Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প219 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৮. বারবাড়ির দিক থেকে দ্রুত হেঁটে

    বারবাড়ির দিক থেকে দ্রুত হেঁটে আসছিল পারু।

    উঠোনের মাঝামাঝি আসতেই নিজের ঘরের বারান্দা থেকে বর্ষা তাকে ডাকল। পারু।

    পারু থমকে দাঁড়াল।

    বারান্দা থেকে নেমে পারুর সামনে এসে দাঁড়াল বর্ষা। তোকে না বলেছিলাম ফুল তুলে আনতে?

    পারু উচ্ছল গলায় বলল, এনেছি তো!

    কোথায়?

    তোমার ঘরেই রেখে দিয়েছি।

    কই, আমি যে দেখলাম না!

    পারু হাসল। তুমি হয়তো খেয়াল করনি।

    কখন তুলেছিস?

    সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই।

    ঠিক আছে, আমি এখানে দাঁড়াই, ফুলগুলো তুই নিয়ে আয়।

    আচ্ছা।

    পারু ছুটে চলে গেল।

    কেন কে জানে, আকাশের দিকে তাকিয়ে বর্ষা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

    আশ্চর্য ব্যাপার, বর্ষার এই দীর্ঘশ্বাসটাই যেন মিনুর বুকে এসে লাগল। তিনি একটু কেঁপে উঠলেন।

    ব্যাপারটা খেয়াল করলেন হাদি সাহেব। উতলা গলায় বললেন, কী হল?

    মিনু বললেন, হঠাৎ বুকটা কেমন কেঁপে উঠল।

    কেন?

    কী জানি!

    নাহিদ বলল, শরীর খারাপ লাগছে না তো?

    না।

    এমনি এমনিও অনেক সময় বুক কাঁপে মানুষের।

    তারপর বাবার দিকে তাকাল নাহিদ। কী যেন বলছিলে বাবা?

    হাদি সাহেব বললেন, শুভর কথা। হঠাৎ শুভ এল আমাদের বাড়িতে?

    নাহিদ বলল, আসতে চায়নি, আমি নিয়ে এসেছি।

    মিনু মুগ্ধ গলায় বললেন, ভাল করেছিস। শুভ খুব ভাল ছেলে। দেখলেই কেমন যেন মায়া লাগে। মুখটা এত মায়াবী!

    হাদি সাহেব বললেন, ছেলেটিকে আমার ভাল লেগেছে বিনয় এবং ভদ্রতার জন্য। হোটেলে যেদিন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এল সেদিনই ব্যাপারগুলো আমি খেয়াল করলাম। আজকালকার এই বয়সি ছেলেমেয়েদের এত বিনয়, এত ভদ্রতা দেখা যায় না। আজকালকার ছেলেমেয়েগুলো কেমন যেন রুক্ষ। বিনয় ভদ্রতার ধার ধারে না।

    তারপর একটু থেমে বললেন, শুভ কি কয়েকদিন থাকবে আমাদের এখানে?

    নাহিদ বলল, হ্যাঁ বাবা, বেশ কিছুদিন থাকবে। আমরা দুজনেই রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছি। রেজাল্ট বেরুবার পর চাকরি বাকরির চেষ্টা করব। এরকম ফ্রি সময় তো আর পাওয়া যাবে না, এজন্য শুভকে আমি বললাম, চল, মাসখানেক আমাদের বাড়িতে থেকে আয়।

    নাহিদের কথা শুনে মিনু বললেন, মাসখানেক পর যখন চলে যাবে তখন আমার মনটা খুব খারাপ হবে। বাদল চলে যাওয়ার পর বাড়িটা কেমন ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। কাল থেকে মনে হচ্ছে, মানে শুভ আছে, মনে হয় বাদলই আছে। বাড়িটা আবার ভরে উঠেছে।

    একথা শুনে নাহিদ যেন একটু বিরক্ত হল। সব সময় এভাবে ভেব না মা। তোমার কথা শুনে মনে হয় বাদলই তোমার সব ছিল। আমি তোমার কেউ নই, বর্ষা তোমার কেউ নয়।

    মিনু হাহাকারের গলায় বললেন, না বাবা না। এভাবে বলিস না। মা বাবার কাছে প্রতিটি সন্তানই পাঁজরের একেকটি হাড়। একজন চলে যায় একটি হাড় ভেঙে যায়। সেই ভাঙা হাড়ের কষ্ট সারাজীবন থাকে।

    কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন মিনু। আঁচলে চেপে চেপে চোখ মুছতে লাগলেন।

    তখন হঠাই যেন বর্ষার কথা মনে পড়ল হাদি সাহেবের। তিনি একটু উদ্বিগ্ন হলেন। আমরা তিনজন এই ঘরে, বর্ষা কোথায়?

    আঁচলে ফুল নিয়ে বর্ষা তখন বাদলের কবরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। খানিক দাঁড়িয়ে, কবরের দিকে তাকিয়ে আঁচলে হাত দিল। মুঠো মুঠো ফুল তুলে কবরে ছড়াতে ছড়াতে ফিসফিসে গলায় বাদলকে ডাকল। বাদল, বাদল! তুই কি ঘুমিয়ে আছিস? এত বেলা পর্যন্ত কেউ ঘুমায়? এই যে আমি ফুল নিয়ে এসেছি তুই দেখতে পাচ্ছিস?

    কথা বলতে বলতে জলে চোখ ভরে এল বর্ষার। ধরা গলায় সে বাদলের সঙ্গে কথা বলতে লাগল। তুই কোথায় চলে গেলি? আমার কথা তোর মনে পড়ে না? আমাকে ছেড়ে তুই কেমন করে চলে গেলি? তোর জন্য আমি খেতে পারি না, ঘুমোতে পারি না। আমার কিচ্ছু ভাল্লাগে না। আমি কী করব তুই বলে দে।

    বাদলের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আকুল হয়ে কাঁদতে লাগল বর্ষা।

    দূর থেকে এই দৃশ্যটা দেখতে পেল শুভ।

    হাঁটতে হাঁটতে মাঠের দিকটায় এসেছে সে। মাঠের এক কোণে বাদলের কবর। এখনও পাকা করা হয়নি। বাঁশের বেড়া দেয়া। সেই বেড়া দুহাতে ধরে কাঁদছে বর্ষা।

    দৃশ্যটা দেখে বুকের ভেতর হু হু করে উঠল শুভর। নিজের অজান্তেই যেন বর্ষার পাশে এসে দাঁড়াল সে। বর্ষার কাঁধে হাত দিল।

    চমকে শুভর দিকে তাকাল বর্ষা।

    শুভ বলল, কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে হয় না। কাদলে যে মারা যায় তার আত্মা খুব কষ্ট পায়। তুমি চাও মৃত্যুর পরও কষ্ট পাক তোমার ভাই?

    কথাটা শুনে বর্ষা একেবারে দিশেহারা হয়ে গেল। না না, আমি চাই না। আমি কিছুতেই চাই না বাদল আর কোনও রকমের কোনও কষ্ট পাক। অসুখে অসুখে অনেক কষ্ট সে পেয়েছে। অনেক কষ্ট। আমি চাই আল্লাহ ওকে সুখে রাখুন, ভাল রাখুন। কোনও কষ্ট যেন ওকে আর কখনও পেতে না হয়।

    তাহলে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে আর কখনও কাঁদবে না। দোয়া করবে। আল্লাহকে বলবে ওর আত্মাকে তিনি যেন সুখে রাখেন।

    শুভ একটু থামল। তারপর বলল, বাড়ি চল।

    বর্ষা কোনও কথা বলল না। ওড়নায় চোখ মুছে কবরের সামনে থেকে সরে এল।

    .

    শুভর বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে আছে নাহিদ।

    শুভর জন্য অপেক্ষা করছে।

    একা একা কোথায় চলে গেল সে!

    শুভ এল মিনিট পাঁচেকের মধ্যে। নাহিদকে এই ঘরে দেখে অবাক হল। তুই এই ঘরে বসে আছিস?

    নাহিদ উঠে বসল। বসে না, শুয়ে আছি।

    শুভ হাসল। বুঝলাম কিন্তু কেন?

    তোর জন্য।

    আচ্ছা!

    কোথায় গিয়েছিলি?

    বাদলের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল বর্ষা। ওকে নানা রকমের সান্ত্বনা দিলাম। তারপর তোদের গ্রামটা একটু ঘুরে দেখলাম।

    কেমন লাগল?

    নাহিদের পাশে বসল শুভ। আমার কাছে সব গ্রামই একরকম লাগে। স্নিগ্ধ সবুজ মায়াবি। একা একা ঘুরে বেড়ালে মন অন্যরকম হয়ে যায়।

    তোর হয়েছে?

    হ্যাঁ। তবে অন্য একটা কথাও মনে হয়েছে।

    কী বলতো!

    তোর সঙ্গে আমার এতদিনের বন্ধুত্ব কিন্তু আমি তোদের অর্থনৈতিক অবস্থার কিছুই জানি না।

    তাই নাকি?

    হ্যাঁ। খালুজান কী করেন রে?

    নাহিদ হাসল।

    হাসিটা খেয়াল করল না শুভ। বলল, এখানে আসার পর থেকে দেখছি সারাক্ষণই বাড়িতে বসে আছেন। কখনও কখনও কাছারি ঘরে গিয়ে বসছেন, কৃষক ধরনের কিছু লোকজন আসছে। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলছেন।

    এটাই তার পেশা।

    মুখ ঘুরিয়ে নাহিদের দিকে তাকাল শুভ। মানে?

    আমাদের গ্রামের চারপাশে যত ধানের জমি আছে সেগুলোর বেশির ভাগই আমাদের। যারা বাবার কাছে আসে তারা ওইসব জমি চাষ করে।

    তার মানে বিশাল অবস্থা তোদের! তোরা হচ্ছিস এই এলাকার জমিদার!

    ন তেমন বিশাল আর কই!

    বিনয়ের দরকার নেই।

    বিনয় করছি না। আমার বাবা হচ্ছেন অত্যন্ত নরম হৃদয়ের, দয়ালু ধরনের মানুষ। একটু কঠিন হলে অবস্থা আরও ভাল থাকত আমাদের।

    বুঝেছি।

    কী বুঝলি বল তো?

    কৃষকরা এসে কেঁদেকেটে পড়লে অনেক কিছুই মাফ করে দেন তিনি।

    রাইট।

    এই ধরনের মানুষদের আমার খুব ভাল লাগে। অবশ্য তোরা সবাই বেশ নরম ধরনের। খালাম্মা খালুজান, তুই বর্ষা।

    নাহিদ চুপ করে রইল।

    যেন হঠাৎ মনে পড়েছে এমন সুরে শুভ বলল, আচ্ছা শোন, এই পারু মেয়েটা কে রে? দেখে তো বাড়ির কাজের মেয়ে মনে হয় না!

    আলতো করে চশমা খুলল নাহিদ। কাজের মেয়ে সে নয়।

    তাহলে?

    আমাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। বাড়ির অবস্থা ভাল না, এজন্য আমাদের এখানে থাকে। বাবা ওর জন্য পাত্র দেখছেন। আমরাই বিয়ে দিয়ে দেব।

    একথার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে কেমন বদলে ফেলল শুভ। আর এই যে তোর হতভাগা বন্ধুটা বিয়ে করে ফেরার হয়ে আছে তার কী করবি?

    নাহিদ হাসল। কী করতে হবে?

    ণা না হাসি নয়, হাসি নয়। ওপরে ওপরে যত হাসি আনন্দেই থাকি, মনটা কিন্তু আমার ভাল না বন্ধু।

    তা জানি।

    পুরোটা মনে হয় জানো না। আমার কিন্তু সারাক্ষণই সেতুর কথা মনে হয়।

    একটু উদাস হল শুভ। জানালার দিকে তাকিয়ে চিন্তিত গলায় বলল, সেতু কী করছে, কেমন আছে কিছুই জানি না। ও জানে না আমার কথা। আমি যে তোদের এখানে চলে এসেছি…।

    শুভর কাঁধে হাত দিল নাহিদ। এত অস্থির হওয়ার কিছু নেই। কয়েকদিন পর আমি ঢাকায় যাব, যেমন করে পারি সব খবর নিয়ে আসব।

    কীভাবে নিবি?

    দেখা যাক।

    একটা সোর্স ছিল দোলন, কিন্তু ওর তো সেতুদের বাড়িতে যাওয়া নিষেধ!

    এতকিছু তুই এখন ভাবিস না। যতদিন এখানে থাকবি, আনন্দে থাক। সেতু খুবই সিরিয়াস টাইপের মেয়ে। বিয়ে যখন একবার হয়ে গেছে, দুদিন আগে পরে সব ঠিক হবেই।

    শুভ আর কথা বলল না। আনমনা হয়ে রইল।

    .

    মিনু বললেন, পারুর বিয়ের ব্যাপারে আর চেষ্টা করছ না?

    হাদি সাহেব মাত্র শুতে যাবেন, স্ত্রীর কথা শুনে থমকালেন। কখন করব? বাদলকে নিয়ে এতবড় একটা ধকল গেল, ছেলেটা মারা যাওয়ার পর এখন যাচ্ছে বর্ষাকে নিয়ে। ছেলেমেয়ে নিয়ে টেনশান থাকলে অন্যকোনও দিকে মন দেয়া যায়?

    স্বামীর পাশে বসলেন মিনু। বর্ষা এখন একটু স্বাভাবিক হয়েছে। এখন চেষ্টা করো।

    পিঠের তলায় দুটো বালিশ দিয়ে আধশোয়া হলেন হাদি সাহেব। কোথায় স্বাভাবিক হয়েছে? আমি তো ওর কোনও চেঞ্জ দেখছি না! বাদলের কবরের সামনে যাচ্ছে, কাঁদছে, চুপচাপ বসে থাকছে।

    হয়তো আরও কিছুদিন এরকম থাকবে, তারপর ঠিক হয়ে যাবে।

    হাদি সাহেব কীরকম আনমনা হলেন। বর্ষাও দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেল!

    চোখ তুলে স্বামীর দিকে তাকালেন মিনু। হঠাৎ একথা বললে যে!

    মনে হল।

    তুমি কি ওর বিয়ের কথা ভাবছ?

    ভাবা উচিত না?

    আগে পারুর বিয়েটা দাও, তারপর দেখা যাবে। বিএ পাসটা করুক বর্ষা।

    হাদি সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তা কী আর হবে!

    কেন হবে না?

    মনে যে রকম আঘাত পেয়েছে, এই আঘাত কাটিয়ে পড়াশুনো চালানো খুব কঠিন। তারচে’ বিয়ে দিয়ে দিলে অবস্থাটা চেঞ্জ হতে পারে।

    না, এখন এসব ভেব না।

    কেন ভাবব না?

    মাত্র কিছুদিন হল যে মেয়ের যমজ ভাই মারা গেছে সেই মেয়ের এখন বিয়ে হতে পারে না।

    তা আমিও বুঝি। বর্ষার কথা ভেবেই বিয়ের চিন্তাটা আমার মাথায় এসেছিল।

    কথা বলতে বলতে গলা ধরে এল হাদি সাহেবের। চোখ ভরে এল জলে। স্ত্রীর কাছ থেকে চোখের জল লুকোবার জন্য অন্যদিকে মুখ ফেরালেন তিনি। মেয়েটির জন্য আমি খুব কষ্ট পাই। আমি চাই ও আবার আগের মতো হোক। হাসি আনন্দে ভরিয়ে রাখুক বাড়ি। এটা চাক আমার কাছে, ওটা চাক। গলা ছেড়ে গান করুক, ছুটোছুটি করুক।

    মায়াবি হাতে স্বামীর একটা কাঁধ ধরলেন মিনু। তুমি মন খারাপ করো না। আমি বলছি, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি ওকে ভাল করে বোঝাও। তুমি যা যা চাও জোর দিয়ে বল ওকে। আমার মনে হয় তাতে বেশ কাজ হবে।

    স্ত্রীর কথা মনে রেখেই বুঝি পরদিন সকালে মেয়ের ঘরে এসে ঢুকলেন হাদি সাহেব।

    বর্ষার ঘুম ভেঙেছে অনেক সকালে।

    ঘুম ভাঙার পর মাথার কাছের জানালা খুলে দিয়েছে সে। বিছানায় বসে এখন ফাঁকা শূন্য দৃষ্টিতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। বাবার পায়ের শব্দে চোখ তুলে তাকাল।

    হাদি সাহেব বললেন, নাস্তা খেয়েছ মা?

    বর্ষা শান্ত গলায় বলল, খেয়েছি।

    কথাটা শুনে হাদি সাহেব আনমনা হয়ে গেলেন। পাশে বসে অপলক চোখে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    বর্ষা বলল, কী হয়েছে বাবা? এমন করে তাকিয়ে আছ কেন?

    তোমাকে দেখছি।

    আমাকে আবার দেখার কী হল?

    আগে নাস্তা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে তুমিও সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জিজ্ঞেস করতে, আমি নাস্তা খেয়েছি কি না!

    বর্ষা কথা বলল না।

    মেয়ের মাথায় হাত দিলেন হাদি সাহেব। যে চলে গেছে শুধু তার জন্যই তোমার মায়া? আমাদের জন্য মায়া নেই?

    দুহাতে বাবার হাতটা ধরল বর্ষা। এমন করে বলো না বাবা, এমন করে বলো না। আমার কষ্টটা আরও বাড়ে। আর এই যে তুমি আমাকে তুমি তুমি করে বলছ, শুনে আমি যে কষ্ট পাচ্ছি তুমি তা বুঝতে পার?

    পারি।

    তোমার মুখে তুমি শুনলে নিজেকে খুব দূরের মনে হয়।

    হাদি সাহেব ধরা গলায় বললেন, মৃত্যু আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে বাদলকে, আর বেঁচে থেকে তুই নিজে নিজে অনেক দূরে চলে গেছিস।

    বর্ষা কাতর গলায় বলল, আমি কী করব বাবা? আমার কিছু ভাল লাগে না।

    লাগতে হবে। বাদলের শোক তোকে ভুলতে হবে। তুই আগের মতো হয়ে যাবি। হাসবি, আনন্দ করবি। লেখাপড়া করবি, গান করবি। এভাবে জীবন চলে না মা। প্রত্যেক মানুষকেই একদিন মরতে হবে। একথা জেনেও আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকাই মানুষের ধর্ম।

    আমিও চেষ্টা করি বাবা। ভেতরে ভেতরে খুব চেষ্টা করি আগের মতো হতে। পারি না, কিছুতেই পারি না।

    চেষ্টা করলে হয় না এমন কাজ মানুষের অভিধানে নেই। তুই আরও চেষ্টা কর।

    বর্ষা তারপর হঠাৎ করেই কেমন শিশু হয়ে গেল। আধো আধো গলায় বলল, বাবা, তুমি আমাকে একটু আদর কর।

    আয় মা আয়, আমার কাছে আয়।

    বলে দুহাতে মেয়ের মাথাটা বুকে চেপে ধরলেন হাদি সাহেব। কোত্থেকে যে বুকফাটা এক কান্না এল তার। চোখের জলে গাল মুখ ভেসে গেল যেন নিজের অজান্তে।

    .

    কাছারি ঘরের বাইরের দিককার দরজা দিয়ে খুবই উচ্ছল ভঙ্গিতে বেরিয়ে এল শুভ। বর্ষা ছিল ওদিকটাতেই। এখানে বেশ বড়সড় একটা বাগান। বাগান ছাড়িয়ে মাঠ। গাছপালা, ফুল আর সবুজ ঘাসে মনোরম হয়ে আছে জায়গাটা। এই পরিবেশে বর্ষাকে খুব অন্যরকম লাগল। বোধহয় এজন্যই শুভ তাকে ডাকল। এই, শোন।

    বর্ষা অবাক চোখে শুভর দিকে তাকাল। আমাকে বলছেন?

    শুভ সিরিয়াস মুখ করল। না তোমাকে না।

    তাহলে?

    হাওয়াকে বলেছি।

    জ্বি?

    হাওয়া মাঠ ফুলের বাগান, এদেরকে বলছি।

    সঙ্গে সঙ্গে মুখ গম্ভীর হল বর্ষার। ঠাট্টা আমার ভাল লাগে না। কী জন্য ডাকলেন, বলুন।

    বর্ষার মুখভঙ্গি এবং কথা বলার ধরনে শুভ একেবারে বিব্রত হয়ে গেল। কোনও কারণ নেই। তুমি সবসময় মনমরা হয়ে আছ, ভাবলাম তোমার সঙ্গে একটু মজা করি, তোমার মনটা ভাল করি। তুমি বিরক্ত হবে এটা আমি বুঝতে পারিনি। তাহলে, তাহলে এভাবে তোমাকে ডাকতাম না। সরি।

    শুভ মন খারাপ করে ভেতর বাড়ির দিকে চলে এল।

    ঘরে ঢুকে নিজের বিছানায় কিছুক্ষণ বসে রইল তারপর খাটের তলা থেকে ব্যাগটা বের করে জামাকাপড় গুছিয়ে ব্যাগে ভরতে লাগল। কয়েক মিনিটের মধ্যে নাহিদ এসে ঢুকল এই ঘরে। শুভকে জামাকাপড় গুছাতে দেখে অবাক হল। কী ব্যাপার? হঠাৎ জামাকাপড় গোছাচ্ছিস?

    নাহিদের দিকে তাকাল না শুভ। গম্ভীর গলায় বলল, চলে যাব।

    কোথায়?

    শিলা তাচ্ছিল্যের গলায় বলল, তোমার পক্ষে এখন সবকিছুই সম্ভব। এই মুহূর্তে তুমি যদি বাড়ি থেকে বেরিয়েও যাও, আর কখনও এই বাড়িতে ফিরে না আস তাও আমি অবাক হব না।

    না, তা আমি করব না। ওরকম প্ল্যান থাকলে আরও আগেই চলে যেতে পারতাম। চলে যাওয়া সবচে’ সহজ কাজ।

    তা অবশ্য ঠিক।

    এজন্যই ওই কাজটা আমি করব না। শুভকে আমার বর হিসেবে তোমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রপার সম্মানটা তাকে দিতে হবে।

    কথাটা আমি একটু ঘুরিয়ে বলতে চাই।

    মানে?

    মানে হচ্ছে তোমার বর হিসেবে শুভর সম্মান টম্মান কোনও ব্যাপার নয়, তুমি তোমার পৈতৃক সম্পত্তির শেয়ার না নিয়ে এখান থেকে যাবে না।

    ওসব নিয়ে আমি ভাবছি না।

    নিশ্চয় ভাবছ।

    আসলেই ভাবছি না। কারণ বাবার প্রপার্টি থেকে আমাকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। ইচ্ছে করলেই কেউ তা পারবে না।

    ইচ্ছে করলে পারবে।

    কী করে?

    আমি তোমাকে সেটাই বলতে চাই।

    বল, শুনি।

    তোমার ভাইরা ইচ্ছে করলে প্রপার্টি থেকে সম্পূর্ণই বঞ্চিত করতে পারে তোমাকে। তুমি যে রকম বাড়াবাড়ি করছ, বিরক্ত হয়ে তোমার ভাইরা যদি তাই করে, তখন তুমি কী করবে?

    অদ্ভুত এক নির্মোহ চোখে শিলার চোখের দিকে তাকাল সেতু। শান্ত গলায় বলল, আমি কোনও প্রপার্টি চাই না। কিছু চাই না আমি। আমি শুধু শুভকে চাই।

    সেতুর কথা শুনে অবাক হয়ে গেল শিলা।

    .

    চায়ের কাপ হাতে মামুন সাহেবের রুমের দিকে যাচ্ছে আলী, হঠাই সামনে পড়ল লালু দিলু। আচমকা এই দুজনকে দেখে আলী কেমন ভড়কে গেল। তার ভড়কানো ভাবটা খেয়াল করল না লালু। গম্ভীর গলায় বলল, নাম কী?

    আলী থতমত খেল। কার নাম?

    তোর।

    আমার? আমার নাম আলী আজম।

    এই নাম রাখতে তোকে কে বলেছে?

    জ্বি?

    লালু একটু গলা চড়াল। এই নাম রাখতে তোকে কে বলেছে?

    নামটা আমার বাবা রেখেছে।

    যেই রাখুক, আজমের কোনও দরকার নাই। শুধু আলী। ঠিক আছে?

    জ্বি।

    তাহলে দুটো ঠাণ্ডা আর দুপ্যাকেট বেনসন নিয়ে আয়।

    স্যার না বললে তো আনতে পারি না।

    সঙ্গে সঙ্গে ধমকে উঠল লালু, তর স্যারের খেতাপুরি। যা নিয়া আয়।

    লালু দিলু আর ফিরে তাকাল না, স্বপনের রুমে ঢুকল। ঢুকে চেয়ার টেনে স্বপনের মুখোমুখি বসল।

    লালু বলল, কিছু মাল ছাড়তে হয় যে।

    স্বপন বিরক্ত হল। কেন?

    শোন কথা! কাজ করতে মাল লাগবে না!

    কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হচ্ছে না। প্রায়ই এসে টাকা নিয়ে যাচ্ছ। এই পর্যন্ত কত টাকা নিয়েছ, হিসেব আছে?

    অকারণে গলা মোটা করে লালু বলল, হিসাব কিতাব করে টাকা পয়সা আমি নেই না। দরকার হলেই আসব। লেকচার ছাড়া, যাকে বলে নিঃশব্দে, নিঃশব্দে টাকাটা দিয়ে দেবেন। আর যদি ইচ্ছা না হয় দেবেন না। কিন্তু লেকচার মারবেন না। লালু কারও লেকচারের ধার ধারে না।

    লালুর কথা বলার ভঙ্গিতে স্বপন একেবারে চুপসে গেল। কোনও রকমে বলল, কিন্তু কাজটা করছ না কেন?

    ঘাড় বাঁকা করে স্বপনের দিকে তাকাল লালু। মার্ডার করাটা আপনার কাছে কী মনে হয়? খুব সোজা?

    তোমার জন্য তো সোজাই।

    হলেও তার জন্য একটা চান্স দরকার। চান্সটাই পাচ্ছি না।

    আঙুল নাচিয়ে টাকার ভঙ্গি করল লালু। ছাড়েন, তাড়াতাড়ি ছাড়েন।

    এসময় দুগ্লাস ঠাণ্ডা কোক আর দুপ্যাকেট বেনসন সিগ্রেট ট্রেতে নিয়ে স্বপনের রুমে ঢুকল আলী। দেখে অবাক হল স্বপন। এসব আনলি কেন? আমি তোকে এসব আনতে বলিনি।

    লালু বলল, আমি বলেছি।

    কোকের গ্লাস হাতে নিয়ে ফুরুক করে চুমুক দিল লালু। এটা আমার নিয়ম। যখন যার কাজ করি তখন আমি তার বস। আমি যা বলব তাই করতে হবে।

    আলীর সামনে লালুর এসব কথা, স্বপন কী রকম অপমান বোধ করল। আলীর দিকে না তাকিয়ে বলল, এই, তুই যা।

    আলীও যেন একথা শোনার জন্যই অপেক্ষা করছিল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে গেল সে।

    এবার লালুর দিকে তাকাল স্বপন। পিয়ন টিয়নদের সামনে এভাবে কথাগুলো না বললেও পারতে।

    লালু নির্বিকার গলায় বলল, আপনার জন্যই বলেছি। আপনেরে একটু সাইজ করলাম। আজকের মালটা ছাড়েন। কাজ হয়ে যাবে।

    পকেট থেকে বেশ কিছু পাঁচশো টাকার নোট বের করে লালুকে দিল স্বপন। দশ হাজার আছে।

    টাকাটা নিয়ে পকেটে রাখল লালু।

    স্বপন বলল, কাজটা তাড়াতাড়ি কর লালু।

    করব।

    তবে সাবধানে। আমি যে জড়িত কেউ যেন টের না পায়।

    কাউয়ায়ও টের পাইব না।

    তারপর আচমকা বলল, কিন্তু মার্ডারটা আপনি কেন করাচ্ছেন? পোলাটা কি আপনের বইনরে ভাগাইয়া নিয়া বিয়া করছে?

    স্বপন একেবারে আকাশ থেকে পড়ল। কে বলল তোমাকে?

    লালু সিগ্রেট ধরাল। কেউ বলে নাই। অনুমান করলাম। পোলাটার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়া মার্ডারের কোনও কারণ পাই নাই। এইজন্যই জিজ্ঞাসা করলাম। অসুবিধা নাই। যে কারণে ইচ্ছা মার্ডার করেন, সেইটা আপনের ব্যাপার। আমার সঙ্গে মালের কনটাক্ট, আমার কাজ আমি করে দেব।

    টেবিলের ওপর রাখা দুপ্যাকেট সিগ্রেট পকেটে নিয়ে উঠল লালু। নিঃশব্দে তার সঙ্গে উঠল দিলু।

    তারপর মোটর সাইকেল চালিয়ে লালু এল শুভদের বাড়ির সামনে। পেছন থেকে নেমে দিলু বলল, এখানে আসলা কেন?

    লালু নির্বিকার গলায় বলল, তোকে কোরবানি দিতে।

    কী?

    তোর মাথায় মগজ বলে তো কিছু নাই। কুকুর বিড়ালের ইয়ে দিয়ে, মানে বাহ্যি দিয়ে তোর মাথা ভর্তি। এজন্য আমার কোনও কাজেরই অর্থ তুই বুঝতে পারিস না।

    এবার হে হে করে হাসল দিলু। বুঝছি।

    কী, বল তো?

    কেসটা রেকি করতে আসছ। রেগুলার মাল খাইতাছ। কিছুটা কাম না করলে কেমতে হয়।

    দিলুর কথা শুনে খুশি হল লালু। কারেক্ট।

    তখুনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল মালা। সুন্দর টাঙ্গাইল শাড়ি পরেছে। মুখে সামান্য প্রসাধন। দেখতে ভাল লাগছে তাকে।

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে চারদিক তাকিয়ে রিকশা খুঁজতে লাগল মালা। রাস্তার ওপাশে মোটর সাইকেল দাঁড় করিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়াল লালু দিলু। মালা বেশ হকচকিয়ে গেল। আপনারা? কী, কী চান?

    লালু নিঃশব্দে হাসল। কিছু না, কিছু চাই না। আমরা কোনও ছ্যাচড়া মাস্তান না। রাস্তায় একা একটা সুন্দরী মেয়ে দেখলেই তাকে একটু ইয়ে করা কিংবা ছিনতাই ফিনতাই আমরা করি না। আমরা খুবই প্রেস্টিজিয়াস জিনিস।

    আরেকদিন আপনাদেরকে আমি দেখেছি। মোটর সাইকেল নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

    এরপর গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকব।

    কেন?

    কথা শুনে মনে হল মোটর সাইকেল জিনিসটা আপনার পছন্দ হয়নি।

    আমার পছন্দ অপছন্দে আপনাদের কী যায় আসে?

    কিছুই যায় আসে না।

    তাহলে?

    আপনার সঙ্গে একটু খাজুইরা আলাপ করলাম।

    তারপরই গলার স্বর নৃশংস করল লালু। শুভ আপনার কী হয়?

    লালুর এ রকম গলা শুনে ভয় পেয়ে গেল মালা। কোনও রকমে বলল, আমার ভাই।

    কোথায় সে?

    মালা একটা ঢোক গিলল। তা আপনাকে বলব কেন?

    বলার দরকার নাই। খুঁজে বের করে নেব।

    লালু দিলু আর দাঁড়াল না। আয়েশি ভঙ্গিতে হেঁটে মোটর সাইকেলটার সামনে গেল। মুহূর্তে মোটর সাইকেল নিয়ে উধাও হয়ে গেল।

    .

    মা আতঙ্কিত গলায় বললেন, কী বলছিস?

    মালা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, হ্যাঁ মা, শুভকে খুঁজছিল, আমি ওদেরকে চিনেছি। আগেও একদিন আমাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল।

    সর্বনাশ!

    লালু দিলু চলে যাওয়ার পর যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে আর যায়নি মালা। ছুটতে ছুটতে বাড়ি ঢুকেছে। ঢুকে সোজা মায়ের রুমে। এখনও হাঁপাচ্ছে সে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ভাগ্যিস নাহিদদের গ্রামে চলে গেছে শুভ, নয়তো বিপদ হয়ে যেত।

    মা উতলা গলায় বললেন, এসব নিয়ে আর বসে থাকা যায় না।

    বসে থাকা ঠিকও হবে না মা। ওরা নিশ্চয় শুভকে খুঁজে বের করে ফেলবে। পরিষ্কার বলে গেছে।

    শাহিন অফিস থেকে ফিরুক, ওর সঙ্গে কথা বলে দেখি কী করা যায়।

    শাহিন ফিরল সন্ধেবেলা। সব শুনে বলল, পুলিশের কাছে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় দেখছি না।

    সুরমা অস্থির গলায় বলল, তুমি এতদিন যাওনি কেন? বলেছিলে না জিডি করবে।

    ভুলে গিয়েছিলাম।

    শুনে মা খুবই ক্ষিপ্ত হলেন। ভুলে গিয়েছিলি? কেমন ভাই তুই? ছোট ভাইর এরকম বিপদ আর তার কথা তুই ভুলে যাস?

    শাহিন কাঁচুমচু গলায় বলল, শুভ এখানে নেই বলে ব্যাপারটা আমি তেমন গুরুত্ব দিই নি।

    মালা বলল, এটা তুমি ঠিক করনি ভাইয়া। এখন ওরা যদি নাহিদদের গ্রামে গিয়ে শুভকে…

    কথা শেষ হওয়ার আগেই মালাকে ধমক দিলেন মা। চুপ কর। অলুক্ষুণে কথা বলবি না।

    সুরমা শাহিনের দিকে তাকাল। তারচে’ তুমি বরং এক কাজ কর।

    চোখ তুলে সুরমার দিকে তাকাল শাহিন। কী?

    সেতুর ভাইদের সঙ্গে দেখা কর। তাদেরকে বল এসব আপনারা ঠিক করছেন না। মাস্তান টাস্তানদেরকে ফেরান। আমার ভাইয়ের যদি কোনও ক্ষতি হয়, আপনাদেরকে আমরা ছাড়ব না। দেশে আইন আছে। আমরা আপনাদেরকে দেখে নের।

    মা বললেন, এবং এও বলবি, আপনারা ভালয় ভালয় ব্যাপারটা মেনে নিন। আমার ভাই কোনও ফেলনা ছেলে না। আপনার বোনের জন্য এরচে’ ভাল পাত্র পাবেন না। আর বিয়ে যেখানে হয়ে গেছে সেখানে এত বাড়াবাড়িরই বা কী আছে!

    শাহিন গম্ভীর গলায় বলল, আমি ওদের কাছে যাব না মা। মা অবাক হলেন। কেন?

    ওদের কাণ্ডকারখানা যা দেখছি তাতে ওদের কাছে গেলে অপমান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর যাই হোক অপমান আমি হতে পারব না। তারচে’ আমি কাল থানায় যাব। পুলিশের সঙ্গে পুরো ব্যাপারটা আলাপ করব। নিশ্চয় তারা কোনও ব্যবস্থা নেবে।

    মা দুঃখি মুখ করে বললেন, যা ভাল বুঝিস কর।

    তারপর একটু থেমে বললেন, গুণ্ডাপাণ্ডাদের ব্যাপারে ভয় তো পাচ্ছিই তার ওপর মনও খারাপ লাগছে। এতদিন হল বাড়ি ছাড়া হয়ে আছে ছেলেটি। এতদিন ওকে না দেখে আমি কখনও থাকি নি। নাহিদদের বাড়িতে হয়তো সে ভালই আছে, তারপরও আমার মনটা কেমন করে। খেতে বসলে ছেলেটার কথা মনে হয়, ঘুমাতে গেলে মনে হয়। শুভর জন্য আমার কিছু ভাল লাগে না।

    কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন মা। আঁচলে চোখ মুছতে লাগলেন। করুণ গলায় বললেন, আল্লাহ, আমার ছেলেকে তুমি ভাল রেখ।

    .

    এখানে আসার পর থেকে বিকেলের দিকে শুভর মনটা কী রকম খারাপ হয়। কী রকম উদাস বিষণ্ণ লাগে।

    দুপুরের পর আজ ছোটখাট একটা ঘুম দিয়েছিল সে। খানিক আগে ঘুম থেকে উঠে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জানালা থেকে আকাশটা বড় অদ্ভুত দেখায়। একটু যেন বেশি নীল, একটু যেন বেশি সাদা। এই আকাশের দিকে তাকালে শুভ সম্পূর্ণ একা হয়ে যায়।

    আজও হয়েছিল।

    এ সময় বর্ষা এসে দাঁড়াল তার পেছনে। শুভ টের পেল না।

    এই প্রথম, বহুদিন পর বিকেলবেলা সুন্দর করে আজ সেজেছে বর্ষা। সুন্দর একটা শাড়ি পরেছে। মুখে সামান্য প্রসাধন, ব্যান্ড দিয়ে সুন্দর করে চুল বেঁধেছে। নিজেকে আজ নতুন মানুষ মনে হচ্ছে বর্ষার।

    কিন্তু সে যে এই ঘরে এল শুভ তা টেরই পেল না।

    খানিক দাঁড়িয়ে শুভকে দেখল বর্ষা। তারপর কথা বলল, কী হয়েছে আপনার?

    চমকে পেছন ফিরে তাকাল শুভ। ও তুমি! কখন এলে?

    বেশিক্ষণ না।

    তারপর আবার প্রশ্নটা করল বর্ষা। কী হয়েছে আপনার?

    কিছু না।

    তারপর কথা ঘোরাল শুভ। কী আশ্চর্য ব্যাপার! তুমি এলে আর আমি তা টেরই পাই নি।

    আপনি খুব আনমনা ছিলেন।

    মনটা ভাল নেই।

    কেন?

    শুনলে তোমার মন খারাপ হবে।

    শুভর চোখের দিকে তাকিয়ে বর্ষা গম্ভীর গলায় বলল, আমার মন খারাপ হলে আপনার কী?

    সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছল হওয়ার চেষ্টা করল শুভ। বল কী! তোমার মন খারাপ হলে আমার সর্বনাশ হয়ে যাবে। জানতে চাও কী সর্বনাশ হবে?

    জানতে চাইছি।

    বর্ষার বলার ভঙ্গিতে অবাক হল শুভ। তুমি খুব অন্যরকম ভঙ্গিতে কথা বল।

    কী রকম?

    আমার প্রশ্ন শুনে যে কেউ বলবে, আচ্ছা বলুন। তুমি বললে, জানতে চাইছি।

    তাতে কী হয়েছে?

    এভাবে কথা বলা অন্যের সঙ্গে মেলে না।

    আমার কোনও কিছুই কি অন্যের সঙ্গে মেলে?

    না, তা মেলে না।

    আমি অতি সাধারণ একটি মেয়ে। দেখতে ভাল নই। বেঁটে। সামান্য গান গাইতে পারি কিন্তু গলা তেমন ভাল নয়। বিএ পড়ি, কিন্তু পাস করতে পারব কীনা জানি না। আমার সোকতাপ খুব বেশি। কোনও কিছুই ভুলতে পারি না।

    বর্ষার চোখের দিকে তাকিয়ে শুভ বলল, এসবই তোমার সৌন্দর্য। তুমি জান না তুমি কী সুন্দর মেয়ে। তোমার মুখটা খুব মিষ্টি। চোখ দুটো সুন্দর। কী সুন্দর করে কথা বল তুমি। তোমার লম্বা হওয়ার দরকার নেই। তুমি যেটুকু লম্বা, ওই যথেষ্ট। তোমার মতো মেয়ের কখনও বয়স বাড়ে না। মুখের দিকে তাকালেই তোমার জন্য মায়া লাগে।

    বর্ষা আচমকা বলল, আপনার লাগছে?

    শুভ থতমত খেল, তারপর হাসল, আমার কথা কিন্তু শেষ হয়নি।

    বর্ষাও হাসল। শেষ করুন।

    তোমার মন খারাপ হলে আমার কী সর্বনাশ হবে শোন। তুমি ছাড়া, মানে এই বাড়িতে তুমি ছাড়া আমার খোঁজ খবর নেবে কে? আমার মন খারাপ হলে কে জিজ্ঞেস করবে, কী হয়েছে আপনার? আমার চা এনে দেবে কে?

    শুভর কথা শুনে অপলক চোখে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল বর্ষা। শুভ তা খেয়াল করল না, বলল, একটা কথা বলব?

    বলুন।

    চল কোথাও বেরিয়ে আসি, বাড়িতে একদম ভাল লাগছে না।

    বর্ষা আনমনা গলায় বলল, চলুন।

    .

    বড়ঘরের বারান্দায় একটা ইজিচেয়ার রাখা।

    বিকেলবেলায় সেই চেয়ারে বসে আছেন হাদি সাহেব। দুহাতে দুকাপ চা নিয়ে মিনু এসে তাঁর সামনে দাঁড়ালেন। হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপটা নিলেন হাদি সাহেব। কদিন ধরে মনটা খুব ভাল, বুঝলে।

    হাদি সাহেব চায়ে চুমুক দিলেন। বাদলের মৃত্যুর পর বাড়িটা যে রকম গুমোট ধরে গিয়েছিল সেই ভাবটা কেটেছে।

    নিজের কাপে চুমুক দিয়ে মিনু বললেন, ঠিকই বলেছ। বর্ষা একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে রেয়াজ করছে। আজ দুপুরের পর দেখলাম অনেকক্ষণ ধরে সাজছে। বাড়ির টুকটাক কাজ করছে। নাহিদ শুভর জন্য চা নিয়ে যাচ্ছে।

    আল্লাহ আমাদের সহায় হয়েছেন। মেয়েটাকে নিয়ে টেনশনে ছিলাম। বহুদিন কোনও কাজ করতে পারিনি। কাজগুলো আবার শুরু করতে হবে।

    কী কাজ?

    পারুর বিয়ের চেষ্টা করতে হবে। পুবপাড়ার একটা জমি নিয়ে ঝামেলা লেগে আছে। সেই ঝামেলা মিটাতে হবে। কিছু জমি বিক্রি করে ঢাকায় ছোটখাট একটা বাড়ি করব ভেবেছিলাম, সেই কাজটাও শুরু করা দরকার।

    কাপে শেষ চুমুক দিয়ে মিনু বললেন, ঢাকার বাড়িটাই আগে করা উচিত।

    কেন?

    নাহিদ থাকবে ঢাকায়। বর্ষার বিয়ে হলে সেও নিশ্চয় ঢাকায়ই থাকবে। তখন আমরা দুজন এখানে একা একা পড়ে থাকব কেন? ছেলেমেয়ে ছেড়ে আমি থাকতে পারব না।

    হাদি সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ঠিকই বলেছ, একজন চলে গেছে, বাকি দুজনকে আমিও আর চোখের আড়াল করতে চাই না।

    মিনু আর কথা বললেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }