Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    লেখক এক পাতা গল্প1217 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.০২ স্বজন ও সজ্জন

    স্বজনপোষণ আজ এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে এর বিরুদ্ধে আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সবাই যথাসাধ্য স্বজনপোষণ করে চলেছেন। স্বজন বলতে কেউ বোঝেন নিজ পরিবার, কেউ বা নিজের দল, অথবা স্বজাতি।

    আক্ষেপ ও আচরণের এই বিরোধ থেকে একটা কথা সহজেই অনুমান করা যায়। আমরা অপরের স্বজনপোষণে বিক্ষুব্ধ, কারণ নিজের দলীয় স্বার্থে তাতে আঘাত লাগে। কিন্তু নীতিগতভাবে আমরা স্বজনপোষণের বিরোধী নই। অন্তত ঐরকম কোনো নীতিবোধ আমাদের মনের গভীরে স্থান পায়নি। সেখানে স্বজাতিপ্রীতির একমাত্র বিরোধী শক্তি স্বার্থপরতা। অতএব স্বজনপোষণকে আমরা একরকম কর্তব্যই মনে করি। যিনি স্বজনপোষণ করেন না, তিনি স্বার্থপর। এর চেয়ে বড় কোনো নীতি অথবা বিচারের কথা যদি-বা আমাদের ভাষায় স্থান পেয়েছে, আমাদের বিবেক তার দ্বারা ভারাক্রান্ত নয় এবং আচরণেও তার প্রকাশ নেই।

    ১৮৬১ সালে কলকাতা “হাই কোর্ট” স্থাপিত হয়। পাশ্চাত্ত্য বিচারধারার সঙ্গে এদেশের পরিচয় শুরু হয়েছে আরও আগে। কিন্তু যে ধ্যানধারণার ওপর পাশ্চাত্ত্য বিচারনীতি প্রতিষ্ঠিত তার সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যের একটা বিরাট অসামঞ্জস্য থেকেই গেছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অসংখ্য ছোট ছোট ঘটনায় এই অসামঞ্জস্য অহরহ প্রকট। কেউ অধিকার হিসাবে কিছু দাবি করলে আমরা অসন্তুষ্ট হই। স্বজাতি হিসাবে অথবা স্নেহাকাঙ্ক্ষীরূপে চাইলে আমরা কথাটা বুঝি। আর বুঝি মারের ভয়ে। কিন্তু অধিকারের প্রশ্ন উঠলে আমাদের হৃদয় হঠাৎ কঠিন হয়ে যায়। তখন যুক্তিমাত্রই আমাদের মনে হয় ‘তর্ক। তর্ক জিনিসটা যে আমরা কোনো ক্ষেত্রেই পছন্দ করি না এমন নয়। দার্শনিক তর্কে আমাদের কিঞ্চিৎ রুচি আছে। কিন্তু অধিকার নিয়ে তর্ক জিনিসটা আমাদের বড়ই অভদ্রতা ঠেকে।

    গোড়ার কথাটা এবার অন্যভাবে বলা যাক। কিছুটা স্বজনপোষণ সবদেশেই আছে, অর্থাৎ অপরিহার্য। আসল সমস্যা এই যে, আমাদের সমাজে পারিবারিক কর্তব্য ও ‘পাব্লিক ডিউটি’র ভিতর সীমারেখা অস্পষ্ট। ঐ ইংরেজী শব্দটির কোনো বাংলা প্রতিশব্দ মনে পড়ছে না। সামাজিক কর্তব্য বলতে তো আমরা সাধারণত পরিবার ও কুটুম্বদের প্রতি কর্তব্যই বুঝি। যৌথ পরিবার যদিও আজ অটুট নেই তবুও আমাদের মনের গভীরে যে-নীতিগুলি আমরা চিনি, যৌথ পরিবারের অতি প্রাচীন আধারেই তাদের সৃষ্টি। এসব নীতি আজ সর্বক্ষেত্রে পালিত না হলেও এরা সর্বজনপরিচিত। যৌথ পরিবারের নীতির সঙ্গে স্বজনপোষণের কোনো বিরোধ নেই। যে-নীতির ওপর দাঁড়িয়ে স্বজনপোষণের সমালোচনা সম্ভব, আমাদের কাছে সেটাই বিজাতীয়। আমরা যখন পরিবার ভেঙ্গে। বেরিয়ে আসি তখনও প্রায়শ কোনো দল অথবা সমিতি আমাদের চিত্তে যৌথ পরিবারের স্থান গ্রহণ করে। উপরন্তু দলীয় আনুগত্যের একটি বিশেষ সুবিধা আছে। যেহেতু যথার্থ সমাজবোধ আমাদের চিন্তায় অনুপস্থিত, অতএব দলীয় স্বার্থকে সামাজিক হিতের সঙ্গে অভিন্ন কল্পনা করা কঠিন হয় না; এবং পারিবারিক স্বার্থের পিছনে ধাবিত হতে। বিবেকজনিত যেটুকু অস্বস্তি বোধ করার সম্ভাবনা থাকে, দলীয় ব্যাপারে ততটুকুও থাকে না। দলীয়তার উর্ধ্বে স্বাধীন বিচার অথবা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বলে কোনো বস্তুর সঙ্গে আমাদের অধিকাংশেরই পরিচয় নেই।

    মানুষকে বুঝতে হলে তার সমাজকে বুঝতে হয়। আগেই দেখেছি যে, আমাদের সনাতন সমাজের একটা বড় ভিত্তি ছিল যৌথ পরিবার। স্নেহ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, আত্মত্যাগ প্রভৃতি গুণ এই প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় করে বিকশিত হয়েছে। প্রাচীন সমাজসংহতির ভিত্তি এবং ধর্মের অঙ্গ হিসাবে আচারেরও একটি বিশিষ্ট স্থান অস্বীকার করা যায় না। তা ছাড়া পরিবার ও সমাজকে অতিক্রম করে হিন্দুধর্মে ব্যক্তির এমন একটি নিঃসঙ্গ আত্মাকে স্বীকার করা হয়েছে যার মুক্তি সম্ভব ব্রহ্মের সঙ্গে যোগস্থাপনে।

    হিন্দুর ধর্মে যেখানে মোক্ষের কথা বলা হয়েছে সেখানে সমাজসংসার গৌণ, জীবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে সেখানে সাক্ষাৎ সম্পর্ক। এটা আমাদের বৈশিষ্ট্য। ইহুদী ধর্মে ভগবান চুক্তি স্থাপন করেছেন একটা গোটা জাতি অথবা সমাজের সঙ্গে। ইহুদী, খৃষ্টান ও মুসলমান ধর্মে বহুলোকের মিলিত উপাসনার যেমন রীতি আছে, হিন্দুধর্মে তেমন নেই। হিন্দুর ভজন নিঃসঙ্গ সাধকের গান। খৃষ্টানের জন্য আছে সম্মিলিত ধর্মসঙ্গীত। ব্যতিক্রম দেখানো কঠিন নয়; যেমন, কীর্তন। কিন্তু মোটের ওপর একটা পার্থক্য অস্বীকার করা যায় না।

    সত্য সম্বন্ধে ধারণাতেও একই প্রকার সূক্ষ্ম পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। সব ধর্মেই সত্যকে বড় স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সত্য শ্রদ্ধেয় কেন? যদি বলা হয় যে, সাধক ও ভগবানের ভিতর সত্যই যোগসূত্র তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের কাছে সত্য থাকবে এটাই প্রধান কথা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তি যদি নিজের কাছে সত্য না থাকে তো আত্মবিরোধ দেখা দেয়; সেই অবস্থায় তার মুক্তি সম্ভব নয়। হিন্দুর কাছে এটাই প্রধান কথা। কিন্তু সত্যের আরও একটি গুণ আছে। সত্য এক ব্যক্তিকে অন্যের সঙ্গে আবদ্ধ করে, সত্য সমাজসংহতির ভিত্তি! সত্যকে বিসর্জন দিলে মানুষে মানুষে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তি থাকে না, অতএব সমাজ উৎসম্নে যায়। বাইবেলে যে-ধর্মের ব্যাখ্যা আছে তাতে এদিকটাকে বড় করা হয়েছে। ভগবানের দশটি প্রধান আজ্ঞার ভিতর একটি হল এই যে, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কখনও মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে না।

    হিন্দুর কাছে এটা অপেক্ষাকৃত সামান্য কথা মনে হবে। তার চেয়ে বড় অহিংসা, সংযম প্রভৃতি গুণের ব্যাখ্যা। এইসব গুণ আয়ত্ত করতে পারলে মিথ্যা সাক্ষ্যের মতো সামান্য ব্যাপার উল্লেখেরই প্রয়োজন হবে না। এই ধরনের কিছু চিন্তা আমাদের মনে আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বিষয়টি এইভাবে দেখা ঠিক নয়। হিন্দুর কাছে অহিংসা, সংযম ইত্যাদি হল মূলত জিতেন্দ্রিয় হয়ে, অর্থাৎ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে, মোক্ষলাভের উপায়। বাইবেলের ধর্মে প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্যকে এমনই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যে, ভগবানের প্রধান আজ্ঞায় বারবারই এ বিষয়ে ইঙ্গিত লক্ষ করা যায়। পার্থক্যটা যদিও আপেক্ষিক তবুও এর গুরুত্ব আছে। প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্য সম্বন্ধে বাইবেলে যে-কথা আছে তার সঙ্গে তুলনীয় বাক্য মহাভারতেও পাওয়া যায়। কিন্তু এইসব ৰাক্য যে আমাদের ঐতিহ্যে তেমন কেন্দ্রীয় স্থান লাভ করেনি যেমন করেছে স্থিতপ্রজ্ঞের আদর্শ, তার কারণ আমাদের মূল সুরটি অন্তর্মুখী। হিন্দু মনে মনে নিঃসঙ্গ।

    এই বৈরাগ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রাচীন ভারতীয় সমাজকে ধারণ করে ছিল প্রধানত আচার ও পারিবারিক বন্ধন। আমাদের প্রাচীনেরা মহানুভবতার মুহূর্তে বসুধাকে কুটুম্ব চিন্তা করেছেন। এটা আত্মীয়তাবোধের বিস্তৃতি হিসেবে শ্রদ্ধেয়। কিন্তু অপরের প্রতি আমাদের কর্তব্য শুধু কুটুম্বতাবোধ দ্বারা নির্ণয় করা নিরাপদ নয়। কুটুম্বচিন্তায় ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্য ও অধিকারের প্রশ্নটা নগণ্য। মা সন্তানকে ভালোবাসেন সেটা মায়ের ধর্ম বলে, সন্তানের অধিকার বলে নয়। স্বাভাবিক স্নেহ ভালবাসাকে বাদ দিয়ে কোনো সমাজই চলে না। কিন্তু আধুনিক সমাজের পক্ষে এটা যথেষ্ট নয়। নাগরিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই যে, এখানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে এমন বহু মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে হয় যাদের সঙ্গে তার কোনো আত্মীয়তার বন্ধন নেই। আধুনিক জীবনের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য, পরিবর্তনশীলতা। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে অনাত্মীয় ও ভিন্ন রুচির মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে-নীতিবোধ প্রয়োজন, প্রাচীন নীতিবোধের সঙ্গে তার মৌলিক পার্থক্য আছে।

    আত্মীয় শব্দেরও অর্থে স্তরভেদ আছে। অনাত্মীয়ের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েই আত্মীয়তার উচ্চতর স্তরে ওঠা যায়। কথাটা তত্ত্বের আকারে বলা যাক। যেমন ব্যক্তির চেতনায় তেমনি সমাজজীবনের বিকাশে প্রেম ও যুক্তির একটা দ্বান্দ্বিক বিবর্তন লক্ষণীয়। প্রেমের দৃষ্টিতে সাধারণও বিশেষ হয়ে ওঠে। আমরা প্রত্যেকেই নিজের কাছে বিশেষ। প্রেম অপরকে নিজের অংশ করে তাকে বৈশিষ্ট্য দান করে। আর যুক্তির স্বভাব হল বিশেষকে একটি সাধারণ তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা। যাকে আমরা অক্লেশে আত্মীয় বলে চিনি, তার প্রতি সদ্ভাবের জন্য যুক্তি প্রয়োজন হয় না। কিন্তু প্রতিবেশীর কাছে তুমি। যে আচরণ আশা কর তার প্রতি তোমার আরচণও সেই রকম হওয়া উচিত, এই চিন্তায়। মানুষ আদিম আত্মীয়তাবোধকে অতিক্রম করে প্রেম ও যুক্তির একটি নতুন সমন্বয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। মনে রাখা আবশ্যক যে, এই চিন্তারই একটি ধাপে যীশুখৃষ্ট প্রতিবেশী’ শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করে অপরিচিতকেও তার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বৃহত্তর সমাজে পারস্পারিক কর্তব্য ও অধিকারের একটি নতুন ভিত্তি এইভাবে স্থাপিত হল।

    আধুনিক জীবনের সাধারণ কাজকর্মে যে নীতিবোধ প্রয়োজন হয় তাতে অনেক সময় প্রেমের অংশটা প্রধান নয়, তাকে প্রাধান্য দেওয়া বিপজ্জনক। পরীক্ষার খাতা দেখার। সময় পরীক্ষক যে নীতিবোধ থেকে নিরপেক্ষতা রক্ষা করেন তাতে সাধারণ অর্থে প্রেম। অনুপস্থিত তার পরিবর্তে আছে ন্যায় ও মঙ্গলবোধ। অধিক গুণসম্পন্ন অপরিচিত ব্যক্তিকে চাকুরীতে অগ্রাধিকার দেবার জন্য যে ন্যায় দৃষ্টি আবশ্যক, তাতে অপরিচিতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও প্রেমদৃষ্টির সঙ্গে সেটা অভিন্ন নয়।

    প্রশ্নের আরও গভীরে যাওয়া যাক। আত্মীয় ও প্রতিবেশীর ভিতরে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। আত্মীয় আমাদের “অহং” থেকে পৃথক নয়। স্ত্রী যেমন স্বামীর অধাঙ্গিনী, পুত্র যেমন পিতার প্রলম্বন, পরিবারও তেমনই আমিত্বের পরিবর্ধিত সংস্করণ। আত্মীয় সম্প্রসারিত অহং-এর অংশবিশেষ। প্রতিবেশী স্বতন্ত্র ব্যক্তি; তাকে স্বতন্ত্র জেনেও তার সঙ্গে আমরা কল্যাণেরই বন্ধনে আবদ্ধ হই। আধুনিক সমাজে মানুষে মানুষে এটাই প্রতীক সম্পর্ক। অতএব এ যুগে সজ্জন হতে হলে, সদিচ্ছার দ্বারা চালিত হতে হলে, স্বজনচিন্তার অধিক কিছু প্রয়োজন। “তুমিই সে” এই শিক্ষার ভিতর দিয়ে হিন্দুধর্ম বিশ্বকে ব্যক্তির অন্তরাত্মায় স্থাপন করেছে। কিন্তু যাকে আমরা সম্পূর্ণ আপন করতে পারিনি, সেই অপর মানুষের প্রতিও আমাদের কর্তব্য আছে। এ বিষয়ে হিন্দুধর্মে আচার ভিন্ন কোনো কার্যকর নির্দেশের অভাব। প্রাচীন আচারে আমরা আজ শ্রদ্ধা হারিয়েছি। অথচ ব্যক্তির স্বাতন্ত্র ও অধিকারবোধে চিহ্নিত আধুনিক জীবনদর্শন এখনও আমাদের ধ্যানধারণায় প্রবেশ করেনি।

    বলে রাখা ভালো যে, বিভিন্ন ধর্মে তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব সমস্যা আছে। কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য নয়। আমাদের সমাজের সমস্যা নিয়েই এই প্রবন্ধের ভাবনা। আধুনিক যুগের উপযোগী নীতিবোধ আমাদের ভিতর বিস্তার লাভ করেনি, অতএব প্রাচীন আত্মীয়-চিন্তার দুই বিপরীত মেরুর ভিতর আমরা আজও দোদুল্যমান। আমরা এক লাফে সমাজকে ডিঙিয়ে ভগবানের কাছে হাজির হই। যখন সংসারে ফিরে আসি তখন হয় স্বার্থবুদ্ধি, নয়তো স্বজনপোষণ নীতি দিয়ে চালিত হই। যে বৃহৎ সমাজবোধ অথবা বিবেক এ দুয়ের ভিতর সেতু রচনা করতে পারতো, আমাদের সংস্কৃতিতে আজ তার অস্তিত্ব প্রায় চোখে পড়ে না। এ ব্যাপারটা আমাদের মধ্যে এতোই ব্যাপক যে, এর ব্যতিক্রম আমরা কদাচিৎ কল্পনা করি। কারও কাজ যদি আপাতদৃষ্টিতে নিঃস্বার্থ হয় তো অত্যন্ত গোপন উদ্দেশ্য কল্পনা করে তাঁর সম্বন্ধে আমাদের সন্দেহ আরও গম্ভীর হয়। নয়তো তাঁকে আমরা সাধুসন্ত বানাই। মোট কথা, কোনো ব্যক্তি সংসারে থেকেও ব্যক্তিগত, পারিবারিক অথবা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে ন্যায়বুদ্ধি দ্বারা চালিত হতে পারেন, এটা সচরাচর আমাদের হিসেবের মধ্যে আসে না। কারণ। নিজের চেতনার ভিতর এটা আমরা সহজে খুঁজে পাই না। অপরের সম্বন্ধে আমাদের। ধারণা আত্মজ্ঞানেরই প্রতিফলন।

    যেমন প্রাচীন আত্মীয়তাবোধে ভাঙন ধরলেও নতুন ন্যায়বোধ আমাদের ধ্যানধারণায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তেমনই পুরাতন আচারের ধ্বংসাবশেষের ওপর নতুন আচার আমাদের সমাজে এখনও গড়ে ওঠেনি। ইতিহাসের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনাত্মীয়ের প্রতি আমাদের কর্তব্য পরিবর্তিত হয় এবং এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে নতুন। আচারের প্রয়োজন হয়। আচার বস্তুটির প্রতি আধুনিক মনে একটা বিরূপতা আছে। এর কারণ বোঝা কঠিন নয়। আচার সংস্কৃতিকে একটা বিশেষ ছাঁচে ঢালে; ফলে পরিবর্তন কঠিন হয়। তবু ব্যক্তিগত জীবনে অভ্যাসের মতোই সমাজজীবনে আচারের একটা স্থান আছে। অভ্যাসের জোরে যেমন আমরা কিছু প্রয়োজনীয় কাজ অক্লেশে করি, আচারের গুণে তেমনই কতগুলি দায়িত্ব সহজে পালন করা যায়। দায়িত্ব পালনের সময় যদি প্রতিবার চিন্তা করতে হয় যে, এবার ওটা না করলেই নয় কি না, তা হলে কর্তব্যে অবহেলা করার পক্ষে কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয় না।

    এই অবহেলা আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে। চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির কথা বলছি। সেইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনাচারের কথা বলছি যার যোগফল বৃহৎ। আমাদের অনেকেই বাড়ীতে পূজাহ্নিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন, কিন্তু অফিসে আড্ডা দেন। বাড়ীতে যাঁরা এসব কিছুতে বিশ্বাস করেন না, তাঁরাও সচরাচর অপরের অনুষ্ঠানে বাধা দেন না; চক্ষুলজ্জাটা অবিশ্বাসীর। অফিসে যিনি কাজে বিশ্বাসী তিনি মনে মনে উত্যক্ত বোধ করলেও আড্ডায় বাধা দেন না; চক্ষুলজ্জাটা বিশ্বাসীর। অর্থাৎ, পুরনো আচারের। জনমানসে একটা প্রতিষ্ঠা আছে; কিন্তু পরিবারের বাইরে দৈনন্দিন ক্রিয়াকাণ্ডে যেখানে আমরা অনাত্মীয়ের সঙ্গে সম্বন্ধ, সেখানে কোনো কর্মভিত্তিক নীতি গণমানসে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেখানে ব্যক্তি হিসাবে আমাদের প্রত্যাশা আছে, অভিযোগ আছে, কিন্তু সমাজ হিসাবে আমাদের কোনো আচার নেই, অতএব অভিযোগ পূরণের কোনো সহজ ও নিয়মিত পথ নেই।

    স্বজনপোষণের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। তারপর বলেছিলাম ব্যক্তির অধিকারের কথা। সেটা আরও গোড়ার প্রশ্ন। তাই দিয়ে শেষ করছি। কর্তব্যবোধ ও অধিকারবোধের ভিতর যে নতুন সামঞ্জস্য নাগরসংস্কৃতিতে আবশ্যিক, আমাদের সমাজে সেটা এখনও অপরিচিত, অন্তত অনাদৃত। অনাত্মীয় নাগরিকের প্রতি কর্তব্যপালনে আমরা অভ্যস্ত নই; অতএব অনাত্মীয় ব্যক্তির অধিকারও এখানে উপেক্ষিত। ব্যক্তির অধিকার আমরা বুঝি না, গ্রাহ্য করি না। পরিণামে অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্নের মীমাংসায় প্রাধান্য লাভ করে যুক্তির চেয়ে আদিম দুটি প্রবৃত্তি। আমরা দয়া বুঝি, আর বুঝি ভয়। যখন কিছু পেতে চাই, হাতজোড় করি–নয়তে মারমুখো হই। যখন কিছু দেবার প্রশ্ন ওঠে, কৃপা করি–অথবা গোলমাল এড়াবার জন্য দিই। ভয়ে আত্মসমর্পণ করি, তাকে বলি দরদ। যে বস্তুটি আজ আমাদের নেই তা হল মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ড নেই, কারণ যে নীতি আমাদের সংস্কারের অঙ্গ, সেটা এ যুগের নয়; যে নীতি এ যুগের যোগ্য, মনের। গভীরে তাতে আমাদের বিশ্বাস নেই। আমাদের একটা বড় পটুত্ব আছে, সেটা হল কোনো প্রকারে বাঁচা। কোনো প্রকারে আমরা বাঁচছি, বাঁচবো তবে সেটা যুগের যোগ্য জীবন নিয়ে বাঁচা নয়।

    কথাটা নৈরাশ্যবাদের মতো শোনাচ্ছে। তাহলে অন্যভাবে বলা যাক। আধুনিকতার একটা সদর্থ আছে; সেই অর্থটি যখন আমরা আবিষ্কার করতে পারব, সেটাই হবে এ যুগে। আমাদের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার! কারণ রাজা উজীর কে এলেন গেলেন তাতে খুব যায় আসে না; দেশের সংস্কারেরও পরিবর্তন চাই। আধুনিকতার যেটা গভীরতর অর্থ, যার কেন্দ্রে আছে ব্যক্তি এবং যুক্তি, সেটাকে জেনে, তাকে গ্রহণ করে, তবেই তাকে সার্থকভাবে। অতিক্রম করা সম্ভব। তার অভাবকেই বলব এ যুগের প্রকৃত অপসংস্কৃতি।

    ব্যক্তি যুক্তি সমাজ (১৯৭৮)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগড় শ্রীখণ্ড – অমিয়ভূষণ মজুমদার
    Next Article উনিশে ডিসেম্বর মরশুমের শীতলতম রাত – অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }