Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেত-প্রেয়সী – অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেত-প্রেয়সী – ১.৬

    (৬)

    দূর থেকেই ঝাপসা চোখে তাকালাম নিষ্প্রাণ দেহটির দিকে। বুরুজ থেকে বেরিয়ে এসেছি বটে, কিন্তু আর এক পা-ও এগোবার সামর্থ্য ছিল না। মনে পড়ল একদিন বিড়বিড় করে বলেছিল কস্তুরী, ‘মরতে আমার ভালো লাগে।’

    ইসমাইলের সম্বন্ধে সবাই তা-ই বলেছিল। কস্তুরীর মতোই মাথা নীচের দিকে করে আছড়ে পড়েছিল সে। যন্ত্রণা ভোগ করার কোনও সময়ই পায়নি। সত্যিই কি তা-ই? ফুটপাতের পাথরে থেঁতলে গেছিল ইসমাইলের মাথা, ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটকে পড়েছিল চারপাশে…

    আর ভাবতে পারলাম না। হাসপাতালে গিয়ে ইসমাইলের দেহাবশেষ দেখেছিলাম। কস্তুরীর চাইতেও কম উঁচু জায়গা থেকে পড়েছিল সে। কল্পনায় সেই ভয়ংকর সংঘর্ষ প্রতিটি স্নায়ু দিয়ে উপলব্ধি করলাম… প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মতো আচমকা রেণু রেণু হয়ে গেছিল মনটা— অণুপরমাণুতে গুঁড়িয়ে যাওয়া মূল্যবান আয়নার মতোই। পোশাকের একটা প্রাণহীন দলা ছাড়া কস্তুরীরও আর কিছু অবশিষ্ট নেই!

    জোর করে আরও কাছে এগিয়ে গেলাম। অসহ কষ্ট হলেও আমাকে দেখতে হবে এই দৃশ্য। এ ঘটনার জন্যে দায়ী আমি নিজেই— না দেখে পালানোর পথ কি আছে? অশ্রুপর্দার মধ্যে দিয়ে একটা ঝাপসা ছবি দেখলাম। দেখলাম, পাগলিনীর মতো চুলের রাশি ছড়িয়ে পড়েছে চোখে-মুখে-বুকে; ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে রুধিররঞ্জিত তিলোত্তমানিন্দিত মুখটি; যেন মোম দিয়ে গড়া একটি হাত ছড়িয়ে রয়েছে জমির ওপর— অনামিকায় চিকমিক করছে একটি আংটি। সামর্থ্যে কুলোলে ওই আংটিটি খুলে নিয়ে আসতাম, আমৃত্যু ধারণ করতাম নিজের আঙুলে। কিন্তু সে-শক্তি নেই আমার। তাই কুড়িয়ে নিলাম শুধু আয়নাটা।

    একটু একটু করে পিছু হটে এলাম। নির্নিমেষ দৃষ্টি রইল নিষ্প্রাণ দেহপিণ্ডটির ওপর— এমনভাবে তাকিয়ে রইলাম যেন ও দেহের প্রাণপ্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছি আমি স্বয়ং। আচম্বিতে ভয়ানক ভয় ঘিরে ধরল আমাকে— এ ভয় সামনের ওই বীভৎস তালগোল পাকানো দেহটিকে নিয়ে। কর্কশ শব্দে কা-কা করে ওপর দিয়ে উড়ে গেল কয়েকটা কাক।

    পেছন ফিরেই দৌড়োলাম। হাতের শক্ত মুঠোয় ঘেমে উঠেছিল আয়নাটা। এক দৌড়ে চত্বর পেরিয়ে উঠে বসলাম গাড়িতে।

    সব তো শেষ হয়ে গেছে। ইহলোক থেকে কস্তুরী বিদায় নিল কেন, কোনওদিনই কেউ তা জানতে পারবে না। জানতেও পারবে না যে আমিও হাজির ছিলাম, থেকেও দরজার বাধা পেরিয়ে পৌঁছোতে পারিনি বুরুজের চুড়োয়। উইন্ডস্ক্রিনের ওপর নিজের ছায়া দেখে মনে মনে এতটুকু হয়ে গেলাম আমি। নিদারুণ ধিক্কারে ভরে উঠল সমস্ত অন্তর। এর চাইতে মরে যাওয়াও ভালো। বেঁচে থাকাটাও এখন নরক বাসের সামিল।

    উন্মাদের মতো অনেকক্ষণ ড্রাইভ করেছিলাম সেদিন। হঠাৎ সম্বিত ফিরে আসতে সচমকে দেখলাম সোদপুরের মধ্য দিয়ে ঝড়ের মতো উড়ে চলেছে গাড়ি। ফাঁড়িতে গেলে হয় না? লোকজন জড়ো করা উচিত নয় কি? না। আইনের চোখে কোনও অপরাধ করিনি। উলটে সবাই ভাববে কাপুরুষ… দুর্লভ সামন্ত কাপুরুষ! উঁচুতে ওঠার মতো পৌরুষ তার নেই।

    সন্ধে ছ-টার সময়ে শ্যামবাজার পেরিয়ে কলকাতায় ঢুকলাম। মহেন্দ্রকে সব বলতে হবে। বলতেই হবে, পালিয়ে গেলে চলবে না।

    একটা বারে ঢুকে চোখে মুখে জল ছিটিয়ে চুল আঁচড়ে নিলাম। তারপর কাউন্টারের সামনে গিয়ে তুললাম রিসিভার। মহেন্দ্র কৌশিক এখন অফিসে নেই— বাইরে গেছেন। আজ আর ফেরার সম্ভাবনা নেই। টেবিলে বসে এক গেলাস ব্র্যান্ডি ঢেলে দিলাম গলায়। ফুটন্ত পদ্মফুলের মতো মেয়েটিকে ইহজগতে আটকে রাখার জন্যে আরও বেশি মানোবলের দরকার ছিল আমার। তা যখন নেই, তখন…

    আর এক গেলাস চাই। একবার তাকে জীবন দিয়েছিলাম। কিন্তু কই, সে জীবন তো ধরে রাখতে পারলাম না? আমার জন্যেই সে…

    ব্র্যান্ডির দাম চুকিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এলাম। পাহাড়ে ওঠার মতো ক্লান্তি নেমেছে সারা অঙ্গে। স্টিয়ারিং হুইলে হাত দিয়েই মনটা কীরকম হয়ে গেল। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই হুইলেই হাত দিয়েছিল সে। প্রেততত্ত্ববিদদের মতো যদি রুমাল বা খাম বা যে কোনও জিনিস ছুঁয়েই অনেক কিছু জানা যেত! কস্তুরীর জীবনদীপ নিবে যাওয়ার ঠিক আগের যন্ত্রণাময় মনটিকে জানার জন্য সর্বস্ব দিতেও প্রস্তুত আমি। না, না, এ কী ভাবছি? কোনও যন্ত্রণাই পায়নি কস্তুরী। জীবনের প্রতি নির্লিপ্ততাই তার একমাত্র গোপন রহস্য। তাই তো এ জীবনকে পুরোনো খোলসের মতোই ছেড়ে গেল সে। মাথা নীচের দিকে করে হাত দুটো দু-দিকে ছড়িয়ে দিয়ে লাফিয়েছিল ও— আলিঙ্গন করতে উদ্যত হয়েছিল সেই ধরিত্রীকেই যে নির্মমভাবে ক্ষণপরেই প্রাণহীন করে দিয়েছিল তার দেহবল্লরীকে। মনে হয় যেন, ও পালায়নি… অন্য কোথাও গেছে… স্বগৃহে যাওয়ার মতোই…

    এতটা ব্র্যান্ডি খাওয়া ঠিক হয়নি। একই চিন্তা বনবন করছে মাথার কোষে কোষে। এসে গেছে মহেন্দ্রর বাড়ি। ওই তো কালো গাড়িটা। ঠিক পেছনেই পার্ক করলাম। লাল মখমলের কার্পেট মোড়া সাদা মার্বেলের সিঁড়ি পেরিয়ে গটগট করে উঠে গেলাম ওপরে। তামার নেম প্লেটে ঝকমক করছে মহেন্দ্র কৌশিকের নাম। কলিংবেলের বোতাম টিপে দিয়ে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়ালাম আমি।

    কস্তুরীর বাড়ি। বড় বড় কয়েকটা অয়েল পেন্টিং ঝুলছিল দেওয়ালে। অদ্ভুত ছবি। মানে বোঝা ভার। উঠে গিয়ে দাঁড়ালাম একটার নীচে। এককোণে নাম লেখা— কস্তুরী। ওগুলো কী? জানোয়ারের ছবি? কোন দেশের জন্তু এরা? আরেক জগতে কস্তুরীকে আহ্বান করে নিয়ে গেল কি এরাই? কোথায় দেখেছে কস্তুরী অত বড় কালো লেক? জলপদ্ম? দানবিক গাছের বুকে কালো কেউটের মতো লতার রাজত্ব? আর একটা ছবিতে একজন তরুণী মহিলার কণ্ঠে ঝুলছে একটা মণিহার। উমা দেবী। খোঁপাটা ঠিক কস্তুরীর মতো। মুখটা যেন আত্যন্তিক যন্ত্রণায় ঈষৎ বিকৃত— পলকহীন চোখে তাকিয়েছিলাম ছবিটার পানে— এমনি সময়ে খুলে গেল পেছনের দরজা।

    ‘এসেছ!’ মহেন্দ্রর গলা।

    বোঁ করে ঘুরে দাঁড়ালাম।

    ‘এসেছেন উনি?’

    ‘কে?… সে তো তুমিই জানো?’

    ধপ করে বসে পড়লাম একটা ইজিচেয়ারে। উদ্‌ভ্রান্ত মনকে মুখে ফুটিয়ে তোলার জন্যে কোনও অভিনয়ই করতে হল না।

    ‘আজ আমরা বেরোইনি… চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম। তারপরেই গেলাম ঘোষপাড়া— যদি দেখা পাই। এই আশায়। চিতপুরের সেই হোটেলেই গেছিলাম… সেখানে থেকেই আসছি আমি… এখানেও যদি না থাকে…’

    কাগজের মতো সাদা হয়ে গেল মহেন্দ্র। ঠেলে বেরিয়ে এল চোখ দুটো। হাঁ হয়ে গেল মুখটা।

    ‘না, না… দুর্লভ…’ তোতলাতে থাকে মহেন্দ্র, ‘তুমি মিথ্যা বলছ… তুমি… তুমি…’

    গালে হাত বুলিয়ে নিয়ে বললাম, ‘বিশ্বাস করো। কোথাও খুঁজতে বাকি রাখিনি আমি।’

    ‘অসম্ভব… বুঝতে পারছ না…’

    কার্পেটের ওপর সজোরে লাথি মেরে দুই হাত কচলাতে কচলাতে ধপ করে একটা সোফায় বসে পড়ল মহেন্দ্র।

    খাবি খেতে খেতে বলল, ‘খুঁজে বার করতেই হবে… এক্ষুনি— যে ভাবেই হোক… বার করতেই হবে… আমি… আমি…’

    ‘স্ত্রীলোক যদি পালিয়ে যেতেই চায়, তখন তাকে বাধা না দেওয়াই ভালো।’

    ‘পালিয়ে যেতে চায়? পালিয়ে যেতে চায়? কস্তুরী যেন পালিয়ে যাওয়ার মেয়ে!… এতক্ষণে হয়তো সে…’

    লাফিয়ে দাঁড়িয়ে উঠল মহেন্দ্র। ধাক্কা লেগে উলটে গেল কাশ্মীরি আতরদান বসানো একটা ছোট্ট টেবিল।

    ‘কী করি বলো তো, কী করা উচিত এখন? তুমি তো জানো এ অবস্থায় পড়লে কী করা দরকার? চুপ করে থেকো না, দোহাই তোমার, উত্তর দাও।’

    ‘সবাই হাসবে। দু-তিনদিন পরেও ফিরে না এলে অবশ্য আলাদা কথা।’

    ‘কিন্তু তুমি বললে হাসবে না। তুমি উকিল মানুষ… তা ছাড়া তুমি যদি বুঝিয়ে বলো সবাইকে যে আরও একবার আত্মহত্যা করতে চেষ্টা করেছিল কস্তুরী। সেবার গঙ্গা থেকে ওকে তুলে না আনলে কী যে হত… আজও হয়তো সেই চেষ্টাই করেছে ও… তুমি বললে বিশ্বাস করবে সবাই… নিশ্চয় করবে…’

    ‘কিস্যু করার দরকার নেই। এই তো ক-ঘণ্টা হল বাইরে গিয়েছেন উনি। রাত্রে খাবার আগেই আবার ফিরে আসবেন-খন, এ নিয়ে এত চিন্তার কী দরকার?’

    ‘যদি না আসে?’

    ‘না এলেও তার অন্তর্ধানের বৃত্তান্ত রিপোর্ট করাটা তো আমার ব্যাবসা নয়।’

    ‘অর্থাৎ তুমি সরে দাঁড়াচ্ছ?’

    ‘ঠিক তা নয়… একটু বুঝতে চেষ্টা করো… পুলিশে স্বামীই খবর দেবে— এইটাই কি স্বাভাবিক নয়?’

    ‘বেশ এখুনি দিচ্ছি।’

    ‘মিছে লোক হাসাবে। ক-ঘণ্টা হল তোমার স্ত্রী বাড়ি ফেরেননি। তোমার এই কেস শুনে আর সামান্য এই প্রমাণ নিয়ে তারা কোনও অ্যাকশনই নেবে না। যা বলবে তা-ই লিখে নিয়ে সাফ বলে দেবে, পাওয়া গেলেই খবর দেওয়া হবে। এর বেশি আর কিছুই করবে না।’

    আলগোছে বুকের ওপর দু-হাত ভাঁজ করে রাখল মহেন্দ্র।

    ‘কিন্তু এইভাবে যদি নিষ্কর্মা হয়ে চুপচাপ বসে থাকতে হয় আমাকে, তাহলে নির্ঘাত পাগল হয়ে যাব।’

    আবার পায়চারি শুরু করল মহেন্দ্র। তারপর জানলার সামনে পেতলের ঝকমকে টবে রাখা একগুচ্ছ গোলাপের পানে তাকিয়ে রইল বিষণ্ণ চোখে।

    ‘এবার তো আমাকে উঠতে হয়।’ বললাম আমি।

    একটুও নড়ল না মহেন্দ্র। নির্নিমেষে চোখে তাকিয়ে রইল গোলাপগুচ্ছের পানে। সামান্য একটা কাঁপন চকিতে জেগে উঠেই মিলিয়ে গেল মুখের রেখায় রেখায়।

    দরজার দিকে যেতে যেতে বললাম, ‘ফিরে এলে আমাকে ফোনে খবরটা দিও।’

    আর নয়, এইবার যাওয়ার সময় হয়েছে। নিজের চোখের ওপর আস্থা রাখতে পারছিলাম না। নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না মুখের মাংসপেশিগুলোকে। মুখ-বন্ধ আগ্নেয়গিরির মতোই নিষ্ঠুর সত্য ফুঁসে উঠে আসতে চাইছে ওপরে।

    চৌকাঠে পা দিয়ে পেছন ফিরে তাকালাম। দুই করতলে মাথা গুঁজে পাথরের মতো দাঁড়িয়েছিল মহেন্দ্র। আঙুলের ওপর ভর দিয়ে হলঘরটা পেরিয়ে এলাম। সবচেয়ে কঠিন অংশটুকু ভালোভাবেই শেষ করা গেছে। যবনিকা পড়েছে মহেন্দ্রর কেসে। এবার ওর মানসিক যন্ত্রণা… কিন্তু আমার যাতনা কি তার চাইতেও বেশি নয়? অনেক বেশি! গাড়িতে বসে দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিলাম। প্রথম থেকেই কস্তুরীর প্রকৃত স্বামীরূপে নিজেকে কল্পনা করে এসেছি— সুতরাং আমার মনোবেদনা তো বেশি হবেই। মহেন্দ্র তো এতদিন জবরদখল করেছিল কস্তুরীকে। কাজে কাজেই এ-হেন নীচ ব্যক্তির জন্যে নিজেকে কি কেউ উৎসর্গ করে? না, পুলিশে গিয়ে বলে যে, একদিন আমরা সহপাঠী ছিলাম, বন্ধুর তরুণী ভার্যার আত্মহত্যার সময়ে হাজির ছিলাম অকুস্থলে— কিন্তু তাকে নিবৃত্ত করার সাহস আমার ছিল না…! এখন কোথাও চলে গেলেই ভালো ছিল। বাঁকুড়ার সেই মক্কেলের কেসটি নিলে কলকাতা ছেড়ে কিছুদিন দূরে সরে যাওয়া যায়।

    কীভাবে গাড়ি চালিয়ে গ্যারেজে গাড়ি তুলেছিলাম সেদিন, তা জানি না। হঠাৎ চমকে উঠে দেখি, পা টেনে টেনে হাঁটছি আমি। ব্ল্যাক আউটের রাস্তা। ঠুলিপরা ল্যাম্পপোস্ট; তারার আলোর মতো ফ্যাকাশে আলো। বেশি রাত হলেই রাস্তাগুলো আজকাল আরও জনহীন হয়ে যাচ্ছে। সকাল সকাল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানগুলো। খাঁ-খাঁ করছে মোড়গুলো। মাঝে মাঝে দেখা যায় সামরিক যানের যাতায়াত। যুদ্ধের আতঙ্কে সত্যি সত্যিই মুষড়ে পড়েছে শহরের আত্মা। আর, সবাই যেন ষড়যন্ত্র করে বারবার আমার মনকে ঠেলে ঘুরিয়ে দিচ্ছে মৃত কস্তুরীর চিন্তায়। সামনেই একটা রেস্তোরাঁ দেখে ঢুকে পড়লাম।

    ‘ওমলেট আর টোস্ট।’

    কিছু খাওয়া দরকার। দু-দিন আগেকার স্বাভাবিক জীবনে আমাকে ফিরে যেতেই হবে। খিদে না পেলেও খেতে হবে। পকেটে হাত দিতেই আয়নাটা আঙুলে ঠেকল। সঙ্গে সঙ্গে সাদা টেবিল ক্লথ আর চোখের মাঝে যেন ভেসে উঠল সেই মুখ… কস্তুরীর মুখ।

    কলের পুতুলের মতো চামচ দিয়ে ওমলেটটা কেটে কেটে মুখে পুরতে লাগলাম। বৈরাগীর মতো নির্লিপ্ত হয়ে উঠেছি ইহসংসারের সবকিছুর প্রতি। এখন থেকে কপর্দকহীনের মতো জীবনযাপন করব— শোকসাগরে নিমজ্জিত থাকব প্রতিটি মুহূর্ত; প্রায়শ্চিত্ত করব আমৃত্যু— এ ছাড়া আর পথ নেই। ঘৃণার আগুনে তিল তিল করে পুড়িয়ে মারতে হবে নিজেকে— যতদিন না আত্মসম্মানের নতুন কোনও অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে অন্ধকার জীবনে।

    রাস্তায় বেরিয়ে এলাম। আরও অন্ধকার হয়ে এসেছে শহর। বড় বড় বাড়ির ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ তারার রোশনাই। মাঝে মাঝে সাঁ করে বেরিয়ে যাচ্ছে একটা মোটর, মিলিটারি সাঁজোয়া গাড়ি— হেড লাইটগুলোকেই ঠুলি পরিয়ে রেখেছে বোমার ভয়ে। মন স্থির করে উঠতে পারলাম না বাড়ি যাব কি না। ভয় টেলিফোন যন্ত্রটাকে— ঝনঝন করে বেজে উঠে নিয়ে আসবে সেই ভয়ংকর সংবাদ— লাশ পাওয়া গেছে! তা ছাড়া যে-দেহের অক্ষমতার জন্যে কস্তুরীর প্রাণবিয়োগ ঘটল, সে দেহকে ক্লান্তিদেহে আরও কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে চাই। বাষ্পাচ্ছন্ন চোখে ক্ষিপ্তের মতো এলোমেলোভাবে এদিকে-ওদিকে করলাম কিছুক্ষণ। ভোর না হওয়া পর্যন্ত এই ভাবেই নির্যাতিত হোক অপটু দেহ। কস্তুরী! কস্তুরী! হতভাগিনী কস্তুরী!

    অশ্রু এবার আর বাধা মানল না। উপচে উঠে গড়িয়ে পড়ল চোখের কোল বেয়ে। জলের ধারা মুছলাম না। কাঁদলে মনটা অনেকটা লঘু হয়ে যায়। বুকের অসহ্য অবর্ণনীয় টনটনে ব্যথাটা একটু যেন ফিকে হয়ে আসে। জমাট বাঁধা বেদনাটাই যেন গলে গলে অশ্রু হয়ে বেরিয়ে আসছে। আসুক। সামনে ও কীসের জল? গঙ্গা। ওই বেঞ্চিটায় একটু বসা যাক। বড় ঠান্ডা পড়েছে।

    তাতে কী? মাথাটা ঝিমঝিম করছে। চোখ জুড়ে আসছে। ওই সেই গঙ্গা… যেখানে কস্তুরী… আয়না…

    ভোরবেলা হি-হি করে কাঁপতে কাঁপতে উঠে বসলাম। ডান পায়ের শিরা টেনে ধরছে দারুণ ঠান্ডায়। রাস্তায় নেমে এসে এক ভাঁড় চা খেয়ে রওনা হলাম বাড়ির দিকে।

    দরজা বন্ধ করতে না-করতেই বেজে উঠল টেলিফোনের ঘণ্টা। ‘হ্যালো! কে, দুর্লভ?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘যা ভয় করেছিলাম, কস্তুরী আত্মহত্যা করেছে।’

    কিছু না বলাই ভালো। প্রায় দমবন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলাম আমি।

    ‘কালকেই খবর পেলাম। একটা বুরুজের নীচে ওর লাশ দেখতে পেয়েছে একজন বুড়ি।’

    ‘বুরুজ? কোথায়?’

    ‘শ্যামনগরের কাছে ভাঙা নীলকুঠির বুরুজ…’

    ‘ওখানে কী করতে গেছিলেন উনি?’

    ‘বুরুজের চুড়ো থেকে নীচের উঠোনে লাফিয়ে পড়েছিল কস্তুরী। ডেডবডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

    ‘কী শোচনীয় মৃত্যু! তুমি যাচ্ছ নাকি?’

    ‘এইমাত্র ফিরলাম আমি। খবর পেয়েই ছুটেছিলাম। তোমাকেও সঙ্গে নিতে চেয়েছিলাম— কিন্তু বাড়িতে ছিলে না তুমি। কিছু জরুরি কাজ ছিল বলে কলকাতায় এসেছি— এখুনি আবার ফিরে যাচ্ছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

    ‘তা তো করবেই। যদিও এ মৃত্যু সুইসাইড ছাড়া আর কিছুই নয়।’

    ‘কয়েকটা গোলমেলে ব্যাপার দেখে মাথা গুলিয়ে গেছে পুলিশের। যেমন ধরো, সুইসাইডই যদি করতে হয়, এতদূরে আসার দরকারটা কী! কী যে ছাই বলি আমি, বুঝতে পারছি না। ওদেরকে এ-কথাটাও আমি জানাতে চাই না যে কস্তুরী…’

    ‘অতদূর ওরা এগবেই না।’

    ‘যাই হোক, আমার সঙ্গে তুমি থাকলে স্বস্তি পেতাম।’

    ‘যাওয়ার তো এখন প্রশ্নই ওঠে না, কেননা একটা জরুরি মোকদ্দমার ব্যাপারে বাঁকুড়া যেতে হচ্ছে আমাকে।’

    ‘অনেকদিন লাগবে নাকি?’

    ‘না, না, দিনদুয়েকের ব্যাপার। তা ছাড়া আমাকে তোমার দরকারই হবে না।’

    ‘আবার ফোন করব-খন।’ জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে বলল মহেন্দ্র— ঠিক যেন হাঁপাচ্ছে।

    লাইন কেটে দিলাম। দেওয়ালের ধরে টলতে টলতে বিছানার ওপর গিয়ে শুয়ে পড়লাম চিত হয়ে। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে আমার।

    একটু পরেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল ক্ষতবিক্ষত চেতনা।

    সেই দিনই বাঁকুড়ার রওনা হয়েছিলাম। ছুটন্ত ট্রেনের তালে তালে মন ছুটে গেছিল শ্যামনগরের নীলকুঠির সেই প্রাঙ্গণে। উঁচু বুরুজের সামনে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ— তার ওপরে পড়ে একটি রক্তাক্ত মাংসপিণ্ড… পুলিশ নিশ্চয় পোস্টমর্টেম করে আরও কদাকার ভয়াবহ করে তুলেছে সেই অপরূপ তন্বী দেহটিকে। কতদূর এগল তদন্ত? যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যে আসল রহস্যের সন্ধান কি পাওয়া যাবে?

    বাঁকুড়ার হোটেলে আস্তানা নিয়েছিলাম। পরের দিন কাগজ খুলে খুঁজেছিলাম খবরটা। ভেতরের পৃষ্ঠায় এককোণায় বেরিয়েছিল মাত্র ক-টি লাইন। বড় বড় যুদ্ধের ছবি আর খবরের ভিড়ে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল লাইন ক-টি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। তাদের সন্দেহ এ মৃত্যু আত্মহত্যা নয়। মহেন্দ্র নিশ্চয় নাজেহাল হচ্ছে পুলিশের জেরার সামনে। আর ক-টা দিন। তারপরেই ফিরে গিয়ে ভেবে দেখব। পুলিশের সামনে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে মহেন্দ্রকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করব কি না, তা ভেবে দেখব কলকাতায় ফেরার পর।

    কিন্তু সে সুযোগ আর এল না। দু-দিন পরেই জাপানিরা বোমা ফেলল কলকাতায়। কীরকম যেন হয়ে গেলাম। কলকাতায় ফিরে এসে সামান্য ক-টি সুটকেস নিয়ে ফ্ল্যাট ছেড়ে আবার পা বাড়ালাম কলকাতার বাইরে। ঘুণাক্ষরেও তখন জানতে পারিনি, প্রবাসেই অতিবাহিত হবে এতগুলি বছর। ঘটনার পাকেচক্রে এমন জড়িয়ে পড়লাম যে দীর্ঘ চারটি বছর হারিয়ে গেল কালের গর্ভে— কলকাতায় ফেরার কোনও সুযোগই পেলাম না।…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশার্লক হোমস, প্রফেসর চ্যালেঞ্জার ও মঙ্গলগ্রহ – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব) – সম্পাদনা : অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }