সত্য। আহার-নিদ্রার মত সুখকর বস্তু ত্যাগ করে পণ্ডিত কেন পুঁথি নিয়ে পড়ে থাকেন তা পণ্ডিতের মূর্খ ভৃত্যের কেন, পত্নীরও প্রায়ই বোধগম্য হয় না। এবং অনুগত পুরাতন ভৃত্য পণ্ডিতের সেবায় কেন ক্লেশ স্বীকার করে তা যুক্তিবাদী পণ্ডিতের বোধগম্য হবার কথা নয়। সুখ-অসুখের হিসাব মিলিয়ে যিনি জীবনযাপন করতে চাইবেন জীবনধারণ তার কাছে শীঘ্রই একটা বিড়ম্বনা স্বরূপ দেখা দেবে।

    নৈতিক মূল্যবোধকেও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সুখবাদের ভিত্তিতে দাঁড় করান কঠিন। সত্য কথা বলা কর্তব্য কিন্তু কেন? সুখবাদী বলবেন, সকলে মিথ্যাভাষণে অভ্যস্ত হলে সমাজজীবন অসম্ভব হয়ে ওঠে, এতে সকলেরই ক্ষতি কাজেই প্রত্যেকের সুখ-সুবিধার জন্য সকলেরই সত্য কথা বলা কর্তব্য। কিন্তু যুক্তিবাদী ব্যক্তিবিশেষ ভাবতে পারেন, অন্য সকলে সত্য বলুন, আর প্রয়োজনমত আমি পরম সাবধানে মিথ্যা বলি; এতেই আমার সবাধিক সুখ। কর্তব্যপালনের সকল ক্ষেত্রেই এই একই কথা। কর্তব্যের খাতিরেই কর্তব্য সম্পাদনের দায়িত্ব যদি স্বীকৃত না হয় তবে অপরের কর্তব্যচ্যুতিতে তারস্বরে প্রতিবাদ এবং নিজের কর্তব্যগুতি যথাসম্ভব গোপন করার চেষ্টাই বুদ্ধিমানের কাজ হয়ে ওঠে।

    সুখবাদী দর্শনে তাই সমাজে নীতিবোধ জাগিয়ে রাখা কঠিন। সামাজিক ভাঙ্গাগড়ার যুগে এ বিপদ বিশেষ বড় আকারে দেখা দেয়। আজকের বাংলা দেশের দিকে তাকালে বিপদটা স্পষ্ট চোখে পড়ে। শিল্পোন্নয়নের যুগে বহু প্রাচীন অবস্থাপন্ন পরিবার তলিয়ে যায়, আবার বহু তলাকার মানুষ ওপরে ওঠে। বিত্ত বণ্টনের এই ওলটপালটে বহু লোকই নিজেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত বোধ করে। প্রাচীন সমাজের অসাম্য প্রাচীনত্বের মহিমায় যদি-বা সহনীয় নতুন বিত্তবানদের অধিকাংশের চোখেই অসহনীয়। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সামাজিক অন্তর্দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়ে ওঠে। যেখানে গোষ্ঠী অথবা সম্প্রদায়-বিশেষের যোগ্যতর ব্যক্তির জন্যও উন্নতির দ্বার রাজনীতিক বা সামাজিক কারণে রুদ্ধ সেখানে সংঘর্ষও তিক্ততর কিন্তু সংঘর্ষ সম্পূর্ণ এড়ানো যায় না, অসন্তোষ অনিবার্য। ইতিহাসে এমন কোনো দেশের নজীর আজও নেই যেখানে সামাজিক ও আর্থিক রূপান্তরের যুগে অশান্তি ও অবিচারবোধ পরিস্ফুট হয়ে ওঠেনি। এই অবিচারবোধের সঙ্গে প্রায়শ যোগ হয় সব কিছুতে একটা অশ্রদ্ধার ভাব। যাদের আমরা মনে মনে অবজ্ঞা করি তাদেরই কৃপার উপর যখন নির্ভর করতে হয়, পিতা ও পুত্রের মূল্যবোধে যখন প্রভেদ দুস্তর হয়ে ওঠে, জীবনযাত্রার বহুমুখী পরিবর্তনের ধারায় নব নব অভাববোধ যখন অথাগমের চেয়ে দ্রুত বেড়ে চলে, তখন অসন্তোষ ও অশ্রদ্ধা ব্যাপ্ত হওয়াই স্বাভাবিক।

    এই সুদূরপ্রসারী অসন্তোষ ও শ্রদ্ধাহীনতার ভিতর ব্যক্তির মনে কর্তব্যবোধ জাগিয়ে রাখা কঠিন। ব্যক্তিকেন্দ্রিক সুখবাদ এ অবস্থায় সমাজ সংগঠনের পক্ষে যথেষ্ট নয়। নিজের। কর্তব্য করে তবেই আমরা অপরকে সমালোচনা করবার অধিকারী হই, একথা শুধু সুখবাদকে আশ্রয় করে জোরের সঙ্গে বলা যায় না অথচ এ কথাটা একেবারে উপেক্ষা। করেও সমাজসংগঠন সম্ভব নয়। ইংল্যাণ্ডে শিল্পোন্নয়নের প্রথম যুগের মানসমণ্ডল তাই গঠিত হয়নি শুধু বেন্থামী সুখবাদে; তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাপক আদর্শবাদী ধর্ম আন্দোলন। এই ধর্ম আন্দোলনে দুটি বস্তুর উপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছিল; পরমতসহিষ্ণুতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা। ইংল্যান্ডের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের ইতিহাসে এই আন্দোলনের অবদান অল্প নয়। (১)

    সামাজিক ভাঙ্গাগড়ার যুগে সমাজসংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপর এক পথও চোখে পড়ে। সুখবাদে হতাশ হয়ে সমাজসংগঠনের দৃঢ়তর ভিত্তির সন্ধানে উৎকণ্ঠিত দেশ ঝুঁকে পড়ে উগ্রজাতীয়তাবাদ আর রাষ্ট্রপূজার দিকে। যুক্তিবাদী জীবনদর্শনের দুর্বল বাধা উপেক্ষার। সঙ্গে সরিয়ে দিয়ে মধ্যযুগের ঈশ্বরের আসনে এসে বসেন নতুন যুগের রাষ্ট্রধর্মান্ধতার আর এক ভয়াবহ নতুন সংস্করণ।

    .

    গোড়াকার প্রশ্নে আবার ফিরে আসা যাক। জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে কার্যকরী এমন কি কথা আছে যা যুক্তি বা বিজ্ঞানের সাহায্যে প্রমাণ (বা খণ্ডন) করা সম্ভব নয়, যাকে কুসংস্কার বলেও ত্যাগ করা চলে না, বরং জীবনকে যা ধারণ করে আর স্বাধীন সমাজ সংগঠনের ভিত্তিতে যাকে স্থান দিতে হয়? কিছু কি আছে?

    জীব হিসাবে সুখ আমাদের কাম্য, দুঃখ অনভিপ্রেত। এই জৈবিক প্রেরণাকে স্বীকার করে নেওয়াই ভালো। এই প্রেরণা জীবন থেকে লুপ্ত হলে সাধারণ মানুষের কর্মে। উদ্দীপনা থাকবে না। কিন্তু সুখ দুঃখের গণনা করেও বাঁচবার কোনো তীব্র বাসনা অবশিষ্ট থাকে না। সাধারণ মানুষ এমন কোনো গণনা করতে বসে না বলেই বহু দুঃখের ভিতরও সে বাঁচবার জন্য সংগ্রাম করে যায়। যুক্তিকে অতিক্রম করেও জীবনের প্রতি আমাদের একটা দুর্বার আকর্ষণ আছে। এই অন্ধ আকর্ষণের জায়গায় সুখদুঃখের যুক্তিবাদী গণনামাত্রকে অধিষ্ঠিত করলে ছিন্নমূল বৃক্ষের মতই জীবন ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। মানুষের চেতনার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন যুক্তিনির্ভরতা বাড়ে অন্যদিকে তেমনই প্রয়োজন হয় জীবনের প্রতি আদিম অন্ধ আকর্ষণকে যুক্তির অতীত এক অহেতুক জীবনপ্রেমে পরিণত করবার। এই অহেতুক প্রেমের দৃষ্টিতে সুখ দুঃখ সমান রমণীয় সাহিত্য পাঠকের নির্লিপ্ত অথচ দরদী দৃষ্টিতে যেমন মিলন ও বিরহ উভয়ই মধুর। ভক্তের ভাষায়, সবই তাঁর লীলা। ভাষা নিয়ে কলহ সম্ভব। কিন্তু জীবনের প্রয়োজন বিচিত্র! আমরা সুখ চাই, দুঃখ চাই না; আবার সুখে-দুঃখে মিলিয়ে জীবনকে অকারণে শিশুর মত ভালোবাসতে চাই–তা যদি না পারি তো সমস্ত জীবনই তিক্ত হয়ে ওঠে। আপাত বিপরীতের সমন্বয়ে সম্পূর্ণ এই সত্যটাকে সুখবাদী দর্শনে স্থান দিতে হলে সুখের অর্থ পালটে যায়।

    কর্তব্যের বিচারেও ধরা পড়ে স্বার্থ ও পরার্থের একটা অনুরূপ দ্বৈতাদ্বৈত বিচিত্র সমন্বয়।

    জৈব প্রকৃতিতে স্বজাতির সঙ্গে একটি সহজাত বন্ধনবোধ আছে। বুদ্ধির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আমরা স্বতন্ত্র মানুষ বলে ক্রমশ আবিষ্কার করি, আত্মসচেতন হই। এখানেই একটা নতুন দ্বন্দ্বের শুরু। পরার্থ যতদিন শুধুই পরার্থ ততদিন পরার্থে আত্মত্যাগ অর্থহীন। যুক্তিবাদী বোঝাতে চেষ্টা করেন, তুমি অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলে তবেই অপরে তোমার জন্য ত্যাগ স্বীকার করবে; অতএব স্বার্থসিদ্ধির জন্যই পরার্থে কর্ম প্রয়োজন। কিন্তু এমনতর যুক্তিতে কাজ ভালো এগোয় না। মনে মনে সারাক্ষণই সন্দেহ থেকে যায় যে, অপরে আমার জন্য তেমন কিছুই করছে না, আমিই অপরের জন্য খেটে মরছি। সমাজ আমার কাছ থেকে কাজটি আদায় করে, মূল্যটি পুরো দিচ্ছে না। আমাদের কর্তব্যবুদ্ধির পিছনে এই যুক্তিবাদী স্বার্থবুদ্ধিরও প্রয়োজন আছে। তা নইলে ব্যক্তিত্বের বিকাশ অসম্পূর্ণ থাকে, আর প্রবঞ্চিত হবার সম্ভাবনাটাও মিথ্যা নয়। কিন্তু স্বার্থবুদ্ধিকে যে অতিক্রম করতে পারেনি কর্তব্যমাত্রই তার কাছে ক্লেশ; আর দিনানুদৈনিক প্রতিটি কর্তব্য যার কাছে অবাঞ্ছিত বোঝা মাত্র, স্বার্থবুদ্ধির মারে জীবনের স্বাদ থেকেই সে বঞ্চিত। আবারও আমাদের যুক্তিবাদকে অতিক্রম করতে হয়।

    এই সমন্বয়পন্থী ত্রিভঙ্গী দর্শন আদর্শবাদী মনে হতে পারে, সাধারণ লাভক্ষতি হিসেবের পথ ধরে এখানে পৌঁছা কঠিন। কিন্তু একবার যখন আমরা এখানে পৌঁচেছি তখনই। একথাও স্পষ্ট জেনেছি যে, জীবনে এর প্রয়োজন জীবনেরই দায়ে অস্তিত্বকে সহনীয় করবার জন্য। আর তাই কোনো সুদূর স্বর্গলোকে নয়, দূর ভবিষ্যতে কোনো সর্বাঙ্গসুন্দর সমাজে নয়, আজকের এই অসম্পূর্ণ, অসুন্দর, অবিচারপীড়িত পৃথিবীতেই আমাদের চেষ্টা করতে হয় যেন সুখের অন্বেষণে আশা হতাশার মাঝখানে সুখে-দুঃখে মণ্ডিত জীবনকে অকারণে ভালোবাসতে পারি; যেন কর্তব্যসাধনের পথে সংসারের সঙ্গে আমাদের কর্মের যোগ আনন্দের সঙ্গে অনুভব করতে পারি। কঠিন এ প্রয়াস, কঠিনতম সিদ্ধি; কিন্তু এ ভিন্ন জীবন বিস্বাদ, বির। হিংসার মত্ততায় অথবা পরলোকের মিথ্যা আশ্বাসে এই বিরসতাকে সাময়িকভাবে ভুলে থাকা যায়। সভ্যতার রোগ নির্ণয় করতে গিয়ে ফ্রয়েড বলেছিলেন যে, যুক্তি ও নীতির ধমকে হিংসা বাইরের বিশ্ব থেকে পিছিয়ে এসে অন্তর্মুখী হয়; আত্মনিপীড়নই সভ্যতার ব্যাধি। কিন্তু ব্যাপারটা বোধ হয় আরও জটিল। বাইরের শত্রুকে নিয়ে আমাদের মাতামাতি যখন মস্থর হয়ে আসে তখন আমাদের সামনে যে প্রশ্নটা মৃত্যুর সমান মুখব্যাদান করে দাঁড়ায় তা হল এই, জীবনের অর্থ কি? অগত্যা স্বীকার করতে হয়, জীবনের অর্থ অর্থহীন জীবনপ্রেমে। সে প্রেম যুক্তিতে ধৃত নয়, যুক্তিবিরোধীও নয়। ১৩৭৩। আবু সয়ীদ আইয়ুবের হীরক স্তী প্রভাবিত গ্রন্থের জন্য লিখিত।

    গণযুগ ও গণতন্ত্র (১৯৬৭)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র ১
    Next Article এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    Ek Pata Golpo

    সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

    October 28, 2025
    Ek Pata Golpo মহালয়া

    মহালয়া: মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya: Mahishasuramardini)

    September 10, 2025
    Ek Pata Golpo

    গাছের পাতা নীল – আশাপূর্ণা দেবী

    July 7, 2025
    Ek Pata Golpo

    লিঙ্গপুরাণ – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    June 3, 2025
    Ek Pata Golpo

    ৪. পড়ন্ত বিকেল

    April 5, 2025
    Ek Pata Golpo ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পূজারির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }