Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেত-প্রেয়সী – অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেত-প্রেয়সী – ১.৫

    (৫)

    হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল… আওয়াজটা পরিচিত… সাইরেন। আশপাশের ফ্ল্যাটে দুমদাম শব্দ হচ্ছে দরজা খোলা আর বন্ধ করার। নীচের তলায় ছুটেছে সবাই। অন্ধকার শহরকে তোলপাড় করে সত্যিকারের ডাকিনীর মতো নাকি সুরে কাঁদছে সাইরেন। আঁতকে উঠেছে ভয়ার্ত নাগরিকেরা। ভীতু! পাশ ফিরে আবার ঘুমিয়ে পড়ি আমি।

    পরের দিন সকালে রেডিয়োর নব ঘুরিয়ে শুনলাম সেই একই খবর—যুদ্ধ, যুদ্ধ, আর যুদ্ধ। সারা পৃথিবী জুড়ে বাজছে রণদামামা। দ্রিমিদ্রিমি শব্দ ভারতের শিয়রে হাজির। হাসি পেল। বোমার ভয়ে শহর প্রায় ফাঁকা হয়ে এসেছে। বোম আদৌ পড়বে কি না তারই ঠিক নেই, কিন্তু বাড়ি-ঘরদোর ছেড়ে এর মধ্যেই গ্রামাঞ্চলে পালাতে শুরু করেছে কলকাতার বীরপুরুষরা। খিদে পেয়েছে— চনমন করছে পাকস্থলী। শরীরে ক্লান্তি বলে আর কিছুই নেই। ঝনঝন করে বেজে উঠল টেলিফোন। কস্তুরীর। সেই একই সাক্ষাৎস্থান। বেলা দুটো।

    সারা সকালটা চটপট কাজ করে গেলাম। মক্কেলদের সঙ্গে দেখা করলাম। টেলিফোনের ঘ্যানঘ্যানানিতেও বিরক্ত হলাম না। সবার স্বরেই সেই একই উত্তেজনা— যে উত্তেজনা রয়েছে আমার নিজের মধ্যেই। বোমার প্যানিক আরও ছড়িয়ে পড়েছে। দুপুর একটার মধ্যে একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে খাওয়া সেরে নিলাম। কফির কাপ নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা মারলাম কিছুক্ষণ। তারপর পৌঁছলাম বকুলতলায়।

    কস্তুরী আগেই এসে গেছিল। কিন্তু এ কোন শাড়ি পরেছে ও? সাদাসিধে বাদামি রঙের সেই তাঁতের শাড়ি… ভয়াবহ সেই দিনটিতে কস্তুরীর অঙ্গে ছিল এই শাড়িটিই… মুহূর্তের জন্যে শক্ত মুঠোয় কস্তুরীর কবজি চেপে ধরি আমি। বলি, ‘শরীরটা আজ বিশেষ ভালো নেই। জাপানিদের ভয়ে অবশ্য নয়। তুমি চালাও।’

    কস্তুরীকেও বিশেষ সুস্থ বলে বলে মনে হল না; গাড়ি চলতেই তা বুঝলাম— গিয়ার চেঞ্জ করছে আওয়াজ করে, ব্রেক কষছে আচমকা, স্ট্রিয়ারিংয়ের ওপর পালিশ-করা নখগুলোও খুব স্থির বলে মনে হল না।

    শ্যামবাজারের মোড়ে এসে কস্তুরী বললে, ‘চলো, অনেকদূর কোথাও যাই। খুব সম্ভব এই আমাদের শেষ ড্রাইভিং।’

    ‘কেন?’

    ‘কী যে হবে, তা বলা মুশকিল। যা-ই হোক না কেন, আমাকে হয়তো কলকাতা ছেড়ে যেতে হবে।’

    ‘কলকাতা ছেড়ে যাবে কেন? বোমা পড়ার সম্ভাবনা কিন্তু খুবই কম। অনেক দিন ধরেই সাইরেন বাজছে শহরে— কিন্তু বোমা পড়েছে কি?’

    কোনও জবাব নেই।

    ‘তবে কি আমার জন্যেই… আমার জন্যেই তুমি? কস্তুরী, তোমার জীবনে আর শনি হয়ে থাকতে চাই না আমি। দাও… কথা দাও, যে চিঠি তুমি একবার ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছিলে, সে চিঠি যেন আর দ্বিতীয় বারের জন্যে তোমার হাতে লেখা না হয়… কী বলতে চাই তা বুঝছ নিশ্চয়?’

    জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলে কস্তুরী। হঠাৎ গতি বাড়িয়ে ওভারটেক করল একটা লরিকে। চিড়িয়ার মোড়ের ওপর দিয়ে খসে-পড়া উল্কার মতো ছিটকে বেরিয়ে গেল গাড়িটা। তারপরেই কমে এল গতি।

    সামনের রাস্তার ওপর চোখ রেখে উত্তর দিলে কস্তুরী, ‘ও প্রসঙ্গ নিয়ে আর না-ই বা আলোচনা করলে?’ একটু থেমে মিনতি মাখানো গলায় আবার বললে, ‘কিছুক্ষণের জন্যে যুদ্ধ আর বোমাকেও ভুলে যাও।’

    ‘কিন্তু কস্তুরী, তোমার মনে আনন্দ নেই কেন?’

    জোর করে হাসবার চেষ্টা করল কস্তুরী, ফ্যাকাশে হাসি। বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে আমার।

    ‘কিছুই হয়নি আমার— দিব্বি মুডে আছি। সত্যি বলছি। দেখছ না, কীরকম ড্রাইভ করছি? মেজাজ খারাপ থাকলে কি এমনভাবে বেরোনো যায়? এমনিভাবেই যেখানে খুশি যেতে ইচ্ছে যায়, না ভেবেচিন্তে সামনে যে রাস্তা পাওয়া যায়— সেই রাস্তা ধরেই উধাও হয়ে যেতে চায় মনটা। মাঝে মাঝে ভাবি, জানোয়ার হয়ে জন্মালাম না কেন।’

    ‘বলছ কী কস্তুরী!’

    ‘একটুও বাড়িয়ে বলছি না। জন্তুদের আমি অনুকম্পা তো করিই না, বরং হিংসে হয় ওদের খুশিমতো চলার স্বাধীনতা দেখে। খায়, ঘুমোয়, ছুটে বেড়ায়— নিষ্পাপ, নিরীহ। অতীত নেই, ভবিষ্যৎও নেই।’

    ‘এ কী জীবনদর্শন!’

    ‘একে দর্শন বলে কি না, তা জানি না। কিন্তু ওদের দেখলেই ঈর্ষা হয় আমার।’

    এরপর টুকরো টুকরো কথা ছাড়া আর কিছু জমল না। পেছনে পড়ে রইল বেলঘরিয়া, আগরপাড়া, সোদপুর। পথের ঠিক মাঝখান দিয়ে নির্বিকারভাবে যাচ্ছিল একটা মোষ। বেপরোয়াভাবে আচমকা ডানদিকে নেমে গিয়ে পাকা রাস্তা ছেড়ে কাঁচা রাস্তার ওপর গাড়ি নামিয়ে দিল কস্তুরী। পরক্ষণেই লাফাতে লাফাতে উঠে পড়ল সড়কে। ঝাঁকুনির চোটে গায়ের ওপর গিয়ে পড়েছিলাম। স্পিডোমিটারের কাঁটাটা থরথর কবে কাঁপছে পঞ্চান্ন থেকে ষাট-এর মধ্যে। কস্তুরীর চোখে-মুখে কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া নেই এ-হেন সর্বনাশা বেগের। চোখের ওপর কয়েকগাছি চুল লেপটে ছিল— থিরথির করে কাঁপছিল দমকা হাওয়ায়— কিন্তু তা সরাবার কোনও প্রচেষ্টাই দেখা যাচ্ছিল না ওর মধ্যে। হুইলের ওপর হাত দুটি রেখে বসেছিল যন্ত্রের মতো। শ্যামনগরের কাছাকাছি ঠেলাগাড়ি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল একজন মুসলমান। বুড়োকে সরে যাওয়ার কোনও সময় না দিয়ে সাঁ করে ডান দিকের একটা সরু পথে নেমে পড়ল কস্তুরী। একটা পরিত্যক্ত ইটের পাঁজা পড়ে রইল পেছনে। সামনে একটা চৌমাথা। ডান দিকেই মোড় নিল কস্তুরী— খুব সম্ভব সেদিকের ঝোপঝাড়ের রাশি রাশি ফুলের আকর্ষণে। বাঁশের বেড়ার ওপাশ থেকে কালো কালো ছোপওয়ালা একটা ধলা গাই বড় বড় চোখ মেলে তাকিয়ে রইল নৃত্যপর গাড়িটার দিকে।

    এমনভাবে ড্রাইভ করছে কস্তুরী, যেন একটু আস্তে চালালেই দেরি হয়ে যাবে। অথচ তাড়াহুড়ো করার কোনও কারণ নেই। কাঁচা মাটির গর্তের ওপর দিয়ে তাই নাচতে নাচতে এগিয়ে চলল চার চাকার যন্ত্রযান। ঘড়ির ওপর চোখ নামালাম; এবার গাড়ি থামানো দরকার। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে কথার ছলে জেনে নেওয়া যাবে, কেন কস্তুরীর মন আজ এত উতলা। কিছু একটা লুকোবার চেষ্টা করছে ও। মনের গহনে এমন একটা জিনিস লুকিয়ে রেখেছে, যা দ্বিতীয় প্রাণীকে বলতে পারেনি। খুব সম্ভব বিয়ের আগে থেকে চলে এসেছে এই গোপনীয়তা। না বলার যাতনার বনিয়াদের ওপরেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ওর যত কিছু অস্বাভাবিক আচরণ। তীব্র অনুতাপের দহনও তো থাকতে পারে মনের গহনে। কস্তুরী অসুস্থ নয়, উন্মাদ নয়, ছলনাময়ী নয়। তা সত্ত্বেও এমন কোন রহস্য আছে ওর অতীত জীবনে যা কাউকে বলা যায় না, এতদিন কাউকে বলতেও পারেনি— স্বামীকেও নয়। যতই এই নিয়ে ভাবতে লাগলাম, ততই চিন্তাধারার যৌক্তিকতা সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হয়ে উঠতে লাগলাম আমি। কিন্তু কোন অপরাধে অপরাধিনী সে? নিশ্চয় গুরুতর কিছু।

    ‘চেনো ওই বুরুজটা?’ আচমকা প্রশ্ন করে কস্তুরী, ‘কোথায় এসেছি বলো তো?’

    ‘কোনটা?… ইয়ে… ওই বুরুজ?… না… এদিকে কোনওদিন আসিইনি। এবার থামা যাক, সাড়ে তিনটে বাজল।’

    সামনেই একটা চত্বর— এক সময়ে তা পাথরে বাঁধানো ছিল, কিন্তু আজ তা এবড়ো খেবড়ো ঘেসো জমিতে পরিণত হয়েছে। চত্বরের মাঝেই বেজায় উঁচু বুকটা পেছনের ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে কেমন-জানি বেমানান ঠেকছিল। পেছনে গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে। যে ধ্বংসস্তূপ দেখা যাচ্ছিল, নিশ্চয় তা পরিত্যক্ত নীলকুঠির।

    চত্বরের সামনে এসে গাড়ি দাঁড় করাল কস্তুরী।

    ‘অদ্ভুত গড়নটা। হঠাৎ দেখলে মুসলমান আমলের মিনারের মতো, কিন্তু খুঁটিয়ে দেখলে মনে হবে ফিরিঙ্গিদের ওয়াচ টাওয়ার। তা-ই না?’ বলে কস্তুরী।

    ‘বেজায় উঁচুও বটে।

    পায়ে পায়ে বুরুজের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। কালের শাসনে নীলকুঠি ভেঙে পড়লেও পরবর্তীকালে বহু মেরামতের চিহ্ন সারা অঙ্গে নিয়ে নীল আকাশের দিকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল বুরুজটা। ভেতরে ঢুকে পড়লাম দু-জনে।

    ফিসফিস করে বললে কস্তুরী, ‘কেউ এদিকে আসে না, কিন্তু আগাছাও বিশেষ দেখছি না। বুরুজের বর্তমান মালিকের প্রাণে শখ আছে বটে— পিকনিক করার উপযুক্ত জায়গা।’

    তা-ই বটে। ভাঙাচোরা নীলকুঠি, লম্বা লম্বা গাছপালার ঘেসো চত্বর আর পুরোনো বুরুজ— সব মিলিয়ে আইডিয়াল প্লেস। ভেতরে ঢুকলাম অত্যন্ত মন্থর পায়ে। পাথরের বেদীর ওপর সিঁদুর মাখানো একটা কালো শিলার সামনে এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল কস্তুরী। পরক্ষণেই হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে চোখ মুদে মাথা নিচু করে রইল কিছুক্ষণ। বাতাসের ছোঁয়া লেগে গোলাপের পাপড়ি নড়ার মতো অধরোষ্ঠে মৃদু কম্পন দেখে, পাথরের মূর্তির মতো অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এ কীসের প্রার্থনা? কীসের অনুশোচনা? কোন আত্মগ্লানি? গঙ্গার জলে তলিয়ে গিয়ে কি সেদিন রৌরব পথযাত্রিণী হতে চেয়েছিল রহস্যময়ী কস্তুরী? আর কাঠের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না, নতজানু হয়ে বসে পড়লাম পাশে, ‘কস্তুরী।’

    আস্তে আস্তে মাথা তুলল কস্তুরী; কাগজের মতো সাদা হয়ে গেছে মুখ।

    ‘কী হয়েছে? কস্তুরী, বলো আমাকে… কী হয়েছে?’

    ‘কিছু হয়নি।’ ফিসফিস করে উঠল কস্তুরী। ‘দুর্লভ, তুমি বিশ্বাস করো, এ দুনিয়ায় কিছুরই শেষ নেই, কিছুই একেবারে শেষ হয়ে যায় না। আমরা মনে করি, এই শেষ… কিন্তু তা নয়…’ বলে অনেকক্ষণ দুই করতলে মুখ লুকিয়ে রইল কস্তুরী। তারপর ভাঙা গলায় বললে, ‘চলো, যাওয়া যাক।’

    উঠে দাঁড়িয়ে কালো শিলার উদ্দেশে আর একবার কপালে দু-হাত ঠেকাল ও। কনুই ধরে টান দিলাম আমি।

    কোণের দিকে একটা কাঠের তক্তা-মারা দরজা, দরজার পরেই ঘুরপাক-খাওয়া বাংলা-ইটের সিঁড়ি।

    ‘কস্তুরী, ও দরজা নয়— ও সিঁড়ি ওপরে গেছে।’

    ‘চারপাশটা একটু দেখতে চাই।’ জবাব দিল কস্তুরী।

    ‘দেরি হয়ে যাচ্ছে!’

    ‘মিনিট খানেকের জন্যে উঠব আমি। বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করে দিয়েছিল ও, কাজেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও সিঁড়িতে পা দিলাম।

    ‘অত তাড়াতাড়ি যেও না, কস্তুরী।’

    সঙ্কীর্ণ খিলানওয়ালা সিঁড়ি-পথে গমগম করে উঠল আমার কণ্ঠস্বর। কিন্তু শুনেও শুনল না কস্তুরী— দ্রুততর হয়ে উঠল ওর চরণ। ছোট্ট একটা চাতালে পৌঁছে দেওয়ালের ফোকর দিয়ে বাইরে তাকালাম— নীলকুঠির ভাঙা ছাদ দেখা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তালগাছের সারি, তার ওপাশে মাঠে কাজ করছে কয়েকজন চাষী। এইটুকু উঁচুতে উঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলাম। ফোকর থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে আবার পা দিলাম সিঁড়ির ধাপে।

    ‘কস্তুরী… দাঁড়াও… আমাকে উঠতে দাও।’

    বেদম হয়ে পড়েছিলাম আমি। দপদপ করছিল মাথার শিরাগুলো। আর একটা চত্বর; আর একটা ফোকর। এবার হুঁশিয়ার হয়ে গেছি— বাইরে তাকালাম না; চোখ রাখলাম ভেতর দিকে— নীচের দিকেও নয়। খাড়াই ধাপগুলো এমনভাবে গোঁৎ খেয়ে চোখের আড়ালে হারিয়ে গেছে যে, দেখলেই গা শিরশির করে ওঠে। বুরুজের চারপাশে কাকের কর্কশ চিৎকার শুনতে পেলাম। ঝোঁকের মাথায় উঠে তো পড়লাম, নামব কী করে?

    ‘কস্তুরী!’

    উদ্বেগে কী রকম ভাঙা ভাঙা শোনাল নিজের স্বর। শেষকালে কি এই অন্ধকারের মধ্যে ছেলেমানুষের মতো গলা ছেড়ে কেঁদে উঠতে হবে? ফোকরটার মধ্যে দিয়ে আলোর তির্যক রেখা চোখে পড়ছিল। জানি ও-জায়গায় চোখ রাখলে মাথা ঘুরে উঠবে। তবুও ফোকরটার কাছে এসে বাইরে না তাকিয়ে পারলাম না। গাছগুলোর মাথা ছাড়িয়ে এসেছি। নীলকুঠি আরও ছোট হয়ে এসেছে। শিস দেওয়ার মতো শব্দ করে বাইরের হাওয়া ফোকর দিয়ে আছড়ে পড়ছে মুখের ওপর। চাতালের সামনেই একটা দরজা। বন্ধ দরজা। ঠেলা দিয়েও খুলতে পারলাম না। এখনও চুড়োটা আসেনি। দরজার ফাঁক দিয়েই দেখা যাচ্ছিল আর এক পাক ঘুরে উঠে গেছে সিঁড়ির সারি। কিন্তু সিঁড়ির পাশে দেওয়াল আর নেই— খোলা আকাশ।

    ‘কস্তুরী!… দরজা খোলো।’

    ক্ষিপ্তের মতো পাল্লার ওপর ঘুঁষি মারতে লাগলাম। মতলব কী কস্তুরীর? কী করতে চায় ও?

    ‘কস্তুরী… কস্তুরী!’ পাগলের মতো চেঁচাতে থাকি আমি। ‘এ কাজ কোরো না… কোরো না… আমার কথা শোনো!’

    ব্যঙ্গ করে উঠল প্রতিধ্বনি। গমগম করে উঠল গোটা বুরুজটা। ক্ষিপ্তের মতো ফিরে দাঁড়ালাম ফোকরটার দিকে। না, ফোকর ঠিক নয়, গবাক্ষ বলা যায়। বেশ বড় আকারের। কষ্টে-সৃষ্টে বেঁকে দুমড়ে একটা মানুষের দেহ বেরিয়ে যেতে পারে। তারপরেই ফুটখানেক চওড়া আলসেটায় পা দিয়ে দেওয়াল আঁকড়ে ঘুরে গেলেই দরজার ওদিকে সিঁড়ির গোড়ায় পৌঁছোন যায়। চেষ্টা করলে যাওয়া যায় নিশ্চয়… যে কোনও পুরুষের পক্ষে তা সম্ভব… কিন্তু আমার পক্ষে তা অসম্ভব! গেলেই পড়ব… মাথা ঘুরে পড়ে যাব… না, এ পথে যাওয়া অসম্ভব!

    ‘কস্তুরী! কস্তুরী!’ বিকট ভাঙা গলায় আবার চেঁচিয়ে উঠলাম। আবার— আবার।

    উত্তরে ভেসে এল একটা তীক্ষ্ণ আর্ত-চিৎকার। সাঁ করে ফোকরের সামনে দিয়ে নেমে গেল একটা ছায়া। সজোরে আঙুলের গাঁট কামড়ে ধরে নিঃসীম আতঙ্কে কাঠ হয়ে সময় গুনতে লাগলাম— ছেলেবেলায় এমনিভাবেই বিদ্যুৎ আর বাজের আওয়াজের মাঝের সময় গুনতাম আমি।

    ভেসে এল সেই বজ্রনির্ঘোষ… বহু নীচ থেকে একটা ভয়ংকর শব্দ। মৃত্যুপথযাত্রীর মতো দম আটকে-যাওয়া আকুল কণ্ঠে বারবার ককিয়ে উঠলাম—

    ‘কস্তুরী… কস্তুরী… না… না… না…’

    বসে পড়েছিলাম। দাঁড়িয়ে থাকার বিন্দুমাত্র শক্তিও ছিল না হাঁটুতে। মনে হল, এবার জ্ঞান হারাব। না দাঁড়িয়েই বসে বসে একটু একটু করে দেহটাকে টেনে টেনে নামাতে লাগলাম নীচে— এক ধাপ থেকে আর এক ধাপে— এক চাতাল থেকে আর এক চাতালে। শামুকের মতো গতি… কিন্তু এর বেশি আর কিছু করার ক্ষমতাও ছিল না। গোঙাতে লাগলাম আতঙ্কে আর অপরিসীম নিরাশায়। প্রথম চাতালে নেমে একবার ফোকর দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিলাম। হাঁটু গেঁড়ে বসে উঁকি দিয়েছিলাম গবাক্ষের মধ্য দিয়ে বাইরে।

    অনেক নীচে বাঁ-দিকে ভাঙা পাথরের টুকরো আর ঘাসজমির ওপর, ভীষণভাবে খাড়াই বুরুজের দেওয়ালের প্রায় গা ঘেঁষে পড়েছিল বীভৎসভাবে দোমড়ানো মোচড়ানো আকারহীন কুৎসিত বাদামি কাপড়ের একটা পিণ্ড।

    পাথরের ওপর খানিকটা রক্ত, একটা হাঁ-করা ভ্যানিটি ব্যাগ— ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে পড়েছে হাতির দাঁতের ফ্রেমে বাঁধানো ছোট্ট একটা আয়না।

    অশ্রুবাষ্পে ঝাপসা হয়ে গেল সবকিছু। দেহটার কাছে যাওয়ার কথাও আর ভাবতে পারলাম না। কস্তুরী মারা গেছে। সেই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে দুর্লভ সামন্তর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশার্লক হোমস, প্রফেসর চ্যালেঞ্জার ও মঙ্গলগ্রহ – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব) – সম্পাদনা : অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }