Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Ek Pata Golpo এক পাতা গল্প1207 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫.১৪ ভীমরাও রামজী আম্বেডকর

    ‘হিন্দু হয়ে আমি জন্মেছি, হিন্দু হয়ে মরব না।’ এই ছিল বাবাসাহেব আম্বেডকরের সংকল্প। জীবনের শেষ বছরে বহু অনুগামীকে নিয়ে বাবাসাহেব বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন। কিন্তু আরো অনেক আগেই হিন্দুধর্ম ত্যাগ করবার সিদ্ধান্ত তিনি ঘোষণা করেছিলেন।

    অথচ এই সংকল্পে তিনি সহসা পৌঁছননি। অনুমান করা যায়, তাঁর ভিতর একটা অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছিল দীর্ঘকাল। ১৯৩০ সালে নাগপুরে এক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন যে, উচ্চবর্ণের মানুষের শত অত্যাচার সত্ত্বেও হিন্দুধর্ম ত্যাগ করবেন না! এরপর কিছুকালের মধ্যেই কিন্তু মত পালটালেন।

    হিন্দুধর্মের তিনি কঠোর সমালোচক ছিলেন। কিন্তু হিন্দুত্ব কাকে বলে? আম্বেডকরের নিজের মনেই এ বিষয়ে দুটি ভিন্ন ধারণা পাশাপাশি স্থান পেয়েছিল। অমরাবতীতে ১৯২৭ সালে এক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, হিন্দুত্বের গৌরববৃদ্ধিতে কত মানুষ তাঁদের সাধনার ফল যোগ করে গেছেন, যাঁদের মধ্যে অছেন বশিষ্ঠের মতো ব্রাহ্মণ, কৃষ্ণের মতো ক্ষত্রিয়, হর্ষের মতো বৈশ্য, আবার তুকারামের মতো শূদ্র। এই যে হিন্দুত্ব যা দেয়াল দিয়ে ঘেরা নয়, যা গ্রহিষ্ণু সহিষ্ণু চলিষ্ণু, এর পাশে আবার আছে আরেক হিন্দুসমাজ যেখানে অনুদার ব্রাহ্মণ্যবাদের একাধিপত্য! ধর্ম সেখানে আচারের দেয়ালে ঘেরা আর উচ্চনীচের বিভেদ সেখানে মানবতার অধিকারকে পদে পদে নির্লজ্জভাবে খণ্ডিত করে চলেছে। ‘আমার আত্মসম্মানের সঙ্গে একে আমি কিছুতেই মেলাতে পারছি না, এই বলে ব্রাহ্মণ্যবাদে আশ্রিত হিন্দুধর্মকে আম্বেডকর ত্যাগ করেছিলেন। হিন্দুদর্শনে যে সব উচ্চভাবের কথা বলা হয়েছে বাবাসাহেব সেই সবের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সর্বজীবে শিবদর্শন আবার কোটি কোটি মানুষকে অস্পৃশ্যজ্ঞানে দূরে ঠেলে রাখার ভিতর যে আত্মবিরোধ ও নৈতিক শঠতা আছে, ভীমরাও রামজী আম্বেডকরের কাছে সেটা ঘৃণ্য ও অসহ্য মনে হয়েছিল।

    রামজী তাঁর পিতার নাম, ভীমরাও-এর জন্ম হয়েছিল মহার পরিবারে, জন্মসূত্রে তিনি অস্পৃশ্য। বিদ্যালয়ে তাঁকে সংস্কৃত পাঠ করতে দেওয়া হয়নি, কারণ নীচকুলে জন্ম, শাস্ত্রপাঠে তাঁর অধিকার নেই। অথচ ভীমরাও আম্বেডকরের স্বাভাবিক জ্ঞানতৃষ্ণা ছিল অসাধারণ। সৌভাগ্যের কথা বরোদার মহারাজার আনুকূল্য তিনি লাভ করেছিলেন, যার ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে পেরেছিলেন। সেখানে অর্থনীতি রাষ্ট্রদর্শন সমাজবিজ্ঞান-সহ বহু বিদ্যায় তিনি কৃতিত্ব অর্জন করেন। অল্পবয়সেই ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন কলম্বিয়া ও লন্ডন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তা ছাড়া লন্ডনে তিনি আইন অধ্যয়ন করেন।

    এত বিদ্যা সত্ত্বেও অস্পৃশ্যতার কালিমা তাঁর ঘুচল না। দেশে, ফিরবার পর বরোদা রাজ্যে সামরিক সচিবের পথে তিনি নির্বাচিত হন মহারাজার উদার নীতির ফলে। কিন্তু দেশীয় সমাজ তাঁকে গ্রহণ করল কই? বরোদায় পৌঁছবার পর কোনো হোটেলেই তাঁকে থাকবার স্থান দেওয়া হল না, কারণ তিনি নীচজাতের মানুষ। সীডেনহাম কলেজে অর্থশাস্ত্রের অধ্যাপকের পদে তিনি নিযুক্ত হলেন। কিন্তু কলেজেরই কিছু অধ্যাপক আপত্তি তুললেন; অধ্যাপকদের জন্য যে জলের পাত্র নির্দিষ্ট ছিল তা থেকে আম্বেডকর জল নিতে পারবেন না, কারণ তাঁর স্পর্শে পাত্র অপবিত্র হবে। বোম্বাই নগরে উচ্চশিক্ষার পীঠস্থানে যদি ধর্মীয় আচারের নামে মনুষ্যত্বের অবমাননা এতদূর যেতে পারে তবে দেশের অন্যত্র কী আশা করা যায়?

    যে অবিচার ও অপমান আবাল্য ব্যঙ্গ করছিল বাবাসাহেবকে, তিনি জানতেন যে তাঁর দেশবাসী অগণিত দুভাগা মানুষকে ততোধিক সহ্য করতে হয় অহরহ। তিনি আরো জানতেন যে এই নির্যাতন, এই বিবেকহীনতা, দেশময় চলছে শাস্ত্র ও ব্রাহ্মণ্যধর্মের আশ্রয়েই। উচ্চবর্ণের ভিতর মুষ্টিমেয় মানুষ একে অন্যায় বলে মানে, অধিকাংশের আচরণে আছে এর প্রতি নিঃশব্দ সমর্থন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেশীয় সমাজে সমর্থন পায় না, বরং প্রতিবাদকে মনে করা হয় ধৃষ্টতা, যার দণ্ডবিধানে সমাজ মুহূর্তে হিংস্র হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তুলতে গিয়ে সেই হিংস্রতার পরিচয় পেয়েছিলেন আম্বেডকর বারবার।

    পূর্ববর্তী হিন্দু সমাজসংস্কারকদের অধিকাংশই ছিলেন উচ্চবর্ণের মানুষ। এঁদের অনেকেই স্মরণীয় ও বরণীয়। এঁরা প্রতিবাদ করেছেন সতীদাহের বিরুদ্ধে, সমর্থন করেছেন বিধবাবিবাহ, আন্দোলন করেছেন স্ত্রীশিক্ষার জন্য। এঁদের সঙ্গে আম্বেডকরের। পার্থক্য আছে। উদাহরণ হিসেবে বিধবাবিবাহের কথা ধরা যাক। আম্বেডকরের মনে হয়েছে, এইসব সংস্কারের আধার পরিবার। হিন্দুসমাজসংগঠনের মূলে আছে যে জাতিভেদপ্রথা তার ওপর সরাসরি আঘাত আসছে না এই রকম সংস্কারে। ঐখানে আঘাত হানতে চেয়েছিলেন আম্বেডকর। প্রকৃত অর্থে তাঁর পূর্বসূরী নন রামমোহন বা রানডে তাঁর পূর্বসূরী মহাত্মা ফুলে।

    রামমোহন ঠিকই জাতিভেদপ্রথার সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কর্মকাণ্ডে সেটা প্রাধান্য পায়নি, বরং এ ব্যাপারে তাঁর মধ্যে যেন খানিকটা দুর্বলতাই ধরা পড়ে জাতিভেদ ভাঙবার জন্য নিম্নবর্ণের মানুষকে নিয়ে কোনো আন্দোলন তিনি গড়ে তোলেন না। পরবর্তী যুগের উচ্চবর্ণের নেতারাও ঐ পথে বড় অগ্রসর হননি। এইখানে আম্বেডকরের নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, নিম্নবর্ণের মানুষের মুক্তি সম্ভব সংগঠিত আত্মশক্তির ভিতর দিয়ে। উচ্চবর্ণের মানুষের কাছ থেকে দয়া অথবা দান হিসেবে নিম্নবর্ণের মুক্তি আসবে না।

    সাম্যবাদী যেমন বিশ্বাস করেন যে, শ্রমিকশ্রেণীর শৃঙ্খল ভাঙবার জন্য ধনিকের দয়ার ওপর নির্ভর করা ভুল, জাতীয়তাবাদী নেতারা যেমন ক্রমে এই সিদ্ধান্তেই আসনে যে বিদেশী শাসকদের কাছ থেকে ভিক্ষা করে স্বাধীনতা লাভ করা যাবে না, জনগণের। সংঘবদ্ধ শক্তি এজন্য আবশ্যক, সেই ভাবেই বাবাসাহেব আম্বেডকরও অস্পৃশ্য মানুষের মুক্তির জন্য স্বাবলম্বী ও সংগ্রামী আন্দোলনের প্রয়োজনে বিশ্বাসী ছিলেন। যেহেতু জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিল প্রধানত উচ্চবর্ণের নেতাদের হাতে, অতএব “বহিষ্কৃত”দের জন্য তিনি স্বতন্ত্র নেতৃত্ব ও স্বতন্ত্র সংগঠন চেয়েছিলেন। এইখানেই জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে ছিল তাঁর মূল পার্থক্য।

    একটা জায়গায় অবশ্য তুলনাটা ঠিক খাটে না। বিপ্লবী সাম্যবাদীর লক্ষ্য ধনিকশ্রেণীর বিনাশ। সংগ্রামী জাতীয়তাবাদীরা চেয়েছিলেন দেশ থেকে বিদেশী শাসকদের বিতাড়ন। নিম্নবর্ণের লক্ষ্য উচ্চবর্ণের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়া। তবু এটাও একটা সংগ্রাম। যেহেতু উচ্চবর্ণের হাতেই ছিল ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকার অতএব ভাগ করা। মানেই, অন্তত কিছু পরিমাণে, ক্ষমতা ত্যাগ করা। আম্বেডকর দাবি করেছিলেন অস্পৃশ্যদের জন্য দেশের আইনসভায় সংরক্ষিত আসন। এটাও যথেষ্ট নয়। আইনের প্রণয়নেই নয়, প্রয়োগেও অবিচার থাকে। দেশের যাঁরা প্রশাসক তাঁরা যদি সবাই। উচ্চবর্ণের মানুষ হন তবে আইন ভালোমন্দ যাই হোক না কেন, কার্যত আইনের প্রয়োগ ও বিচারব্যবস্থায় পক্ষপাতিত্ব থেকে যায়। কাজেই প্রশাসনেও অস্পৃশ্যদের অংশগ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। এইসবের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আম্বেডকর চেয়েছিলেন। জাতিবিশেষের জন্য বিশেষ সুবিধা নয়, বরং সকলের জন্য সমান অধিকারটাই লক্ষ্য। তবে ঘোরতর অসাম্য থেকে সাম্যের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে প্রথম পর্যায়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ সুযোগসুবিধা দরকার হয়ে পড়ে।

    আইনের গুরুত্ব তিনি মানতেন। তবু একথাটাও তিনি জানতেন যে, শুধু আইনের জোরে মানুষে মানুষে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। সে জন্য প্রয়োজন আরো কিছু। ১৯৪৩ সালে রানডের স্মৃতিসভায় এক বিখ্যাত ভাষণে আম্বেডকর বলেছিলেন, মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হয় না আইনের জোরে, সেজন্য চাই সমাজে অন্য এক শক্তি, জাগ্রত বিবেক, সংগঠিত নীতিবোধ। হিন্দুসমাজে এরই পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি চেয়েছিলেন চাতুর্বর্ণের যুক্তিনির্ভর মৌল সমালোচনা।

    এই সমালোচনার কয়েকটি প্রধান কথা এবারে তুলে ধরা যাক।

    গীতায় বলা হয়েছে, গুণ ও কর্মের বিভাগের দ্বারা ভগবান চাতুর্বর্ণ সৃষ্টি করেছেন। এই তত্ত্বের সঙ্গে কিন্তু বাস্তব অবস্থান মিল নেই। হিন্দুসমাজে ব্যক্তির বর্ণ ও জাতি নির্ধারিত হয়ে চলেছে জন্মের দ্বারা, গুণের দ্বারা নয়। ব্রাহ্মণকুলে যার জন্ম সে ব্রাহ্মণ, শূদ্রের ছেলে শুদ্র। জন্মসূত্রেই আম্বেডকর বিদ্যালয়ে সংস্কৃতপাঠের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, গুণগত যোগ্যতার তো তাঁর অভাব ছিল না। আজকের চাতুর্বর্ণ ব্যক্তির গুণগত। যোগ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। কোনোকালে অন্য অবস্থা ছিল কি না তা নিয়ে নানা কথা সম্ভব। কিন্তু চাতুর্বর্ণের সমালোচক আক্রমণ করছেন আজকের বাস্তব ব্যবস্থাকে। গীতায়। উক্ত তত্ত্বের সঙ্গে এই বাস্তবের সম্পর্ক নেই। প্রচলিত জাতিভেদপ্রথার কোনো তাত্ত্বিক সমর্থন যুক্তিসঙ্গত নয়।

    এরপর আসে দ্বিতীয় কথা। বর্ণভেদ যদি গুণ ও কর্মের বিভাগের ওপরই কঠোরভাবে প্রতিষ্ঠিত হত তাতে কি সেটা সমর্থনযোগ্য হত? আম্বেডকর বলছেন, তা হলেও সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। কিছু মানুষ আবদ্ধ থাকবে কায়িক শ্রমে, তাদের জ্ঞানচর্চার অধিকার থাকবে না; কিছু মানুষ থাকবে জ্ঞানচর্চা নিয়ে, তাদের কায়িক শ্রম করতে হবে না; গুণ ও কর্মের এইরকম বিভাগ ভালো নয়। বৌদ্ধিক ও কায়িক শ্রমের ভিতর বিচ্ছিন্নতাকে গান্ধী অথবা টলস্টয় সুব্যবস্থা মনে করেননি, মনে করবার যথেষ্ট কারণও নেই। সামরিক কলাকৌশল প্রয়োগ করবার অধিকার ক্ষত্রিয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এটাও সমর্থনযোগ্য নয়। আম্বেডকর চেয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে তথাকথিত অস্পৃশ্যদের বিশেষভাবে স্থান হোক, জাতিধর্মনির্বিশেষে সব মানুষের জন্যই সেই সুযোগ ও অধিকার থাকুক। বৈশ্য শুধু বাণিজ্য নিয়ে থাকবে, বিদ্যার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিষ্প্রয়োজন, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর ভিতর এমন স্থায়ী বিরোধ দেশের প্রগতির সহায়ক নয়। একথা ব্যাখ্যা করে বলাটাও আজ বাহুল্য। গুণ ও কর্মের বিভাগ কিছুদূর পর্যন্ত স্বাভাবিক ও সঙ্গত, কিন্তু এই বিভাগের যে আতিশয্য বর্ণভেদ ও জাতিভেদে প্রশ্রয় পায় সেটা সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের পক্ষে অতিশয় হানিকর। GITIO

    জাতিভেদ ব্যবস্থার আরো এক কুফল এই যে এতে করে দেশের ভিতর বৃহত্তর ঐক্যের ধারণা স্ফুর্তি পায় না, জাতপাতের চিন্তাটাই প্রধান হয়ে ওঠে। দেশের সামনে যখন এমন কোনো বিপদ দেখা দেয় যেটার বিরুদ্ধে কোনো বর্ণবিশেষের একক চেষ্টাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন হয় বর্ণনির্বিশেষে সমবেত প্রয়াস, তখন ঐ ভেদবুদ্ধি সর্বনাশ ডেকে আনে। এই কথাটার ওপরও আম্বেডকর জোর দিয়েছিলেন। বর্ণভেদ ও জাতীয় সংহতির মধ্যে একটা বিরোধ আছে। আর এই বিরোধটা শুধু রাষ্ট্রীয় স্তরে দেখা দেয় এমন নয়, গ্রামে গ্রামে এটা ছড়িয়ে আছে এবং চোখের সামনে গৃহযুদ্ধের বীজ বপন করে চলেছে।

    জাতিভেদে মানবতার একটা অপমান শাস্ত্রীয় সমর্থন পায়, দৈনন্দিন অভ্যাসের সেটা অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চনীচ ভেদ সব সমাজেই আছে। কিন্তু হিন্দুর জাতিভেদ শুচিতা সম্বন্ধে সামাজিক ধারণাকে যে সূক্ষ্ম অংন্ধ সর্বব্যাপী কুসংস্কার করে তুলেছে অন্য কোনো ধর্মে তার তুলনা পাওয়া কঠিন। বর্ণহিন্দুর রন্ধনশালায় কুকুর ঢুকলে খাদ্যবস্তু কিছুই অপবিত্র হয় না, অশ্য মানুষ ঢুকলে সবই অপবিত্র হয়। অস্পৃশ্যের ছায়া পর্যন্ত অপবিত্র। এটা যে মনুষ্যত্বের অতি বড় অপমান একথা সনাতনপন্থী হিন্দুসমাজ স্বীকার করে না, যেমন না কি কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বিভেদমূলক আচরণে বর্ণবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গর কোনো অপরাধ দেখে না।

    গত চল্লিশ বছরে অস্পৃশ্যতার প্রকোপ কিছুটা কমেছে। কিন্তু নিম্নবর্ণের হিন্দুর প্রতি উচ্চবর্ণের একটা গভীর অবজ্ঞা থেকেই গেছে। সব মানুষকে জাতিধর্মনির্বিশেষে সমান মনে করবার অভ্যাস আমাদের সমাজে নেই, সংবিধানে সমানাধিকারের স্বীকৃতি সত্ত্বেও। মন্দিরে অন্ত্যজদের প্রবেশের অধিকার নেই, এ নিয়ে আমরা লজ্জিত নই। এই অধিকারভেদ আমাদের বিব্রত করে না। পশ্চিমবঙ্গের বর্ণহিন্দুরাও এ ব্যাপারে নির্বিকার। আমাদের ভিতর এমন কথা প্রায়ই শোনা যায় যে, জাতিভেদ ভারতের অন্যত্র আছে, পশ্চিমবঙ্গে উঠে গেছে। কিন্তু এটাই কি ঘটনা? নিম্নবর্ণের মানুষকে কি আমরা আপন। জন বলে ভাবি?

    সংবিধানে বলা হয়েছিল, দশ বছরের ভিতর নিরক্ষরতা দূর করা হবে। চল্লিশ বছর কেটে গেল, নিরক্ষরতা দূর হল না। অথচ উচ্চশিক্ষার অভূতপূর্ব প্রসার ঘটেছে, উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত ছেলেমেয়েরা বৃহৎ সংখ্যায় দেশের সীমানা পার হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অধিকাংশ মানুষই উচ্চবর্ণ। উচ্চবর্ণের ছেলেমেয়েরাই প্রধানত কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। অনেক সমস্যা আছে সেখানেও, ডিগ্রী লাভের পর বেরোজগারির বিপদ। তবু একটা কথা অস্বীকার করা যায় না। এদেশের সরকার উচ্চশিক্ষার বিস্তারের দিকে যতটা মনোযোগ দিয়েছে, নিরক্ষরতা দূর করবার কাজে ততটা নয়। চীনের তুলনায় আমরা উচ্চশিক্ষার প্রসারে পিছিয়ে নেই, কিন্তু সাক্ষরতার ক্ষেত্রে অনেকখানি পিছিয়ে আছি। আসলে এদেশে পিছিয়ে-পড়া মানুষদের প্রতি একটা গভীর অবহেলা দীর্ঘকাল ধরে সমাজের চেতনায় প্রোথিত। এরই ফলে নীচুজাতের মানুষের মধ্যে নিরক্ষরতা দূরীকরণের অভিযান কখনো প্রবল হয়ে উঠতে পারেনি। অনুসূচিত জাতিসমূহের ভিতর নিরক্ষরতার প্রাদুর্ভাব কিন্তু পশ্চিমবঙ্গেও এতদিন ধরে থেকেই গেছে। আম্বেডকর যে জাগ্রত বিবেকের কথা বলেছিলেন তা যদি পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া যেত তবে এটা ঘটত না। এরাজ্যে অন্ত্যজদের আমরা ততটা হিংসা করি না যতটা অবজ্ঞা করি। রাজনীতির কারণে ওদের আমরা সাধ্য অনুযায়ী ব্যবহার করেছি কিন্তু পূর্ণ মনুষ্যত্বের মর্যাদা দিইনি।

    যদি সেই মর্যাদা দেওয়া হত তবে আম্বেডকরের কয়েকটি ____ সহজেই মেনে নেওয়া যেত। সনাতনপন্থা হিন্দুসমাজে ব্রাহ্মণই পুজোপার্বণে পৌরোহিত্য করবার অধিকারী। এই অসাম্য কেন? সকলেরই শাস্ত্রপাঠ ও অধ্যয়নের সুযোগ থাকবে, শাস্ত্রে কার কতটা অধিকার জন্মেছে সেটা পরীক্ষা করে দেখা হবে, যাঁরা সেই পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ তাঁরাই পৌরোহিত্য করবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, এটাই তো যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব। এই প্রস্তাবে যাদের আন্তরিক সায় নেই তারা আসলে জাতিভেদের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। অধিকারের যে সাম্য আম্বেডকর চেয়েছিলেন সেটাই ন্যায়সঙ্গত। বিবাহের প্রশ্নেও একই বিচারধারা গ্রাহ্য হওয়া উচিত। মানুষের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক প্রীতিভাবের বিস্তার জাতপাতের সীমানা দিয়ে খণ্ডিত হওয়া দুঃখজনক। যে ধর্ম এই অনুদারতাকে সমর্থন করে তার সঙ্গে মানবধর্মের বিরোধ আছে। বিবাহযোগ্যতার বিচারে জাতপাতের সীমা যত লঙঘন করা যাবে ততই সামাজিক সাম্য ও ঐক্য বিস্তার লাভ করবে।

    বিবাহ ও পৌরোহিত্যের অধিকার সম্বন্ধে এই প্রত্যয়গুলি অধিকাংশ বাঙ্গালী কি মেনে নিতে পেরেছে? যদি না পেরে থাকে তবে জাতপাতের প্রভাব থেকে বঙ্গের হিন্দুসমাজ মুক্ত একথা বলা যাবে না। আসলে জাতিভেদ সারা ভারতের সমস্যা, পশ্চিমবঙ্গ এখনও মুক্তাঞ্চল হয়ে ওঠেনি।

    অস্পৃশ্য ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের আর্থিক উন্নতির বিষয় নিয়ে আম্বেডকর আলোচনা করেছিলেন। এখানে দুটি জিনিসের ওপর বিশেষভাবে জোর দিতে হবে। এক, শিক্ষা; দ্বিতীয়, জমির পুনর্বণ্টন, অর্থাৎ ক্ষেতমজুর ও দরিদ্রতম চাষীদের ভিতর উদ্বৃত্ত জমির বণ্টন। ক্ষেতমজুরদের অধিকাংশই নিম্নবর্ণের মানুষ। দেশের জনতার এরা এক বৃহৎ অংশ। এজন্য বাবাসাহেব জমির পুনর্বণ্টনের কথা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলেন। সরকারী চাকরিতে বা প্রশাসনে সংরক্ষিত পদের জন্য দাবি মূলত রাজনীতিক দাবি। রাজনীতিক বলেই সেটা অগ্রাহ্য এমন নয়। তবে তার চেয়ে আরো মৌল প্রয়োজন হল দলিতদের জন্য শিক্ষার বিশেষ সুযোগসুবিধা। গ্রামে গ্রামে সবচেয়ে পিছিয়ে-পড়া জাতের ভিতর থেকে প্রতিশ্রুতিময় ছেলেমেয়েদের খুঁজে বের করতে হবে, তাদের জন্য প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর শিক্ষার স্তর পর্যন্ত বিশেষ সহায়তার সবরকমের ব্যবস্থা করতে হবে। অনুসূচিত জাতির ভিতরও অবশ্য কিছু সমৃদ্ধ পরিবার আছে, বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থার ভিতর তাদের স্থান দেওয়া প্রয়োজন নয়। পারিবারিক আয়ের দিক থেকে যারা দরিদ্র আবার সামাজিক অবস্থানের বিচারেও যারা সবার নীচে তাদের এই দ্বিবিধ প্রতিকূলতার সমষ্টিগত বাধাটাকে ভাঙবার জন্যই শিক্ষার ক্ষেত্রে সজাগ নীতি সবচেয়ে প্রয়োজন।

    আম্বেডকরের জীবন এ ব্যাপারে আমাদের পথপ্রদর্শক হতে পারে। তাঁর বিরাট সাফল্যের মূলে ছিল একদিকে বরোদার মহারাজা সয়াজীরাও-এর সহৃদয় বিবেকবান সহায়তা, অন্যদিকে বাবাসাহেবের নিজস্ব মেধা ও আত্মোন্নতির জন্য নিরলস উদ্যোগ ও অনুশীলন। আজকের নিম্নবর্ণের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের জন্যও একদিকে যেমন সমাজের পক্ষ থেকে বিশেষ ও ব্যাপক সহায়তার প্রয়োজন আছে, অন্যদিকে তেমনি তাদের নিজস্ব উদ্যোগ ও অনুশীলনও সমানভাবে আবশ্যক। তা যদি না হয় তবে নিম্নবর্ণের অসংখ্য মানুষের ভিতর থেকে কেবল বিশেষ সুবিধাভোগী ছোটো একটি গোষ্ঠী তৈরি হবে। আর সংরক্ষণ-আশ্রিত এই গোষ্ঠীর ভিতর যদি বাবাসাহেবের জীবন থেকে প্রাপ্ত স্বাবলম্বন ও অক্লান্ত অনুশীলনের প্রেরণা কার্যকরী না হয় তবে তার ফলে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর ভিতর দ্বন্দ্ব ও বিদ্বেষ যতটা বাড়বে সমাজের সামগ্রিক উপকার ততটা হবে না। মনে রাখতে হবে যে, স্বাবলম্বন ও সামগ্রিক উন্নতিই ছিল আম্বেডকরের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনীতির দ্বন্দ্বটাকেই প্রধান করে তুললে ভুল করা হবে।

    আম্বেডকর ও গান্ধীর ভিতর বিরোধ তৎকালীন ইতিহাসের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অথচ এই দুই বিরাট পুরুষের ভিতর কোথাও একটা গভীর মিল ছিল যেটা ঢাকা পড়ে যায় খণ্ড খণ্ড বিরোধের কোলাহলে। গান্ধীজীকে ভবিষ্যতের মানুষ মনে রাখবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিরোধের প্রবক্তা ও নায়ক হিসেবে। আম্বেডকর অহিংসাকে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেননি, যেমন করেননি জবাহরলাল নেহরু এবং আরো অনেকে। কিন্তু অহিংসার প্রতি যে তাঁর একটা প্রবল আকর্ষণ ছিল সেটা কিছুতেই উপেক্ষা করা যায় না। যে সব গণআন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যেমন ১৯২৭ সালে মহাড়ের আন্দোলন, তার ইতিহাস থেকেই সেটা সুস্পষ্ট। মহাড়ের আন্দোলন যখন উত্তেজনার তুঙ্গে তখন উচ্চবর্ণের পক্ষ থেকে কিছু উদ্ধত মানুষ আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করে ও দৈহিকভাবে আঘাত করে। আন্দোলনকারী মহারদের প্রতিআক্রমণের শক্তি ছিল, অনেকের সামরিক শিক্ষাও ছিল। শুধুমাত্র আম্বেডকরের দৃঢ় নিযেধের ফলেই হিংসার বদলে সেদিন হিংসার প্রয়োগ ঘটেনি। তাঁর ভাষা মসৃণ ছিল না, কিন্তু হৃদয়ে ওদাৰ্য ছিল।

    হিংসার পথে যে বাবাসাহেব আস্থাস্থাপন করেননি তার একটা মূল কারণ আছে। হিংসার দ্বারা ভয় সৃষ্টি করা যায়, হিংসা দিয়ে হিংসা জাগানো যায়, কিন্তু মানুষের বিবেককে জাগ্রত করা যায় না। আম্বেডকর বিশ্বাস করতেন, চেতনার গভীরতর পরিবর্তন ছাড়া সমাজের মুক্তি সম্ভব নয়। এখানে উল্লেখযোগ্য, এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি রুশবিপ্লবেরও স্মরণীয় সমালোচনা করে গিয়েছিলেন। হিংসাত্মক বিপ্লবের ফলে শুধু ক্ষমতার হস্তান্তর হয়, হৃদয়ের পরিবর্তন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কাঠমাণ্ডুতে বুদ্ধজয়ন্তী। উপলক্ষে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ক্যুনিস্ট ব্যবস্থা হিংসার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ঐ ব্যবস্থার ব্যর্থতার চিহ্ন পরিষ্কার হয়ে উঠছে। ধরুন কাল যদি ঐ দেশে ডিক্টেটরশিপের পতন ঘটে তারপর কী হবে? আমি তো দেখতে পাচ্ছি, তারপর ওদের নিজেদের ভিতর আবারও মারামারি শুরু হয়ে যাবে।’ আম্বেডকরের এই ভবিষ্যদ্বাণী তাঁর মৃত্যুর পঁয়ত্রিশ বছর পর গভীর অর্ন্তদৃষ্টিসম্পন্ন বলেই মনে হয়। চেতনার যে পরিবর্তনের ওপর তিনি জোর দিয়েছিলেন সেটা যে হিংসার পথে ঘটে না, রুশ দেশেও ঘটেনি, একথা তিনি পরিষ্কার দেখতে পেয়েছিলেন।

    আম্বেডকর যদিও হিন্দুধর্ম ও চাতুর্বর্ণের কঠোর ও অক্লান্ত সমালোচক ছিলেন তবু ধর্মের প্রয়োজন তিনি অস্বীকার করেননি। হিন্দুধর্ম ত্যাগ করেও তিনি তাঁর অনুগামীদের। নিয়ে আশ্রয়গ্রহণ করেন অন্য এক ধর্মে, বৌদ্ধধর্মে। প্রশ্ন ওঠে, ধর্মকে কেন তাঁর আবশ্যক মনে হয়েছিল। ধর্ম মানুষকে এমন কী দিতে পারে যা সামান্য যুক্তি থেকে লাভ করা কঠিন? আম্বেডকর নানা সময়ে এ প্রশ্নের উত্তরে কিছু বলেছেন। অতি সংক্ষেপে দুয়েকটি কথা ব্যাখ্যা করে বলা যাক।

    মানুষ শুধু স্বার্থের গণনা থেকে পরম্পর আবদ্ধ থাকে না, আরো গভীর কোনো বন্ধন সমাজকে ধরে রাখে। ধর্ম মানুষকে দেয় সেই সংঘবদ্ধতার শক্তি, যাকে হারালে সমাজ ভেঙ্গে পড়ে। ধর্ম মানুষকে আরো দিতে পারে এক অদম্য আশা। যুক্তির কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে বিশেষ উদ্যোগে সাফল্য ও ব্যর্থতার সম্ভাবনা সম্বন্ধে কিছু হিসেব। কিন্তু উৎসাহ নিয়ে বাঁচবার জন্য, কোনো মহৎ উদ্যোগে আত্মনিয়োগের জন্য, দরকার হয় অন্য এক প্রেরণা, বেহিসেবী আত্মত্যাগ, মৃত্যুঞ্জয়ী আশা, ধর্ম থেকে যা লাভ করা যায়। বৌদ্ধধর্মে আম্বেডকর বিশেষভাবে দেখেছিলেন, প্রজ্ঞা, সমতা ও করুণার সমন্বয়, যেটা তাঁকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছিল। সেই প্রজ্ঞায় যুক্তি নির্ভর আশ্রয় পায়; সেই সময় আম্বেডকর দেখেছিলেন জাতিভেদবিরোধী তাঁর সমস্তপ্রয়াসের প্রকৃষ্ট সমর্থন; সেই করুণায় তিনি দেখেছিলেন মানুষের শুদ্ধতম বিবেকের অব্যর্থ ভিত্তি।

    বাবাসাহেব আম্বেডকরকে অবশ্য আমরা বিশেষভাবে স্মরণ করব ধর্মের ব্যাখ্যা হিসেবে নয়। তিনি নিজে একবার বলেছিলেন, ইতিহাসের মঞ্চে কিছু মহাপুরুষ অবতীর্ণ হন ঝাড়ুদারের ভূমিকায়, সমাজে ভূপীকৃত আবর্জনা সাফ করবার কাজে তাঁরা নিযুক্ত হন। ঐরকম একটা ভূমিকাই ভীমরাও বেছে নিয়েছিলেন। হিন্দু ঐতিহ্যের যে দিকটা মানবতার সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়েছে, পরিণত হয়েছে অসাম্যদুষ্ট কুসংস্কারগ্রস্ত বুদ্ধিহীনতায়, তারই বিরুদ্ধে এক বদ্ধসংকল্প সংগ্রামী সমালোচক হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রভাবে এদেশের নেতারা যখন ভারতীয় ঐতিহ্যের গৌরব প্রচারে আগ্রহী আর বিদেশী সাম্রাজ্যবাদকে ভারতের সমস্ত দুভাগ্যের মূল কারণ বলে শনাক্ত করতে ব্যস্ত, তখন আম্বেডকরে কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে অন্য এক সুর। বাইরের। শক্তির ওপর সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া ভুল, তাতে ভিতরের অন্যায় ও মূঢ়তা প্রশ্রয় পায়। সেই মূঢ়তা আজও সদর্পে চলছে। আম্বেডকর বললেন আমাদের দুর্বলতা ও দুর্দশার প্রধান কারণ আছে আমাদের ভিতরে, এদেশের সমাজ ও মননের সংকীর্ণতায়, অস্পৃশ্যতা ও জাতিভেদের অন্যায়ে, অন্ত্যজের অধিকারহীনতায়, ব্রাহ্মণ্যবাদের বিচারহীন অসাম্যপীড়িত ঔদ্ধত্যে।

    এইসব কথা সেদিন এদেশের অনেক মানুষের পছন্দ হয়নি। আবার কিছু মানুষ তাঁর বিদ্রোহের ভঙ্গী দেখেই আকৃষ্ট হয়েছে, তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে বুঝবার চেষ্টা করেনি। আজও তাঁর জন্মশতবার্ষিকীর বছরে দেখি এদেশের মানুষের একাংশ তাঁর প্রতি অনাগ্রহী, নিতান্ত সৌজন্যের বশে তাঁকে নমস্কার জানিয়ে দূরে ঠেলে রাখতে অভ্যস্ত। অন্য কিছু মানুষ তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাসময়, সেই উচ্ছ্বাসে কোনো বৌদ্ধিক প্রজ্ঞা নেই। অথচ ভীমরাও রামজী আম্বেডকর যে প্রশ্নটা তুলে ধরেছিলেন সেটা মৌল প্রশ্ন, উপেক্ষায় অথবা উচ্ছ্বাসে তার প্রতি কিছুতেই সুবিচার হয় না।

    মনুস্মৃতিকে যিনি একদিন অগ্নিতে সমর্পণ করেছিলেন তিনিই বিশ বছর পরে স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করলেন। সকল ভারতীয়ের গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা সেই সংবিধানে ঘোষিত হল। তবু ভীমরাও আম্বেডকর জানতেন যে, তাঁর জীবনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত হতে আরো অনেক দেরি। সংবিধান রচনার কাজ যখন সমাপ্ত তখন তিনি বললেন, ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে ভারতের নাগরিকেরা গণতান্ত্রিক অধিকার লাভ করবে, কিন্তু সামাজিক ও আর্থিক অসাম্যের সঙ্গে আমাদের গণতান্ত্রিক বিধানের একটা অন্তর্বিরোধ থেকেই যাবে। এই বিরোধ যদি দ্রুত দূর করা না যায় তবে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। শান্তিপূর্ণ পথে, তবু দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে, মনুষ্যত্বের জয়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবার মন্ত্র তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন। বিভক্ত ভারত নয়, তিনি কামনা করেছিলেন ঐক্যবদ্ধ ভারত, আর সেই ঐক্যকে স্থাপন করতে চেয়েছিলেন মানুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে।

    জীবৎকালে যে-সব বিবাদ ও বিতর্কে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন সেইসব পার হয়ে আজ তাঁর জীবনের স্বপ্নই বড় হয়ে দেখা দেয়। স্বাধীনতা সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী ছিল। তাঁর কাছে প্রিয়, এই তিনের সমন্বয় তাঁর সমস্ত চিন্তা ও কর্মের শেষ লক্ষ্য। আধুনিক ভারতের ইতিহাসে সামাজিক সাম্যের জন্য অসমাপ্ত সংগ্রামে জন্মসূত্রে অস্পৃশ্য বাবাসাহেব আম্বেডকর এক নমস্য মানব।

    দেশ, ১৮ মে ১৯৯১

    .

    উল্লেখপঞ্জী

    ১। শ্রীমতী মীরা চৌধুরীর খাতায় স্বাক্ষর করে গান্ধী লিখেছিলেন “Never make a promise in hastc. Having once made it fulfil it at the cost of your life.”

    ২। এই উদ্ধৃতিটি ও পরবর্তী অধিকাংশ উদ্ধৃতি রাসেলের আত্মজীবনীর দ্বিতীয় ভল্যুম থেকে গৃহীত।

    ৩। সিলেক্টেড ওয়ার্কস অফ এম. এন. রায়, ভল্যুম ওয়ান (১৯১৭-২২) (সং) শিবনারায়ণ রায়, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, দিল্লী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র ১
    Next Article এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    Ek Pata Golpo

    সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

    October 28, 2025
    Ek Pata Golpo মহালয়া

    মহালয়া: মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya: Mahishasuramardini)

    September 10, 2025
    Ek Pata Golpo

    গাছের পাতা নীল – আশাপূর্ণা দেবী

    July 7, 2025
    Ek Pata Golpo

    লিঙ্গপুরাণ – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    June 3, 2025
    Ek Pata Golpo

    ৪. পড়ন্ত বিকেল

    April 5, 2025
    Ek Pata Golpo ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পূজারির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }