Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Ek Pata Golpo এক পাতা গল্প1207 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.০৯ সাম্যবাদ ও প্রগতির পথ

    পূর্বতন সাম্যবাদীদের মার্ক্স স্বপ্নবিলাসী আখ্যা দিয়েছিলেন। ওঁদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ ছিল এই যে, ওঁরা আদর্শ সমাজের চিত্তাকর্ষক ছবি এঁকে গেছেন, কিন্তু সে-সমাজে পৌঁর পথ দেখাননি। মার্ক্স চেয়েছিলেন ইতিহাসের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সাহায্যে পথের সন্ধান দিতে। মার্ক্সের পর দেখা দিলেন লেনিন। বিপ্লবের পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবার কলাকৌশল তিনি ব্যাখ্যা করলেন আশ্চর্য প্রতিভার সঙ্গে। রুশ বিপ্লবের অর্ধ শতাব্দী পরে খানিকটা অচঞ্চল মনে আজ তার লাভক্ষতির হিসাব করা সম্ভব।

    উনিশ শতকের শেষ ভাগেই রুশ দেশে দ্রুত শিল্পোন্নয়ন শুরু হয়ে গিয়েছিল। বলা প্রয়োজন যে, প্রাক্-বিপ্লব রাশিয়া ছিল ব্রিটিশ আমলের ভারতের সমান দরিদ্র দেশ, এই বহুকথিত ধারণাটা তথ্যগতভাবে ভুল। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে যে, স্বাধীনতালাভের সময় ভারতে মাথাপিছু শস্যোৎপাদন যত ছিল ১৯১৩ সালের রুশ দেশে তার তিন গুণেরও বেশী ইস্পাতের উৎপাদনেও তারতম্যটা একই ধরনের। পাশ্চাত্য অনেক দেশের তুলনায় রুশ দেশ অবশ্য সেদিন পিছিয়ে তবে প্রথম মহাযুদ্ধের পূর্ববর্তী তিরিশ বছরে তার শিল্পোন্নতির তাল ছিল প্রতিবেশী দেশ জামানীর মতোই দ্রুত। যুদ্ধের পর জার্মানী এগিয়ে চলেছে এক পথে, আর রুশ দেশে বিপ্লবের ফলে উদঘাটিত হয়েছে। উন্নতির একটা ভিন্ন পথ।

    গত অর্ধশতাব্দীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কম্যুনিজম বলতে আজ আমরা কার্যত দুটি স্বতন্ত্র বস্তু বুঝি। একদিকে কম্যুনিজম অনুন্নত ধনতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবার একটা বৈপ্লবিক পথ। অন্যদিকে উপস্থিত শিল্পোন্নয়নের একটা বিকল্প পদ্ধতি। অর্থনীতিজ্ঞের চোখে এই দ্বিতীয় কথাটাই প্রধান।

    সাম্যবাদী আদর্শের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমার সহানুভূতি আছে। কিন্তু আর্থিক উন্নয়নের ধনতান্ত্রিক পথের তুলনায় সাম্যবাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবার জন্য যে সব যুক্তি সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলি প্রায়ই অভ্রান্ত নয়। এ-শতাব্দীতে দ্রুত আর্থিক উন্নতির নানা উদাহরণই চোখে পড়ে; যেমন জামানী, জাপান, সুইডেন, কানাডা, মেক্সিকো ও সোভিয়েত দেশের আর্থিক উন্নতি হয়েছে বিভিন্নভাবে। এই বিভিন্ন পথের তুলনামূলক বিচার থেকে আমাদের শিক্ষালাভ করতে হবে। একটা গোড়ার কথা দিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক। ধনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত মুনাফা ও স্বার্থবুদ্ধিতে পরিচালিত হয়, অতএব ওটা মন্দ; সমাজতন্ত্রী নেতারা সমাজের হিত চান, অতএব সাম্যবাদ ভালো–এই নীতিসর্বস্ব চিন্তার উপর একান্তভাবে নির্ভর করে কোনো আর্থিক ব্যবস্থারই যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনা বেশিদূর সম্ভব নয়। আদর্শ চিন্তা ভালো; কিন্তু আর্থিক জীবনে স্বার্থবুদ্ধির গুরুত্ব অস্বীকার করা ভুল। আদর্শবোধে রঞ্জিত কয়েকটি বিরল ও অবিস্মরণীয় মুহূর্তে জীবনকে আমরা সার্থকজ্ঞান করি। কিন্তু বৈষয়িক বিত্ত উৎপন্ন হয় তিলে তিলে প্রাত্যহিকতার স্পর্শে স্নান কর্মময় সাধারণ দিনে। অতএব মানুষের মহত্তম আদর্শনিষ্ঠাকে নয় বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রবলতম প্রবৃত্তিকে, অর্থাৎ স্বার্থবোধকে, ধনোৎপাদনের কাজে কিভাবে নিযুক্ত করা যায় সেটা আর্থিক উন্নতির আলোচনায় বিশেষভাবে বিবেচ্য। এই সমস্যার প্রতি দৃষ্টি রেখে সাম্যবাদী ও ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা আবশ্যক। এই বাস্তববাদী আলোচনায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের ভিতর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য একই সঙ্গে চোখে পড়ে।

    কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পিত অর্থনীতির বিশেষ সুবিধাগুলি স্পষ্ট; যেমন বেকার সমস্যার সমাধানে। প্রাগ্রসর ধনতান্ত্রিক দেশগুলিতে অবশ্য এ সমস্যাটা এখন আর আগের মতো তীব্র নেই। আংশিক পরিকল্পনার সাহায্যে ওঁরা ব্যবসায়ের পতন-উত্থানের চক্রটাকে অনেকটা নিয়ন্ত্রিত করেছেন। কিন্তু অনুন্নত দেশগুলিতে অবস্থা জটিল। এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এখানে সম্ভব নয়। আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভিতর বেকার সমস্যার প্রাদুভাবের এক প্রধান কারণ শিক্ষার অব্যবস্থা। সমাজতন্ত্র আমরা গ্রহণ করি বা না-করি, শিক্ষার সংস্কার আবশ্যক। জাপান, জামানী, মার্কিন ও সোভিয়েত দেশে যদিও বিভিন্ন পথে শিল্পোন্নতি ঘটেছে তবু এ কথাটা বিশেষভাবে স্মরণীয় যে, শিক্ষার সংস্কার ও প্রসার সব দেশেরই আর্থিক উন্নতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। শিক্ষার অব্যবস্থা ছাড়াও শিল্পোন্নয়নের গোড়ার যুগে বেকার সমস্যা জটিল হয়ে ওঠে আরও একটা বিশেষ কারণে। এ সময়ে গ্রাম ভেঙে দলে দলে লোক শহরে আসে; বেকারের সংখ্যা তাতে বৃদ্ধি পায়। এর বিহিত করা কোনো ব্যবস্থাতেই সহজ নয়। গণতান্ত্রিক দেশে তো বিশেষভাবেই কঠিন বাধ্যতামূলক উপায় ছাড়া এ সমস্যার সমাধানে বিলম্ব ঘটা স্বাভাবিক।

    আর্থিক উন্নতির জন্য কিন্তু শুধু চাকুরীর সংখ্যা বাড়িয়ে যাওয়াই প্রয়োজন নয়; সেই সঙ্গে শ্রমিককে নতুন নিয়মানুবর্তিতায় অভ্যস্ত ও কলাকৌশলে শিক্ষিত করে তোলাও শিল্পোন্নয়নে প্রথম যুগের একটা আবশ্যিক কাজ। এ কাজটা ধনতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী কোনো দেশেই সহজে সাধিত হয় না। কিছুদিন আগে পূর্ব ইয়োরোপের একজন বিশিষ্ট সাম্যবাদী অর্থনীতি এ দেশে এসেছিলেন কথায় কথায় তিনি বললেন, ‘আপনাদের দেশের মতোই রুশ দেশের লোকেরা ছিল অলস আর শৃঙ্খলায় অনভ্যস্ত। স্তালিন মারধোর করে ওদের কাজ শেখান।’ কথাটা অসত্য নয়। কাজে শৃঙ্খলা আনবার জন্য যে সব বিশেষ নিয়ম স্তালিন যুগে প্রবর্তিত হয় তা থেকেই ব্যাপারটা খানিকটা আঁচ করা যাবে। ১৯২২ সালে ওদেশে নিয়ম ছিল যে, কোনো শ্রমিক উপযুক্ত কারণ ছাড়া পরপর তিনদিন অথবা মাসে ছ’দিন অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে বরখাস্ত করা চলবে। তারপর নিয়মটাকে ক্রমশ কঠিন করে তোলা হয়। ১৯৩২-এর শেষে নিয়ম দাঁড়াল যে, ভালো কারণ ছাড়া এক দিনের অনুপস্থিতিই চাকুরী থেকে বিতাড়নের পক্ষে যথেষ্ট। পরে আরও ব্যাখ্যা করা হল যে, কোনো শ্রমিক বিশ মিনিটের বেশী দেরি করে কাজে এলে তাঁকে অনুপস্থিত বলে ধরতে হবে।

    কম্যুনিস্ট প্রচারে অনেক সময় মনে হতে পারে যে, সাম্যবাদী দেশের সমস্ত সম্পদ মজুর শ্ৰেণীরই সম্পত্তি এই জানার আনন্দে দেশের শ্রমিক স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন। তাই যদি হত তো সোভিয়েত দেশে স্তালিনী আমলে শ্রমিকদের জন্য এমন কঠিন আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হত না। আর আইনভঙ্গের শান্তিও এমন ক্রমশ কঠোর করে তুলতে হত না। সকল শিল্পপ্রধান দেশেই শ্রমিকেরা কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত; আর এই অভ্যাস আয়ত্ত করবার প্রাথমিক পর্বটা সাম্যবাদী ও ধনতান্ত্রিক সব দেশেই কষ্টের ভিতর দিয়ে কেটেছে। শুধু বাধ্যবাধকতায় অবশ্য কোনো দেশেই ভালো কাজ হয় না। উন্নতিশীল দেশমাত্রেই কাজের নিয়ম এমনভাবে বেঁধে দেওয়া হয় যে, নিজের স্বার্থের মুখ চেয়েই শ্রমিক কাজে দক্ষতা অর্জন করতে আগ্রহী হন। এদিক থেকে সোভিয়েত ও মার্কিনী ব্যবস্থার ভিতর একটা মৌলিক মিল আছে। পক্ষপাতমুক্ত দৃষ্টি নিয়ে যাঁরা বিষয়টি অনুধাবন করেছেন তাঁরাই এই মিলটাও লক্ষ করেছেন।

    মূলধন নিয়োগের ব্যাপারে অবশ্য বিভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থার ভিতর যথেষ্ট তারতম্য লক্ষ করা যায়। ধনতান্ত্রিক দেশে মূলধন কখনও কখনও এমনভাবে নিযুক্ত হয় যাতে ব্যক্তির লাভ হলেও দেশের তাতে ক্ষতি। সাধারণ অবস্থাতেও এটা দেখা যায়; আর অনুন্নত দেশগুলিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময়ে সমস্যাটা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। অবশ্য হিসাবের অন্য দিকটাও এই সঙ্গে একটু লক্ষ করা ভালো। শিল্পপরিচালনার পিছনে সূ না থাকলে কাজে অনেক সময় শৈথিল্য আসে। আমাদের দেশে সরকার প্রতি নগুলির ভিতর এর উদাহরণের অভাব নেই।

    আরও একটা কথা এখানে যোগ করা দরকার। সমাজতন্ত্রী দেশে শিল্পের মালিকানা জাতির অথবা রাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত। এ থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে, শিল্পপরিচালকেরা সাধ্যমত সরকারের নীতি ও নির্দেশ মান্য করে চলেন অথ, জাতির স্বার্থের সঙ্গে শিল্পবিশেষের স্বার্থের দ্বন্দ্বটা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থারই বৈশিষ্ট্য। এই অনুমানটা কিন্তু নির্ভুল নয়। সমাজতান্ত্রিক দেশেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক নিজের স্বার্থের খাতিরে দশের স্বার্থ উপেক্ষা করেন। এর উদাহরণের অভাব নেই। যে সমস্যাটা সোভিয়েত আর্থিক ব্যবস্থার নিয়ন্তাদের ইদানীং বিশেষ চিন্তিত করে তুলেছে তা হল এই। জাতীয় পরিকল্পনার কতারা ভিন্ন ভিন্ন শিল্পে কতটা উৎপাদন করতে হবে তার একটা লক্ষ্য স্থির করে দেন। আর শিল্পের পরিচালক ও শ্রমিকেরা পরিমাণে বেশী উৎপাদন দেখিয়ে বিশেষ পুরস্কার দাবি করেন; কিন্তু জাতে জিনিসটাকে করেন নিকৃষ্ট। দ্রব্যের পরিমাণ নির্ধারণ যতটা সহজ, গুণ নিয়ন্ত্রণ মোটেই ততটা সহজ নয়।

    ধনতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী উভয় ব্যবস্থাতেই দোষত্রুটি আছে। উভয় ব্যবস্থাতেই ভিতর থেকে সংশোধনের ফলে এইসব দোষত্রুটি দূর করবার চেষ্টাও চলেছে। সাম্যবাদী দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে খরচ কমাবার দিকে মনোযোগ দিতে বলা হচ্ছে এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন নির্ধারণ করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থারও পরিবর্তন ঘটছে। পুঁজিবাদী আর্থিক ব্যবস্থায় উৎপাদন সাধারণত বাজারের চাহিদা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়; এটাই এই ব্যবস্থার প্রধান গুণ ও দোষ। এটার অসুবিধার দিকটা একটু চিন্তা করলেই মোটামুটি বোঝা যায়। অনুন্নত অর্থনীতির পঙ্গু অবস্থায় চাহিদা-না-বাড়লে উৎপাদন বাড়বে না এই নিয়ম মেনে চললে অনেক সময় পঙ্গুত্ব স্থায়ী হবার সম্ভাবনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাময়িক ক্ষতি স্বীকার করেও ভবিষ্যতের মুখ চেয়ে চাহিদার আগেই উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। ক্ষুদ্র সীমার ভিতর ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিও হয়তো এটা কখনও কখনও করেন কিন্তু এ ব্যাপারে বাজারের হাতে সবকিছু ছেড়ে দেওয়া নিরাপদ নয়। অতএব আর্থিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। আর্থিক পরিকল্পনাও কিন্তু আজ আর সাম্যবাদী ব্যবস্থার একান্ত সংরক্ষিত বৈশিষ্ট্য নয়। উদাহরণ হিসাবে ফরাসী দেশের কথা ধরা যাক। ফরাসী আর্থিক ব্যবস্থাকে ধনতান্ত্রিক বললে অন্যায় হয় না। তবু ওদেশের আর্থিক উন্নতিতে জাতীয় পরিকল্পনার প্রভাব স্পষ্ট। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিকল্পনাহীন ‘আর্থিক অরাজকতার উপর প্রতিষ্ঠিত এই অভিযোগকে পিছনে ফেলেই জগৎ আজ এগিয়ে চলেছে। ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের তুলনায় এ কথাটা উপেক্ষা করা। ঠিক নয়।

    ধনতান্ত্রিক দেশে অবশ্য মূলধনের উপর ব্যক্তিগত মালিকানা এখনও অব্যাহত। সম্পত্তির বণ্টনে ঐসব দেশে এখনও বিরাট অসাম্য। এই অসাম্যের দাপটে মানুষে-মানুষে একটা সহজ ঐক্যবোধ অহরহ ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের বিবেককে এটা পীড়া দেয়; এই পীড়াবোধেই আমাদের মনুষ্যত্বের প্রমাণ। তবু এই প্রসঙ্গে আলোচনায় খানিকটা মাত্রাজ্ঞানও রক্ষা করা ভালো। এ দেশে যাঁরা সাম্যের কথা বলেন তাঁরা প্রায়ই নিজেকে ‘মধ্যবিত্ত ধরে নিয়ে উপরের সবার আয় হ্রাসের চিন্তা করেন। যেমন মাসিক আয় যাঁর এক হাজার টাকা তিনি সাম্য বলতে বোঝেন যে, কারও আয় যেন দেড় হাজারের বেশী না হয়; আবার যাঁর আয় পাঁচ শ’ তিনি হয়তো চান সকলের আয় হাজারে সীমাবদ্ধ রাখতে। কিন্তু এ দেশে যাঁদের মাথাপিছু মাসিক আয় পাঁচ শ’ টাকার কম নয় তাঁরা জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগও হবেন না। আমরা মধ্যবিত্তে’রা সবাই এ দেশের শতকরা নব্বই ভাগ লোকের তুলনায় উচ্চবিত্ত। যে দেশে অধিকাংশ পরিবারে মাথাপিছু আয় দৈনিক এক টাকারও কম সেখানে জনগণের দৃষ্টিতে যাকে সাম্য বলা যেতে পারে সেই সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রগতির কথা ভাববার ও বলবার মত লোক বড় অবশিষ্ট থাকবেন না। অতএব জাতীয় আয় আরও অনেকটা বৃদ্ধি পেলে তবেই সারা দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাম্যের কথা বলা সঙ্গত। ইতিমধ্যে বিত্তবানেরা যদি বিত্তের বড়াইটা কমান তো ভালো হয়। আরও প্রয়োজন যথাসম্ভব শীঘ্র, যথাসম্ভব বেশী লোকের জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ন্যূনতম ব্যবস্থা করা। এর বেশী সাম্যের চেষ্টায় আপাতত সুফল আশা করা যায় না; মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে দারিদ্র্যে টেনে নামাবার চেষ্টায় দেশে আত্মনিপীড়নে ও পরপীড়নে অভ্যস্ত এক ধরনের অসহিষ্ণু নেতৃত্ব সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে।

    সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতেও অসাম্য দূর হয়নি। সেই অসাম্য শুধু আর্থিক নয়। ক্ষমতার অসাম্যও যে কত দুঃসহ হতে পারে, এর ফলে মানুষের কাছে মানুষ কত। বিষমভাবে বাঁধা পড়তে পারে, আজকে আমলাতন্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির দিকে তাকালে তা বুঝতে দেরী হয় না। সাম্যবাদী দেশে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে জনসাধারণের দ্বন্দ্বটা সোভিয়েত নেতাদের চেয়েও স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন চীনের নেতা মাও। তিনি অবশ্য তাঁর ১৯৫৭ সালের ভাষ্যে এটাকে “বৈরবিহীন” দ্বন্দ্ব (non-antagonistic contradiction) আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু এই বৈরবিহীন দ্বন্দ্ব ইদানীং চীনে যে প্রচণ্ড বৈরিতার সৃষ্টি করেছে তাতে সমস্যাটাকে আর শব্দের মারপ্যাঁচে খাটো করা যাচ্ছে না। যুগোস্লাভ নেতা জিলাসের স্পষ্টোক্তি এখানে স্মরণীয়।

    চীনা-সমালোচকেরা বলছেন যে, সোভিয়েত দেশ সাম্যবাদী আদর্শকে ছেড়ে ‘ধনতান্ত্রিক’ পথ গ্রহণ করেছে। মার্ক্সীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী সোভিয়েত ব্যবস্থাকে ধনতান্ত্রিক আখ্যা দেবার কোনো কারণ আজও দেখা দেয়নি। তবু স্বীকার করে নেওয়াই ভালো যে, সোভিয়েত দেশে রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক পরিচালনার ক্ষমতা বহু পরিমাণে একটি আমলাগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত। মাওপন্থীরা আরও বলেছেন যে, চীন দেশেও এই ধরনের একটা ঝোঁক দলীয় নেতৃত্বের একাংশের ভিতর দেখা দিয়েছে। এইসব অভিযোগ থেকে একটা কথা স্পষ্ট কলকারখানায়। ব্যক্তিগত সম্পত্তি উচ্ছেদ করলেই অসাম্য লোপ পায় না।

    আরও একটা কথা এই সঙ্গে পরিষ্কার করা আবশ্যক। সমাজতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের কারণ খুঁজতে গিয়ে কয়েকজন মন্দ লোকের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করা অথবা। পুরনো ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার উপর দোষ চাপানো বাস্তববিরোধী, ভ্রান্ত বিশ্লেষণ। মার্ক্সবাদীরা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার আলোচনায় উৎপাদিকা শক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থার উপর জোর দিয়ে থাকেন; এটাই মার্ক্সীয় “জড়বাদী” ব্যাখ্যার ভিত্তি। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্তর্দ্বন্দ্বের আলোচনায় কিন্তু ওঁরা ইতিহাসের এই বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ। ত্যাগ করে চতুর্দিকে ব্যক্তিবিশেষের বিশ্বাসঘাতকতা আর দলীয় শত্রুর ষড়যন্ত্র খুঁজতে শুরু করেন। মার্ক্সবাদের প্রতি একান্ত আনুগত্য যেমন ভুল তেমনই ইতিহাসের মাঝপথে মার্ক্সবাদকে ওভাবে সম্পূর্ণ ত্যাগ করাও অবৈজ্ঞানিক। ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক উভয় ব্যবস্থাতেই ক্ষমতার অসাম্যের কারণ খুঁজতে হবে সমাজের অন্তঃপ্রকৃতিতে, উৎপাদিকা শক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থার বিন্যাসে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের বিশেষ ভূমিকায়। বিষয়টা আরও একটু তলিয়ে বিচার করা প্রয়োজন।

    একালে সমাজ যতই বৃহৎ ও জটিল হয়ে উঠছে রাষ্ট্রের ভূমিকাও ততোই সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যযুগের সমাজে নিয়মতন্ত্রটা বড় কথা ছিল না। রাজার শাসনে বা কাজীর বিচারে শাস্ত্রের বিধানের একটা প্রশ্ন ছিল বটে; কিন্তু ক্ষমতাবানের ব্যক্তিগত মর্জিটাই তবু নানাভাবে বড় হয়ে উঠত। আধুনিক রাষ্ট্রের ঝোঁক নিয়মতন্ত্রের দিকে। যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির শাসনের স্থানে নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও চলেছে। এটা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বিশুদ্ধ অর্থে আধুনিক আমলাতন্ত্রের ভিত্তিও এখানেই। নিয়মশাসিত জটিল ও বৃহৎ রাষ্ট্রযন্ত্রে আমলাতন্ত্র অনিবার্য। শুধু সরকারী শাসনে নয়, আধুনিক সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের একটা ঝোঁক অল্পবেশী চোখে পড়ে। মধ্যযুগের। কুটিরশিল্পে শিল্পসামগ্রী সৃষ্টি হত চিরাচরিত ঐতিহ্য অনুযায়ী। এই ঐতিহ্যটা শিল্পীর বাইরের বস্তু মনে হত না। আধুনিক বড় কলকারখানায় শ্রমিককে পদে পদে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হয়। সে নিয়মটা যান্ত্রিক, সেটার সঙ্গে শ্রমিকের অন্তরের যোগ অসম্পূর্ণ। কর্মটা এমনি করে কর্মীর উপর একটা বাইরের বন্ধন হয়ে ওঠে। এটা আধুনিক জটিল শিল্পপ্রধান সমাজমাত্রেরই সমস্যা। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন রচনায়। শ্রমিক সংগঠনকে অংশগ্রহণ করতে ডাকা সম্ভব; কিন্তু তাতেও এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয় না। বহু মানুষ মিলে যেখানে একটা যান্ত্রিক ব্যাপারকে চালু রাখতে হয় সেখানে নিয়মগুলি হয়ে ওঠে ‘রুটিন’ ব্যক্তি মানুষকে তার দাসত্ব স্বীকার করেই কাজ করতে হয় আরও একটা কথা আছে। আধুনিক শিল্পসমাজের জটিল কর্মকাণ্ডে এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশ নানাভাবে জড়িত। অফিসে বা কারখানায় যিনি কর্মে নিযুক্ত তাঁকে কাজের নিয়ম নির্ধারণ করবার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া যায় না, কারণ কাজের শেষ লক্ষের সঙ্গে তাঁর নিজেরই পরিচয় অস্পষ্ট। মূলধনের স্বত্ব সংক্রান্ত আইন বদলে এ সমস্যা সমাধান হয় না। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালক গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভক্ত এদের ভিতর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ঐক্যবন্ধন দুই-ই অসম্পূর্ণ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ব্যক্তিগত মালিকানা লোপ পেলে এই বিভক্ত পরিচালক গোষ্ঠীর পরিবর্তে সর্বত্র একটা অপেক্ষাকৃত ঐক্যবদ্ধ আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

    আধুনিক সমাজ সংগঠনের এই মূল সমস্যাটি গত দু’শো বছরে বহু চিন্তাশীল ব্যক্তির লেখায় নানাভাবে ব্যক্ত হয়েছে। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যুক্তির ক্রমবিকাশ ঘটে। কিন্তু আধুনিক সমাজ সংগঠন যদি সম্পূর্ণ যুক্তিভিত্তিক হত তবুও ব্যক্তিমানুষ ঐ নৈর্ব্যক্তিক নিয়মের রাজত্বে নিজেকে প্রবাসী বোধ করত। বাস্তবক্ষেত্রে অবস্থাটা অবশ্য আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিয়ম ও প্রশাসন চালু রাখবার জন্য যে-আমলাতন্ত্রের সৃষ্টি হয় তার ক্ষমতা ও জটিলতা বাড়বার দিকেই একটা দুর্নিবার ঝোঁক দেখা দেয়। পশ্চাৎপদ ধনতান্ত্রিক দেশে হিংসাত্মক বিপ্লবের পথে রাষ্ট্রের ক্ষমতা অধিকার করবার উপায় লেনিন ও মাওবাদীরা উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু কম্যুনিস্ট দলের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করলেই মূল সমস্যার অবসান হয় না। মূলধনে ব্যক্তিগত মালিকানা লোপ করা যত সহজ আমলাতন্ত্রের অবসান ঘটানো মোটেই তেমন সহজ নয়। হিংসাত্মক বিপ্লবের অনিবার্য ফলস্বরূপ বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা একটি নতুন শাসকগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয় এবং আমলাতন্ত্রের প্রভাব আবারও বৃদ্ধি পায়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে আর্থিক ক্ষমতার সম্পর্কটাও এই সূত্রে বিচার্য। ধনতান্ত্রিক সমাজে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে পুঁজিপতিদের একটা পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, মার্ক্সীয় বিচারে একথা বলা হয়েছে। কথাটা ভুল নয়। কিন্তু শিল্প রাষ্ট্রায়ত্ত হবার পর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান জুড়ে বিশাল আমলাতন্ত্রের আধিপত্য আরও বিপুল ও সংহত আকার ধারণ করে। এই বিপুল ক্ষমতা আসলে শ্রমিক শ্রেণীর বা সর্বসাধারণের ক্ষমতারই কেন্দ্রগত সাংগঠনিক প্রকাশ, এই কল্পনাবিলাসী থিওরীর সঙ্গে বাস্তব ঘটনার বিরোধ ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    সমস্যাটা কম্যুনিস্ট দেশে সবচেয়ে গুরুতর আকারে দেখা গেছে কৃষির ক্ষেত্রে। এ যাবৎ শিল্পে অনুন্নত যেসব দেশে ক্যুনিস্ট বিপ্লব ঘটেছে সর্বত্রই বিপ্লবের আগে কৃষকদের ভিতর ভূমির স্বত্ব নিয়ে প্রবল অশান্তি ও বিক্ষোভ ব্যাপ্ত ছিল। এ অবস্থায় কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। জমি বণ্টনের যে সব দাবী নিয়ে কম্যুনিস্টরা প্রথমে এগিয়ে আসেন সে-সব দাবী বহু ক্ষেত্রেই ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু কম্যুনিস্ট দল ক্ষমতা দখল করবার পর জমিতে কৃষকের ব্যক্তিগত মালিকানা লোপ পায়। তার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হয় বৃহদাকার যৌথ ক্ষেতখামার; আর তারই পরিচালনাসূত্রে এক অভূতপূর্ব আমলাতন্ত্রের শাসন চেপে বসে গ্রামে গ্রামে। যুগোস্লাভিয়ার মতো যে দুয়েকটি কম্যুনিস্ট দেশে কৃষককে এ ব্যাপারে স্বাধীন সিদ্ধান্তের অধিকার দেওয়া হয়েছে সেখানে অধিকাংশ কৃষক এই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু যুগোস্লাভিয়া এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম।

    সোভিয়েত দেশের নেতারা বলেন যে, ধনতন্ত্রের পুনরভ্যুত্থানের ভয়ে ওঁরা দেশে বিরোধী দল গঠনের অধিকার দিতে পারেন না। কিন্তু ওদেশ থেকে ধনিক শ্রেণী বিদায় নিয়েছেন বহু বৎসর আগে। ধনিকদের বিরুদ্ধে নয়, আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধেই আজ গণমনে ব্যাপক অসন্তোষ। কম্যুনিস্ট দেশের মূল সমস্যা বুঝতে হলে এই কথাটাই প্রথমে মোহমুক্ত মন নিয়ে বোঝা দরকার। আমলাতন্ত্র বিরোধীদলকে ভয় করে; বিরোধী প্রতিষ্ঠানের অভাবে আমলাতন্ত্রের আধিপত্য অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।

    .

    আঠার উনিশ শতকে ধনতন্ত্রের প্রবক্তারা সাম্য-স্বাধীনতার বাণী কণ্ঠে নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সেই ইস্তাহারে কিছুটা ছিল সত্য, কিছুটা ভণ্ডামি! নতুন সমাজ ব্যবস্থায় আইনের চোখে নাগরিকের সাম্য স্বীকৃত হল, ব্যক্তিস্বাধীনতার আরও নানা শর্ত গৃহীত হল; কৃষক মজুরও ধীরে ধীরে সঙ্ঘবদ্ধ হবার অধিকার লাভ করলেন। তবু স্বাধীনতার ঐ সব শর্ত সত্ত্বেও অগণিত দরিদ্র মানুষকে পদে পদে নানা অন্যায় সহ্য করতে হয়েছে। ধনতন্ত্রের বিবর্তনে যাঁরা পুরোভাগে ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সোচ্চার। হয়েছে। এটাই অনিবার্য ছিল। কম্যুনিস্ট দেশে আর্থিক উন্নতির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্র তথা কম্যুনিস্ট দল। এখানেও অন্যায় কম ঘটেনি। কম্যুনিস্ট দল সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী উচ্চারণ করেছেন আত্মসমর্থনে। এই নতুন ইস্তাহারেও আছে খানিকটা সত্য আর খানিকটা সত্যের অপলাপ।

    মনে রাখা ভালো যে, কোনো ব্যবস্থাই নির্দোষ নয় আর বিশেষ কোনো একটা পথই সব দেশের পক্ষে সমান উপযোগী নয়। সাম্য ও স্বাধীনতার দিকে এগোবার উপায় ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। এদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবার জন্য যেসব শর্ত আজ পালন করা প্রয়োজন তার একটি হল, সুপরিকল্পিত কৃষি সংস্কার। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বুনিয়াদী সংস্থাগুলিকে গ্রামে ও শহরে ক্রমশ সুদৃঢ় করা আবশ্যক। এই সংস্থাগুলির কাজ হবে দ্বিবিধ গঠনমূলক ও প্রতিরোধাত্মক। এদেশের মানুষের ভিতর আত্মনির্ভরতা দুর্বল। দুর্ভাগ্যের কথা সমাজতন্ত্রের নামে আমরা আরও বেশী করে সরকারের উপর সব ব্যাপারে নির্ভরশীল হতে শিখেছি। পরিণামে আমলাতন্ত্রকেই এতে জোরালো করা হয়। স্বাধীন সমাজ গড়বার পক্ষে এটা সহায়ক নয়। বরং প্রয়োজন পরিপার্শ্বকে বাসযোগ্য করে তুলবার ব্যাপারে আরও বেশী ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ এবং গোষ্ঠীগতভাবে গঠনমূলক চিন্তা ও কর্মের প্রতি ঝোঁক। একই সঙ্গে চাই অন্যায়ের প্রতিকারে গণতান্ত্রিক অথচ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। এদেশে সমাজে যাঁরা ছোট বড় হর্তাকর্ত তাঁদের নানা ব্যাপারে ঔদাসীন্য এমনই অনড়, কোনো কথা তাঁদের কানে তোলা অথবা কোনো প্রশ্নের উত্তর আদায় করা এতই কঠিন যে, মাঝে মাঝে খানিকটা ঘা দিয়ে তাঁদের চৈতন্যোদয়ের চেষ্টাকে এক কথায় অন্যায় বলা যায় না। কিন্তু যুক্তিবিচার ও সহিষ্ণু প্রতিবাদকেই তবু অগ্রাধিকার দিতে হবে; কারণ আঘাত দেওয়াটাই অভ্যাসে পরিণত হলে তাতে অন্যায়ের অবসান ঘটে না, বরং সেই নির্বিচার হিংসা থেকে আরও কঠিন অন্যায়ের সৃষ্টি হয়। স্বাধীন সমাজে সম্পত্তির স্থান নিয়ে বিতর্ক চলবেই। ফরাসী দার্শনিক পু সম্পত্তিকে চৌর্যের সমান বলেও অবশেষে ব্যক্তিগত সম্পত্তি তুলে দিতে চাননি, পাছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা শ্বাসরোধকারী হয়ে ওঠে এই ভয়ে। যাঁরা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁরা রাষ্ট্রের অধীনে আনতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই চেষ্টাও হওয়া প্রয়োজন গণতান্ত্রিক উপায়ে। হিংসাত্মক বিপ্লবের পথে যে সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় তাতে মানুষ এমন কোনো অতুলনীয় আনন্দের অধিকারী হয় না যাতে গৃহযুদ্ধের অপরিসীম ক্ষয় ও তিক্ততা পূরণ হয়ে যায়। বরং পারস্পরিক সন্দেহের ভিতর দিয়ে অত্যাচারের এক অতিকায় যন্ত্র সমাজের বুক জুড়ে চেপে বসে। গণতন্ত্রের পথ যতদিন খোলা আছে ততদিন সেই পথই শ্রেয়।

    জীবনে এমন কিছু কাম্যবস্তু আছে যা অপরকে যত বেশী করে দেওয়া যায় ততোই আমরা নিজে বেশী করে পাই; যেমন প্রেম অথবা জ্ঞান। ধন অথবা ক্ষমতা সে জাতীয় বস্তু নয়। এইসব সীমাবদ্ধ কাম্যবস্তু নিয়ে দ্বন্দ্বকত্সহ ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক উভয় ব্যবস্থাতেই আছে, যদিও দ্বন্দ্বের রূপটা অবস্থা অনুসারে খানিকটা বদলায়। একথা মনে মনে জেনে রাখাই ভালো যে, ধনতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী কোনো উপায়েই সমাজ অনিন্দ্যসুন্দর হবে না। স্বর্গের কল্পনা কল্পনা হিসাবেই ভালো। বিজ্ঞান আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন; কিন্তু কোনো “বৈজ্ঞানিক পন্থাতেই পৃথিবীতে স্বর্গ স্থাপনা করা যাবে না। এই জেনে তারপর আমরা মানুষের দুঃখ যদি খানিকটা কমাতে পারি তবেই মঙ্গল।

    গত পঞ্চাশ বৎসরের ইতিহাসে প্রমাণিত হয়েছে যে, লেনিন ও মাও সে-তুং-এর প্রদর্শিত পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা সম্ভব, অন্তত কখনও কখনও। প্রমাণিত হয়নি যে, ঐ পথে আদর্শ সমাজে পৌঁছানো কখনও সম্ভব। অথচ আদর্শ সমাজে পৌঁছাবার পথের নির্দেশই মার্ক্স দিতে চেয়েছিলেন। ক্ষমতাই যাঁদের আদর্শ, ক্ষমতা ও আদর্শের ভিতর ভেদ উপলব্ধি করবার বোধও যাঁদের লুপ্ত, গত পঞ্চাশ বৎসরের ইতিহাসকে তাঁরাই বিনাদ্বিধায় মার্ক্সবাদের সপক্ষে দ্ব্যর্থহীন সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করবেন। এ কথা শুনে মার্ক্সবাদী কি কষ্ট হবেন? তা হলে বলি, দোহাই আপনাদের, মার্ক্সের একটি কথা অন্ততঃ রাখুন, ওঁকে ভগবান বানাবেন না। এ আশা কি দুরাশা যে, এদেশের সাম্যবাদীরা মার্ক্স অথবা গান্ধী কাউকেই সত্যের একমাত্র অধিকারী বলে দাবী করবেন না? উভয়ই অবশ্য শ্রদ্ধেয়।

    গণযুগ ও গণতন্ত্র (১৯৬৭)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র ১
    Next Article এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    Ek Pata Golpo

    সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

    October 28, 2025
    Ek Pata Golpo মহালয়া

    মহালয়া: মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya: Mahishasuramardini)

    September 10, 2025
    Ek Pata Golpo

    গাছের পাতা নীল – আশাপূর্ণা দেবী

    July 7, 2025
    Ek Pata Golpo

    লিঙ্গপুরাণ – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    June 3, 2025
    Ek Pata Golpo

    ৪. পড়ন্ত বিকেল

    April 5, 2025
    Ek Pata Golpo ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পূজারির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }