Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প219 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. কোনও কোনও টেলিফোনের শব্দে

    কোনও কোনও টেলিফোনের শব্দে শুভর মনে হয় এই ফোনটা আমার।

    যখন এরকম মনে হয়, বাড়ির যেখানেই থাক ডাইনিংস্পেসের দিকে ছুটে আসে শুভ। কারণ ফোনটা ডাইনিংস্পেস এবং ড্রয়িংরুমের মাঝামাঝি একটা জায়গায় থাকে। এরকম টেলিফোনের সময় কাছে পিঠে কেউ থাকলেও শুভ খেয়াল করে না।

    এখনও করল না।

    টেলিফোনের শব্দ শুনে যখন মনে হয়েছে ফোনটা আমার, নিজের রুম থেকে। পাগলের মতো ছুটে এসেছে সে। প্রায় হামলে পড়ে ফোনটা ধরেছে। হ্যালো।

    ওপাশ থেকে দোলন বলল, আমি সেতু।

    সেতু নামটা শুনে হৃদয়ের শব্দ বদলে যাচ্ছিল শুভর। মুহূর্তের জন্যে মাত্র। তারপরই দোলনের চালাকিটা সে ধরে ফেলল। হাসিমুখে বলল, তাই নাকি?

    কেন বুঝতে পারছ না?

    পারছি। বলো দোলন।

    দোলন খিলখিল করে হেসে উঠল। যাহ ধরা পড়ে গেলাম!

    তারপর সেতুর সঙ্গে কী প্রোগ্রাম হয়েছে ঝটপট বলে ফেলল সে। শুনে আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে গেল শুভর মুখ। ঠিক আছে, কোনও অসুবিধা নেই। আমি আসছি।

    সেতুর সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা শুনলে মুহূর্তেই সেতুর পাশে নিজেকে দেখতে শুরু করে শুভ। বিভিন্ন এঙ্গেলে দেখতে শুরু করে এবং শুভর বেশ একটা ঘোর লেগে যায়।

    এখনও লাগল। ঘোরের মধ্যে টেলিফোন নামিয়ে রাখল সে। রেখেই চমকে উঠল। মা দাঁড়িয়ে আছেন শুভর একেবারে পাশেই। মাকে দেখে অকারণে হে হে করে একটু হাসল শুভ। সেই হাসি একেবারেই পাত্তা দিলেন না মা। স্বভাবসুলভ কঠিন স্বরে বললেন, কোথায় যেতে হবে এখন?

    শুভ সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যে বলতে শুরু করল। এই তো, আমার এক বন্ধুর ওখানে।

    বন্ধুর নাম কী?

    দোদুল।

    কী? আমি যে শুনলাম দোলন।

    হ্যাঁ হ্যাঁ দোলন। তবে দোদুল নামেও আমার এক বন্ধু আছে।

    দোলন কি কোনও ছেলের নাম হয়?

    হবে না কেন? মাহাবুবুল হক দোলন নামে একজন ছাত্রনেতা ছিলেন না? তুমি তার নাম শোননি?

    না। আমি জানি দোলন শুধু মেয়েদেরই নাম হয়।

    না। অনেক ছেলের নাম দোলন। যে ছেলেরা ছোটবেলায় খুব দোলনা চড়তো তাদের অনেকেরই নাম দোলন। শব্দটা এসেছে দোলনা থেকে।

    বাজে কথা বলিস না। তারপর গলা আরও কঠিন করলেন মা। কী কাজে যাচ্ছিস?

    না তেমন কোনও কাজ নেই। পরীক্ষা টরিক্ষা শেষ হয়ে গেছে, লেখাপড়া নেই, বন্ধুবান্ধব মিলে আড্ডা দেব।

    আড্ডা শব্দটা বলেই ভুলটা করল শুভ। মা একেবারে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। কি, আড্ডা দিবি? তোর মতো ছেলে আড্ডা দেয় কী করে? যাদের সংসার ঠিক মতো চলে না তাদের আবার আজ্ঞা কীসের? বড়ভাই ছোট একটা চাকরি করে এতবড়

    সংসারটা চালায়…।

    এবার শুভও একটু কঠিন হল। কেমন একটা তর্ক করার মনোভাব হল তার। ভাই একা চালাবে কেন? বাড়ি ভাড়ার টাকা আছে না?

    কথাটা পাত্তাই দিলেন না মা। তা আর কটাকা? সাত হাজার টাকা কোনও টাকা হল? বোনটা এখনও তোদের ঘাড়ের ওপর। হাজারবার বললাম বিদেশে থাকা ছেলের কাছে বিয়ে দেয়ার দরকার নেই। তখন আমার কথা কেউ শুনলি না। না শাহিন শুনল

    তুই। চারবছর হয়ে গেল মেয়েটা এখনও স্বামীর কাছে যেতে পারল না।

    এক কথা থেকে আরেক কথায় যাওয়ার স্বভাব মা’র। কথা বলার ভঙ্গিটা রাগি ধরনের। মুখে হাসি বলতে গেলে দেখাই যায় না। গার্লসস্কুলের অংকের টিচারদের মতো।

    মাকে মোটামুটি পছন্দই করে শুভ। তবে যখন এককথা থেকে চট করে আরেক কথায় চলে যান তখন শুভ যায় রেগে।

    এখনও রাগল। খেকুড়ে গলায় বলল, আপা এখনও যেতে পারেনি তো কী হয়েছে? পারবে।

    কবে পারবে?

    দুলাভাই চেষ্টা করছেন।

    চারবছর ধরেই শুনছি চেষ্টা করছে। এই হল বলে। হতে তো দেখি না।

    না হলেই বা কী? আপা তো তোমাদেরটা খাচ্ছে না। মাঝে মাঝে খরচের টাকা। পাঠাচ্ছেন দুলাভাই। সেই টাকা সংসারেই দিচ্ছে আপা। রেজাল্ট বেরুবার পর আমিও বসে থাকব না। চাকরি নিয়ে নেব। তুমি এত অস্থির হয়ে গেছ কেন?

    বেকার ছেলেমেয়ে আমি দেখতে পারি না। এখুনি কিছু একটা করা উচিত তোর।

    ঠিক আছে করব। এখন দয়া করে লেকচারটা বন্ধ কর। মাফ করে দাও আমাকে।

    মা তবু থামলেন না। আগের মতোই রাগি গলায় বললেন, কাজের কথা বললেই লেকচার, না?

    নিজের রুম থেকে দেবর এবং শাশুড়ির কথা শুনতে পাচ্ছিল সুরমা। এগারো বছর বিয়ে হয়েছে কিন্তু ছেলেপুলে হয়নি তার। শরীর বেশ ভারির দিকে। ফলে হাঁটাচলায় ইদানিং বেশ ধীর সে। শুভর জন্য টানটা একটু বেশি। এজন্যই এখন রুম থেকে বেরুল। আস্তেধীরে মা এবং ছেলের অদূরে এসে দাঁড়াল। শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে নিরীহ গলায় বলল, ওকে বকছেন কেন?

    শুনে গরম তেলে নতুন করে যেন বেগুন পড়ল। শুভকে ছেড়ে সুরমাকে নিয়ে পড়লেন মা। বকতে আর পারি কোথায়? তোমার জন্য তো ওর সঙ্গে কথাই বলতে পারি না। কথা শুরু করলেই ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়। মায়ের চে মাসির দরদ বেশি।

    সুরমা তার স্বভাব সুলভ নিরীহ গলায় বলল, কথাটা আপনি ঠিক বললেন না। বড়ভাবী মায়ের মতোই। নিজের ছেলে থাকলে তাকে আমি শুভর চে বেশি আদর করতাম না।

    আদর করা আর লাই দেয়া এক না।

    সুরমার আগে এবার কথা বলল শুভ। ভাবী আমাকে কোনও লাই দেয়নি। ভাবীর জন্য এখনও এই বাড়িতে থাকতে পারছি আমি। নয়তো তোমার কারণে অনেক আগেই বাড়ি ছাড়তে হতো।

    সুরমাকে ছেড়ে আবার শুভকে ধরতে যাবেন মা, তার আগেই শুভকে ছোটখাট একটা ধমক দিল সুরমা। এত কথা বলিস না। যা এখান থেকে।

    শুভ আর কথা বলল না। মাথা নিচু করে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।

    .

    চান্স পেলেই সেতুকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে মুন্নি।

    সেতু যখন সাজতে বসে, কোথাও বেরুবে, মুহূর্তে কেমন করে যেন সেই খবর পৌঁছে যায় মুন্নির কাছে। যেখানেই থাক ছুটে এসে সেতুর রুমে ঢোকে মুন্নি কিংবা দরজার সামনে দাঁড়ায়।

    এখন এসে আর রুমে ঢোকেনি। দরজার সামনে দাঁড়িয়েছে।

    নীল রংয়ের সুন্দর শাড়ি পরেছে সেতু। গায়ের রং সামান্য হলদে হয়ে আসা মাখনের মতো বলে যে কোনও রংয়েই তাকে খুব মানায়। নীল শাড়িতেও মানিয়েছে। সাজগোজ শেষ করে এখন ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসে নিজেকে দেখেছেন। এই অবস্থায় আয়নার ভেতর মুন্নিকে দেখতে পেল সে। কিন্তু পেছন ফিরে তাকাল না। বলল, কী?

    মুন্নি হাসল। কিছু না।

    কিছু না মানে?

    .

    ডাইনিংস্পেসের সামনে রানিকে পেল মামুন।

    একগাদা জামাকাপড় নিয়ে বাথরুমের দিকে যাচ্ছে। উৎকণ্ঠিত মুখে তার সামনে এসে দাঁড়াল সে। কিন্তু বাড়ির এতদিনকার পুরনো ঝিয়ের নামটা কিছুতেই মনে করতে পারল না। এবং মেয়েটি তাকে কী বলে ডাকে, তাও না।

    তবে রানির নামটা মামুন জিজ্ঞেস করল না, করল অন্যকথা। এই, তুই যেন আমাকে কী বলে ডাকিস?

    আচমকা এরকম প্রশ্নে রানি প্রথমে একটু ভড়কাল তারপর ফিক করে হাসল। খালু, খালু বলে ডাকি। কখনও কখনও খালুজানও বলি।

    অত আল্লাদের দরকার নেই। তোর খালা কোথায় দেখেছিস?

    না।

    কেন দেখিসনি? ছিলি কোথায়?

    মামুনের চড়া গলা শুনে ভড়কাল রানি। নির্দ্বিধায় একটা মিথ্যে কথা বলল। আমি বাথরুমে ছিলাম।

    বাথরুম শব্দটা শুনে মামুন একেবারে খেঁকিয়ে উঠল। এত বাথরুম কীসের? সারাক্ষণ কী করিস বাথরুমে?

    তারপর হন হন করে মুন্নির রুমের দিকে চলে গেল। সেদিকে তাকিয়ে যেন বেয়াইয়ের সঙ্গে মসকরা করছে এমন ভঙ্গিতে রানি বলল, বাথরুমে আর কী করুম? ঘুমাই, খালুজান।

    মামুন ততোক্ষণে মুন্নির রুমে গিয়ে ঢুকেছে।

    মেঝেতে বসে ছবি আঁকছে মুন্নি। চারদিকে রং তুলি কাগজ ইত্যাদি ছড়ানো। মামুন এসব ভ্রুক্ষেপ করল না। বলল, মুন্নি, তোর মাকে দেখেছিস?

    বাবার দিকে তাকাল না মুন্নি। নদীতে পালতোলা নৌকো এঁকেছে সে। মাঝি হাল ধরে বসে আছে। মাঝির মাথায় মাথলা। মাথলাটা পুরো আঁকা হয়নি। সামান্য বাকি আছে। সেটুকু আঁকতে আঁকতে বলল, না।

    শুনে তেড়িয়া হয়ে উঠল মামুন। কেন দেখিসনি?

    বাবার এরকম গলা আশাই করেনি মুন্নি। মাঝির মাথার মাথলা আঁকতে ভুলে গেল। চিন্তিত চোখে বাবার দিকে তাকাল। তুমি কি আম্মুর সঙ্গে ঝগড়া করেছ?

    সঙ্গে সঙ্গে বাজখাই গলায় মেয়েকে ধমক দিল মামুন। চোপ।

    তারপর এসে ঢুকল বাবলুর রুমে।

    স্বামীর সঙ্গে রাগ করে ছেলের রুমে এসে বসে নেই তো শিলা! থাকতে পারে। তার পক্ষে এখন সবই সম্ভব।

    কিন্তু না, এই রুমে সে নেই। বাবলু আপন মনে কম্পিউটার গেম খেলছে।

    একবার কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে খুবই খেচড়া মেজাজে মামুন বলল, শিলার সঙ্গে, মানে তোর মা’র সঙ্গে তোর কখন দেখা হয়েছে?

    বিরক্ত হয়ে বাবার দিকে তাকাল বাবলু। কী? মানে লাস্ট কখন দেখা হয়েছে? তোমার কথার কিছুই আমি বুঝতে পারছি না।

    একথায় যাচ্ছেতাই রকমের রাগ হল মামুনের। দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বলল, কী করে বুঝবি? সারাক্ষণ তো আছিস কম্পিউটার নিয়ে। ঘোড়ার ডিমের কম্পিউটার। দেব একদিন আছাড় মেরে ভেঙে!

    ছেলের রুমে আর দাঁড়াল না মামুন। ডাইনিংস্পেসের দিকে চলে এল।

    কিন্তু বাবার আচরণে খুবই চিন্তিত হয়ে গেল বাবলু। নিজের কাছে বলার মতো করে বলল, বাবা একটু ক্রাক হয়ে গেছে।

    এদিকে ডাইনিংস্পেসে এসে হতাশ ভঙ্গিতে একটা চেয়ারে বসেছে মামুন। যে কেলেংকারি শিলার সঙ্গে হয়ে গেছে এখুনি সেটা মিটাতে না পারলে সমূহ বিপদ। এই অবস্থায় অফিসে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। বাড়ি ছেড়ে নিশ্চয় বড়বোনের বাসায় চলে যাবে শিলা। পরে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। এদিকে সেতুর বিয়ের কথা আজ পাকা করবে স্বপন। সবমিলে শিলাকে এখুনি ম্যানেজ রকতে না পারলে সেতুর বিয়ে ফিয়ে সবই হসফস হয়ে যাবে। ইস কেন যে ওরকম বেফাঁস কথাটা বলতে গেল সে? নিজের মাথার চুল নিজেরই এখন ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে মামুনের।

    কিন্তু বাড়িতে থেকেই বা কোথায় উধাও হয়ে গেল শিলা?

    নাকি বেডরুম থেকে বেরিয়েই সোজা চলে গেছে বাড়ির বাইরে। রিকশা কিংবা স্কুটার ডেকে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে বোনের বাসায়।

    ওখানে কি একটা ফোন করে দেখবে?

    এসময় নিজেরচে বড় একটা সাদা ভল্লুক কোলে নিয়ে মামুনের সামনে এসে দাঁড়াল টুপলু। বড়চাচা, বড়চাচা।

    নিজের ছেলেমেয়ের তুলনায় ভাইয়ের ওইটুকু মেয়ের ওপর বেশি রাগল মামুন। প্রসঙ্গ ভুলে সম্পূর্ণ অন্য একটা কথা তুলল। এই, তুই আমাকে বড়চাচা বলিস কেন? এ্যা? আমি তোর একমাত্র চাচা। শুধু চাচা বললেই হয়।

    আশ্চর্য ব্যাপার মামুনের রাগটা পাত্তাই দিল না টুপলু। কোলের ভল্লুক আদর করতে করতে বলল, আচ্ছা বলব।

    তারপর আগের ভুলটাই করল। তুমি কি চাচীকে খুঁজছ বড়চাচা?

    শুনে লটারি পাওয়ার মতো অবস্থা হল মামুনের। টুপলু যে আবার বড়চাচা বলেছে তাকে সে কথা যেন শুনতেই পেল না। উফুল্ল গলায় বলল, হ্যাঁ মা। তুমি দেখেছ?

    দেখেছি।

    কোথায়?

    ছাদে চলে গেছে।

    সত্যি?

    সত্যি। তুমি গিয়ে দেখ।

    আর কোনওদিকে তাকাল না মামুন। যতদূর সম্ভব স্পিডে ছাদের সিঁড়ির দিকে দৌড়াল।

    সত্যি সত্যি ছাদে চলে এসেছে শিলা। পানির ট্যাংকের ছায়ায় দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। বসে ফোঁস ফোঁস করে কাঁদছে আর শাড়ির আঁচলে চোখ মুচেছে।

    স্ত্রীকে কাঁদতে দেখে খুবই মায়া হল মামুনের, আবার ভালও লাগল। যাক বাড়িতে যেহেতু আছে ম্যানেজ করা যাবেই। দরকার হলে দুহাতে যে-কোনও একটা পা চেপে ধরবে। ছাদে তো আর কেউ নেই। কেউ তো দেখছে না। আড়ালে আপন স্ত্রীর পা ধরতে অসুবিধা কী?

    পা ধরার প্রস্তুতি নিয়েই শিলার সামনে এসে দাঁড়াল মামুন। প্রথমেই সাস্টাঙ্গে প্রণাম করার মতো করে স্ত্রীর পায়ে কি পড়া যায়! যায় না, ক্ষেত্র তৈরি করতে হয়। সেই ক্ষেত্র তৈরির জন্য আচমকা বলল, তুমি দেখি আজকাল ঠাট্টাও বোঝ না। আমি তোমার সঙ্গে ঠাট্টা করেছি, ঠাট্টা। পিওর ফান। আরে তোমাদের ফ্যামিলির কোনও তুলনা হয় নাকি! কতবড় ফ্যামিলি, কত নামডাক! টাকা পয়সার কোনও অভাব নেই। তোমাদের ফ্যামিলির সামনে রেখাদের ফ্যামিলি কোনও ফ্যামিলিই না। এমন কি আমাদের ফ্যামিলিও কোনও ফ্যামিলি না। তোমার বাবা যে তোমাকে আমার কাছে বিয়ে দিয়েছেন এ আমাদের চৌদ্দগোষ্ঠীর ভাগ্য আর আমার সৌভাগ্য।

    চোখের চে নাকের জল বেশি ঝরছিল শিলার। ফোঁস করে নাক টানল সে। ভাঙাচোরা তেজাল গলায় বলল, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো না। একদম কথা বলো না।

    শুধুমাত্র এইটুকু কথায় মামুন বুঝে গেল পাটা শিলার ধরতে হবে না। সে এসে সামনে দাঁড়াবার পরই বরফ গলতে শুরু করেছে।

    হে হে করে কোন একখানা হাসি হাসল মামুন। যাহ্, তা হয় নাকি, বল! তোমার সঙ্গে কথা না বলে আমি পারি? আপন বউর প্রশংসা আমি না করে পারি না। তুমি কত ভাল, কত সুন্দর। কোথায় তুমি আর কোথায় রেখা! একুশ বছর হল তোমার বিয়ে হয়েছে, ছেলে আইএ পড়ে, বোঝাই যায় না। এখনও আনমেরেড মনে হয় তোমাকে। ইচ্ছে করলে আনমেরেড মানে আগে একটাও বিয়ে করেনি এমন ছেলের কাছে ইজিলি তোমাকে বিয়ে দেয়া যায়।

    চোখ পাকিয়ে স্বামীর দিকে তাকাল শিলা। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, চুপ করলে!

    কিন্তু চুপ মামুন করল না। আগের মতোই হে হে করা ভঙ্গিতে বলল, তোমার সামনে চুপ করে থাকতে আমি পারি না। গলার ভেতরটা চুলকায়, হিন্দিতে যাকে বলে খুজলি, খুজলি হতে থাকে, কথা না বললে খুজলিটা কমে না। বাংলায় কিন্তু খুজলি বলতে খোসপাঁচড়াও বোঝায়। সেই জিনিসটার সঙ্গেও চুলকানোর খুব মিল। ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে অর্থটা একই। এবং বিক্রমপুরের ভাষার সঙ্গে হিন্দিভাষার খুব মিল। বিক্রমপুরে কাককে বলে কাউয়া, হিন্দিতেও কাককে বলে কাউয়া। স্যাটেলাইটে ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলো দেখে শিখেছি। ঝুট বলে কাউয়া কাটে’ নামে একটা সিনেমাও হয়েছে। কাহিনীটা লিখেছেন বিমল কর। এই লেখকের কয়েকটা বই আমি এক সময় পড়েছি। একটা বইয়ের নাম ছিল ‘বালিকা বধূ’। নায়িকার নাম চিনি। খুবই সুইট মেয়ে। একদম। তোমার মতো। তুমি হচ্ছো আমার চিনি। এখনও বালিকা বধূ। কথায় কথায় অভিমান, কথায় কথায় কান্না।

    তারপরই থাবা দিয়ে শিলার একটা হাত ধরল মামুন। চল, ওঠো। তোমাকে ম্যানেজ না করে বাড়ি থেকে বেরুতে পারছি না। ম্যানেজ করার জন্য যা মুখে আসে বলে গেলাম। কাউয়া থেকে চিনি পর্যন্ত। প্রসঙ্গের সঙ্গে মিলল কি মিলল না বুঝতে পারলাম না।

    এত আবোল তাবোল বকে যাওয়ার পরও কিন্তু ঝটকা মেরে মামুনের হাতটা ছাড়িয়ে দিল না শিলা। নাক চোখ মুছে উঠে দাঁড়াল। আদুরে অভিমানি শিশুর গলায় বলল, ছোটভাইর বউর কাছে নিজের বউকে কেউ ছোট করে?

    মামুন সঙ্গে সঙ্গে বলল, না না করে না, করে না। যে করে সে একটা মূর্খ, মূর্তিমান অশিক্ষা। লক্ষ্মীসোনা, এসব তুমি মনে রেখ না। বল মনে রাখবে না! বল।

    আচ্ছা মনে রাখব না। তবে একটা শর্ত আছে।

    কী শর্ত?

    এই অবস্থায়ও অতি রোমান্টিক চোখে স্বামীর চোখের দিকে তাকাল শিলা। আধো আধো বোল সখা টাইপের গলায় বলল, তুমি বোঝনি?

    শুনে ভেতরে ভেতরে খবর হয়ে গেল মামুনের। তবু মুখের হাসিটা বজায় রাখল সে। হে হে বুঝেছি, বুঝেছি। এতদিনকার স্ত্রীর এসব ইঙ্গিত কেউ না বোঝে নাকি! আরে ওটা কোনও ব্যাপারই না।

    তাহলে আজই গিয়ে অর্ডার দিয়ে আসি।

    নিশ্চয়, নিশ্চয়।

    কিন্তু এবার আর মুখে হাসি ফুটল না মামুনের। হাসতে চেষ্টা করল, পারল না। কোনও রকমে বলল, কত ভরি?

    শিলা অতি উৎসাহে বলল, দাঁড়াও হিসাব দিচ্ছি। বারোটা চুড়ি বারো ভরি, একটা সীতা হাড় পাঁচভরি, দুল তিন ভরি…

    দুলটা একটু কমাও। না না টাকার জন্য না। দেড়ভরি ওজনের দুল তোমার কান বইতে পারবে না। কান ছিঁড়ে যাবে। তোমার কানের লতি অনেক নরম। আমি বহুদিন টিপে দেখেছি।

    ঠিক আছে তাহলে দুটো দুল দুই ভরিতে করব। একটা টিকলি করব একটু বেশি সোনার। আর দুটো আংটি। সব মিলে পঁচিশ ভরির বেশি না।

    মামুন গোপনে একটা ঢোক গিলল।

    স্বামীর সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক বলেই কিনা কে জানে ঢোকের শব্দটা যেন টের পেল শিলা। আড়চোখে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, বেশি হয়ে গেলে থাক।

    শিলার মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই তারপর অন্য মানুষ হয়ে গেল মামুন। স্বাভাবিক মানুষ। বলল, তোমাকে স্বাভাবিক করার জন্য অনেক ফাজলামো করলাম। এখন আমি সিরিয়াস। আমার একমাত্র বোনের বিয়ে। না চাইলেও তোমাকে একসেট গহনা আমি দেব। শাড়ি, কসমেটিকস যা লাগে কিনবে। এগুলো কোনও ব্যাপারই না। চল নীচে চল।

    যেন কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গিতে মামুনের পিছু পিছু নিচে চলে এল শিলা।

    তোমাকে চাই, আমি তোমাকে চাই
    রাত ভোর হলে আমি তোমাকে চাই

    সুমন চট্টোপাধ্যায়ের এইগান শোনার সময় এতটাই মগ্ন থাকে সেতু, এতটাই ডুবে থাকে শুভর চিন্তায়, চোখ খোলা রেখেও কোনও কিছুই দেখতে পায় না।

    টুপলুকেও দেখতে পেল না।

    টুপলু এসে যে তার রুমে ঢুকেছে, বিছানার অদূরে দাঁড়িয়ে আছে, দেখেও দেখতে পেল না সেতু।

    ব্যাপারটা টুপলু বুঝল কিনা কে জানে, খানিক অপেক্ষা করে নিজেই মিউজিক সিস্টেমটা অফ করে দিল।

    এবার সেতু একেবারে ছটফট করে উঠল। যেন হঠাৎ করে বিষপিঁপড়ে কামড় দিয়েছে। চোখ পাকিয়ে টুপলুর দিকে তাকাল সে। অফ করলি কেন?

    টুপলু নির্বিকার গলায় বলল, তোমাকে একটা কথা বলব।

    সব কিছুতে পাকামো।

    না পাকামো না তো। শোন, খুব মজার কথা।

    না আমি শুনব না। আমি কিছুতেই তোর কথা শুনব না।

    রাগ করছ কেন?

    তুই যা এখান থেকে।

    তবু দমল না টুপলু। বলল, বাবা বলেছে কথাটা যেন আমি কাউকে না বলি।

    এবার আরও রাগল সেতু। মানা করে থাকলে সে কথা বলতে এসেছিস কেন?

    বারে, তোমার বিয়ের কথা তোমাকে বলব না!

    শুনে বুকটা ধ্বক করে উঠল সেতুর। মুহূর্তের জন্য দমটা যেন বন্ধ হয়ে গেল। মুখটা গেল ফ্যাকাশে হয়ে। সে একটা ঢোক গিলল। কী, আমার বিয়ে?

    হ্যাঁ, তোমার বিয়ে।

    কার সঙ্গে? কবে?

    ওসব আমি জানি না। মা জানে।

    দিশেহারা ভঙ্গিতে বিছানা থেকে নামল সেতু। সাদার ওপর নীল বুটিদার সালোয়ার কামিজ পরা। ওড়নাটা এলোমেলো হয়েছিল। ওড়না ঠিক করার কথা মনেই হল না, সোজা ছুটে এল রেখার রুমে।

    বিছানার চাঁদর, বালিশের ওয়্যার সব নামিয়ে মেঝেতে রাখছিল রেখা, সেতুকে দেখে হাসল। সেতু কথা বলবার আগেই বলল, নিশ্চয় আমাদের কূটনিটা তোমাকে সব বলেছে।

    সেতু উত্তেজিত গলায় বলল, যেই বলুক, কথাটা ঠিক কিনা।

    একদম ঠিক। আজ এনগেজমেন্টের ডেট হবে।

    কী বলছ?

    হ্যাঁ। আমরা ডিসাইড করেছিলাম সব ঠিক হওয়ার পর তোমাকে জানাব। তোমাকে সারপ্রাইজ দেব। কিন্তু কূটনিটার জন্য পারা গেল না। তোমার ভাই খুব একসাইটেড ছিলেন, এজন্য ওর সামনে বলে ফেলেছে। আমি তখনই বুঝেছিলাম সারপ্রাইজটা মাঠে মারা গেল। তবে তোমার ভাগ্য বলতে হবে, পাত্র সত্যি সত্যি রাজপুত্র।

    ফ্যাল ফ্যাল করে রেখার মুখের দিকে খানিক তাকিয়ে রইল সেতু। তারপর কোনও কথা না বলে শিলার রুমে এসে ঢুকল।

    বিছানায় শুয়ে মাত্র টিভি অন করবে শিলা, সেতুকে দেখে করল না। বিছানায় উঠে বসল। স্বামীর সঙ্গে মধুর ঝগড়ার পর বিপুল পরিমাণে গহনার প্রতিশ্রুতি, মনটা খুবই প্রফুল্ল হয়ে আছে তার। আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে আছে মুখ। সেই উজ্জ্বল মুখে বলল, কিছু বলবে?

    সেতু কোনও ভনিতা করল না। থমথমে গলায় বলল, বলা কি উচিত নয়?

    শিলা একটু অবাক হল। মানে?

    আমাকে জিজ্ঞেস না করেই আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছ?

    স্বামীর সঙ্গের শিলা আর এখনকার শিলা মুহূর্তে দুজন হয়ে গেল। বেশ রাশভারি এবং ব্যক্তিত্বের ভঙ্গিতে প্রথমে সে সেতুর চোখের দিকে তাকাল। তারপর বলল, আমাদের দেশের গার্জিয়ানরা মেয়েকে জিজ্ঞেস করে, মতামত নিয়ে তার বিয়ে ঠিক করে না। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর মেয়েরা জেনে যায়।

    এসব পুরনো দিনের নিয়ম, এসব আজকাল চলে না। আজকাল আগেই মেয়েকে জিজ্ঞেস করতে হয়।

    তোমার কথার অর্থ আমি বুঝেছি। তোমাকে কি জিজ্ঞেস করতে হবে?

    শিলার কথা বলার ভঙ্গিতে নিজের কথার খেই হারিয়ে ফেলল সেতু। নার্ভাস হয়ে গেল। না মানে…

    শিলা তার ব্যক্তিত্ব বজায় রাখল। জিজ্ঞেস করতে হলে বল তোমার ভাইদেরকে বলি তোমাকে জিজ্ঞেস করতে। আর নয়তো তাদের পক্ষ হয়ে আমি এবং রেখা তোমাকে জিজ্ঞেস করি।

    সেতু খুবই অসহায় বোধ করল। কাতর গলায় বলল, আমার এখনও পড়াশুনো শেষ হয়নি আর তোমরা আমার বিয়ে নিয়ে পাগল হয়ে গেলে?

    একথায় শিলা কেমন হাঁপ ছাড়ল। ওই এই কথা! আমি ভেবেছিলাম কী না কী!

    তারপর একটু থেমে বলল, ইচ্ছে থাকলে বিয়ের পরও পড়াশুনা শেষ করা যায়। অনেক মেয়েই করে। আমার বড়বোন তো দুটো বাচ্চা হয়ে যাওয়ার পর শেষ করল। এখন একটা কলেজের টিচার। তুমি কোনও চিন্তা করো না। আনিসকে আমরা বলব, সে তোমার পড়াশুনোর ব্যবস্থা করবে।

    আনিস নামটা যেন শুনতেই পেল না সেতু। মনে মনে শুভকে ডাকতে লাগল সে। শুভ শুভ শুভ। আমি এখন কী করব তুমি বলে দাও।

    .

    পাঁচদিনের জ্বরে শাহিন বেশ কাবু হয়েছে।

    চেহারা একেবারেই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে তার। শেভ না করার ফলে মুখময় গজিয়ে উঠেছে দাড়ি গোফ। দাড়ি গোঁফ যে ফাঁকে ফাঁকে এত পেকেছে সুরমা কিংবা অন্য কেউ। তো দূরের কথা শাহিন নিজেও তা জানত না। এবারের জ্বরে জানতে পারল।

    ।কিন্তু স্বামীর এই মুখের দিকে কিছুতেই তাকাতে পারছে না সুরমা। তাকালেই মনে হচ্ছে এই মুখটা তার স্বামীর নয়। অন্য কারও।

    এই যে এখন পেয়ালায় করে স্বামীকে সে মুরগির স্যুপ খাওয়াচ্ছে, খাওয়াচ্ছে মুখের দিকে তাকিয়েই তবুও যেন মুখটা সে দেখছে না।

    শাহিন এসব খেয়াল করছিল না। জ্বরে মুখের ভেতরটা একেবারে সেদ্ধ হয়ে আছে। কিছুই খেতে ভাল লাগে না। কোনও রকমে স্যুপ কিছুটা খেয়েছে কিন্তু শেষ করতে পারছে না।

    এক সময় সুরমার হাত ঠেলে দিয়ে বলল, আর খেতে পারছি না। ভাল লাগছে না।

    সুরমা বলল, জ্বরের মুখে খেতে ভাল লাগে না। জোর করে খেতে হয়।

    আমি জোর করে খেতে পারি না। বমি আসে।

    কাত হয়ে শুয়ে পড়ল শাহিন। জ্বরটা ছেড়ে গেছে, কিন্তু শরীর খুব দুর্বল।

    সুরমা বলল, দুচার দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।

    যত তাড়াতাড়ি ঠিক হয় ততো ভাল। বাড়ি বসে থাকতে বোর লাগছে। মনে হচ্ছে। বহুদিন অফিস করি না।

    এ সময় টেলিফোন বাজল। শাহিন বলল, যাও টেলিফোন ধর।

    স্যুপের পেয়ালা চামচ হাতে বেরিয়ে গেল সুরমা।

    কিন্তু সুরমার আগেই মা এসে ফোন ধরলেন। হ্যালো, হ্যালো। কে?

    ওপাশ থেকে কেউ কথা বলল না। খুট করে লাইন কেটে দিল। বিরক্ত হয়ে ফোন নামিয়ে রাখলেন মা। সুরমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ভুতুড়ে টেলিফোন। কথা বলে না। নাকি আমার গলা শুনেই রেখে দেয় কে জানে!

    এ কথায় মুখ নিচু করে হাসল সুরমা। হাসিটা মা দেখে ফেললেন। রুক্ষ্ম গলায় বললেন, হাসছ কেন?

    সুরমা বিব্রত হল। না হাসছি নাতো!

    তারপর ম্যানেজ করার চেষ্টা করল। এরকম টেলিফোন অনেক সময় আসে। আমি ধরলেও কথা বলে না।

    এ সময় আবার বাজল টেলিফোন।

    মা ভ্রু কুঁচকে বললেন, তুমি ধর। দেখ কথা বলে কিনা।

    সুরমা ফোন ধরল।

    ওপাশ থেকে ভীতু ভীতু গলায় সেতু বলল, হ্যালো! কে ভাবী?

    ব্যাপারটা বুঝে গেল সুরমা। আড়চোখে একবার মায়ের দিকে তাকাল সে। তারপর চটপটে গলায় বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ বল। চিনেছি, চিনেছি।

    কিছুক্ষণ আগে আমিই ফোন করেছিরাম। ভয়ে ছেড়ে দিয়েছি। ভাবী, ওকে একটু দেয়া যাবে?

    বাড়ি নেই তো!

    এলে যেন দোলনদের বাড়িতে একটু ফোন করে। খুব জরুরি।

    আচ্ছা।

    টেলিফোন নামিয়ে রাখল সুরমা।

    মা তীক্ষ্ণচোখে তাকিয়েছিলেন সুরমার দিকে। সন্দেহের গলায় বললেন, কে ফোন করল?

    নির্জলা মিথ্যে বলল সুরমা। ইয়ে, শুভর এক বন্ধু।

    কী নাম?

    নাহিদ, নাহিদ।

    ওকি আমাকে চেনে না? আমার সঙ্গে কথা বলতে কী অসুবিধা ছিল?

    না না অসুবিধা ছিল না। বলল লাইনটা কেটে গিয়েছিল। গ্রাম থেকে ফোন করেছে।

    মায়ের সামনে থাকলে আরও মিথ্যে বলতে হবে, কোন কথা বলতে গিয়ে ধরা পড়ে যাবে, এসব ভেবে যতদূর সম্ভব দ্রুত কিচেনের দিকে চলে গেল সুরমা।

    .

    শিলা বলল, সেতু যে ভঙ্গিতে এসে আমার সামনে দাঁড়াল, আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

    রেখা হাসল। আমাকে গিয়ে যখন জিজ্ঞেস করল, আমিও ভয় পেয়েছিলাম।

    ওরা দুজন কথা বলছিল রেখার রুমের সামনের বারান্দায় বসে। এখানটায় তিনটে সুন্দর বেতের চেয়ার রাখা আছে। ছোট্ট একটা টেবিল রাখা আছে। বিকেল কিংবা গভীর রাতে রেখা এবং স্বপন কখনও কখনও এখানটায় বসে টুকটাক গল্প করে। সকালবেলা এখানে বসে কখনও কখনও খবরের কাগজও পড়ে স্বপন।

    এখন বসে আছে শিলা এবং রেখা। সেতুকে নিয়ে কথা বলছে তারা।

    শিলা বলল, সেতুর কথা শুনে তোমার সন্দেহ হয়নি? আমার কিন্তু হয়েছে।

    রেখা চোখ তুলে তাকাল। কী সন্দেহ?

    ওর বোধহয় কোথাও প্রেম ট্রেম আছে। এত বড় ঘরের, এত সুন্দর মেয়ে, এরকম মেয়ের প্রেম থাকতেই পারে।

    এরকম কেন, প্রেম যে কোনও মেয়েরই থাকতে পারে।

    তবে সুন্দরি মেয়েগুলোর বেশি থাকে।

    তা থাকে। প্রথমে আমিও ভেবেছিলাম যে সেতুর ওসব আছে। পরে আর ভাবিনি।

    কেন?

    প্রেম থাকলে আমরা নিশ্চয়ই টের পেতাম।

    ও না বললে কী করে পেতাম?

    মুখের দিকে তাকালেই ধরা যায়। কোথায় যেন পড়েছিলাম, প্রেম এবং ক্যান্সার নাকি চেপে রাখা যায় না।

    কিছুদিন হয়তো যায়। শেষ পর্যন্ত সব একদিন বেরিয়ে পড়ে। গর্তে লুকানো সাপের মতো। সাপের গর্তে গরম পানি ঢেলে দিলে সাপটা সুড়সুড় করে বেরিয়ে আসে।

    রেখা আর কোনও কথা বলল না। সাপের কথা শুনে গাটা কেমন কাঁটা দিল।

    .

    সুরমা দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকাল।

    পৌনে বারোটা। এতরাত হল এখনও ফিরছে না কেন শুভ? কোথায় গেল? সে না আসা পর্যন্ত ঘুমোতে যেতে পারছে না সুরমা। কিন্তু খুব ঘুম পাচ্ছে তার। আঠার মতো জড়িয়ে আসছে চোখ। ডাইনিংটেবিলে বসে প্রায়ই ঢলে পড়ছে।

    একবার ইচ্ছে হল যখন ইচ্ছে ফিরুক শুভ, তার কী! সে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে।

    তারপরই মনে হলো, না তাহলে খুবই বিপদে পড়বে শুভ। চোরের মতো এসে দরজায় টুকটুক করবে, ঘুমিয়ে পড়া মানুষজন অতকম শব্দ শুনতে পাবে না। তখন বাধ্য হয়ে কলিংবেল বাজাবে। সেই শব্দে নিশ্চয় জেগে উঠবেন মা। তারপর ধুন্দমার কাণ্ড বেঁধে যাবে। খেতে তো শুভ পাবেই না, গালাগাল খেয়ে মরে যাবে। সুরমা থাকতে ওরকম বিপদে শুভ কী করে পড়ে! তাছাড়া সেতুর টেলিফোনের কথাও তো বলতে হবে!

    এসব ভেবে ডাইনিংটেবিল ছাড়ল না সুরমা। বসে ঢুলতে লাগল।

    বারোটা বিশে টুকটুক করে শব্দ হলো দরজায়। ধরফর করে উঠল সুরমা। প্রথমে সাবধানী চোখে চারদিক তাকাল তারপর প্রায় নিঃশব্দে দরজা খুলল। ভুবন ভোলানো হাসিমুখে, পা টিপে টিপে শুভ ঢুকল। মা নিশ্চয় গভীর ঘুমে! এজন্য কলিংবেল বাজাইনি। জানি তুমি জেগে আছ।

    শুভকে দেখেই কেমন যেন রেগে গেল সুরমা। থমথমে গলায় বলল, কটা বাজে?

    হাসিমুখে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকাল শুভ। বারোটা তেইশ।

    তা আমিও জানি। ছিলি কোথায়?

    বেড়াতে গিয়েছিলাম।

    কোথায়?

    বিক্রমপুরের মাওয়াঘাটে। ভাবি, কী বলব তোমাকে, পদ্মার তীরটা একদম সীবিচের মতো। একদম কক্সবাজার। গেলে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। আসতেই ইচ্ছে করে না।

    তাহলে এলি কেন?

    শুধু তোমার টানে। আর…!

    আমার জন্যে কতটা টান তা আমি বুঝি। আর একজন যার কথা বলতে চাইলি সে আজ ফোন করেছিল।

    তাই নাকি!

    হ্যাঁ। গলা শুনে কেমন যেন নার্ভাস মনে হল। বোধহয় কোনও ঝামেলা হয়েছে।

    ঝামেলা শব্দটা শুনে মুখ শুকিয়ে গেল শুভর। কী ঝামেলা?

    তা আমাকে বলেনি। কাল যোগাযোগ করিস।

    নিশ্চয় করব। তুমি না বললেও করব।

    একথায় মনটা একটু খারাপ হল সুরমার। স্নান গলায় বলল, আমার দায়িত্ব ছিল তোকে জানানো, জানালাম। কী করবি না করবি তোর ব্যাপার।

    বেডরুমের দিকে পা বাড়িয়েই থমকে দাঁড়াল সুরমা। টেবিলে খাবার রাখা আছে, খেয়ে নিস।

    কথাটা যেন শুনতেই পেল না শুভ। তার কেবল সেতুর কথা মনে পড়ছে।

    .

    হঠাৎ এভাবে বিয়ে ঠিক করে ফেলল, মানে কী?

    খুবই বিরক্ত হয়ে দোলনের দিকে তাকাল সেতু। মানে আবার কী? ভাল পাত্র পেয়েছে, ঠিক করেছে।

    সেতুর বিরক্তিটা খেয়াল করল না দোলন। দুশ্চিন্তায় লম্বা নাকটা যেন আরেকটু লম্বা হয়ে গেল তার। এখন কী করবি?

    কিছুই বুঝতে পারছি না।

    আগে শুভ ভাইর সঙ্গে কথা বল।

    ওকে আমি টেলিফোনে পাইনি। ভাবীকে বলেছিলাম…

    সেতুর কথা শেষ হওয়ার আগেই দোলন বলল, ঘণ্টাখানেক আগে শুভ ভাই ফোন করেছিলেন। বললাম তুই আসবি, শুনে বললেন, আমিও আসছি। এক্ষুনি হয়তো চলে আসবেন।

    তাহলে ভালই হয়।

    শুভ এল মিনিট দশেকের মধ্যে। তাকে দেখেই উঠল দোলন। আপনারা প্রেম করেন, আমি যাচ্ছি। চা পাঠিয়ে কি ডিস্টার্ব করব?

    শুভ হাসল। দরকার নেই। আমি চা খাব না। সেতু, তুমি খাবে?

    না।

    দোলন বলল, ও যে খাবে না, তা আমি জানি। এই অবস্থায় চা খাওয়া যায় না।

    শুভ অবাক হল। এই অবস্থা মানে?

    ওর কাছ থেকেই শুনুন।

    দোলন বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেতুর পাশে বসল শুভ। কী হয়েছে?

    অন্যদিকে তাকিয়ে সেতু বলল, বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

    কার বিয়ে?

    খরচোখে শুভর দিকে তাকাল সেতু। অন্যের বিয়ের খবর তোমাকে আমি দেব?

    শুভ একেবারে হকচকিয়ে গেল। না না তা দেবে কেন! কিন্তু তোমার বিয়ে! বল কী? কবে ঠিক হল? কোথায়?

    ব্যাপারটা শুভকে খুলে বলল সেতু। শুনে শুভ একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল। বল কী!

    হ্যাঁ, এভাবে বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে, কল্পনাই করিনি।

    আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।

    দুহাতে শুভর একটা হাত ধরল সেতু। এখন আমি কী করব?

    শুভ দিশেহারা গলায় বলল, কিছুই বুঝতে পারছি না।

    তোমাদের বাড়িতে আর কেউ না জানুক তোমার ভাবী জানেন। একজন মানুষ অন্তত তোমার পক্ষে আছেন। আমার পক্ষে কেউ নেই।

    কী করে থাকবে? তুমি তো কাউকে জানাওনি।

    কেন জানাইনি তুমি জানো না? আমার ভাইদের আমি চিনি। এসব জানলে আরও অনেক আগেই জোর করে আমার বিয়ে দিয়ে দিত। আমার মুখ তুমি আর কখনও দেখতে পেতে না।

    বুঝলাম, কিন্তু এখন তো না জানিয়ে উপায় নেই।

    শুভর চোখের দিকে তাকিয়ে সেতু বলল, এখনও জানাব না।

    শুভ অবাক। তাহলে?

    আগে বিয়ে করে ফেলব তারপর জানাব।

    শুনে বুকটা ধ্বক করে উঠল শুভর। না না তা ঠিক হবে না। কেলেংকারি হয়ে যাবে। তুমি তোমার ভাবীদেরকে আমার কথা বল। ভাবীরা বলুক ভাইদেরকে। এভাবে সব ম্যানেজ কর।

    সেতু গম্ভীর হল। তুমি বেশ ভাল করেই জানো আমার ভাইরা কিছুতেই রাজি হবে না।

    না হলে তখন দেখা যাবে।

    কী দেখা যাবে তখন? আমার ভাইরা যেমন ভাল তেমন খারাপ। রেগে গেলে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। যদি আমাকে তারা বাড়ি থেকে বেরুতে না দেয়, যদি ঘরে আটকে রেখে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়?

    শুভ বিরক্ত হল। সিনেমা নাকি! এসব এত সোজা না। একটা মেয়ে যদি বিয়ে করতে না চায়, জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া যায় না।

    এবার বেশ রাগল সেতু। কে বলেছে যায় না? গার্জিয়ানদের চাপে পড়ে মতের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে বাংলাদেশে।

    ওসব হয় অশিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে।

    শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যেও প্রচুর হয়। তুমি জানো না।

    সত্যি আমি জানি না।

    জেনে তর্ক করছ কেন?

    সরি।

    সেতু একটু নরম হল। স্বাভাবিক গলায় বলল, এই রিসকটা আমি নেব না। আমি বিয়ে করে ফেলব। বিয়ে হয়ে গেলে শক্তিটা আমার থাকে। বাড়িতে সবার সঙ্গে ফাঁইট করতে পারব। জোর গলায় বলব, আমার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করার নেই।

    সেতুর কথা শুনে হতাশায় একেবারে ডুবে গেল শুভ। এভাবে বিয়ে করব?

    শুনে খুবই অভিমান হল সেতুর। তোমার ইচ্ছে না হলে করো না। আমি আমার ভাইদের পছন্দ মেনে নিই।

    সেতুর চোখের দিকে তাকাল শুভ। পারবে?

    সঙ্গে সঙ্গে দুহাতে শুভর গলা জড়িয়ে ধরল সেতু। পারব না বলেই তো এভাবে ভাবছি। মরে যেতে হলে যাব কিন্তু তোমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করব না। আর কারও সঙ্গে সংসার করব না।

    কিন্তু শুভর বুকটা তখন চিব ঢিব করছে।

    .

    রাতেরবেলা নিচতলার ড্রয়িংরুমে এসে বসছে মামুন এবং শিলা।

    কিছুক্ষণ পরে এল রেখা এবং স্বপন। কোনও বিষয়ে বড় রকমের সিদ্ধান্তের সময় এই রুমে এসে একত্রিত হয় সবাই।

    স্বপনের মুখের দিকে তাকিয়ে মামুন বলল, কবে এনগেজমেন্ট করতে চায় ওরা?

    স্বপন বলল, আমরা যেদিন করব। ওদের কোনও অসুবিধা নেই। ওরা বলছে এনগেজমেন্টেরই দরকার নেই। মানে এনগেজমেন্টের জন্য কোনও অনুষ্ঠানের দরকার নেই। সরাসরি বিয়ে।

    না তা করব না। আমাদের একমাত্র বোন। যত রকমের অনুষ্ঠান ইত্যাদি আছে সবই করব।

    তাহলে এনগেজমেন্টের ডেটটা ফিক্সড কর।

    শিলা বলল, ডেট ফিক্সড করার আগে সেতুর সঙ্গে একটু কথা বলা উচিত না।

    মুখ ঘুরিয়ে ভাবীর দিকে তাকাল স্বপন। কী কথা?

    শিলা জবাব দেয়ার আগে রেখা বলল, না মানে ওর মতামত!

    মামুন গম্ভীর গলায় বলল, ওর আবার মতামত কী? আমরা সবাই যেখানে রাজি সেখানে ওর অমত হবে কেন?

    শিলা বলল, আমার মনে হয় অমত ওর নেই। লেখাপড়া শেষ হয়নি এসব নিয়ে একটু গাইগুই করছিল।

    বাড়ির অন্যান্যদের সামনে মামুন অত্যন্ত গম্ভীর এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। একান্তে স্ত্রীর সঙ্গে যে তার ওরকম মজার সম্পর্ক এই মামুনকে দেখে কেউ তা কল্পনাও করতে পারবে না।

    এখন শিলার কথা শুনে সে বলল, বিয়ের কথা শুনলে সব মেয়েই অমন করে। ওসব ভেবে লাভ নেই। স্বপন, দিনদশেকের মধ্যে এনগেজমেন্টের ডেট কর। এনগেজমেন্টের দিন বিয়ের ডেট হবে। তবে মাসখানেকের মধ্যেই বিয়ে।

    স্বপন গভীর উৎসাহে বলল, ঠিক আছে।

    .

    মানুষ যদি সত্যি সত্যি কখনও হাতে চাঁদ পায় যে রকম খুশি হবে নাহিদকে দেখে ঠিক সেরকম খুশি হল শুভ।

    কপালে হাত দিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে শুয়েছিল সে। তড়াক করে লাফিয়ে উঠল। একদম টাইমলি এসে পড়েছিস দোস্ত। তোকে এমন ফিল করছিলাম। তোর মতো বন্ধু তো আর কেউ নেই, কার সঙ্গে পরামর্শ করে ডিসিসান নেব বুঝতে পারছিলাম না।

    নাহিদ কোনও কথা বলল না। নির্জীব ভঙ্গিতে বিছানার এককোণে বসল। বসে উদাস হয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল।

    নাহিদ অত্যন্ত প্রিয়দর্শন যুবক। খুব বেশি লম্বা কিংবা স্বাস্থ্যবান নয়। মাঝারি ধরনের হাইট। শরীরটা রোগার দিকে। গায়ের রং শবরি কলার মতো। গোঁফ দাড়ি ওঠার পর কখনও সেভ করেনি। ফলে মুখময় ঘন কালো দাড়ি গোঁফ। খাড়া নাকের ওপর গোল কাঁচের ছোট্ট ধরনের চশমা। চশমার ভেতর উজ্জ্বল দুটো চোখ সারাক্ষণ যেন হাসছে। মুখের দাড়ি গোঁফের মতো মাথার চুলও খুব ঘন নাহিদের। স্টাইলটা অনিল কাপুরের মতো। মুখে মিষ্টি একখানা হাসি সব সময় লেগে থাকে।

    এই ধরনের মানুষকে কেউ পছন্দ না করে পারে না। এই ধরনের মানুষের কোনও শত্রু থাকে না।

    পোশাক আশাকে নাহিদ একেবারেই কেয়ারলেস টাইপের। সব সময় জিনস পরে। জিনসের প্যান্ট, শার্ট। কখনও কখনও টিশার্ট। পায়ে বুট। কিন্তু একই পোশাকে নাহিদ হয়তো বেশ কয়েকদিন থাকে। এসব নাহিদকে খুব মানায়। অন্যদের চে আলাদা করে রাখে। এবং নাহিদ অত্যন্ত নিম্নকণ্ঠের মানুষ। ধীর শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলে। কথা বলার সময় হাসিটা ঠোঁটে লেগেই থাকে। উচ্চারণ চমৎকার। আশ্চর্য রকমের এক রোমান্টিক ভঙ্গি আছে কথা বলার।

    কিন্তু কী হয়েছে নাহিদের? এতদিন পর প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে এমন উদাস হয়ে আছে কেন? কথা বলছে না কেন?

    এগিয়ে এসে নাহিদের কাঁধে হাত দিল শুভ। নাহিদ, কী হয়েছে?

    তারপরই নাহিদের কান্নাটা দেখতে পেল। নিঃশব্দে কাঁদছে সে। চশমার ফাঁক দিয়ে নেমেছে অশ্রুধারা।

    শুভ একেবারেই দিশেহারা হয়ে গেল। তুই কাঁদছিস কেন? কী হয়েছে? বাদলের শরীর কেমন?

    একহাতে চোখ মুছল নাহিদ। বাদল মারা গেছে।

    কী?

    চব্বিশ তারিখে। বিকেল চারটা দশ।

    কী বলছিস তুই?

    নাহিদ মাথা নাড়ল। বাদল মারা গেছে এখন বর্ষাও মরতে বসেছে। যমজ ভাই বোনের একজন মারা গেল আরেকজন একেবারেই শেষ হয়ে যায়। সবমিলে আমাদের খুব দুঃসময় যাচ্ছে। এসব কারণেই তোকে কিছু জানাতে পারিনি।

    বুক কাঁপিয়ে দীর্ঘশ্বাস পড়ল শুভর। ভাঙাচোরা গলায় বলল, তোকে দেখে এত ভাল লাগল, মনে হচ্ছিল গভীর অন্ধকারে ডুবে আছি, তুই এসে আলোটা জ্বেলে দিলি। কিন্তু…।

    শুভ মাথা নিচু করল। এই ধরনের খবর শোনার পর কেমন করে তোকে আমি আমার সমস্যার কথা বলি! কিন্তু তোকে না বলেও আমার উপায় নেই।

    চশমা খুলে ভাল করে চোখ মুছল নাহিদ।

    শুভ বলল, বাদলের অসুখের কথা জানতাম। ওর মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে বুক ফেটে যাবে আমার। সবকথা বলতে তোরও খুব কষ্ট হবে। ওসব এখন আমি জানতে চাইব না। খুবই স্বার্থপরের মতো আমার কথাগুলো তোকে বলব।

    শার্টের খুটে চশমা মুছে পরল নাহিদ। শুভর দিকে তাকাল। সেতুকে নিয়ে কোনও সমস্যা হয়েছে?

    হ্যাঁ। বড় রকমের সমস্যা।

    কী হয়েছে আমাকে বল।

    শুভ আবার মাথা নিচু করল। দুএকদিনের মধ্যে বিয়ে করতে হবে।

    একথা শুনে যতটা চমকাবার কথা নাহিদের ততটা চমকাল না সে। অবশ্য তার। স্বভাবই এমন, উত্তেজিত হয় কম। হলেও এমনভাবে চেপে রাখে, কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।

    তবে শুভর কথা শুনে অপলক চোখে কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল নাহিদ। তারপর কিছুই জানতে না চেয়ে বলল, কর। আমি আছি।

    এই অবস্থায়ও বন্ধুর পাশে এভাবে দাঁড়াতে পারে মানুষ!

    নাহিদের কথা ভেবে আশ্চর্য রকমের এক অনুভূতি হল শুভর। বুকটা তোলপাড় করতে লাগল। দুহাতে নাহিদের একটা হাত ধরল সে। মাথা নিচু করে বলল, আমার খুব কান্না পাচ্ছে দোস্ত, খুব কান্না পাচ্ছে।

    কথা বলতে বলতে গলা জড়িয়ে এল শুভর। নিজের অজান্তে চোখ ভেসে গেল।

    .

    সেতুর বিছানার ওপর মাঝারি সাইজের সুন্দর একটা ব্যাগ।

    সেই ব্যাগে বেগুনি রংয়ের একটা কাতান শাড়ি নিয়েছে সেতু, ছায়া ব্লাউজ নিয়েছে। সামান্য কিছু কসমেটিক, সামান্য কিছু গহনা নিয়েছে। শুভর খুব পছন্দ এমন। একটা পারফিউম নিয়েছে। এসব নিয়ে এখন দোলনদের বাড়ি যাবে সে। সেখান থেকে বউ সেজে যাবে শাহিনবাগ কাজি অফিসে। শুভ আর তার বন্ধু নাহিদ আগে থেকেই

    অপেক্ষা করবে। সেতু এবং দোলন গিয়ে পৌঁছুবার পর বিয়ে। শুভর পক্ষ থেকে স্বাক্ষী। হবে নাহিদ, সেতুর পক্ষ থেকে দোলন। বিয়ে শেষ হওয়ার পর আবার দোলনদের বাড়ি যাবে সেতু। এবার সঙ্গে থাকবে শুভ।

    প্ল্যান শুনে দোলন বলেছিল, বাসররাতটা দিনের বেলাতেই আমাদের বাড়িতে করে ফেলতে পারিস তোরা। বুয়াদের ম্যানেজ করে আমার রুম তোদেরকে ছেড়ে দেব।

    শুনে লজ্জায় মরে গিয়েছিল সেতু। যাহ।

    কেন, অসুবিধা কী?

    ওসব এখন না। সব ঠিকঠাক হওয়ার পর আবার যখন আমাদের বিয়ে হবে, মানে আয়োজন করে যখন বিয়ে হবে তখন।

    তাহলে আজ আর আমাদের বাড়িতে আসার দরকার কী?

    তোদের বাড়িতে এসে, সাজগোজ বদলে স্বাভাবিক হয়ে তারপর বাড়ি ফিরব যাতে ঘুণাক্ষরেও কেউ টের না পায়।

    বুঝলাম, এ কাজের জন্য শুভ ভাইকে সঙ্গে আনার দরকার কী?

    বাহ বিয়ের পর ওকে একটু একা পেতে ইচ্ছে করবে না আমার! ওর সঙ্গে কথা, বলতে ইচ্ছে করবে না!

    সবই যখন ইচ্ছে করবে তখন আর ওইটুকু বাদ রাখছিস কেন?

    না বাবা, প্রথম দিনেই যদি কনসিপ করি।

    তাহলে তো আরও সুবিধা। ঝামেলা লাগলে বাড়িতে বলবি, আমি প্রগন্যান্ট। দেখবি সঙ্গে সঙ্গে সবাই মেনে নিয়েছে।

    ব্যাগ গুছিয়ে রুম থেকে বেরুবার সময় এসব কথা মনে পড়ল সেতুর। আজ যদি সত্যি সত্যি ওসব হয়? সত্যি যদি সে কনসিপ করে!

    শরীরের ভেতর তারপর আশ্চর্য এক অনুভূতি হল সেতুর। শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। একেবারেই নতুন ধরনের এক লজ্জায় রাঙা হল মুখ।

    এই আবেশের মধ্যে ছিল বলেই বোধহয় শিলাকে দেখতে পায়নি সেতু। বেরুতে গিয়ে আচমকা দেখতে পেল তার রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে শিলা।

    সেতু একটু থতমত খেল। ভাবী, তুমি এ সময় আমার রুমে?

    শিলা সরল গলায় বলল, খুবই অবাক হলে মনে হয়?

    না মানে আমি বেরুচ্ছি তো?

    তাতে কী হয়েছে? বেরুবার সময় তোমার রুমে আমি আসতে পারি না?

    তা পারবে না কেন?

    তাহলে অমন থতমত খেলে কেন?

    শিলা একটু থামল। সেতুর হাতের ব্যাগ দেখে কী রকম সন্দেহ হল তার। কোথায় যাচ্ছ?

    সেতু একটু ভড়কাল, কিন্তু শিলাকে তা বুঝতে দিল না। চটপটে গলায় বলল, ইয়ে মানে দোলনদের বাড়ি। দোলন ফোন করেছিল।

    ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছ কেন? ব্যাগে কী?

    তেমন কিছু না। দুএকটা ড্রেস নিয়ে যাচ্ছি। সারাদিন থাকব তো? এক ড্রেসে থাকতে ভাল লাগবে না। আমাদের আরও দুতিনজন বান্ধবী আসবে। সবাই মিলে হৈ চৈ করব, আড্ডা দেব। পিকনিক মতো হবে, ছবি তোলা হবে।

    এখন এসব করা ঠিক না।

    কেন? অসুবিধা কী?

    তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। কদিন পর এনগেজমেন্ট। মেয়েরা এ সময় ঘরে থাকে। সৌন্দর্যচর্চা করে। হৈ চৈ চিৎকার চেঁচামেচি এ সময় করা ঠিক না। ওসব করলে শরীর চেহারা নষ্ট হয়।

    শুনে গম্ভীর হলো সেতু। তার মানে এখন থেকেই আমার ভাললাগা ব্যাপারগুলো তোমরা শেষ করে দিচ্ছ! স্বাধীনতা বলতে কিছুই আমার থাকছে না।

    সেতুর কথায় শিলা যেন একটু বিরক্ত হল। এভাবে বলো না। কোনও ব্যাপারেই তোমাকে আমরা কখনও বাধা দিইনি। তুমি যখন যা চেয়েছ, যেভাবে চেয়েছ সেভাবেই সব হয়েছে। তোমার মতো স্বাধীনতা খুব কম মেয়ের ভাগ্যেই জোটে। বিয়ে ঠিক না হলে আজকের এই কথাগুলো তোমাকে বলার কোনও দরকার আমার হতো না।

    শিলা যেন ক্ষুণ্ণ হয়েই চলে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }