Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Ek Pata Golpo এক পাতা গল্প1207 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.১৫ বাংলার নবজাগরণ ও আজকের সংকট

    আচারশাসিত সমাজে রামমোহন যুক্তিধর্মিতার একটি প্রবাহ সৃষ্টি করেছিলেন। সেই স্রোত সমাজের বেশী গভীরে প্রবেশ করেনি। সে কথা ভিন্ন। তার কারণ অনুসন্ধান করা যেতে পারে। কিন্তু ভট্টাচার্যের সহিত বিচারে যে রামমোহনকে আমরা পাই, তৎকালীন সমাজ ও সংস্কৃতির পটভূমিকায় নির্ভীক যুক্তিধর্মিতাই তাঁর বৈশিষ্ট্য। রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর দেশবাসীর জন্য এমন একটি ঊর্ধ্বলোকে জাগরণ প্রার্থনা করেন, যেখানে চিত্ত ভয়শূন্য, জ্ঞান মুক্ত এবং যেখানে “বিচারের স্রোতঃপথ অবলুপ্ত নয় “আচারের মরুবালিরাশিতে তখন কবির সেই চিন্তার পিছনে আমরা যেন রামমোহনের একটি মূর্তি প্রত্যক্ষ করি। রামমোহন ধর্ম ত্যাগ করেননি। ধর্মের উত্তরাধিকার নিয়ে তাঁর জন্ম; সেই ধর্মকে যুক্তি দিয়ে বিচার ও পরিশুদ্ধ করে তিনি গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন।

    আচারের শাসন থেকে বিচারের মুক্তিতে আরোহণই যেমন রামমোহনের বৈশিষ্ট্য, যুক্তিবাদ থেকে অধ্যাত্মবাদে উত্তরণ তেমনই দেবেন্দ্রনাথের চৈতন্যের বিবর্তনে প্রধান ঘটনা। দেবেন্দ্রনাথ গ্রাম্য পরিবেশে শৈশব অতিবাহিত করেননি। পশ্চিমী যুক্তিবাদকে তিনি সহজ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের মতনই লাভ করেছিলেন। সেই যুক্তিবাদ ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানে বিশ্বাসী এবং জগতের সামগ্রীকে উপকরণ হিসেবে চিন্তা করতে অভ্যস্ত। কিন্তু এই চিন্তা দেবেন্দ্রনাথকে শাস্তি দিতে পারেনি।

    আত্মজীবনীতে দেবেন্দ্রনাথ লিখেছেন “আমি য়ুরোপীয় দর্শনশাস্ত্র বিস্তর পড়িয়াছিলাম। কিন্তু এত করিয়াও মনের যে অভাব, সেই অভাব! তাহা কিছুতেই ঘুচাইতে পারিলাম না। …ভাবিলাম, প্রকৃতির অধীনতাই কি মনুষ্যের সর্বস্ব? তবে তো গিয়াছি! ইহার নিকট নতশিরে থাকাই যদি চরম কথা হয় তবে তো গিয়াছি। আমাদের আশা কৈ, ভরসা কে?” (শ্ৰীমন্মমহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী, বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, তৃতীয় সংস্করণ, পৃঃ ৪৯) যে অধ্যাত্মচিন্তায় দেবেন্দ্রনাথ অবশেষে শান্তি লাভ করেন তার বিশদ আলোচনা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সেই চিন্তার একটি মূল কথা এই মানুষ উপকরণ সংগ্রহ করে ও প্রয়োজন মতো তার পুনর্বিন্যাস করে, একে বলা যায় রচনা। রচনা এবং সৃষ্টি এক নয়। মানুষ রচনা করে, ভগবান সৃষ্টি করেন। সেই সৃষ্টির রহস্য মানুষের অজ্ঞাত। সৃষ্টির রহস্যে বিশ্ব অনন্ত বিস্ময়কর। দেবেন্দ্রনাথের ভাষায়। “আমরা, সকল উপকরণ সংগ্রহ করিয়া রচনা করি; তিনি, তাঁহার ইচ্ছায় সকল উপকরণ। সৃষ্টি করিয়া রচনা করেন। তিনি জগতের কেবল রচনা কতা নহেন…তিনি ইহার সৃষ্টিকর্তা। ..আবার আমি একাগ্র মনে অগণ্য গ্রহনক্ষত্র খচিত এই অনন্ত আকাশের উপরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলাম, এবং অনন্তদেবকে দেখিলাম। এছাড়া ভগবানের স্বরূপ নির্ণয়ের। জন্য দেবেন্দ্রনাথ আরও কিছু যুক্তি ব্যবহার করেন, যেসব বহু পরিমাণে পশ্চিমী দর্শনশাস্ত্র। থেকে গৃহীত, যার উল্লেখ এখানে নিষ্প্রয়োজন।

    দেবেন্দ্রনাথের অধ্যাত্মচিন্তার কিছুটা যে আভাস দেওয়া গেল তার একটা কারণ। আছে। রামমোহন ও দেবেন্দ্রনাথের অধ্যাত্মচিন্তার আস্বাদ ঠিক এক নয়। সাধারণের সমক্ষে শাস্ত্রের পর্যালোচনা ও যুক্তিতর্কের সাহায্যে রামমোহন সকল মানুষের গ্রাহ্য একটি সাধারণ ধর্মমতে পৌঁছতে চেষ্টা করেছিলেন। রামমোহনের স্বরচিত ব্রহ্মসঙ্গীতেও যেন। তত্ত্বের আধিক্য। তুলনায় দেবেন্দ্রনাথের ভিতর রহস্যাভূতি ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির প্রাধান্য, যদিও উপনিষদের প্রতি তিনিও শ্রদ্ধাবান। এই পার্থক্য পরবর্তীকালে গুরুত্ব অর্জন করে।

    বিপিনচন্দ্র পাল এই পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখেন “রাজা রামমোহন রায়) একান্তভাবে শাস্ত্র প্রামাণ্য বর্জন করেন নাই। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ..শুদ্ধ ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির উপরে ঐকান্তিকভাবে সত্যাসত্য ও ধর্মাধর্ম মীমাংসার ভার অর্পণ করেন। …কিন্তু এই স্বানুভূতি প্রতিষ্ঠিত ধর্মকে তিনি উপনিষদের শ্রুতির আশ্রয়ে স্থাপন করিতে যাইয়া একপ্রকারের শাস্ত্রপ্রামাণ্যও প্রদান করেন। “ মূল প্রশ্নটি এই ধর্ম বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সেই সংশয়ের নিরাকরণ করবেন কে, কী ভাবে? ইউরোপে রেনেসাঁসের যুগে এই প্রশ্ন উঠেছিল এ দেশেও অনিবার্যভাবে একই প্রশ্ন দেখা দিল। দুই বিপরীতমুখী উত্তরও পাওয়া গেল। একদল ধর্মকে “শাস্ত্র প্রামাণ্যর ওপর স্থাপন করতে চাইলেন, এ নয় তো সমাজে ঐক্যবন্ধন বলে কিছু থাকবে না। যুগ যুগ সঞ্চিত শাস্ত্রার্জিত জ্ঞানই নির্ভরযোগ্য। আবার কেউ কেউ বললেন যে “স্বানুভূতিই বিশ্বাসের ভিত্তি, নয় তো ওটা যথার্থ বিশ্বাসই নয়, অন্যসাধারণের অন্ধ অনুকরণ মাত্র। রবীন্দ্রনাথ এই দ্বিতীয় মতের মানুষ ছিলেন, অন্তত সেদিকেই ছিল তাঁর ঝোঁক। তাই তিনি লিখেছিলেন “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শিল্পসাহিত্যে যেমন ধর্মমতেও তেমনি, যা গোষ্ঠীগত তার মূল্য সামান্যই। প্রকৃতপক্ষে এটা পরস্পর অনুকরণের সংক্রামতা ছাড়া আর কিছু নয়।”

    এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, প্রথম মতটিই আমাদের সমাজে প্রাধান্য পেয়েছে। যাঁরা মনে মনে দ্বিতীয় মতে বিশ্বাসী তাঁরাও বাইরের আচরণে রক্ষণশীল থেকে গেছেন প্রধানত। দেবেন্দ্রনাথ নিজেই এ ব্যাপারে উদাহরণস্বরূপ। পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ পিতা সম্বন্ধে Frezca “My father, though an uncompromising enemy of idolatrous worship, was essentially conservative in his instincts.” (The Autobiography of Maharshi Debendranath Tagore, tr. by Satyendranath Tagore and Indira Devi, Macmillan, London, p. 16)

    ধর্মের তাত্ত্বিক প্রশ্নে দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন “চরমপন্থী” পৌত্তলিকতা বা মূর্তিপুজোর ব্যাপারে তাঁর বিরোধিতা ছিল অখণ্ড এবং সংশয়হীন। কিন্তু হিন্দুসমাজের প্রচলিত বর্ণভেদপ্রথার সঙ্গে আপোস করতে তাঁর অসম্মতি ছিল না; বরং এ-বিষয়ে কেশব সেনের অনমনীয় মনোভাবটাই তাঁর কাছে আপত্তিজনক মনে হয়েছিল। দেবেন্দ্রনাথ জানতেন যে, জাতিভেদপ্রথার ওপর আঘাত হিন্দুসমাজ সহ্য করবে না। এ ব্যাপারে হিন্দুসমাজের সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষা করাই তিনি সমীচীন মনে করলেন।

    আমাদের ইতিহাসে এই রকম বারবারই হয়েছে। বেদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়েছে। বুদ্ধ থেকে মার্ক্স অবধি অনেকের ডাকেই মানুষ সাড়া দিয়েছে। তারপর বিশাল সমাজের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে বিরোধীরা ধীরে ধীরে নেমে এসেছেন নবলব্ধ সত্যের ঊর্ধ্বলোক থেকে প্রচলিত আচারের কঠিন মাটিতে। বিদ্রোহী মন্ত্র অথবা আওয়াজ ত্যাগ না করেও তাঁরা জীবনের আচরণে আপোস করে নিয়েছেন রক্ষণশীল সমাজের সঙ্গে।

    .

    ২

    যে-শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে অবলম্বন করে গত শতকের নবজাগরণ দেখা দিয়েছিল, সেই শ্রেণীটি সম্বন্ধে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবু দুএকটি কথা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

    উনিশ শতকে যে-ইংরেজী শিক্ষাপদ্ধতি এদেশের কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবর্তিত হয়, বলা হয়েছে যে, কেরানী সৃষ্টি করাই ছিল ঐ শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য। অজস্রবার উচ্চারণের গুণে কথাটা এখন আমাদের কাছে একটা স্বতঃসিদ্ধ সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ওটাকে শুধু অর্ধ সত্য বলেই স্বীকার করা সম্ভব, তাও কেরানী’ শব্দটিকে অনেকটা ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করলে হবে। আমাদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো পাঠক্রম ও পুস্তকের তালিকা দ্রুত দেখে নিলেও বোঝা যায় যে, শুধু কেরানী তৈরি করবার জন্য অত সব প্রয়োজন ছিল না। বরং বলা যেতে পারে যে, ইংরেজী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল উকীল ও ডেপুটি তৈরি করা। অনিবার্যভাবেই অধ্যাপকও হয়েছে। সেই সঙ্গে সামান্য কিছু ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার।

    শাসনযন্ত্রের উচ্চতম পদে সেদিন অধিষ্ঠিত ছিলেন ইংরেজরা। ভারতীয়েরা সেখানে কদাচিৎ প্রবেশ করতে পেরেছেন। বহুদিন অবধি এদেশীয় ইংরেজী শিক্ষিত উচ্চাভিলাষীরা জীবনের শেষে ডেপুটির পদটিই কামনা করেছেন।

    ডেপুটির সঙ্গে যোগ হল উকীল। নতুন শিক্ষাব্যবস্থার এঁরা উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। নতুন মধ্যবিত্তশ্রেণীর অংশ হিসেবেও এঁরা সমান উল্লেখযোগ্য। উকীল অথবা আইনজীবী সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানসিকতা বোঝা যাবে না। একই সঙ্গে ইংরেজ শাসনযন্ত্র এবং নতুন জমিদারী প্রথার অত্যাবশ্যক অঙ্গ হয়ে দাঁড়ালেন উকীল। ভূমিস্বত্ব আইনের জটিলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবীর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেল। রাজধানীর বাইরেও জেলায় জেলায় প্রধান শহরে আইনজীবীদের আবির্ভাব ঘটল।

    একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি জীবন্ত করে তোলা যাবে। জলপাইগুড়ির বিশিষ্ট নাগরিক চারুচন্দ্র সান্যাল মহাশয় ১৯৩২ সালে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন। তাতে তিনি বলেন “বল দেখি তোমরা কে? কোথা থেকে এসেছ? …প্রায় ৫০/৬০ বৎসর আগে এখানে ইংরেজ গভর্নমেন্ট এসে একটা আচ্ছা করলেন, একটা শহর তৈরীর মতলবে। এখানে বসলো আফিস, আদালত, পোস্টাফিস, থানা, আরো কত কি? সঙ্গে সঙ্গে এলো ডেপুটি, মুন্সেফ, উকিল, মোক্তার, কেরানী প্রভৃতি। …এরা এসেই এদেশী লোকের কাছ থেকে কিছু জমি কিনে বা পত্তন নিয়ে বসলো। ধীরে ধীরে এদেশের লোক মামলা মোকদ্দমা করতে শিখলো আর তাদের টাকায় উকিল, মোক্তার মোটা হতে লাগলো।” নতুন মধ্যবিত্তের বিবর্তনের একটি দিক অল্প কথায় এখানে পরিষ্কার চিত্রিত হয়েছে।

    আইনজীবীর ভূমিকার আরও একটি গভীরতর দিক আছে। আধুনিক অর্থে আমরা যাকে আইনের শাসন বলি, সেটা এদেশে গড়ে উঠেছে ইংরেজ শাসনের সঙ্গে সঙ্গে। এই আইনের শাসন ছাড়া গণতন্ত্র অথবা নাগরিক স্বাধীনতা অসম্ভব। আইনের শাসনই যথেষ্ট নয়, কিন্তু নাগরিক স্বাধীনতার জন্য ওটা আবশ্যক। কাজীর বিচার আচারশাসিত সমাজের অঙ্গ। ইংরেজ আমলে আইনজীবী সম্প্রদায় এদেশে এক নতুন ঐতিহ্যের ভিত্তি স্থাপন। করলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের যুগে আমাদের বরেণ্য নেতাদের অনেকেই এসেছেন এই আইনজীবীদের ভিতর থেকেই।

    এদেশের নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানসিকতায় এবং বাস্তব ভিত্তিতে যেটা অভাবের দিক, অদ্ভুত বিচক্ষণ পর্যবেক্ষকদের চোখে সে-দিকটা গত শতক থেকেই মোটামুটি স্পষ্টভাবে। ধরা পড়েছিল।

    ম্যাকলে প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল না জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোেলা। কেরী এবং মার্শম্যান কিন্তু উনিশ শতকের গোড়াতেই জোর দিয়েছিলেন জনশিক্ষার ওপর। মাতৃভাষাকে ওঁরা জনশিক্ষার মাধ্যম করে তুলতে চেয়েছিলেন। ওঁরা দৃষ্টি ফেরাতে চেষ্টা করেছিলেন বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে, অর্থাৎ জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব ওঁদের চিন্তায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। নগর থেকে জ্ঞানবিজ্ঞানকে ওঁরা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু শিক্ষার এই নতুন আদর্শ সরকারী নীতিতে স্বীকৃত হয়নি।

    ফলে উনিশ শতকের নবজাগরণ নগরভিত্তিক রয়ে গেল। নগর ও গ্রামের ভিতর ব্যবধান আরও দুস্তর হল। দেশের কৃষি ও শিল্পের উন্নতির জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যবহারে নতুন মধ্যবিত্ত অগ্রণী হল না। উনিশ শতকের গোড়ায় শিক্ষিত বাঙ্গালীর ব্যবসায় বাণিজ্যে একটা ভূমিকা ছিল। ক্রমে বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে গেল। সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করল যে অবাঙ্গালী সম্প্রদায়, অন্য যে গুণই তার থাক না কেন, নবজাগরণ অথবা নতুন যুগের জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ তার ছিল না। উনিশ শতকের নবজাগরণ ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফলবান হতে পারল না। এর কারণ বিশ্লেষণ এখানে সম্ভব নয়; কিন্তু ফলাফল হিসেবে আমরা পেয়েছি আজকের সংকট।

    ইয়োরোপে নবজাগরণের একটা প্রধান কথা ছিল, বৈষয়িক ক্ষেত্রে মানুষের আত্মবিশ্বাস। শ্রম ও বিজ্ঞানের সাহায্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর মানুষ তার নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে, সে নিজের ইতিহাস নিজে সৃষ্টি করছে। এইখানে মানুষের বৈশিষ্ট্য, এইখানে তার গৌরব। এই ছিল পশ্চিমী নবজাগরণের বাণী। কৃষি ও শিল্পের ক্ষেত্রে একটা সম্ভাব্য সৃজনশীল ভূমিকা থেকে বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত যতই পিছিয়ে এলো ততই ভিতরে ভিতরে তার আত্মবিশ্বাস ভাঙতে লাগল। তুলনায় পাঞ্জাবী ও গুজরাতীর আত্মবিশ্বাস বেশী। তবু বাঙ্গালীর ভিতর যেটা প্রকট, ভারতের মধ্যবিত্তের বৃহত্তর অংশে সেটাই কম বেশী বর্তমান। বাঙ্গালীর সংকট ভারতেরও সংকট। চেতনায় ও বাস্তবে আমরা সবাই একই উপমহাদেশের অধিবাসী।

    মধ্যবিত্তকে আশ্রয় করেই যুক্তিধর্মিতার জন্ম ও প্রসার ঘটে। আমাদের মধ্যবিত্তের যুক্তিধর্মিত ওকালতিবুদ্ধি এবং ডেপুটির সাবধানী মনোবৃত্তিতে পর্যবসিত হল। এর সঙ্গে প্রয়োগধর্মী বৈজ্ঞানিক বুদ্ধির বলিষ্ঠ যোগ স্থাপিত হল না! কর্মভিত্তিক নীতিবোধও। এদেশের নগরসমাজে গড়ে উঠল না। আমাদের মধ্যবিত্তের উচ্চাশার চূড়া সরকারী শাসনযন্ত্রে, অর্থাৎ আমলাতন্ত্রে, একটি বড় চাকুরি। সৃজনের সুযোগ সেখানে না থাকুক, নিরাপত্তা এবং মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্য আছে; সেটাই আমাদের বৈষয়িক বৃন্দাবন। এতে করে। ভিতরে ভিতরে নিজের প্রতি একটা অবজ্ঞাবোধ অবশ্য আটকানো গেল না। কাজেই আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে তিক্ত এবং বিপ্লবাত্মক ধ্বনি উচ্চারণও আমরা সরল বিশ্বাসে আমাদের অভ্যস্ত মন্ত্রতন্ত্রের অঙ্গ করে নিয়েছি।

    এই সব লক্ষণ মধ্যবিত্তের সকল অংশের ভিতরই দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে মধ্যবিত্তের একটি প্রধান অংশ, অধ্যাপক সম্প্রদায়কে, ধরা যাক। আজকের অধ্যাপক নিজ বৃত্তিতে বিশ্বাস হারাতে বসেছেন, অর্থাৎ যে জ্ঞান তিনি পরিবেশন করছেন তার মূল্য সম্বন্ধে অধিকাংশ অধ্যাপক গভীরভাবে সন্দিহান। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটা তুলনায় কম, কলা বিভাগে স্বাভাবিক কারণেই এই সংশয়বাদী মনোভাবের বিশেষ প্রাবল্য এই সংশয়বাদিতা অধ্যাপকদের নতুন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে এগিয়ে যাবার শক্তি দিচ্ছে না, বরঞ্চ নিজ কর্তব্যে অবহেলার সপক্ষে একটি দুর্বল যুক্তি যোগাচ্ছে মাত্র।

    যে অধ্যাপকেরা সৎ এবং পরিশ্রমী, তাঁরা অন্যের উপহাসের পাত্র হয়ে উঠছেন। কর্মভিত্তিক নীতিবোধ অধ্যাপক সম্প্রদায় নিজ চেষ্টায় গড়ে তুলবেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলবেন, এমন সম্ভাবনা আজ সুদূর পরাহত। শুধু একটি দাবীতে অধ্যাপক সম্প্রদায়ের ভিতর উৎসাহ এবং অবিচলতা দেখা গেছে। আমলাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যে বেতন পান অধ্যাপকদেরও সেই হারে বেতন দিতে হবে, এটাই তাঁদের বহুদিনের দাবী মধ্যবিত্তের অন্যান্য অংশের মতোই অধ্যাপকেরাও আমলাতন্ত্রের উচ্চপদের প্রতি দৃষ্টি রেখে সেইখানে নিজেদের উচ্চাশার পরিমাপ খুঁজেছেন। অথচ আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ব্যবধান, সঙ্গত কারণেই, কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক আক্রমণের লক্ষ্য। সমালোচনার এই অধিকার নিঃসন্দেহে রক্ষা করা আবশ্যক। কিন্তু এ বিষয়েও সন্দেহ নেই যে, অধ্যাপকেরা আমাদের চাকুরীজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রধান প্রধান সমস্ত রোগেই আক্রান্ত। কথাটা বিশেষভাবে বলতে হল এই জন্যেই যে, তরুণদের কাছে এঁরাই দৃষ্টান্ত! অন্তত চিন্তার ক্ষেত্রে, বিগত শতকের নবজাগরণের প্রধান উত্তরাধিকারী আজকের অধ্যাপক সম্প্রদায়। নতুন চিন্তার আন্দোলন এঁদের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত। আত্মসমালোচনা ছাড়া সেই আন্দোলনকে সমাজের কাছে বিশ্বাস্য করে। তুলবার আজ আর অন্য পথ নেই।

    .

    ৩

    আমাদের মধ্যবিত্তের চেতনায় ওকালতী বুদ্ধির প্রাবল্যের কথা উল্লেখ করেছি। ঐ জাতীয় বুদ্ধির প্রতি কটাক্ষ করা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং এর প্রয়োজন স্বীকার্য। তবে, ‘ওকালতী বুদ্ধির সঙ্গে বিজ্ঞা সচেতনতা এবং কর্মভিত্তিক নীতিবোধ যোগ হলে তবেই যুক্তিধর্মিত নিজ স্তরে একটা সম্পূর্ণতা লাভ করে। এই যোগাযোগের অভাবে, যে। জিনিসটা সম্পর্ণের অংশ হিসেবে একটা বিশেষ মূল্য পেতে পারত, সেটাই আবার বিকৃত হয়ে ওঠে। ওকালতী বুদ্ধির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আইন সম্বন্ধে সচেতনতা আমাদের একটা নৈব্যক্তিক ন্যায়বোধের দিকে এগিয়ে দেয়নি। পরিবারের বাইরে, বৃহত্তর জীবনের নানা কাজে, স্বজন ও অন্যজনকে সমান চোখে দেখবার প্রয়োজন ঘটে। সেই সমদৃষ্টি আমাদের সমাজে বিরল, স্বজনপোষণই প্রচলিত। আইন বিষয়ে সচেতনতা শুধু আমাদের কলহপরায়ণতাকে উৎসাহিত করেছে। এটাই ওকালতী বুদ্ধির বিকৃতি।

    আমরা সাম্যবাদ অথবা সমাজতন্ত্রের কথা বলি। কিন্তু এক্ষেত্রেও একই কারণে সেই বিকৃতিই আবার দেখা দিয়েছে। আমরা সমাজকে যা দিই এবং সমাজের কাছ থেকে যা নিই, এ দুয়ের ভিতর একটা সাম্য থাকা উচিত। আমি যা পাচ্ছি তার পরিবর্তে সমমূল্যের কিছু দিচ্ছি কি না, এ প্রশ্নটা জরুরী। এ দেশের মধ্যবিত্ত কিন্তু নিজেকে এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে অভ্যস্ত নয়। নীরদ চৌধুরী, তাঁর স্বভাবসিদ্ধ অতিরঞ্জিত ভাষায় লিখেছিলেন যে, কিছু না করে মাইনে পাবার অধিকার, এ দেশের সংবিধানে অলিখিত কিন্তু সর্বস্বীকৃত অধিকার। অতিরঞ্জনের অংশটা বাদ দিলে কথাটায় তবু কিছু সত্য অস্বীকার করা যায়। অথচ আমরা সাম্যবাদী। বলা বাহুল্য, আমি এখানে সাম্যবাদী তত্ত্বের কথা বলছি; মধ্যবিত্ত চেতনার অপূর্ণতার কথাই বলছি।

    আমরা সবাই কিছু না-দিয়ে কিছু পেতে চাই এবং এটাকেই সরকারী সমর্থনে একটা চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করে তুলতে চাই; কিন্তু সেটা হয় না। মনের একটা অংশে আমরা জানি যে, সেটা হতে পারে না। অন্যের ভিতর, বিশেষত নিজ গোষ্ঠীর বাইরে কারো মধ্যে, এটা না দেখলে আমরা কখনও ক্রুদ্ধ হয়ে উঠি। কিন্তু এই সমালোচনা সাধারণীকৃত হয়ে আত্মসমালোচনায় পরিণত হয় না। আত্মপ্রতারণাকে কেউ কেউ তত্ত্বকথা দিয়ে সাজান। তাঁদের কাঙিক্ষত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না-হওয়া অবধি অন্য কিছু আশা করাটাই ভুল। আগে আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে, তারপর তাঁরা কাজে মনোযোগী হবেন। কর্মভিত্তিক নীতিবোধের অভাবে শুধু ওকালতী বুদ্ধিরই নয়, তত্ত্বেরও বিকৃতি রোধ করা যায় না।

    আপৎকালীন ব্যবস্থায় আজকের সংকট একটা বিশেষ রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত সংকটের মুহূর্তটিকে যখন নাটকীয়ভাবে বেছে নিলেন জরুরী অবস্থা জারি করবার জন্য, তখন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে উঠল। তবু মনে রাখা ভালো যে, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের বিশ্লেষণে ইতিহাসের তাৎপর্য ধরা পড়ে না। সেই তাৎপর্যের আলোচনাই যুগের দৃষ্টিতে বেশী জরুরী। আপৎকালীন অবস্থায় একটি প্রবন্ধে যা লিখেছিলাম, আলোচনার সুবিধার জন্য তারই একটি অংশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি :

    “With the proclamation of a special state of emergency in India in June 1975, India has come to the end of her liberal cra, at least temporarily. The fundamental rights of the citizen now stand suspended. The press in India has been gripped by a fear unknown in recent history … There is an essential difference between the kind of discipline that is necded in offices and factories and other places of work for material production and the freedom required for the creative work of writers and artists. Such distinctions are casily overlooked when the problem is sought to be solved by political means and administrative fiats. Those in authority have to be extraordinarily discriminating and forbearing or they cannot avoid gross citors of judgement in such matters… In the perspective of history, the emergency is a passing phenomenon. Through it and beyond it loom those larger discords which belong to a whole age and wait patiently to be resolved.”

    আপৎকালীন, ব্যবস্থাকে একদিন, অনুশাসন পর্ব, আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। জোর পড়েছিল শৃঙ্খলাবোধের ওপর; ‘কথা কম, কাজ বেশী এই রকম একটা বুলি চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে সরকার শুধু রাজনীতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরই জেলে পাঠাননি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন, বিবেকবান বহু লেখকের কণ্ঠরোধ করেছিলেন। অর্থাৎ, আমাদের জাতীয় জীবনে কমভিত্তিক নীতিবোধের যে-অভাব অনস্বীকার্য, তাকেই সেদিন ব্যবহার করা হয়েছিল আতিশয্য ও জবরদস্তির সপক্ষে মৌলিক যুক্তি হিসেবে।

    জরুরী অবস্থার জবরদস্তি আজ শেষ হয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন শেষ হয়নি। রামমোহন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। তিনি বিচারের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। প্রতিটি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এই স্বাধীনতার মূল্য ও মূল শর্তগুলি আমাদের নতুন করে উপলব্ধি করতে হবে।

    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চাই, কারণ এর অভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অনুচ্চারিত থাকে, আর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দল ভুল পথে বহু দূর চলে না-যাওয়া পর্যন্ত ভুল বলে কিছু তার চোখে ধরাই পড়ে না। এতে সকলেরই অমঙ্গল। মত প্রকাশের স্বাধীনতা মূল্যবান, কেন না চতুর্দিকে একটা আতংকের পরিমণ্ডল সৃষ্টি না করে এই স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়। মানুষের মনুষ্যত্বেরই ওপর এটা আঘাত। যুক্তি ও বিচারের স্বাধীনতা চাই, কারণ মানুষের ভিতর চৈতন্যের একটা সৃজনশীল দ্বন্দ্ব ক্রমাগত চলছে, যার ভিতর দিয়ে সে এক স্তর থেকে পথ হাতড়ে অন্য স্তরের দিকে পা বাড়ায়। সেই দ্বন্দ্বকে অস্বাভাবিকভাবে অস্বীকার করার চেয়ে বড় ভ্রান্তি কমই আছে। মানুষের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব কোনো বাঁধা সরকারী রাস্তায় কখনও চলে না। নবজাগরণের কোনো বড় শিক্ষা থাকে তবে এই স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করবার শিক্ষা অন্যতম।

    এই স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রেখেও সমাজে কর্মভিত্তিক নীতিবোধ কি করে জাগিয়ে তোলা যায়, এটাই মূল প্রশ্ন। এই প্রশ্নটিকেই সাম্প্রতিক ইতিহাস আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে। স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে, এটা সহজ প্রশ্ন নয়। তবু এর একটা সমাধান চাই। কারণ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রেখে সমাধানের পথ যদি আমরা খুঁজে বের করতে না পারি, তবে গণতন্ত্র আবারও বিপন্ন হবে, অন্য কোনো নামে অন্য কোনো রূপে। কিন্তু নামরূপে কি এসে যায়!

    জরুরী ব্যবস্থাকালীন দ্বিতীয় বহু বিজ্ঞাপিত বিষয় ছিল, ‘বিশদফা কার্যক্রম, অন্তহীন পুনরুক্তির গুণে যেটা অন্তঃসারশূন্য ধ্বনিতে পর্যবসিত হয়েছিল। কিন্তু এর পিছনেও অপরিচ্ছন্নভাবে একটা মূল ভাব ছিল, যেটা মূল্যবান। সেটা হল, নগর ও পল্লীর ভিতর বৈষম্য হ্রাসের চিন্তা।

    এ নিয়েও শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন এবং চিন্তার প্রয়োজন থাকবে। পরীক্ষানিরীক্ষার ভিতর দিয়ে এর উত্তর খুঁজে নিতে হবে। উনিশ শতকের নবজাগরণ নগরে সীমাবদ্ধ ছিল। সে জন্য তাকে মূল্যহীন মনে করা অবশ্য ভুল। ইতালীর রেনেসাঁসও ছিল নগরভিত্তিক; তাই বলে তার মূল্য আমরা অস্বীকার করি না। আমাদের নবজাগরণের নেতারা নমস্য। কিন্তু সেটাই একমাত্র কথা নয়। প্রধান কথা এই যে, নগর ও পল্লীর ভিতর আর্থিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন না হলে নবজাগরণের মূল্যবোধগুলি আজ আর রক্ষা পাবে না। একথা রবীন্দ্রনাথের চেয়ে গভীর ও পরিচ্ছন্নভাবে আর কেউ জানতেন না। তাই মহানগরীর ঐ শ্রেষ্ঠ সন্তানটি পল্লীতে তাঁর সাধনার কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। কুসংস্কার যেখানে সব চেয়ে অটল, দৈন্য যেখানে সব চেয়ে গভীর, বিজ্ঞান ও যুক্তিধর্মিতাকে সেখানেই আহ্বান করতে হবে, তার প্রয়োগধর্মী রূপে। ভগবানকেই শুধু নয়, বিজ্ঞানকেও গরীবের ঘরে দর্শন দিতে হয় রুটি এবং স্বাস্থ্য হাতে করে। শিক্ষা চাই, ভূমি সংস্কার চাই, চাই গ্রামে গ্রামে ব্যাংক ও বীমার ব্যবস্থা। আর এ সবই চাই বিজ্ঞানের প্রয়োগের পথ সহজ করে তুলবার জন্য। এ শুধু পল্লীকে বাঁচাবার পথ নয়। এছাড়া নাগরিক সংস্কৃতিকেও মুক্ত এবং সার্থক করবার আর কোনো উপায় নেই। পল্লীকে মুক্ত করে তবেই নগর আজ মুক্ত হতে পারে।

    এ যদি না হয় তবে মধ্যবিত্তের যুক্তিধর্মিতা দুর্বল, ভঙ্গুর এবং অপূর্ণই থেকে যাবে। আর এই অপূর্ণ যুক্তিধর্মিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত যে-অধ্যাত্মচিন্তা, তাও অপূর্ণ। অপরিশুদ্ধ বলেই অপূর্ণ। আমাদের সমাজ ও রাজনীতিতে জাতি, বর্ণ, ধর্ম ইত্যাদি নিয়ে যে ভেদাভেদ ও জটিলতা, তার কিছুই এই অপরিশুদ্ধ আধ্যাত্মিকতায় দূর করা যাবে না। আজকের সমাজকে বেঁধে রাখা যাবে না শুধু শাস্ত্র প্রামাণ্য দিয়ে সেজন্য চাই গঠন ও সংগঠন, চাই শ্রম ও বিজ্ঞান। আজকের অধ্যাত্মচিন্তাকে সেই সেতু রচনা করতে হবে, যার এক প্রান্তে বিজ্ঞান আর অন্য প্রান্তে ‘স্বানুভূতি’। উপজাতীয় ধর্ম ও সংস্কৃতির উর্ধ্বে। স্বাধীন মানুষের ঐক্যের যে প্রতিষ্ঠাভূমি নবজাগরণের কাম্য ছিল, তাকে লাভ করবার এই পথ।

    ব্যক্তি যুক্তি সমাজ (১৯৭৮)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র ১
    Next Article এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    Ek Pata Golpo

    সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

    October 28, 2025
    Ek Pata Golpo মহালয়া

    মহালয়া: মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya: Mahishasuramardini)

    September 10, 2025
    Ek Pata Golpo

    গাছের পাতা নীল – আশাপূর্ণা দেবী

    July 7, 2025
    Ek Pata Golpo

    লিঙ্গপুরাণ – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    June 3, 2025
    Ek Pata Golpo

    ৪. পড়ন্ত বিকেল

    April 5, 2025
    Ek Pata Golpo ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পূজারির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }