Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রসন্ন স্যার

    উপন্যাস সত্যজিৎ রায় এক পাতা গল্প12 Mins Read0

    প্রসন্ন স্যার

    অর্ধেন্দু সেনগুপ্ত সাতদিনের ছুটি নিয়ে শিমুলতলায় এসেছে। সে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে ভালো চাকরি করে, যদিও মাত্র পঁচিশ বছর বয়স। চেহারা সুশ্রী, চলনে বলনে রীতিমতো স্মার্ট। ব্যাচেলার হিসেবে তার এই শেষ ছুটি ভোগ, কারণ ফিরে গিয়ে দুমাসের মধ্যেই তার বিয়ে, পাত্রী ঠিক করেছেন তার মা নিজে। অর্ধেন্দুর একটু কাব্যচর্চার বাতিক আছে, সে শিমুলতলায় সেটার পিছনে কিছুটা সময় দিতে চায়, কলকাতায় কাজের চাপে আর হয়ে ওঠে না।

    দ্বিতীয় দিনই বিকেলে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে বেড়াতে গিয়ে প্রসন্ন স্যারের সঙ্গে দেখা। প্রসন্ন চক্রবর্তী অর্ধেন্দুর ইস্কুলে ইংরিজি পড়াতেন। তাঁর স্মরণশক্তির কথা সকলেই জানে, তিনি পুরোন ছাত্রদের কখনো ভোলেন না—সে ভালো ছেলেই হোক আর মন্দ ছেলেই হোক। অর্ধেন্দু তাঁকে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পেয়েছিল—একটানা ছ’বছর—তারপর প্রসন্ন স্যার চাকরি ছেড়ে দেন শারীরিক অসুস্থতার জন্য। এখনও তাঁকে দেখে খুব সুস্থ বলে মনে হল না। বারো বছর হয়ে গেছে, কিন্তু তাও প্রসন্ন স্যার অর্ধেন্দুকে দেখেই চিনে ফেললেন।

    ‘কীরে, মাকাল ফল, তোকে এখানে দেখব ভাবিনি তো!’ বললেন প্রসন্ন স্যার। শুধু চেনা নয়; অর্ধেন্দুকে তিনি যে মাকাল ফল বলে ডাকতেন সে কথাও মনে আছে। তখন মাকাল ফল নামকরণে একটা সার্থকতা ছিল। মাকাল ফল দেখতে লাল টুকটুকে, কিন্তু অখাদ্য। ক্লাস নাইন পর্যন্ত অর্ধেন্দুর চেহারাটাই শুধু ভালো ছিল, অন্যদিক দিয়ে সে খুব সাধারণ ছাত্রের পর্যায়ে পড়ত। প্রসন্ন স্যার ছাত্রদের মানানসই নামকরণ করতে খুব ভালোবাসতেন। এবং এ ব্যাপারে তাঁর ক্ষমতাও ছিল। এক অর্ধেন্দুর ক্লাসেই ছিল রামগরুড়ের ছানা, কুমড়ো পটাশ, ঈদের চাঁদ (রাধিকারঞ্জনের নাম, কারণ সে কামাই করত কথায় কথায়), খাঞ্জা খাঁ, যশুরে কৈ ইত্যাদি আরো অনেকে। সত্যি বলতে কি, খুব কম ছাত্রদেরই আসল নাম ধরে ডাকতেন প্রসন্ন স্যার। অবিশ্যি ছাত্ররাও তাঁর অগোচরে তাঁকে ‘অপ্রসন্ন স্যার’ বলত, কারণ প্রসন্ন চক্রবর্তীর মেজাজখানাও ছিল কড়া। সেটা অবিশ্যি সব সময়ে ধমকে প্রকাশ না পেয়ে ব্যঙ্গোক্তিতে পেত। সে খোঁচা বড় সাংঘাতিক খোঁচা।

    অর্ধেন্দু তার পুরনো মাস্টারকে প্রণাম করল।

    ‘আজকাল কিছু করা হচ্ছে, নাকি ফ্যাফ্যাগিরি?’ জিগ্যেস করলেন প্রসন্ন স্যার।

    অর্ধেন্দু বলল, ‘আপনাদের আশীর্বাদে একটা চাকরি করছি, তা সে তেমন কিছু নয়।’

    প্রসন্ন স্যারের ধারণাটা যাতে বজায় থাকে সেইদিকেই দৃষ্টি রেখে অর্ধেন্দু কথাটা বলল। মাকাল ফল আর ভালো চাকরি পায় কী করে? আসলে প্রসন্ন স্যার ইস্কুল ছেড়ে দেবার পরে অর্ধেন্দুর অনেক পরিবর্তন হয়। হায়ার সেকেন্ডারিতে সে রীতিমতো ভালো রেজাল্ট করে। কলেজে গিয়েও কেমিস্ট্রিতে অনার্স নিয়ে সে হাই সেকেন্ড ক্লাস পায়। সে খবর অবশ্য প্রসন্ন স্যারের জানবার কথা নয়, কারণ তিনি কলকাতা ছেড়ে দেশে গিয়ে সেখানে একটা ইস্কুলে চাকরি নেন এবং সেখান থেকেই রিটায়ার করেন।

    ‘যাক, তাহলে একটা হিল্লে হয়েছে তোর। ইস্কুলে তোর হাবভাব দেখে মনে হয়েছিল যে বায়স্কোপে অ্যাকটিং করা ছাড়া তোর আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। যত গবেট সব ওই লাইনেই যায় ত!’

    দিনে অন্তত দুবার করে ‘বায়স্কোপের’ বিরুদ্ধে কিছু না কিছু বলতেন প্রসন্ন স্যার। তিনি নাকি জীবনে দুখানা ছবি দেখেছেন। তাতেই তাঁর সাধ মিটে গেছে।

    ‘আপনার শরীর এখন কেমন?’ অর্ধেন্দু জিজ্ঞেস করল।

    ‘সেই তো মাইল্‌ড স্ট্রোক হয়ে ইস্কুল ছাড়লাম।’ বললেন প্রসন্ন স্যার। ‘তারপর নানান ব্যারামে ভুগেছি। নৈহাটি চলে গেস্‌লাম নিজের দেশে। সেইখানেই একটা ইস্কুলে চাকরি নিই। বছর চারেক হল সেখান থেকে রিটায়ার করেছি। এখন তবু খানিকটা ভালো আছি, কেবল হাঁপের কষ্ট। তাই ত শিমুলতলায় এলাম—একটু আরামে নিশ্বাস নেব বলে।’

    ‘পুরোন ছাত্রদের সঙ্গে দেখা হয়?’

    ‘এই ত তোর সঙ্গে হয়ে গেল। তুই ছাড়া আর কেউ এসেছে নাকি এখানে?’

    ‘আর ত কাউকে দেখিনি। তবে আমিও সবে এসেছি।’

    রোদ পড়ে আসছে দেখে হাতের ছাতাটা বন্ধ করে প্রসন্ন স্যার বললেন, ‘আসি, মাকাল ফল। আছিস যখন তখন নিশ্চয়ই আবার দেখা হবে।’

    প্রসন্ন স্যার ছাতা বগলে নিয়ে চলে গেলেন।

    পরদিন সকালে বাজারে অর্ধেন্দুর কিরণের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল—কিরণ বিশ্বাস। কিরণ অর্ধেন্দুর সঙ্গে একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ত। নিচের দিকের ক্লাসে সে ছিল ভালো ছেলের দলে। প্রসন্ন স্যার তাকে ‘সানশাইন’ বলে ডাকতেন। তাঁর বড় প্রিয় ছাত্র ছিল কিরণ। অবিশ্যি পরের দিকে কিরণের ইতিহাস অর্ধেন্দুর ঠিক উল্টো। উঁচু ক্লাসে উঠে সে অসৎ সঙ্গে পড়ে অমনোযোগী হয়ে পড়ে। হায়ার সেকেন্ডারিতে একবার ফেল করে। কিরণের এ পরিণাম কেউ আশা করেনি। অবিশ্যি প্রসন্ন স্যার কিরণের নৈতিক অবনতির কথা জানেন না।

    ‘কী করছিস আজকাল?’ অর্ধেন্দু জিগ্যেস করল। ‘ম্যাকফারসন কোম্পানির চাকরিটা আছে?’

    কিরণ মাথা নাড়ল।

    ‘আমার কপালে চাকরি নেই।’

    ‘এখনো রেসের মাঠে যাস?’

    ‘ওটা একবার ধরলে আর ছাড়া যায় না।’

    ‘তাহলে সংসার চলছে কি করে?’

    ‘বাবা মারা গেছেন তিন বছর হ’ল। তার ফলে হাতে কিছু টাকা এসেছে।’

    ‘সে আর কদিন?—ভালো কথা, প্রসন্ন স্যার এখানে রয়েছেন।’

    ‘তাই বুঝি?’

    ‘কাল স্টেশনে দেখা হয়েছিল। তুই আছিস জানলে খুব খুশি হবেন। আমাকে এখনো মাকাল ফল বলে ডাকেন।’

    ‘তার মানে আমাকে সানশাইন বলবেন।’

    ‘তা তো বটেই। ওঁর মেমরি ত জানিস। ইস্কুলের কোনো কথাই ভোলেননি।’

    ‘তুই কোথায় উঠেছিস?’ কিরণ জিগ্যেস করল।

    অর্ধেন্দু তার ডেরার অবস্থান বুঝিয়ে দিল। —‘এক বন্ধুর বাড়ি। এখন শুধু একটা মালি আর একটা চাকর আছে।’

    কিরণ বিদায় নিল।

    বিকেলে চা খেয়ে অর্ধেন্দু বেরোতে যাবে এমন সময় হন্তদন্ত কিরণ এসে হাজির।

    ‘কেলেঙ্কারি ব্যাপার!’

    ‘কী হল?’ অর্ধেন্দু জিগ্যেস করল।

    ‘প্রসন্ন স্যারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।’

    ‘সে ত হবেই—এতটুকু জায়গা! কী বললেন?’

    ‘এখনো সানশাইন নাম ধরে বসে আছেন। কী করছি জিগ্যেস করতে একঝুড়ি মিথ্যে কথা বলতে হল। ভেরেন্ডা ভাজছি আর ঘোড়ার পেছনে পয়সা ঢালছি সে ত আর বলা যায় না।’

    ‘কী বললি?’

    ‘বললুম চাকরি করছি। তুই তোর আপিসের কথা বলিসনি তো?’

    ‘নাম বলিনি। কেন—তুই বলেছিস নাকি?’

    ‘আর কিছু মাথায় এল না। ভদ্রলোক আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, তিনি ইস্কুলেই জানতেন যে আমি জীবনে উন্নতি করব। তোর কথাও বললেন। বললেন, ‘মাকাল ফলটা এখনও সেই রকমই আছে। বললে, একটা চাকরি করছে, কিন্তু সে চাকরি যে কিরকম সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।”

    অর্ধেন্দু হেসে উঠল।

    ‘এখানেই শেষ না,’ বলল কিরণ। ‘আরো ব্যাপার আছে।’

    ‘কী ব্যাপার?’

    ওঁর একটি ছেলে আছে। বাইশ বছর বয়স। ওঁর ছোট ছেলে। বি. কম. পাশ করেছে, কিন্তু চাকরি পায়নি এখনো। চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারছে না। প্রসন্ন স্যার বললেন, যদি তার জন্যে একটা কিছু করে দিতে পারি।’

    ‘তুই কি বললি?’

    ‘আমি বললাম, চেষ্টা করব। কী আর বলব বল!’

    ‘ঠিক আছে। প্রসন্ন স্যারের ধারণাটা বজায় রাখতে হবে। নাহলে লোকটা মনে বড় কষ্ট পাবে। হাজার হোক, অভাবী লোক ত, তার উপরে অসুস্থ। আর এককালে ক্লাসে ভাল পড়াতেন সেটা বলতেই হবে। ওঁর কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।’

    ‘তাহলে কী করা যায় বলত?’

    ‘ওঁর ছেলেকে একটা চাকরি যোগাড় করে দিতে হবে। ছেলেটা লেখাপড়ায় কেমন?’

    ‘বললেন ত ভালো, কিন্তু ব্যাকিং ছাড়া নাকি কিছু হচ্ছে না।’

    ‘তাহলে এক কাজ কর। ওঁর সঙ্গে দেখা করে বল, তোর আপিসে, অর্থাৎ আমার আপিসে গিয়ে দেখা করতে। আমি চেষ্টা করে দেখি ওর জন্য কিছু করা যায় কিনা।’

    ‘তাই বলব ত? তুই ঠিক বলছিস?’

    ‘ঠিক বলছি। ওঁর ছেলের জন্য যদি কিছু করতে হয় তাহলে সানশাইনই করবে। মাকাল ফলের দ্বারা কিছু হবে না।’

    ‘যাক, তুই আমাকে বাঁচালি।’

    ‘তবে একটা কথা ভুলিস না।’

    ‘কী?’

    ‘প্রসন্ন স্যার এককালে তোর কী নাম দিয়েছিলেন, আর আজকাল তোর কী অবস্থা হয়েছে!’

    কিরণের মাথা হেঁট হয়ে গেল। সে বলল, ‘বাবা মারা যাবার আগে ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন।’

    ‘তাহলে?’

    ‘তোর কথাটা মনে রাখব।’

    ‘ঠিক ত?’

    ‘ঠিক। কথা দিচ্ছি। কিরণ বিশ্বাস যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে তা নয়।’

    পরদিন বিকেলে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে আবার প্রসন্ন স্যারের সঙ্গে দেখা। বললেন, ‘সানশাইন এখানে রয়েছে, জানিস ত?’

    ‘জানি, কাল দেখা হয়েছে।’

    ‘ছেলেটা একটুও বদলায়নি। বলল, আমার ছেলের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে। তোকে আর দীপ্তেনের কথাটা বলিনি, কারণ জানি তোর দ্বারা কিছু হবে না।’

    ‘আপনি ঠিক লোককেই ধরেছেন স্যার। আর আপনার নামকরণের কোনো তুলনা নেই।’

    প্রসন্ন স্যার

    অর্ধেন্দু সেনগুপ্ত সাতদিনের ছুটি নিয়ে শিমুলতলায় এসেছে। সে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে ভাল চাকরি করে, যদিও মাত্র পঁচিশ বছর বয়স। চেহারা সুশ্রী, চলনে বলনে রীতিমতো স্মার্ট। ব্যাচেলার হিসেবে তার এই শেষ ছুটি ভোগ, কারণ ফিরে গিয়ে দুমাসের মধ্যেই তার বিয়ে, পাত্রী ঠিক করেছেন তার মা নিজে। অর্ধেন্দুর একটু কাব্যচর্চার বাতিক আছে, সে শিমুলতলায় সেটার পিছনে কিছুটা সময় দিতে চায়, কলকাতায় কাজের চাপে আর হয়ে ওঠে না।

    দ্বিতীয় দিনই বিকেলে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে বেড়াতে গিয়ে প্রসন্ন স্যারের সঙ্গে দেখা। প্রসন্ন চক্রবর্তী অর্ধেন্দুর ইস্কুলে ইংরিজি পড়াতেন। তাঁর স্মরণশক্তির কথা সকলেই জানে, তিনি পুরনো ছাত্রদের কখনও ভোলেন না–সে ভাল ছেলেই হোক আর মন্দ ছেলেই হোক। অর্ধেন্দু তাঁকে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পেয়েছিল–একটানা ছবছর–তারপর প্রসন্ন স্যার চাকরি ছেড়ে দেন শারীরিক অসুস্থতার জন্য। এখনও তাঁকে দেখে খুব সুস্থ বলে মনে হল না। বারো বছর হয়ে গেছে, কিন্তু তাও প্রসন্ন স্যার অর্ধেন্দুকে দেখেই চিনে ফেললেন।

    কী রে, মাকাল ফল, তোকে এখানে দেখব ভাবিনি তো! বললেন প্রসন্ন স্যার। শুধু চেনা নয়; অর্ধেন্দুকে তিনি যে মাকাল ফল বলে ডাকতেন সেকথাও মনে আছে। তখন মাকাল ফল নামকরণে একটা সার্থকতা ছিল। মাকাল ফল দেখতে লাল টুকটুকে, কিন্তু অখাদ্য। ক্লাস নাইন পর্যন্ত অর্ধেন্দর চেহারাটাই শুধু ভাল ছিল, অন্যদিক দিয়ে সে খুব সাধারণ ছাত্রের পর্যায়ে পড়ত। প্রসন্ন স্যার ছাত্রদের মানানসই নামকরণ করতে খুব ভালবাসতেন। এবং এ ব্যাপারে তাঁর ক্ষমতাও ছিল। এক অর্ধেন্দুর ক্লাসেই ছিল রামগরুড়ের ছানা, কুমড়ো পটাশ, ঈদের চাঁদ (রাধিকারঞ্জনের নাম, কারণ সে কামাই করত কথায় কথায়), খাঞ্জা খাঁ, যশুরে কৈ ইত্যাদি আরও অনেকে। সত্যি বলতে কি, খুব কম ছাত্রদেরই আসল নাম ধরে ডাকতেন প্রসন্ন স্যার। অবিশ্যি ছাত্ররাও তাঁর অগোচরে তাঁকে অপ্রসন্ন স্যার বলত, কারণ প্রসন্ন চক্রর্তেীর মেজাজখানাও ছিল কড়া। সেটা অবিশ্যি সবসময়ে ধমকে প্রকাশ না পেয়ে ব্যঙ্গোক্তিতে পেত। সে খোঁচা বড় সাংঘাতিক খোঁচা।

    অর্ধেন্দু তার পুরনো মাস্টারকে প্রণাম করল।

    আজকাল কিছু করা হচ্ছে, নাকি ফ্যাফ্যাগিরি? জিজ্ঞেস করলেন প্রসন্ন স্যার।

    অর্ধেন্দু বলল, আপনাদের আশীর্বাদে একটা চাকরি করছি, তা সে তেমন কিছু নয়।

    প্রসন্ন স্যারের ধারণাটা যাতে বজায় থাকে সেইদিকেই দৃষ্টি রেখে অর্ধেন্দু কথাটা বলল। মাকাল ফল আর ভাল চাকরি পায় কী করে? আসলে প্রসন্ন স্যার ইস্কুল ছেড়ে দেবার পরে অর্ধেন্দুর অনেক পরিবর্তন হয়। হায়ার সেকেন্ডারিতে সে রীতিমতো ভাল রেজাল্ট করে। কলেজে গিয়েও কেমিস্ট্রিতে অনার্স নিয়ে সে হাই সেকেন্ড ক্লাস পায়। সে খবর অবশ্য প্রসন্ন স্যারের জানবার কথা নয়, কারণ তিনি কলকাতা ছেড়ে দেশে গিয়ে সেখানে একটা ইস্কুলে চাকরি নেন এবং সেখান থেকেই রিটায়ার করেন।

    যাক, তা হলে একটা হিল্লে হয়েছে তোর। ইস্কুলে তোর হাবভাব দেখে মনে হয়েছিল যে বায়স্কোপে অ্যাকটিং করা ছাড়া তোর আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। যত গবেট সব ওই লাইনেই যায় তো!

    দিনে অন্তত দুবার করে বায়স্কোপের বিরুদ্ধে কিছু না কিছু বলতেন প্রসন্ন স্যার। তিনি নাকি জীবনে দুখানা ছবি দেখেছেন। তাতেই তাঁর সাধ মিটে গেছে।

    আপনার শরীর এখন কেমন? অর্ধেন্দু জিজ্ঞেস করল।

    সেই তো মাইন্ড স্ট্রোক হয়ে ইস্কুল ছাড়লাম। বললেন প্রসন্ন স্যার। তারপর নানান ব্যারামে ভুগেছি। নৈহাটি চলে গেলাম নিজের দেশে। সেইখানেই একটা ইস্কুলে চাকরি নিই। বছর চারেক হল সেখান থেকে রিটায়ার করেছি। এখন তবু খানিকটা ভাল আছি, কেবল হাঁপের কষ্ট। তাই তো শিমুলতলায় এলাম–একটু আরামে নিশ্বাস নেব বলে।

    পুরনো ছাত্রদের সঙ্গে দেখা হয়?

    এই তো তোর সঙ্গে হয়ে গেল। তুই ছাড়া আর কেউ এসেছে নাকি এখানে?

    আর তো কাউকে দেখিনি। তবে আমিও সবে এসেছি।

    রোদ পড়ে আসছে দেখে হাতের ছাতাটা বন্ধ করে প্রসন্ন স্যার বললেন, আসি, মাকাল ফল। আছিস যখন, তখন নিশ্চয়ই আবার দেখা হবে।

    প্রসন্ন সার ছাতা বগলে নিয়ে চলে গেলেন।

    পরদিন সকালে বাজারে অর্ধেন্দুর কিরণের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল–কিরণ বিশ্বাস। কিরণ অর্ধেন্দুর সঙ্গে একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ত। নীচের দিকের ক্লাসে সে ছিল ভাল ছেলের দলে। প্রসন্ন স্যার তাকে সানশাইন বলে ডাকতেন। তাঁর বড় প্রিয় ছাত্র ছিল কিরণ। অবিশ্যি পরের দিকে কিরণের ইতিহাস অর্ধেন্দুর ঠিক উলটো। উঁচু ক্লাসে উঠে সে অসৎসঙ্গে পড়ে অমনোযোগী হয়ে পড়ে। হায়ার সেকেন্ডারিতে একবার ফেল করে। কিরণের এ পরিণাম কেউ আশা করেনি। অবিশ্যি প্রসন্ন স্যার কিরণের নৈতিক অবনতির কথা জানেন না।

    কী করছিস আজকাল? অর্ধেন্দু জিজ্ঞেস করল। ম্যাকফারসন কোম্পানির চাকরিটা আছে?

    কিরণ মাথা নাড়ল।

    আমার কপালে চাকরি নেই।

    এখনও রেসের মাঠে যাস?

    ওটা একবার ধরলে আর ছাড়া যায় না।

    তা হলে সংসার চলছে কী করে?

    বাবা মারা গেছেন তিন বছর হল। তার ফলে হাতে কিছু টাকা এসেছে।

    সে আর কদিন?–ভাল কথা, প্রসন্ন স্যার এখানে রয়েছেন।

    তাই বুঝি?

    কাল স্টেশনে দেখা হয়েছিল। তুই আছিস জানলে খুব খুশি হবেন। আমাকে এখনও মাকাল ফল বলে ডাকেন।

    তার মানে আমাকে সানশাইন বলবেন।

    তা তো বটেই। ওঁর মেমরি তো জানিস। ইস্কুলের কোনও কথাই ভোলেননি।

    তুই কোথায় উঠেছিস? কিরণ জিজ্ঞেস করল।

    অর্ধেন্দু তার ডেরার অবস্থান বুঝিয়ে দিল।–এক বন্ধুর বাড়ি। এখন শুধু একটা মালি আর একটা চাকর আছে।

    কিরণ বিদায় নিল।

    বিকেলে চা খেয়ে অর্ধেন্দু বেরোতে যাবে এমন সময় হন্তদন্ত কিরণ এসে হাজির।

    কেলেঙ্কারি ব্যাপার!

    কী হল? অর্ধেন্দু জিজ্ঞেস করল।

    প্রসন্ন স্যারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

    সে তো হবেই–এতটুকু জায়গা! কী বললেন?

    এখনও সানশাইন নাম ধরে বসে আছেন। কী করছি জিজ্ঞেস করতে একঝুড়ি মিথ্যে কথা বলতে হল। ভেরেন্ডা ভাজছি আর ঘোড়ার পিছনে পয়সা ঢালছি, সে তো আর বলা যায় না।

    কী বললি?

    বললুম চাকরি করছি। তুই তোর আপিসের কথা বলিসনি তো?

    নাম বলিনি। কেন–তুই বলেছিস নাকি?

    আর কিছু মাথায় এল না। ভদ্রলোক আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, তিনি ইস্কুলেই জানতেন যে, আমি জীবনে উন্নতি করব। তোর কথাও বললেন। বললেন, মাকাল ফলটা এখনও সেইরকমই আছে। বললে, একটা চাকরি করছে, কিন্তু সে চাকরি যে কীরকম সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

    অর্ধেন্দু হেসে উঠল।

    এখানেই শেষ না, বলল কিরণ। আরও ব্যাপার আছে।

    কী ব্যাপার?

    ওঁর একটি ছেলে আছে। বাইশ বছর বয়স। ওঁর ছোট ছেলে। বি. কম. পাশ করেছে, কিন্তু চাকরি পায়নি এখনও। চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারছে না। প্রসন্ন স্যার বললেন, যদি তার জন্যে একটা কিছু করে দিতে পারি।

    তুই কী বললি?

    আমি বললাম, চেষ্টা করব। কী আর বলব বল!

    ঠিক আছে। প্রসন্ন স্যারের ধারণাটা বজায় রাখতে হবে। নাহলে লোকটা মনে বড় কষ্ট পাবে। হাজার হোক, অভাবী লোক তো, তার উপরে অসুস্থ। আর এককালে ক্লাসে ভাল পড়াতেন সেটা বলতেই হবে। ওঁর কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।

    তা হলে কী করা যায় বল তো?

    ওঁর ছেলেকে একটা চাকরি জোগাড় করে দিতে হবে। ছেলেটা লেখাপড়ায় কেমন?

    বললেন তো ভাল, কিন্তু ব্যাকিং ছাড়া নাকি কিচ্ছু হচ্ছে না।

    তা হলে এক কাজ কর।

    ওঁর সঙ্গে দেখা করে বল, তোর আপিসে, অর্থাৎ আমার আপিসে গিয়ে দেখা করতে।

    আমি চেষ্টা করে দেখি ওর জন্য কিছু করা যায় কিনা।

    তাই বলব তো? তুই ঠিক বলছিস?

    ঠিক বলছি। ওঁর ছেলের জন্য যদি কিছু করতে হয় তা হলে সানশাইনই করবে। মাকাল ফলের দ্বারা কিছু হবে না।

    যাক, তুই আমাকে বাঁচালি!

    তবে একটা কথা ভুলিস না।

    কী?

    প্রসন্ন স্যার এককালে তোর কী নাম দিয়েছিলেন, আর আজকাল তোর কী অবস্থা হয়েছে।

    কিরণের মাথা হেঁট হয়ে গেল। সে বলল, বাবা মারা যাবার আগে ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন।

    তা হলে?

    তোর কথাটা মনে রাখব।

    ঠিক তো?

    ঠিক। কথা দিচ্ছি। কিরণ বিশ্বাস যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে তা নয়।

    .

    পরদিন বিকেলে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে আবার প্রসন্ন স্যারের সঙ্গে দেখা। বললেন, সানশাইন এখানে রয়েছে, জানিস তো?

    জানি, কাল দেখা হয়েছে।

    ছেলেটা একটুও বদলায়নি। বলল, আমার ছেলের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে। তোকে আর দীপ্তেনের কথাটা বলিনি, কারণ জানি তোর দ্বারা কিছু হবে না।

    আপনি ঠিক লোককেই ধরেছেন স্যার। আর আপনার নামকরণের কোনও তুলনা নেই!

    শুকতারা, বৈশাখ ১৩৯৮

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅক্ষয়বাবুর শিক্ষা
    Next Article অভিরাম

    Related Articles

    সত্যজিৎ রায়

    মানপত্র সত্যজিৎ রায় | Maanpotro Satyajit Ray

    October 12, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }