Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেয়সী – নিমাই ভট্টাচার্য

    নিমাই ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. শিবানীর সঙ্গে পরামর্শ করে

    শিবানীর সঙ্গে পরামর্শ করেই ভারতী ঠিক করেছিলেন, আরো কিছুদিন না গেলে স্বামী বা ছেলেকে কিছু জানাবেন না। ওরা যাতে কোনকিছু জানতে না পারে, সেজন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও হয়েছিল শিবানীর বাড়িতে।

    তবে হ্যাঁ, ভারতী নিশ্চয়ই দুর্বাকে নিজের বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাবেন।

    দুই বন্ধু আলাপ-আলোচনা করেই ঠিক করেছিলেন, বাবাই বা ওর বাবা বাড়ি ফেরার আগেই ওরা দুর্বাকে নিয়ে রওনা হয়ে যাবেন।

    সেদিন শিবানী ট্যাক্সি নিয়ে হাজির হতেই দুর্বা হাসতে হাসতে বেরিয়ে এসে বলল, মাসীমা, আমি রেডি চটি বদলেই আসছি।

    সুনন্দাও বেরিয়ে এলেন। বলেন, একি, তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে কেন?

    না, ভাই সুনন্দা, এখন আর বসব না।

    তাই বলে, একেবারে দরজা থেকেই চলে যাবে?

    ঠিক সেই সময় দুর্বা বেরিয়ে এসে বলল, মা, আসছি।

    শিবানী একটু হেসে বলেন, সুনন্দা, চিন্তা করো না। তোমার মেয়েকে ঠিক সময়েই ফিরিয়ে দিয়ে যাবে।

    তোমাদের ওখানে যাচ্ছে, চিন্তা করব কেন?

    শিবানী আর দুর্বা ট্যাক্সিতে উঠে বসতেই সুনন্দা হাসতে হাসতে বলেন, শিবানী, ঘটকালি করার ব্যাপারটা ভুলে যেও না।

    উনিও হাসতে হাসতে বলেন, মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। সে দায়িত্ব তো আমি স্বেচ্ছায় নিজের হাতে তুলে নিয়েছি।

    বাইপাস দিয়ে ট্যাক্সি ছুটছে। কিছু কুন্তল রাশি উড়ে পড়ছে দুর্বার মুখে কিন্তু সেদিকে ওর হৃক্ষেপ নেই। খোলা জানলা দিয়ে দুরের আকাশ দেখতে দেখতেই ও একটু হেসে বলে, জানেন মাসীমা, আমার খুব ইচ্ছে করে গাড়ি নিয়ে সারা দেশ ঘুরে বেড়াতে আর প্রাণভরে প্রকৃতি দেখতে।

    ও সঙ্গে সঙ্গে একটু চাপা গলায় গেয়ে ওঠে–

    আকাশে আজ কোন্ চরণের
    আসা-যাওয়া
    বাতাসে আজ কোন্ পরশের
    লাগে হাওয়া…।

    শিবানী অপলক দৃষ্টিতে কয়েক মুহূর্ত ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, শিল্পী, তোমাকে যত দেখছি, তত বেশি ভাল লাগছে।

    দুর্বা চাপা হাসি হেসে বলে, আপনি কি সত্যি সত্যিই আমার নাম রাখলেন শিল্পী?

    তোমাকে তো আর লেন নামে ডাকা যায় না।

    .

    ট্যাক্সি থামার আওয়াজ শুনেই ভারতী ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন। দুর্বা ট্যাক্সি থেকে নামতেই উনি ওকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তোমার মুখোনা দেখার জন্য কখন থেকে হা করে জানলার ধারে বসে আছি।

    শিবানী, ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়েই ওদের দুজনের হাতে ধরে বলেন, এখন ভিতরে চলল তো।

    ড্রইং রুমে পা দিয়েই সামনের ছবিটা দেখে দুর্বা বলে, মাসীমা,এই ভদ্রলোকের ছবিতে মালা দেওয়া কেন? আজ কী ওনার জন্মদিন?

    শিবানী একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু ম্লান হাসি হেসে বলেন, না, শিল্পী, আজ ওনার জন্মদিন না। আমি রোজই এই ছবিতে মালা দিই।

    কেন?

    দুর্বা যেন জিভ ফসকে প্রশ্ন করে।

    ভারতীও একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, দুর্বা, আমার এই দেওর বহুঁকাল আগেই আমাদের সবাইকে ফেলে চলে গেছে।

    ছবি দেখে তো মনে হচ্ছে, উনি নেহাতই ইয়ং ম্যান। উনি কবে মারা গিয়েছেন?

    ভারতীই ওর প্রশ্নের জবাব দেন, ঠাকুরপো মারা যাবার ঠিক দশ দিন আগে এই ছবিটা তোলা হয়।

    ও মাই গড! এত অল্প বয়সে…

    শিবানী ওর একটা হাত ধরে বলেন, এখন ভিতরে চলল। পরে সবই জানতে পারবে।

    হঠাৎ যেন সুর কেটে যায়, ছন্দ পতন হয়। হাসি উবে যায় তিনজনেরই মুখ থেকে।

    দুর্বা যেন নড়তে পারে না। অপলক দৃষ্টিতে আবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েক মুহূর্ত। তারপর খুব আস্তে গেয়ে ওঠে–

    তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে
    কেউ তা জানে না,
    আমার মন যে কাঁদে আপন-মনে
    কেউ তা মানে না।
    ফিরি আমি উদাস প্রাণে,
    তাকাই সবার মুখের পানে,
    তোমার মতন এমন টানে
    কেউ তো টানে না।
    তুমি ডাক দিয়েছ কোন্ সকালে…

    গান হঠাৎ থামিয়ে দুর্বাও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, হ্যাঁ, মাসীমা, চলুন, ভিতরে যাই।

    যাইহোক তিনজনে মিলে ব্রেকফাস্ট খাবার পর শিবানীর শোবার ঘরে বিছানার উপরে বসার পর পরই দুর্বা প্রশ্ন করে, মেলোমশাই কত বছর বয়সে চারা যান?

    শিবানী বলেন, ও তখন ঠিক একত্রিশ বছরের।

    মাত্র একত্রিশ?

    হ্যাঁ, মা।

    তখন আপনার বয়স কত?

    সাতাশ।

    ইস। হোয়াট এ স্যাড স্টোরি!

    ভারতী বলেন, দুর্বা, তুমি শুনলে অবাক হয়ে যাবে, এই সর্বনাশের সময় শিবানী প্রেগন্যান্ট ছিল। মাত্র এক মাস পরই তাতাইয়ের জন্ম হয়।

    চমৎকার! ঈশ্বর যে মাঝে মাঝে কি পাগলামীই করেন, তা ভেবে পাই না।

    দুর্বা সঙ্গে সঙ্গে শিবানীর একটা হাত দুটো হাতের মধ্যে নিয়ে বলে, মাসীমা, বলুন তো কী করে কাটিয়ে দিলেন এতগুলো বছর।

    শিবানী একটু ম্লান হাসি হেসে বলেন, মা, মানুষের সুখ-দুঃখের জন্য কি সময় দাঁড়িয়ে থাকে? সময় ঠিকই এগিয়ে যায় কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি যেন চিরকালের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে থাকে চোখের সামনে।

    দু এক মিনিট কেউই কোন কথা বলেন না। সবাই চুপ।

    আচ্ছা মাসীমা, মেলোমশায়ের কি হার্ট অ্যাটাক করেছিল?

    শিবানী উত্তর দেন না, উত্তর দিতে পারেন না। সেই সর্বনাশের কথা বলতে গেলেই যেন কেউ গলা টিপে ধরে। মুখ দিয়ে একটা শব্দ বের করতে পারেন না।

    ভারতী বলেন, মা, এত বছর পরেও সেদিনের অঘটনের কথা বলতে গেলে আমরা নিজেদের সামলাতে পারি না।

    উনি মুহূর্তের জন্য থেমে বলেন, সেদিন সন্ধে সাতটা নাগাদ উডল্যাণ্ডস্ থেকে ঠাকুরপোর কাছে ফোন এলো–

    ডক্টর ব্যানার্জী।

    কি ব্যাপার ডক্টর চ্যাটার্জী এখন আবার টেলিফোন করছেন কেন?

    আর, এম. ও. ডক্টর চ্যাটার্জী বেশ উত্তেজিত হয়েই বলেন, বার্ন স্টল্ডার্ডের ওয়ার্কস ম্যানেজার ফ্যাক্টরীতে সিরিয়াসলি ইনজিয়োর্ড হয়েছেন। আপনি এক্ষুনি চলে আসুন।

    ইয়েস আয়াম কামিং।

    কাম স্ট্রেট টু ও-টি টু।

    ঠিক আছে।

    .

    ঠাকুরপো, সারাদিনই প্যান্ট-সার্ট পরে থাকতো; চেঞ্জ করতে রাত্রে শোবার আগে চান করার পর। যাইহোক এ টেলিফোন আসার দু’মিনিটের মধ্যেই ঠাকুরপো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল।

    মেলোমশাই কি সার্জেন ছিলেন?

    ভারতী একটু হেসে বলেন, ঠাকুরপো অসাধারণ সার্জেন ছিল। এম. বি. বি. এস’ এর ফাঁইনালে সার্জারীতে গোল্ড মেডলিস্ট তারপর শুধু এম. এস. না, ও দ্বিতীয়বার গভর্নরের গোল্ড মেডেল পায়।

    ও মাই গড!

    দুর্বা মুহূর্তের জন্যে থেমে বলে, যাইহোক সেদিন কী হলো, তাই বলুন।

    শিবানী ঠিক রাত বারোটায় ফোন করলো উডল্যান্ড-এ; ওখান থেকে ওরা বলল, ডক্টর ব্যানার্জী অপারেশন শুরু করেছেন ঠিক আটটায়। এখনও অপারেশন চলছে। এখনই বলতে পারছি না, কখন শেষ হবে।

    বাবা! তার মানে, খুবই মেজর অপারশেন চলছিল।

    হ্যাঁ, খুবই মেজর অপারেশন ছিল।

    কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকার পর ভারতী পাঁজর কঁপানো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, কি আর বলব মা। উডল্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেড লাইট ছাড়া একটা লরীর সঙ্গে ঠাকুরপোর গাড়ি মুখোমুখি ধাক্কায়…

    না, উনি কথাটা শেষ করতে পারেন না।

    দুর্বা আঁতকে ওঠে, কি সর্বনাশ!

    ও তাকিয়ে দেখে দুই মাসীমার চোখেই জল।

    দুর্বা আঁচল দিয়ে ওদের দু’জনের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলে, এত বছর ধরেই তো আপনারা চোখের জল ফেলছেন। আজ আর চোখের জল ফেলবেন না। আমি কারুর চোখের জল দেখলে নিজেকে সামলাতে পারি না।

    শিবানী সঙ্গে সঙ্গেই একটু কষ্ট করেই হেসে বলেন, না, শিল্পী, আজ আর আমরা চোখের জল ফেলব না। তোমাকে কি আমরা কষ্ট দিতে পারি?

    দুর্বা দু’হাত দিয়ে ওদের দুজনের দুটো হাত ধরে বলে, তাহলে শুনুন…

    হ্যাঁ, ও গেয়ে ওঠে–

    দুঃখ যদি না পাবে তো
    দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে?
    বিষকে বিষে দাহ দিয়ে
    দহন করে মারতে হবে।
    জ্বলতে দে তোর আগুনটারে
    ভয় কিছু না করিস তারে,
    ছাই হয়ে সে নিভবে যখন
    জ্বলবে না আর কভু তবে।
    এড়িয়ে তারে পালাস না রে,
    ধরা দিতে হোস না কাতর।
    দীর্ঘ পথে ছুটে ছুটে
    দীর্ঘ করিস দুঃখটা তোর।
    মরতে মরতে মরণটারে
    শেষ করে দে একেবারে,
    তারপরে সেই জীবন এসে
    আপন আসন আপনি লবে।
    দুঃখ যদি না পাবে তো…

    শিবানী দুর্বার গাল টিপে আদর করে একটু হেসে বলেন, রোজ যদি তোমার কাছে একটা গানও শুনতে পারতাম, তাহলে আর কোনদিন চোখের জল ফেলতাম না।

    মাসীমা, রোজ হয়তো পারব না কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, মাঝে মাঝেই আমি আপনাকে গান শোনাব। প্লীজ, আপনি আর চোখের জল ফেলবেন না।

    ভারতী ঠিক সেই সময় গলা চড়িয়ে বলেন, সারদা, আমাদের তিন কাপ কফি দেবে?

    রান্নাঘর থেকেই সারদা জবাব দেয়, হ্যাঁ, বড়মা, দিচ্ছি।

    একটু পরেই সারদা কফি দিয়ে যায়।

    কফি খেতে খেতেই দুর্বা শিবানীর দিকে তাকিয়ে বলে, আপনারা দু’জনে কী আপন বোন? নাকি…

    শিবানী ওকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই চাপা হাসি হেসে বলেন, এই ভারতী, তুই শিল্পীকে বল আমরা কি রকম বোন।

    ভারতীও চাপা হাসি হেসে বলেন, আমরা আপন বোনও না, জ্যাঠতুতো খুড়তুতো বোনও না।

    দুর্বা যেন বিশ্বাস করতে পারে না। অবাক হয়ে বলে,তবে?

    ভারতী বলে যান, আমি বেথুন কলেজে চাকরি পাবার ঠিক পাঁচ বছর পর শিবানী ওখানে জয়েন করে। কি করে যে বছর খানেকের মধ্যেই আমাদের দু’জনের বন্ধুত্ব হয়ে গেল, তা বলতে পারব না।

    দুর্বা হাসে; বলে, তারপর?

    রোজ কলেজ ছুটির পর আমরা ঘণ্টাখানেক আড্ডা না দিয়ে বাড়ি যাই না।

    রোজ?

    হ্যাঁ, রোজ।

    কি এত কথা বলতেন?

    দুজনে দুজনের মনের কথা, সংসারের কথা ছাড়াও কত কি বিষয়ে আমাদের কথা। এইভাবে বছর খানেক কাটার পরই আমাদের দুজনের বাড়ি নিয়ে সমস্যা শুরু হলো।

    বাড়ি নিয়ে সমস্যা মানে?

    তখন আমরা দুজনেই ভাড়া বাড়িতে থাকি। দুজনেই বাড়িওয়ালার জন্য নিত্য অশাস্তি ভোগ করি।

    অশান্তি কেন?

    শিবানীদের বাড়িওয়ালার বাতিক ছিল, উনি নিজে সদর দরজা বন্ধ না করে কিছুতেই শুতে যাবেন না। অথচ ঠাকুরপো তখন সবে এস. এস. পাশ করে কর্মজীবন শুরু করেছে।

    ভারতী একটু থেমে বলেন, ৩খন ঠাকুরপো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ছোট-বড় সব ধরনের অপারেশন করার জন্য অনেকগুলো নাসিং হোমে যায়। ওর ফিরতে রোজ রাত হতো। আর তাই নিয়েই বাড়িওয়ালা শুরু করতেন। অশান্তি।

    আচ্ছা লোক তো।

    ভাড়া বাড়িতে থাকার যে কি জ্বালা, তা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝেছি।

    আপনাদের বাড়িওয়ালা কি নিয়ে অশান্তি করতেন?

    আমাদের বাড়ির মালিক ছিলেন দুই ভাই। ওদের দুজনের জাতাকলে পড়ে আমাদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা।

    কেন?

    এক ভাই নিয়মিত টাকা অ্যাডভান্স নিতেন আর অন্য ভাই আমাদের তাড়াবার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছিলেন।

    আচ্ছা মজার ব্যাপার।

    শিবানী বলেন, হারে ভারতী, সব ডিটেল-এ বলতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে।

    না, না, ডিটেলস্-এ বলব না।

    ভারতী একটু থেমেই আবার শুরু করেন, আমরা এর মধ্যে এর-ওর বাড়ি যাতায়াত শুরু করেছি। দুটো পরিবারের মধ্যে বেশ মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যাইহোক আমরা দুজনে ঠিক করলাম, যেভাবেই হোক আমাদের নিজেদের বাড়ি করতে হবে। বাড়িওয়ালাদের জ্বালাতন-খামখেয়ালীপনা আর সহ্য করব না।

    আচ্ছা।

    হ্যাঁ, আমরা দু’জনে মন্ত্রী আর কয়েকজন অফিসারদের কাছে যাতায়াত করতে করতে শেষ পর্যন্ত সল্টলেকের এই দুটো জমি পেলাম।

    দুই মেলোমশাই নিশ্চয়ই খুব খুশি হলেন?

    ভারতী একটু হেসে বলেন, তুমি শুনলে অবাক হবে জমির কথা ওদের আমরা কিছু জানাইনি।

    শিবানী বলেন, আমরা দু’জনে তো সংসারে টাকা দিতাম না। সুতরাং ব্যাঙ্কে বেশ টাকা ছিল। ভারতী নিজের টাকাতেই জমি কিনতে পারলেও আমার টাকা কম পড়লো। কিছু টাকা ভারতী দিল আর কিছু টাকা কলেজ থেকে অ্যাডভান্স নিলাম।

    ভেরি ইন্টারেস্টিং।

    তারপর ঠাকুরপো আর আমার কর্তাকে রাজি করিয়ে সবাই মিলে পুরী গেলাম। ওখানে গিয়ে ওদের দুজনকে আমাদের জমির দলিল দেখাতেই ওরা চমকে গেল।

    তারপর আপনারা বাড়ি বানালেন?

    হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত অনেক কাণ্ড করে আমাদের দুটো বাড়ি হলো।

    শিবানী বলেন, তবে বাড়ি তৈরি হয়েছে শুধু দাদার জন্য। সব ঝক্কি-ঝামেলা উনি একলা হাতে সামলেছেন।

    ভারতী এক ঝলক বন্ধুকে দেখে নিয়েই চাপা হাসি হেসে দুর্বাকে বলেন, এবার একটা মজার কথা বলব?

    হ্যাঁ, বলুন।

    নিজেদের নতুন বাড়িতে আসার আনন্দে এক বছরের মধ্যেই শিবানীর পেটে তাতাই এলো।

    দুর্বা হো হো করে হেসে ওঠে।

    শিবানী কোন মতে হাসি চেপে বলেন, আচ্ছা ভারতী, তোর কি কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই?

    এইসব হাসি-ঠাট্টা থামার পর শিবানী একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, জানো শিল্পী, দাদা আর ভারতী আমার পাশে না থাকলে এই মহা সর্বনাশের পর আমি ঠিক আত্মহত্যা করতাম। দাদা যে আমাকে কি স্নেহ করেন, তা তুমি কল্পনা করতে পারবে না।

    ভারতী একটু হেসে বলেন, আমার স্বামীকে আমি একটা কথা হাজার বার বললেও উনি কানে তোলেন না। সব ব্যাপারেই উনি নির্বিকার ভোলানাথ কিন্তু বৌমা যদি একটা কথা একবার বলে, তাহলে ভোলানাথ সে কাজ না করে শান্তি পান না।

    তুই সব সময় দাদাকে ভোলানাথ ভোলানাথ বলবি না তো! দাদার মত মানুষ দশ-বিশ লাখে একটা হয় না, তা জানিস?

    শিবানী একটু অভিমান করেই বলেন।

    ভারতী হঠাৎ বেশ গম্ভীর হয়ে বলেন, আচ্ছা বাবা, তোর দাদাকে আর ভোলানাথ বলব না। হয়েছে তো?

    দুর্বা শুধু হাসে।

    খেতে বসার আগে শিবানী বলেন, শিল্পী, চল, তোমাকে আমার বাড়ি দেখাই।

    হ্যাঁ, মাসীমা, চলুন।

    প্রথম ঘরটায় ঢুকতে না ঢুকতেই ভারতী বলেন, দুর্বা, এটা ছিল ঠাকুরপোর ঘর।

    দুর্বা চারদিকে তাকিয়ে দেখে। যাঁকে আর কোনদিন কেউ কাছে পাবে না, সব দেয়ালে শুধু তারই ছবি। শুধু একটা ছবির নচে লেখা আছে–ডাঃ তপোব্রত বন্দোপাধ্যায়। তার নীচে দুটি সন-তারিখ-জন্মদিন আর মৃত্যুদিন।

    দুর্বা দু’চোখ ভরে ছবিগুলো দেখতে দেখতে বলে, কি সুন্দর দেখতে ছিলেন মেসোমশাই।

    দুর্বা, ঠাকুরপো শুধু দেখতে সুন্দর ছিল না, অসাধারণ ভাল সার্জেন ছাড়াও ওর স্বভাব-চরিত্রের কোন তুলনা ছিল না।

    ভারতী মুহূর্তের জন্য থেমেই একটু হেসে বলেন, কিছুদিন পর তাতাই এই ঘরে বসবে।

    হঠাৎ দুর্বা মুখ ঘুরিয়ে ভারতীর দিকে তাকিয়ে বলে, তাতাই এই মাসীমার ছেলে?

    হ্যাঁ।

    আর বাবাই কে?

    শিবানী এক গাল হেসে বলেন,আমাদের দুজনের পেটে একটা করে ছেলে হলেও আমরা দুজনেই দুটো ছেলের মা।

    শুনে দুর্বা খুশির হাসি হাসে। তারপর বলে, আপনাদের দুটো ছেলে কী করছেন? পড়াশুনা নাকি…

    ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শিবানী চোখ দুটো বড় বড় করে বলেন, বাবাইসোনা দারুণ ছেলে। কানপুর আই-আই-টি থেকে অসাধারণ ভাল রেজাল্ট করে এম. ট্রেক পাশ করে…।

    ও বাবা! তার মানে খুবই ভাল ছেলে।

    হ্যাঁ, শিল্পী, ও সত্যি খুব ভাল ছেলে।

    শিবানী মুহূর্তের জন্য থেমেই বলেন, ছেলেটা এখন এত ভাল চাকরি করছে, থলি ভর্তি টাকা আয় করছে কিন্তু কোন চালিয়াতিও নেই, কোন উচ্ছাসও নেই।

    ভারতী একটু হেসে বলেন, আমার স্বামীর মত বাবাইও আরেক ভোলানাথ হয়েছে।

    মাসীমা, ওকথা বলবেন না। আজকাল বহু ছেলেমেয়েই লেখাপড়ায় ভাল রেজাল্ট করে খুব ভাল চাকরি করছে কিন্তু তাদের অনেকেরই স্বভাব-চরিত্র দেখে অবাক হতে হয়।

    ও প্রায় না থেমেই বলে, আপনারা ভাবতে পারবেন না, ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই অনেক ছেলেমেয়ে শুধু ড্রিঙ্ক করে না, আরো অনেক কিছু করে।

    ভারতী বলেন, হ্যাঁ, সেইরকমই তো শুনতে পাই।

    শিবানী বলেন, আমাদের ভাগ্য ভাল,আমাদের ছেলে দুটো সেরকম হয় নি।

    আচ্ছা মাসীমা, আপনাদের তাতাইসোনা কি করছেন?

    ভারতীর দুটো চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বলেন, বাবাই সোনা ঠিক ঠাকুরপোর মতই অসাধারণ সার্জেন হতে চলেছে।

    ও আচ্ছা!

    ও এত ভাল ছেলে যে একই সঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ আর দিল্লির এ-আই-আই-এম-এস এ এম. বি. বি. এসএ চান্স পায়। তাতাই সোনা কলকাতায় না পড়ে দিল্লী চলে যায়। ওখানে এম. বি. বি. এস পড়ে এখন এম. এস. করছে।

    দুর্বা একটু হেসে বলে, তার মানে উনিও সার্জারীতে খুব ভাল?

    ভারতী বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন, তাতাই সোনা বিখ্যাত সার্জেন হতে বাধ্য।

    দুই ছেলের জন্যই আপনারা গর্ব করতে পারেন।

    শিবানী বলেন, ছেলেদের জন্য ঠিক গর্ব করি না কিন্তু আমাদের নিশ্চয়ই ভাল লাগে।

    ভারতী বলেন, তাতাই সোনার মত প্রাণবন্ত ছেলে হয় না। ও যখন এখানে আসে, ও যে আমাদের সবাইকে নিয়ে কি পাগলামী করে, তা তুমি ভাবতে পারবে না।

    তাই নাকি?

    আমাদের কথা তো ছেড়েই দিলাম, ও আমার বুড়ো ভোলানাথকে নিয়ে যে কখন কোথায় যাবে, তার ঠিক ঠিকানা নেই।

    শিবানী হাসতে হাসতে বলেন, তাতাই গতবার ছুটিতে এসে কি কাণ্ড করেছিল, তা শুনলে তুমি অবাক হয়ে যাবে।

    উনি কি করেছিলেন?

    ও দাদাকে নিয়ে বেরুবার সময় বলল, মা, আমি জেঠুকে নিয়ে একটু ঘুরে আসছি। আবার হাওড়া স্টেশন থেকে ফোন করে বলল, মা, আমরা পুরী যাচ্ছি; কদিন পর ফিরব।

    দুর্বা হাসতে হাসতে বলে, আচ্ছা ছেলে তো!

    অন্য একটা ঘরে পা দিয়েই শিবানী বলেন, এটা ছেলের ঘর।

    মাসীমা, তা আর বলে দিতে হবে না। দেয়ালের পোস্টারগুলো দেখেই বুঝতে পারছি।

    ভারতী বুক শেলফ-এর উপর থেকে একটা ছবি তুলে দুর্বার হাতে দিতে বলেন, এই দেখো, আমাদের ছেলেদের ছবি।

    আপনাদের দুটো ছেলেই তো বেশ দেখতে।

    হ্যাঁ, তা বেশ দেখতে।

    শিবানী আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, এই হচ্ছে বাবাই সোনা আর এই হচ্ছে…

    ওনার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে দুর্বা একটু হেসে বলে, তাতাই সোনা, তাইতো?

    হ্যাঁ, মা।

    চোখ দুটো দেখলেই মনে হয়, আপনাদের তাতাই সোনা বেশ দুষ্ট আছে।

    ভারতী আর শিবানী প্রায় একই সঙ্গে বলেন, ঠিক ধরেছ।

    ভারতী হাসতে হাসতেই বলেন, ছেলেটা দেখতে দেখতে কত বড় হলো, এম. এস. পড়ছে কিন্তু এখনও বাচ্চাদের মত দুষ্টমি করতে ওর-জুড়ি নেই।

    খেতে বসেও কত কথা, কত গল্প হয়। খাওয়া দাওয়ার পরও কত কথা হয় ওদের।

    একবার দুর্বা ভারতীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, মেলোমশাই কি করেন?

    ভারতী একটু হেসে বলেন, উনি একটু বড় ধরনের মিস্ত্রিগিরি…

    ওনাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই শিবানী বলে, চুপ কর ভারতী। দাদা মিস্ত্রিগিরি করেন, তাই না?

    এবার উনি দুর্বার দিকে তাকিয়ে বলেন, দাদা গেস্টকিন-উইলিয়ামস্-এর চীফ ম্যানেজার-প্ল্যানিং।

    তার মানে মেলোমশাই ইজ এ বিগ বস!

    শিবানী সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করেন, শিল্পী, তোমার বাবা কি করেন?

    বাবা মেকানিক্যাল এঞ্জিনিয়ার। এখন চীফ জেনারেল ম্যানেজর-ওয়ার্কস।

    তাইতো বাবাকে হরদম দিল্লী আর হায়দ্রাবাদ ছুটতে হয়।

    তার মানে তোমার বাবা বেশ কৃতি পুরুষ।

    কৃর্তি পুরুষ কিনা জানি না কিন্তু হি ইজ রিয়লী এ ভেরি গুড ম্যান, এ চামিং হাসব্যান্ড অ্যান্ড লাভলি অ্যাফেকশনেট ফাদার।

    বেলা গড়িয়ে যায়; সূর্য ঢলে পড়ে। কফি খেতে খেতে ভারতী বলেন, শিবানী, চল, আমরা দু’জনে গিয়ে দুর্বাকে পৌঁছে দিই।

    দুর্বা কফির কাপে চুমুক দিতে গিয়েও দেয় না; বলে, না, না, আপনাদের কাউকে যেতে হবে না। আমি একলাই যেতে পারব।

    নিশ্চয়ই তুমি একলা যেতে পারে কিন্তু আমরাই তোমাকে পৌঁছে দেব।

    দুর্বা আবার আপত্তি করে না কিন্তু শিবানী বলেন, আমাদের যদি যেতে ইচ্ছে করে, তুমি আপত্তি করবে কেন?

    ও একটু হেসে বলে, আপনারা সব সময় আমাকে হারিয়ে দিচ্ছেন।

    এর পর তুমি আমাদের বার বার হারিয়ে দিও।

    রওনা হবার আগে ভারতী বলেন, চলো দুর্বা, আমার বাড়িটা দেখবে।

    হ্যাঁ, মাসীমা, চলুন।

    বাড়িটা দেখে বেরুতে বেরুতেই দুর্বা বলে, আপনাদের দুটো বাড়িতেই কোন বাহুল্য নেই। আজকাল অনেক বাড়িতেই এমন দামী দামী আর চকমকে-ঝকঝকে ফার্নিচার রাখে যে মনে হয়, কোন হোটেলে এসেছি।

    মা, আমরা আবার কি বাহুল্য করব?

    মাসীমা, আজকাল বহু বাড়িতেই লক্ষ্মী-সরস্বতী বিরাজ করেন কিন্তু সেই সব বাড়িতে রুচির পরিচয় বিশেষ পাওয়া যায় না।

    হ্যাঁ, তা বলতে পারো।

    ট্যাক্সি ধরার জন্য ওরা তিনজনে মোড়ের মাথার দিকে এগিয়ে চলেন।

    শিবানী বলেন, শিল্পী, এই দুই বুড়ীর সঙ্গে সারাটা দিন কাটিয়ে কেমন লাগলো, তা তো বললে না।

    মাসীমা, বিশ্বাস করুন, খুব ভাল লেগেছে, খুব আনন্দ পেয়েছি।

    দুর্বা না থেমেই হাসতে হাসতে বলে, দেখবেন, এবার থেকে যখন-তখন আপনাদের কাছে এসে যাবে।

    শিবানীর সঙ্গে পরামর্শ করেই ভারতী ঠিক করেছিলেন, আরো কিছুদিন না গেলে স্বামী বা ছেলেকে কিছু জানাবেন না। ওরা যাতে কোনকিছু জানতে না পারে, সেজন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও হয়েছিল শিবানীর বাড়িতে।

    তবে হ্যাঁ, ভারতী নিশ্চয়ই দুর্বাকে নিজের বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাবেন।

    দুই বন্ধু আলাপ-আলোচনা করেই ঠিক করেছিলেন, বাবাই বা ওর বাবা বাড়ি ফেরার আগেই ওরা দুর্বাকে নিয়ে রওনা হয়ে যাবেন।

    সেদিন শিবানী ট্যাক্সি নিয়ে হাজির হতেই দুর্বা হাসতে হাসতে বেরিয়ে এসে বলল, মাসীমা, আমি রেডি চটি বদলেই আসছি।

    সুনন্দাও বেরিয়ে এলেন। বলেন, একি, তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে কেন?

    না, ভাই সুনন্দা, এখন আর বসব না।

    তাই বলে, একেবারে দরজা থেকেই চলে যাবে?

    ঠিক সেই সময় দুর্বা বেরিয়ে এসে বলল, মা, আসছি।

    শিবানী একটু হেসে বলেন, সুনন্দা, চিন্তা করো না। তোমার মেয়েকে ঠিক সময়েই ফিরিয়ে দিয়ে যাবে।

    তোমাদের ওখানে যাচ্ছে, চিন্তা করব কেন?

    শিবানী আর দুর্বা ট্যাক্সিতে উঠে বসতেই সুনন্দা হাসতে হাসতে বলেন, শিবানী, ঘটকালি করার ব্যাপারটা ভুলে যেও না।

    উনিও হাসতে হাসতে বলেন, মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। সে দায়িত্ব তো আমি স্বেচ্ছায় নিজের হাতে তুলে নিয়েছি।

    বাইপাস দিয়ে ট্যাক্সি ছুটছে। কিছু কুন্তল রাশি উড়ে পড়ছে দুর্বার মুখে কিন্তু সেদিকে ওর হৃক্ষেপ নেই। খোলা জানলা দিয়ে দুরের আকাশ দেখতে দেখতেই ও একটু হেসে বলে, জানেন মাসীমা, আমার খুব ইচ্ছে করে গাড়ি নিয়ে সারা দেশ ঘুরে বেড়াতে আর প্রাণভরে প্রকৃতি দেখতে।

    ও সঙ্গে সঙ্গে একটু চাপা গলায় গেয়ে ওঠে–

    আকাশে আজ কোন্ চরণের
    আসা-যাওয়া
    বাতাসে আজ কোন্ পরশের
    লাগে হাওয়া…।

    শিবানী অপলক দৃষ্টিতে কয়েক মুহূর্ত ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, শিল্পী, তোমাকে যত দেখছি, তত বেশি ভাল লাগছে।

    দুর্বা চাপা হাসি হেসে বলে, আপনি কি সত্যি সত্যিই আমার নাম রাখলেন শিল্পী?

    তোমাকে তো আর লেন নামে ডাকা যায় না।

    .

    ট্যাক্সি থামার আওয়াজ শুনেই ভারতী ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন। দুর্বা ট্যাক্সি থেকে নামতেই উনি ওকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তোমার মুখোনা দেখার জন্য কখন থেকে হা করে জানলার ধারে বসে আছি।

    শিবানী, ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়েই ওদের দুজনের হাতে ধরে বলেন, এখন ভিতরে চলল তো।

    ড্রইং রুমে পা দিয়েই সামনের ছবিটা দেখে দুর্বা বলে, মাসীমা,এই ভদ্রলোকের ছবিতে মালা দেওয়া কেন? আজ কী ওনার জন্মদিন?

    শিবানী একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু ম্লান হাসি হেসে বলেন, না, শিল্পী, আজ ওনার জন্মদিন না। আমি রোজই এই ছবিতে মালা দিই।

    কেন?

    দুর্বা যেন জিভ ফসকে প্রশ্ন করে।

    ভারতীও একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, দুর্বা, আমার এই দেওর বহুঁকাল আগেই আমাদের সবাইকে ফেলে চলে গেছে।

    ছবি দেখে তো মনে হচ্ছে, উনি নেহাতই ইয়ং ম্যান। উনি কবে মারা গিয়েছেন?

    ভারতীই ওর প্রশ্নের জবাব দেন, ঠাকুরপো মারা যাবার ঠিক দশ দিন আগে এই ছবিটা তোলা হয়।

    ও মাই গড! এত অল্প বয়সে…

    শিবানী ওর একটা হাত ধরে বলেন, এখন ভিতরে চলল। পরে সবই জানতে পারবে।

    হঠাৎ যেন সুর কেটে যায়, ছন্দ পতন হয়। হাসি উবে যায় তিনজনেরই মুখ থেকে।

    দুর্বা যেন নড়তে পারে না। অপলক দৃষ্টিতে আবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েক মুহূর্ত। তারপর খুব আস্তে গেয়ে ওঠে–

    তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে
    কেউ তা জানে না,
    আমার মন যে কাঁদে আপন-মনে
    কেউ তা মানে না।
    ফিরি আমি উদাস প্রাণে,
    তাকাই সবার মুখের পানে,
    তোমার মতন এমন টানে
    কেউ তো টানে না।
    তুমি ডাক দিয়েছ কোন্ সকালে…

    গান হঠাৎ থামিয়ে দুর্বাও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, হ্যাঁ, মাসীমা, চলুন, ভিতরে যাই।

    যাইহোক তিনজনে মিলে ব্রেকফাস্ট খাবার পর শিবানীর শোবার ঘরে বিছানার উপরে বসার পর পরই দুর্বা প্রশ্ন করে, মেলোমশাই কত বছর বয়সে চারা যান?

    শিবানী বলেন, ও তখন ঠিক একত্রিশ বছরের।

    মাত্র একত্রিশ?

    হ্যাঁ, মা।

    তখন আপনার বয়স কত?

    সাতাশ।

    ইস। হোয়াট এ স্যাড স্টোরি!

    ভারতী বলেন, দুর্বা, তুমি শুনলে অবাক হয়ে যাবে, এই সর্বনাশের সময় শিবানী প্রেগন্যান্ট ছিল। মাত্র এক মাস পরই তাতাইয়ের জন্ম হয়।

    চমৎকার! ঈশ্বর যে মাঝে মাঝে কি পাগলামীই করেন, তা ভেবে পাই না।

    দুর্বা সঙ্গে সঙ্গে শিবানীর একটা হাত দুটো হাতের মধ্যে নিয়ে বলে, মাসীমা, বলুন তো কী করে কাটিয়ে দিলেন এতগুলো বছর।

    শিবানী একটু ম্লান হাসি হেসে বলেন, মা, মানুষের সুখ-দুঃখের জন্য কি সময় দাঁড়িয়ে থাকে? সময় ঠিকই এগিয়ে যায় কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি যেন চিরকালের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে থাকে চোখের সামনে।

    দু এক মিনিট কেউই কোন কথা বলেন না। সবাই চুপ।

    আচ্ছা মাসীমা, মেলোমশায়ের কি হার্ট অ্যাটাক করেছিল?

    শিবানী উত্তর দেন না, উত্তর দিতে পারেন না। সেই সর্বনাশের কথা বলতে গেলেই যেন কেউ গলা টিপে ধরে। মুখ দিয়ে একটা শব্দ বের করতে পারেন না।

    ভারতী বলেন, মা, এত বছর পরেও সেদিনের অঘটনের কথা বলতে গেলে আমরা নিজেদের সামলাতে পারি না।

    উনি মুহূর্তের জন্য থেমে বলেন, সেদিন সন্ধে সাতটা নাগাদ উডল্যাণ্ডস্ থেকে ঠাকুরপোর কাছে ফোন এলো–

    ডক্টর ব্যানার্জী।

    কি ব্যাপার ডক্টর চ্যাটার্জী এখন আবার টেলিফোন করছেন কেন?

    আর, এম. ও. ডক্টর চ্যাটার্জী বেশ উত্তেজিত হয়েই বলেন, বার্ন স্টল্ডার্ডের ওয়ার্কস ম্যানেজার ফ্যাক্টরীতে সিরিয়াসলি ইনজিয়োর্ড হয়েছেন। আপনি এক্ষুনি চলে আসুন।

    ইয়েস আয়াম কামিং।

    কাম স্ট্রেট টু ও-টি টু।

    ঠিক আছে।

    .

    ঠাকুরপো, সারাদিনই প্যান্ট-সার্ট পরে থাকতো; চেঞ্জ করতে রাত্রে শোবার আগে চান করার পর। যাইহোক এ টেলিফোন আসার দু’মিনিটের মধ্যেই ঠাকুরপো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল।

    মেলোমশাই কি সার্জেন ছিলেন?

    ভারতী একটু হেসে বলেন, ঠাকুরপো অসাধারণ সার্জেন ছিল। এম. বি. বি. এস’ এর ফাঁইনালে সার্জারীতে গোল্ড মেডলিস্ট তারপর শুধু এম. এস. না, ও দ্বিতীয়বার গভর্নরের গোল্ড মেডেল পায়।

    ও মাই গড!

    দুর্বা মুহূর্তের জন্যে থেমে বলে, যাইহোক সেদিন কী হলো, তাই বলুন।

    শিবানী ঠিক রাত বারোটায় ফোন করলো উডল্যান্ড-এ; ওখান থেকে ওরা বলল, ডক্টর ব্যানার্জী অপারেশন শুরু করেছেন ঠিক আটটায়। এখনও অপারেশন চলছে। এখনই বলতে পারছি না, কখন শেষ হবে।

    বাবা! তার মানে, খুবই মেজর অপারশেন চলছিল।

    হ্যাঁ, খুবই মেজর অপারেশন ছিল।

    কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকার পর ভারতী পাঁজর কঁপানো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, কি আর বলব মা। উডল্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেড লাইট ছাড়া একটা লরীর সঙ্গে ঠাকুরপোর গাড়ি মুখোমুখি ধাক্কায়…

    না, উনি কথাটা শেষ করতে পারেন না।

    দুর্বা আঁতকে ওঠে, কি সর্বনাশ!

    ও তাকিয়ে দেখে দুই মাসীমার চোখেই জল।

    দুর্বা আঁচল দিয়ে ওদের দু’জনের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলে, এত বছর ধরেই তো আপনারা চোখের জল ফেলছেন। আজ আর চোখের জল ফেলবেন না। আমি কারুর চোখের জল দেখলে নিজেকে সামলাতে পারি না।

    শিবানী সঙ্গে সঙ্গেই একটু কষ্ট করেই হেসে বলেন, না, শিল্পী, আজ আর আমরা চোখের জল ফেলব না। তোমাকে কি আমরা কষ্ট দিতে পারি?

    দুর্বা দু’হাত দিয়ে ওদের দুজনের দুটো হাত ধরে বলে, তাহলে শুনুন…

    হ্যাঁ, ও গেয়ে ওঠে–

    দুঃখ যদি না পাবে তো
    দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে?
    বিষকে বিষে দাহ দিয়ে
    দহন করে মারতে হবে।
    জ্বলতে দে তোর আগুনটারে
    ভয় কিছু না করিস তারে,
    ছাই হয়ে সে নিভবে যখন
    জ্বলবে না আর কভু তবে।
    এড়িয়ে তারে পালাস না রে,
    ধরা দিতে হোস না কাতর।
    দীর্ঘ পথে ছুটে ছুটে
    দীর্ঘ করিস দুঃখটা তোর।
    মরতে মরতে মরণটারে
    শেষ করে দে একেবারে,
    তারপরে সেই জীবন এসে
    আপন আসন আপনি লবে।
    দুঃখ যদি না পাবে তো…

    শিবানী দুর্বার গাল টিপে আদর করে একটু হেসে বলেন, রোজ যদি তোমার কাছে একটা গানও শুনতে পারতাম, তাহলে আর কোনদিন চোখের জল ফেলতাম না।

    মাসীমা, রোজ হয়তো পারব না কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, মাঝে মাঝেই আমি আপনাকে গান শোনাব। প্লীজ, আপনি আর চোখের জল ফেলবেন না।

    ভারতী ঠিক সেই সময় গলা চড়িয়ে বলেন, সারদা, আমাদের তিন কাপ কফি দেবে?

    রান্নাঘর থেকেই সারদা জবাব দেয়, হ্যাঁ, বড়মা, দিচ্ছি।

    একটু পরেই সারদা কফি দিয়ে যায়।

    কফি খেতে খেতেই দুর্বা শিবানীর দিকে তাকিয়ে বলে, আপনারা দু’জনে কী আপন বোন? নাকি…

    শিবানী ওকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই চাপা হাসি হেসে বলেন, এই ভারতী, তুই শিল্পীকে বল আমরা কি রকম বোন।

    ভারতীও চাপা হাসি হেসে বলেন, আমরা আপন বোনও না, জ্যাঠতুতো খুড়তুতো বোনও না।

    দুর্বা যেন বিশ্বাস করতে পারে না। অবাক হয়ে বলে,তবে?

    ভারতী বলে যান, আমি বেথুন কলেজে চাকরি পাবার ঠিক পাঁচ বছর পর শিবানী ওখানে জয়েন করে। কি করে যে বছর খানেকের মধ্যেই আমাদের দু’জনের বন্ধুত্ব হয়ে গেল, তা বলতে পারব না।

    দুর্বা হাসে; বলে, তারপর?

    রোজ কলেজ ছুটির পর আমরা ঘণ্টাখানেক আড্ডা না দিয়ে বাড়ি যাই না।

    রোজ?

    হ্যাঁ, রোজ।

    কি এত কথা বলতেন?

    দুজনে দুজনের মনের কথা, সংসারের কথা ছাড়াও কত কি বিষয়ে আমাদের কথা। এইভাবে বছর খানেক কাটার পরই আমাদের দুজনের বাড়ি নিয়ে সমস্যা শুরু হলো।

    বাড়ি নিয়ে সমস্যা মানে?

    তখন আমরা দুজনেই ভাড়া বাড়িতে থাকি। দুজনেই বাড়িওয়ালার জন্য নিত্য অশাস্তি ভোগ করি।

    অশান্তি কেন?

    শিবানীদের বাড়িওয়ালার বাতিক ছিল, উনি নিজে সদর দরজা বন্ধ না করে কিছুতেই শুতে যাবেন না। অথচ ঠাকুরপো তখন সবে এস. এস. পাশ করে কর্মজীবন শুরু করেছে।

    ভারতী একটু থেমে বলেন, ৩খন ঠাকুরপো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ছোট-বড় সব ধরনের অপারেশন করার জন্য অনেকগুলো নাসিং হোমে যায়। ওর ফিরতে রোজ রাত হতো। আর তাই নিয়েই বাড়িওয়ালা শুরু করতেন। অশান্তি।

    আচ্ছা লোক তো।

    ভাড়া বাড়িতে থাকার যে কি জ্বালা, তা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝেছি।

    আপনাদের বাড়িওয়ালা কি নিয়ে অশান্তি করতেন?

    আমাদের বাড়ির মালিক ছিলেন দুই ভাই। ওদের দুজনের জাতাকলে পড়ে আমাদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা।

    কেন?

    এক ভাই নিয়মিত টাকা অ্যাডভান্স নিতেন আর অন্য ভাই আমাদের তাড়াবার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছিলেন।

    আচ্ছা মজার ব্যাপার।

    শিবানী বলেন, হারে ভারতী, সব ডিটেল-এ বলতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে।

    না, না, ডিটেলস্-এ বলব না।

    ভারতী একটু থেমেই আবার শুরু করেন, আমরা এর মধ্যে এর-ওর বাড়ি যাতায়াত শুরু করেছি। দুটো পরিবারের মধ্যে বেশ মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যাইহোক আমরা দুজনে ঠিক করলাম, যেভাবেই হোক আমাদের নিজেদের বাড়ি করতে হবে। বাড়িওয়ালাদের জ্বালাতন-খামখেয়ালীপনা আর সহ্য করব না।

    আচ্ছা।

    হ্যাঁ, আমরা দু’জনে মন্ত্রী আর কয়েকজন অফিসারদের কাছে যাতায়াত করতে করতে শেষ পর্যন্ত সল্টলেকের এই দুটো জমি পেলাম।

    দুই মেলোমশাই নিশ্চয়ই খুব খুশি হলেন?

    ভারতী একটু হেসে বলেন, তুমি শুনলে অবাক হবে জমির কথা ওদের আমরা কিছু জানাইনি।

    শিবানী বলেন, আমরা দু’জনে তো সংসারে টাকা দিতাম না। সুতরাং ব্যাঙ্কে বেশ টাকা ছিল। ভারতী নিজের টাকাতেই জমি কিনতে পারলেও আমার টাকা কম পড়লো। কিছু টাকা ভারতী দিল আর কিছু টাকা কলেজ থেকে অ্যাডভান্স নিলাম।

    ভেরি ইন্টারেস্টিং।

    তারপর ঠাকুরপো আর আমার কর্তাকে রাজি করিয়ে সবাই মিলে পুরী গেলাম। ওখানে গিয়ে ওদের দুজনকে আমাদের জমির দলিল দেখাতেই ওরা চমকে গেল।

    তারপর আপনারা বাড়ি বানালেন?

    হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত অনেক কাণ্ড করে আমাদের দুটো বাড়ি হলো।

    শিবানী বলেন, তবে বাড়ি তৈরি হয়েছে শুধু দাদার জন্য। সব ঝক্কি-ঝামেলা উনি একলা হাতে সামলেছেন।

    ভারতী এক ঝলক বন্ধুকে দেখে নিয়েই চাপা হাসি হেসে দুর্বাকে বলেন, এবার একটা মজার কথা বলব?

    হ্যাঁ, বলুন।

    নিজেদের নতুন বাড়িতে আসার আনন্দে এক বছরের মধ্যেই শিবানীর পেটে তাতাই এলো।

    দুর্বা হো হো করে হেসে ওঠে।

    শিবানী কোন মতে হাসি চেপে বলেন, আচ্ছা ভারতী, তোর কি কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই?

    এইসব হাসি-ঠাট্টা থামার পর শিবানী একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, জানো শিল্পী, দাদা আর ভারতী আমার পাশে না থাকলে এই মহা সর্বনাশের পর আমি ঠিক আত্মহত্যা করতাম। দাদা যে আমাকে কি স্নেহ করেন, তা তুমি কল্পনা করতে পারবে না।

    ভারতী একটু হেসে বলেন, আমার স্বামীকে আমি একটা কথা হাজার বার বললেও উনি কানে তোলেন না। সব ব্যাপারেই উনি নির্বিকার ভোলানাথ কিন্তু বৌমা যদি একটা কথা একবার বলে, তাহলে ভোলানাথ সে কাজ না করে শান্তি পান না।

    তুই সব সময় দাদাকে ভোলানাথ ভোলানাথ বলবি না তো! দাদার মত মানুষ দশ-বিশ লাখে একটা হয় না, তা জানিস?

    শিবানী একটু অভিমান করেই বলেন।

    ভারতী হঠাৎ বেশ গম্ভীর হয়ে বলেন, আচ্ছা বাবা, তোর দাদাকে আর ভোলানাথ বলব না। হয়েছে তো?

    দুর্বা শুধু হাসে।

    খেতে বসার আগে শিবানী বলেন, শিল্পী, চল, তোমাকে আমার বাড়ি দেখাই।

    হ্যাঁ, মাসীমা, চলুন।

    প্রথম ঘরটায় ঢুকতে না ঢুকতেই ভারতী বলেন, দুর্বা, এটা ছিল ঠাকুরপোর ঘর।

    দুর্বা চারদিকে তাকিয়ে দেখে। যাঁকে আর কোনদিন কেউ কাছে পাবে না, সব দেয়ালে শুধু তারই ছবি। শুধু একটা ছবির নচে লেখা আছে–ডাঃ তপোব্রত বন্দোপাধ্যায়। তার নীচে দুটি সন-তারিখ-জন্মদিন আর মৃত্যুদিন।

    দুর্বা দু’চোখ ভরে ছবিগুলো দেখতে দেখতে বলে, কি সুন্দর দেখতে ছিলেন মেসোমশাই।

    দুর্বা, ঠাকুরপো শুধু দেখতে সুন্দর ছিল না, অসাধারণ ভাল সার্জেন ছাড়াও ওর স্বভাব-চরিত্রের কোন তুলনা ছিল না।

    ভারতী মুহূর্তের জন্য থেমেই একটু হেসে বলেন, কিছুদিন পর তাতাই এই ঘরে বসবে।

    হঠাৎ দুর্বা মুখ ঘুরিয়ে ভারতীর দিকে তাকিয়ে বলে, তাতাই এই মাসীমার ছেলে?

    হ্যাঁ।

    আর বাবাই কে?

    শিবানী এক গাল হেসে বলেন,আমাদের দুজনের পেটে একটা করে ছেলে হলেও আমরা দুজনেই দুটো ছেলের মা।

    শুনে দুর্বা খুশির হাসি হাসে। তারপর বলে, আপনাদের দুটো ছেলে কী করছেন? পড়াশুনা নাকি…

    ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শিবানী চোখ দুটো বড় বড় করে বলেন, বাবাইসোনা দারুণ ছেলে। কানপুর আই-আই-টি থেকে অসাধারণ ভাল রেজাল্ট করে এম. ট্রেক পাশ করে…।

    ও বাবা! তার মানে খুবই ভাল ছেলে।

    হ্যাঁ, শিল্পী, ও সত্যি খুব ভাল ছেলে।

    শিবানী মুহূর্তের জন্য থেমেই বলেন, ছেলেটা এখন এত ভাল চাকরি করছে, থলি ভর্তি টাকা আয় করছে কিন্তু কোন চালিয়াতিও নেই, কোন উচ্ছাসও নেই।

    ভারতী একটু হেসে বলেন, আমার স্বামীর মত বাবাইও আরেক ভোলানাথ হয়েছে।

    মাসীমা, ওকথা বলবেন না। আজকাল বহু ছেলেমেয়েই লেখাপড়ায় ভাল রেজাল্ট করে খুব ভাল চাকরি করছে কিন্তু তাদের অনেকেরই স্বভাব-চরিত্র দেখে অবাক হতে হয়।

    ও প্রায় না থেমেই বলে, আপনারা ভাবতে পারবেন না, ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই অনেক ছেলেমেয়ে শুধু ড্রিঙ্ক করে না, আরো অনেক কিছু করে।

    ভারতী বলেন, হ্যাঁ, সেইরকমই তো শুনতে পাই।

    শিবানী বলেন, আমাদের ভাগ্য ভাল,আমাদের ছেলে দুটো সেরকম হয় নি।

    আচ্ছা মাসীমা, আপনাদের তাতাইসোনা কি করছেন?

    ভারতীর দুটো চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বলেন, বাবাই সোনা ঠিক ঠাকুরপোর মতই অসাধারণ সার্জেন হতে চলেছে।

    ও আচ্ছা!

    ও এত ভাল ছেলে যে একই সঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ আর দিল্লির এ-আই-আই-এম-এস এ এম. বি. বি. এসএ চান্স পায়। তাতাই সোনা কলকাতায় না পড়ে দিল্লী চলে যায়। ওখানে এম. বি. বি. এস পড়ে এখন এম. এস. করছে।

    দুর্বা একটু হেসে বলে, তার মানে উনিও সার্জারীতে খুব ভাল?

    ভারতী বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন, তাতাই সোনা বিখ্যাত সার্জেন হতে বাধ্য।

    দুই ছেলের জন্যই আপনারা গর্ব করতে পারেন।

    শিবানী বলেন, ছেলেদের জন্য ঠিক গর্ব করি না কিন্তু আমাদের নিশ্চয়ই ভাল লাগে।

    ভারতী বলেন, তাতাই সোনার মত প্রাণবন্ত ছেলে হয় না। ও যখন এখানে আসে, ও যে আমাদের সবাইকে নিয়ে কি পাগলামী করে, তা তুমি ভাবতে পারবে না।

    তাই নাকি?

    আমাদের কথা তো ছেড়েই দিলাম, ও আমার বুড়ো ভোলানাথকে নিয়ে যে কখন কোথায় যাবে, তার ঠিক ঠিকানা নেই।

    শিবানী হাসতে হাসতে বলেন, তাতাই গতবার ছুটিতে এসে কি কাণ্ড করেছিল, তা শুনলে তুমি অবাক হয়ে যাবে।

    উনি কি করেছিলেন?

    ও দাদাকে নিয়ে বেরুবার সময় বলল, মা, আমি জেঠুকে নিয়ে একটু ঘুরে আসছি। আবার হাওড়া স্টেশন থেকে ফোন করে বলল, মা, আমরা পুরী যাচ্ছি; কদিন পর ফিরব।

    দুর্বা হাসতে হাসতে বলে, আচ্ছা ছেলে তো!

    অন্য একটা ঘরে পা দিয়েই শিবানী বলেন, এটা ছেলের ঘর।

    মাসীমা, তা আর বলে দিতে হবে না। দেয়ালের পোস্টারগুলো দেখেই বুঝতে পারছি।

    ভারতী বুক শেলফ-এর উপর থেকে একটা ছবি তুলে দুর্বার হাতে দিতে বলেন, এই দেখো, আমাদের ছেলেদের ছবি।

    আপনাদের দুটো ছেলেই তো বেশ দেখতে।

    হ্যাঁ, তা বেশ দেখতে।

    শিবানী আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, এই হচ্ছে বাবাই সোনা আর এই হচ্ছে…

    ওনার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে দুর্বা একটু হেসে বলে, তাতাই সোনা, তাইতো?

    হ্যাঁ, মা।

    চোখ দুটো দেখলেই মনে হয়, আপনাদের তাতাই সোনা বেশ দুষ্ট আছে।

    ভারতী আর শিবানী প্রায় একই সঙ্গে বলেন, ঠিক ধরেছ।

    ভারতী হাসতে হাসতেই বলেন, ছেলেটা দেখতে দেখতে কত বড় হলো, এম. এস. পড়ছে কিন্তু এখনও বাচ্চাদের মত দুষ্টমি করতে ওর-জুড়ি নেই।

    খেতে বসেও কত কথা, কত গল্প হয়। খাওয়া দাওয়ার পরও কত কথা হয় ওদের।

    একবার দুর্বা ভারতীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, মেলোমশাই কি করেন?

    ভারতী একটু হেসে বলেন, উনি একটু বড় ধরনের মিস্ত্রিগিরি…

    ওনাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই শিবানী বলে, চুপ কর ভারতী। দাদা মিস্ত্রিগিরি করেন, তাই না?

    এবার উনি দুর্বার দিকে তাকিয়ে বলেন, দাদা গেস্টকিন-উইলিয়ামস্-এর চীফ ম্যানেজার-প্ল্যানিং।

    তার মানে মেলোমশাই ইজ এ বিগ বস!

    শিবানী সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করেন, শিল্পী, তোমার বাবা কি করেন?

    বাবা মেকানিক্যাল এঞ্জিনিয়ার। এখন চীফ জেনারেল ম্যানেজর-ওয়ার্কস।

    তাইতো বাবাকে হরদম দিল্লী আর হায়দ্রাবাদ ছুটতে হয়।

    তার মানে তোমার বাবা বেশ কৃতি পুরুষ।

    কৃর্তি পুরুষ কিনা জানি না কিন্তু হি ইজ রিয়লী এ ভেরি গুড ম্যান, এ চামিং হাসব্যান্ড অ্যান্ড লাভলি অ্যাফেকশনেট ফাদার।

    বেলা গড়িয়ে যায়; সূর্য ঢলে পড়ে। কফি খেতে খেতে ভারতী বলেন, শিবানী, চল, আমরা দু’জনে গিয়ে দুর্বাকে পৌঁছে দিই।

    দুর্বা কফির কাপে চুমুক দিতে গিয়েও দেয় না; বলে, না, না, আপনাদের কাউকে যেতে হবে না। আমি একলাই যেতে পারব।

    নিশ্চয়ই তুমি একলা যেতে পারে কিন্তু আমরাই তোমাকে পৌঁছে দেব।

    দুর্বা আবার আপত্তি করে না কিন্তু শিবানী বলেন, আমাদের যদি যেতে ইচ্ছে করে, তুমি আপত্তি করবে কেন?

    ও একটু হেসে বলে, আপনারা সব সময় আমাকে হারিয়ে দিচ্ছেন।

    এর পর তুমি আমাদের বার বার হারিয়ে দিও।

    রওনা হবার আগে ভারতী বলেন, চলো দুর্বা, আমার বাড়িটা দেখবে।

    হ্যাঁ, মাসীমা, চলুন।

    বাড়িটা দেখে বেরুতে বেরুতেই দুর্বা বলে, আপনাদের দুটো বাড়িতেই কোন বাহুল্য নেই। আজকাল অনেক বাড়িতেই এমন দামী দামী আর চকমকে-ঝকঝকে ফার্নিচার রাখে যে মনে হয়, কোন হোটেলে এসেছি।

    মা, আমরা আবার কি বাহুল্য করব?

    মাসীমা, আজকাল বহু বাড়িতেই লক্ষ্মী-সরস্বতী বিরাজ করেন কিন্তু সেই সব বাড়িতে রুচির পরিচয় বিশেষ পাওয়া যায় না।

    হ্যাঁ, তা বলতে পারো।

    ট্যাক্সি ধরার জন্য ওরা তিনজনে মোড়ের মাথার দিকে এগিয়ে চলেন।

    শিবানী বলেন, শিল্পী, এই দুই বুড়ীর সঙ্গে সারাটা দিন কাটিয়ে কেমন লাগলো, তা তো বললে না।

    মাসীমা, বিশ্বাস করুন, খুব ভাল লেগেছে, খুব আনন্দ পেয়েছি।

    দুর্বা না থেমেই হাসতে হাসতে বলে, দেখবেন, এবার থেকে যখন-তখন আপনাদের কাছে এসে যাবে।

    ওরা দুজনেই এক সঙ্গে বলেন, হ্যাঁ, মা, এসো খুব খুশি হব।

    ওরা দুজনেই এক সঙ্গে বলেন, হ্যাঁ, মা, এসো খুব খুশি হব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালী-টোলা – নিমাই ভট্টাচার্য
    Next Article প্রেমের গল্প – নিমাই ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নিমাই ভট্টাচার্য

    মেমসাহেব – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    এ-ডি-সি – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    আকাশ-ভরা সূর্য-তারা – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    ডিপ্লোম্যাট – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রিয়বরেষু – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রেমের গল্প – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }