Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেম – সৈয়দ মুজতবা আলী

    সৈয়দ মুজতবা আলী এক পাতা গল্প91 Mins Read0
    ⤷

    ০১. নর-নারীর আবির্ভাব

    ০১.

    মাঝে মাঝে আমাদের এই অঞ্চলে এমন সব নর-নারীর আবির্ভাব হয় যে, তার পর যত দীর্ঘকালই কেটে যাক না কেন, তাদের কথা স্মরণে এলেই যেন অন্তরাত্মা পর্যন্ত শিউরে ওঠে। এবং এদের মধ্যে নিশ্চয়ই পড়ে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী, কাতেরিনা লভভূনা ইসমাইল। এর জীবন এমনই বীভৎস নাটকীয় রূপ নিয়েছিল যে, আমাদের সমাজের পাঁচজন ভদ্রলোক কোনও এক মশকরাবাজের অনুকরণে একে নাম দিয়েছিল, মৃৎসেন জেলার লেডি ম্যাকবেৎ।

    কাতেরিনা তেমন কিছু অপূর্ব রূপসী ছিল না, কিন্তু চেহারাটি ছিল সত্যই সুশ্রী। তখন তার বয়েস সবে চব্বিশ; মাঝারি রকমের খাড়াই, ভালো গড়ন আর গলাটি যেন মার্বেল পাথরে কোদাই। ঘাড় থেকে বাহু নেমে এসেছে সুন্দর বাঁক নিয়ে, বুক আঁটসাঁট, নাকটি বাঁশির মতো শক্ত আর সোজা, শুভ্র উন্নত ললাট আর চুল এমনিই মিশমিশে কালো যে আসলে ওটাকে কালোয়-নীলে মেশানো বলা যেতে পারে। তার বিয়ে হয়েছিল ব্যবসায়ী ইসমাইলফের সঙ্গে। সে বিয়েটা প্রেম বা ওই ধরনের অন্য কোনও কারণে হয়নি– আসলে ইসমাইল তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল ওই যা, আর কাতেরিনা গরিবের ঘরের মেয়ে বলে বিশেষ বাছবিচার করার উপায় তার ছিল না।

    ইসমাইলফ পরিবার আমাদের শহরে গণ্যমান্যদের ভিতরই। তাদের ব্যবসা ছিল সবচেয়ে সেরা ময়দার, গম পেষার জন্য বড় কল তারা ভাড়া নিয়েছিল, শহরের বাইরে ফলের বাগান থেকে তাদের বেশ দু পয়সা আসত এবং শহরের ভিতরে উত্তম বসতবাড়ি। মোদ্দা কথায়, তারা ধনী ব্যবসায়ীগুষ্ঠির ভিতরেরই একটি পরিবার। তার ওপর পরিবারটিও মোটেই পুষ্যিতে ভর্তি নয়। শ্বশুর তিমোতেইয়েভি ইসমাইল, আশির মতো বয়েস, বহুকাল পূর্বে তার স্ত্রী মারা গেছে। তার ছেলে, কাতেরিনার স্বামী জিনোভিই বরিসিছ, পঞ্চাশের চেয়েও বেশ কিছু বেশি আর সর্বশেষে কাতেরিনা, ব্যস। পাঁচ বছর হল কাতেরিনার বিয়ে হয়েছে কিন্তু এখনও ছেলেপুলে কিছু হয়নি। প্রথম পক্ষের স্ত্রীও কোনও সন্তান রেখে যায়নি– জিনোভিইয়ের সঙ্গে কুড়ি বছর ঘর করার পরও। তার মৃত্যুর পর সে কাতেরিনাকে বিয়ে করে। এবারে সে আশা করেছিল, বুঝি ভগবানের আশীর্বাদ এ-বিয়ের ওপর নেমে আসবে বংশের সুখ্যাতি সম্পত্তি বাঁচাবার জন্য সন্তান হবে, কিন্তু কপাল মন্দ, কাতেরিনার কাছ থেকেও কিছু পেল না।

    এই নিয়ে জিনোভিইয়ের মনস্তাপের অন্ত ছিল না, এবং শুধু সে-ই না, বুড়ো বরিসেরও। কাতেরিনারও মনে এই নিয়ে গভীর দুঃখ ছিল। আর কিছু না হোক– এই যে অন্তহীন একঘেয়ে জীবন তাকে মূঢ় মুহ্যমান করে তুলছে তার থেকে সে নিষ্কৃতি পেত, ভগবান জানেন। কতখানি আনন্দ পেত সে, যদি নাওয়ানো খাওয়ানো জামা-কাপড় পরানোর জন্য একটি বাচ্চা থাকত তার নিষ্কৃতি পেত এই বন্ধ, উঁচু পাঁচিলওলা, মারমুখো কুকুরে ভর্তি বাড়িটার অসহ্য একঘেয়েমি থেকে। শুধু তাই নয়, ওই এক খোটা শুনে শুনে তার প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল– বিয়ে করতে গেলি কেন, তুই? একটা ভদ্রলোকের জীবন সর্বনাশ করলি তুই মাগী, বাঁজা পাঁঠী। যেন মারাত্মক পাপটা তারই, সে পাপ তার স্বামীর বিরুদ্ধে, শ্বশুরের বিরুদ্ধে, এমনকি তাদের কুল্লে সাধু ব্যবসায়ীগুষ্ঠির বিরুদ্ধে!

    ধনৈশ্বর্য, আরাম-আয়েশে পরিপূর্ণ এই বাড়িতে কাতেরিনার ছিল সবচেয়ে নিঃসঙ্গ জীবন। দেখাটেখা করতে সে যেত খুবই কম এবং যদি-বা তার স্বামীর সঙ্গে তার ব্যবসায়ী বন্ধুদের বাড়িতে যেত তাতেও কোনও আনন্দ ছিল না। ওরা সব প্রাচীন ধরনের কড়া লোক। তারা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখত, সে কীভাবে বসে, তার আচরণ কীরকম, সে কীভাবে আসন ত্যাগ করে; ওদিকে কাতেরিনা তেজি মেয়ে এবং দুঃখদৈন্যে শৈশব কেটেছে বলে সে অনাড়ম্বর ও মুক্ত জীবনে অভ্যস্ত। পারলে সে এখখুনি দুটো বালতি, দু হাতে নিয়ে ছুটে যায় জাহাজঘাটে। সেখানে শুধু শেমিজ গায়ে স্নান করতে। কিংবা বেড়ার ফাঁক দিয়ে রাস্তার ওই ছোঁড়াটার গায়ে বাদামের খোসা ছুঁড়ে মারতে। কিন্তু হায়, এখানে সবকিছু সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোর হওয়ার পূর্বেই তার শ্বশুর আর স্বামী ঘুম থেকে উঠে জালা জালা চা খেয়ে ছ-টার ভিতর কাজ কারবারে বেরিয়ে যান, আর সে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ একা একা আলস্যে আলস্যে এ-ঘর ও-ঘর করে করে ঘুরে মরে। সবকিছু ছিমছাম, ফাঁকা। দেব-দেবীদের সামনে স্তিমিত প্রদীপ জ্বলছে। সমস্ত বাড়িতে আর কোনও জনমানবের চিহ্ন নেই, কারও কণ্ঠস্বরের লেশমাত্র নেই।

    কাতেরিনা ফাঁকা এ-ঘর থেকে ফাঁকা ও-ঘরে যায়, তার পর আরেক দফা আরো খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে, তার পর একঘেয়েমির জন্য হাই তোলে। তার পর সরু সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে ওঠে উঁচুতে নিজেদের শোবার ঘরে। সেখানে খানিকক্ষণ অলস নয়নে তাকিয়ে থাকে নিচের দিকে যেখানে দড়ি বানাবার পাটসুতো ওজন করা হচ্ছে কিংবা অতি উৎকৃষ্ট মিহিন ময়দা গুদামে পোরা হচ্ছে। আবার সে হাই তোলে– তাই করে যেন সে খানিকটে আরাম পায়। তার পর ঘণ্টাখানেক, ঘন্টা দুই ঘুমিয়ে ওঠার পর আবার আসবে সেই একঘেয়েমি রুশদেশের খাঁটি একঘেয়েমি, ব্যবসায়ী বাড়ির একঘেয়েমি। সে-একটানা, বৈচিত্র্যহীন একঘেয়েমি এমনই নিরস্ত্র যে তাই লোকে বলে, তখন কোনও গতিকে কোনও একটা বৈচিত্র্য আনার জন্য মানুষ সানন্দে গলায় দড়ি দিয়ে দেখতে চায় তাতে করে কিছু একটা হয় কি না। কাতেরিনার আবার বই পড়ারও বিশেষ শখ ছিল না; আর থাকলেই-বা কী? বাড়িতে ছিল সর্বসুদ্ধ একখানা বই– কিয়েফ শহরে সংকলিত সন্তদের জীবনী।

    ধনদৌলতে ভরা শ্বশুরের এই বাড়িতে কাতেরিনার পুরো পাঁচটি বছর কেটে গেল অসহ্য একঘেয়েমিতে– মমতাহীন স্বামীর সঙ্গে সহবাস করে। কিন্তু আকছারই যা হয়– এক্ষেত্রেও কেউ সেদিকে ক্ষণতরেও ভ্রুক্ষেপ করল না।

    .

    ০২.

    কাতেরিনার বিয়ের ছ-বছর পর যে-বাঁধের জলে ইসমাইলদের গম-পেষার কল চলত সেটা ফেটে গেল। আর অদৃষ্ট যেন ওদের ভেংচি কাটবার জন্যই ঠিক ওই সময়ে মিলের ওপর পড়ল প্রচণ্ড কাজের চাপ। তখন ধরা পড়ল যে ভাঙনটা প্রকাণ্ড। জল পৌঁছেছে সক্কলের নিচের ধাপে। জোড়াতালি দিয়ে কোনও গতিকে ভাঙনটাকে মেরামত করার সর্ব প্রচেষ্টা হল নিষ্ফল। জিনোভিই আশপাশের চতুর্দিক থেকে আপন লোকজন গম-কলে জড় করে সেখানে ঠায় বসে রইল দিনের পর দিন, রাত্তিরের পর রাত্তির। বুড়ো বাপ ওদিকে শহরের ব্যবসা-কারবার সামলাল। আর কাতেরিনার কাটতে লাগল আরও নিঃসঙ্গ একটানা জীবন। গোড়ার দিকে স্বামী না থাকায় তার জীবনের একঘেয়েমি যেন চূড়ান্তে পৌঁছল, পরে আস্তে আস্তে তার মনে হল, এটা তবু ভালো–এতে করে যেন সে খানিকটে মুক্তি পেল। স্বামীর দিকে তার হৃদয়ের টান কখনও ছিল না। স্বামী না থাকায় তার ওপর হাম্বাই-তাম্বাই করার মতো লোক অন্তত একজন তো কমলো।

    একদিন কাতেরিনা ছাতের উপরের ছোট্ট ঘরে জানালার পাশে বসে ক্রমাগত হাই তুলছিল। বিশেষ কিছু নিয়ে যে চিন্তা করছিল তা নয়। করে করে আপন হাই তোলা নিয়ে নিজেই যেন নিজের কাছে লজ্জা পেল। ওদিকে, বাইরের আঙিনায় চমৎকার দিনটি ফুটে উঠেছে; কুসুম কুসুম গরম, রৌদ্রোজ্জ্বল, আনন্দময়। বাগানের সবুজ বেড়ার ভিতর দিয়ে কাতেরিনা দেখছিল, ছোট্ট-ছোট্ট চঞ্চল পাখিগুলো কীরকম এক ডাল থেকে আরেক ডালে ফুরুৎ ফুরুৎ করে উড়ছিল।

    কাতেরিনা ভাবছিল, আচ্ছা, আমি সমস্ত দিন ধরে টানা হাই তুলি কেন? কী জানি। তার চেয়ে বরঞ্চ বেরিয়ে আঙিনায় গিয়ে বসি কিংবা বাগানে বেড়িয়ে আসি।

    কিংখাপের একটি পুরনো জামা পিঠে-কাঁধে ফেলে কাতেরিনা বেরিয়ে পড়ল।

    বাইরে উজ্জ্বল আলো আর বাতাস যেন নবজীবন দেবার জন্য বইছে। ওদিকে গুদামঘরের কাছে উঁচু চকে সবাই প্রাণ-ভরা খুশিতে ঠাঠা করে আসছিল।

    অত রগড় কিসের? কাতেরিনা তার শ্বশুরের কেরানিদের জিগ্যেস করল।

    অর্থাৎ, ব্যাপারটা হচ্ছে, মা-ঠাকরুন– একাতেরিনা, ল — আমরা একটা জ্যান্ত শূয়োরী ওজন করছিলুম।

    শূয়োরী? সে আবার কী?

    ওই যে আকসিনিয়া শূয়োরীটা। বাচ্চা ভাসিলিইকে বিইয়ে গির্জের পরবে আমাদের নেমন্তন্ন করল না, তাকে–উত্তর দিল হাসিভরা বেপরোয়া গলায় একটি ছোকরা। বেশ সাহসী সুন্দর চেহারা। মিশকালো চুল, অল্প অল্প দাড়ি সবে গজাচ্ছে। সেরগেই তার নাম।

    ওই মুহূর্তেই দাঁড়ে ঝোলানো ময়দা মাপার ধামা থেকে উঁকি মেরে উঠল রাঁধুনী আকসিনিয়ার চর্বিতে ভর্তি চেহারা আর গোলাপি গাল।

    বদমাইশ ব্যাটারা, শয়তান ব্যাটারা–রাঁধুনী তখন গালাগালি জুড়েছে। সে তখন ধামা ঝোলানোর ডাণ্ডাটি ধরে কোনও গতিকে পাল্লা থেকে বেরোবার চেষ্টা করছে।

    খাবার আগে তার ওজন ছিল প্রায় চার মণ। এখন যদি ভালো করে খড় খায় তবে আমাদের সব বাটখারা ফুরিয়ে যাবে।– সেই সুন্দর ছোকরা বুঝিয়ে বলল। তার পর পাল্লাটা উল্টে রাঁধুনীকে ফেলে দিল এককোণের কতকগুলি বস্তার উপর।

    রাঁধুনী হাসতে হাসতে গালমন্দ করছিল আর কাপড়-চোপড় ঠিকঠাক করাতে মন দিল।

    আচ্ছা, ভাবছি আমার ওজন কত হবে। হাসতে হাসতে দড়ি ধরে মালের দিকটায় উঠে কাতেরিনা শুধলো।

    একশো পনেরো পাউন্ডের সামান্য কম। বাটখারা ফেলে সেরগেই বলল, আশ্চর্য!

    এতে আশ্চর্য হবার কী আছে?

    আপনার যে অতখানি ওজন হবে আমি মোটেই ভাবতে পারিনি, কাতেরিনা লভভুনা। আমার কী মনে হয় জানেন? আপনাকে দু হাতে তুলে সমস্ত দিন কারও বয়ে বেড়ানো উচিত। এবং সে তাতে করে ক্লান্ত তো হবেই না, বরঞ্চ শুধু আনন্দই পাবে।

    হুঃ! আমি তো আর পাঁচজনেরই মতো মাটির মানুষ। তুমিও ক্লান্ত হয়ে পড়বে।– এ ধরনের কথাবার্তা বলতে কাতেরিনা অভ্যস্ত ছিল না বলে উত্তর দিতে গিয়ে তার মুখ একটুখানি রাঙা হয়ে গেল এবং হঠাৎ তার এক অদম্য ইচ্ছা হল অফুরন্ত আনন্দ আর সরস কথাবার্তা বলে তার হৃদয়-মন ভরে নেয়।

    সেরগেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে উঠল, কখনও না, ভগবান সাক্ষী, আমি আপনাকে আমাদের পুণ্যভূমি পর্যন্ত বয়ে নিয়ে যাব।

    সাদামাটা পাতলা-দুবলা একজন চাষা ময়দা মাপতে মাপতে বলল, ও হিসাব চলে না, সোনা। আমাদের কার কত ওজন তা দিয়ে কী হয়? তুমি কি মনে কর আমাদের মাংস সবকিছু করে? আমাদের মাংসের ওজনের কোনও দাম নেই, বুঝলে দোস্ত। আমাদের ভিতর যে শক্তি আছে সেই শক্তিই সবকিছু করে আমাদের মাংস কিছুই করে না!

    আবার কাতেরিনা নিজেকে সংযত না করতে পেরে বলে ফেলল, বাহ্! আমার বয়েস যখন কম ছিল তখন আমার গায়ে ছিল বেশ জোর; সব পুরুষই যে আমার সঙ্গে তখন পেরে উঠত সেকথাটা আদপেই মনের কোণে ঠাই দিয়ো না।

    সুশ্রী ছোকরা অনুরোধ জানিয়ে বলল, খুব ভালো কথা। তাই যদি হয় তবে আপনার ছোট হাতটি আমায় একটু ধরতে দিন তো!

    কাতেরিনা হকচকিয়ে গেল কিন্তু হাত তবু দিল বাড়িয়ে।

    লাগছে, লাগছে– ওহ! আংটিটা ছেড়ে দাও। ওটাতে লাগছে– সেরগেই কাতেরিনার হাত চেপে ধরতেই সে চিৎকার করে উঠল আর অন্য হাত দিয়ে দিল তার বুকে ধাক্কা। সেরগেই সঙ্গে সঙ্গে তার কত্রীর হাত ছেড়ে দিয়ে ধাক্কার চোটে তাল সামলাতে না পেরে পাশের দিকে দু পা সরে গেল।

    সেই ছোটখাটো সাদামাটা চাষা অবাক হয়ে বলল, হুম! লাও ঠেলা। মেয়েদের কথা আর বলছ না যে?

    সেরগেই মাথার চুল ঝাঁকুনি মেরে পিছনের দিকে ঠেলে দিয়ে বলে উঠল, না, না। আমাদের ধরাধরিটা ঠিকমতো হোক, তবে তো।

    কাতেরিনা বলল, তবে এসো৷ ততক্ষণে তারও মনে ফুর্তির ছোঁয়া লেগেছে। দুটি সুডৌল কনুই উপরের দিকে তুলে ধরে বলল, তবে এসো।

    সেরগেই তার তরুণী কত্রীকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে তার সুঠাম বুক আপন লাল শাটের উপর চেপে ধরল। কাতেরিনা তার কাঁধ সরাবার পূর্বেই সেরগেই তাকে শূন্যে তুলে ধরে দু হাতে উপরের দিকে উঠিয়ে নিয়ে আপন বুকে চেপে ধরেছে। তার পর আস্তে আস্তে নামিয়ে নিয়ে একটা উল্টো ধামার উপর বসিয়ে দিল।

    আপন দেহের যে শক্তি সম্বন্ধে কাতেরিনা দম্ভ করেছিল তার একরত্তিও সে কাজে লাগাতে পারেনি। এবারে সে লালে লাল হয়ে গিয়ে ধামায় বসে কিংখাপের জামাটি মাটি থেকে তুলে নিয়ে গায়ে ঠিকমতো বসাল। তার পর চুপচাপ গুদামবাড়ি ছেড়ে রওনা দিল। মেকার মাফিক যতখানি দরকার ঠিক ততখানি দেমাকের সঙ্গে সেরগেই গলা সাফ করে মজুরদের উদ্দেশে হাঁক দিয়ে বলল, ওরে ও গাধার পাল! ময়দার স্রোত বন্ধ হতে দিসনি, হালের উপর এলিয়ে পড়ে আরাম করিসনি। যদি কিছু থাকে বাকি, মোরা তো যাব না ফাঁকি।

    ভাবখানা করল যে এক্ষুনি যা হয়ে গেল সে যেন তার কোনও পরোয়াই করে না।

    কাতেরিনার পিছনে হাঁপাতে হাঁপাতে যেতে যেতে রাঁধুনী তাকে বলল, ব্যাটাচ্ছেলে সেরেজুকা মেয়েছেলের পিছনে কীরকম ডালকুত্তার মতোই না লাগতে জানে! ওই চোরটার নেই কি? শরীরের গঠন, চেহারা, মুখের ছবি– সবকিছুই আছে। দুনিয়ার যে কোনও মেয়েই হোক, ওই বদমায়েশটা এক লহমায় তাকে মাৎ করে দেবে, তার পর তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ঠেলে দেবে পাপের রাস্তায়। আর কাউকে ভালোবেসে তার প্রতি অনুগত থাকার কথা যদি তোলেন, তবে ওরকম হাড়েটক বেইমানের জুড়ি পাবেন না।

    আগে যেতে যেতে যুবতী কী শুধাল, আচ্ছা, কী বলছিলুম, ওই যে… তোমার ছেলেটি বেঁচে আছে তো?

    বেঁচে আছে, মা ঠাকরুন, দিব্য জলজ্যান্ত বেঁচে আছে ওর আর ভাবনা কিসের? ওদের যখন কেউ চায় না তখনই তারা প্রাণটাকে আঁকড়ে ধরে আরও জোর দিয়ে।

    বাচ্চাটাকে দিল কে?

    কে জানে? ঘটে গেল–বলতে পারেন মোটামুটি। মেলা বন্ধু-বান্ধব থাকলে ওরকম ধারা ঘটে যায় বইকি।

    ওই ছোঁড়াটা আমাদের সঙ্গে কি অনেকদিন ধরে আছে?

    কার কথা বলছেন? সেরগেই?

    হ্যাঁ।

    মাসখানেক হবে। আগে সে কচনদের ওখানে কাজ করত। সেখানকার মুনিব ওকে খেদিয়ে দেন। তার পর গলা নামিয়ে আস্তে আস্তে বলল, লোকে বলে সেখানে খুদ কত্রীর সঙ্গে প্রেম করেছিল… জাহান্নমে যাক ব্যাটা। সাহসটা দেখুন তো।

    .

    ০৩.

    মধুর মধুর গরম, দুধের মতো সাদা প্রায়ান্ধকার নেমে এসেছে শহরের ওপর। জলের বাঁধের মেরামতির কাজ থেকে জিনোভিই এখনও ফেরেনি। সে রাত্রে শ্বশুরও বাড়িতে নেই। তার এক প্রাচীন দিনের বন্ধুর জন্মদিনের পরবে বুড়ো সেখানে গেছে। বলে গেছে রাত্রেও বাড়িতে খাবে না; কেউ যেন তার জন্য অপেক্ষা না করে। আর কিছু করবার ছিল না বলে কাতেরিনা সকাল সকাল খেয়ে নিয়ে শোবার ঘরের খোলা জানালার উপর হেলান দিয়ে বসে বাদামের খোসা ছাড়াচ্ছে। রান্নাঘরে মজুরদের খাওয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন তারা আঙিনার উপর দিয়ে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে আপন আপন শোবার জায়গায় যাচ্ছে। কেউ গোলাবাড়িতে, কেউ মরাইয়ে, কেউ মিঠে মিঠে গন্ধের খড়ের গাদার দিকে। রান্নাঘর থেকে বেরুল সেরগেই সর্বশেষে। সে প্রথম আঙিনার চতুর্দিকে ব্লোদ দিয়ে তদারকি করল, কুকুরগুলোর চেন খুলে দিল, শিষ দিতে দিতে কাতেরিনার জানালার নিচে দিয়ে যাবার সময় উপরের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে তাকে অভিবাদন জানাল।

    জানালার পাশে বসে কাতেরিনা মৃদুকণ্ঠে প্রত্যাভিবাদন জানাল– বিরাট আঙিনা খানিকক্ষণের ভিতরই নির্জন প্রান্তরের মতো নিঃশেষ হয়ে গেল।

    মিনিট দুই যেতে না যেতে কাতেরিনার চাবি-বন্ধ ঘরের বাইরে কে যেন ডাকল, ঠাকরুন!

    কাতেরিনা ভীতকণ্ঠে জিগ্যেস করল, কে?

    কেরানি উত্তর দিল, দয়া করে ভয় পাবেন না। আমি। আমি সেরগেই।

    কী চাই তোমার, সেরগেই?

    আমি আপনার দয়া ভিক্ষা করতে এসেছি, কাতেরিনা ভড়না; একটা সামান্য ব্যাপার নিয়ে আপনার অনুগ্রহ ভিক্ষা করতে এসেছি– আমাকে কৃপা করে এক মিনিটের জন্য ভিতরে আসতে দিন।

    কাতেরিনা চাবি ঘুরিয়ে দোর খুলে দিয়ে সেরগেইকে ঘরে ঢুকতে দিল।

    কী ব্যাপার, কী চাই? জানালার কাছে ফিরে গিয়ে কাতেরিনা শুধালো।

    আমি আপনার কাছে এলুম জিগ্যেস করতে, আপনার কাছে চটি বই-টই কিছু আছে? আমাকে যদি দয়া করে পড়তে দেন। এখানে কী দুর্বিষহ একঘেয়ে জীবন।

    কাতেরিনা উত্তর দিল, আমার কাছে কোনওপ্রকারেরই বই নেই, সেরগেই। আমি তো পড়িনে।

    সেরগেই ফরিয়াদ করল, কী একঘেয়ে জীবন!

    তোমার জীবন একঘেয়ে হবে কেন?

    অপরাধ যদি না নেন তবে নিবেদন করি, একঘেয়ে লাগবে না কেন? আমার এখন যৌবন কাল, অথচ আমরা এখানে আছি মঠের সন্ন্যাসীদের মতো। আর ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখতে পাই, এই নির্জনতাতেই আমাকে পচে হেজে খতম হতে হবে, যতদিন না আমার কফিন-বাক্সের*[* বাঙালি মুসলমান কফন বা কাফন বলতে শবাচ্ছাদনের বস্ত্র বোঝে। (ইংরেজি শ্রাউড) শব্দটি ফারসির মাধ্যমে আরবি থেকে এসেছে। ইউরোপীয় ভাষায় কফিন বলতে যে কাঠের বা পাথরের বাক্সে মৃতদেহ রেখে গোর দেওয়া হয় সেই বাক্স বোঝায়। উভয় শব্দই খুব সম্ভব গ্রিক কফিনস থেকে এসেছে। ইংরেজি কফার পেটিকা- এই শব্দ থেকেই এসেছে। –অনুবাদক।] ডালায় পেরেক ঠোকা হয়। মাঝে মাঝে আমি যে নৈরাশ্যের কোন চরমে পৌঁছই তা আর কী করে বোঝাই!

    বিয়ে কর না কেন?

    বিয়ে করব? বলা বড় সোজা! এখানে আমি বিয়ে করব কাকে? আমি তো বিশেষ কিছু জমিয়ে উঠতে পারিনে, আর বড়লোকের মেয়ে আমাকে বিয়ে করতে যাবে কেন? ওদিকে গরিব বলেই আমাদের শ্রেণির মেয়ে মাত্রই লেখাপড়ার ধার ধারে না– সে তো আপনি জানেন, কাতেরিনা ভভূনা। তারা কি কখনও সত্যি সত্যি বুঝতে পারে, প্রেম বলতে কী বোঝায়! শুধু তাই নয়, বড়লোকদের ভিতর এ বিষয়ে কী ধারণা সেটাও একবার চিন্তা করুন তো। এই ধরুন আপনার কথা; আমার মনে কোনও সন্দেহ নেই, সামান্যতম স্পর্শকাতরতা যার হৃদয়ে আছে তার কাছে আপনি সান্তনার চিরন্তন উৎস। অথচ দেখুন দিকিনি তারা আপনাকে নিয়ে কী করছে? ময়না পাখিটির মতো খাঁচায় পুরে রেখেছে।

    কাতেরিনার মুখ থেকে ফস্কে গেল, কথাটা সত্যি। আমি নিঃসঙ্গ।

    তাই একঘেয়ে লাগবে না তো কী লাগবে মাদাম যেভাবে আপনি জীবনযাপন করছেন? আপনার অবস্থায় অন্যেরা যা করে থাকে, আপনার যদি সেরকম উপরি কেউ থাকতও, তবুই-বা কী হত? তার সঙ্গে দেখা করাও তো আপনার পক্ষে অসম্ভব।

    এই! তুমি… একটু সীমা পেরিয়ে যাচ্ছ। আমার একটি বাচ্চা থাকলেই, আমার তো মনে হয় আমি সুখী হতুম।

    কিন্তু একটু চিন্তা করুন; আমাকে যদি অনুমতি দেন তবে বলি, বাচ্চা জন্মাবার জন্য তার পিছনে তো কোনও-কিছু-একটা চাই বাচ্চা তো আর আকাশ থেকে পড়ে না। আপনি কি মনে করেন আমি জানিনে আমাদের ব্যবসায়ীদের বউ-ঝিরা কীভাবে জীবন কাটায়– এত বছর আমার মুনিবদের মাঝখানে বাস করেও? আমাদের একটা গীত আছে, আপন হৃদয়ে প্রেম না থাকলে, জীবন সে তো শুধু বিষণ্ণ দুরাশা! আর সেই দুরাশা, সেই কামনা– আপনাকে বলতে বাধ্য হচ্ছি কাতেরিনা ভভূনা, আমার হৃদয় এমনই বেদনায় ভরে দিয়েছে যে, ইচ্ছে করে ইস্পাতের ছুরি দিয়ে হৃদয়টাকে বুকের মাঝখান থেকে কেটে বের করে আপনার কচি দুটি পায়ের উপর রাখি। আমি তা হলেই শান্ত হব শতগুণ শান্তি ফিরে পাব।

    তোমার হৃদয় সম্বন্ধে কী যা-তা সব তুমি আমাকে বলছ? তার সঙ্গে আমার তো কোনও সম্পর্ক নেই। তুমি এইবার আস্তে আস্তে রওনা দাও।

    না, দয়া করুন, ঠাকরুন। সেরগেই ততক্ষণে কাতেরিনার দিকে এক পা এগিয়ে এসেছে, তার সমস্ত শরীর তখন কেঁপে কেঁপে দুলে দুলে উঠছে। আমি জানি, হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি, স্পষ্ট বুঝতে পারছি, আপনার জীবনও এ পৃথিবীতে আমার জীবনের মতোই অত সহজ সরলভাবে বয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু এখন শুধুমাত্র একটি কথা– একথাগুলো সে। বলে গেল এক নিশ্বাসে– এখন, এই মুহূর্তে, সবকিছু আপনার হাতে, আপনার তাঁবেতে।

    কী চাও তুমি? এসব কী হচ্ছে? এখানে আমার কাছে তুমি এসেছ কেন? আমি এখুনি জানালা দিয়ে লাফ দেব–কাতেরিনা যখন একথাগুলো বলছিল তখন তার মনে হচ্ছিল, কেমন যেন একটা অবর্ণনীয় ভয় তাকে অসহ্য বজ্রমুষ্টিতে চেপে ধরেছে। সে তখন জানালার চৌকাঠ আঁকড়ে ধরে আছে।

    ওগো, আমার তুলনাহীনা, ও আমার জীবনসমা! জানালা দিয়ে লাফ দেবার কী প্রয়োজন?—সহজ আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে সেরগেই এ কথাগুলো কাতেরিনার কানে কানে মৃদুস্বরে বলল, আর সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানালা থেকে টেনে এনে গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরল।

    ও, ও! আমাকে ছাড়– মৃদু কাতর কণ্ঠে কাতেরিনা বলল; সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু সেরগেইর নিবিড় চুম্বনবর্ষণে তার শক্তি যেন ক্রমেই লোপ পাচ্ছিল! আপন অনিচ্ছায় তার দেহ কিন্তু সেরগেইয়ের দেহের সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল।

    সেরগেই তার কত্রীকে শূন্যে তুলে নিয়ে দুই বাহুতে করে যেন একটি ছোট্ট বাচ্চাকে তুলে ধরেছে– ঘরের অন্ধকার কোণে নিয়ে গেল।

    সমস্ত ঘরে নীরবতা– শুধু শিয়রের খাড়া তক্তাতে ঝোলানো কাতেরিনার স্বামীর পোশাকি ট্র্যাকঘড়িটি টিকটিক করে যাচ্ছে; কিন্তু সে আর কী বাধা দেবে!

    যাও। আধঘণ্টা পরে কাতেরিনা সেরগেইয়ের দিকে না তাকিয়েই আলুথালু চুল ছোট্ট একটি আয়নার সামনে ঠিক করতে করতে বলল।

    এখন আর আমি যাব কেন? বিশ্ব-সংসার খুঁজলেও তো এখন আর কোনও কারণ পাওয়া যাবে না। সেরগেইয়ের কণ্ঠে এখন উল্লাসের সুর।

    শ্বশুরমশাই বাড়ির সদর দরজা বন্ধ করে দেবেন যে।

    কী বললে, আমার পরানের মণি? এতদিন ধরে তুমি কি শুধু তাদেরই নিয়ে নাড়াচাড়া করেছ যারা রমণীর কাছে পৌঁছতে হলে দরজা ভিন্ন অন্য কোনও পথ জানে না? আমার ভিন্ন। ব্যবস্থা। তোমার কাছে আসতে হলে, তোমার কাছ থেকে যেতে হলে আমার জন্য বহু দরজা খোলা রয়েছে। ব্যালকনির খুঁটি দেখিয়ে উত্তর দিল তরুণ।

    .

    ০৪.

    জিনোভিই সাত দিন হল বাড়ি ফেরেনি, আর এই সমস্ত সপ্তাহ ধরে তার স্ত্রী প্রতিটি রাত্রি সেরগেইয়ের সঙ্গে কাটিয়েছে সরস রভসে– শুভ্র প্রভাতের প্রথম আলোর প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত।

    এই সাত রাত ধরে জিনোভিই বরিসিচের বেডরুমে শ্বশুরমশাইয়ের ভাড়ার থেকে নিয়ে আসা প্রচুর ওয়াইন পান করা হল, প্রচুর মিষ্ট-মিষ্টান্ন খাওয়া হল, তরুণী গৃহকত্রীর মধুভরা ঠোঁট থেকে প্রচুর চুম্বন চুমুকে চুমুকে তোলা হল, তুলতুলে বালিশের উপর ঘন কৃষ্ণ অলকগুচ্ছ নিয়ে খেলাভরে প্রচুর আদর-সোহাগ করা হল। কিন্তু হায়, কোনও পথই আদ্যন্ত মসৃণ নয়– মাঝে মাঝে হোঁচট-ঠোক্করও খেতে হয়।

    বরিস তিমোতেইচের চোখে সে-রাত্রে কিছুতেই ঘুম আসছিল না। বুড়ো রাত্রির লম্বা রঙিন ঝোল্লা পরে এ-ঘর ও-ঘর বেড়াচ্ছিল; জানালার কাছে এসে বাইরের দিকে তাকাল, তার পর আরেকটা জানালার কাছে এসে দেখে, লাল শার্ট পরা সেই খাপসুরৎ ছোকরা সেরগেই তার পুত্রবধূর জানালার একটা খুঁটি বেয়ে অতিশয় নীরব নিঃশব্দে নেমে যাচ্ছে। বরিস তিমোতেই ঝড়ের বেগে বেরিয়ে পড়ে চেপে ধরল রোমিও নটবরের পা দুখানা। সে তখন সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথমটায় চেয়েছিল বুড়োকে একখানা খাঁটি বিরাশি সিক্কা লাগায়– আকস্মিক উৎপাতে তারও মেজাজটা গিয়েছিল বিগড়ে– কিন্তু সেটা আর লাগল না, ভাবল, তা হলে একটা হট্টগোল আরম্ভ হয়ে যাবে।

    বরিস তিমোতেই জিগ্যেস করল, বল্ ব্যাটা চোর, কোথায় গিয়েছিলি?

    সেরগেই উত্তর দিল, লাও! শুধোচ্ছি, কোথায় গিয়েছিলুম আমি! যেখানেই গিয়ে থাকি না কেন, সেখানে আমি আর এখন নেই। হল, বরিস তিমোতেই মহাশয়, প্রিয়বরেষু!

    আমার ছেলের বউয়ের ঘরে তুই রাত কাটিয়েছিস?

    ওই কথাটাই যদি জিগ্যেস করলেন কর্তা-ঠাকুর, তা হলে আবার বলি, আমি জানি, আমি রাত্তিরটা কোথায় কাটিয়েছি; কিন্তু এইবেলা তোমাকে একটি খাঁটি তত্ত্বকথা বলছি আমি, বরিস তিমোতেইচ; যা হয়ে গিয়েছে সেটা তুমি আর কিছুতেই ফিরিয়ে আনতে পারবে না। খামোখা কেন তোমাদের শিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর এখন ফালতো কেলেঙ্কারি টেনে আনবে– অন্তত সেটা তো ঠেকাতে পারো। এখন আমাকে সরল ভাষায় বল, আমাকে কী করতে হবে। তুমি কী দান পেলে সন্তুষ্ট হবে?

    তোকে আমি পাঁচশো ঘা চাবুক কশাব, ব্যাটা পিচেশ।

    দোষ আমারই তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হোক! সাহসী নাগর স্বীকৃত হল। এবারে বল তোমার সঙ্গে কোথায় যেতে হবে; প্রাণ যা চায় সেই আনন্দ করে নাও আমার রক্ত চেটে নাও।

    বরিস তখন সেরগেইকে শানে তৈরি তার ছোট্ট একটি গুদামঘরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক চাবকাতে আরম্ভ করল। যখন বুড়োর আর চাবুক মারার মতো শক্তি একরত্তিও রইল না তখনই থামল। সেরগেইয়ের গলা থেকে কিন্তু একবারের তরেও এতটুকু আৰ্তরব বেরোয়নি, তবে হ্যাঁ, শার্টের আস্তিনে সে যে দাঁত কিড়িমিড়ি করে কামড়ে ধরেছিল তার অর্ধেকখানা শেষ পর্যন্ত সে চিবিয়ে কুটি কুটি করে ফেলেছিল।

    সেরগেই মাটিতে পড়ে রইল। চাবুকে চাবুকে তার পিঠ তখন কামারের আগুনে পোড়া কড়াইয়ের মতো লাল হয়ে গেছে। সেটা শুকোবার সময় দিয়ে বুড়ো তার পাশে একঘটি জল রেখে গুদামঘরের দোরে বিরাট একটা তালায় চাবি মারল। তার পর ছেলেকে আনবার জন্য লোক পাঠাল।

    কিন্তু এই আজকের দিনেও*[* ১৮৬৫ খ্রি.] রাশার বড় রাস্তা ছাড়া অন্য রাস্তায় ছ মাইল পথ আসা-যাওয়া সাততাড়াতাড়িতে হয়ে ওঠে না, ওদিকে আবার কাতেরিনা যে সময়টুকু না হবার নয় তার বেশি একটি মাত্র ঘণ্টাও সেরগেই বিহনে কাটাতে পারে না। তার সুপ্ত প্রবৃত্তি তখন অকস্মাৎ পরিপূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হয়ে উঠেছে এবং ফলে সে এমনই দৃঢ়সঙ্কল্প হয়ে উঠেছে যে, তখন তার পথ রোধ করে কার সাধ্য! আতিপাতি খুঁজে সে বের করে ফেলেছে সেরগেই কোথায়। সেখানে লোহার দরজার ভিতর দিয়ে সেরগেইয়ের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সবকিছু ঠিকঠাক করে ছুটল চাবির সন্ধানে।

    শ্বশুরের কাছে গিয়ে মিনতি জানাল, সেরগেইকে ছেড়ে দাও, বাবা, লক্ষ্মীটি।

    বুড়োর মুখের রঙ সেফ সবুজ হয়ে গেল। এতখানি বেহায়ামির দুঃসাহস সে তার পাপিষ্ঠা পুত্রবধূর কাছে প্রত্যাশা করেনি– কারণ পাপিষ্ঠা হোক আর বেহায়াই হোক, এতদিন সে ছিল বড় বাধ্য মেয়ে।

    এ কী আরম্ভ করলি তুই, তুই অমুক-তমুক?– বুড়ো অশ্লীল ভাষায় তার বেহায়াপনা নিয়ে কটুকাটব্য আরম্ভ করল।

    ওকে যেতে দাও, বাবা। আমি আমার বিবেক সাক্ষী রেখে শপথ করছি আমরা এখনও কোনও পাপাচার করিনি।

    পাপাচার করেনি! ওহ! বলে কী?– বুড়ো যেন আর কিছু না করতে পেরে শুধু দাঁত কিড়িমিড়ি দিতে লাগল। এ ক-রাত্তির ধরে তোমরা উপরে কী করে সময় কাটাচ্ছিলে? দুজনাতে মিলে তোমার স্বামীর বালিশের ফেঁসো ফুলিয়ে ফালিয়ে তার জন্য জুৎসই করে রাখছিলে।– বুড়ো ব্যঙ্গ করে উঠল।

    কাতেরিনা কিন্তু নাছোড়বান্দা; সেই এক বুলি ক্রমাগত বলে যেতে লাগল, ওকে ছেড়ে দাও, ফের আবার ওকে ছেড়ে দাও।

    বুড়ো বরিস বলল, এই যদি তোর বাসনা হয় তবে শুনে নে; তোর স্বামী ফেরার পর তোকে বাইরের ওই আস্তাবলে নিয়ে গিয়ে আমরা দুজনাতে আপন হাতে চাবুক মারব–সতী সাধ্বী রমণী কি না তুই! আর ওই ব্যাটাকে নিয়ে কী করা হবে শুনবি–ইতর বদমাইশটাকে কালই পাঠাব জেলে!।

    এই ছিল বরিস তিমোতেইচের সিদ্ধান্ত; শুধু এইটুকু বলার আছে যে, সে সিদ্ধান্ত কখনও কর্মে রূপান্তরিত হল না।

    ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধূপছায়া – সৈয়দ মুজতবা আলী
    Next Article ভবঘুরে ও অন্যান্য – সৈয়দ মুজতবা আলী

    Related Articles

    সৈয়দ মুজতবা আলী

    চাচা কাহিনী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    পঞ্চতন্ত্র ১ – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    ময়ূরকণ্ঠী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দ্বন্দ্বমধুর – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    অসি রায়ের গপপো – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দেশে বিদেশে – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }