Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প219 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭. বারান্দায় মামুনকে দেখে

    বারান্দায় মামুনকে দেখে এগিয়ে এল স্বপন। ভাইয়া, তুমি কি লইয়ারের সঙ্গে কথা বলেছ? পেপারস রেডি করেছ?

    মামুন গম্ভীর গলায় বললেন, না।

    কেন?

    লজ্জা করছে।

    লজ্জা করছে মানে? কীসের লজ্জা?

    ড্রয়িংরুমে চল। বলছি।

    ড্রয়িংরুমে এসে মুখোমুখি বসল দুভাই।

    মামুন বলল, ল ইয়ারও তো পরিচিত মানুষ!

    কথাটা বুঝতে পারল না স্বপন। বলল, তাতে কী হয়েছে?

    আমাদের ফ্যামিলির এমন একটা কেলেঙ্কারির কথা সে জেনে যাবে।

    শুনে বিরক্ত হল স্বপন। খুবই ছেলেমানুষি কথা বললে ভাইয়া।

    কী রকম?

    সমস্যাটা এমন, এটা মিটাতে হলে কাউকে না কাউকে ব্যাপারটা বলতেই হবে। কিছু কিছু মানুষ এটা জানবেই।

    তা ঠিক।

    তাছাড়া এই ধরনের কাণ্ড অনেক ফ্যামিলিতেই হয়। সেতুর বয়স কম। সে একটা ভুল করে ফেলেছে। এটা খুব বড় কোনও লজ্জার ব্যাপার নয়। লজ্জার ব্যাপার হবে যদি ব্যাপারটা আমরা মেনে নিই। সেই ছোকরার কাছে যদি সেতুকে….

    কিন্তু সেতুকে ম্যানেজ করবি কী করে? সে তো কোনও কথা শুনছে না।

    যেমন করেই হোক, ওকে বাধ্য করতে হবে। রেখা এবং ভাবী কথা বলেছে। এখন আমি বলব।

    স্বপন সেতুর সঙ্গে কথা বলবে শুনে মামুন কেমন ভয় পেয়ে গেল। না না, তোর বলার দরকার নেই।

    কেন?

    তুই রগচটা ধরনের। মেজাজ খারাপ হয়ে গেলে ওর গায়ে হাত টাত তুলে ফেলতে পারিস।

    স্বপন হাসল। না, তা তুলব না। যত রাগই হোক, নিজেকে কন্ট্রোল করব।

    সেতুর রুমে এসে সত্যি সত্যি নিজেকে খুবই সংযত রাখল স্বপন। সে এসে সেতুর মুখোমুখি দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে সেতু বলল, তুমি কেন এসেছ?

    তুই জানিস কেন এসেছি।

    কিন্তু যা বলার ভাবীদেরকে আমি বলে দিয়েছি।

    কী বলেছিস?

    ওসব নিয়ে তোমার সঙ্গে আমি আর কথা বলতে চাই না।

    সেতুর চোখের দিকে তাকিয়ে অসহায় গলায় স্বপন বলল, তুই এমন হয়ে গেলি কী করে? আমরা দুটো ভাই কত কষ্টে, কত আগলে আগলে তোকে বড় করেছি। জীবনে কখনও তোর সঙ্গে ঝগড়া করিনি, তোকে একটা ধমক দিইনি। তুই হচ্ছিস আমাদের জান, নয়নের মণি। সেই তুই কোথাকার কার জন্য আমাদের সবাইকে এভাবে সাফার করাচ্ছিস। এই ফ্যামিলির জন্য, আমাদের কারও জন্য কি তোর একটুও টান নেই? একটুও মায়া নেই আমাদের কারও জন্য?

    এবার সেতুও তাকাল স্বপনের চোখের দিকে। কথাটা যদি উল্টো করে আমি তোমাদেরকে বলি?

    বল শুনি।

    আমি তোমাদের একমাত্র বোন। আমার পছন্দে আমি আমার জীবনের সবচে বড় সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। যার সঙ্গে নিজের জীবন জড়িয়েছি, তোমাদের বিবেচনায় সে যেমনই। হোক, আমার বিবেচনায় সে ই আমার জন্য প্রকৃত মানুষ। আমার কথা ভেবে, আমার সুখ শান্তির কথা ভেবে, আমার মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে তোমরা মেনে নিলেই পার! তা করছ না কেন?

    করছি না তোর কথা ভেবেই। তোকে সন্তানের চে’ বেশি ভালবাসি বলে।

    তোমার কথা আমি বুঝতে পারছি না।

    তোর বয়স কম। এই বয়সে আবেগতাড়িত হয়ে চলে মানুষ। কিন্তু জীবন অনেক বড়। কাঁচা আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। যাকে নিয়ে সমগ্র জীবন কাটাতে চাস তুই, আমরা মনে করি জীবনটা তার সঙ্গে সুখে আনন্দে কাটাতে তুই পারবি না।

    কেন? তার অসুবিধা কী?

    তুই জানিস অসুবিধাগুলো কী?

    টাকা, স্ট্যাটাস এসব বোঝাতে চাইছ তো?

    হ্যাঁ।

    কিন্তু আমার কাছে এসব একেবারেই মূল্যহীন।

    কেন?

    একজন মানুষকে সুখে আনন্দে জীবন কাটাতে হলে দরকার তার জীবনসঙ্গীর একটি সুন্দর মন আর গভীর ভালবাসা। আমাদের দুজনেরই তা আছে। আমাদের আর কিছু লাগবে না।

    লাগবে, অবশ্যই আরও অনেক কিছু লাগবে। বোঝালেও এখন তুই তা বুঝতে চাইবি না।

    সেতু কাতর গলায় বলল, ভাইয়া, সবকিছু বুঝেই কাজটা আমি করেছি। এভাবে বিয়ে হোক শুভ চায়নি। সে আমাকে অনেক বুঝিয়েছে। আমি বুঝতে চাইনি। কারণ আমি জানতাম এভাবে না হলে ওকে আমি কোনওদিন পাব না।

    তারপর কেমন ভেঙে পড়ল সেতু। ওর কাছ থেকে আমাকে সরাবার একটিই পথ আছে ভাইয়া। আমাকে তোমরা মেরে ফেল।

    সেতুর ভেঙে পড়া একদমই পাত্তা দিল না স্বপন। নিঃশব্দে উঠে ড্রয়িংরুমে চলে এল। এভাবে হবে না ভাইয়া।

    সোফায় বসা মামুন নড়েচড়ে উঠল। তাহলে কীভাবে হবে?

    অন্য কোনও একটা পথ বের করতে হবে।

    কী পথ?

    সেতুকে আমরা কেউ কিছুই আর বলব না। বাড়িতে যেভাবে সে আছে সেভাবেই থাকবে। তবে চোখ রাখতে হবে কিছুতেই যেন বাড়ি থেকে বেরুতে না পারে।

    বুঝলাম কিন্তু আসল কাজটা হবে কীভাবে?

    ছোকরাটাকে প্রেসারে ফেলতে হবে। বা তার চেয়েও বেশি কিছু।

    মানে?

    শীতল, গম্ভীর গলায় স্বপন বলল, ওকে মেরে ফেলতে চাই।

    মামুন একেবারে আঁতকে উঠলেন। কী বলছিস তুই?

    ঠিকই বলছি।

    না না।

    এছাড়া কোনও উপায় নেই ভাইয়া।

    তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে? একটা মানুষ খুন করে ফেলবি?

    আমি নিজে করব না।

    তাহলে?

    একজন প্রফেসনাল মার্ডারার ঠিক করব। দুচার লাখ টাকার বিনিময়ে কাজটা সে করে দেবে। এমনভাবে করবে, কেউ কিছু বুঝতেই পারবে না।

    মামুন ভয়ার্ত গলায় বলল, না না, এসব করা ঠিক হবে না।

    স্বপন বলল, তুমি আমাকে বাধা দিও না ভাইয়া। তুমি চুপচাপ থাক। দেখ কী সুন্দরভাবে ব্যাপারটা আমি ম্যানেজ করি। সাপ মারা এবং লাঠি না ভাঙার কাজটা আমি খুব ভাল জানি।

    স্বপন আর দাঁড়াল না।

    .

    লালু খুবই কায়দার সানগ্লাস পরতে পছন্দ করে।

    সানগ্লাস পরে মোটর সাইকেল চালাবার সময় সে যতটা না মাস্তান তার চেয়েও বড় মাস্তান মনে হয়। পেছনে দিলুকে সে রাখেই। লালুর সর্বক্ষণের চামচা দিলু। লালুর সঙ্গে দিলুর নামেরও খুব মিল। খুঁজে পেতে চামচাটা লালু ভালই যোগাড় করেছিল।

    সেই চামচা নিয়ে লালু এখন মোটর সাইকেল চালাচ্ছে। মাঝারি ধরনের স্পিডে মোটর সাইকেল চালাবার অভ্যেস তার। ফলে ঠিক সময়ের মিনিট দশেক পরে মামুন স্বপনের অফিসের সামনে এসে পৌঁছাল সে। মোটর সাইকেল লক করে অফিসে ঢুকল এই বিল্ডিংয়ের মালিকের ভঙ্গিতে। স্বপনের রুমে ঢুকল মহাভাব ধরে।

    স্বপন রুমেই ছিল, লালুকে দেখে উৎফুল্ল হল। এস লালু, এস।

    লালু কোনও কথা বলল না, স্বপনের মুখোমুখি একটা চেয়ারে বসল। দিলু দাঁড়িয়ে রইল তার পিঠের কাছে।

    কোনও ভণিতা না করে স্বপন বলল, আমার একটা কাজ করে দিতে হবে লালু।

    লালু নির্বিকার গলায় বলল, জানি।

    শুনে চমকে উঠল স্বপন। কী করে জানো?

    কাজ ছাড়া আপনাদের মতো লোকরা আমাদেরকে ডাকে না।

    ও তাই বল।

    কাজের সাইজ কেমন? হাঁড়ি না বোতল?

    কথাটা বুঝতে পারল না স্বপন। বলল, মানে?

    বড় না ছোট? কী ধরনের কাজ?

    একটু সময় নিয়ে বলতে হবে।

    তারপর দিলুর দিকে তাকাল, তোমার সঙ্গে কে?

    জিনিসটার নাম দিলু। আমার চামচ।

    চামচ মানে?

    স্বপনকে একটা ধমক দিল লালু। ধুৎ মিয়া! আপনে তো আমার ল্যাংগুয়েজই বোঝেন না। খালি মানে মানে করেন। চামচ মানে হচ্ছে চামচা। লেজুড়, ট্যান্ডল। অর্থাৎ আমি যা বলব সেই কাজই করবে।

    স্বপন আশ্বস্ত হল, বুঝেছি।

    বোঝেন নাই। জিনিসটা দেখতে যোবার মতন। অর্থ হচ্ছে দিলু কথায় একদমই বিশ্বাস করে না। কাজ, শুধু কাজে বিশ্বাস করে। কথা বলার আগেই মার্ডার করে দেয়। খুবই চিকন হারামি জিনিস।

    দিলুর গুণপনা শুনে স্বপন একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেল। এরকম লোকই আমার দরকার। ব্যাপারটা তাহলে খুলে বলি তোমাদেরকে। তবে একেবারেই সিক্রেট ব্যাপার। তোমরা দুজন ছাড়া কাকপক্ষীটিও যেন টের না পায়।

    কাকপক্ষী শব্দটা বুঝল না লালু। চিন্তিত চোখে স্বপনের দিকে তাকাল। কাকপক্ষী জিনিসটা কী?

    কাক, কাক।

    বুঝেছি, কাউয়া।

    তারপর একটু থেমে বলল, তবে কথা শুরুর আগে দুই প্যাকেট বেনসন আনান। চা আমি আজকাল খাই না। দুই বোতল ঠাণ্ডা আনান। আর কিছু ক্যাশ মাল টেবিলের ওপর রাখেন। তারপর বলেন মার্ডারটা কবে করতে হবে?

    এবারও স্বপন খুব অবাক হল। মার্ডার করতে হবে বুঝলে কী করে?

    কথার সাইজে বোঝা যায়।

    ঠিক তখুনি ট্রেতে করে তিন কাপ চা আর বিস্কুট নিয়ে স্বপনের রুমের সামনে এসেছে পিয়ন আলী। বন্ধ দরজা ঠেলে মাত্র ঢুকবে, ভেতর থেকে লালুর গলা শুনতে পেল। যাকে মার্ডার করতে হবে তার নাম কী?

    মার্ডার শব্দটা শুনে পাথর হয়ে গেল আলী। ভেতরে না ঢুকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল সে। ভেতরের সব কথা শুনতে লাগল।

    স্বপন বলল, ছোকরাটির নাম শুভ।

    থাকে কোথায়?

    সব তোমাকে চিনিয়ে দেব।

    ঠিক আছে, এখন ঠাণ্ডা আর বেনসন আনান।

    স্বপন বেল বাজাল, সেই শব্দে দরজার সামনে দাঁড়ান আলী চমকে উঠল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল। স্বপন অবাক হল, বেল বাজাবার সঙ্গে সঙ্গে তুই ঢুকলি কী করে? কোথায় ছিলি?

    চট করেই ব্যাপারটা মনে করল আলী। লালু এবং দিলুকে দেখিয়ে হাসিমুখে বলল, স্যারদের দেখলাম আপনার রুমে ঢুকতে, দেখেই চা বিস্কুট নিয়ে আসছিলাম। আপনার রুমের দরজায় মাত্র এসেছি, বেলটা বাজল।

    শীতল চোখে আলীর দিকে তাকাল লালু। তোমার মাথায় ঘিলুটা একটু বেশি।

    জ্বি?

    বেশি ঘিলু থাকা ভাল না। হিঙ্গুল চেন, হিঙ্গুল? সর্দি হলে মানুষের নাক দিয়ে পড়ে। যাদের মাথায় ঘিলু বেশি তাদের মাথায় ভাল করে একটা কিল দিলে ঘিলুটা হিঙ্গুলের মত নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে। আমার এখন ইচ্ছে করছে তোমার মাথায় একটা কিল দিই?

    কেন স্যার?

    চা বিস্কুট নিয়ে আসার আগে তোমার বোঝা উচিত ছিল এই মাল সবাই খায় না।

    তারপর ধমকের সুরে বলল, যাও ঠাণ্ডা নিয়া আস। আর দুই প্যাকেট বেনসন।

    সঙ্গে সঙ্গে স্বপন বলল, হ্যাঁ, এজন্যই তোকে ডেকেছিলাম, যা, তাড়াতাড়ি যা।

    হাতে ধরা চা বিস্কুটের ট্রে নিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছিল আলী, স্বপন বলল, আমার চাটা দিয়ে যা। আমি চা ই খাব।

    বিনীত ভঙ্গিতে স্বপনের সামনে এককাপ চা নামিয়ে রাখল আলী।

    .

    হোটেল লবিতে আলীকে বসে থাকতে দেখে খুবই অবাক হল নাহিদ। কী রে আলী, তুই এলি কোত্থেকে?

    আলী উঠে দাঁড়াল। আপনার খোঁজে এসেছি।

    কী করে জানলি আমি এই হোটেলে থাকি?

    কার কাছে যেন শুনেছিলাম ঢাকায় এলে এই হোটেলেই থাকেন আপনি।

    ঠিকই শুনেছিস।

    কিন্তু আজ আছেন কি না জানতাম না। আন্দাজের ওপর এলাম।

    বা, বা।

    দুজনে মুখোমুখি বসল।

    নাহিদ বলল, খবর কী বল। চাকুরি বাকরি করছিস না?

    জ্বি করছি।

    আগেরটাই?

    জ্বি।

    আজ অফিসে যাসনি?

    না।

    কেন?

    ছুটি নিয়েছি।

    তীক্ষ্ণচোখে আলীর দিকে তাকাল নাহিদ। তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন? শরীর খারাপ না কি?

    না শরীর ঠিকই আছে।

    তাহলে?

    টেনশনে ছিলাম।

    কীসের টেনশন?

    আপনাকে পাই কি না? না পেলে কীভাবে কী করব ওসব ভেবে চেহারাটা খারাপ হয়ে গেছে। তাছাড়া আমার ধারণাটা ঠিক কি না, যার নাম শুনেছি সে আপনার বন্ধুই কি না তাও বুঝতে পারছিলাম না।

    আলীর কথা বুঝতে পারল না নাহিদ। বলল, কী হয়েছে?

    আপনার একজন বন্ধু আছে না শুভ নামে?

    হ্যাঁ, খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কী হয়েছে শুভর?

    আপনি বলতে পারবেন কি না জানি না, আমার অফিসের দুই মালিক মামুন সাহেব, স্বপন সাহেব….

    আলীর কথা শেষ হওয়ার আগেই উত্তেজিত হল নাহিদ। হ্যাঁ, হ্যাঁ শুভর সঙ্গে ওরা রিলেটেড।

    এবার আলীও উত্তেজিত হল। তাহলে ঠিক ধারণাই করেছি আমি। ঠিক জায়গাতেই এসেছি।

    কী হয়েছে বল আমাকে।

    আপনার বন্ধুর জন্য খুব খারাপ একটা খবর আছে। কিন্তু এরকম খোলামেলা জায়গায় বসে ওসব কথা আমি বলতে চাই না।

    সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল নাহিদ। তাহলে আমার রুমে চল।

    চলুন।

    ওরা দুজন সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

    .

    নাহিদের কথা শুনে লাফিয়ে উঠল শুভ, কী? মেরে ফেলবে আমাকে? মাস্তান লাগিয়েছে আমার পেছনে?

    নাহিদ বেশ নার্ভাস। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, তাই তো শুনলাম। তিনদিন হল ঢাকায় এসেছি। আজ বিকেলের ট্রেনে চলে যাওয়ার কথা। এসব শুনে আর যেতে পারলাম না।

    কিন্তু তুই শুনলি কার কাছে?

    শুভর বিছানায় বসল নাহিদ। এও এক অদ্ভুত যোগাযোগ। সেতুর ভাইদের অফিসে আমার একটা পরিচিত ছেলে পিয়নের কাজ করে। এক সময় ছেলেটাকে আমি একটু সাহায্য করেছিলাম। সে জানে তুই আমার বন্ধু। সেতুর ছোট ভাইর রুমে চা দিতে ঢুকে তোর নাম এবং মার্ডার শব্দ দুটো সে শুনে ফেলেছে। ব্যাপারটা পুরোপুরি বোঝেনি। কিছু একটা অনুমান করে আমার হোটেলে এসেছে, আমাকে বলেছে। এইটুকু শুনেই যা বোঝার বুঝে গেছি আমি।

    শুভ গম্ভীর গলায় বলল, ওরা আমাকে খুবই আন্ডারএস্টিমেট করেছে।

    মানে?

    বাড়ি এসে ডিভোর্সের জন্য ধমক দিয়ে গেছে। এখন লাগিয়েছে মাস্তান। ভেবেছে মাস্তান ফাস্তানদের কথা শুনে ভয়ে সেতুকে আমি ছেড়ে দেব। কোন মাস্তান লেগেছে আমার পেছনে, তাদেরকে আমি একটু দেখতে চাই।

    মাথা গরম করিস না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হয়।

    মাথা বোধহয় আমি আর ঠাণ্ডা রাখতে পারব না।

    কেন?

    সীমাহীন বাড়াবাড়ি করছে ওরা। সেতুকে বাড়িতে আটকে রেখেছে। নিশ্চয় খুব মেন্টাল প্রেসারে রেখেছে ওকে। তার ওপর আমার পেছনে লাগিয়েছে মাস্তান। আমি ওদেরকে ছাড়ব না, আমি ওদেরকে দেখে নেব।

    কী কাজে শুভর রুমের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মা, শুভর উত্তেজিত গলা শুনে কী রকম সন্দেহ হল তার। আড়াল থেকে শুভর শেষ দিককার কথা কিছুটা শুনে ফেললেন, শুনে সুরমাকে খুঁজতে ডাইনিং স্পেসের দিকে চলে এলেন। নিজের রুমের দিকে হেঁটে যাচ্ছিল সুরমা। মা ডাকলেন, বউমা, শোন।

    সুরমা এসে তার সামনে দাঁড়াল, জ্বি মা।

    মা ভয়ার্ত গলায় বললেন, আমার খুব ভয় করছে বউমা, খুব টেনশন হচ্ছে।

    সুরমা অবাক হল। কেন? হঠাৎ কী হল আপনার?

    শুভর পেছনে কারা নাকি মাস্তান লাগিয়ে দিয়েছে।

    শুনে সুরমাও ভয় পেল। কী?

    হ্যাঁ।

    কে বলল আপনাকে?

    আমি নিজ কানে শুনেছি। শুনেই আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করেছে। নিশ্চয় শুভ কোথাও কিছু একটা ঝামেলা করেছে। কিছুদিন ধরে ওকে বেশ চিন্তিত দেখি। সেদিন কারা যেন ওর কাছে এসেছিল।

    সুরমা চিন্তিত গলায় বলল, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। কারা মাস্তান লাগাবে শুভর পেছনে? কী করেছে ও?

    আমি জিজ্ঞেস করলে কোনও কথাই ও আমাকে বলবে না। তুমি ওর সঙ্গে কথা বল বউমা, সব জেনে আমাকে জানাও। আমি তারপর শাহিনের সঙ্গে কথা বলি।

    মাকে সাহস দিয়ে সুরমা বলল, আপনি এত টেনশন করবেন না। আমি শুভর সঙ্গে কথা বলব।

    শুভর সঙ্গে সুরমা কথা বলল, রাতেরবেলায়।

    শুভ বলল, ভেবেছিলাম চুপচাপ থাকব। আস্তেধীরে ব্যাপারটা ঠিক হয়ে আসবে। কিন্তু ওরা আমাকে চুপচাপ থাকতে দিচ্ছে না। আমিও দেখব কোন মাস্তান কী করে আমার।

    সুরমা বলল, সেতুর ভাইরা এই ধরনের কাজ করবে এ আমি ভাবতেই পারছি না।

    কাজটা ওর ছোট ভাই করেছে। সে নিজেও মাস্তান টাইপের।

    এসব তোর আগেই ভাবা উচিত ছিল।

    শুভ অবাক হল। কী বলছ ভাবী? ঠিকই বলছি।

    না ঠিক বলছ না। কার ভাই মাস্তান, কার কত টাকা আছে ওসব ভেবে কেউ কারও সঙ্গে প্রেম করে? ভালবাসার সাথে এসব বিষয়ের কী সম্পর্ক?

    কিন্তু এখন সামলাবি কী করে?

    দেখি।

    মাস্তানরা তোর যদি কোনও ক্ষতি করে?

    কী ক্ষতি করবে?

    আজকাল কত রকমের কাণ্ড হয়।

    কিছু হবে না। কেউ কিছুই করতে পারবে না আমার। সেতু আমার বিয়ে করা বউ। আইন আমার পক্ষে, দরকার হলে আইনের সাহায্য নেব আমি।

    এদিকে বাড়িতেও তো সমস্যা আছে, মা এখনও ব্যাপারটা জানেনই না। তাঁকে ম্যানেজ করাও তো কম ঝামেলার কাজ না।

    শুভ নির্বিকার গলায় বলল, নিজেদের বাড়ি নিয়ে এখন আমি আর ভাবছিই না। ওসব তুমি বুঝবে।

    সুরমা চিন্তিত চোখে শুভর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

    .

    সন্ধের পর কখনও কখনও চুপচাপ শুয়ে থাকতে খুব পছন্দ করে শাহিন। টিভি দেখে না, দিনের পুরনো খবরের কাগজ পড়ে না, এমন কি কিছু ভাবেও না।

    আজও তেমন করে শুয়ে ছিল।

    একসময় সুরমা এসে দাঁড়াল তার সামনে। সেতুর ভাইরা যে মাস্তান লাগিয়ে দিয়েছে শুভর পেছনে সে কথা বলল। শুনে ফ্যালফ্যাল করে স্ত্রীর মুখের দিকে খানিক তাকিয়ে রইল শাহিন। তারপর উত্তেজিত ভঙ্গিতে বিছানায় উঠে বসল। বল কী?

    সুরমা বলল, হ্যাঁ। সব মিলে বেশ বড় রকমের ঝামেলা লেগে গেছে।

    তাইতো দেখছি।

    শুভর বিয়ের কথা যেদিন তোমাকে বললাম, তোমার উচিত ছিল সেদিনই কথাটা মাকে জানিয়ে দেয়া এবং তাকে ম্যানেজ করা।

    আমি ভাবলাম এত তাড়াহুড়োর কী আছে! সময় যাক, আস্তেধীরে মাকে বলব।

    এখন তো দুটো দিক সামলাতে হবে। একদিকে মাস্তান, আরেকদিকে তোমার মা।

    মাকে নিয়ে আমি ভাবছি না। যত রাগীই হোন, শুভ তো তার ছেলে।

    তবু তুমি আগে তাঁকেই ম্যানেজ কর। তারপর পুলিশে জানাও।

    পুলিশে?

    হ্যাঁ। দুটো ম্যাচিউর ছেলেমেয়ে নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেছে, এটা আইনসম্মত। আইন আমাদেরকে সাহায্য করবে।

    কিন্তু টাকার জোরে ওদের সঙ্গে আমরা পারব না।

    সুরমা একটু বিরক্ত হল, এসব চিন্তা পরে করা যাবে। আগে মাকে ম্যানেজ কর। তিনি খুব টেনশনে আছেন।

    সামান্য সময় কী ভাবল শাহিন, তারপর উঠল। চল।

    সুরমা অবাক হল। কোথায়?

    মার রুমে।

    মায়ের রুমে মালাও ছিল। শাহিন কথা শুরু করল মালার দিকে তাকিয়ে। তুই কিছু শুনেছিস?

    মা বলল, কী?

    শুভর ব্যাপারে।

    মালা একটা ঢোক গিলল।

    সুরমা বলল, আমি জানি তুমি শুনেছ। বলে ফেল। এখন আর না বলে উপায় নেই।

    মা সুরমার দিকে তাকালেন। কী হয়েছে?

    সুরমা নয় শাহিন বলল, আমাদের উচিত ছিল আগেই তোমাকে জানানো। কিন্তু তোমার ভয়ে…

    এত ভণিতার দরকার নেই। কী হয়েছে পরিষ্কার করে বল।

    শুভ বিয়ে করেছে।

    কথাটা যেন বুঝতে পারলেন না মা। থতমত খেলেন। কী? কী বললি? শুভ বিয়ে করেছে?

    হ্যাঁ।

    আমার ছেলে লুকিয়ে বিয়ে করেছে? আমার ছেলে?

    মালা বলল, মেয়েটা খুব সুন্দর মা।

    মালাকে প্রচণ্ড ধমক দিলেন মা। চুপ কর, সুন্দর অসুন্দর দিয়ে আমি কী করব? লোকে শুনলে বলবে কী? আমাদের মান-সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিল সে!

    সুরমা বলল, এতে মান-সম্মান নষ্টের কী হল? এরকম বিয়ে আজকাল অনেক হয়।

    খরচোখে সুরমার দিকে তাকালেন মা। তুমি কথা বলবে না। আমার সামনে একদম কথা বলবে না তুমি। অতিরিক্ত লাই দিয়ে ছেলেটির মাথা তুমি নষ্ট করেছ।

    শাহিন বলল, ওর সঙ্গে অযথা রাগ করছ তুমি। ও কি শুভকে বিয়ে করার কথা শিখিয়ে দিয়েছে?

    কিন্তু আমার কাছে এসব কথা তোরা লুকিয়ে গেছিস কেন? বাড়ির সবাই জানে, আমি কেন জানি না?

    মালা বলল, কথা বললেই যেমন করে ওঠ তুমি, কে যাবে তোমার সঙ্গে কথা বলতে!

    মালার কথায় আরও রাগলেন মা, খুঁচিয়ে কথা বলবি না আমার সঙ্গে। আমার মেজাজ খুব খারাপ।

    শাহিন শান্ত গলায় বলল, মেজাজ খারাপ করো না মা। বিয়ে করে শুভ না হয় অন্যায় করেছে কিন্তু এখন যে সে বড় রকমের একটা বিপদে পড়েছে তার কী করবে?

    শুনে মা একেবারে নিভে গেলেন। কীসের বিপদ?

    শুভর পেছনে ওরা মাস্তান লাগিয়ে দিয়েছে। শুভকে মেরে ফেলতে চাইছে।

    শাহিনের কথা শুনে নিজের অজান্তেই যেন উঠে দাঁড়ালেন মা। দিশেহারা গলায় বললেন, সর্বনাশ! কোথায়, আমার ছেলে কোথায়?

    আর কোনও দিকে তাকালেন না মা। পাগলের মতো শুভর রুমে এসে ঢুকলেন।

    চিন্তিত ভঙ্গিতে বিছানায় বসেছিল শুভ। মা এসে অদূরে দাঁড়ালেন। এক পলক মাকে দেখেই চোখ নামিয়ে নিল শুভ।

    অপলক চোখে শুভকে খানিক দেখলেন মা। তারপর আস্তেধীরে হেঁটে শুভর সামনে এসে দাঁড়ালেন। শুভর মাথায় হাত দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে শিশুর ভঙ্গিতে দুহাতে মায়ের কোমর জড়িয়ে ধরল শুভ, মায়ের কোলের কাছে মুখ রেখে হুহু করে কেঁদে ফেলল। আমাকে তুমি মাফ করে দাও মা, আমাকে তুমি মাফ করে দাও।

    কোন ফাঁকে যেন শুভর মাথাটা জড়িয়ে ধরেছেন মা। ছেলের কান্নায় তারও চোখ ফেটে কান্না এল।

    শুভর রুমে মা এবং ছেলে দুজনেই যখন কাঁদছে ঠিক তখুনি লালুর মোটর সাইকেল এসে থামল এই বাড়ির সামনে। লাইটপোস্টের তলায় মোটর সাইকেল দাঁড় করাল লালু। সঙ্গে সঙ্গে দিলু নামল পেছন থেকে, কিন্তু মোটর সাইকেলের স্টার্ট বন্ধ করার পরও লালু নামল না। সিটে বসেই শুভদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে রইল।

    নিজের রুমের জানালা থেকে এই দৃশ্যটি দেখে ফেলল মালা। লোক দুটো যে মাস্তান বুঝে ফেলল। তাদের বাড়ির দিকেই যে তাকিয়ে আছে, বুঝে ফেলল, তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।

    এদিকে নিজেকে একসময় সামলেছে শুভ। শুকনো গলায় মাকে বলছে, মাস্তানদেরকে আমি ভয় পাচ্ছি না মা। ওরা আমার কিছুই করতে পারবে না। আমি ভয়। পাচ্ছিলাম তোমাকে। এমনিতেই তুমি আমাকে দেখতে পার না, তার ওপর এমন একটা কাজ করে ফেললাম।

    চোখের জল সামলে মা বললেন, তোকে আমি দেখতে পারি না, একথা কে বলেছে? আমার মেজাজটা একটু খিটখিটে, এজন্য তুই ভাবিস তোকে আমি কম আদর করি। আসলে ছোট সন্তানের জন্য মায়ের টান থাকে সবচাইতে বেশি, আর বাড়ির সবাই যে কথা জেনে যাবে আমি কেন সে কথা জানব না!

    এ সময় হাঁপাতে হাঁপাতে মালা ঢুকল। মা, শুভ, আমাদের বাড়ির সামনে মোটর সাইকেল নিয়ে দুজন মাস্তান দাঁড়িয়ে আছে।

    শুনে চমকে উঠলেন মা। সর্বনাশ!

    শুভ উঠে দাঁড়ায়, ওরা যে মাস্তান তুই বুঝলি কী করে? চেহারা দেখে বোঝা যায়। আমাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে! চল তো দেখি।

    সঙ্গে সঙ্গে শুভর হাত ধরলেন মা। না, তুই যেতে পারবি না। আমি তোকে ওদের সামনে যেতে দেব না।

    শুভ অবাক হল। তোমরা এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি একটু দেখি কোন মাস্তানরা আমার পেছনে লেগেছে।

    না না দেখতে হবে না। যদি দেখতে হয় মালার রুমের জানালা থেকে দেখ।

    কিন্তু শুভ মালার রুমে আসার আগেই লালু দিলু চলে গেছে।

    রাস্তায় কাউকে না দেখে মালার দিকে তাকাল শুভ। বাইরে কোথায় কোন মাস্তান দেখলি আপা? রাস্তায় তো কেউ নেই।

    মালা তার জানালা দিয়ে উঁকি দিল। ছিল। রাস্তার উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে ছিল। এখন নেই।

    মা বললেন, মালাকে বোধহয় দেখে ফেলেছিল। এজন্য চলে গেছে।

    শুভ হাসল। তোমরা সবাই এত বেশি নার্ভাস হয়েছ, কী বলব! আমি একটু বেরুই। চারপাশটা ঘুরে দেখে আসি।

    না, একদম না। আজ রাতে বাড়ি থেকে তুই বেরুতেই পারবি না। চল শাহিনের সঙ্গে কথা বলি। ওর সঙ্গে পরামর্শ করে, যা করার করব।

    শুভর সঙ্গে মা কোনও রাগারাগি করেনি দেখে সুরমা এবং শাহিন দুজনেই বেশ উৎফুল্ল। কিন্তু বাড়ির সামনে মাস্তান এসেছিল শুনে দুজনেই চিন্তিত হল।

    মা বললেন, আমার খুব নার্ভাস লাগছে।

    শাহিন বলল, তা তো লাগারই কথা। কীভাবে ব্যাপারটা সামাল দেব বুঝতে পারছি না।

    সুরমা বলল, তুমি কি সেতুর ভাইদের সঙ্গে কথা বলবে?

    মনে হয় না এই ধরনের পরিস্থিতিতে ওরা আমার সঙ্গে কথা বলবে। অযথা অপমান। হওয়ার দরকার আছে?

    মা বললেন, তাহলে কী করবি?

    ওয়েট করতে চাই। যতদিন যাবে ব্যাপারটা তত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

    এদিকে মাস্তানরা যদি শুভর কোনও ক্ষতি করে?

    ভাবছি থানায় একটা জিডি করে রাখব।

    .

    মালা তার বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে স্বামীকে চিঠি লিখছে, সামনে সেতুর সেই ছবিটা।

    ছবিটার দিকে একবার তাকাচ্ছে তারপর আবার লিখছে।

    এসময় শুভ এসে দাঁড়াল এই রুমের সামনে। আপা, আসব?

    মালা উঠে বসল। আয়।

    শুভ ভেতরে ঢুকল। বিছানায় সেতুর ছবি দেখে অবাক হল। এই ছবি দিয়ে কী করছিস?

    মালা হাসল। ছবির দিকে তাকিয়ে সেতুর বর্ণনা লিখছিলাম।

    বুঝতে পারলাম না। কীসের বর্ণনা?

    তোর দুলাভাইকে চিঠি লিখছি। তোর আর সেতুর পুরো ঘটনা লিখে দিয়েছি। সেতু দেখতে কেমন চিঠিতে ওই বর্ণনাই লিখেছি।

    আমার এদিকে জান বেরুচ্ছে আর তুই…

    ভাইকে সান্ত্বনা দিল মালা। সব ঠিক হয়ে যাবে। তুই এত ভেঙে পড়িস না তো!

    একটু থেমে অনুরোধের গলায় মালা বলল, শুভ, সেতুর এই ছবিটা আমি নিই?

    কেন?

    তোর দুলাভাইকে পাঠাব।

    শুভ হাসল। বর্ণনা তো লিখেই দিয়েছিস, ছবি পাঠাবার আর দরকার কী?

    বর্ণনা পড়ে হয়ত বুঝতে পারবে না আমার ছোটভাইর বউটি কী পরিমাণ সুন্দর।

    তারপর অনুনয়ের গলায় বলল, ছবিটা নেব?

    নে। ওর আরও ছবি আমার কাছে আছে।

    মালা একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেল। খুব খুশি হলাম।

    শুভ কথা বলল না। দরজার দিকে পা বাড়াল।

    মালা ডাকল। শোন।

    শুভ ঘুরে দাঁড়াল। কী?

    আমার সামনে এসে একটু বস।

    শুভ নিঃশব্দে মালার সামনে এসে বসল।

    মন খারাপ করা সন্তানকে যেভাবে মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করেন মা ঠিক সেইভাবে শুভর মাথায় পিঠে হাত বুলাতে লাগল মালা, মায়াবি গলায় বলল, তুই আমার চে’ খুব বেশি ছোট না। তবু ছেলেবেলায় মা তোকে বকলে, তুই যখন খুব মন খারাপ করতি, আমি তোকে কোলে নিতাম। তুই বেশ ভারি ছিলি। তোকে কোলে নিয়ে বেশি দূর হাঁটতে পারতাম না আমি। তবু নিতাম। আমি কোলে নিলেই মনটা তোর ভাল হয়ে যেত। আজ সেসব দিনের মতো তোকে কোলে নিতে ইচ্ছে করছে। আমি কোলে নিলে যদি তোর মনটা ভাল হয়।

    মালার কথা শুনে চোখ ছলছল করে উঠল শুভর। এভাবে বলিস না আপা, এভাবে বলিস না। আমার খুব কান্না পাচ্ছে।

    ততোক্ষণে সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলেছে শুভ। চোখ মুছতে মুছতে তারপর দ্রুত বেরিয়ে গেল সে।

    ভাইর জন্য অনেকক্ষণ পর্যন্ত মনটা খারাপ হয়ে রইল মালার।

    .

    লালু চায়নিজ রেস্টুরেন্টে ঢুকেছে এবং একটা টেবিলে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে দেখে দিলু বলল, এখানে এলি কেন?

    লালু নির্বিকার গলায় বলল, গান গাইতে!

    তারপর সত্যি সত্যি গান গাইতে লাগল। চাল সাইয়া সাইয়া সাইয়া সাইয়া, চাল সাইয়া সাইয়া সাইয়া…

    লালুর মুখোমুখি বসে দিলু বলল, তোর কায়দা কানুন আমি বুঝতেই পারি না।

    গরুদের পক্ষে সব কিছু বোঝা সম্ভব না।

    তারপরই ছোট্ট একখানা ধমক দিল। এই ব্যাটা রেস্টুরেন্টে লোকে কী করতে আসে?

    দিলু সঙ্গে সঙ্গে বলল, খেতে।

    আমিও সেই কাজেই আসছি। এখন দাপটের একখানা খাওয়া দেব। আমি রসিয়ে রসিয়ে খাব আর তুই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবি।

    আবার সেই গান ধরল লালু। চাল সাইয়া সাইয়া…

    একজন ওয়েটার এসে দাঁড়াল এই টেবিলের সামনে। অর্ডার দেবেন স্যার?

    লালু নির্বিকার গলায় বলল, না।

    জ্বি?

    কোনও অর্ডার দেব না। তোমার যা মনে হয় নিয়ে আস।

    ওয়েটার হাসল, সত্যি স্যার?

    একদম সত্যি। যাও।

    লোকটি সত্যি সত্যি চলে গেল।

    দিলু গাল ফুলিয়ে বলল, তুই কিন্তু আমাকে খুব ইনসাল্ট করেছিস।

    লালু অবাক হল। তাই নাকি?

    হ্যাঁ।

    তোর কথার ধরনে করেছি।

    কী বলেছি আমি?

    এত ভাল একটা রেস্টুরেন্টে খেতে এলাম, ঢুকে তুই জিজ্ঞেস করলি, এখানে এলি কেন? তোর সেই কথায় আমি মাইন্ড করেছি। এজন্যই গরু বললাম। ঠিক আছে এখন আর কোনও মাইন্ড নাই। ঠিক আছে?

    দিলু খুশি হল। ঠিক আছে।

    শোন, স্বপন সাহেব খুবই ভাল মোয়াক্কেল। কাজটা করে ফেলতে পারলে মালের কোনও অভাব হবে না।

    তাহলে করছিস না কেন? এইসব মার্ডার তো আমাদের জন্য তেলপানি। বাড়ি চিনি, ছেমড়াটারেও চিনি। মার্ডারে অসুবিধা কী?

    কোনও অসুবিধা নাই।

    তবে?

    কাজটা যখন হাতে নিয়েছি, করতে তো হবেই। করলে এক সঙ্গে মালও অনেক, কিন্তু কাজটা আমি ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে করতে চাই। কাজ যত ঝুলবে খুচরা ইনকাম ততো বাড়বে। দুই চারদিন পর পর স্বপন সাহেবের কাছে যাব, পাঁচ দশ হাজার নিয়ে আসব। মূল কনটাক্টের সঙ্গে এই টাকার কোনও সম্বন্ধ নাই। পলিসিটা বুঝেছিস?

    দিলু বিগলিত গলায় বলল, একদম ক্লিয়ার। খুবই ভাল পলিসি।

    সঙ্গে সঙ্গে লালু আবার গান ধরল। চাল সাইয়া সাইয়া সাইয়া…।

    .

    তুই যাসনি?

    নাহিদ গম্ভীর গলায় বলল, তোর এই ধরনের পরিস্থিতি জেনে কী করে যাই।

    শুভ বেশ বিরক্ত হল। আমার মা ভাইবোন ভাবী কারও সঙ্গে তোর কোনও ব্যবধান নেই। তোরা সবাই একই রকমের ভীতু।

    কোনও কোনও পরিস্থিতিতে মানুষ ভীতু হতে বাধ্য হয়। দুচারজন মাস্তান তো আমিও চিনি, তোর বন্ধু বান্ধবের সার্কেল খুব ছোট নয়। ইচ্ছে করলেই সেতুর ভাইদের ভাড়াটিয়া মাস্তানদের দেখে নিতে পারি আমরা। কিন্তু এখন ওসব করা ঠিক হবে না।

    কেন ঠিক হবে না?

    সেতু যদি ঠিক থাকে, দুদিন আগে পরে ওর ভাইরা ব্যাপারটা মেনে নিতে বাধ্য হবেন। তখন এইসব অপকর্মের জন্য লজ্জা পেতে হবে।

    লজ্জা আমি একা পাব কেন? ওরাও তো পাবে! আমার সবচে’ বড় ভয় ছিল আমার মা, মা সব মেনে নিয়েছেন। এখন আমার কোনও ভয় নেই। তার চে’ এক কাজ করি…

    কী?

    সরাসরি সেতুদের বাড়ি চলে যাই। সেতুকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি।

    সেতু যদি এভাবে না আসে?

    শুভ একটু থতমত খেল। তোর মনে হয় আসবে না?

    নাহিদ চিন্তিত গলায় বলল, নাও আসতে পারে। আমার ধারণা ইচ্ছে করে সময় নিচ্ছে সেতু। ভাইদের রাগ কমে এলে সবাইকে ম্যানেজ করে তোর সংসারে আসবে সে। বেশির ভাগ মেয়ে কিন্তু তাই করে।

    শুভ অস্থির গলায় বলল, তাহলে আমাকে তুই কী করতে বলিস?

    তুই একটা কাজ কর, আমার সঙ্গে আমাদের গ্রামের বাড়িতে চল।

    কী বললি?

    আগে কথাটা শোন। যতদিন এদিককার পরিস্থিতি ঠিক না হয় ততদিন আমাদের ওখানে থাকলি। ঠিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এলি?

    শুভ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, যেতে পারি কিন্তু তোদের বাড়ির কাউকে এসব কথা বলতে পারবি না।

    নাহিদ হাসল। বলব না।

    কিন্তু যাওয়ার আগে একটা কাজ করে যেতে চাই।

    কী?

    গভীর রাতে সেতুদের বাড়ির সামনে গিয়ে বিশাল করে ওদের দেয়ালে লিখে দিয়ে যাই, শুভ + সেতু।

    নাহিদ হাসল। তুই একেবারে পাগল হয়ে গেছিস।

    .

    সব শুনে শাহিন বলল, আমি মনে করি এটাই সবচে ভাল সিদ্ধান্ত।

    রাতেরবেলা শুভদের ড্রয়িংরুমে একত্রিত হয়েছে সবাই। মা শাহিন সুরমা মালা শুভ . এবং নাহিদ। সেই যে এসেছে নাহিদ, এখনও ফিরে যায়নি।

    কথা শুরু করেছিল নাহিদই। তার কথার রেশ ধরেই কথা বলল শাহিন। তারপর মায়ের দিকে তাকাল। তুমি কী বল মা?

    মা গম্ভীর গলায় বললেন, তোরা যা ভাল বুঝিস তাই কর।

    সুরমা বলল, শুভ চলেই যাক।

    মালা চিন্তিত গলায় বলল, এদিকে সেতুর যদি কোনও অসুবিধা হয়?

    নাহিদ বলল, তা মনে হয় হবে না। শুভকে বাড়িতে রেখে আমি মাঝে মাঝে এসে খবর নেব।

    শুভ কোনও কথা বলছিল না। মুখটা পাথরের মতো হয়ে আছে তার।

    তারপর থেকে একটা রাত গেছে, একটা প্রায় পুরোদিন, মুখের ভাবটা বদলায়নি শুভর। ট্রেনে সারাক্ষণই চুপচাপ ছিল। নাহিদ টুকটাক কথা বলার চেষ্টা করেছে, সেসব কথার হু হ্যাঁ না ছাড়া তেমন কোনও জবাব দেয়নি।

    নাহিদদের বাড়িতে পৌঁছেও চুপচাপই আছে শুভ।

    যে ঘরে থাকতে দেয়া হয়েছে তাকে সেই ঘরে খাটের এককোণে উদাস হয়ে বসে আছে এখন। পাশে ব্যাগটা। নাহিদ গেছে তার মা বাবার সঙ্গে দেখা করতে।

    এসময় বর্ষা এসে দাঁড়াল দরজার সামনে।

    বর্ষাকে দেখে গত চব্বিশ ঘণ্টায় এই প্রথম পুরো একটা বাক্য বলল শুভ। কেমন আছ, বর্ষা?

    বর্ষা কথা বলল না। অপলক চোখে শুভর দিকে তাকিয়ে রইল।

    শুভ বলল, তুমি আমাকে চিনতে পেরেছ?

    বর্ষা কথা বলল না, মাথা দোলাল।

    এবার একটু উফুল্ল হল শুভ। কী মনে করে বলল, তোমার কথা ভেবে তোমাদের এখানে চলে এলাম।

    বর্ষা উদাস গলায় বলল, কেন?

    শুভ একটু থতমত খেল। না মানে নাহিদ, আমি আমরা সবাই থাকলে তোমার মনটা হয়তো ভাল থাকবে।

    তারপর একটু থেমে বলল, অনেকদিন থাকব তোমাদের এখানে।

    একথায় মুখটা কেমন উজ্জ্বল হল বর্ষার। সত্যি?

    সত্যি।

    ধীর, শান্ত ভঙ্গিতে হেঁটে বর্ষা তারপর শুভর সামনে এসে দাঁড়াল। সত্যি আপনি অনেকদিন থাকবেন আমাদের এখানে?

    শুভ হাসল। তোমার সঙ্গে আমি মিথ্যে বলছি না। সত্যি অনেকদিন থাকব তোমাদের এখানে।

    সঙ্গে সঙ্গে ডানহাতটা শুভর দিকে বাড়িয়ে দিল বর্ষা। শুভর চোখের দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য রকমের সরল গলায় বলল, আমাকে ছুঁয়ে বলুন।

    শুভ একটু থতমত খেল। একটু দ্বিধাও হল তার।

    বর্ষার হাতটা ধরল শুভ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }