Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Ek Pata Golpo এক পাতা গল্প1207 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.১০ যুক্তি ও প্রতিষ্ঠান

    ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিকে বিচিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে সমাজ ক্রমাগত বিবর্তনের পথে চলেছে। এই বিবর্তনের প্রতি স্তরে তার যেমন একটা ভিতরের রূপ আছে, যেটা তার চেতনার রূপ, তেমনি একটা বাইরের রূপ আছে, যেটা তার প্রতিষ্ঠানের রূপ। উভয়কে যখন একসঙ্গে মিলিয়ে দেখি তখনই এদের সঙ্গে পরিচয়টা আরও গম্ভীর হয়। মানুষে মানুষে কিছু সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানের ভিতর ধরা দেয় না; আমাদের এই আলোচনাতে স্বভাবত তাদের স্থান হবে না।

    যে-সব প্রতিষ্ঠান প্রাকৃত চেতনার বৈশিষ্ট্রে চিহ্নিত, সাধারুণভাবে তাদের আত্মীয়তান্ত্রিক আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক বাস্তব অথবা কল্পিত একটা আত্মীয়বন্ধনের ছাঁচে ঢালা। সমাজ ও চেতনার বিবর্তনের পরবর্তী স্তরে বাণিজ্যের প্রসারের একটা বড় ভূমিকা ছিল। এই স্তরের প্রতিভূ প্রতিষ্ঠান বণিকতান্ত্রিক। বণিকতন্ত্রে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ব্যক্তিস্বার্থবুদ্ধি। যুক্তিধর্মী নাগরচেতনার ঐতিহাসিক বিবর্তনে এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। নাগর সভ্যতার আরও একটি অবলম্বন, আইন ও আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য আমাদের যুগে বেড়ে চলেছে। এর তাৎপর্য যথাস্থানে আলোচনা করা যাবে।

    প্রাকৃত চেতনার স্তরে আত্মীয়ত, নাগর চেতনার স্তরে বণিকতন্ত্র ও আমলাতন্ত্র, বিবর্তনের ধারায় সামাজিক প্রতিষ্ঠানের এই প্রধান গড়নধরন। আরও এক জাতীয় প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ আবশ্যক, যাকে বলা যেতে পারে বান্ধবসমিতি, আত্মীয়তন্ত্রের সঙ্গে যার কিছুটা সাদৃশ্য আবার মৌল পার্থক্য আছে। নতুন ধর্মের গোড়ায় বান্ধসমিতির উদাহরণ। চোখে পড়ে। বলা বাহুল্য, আত্মীয়তন্ত্র সমেত প্রতি ধরনের প্রতিষ্ঠানের আবার রূপভেদ। আছে। আর বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক প্রভাব এবং সংমিশ্রণও অনিবার্য।

    .

    ১

    যুক্তিধর্মিতায় চিহ্নিত প্রতিষ্ঠান নিয়েই আমাদের প্রধান আলোচনা। কিন্তু তার পটভূমিকা হিসেবে আত্মীয়তান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে প্রথমে কিছু বলে নেওয়া আবশ্যক।

    আত্মীয়তান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের আদিরূপ স্বভাবতই পরিবার। একই সূত্র ধরে আমরা সহজেই যৌথ পরিবার থেকে উপজাতিতে গিয়ে পৌঁছই। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। প্রাচীন যুগের রাজ্য সাম্রাজ্য সব কিছুরই আদলটা সাধারণভাবে আত্মীয়তান্ত্রিক। রাজার সঙ্গে প্রজার সম্পর্কের আদর্শরূপ পিতামাতার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক অবলম্বিত।

    আত্মীয়তান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুয়েকটি বৈশিষ্ট্য এখানে উল্লেখযোগ্য। আত্মীয়তন্ত্র সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। পরিবারের ভিতর একটা স্বাভাবিক অসাম্য আছে। যেমন বয়োজ্যেষ্ঠরা স্বাভাবিকভাবেই কনিষ্ঠদের চেয়ে উঁচুতে। পিতামাতা সন্তানের ওপরে, একই নিয়মে পিতামহ পিতার ওপরে। সে যুগের বৃহত্তর সমাজেও দেখি, কিছুটা পরিবর্তিত আকারে, একই নিয়ম। পরিবারের ভিতর পিতা সন্তানকে রক্ষা করেন এবং শিক্ষা দেন। বৃহত্তর সমাজে শিক্ষা দেন গুরু ও ব্রাহ্মণ, রক্ষা করেন রাজা এবং তাঁর অধীনে রাজপুরুষেরা। শিক্ষা, এক অর্থে, রক্ষারও অধিক। যিনি শুধুই রক্ষক তিনি রক্ষা করেন সাময়িকভাবে, আর শিক্ষা রক্ষা করে স্থায়ীভাবে। সেকালে শিক্ষার ভিতর দিয়ে হস্তান্তরিত হত, এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে, সেই ঐতিহ্য, সনাতন ঐতিহ্য অথবা স্বধর্ম, সমাজকে যুগ যুগ ধরে যেটা রক্ষা করে চলত। অন্তত সমাজে এই ধারণাই প্রচলিত ছিল। অতএব ব্রাহ্মণ ও ধর্মকে রক্ষা করাই প্রজাপালক রাজার শ্রেষ্ঠ কর্তব্য বলে স্বীকৃত হয়েছিল।

    আত্মীয়তান্ত্রিক সমাজের অসাম্য শুধু স্বাভাবিকই নয়, দৈবনির্দিষ্ট। যদিও দণ্ডনীতির কঠিন ভিত্তিতে এর প্রতিষ্ঠা, তবু এই অসাম্য আত্মীয়তাবোধের বিরোধী নয় বরং পরিপূরক বলেই সেদিন বিবেচিত হত। যুগধর্মের সঙ্গে না মিলিয়ে বিষয়টা বোঝা যায় না। দাস্যভাবের উদাহরণ ধরা যাক। বণিকযুগের দাসব্যবস্থা ব্যবসায়ের অঙ্গ; প্রাচীন যুগের দাস কিন্তু হীন হলেও আত্মীয়ভাবের অঙ্গ। দাস্যভাব নিয়ে ভগবানের আরাধনার চিন্তা সে-যুগের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক। স্বধর্ম পালনের ভিতর দিয়ে দাসও মুক্তি পায়, এমন কি অপরের আরাধ্য হয়। উনিশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ, সেটা এক বস্তু। আর হনুমান যে দাস্যের ভাবমূর্তি, সেটা অন্য বস্তু। প্রাচীন, ইতিহাসে, এ দুয়ের মাঝামাঝি, দাসপ্রথার আরও বিভিন্ন রূপ সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

    .

    ২

    দাসকে যদিও আত্মীয়তন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করা গিয়েছিল, বণিককে প্রাচীন সমাজব্যবস্থার ভিতর আঁটা কখনই সহজ ছিল না। যতদিন ঐ সম্প্রদায় আকারে ছোট ছিল এবং বাণিজ্য প্রধানত দেশের ভিতর আবদ্ধ ছিল, ততদিন বণিককে একটি আলাদা প্রকোষ্ঠে রেখে এবং সেটিকে তৃতীয় শ্রেণী বলে চিহ্নিত করে কোনো প্রকারে অবস্থা আয়ত্তে রাখা গিয়েছিল। তারপর সেটা আর আয়ত্তের ভিতর রইল না।

    আসলে প্রাচীন সমাজের স্থায়ী ভাবের সঙ্গে বণিকবৃত্তির একটা মৌল পার্থক্য ছিল। বণিক বলতে এখানে অবশ্য আমরা তাদেরই বোঝাচ্ছি, বাণিজ্য অথবা ব্যবসায় যাদের পেশা। নয় তো মাঝে মাঝে প্রয়োজনে এক জিনিসের পরিবর্তে অন্য জিনিস সংগ্রহ অনেকেই করে থাকে। পাড়াপ্রতিবেশীর ভিতর শাকের বদলে মূলো অথবা উপহারের পরিবর্তে উপহারের প্রাপ্তিযোগ হামেশাই ঘটে। সাধারণত অর্থের ব্যবহার ছাড়াই এই রকম দ্রব্য বিনিময় চলে। বলা বাহুল্য, একে আমরা ব্যবসায়ের সংজ্ঞার ভিতর ধরছি না। জীবিকার ভিত্তি হিসেবে নিয়মিত দ্রব্য বিনিময়, প্রধানত অর্থের মাধ্যমে, যারা করে থাকে তাদেরই বণিক বলা চলে।

    প্রাচীন সমাজের অভ্যস্ত আচরণের সঙ্গে বণিকবুদ্ধির পার্থক্য এইখানে। বণিকবুদ্ধি চলে স্বার্থ গণনার ভিত্তিতে। বণিকের সামনে একটা লক্ষ্য আছে। সেই লক্ষ্যটা এমন যে, ব্যক্তিগত গণনা বা হিসেবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়। বলা বাহুল্য এই গণনা লাভক্ষতির গণনা। প্রাচীন সমাজ চলে আচার এবং শাস্ত্রের অনুশাসন অনুযায়ী। এই আচারের কোনো ব্যবহারিক মূল্য নেই এমন নয়। কিন্তু অনেক কালের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অভ্যাসের ভিতর দিয়ে আচার একটা স্থিরতা লাভ করে। ব্যক্তি তার পৃথক অভিজ্ঞতার গণ্ডির ভিতর নতুন করে আচার ও অনুশাসনের মূল্য যাচাই করতে উদ্যত হয়। না। বরং আচারের মূল্য তার ঐতিহ্যবাহিতায় বা শাস্ত্র প্রামাণ্য।

    লাভক্ষতির ব্যবসায়িক গণমার ভিতর দিয়ে আধুনিক যুগের যুক্তিধর্মিতার প্রাথমিক প্রকাশ। এর ফলে ব্যক্তি তার স্বতন্ত্র স্বার্থ সম্বন্ধে সচেতন হয়। ব্যবসায়িক গণনার ভিতর দিয়ে যুক্তিতে একজাতীয় তথ্যনিষ্ঠতা আসে। আত্মা অথবা মোক্ষ সম্পর্কিত চিন্তায় এই প্রকার তথ্যনির্ভরতা সহজে আসে না। সাবধানী ও পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেবের অভ্যাসের ফলে যুক্তি বাস্তবধর্মী হয়। সমাজে যুক্তির বিবর্তনে এটা একটা প্রয়োজনীয় অধ্যায়।

    বাণিজ্য যখন বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন দেশাচারকে আপেক্ষিক দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব হয়। বণিকের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে দেশের কৌতূহলী মানুষের চিন্তার পরিধির ভিতর সঞ্চিত হয়। ফলে প্রাচীন আচার ও অনুশাসনকে আর অনিবার্য মনে করা যায় না। বরং তুলনামূলক বিচারের দিকে একটা ঝোঁক দেখা যায়। এই আপেক্ষিক দৃষ্টিতে বিচারের মুক্তি ঘটে, চিন্তার স্বাধীনতার যুগ শুরু হয়। বাণিজ্যের ফলে সাংসারিক বস্তুনির্ভর অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি পায়। এই অনুসন্ধানী মনোবৃত্তির পিছনে যদিও ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকে, তবু এর একটা বৃহত্তর তাৎপর্যও আছে।

    দেশাচার ছোট ছোট গোষ্ঠীতে আবদ্ধ। বাণিজ্য যখন বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন। এমন কিছু আইনকানুনের প্রয়োজন দেখা দেয়, বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে যেটা সমভাবে গ্রহণযোগ্য। বর্ণ ও উপজাতিতে বিভক্ত সমাজের স্থিতিরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট আচারবিচারের উদ্দেশ্য এক, আর ব্যবসায়িক চুক্তি রক্ষার জন্য যে আইনের প্রয়োজন তার উদ্দেশ্য ভিন্ন। কাজেই বাণিজ্যের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আইনের ক্ষেত্রে একটা নতুন আন্দোলন, দেখা দেয় এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গী অনেক বেশি যুক্তি আশ্রিত। উপরন্তু একটা বিশেষ অর্থে এই নতুন আইন সমদৃষ্টিসম্পন্ন।

    আত্মীয়তান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অসাম্যবোধের কথা আগেই বলেছি। বণিকের দৃষ্টির কেন্দ্রস্থলে যে-সম্পর্কটা আছে, সেটা হল ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্পর্ক। ক্রেতা ও বিক্রেতার ভিতর কাউকেই প্রথম দৃষ্টিতে বড় অথবা ছোট মনে করা যায় না। অর্থাৎ, বাণিজ্যের মূল সম্পর্কটা, অন্তত তত্ত্বের দিক থেকে, সমানে সমানে সম্পর্ক। পার্থক্য বস্তুত দেখা দেয়। তবুও তাত্ত্বিক প্রশ্নটা মূল্যবান। আইনের চোখে বাদী বিবাদী উভয় পক্ষই সমান, বণিক সংস্কৃতির এই রকম একটা ঝোঁক আছে, প্রাচীন সমাজের অসাম্যের সংস্কার থেকে যেটা উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। সব মিলিয়ে যুক্তির ঐতিহাসিক বিবর্তনে বণিক সংস্কৃতির একটা বড় অবদান অস্বীকার করা যায় না। বাণিজ্য যখন বহির্মুখী ও প্রসারশীল, তখনই এই অবদান সম্ভব হয়েছে। ধর্মের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই এর একটা প্রভাব পড়েছে। চেতনার এতো বড় একটা আন্দোলন যদি প্রতিষ্ঠিত ধর্মকে স্পর্শ না করত, তবে সেটা বিস্ময়ের ব্যাপার হত।

    আমলাতন্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে পুরনো ইতিহাসে আবারও একটু ফিরে যেতে হয়।

    প্রাচীন সাম্রাজ্যে আমরা লক্ষ করেছিলাম, আত্মীয়তন্ত্রের একটা সম্প্রসারিত গঠন। মধ্যযুগে সাম্রাজ্যের সংগঠিত মূর্তির প্রধান উদাহরণ, সামন্ততন্ত্র। সামন্ততন্ত্রেরও আবার নানা রূপ আছে এবং এদের ভিতর পার্থক্য কম নয়। কাজেই এ বিষয়ে কোনো সাধারণ মন্তব্যই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। একরূপে সামন্তরাজা অথবা সুবেদারগণ নিজ নিজ বজ্যে প্রায় সর্বের্সবা। প্রজাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের ভার তাঁদের হাতে, তাঁরাই প্রজাদের রক্ষক এবং দণ্ডদাতা। তাঁদের ক্ষমতা সচরাচর পুরুষানুক্রমে অব্যাহত থাকে। সম্রাট যদিও তাঁদের কাছ থেকে রাজস্বের একাংশ লাভ করেন এবং সেই সঙ্গে পান আনুগত্যের অঙ্গীকার, তবু পুরুষানুক্রমিক অধিকারের ফলে সামন্তরাজারা প্রায়শ বিশেষ ক্ষমতাবান।

    এই বিকেন্দ্রিক সামন্ততন্ত্রের উদ্ভবের পিছনে একটা যুক্তি আছে। সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয় যুদ্ধ জয়ের ভিতর দিয়ে, যদি-না আক্রান্ত দেশ বিনাযুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে। যুদ্ধ জয়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই একটা সামরিক শাসন কিছু কালের জন্য চলে। কিন্তু সম্রাট মুখ্যত আকাঙ্ক্ষা করেন যশ এবং রাজস্ব। দূর দেশ থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় সহজ নয়। অনুগত কোনো রাজপুরুষ যদি সেখানে রাজা হয়ে বসেন এবং রাজস্বের একাংশ যথা সময়ে সম্রাটকে পাঠান তবেই সমস্যার সমাধান হয়। সামন্তরাজার আনুগত্যের অঙ্গীকার থেকে সম্রাট লাভ করেন যশ, প্রয়োজনে সামরিক সহায়তা নিয়মিত রাজস্ব এবং উপঢৌকনে আসে সমৃদ্ধি।

    কিন্তু এই বিকেন্দ্রিক সামন্ততন্ত্রের একটা বিপদও আছে। সামন্তরাজারা নিজ নিজ রাজ্যে শক্তিশালী। সম্রাটের প্রতি তাঁদের আনুগত্য চিরকাল অটুট থাকে না। বিকেন্দ্রিক সামন্ততন্ত্রে কখনও কেন্দ্র দুর্বল হয়ে পড়ে; সেই সুযোগে সামন্তরাজারা বিদ্রোহে প্রলুব্ধ হন। সম্ভবত এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই দেখা দেয় সামন্ততন্ত্রের এক বিকল্প রূপ। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এবার শাসন চালান মনোনীত রাজপুরুষেরা। প্রয়োজন মতো এঁদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানানরিত করা হয়, যাতে এরা না কোথাও স্থায়ীভাবে শিকড় গাড়তে পারেন। অর্থাৎ এটা হয়ে ওঠে বদলির চাকুরি। চীনে রাজপুরুষদের নির্বাচনের জন্য সরকারী পরীক্ষার ব্যবস্থাও ছিল। তা ছাড়া কেন্দ্রের অধীনে গুপ্তচরবাহিনী দেশে বিদেশে খবর সংগ্রহ করে বেড়ায়, সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে।

    সামন্ততন্ত্রের এই দুই রূপের ভিতর প্রভেদ বিস্তর। বস্তুত দ্বিতীয় রূপে আমরা পাচ্ছি, প্রাচীন সমাজের ভিতর থেকে আমলাতন্ত্রের উদ্ভব। তবে এই আমলাতন্ত্রও পরিবারভিত্তিক বা আত্মীয়তান্ত্রিক চিন্তা ভাবনার কাঠামোর ভিতর প্রতিষ্ঠিত। প্রসিদ্ধ চীনা দার্শনিক কুং-এর চিন্তা থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

    বর্ধিষ্ণু বণিকতন্ত্রের সঙ্গে সংযোগের ফলে আমলাতন্ত্র ক্রমে তার আধুনিক রূপে পরিণত হল। কিন্তু সামন্ততন্ত্রের যুগেও কয়েকটি ব্যাপারে আমলাতন্ত্রের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যাতে আত্মীয়তান্ত্রিক সমাজের ভাবাদর্শ থেকে তার একটা স্বতন্ত্র চেহারা ফুটে ওঠে। যুক্তিধর্মিতার একটা বিশেষ দিকের বিকাশও সেই সঙ্গে লক্ষ করা যায়। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ঐ দিকটি পরিস্ফুট। গুপ্তচর বাহিনীর কথা আগেই উল্লেখ করেছি। এর সংগঠনে ও নিয়ন্ত্রণে যে পরিকল্পিত কূটনীতির সন্ধান মেলে, সেটা আধুনিক যুগের মেজাজকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, দরবারী সমাজ এবং রাজনীতিক ক্ষমতার লড়াই যুক্তিধর্মিতার বিবর্তনে স্পষ্ট ছাপ রেখে গেছে।

    আরও একটা ব্যাপার এখানে উল্লেখযোগ্য। রাজস্ব আদায়ের জন্য সম্রাট নির্ভর করতেন সামন্তরাজা ও রাজকর্মচারীদের ওপর। এখানে প্রচুর কারচুপির সম্ভাবনা ছিল। কাজেই প্রাচীন আমলাতন্ত্রের মধ্য থেকেই ধীরে ধীরে হিসেব পরীক্ষার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হল। সরকারী নিরীক্ষকদের নিযুক্ত করা হল হিসেব পরীক্ষার জন্য। কখনও কখনও। আবার আমলারা বাণিজ্যের কাজে নিযুক্ত হলেন। সরকারী উদ্যোগে শিল্প পরিচালনা চালু হল। বণিকের সংস্কৃতি আর আমলা সংস্কৃতির ভিতর অন্তত আংশিক যোগাযোগ শুরু হয়ে যায় প্রাচীনকাল থেকেই।

    আধুনিক আমলাতন্ত্রের একটি বৈশিষ্ট্য আছে, যার উল্লেখ ছাড়া যুক্তিধর্মিতার বিবর্তনে আমলাতন্ত্রের বিশেষ অবদান বোঝা সম্ভব নয়। আত্মীয়তন্ত্র দয়া স্নেহ শ্রদ্ধার ওপর স্থাপিত; আমলাতন্ত্র নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আত্মীয়দের নিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গঠিত হতে পারে। কিন্তু আমলাতন্ত্রের গঠন অন্যপ্রকার। আমলারা সরকারী নীতি নির্ধারণ করেন না, কিন্তু প্রয়োগ করেন। তাঁদের কাজ প্রধানত অনাত্মীয় সহকর্মীদের নিয়ে অনাত্মীয় জনসাধারণের জন্য। এ অবস্থায় নিরপেক্ষভাবে, নিয়ম মান্য করে, কাজ চালিয়ে। যাওয়া আমলার ধর্ম। এখানেই আত্মীয়তন্ত্রের সঙ্গে আমলাতন্ত্রের মৌল পার্থক্য। কোনো আমলা স্বধর্মচ্যুত হতে পারেন, তাঁর পদস্খলন হতে পারে, সেটা অন্য কথা। মূল কথাটা স্বধর্ম নিয়ে। আত্মীয়তন্ত্রে, এমন কি বণিকতন্ত্রে, যদি কেউ আত্মীয়ের প্রতি পক্ষপাত দেখান তবে সেটা তার স্বধর্মের বিরুদ্ধে যায় না। নৈব্যক্তিক ও নিরপেক্ষ ব্যবহার আত্মীয়ধর্মের অঙ্গ নয়। কিন্তু এটাই আমলার আচরণবিধির অঙ্গ। আদর্শ আমলার আচরণে সৌজন্যের সঙ্গে একটা নৈর্ব্যক্তিকতা ও নিয়মানুগত থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্মে এটা যুক্তিধর্মিতার একটা বিশিষ্ট প্রকাশ।

    বণিক সংস্কৃতি ও আমলা সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য সংমিশ্রণ ঘটেছে একালের অতিকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানের আকার যেখানে বৃহৎ, সেখানে প্রশাসনে অনিবার্যভাবে আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য অল্পবেশি ফুটে ওঠে। আবার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গুণাগুণও কিছুটা থেকে যায়। বৃহৎ শিল্পের অপর বৈশিষ্ট্য বৈজ্ঞানিক গষেণার প্রতি ঝোঁক। বড় শিল্পগুলির ভিতর যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে, তাতে বিজ্ঞানের সহায়তা সাফল্যের জন্য প্রয়োজন। দীর্ঘকালীন ও ব্যাপক দৃষ্টিতে অনিবার্য সিদ্ধান্ত এই যে, বিজ্ঞানই শিল্পের শ্ৰেষ্ঠ সহায়।

    বিজ্ঞানের দুটি দিক আছে। এক তার বিশুদ্ধ জ্ঞানের দিক। যুক্তিধর্মী মন বিশ্বপ্রকৃতিকে যতক্ষণ না জানতে পারছে নিয়মের ভিতর দিয়ে, ততক্ষণ তার জানাটা। অসম্পূর্ণ, সেই অসামঞ্জস্যের কাঁটা মনে বিঁধে তাকে করে রাখে অসুখী। কিন্তু বিজ্ঞানের ভিতর দিয়ে মানুষ শুধু জানবার সুখ চায়নি, আরও চেয়েছে করবার শক্তি। এটাই সেই দ্বিতীয় দিক, যেখানে বিজ্ঞান হয়ে উঠেছে প্রযুক্তিবিদ্যা। জ্ঞানই শক্তি। প্রযুক্তিবিদ্যার শক্তিতে মানুষ পৃথিবীকে বদলে চলেছে, গড়ে তুলেছে নতুন শিল্প এবং সেই সঙ্গে গড়বার। ও ধ্বংস করবার আরও নানা উপাদান। সাধারণ মানুষের ভিতর বিজ্ঞানের আজ যে মর্যাদা, তার একটা বড় কারণ প্রযুক্তিবিদ্যার এই ব্যহারিক শক্তি। আধুনিক যুগ শুধু বিজ্ঞানধর্মী নয়; প্রাচীন যুগকে সে পিছনে ফেলে এসেছে অদম্য প্রয়োগধর্মিতায়।

    এ যুগের যুক্তিধর্মিতার ভিত্তিতে আছে, একদিকে যেমন বণিক সংস্কৃতি ও রাজনীতি, আইন ও আমলাতন্ত্র, অন্যদিকে তেমনি সব কিছুকে পরিব্যাপ্ত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যা। আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার সহায়তায় শাসনযন্ত্র ও আমলাতন্ত্র আজ আরও বেশি শক্তিশালী। বণিকতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানেরও চরিত্র এবং সংগঠন বদলে চলেছে প্রযুক্তিবিদ্যার প্রভাবে। সাংগঠনিক দৃষ্টিতে, বণিকতন্ত্র ও আমলাতন্ত্রের ভিতর পার্থক্য। অনেক ক্ষেত্রে কমে আসছে। মোটের ওপর আমাদের যুগ রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রাধান্যের যুগ।

    .

    ৪

    যুক্তিধর্মিতার পরিমণ্ডলে যে-সব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তাদের বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি। এবার কয়েকটি সমস্যা আলোচনা করা আবশ্যক। মানুষকে যেমন আমরা চিনতে পারি তার বিশেষ গুণে ও বিশেষ দুর্বলতায়, মানুষের প্রতিষ্ঠানকেও চেনা যায় তেমনিভাবে। আর আজকের সমস্যার ভিতর দিয়ে বিবর্তনের পরবর্তী ধাপ সম্বন্ধে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    আত্মীয়তান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে যেমন ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তি সংযুক্ত হয় রক্তের বন্ধনে ও আত্মীয়তার বাস্তব অথবা কল্পিত ধারণায়, বণিকতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে তেমনি বিভিন্ন ব্যক্তি পারস্পরিক সম্বন্ধে আবদ্ধ হয় স্বার্থ ও ব্যবহারিক প্রয়োজনের যুক্তিতে। অন্তত আধুনিক যুক্তিধর্মী প্রতিষ্ঠানের এটাই আদর্শ রূপ। মধ্যযুগীয় ধারণায় রাজা রাজ্যশাসন করতেন দৈব অধিকারে। কিন্তু সতেরো ও আঠারো শতকে এই রকম একটা মত প্রচলিত হল যে, রাষ্ট্রের উৎপত্তি সামাজিক চুক্তিতে। চুক্তির পিছনে সাধারণত একটা স্বার্থের যুক্তি থাকে, সেটা বাণিজ্যিক চুক্তিই হোক আর রাজনীতিক চুক্তিই হোক।

    রাজশক্তির উৎপত্তি সম্বন্ধে সামাজিক চুক্তির তত্ত্বে নতুন যুক্তিধর্মী চেতনার প্রকাশ পরিস্ফুট। এই নতুন যুগধর্ম সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে, যেমন ব্যবসায়িক ও আমলাতান্ত্রিক এমনকি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানেও, সংক্রামিত হয়েছে। সমাজের সব সম্পর্কই যেন আজ দাঁড়িয়ে আছে, লিখিত অথবা অলিখিত চুক্তির ওপর।

    চুক্তি দুপক্ষই স্বেচ্ছায় মেনে নেয়, নয় তো সেটা চুক্তিই নয়। এটাই চুক্তির সংজ্ঞা। যেহেতু এতে দু’পক্ষেরই সম্মতি আছে অতএব, কোনো নাকোনো অর্থে, চুক্তিতে উভয় পক্ষেরই স্বার্থ আছে। কিন্তু সেই অর্থটা একপক্ষের কাছে নিদারুণ হতে পারে। দরিদ্র। মানুষ সামান্যতম মজুরীতে সারাদিন খাটবার চুক্তি স্বেচ্ছায় মেনে নিতে পারে, কারণ তা নইলে তাকে অনাহারে মরতে হবে। অনাহারের চেয়ে অধাহার ভালো, এমনকি অপমানজনক শর্ত সত্ত্বেও সেটাই ভালো মনে হতে পারে। চুক্তিটা এখানে পারস্পরিক স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বটে। তবু ওটা ন্যায়সঙ্গত বলে স্বীকৃত হবে, এমন কথা নেই। ন্যায়ের জন্য পারস্পরিক স্বার্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু প্রয়োজন। দুই পক্ষের সুবিধার বণ্টনে একটা “সাম্য থাকা চাই। চুক্তিটা যুক্তিসঙ্গত হওয়া চাই। বণিকতন্ত্রের কাঠামোর ভিতর এ সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন। যেখানে দু’পক্ষের শক্তির তারতম্য বড়, সেখানে চুক্তি দুর্বল পক্ষের বিরুদ্ধে যাবেই।

    এ ছাড়া আরও সমস্যা আছে। মজুরীর প্রশ্ন যদিও জরুরী, তবু সেটাও একমাত্র প্রশ্ন নয়। আজকের সমাজে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলি প্রাধান্য লাভ করছে। সরকারী প্রতিষ্ঠান বৃহৎ। আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যারও যেন ঝোঁক আছে বৃহৎ শিল্প গঠনের দিকে। এই সব বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সংগঠন ‘আমলাতান্ত্রিক’।

    আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়মের ওপর চলে। এই নিয়মগুলো হয়তো কখনও যুক্তিসঙ্গত, হয়তো কখনও নয়। কিন্তু যেখানে নিয়মটা যুক্তিসঙ্গত, সেখানেও প্রত্যেকটি কর্মীর কাছে সেই যুক্তি পরিষ্কার নয়। কারণ, যুক্তিটা দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানের জটিল ও সামগ্রিক প্রয়োজনের ওপর। কর্মীবিশেষ সমগ্র প্রয়োজনটা দেখছেন না; তিনি প্রয়োজনকে দেখছেন তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার ছোট পরিধির ভিতর। কাজেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম যেখানে যুক্তিসঙ্গত, সেখানেও কর্মীকে অনেক সময় সেটা মেনে নিতে হয় যুক্তি ছাড়াই। অর্থাৎ, তাঁকে কাজ করতে হয়, ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে, ওপর থেকে চাপানো একটা “যুক্তিহীন’ নিয়মের কাঠামোর ভিতর। ফলে কর্মীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মনের যোগ ছিন্ন হয়ে যায়, প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে একটা অর্থহীন প্রাণহীন যন্ত্র। এটা কঠিন সমস্যা। সমগ্রের বাইরে অংশবিশেষের অর্থ কখনও স্পষ্ট নয়। বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক প্রয়োজনের একটা ছবি মনের ভিতর ধারণ করা অথবা প্রত্যেকের কাছে স্পষ্ট করে তোলা, সদিচ্ছা থাকলেও, দুরূহ ব্যাপার।

    নিয়ম এবং পরিকল্পনা যুক্তিসঙ্গত হলেও ঐ সমস্যাটা থাকে। না হলে সমস্যা আরও জটিল। বলা বাহুল্য, নিয়মের পিছনে সব সময় একটা সম্পূর্ণ জীবন্ত যুক্তি থাকে না। প্রাণহীন নিয়ম অপ্রয়োজনে দুই পক্ষের ভিতর ব্যবধান সৃষ্টি করে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রশাসনিক দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচার নামে যেটা আজ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

    আরও বিঘ্ন আছে। সমাজে সর্বক্ষণ ক্ষমতার একটা দ্বন্দ্ব চলছে। নিয়ম ও পরিকল্পনা সেই দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত নয়। যাঁরা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ব্যাপৃত তাঁরাই নানা ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরাই পরিকল্পনা রচনা করেন। কোনো সমাজই এই সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। সাম্যবাদী সমাজেও ক্ষমতার প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব চলছে। এই দ্বন্দ্বের ভিতর থেকেই পরিকল্পনা বেরিয়ে আসে। বৃহত্তর সমাজেই তোক আর বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেই হোক, এই সমস্যার কোনো সহজ সমাধান নেই; আছে, এমন আশা করাটাই ভুল।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যা আমাদের পরিপার্শ্বের চেহারা পালটে দিচ্ছে। কিন্তু এর ভিতরও নানা জটিলতা আছে। একটি বিশেষ সমস্যার উল্লেখ প্রয়োজন। আজকের প্রযুক্তিবিদ্যা প্রধানত নগরভিত্তিক। পিছিয়ে-পড়া দেশ ধার করছে উন্নত দেশের কাছ থেকে। বিজ্ঞানের চর্চা হচ্ছে প্রধানত নগরে, যেখানে উচ্চ শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ ব্যক্তিদের সমাবেশ, আধুনিক সভ্যতার নানা উপকরণ যেখানে সহজে লভ্য। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ থেকেই আবার একটা জটিলতার সৃষ্টি। নগর ও পল্লীর ভিতর ব্যবধান বেড়ে চলেছে, যেমন বেড়েছে উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলির ভিতর ব্যবধান। নগরের চিকিৎসক বা যান্ত্রিক নগর ছেড়ে গ্রামে বেশি দিন তিষ্ঠতে পারেন না যে-চিকিৎসাবিদ্যা বা যন্ত্রবিদ্যা তাঁর আয়ত্তে, নাগরিক উপকরণ হাতের কাছে না পেলে তিনি সেটা যুতমতো ব্যবহার করতে পারেন না। সমস্যাটা আরও গভীর। নগর ও পল্লী যে শুধু হাত ধরাধরি করে চলেনি তাই নয়; উভয়ের সম্পর্ক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বৃহৎ শিল্পের আঘাতে গ্রামের শিল্প। ভেঙ্গে পড়েছে। আবার গ্রামের অর্ধ বেকারের দল শহরে ভিড় করে সেখানকার জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

    নগর শুধু শিল্প ও বিজ্ঞানের কেন্দ্রই নয়, রাজনীতিরও কেন্দ্র। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতাপ ও কলেবর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির গুরুত্ব বেড়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব আজকের সমাজে এক কঠিন দ্বন্দ্ব। বৃহৎ শিল্পকে কি করে রাষ্ট্রায়ত্ত করতে হয়, এতদিনে আমরা তা জানি। কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব তাতে কমে না। এই দ্বন্দ্বকে বশে আনবার অথবা। সভ্য করে তুলবার পদ্ধতি এখনও আমাদের আয়ত্ত হয়নি। বরং ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতাবোধ, নগর ও পল্লীর ভিতর ব্যবধানের সঙ্কট, আর প্রয়োগধর্মী জীবনাদর্শের সব ব্যর্থতা যেন ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মাদকতায় বারবার একটা মিথ্যা পরিত্রাণ খুঁজছে।

    যুক্তি থেকে পিছু হটে এসে এই সব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে, এমন মনে করা ভুল। যুক্তিধর্মিতার চেয়ে যুক্তি বড়; কারণ, প্রথমটি হল একটা বিশেষ যুগের ধর্ম, দ্বিতীয়টি মানুষের ধর্ম। যুক্তিকে খুঁজে নিতে হবে ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত। নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিতর দিয়ে প্রতিষ্ঠানেরও রূপ বদলে চলবে।

    সমাজের দরিদ্র ও দুর্বল অংশের মানুষদের সংগঠন প্রয়োজন অন্যায় সামাজিক “চুক্তির সংশোধনের জন্য। এদেশের গ্রামাঞ্চলে এটা বিশেষ জরুরী। বণিক পযায় থেকেও আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে নতুন যুগের প্রয়োজন অনুযায়ী। বণিক সংস্কৃতি আমাদের হিসেব রাখতে শিখিয়েছে, সেটা লাভ। গান্ধী নিজেকে বানিয়া বলতে দ্বিধা করেননি। জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানে হিসেব প্রয়োজন, তিনি জানতেন। আমলাতন্ত্র যদি অনাত্মীয়ের সঙ্গে কাজেকর্মে কিছু পরিমাণে নিয়মের শিক্ষা দিয়ে থাকে তো সেটাও লাভ। বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে নিয়মানুগতার প্রয়োজন আছে। নিয়ম রচনার কাজে কর্মীদের কীভাবে কতটা যুক্ত করা যায়, সেটাই এখন প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই শিল্প পরিচালনায় কর্মপ্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করছেন একাধিক দেশে, যুগোস্লাভিয়ার নাম এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য।

    বৃহত্তর সমাজে প্রয়োজন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এর লক্ষ্য শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা তুলে নিয়ে শাসনযন্ত্রের আরও একটু নীচুস্তরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা নয়। রাজনীতির বাইরে যে-সব প্রতিষ্ঠান আছে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সরকারী এবং দলীয় আধিপত্যের বাইরে তাদেরও নিজ নিজ অধিকারের একটা ক্ষেত্র থাকা প্রয়োজন। রাজনীতির প্রাধান্যটাই আজ ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণের বড় লক্ষণ। আজকের রাজনীতির কাঠামো দলীয়, উদ্দেশ্য যে-কোনো প্রকারে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। এতে বিপর্যয় ঠেকানো যাচ্ছে না, বরং বিপত্তি বাড়ছে। এরই উসকানিতে বিচ্ছিন্ন মানুষের সব ব্যর্থতা একটা যৌথ আক্রোশের আকার ধারণ করছে, তত্ত্বে বিধৃত বিদ্বেষের বিষ ছড়াচ্ছে। সমাজের মূলে সেই সব স্বায়ত্তশাসিত ও যথাসম্ভব নির্দলীয় সমিতিকে আজ শক্তিশালী করা আবশ্যক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যেখানে পারস্পরিক নৈকট্যের ওপর স্থাপন করা সম্ভব।

    আর আবশ্যক, পল্লী ও নগরের ভিতর সমন্বয়ের চেষ্টা। সমন্বয় চাই, যেমন আর্থিক তেমনি সাংস্কৃতিক। নাগর সংস্কৃতি ও পল্লী সংস্কৃতির ভিতর একটা স্বাভাবিক ও সৃজনধর্মী দেওয়া-নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্ভব। লোকসঙ্গীত উঠে আসে দরবারে, যেখানে সে নতুন রূপ পায়, আবার দরবারী সঙ্গীত ফিরে যায় পল্লীতে নতুন প্রাণের সন্ধানে। এই প্রক্রিয়াটা যখনই বন্ধ হয়েছে তখনই ক্ষতি হয়েছে দু’পক্ষেরই। পল্লী সংস্কৃতিতে একটা সহজ মানবিকতার ভিত্তি আছে, যার ওপর যুগে যুগে আচার, অনাচার, ভয় ও অজ্ঞতায় আশ্রিত নানা বিচিত্র সংস্কার, জমে উঠেছে পরতে পরতে। সেই সহজ মানবিকতাকে পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। তবু তারই সঙ্গে যোগে যুক্তিরও মুক্তি। চৈতন্যের স্তরের মতো সংস্কৃতিরও স্তরভেদ থাকবে। সেই বিভিন্ন স্তরের ভিতর একটা আরোহণ অবরোহণের ধারা অক্ষুণ্ণ না রাখলেই অমঙ্গল।

    শুরুতে বান্ধবসমিতির সামান্য উল্লেখ ছিল। এবার সেই প্রসঙ্গ ধরেই আলোচনা সমাপ্ত করব। বান্ধবসমিতি এবং আত্মীয়গোষ্ঠীর ভিতর প্রভেদ আছে। বান্ধবসমিতি গঠিত হয়। প্রতিবেশীকে নিয়ে। অথবা আমরা যাদের মনে মনে কাছের মানুষ বলে জানি তাদের নিয়ে। আত্মীয় ও প্রতিবেশীর ভিতর একটা মৌল পার্থক্য আছে। প্রতিবেশীকে আমি আমার চেয়ে স্বতন্ত্র বলেই জানি। স্বতন্ত্র জেনেও তাকে আমি বন্ধুরূপে পেতে চাই। সেই বন্ধুত্ব অর্জিত ধন, তাকে রক্ষা করতে হয়। আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আমার অর্জিত ধন। নয়। তাকে আমরা স্বতন্ত্র বলে মানি না। তার ওপর আমাদের দাবি সহজাত। যে সমাজ একবার যুক্তিধর্মিতার স্তরে পৌঁচেছে, অখণ্ড আত্মীয়তন্ত্রে সে আর ফিরে যেতে পারে না, চাইলেও নয়। তাকে তখন একটা বিকল্পে উত্তীর্ণ হতে হয়। বান্ধবসমিতি সেই বিকল্প। সমবায় সমিতিকে বলা যেতে পারে ব্যবসায়িক সংস্থা ও বান্ধবসমিতির এক বিশেষ সংমিশ্রণ।

    প্রতি যুগেরই নিজস্ব একটা আদর্শ থাকে, যুগের চেতনার প্রান্তে যেটা প্রতিষ্ঠিত। এ যুগের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, সব প্রতিষ্ঠানেরই বিকৃতি সম্ভব। তবু মানুষের একটা আদর্শকল্পনা থাকে। বান্ধবসমিতি ভবিষ্যতের দিগন্তসংলগ্ন সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠান। আত্মীয়তন্ত্রের দৈবনির্দিষ্ট অসাম্য সেখানে নেই; ব্যক্তিস্বাতন্ত্র আছে কিন্তু বণিকতন্ত্রের। স্বার্থসর্বস্বতা নেই; সমবায় সেখানে পদাধিকারে অযথা খণ্ডিত নয়; যুক্তি সেখানে শুভাকাঙ্ক্ষী।

    প্রতিযুগ নতুন করে যাত্রা শুরু করে। রুশ বিপ্লবের পর দুই প্রজন্ম অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। অভিজ্ঞতাকে পদে পদে জ্ঞানের অংশ করে নেওয়া যুক্তির কাজ। এ যুগের প্রধান প্রতিষ্ঠান, আমলাতন্ত্র। এইখান থেকে আজকের যাত্রা শুরু। এইখানে দাঁড়িয়ে আমরা ইতিহাসকে নতুন করে দেখছি। লক্ষ্য সহসা বদলায় না, কিন্তু পথ অথবা পদ্ধতি কিছুই অপরিবর্তনীয় নয়।

    ব্যক্তি যুক্তি সমাজ (১৯৭৮)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র ১
    Next Article এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    Ek Pata Golpo

    সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

    October 28, 2025
    Ek Pata Golpo মহালয়া

    মহালয়া: মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya: Mahishasuramardini)

    September 10, 2025
    Ek Pata Golpo

    গাছের পাতা নীল – আশাপূর্ণা দেবী

    July 7, 2025
    Ek Pata Golpo

    লিঙ্গপুরাণ – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    June 3, 2025
    Ek Pata Golpo

    ৪. পড়ন্ত বিকেল

    April 5, 2025
    Ek Pata Golpo ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পূজারির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }