Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রস্থানপর্ব – মহাশ্বেতা দেবী

    মহাশ্বেতা দেবী এক পাতা গল্প94 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রস্থানপর্ব – ৫

    পাঁচ – চাঁদ সামন্ত

    সরসী তালুকদারকে আমি ‘বউদি’ বলেছি, বিনয়দা বলত বলে। অরুণ তালুকদারকে আমি ‘দাদা’ বলিনি, অরুণবাবু বলি। যে লোক নেটের গেঞ্জির ওপর চিকনের পাঞ্জাবি পরে, গায়ে সুগন্ধি মাখে, চুলে কেয়োকার্পিন তেল—দাশরথি রায়ের নাম জানে না, অথচ যাত্রা বিষয়ে বক্তৃতা দেয়, তেমন অশিক্ষিত লোককে আমি ‘দাদা’ বলি না।

    বিনয়দাকে ‘দাদা’ বলি। প্রথমত, তাকে ভালবাসি (এঃ, বিনয়দা জেনে গেল), শ্রদ্ধা করি। ওর দুর্লভ গুণ হলো ও সবসময়েই সমসাময়িক থেকে যায়। আমি বয়সে বিনয়দার চেয়ে তের বছরের ছোট, আমার সবসময়ে মনে হয়েছে একজন সমসময়ের লোকের সঙ্গে কথা বলছি। অরু আমার চেয়ে পনের বছরের ছোট ওরও নিশ্চয় তেমনই মনে হয়। তার ওপরে যেটা আকর্ষণ করে, কোনো ভানভণিতা নেই। নির্ভেজাল সেই বাঙালি, যার রুচি, প্রবণতা, সৌজন্যবোধ, ভদ্রতা, মনের সততা পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে গঠিত। এবং বাণিজ্যিক মঞ্চ ও সিনেমার লাইনের লোক। সে মঞ্চ ও চিত্রজগতের খুঁটিনাটি সব খবর রাখে, সে সবে ওর ভালোবাসা প্রোথিত।

    দেবী মুখার্জি আত্মহত্যা করলে আঠারো বছরের বিনয়দা কেঁদেছিল।

    ছবি বিশ্বাসকে ও বলত রাজা—আর উত্তম—সুচিত্রার জুটির পর রোমান্টিক বাংলা ছবি মরে গেছে বলে ওর বিশ্বাস।

    আধুনিক নয় ও? অনাধুনিকও নয়। এস ফোটোগ্রাফার ছিল। খুব সেনসিটিভ পোর্ট্রেট তুলতে পারত।

    হেমন্ত মুখার্জির বাংলা গানের হিসেব ও মুখে মুখে দিতে পারে। মনটা ওর অত্যধিক নরম।

    বিনয়দা কেন বিয়ে করে নি, তার একটুখানি আমি জানি। মেয়েটিকে ভালবাসত বছর ছয়েক ধরে—কিন্তু মেয়েটিকেই সে কথা বলে উঠতে পারেনি।

    অবশ্যই মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়। আত্মীয়বৃত্তেই পড়ে, ফলে ক্বচিৎ কদাচ দেখাও হয়ে যায়। কিন্তু এ কথা মেয়েটি আজও জানে না।

    আমার বহুদিনের বান্ধবী যখন আমাকে বিদায় জানিয়ে আমার এক দূরসম্পর্কের বকসওয়ালা কাকাকে বিয়ে করল, আমি কেঁদেছিলাম।

    বিনয়দা আমাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজের কাহিনী বলে।

    আমার বান্ধবী এবং বিনয়দার সেই প্রেমাস্পদার নামটাও একই। বিনয়দা বলতে অনুমতি দিয়েছে বলে বললাম।

    দত্তদাকেও আমি বিনয়দার সূত্রেই জেনেছি। দত্তদাকেও আমার ভারি পছন্দ। এমন খাঁটি মানুষ কমই দেখা যায়। দত্তদাও রুচি ইত্যাদিতে বিনয়দার স্কুলেরই লোক। দত্তদাও অনেক লোকের আপনজন হতে পারেন।

    বউদির যে ব্যাপারটা আমাকে অভিভূত করত, তা হলো, অভিজ্ঞতা বা শিক্ষা দিয়ে নয় (বউদি কোনো ইংরিজি বই পড়েনি), হৃদয়ানুভূতি দিয়ে ও অনেকটা বুঝতে পারত।

    পুরনো কেতার বাণিজ্যিক রঙ্গমঞ্চের অভিনেত্রী। কিন্তু আধুনিক যা কিছু, তা বুঝুক, না—বুঝুক—বুঝতে চেষ্টা করত।

    আমি একান্তই পুঁথিগত বিদ্যা নিয়ে চলি। আমার সকল জ্ঞানই সেকেন্ড হ্যান্ড। অর্থাৎ অন্যের বইপত্রই আমার জ্ঞানের উৎস। অবশ্য এখন উৎসের সন্ধানও করি।

    আমার নাম চন্দ্রনিভ সামন্ত। আমার বিচারক বাবা (স্কুলে শুনতাম ‘জজের ব্যাটা’) এবং সংস্কৃতে আদ্য—মধ্য—অন্ত পাশ মা, আমার অজানিত এবং ওঁদের জানিত কোনো গোপন ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন সাতটি সন্তানের বিদকুটে সব নাম রেখে বিদ্যুৎনিভ (বব সামন্ত), সূর্যনিভ (সানি), বিশ্বনিভ (বেচারা আজও বিশে), চন্দ্রনিভ (চাঁদু বা চাঁদ), কুসুমবল্লভা (মানে কি?) এবং সমুদ্রপ্রভা (মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন)। এ হেন নামের বিরুদ্ধে যে—যার মতো বিদ্রোহ করেছি। বড়দা ও মেজদা যে জীবনবৃত্তে ঢুকেছে সেখানে বড় নাম চলে না। সেজদা চিরকাল স্কুলে গাল খেয়েছে, আ হা হা হা, বিশ্বনিভ! মানে বিশ্ব সদৃশ! নাম বদলাও, নাম বদলাও। বড়দি ভালমানুষ, জামাইবাবু ওকে এখানে ‘অয়ি বল্লভে’! বলেন। ছোড়দি এফিডেবিট করে সাগরী হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া!

    আমার বাবার নাম কিন্তু লালগোপাল এবং মায়ের নাম কুমুদিনী। আমার নাম সংহিতা শুনে বউদি হাসতে হাসতে গড়িয়ে যেত। বলত, বাপ রে বাপ! নাম নিয়ে কি ভোগা না ভুগেছ!

    —খুব। বিনয়দার মতো সৌভাগ্যবান নই। অরু তো আধুনিক সময়ের ছেলে।

    আমি অনেক কথা বলব না।

    বউদির ‘তাসের বিবি’ থেকে সব নাটকই দেখেছি আমি। অরুণবাবুর লেখা নাটকগুলো পড়েছি মাত্র। তাও কি ‘তাসের বিবি’ দেখতাম? বাবার ছবি রি—টাচ করাবার জন্যে কার কথায় যেন বিনয়দার স্টুডিওতে যাই।

    বাবার গোঁপ ও স্যর আশুতোষ মার্কা জ্বলন্ত চোখ সেই জীর্ণ ফোটো থেকে উদ্ধার করা যায়নি। কিন্তু বিনয়দা আমার বন্ধু হয়ে গেলেন।

    কোন বাড়ির ছেলে, কি পড়েছি, কি করি, বড়দের মতো জিগ্যেস করছিলেন, আমি উত্তর দিচ্ছিলাম। প্রেসিডেন্সি শুনে বললেন, আমিও প্রেসিডেন্সি হে। ১৯৪৯ সালের বি.এস.সি।

    —আর আমি ১৯৬২—তে ইংরিজি অনার্স।

    বিনয়দাই একদিন বললেন, চলো একজনের অসামান্য অভিনয় দেখিয়ে আনি।

    বাণিজ্যিক মঞ্চকে তখন তাচ্ছিল্য করি। বলি, ওসব বস্তাপচা মালের দিন চলে গেছে। দেখা যায়, বসে?

    —আমি তো দেখি।

    দেখলাম। ‘তাসের বিবি’ দেখে সরসী তালুকদারের পায়ে মাথাটি রেখে এলাম, মনে মনে।

    —এ রকম ট্যালেন্ট নিয়ে এই মঞ্চে?

    —ভিড় দেখেছিলে? ভিড় হয়, মানুষ হাসে, কাঁদে আবার দেখে। ওঁর তো সব নাটকই হিট হয়। এটা অবাক কাণ্ড।

    —নাট্যকারের বউ?

    —হ্যাঁ। যদিও এ নাটক কিছুটা শোধরানো হয়েছে।

    —নাট্যকার নারীবিদ্বেষী।

    তখনো নারীমুক্তি আন্দোলন, ফেমিনিস্ট মুভমেন্ট, এসব শব্দ এমন প্রচলিত হয়। কিন্তু আমাকে লোকে ফেমিনিস্ট বলে, এবং আমি কারো দুঃখ—কষ্ট—যন্ত্রণা সহ্য করতে পারি না। মেয়েদের তো নয়ই। নাট্যকারের নারীবিদ্বেষ আমার ভালো লাগেনি।

    বিনয়দা একটু চুপ করে থেকে বলেছিল, কি করবে বলো? পাবলিক পতিপরায়ণা সতী স্ত্রী, সন্তান—বাৎসল্যে প্রাণ দিতে প্রস্তুত মা, ইত্যাদি ইত্যাদি জীবনেও দেখতে চায়, মঞ্চ এবং পর্দাতেও।

    —জীবনেও?

    —আমার ধারণা, সাধারণত তাই চায়। ব্যতিক্রম থাকতেই পারে।

    পরে বুঝেছি কথাটা সত্যি। সে সত্য অবশ্য বদলাচ্ছে, তবে ধীরে, অতি ধীরে।

    বিনয়দা, দত্তদা—এদের সঙ্গেই অরুণ তালুকদারের বাড়িতে যাই, সরসী তালুকদারের সঙ্গে আলাপ করতে।

    অরুণবাবু বলল, এদের তোয়াজ করো সরসী। এরা এ যুগের ছেলে…কালচার নিয়ে লেখে…উলটোপালটা লিখে দিলে তোমার ক্ষতি।

    —তুমি কাগজে নাট্যসমালোচনা লেখো ভাই?

    —না না, আমি লিখব নাট্যসমালোচনা?

    বউদি অরুণবাবুকে বলল, তবে? বিনয় বাড়িতে কখনো কাগজের লোকজন ধরে আনেনি। অন্তত আমার জন্য নয়।

    —আমার জন্যে এনেছিল, স্বীকার করি। তাতে লাভ হলো কি? এখন তো (কাঁধ ঝাঁকিয়ে অবজ্ঞার হাসি) আমি নাট্যকার হিসেবে…আউট হতে চলেছি।

    বিনয়দা বলল, আপনাকে আউট করবে কে? একের পর এক মঞ্চসফল নাটক লিখে চলেছেন? কত লোক যে আপনাকে ঈর্ষা করে!

    —হ্যাঁ (অহংকারী হাসি। লোকটাকে মুখ খুলে হা হা করে হাসতে দেখিনি কখনো। দেখছিলাম, ওর হাসি, কথা বলা, অসম্ভব চেষ্টিত)। ঈর্ষা তো করবেই। নাটক দিয়েছি, ট্রাজিডি কুইন দিয়েছি, ঈর্ষা হতেই পারে।

    —ট্র্যাজিডি কুইন দিয়েছি! বুঝলাম না অরুণবাবু।

    —আমার স্ফুলিঙ্গ, করুণা নিরুদ্দেশ, জননী।

    —প্রত্যেকটা সুপারহিট নাটক।

    —তাতে অভিনয় করেই তো ইনি তারকা হলেন। আমি চরিত্র দিয়েছি, ও অভিনয় করেছে।

    বুঝলাম লোকটা অহং—উন্মাদ।

    —অবশ্য চরিত্র না পেলে অভিনয় করতেন কি করে? এটা তো প্রথম কথা। পরের নাটক কি লিখছেন?

    —এখন গোপন থাকুক।

    বউদি এসে বলল, বাববাঃ! এত গোপন, এত গোপন যে লেখার ঘরে আমার ঢোকবার হুকুম নেই।

    —স্টাডিতে বসে লেখেন?

    —লেখার জন্য স্টাডিই তো চাই। বসার জন্যে বারান্দা, খাওয়ার জন্যে খাবার ঘর, শোবার জন্যে বেডরুম।

    —কি সাজানো বাড়ি! যেন কোনো যুগের সেট ফেলেছে কোনো আর্ট ডিরেকটর।

    বউদি ঝরঝর করে হেসে বললেন, সব যে সেকেলে ভাই! দাদামশায়ের আমলের। এর শ্বেতপাথরের টেবিলটা আবার তাঁর বাবার। তারপর…এর শখে স্টাডি সাজানো হয়েছে। আমার রিহার্সাল কিন্তু এ ঘরে—ও ঘরে।

    আমি বোকার মতো বলেছিলাম, আপনার দাদামশাই কি অ্যান্টিক আসবাবের ব্যবসা করতেন?

    অরুণবাবু চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, প্রজাশোষণ করতেন। জমিদার ছিলেন। ‘করুণা’ নাটকে দেখবেন জমিদারদের কেমন এক হাত নিয়েছি। দেব, বই দেব। পড়বেন। আপনি চন্দন মিত্রের নাম শুনেছেন?

    —না তো।

    —হয়তো শুনবেন।

    আমি তো জানি না চন্দন মিত্র ‘তাসের বিবি’ রিভাইজ করেছে বলে বাড়িতে কি টেনশন চলেছে!

    —অভিনেতা?

    —নাট্যকার। অধীর কয়ালের মতে মহান নাট্যকার।

    —থাক না ওসব ওসব কথা। চলো তোমরা। একটু চা খাবে চলো।

    ‘একটু চা’ মানে মটরশুঁটির ঘুগনি, আলু—পরটা, মাংসের চপ, কেক, চা।

    —এত আয়োজন?

    —ওর জন্যে করতেই হয়। তাও তো যে খেয়ালী! হয়তো বলে বসল এসব খাব না, নারকেলের সিঙাড়া খাব। তাই করতে হয় তখন! ও যে শিবঠাকুর! তুষ্ট না রাখলেই তাণ্ডব!

    বউদির মুখে যেন ভেতর থেকে আলো জ্বেলে দিত কেউ অরুণবাবু প্রসঙ্গে কথা হলে।

    আমি বিনয়দাকে বলেছিলাম, অভিনেত্রী বটে! গলার পাল্লা কি, ভয়েস কন্ট্রোল, ভয়েস থ্রো (স্বরনিয়ন্ত্রণ, স্বরনিক্ষেপ বলতে পারি না আমি। আমরা এক সংকর সময়ের প্রডাকট, কথায় কথায় ইংরিজির শরণ নিই) আশ্চর্য। ওরকম একটা মোটা দাগের চরিত্রকে কোথায় নিয়ে গেল? আর ওই যে চিৎকার, ‘আমার গলা ভেঙে যাচ্ছে কুমার। আমি কথা বলতে পারব না…গলা ভেঙে যাচ্ছে কুমার। আমি কথা বলতে পারব না…গলা ভেঙে যাচ্ছে…’

    —যাকে বলে শ্যাটারিং, তাই না চাঁদু?

    —হ্যাঁ, বিনয়দা।

    —অরুণবাবুর নাটকগুলো পড়ো।

    শেলী, বিনয়দা, দত্তদা যা বলেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি আমি বলব না। ওরা ওদের মতো বলেছে, আমি আমার মতো বলি। এ সময়টা এখানে আছি বলে এ কাজটা করে যেতে পারছি। তারপরেই তো বেরিয়ে যাব আমি আর জয়া। লম্বা, বহুত লম্বা সফর—রাজস্থান, হিমাচল, সৌরাষ্ট্র—লোকসংস্কৃতির নানা কর্মের সন্ধানে! কিন্তু বউদি সম্পর্কে আজ বলতে না পারি তো আর বলাই হবে না।

    আমার অভিজ্ঞতাগুলো সাম—আপ করছি।

    তবে বলা দরকার, অরুণবাবুর নাটকগুলো আমি পড়েছিলাম।

    অসম্ভব মোটা দাগের নাটক। চড়া রঙের চরিত্র, আবেগের সাইক্লোন।

    কি নাটকে, কি যাত্রাপালায়, সে এক জিনিসই লিখে যাচ্ছে। যে মেয়েটিই স্বাধীন ইচ্ছা বা সত্তা নিয়ে বিকশিত হবার স্পর্ধা করেছে, তাকে গভীর অনুশোচনায়, ভুল স্বীকার করতে করতে ফিরে আসতে হচ্ছে পুরুষের পায়ের নিচে।

    পুরুষ চরিত্রগুলোও এমন যে তারা মা—স্ত্রী—বোন—মেয়ে—প্রেমিকা—বউদির বোন—বোনের ননদ—আশ্রয়দাত্রী প্রেমময়ী বেশ্যা—ইত্যাদি ইত্যাদি, কোনো মেয়ের প্রয়োজনীয়তাই স্বীকার করে না। তারা স্বয়ম্ভূ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। মেয়েদের ত্যাগ, প্রেম, জীবনোৎসর্গ তারা নেয় অধিকার বলে।

    প্রতিক্রিয়াশীল, সামন্ততান্ত্রিক, ভয়ংকর নীতিবাগীশ ও কট্টর।

    ‘করুণা’ নাটক থেকে শেষ যাত্রাপালা অবধি একই বিষয়বস্তু ঘুরে ঘুরে এসেছে। অবশ্য বিভিন্ন পটভূমিতে।

    ভাষা—টাষা শাণিত হয়েছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু অরুণ তালুকদার যেমনটি ছিল, তেমনটি থেকেই জনগণ মনোরঞ্জন করে যাচ্ছে।

    সাফল্যের মতো কিছুই সফল হতে পারে না। তা ছাড়া গান লেখে, পালার বিজ্ঞাপন লেখে, অরুণ তালুকদার একটি নাম।

    আমি মনে করি লোকটা রক্তে রক্তে নারীবিদ্বেষী। উপেক্ষা দেখিয়েই বউদিকে আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু বউদির ভালবাসার অপার ক্ষমতার জন্যে প্রস্তুত ছিল না।

    আমার বন্ধু, যাত্রা—সাংবাদিক কুশলকে খিকখিক করে হেসে বলেছিল, যখন মঞ্চ ছেড়ে দিল, তখন থাকলেও থাকতে পারত। মা—মাসী—ধাই—দাসী, ক্রমে ক্রমে করতেই হতো। কিন্তু থাকল না তো? তাতেই মুছে গেল। শিল্পী হলে শিল্পের তাগিদেই করত। এখন তো…মুছে গেছে।

    অরুণবাবুকে দোষ দেব কেন? বউদি এক অতি মানবীয় মাপের হৃদয় নিয়ে জন্মেছিল। অরুণ তালুকদারকে ভালবাসার জন্যই।

    এ পর্যন্ত সবাই জানে।

    যেটা জানে না, যেটা মর্মে বিঁধে আছে, সেটা হলো, বউদিকে কয়েক বছর ধরেই আমি নতুন নাটক পড়তে দিতাম, দেখাতেও নিয়ে যেতাম। খেলাচ্ছলেই বলতাম, পড়ুন তো, শুনি?

    —একা একা কি পড়া যায়?

    —পড়ুন না।

    দেখলাম, গলার রেঞ্জ ভালোই আছে।

    বললাম, আমার জানাশোনা ছেলেমেয়েরা সবাই ইয়ং। বাংলা ক্লাসিকাল নাটকে কোনো রসই পায় না। ওদের যদি একটু পড়ে শোনান—ধরুন মাইকেল, গিরিশ ঘোষ…দীনবন্ধু মিত্র…

    —পুরুষ চরিত্রও তো আছে চাঁদু!

    —কুশল চমৎকার আবৃত্তি করে। ও পড়বে।

    বিনয়দা তো বিশ্বাসই করে না।

    —রাজী হয়েছে?

    —হয়েছেন, হয়েছেন…এটার অন্য দিকও আছে বিনয়দা। জনা, বা প্রমীলা, এসব চরিত্রের ক্রেডিবিলিটি আনতে গেলে…বউদিই পারবে। দেখবেন…

    খুব, খুব জমে উঠেছিল কয়েকটা দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা।

    বউদি অনেকদিন বাদে বাড়ি পরিষ্কার করে, আয়োজন করে বসে থাকত।

    এখনকার সালোয়ার—কামিজ, বা জিনস ও কুর্তা—পরা মেয়েদের ও তরুণ ছেলেদের দেখে কি খুশি, কি খুশি।

    ওরাও বউদির পাঠ শুনে খুব ইমপ্রেসড। টিটু বলল, এসব স্কুল অফ অ্যাকটিং চলে গেছে চাঁদুদা। এখন বিনোদিনী, বা তারাসুন্দরী, বা সরযূ দেবীর বিষয়ে শ্রদ্ধাসমীহের ব্যাপারটা বোঝা যাচ্ছে।

    আর বউদি পরে বলল, কত, কত সহজ হয়ে গেছে সব, বলো? মেয়েদের পোশাকে কত স্বাধীনতা আর শোভনতা! ছেলেতে মেয়েতে কত সহজ বন্ধুত্ব। আমি জানতামই না। জানব বা কি করে? কাচের ঘরে সব বন্ধ করে বসে থাকলে কি রোদ—বাতাস আসে।

    আমাদের এগারোটা সেশান হয়েছিল। বিনয়দা আর দত্তদা খুব খুশি।

    অরু তো স্বল্পভাষী। ও বলল, কবে থেকে রগড়ে যাচ্ছি, হ্যাঁ বলেই না বউদি। কেমন, এখন ভালো লাগছে না?

    —লাগছে।

    —শুধু বই পড়ে, আর ছাতে হেঁটে, আর মাঝে মাঝে গঙ্গার ধারে বা গড়ের মাঠে বসে থাকলে কি সময় কাটে?

    কলকাতা ছোট্ট গ্রাম। সাংস্কৃতিক জগতের বৃত্তটাও একটুখানি। কুশলের ও আমার উদ্যোগে, অলকাদির উৎসাহে, এ বাড়িতেই খাবার হলঘরে একটা ছোট্ট সেশন হয়।

    অলকাদি বলল, যাক! সরসীদি নির্বাসন থেকে ফিরল! চলো! এবার বড় করে করব।

    আর বউদি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল।

    —আমি পেরেছি অলকা, আমি পারব?

    —নিশ্চয় পারবে। এর পর মাঝে মাঝে, আমাদের অনুরোধে নাটকও করবে।

    —পয়সা নেব না কিন্তু।

    অরু বলল, তা নেবেন কেন? খাট—আলমারি—ফুলদানি বেচার জিনিস তো এখনো আছে। আমাকে চটাবেন না।

    —আমার ওপর রাগতে রাগতে কতগুলো বছর কাটিয়ে দিলে অরু?

    —আপনি ভালোই জানেন, রাগ কার ওপর?

    —থাক থাক, অন্য কথা বলো।

    ওই যে বললাম, কলকাতা একটা ছোট্ট গ্রাম। এই সেশনের পর, ক’দিনও যায়নি, বিনয়দার ফ্র্যান্টিক ফোন।

    —অরু চলে এসেছে চাঁদু, তুমি এসো।

    গেলাম।

    অরু বলল, দত্তদাও আসবেন। তাছাড়া আপনারা দু’জন আছেন। দেখুন, আপনারা তিনজন দায়িত্ব দেন, আমি বউদির কাছে ছিলাম। আমি চলে যাচ্ছি, সেটা জানিয়ে গেলাম।

    —কিন্তু কেন?

    —ভোরে সেই কাপালিকাটা ফোন করেছিল। (অরু অরুণ তালুকদারকে ভণ্ড কাপালিক বলত)। ফোন করে বলেছে, এতকাল বাদে ধাষ্টামো করার মানে কি? কতকগুলো ডেঁও ছেলেমেয়ে জুটিয়ে সেশন হচ্ছে? তুমি ক্লাসিকাল নাটক পড়ছ, ওদের উচ্চারণ, হেন—তেন শেখাচ্ছে? যাক! যারা নাচাচ্ছে, তারা কি শেষরক্ষা করবে?

    —গড!

    —বউদি পড়ে যাচ্ছিল প্রায়, আমি ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলেছি, তুমি একটা বাস্টার্ড! বদমাশ! ভণ্ড কাপালিক!

    দত্তদা বলল, যাক! কেউ বলল তবে!

    বিনয়দা বলল, বউদি কি…?

    —না। আমিই বললাম, লোকটাকে যা মনে করি তাই বলেছি। আমি কেন, বহুজনই মনে করে। কিন্তু আপনি তাকে বিশাল ভালবাসেন—বহু বছর ধরে তার জন্যে আত্মহত্যা করেছেন। এখন আমাকে আপনি বদমাশটার ভালোত্ব এবং আপনার ওপর অপার ভালবাসা বিষয়ে বোঝাতে থাকবেন। তখন আমি লোকটাকে ঠাঙাতে যেতেও পারি। অতএব বউদি, আমি চললাম। কেন না আমি জানি, এর পর আর আপনি নাটক পড়তে সাহস করবেন না। দোকানে বেণুকে বলে যাব, ও আপনার বিল—টিল দিয়ে দেবে। ওঃ! একসঙ্গে এত কথা বলে ক্লান্ত লাগছে।

    দত্তদা বলল, যাচ্ছ কোথায়?

    —হাওড়া। তারপর রাঁচী—বরিহাতু। ‘সেভ দেম’—এর সঙ্গে কিছু কাজ করছি, ওখানেই ওদের সেন্টারে যাব।

    বিনয়দা বলল, এখানে থাকো।

    অরু বলল, আপনারা আমাকে চেনেনা। আমার হাতের থাপ্পড় খেয়ে কুচবিহারে কয়েকজনের মুখের ম্যাপ পালটে গেছে। এখানে থাকে আমি কাপালিকাটাকে ছাত থেকে ফেলে দেব। বউদি হয়তো দক্ষ—কন্যার মতো প্রাণত্যাগ করবে। দরকার কি?

    —আর…আসবে না?

    —এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। আমি ভয়ও খেয়ে গেছি। গাছগাছড়ার ওষুধ নিয়ে কাজটায় লেগে পড়া বাকি—বিয়ে করতে হবে—নর্মাল জীবন চাই, আমাকে বাধা দিলে আমি লণ্ডভণ্ড কাণ্ড করব। চললাম।

    বিনয়দা বলল, ব্যাক টু স্কোয়্যার ওয়ান।

    আমি ভায়োলেন্ট নেই। রাগলে বাড়ি চলে আসি। দুঃখ হলে কাঁদি। রাতদিন লেখাপড়া, বই, আলোচনা, ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে থাকি। অত্যন্ত সেকেনড অস্তিত্ব আমার।

    অরুণ তালুকদার কি, তা বোঝাতে পারলাম বোধহয়।

    বউদি আমার ব্যাখ্যাতীত।

    হয়তো ওই ফোনটা না পেলে বউদি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেত—জীবনে ফিরে আসত।

    কিংবা আসত না।

    ঠাকুরপুকুরে গেলাম—হেলান দিয়ে সূর‍্যাস্ত দেখছিল। বলল, কয়েকটা কবিতা পড়ব, ক্যাসেট করে রাখব ভাবছি।

    —শুধু কবিতা?

    —নাটকও।

    অপচয়, অপচয়, কি অর্থহীন অপচয়! আমরা কেন অপচয় না—করতে শিখলাম না?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআই. পি. সি. ৩৭৫ – মহাশ্বেতা দেবী
    Next Article মিলুর জন্য – মহাশ্বেতা দেবী

    Related Articles

    মহাশ্বেতা দেবী

    হাজার চুরাশির মা – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মিলুর জন্য – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    আই. পি. সি. ৩৭৫ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    পারিবারিক – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মুখ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }