Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেত-প্রেয়সী – অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেত-প্রেয়সী – ১.৪

    (৪)

    নোট বইয়ের পাতা উলটোলাম। মে ৬। বিরাগ মিশোনো চোখে তাকাই অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলোর দিকে। সবসুদ্ধ তিনটে কেস। তার মধ্যে একটা বিবাহবিচ্ছেদ। দু-মুঠো ভাত জোটাতে গিয়ে না জানি আরও কতদিন এইভাবে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করতে হবে আমাকে।

    টেবিলে বসে ফাইলটা টেনে নিলাম। ওপরে কোণে ঝরঝরে অক্ষরে ইংরাজিতে টাইপ করা “কৌশিক কেস”, শেষ কয়েক দিনের পাতাগুলো অলস ভঙ্গিমায় উলটে চললাম। এপ্রিল ২৭। গঙ্গার ধারে বেড়ানো। ২৮। লাইট হাউস সিনেমা। ২৯। মোটরে জি. টি. রোডে বর্ধমান পর্যন্ত। ৩০। ফিরপোতে চা-পান। অনেকক্ষণ হাসি ঠাট্টা। মে ১। ব্যারাকপুর লাটসাহেবের বাগানে। চমৎকার ড্রাইভ করে কস্তুরী। ২। চন্দননগরে গঙ্গার তীরে। ৩। দেখা হয়নি। ৪। লেকের ধারে রাত আটটা পর্যন্ত। ৫। আবার ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড ধরে টানা ড্রাইভিং…

    আর আজকে মে ৬। আজ দিনের শেষে লিখব কস্তুরীকে আমি ভালোবাসি। ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। আজ থেকে প্রতিটি দিনের গ্রন্থনা শুরু হবে এই তথ্যের ভিত্তিতেই। একটি পরিত্যক্ত অন্তরে তুষের আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলছে বিষণ্ণ প্রেম। ভাবগতিক দেখে মনে হয়, কস্তুরীর মনে কোনও সন্দেহ জাগেনি। বন্ধুর মতোই মিশেছে আমার সঙ্গে, বন্ধুর মতো মন খুলে কথা বলতে পারে যার সঙ্গে, এমনি একটি পুরুষের সাহচর্য পেয়েই সে খুশি। এর চাইতে অধিক কিছু তার কল্পনাতেই এখনও আসেনি। সেই কারণে বোধহয় স্বামীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার কোনও তাগিদ অনুভব করেনি। আর, সুকৌশলে নিজের অংশ অভিনয় করে চলেছি আমি। আইনবিদের গোয়েন্দাগিরি আর অসামান্যা রূপসী যুবতীর সঙ্গ-সুখ। দিনগুলো কাটছে ভালোই।

    ফাইলটা বন্ধ করে সরিয়ে দিয়ে পা টান-টান করে ছড়িয়ে দিলাম টেবিলের তলায়… মাথা এলিয়ে দিলাম চেয়ারের পিঠে… কস্তুরীর ব্যাধি। কস্তুরী সুস্থ; অসুস্থ নয় মোটেই। তবুও কোথাও যেন একটা গলদ থেকে গেছে।

    ঠিক বলেছে মহেন্দ্র। আনন্দে-হুল্লোড়ে ওকে মাতিয়ে দিয়ে আলোময় এই জীবনের অংশে ওকে ধরে রাখা কোনওক্রমে বন্ধ হলেই অদ্ভুত এক তন্ময়তায় আবিল হয়ে ওঠে ওর দুই চোখ।

    একদিন চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে বলেছিলাম, ‘আপনাকে দেখলেই জনার কথা মনে পড়ে যায়।’

    ভুরু কুঁচকে শুধিয়েছিল কস্তুরী, ‘কে সে মহাপুরুষ?’

    ‘পুরুষ নয়, মহিলা। মাহিষ্মতীরাজ নীলধ্বজেব স্ত্রী।’

    ‘বটে।’

    ‘জনা খুব গঙ্গাভক্ত ছিলেন। পাণ্ডবদের সঙ্গে যুদ্ধে কৃষ্ণ না থাকলে সবাই পুড়ে ছাই হয়ে যেত তাঁর তেজে। পুত্রশোকে কাতর হয়ে তিনি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দেন।’

    ‘ওঃ।’

    ‘আপনাকে জনা বলেই ডাকব। জনা না বলে ঘৃতাচী বললেই বোধহয় বেশি মানাত, কিন্তু—’

    ‘আপনার পৌরাণিক নামের ধাক্কায় আমার মাথা ঘুরছে।’ চুকচুক করে চুমুক দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে বলেছিল কস্তুরী, ‘জনা নামটা অবশ্য মন্দ নয়। গঙ্গার বুক থেকে আপনিই আমায় ফিরিয়ে এনেছেন, এই তো?’

    সেই দিন থেকে জনা নাম ধরেই ঠাট্টাচ্ছলে কস্তুরীকে ডেকেছি আমি। কস্তুরী নামে ডাকার সাহসও ছিল না আমার। তা ছাড়া, কস্তুরী বিবাহিতা মহিলা— অপর পুরুষের ঘরনী। কিন্তু জনা তো আমারই, একান্তভাবে আমার। জলের মধ্যে, মুখের পরতে পরতে মৃত্যুর ছায়া নিয়ে ডুবন্ত কস্তুরীকে আমিই তো দু-হাতে জাপটে ধরে টেনে এনেছি জীবনের আঙিনায়…

    কিন্তু এ কী বোকামো করেছি আমি… শূন্যে কল্পনার সৌধ গড়ে তুলে আশা-নিরাশার নিরন্তর দ্বন্দ্বে কেন ক্ষতবিক্ষত করছি মনকে? কিন্তু তাতে কী আসে যায়! বেদনা-দরিয়ার নিতলে আছে শান্তি; অনাবিল সুখ আর অফুরন্ত আনন্দের সত্যলোক। আশা-নিরাশার জাল বুনে বরং তার উপকারই হয়েছে। ব্যর্থতার তিক্ততায় সম্প্রতি যে নৈরাশ্য দেখা দিয়েছিল আমার অন্তর প্রকৃতিতে, তা আর নেই। সে ভয় নেই। অনুশোচনা নেই। না জানি কত দীর্ঘ বছর প্রতীক্ষায় থেকেছে আমার নিঃসঙ্গ সত্তা, এই অপরূপা নারীর জন্যে। সম্ভবত বারো বছর বয়স থেকেই শুরু হয়েছিল শবরীর প্রতীক্ষা। পম্পা তীরে মতঙ্গ ঋষির আশ্রমে জটাবতী চির-অজিন-ধারিণী শবরী রামের আগমন প্রতীক্ষায় থেকেছে দীর্ঘকাল। আর ছেলেবেলা থেকেই পাহাড়ের গুহায়, ছায়ায়, অন্ধকারে ঘুরঘুর করে, মৃত্যু-স্তব্ধতার মধ্যে থেকে অশরীরী কল্পনায় বিভোর হয়ে দিন গুণেছি আমি।

    ঝনঝন করে বেজে উঠল টেলিফোনের ঘণ্টা। ঝট করে তুলে নিলাম রিসিভারটা।

    ‘হ্যালো… আপনি?… হাতে কাজ নেই? হ্যাঁ, হ্যাঁ, পারব বলেই মনে হয়। কাজ আছে অনেক, কিন্তু কোনওটাই জরুরি নয়… আপনি হুকুম করলে অবশ্য… চমৎকার; কিন্তু পাঁচটার আগেই ফিরে আসতে চাই… কোথায় যাবে? ঠিক আছে, মিউজিয়াম? মার্বেল প্যালেস? না, পরেশনাথ মন্দিরে হাওয়া খাওয়া?… না, না, এখনও দেখার জিনিসের অভাব নেই— তাহলে দুটোর সময়ে।’

    আস্তে আস্তে নামিয়ে রাখলাম রিসিভারটা। এমনভাবে রাখলাম যেন এখনও কস্তুরীর বীণাকণ্ঠের শেষ অনুরণন রিমঝিম রিমঝিম সুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে যন্ত্রটির মধ্যে।

    জামাটা গায়ে চাপিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। মক্কেলরা এসে ফিরে যাক আরও একদিন— একেবারে না এলেই তো পারে! কী এসে যায় তাতে। যুদ্ধের দামামা বাজছে ভারতের বাইরে। রণ-প্রস্তুতি বাংলার মাটিতেও। বিমান আক্রমণের আশঙ্কায় কত রকম প্রস্তুতিই চলছে শহরের বুকে। বসন্তের লালিমা বুকে নিয়ে সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করছে সবুজ ঘাসপাতা। প্রেমের সুষমা যেন সূর্যের সোনাগলা কিরণের মধ্য দিয়েই ঝরে ঝরে পড়ছে। এসপ্ল্যানেডের দিকে পা চালালাম আমি।

    মনের দিক দিয়ে আমি সত্যিই নিঃশেষিত হয়ে গেছি। তাই অবসন্ন মনে এদিকে ওদিকে অনেকক্ষণ ঘুরে বেড়ালাম স্নায়ুগুলোকে আবার সতেজ করে তোলার চেষ্টায়। চিন্তার স্রোতে ছেড়ে দিয়েছিলাম নিজেকে। অবাধ্য, দুরন্ত চিন্তা, মগজকে শাসনের রক্তচক্ষু দেখিয়ে কোনও লাভই নেই… তার চাইতে বরং এই ভালো। হঠাৎ চমক ভাঙল একটা সাজানো দোকানের সামনে এসে। নিউ মার্কেটের দোকান। হরেকরকম বিচিত্র পণ্য থরেথরে সাজানো কাচের ওদিকে। একটা ছোট্ট আয়নায় চোখ পড়ল। রোজউডের ওপর হাতির দাঁতের কাজ-করা ফ্রেমে বাঁধানো এতটুকু আয়না— মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, এত ছোট। কস্তুরীকে উপহার দিতে হবে সামান্য এই জিনিসটা। আজই দেব। জনার লাবণ্যকে প্রতিফলিত করার যোগ্যতা তো সব দর্পণের নেই। নীল ফিতে দিয়ে বাঁধা মোড়কে আয়নাটাকে পকেটে রেখে হাসিমুখে দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম আমি। কস্তুরী, কস্তুরী, প্রিয়তমা কস্তুরী!

    দুটোর সময়ে ময়দানে সেই বিশেষ বকুলগাছটার নীচে এসে দাঁড়ালাম। সময়ের হিসেবে কস্তুরীও কম যায় না। কয়েক মিনিটের মধ্যে সে-ও এসে পৌঁছোল বকুলতলায়।

    আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে নিয়ে অবাক হয়ে যাই আমি, ‘কী ব্যাপার, আজ যে আগাগোড়া কালোর সমারোহ!’

    ‘কালোকে আমি ভালোবাসি। কালোই হল আমার আঁধারের বাতি। ‘পররুচি পরনা’ প্রবাদের অস্তিত্ব না থাকলে কালো ছাড়া আর কিছুই পরতাম না আমি।’

    ‘কিন্তু রংটায় শোকের ছায়া রয়েছে, তা-ই নয় কি?’

    ‘নিশ্চয় নয়। বরং উলটোটাই বলা যায়। জীবনের সব কিছু মধ্যেই একটা মানে খুঁজে পাওয়া যায় এই কালো রঙের মাধ্যমে। এই রং আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে মানুষের চিন্তাকে, জীবন-দর্শন হয়ে ওঠে গম্ভীর ও গভীর।’

    ‘আর যদি নীল কি সবুজ রং পরেন?’

    ‘জানি না, তখন কী ভাবব। হয়তো নিজেকে মনে করব অকালের ওই উড়ন্ত টিয়াপাখি, অথবা এই বকুলগাছটার মতোই সৌরভ বিতরণই আমার কাজ… বিভিন্ন রঙের কতকগুলো রহস্যময় ধর্ম আছে, খুব ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম আমি। বোধহয় সেই কারণেই ছবি আঁকা শুরু করেছিলাম।’

    ‘আমিও ছবি আঁকতাম। কিন্তু আমার ড্রইং এতই দুর্বল যে শেষ পর্যন্ত—’

    ‘তাতে কী? রংটাই তো আসল।’

    ‘আপনার আঁকা ছবি দেখাবেন?’

    ‘দেখার মতো কিছু নয়। মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝবেন না আপনি। নিছক স্বপ্নকে তুলির ডগায় আনতে চেষ্টা করেছি… স্বপ্নের রং… আচ্ছা, স্বপ্নের মধ্যে অনেক রকম রং দেখেন না আপনি?’

    ‘না। সমস্ত ধুলোর মতো ধূসর, অথবা ফোটোগ্রাফের মতো।’

    ‘তাহলে আপনি বুঝবেন না, আপনি অন্ধ!’ বলে হেসে উঠল কস্তুরী। আলতো করে আমার হাতটা টিপে দিয়ে জানিয়ে দিল এ শুধু পরিহাস, আর কিছু নয়। তারপর বলল, ‘স্বপ্ন বাস্তবের চাইতেও অনেক বেশি সুন্দর। কল্পনা করুন, অনেকগুলো অদ্ভুত সুন্দর রং এক জায়গায় মিলেমিশে অপরূপ সুষমা নিয়ে এসে পড়ছে আপনার চোখে… আপনার গোটা মনটা ভরে উঠবে রঙের সাগরে… তখন নিজেকে মনে হবে মেকি… ওই রংই আসল। প্রত্যেক রাত্রে স্বপ্ন দেখি আমি… আরেক দেশের স্বপ্ন।’

    ‘তা-ই নাকি?’

    ঘনিষ্ঠ হয়ে হাঁটতে থাকি দু-জনে গাছের ছায়ায় ছায়ায়। জানি না কোথায় চলেছি, জানার ইচ্ছেও নেই। এই তো ভালো, আমেজে অবশ পদযুগল যেদিকে যায় যাক। বড় ভালো লাগে কস্তুরীর আজকের নিবিড় সাহচর্য। কিন্তু কর্তব্য ভুলি না। বলি, ‘ছেলেবেলায় অজানা জগতের চিন্তা আমাকেও পেয়ে বসেছিল। কাছে ম্যাপ থাকলে দেখিয়ে দিতাম ঠিক কোন জায়গা থেকে শুরু হয়েছে সে দেশের।’

    ‘এ দেশ, সে দেশ নয়।’

    ‘তা তো নয়ই। আমার স্বপ্নের শেষে আছে অন্ধকার, আর আপনার স্বপ্নের শেষে আছে রঙের বাহার। কিন্তু দুটো স্বপ্নই মিলেছে একই জায়গায়, একই দেশে।’

    ‘তখন আপনি ছেলেমানুষ ছিলেন। এখন আর তা বিশ্বাস করেন না। করেন কি?’

    ‘করি… আপনার সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর থেকে করছি।’

    নীরবে কিছুক্ষণ হাঁটি দু-জনে। সমবেত সঙ্গীতের মতোই ছন্দে ছন্দে তালে তালে দু-জনের পা পড়তে থাকে ঘাসজমির ওপর। চিন্তাধারাও এগিয়ে চলে একই সুরে। মিউজিয়ামের সামনে এসে থমকে দাঁড়াই। তারপর রাস্তা পেরিয়ে বিশাল তোরণের নীচ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকি দু-জনে।

    বড় বড় পাথরের মূর্তিগুলোর পাশ দিয়ে যেতে যেতে কস্তুরী বলে, ‘এটা বিশ্বাসের ব্যাপার। আমি জানি… স্বপ্নে দেখা সেই দেশ হুবহু এই দেশের মতো নয়। কিন্তু তবুও কাউকে তা বলা যায় না।’

    বড় বড় শূন্য দৃষ্টি মেলে পাথরের মূর্তিগুলো তাকিয়ে রইল আমাদের পানে। পাথরের ব্লকে কত দুর্বোধ্য হরফ, বহু বছর আগেকার দেব-দেবী দানব-দানবী পশুপক্ষীর বিচিত্র প্রস্তর-আলেখ্যগুলোও সেদিন নীরব সাক্ষী থাকে কস্তুরীর গোপন রহস্যের।

    ‘এর আগেও এখানে এসেছি আমি। অনেক… অনেকদিন আগে। আমার পাশে ছিল আরেকজন পুরুষ… কালো চাপদাড়ি ছিল তার গালে।’ বিড়বিড় করে বলে কস্তুরী।

    ‘ওটা মনের ভুল। অনেকের ক্ষেত্রেই এরকম ‘আগে দেখেছি’ ভাব দেখা গেছে। ও কিছু নয়, খুবই সাধারণ ব্যাপার।’

    ‘না, মনের ভুল নয়। প্রত্যেকটা খুঁটিনাটি আমি আপনাকে শোনাতে পারি— প্রত্যেকটা দৃশ্য ছবির মতো ভাসছে আমার চোখের সামনে। যেমন ধরুন না কেন, এই মুহূর্তে আমার চোখের সামনে ভাসছে ছোট্ট একটা গ্রাম। গ্রামটার নাম বলতে পারব না; বাংলাদেশে কি না তাও বলতে পারবে না। প্রায় স্বপ্নের মধ্যে দেখি, এই গ্রামের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি আমি… ছোট্ট একটা নদী এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে গাঁয়ের ঠিক পাশ দিয়ে… ডান পারে আছে একটা অনেক পুরোনো শিবমন্দির… বাঁ পারে সারি সারি তালগাছ… তালগাছের ওপাশে আমবনে ঘুরছে কয়েকটা ছাগল… তার ওপাশে একটা ভাঙা কেল্লা… আধখানা বুরুজ দেখা যাচ্ছে আমবনের মাথার ওপরে…’

    ‘কিন্তু… এ গাঁ তো আমার চেনা। গাঁয়ের নাম রতনপুর। নদীর নাম মন্দাকিনী।’

    ‘তা হবে।’

    ‘কিন্তু এখন গেলে ভাঙা কেল্লার বিশেষ কিছু আর দেখা যাবে না। বুরুজটাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তালগাছগুলো সাফ হয়ে গেছে।’

    ‘তখন ছিল গাছগুলো… আমার সময়ে ছিল… আর সেই বটগাছটা?… যে গাছের শেকড় বালিশের তলায় রেখে বন্ধ্যা বউরা ঘুমোত?

    ‘ভীমা বট।’

    ‘দেখলেন তো?’

    আরও কতকগুলো বড় ঘর পেরিয়ে এলাম। দু-জনেই নীরব। ডাইনোসরের মস্ত কঙ্কালটাও কারও মনে বিস্ময় জাগাতে পারলে না।

    ‘কী নাম বললেন?’ শুধোল কস্তুরী।

    ‘গাঁয়ের নাম? রতনপুর।’

    ‘একসময়ে নিশ্চয় সেখানে থাকতাম আমি।’

    ‘যখন খুব ছোট ছিলেন।’

    ‘না,’ শান্ত সুরে বললে কস্তুরী, ‘গত জন্মে।’

    কিছুক্ষণ সব চুপ।

    তারপর, ‘জায়গাটা আপনি চিনলেন কী করে?’ শুধোল কস্তুরী।

    ‘আমি জন্মেছি সেই গ্রামে। এখনও মাঝে মাঝে যাই।’

    বড় বড় আলমারিগুলোর ওপর শূন্য দৃষ্টি রেখে শুধোই— ‘ছেলেবেলা থেকেই আপনি এই স্বপ্ন দেখছেন?’

    ‘না। আর পাঁচটা মেয়ের মতোই ছিলাম আমি। তবে অল্প কথা বলতাম, একা থাকতে ভালোবাসতাম।’

    ‘তাহলে… শুরু হল কখন?’

    ‘হঠাৎ! বেশিদিন আগে নয়… আচমকা একদিন মনে হল আমি যেন আমার বাড়িতে নেই, একজন অচেনা লোকের সঙ্গে রয়েছি। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে অচেনা জায়গায় নিজেকে দেখে মানুষ যেমন বিহ্বল হয়ে পড়ে, এও অনেকটা তেমনি।’

    ‘একটা কথা জিজ্ঞেস করব। যদি রাগ না করেন তো, বলি।’

    ‘আমার কোনও গোপন কথা নেই,’ শান্ত স্বরে বলল কস্তুরী।

    ‘তাহলে জিজ্ঞেস করতে পারি?’

    ‘নিশ্চয়।’

    ‘আপনি কি… মানে, আবার শেষ-যাওয়ার কথা চিন্তা করেন?’

    থমকে দাঁড়িয়ে গেল কস্তুরী। ভাসা ভাসা মায়াময় দুই চোখে মেলে তাকাল আমার পানে।

    ‘আপনি বুঝতে পারলেন না আমাকে।’ বলল ফিসফিস করে।

    ‘ওটা আমার প্রশ্নের উত্তর হল না।’

    খনিজ আকরের একটা শো-কেসের চারধারে ভিড় করে দাঁড়িয়েছিল অনেকগুলো মেয়ে আর ছেলে। পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেলাম আমি।

    কস্তুরী বলল, ‘উত্তরের জন্যে চাপ দেওয়াটা ঠিক নয়।’

    ‘আমি দেব। দেব শুধু আপনার স্বার্থে নয়, আমারও স্বার্থে।’

    ‘প্লিজ…’

    এত নরম সুরে বলল কস্তুরী যে বাতাসের মতোই তা ভেসে এল কানে। মনটা হঠাৎ কী রকম হয়ে গেল। এক হাত দিয়ে কস্তুরীকে ঘিরে ধরে নিজের কাছে টেনে আনলাম। বেরিয়ে এলাম বারান্দায়। কেউ নেই। বললাম গাঢ় স্বরে, ‘তুমি কি অন্ধ? দেখতে পাচ্ছ না আমি তোমায় ভালোবাসি? তোমাকে হারানোর শোক যে আমি সহ্য করতে পারব না কস্তুরী।’

    যন্ত্রচালিত মানব-মানবীর মতো পাশাপাশি হেঁটে চললাম দু-জনে।

    কতক্ষণ পরে কানের কাছে মুখ এনে বললাম ফিসফিস স্বরে, ‘তোমাকে আমার চাই… তোমাকে আমার দরকার… আমার এই তুচ্ছ বেঁচে থাকাকে ঘৃণা করার শিক্ষা তোমার কাছ থেকেই পেতে চাই আমি…’

    ‘চলুন যাওয়া যাক।’

    ঘরের পর ঘর পেরিয়ে এলাম। একদম গা ঘেঁষে অত্যন্ত নিবিড় হয়ে হাঁটছিল কস্তুরী। আগেই চাইতে উষ্ণ সেই সান্নিধ্য। সিঁড়ির ওপর পা দিয়ে থমকে দাঁড়ালাম।

    ‘এইমাত্র কী বললাম তোমাকে, তা মনে আছে নিশ্চয়?’

    ‘আছে।’

    ‘আবার যদি তা বলি, রাগ করবে কি?’

    ‘না।’

    ‘জনা, আমার জনা!… আরও কিছুক্ষণ হাঁটলে হয় না? অনেক কথাই বলার রয়েছে দু-জনের।’

    ‘আজ থাক। আমি ক্লান্ত। এখন বাড়ি যাই।’

    বাস্তবিকই একটু ফ্যাকাশে আর শঙ্কিত মনে হল কস্তুরীকে।

    ‘ট্যাক্সি ডাকছি। তার আগে আমার একটা ছোট উপহার আছে।’

    ‘কী?’

    ‘খুলে দেখো। আমার সামনেই খোলো।’

    মোড়কটা খুলে ফেলল কস্তুরী। ছোট্ট অথচ সুন্দর আয়নাটার। বুকে নিজের প্রতিবিম্বর ওপর ক্ষণেক চোখ বুলিয়ে নিয়ে সুতোয় ঝোলানো কার্ডটা তুলে ধরলে। শুধু তিনটে শব্দ লেখা ছিল কার্ডে।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলল কস্তুরী।

    বলল, ‘চলুন।’

    ‘আগামীকাল দেখা হচ্ছে তো?’

    মাথা কাত করে সায় দিল কস্তুরী।

    ‘কলকাতার বাইরে যাওয়া যাবে’খন… না, না, আর কোনও কথা নয়। আজকের বিকেলের এই স্মৃতিটুকু নিয়ে আমাকে অন্তত কিছুক্ষণের জন্যে শান্তিতে থাকতে দাও… এই যে ট্যাক্সি… আর একটা কথা… অতীতের দিকে আর ফিরে চেও না।’ বলে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম।

    অবসাদের ছোঁয়া আমার মনেও লেগেছিল। এ অবসাদ অনাবিল প্রশান্তির… ক্লান্তির নয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশার্লক হোমস, প্রফেসর চ্যালেঞ্জার ও মঙ্গলগ্রহ – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব) – সম্পাদনা : অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }