Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেয়সী – নিমাই ভট্টাচার্য

    নিমাই ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. সকালে সংসারের টুকটাক দেখাশুনা

    সকালে সংসারের টুকটাক দেখাশুনা বিধি ব্যবস্থা ছাড়াও খেয়েদেয়ে কলেজ যেতে হয়। তাছাড়া সল্টলেক থেকে বেথুন কলেজ যেতেও বেশ সময় লাগে। কোন কোনদিন তো ট্যাক্সিতেও ওদের যেতে হয় ঠিক সময়ে পৌঁছবার জন্য। তাই ইচ্ছা থাকলেও সময় হয় না।

    তাছাড়া আরো একটা ব্যাপার আছে।

    এতো গ্যাস সিলিন্ডার পাঠাবার জন্য ফোন করা না যে কনজিউমার নাম্বার বলে দিলেই কথা বলা শেষ। দুর্বা আর সুনন্দার সঙ্গে কথা বলতে হলে হাতে বেশ একটু সময় চাই। ওদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করলে তো দু-পাঁচ মিনিটে শেষ করা যায় না। তাছাড়া ইচ্ছাও করে না অত তাড়াতাড়ি রিসিভার নামিয়ে রাখতে।

    কথা হয় সন্ধ্যের পর এবং সব সময় শিবানীর বাড়ি থেকে। সুব্রতবাবু ও বাবাই এখনই যেন কিছু সন্দেহ করতে না পারে, তার জন্যও সতর্ক থাকতে হয়।

    হ্যালো।

    মাসীমা, আমি আপনার শিল্পী।

    দুর্বা হাসতে হাসতেই বলে।

    শিবানীও হাসতে হাসতে বলেন, এক্ষুনি ভারতী ঘরে পা দিয়েই বলছিল, হ্যাঁরে, দুর্বাকে ফোন কর। অমি বললাম, এই চিঠিটা পড়েই ফোন করছি।…

    চিঠি পড়া শেষ হয়েছে নাকি…

    চিঠি পড়ার পর তোমাকে যেই ফোন করতে যাচ্ছি, ঠিক তখনই টেলিফোন রিং বাজলো।

    দেখেছেন মাসীমা, কি রকম টেলিপ্যাথি। যে মুহূর্তে আপনারা আমার কথা…

    হ্যাঁ, মা, তাইতো দেখছি।

    শিবানী মুহূর্তের জন্য থেমে বলেন, তুমি একটু ভারতীর সঙ্গে কথা বলো। তা নয়তো ও এখুনি আমার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করবে।

    দূর্বা একটু হেসে বলে, আপনারা জীবনে কখনও ঝগড়া করেছেন?

    না, করিনি কিন্তু এখন তোমার সঙ্গে একটু বেশি কথা বললেই ও ঠিক ঝগড়া করবে।

    শিবানী থামেন, শুরু করেন ভারতী।

    দুর্বা, তুমি তো সেদিন দেখেছ শিবানীর হ্যান্ড ফ্রী সেট।

    হ্যাঁ, মাসীমা, দেখেছি।

    তাই বলছি, তোমার সব কথাই শুনেছি। সত্যি বলছি, এই সন্ধ্যের পর তো আমাদের দুজনের হাতেই প্রচুর সময়। তাই তোমার সঙ্গে কথা না বলে আমরা থাকতে পারি না।

    শিবানী ওদের কথার মাঝখানেই বলেন, তোমার সঙ্গে কথা বলা আমাদের নেশায় দাঁড়িয়ে গেছে।

    দুর্বা বলে, রোজ আপনাদের সঙ্গে কথা না বললে আমারও একদম ভাল লাগে না।

    ভারতী চাপা হাসি হেসে বলেন, তার মানে এই দুই বুড়ীকে তোমার একটু একটু ভাল লেগেছে?

    একটু একটু মানে? দারুণ ভাল লেগেছে। আপনারা দুজনেই যেমন চার্মিং আর গ্রেসফুল, সেইরকমই অ্যাফেকশনেট। ভাল না লেগে পারে।

    কিন্তু তুমি তো আমাদের দুজনকে একেবারে হিপানোটাইজ করেছ।

    দুর্বা একটু জোরেই হেসে ওঠে। বলে, আমি কী পি. সি. সরকার যে আপনাদের হিপনোটাইজ করব?

    না, মা, তুমি পি. সি. সরকার না; তোমার রূপ-গুণ-স্বভাব-চরিত্র আমাদের মুগ্ধ করেছে।

    অত বললে ঠিক আমার অহংকার হবে।

    আচ্ছা সুনন্দা কি করছে?

    বাবা তো এখানে নেই। সুতরাং মা নিশ্চয়ই টি.ভি.তে সিরিয়াল দেখছে। সময় তো কাটাতে হবে।

    সত্যিই তো ওকে সময় কাটাতে হবে।

    মা দুপুরে একদম ঘুমুতে পারে না। সারা দুপুর গল্প-উপন্যাস পড়ে বলে সন্ধের পর আর পড়তে চায় না।

    ঠিকই তো। সব সময় কি পড়তে ভাল লাগে?

    বাবা কলকাতায় থাকলে কথায়-বার্তায় মা-র সময় কেটে যায় কিন্তু বাবা দিল্লী বা হায়দ্রাবাদ গেলেই…

    সিরিয়াল দেখা শেষ হলে সুনন্দা যদি পারে তাহলে যেন একবার ফোন করে। চার-পাঁচদিন ওর সঙ্গে কথা হয় নি।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, মা ঠিকই ফোন করবে।

    হ্যাঁ, কিছুক্ষণ পরে সুনন্দাও ফোন করেন।

    কী হলো? আমাদের দাদা এখানে নেই বলে টি, ভি, দেখছিলে?

    কী করব বলো শিবানীদি? তোমাদের দাদা থাকলে তবু ঝগড়া-টগড়া করে বেশ সময় কেটে যায় কিন্তু…

    বাজে কথা বলল না। দাদার সঙ্গে তোমার ঝগড়া হয়, এই কথা আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?

    তোমাদের দাদা কি এমন মহাদেব যে তার সঙ্গে ঝগড়া হবে না?

    শিবানী হাসতে হাসতে বলেন, সুনন্দা, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করো। দাদার কথা বলার সময় এখনও তত নতুন বউদের মত লজ্জায় তোমার সারা মুখ লাল হয়ে যায়।

    ওনার কথায় সুনন্দা হো হো হেসে ওঠেন। বলেন, সত্যি তোমরা কলেজে প্রফেসরী করো বলে কত আজেবাজে কথাও কত সুন্দর করে বলতে শিখেছ দেখছি।

    আর কিছু বদনাম দেবে না?

    আচ্ছা, আচ্ছা, আর ঝগড়া করো না। এবার বলো ভারতীদি, কি কাছে আছে?

    কাছে আছে মানে?

    শিবানী মুহূর্তের জন্য চাপা হাসি হেসে বলেন, কাছে আছে মানে? ও তো প্রায় আমার ঘাড়ের উপর চেপে আছে। তোমার বা তোমার মেয়ের সঙ্গে যে এটুকু প্রাইভেট প্রাণের কথা বলব, সে সুযোগও আমার নেই।

    সত্যি তোমরা দুজনে আছো ভাল।

    এবার ভারতী বলেন, সুনন্দা, আমাদের দু’জনের তো আর কোনভাবে ভাল থাকার উপায় নেই।

    সুনন্দা বলেন, কেন?

    ঠাকুরপো তো অনেক দিন থেকে নিরুদ্দেশ আর আমার বুড়ো ভোলানাথ বাড়িতে ফিরেই মুখের সামনে একখানা বই নিয়ে ধ্যানস্থ। তাই…

    অমন স্বামী পেয়ে বেঁচে গেলে ভারতীদি।

    তাই নাকি?

    আজ্ঞে হ্যাঁ।

    .

    এইভাবেই দিন যায়। কখনো কখনো সময় সুযোগ হলে ভারতী আর শিবানী ওদের ওখানে যান। এই মাস দুয়েকের মধ্যে দুর্বাও দু’বার সল্টলেকে ওদের কাছে এসেছে। তার মধ্যে একদিন সুনন্দাকেও সঙ্গে এনেছিল; তবে সেদিন ওরা বেশিক্ষণ থাকেনি। লেকটাউনে অসুস্থ ছোট মাসীকে দেখতে গিয়েছিল সুনন্দা মেয়ের সঙ্গে। বাড়ি ফেরার পথে মাত্র ঘণ্টা খানেক ছিল ভারতী আর শিবানীর কাছে।

    সেদিনই ভারতী বলেছিলেন, সুনন্দা, আজ নিছকই বুড়ী ছুঁয়ে গেলে। এর পর এসে সারাদিন কাটাবে আমাদের কাছে।

    হ্যাঁ, সত্যি, এর পর একবার সারাদিন কাটাবো তোমাদের সঙ্গে।

    মনে থাকবে তো?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, মনে থাকবে।

    প্রায় মাস খানেক পরের কথা। সেদিন রবিবার। অন্যান্য রবিবারের মত সেদিনও ভারতী আর শিবানী উল্টোডাঙায় মুচি বাজারে যাবার উদ্যোগ করছেন, ঠিক সেই সময় টেলিফোন।

    হ্যালো!

    মাসীমা, মা কথা বলবেন।

    হ্যাঁ দাও।

    সুনন্দা রিসিভার হাতে নিয়ে একটু হেসে বলে, শিবানীদি, আজ একটু চাল বেশি নিও। দুপুরে আমরা দুজনে যাব।

    সত্যি তোমরা আসছো?

    তবে কী ঠাট্টা করছি।

    কখন আসবে?

    ভাবছি, মোটামুটি, দশটার মধ্যে রওনা হয়ে…

    তার মানে এগারোটার মধ্যে আসবে।

    হ্যাঁ, তাই মনে হয়।

    এসো, এসো, খুব আড্ডা দেওয়া যাবে।

    শিবানীদি, এখন রাখছি। একটু পরেই তো দেখা হবে, কী বলো।

    কথা শেষ করেই শিবানী জানলার সামনে দাঁড়িয়ে গলা চড়িয়ে বলেন, এই ভারতী, শিগগির আয়। দারুণ খবর আছে।

    এক মিনিটের মধ্যেই ভারতী শিবানীর কাছে এসে বলেন, কী দারুণ খবর আছে রে?

    শিবানী কোন মতে হাসি চেপে বলে, তোর ভাবী বেয়ান আর ভাবী পুত্রবধূ আসছে।

    সত্যি?

    তবে কি তোকে মিথ্যে বলছি?

    উনি মুহূর্তের জন্য না থেমেই বলেন, এক্ষুনি সুনন্দা ফোন করে বলল, এগারটার মধ্যে আমাদের এখানে পৌঁছবে।

    ভারতী একটু চিন্তিত হয়ে বলেন, আজতো তোর দাদা আর বাবাইও বাড়ি আছে।

    শিবানী একটু হেসে বলেন, ভালই তো! আজই সব দেখাশুনা হয়ে যাবে।

    হ্যাঁ, তা অবশ্য ঠিক।

    আর সময় নষ্ট না করে চল বাজার থেকে ঘুরে আসি।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি নন্দকে গাড়ি বের করতে বলছি।

    .

    মেয়েকে নিয়ে সুনন্দা গাড়ি থেকে নামতেই ভারতী মুচকি হেসে গলা চড়িয়ে বলেন, এই শিবানী, শাঁখ বাজিয়ে মালা পরিয়ে সুনন্দাকে ঘরে নিয়ে যা।

    সুনন্দাও হাসতে হাসতে বলে, ভারতীদি, যদি বেশি বাড়াবাড়ি করো, তাহলে আজ আমি বাড়িই ফিরব না।

    শিবানী দুর্বার একটা হাত ধরে বলেন, শিল্পী, চলো, আমরা ভিতরে যাই। ওরা দু’জনে রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করুক।

    হ্যাঁ, মাসীমা, সেই ভাল।

    ওদের পিছন পিছনেই ভারতী সুনন্দাকে নিয়ে ভিতরে যান। সবাই মিলে ড্রইংরুমে বসতেই শিবানী বলেন, সত্যি বলছি ভারতী, তোমরা সারাদিনের জন্য এসেছ বলে খুব ভাল লাগছে। আজ আমরা প্রাণ ভরে আড্ডা দেব।

    উনি মুহূর্তের জন্য না থেমেই ঠোঁটের কোনে হাসি লুকিয়ে বলেন, প্রতিদিন শুধু ভারতীর মুখ দেখতে কী ভাল লাগে?

    দুর্বা সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত দিয়ে ভারতীর গলা জড়িয়ে ধরে শিবানীর দিকে তাকিয়ে বলে, এমন সুইট আর লাভলি বন্ধুর মুখ দেখতেও ভাল লাগে না?

    না।

    এক নিঃশ্বাসেই শিবানী বলেন, ওকে দেখতে দেখতে টায়ার্ড হয়েছি বলেই তো তোমার সুন্দর মুখোনা দেখতে চাই।

    ভারতীও দুর্বাকে বলেন, জানো মা, দিন রাত্তির শিবানীর মুখ দেখতে আমারও আর ভাল লাগে না। তাইতো তোমাকে একটু দেখার জন্য, কাছে পাবার জন্য চাতকের মত হা করে বসে থাকি।

    সুনন্দা সঙ্গে সঙ্গে হাসতে হাসতে বলেন, এতই যখন আমার মেয়েকে তোমাদের কাছে পেতে ইচ্ছে করে, তখন তোমরা ওকে রেখে দিচ্ছো না কেন?

    ওনার মুখের কথা শেষ হতে না হতেই ভারতী আর শিবানী এক সঙ্গে বলেন, হ্যাঁ, ওকে আমরা রেখেই দেব।

    ওদের কথাবার্তায় দুর্বা লজ্জিত বোধ না করে থাকতে পারে না। ও উঠে দাঁড়িয়ে বলে, মা, আমি ভিতরে যাচ্ছি। তোমরা কথা বলল।

    সারদা ট্রেতে চার কাপ কফি এনে ওদের তিন জনের হাতে দিতেই শিবানী বলেন, সারদা, মাসীমাকে প্রণাম করো।

    সারদা ওনাকে প্রণাম করতেই সুনন্দা একটু হেসে বলেন, তোমার রান্না খেয়ে আমার মেয়ে তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

    মাসীমা, আপনার মেয়ে এত ভাল যে রান্না খারাপ হলেও ও প্রশংসা না করে থাকতে পারবে না।

    না, সারদা, তা বলো না।

    শিবানী বলেন, সারদা, শিল্পী বোধহয় আমার ঘরে আছে। ওকে ওখানেই কফি দাও।

    সারদা চলে যায়।

    কফির কাপে দু’একবার চুমুক দিয়েই সুনন্দা বলে, শিবানীদি, সত্যি করে বলো তো কোন ছেলের খোঁজ পেলে কিনা।

    শিবানী কোনমতে হাসি চেপে একটু গম্ভীর হয়ে বলেন, হাতে উপযুক্ত ছেলে না থাকলে কি সেদিন অত জোর দিয়ে বলতে পারতাম, মেয়ের বিয়ের জন্য তোমাকে চিন্তা করতে হবে না?

    ভারতী কোন কথা বলেন না। মুখের সামনে হাত রেখে হাসি লুকিয়ে রাখেন।

    সুনন্দা সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করেন, ছেলেটি আমার মেয়ের উপযুক্ত হবে তো?

    তা তো হবেই।

    ছেলেটি কত দূর লেখাপড়া করেছে? কি করে?

    শিবানী ওনার একটা হাত ধরে বলেন, অত ব্যস্ত হচ্ছো কেন? পরে সবই বলব, সবই জানবে।

    কফির কাপে শেষ চুমুক দিয়েই সুনন্দা বলেন, দেখো শিবানীদি, মেয়েটা এত কাল পড়াশুনা করছিল বলে বিয়ের কথা বিশেষ চিন্তা করিনি কিন্তু ওর এম, এ. পরীক্ষা শেষ হতেই বিয়ের চিন্তায় পাগল হয়ে যাচ্ছি।

    উনি না থেমেই একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, তোমরা বিশ্বাস করো, মেয়েকে যতক্ষণ পর্যন্ত ভাল ছেলের হাতে তুলে দিতে না পারছি, ততক্ষণ আমি শান্তিতে…

    শিবানী ওনার দুটো হাত ধরে বলেন, প্লীজ, তুমি অত চিন্তা করো না। তোমার মেয়ে ঠিকই ভাল ছেলের হাতে পড়বে।

    হঠাৎ ভারতী প্রশ্ন করেন, আচ্ছা সুনন্দা, কী রকম ছেলের সঙ্গে দুর্বার বিয়ে দিতে চাও?

    দেখো ভারতীদি, ছেলেটিকে যে ডাক্তার এঞ্জিনিয়ার বা কলেজের লেকচারার হতেই হবে, তেমন কোন কথা নেই। তবে ময়না স্পষ্ট বলে দিয়েছে, সে আই-এ-এস বা আই-পি-এস ছেলেকে বিয়ে করবে না।

    ভারতী আর শিবানী হাসতে হাসতে বলেন, তাই নাকি?

    সুনন্দাও একটু হেসে বলেন, আমার মেয়ে তো ওর বাবাকে সোজাসুজি বলে দিয়েছে, যারা পেট মেটা ক্যাবলা চণ্ডী কনস্টেবল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাদের আমি বিয়ে করব না।

    ভারতী জিজ্ঞেস করেন, ওর বাবা কি বললেন?

    ওর বাবা বললেন, ময়না, ওরাই তো দেশ চালায়।

    সুনন্দা না থেমেই হাসতে হাসতে বলেন, আমার মেয়েও সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়, ওরা দেশ চালাবে চালাক কিন্তু আমাকে চালাবার সুযোগ দেব না।

    ভারতী উঠে দাঁড়ায়; বলেন, শিবানী, তোরা কথা বল। আমি দুর্বার কাছে যাচ্ছি। ও বেচারী অনেকক্ষণ একলা আছে।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, তুই যা।

    ভারতী চলে যেতেই সুনন্দা আবার শুরু করেন।

    জানো শিবানীদি, ময়নার বাবার সঙ্গে হায়দ্রাবাদে একজন বাঙ্গালী আই-এ-এস অফিসারের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হয়েছে। ছেলেটি বুঝি দেখতেও বেশ ভাল আর যথেষ্ট উচ্চ শিক্ষিত।

    শিবানী মন দিয়ে ওনার কথা শোনেন।

    ছেলেটি আগে দিল্লীর হিন্দু কলেজে লেকচারার ছিল। তারপর এখন সে অন্ধ্র ক্যাডারের আই-এ-এস। ছেলেটির মা লেডি শ্রীরাম কলেজের লেকচারার আর বাবা বেশ নাম করা আর্কিটেক্ট।

    তার মানে বেশ ভাল পরিবারের ছেলে।

    তা হলে কী হয়? মেয়ে তো ওর বাবাকে সোজাসুজি বলে দিলো…

    জানো সুনন্দা, আমাদের বেথুনে অনেক আই-এ-এস আর আই-পি-এস এর মেয়ে পড়ে; এই সব মেয়েদের প্রায় সবারই বিয়ে হচ্ছে আই-এ-এস বা আই পি-এস ছেলেদের সঙ্গে কিন্তু অন্য মেয়েরা এসব ছেলেদের বিয়ে করতে বিশেষ আগ্রহী না।

    হ্যাঁ, আমিও মেয়ের কাছে সেইরকমই শুনি।

    শিবানী একটু হেসে বলেন, আমিও তোমার মেয়ের জন্য কোন আই-এ-এস বা আই-পি-এস ছেলের কথা ভাবিনি।

    ভাই, তুমি একটু খুলে বলল না, কোন ছেলের কথা ভেবে তুমি আমাকে আশ্বস্ত করেছ?

    যে ছেলেটির কথা ভাবছি, সে সত্যি ভাল ছেলে। যেমন রূপ, তেমনই তার গুণ।

    ছেলেটির স্বভাব-চরিত্র ভাল তো?

    হ্যাঁ, ভাই, সেদিক থেকে তোমার চিন্তার কিছু নেই।

    শিবানী না থেমেই বলেন, ছেলেটিকে আমি একেবারে ছোটবেলা থেকেই দেখছি। তাইতো জোর গলায় বলতে পারি, ওর মত ভাল ছেলে আজকাল বিশেষ দেখা যায় না।

    বাঃ! খুব ভাল কথা।

    সুনন্দা সঙ্গে সঙ্গেই বলেন, ওদের কি খুব বড় সংসার? অনেক ভাই-বোন?

    শিবানী একটু হেসে বলেন, না; ঐ ছেলেটিই মা-বাবার এক মাত্র সন্তান।

    ছেলেটির মা-বাবা কেমন মানুষ?

    আমার তো খুবই ভাল লাগে। আমার বিশ্বাস, তোমার মেয়ে ওদের চোখে মণি হয়ে থাকবে।

    সুনন্দা সঙ্গে সঙ্গে ওনার দুটি হাত ধরে বলেন, প্লীজ, তুমি ছেলেটিকে দেখার ব্যবস্থা করো। এই ছেলে আমি কিছুতেই হাতছাড়া হতে দেবো না।

    শিবানী সঙ্গে সঙ্গে গলা চড়িয়ে বলেন, এই ভারতী, শিগগির আয়।

    ভারতী ঘর থেকে বেরিয়ে এসেই বলেন, কি হয়েছে যে অমন করে…

    আরে, শোন, শোন।

    শিবানী হাসতে হাসতেই বলেন, সুনন্দা জানতে চাইলে বলে আমি ছেলেটির বিষয়ে মোটামুটি সব খবরই বললাম।…

    কী বললি?

    বললাম, ছেলেটির যেমন রূপ, তেমনই গুণ স্বভাব-চরিত্রও ভাল।

    আর কী বললি?

    আর বললাম, ছেলেটি মা-বাবার একমাত্র সন্তান; শিল্পী ঐ সংসারে বেশ সুখে-শান্তিতেই থাকবে।

    কিন্তু আমাকে ডাকলি কেন?

    শিবানী কিছু বলার আগেই সুনন্দা বলেন, আমি ওকে বললাম, ছেলেটিকে, দেখাবার ব্যবস্থা করতে।

    শিবানী একটু হেসে বলেন, সুনন্দা এই ছেলে হাত ছাড়া করতে চায় না।

    ভারতী খুব জোরে একবার নিঃশ্বাস ফেলে একটু হেসে শিবানীকে বলেন, বেশ তো। ছেলেটি যখন হাতে আছে, তখন তুই ওকে দেখাবার ব্যবস্থা করে দিল।

    ঠিক সেই সময় ‘ও ছোট মা’ ‘ও ছোট মা’ বলে চিৎকার করতে করতে বাবাই এসে হাজির।

    ভারতী কোনমতে হাসি চেপে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়িয়েই বলেন, ও সারদা, রান্না হলো?

    বাবাই দু’হাত দিয়ে শিবানীর গলা জড়িয়ে ধরে বলে, ছোট মা, কখন খেতে দেবে? তোমার দাদা আর আমি যে খিদের জ্বালায় মরে যাচ্ছি।

    শিবানী দু’হাত দিয়ে ওর মুখোনা ধরে বলেন, হ্যাঁ, বাবাই সোনা, এক্ষুনি খেতে দেব। সত্যি গল্প করতে করতে অনেক…।

    কথা শেষ না করেই উনি সুনন্দাকে দেখিয়ে বাবাইকে বলেন, বাবাই সোনা, আমাদের বিশেষ বন্ধু সুনন্দাকে প্রণাম করো।

    বাবাই ওনাকে প্রণাম করে, সুনন্দা ওকে আশীর্বাদ করেই শিবানীকে বলেন, তোমার ছেলে তোমাকে ছোট মা বলে কেন?

    শিবানী গর্বের হাসি হেসে বলেন, হ্যাঁ, ভাই, আমার ছেলে আমাকে ছোট মা বলে।

    আলতো করে বাবাইয়ের গাল টিপে উনি বলেন, কি আর বলব! ছেলে ভুল করে ভারতীর পেটে জন্মেছে।

    দুর্বা তখনই শিবানীর ঘর থেকে বেরিয়ে ড্রইংরুমের দিকে পা বাড়িয়ে বলে, ও মাসীমা, আবার কার সঙ্গে গল্প শুরু করলেন?

    আয় মা, আয়।

    দুর্বা কাছে আসতেই শিবানী ওর একটা হাত ধরে বলেন, শিল্পী, এই হচ্ছে আমার ছেলে বাবাই সোনা।

    দুর্বা মুহূর্তের জন্য বাবাইকে দেখেই বলে, মাসীমা, ইনি দিল্লী থেকে কবে এলেন?

    শিল্পী, যে ছেলে দিল্লী থাকে, সে হচ্ছে তাতাই সোনা। ‘

    সরি! সত্যি গণ্ডগোল হয়ে গেছে।

    দুর্বা সঙ্গে সঙ্গেই একটু হেসে বলেন, মাসীমা, তার মানে ইনি হচ্ছেন আই আই-টি’র এম. টেক-ওয়ালা আপনাদের ভেরি ভেরি গুড বয়!

    ওর কথা শুনে শিবানীও হাসেন, বাবাই হাসে। কিন্তু সুনন্দা মেয়েকে বুকুনি দেন–এই ময়না, এইভাবে কেউ কথা বলে?

    দুর্বা চোখ দুটো বড় বড় করে বলে, ও মা, সত্যি আমি খারাপ কিছু বলিনি। অমি শুনেছি, ইনি দারুণ ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করে আই-আই-টি থেকে এম. টেক পাশ করেছেন আর অসম্ভব ভাল ছেলে।

    শিবানী বলেন, আচ্ছা, আচ্ছা, হয়েছে।

    ওর কথা শুনে ওয়ালা আপনাদের মলীমা, তার মানে ইনি

    এবার উনি বাবাইকে বলেন, বাবাই সোনা, এই হচ্ছে সুনন্দার মেয়ে দুর্বা। এত ভাল গান গাইতে পারে যে আমি ওর নাম রেখেছি শিল্পী।

    বাবাই কয়েক মুহূর্ত অপলক দৃষ্টিতে ওকে দেখেই একটু হেসে দু’হাত জোড় করে বলে, নমস্কার!

    নমস্কার!

    দুর্বাও হাসি চেপে কয়েক মুহূর্তের জন্য ওকে দেখে।

    শিবানী উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, এই ভারতী, সব রেডি তো? আমি কী দাদাকে ডাকতে যাবো?

    ভারতী রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বলেন, হ্যাঁ, শিবানী তোর দাদাকে আসতে বল।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি যাচ্ছি। সুব্রতবাবুকে নিয়ে ড্রইংরুমে পা দিয়েই শিবানী বলেন, সুনন্দা, আমার দাদা।

    সুনন্দা প্রণাম করতেই উনি বলেন, থাক, থাক, হয়েছে বৌমার কাছে আপনার আর আপনার মেয়ের কথা প্রায় রোজই শুনি।

    দুর্বা একটু দূরে দাঁড়িয়েছিল। শিবামী ওকে টেনে এনে সুব্রতবাবুর সামনে এনে বলে, দাদা, এই আমার শিল্পী।

    দুর্বা ওকে প্রণাম করতেই সুব্রতবাবু ওর মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করে একটু হেসে বলেন, মা, বৌমার কাছে শুনেছি তুমি অসাধারণ গান গাও।

    মাসীমা স্নেহ করেন বলে অনেক বেশি বাড়িয়ে বলেছেন। আমি একটু-আধটু গান গাই ঠিকই কিন্তু অসাধারণ কখনই না।

    দেখো মা, আমার বৌমা তো সে ধরনের মেয়ে না। উনি কখনই অহেতুক কিছু বাড়িয়েও বলবেন না, ছোট করেও কিছু দেখাবেন না। বৌমা অসম্ভব ব্যালান্সড় মেয়ে।

    ওনার কথা শুনে সুনন্দাও হাসেন, দুর্বাও হাসে।

    সুব্রতবাবু একটু হেসে বলেন, মা, আজ যখন সৌভাগ্যক্রমে তোমার সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হলো, তখন একটা গান না শুনিয়ে যেও না।

    দুর্বা একটু মুখ নীচু করে বলে,, নিশ্চয়ই গান শুনিয়ে যাবো।

    সবাই মিলে এক সঙ্গে খেতে বসেও কত কথা, কত গল্প আর হাসাহাসি হয়। অন্যরা বুঝতেও পারে না। কিন্তু এইসব গল্পগুজব আর হাসাহাসির মধ্যেই বাবাই মাঝে মাঝেই কয়েক মুহূর্তের জন্য দুর্বার শ্রীমণ্ডিত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনও কখনও দুর্বাও ওকে না দেখে পারে না। আবার এরই মধ্যে কয়েকটা দুর্লভ মুহূর্তের জন্য ওদের দুজনের দৃষ্টি বিনিময় হতেই লজ্জায় ওরা। দৃষ্টি গুটিয়ে নেয়।

    খাওয়া-দাওয়ার পর সবার মনেই খুশির জোয়ার। আবার সবাই জমায়েত হন ড্রইংরুমে। সেখানেও আড্ডা জমে যায়।

    হঠাৎ সারদা এসে ভারতাঁকে বলে, ও বড়মা, আপনারা তো কেউ কিছু বলছেন না।

    ও একটু হেসে বলে, অন্য রবিবার তা চারটে বাজতে না বাজতে চায়ের জন্য আপনারা অস্থির হয়ে ওঠেন। আর আজ পাঁচটা বাজতে চললো কিন্তু তবু…

    দেয়ালে টানানো ঘড়িটার দিকে তাকিয়েই শিবানী হাসতে হাসতে বলেন, সত্যিই তো পাঁচটা বাজতে মাত্র মিনিট দশেক বাকি। যাও, যাও, চটপট কফি করো।

    দুর্বা একটু হেসে বলে, দোষ হয় আমাদের মত ছেলে মেয়েদের। আমরা নাকি আড্ডা দিতে বসলে কোনদিকে কোন হুঁস থাকে না কিন্তু আজ দেখলাম, আড্ডায় মেতে গেলে আমাদের গুরুজনদেরও কোনদিকে খেয়াল থাকে না।

    ভারতী গম্ভীর হয়ে বলেন, ওরে আদরিণী, আমরা আড্ডা দিই হাজার রকম দায় দায়িত্ব কাজকর্ম মিটিয়ে কিন্তু তোমরা?

    দুর্বা সঙ্গে সঙ্গে এক হাত দিয়ে ওনার গলা জড়িয়ে গেয়ে ওঠে।

    মোদের যেমন খেলা তেমনি যে কাজ
    আনিস নে কি ভাই।
    তাই কাজকে কভু আমরা না ডরাই।।
    খেলা মোদের বাঁচা মরা,
    খেলা ছাড়া কিছুই কোথাও নাই।।
    খেলতে খেলতে ফুটেছে ফুল।
    খেলতে খেলতে ফল যে ফলে।।
    খেলারই ঢেউ জলে স্থলে।
    ভয়ের ভীষণ রক্ত রাগে
    খেলার আগুণ যখন লাগে।
    ভাঙাচোরা জ্বলে যে হয় ছাই।।
    মোদের যেমন খেলা
    তেমনি যে কাজ
    জানিস নে কি ভাই।

    গান শেষ হতেই সবাই হৈ হৈ করে ওঠেন, শুধু বাবাই নীরব। ওর চোখে মুখে খুশি ফুটে উঠলেও মুখে কিছু বলতে পারে না। সুব্রতবাবু দুর্বার দুটি হাত ধরে বলেন, মা জননী, তোমার মতো মেয়েকে তো ছেড়ে থাকা মুস্কিল।

    শিবানী এক মুহূর্তের জন্য ভারতীর দিকে তাকিয়েই বলেন, দাদা, ছেড়ে থাকা মুসকিল মানে? আপনি কি অবিবাহিতা দুর্বাকে আটকে রাখবেন?

    হ্যাঁ, বৌমা, ওকে আটকে রাখবো তোমাদের বাবাইসোনার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে।

    ওনার মুখের কথা শেষ হতে না হতেই বাবাই আর দুর্বা ছিটকে বেরিয়ে যায় ওখান থেকে।

    সুনন্দা সুব্রতবাবুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বলেন, দাদা, আপনি যে আজ আমাকে কি নিশ্চিন্ত করলেন, তা বলতে পারবো না। শুধু কায়মনোবাক্যে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, ময়না যেন আপনাদের সবাইকে সুখী করতে পারে।

    বৌমা, আপনার মেয়েকে…

    দাদা, দয়া করে আপনি বলবেন না। আমি তো শিবানীদিরই বয়সী।

    আচ্ছা, আচ্ছা, তুমিই বলব।

    উনি একবার নিঃশ্বাস নিয়েই বলেন, বৌমা, মেয়েকে দেখে আর কথাবার্তা বলে যদি সত্যি আনন্দ আর শান্তি না পেতাম, তাহলে কি আমি ওকে মা জননী বলতাম?

    এবার উনি সুনন্দার মাথায় হাত দিয়ে বলেন, বৌমা, আমার মা জননী আমাদের কাছে সুখে শান্তিতেই থাকবে। কোন চিন্তা নেই।

    ভারতী আর শিবানী আনন্দে খুশিতে দু’জনে দু’জনকে জড়িয়ে ধরেন আর শুধু হাসেন।

    হঠাৎ শিবানী ওনাকে ছেড়ে দিয়েই সুনন্দার হাত ধরে টান দিয়ে হাসতে হাসতে বলেন, ওহে মহারানী, দেখলে, কেমন ঘটকালি করলাম?

    উত্তরের অপেক্ষা না করেই উনি আবার বলেন, আমার প্রাপ্যটার কথা ভুলে যেও না।

    সুব্রতবাবু বলেন, বৌমা, আমার মা জননীকেই তো তোমরা পাচ্ছো। আর কি প্রাপ্য চাও?

    শিবানী চাপা হাসি হেসে বলেন, দাদা, আপনি আমাকে পথে বসিয়ে দিলেন। ভেবেছিলাম, শিল্পীর মা-বাবার ঘাড় ভেঙে অন্তত দশ ভরির একটা ভাল হার…

    সবাই হাসেন।

    সুব্রতবাবু গলা চড়িয়ে বলেন, মা জননী, কোথায় গেলে?

    খুব ধীর স্থির পদক্ষেপ দুর্বা শিবানীর শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ওনার সামনে এসে দাঁড়ায়। মুখ নীচু করে বলে, আপনি কিছু বলবেন?

    মা জননী, ছেলের কথায় রাগ করোনি তো?

    দু’এক মিনিট দূর্বা কোনকথা বলতে পারে না। মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর হঠাৎ ওনার দিকে তাকিয়েই চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলে, কোন মা কি ছেলের কথায় রাগ করতে পারে?

    ওর চোখের জল দেখে সবার চোখই ভিজে ওঠে কিন্তু কারুর মুখ দিয়ে একটি শব্দও বেরোয় না। সবাই যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য বোবা হয়ে যান।

    দুর্বা আবার ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি আপনাকে কি বলে ডাকব?

    সুব্রতবাবু দু’হাত দিয়ে ওর মুখোনা ধরে বলেন, মা জননী, তুমি শুধু তোমার বাবাকেই বাবা বলবে আমাকে তুমি ছেলে বলে ডাকবে।

    ছেলে!

    ব্যস! সঙ্গে সঙ্গে দুর্বা ওনার বুকের উপর মুখোনা রেখেই আনন্দে খুশিতে গর্বে চোখের জল ফেলে।

    দুর্বার ছেলেও মা জননীর চোখের জল দেখে নিজেকে সংযত রাখতে পারেন।

    সারদা পাশেই দাঁড়িয়েছিল কিন্তু তবুও শিবানী চিৎকার করে ওঠেন, শিল্পী আর ওর ছেলে ছাড়াও আমাদের সবাইকে কফি দাও।

    সারদা একটু পরেই সবাইকে কফি দিয়েই বলে, বাবাই সোনা কোথায় গেল?

    শিবানী বলেন, ও যেখানেই থাক, ওকে ধরে আনো এখানে।

    হ্যাঁ, সারদা তাতাইয়ের ঘর থেকে ওকে টেনে আনে।

    শিবানী বলেন, আয় বাবা, আমার কাছে আয়।

    সবার মনেই কত কথা, কত গুঞ্জন কিন্তু কারুর মুখ দিয়েই কোন কথা বেরোয় না।

    কফির কাপে শেষ চুমুক দিয়েই দুর্বা সুব্রতবাবুর এক হাত দু’হাতের মধ্যে নিয়েই বলে, ছেলে, তুমি গান শুনতে চেয়েছিলে, তাই শুরু করছি–

    কেন তোমরা আমায় ডাকো
    পাই নে সময় গানে গানে।
    পথ আমারে শুধায় লোকে
    পথ কি আমার পড়ে চোখে,
    চলি যে কোন দিকের পানে
    গানে গানে।
    দাও না ছুটি, ধর ত্রুটি,
    নিই নে কানে।
    মন ভেসে যায় গানে গানে।
    আজ যে কুসুম-ফোঁটার বেলা,
    আকাশে আজ রঙের মেলা,
    সকল দিকেই আমায় টানে
    গানে গানে।
    কেন তোমরা আমায় ডাকো,
    আমার মন না মানে।

    গান শেষ হতেই ভারতী দুর্বাকে কাছে টেনে নিয়ে এক গালে চুমু খেয়ে বলেন, সত্যি, তোমার গান শুনে মন যে কোথায় চলে যায়…

    শিবানী বলেন, শিল্পী, তোমার কাছে এইসব গান শুনে আর মনে হয় না, আমরা এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর বাসিন্দা।

    হঠাৎ সারদা বেশ গলা চড়িয়ে বলে, ও বড়মা, দারুণ মেঘ করেছে। মনে হচ্ছে এখুনি ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে।

    ভারতী যেন বকুনি দিয়ে বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে, তা অত বলার কি আছে? সুনন্দারা তো গাড়ি নিয়েই এসেছে। অত চিন্তার কি আছে?

    শিবানী হাসতে হাসতে বলেন, আর যদি তেমন বৃষ্টি হয় যে গাড়িও চালানো যাবে না, তাহলে ওরা আজ এখানেই থাকবে। ওরা তো জলে পড়েনি।

    সুব্রতবাবু বলেন, ঠিক বলেছ বৌমা।

    ওনার মুখের কথা শেষ হতে না হতেই শুরু হলো তুমুল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়া।

    এক মুহূর্ত দেরি না করে দুর্বা গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠে

    পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে
    পাগল আমার মন জেগে ওঠে।
    চেনাশোনার কোন বাইরে
    যেখানে পথ নাই নাই রে
    যেখানে অকারণে যায় ছুটে।
    পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে
    পাগল আমার মন জেগে ওঠে।…

    দুর্বা গান থামিয়েই হেসে ওঠে।

    মা জননী, থামলে কেন? গানটা শেষ করো।

    ছেলে পুরো গানটা শোনাতে হবে?

    নিশ্চয়ই।

    দুর্বা হাসতে হাসতেই আবার শুরু করে।

    ঘরের মুখে আর কি রে
    কোনো দিন সে যাবে ফিরে।
    যাবে না, যাবে না–
    দেয়াল যত সব গেল টুটে।
    বৃষ্টি-নেশা-ভরা সন্ধ্যবেলা
    কোন্ বলরামের আমি চেলা,
    আমার স্বপ্ন ঘিরে
    নাচে মাতাল জুটে।
    যত মাতাল জুটে।
    যা না চাইবার
    তাই আজি চাই গো,
    যা নাপাইবার
    তাই কোথা পাই গো।
    পাব না, পাব না,
    মরি অসম্ভবের পায়ে
    মাথা কুটে।
    পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে
    পাগল আমার মন জেগে ওঠে।

    গান শেষ হতেই দুর্বা দুহাত দিয়ে সুব্রতবাবুর মুখোনা ধরে গালে চুমু খেয়ে বলে, ছেলে, আজ আসি। মা-র কাছে আসতে ভুলে যেও না।

    তারপর ওনাকে প্রণাম করেই দুর্বা প্রণাম করে ভারতী-শিবানীকে।

    সঙ্গে সঙ্গে ভারতী বলেন, দেখছিস শিবানী, তোর শিল্পী কি এক চোখা? ওনাকে আদর করলো আর আমরা কি গঙ্গার জলে ভেসে এসেছি?

    তোমাদের দুটো করে ছেলে আর আমার একটা ছেলে। আমি তো ওকে বেশি আদর করবই।

    দুর্বা হাসতে হাসতেই বলে, সারদা মাসী, গুড নাইট। এর পর যেদিন আসব,

    সেদিনও আজকের মতো ইলিশ মাছ খাওয়াবে।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, খাওয়াবো।

    সুনন্দাও সবার কাছ থেকে বিদায় নেন। ওরা দুজনেই যাবার জন্য পা বাড়াতেই হঠাৎ দুর্বা পিছন ফিরে কোনমতে হাসি চেপে সবাইয়ের দিকে চেয়ে বলে, এই যে দুই মায়ের আদরের বাবাই সোনা, গুড নাইট! সী ইউ এগেন।

    দুর্বা প্রায় লাফ দিয়ে গাড়িতে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি স্টার্ট দেয়। আস্তে আস্তে চলতে শুরু করে। দু’এক মিনিটের মধ্যেই দৃষ্টির বাইরে চলে গেল।

    সুব্রতবাবু বললেন, সী কেম, সী স’, সী কংকার্ড!

    হ্যাঁ, দাদা, ও ঠিক কাল বৈশাখীর ঝড়ের মতো আমাদের সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালী-টোলা – নিমাই ভট্টাচার্য
    Next Article প্রেমের গল্প – নিমাই ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নিমাই ভট্টাচার্য

    মেমসাহেব – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    এ-ডি-সি – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    আকাশ-ভরা সূর্য-তারা – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    ডিপ্লোম্যাট – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রিয়বরেষু – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রেমের গল্প – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }