Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Ek Pata Golpo এক পাতা গল্প1207 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.২০ মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ

    আমরা যখন মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছি তখন নিজেদেরই বিষয়ে কথা বলছি। আপনি আমি, এই প্রবন্ধটির যাঁরা পাঠক তাঁদের অধিকাংশই, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এর একটা সুবিধা আছে, আবার অসুবিধাও আছে। সুবিধা এই, আমরা বিষয়টা অনেকখানি ভিতর থেকে জানি। অসুবিধাটাও অগ্রাহ্য করবার মতো নয়। নিজের সম্বন্ধে নিরপেক্ষভাবে লেখা কঠিন। আমাদের চোখে নিজেদের দুঃখ ও ক্ষতি অতিরিক্ত বড় আকার নিয়ে দেখা দেয়, অন্যের দুঃখ কিংবা ক্ষতি তুলনায় ছোটো মনে হয়। অন্যের লাভ আমরা ঈষার চোখে দেখে থাকি, নিজের লাভটাকে লাভ বলে সহজে স্বীকার করতে চাই না। এই কথাটা মনে রেখে, এ বিষয়ে লিখতে গিয়ে, অনেকটা সাবধানতা প্রয়োজন হয়।

    মধ্যবিত্ত সম্বন্ধে একটা কথা অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত একটা ক্ষয়িষ্ণু শ্ৰেণী, মধ্যবিত্তের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কথাটা কি সত্যি? কোন অর্থে এটা মান্য? এই সঙ্গে এসে যায় আরও গোড়ার একটা প্রশ্ন : মধ্যবিত্ত বলতে কাদের বুঝতে হবে? ভবিষ্যৎ নেই কাদের? এবং কেন?

    পুরনো একটা সরলীকৃত তত্ত্ব এইখানে স্মরণ করা যেতে পারে। বিষয় ধনতন্ত্র। ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে একদিকে আছে বড় পুঁজিপতি, যেমন বড় ব্যবসায়ী এবং বৃহৎ শিল্পের মালিকবৃন্দ আর অন্যদিকে বিত্তহীন শ্রমিক, সংখ্যায় যারা সমাজের গরিষ্ঠ অংশ। মাঝখানে ছোট ছোট ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র শিল্পের মালিক, অল্পস্বল্প পুঁজি নিয়ে যাদের কাজকারবার। তত্ত্বটা হল এই যে, ছোট ব্যবসায়ী, ছোট শিল্পপতি এদের কোনও স্থায়িত্ব নেই, এদের ভিতর কয়েকজন হয়তো ক্রমে বড় ব্যবসায়ী, বড় শিল্পপতি হয়ে উঠবে, আর বাকি অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সব খুইয়ে বিত্তহীন শ্রমিক শ্রেণীর সঙ্গে মিশে যাবে। এই অর্থে মধ্যবিত্তের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। সমাজ ভাগ হয়ে যাচ্ছে বিপরীত প্রান্তে অবস্থিত দুই শ্রেণীর ভিতর। যারা মাঝামাঝি আছে ইতিহাস শেষ অবধি ঠেলে দিচ্ছে তাদের এক প্রান্তে কিংবা অন্য প্রান্তে। অবশ্য এমন হতে পারে যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ছোট শিল্পপতি ও ছোট ব্যবসায়ী যেমন তলিয়ে যাচ্ছে তেমনি কিছু আবার ক্রমাগত জন্মলাভ করছে। কাজেই ব্যষ্টি হিসেবে স্থায়ী না হলেও সমষ্টি হিসেবে ছোট ব্যবসায়ীরা লোপ পাচ্ছে না। অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এদের আকার এবং প্রকার বদলে চলেছে, কিন্তু এরা টিকে আছে। যাই হোক, এই যে তত্ত্বের কথা বলা হল এটা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ করা নিষ্প্রয়োজন। মধ্যবিত্তের গঠন সম্বন্ধে যে ধারণা অবলম্বন করে এই তত্ত্বের বিস্তার, আমাদের পরিচিত সমাজের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নেই। এই সমাজের সঙ্গে মিলিয়ে চিন্তার ছক তৈরি করা দরকার।

    আমাদের পরিচিত সমাজে মধ্যবিত্তেরা অধিকাংশ চাকরিজীবী। অনেকেই সরকারী চাকরিতে নিযুক্ত। অনেকে শিক্ষক, ডাক্তার, উকিল, ইঞ্জিনিয়ার। ছোট ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি এখানকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গরিষ্ঠ অংশ নয়। এই সামাজিক বাস্তবের সঙ্গে মধ্যবিত্তের সংজ্ঞাটা মিলিয়ে নেওয়া দরকার। তা ছাড়া, এটা একান্তভাবে আমাদের সমাজের কথাও নয়। শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সব দেশেই একটা পেশাদারী মধ্যবিত্ত শ্রেণী প্রধান হয়ে উঠেছে, যাদের অবলম্বন প্রযুক্তিবিদ্যা ও কৃৎকৌশল কিংবা কোনও বিশেষ শাস্ত্রে দক্ষতা। সরকারের শাসনযন্ত্র এই শতাব্দী ধরে প্রধান প্রধান সব দেশেই বিশাল আকার ধারণ করেছে, সরকারী কর্মচারীর সংখ্যা কোনও দেশেই নগণ্য নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল রেখে বৃহৎ শিল্প বিস্তার লাভ করেছে, এইসব শিল্পে নিযুক্ত নানা স্তরের অফিসার বা আধিকারিক ও কৃকুশলীদের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। আধুনিক শিল্পে অদক্ষ শ্রমিকের স্থান কমছে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিকের গুরুত্ব বাড়ছে। এইসবের ফলে আজকের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বসেছে এক নতুন মধ্যবিত্ত, আর্থিক বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে মধ্যবিত্তের অস্তিত্ব লোপ পাবার কোনো আশু সম্ভাবনা নেই। এ ব্যাপারে আমাদের দেশও ব্যতিক্রম নয়।

    মাঝে মাঝেই অবশ্য রব শোনা যায়, মূল্যস্ফীতির ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণী ভেঙে যাচ্ছে। আসলে মধ্যবিত্ত একইসঙ্গে ভাঙছে ও গড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় সমাজে নিম্নমধ্যবিত্তের ভোগান্তির অন্ত নেই; কিন্তু মোটের ওপর মধ্যবিত্ত আকারে-প্রকারে বেড়েই চলেছে। যাদের আয় টাকার অঙ্কে প্রায় অনড়ভাবে বাঁধা, মূল্যস্ফীতির ফলে তাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। পেনসনভোগীরা এ কথাটা ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিটাই একমাত্র ঘটনা নয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়ও যে টাকার অঙ্কে বাড়ছে সেটাও প্রধান কথা নয়। প্রধান কথা এই যে, অর্থনীতির গঠনটাই বদলে চলেছে। সরকারী ও বেসরকারী সবরকম প্রতিষ্ঠানেই এমন সব পদ ও সুযোগ ক্রমেই সৃষ্টি হয়ে চলেছে যাতে মধ্যবিত্তের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই গত তিরিশ বছরের উল্লেখযোগ্য মুদ্রাস্ফীতির পরও আমাদের সমাজে মধ্যবিত্ত আগের তুলনায় আরও বড় স্থান জুড়ে আছে। হাহাকারের কিছু কারণ অবশ্য আছে, সে বিষয়ে সামান্য আলোচনা পরে করা যাবে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণী বিলুপ্তির পথে, এই কথাটা গত কয়েক দশকের ইতিহাসের সঙ্গে মোটের ওপর মেলে না।

    আরও দীর্ঘ দৃষ্টি নিয়ে দেখলে অন্য একটা কথাও স্বীকার করে নিতে হয়। মধ্যবিত্তের সমালোচনায় মধ্যবিত্তই সবচেয়ে মুখর। সেই সমালোচনা ভিত্তিহীন নয়, তাকে উপেক্ষা করা যায় না। তবু স্বীকার করে নেওয়া ভালো, আধুনিক ইতিহাসের রচনায় মধ্যবিত্তের একটা স্মরণীয় ভূমিকা আছে।

    .

    (খ)

    মধ্যবিত্তের প্রধান অবদান নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এই শ্রেণীটির জয়যাত্রা শুরু হয়েছে নগর থেকে, এ যুগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রধানত নগরভিত্তিক। নাগরিক সভ্যতা বিস্ময়ের পর বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছে। বিদ্যুৎকে সে ঘরে ঘরে টেনে এনেছে। পরমাণুর ভিতরের রহস্য উদঘাটন করে তাকে করে তুলেছে মানুষের ব্যবহার্য শক্তির এক বিস্ময়কর উৎস। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত অক্লেশে উড়ে বেড়াবার উপায় উদ্ভাবন করবার পর এখন সে যাত্রা শুরু করেছে গ্রহে উপগ্রহে। মস্তিষ্কের গঠন ও গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞানসংগ্রহ করে সে তৈরি করেছে কিছু অভূতপূর্ব যন্ত্র, যার প্রাথমিক উদাহরণ নানা জাতের কম্পুটার। একদিন যন্ত্র ছিল প্রধানত পেশীশক্তির পরিপূরক, আজ সে মস্তিষ্কের শক্তিরও পরিপূরক। এই সবই নগরভিত্তিক মধ্যবিত্তেরই কীর্তি।

    এই মধ্যবিত্তের অন্য এক সৃষ্টি আধুনিক গণতন্ত্র। সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় সমাজে সাধারণ মানুষের স্বাধীন চিন্তা ও সংগঠনের অধিকার ছিল অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। সেই অধিকার ক্ৰমে প্রসারিত হয়েছে। সাম্য প্রতিষ্ঠিত হোক বা না হোক, আর্থিক ও সামাজিক সাম্য সম্বন্ধে ধারণা এ যুগে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তার লাভ করেছে। সামাজিক সাম্য নামক বস্তুটি মধ্যযুগে অক্লেশে অস্বীকৃত ছিল। আজ আর সে কথা বলা যাবে না। বৈষম্য এখনও আছে, লজ্জাজনকভাবেই আছে। তবু জাতি সম্প্রদায় অথবা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকারের কথাটা যে আমরা সংবিধানে উচ্চারণ করি, এটাও প্রাচীন সংহিতার সঙ্গে তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক পরিবর্তন।

    মানুষের ইতিহাসকে যদি সামাজিক মুক্তির ইতিহাস বলে বিবেচনা করা যায় তবে তাতে। এ যুগের মধ্যবিত্তের একটা বিশিষ্ট, যদিও বিতর্কিত, ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না। প্রাচীন সমাজে ব্যক্তিমানুষ ছিল পরিবার জাতি ও গ্রামসমাজের অবিচ্ছিন্ন অংশ। ক্রমে ব্যক্তির ওপর পরিবার জাতি ও গ্রামসমাজের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে এসেছে। এটা ঘটেছে নাগরিক জীবনের প্রসার ও ক্ষমতাবৃদ্ধির ফলে। পুরনো ঐতিহ্যের বন্ধন ভেঙে মুক্তচিন্তা কিংবা। বুদ্ধিমুক্তির আন্দোলন শুরু হয়েছে। আধুনিক যুগের অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে এটা যুক্ত। বিজ্ঞান হোক, ব্যক্তিস্বাধীনতা অথবা গণতান্ত্রিক অধিকার হোক, মানুষের বুদ্ধির মুক্তির সঙ্গে এই সবকিছুরই যোগ আছে।

    এ যুগের মধ্যবিত্ত যে নতুন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে তার বহু গুরুতর ত্রুটি আছে। এই সভ্যতাকে যদি আমরা অতিক্রম করে যেতে না পারি তবে সর্বনাশ ঘটতে পারে। তবু মধ্যবিত্তের অবদান স্বীকার্য। একে অস্বীকার করে এগোবার। চেষ্টা করাটা ভুল। এর যেটা শ্রেষ্ঠ অংশ তাকে রক্ষা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

    .

    (গ)

    মুদ্রাস্ফীতির ফলে নয়, মধ্যবিত্তের জীবনে আজ অভাব আর মেটে না ক্রমবর্ধমান ভোগবাদের ফলে। একটির পর একটি নতুন ভোগ্যবস্তু বাজারে এসে পৌঁছচ্ছে; জীবনের সুখ যে সেটি ছাড়া নিতান্তই অসম্পূর্ণ এ কথা বোঝাবার জন্য প্রচারযন্ত্র তৎপর হয়ে উঠছে; গৃহস্থও সেইরকম বুঝতে দেরি করছেন না। প্রাচীনেরা বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বরের জন্য আকাঙ্ক্ষাই উন্নতির উপায়। এ যুগের মানুষ বিশ্বাস করে, ভোগের আকাঙ্ক্ষাই উন্নতির উপায়।

    ভোগবাদের সঙ্গে আধুনিক জগতের কিছু মূল বৈশিষ্ট্যের যোগ আছে। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে শক্তি, বাহ্য প্রকৃতির ওপর কর্তৃত্ব। শিল্পবিপ্লবের ফলে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কের ভিতর একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে। ক্রীতদাস যেমন মালিকের আজ্ঞাবহ ভোগের বস্তু, প্রকৃতির ওপর ঐরকমের একটা আধিপত্য স্থাপন করবার দিকে ঝোঁক নাগরিক সভ্যতার। প্রকৃতি দাস, মানুষ প্রভু, বিজ্ঞান সেই প্রভুত্ব কায়েম করবার উপায়। ভালোবাসা থেকে যা পাওয়া যায়, প্রভুত্ব থেকে তা পাওয়া সম্ভব নয়। প্রভুত্ব থেকে ভোগের তৃপ্তিই সম্ভব। সেটাই তখন হয়ে ওঠে লক্ষ্য। শেষ অবধি অবশ্য ভোগের তৃপ্তিও লাভ হয় না। দারিদ্র যেমন একটা বন্ধন, যেটা ভাঙা দরকার, ভোগস্পৃহাও তেমনি একটা বন্ধন। এটা ভাঙা কঠিন।

    আধুনিক সমাজের আরেক লক্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রাধান্য। পুরনো যুগে রাজায় রাজায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। সাধারণ মানুষের জীবন ছিল গতানুগতিকায় বাঁধা, প্রায় গতিহীন। আজকের সমাজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বস্তরে, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে, জাতিতে জাতিতে, দেশে দেশে। শুধু অর্থ নিয়ে নয়, ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব। এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মধ্যবিত্তের একটা বিশেষ ভূমিকা আছে। গৌরবে অগৌরবে মিশ্রিত সেই কাহিনী।

    এ দেশের বিদেশী শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। আবার তারই সূত্র ধরে শুরু হয়েছে হিন্দু ও মুসলমান মধ্যবিত্তের ভিতর ক্ষমতার। দ্বন্দ্ব। দেশ দুই খণ্ড হল। স্বাধীনতা লাভের পর চার দশকের বেশি সময় কেটে গেছে। মধ্যবিত্তের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ভিতর। অনুন্নত জাতিসম্প্রদায়ের ভিতর থেকে নতুন মধ্যবিত্ত ধীরে ধীরে গঠিত হচ্ছে, তাদেরও স্বাভাবিকভাবেই কিছু আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে। চাকরি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সরকারী শাসনযন্ত্রে কর্তৃত্ব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নতুন রাজ্য গঠনের দাবি নিয়ে লড়াই। এইসব দ্বন্দ্বেও নেতৃত্ব প্রধানত মধ্যবিত্তের।

    এখানে দেখি অন্য এক অসঙ্গতি অথবা স্ববিরোধ। মধ্যবিত্তের এক প্রধান অবদান ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যবোধের বিকাশ। অথচ মধ্যবিত্তই আবার নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন সব দ্বন্দ্বে যেখানে সংঘবদ্ধ লোভ ও ক্ষমতাস্পৃহার কাছে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য পরাস্ত।

    একদিকে পরিবার-জাতি-সম্প্রদায়ের বন্ধন শিথিল হচ্ছে। ব্যক্তি আত্মসচেতন হচ্ছে, বিশ্বে তার স্থান কোথায় সে চিন্তা তাকে নিজে করতে হচ্ছে। অন্যদিকে মানুষ পীড়িত তার একাকিত্বে। বন্ধনমুক্তিই যথেষ্ট নয়, সদর্থক কিছু চাই যা নিয়ে বাঁচা যায়। তার অভাবে মানুষ সহজেই ধরা দেয় অন্য কোনও উত্তেজক বন্ধনের হাতে।

    এ যুগে এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে। হয়তো যাত্রা শুরু হয়েছিল কোনও আদর্শের নামে, কিন্তু পরিণতি আদর্শের পরাজয়ে। অধ্যাপক শিবনারায়ণ রায়ের একটি কাহিনী এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে। জার্মানির এক প্রয়াত বিপ্লবী নেতার বৃদ্ধা স্ত্রী ক্লেয়ার থালহাইমারের সঙ্গে শিবনারায়ণের সাক্ষাৎ ঘটে। আউগুস্ত ও ক্লেয়ার দৃ’জনেই মানবেন্দ্রনাথ রায়ের বন্ধু ছিলেন। সাক্ষাৎকারের শেষে সেই বৃদ্ধা বিষণ্ণভাবে একটি প্রশ্ন করেন। এঁরা তো সবাই একটা আদর্শের জন্যই জীবন বিপন্ন করে কাজ করে গিয়েছিলেন, তবু পরিণামে প্রতিষ্ঠিত হল ভয়াবহ স্তালিনী সন্ত্রাসের রাজত্ব। কেন এমন হয়? তবে কি এঁদের জীবন ব্যর্থ? অধ্যাপক রায় এ প্রশ্নের পর নিরুত্তর ছিলেন।

    .

    (ঘ)

    ভারতের অর্থনীতি “মিশ্র” অর্থনীতি। “মিশ্র মানে সরকারী নীতি ও নিয়ন্ত্রণের কাঠামোর ভিতর সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগের সহাবস্থান। জহরলাল নেহরুর আমলে ঘোষিত লক্ষ্য ছিল এই যে, সরকারী উদ্যোগের প্রাধান্য ক্রমে বাড়বে, এ দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে হয়ে উঠবে সমাজতান্ত্রিক। গত দশ বছরে সরকারী নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবার দিকে ঝোঁক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এতে অনেকে উল্লসিত, অনেকে বিষণ্ণ। তবে এটা বিশ্বব্যাপী একটা ঝোঁকের সঙ্গে মিলছে! চীনে ও সোভিয়েত দেশেও সরকারী নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছে।

    যদিও আমাদের সঙ্গে ওদের অবস্থা ঠিক তুলনীয় নয় তবু একটা কথা সাধারণভাবে লক্ষ করবার যোগ্য। এ যুগের অভিজ্ঞতা এইরকম। দ্রুত শিল্পোন্নয়নের প্রথম অবস্থায়, অল্প কয়েকটি বৃহৎ শিল্পোদ্যোগের যখন প্রাধান্য, সেই সময়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শক্ত করা অপেক্ষাকৃত সহজ ও যুক্তিসঙ্গত। আরও অগ্রসর স্তরে, শিল্পের সংখ্যা ও ভোগ্যবস্তুর বৈচিত্র্যবৃদ্ধির পর, সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবার জন্য চাপ প্রবল হতে থাকে।

    সরকারী নীতির হেরফেরে এদেশের মধ্যবিত্তের সামগ্রিকভাবে খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। তবে মধ্যবিত্তের ভিন্ন ভিন্ন অংশের ওপর তার প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন হতেই পারে। আমাদের অর্থনীতির মতোই আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণীও গঠনে মিশ্র। এই শতাব্দীর আরম্ভে সরকারী চাকরিতে বাঙালির ছিল বিশেষ স্থান, ব্যবসায়ে। মারোয়াড়ী-গুজরাতীর প্রাধান্য। ব্যবসায় থেকে বাঙালি যতই পিছিয়ে গেছে ততই মতাদর্শের দিক থেকে সে হয়ে উঠেছে বণিকবিদ্বেষী। গান্ধীজী সহজে বলতে পারতেন, তিনি বানিয়া। কোনও বাঙালি নেতার পক্ষে এ কথা বলা সহজ নয়। এখানকার ঐতিহ্য ভিন্ন রকম। এ থেকে কিছু বাস্তব সমস্যা দেখা দেওয়া অসম্ভব নয়। সরকারি চাকরি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে চলেছে, সেখানে নিম্নবর্ণের দাবি ক্রমে জোরালো হচ্ছে। এই ঝোঁকটা অনিবার্য। বাঙালি যুবকেরা শিল্পবাণিজ্যে আরও উদ্যেগী হয়ে উঠলে ভাল। তা নইলে এখানকার মধ্যবিত্তের সমস্যা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে আবশ্যক পল্লীসংগঠনের কাজ।

    কিছুদিন আগে পান্নালাল দাশগুপ্ত মহাশয় একটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধটির শিরোনামা–রাজনীতি দূর হঠো। বিপ্লবী পান্নালাল একদিন বহু লোকের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গেও তিনি পরিচিত। তাঁর আদর্শনিষ্ঠা অতুলনীয়। এমন এক ব্যক্তি যখন ওই কথা বলেন তখন সেটা উপেক্ষা করা যায় না। কথাটা অবশ্য বিচার করতে হবে দেশের সামনে যে-কাজ আছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে।

    আমাদের দেশ কোন পথে যাবে সেই সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। তবে এমন কিছু কাজ আছে, এমন কিছু পরিবর্তন প্রয়োজনীয়, যে সব সম্পন্ন করতে হবে। তা নইলে শান্তি নেই।

    এ দেশের নেতৃত্ব ছিল বহুকাল অবধি উচ্চবর্ণের হাতে। এই উচ্চবর্ণের পরিধি অবশ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন। দক্ষিণ ভারতে উচ্চবর্ণ বলতে বুঝতে হবে প্রধানত ব্রাহ্মণ, আমাদের বাংলাদেশে ব্রাহ্মণবৈদ্যকায়স্থ। তবে সর্বত্রই উচ্চবর্ণের প্রাধান্য। এই অবস্থাটার পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে। দক্ষিণে ব্রাহ্মণের সেই আধিপত্য আর নেই। উত্তর ভারতে, বিহার থেকে মহারাষ্ট্র পর্যন্ত, নিম্নবর্ণের সংগ্রাম চলছে। বাংলাদেশে বসে আমরা ব্যাপারটা তেমনভাবে বুঝি না। এটা না বুঝলে কিন্তু এ দেশকে বোঝা হয় না। প্রতিষ্ঠিত মধ্যবিত্ত তথ্য মধ্যবর্ণের সঙ্গে নিম্নবর্ণের সংঘাত বেড়ে চলেছে। এই সংঘাতের যত শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করা যায় ততই মঙ্গল।

    প্রায় চল্লিশ বছর আগে এ দেশে পঞ্চবর্ষ পরিকল্পনার কাজ আরম্ভ হয়েছিল। ক্রমে এ দেশে আর্থিক পরিকল্পনার যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাতে কেন্দ্রের প্রাধান্য। এর কিছু কারণ আছে। কিন্তু এই ব্যবস্থার পরিবর্তন অনিবার্য। বিকেন্দ্রীকরণের দিকে লক্ষ্য রেখে পরিবর্তন চাই। পরিকল্পনার রচনায় ও রূপায়ণে গ্রামপঞ্চায়েত এবং জিলাপরিষদকে আরও ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিতে হবে। সমাজবিন্যাসে যেমন নিম্নবর্ণের ক্ষমতাবৃদ্ধি বেশিদিন রোধ করা যাবে না, আর্থিক পরিকল্পনার বিন্যাসেও তেমনি বিকেন্দ্রীকরণই ভবিষ্যতের পথ। এই দুয়ের মধ্যে একটা যোগ আছে যেটা বোঝা কঠিন নয়।

    মধ্যবিত্তের ভবিষ্যতের প্রধান নির্ধারক তার নিজেরই অন্তর্দ্বন্দ্ব। সেই দ্বন্দ্বের নানা রূপ আছে। এ দেশের মধ্যবিত্ত বহু জাতিতে, ভাষাগোষ্ঠীতে ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত। শহর ও গ্রামের ভিত্তিতে বিভেদও উল্লেখযোগ্য। এককালে শহরের মধ্যবিত্তের নিঃসন্দেহে প্রাধান্য ছিল। এখন গ্রামীণ মধ্যবিত্ত ক্রমে বড় হচ্ছে। সেই সঙ্গে মধ্যবিত্তের এই দুই গোষ্ঠীর ভিতর স্বার্থের সংঘাত বাড়ছে। রাজনীতিতে তার প্রতিফলন স্পষ্ট ও তীব্র হয়ে উঠছে।

    এই দ্বন্দ্বের ভিতর দিয়েই কিন্তু শহরের মধ্যবিত্তের কিছু বৈশিষ্ট্য গ্রামের মধ্যবিত্ত লাভ করছে। কিন্তু কোন বৈশিষ্ট্য? বিজ্ঞানমনস্কতা? ভোগবাদ? হয়তো দুইই। কিন্তু কতটা? এ সব প্রশ্নের কোনও পূর্বনির্ধারিত উত্তর হয় না। দ্বন্দ্বের মাঝখানে দাঁড়িয়েই সচেতনভাবে মূল্যবিচারের প্রয়োজন দেখা দেয়।

    আরও একটা বিভেদ সম্প্রতি আমাদের সমাজে সমস্যার সৃষ্টি করছে, যে-বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। সেই বিভেদের যোগ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে।

    এ দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ ইংরেজির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা লাভ করছে, অপরাংশ ইংরেজিতে দুর্বল। ইংরেজি ও মাতৃভাষার এই বিরোধ দুঃখজনক, উভয় ভাষাতে যুগপৎ দক্ষতা অর্জনের সপক্ষে ভালো যুক্তি আছে। কিন্তু কার্যত তা হচ্ছে না। ছাত্রসমাজের দুই অংশের ভিতর বিরোধ শুধু ভাষাজ্ঞান নিয়ে নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভেদটাই বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো। ইংরেজিতেই বেশি অভ্যস্ত যারা, তাদের ভিতর আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ তুলনায় বেশি। এদের অধিকাংশ নগরবাসী, অপেক্ষাকৃত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। ইংরেজিতে যারা দুর্বল তারা যে সবাই মাতৃভাষা সযত্নে পড়েছে এমন নয়, তবে এদের অধিকাংশ তুলনায় নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান, অনেকের যোগ গ্রামীণ অথবা অপেক্ষাকৃত ছোট শহরের মধ্যবিত্তের সঙ্গে। এইভাবে আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজটাই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ দুয়ের ভিতর যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য সেতু নেই।

    এ দেশের সমাজের পক্ষে এটা এক সঙ্কটজনক অবস্থা! রামমোহন ও মাইকেল মধুসূদন থেকে আরম্ভ করে বিনয়কুমার সরকার ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পর্যন্ত অনেকেই তাদের ‘বিশ্বদক্ষতা’কে লাগিয়েছিলেন স্বদেশের কাজে ও মাতৃভাষার সেবায়। এ দেশের সমাজের জীর্ণতা তাদের দেশত্যাগী করেনি। আজকের অবস্থা ভিন্ন। উঠতি মধ্যবিত্তের একাংশ স্বদেশের ভাষা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ আগ্রহী নয়। বিশ্বের বাজারের প্রতি আকৃষ্ট এদের বিশ্বদক্ষতা। অপরাংশ তারই প্রতিক্রিয়ায় হয়ে উঠছে সংকীর্ণ স্বাদেশিকতায় আক্রান্ত, মৌলবাদী। মধ্যবিত্তের যে সঙ্কট ও অন্তর্দ্বন্দ্ব ইরানে মুখবিকৃতি করে আছে, ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তা থেকে মুক্ত নয়।

    কথাটা আবারও বলা যাক। সমস্যা এই নয় যে, মধ্যবিত্তের অস্তিত্ব লোপ পেতে পারে। আজকের মধ্যবিত্তের গঠনই এমন যে তার লোপ পাবার আশঙ্কা কম। রাজনীতিতে এ-পক্ষ ও-পক্ষ দু’পক্ষেরই নেতৃত্ব মধ্যবিত্তের হাতে। সমস্যা অন্যত্র। প্রশ্ন এই যে, ইতিহাস আমাদের সামনে যে কর্তব্য স্থাপন করেছে, মধ্যবিত্ত তার জন্য তৈরি কি না? দলীয় রাজনীতি আমাদের বেশি দূর নিয়ে যেতে পারবে না। রাজনীতিকে দূর করে দেওয়া কঠিন, তবু তার সীমাবদ্ধতা দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আতঙ্কবাদী সন্ত্রাসকে। সে ঠেকাতে চায় রাষ্ট্রীয় হিংসার শক্তি দিয়ে। দুর্নীতিকে দুর্নীতি দিয়ে। ক্ষমতা নিয়ে লড়াই বাড়িয়ে তোলে দেশের ভিতর গৃহযুদ্ধ। এইখানে কোনও সবুজের লক্ষণ চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিময় যুবকযুবতীরা তাই আকৃষ্ট হয় না এই রাজনীতিতে। ব্যতিক্রম কিছু অভিনেতা, অথবা পারিবারিক ঐতিহ্য। নতুন চিন্তা, নতুন উদ্যোগ ও সদর্থক আন্দোলন, এরপর শুরু হতে পারে বিভ্রান্তিকর দলাদলির বাইরে। সেইখানে সম্ভব নতুন ভবিষ্যতের সূচনা।

    মধ্যবিত্তের বড় শত্রু অন্তর্দ্বন্দ্ব, জাতিসম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব। আজ দেশকে এই দ্বন্দ থেকে মুক্ত করা জরুরী কাজ। বিজ্ঞানচেতনার প্রতিনিধিত্ব করা যে-মধ্যবিত্তের ঐতিহাসিক দায়িত্ব সে যদি জাতিসম্প্রদায়ের দ্বন্দ্বে যুক্তির শত্রু হয়ে ওঠে তবে সেটা অতি বড় দুভাগ্যের কথা হবে।

    সন্দেহ নেই যে, দেশকে নতুন পথে নিয়ে যাবার কাজে আজকের প্রজন্মের কিছু বিশেষ সুবিধা আছে। বুদ্ধিমত্তায় ও স্বাভাবিক দক্ষতায় এরা আমাদের মুগ্ধ করে। প্রয়াত প্রজন্মের বহু কলহ থেকে এরা মুক্ত। নতুন চোখ নিয়ে সবকিছু দেখা এদের পক্ষে সহজ। এসব সুবিধা তুচ্ছ করবার মত নয়। এরা সাহস করে এমন ভবিষ্যৎ কল্পনা। করতে পারে বিদায়ী প্রজন্মের পক্ষে যেটা অসম্ভব।

    মধ্যবিত্তের যে-নেতারা দেশবিভাগের জন্য দায়ী, তাঁরা আজ বহুদিন হল ইতিহাসের মঞ্চ থেকে অপসৃত। আমরা এখনো তর্ক করে যাচ্ছি, কে দোষী? নিষ্ফল সেই তর্ক। সেদিন দেশকে দুভাগ করা ছাড়া অন্য কোনও পথ ছিল কি না সেই বাগবিতণ্ডাতেও বিশেষ লাভ নেই। প্রশ্ন এই, আজ কী করা যায়? ভবিষ্যতে কী করা সম্ভব? পৃথিবীর দরিদ্রতম উপমহাদেশে কোটি কোটি মানুষকে অর্ধাহারে রেখে ভারত ও পাকিস্তান বহু অর্থব্যয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে দুই সৈন্যবাহিনীকে নব নব রণসজ্জায় সজ্জিত করে তুলছে, এই অমানবিক অসঙ্গতিকে কি চিরকালের মতো মেনে নিতেই হবে? এখন আবার চলছে দুই দেশের ভিতর পারমাণবিক যুদ্ধের ভীতিপ্রদ অর্ধগোপন প্রস্তুতি। এর শেষ কোথায়? এটাই আজকের জরুরী প্রশ্ন। এই উপমহাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত অবধি নতুন। প্রজন্ম কি গড়ে তুলতে পারে না অন্য এক জনমত, অন্য এক ভবিষ্যতের সূচনা? মৌলবাদের ব্যর্থতা এইখানে যে, সে অতীতের হাতে বন্দী। অতীত থেকে সে পায়নি ঔদার্যের শিক্ষা, পেয়েছে “দেয়াল তোলা”র শিক্ষা। সেই বন্দীদশা থেকে নিজেকে মুক্ত করে দেশের নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়া–এই তো নতুন প্রজন্মের ঐতিহাসিক কর্তব্য ও অধিকার এই অধিকার কেউ কাউকে দান করতে পারে না, এটা অর্জন করবার বস্তু। আশা রাখতে হবে, নতুন প্রজন্মের সেই শক্তি আছে।

    এদেশে মধ্যবিত্ত যুবকদের সামনে একটা বড় সমস্যা বেকারি, বেরোজগারি। এটা অবশ্য মধ্যবিত্তের একার সমস্যা নয়। এর প্রাদুর্ভাব সর্বত্র। আমাদের অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে এটা আছে বিভিন্ন রূপে। একে সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখা দরকার। তবে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত ও সরব, কাজেই তার সমস্যার চেহারাচরিত্র ভিন্ন। সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা এই প্রজন্মের মনে এমন একটা প্রত্যাশা জাগিয়েছে যেটা অতীতে ছিল না। সমাজের কর্তব্য প্রত্যেকের জন্য শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ করে দেওয়া, এই প্রত্যাশার প্রতিতুলনায়। এদেশে কর্মের অভাব শিক্ষিত যুবকদের কাছে আরো অসহ্য। শিল্পোন্নত দেশের জীবনযাত্রার ছবি এদেশে পৌঁছে গেছে, সেটা পাবার তৃষ্ণাও বেড়ে চলেছে। এইসব অসামঞ্জস্যের ফলে আজকের যুবকের ব্যর্থতা আরো বেশি মানসিক পীড়াদায়ক ও মূল্যক্ষয়ী।

    কম বয়সে যে-ছেলেরা অতিবিপ্লবী, নকশালপন্থী, তারাই পরে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত, এমন উদাহরণ অল্প নয়। ব্যাপারটা একই সঙ্গে করুণ ও হাস্যাস্পদ মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজের একটা প্রধান অন্তর্দ্বন্দ্ব এখানে প্রতিফলিত। পৃথিবীর প্রায় দরিদ্রতম দেশের কৃষিঅর্থনীতির মধ্যে বেড়ে উঠেছে বিশ্বসচেতন এক মধ্যবিত্ত। নকশাল ছেলেরা অন্তত একটা কথা মনে হয় অন্য অনেকের চেয়ে গভীরভাবে অনুভব করেছে। এদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারিদ্র ও বেরোজগারি। যতদিন এমন নির্মম ও ব্যাপকভাবে টিকে থাকবে ততদিন শহরেও বেকারি দূর করা যাবে না। গ্রামোন্নয়নের কাজটা কঠিন, তবু এর বিকল্প নেই।

    অনেকে দুঃখ করে বলেন, পুরনো প্রজন্মের সমানে একটা গৌরবময় ঐতিহাসিক কাজ ছিল, জাতীয় স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, আদর্শবাদী যুবকদের যেটা আকৃষ্ট করেছে; কিন্তু আজকের যুবকদের উদ্বুদ্ধ করবার মতো বড় কাজ নেই। কথাটা মেনে নিলে আদর্শনিষ্ঠার শক্তিকে অস্বীকার করা হয়। একটা অতি জরুরী অতি মূল্যবান কাজ, এদেশের গ্রামে গ্রামেই সাজানো আছে। গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য গত দশ-বিশ বছরে সরকারী ব্যয়বরাদ্দ অনেক বেড়েছে। সেই বরাদ্দ টাকার অনেকখানি নষ্ট হচ্ছে লোভী অথবা দায়িত্বহীন ব্যবসায়ী, আমলা ও অন্যান্য মধ্যবর্তীদের কার্যকলাপের ফলে। গ্রামোন্নয়নের জন্য যে কর্মযজ্ঞের প্রয়োজন সেটা শুধু সরকারী উদ্যোগে টাকা ঢেলে সম্পন্ন করা যাবে না। সে জন্য আরো চাই, অন্য এক সমাজবোধ এবং স্থায়ী গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গী। অতীতের সব কাজের চেয়ে এটা আরো বড় কাজ, আদর্শনিষ্ঠার আরো বড় পরীক্ষা।

    মধ্যবিত্তের সমস্ত শক্তি ও প্রতিশ্রুতি কি ভোগের আকাঙ্ক্ষা আর ক্ষমতার কলহেই নিঃশেষ হয়ে যাবে? প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে এসে বিজ্ঞানের কৃতী ছাত্র সুজিত সিংহ আটঘরা গ্রামীণ বিকাশকেন্দ্রের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। এইখানে পাওয়া যেতে পারে অন্য এক সম্ভাবনার ইঙ্গিত। একদিকে পল্লীসংগঠন আর অন্যদিকে জাতপাতের সীমানা ভেঙে সামাজিক ও রাষ্ট্রিক কাঠামোর মৌল পুনর্গঠন, এই দুটি কাজে নতুন প্রজন্মের জন্য এমন এক চ্যালেঞ্জ ইতিহাস স্থাপিত করেছে যেটা দুরূহ সুযোগ ও গৌরবে অতুলনীয়। মধ্যবিত্ত নিজেকে স্থায়ী মূল্য দিতে পারে শুধু মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সীমানা ভেঙে ফেলে। দ্বন্দ্ব ও উত্তরণ (১৯৮৯)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র ১
    Next Article এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    Ek Pata Golpo

    সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

    October 28, 2025
    Ek Pata Golpo মহালয়া

    মহালয়া: মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya: Mahishasuramardini)

    September 10, 2025
    Ek Pata Golpo

    গাছের পাতা নীল – আশাপূর্ণা দেবী

    July 7, 2025
    Ek Pata Golpo

    লিঙ্গপুরাণ – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    June 3, 2025
    Ek Pata Golpo

    ৪. পড়ন্ত বিকেল

    April 5, 2025
    Ek Pata Golpo ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পূজারির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }