Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ফাউণ্ডেশন্স এজ – আইজাক আসিমভ

    লেখক এক পাতা গল্প463 Mins Read0
    ⤶

    ৯. সিদ্ধান্ত

    সিদ্ধান্ত

    ৮১.

    জেনভ পেলোরেটের বলার সুরে কিছুটা বিরক্তি, সত্যি, গোলান, ব্যাপারটা মনে হয় কেউই খেয়াল করে নি। দীর্ঘজীবনে এই প্রথমবারের মতো গ্যালাক্সির এমাথা ওমাথা ঘুরে বেড়াচ্ছি–যদিও বেশিদিন হয়নি। কিন্তু প্রতিবার একস্টা গ্রহে নামি, সেটাকে ভালোভাবে বোঝার আগেই আবার বেরিয়ে পড়ি। দুবার এমন ঘটল।

    হা, ব্লিস বলল, কিন্তু অন্য গ্রহটা থেকে তাড়াতাড়ি না বেরোলে কে জানে কখন আমার সাথে দেখা হতো।

    সত্যি কথা, মাই ডিয়ার, সত্যি কথা।

    আর এবার, পেল, তুমি হয়তো গ্রহ থেকে বেরিয়ে যাবে, কিন্তু তোমার সাথে থাকব আমি এবং আমি হচ্ছি গায়া, এর যে কোনো অঙ্গ, সমস্ত অংশ।

    ট্র্যাভিজ চোখ মুখ কুচকে কথা শুনছিল, অসহ্য। ডম আমাদের সাথে আসে নি। কেন?–স্পেস, এই শব্দাংশ ব্যবহারের সাথে আমি অভ্যস্ত হতে পারব না। একজনের নামের দুইশ পঞ্চাশটা অংশ আর আমরা শুধু একটা অংশ ব্যবহার করি। দুইশ পঞ্চাশটা শব্দাংশ নিয়ে সে আমাদের সাথে আসেনি কেন? সবকিছুই যদি এত গুরুত্বপূর্ণ হয় –গায়ার অস্তিত্ব নির্ভর করে এর উপর তাহলে সে আমাদের সাথে। আসেনি কেন?

    আমি এসেছি, ট্র্যাভ, ব্লিস বলল, এবং সে যতটুকু আমিও ততটুকু গায়া। তারপর একবার পাশে একবার উপরে তাকিয়ে বলল, তোমাকে ট্র্যাভ ডাকলে তুমি বিরক্ত হও?

    হা, হই। তোমার মতো আমারও নিজের নিয়মে চলার অধিকার আছে। আমার নাম ট্র্যাভিজ। দুই শব্দাংশ, ট্রা-ভিজ।

    ঠিক আছে। আমি তোমাকে রাগাতে চাই না, ট্র্যাভিজ।

    আমি রাগ করিনি। শুধু বিরক্ত। হঠাৎ করেই উঠে দাঁড়ালো। হেঁটে গেল ঘরের একমাথা থেকে আরেক মাথায়। পেলোরেটের ছড়ানো পা লাফিয়ে পার হলো (পেলোরেট অবশ্য সাথে সাথে পা জমিয়ে নিয়েছে), আবার ফিরে এসে দাঁড়ালো ব্লিস এর মুখোমুখি।

    একটা আঙ্গুল ব্লিস এর দিকে তাক করে বলল, শোন। আমি নিজের ইচ্ছায় এখানে আসিনি। টার্মিনাস থেকে কৌশলে আমাকে গয়াতে আনা হয়েছে সন্দেহ না করলেও তোমাদের হাত থেকে ছাড়া পাবার কোনো উপায় পাইনি। আর এখানে নেমেই শুনলাম আমাকে নিয়ে আসার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে গায়াকে রক্ষা করা। কেন? কিভাবে? গায়া আমার কাছে কি–বা আমি গায়ার কাছে যে আমি তাকে রক্ষা করব। গ্যালাক্সির কোয়ান্টিলিয়ন মানুষের মধ্যে আর কেউ নেই যে এই কাজটা করতে পারে?

    শান্ত হও, ট্র্যাভিজ, ব্লিস বলল–মুখে ক্লান্তির ছাপ, সমস্ত সৌন্দর্য দূর হয়ে গেছে। রাগ করবেনা। দেখ, তোমার নাম আমি সুন্দর করে উচ্চারণ করছি। আমি আরো আন্তরিক হব। ডম তোমাকে ধৈর্য ধরতে বলেছে।

    গ্যালাক্সির সবগুলো গ্রহের কসম, আমি ধৈর্য ধরতে চাইনা, আমি যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ হই, তাহলে একটা ব্যাখ্যা আমার পাওনা হয়েছে। প্রথমেই আবার জিজ্ঞেস করছি, ডম আসেনি কেন? ফার স্টারে আমাদের সাথে থাকাটা তার জন্য সমান জরুরী ছিল না?

    সে এখানে আছে, ট্র্যাভিজ, ব্লিস বলল। যখন আমি এখানে আছি, সেও আছে এবং গায়ার প্রত্যেকেই আছে এবং প্রতিটা জীবন্ত বস্তু, এবং এই গ্রহের প্রতিটা অণু পরমাণু।

    তুমি এভাবে ভাবলেও আমি ভাবতে পারছি না। গায়ার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। পুরো গ্রহকে আমি মহাকাশযানে তুলে আনতে পারি না, পারি শুধু একজনকে। তোমাকে এনেছি, আর ডম তোমার অংশ। বেশ ভালো কথা। তাহলে ডমকে নিয়ে আসি, তুমিই বরং তার অংশ হও।

    একটা কারণ, পেল-মানে, পেল-ও-রেট-চেয়েছে যেন আমি আসি। আমি, ডম না।

    সে তোমাকে খুশী করার জন্য বলেছে। গুরুত্ব না দিলেও চলত।

    ওহ, মাই ডিয়ার ফেলো, পেলোরেট চোখমুখ লাল করে উঠে দাঁড়িয়েছে, আমি আন্তরিকভাবেই চেয়েছি। তুমি এমন কথা বলতে পারোনা। আমার মতে সমস্ত গায়ার কোন অংশ আমাদের সাথে রয়েছে সেটা কোনো ব্যাপার না। ডম এর বদলে ব্লিস থাকলেই ভালো হবে। তোমার জন্যও ভালো হবে। দেখ, গোলান, তুমি ছেলেমানুষী করছ।

    আমি ছেলেমানুষ? আমি ছেলেমানুষ? ঠিক আছে, আমি তাই। আবারও ব্লিস এর দিকে আঙ্গুল তুলল, আমার কাছে যাই আশা কর, নিশ্চিত থাক আমি সেটা করব না, যদি আমার সাথে মানুষের মতো আচরণ না করা হয়। দুটো প্রশ্ন–আমাকে কি করতে হবে? কেন আমাকেই করতে হবে?

    ব্লিস বিস্ফারিত চোখে পিছু হটছে। আমি তোমাকে এখন বলতে পারবনা। সমস্ত গায়া তোমাকে বলতে পারবেনা। না জেনেই তোমাকে পৌঁছতে হবে আসল জায়গায়। সেখানেই জানবে সব। তারপর যা করা উচিত তাই করবে কিন্তু সেটা করতে হবে অনুত্তেজিত আর শান্তভাবে। যদি তুমি এমন আচরণ করো কোনো লাভ হবে না, গায়া শেষ হয়ে যাবে। তোমার এই অনুভূতি পাল্টাতে হবে এবং আমি জানিনা সেটা কিভাবে পাল্টাবে।

    ডম এখানে থাকলে জানত? ট্র্যাভিজ নির্দয় গলায় প্রশ্ন করল।

    ডম এখানেই আছে, ব্লিস বলল। সে/আমি/আমরা জানিনা কিভাবে তোমাকে শান্ত করা যাবে। আমরা সেই ধরনের মানুষকে বুঝতে পারিনা যারা একটা বিশালত্বের অংশ হতে পারে না।

    মিথ্যে কথা বলছ। তোমরা মিলিয়ন কিলোমিটার বা আরো দূর থেকে আমাদের মহাকাশযান দখল করতে পার আমাদের শান্ত রাখতে পারো। বেশ এখন আমাকে শান্ত রাখো। বলো না যে তুমি করতে পারবে না।

    কিন্তু করা উচিত হবে না। এখন না। যদি এখন তোমাকে কোনোভাবে পাল্টে দেই তাহলে গ্যালাক্সির আর সব সাধারণ মানুষের চেয়ে তোমার মূল্য বেশি হবে না। আমরা তোমাকে ব্যাবহার করতে পারব কারণ তুমি হলে তুমি–এবং তোমাকে অবশ্যই তোমার মতো থাকতে হবে। প্লিজ, তোমাকে শান্ত থাকতে হবে নিজের চেষ্টায়।

    কোনো সম্ভাবনা নেই, মিস, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি যা জানতে চাই তার কিছু অন্ত ত না জানাবে।

    ব্লিস, আমাকে চেষ্টা করতে দাও। পেলোরেট বলল। তুমি পাশের ঘরে যাও।

    ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল ব্লিস।

    সে শুনতে পারবে, দেখতে পারবে–সব অনুভব করবে। ট্র্যাভিজ বলল। লাভ কি হবে?

    আমার জন্য লাভ হবে। তোমার সাথে কিছুক্ষণ একা থাকতে চাই।–গোলান, তুমি ভয় পেয়েছ।

    বোকার মতো কথা বলোনা।

    অবশ্যই ভয় পেয়েছ। তুমি জানোনা কোথায় যেতে হবে, কি করতে হবে, সবাই তোমার কাছে কি আশা করছে। ভয় তুমি পেতেই পারো।

    কিন্তু আমি ভয় পাইনি।

    হ্যাঁ, পেয়েছ। হয়তো আমার মতো শারীরিক ভয় পাচ্ছনা। আমি মহাকাশে যেতে ভয় পেয়েছিলাম, নতুন গ্রহে যেতে ভয় পেতাম, নতুন সবকিছুকে ভয় পেতাম। কারণ অর্ধশতাব্দীর জীবন আমি কাটিয়ে দিয়েছি ঘরে বসেই। অন্যদিকে তুমি নেভীতে ছিলে, রাজনীতি করেছ। ঘরে মহাকাশে ছুটে বেরিয়েছ। তারপরেও আমি চেষ্টা করেছি ভয় না পেতে এবং আমাকে সাহায্য করেছ তুমি। যে কদিন একসাথে আছি, তুমি ধৈর্য ধরে আমাকে বুঝিয়েছ, আন্তরিক আচরণ করেছ। তোমার জন্যই আমি ভয় কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এখন তোমার উপকারের প্রতিদান দিতে দাও।

    বললাম তো, আমি ভয় পাইনি।

    অন্য ভয় না হলেও, যে দায়িত্বের মুখোমুখি হবে সেটাকেই ভয় পাচ্ছ। একটা পুরো গ্রহ তোমার উপর নির্জ করছে স্বভাবতই, ব্যর্থ হলে সারাজীবন এই গ্রহ ধ্বংস করে ফেলার গ্লানি নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে তোমাকে। কেন তুমি এতবড় ঝুঁকি নেবে? তোমার উপর এই বোঝা চাপিয়ে দেয়ার কি অধিকার তাদের আছে? শুধু তুমিই ব্যর্থতার ভয় পাচ্ছনা, তোমার জায়গায় যে কেউ হলেই ভয় পেত।

    তোমার কথা ভুল।

    মনে হয় না, যাই হোক, তোমার জায়গা আমাকে ছেড়ে দাও। আমি কাজটা করে দেব। ওরা যাই আশা করে থাকুক, করে দেব। আমার মনে হয় এই কাজের জন্য খুব বেশি শারীরিক সামর্থ্যের প্রয়োজন নেই, তাহলে যন্ত্র ব্যবহার করতে পারত। মেন্টালিক্স-এরও প্রয়োজন নেই, কারণ ওই জিনিসটা ওদের প্রচুর আছে। এটা অন্য কিছু–বেশ, আমি জানি না কি, কিন্তু যদি এর জন্য শক্তি বা মেধার প্রয়োজন না হয়, তাহলে তুমি আর আমি সমান এবং আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

    ট্র্যাভিজ তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্ন করল, তুমি এই বোঝা নিতে চাইছ কেন?

    পেলোরেট মেঝের দিকে চোখ নামালো, যেন ট্র্যাভিজের চোখে চোখ রাখতে ভয় পাচ্ছে। আমার স্ত্রী ছিল, গোলান। মেয়েদের আমি চিনি। যদিও কখনো গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু এই মেয়েটা–

    কে? ব্লিস?

    সে অন্যরকম আমার কাছে।

    টার্মিনাসের কসম, জেনভ, তোমার বলা প্রতিটা কথাই সে জানে।

    কিছু আসে যায়না। জানবেই।–আমি তাকে খুশী করতে চাই। এই কাজটা আমি করে দেব; যে কোনো ঝুঁকি নেব; যে কোনো দায়িত্ব নেব, তাহলে হয়তো আমার সম্পর্কে সে ভালো ধারণা করবে।

    জেনভ, সে একটা বাচ্চা মেয়ে।

    বাচ্চা মেয়ে না আর তুমি ওর ব্যাপারে যাই ভাবো তাতে আমার ধারণা বদলাবে না।

    বুঝতে পারছনা–ও তোমাকে কি চোখে দেখবে?

    একটা বুড়ো মানুষ? তাতে কি হয়েছে? সে একটা বিশালতার অংশ, আমি তা নই–আর এই ব্যাপারটাই দুজনের মাঝে দেয়াল তৈরি করেছে। ভেবেছ আমি জানি না? কিন্তু আমি তার কাছে কিছু চাই না শুধু–।

    তোমার সম্পর্কে ভালো ধারণা করুক?

    হ্যাঁ।

    আর সে কারণেই আমার কাজ তুমি করে দেবে?-কিন্তু জেনভ, তুমি মন দিয়ে কথা শোননি। ওরা তোমাকে চায় না। চায় আমাকে, স্পেস জানে কেন?

    যদি তোমাকে না পায় আর অন্য কাউকে চায়, তখন হাতের কাছে আমিই থাকব।

    ট্র্যাভিজ মাথা নাড়ল। বিশ্বাস করতে পারছি না এসব ঘটছে। এই বৃদ্ধ বয়সে তুমি তরুণ হওয়ার চেষ্টা করছ। জেনভ, তুমি নায়ক হওয়ার চেষ্টা করছ যেন ঐ দেহের জন্য মারা যেতে পারো।

    বলোনা, গোলান। রসিকতার জন্য বিষয়টা ভালোনা?

    হাসার চেষ্টা করল ট্র্যাভিজ, কিন্তু সামলে নিল পেলোরেটের গম্ভীর মুখ দেখে। গলা পরিষ্কার করে বলল, ওকে ডাকো, জেনভ, ডাকো।

    ব্লিস এসে ঢুকল। সংকুচিত হয়ে আছে। নিচু স্বরে বলল, দুঃখিত, পেল। তোমাকে দিয়ে হবে না। হয় ট্র্যাভিজ আর নয়তো কেউ না।

    বেশ। আমি শান্ত থাকব। যা করতে বলবে করার চেষ্টা করব। এই বয়সে পেলোরেটকে নায়ক হওয়া থেকে বিরত রাখতে যা করা দরকার, করব।

    আমার বয়স আমি জানি, পেলোরেট ফিসফিস করে বলল।

    ব্লিস ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রেখে বলল, পেল, আমি–আমি তোমাকে অনেক ভালো মনে করি।

    চোখ সরিয়ে নিল পেলোরেট, ঠিক আছে, ব্লিস। ভদ্রতা করতে হবে না।

    আমি ভদ্রতা করছি না, পেল। আমি আসলেই তোমাকে ভালো মনে করি।

    .

    ৮২.

    হালকাভাবে, তারপর প্রবল স্রোতের মতো সুরা নোভীর মনে পড়ল সে ছিল সুরানোভীরেমব্লাসটিরান এবং শিশু বয়সে বাবা মা এর কাছে সে ছিল সু, বন্ধুদের কাছে ছিল ভী।

    সে আসলে কখনো ভুলে যায়নি, শুধু চেতনার অনেক গভীরে লুকানো ছিল। গত কয়েকমাসের মতো এত গভীরভাবে কখনোই লুকানো ছিল না বা দীর্ঘজীবনে সে কখনোই এত শক্তিশালী মাইন্ডের কাছাকাছি আসেনি।

    কিন্তু এখন সময় হয়েছে। নিজের ইচ্ছায় হয়নি। তার অবশিষ্ট বিশাল অংশই তাকে জাগিয়ে তুলল, মহাজাগতিক প্রয়োজনে।

    সেই সাথে রয়েছে হালকা অস্বস্তি, এক ধরনের অস্থিরতা, নিজের অস্তিত্বে ফিরে আসার আনন্দকে মাটি করে দিচ্ছে। বহুবছর সে গায়ার এত কাছে আসেনি।

    মনে পড়ল ছোটবেলায় সে একটা লাইফ-ফর্মকে ভালোবেসেছিল। তার অনুভূতি বুঝতে পেরেছিল, নিজের অংশে পরিণত করেছিল। এখন সেই অনুভূতি আরো প্রবল। সেটা ছিল গুটি থেকে বেরিয়ে আসা প্রজাপতি।

    .

    ৮৩.

    স্টর জেনডিবল তীক্ষ্ণ অন্তর্ভেদী চোখে নোভীর দিকে তাকিয়ে আছে –এতই অবাক হয়েছে যে মেয়র ব্র্যান্নোর উপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ চুল পরিমাণ সরে গেল। কিন্তু পুরোপুরি সরার আগেই আরেকটা শক্তি তাকে সমর্থন দিল। পরিস্থিতির কারণে ব্যাপারটা খেয়াল করল না।

    কাউন্সিলম্যান ট্র্যাভিজ এর ব্যাপারে তুমি কি জানেন, নোভী? জেনডিবল জজ্ঞেস করল। তারপর হঠাৎ করেই নোভীর মাইন্ডের ক্রমবর্ধমান জটিলতা টের পেয়ে চিৎকার করে উঠল, তুমি কি?

    জেনডিবল নোভীর মাইন্ডের নিয়ন্ত্রণ ঠেকানোর চেষ্টা করে দেখল অসম্ভব। একই সাথে বুঝতে পারল ব্র্যান্নোর উপর নিয়ন্ত্রণে সে আরো বড় একটা শক্তির সমর্থন পাচ্ছে। আবার প্রশ্ন করল, তুমি কি?

    নোভীর মুখে দুঃখের ছায়া। মাস্টার, সে বলল, স্পিকার জেনডিবল, আমার আসল নাম সুরানোভীরেমব্লাসটিরান এবং আমিই গায়া।

    এই কথাগুলো সে মুখে বলল, কিন্তু জেনডিবল প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতায় নিজের মেন্টাল আবহ আরো নিবিড় করে তুলল এবং নিপুণ দক্ষতায় প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে ব্র্যান্নোকে আগের চেয়েও শক্তভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিল সেই সাথে শক্ত কিন্তু নীরব লড়াই চালিয়ে নোভীর মাইন্ড দখল করে নিল।

    নোভীও সমান দক্ষতায় জেনডিবলের মাইন্ড দখল করে নিল।

    সে একজন স্পিকারের সাথে যেভাবে কথা বলে সেইভাবে বলল, তুমি আসলে একটা ভূমিকা পালন করেছ। ধোকা দিয়ে আমাকে নিয়ে এসেছ এখানে। মিউল যেখান থেকে এসেছিল তুমি হলে সেখানেরই একটা প্রাণী।

    মিউল ছিল বিপথগামী, স্পিকার। আমি/আমরা মিউল নই। আমি/আমরা হচ্ছি গায়া।

    গায়ার পুরো বৃত্তান্ত সে সংক্ষেপে শব্দের চেয়েও জটিলভাবে বর্ণনা করল।

    পুরো গ্রহ জীবিত, জিজ্ঞেস করল জেনডিবল।

    এবং সমন্বিত মেন্টালিক ফিল্ড, আপনার একার ক্ষমতার চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী। দয়া করে এই শক্তির বিরোধিতা করবেন না। আপনার ক্ষতি হবে, যা আমি চাই না।

    জীবিত গ্রহ হলেও, তোমরা ট্র্যানটরে আমার সহকারীদের মিলিত শক্তির সমান হতে পারবে না। আমরাও এক প্রকার জীবিত গ্রহ।

    শুধু কয়েক হাজার মানুষের মেন্টালিক সহযোগিতা, স্পিকার। আপনি ওদের সাহায্য পাবেন না, কারণ আমি পথ বন্ধ করে দিয়েছি। পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

    তুমি কি করতে চাও, গায়া?

    আশা করতে পারি আপনি আমাকে নোভী ডাকবেন। এখন আমি যা করব, করব গায়া হিসেবে, সেই সাথে আমি নোভী–এবং আপনার কাছে শুধু নোভী।

    তুমি কি করতে চাও, গায়া?

    নোভীর চেতনা কেঁপে উঠল, মেন্টালিক মান অনুযায়ী তাকে দীর্ঘশ্বাস বলা যায়। আমরা এরকম অনড় অবস্থায় থাকব। আপনি মেয়র ব্র্যান্নোকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, আমি সাহায্য করব এবং আমরা ক্লান্ত হবনা। আমার চেতনা আপনি দখল করে রাখবেন, আমিও আমার দখল বজায় রাখব। এভাবেই থাকবে।

    কতক্ষণ?

    আমি বলেছি–আমরা অপেক্ষা করছি টার্মিনাসের কাউন্সিলম্যান ট্র্যাভিজ এর জন্য। সে এই অনড় অবস্থার পরিবর্তন করবে যেভাবে সে নির্বাচন করবে।

    .

    ৮৪.

    ফার স্টারের কম্পিউটার দুটো মহাকাশযানকেই চিহ্নিত করল। গোলান ট্র্যাভিজ একই স্ক্রিনে দুটোকেই আলাদাভাবে ধরে রেখেছে।

    দুটোই ফাউণ্ডেশন ভেসেল। একটার কাঠামো পুরোপুরি ফার স্টারের মতো, নিঃসন্দেহে এটা কম্পরের। অন্যটা অনেক বড় আর শক্তিশালী।

    ব্লিস এর দিকে ঘুরে বলল, বেশ, তুমি জানো কি ঘটছে? আমাকে এখন কিছু বলতে পারো?

    হ্যাঁ। ভয় পেয়োনা। ওরা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।

    কেন সবাই ভাবছে যে আমি ভয়ে কাঁপছি? ট্র্যাভিজ বিরক্তি সহকারে বলল।

    পেলোরেট তাড়াতাড়ি বলল, ওকে কথা বলতে দাও, গোলান। এরকম রূঢ় আচরণ করোনা।

    ট্র্যাভিজ অধৈর্য হয়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে দুহাত তুলল, আমি রূঢ় আচরণ করব না। বলল, ভদ্রমহিলা।

    বড় যানে রয়েছে তোমাদের ফাউণ্ডেশনের শাসক। তার সাথে—

    ট্র্যাভিজ হতবাক গলায় বলল, শাসক? তার মানে ওল্ড লেডী ব্র্যান্নো?

    নিশ্চয়ই এটা তার উপাধি নয়, ব্লিস বলল, কথা শুনে মজা পেয়েছ। তবে হ্যাঁ, তিনি একজন মহিলা। একটু থামল, যেন মনোযোগ দিয়ে সম্পর্কযুক্ত বাকী অংশ অনুভব করল। তার নাম হারলাব্র্যান্নো। নিজের গ্রহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, অথচ চার শব্দাংশের নাম, অদ্ভুত ব্যাপার। তবে আমার মনে হয় যারা গায়ান না তাদের নিজস্ব রীতিনীতি আছে।

    আমারও মনে হয়, ট্র্যাভিজ শুকনো গলায় বলল, তুমি তাকে ব্রন ডাকতে পারো। কিন্তু তিনি এখানে কি করছেন?–আচ্ছা! গায়া তাকেও এখানে নিয়ে। এসেছে। কেন?

    ব্লিস এই প্রশ্নের উত্তর দিলনা। তার সাথে আছে লিয়নকোডেল, পাঁচ শব্দাংশ, অথচ অধস্তন। তোমার গ্রহের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। সাথে আছে আরো চারজন যারা অস্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। নাম জানতে চাও?

    না, ধরে নিচ্ছি অন্য যানটাতে রয়েছে মান-লী-কম্পর, আর সে দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের প্রতিনিধিত্ব করছে। তুমি দুই ফাউণ্ডেশনকেই একসাথে নিয়ে এসেছ। কেন?

    ঠিক তানা, ট্র্যাভ–মানে ট্র্যাভিজ।

    ঠিক আছে, ট্র্যাভ ডাকতে পারো।

    তোমার ধারণা ভুল, ট্র্যাভ। কম্পর ঐ যানে নেই, তার বদলে আছে অন্য দুজন মানুষ। একজন স্টার জেনডিবল, দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাকে বলা হয় স্পিকার।

    গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা? নিশ্চয়ই মেন্টালিক ক্ষমতা রয়েছে?

    হ্যাঁ। প্রচুর পরিমাণে।

    তুমি সেটা সামলাতে পারবে?

    অবশ্যই। তার সাথে থাকা দ্বিতীয়জন হচ্ছে গায়া।

    তোমাদের একজন?

    হ্যাঁ। নাম সুরানোভীরেমব্লাসটিরান। দীর্ঘ সময় সে আমি/আমরা/বাকীদের কাছ থেকে দূরে ছিল।

    দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সে সামলে রাখতে পারবে?

    সে নয়, গায়া তাকে সামলে রেখেছে। সে/আমি/আমরা/সবাই তাকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখি।

    এই কাজটাই করতে যাচ্ছে সে? তাকে এবং ব্র্যান্নোকে ধ্বংস করতে যাচ্ছে। কি ঘটছে এসব? গায়া দুই ফাউণ্ডেশনকে ধ্বংস করে নিজেদের গ্যালাকটিক এম্পায়ার তৈরি করতে যাচ্ছে। মিউল ফিরে এসেছে আবার? আরো ভয়ংকরভাবে–

    না, না, ট্র্যাভ। উত্তেজিত হবে না। এই তিন পক্ষ একটা অনড় অবস্থানে রয়েছে। অপেক্ষা করছে।

    কিসের জন্য?

    তোমার সিদ্ধান্তের জন্য।

    আবার একই কথা। কিসের সিদ্ধান্ত? আমি নেব কেন?

    শান্ত হও, ট্র্যাভ, ব্লিস বলল। খুব শিঘ্রি জানতে পারবে। আমি/আমরা/ সে যা বলেছি এতটুকুই আমি/ আমরা/ সে এখন বলতে পারি।

    .

    ৮৫.

    ব্র্যান্নো ক্লান্ত গলায় বললেন, পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে আমি একটা ভুল করেছি, লিয়নো, মারাত্মক ভুল।

    সেটা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে? কোডেল ফিসফিস করল, যদিও ঠোঁট নড়লনা।

    ওরা জানে আমি কি চিন্তা করছি। তোমার ঠোঁট না নড়লেও ওরা বলতে পারবে তুমি কি চিন্তা করছ!–শীল্ড আরো নিখুঁত করার জন্য আমার অপেক্ষা করা উচিত ছিল।

    কিছুই বলা যায়না, মেয়র। অপেক্ষা করলে হয়তো সারাজীবনই অপেক্ষা করতে হতো। ভালো হয়েছে, বরং জিনিসটার একটা পরীক্ষা হয়ে গেল সেই সাথে আপনার লাইটনিং রড ট্র্যাভিজেরও।

    ব্র্যান্নো দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আমি ওদেরকে সতর্ক করতে চাইনি। শীল্ড যথেষ্ট নিখুঁত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতাম। জানতাম একটা বড় ত্রুটি রয়ে গেছে, কিন্তু আর অপেক্ষা করতে পারছিলাম না। ত্রুটি দূর করতে করতে হয়তো আমার মেয়াদ শেষ হয়ে যেত। অথচ আমি চেয়েছি কাজটা আমার সময়ে শেষ করতে এবং চেয়েছি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে। কাজেই বোকার মতো জোর করে নিজেকে বুঝিয়েছিলাম এই শীল্ডেই কাজ চলবে। কারো কথায় কান দেইনি–তোমার কথায়ও না।

    ধৈর্য ধরলে এখনো আমরা জিততে পারি।

    তুমি কি অন্য যানগুলোকে আক্রমণ করার আদেশ দিতে পারবে?

    না, পারবনা মেয়র। চিন্তাটাই আমার সহ্য হচ্ছে না।

    আমিও না। আর আদেশ দিতে পারলেও, আমি নিশ্চিত যে নাবিকরা সেটা মানতে পারবে না, কারণ তাদের সেই সামর্থ্য থাকবে না।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে নেই, মেয়র, কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে। সত্যি কথা বলতে কি নাটকের দৃশ্যে নতুন একজন অভিনেতার আবির্ভাব ঘটেছে।

    সে স্ক্রিনের দিকে দেখালো। মহাকাশযানের কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডানদিকে উদয় হওয়া নতুন যানের ছবি ফুটিয়ে তুলেছে।

    ইমেজটা আরেকটু বড় করতে পারবে, লিয়নো?

    কোনো সমস্যা নেই। দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনার যথেষ্ট দক্ষ। তার সমস্যা না করে আমরা যে কোন কাজ করতে পারব।

    বেশ, স্ক্রিন পর্যবেক্ষণ করে ব্র্যান্নো বললেন, ওটা ফার স্টার। আমি নিশ্চিত। এবং আমার ধারণা ভেতরে ট্র্যাভিজ আর পেলোরেট রয়েছে। তারপর তিক্ত স্বরে বললেন, যদি না দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনাররা তাকেও সরিয়ে দেয়। আমার লাইটনিং রড অবশ্য যথেষ্ট দক্ষ–শুধু যদি শীল্ডটা আরো নিখুঁত হতো।

    ধৈর্য! কোডেল বলল।

    মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভেতর একটা কণ্ঠস্বর বেজে উঠল এবং ব্র্যান্নো যেভাবেই হোক বুঝতে পারলেন যে এতে কোনো শব্দ তরঙ্গ নেই। শব্দটা সরাসরি তিনি মাইন্ডে শুনতে পেরেছেন এবং কোডেলের দিকে একপলক তাকিয়েই বুঝতে পারলেন সেও শুনছে।

    কণ্ঠস্বর বলছে, আমার কথা শুনতে পারছ, মেয়র ব্র্যান্নো। পারলে মুখে বলার দরকার নেই, শুধু চিন্তা কর।

    ব্র্যান্নো শান্তভাবে বললেন, তুমি কি?

    আমি গায়া।

    .

    ৮৬.

    তিন মহাকাশযানের প্রতিটি বাকী দুটোর আপেক্ষিক বিচারে স্থির হয়ে আছে। তিনটাই গায়া গ্রহকে ঘিরে ধীরে ধীরে ঘুরছে, উপগ্রহের মতো। সূর্যের চারপাশে সীমাহীন ভ্রমণে সঙ্গ দিচ্ছে গায়াকে।

    ট্র্যাভিজ বসে আছে, চোখ স্ক্রিনের উপর। তার ভূমিকা কি সেটা ভেবে ভেবে ক্লান্ত–হাজার পারসেক দৌড়ে এসে কি করতে হবে।

    মাইন্ডে শব্দটা শুনে সে ভয় পায়নি। যেন এটার জন্যই অপেক্ষা করছিল।

    শব্দটা বলছে, আমার কথা শুনতে পারছ, গোলান ট্র্যাভিজ। পারলে মুখে বলার দরকার নেই, শুধু চিন্তা কর।

    ট্র্যাভিজ চারপাশে তাকালো। পেলোরেট পরিষ্কার ভয় পেয়েছে, শব্দের উৎসের জন্য তাকাচ্ছে এদিক সেদিক। ব্লিস শান্ত, হাত দুটো অলসভাবে কোলের উপর রাখা। ট্র্যাভিজের কোনো সন্দেহ নেই যে শব্দের ব্যাপারে সে সচেতন।

    চিন্তা ব্যবহার করার নির্দেশ সে অগ্রাহ্য করল। দৃঢ় কিন্তু পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করে বলল, এই সব কিছু কি নিয়ে সেটা না জানা পর্যন্ত যাই করতে বলা হোক করবনা।

    এবং কণ্ঠস্বর বলল, এখনই জানবে।

    .

    ৮৭.

    কথা বলছে নোভী। সবাই নিজেদের মাইন্ডে আমাকে শুনতে পারবে। সবাই চিন্তার সাহায্যে সাড়া দিতে পারবে। এমন ব্যবস্থা করেছি যেন সবাই সবাইকে শুনতে পারো। শুরুতেই বলে রাখি সবাইকে এখানে আনা হয়েছে পরিকল্পনা অনুযায়ী।

    কি উপায়ে? ব্র্যান্নোর কণ্ঠ।

    মাইন্ড নিয়ন্ত্রণ করে না, নোভী বলল। গায়া কখনো কারো মাইন্ডে হস্তক্ষেপ করে না। এটা তার নীতি বিরুদ্ধ। আমরা শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষার সুযোগ নেই। মেয়র ব্র্যান্নো এখনি দ্বিতীয় এম্পায়ার তৈরি করতে চায়। স্পিকার জেনডিবল চায় ফার্স্ট স্পিকার হতে। আমরা শুধু ইচ্ছাগুলোকে প্রবল করে দিয়েছি এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছি, নির্বাচিত উপায়ে এবং বিচার বিশ্লেষণের সাহায্যে।

    আমি জানি আমাকে কিভাবে আনা হয়েছে, জেনডিবল কঠিন গলায় বলল। আসলেই জানত। এখন বুঝতে পারছে কেন সে মহাকাশে বেরনোর জন্য, ট্র্যাভিজকে অনুসরণ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিল, কেন সে নিশ্চিত ছিল যে ঘটনা সামাল দিতে পারবে।

    কারণ নোভী–ওহ্ নোভী!

    তোমার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন, স্পিকার জেনডিবল। তোমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বেশ জোরালো, কিন্তু তোমার সহৃদয় আন্তরিকতার কারণে আমরা কিছুটা সংক্ষেপে এগোতে পেরেছি। তুমি এমন একজন মানুষ, যাকে তুমি শিক্ষা দিয়ে তৈরি কর তার সব ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক  আমি এই সুযোগটা নেই এবং তোমার বিরুদ্ধে কাজে লাগাই। সেজন্য আমি/আমরা লজ্জিত। কিন্তু কারণ হচ্ছে গ্যালাক্সির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে।

    নোভীর কণ্ঠস্বর (যদিও সে ভোকাল কর্ড ব্যবহার করে কথা বলছেনা) আরো আন্তরিক হয়ে উঠল।

    সময় হয়েছে। গায়া আর অপেক্ষা করতে পারবে না। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টার্মিনাস মেন্টালিক শীল্ড তৈরি করছে। আর এক প্রজন্ম পরেই তারা গায়ার বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে পারবে। ইচ্ছেমতো নিজেদের অস্ত্র ব্যবহার করবে, গ্যালাক্সি বাধা দিতে পারবে না। এবং টার্মিনাসের পদ্ধতিতে গ্যালাকটিক এম্পায়ার গড়ে উঠবে, সেলডন প্ল্যান বাদ দিয়ে, ট্র্যানটরকে বাদ দিয়ে, এবং গায়াকে বাদ দিয়ে। শীল্ড নিখুঁত হওয়ার আগেই যে কোনো উপায়ে মেয়র ব্র্যান্নোকে চালিত করার প্রয়োজন ছিল।

    তারপর রয়েছে ট্রানটর। সেলডন প্ল্যান নিখুঁতভাবে কাজ করছে কারণ গায়া সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ফার্স্ট স্পিকাররা ছিল সব নিরাসক্ত, ফলে ট্র্যানটর হয়ে পড়েছিল নির্জীব। কিন্তু ষ্টর জেনডিবল খুব দ্রুত উঠে আসছিল। অবশ্যই সে ফার্স্ট স্পিকার হতো। তার অধীনে ট্র্যানটর সক্রিয় ভূমিকা পালন করত, প্রযুক্তি আর সমরশক্তির উপর গুরুত্ব দিত বেশি এবং লড়াই শুরু করত টার্মিনাসের বিরুদ্ধে। শীল্ড নিখুঁত হওয়ার আগেই যদি টার্মিনাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত তাহলে সেলডন প্ল্যানের পরিসমাপ্তি হতো দ্বিতীয় এম্পায়ার গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ট্র্যানটরের পদ্ধতিতে টার্মিনাসকে বাদ দিয়ে এবং গায়াকে বাদ দিয়ে। কাজেই ফার্স্ট স্পিকার হওয়ার আগেই জেনডিবলকে যে কোনো উপায়ে চালিত করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

    সৌভাগ্যক্রমে, যেহেতু গায়া কয়েক দশক ধরে নজর রেখেছে, আমরা দুই ফাউণ্ডেশনকে যথাসময়ে যথাস্থানে নিয়ে এসেছি। কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করছি প্রধানত টার্মিনাসের কাউন্সিলম্যান গোলান ট্র্যাভিজের বোঝার জন্য।

    সাথে সাথে বলল ট্র্যাভিজ, আবারো চিন্তার মাধ্যমে আলোচনা করা এড়িয়ে গেল। প্রতিটা শব্দ দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করে বলল, আমি বুঝতে পারছি না। যে কোনো একধরনের এম্পায়ার গড়ে উঠলে সমস্যা কি?

    নোভী বলল, দ্বিতীয় গ্যালাকটিক এম্পায়ার–টার্মিনাসের পদ্ধতিতে হতো একটা সামরিক সাম্রাজ্য। সংঘাতের মাধ্যমে গড়ে উঠত, পরিচালিত হতো সংঘাত দিয়ে এবং স্বভাবতই ধ্বংস হতো সংঘাতের কারণে। প্রথম গ্যালাকটিক এম্পায়ারের পুনর্জন্ম ছাড়া আর কিছুই হতো না। এটা গায়ার দৃষ্টিভঙ্গি।

    দ্বিতীয় গ্যালাকটিক এম্পায়ার–ট্রানটরের পদ্ধতিতে হতো পিতৃসুলভ সাম্রাজ্য। হিসাব করে প্রতিষ্ঠিত, হিসাব করে পরিচালিত, এবং জীবন-মৃত্যু সবই হিসাব করে হতো। এটা হতো শেষ সীমানা। এটাও গায়ার দৃষ্টিভঙ্গি।

    আর বিকল্প হিসেবে গায়ার পরামর্শ কি? ট্র্যাভিজ জিজ্ঞেস করল।

    গ্রেটার গায়া! গ্যালাক্সিয়া! প্রতিটি বসগ্রিহ হবে গায়ার মতো জীবিত। প্রতিটি জীবিত গ্রহ সম্মিলিত হয়ে গড়ে তুলবে আরো বিশাল মহাজাগতিক জীবন। বসতিহীন প্রতিটা গ্রহ অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটা নক্ষত্র। আন্তঃগ্রহ গ্যাসীয় বলয়ের প্রতিটি বিন্দু। এমনকি হয়তো কেন্দ্রের সুবিশাল কৃষ্ণ গহ্বর পর্যন্ত। একটা জীবিত গ্যালাক্সি এবং প্রতিটা জীবনের জন্য এমনভাবে উপযোগী করে তোলা হবে যা এখনো আমরা অনুমান করতে পারছি না। জীবনধারনের এমন এক পদ্ধতি যা পূর্বের সকল পদ্ধতি থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন এবং পূর্বের ভুলগুলোর কোনো পুনরাবৃত্তি হবে না।

    নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, জেনডিবল ফিসফিস করে বলল।

    এজন্য গায়ার হাজার বছর লেগেছে।

    ট্র্যাভিজ এসব ছোটখাটো আলোচনায় মন না দিয়ে সরাসরি আসল কথায় এল, এখানে আমার ভূমিকা কি?

    গায়ার কণ্ঠস্বর–নোভীর চেতনার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ল, বেছে নাও! কোন পথে চলবে গ্যালাক্সি?

    সীমাহীন নীরবতা। সেই নীরবতা ভেঙ্গে ট্র্যাভিজ বলল–শেষপর্যন্ত মেন্টালি, কারণ কথা বলার শক্তি সে হারিয়ে ফেলেছে–নিচু এবং দ্বিধাগ্রস্ত শোনালো। আমি কেন?

    যখন আমরা বুঝতে পারি টার্মিনাস অথবা ট্র্যানটর একসময় প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উঠবে বা আরো খারাপ দুজনেই এত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে যে সৃষ্টি হবে ভয়ংকর অনড় অবস্থার যার ফলে ধ্বংস হয়ে যাবে গ্যালাক্সি–তখনও আমরা কিছু করিনি। আমাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রয়োজন ছিল একজনের বিশেষ একজনের যার রয়েছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। আমরা তোমাকে পাই, কাউন্সিলম্যান।–না, কৃতিত্বটা আমাদের না। ট্রানটরের মানুষ তোমাকে বের করে কম্পরের মাধ্যমে, যদিও জানতনা তারা কি পেয়েছে। গোলান ট্র্যাভিজ, সঠিক কাজ করার একটা চমৎকার গুণ তোমার রয়েছে।

    আমি অস্বীকার করছি, ট্র্যাভিজ বলল।

    প্রতিটি ক্ষেত্রেই তুমি নিশ্চিত। এবং আমরা চাই গ্যালাক্সির স্বার্থে তুমি এখন নিশ্চিত হবে। হয়তো এই দায়িত্ব তুমি নিতে চাওনা, এড়িয়ে যাওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। যাই হোক তুমি বুঝবে যে দায়িত্ব পালন করাই হবে ভালো। তোমাকে পাওয়ার পরেই বুঝতে পারি শেষ হয়েছে আমাদের অনুসন্ধান। তারপর এমন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করি যেন সরাসরি মেন্টালিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই এমনভাবে ঘটনাগুলো সাজানো যায় যেন তোমরা তিনজন–মেয়র ব্র্যান্নো, স্পিকার জেনডিবল এবং কাউন্সিলম্যন ট্র্যাভিজ–একই সময়ে গায়াতে আসতে পারো। আমরা সেটা করেছি।

    মহাকাশের এই অবস্থানে, বর্তমান পরিস্থিতিতে, কথাগুলো সত্যি না, গায়া যে তোমরা মেয়র বা স্পিকার দুজনকেই পরাজিত করতে পারবে? আমি কিছু না করলেও তোমরা জীবিত গ্যালাক্সি তৈরি করতে পারবে, তাই না? তাহলে করছনা কেন?

    বুঝতে পারছি না তোমাকে সন্তুষ্ট করার মতো ব্যাখ্যা দিতে পারব কিনা। গায়া তৈরি হয় কয়েক হাজার বছর আগে রোবটের সাহায্যে। রোবটরা খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মানুষের সেবা করেছিল এখন আর করে না। তারা বলেছিল আমাদের টিকে থাকার একমাত্র উপায় হচ্ছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রোবটিক্সের তিনটি নিয়ম। মেনে চলা। প্রথম নিয়মটাকে আমরা তৈরি করেছি এভাবে গায়া জীবনের ক্ষতি করবে না বা জীবনের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেনা। অন্য নিয়মগুলো বাদ দিয়ে শুধু এই একটা নিয়মই পালন করেছি।

    ফলাফল, আমরা হয়ে পড়েছি অসহায়। নিজেদের জীবিত গ্যালাক্সির মতবাদ আমরা কুইন্টিলিয়ন মানুষ এবং অন্যান্য অগণিত প্রাণীসত্তার উপর চাপিয়ে দিতে পারিনা, দিলে হয়তো ব্যাপক ক্ষতি হবে। আবার গ্যালাক্সি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বসে বসে সেটা দেখতেও পারিনা, যেখানে আমরা সেটা ঠেকাতে পারি। আমরা জানিনা টার্মিনাস অথবা ট্র্যানটর কোনটাকে বেছে নিলে গ্যালাক্সির কম ক্ষতি হবে। তাহলে কাউন্সিলম্যান ট্র্যাভিজ সিদ্ধান্ত নিক–যে সিদ্ধান্ত নেবে, গায়া সেটা মেনে চলবে।

    তোমরা কিভাবে আশা করলে আমি সিদ্ধান্ত নেব? আমাকে কি করতে হবে?

    তোমার কম্পিউটার রয়েছে। টার্মিনাস না জেনেই তৈরি করেছে এটা। তোমার কম্পিটারের সাথে গায়ার কিছু অংশ যুক্ত। সংযোগের উপর তোমার হাত রাখো এবং চিন্তা কর। যেমন তুমি মেয়র ব্র্যান্নোর শীল্ড অভেদ্য করার চিন্তা করতে পার। যদি তাই কর, মেয়র তার অস্ত্র ব্যবহার করে বাকী যান দুটো ধ্বংস করবেন, তারপর গায়া দখল করবেন এবং পরে ট্রানটর।

    তোমরা সেটা ঠেকানোর কোনো চেষ্টাই করবেনা? ট্র্যাভিজ অবাক হয়ে বলল।

    কিছুই করবনা। যদি তুমি মনে কর বাকী দুটো বিকল্পের তুলনায় টার্মিনাসের রাজ্য বিস্তার গ্যালাক্সির কম ক্ষতি করবে, আমরা খুশি হয়ে রাজ্য বিস্তারে সাহায্য। করব–এমনকি নিজেদের ধ্বংস করে হলেও।

    বা তুমি হয়তো স্পিকার জেনডিবলের মেন্টালিক ফিল্ড কম্পিউটারের সাহায্যে বাড়িয়ে তুলতে পারো। সেক্ষেত্রে স্পিকার আমার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে আমাকে হটিয়ে দেবে। এমনভাবে মেয়র ব্র্যান্নোর মাইন্ড নিয়ন্ত্রণ করবে যেন সে গায়া দখল করে এবং সেলডন প্ল্যানের প্রভুত্ব বজায় থাকে। গায়া সেটা ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করবে না।

    অথবা তুমি আমার মেন্টালিক ফিল্ডে যোগ দিতে পারো আর তাহলে জীবিত গ্যালাক্সির ধারণা প্রতিষ্ঠিত হবে সেই সাথে ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। হয়তো এই প্রজন্ম বা পরবর্তী প্রজন্মে হবে না, কয়েক শতাব্দী লাগবে, একই সাথে সেলডন প্ল্যানও চলবে সমান ধারায়। সিদ্ধান্ত তোমার।

    দাঁড়াও! এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিওনা। আমি কথা বলতে পারি? মেয়র ব্র্যান্নো বললেন।

    নোভী বলল, তুমি বলতে পারো। স্পিকার জেনডিবলও পারবে।

    কাউন্সিলম্যান ট্র্যাভিজ, শেষবার দেখা হওয়ার সময় তুমি বলেছিলে, এমন একদিন আসবে, ম্যাডাম মেয়র, যখন আপনি আমার কাছে কিছু চাইবেন, তখন আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করব এবং গত দুদিনের কথা আমার মনে পড়বে। বুঝতে পারছি না তুমি আগে থেকেই জানতে না তোমার অনুমান যে এমন ঘটবে; নাকি এটাই তোমার সেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। যাই হোক ফাউণ্ডেশন। ফেডারেশনের স্বার্থে আমি তোমার কাছে কিছু চাইছি।

    তুমি হয়তো প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু মনে রাখবে যা করেছি সবই। ফেডারেশনের ভালোর জন্য। যদি ভুল করি বা নিজের স্বার্থে কিছু করি, সেটা করেছি আমি, ফেডারেশন কিছু করে নি। কাজেই আমার উপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে পুরো ফেডারেশনকে ধ্বংস করে ফেলোনা। মনে রাখবে তুমি একজন ফাউণ্ডেশনার এবং মানুষ। তুমি নিশ্চয়ই চাও না ট্র্যানটরের রক্তহীন গণিতজ্ঞদের গুরুত্বহীন সংখ্যায় পরিণত হতে বা জীব এবং জড়বস্তুর গ্যালাকটিক জগাখিচুড়িতে আরো গুরুত্বহীন কোনো উপাদানে পরিণত হতে। তুমি চাও নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে, প্রতিটি মানুষ যেন হয় আলাদা প্রাণীসত্তা, সবারই যেন থাকে স্বাধীন ইচ্ছা। এর বেশি কিছু প্রয়োজন নেই।

    অন্যরা হয়তো বলবে যে আমাদের সাম্রাজ্য হবে রক্তলোলুপ আর অত্যাচারী–কিন্তু কি হবে সেটা আমরা নিজের ইচ্ছায় ঠিক করব। যন্ত্রের খাজকাটা চাকার অংশের মতো অর্থহীন নিরাপত্তায় বাস করার বদলে নিজের ইচ্ছায় পরাজিত হওয়া ভালো। খেয়াল করো, স্বাধীন ইচ্ছা সম্বলিত মানুষ হিসেবে তোমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গায়ার এই বস্তুগুলো পারছেনা, কারণ তাদের যান্ত্রিকতায় সেটা সম্ভব নয়। তুমি সিদ্ধান্ত দিলে নিজেদেরকে পর্যন্ত ওরা শেষ করে ফেলবে। এমন গ্যালাক্সিই তুমি চাও?

    জানিনা আমার স্বাধীন ইচ্ছা আছে কিনা, মেয়র। আমার মাইন্ড হয়তো খুব সূক্ষ্মভাবে পাল্টানো হয়েছে যেন ওদের পছন্দমতো সিদ্ধান্ত দেই।

    তোমার মাইন্ড কোনোভাবেই পাল্টানো হয়নি, কাউন্সিলম্যান। নোভী বলল। হলে আমাদের এখানে জড়ো হওয়াটা ছিল অপ্রয়োজনীয়।

    জেনডিবল কথা বলল। এবার আমার পালা। কাউন্সিলম্যান ট্র্যাভিজ, সংকীর্ণ ধারণার বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিওনা। টার্মিনাসে জন্মেছ বলেই ভাবার কোনো কারণ নেই যে গ্যালাক্সির চেয়ে টার্মিনাস বড়। পাঁচ শতাব্দী ধরে গ্যালাক্সি চলছে সেলডন প্ল্যান অনুযায়ী। ফাউণ্ডেশন ফেডারেশনের ভিতরে বাইরে এই প্ল্যান কার্যকরী।

    ফাউণ্ডেশনার হওয়ার চেয়ে বড় কথা তুমি সেলডন প্ল্যানের অংশ এবং থাকবেও তাই। সংকীর্ণ দেশপ্রেম বা নতুন ধারণা প্রবর্তন করার আবেগের বশবর্তী হয়ে এই প্ল্যান ধ্বংস করোনা। দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশন কোনোভাবেই মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে অবমূল্যায়ন করবে না। আমরা পথপ্রদর্শক, শাসক নই।

    আমরা এমন একটা দ্বিতীয় গ্যালাকটিক এম্পায়ার গড়ে তুলব যা মৌলিকভাবে প্রথমটা থেকে ভিন্ন হবে। মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাসে এমন কোনো দর্শক নেই যখন গ্যালাক্সিতে রক্তপাত ঘটেনি বা নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। মেয়র ব্র্যান্নোকে নির্বাচন করো, এই ঘটনাগুলোই সীমাহীনভাবে চলতে থাকবে। সেই একই রক্তপাত, মৃত্যু। সেলডন প্ল্যানই হচ্ছে মুক্তির পথ–এবং সেজন্য গ্যালাক্সির অণুতে পরিণত হতে হবে না বা নিজের সাম্যতাকে ঘাস, ব্যাকটেরিয়া বা ধূলিকণার পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে না।

    নোভী বলল, প্রথম ফাউণ্ডেশনের সাম্রাজ্যের ব্যাপারে স্পিকার যা বলেছে আমি তার সাথে একমত। কিন্তু নিজের সম্বন্ধে যা বলেছে সেটা মানতে পারলামনা। ট্র্যানটরের স্পিকাররা অন্তত স্বাধীন ইচ্ছা সম্বলিত মানুষ, বরাবরই তাই ছিল। কিন্তু তারা কি ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতা, রাজনীতি থেকে মুক্ত? উপরে উঠার জন্য তারা নিজেদের ভেতর লড়াই করেনা?

    স্বীকার করছি যে আমাদের ভেতর হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিযোগিতা, বিশ্বাসঘাতকতা সবই রয়েছে। কিন্তু একবার একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারলে সবাই সেটা মেনে চলে। কখনো ব্যতিক্রম হয়নি।

    যদি আমি কোনোটাকেই বেছে না নেই তাহলে কি হবে? ট্র্যাভিজ জিজ্ঞেস করল।

    নিতেই হবে, নোভী বলল, প্রথমে নিশ্চিত হবে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে।

    আমি চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলামনা, তখন?

    পারতেই হবে।

    কতক্ষণ সময় পাবো?

    যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হও, তার জন্য যত সময় লাগে লাগুক।

    ট্র্যাভিজ নিশ্চুপ হয়ে গেল। অন্যরাও নীরব। ট্র্যাভিজ যেন শরীরের ভেতর রক্ত প্রবাহের শব্দ শুনছে।

    তারপর সে মেয়র ব্র্যান্নোর কণ্ঠ পেল, দৃঢ়ভাবে বলছে, স্বাধীন ইচ্ছা।

    জেনডিবল কর্তৃত্বের সুরে বলছে, পথ প্রদর্শন ও শান্তি।

    নোভী ব্যাকুল সুরে বলছে, জীবন।

    ট্র্যাভিজ ঘুরে দেখল পেলোরেট তার দিকে তাকিয়ে আছে গভীরভাবে। জেনভ, সব শুনেছ? সে জিজ্ঞেস করল।

    হ্যাঁ, শুনেছি, গোলান।

    তোমার কি মনে হয়?

    সিদ্ধান্তটা আমার না।

    জানি। কিন্তু তুমি কি ভাবছ?

    জানিনা। তিনটা বিকল্প শুনেই আমি ভয় পেয়েছি। তারপরেও একটা অদ্ভুত চিন্তা আসছে–

    হ্যাঁ?

    যখন, আমরা প্রথম মহাকাশে বেরোই তুমি আমাকে গ্যালাক্সি দেখিয়েছিলে, মনে আছে?

    হ্যাঁ, অবশ্যই।

    তুমি সময়ের গতি বাড়িয়ে তুলেছিলে এবং গ্যালাক্সি দ্রুত ঘুরপাক খাচ্ছিল। সেটা দেখে আমি বলেছিলাম, দেখে মনে হয় গ্যালাক্সি জীবন্ত প্রাণী, মহাকাশে হামাগুড়ি দিচ্ছে। তুমি কি ভাবছ সেটা কোনোভাবে জীবন্ত হয়ে পড়েছে?

    এবং ট্র্যাভিজের মনে পড়ল–সে হঠাৎ করেই নিশ্চিত হলো। মনে পড়ল সে একবার ধারণা করেছিল পেলোরেটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দ্রুত ঘুরল। চিন্তা করার সময় নেই। বেশি সময় গেলেই সন্দেহ বাড়বে, অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

    কম্পিউটার সংযোগের উপর হাত রেখে চিন্তাকে নিবিড় করে তুলল। এত নিবিড়তা নিজের ভেতরে আগে কখনো তৈরি হয়নি।

    সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে–যে সিদ্ধান্তের উপর ঝুলছে গ্যালাক্সির ভাগ্য।

    .

    উপসংহার

    ৮৮.

    মেয়র ব্র্যান্নোর সন্তুষ্ট হওয়ার কারণ রয়েছে যথেষ্ট। স্টেট ভিজিট দীর্ঘস্থায়ী না হলেও ফলপ্রসূ হয়েছে।

    স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। ফ্লীটের যুদ্ধযানগুলো একটা একটা করে হাইপার স্পেসের মধ্য দিয়ে ফিরে যাচ্ছে স্টেশনে।

    নিঃসন্দেহে ফাউণ্ডেশনের উপস্থিতিতে সেশেল প্রভাবিত হয়েছে। কিন্তু দুটো জিনিস তারা খেয়াল করতে ভুল করে নিঃ এক, এই যুদ্ধযানগুলো সবসময় ফাউণ্ডেশনের মহাকাশে থাকবে; দুই মেয়রের নির্দেশ পাওয়ামাত্রই তারা স্থান ত্যাগ করেছে, তৎপরতার সাথে।

    অন্যদিকে সেশেল এই কথাটাও কখনো ভুলবে না যে একদিন বা তারও কম সময়ের নোটিশে যুদ্ধযানগুলো আবার সীমান্তে হাজির হতে পারে। আসলে এটা ছিল ক্ষমতার প্রদর্শনী আর সুনামের সমন্বয়ে এক কৌশলী পরিচালনা।

    মেয়র অহংকার গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কোডেলকে বললেন, আমরা অবশ্য ওদেরকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারবনা।

    ঠিক ওদেরকে বিশ্বাস করা যাবেনা, কোডেল বলল, কিন্তু গ্যালাক্সির কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। আর সেশেলের নিজের স্বার্থেই চুক্তির শর্তগুলো পর্যবেক্ষণ করা উচিত। আমরা যথেষ্ট উদারতা দেখিয়েছি।

    বিস্তারিত কাজগুলোর উপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে, সেজন্য কয়েকমাস লেগে যেতে পারে। সাধারণ বিষয়গুলোতে সাথে সাথে একমত হওয়া যাবে, কিন্তু তারপর আসবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো: আমদানী রপ্তানী ব্যবস্থা, তাদের শস্য এবং গবাদিপশুগুলো আমাদেরগুলোর সাথে তুলনা করে মূল্য পরিশোধ করা এবং আরো অনেক কিছু।

    আমি জানি। শেষ হয়ে যাবে। আর কৃতিত্বটা হবে আপনার, মেয়র। আপনার বুদ্ধিমত্তাকে আমি সন্দেহ করেছিলাম, স্বীকার করতেই হবে আমাকে চমৎকার জবাব দিয়েছেন।

    তেমন কিছুনা, লিয়নো। শুধু ফাউণ্ডেশন ফেডারেশন সেশেলের অহংকারের মূল্যায়ন করেছে। ইম্পেরিয়াল যুগ থেকেই তারা ভোগ করছে নির্দিষ্ট ধরনের স্বাধীনতা। ব্যাপারটা প্রশংসার যোগ্য।

    হ্যাঁ, কিন্তু এখন আর সেটা আমাদের জন্য কোনো সমস্যা না।

    ঠিক, ওদেরকে খুশি করার জন্য একটু ছোট হতে হয়েছে আমাদের। স্বীকার করছি গ্যালাক্সি বিস্তৃত ফেডারেশনের মেয়র হিসেবে কোনো প্রাদেশিক নক্ষত্রপুঞ্জ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কঠিন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আর কোনো সমস্যা হয়নি। ওরাও খুশি হয়েছে। যুদ্ধযানগুলোও কোনো সমস্যা তৈরি করেনি।

    কোডেল মাথা নাড়ল। শক্তি রক্ষার জন্যই আমরা শক্তির প্রদর্শনী ত্যাগ করেছিলাম।

    ঠিক। কথাটা যেন কে বলেছেন?

    মনে হয় ইরিডানের কোনো নাটকের সংলাপ এটা, ঠিক বলতে পারবনা। ঘরে ফিরে কোনো বিখ্যাত সাহিত্যিককে জিজ্ঞেস করে জেনে নেব।

    যদি মনে থাকে। সেশেলিয়ানদের পাল্টা টার্মিনাস ভিজিটের ব্যবস্থা খুব দ্রুত করতে হবে। ওরাও যেন সমান আতিথেয়তা পায় সেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমি চাই, লিয়নো, তুমি কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। আমাদের মাথা গরম লোকগুলো কোনো না কোনো গোলমাল করবেই। চাইনা সামান্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করেও সেশেলিয়ানদের বিব্রত করা হয়।

    নিশ্চয়ই। ভালো কথা, ট্র্যাভিজকে মহাকাশে পাঠানোর বুদ্ধিটা ছিল চমৎকার।

    আমার লাইটনিং রড? যা আশা করেছিলাম তার চেয়েও ভালো কাজ করেছে। বিশ্বাসই করতে পারছি না সে এত দ্রুত সেশেলিয়ানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে। স্পেস! আমার ভিজিটের কি চমৎকার একটা কারণ তৈরি করে দিয়েছে–ফাউণ্ডেশনের নাগরিক ওদের কোনো ক্ষতি করে কি না সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তাদের আত্মসংযমের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে আমি সেশেলে গেলাম।

    বিচক্ষণ!–তবে ট্র্যাভিজকে সাথে নিয়ে ফিরলে ভালো হতো না?

    না। অন্য যেখানেই থাকুক আমার কোনো আপত্তি নেই। টার্মিনাসে গেলেই ঝামেলা তৈরি করবে। দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশন নিয়ে ওর আজগুবি কথাগুলোই ওকে বের করে দেয়ার যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেশেলের পথ দেখানোর কৃতিত্বটা পেলোরেটের। কিন্তু আমি চাইনা ফিরে আসুক।

    কোডেলের মুখে চাপা হাসি। সন্দেহ আছে একাডেমিকদের চেয়ে বড় বলির। পাঠা আর পাব কিনা। সব খুলে বললে পেলোরেট ব্যাপারটা কিভাবে মেনে নিত।

    সেশেলিয়ানদের রহস্যময় গায়ার অস্তিত্ব আছে এটাই তার জন্য যথেষ্ট।–বাদ দাও। ফিরে গিয়ে কাউন্সিলের মুখোমুখি হতে হবে, সেশেলিয়ানদের সাথে চুক্তির জন্য তাদের ভোট লাগবে। সৌভাগ্যক্রমে ট্র্যাভিজের বিবৃতি, ভয়েসপ্রিন্ট ইত্যাদি আমার কাছে আছে–প্রমাণ করা যাবে যে সে স্বেচ্ছায় টার্মিনাস ছেড়ে চলে গেছে। ট্র্যাভিজের দ্রুত গ্রেফতারের বিষয়ে আমি অফিসিয়ালি দুঃখ প্রকাশ করব, এতেই ওরা সন্তুষ্ট হবে।

    আপনি পারবেন, মেয়র, কোনো সন্দেহ নেই, কোডেল শুকনো গলায় বলল। ভেবে দেখেছেন, ট্র্যাভিজ হয়তো দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে?

    চালাতে দাও, ব্র্যান্নো বললেন কাঁধ ঝাঁকিয়ে। যতক্ষণ সে টার্মিনাসের বাইরে আছে, কোনো সমস্যা নেই। কাজটাতে সে ব্যস্ত থাকবে কিন্তু কোনো লাভ হবে না। দ্বিতীয় ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব আমাদের এই শতাব্দীর সেরা রহস্য, যেমন গায়া। সেশেলের রহস্য।

    তিনি হেলান দিয়ে বসলেন, চেহারায় একটা সদয়ভাব। শেষপর্যন্ত সেশেল আমাদের হাতের মুঠোয় এসেছে এবং ওরা যখন ব্যাপারটা ধরতে পারবে তখন। আর মুঠো থেকে বেরনোর কোনো পথ থাকবেনা। অতএব ফাউণ্ডেশনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং অব্যাহত থাকবে, বাধাহীনভাবে, নিয়মিতভাবে।

    এবং কৃতিত্বটা পুরোপুরি আপনার, মেয়র।

    ব্র্যান্নো মৃদু হাসলেন। তাদের মহাকাশযান হাইপারস্পেসে ঢুকে গেল, তারপর আবার উদয় হলো টার্মিনাসের নিকটবর্তী মহাকাশে।

    .

    ৮৯.

    স্পিকার স্টর জেনডিবল আবার ফিরে এসেছে নিজের মহাকাশযানে। তার সন্তুষ্ট হওয়ার কারণ রয়েছে যথেষ্ট। প্রথম ফাউণ্ডেশনের সাথে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবে ফলপ্রসূ হয়েছে।

    সতর্কতার সাথে নিঃশব্দ বিজয়দৃপ্ত মেসেজ পাঠিয়েছে সে। এই মুহূর্তে ফার্স্ট স্পিকারকে অন্তত এটা জানানো প্রয়োজন যে সব ঠিক আছে (যেহেতু তার অনুমান, দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের পুরো শক্তি ব্যবহার করতে হয়নি)। বিস্তারিত পরে জানাবে।

    সে ব্যাখ্যা করে বলবে, মেয়র ব্র্যান্নোর মাইন্ড নিপুণভাবে–এবং অতি সামান্য সমন্বয়ের কারণেই তার সাম্রাজ্যবাদী বিশাল পরিকল্পনা সাধারণ বাণিজ্য চুক্তিতে পরিণত হয়; সেশেল নেতৃবৃন্দের নিপুণ–এবং দূরবর্তী সমন্বয়ের কারণে তারা মেয়রকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানায়। আর কোনো সমন্বয় ছাড়াই কম্পরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে, যে কারণে সে নিজের মহাকাশযান নিয়ে টার্মিনাসে ফিরে গেছে চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পালিত হয় কি না সেটা দেখার জন্য। জেনডিবলের মতে পুরো ঘটনাটাই মেন্টালিক শিল্পের অতি সামান্য প্রয়োগের দ্বারা বিশাল ফলাফল অর্জনের অসাধারণ উদাহরণ।

    সে নিশ্চিত, তার সাফল্য স্পিকার ডেলারমিকে মিশিয়ে দেবে ধুলোর সাথে এবং টেবিলের একটা সাধারণ মিটিং-এ বিস্তারিত বলার পর তার ফার্স্ট স্পিকার হওয়ার পথ সুগম হবে।

    সুরা নোভীর গুরুত্বের কথা সে অস্বীকার করতে পারবে না, যদিও সবাইকে এই কথা বলার প্রয়োজন নেই। শুধু তার বিজয়ের জন্য নোভীকে প্রয়োজন ছিল না, বরং মেয়েটা তার ছেলেমানুষী (এবং যথেষ্ট মানবিক, কারণ স্পিকাররাও মানুষ) বিজয়উল্লাসকে প্রশ্রয় দেয়ার একটা কারণ পাইয়ে দিয়েছে।

    সে জানে, যা কিছু ঘটেছে নোভী সেটা বুঝতে পারেনি, তবে এ ব্যাপারে সচেতন যে জেনডিবল তার পছন্দমতো ঘটনা সাজাতে পেরেছে এবং এটা নিয়ে

    হ্যাঁ, কিন্তু এখন আর সেটা আমাদের জন্য কোনো সমস্যা না।

    ঠিক, ওদেরকে খুশি করার জন্য একটু ছোট হতে হয়েছে আমাদের। স্বীকার করছি গ্যালাক্সি বিস্তৃত ফেডারেশনের মেয়র হিসেবে কোনো প্রাদেশিক নক্ষত্রপুঞ্জ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কঠিন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আর কোনো সমস্যা হয়নি। ওরাও খুশি হয়েছে। যুদ্ধযানগুলোও কোনো সমস্যা তৈরি করেনি।

    কোডেল মাথা নাড়ল। শক্তি রক্ষার জন্যই আমরা শক্তির প্রদর্শনী ত্যাগ করেছিলাম।

    ঠিক। কথাটা যেন কে বলেছেন?

    মনে হয় ইরিডানের কোনো নাটকের সংলাপ এটা, ঠিক বলতে পারবনা। ঘরে ফিরে কোনো বিখ্যাত সাহিত্যিককে জিজ্ঞেস করে জেনে নেব।

    যদি মনে থাকে। সেশেলিয়ানদের পাল্টা টার্মিনাস ভিজিটের ব্যবস্থা খুব দ্রুত করতে হবে। ওরাও যেন সমান আতিথেয়তা পায় সেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমি চাই, লিয়নো, তুমি কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। আমাদের মাথা গরম লোকগুলো কোনো না কোনো গোলমাল করবেই। চাইনা সামান্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করেও সেশেলিয়ানদের বিব্রত করা হয়।

    নিশ্চয়ই। ভালো কথা, ট্র্যাভিজকে মহাকাশে পাঠানোর বুদ্ধিটা ছিল চমৎকার।

    আমার লাইটনিং রড? যা আশা করেছিলাম তার চেয়েও ভালো কাজ করেছে। বিশ্বাসই করতে পারছি না সে এত দ্রুত সেশেলিয়ানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে। স্পেস! আমার ভিজিটের কি চমৎকার একটা কারণ তৈরি করে দিয়েছে–ফাউণ্ডেশনের নাগরিক ওদের কোনো ক্ষতি করে কি না সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তাদের আত্মসংযমের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে আমি সেশেলে গেলাম।

    বিচক্ষণ!–তবে ট্র্যাভিজকে সাথে নিয়ে ফিরলে ভালো হতো না?

    না। অন্য যেখানেই থাকুক আমার কোনো আপত্তি নেই। টার্মিনাসে গেলেই ঝামেলা তৈরি করবে। দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশন নিয়ে ওর আজগুবি কথাগুলোই ওকে বের করে দেয়ার যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেশেলের পথ দেখানোর কৃতিত্বটা পেলোরেটের। কিন্তু আমি চাইনা ফিরে আসুক।

    কোডেলের মুখে চাপা হাসি। সন্দেহ আছে একাডেমিকদের চেয়ে বড় বলির পাঠা আর পাব কিনা। সব খুলে বললে পেলোরেট ব্যাপারটা কিভাবে মেনে নিত।

    সেশেলিয়ানদের রহস্যময় গায়ার অস্তিত্ব আছে এটাই তার জন্য যথেষ্ট।–বাদ দাও। ফিরে গিয়ে কাউন্সিলের মুখোমুখি হতে হবে, সেশেলিয়ানদের সাথে চুক্তির জন্য তাদের ভোট লাগবে। সৌভাগ্যক্রমে ট্র্যাভিজের বিবৃতি, ভয়েসপ্রিন্ট ইত্যাদি আমার কাছে আছে–প্রমাণ করা যাবে যে সে স্বেচ্ছায় টার্মিনাস ছেড়ে চলে গেছে। ট্র্যাভিজের দ্রুত গ্রেফতারের বিষয়ে আমি অফিসিয়ালি দুঃখ প্রকাশ করব, এতেই ওরা সন্তুষ্ট হবে।

    আপনি পারবেন, মেয়র, কোনো সন্দেহ নেই, কোডেল শুকনো গলায় বলল। ভেবে দেখেছেন, ট্র্যাভিজ হয়তো দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে?

    এত কিছু করার পর আপনি পুরস্কৃত হবেন না?

    অবশ্যই। স্যান্ডেস অবসর নেবেন এবং আমি হব ফার্স্ট স্পিকার। তখন আমার সুযোগ আসবে গ্যালাক্সিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করার।

    ফার্স্ট স্পিকার?

    হ্যাঁ, নোভী। আমি হব স্পিকারদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? নোভীর চেহারায় হতাশা।

    মুখটা এমন করছ কেন, নোভী? তুমি চাওনা আমি পুরস্কৃত হই?

    হ্যাঁ, মাস্টার আমি চাই। কিন্তু, স্পিকারদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়লে তখন কি আর একটা হ্যামিশ মেয়েকে পাশে রাখতে চাইবেন। সেটা ভালো। দেখাবে না।

    কে আমাকে বাধা দেবে? হঠাৎ করেই নোভীর প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ অনুভব করল সে। আমি যাই হই, যেখানেই যাই, তুমি আমার সাথে থাকবে। ভেবেছ তোমার সাহায্য ছাড়া স্পিকারস টেবিলের নেকড়েগুলোর মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি আমি নেব? আর তাছাড়া- হঠাৎ আবেগে সে কাঁপতে লাগল, তাছাড়া, আমি তোমাকে চাই, চাই তুমি যেন আমার পাশে থাক। মানে যদি তোমার ইচ্ছা হয়।

    ওহ্, মাস্টার। ফিসফিস করে বলল নোভী। জেনডিবলের কোমর জড়িয়ে ধরে তার কাঁধে মাথা রাখল।

    অনেক গভীরে, যেখানে নোভীর মাইন্ড সহসা সচেতন হয়ে উঠবেনা, সেখানে আছে গায়া, পরিচালিত করছে সব ঘটনা। আর এক অভেদ্য আবরণ এই মহাকর্মযজ্ঞেরস্থায়িত্বকে সম্ভব করে তুলেছে।

    এবং সেই আবরণ–হ্যামিশ মেয়েটার সাথে জড়িত আবরণ–সেটা ছিল প্রচণ্ড সুখী। এতই সুখী যে নোভী নিজের/তাদের সকলের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সেটা প্রায় ভুলে গেল। সে ছিল তৃপ্ত, অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতেও তৃপ্ত থাকবে।

    .

    ৯০.

    দুইহাত ঘষে পেলোরেট বলল, কিছুটা উৎসাহের সাথে, গায়ায় ফিরে এসে আমার বেশ ভালো লাগছে।

    হুমম্, ট্র্যাভিজ অন্যমনস্ক।

    জানো ব্লিস কি বলেছে? সেশেলের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি করে মেয়র টার্মিনাসে ফিরে যাচ্ছেন। সব নিজের ইচ্ছামতো ঘটেছে এই ধারণা নিয়ে দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের স্পিকার ট্র্যানটরে ফিরে গেছে আর ঐ মেয়েটা, নোভী, গেছে তার সাথে, যেন গ্যালাক্সিয়ায় রূপান্তরের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে পারে। দুই ফাউণ্ডেশনের কেউই জানেনা গায়া আছে। কি অদ্ভুত ব্যাপার।

    আমি জানি, ট্র্যাভিজ বলল, আমাকেও এই কথাগুলো বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা তো জানি গায়া আছে এবং মানুষকে বলতে পারব।

    ব্লিস তা মনে করেনা। সে বলেছে কেউ আমাদের কথা বিশ্বাস করবেনা। তাছাড়া আমার গায়া ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।

    ট্র্যাভিজের আত্মমগ্ন ভাবটা যেন কেউ ধাক্কা দিয়ে কাটিয়ে দিল, চোখ তুলে জিজ্ঞেস করল, কি?

    আমি এখানেই থাকছি।–নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না। মাত্র একসপ্তাহ আগে, আমি ছিলাম টার্মিনাসে, নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছিলাম, ডুবে ছিলাম রেকর্ড আর গবেষণা নিয়ে। হয়তো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই চলত। তারপর হঠাৎ করেই আমি হয়ে গেলাম গ্যালাকটিক ট্র্যাভেলার; জড়িয়ে গেলাম একটা গ্যালাকটিক ক্রাইসিসের সাথে; এবং হাসবেনা গোলান–আমি ব্লিসকে পেলাম।

    আমি হাসছিনা, জেনভ, কিন্তু বুঝতে পারছ তো কি করছ?

    হা। পৃথিবীর ব্যাপারটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। কারণ বিচিত্র ইকোলজী এবং বুদ্ধিমান প্রাণীর ব্যাপারটা ভালো মতো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইটারনালদের কথা বলছি।

    বুঝতে পেরেছি। তুমি গায়ায় থাকতে চাও?

    ঠিক। পৃথিবী অতীতের ব্যাপার আর আমি অতীত নিয়ে ক্লান্ত। গায়া হলো। ভবিষ্যৎ।

    তুমি গায়ার অংশ না, জেনভ। নাকি ভাবছ অংশ হতে পারবে?

    ব্লিস বলেছে আমি কিছুটা অংশ হতে পারব। জৈবিকভাবে না হলেও আত্মিকভাবে। সে অবশ্য আমাকে সাহায্য করবে।

    কিন্তু সে যেহেতু গায়ার অংশ, দুজনের জীবনকে কিভাবে মিলাবে, কিভাবে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি এক করবে

    তারা বেরিয়ে এসেছে খোলা জায়গায়। এই দ্বীপ বেশ উর্বর, পিছনে সমুদ্র, দূরে দিগন্তে ঝাপসাভাবে দেখা যাচ্ছে আরেকটা দ্বীপ–সবকিছুই শান্ত, সভ্য, জীবন্ত এবং একতাবদ্ধ।

    ট্র্যাভিজ শান্ত, গম্ভীর। জেনভ, সে একটা বিশ্ব; তুমি ক্ষুদ্র মানুষ। যদি সে তোমার উপর বিরক্ত হয়ে উঠে। তার বয়স কম

    গোলান, আমি ভেবে দেখেছি। গত কয়েকদিন শুধু এই কথাগুলোই ভেবেছি। আমার উপর সে বিরক্ত হয়ে উঠবে এটাই আশা করি; আমি তো আবেগপ্রবণ বোকা না। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত সে আমাকে যা দেবে সেটা যথেষ্ট। এরই মধ্যে যথেষ্ট পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরো পাব। যদি এই মুহূর্ত থেকে তাকে আর না দেখি,তাহলে আমি শেষ হয়ে যাবো।

    বিশ্বাস হচ্ছেনা, ট্র্যাভিজ নরম সুরে বলল। তোমাকে আমার আসলেই আবেগপ্রবণ বোকা মনে হচ্ছে। জেনভ, আমাদের পরিচয় খুব বেশি দিনের না, কিন্তু যে কয়দিন একসাথে ছিলাম প্রতিটা মুহূর্ত একসাথে কাটিয়েছি। মাফ করবে কথাটা যদি বোকার মতো শোনায় আমি তোমাকে বেশ পছন্দ করি।

    আমিও তোমাকে পছন্দ করি, গোলান।

    তুমি কষ্ট পাও আমি তা চাইনা। ব্লিসের সাথে কথা বলতে হবে।

    না, না। বলোনা। তুমি ওকে লেকচার শোনাবে।

    আমি ওকে লেকচার শোনাবো না। শুধু তোমার ব্যাপার না, অন্য বিষয় নিয়েও কথা বলব। এবং কথা বলব আমি একা। প্লিজ, জেনভ, তোমার পিছনে কথা বলতে চাই না, কাজেই রাজী হয়ে যাও। কয়েকটা বিষয় সরাসরি আলাপ করব। যদি সন্তুষ্ট হই আমি তোমাকে জানাবো আন্তরিক অভিনন্দন।

    পেলোরেট মাথা নাড়ল, তুমি সব শেষ করে দেবে।

    প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি কিছুই করব না। প্লিজ জেনভ।

    বেশ। তবে সাবধানে কথা বলবে, বলবে না?

    আমি কথা দিচ্ছি।

    .

    ৯১.

    পেল বলল তুমি আমার সাথে কথা বলতে চাও।

    হ্যাঁ।

    ট্র্যাভিজের জন্য বরাদ্দ করা ছোট ঘরে কথা বলছে ওরা।

    ব্লিস সাবলীল ভঙ্গিতে বসে পায়ের উপর পা তুলে দিল, চোখ তুলে তাকালো তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে। সুন্দর বাদামী চোখগুলো উজ্জ্বল হয়ে আছে, চকচক করছে দীঘল কালো চুলগুলো।

    তুমি আমাকে অপছন্দ করো, তাইনা? প্রথম থেকেই তুমি আমাকে অপছন্দ করছ।

    ট্র্যাভিজ দাঁড়িয়ে আছে। তুমি মাইন্ড এবং তার উপাদান বুঝতে পার। ভালো করেই জানো তোমার সম্বন্ধে আমি কি ভাবছি এবং কেন।

    ব্লিস মাথা নাড়ল ধীরে ধীরে। তোমার মাইন্ড গায়ার আয়ত্তের বাইরে। তোমার সিদ্ধান্ত আমাদের প্রয়োজন এবং সেই সিদ্ধান্ত হতে হবে পরিষ্কার নির্মল একটা মাইন্ডের। প্রথম যখন তোমাদের মহাকাশযান দখল করি, তোমাকে আর পলকে একটা মসৃণ ক্ষেত্রের মাঝে রেখেছিলাম। নইলে অতিরিক্ত রাগ বা আতঙ্কে তোমার বিরাট ক্ষতি হতো। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তুমি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়তে। তবে এরচেয়ে বেশি অগ্রসর হওয়ার কোনো উপায় ছিল না–কাজেই বলতে পারবনা তুমি কি ভাবছ।

    যে সিদ্ধান্ত নেয়ার ছিল নিয়েছি। আমি মত দিয়েছি গায়া এবং গ্যালাক্সিয়ার পক্ষে। তাহলে এখন আবার পরিষ্কার নির্মল মাইন্ডের কথা আসছে কেন? তোমাদের যা প্রয়োজন তা পেয়ে গেছ। এখন আমার সাথে যে কোনো ধরনের আচরণ করতে পারো।

    মোটেই না, ট্র্যাভ। ভবিষ্যতে আরো অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তুমি যা আছ তাই থাকবে, যতদিন বেঁচে থাকবে গ্যালাক্সির সম্পদ হিসেবে থাকবে। নিঃসন্দেহে গ্যালাক্সিতে তোমার মতো আরো অনেকেই আছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা জানি শুধু তোমাকে। আমরা এখনো তোমাকে স্পর্শ করতে পারি না।

    ট্র্যাভিজ কথাগুলো বিবেচনা করল। তুমি গায়া এবং আমি গায়ার সাথে কথা বলতে চাইনা। তোমার সাথে আমি একক মানুষ হিসেবে কথা বলতে চাই, যদি কথাটার কোনো অর্থ হয়।

    হা, অর্থ হয়। আমরা শুধু সম্মিলিতভাবে বাস করে অভ্যস্ত না। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গায়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করতে পারব।

    হ্যাঁ। আমারও ধারণা তুমি পারো। এখন কি বন্ধ করবে?

    করলাম।

    তাহলে প্রথমেই বলি, তুমি আসলে আমাদের সাথে খেলছ। সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার জন্য তুমি হয়তো আমার মাইন্ডে প্রবেশ করোনি, কিন্তু সেই উদ্দেশ্যেই তুমি জেনভের মাইন্ডে প্রবেশ করেছ, তাই না?

    তোমার মনে হয় আমি করেছি?

    আমার মনে হয় তুমি করেছ। ঠিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেলোরেট জীবন্ত গ্যালাক্সির ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে মনে করিয়ে দিল। চিন্তাটা আমাকে সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে চালিত করল। চিন্তাটা হয়তো তার, কিন্তু তোমার মাইন্ড সেটা তৈরি করেছে। তাই না?

    চিন্তাটা তার মাইন্ডেই ছিল, সেই সাথে অন্যান্য চিন্তা। আমি জীবন্ত গ্যালাক্সির ব্যাপারে তার স্মৃতিশক্তির পথ উন্মুক্ত করে দেই। নির্দিষ্ট চিন্তাটা সহজেই তার সচেতনতায় বেরিয়ে আসে এবং শব্দে পরিণত হয়। খেয়াল করো চিন্তাটা আমি তৈরি করিনি। সেটা ওখানেই ছিল।

    যাই হোক, এটা আমার স্বাধীন সিদ্ধান্তের উপর পরোক্ষ হস্তক্ষেপ, তাই না?

    গায়া প্রয়োজন মনে করেছে।

    তাই?–বেশ, শুনে হয়তো খুশী হবে–যদিও সেই মুহূর্তে জেনভের মন্তব্য আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে, এই সিদ্ধান্তটাই আমি নিতাম, সে কিছু না বললেও বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমাকে প্ররোচিত করলেও। কথাটা তোমার জানা উচিত।

    শুনে খুশী হলাম, ব্লিস ঠাণ্ডা গলায় বলল, এই কথা বলার জন্যই দেখা করতে চেয়েছ।

    না।

    আর কি বলবে?

    ব্লিস এর উল্টোদিকে একটা চেয়ারে বসল ট্র্যাভিজ, এত কাছে যে হাঁটুতে হাঁটু ঠেকে যাচ্ছে। সামনের দিকে ঝুঁকে বলল, যখন গায়াতে আসি স্পেস স্টেশনে তুমি ছিলে; তুমি আমাদের ফাঁদে ফেলেছ; তুমি আমাদের নিয়ে যেতে এসেছিলে; তারপর তুমি সর্বক্ষণ আমাদের সাথে আছ–শুধু মাত্র ডম এর সাথে খাওয়ার সময় বাদ দিয়ে। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ফার স্টারে আমাদের সাথে ছিলে তুমি। সবসময় তুমি।

    আমি গায়া।

    এই কথায় কিছু প্রকাশ পায় না। একটা খরগোশ গায়া, একটা নুড়িপাথর গায়া। গ্রহের সবকিছুই গায়া, কিন্তু তারা কেউ সমানভাবে গায়া না। কেউ কম, কেউ বেশি। তুমি কেন?

    তোমার কি মনে হয়?

    আমার মনে হয় তুমি গায়া না। আমার মনে হয় তুমি গায়ার চেয়েও বেশি কিছু।

    ব্লিস ঠোঁট দিয়ে উপহাসের শব্দ করল।

    ট্র্যাভিজ নিজের কথা বলে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় স্পিকারের সাথে যে মেয়েটা ছিল

    স্পিকার তাকে ডাকত নোভী।

    নোভী বলেছিল গায়া তৈরি হয়েছে রোবটদের দ্বারা। রোবটরা এখন আর নেই এবং গায়া রোবটিক্সের তিন নিয়ম কিছুটা পরিবর্তন করে শিখে নিয়েছে।

    পুরোপুরি সঠিক।

    রোবটরা এখন আর নেই?

    নোভী সেটাই বলেছিল।

    নোভী সেটাই বলেনি। তার বলা প্রতিটা শব্দ আমার হুবহু মনে আছে। সে বলেছিল, হাজার বছর আগে গায়া তৈরি হয় রোবটদের সাহায্যে। রোবটরা একসময় মানুষের সেবা করত এখন আর করেনা।

    বেশ, ট্রাভ, তার মানে কি এই দাঁড়ায়না যে রোবটরা আর নেই?

    না, এর অর্থ দাঁড়ায় তারা আর সেবা করেনা। হয়তো তারা শাসন করে?

    অসম্ভব!

    অথবা সুপারভাইজ করে? সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কেন তুমি সেখানে ছিলে? থাকাটা আমার জরুরী মনে হয়নি। নোভী বিষয়গুলোর যোগসূত্র তৈরি করছিল এবং সে ছিল গায়া। তোমার থাকার কি প্রয়োজন ছিল? যদিনা

    বেশ? যদিনা?

    যদিনা তুমিই হও সেই সুপারভাইজর যার ভূমিকা হচ্ছে গায়া যেন নিয়ম তিনটা ভুলে না যায় সেটা নিশ্চিত করা। যদি না তুমি রোবট হও, এত নিপুণভাবে তৈরি যে মানুষের চোখে ধরা পড়বেনা।

    কোনো মানুষ ধরতে না পারলে, তুমি ধরলে কিভাবে? ব্লিস জিজ্ঞেস করল, বলার সুরে কৌতুক।

    হেলান দিয়ে বসল ট্র্যাভিজ। তোমরা সবাই মিলে আমাকে নিশ্চিত করেছ যে আমার ভেতর এমন একটা নিশ্চয়তাবোধ রয়েছে যে কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারি, সমাধান দেখতে পারি, সঠিক উপসংহারে পৌঁছতে পারি। আমি এমন কোনো দাবি করিনি; তোমরাই আমার ব্যাপারে এসব কথা বলেছ। বেশ, তোমাকে প্রথম দেখেই আমি অস্বস্তিবোধ করি। তোমার ভেতরে কোনো গলদ আছে। পেলোরেটের মতো আমারও মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ আছে–বরং বেশিই আছে আর তুমি চমৎকার সুন্দরী মেয়ে। অথচ এক মুহূর্তের জন্যও আমি তোমার প্রতি কোনো আকর্ষণ বোধ করিনি।

    তুমি আমার মন ভেঙ্গে দিচ্ছ।

    ট্র্যাভিজ গ্রাহ্য করলনা, প্রথম যখন আমাদের মহাকাশযানে এলে, আমি আর পেলোরেট গায়াতে মানুষ ছাড়া অন্য কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তোমাকে দেখেই জেনভ সরলমনে প্রশ্ন করেছিল, তুমি কি মানুষ? একটা রোবট সম্ভবত সত্যি কথা বলত, কিন্তু আমার মনে হয় সে এড়িয়েও যেতে পারে। তুমি শুধু বলেছিলে আমাকে মানুষ মনে হয়না? হ্যাঁ, দেখে তোমাকে মনে হয়, ব্লিস, কিন্তু আমি আবারো জিজ্ঞেস করছি, তুমি কি মানুষ?

    ব্লিস কিছু বললনা, তাই ট্র্যাভিজই আবার শুরু করল, মনে হয় প্রথম দেখেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম তুমি মানুষ না। তুমি একটা রোবট, যেভাবেই হোক আমি জানি। পরবর্তী ঘটনাগুলো আমার অনুভূতির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করেছে বিশেষ করে ডিনারে তোমার উপস্থিত না থাকা।

    তোমার ধারণা আমি খাইনা, ট্রাভ, ব্লিস বলল। ভুলে গেছ তোমাদের মহাকাশযানে আমি চেয়ে খেয়েছিলাম। তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমি খাওয়া এবং যে কোনো জৈবিক কাজ করতে সক্ষম। এমনকি সেক্স পর্যন্ত। তারপরও এগুলো থেকে প্রমাণ হবে না যে আমি রোবট নই। রোবটরা এত বেশি উন্নত এবং নিখুঁত হয়ে উঠেছিল যে শুধু মস্তিষ্কের গঠন দেখে রোবট আর মানুষের পার্থক্য করা যেত, এবং তারাই পারত যারা মেন্টালিক ফিল্ড নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। স্পিকার জেনডিবল হয়তো বলতে পারত আমি মানুষ না রোবট, যদি আমার দিকে একটু মনযোগ দিত। সে অবশ্য দেয়নি।

    যদিও আমার মেন্টালিক নেই, কিন্তু আমার ধারণা তুমি একটা রোবট।

    যদি হই তাতে কি? আমি কিছুই স্বীকার করছিনা। কিন্তু কৌতূহল হচ্ছে। যদি আমি রোবট হই তাহলে কি হবে?

    তোমাকে কিছুই স্বীকার করতে হবে না। আমি জানি তুমি একটা রোবট। আর যদি কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয়, তোমার শান্ত মনোভাব এবং গায়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে আলাদা ব্যক্তি হিসেবে আমার সাথে কথা বলা দেখেই সেই প্রমাণ পেয়ে গেছি। তুমি গায়ার অংশ হলে মনে হয়না এই কাজটা করতে পারতে–কিন্তু তুমি তা না। তুমি একটা রোবট সুপারভাইজর এবং গায়ার বাইরে। ভেবে অবাক হচ্ছি গায়ার কতগুলো রোবট সুপারভাইজর প্রয়োজন এবং কতগুলো আছে।

    আবারো বলছি, আমি কিছুই স্বীকার করছিনা, শুধু কৌতূহলী। যদি আমি রোবট হই তাহলে কি হবে?

    সে ক্ষেত্রে আমি জানতে চাই: জেনভ পেলোরেটের কাছে তুমি কি চাও? সে আমার বন্ধু এবং কিছুটা শিশুর মতো। তার ধারণা সে তোমাকে ভালোবাসে; মনে করছে তুমি তাকে যতটুকু দেবে ততটুকুই সে চায় আর এর মধ্যে তুমি তাকে যথেষ্ট দিয়েছ। ভালোবাসা হারানোর কষ্ট সে জানেনা–মেনে নিতে পারবে না, অথবা যখন জানবে যে তুমি মানুষ না, সেই অদ্ভুত কষ্ট-

    ভালোবাসা হারানোর কষ্ট কি তুমি জানো?

    আমার জীবনে এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। পেলোরেটের মতো আমি নিরাপদ জীবন কাটাইনি। এমন কোনো কাজে জড়িয়ে পড়িনি যে কাজ সবকিছুকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, এমনকি স্ত্রী সন্তানকে পর্যন্ত। পেলোরেট করেছে। এখন হঠাৎ করেই তোমার জন্য সবকিছু ছেড়ে দিতে চাইছে। আমি চাইনা সে দুঃখ পাক। দুঃখ পেতেও দেবনা। যদি আমি গায়ার কোনো উপকার করে থাকি, তাহলে একটা প্রতিদান পাওনা হয়েছে এবং আমার প্রতিদান হচ্ছে তোমার নিশ্চয়তা যে পেলোরেটের কোনো ক্ষতি করবে না।

    আমি একটা রোবট এটা ধরে নিয়েই উত্তর দেব?

    হা। এবং এখনি।

    ভালো কথা। মনে করো ট্র্যাভ, আমি একটা রোবট এবং সুপারভাইজ করার মতো অবস্থানে রয়েছি। ধরে নাও আমার মতো আরো কয়েকজন আছে কিন্তু সংখ্যায় খুবই কম এবং আমাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়না বললেই চলে। ধরে নাও আমাদের চালিকা শক্তি হচ্ছে মানব জাতির কল্যাণ এবং গায়ায় কোনো সত্যিকার মানুষ নেই, কারণ সকলেই গ্রহের সামগ্রিক অস্তিত্বের অংশ।

    মনে করো গায়ার রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের পূর্ণতা দিলেও পুরোপুরি দেয় না। ধরে নাও মানুষের জন্য আমাদের ভেতর প্রাচীন আকাক্ষা রয়ে গেছে, প্রথম রোবট তৈরির সময় যে আকাক্ষা বিদ্যমান ছিল। ভুল বুঝোনা; আমি দাবি করছিনা যে আমার অনেক বয়স। তোমাদের যা বলেছি আমার বয়স ঠিক তাই, অন্তত আমার অস্তি ত্বকে এভাবেই প্রকাশ করা যায়। তারপরেও আমার মৌলিক গঠন সবসময় যেমন ছিল তেমনই আছে এবং আমি একজন সত্যিকার মানুষের জন্য অধীর হয়ে আছি।

    পেল একজন মানুষ। সে গায়ার অংশ না। গায়ার অংশ হওয়ার জন্য তার বয়স অনেক বেশি। আমার সাথে সে গায়ায় থাকতে চায়, কারণ আমার প্রতি তোমার মতো মনোভাব তার নেই। পেল মনে করে না যে আমি রোবট। বেশ আমিও তাকে চাই। যদি তুমি মনে করো যে আমি রোবট, তুমি দেখবে যে আমি সব ধরনের মানবীয় আচরণ করতে সক্ষম এবং আমি তাকে ভালবাসব। তুমি হয়তো বিশ্বাস করবে না যে রহস্যময় মানবীয় অনুভূতিতে ভালবাসা আমার পক্ষে সম্ভব, কিন্তু তুমি যাকে ভালবাসা বল তার সাথে আমার আচরণের পার্থক্য করতে পারবেনা–তাহলে আর সমস্যা কি?

    কথা শেষ করে অহংকারী ভঙ্গিতে তাকালো।

    ট্র্যাভিজ বলল, তুমি বলছ যে পেলোরেটকে কখনো ছেড়ে যাবে না?

    আমাকে রোবট মনে করলে নিজেই বুঝতে পারবে যে প্রথম নিয়ম অনুযায়ী আমি তাকে ছেড়ে যেতে পারব না, যতক্ষণ না সে আমাকে আদেশ দেয় চলে যেতে এবং আমি যদি বুঝতে পারি যে সে সত্যি চায় আমি চলে যাই এবং যদি বুঝতে পারি যে চলে না গিয়ে তার সাথে থাকলেই বেশি ক্ষতি হবে।

    কমবয়স্ক কেউ হলে-

    কিসের কমবয়স্ক? তোমার বয়স অনেক কম, কিন্তু মনে হয়না পেলোরেটের আমাকে যেভাবে প্রয়োজন তোমার সেভাবে প্রয়োজন আছে এবং সত্যিকথা বলতে কি তুমি আমাকে চাওনা। কাজেই প্রথম নিয়মটাই আমাকে তোমার কাছে যেতে বাধা দেবে।

    আমি না। অন্য কোনো কমবয়স্ক

    আর কেউ নেই। নন-গায়ান অনুভূতি অনুযায়ী তুমি আর পেল ছাড়া গায়াতে আর কে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে?

    নরম সুরে বলল, আর যদি তুমি রোবট না হও?

    নিজের মন ঠিক করে নাও, ব্লিস বলল।

    আমি বলছি, যদি তুমি রোবট না হও?

    তাহলে আমি বলব যে কিছু বলার কোনো অধিকার মোটেই তোমার নেই। এটা আমার আর পেলের ব্যাপার।

    তাহলে আবার প্রথম কথায় ফিরে আসি। আমি আমার প্রতিদান চাই এবং সেই প্রতিদান হচ্ছে তুমি তার সাথে ভালো আচরণ করবে। তোমার অস্তিত্বের কোনো কথা আমি তুলবনা। শুধু একজন বুদ্ধিমান সত্তা আরেকজন বুদ্ধিমান সত্তাকে যেভাবে নিশ্চয়তা দেয় সেভাবে আমাকে কথা দাও তুমি তার সাথে ভালো আচরণ করবে।

    ব্লিস আরো নরম সুরে বলল, আমি তার সাথে ভালো আচরণ করব তোমাকে প্রতিদান দেয়ার জন্য না, করব কারণ আমিও তাই চাই। এটা আমার আন্তরিক ইচ্ছা। আমি তার সাথে ভালো আচরণ করব। পেল, সে ডাক দিল। তারপর আবার, পেল।

    পেলোরেট বাইরে থেকে ভেতরে এল, বল, ব্লিস।

    ব্লিস হাত বাড়িয়ে দিল তার দিকে। আমার মনে হয় ট্র্যাভ তোমাকে কিছু বলতে চায়।

    পেলোরেট ব্লিস এর হাত ধরল আর ট্র্যাভিজ ধরল দুজনের হাত। জেনভ, সে বলল আমি তোমাদের দুজনের জন্যই খুশী।

    ওহ্ প্রিয় বন্ধু। পেলোরেট বলল।

    আমি হয়তো গায়া ছেড়ে যাচ্ছি। এখন এ ব্যাপারে কথা বলতে যাচ্ছি ডম এর সাথে। জানি না কবে বা আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে কি না, জেনভ, তবে দিনগুলো আমরা যথেষ্ট ভালো কাটিয়েছি।

    আমরা ভালোভাবে কাটিয়েছি। পেলোরেট হাসিমুখে বলল।

    বিদায় ব্লিস এবং ধন্যবাদ।

    বিদায় ট্র্যাভ।

    আর ট্র্যাভিজ হাত নেড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    .

    ৯২.

    তুমি চমৎকার কাজ করেছ, ট্র্যাভ। কিন্তু, আমি যেমন ভেবেছিলাম ঠিক সেরকমই করেছ। ডম বলল।

    তারা আবার খেতে বসেছে। ঠিক প্রথমটার মতোই বিস্বাদ। ট্র্যাভিজ গ্রাহ্য করল না। গায়াতে হয়তো তার আর খাওয়া হবে না।

    আপনি যেমন ভেবেছেন আমি সেরকমই করেছি, কিন্তু আপনি যে কারণ ভেবেছেন হয়তো সে কারণে করিনি।

    নিশ্চয়ই তুমি তোমার সিদ্ধান্তের নির্ভুলতা নিয়ে নিশ্চিত ছিলে?

    হ্যাঁ ছিলাম, কিন্তু তার কারণ অবশ্য এটা না যে নিশ্চয়তার উপর আমার কোনো রহস্যময় হাত ছিল। গ্যালাক্সিয়া নির্বাচন করেছি সাধারণ যুক্তি বিশ্লেষণ থেকে অন্য যে কেউ কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য যে ধরনের যুক্তি বিশ্লেষণ ব্যবহার করে। আপনি চান আমি ব্যাখ্যা করে বলি।

    অবশ্যই চাই, ট্রাভ।

    আমি তিনটা কাজ করতে পারতাম। প্রথম ফাউণ্ডেশনের সাথে যোগ দিতে পারতাম অথবা দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশন অথবা গায়ার সাথে যোগ দিতে পারতাম।

    যদি প্রথম ফাউণ্ডেশনের সাথে যোগ দিতাম তাহলে মেয়র ব্র্যান্নো তৎক্ষণাৎ দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশন এবং গায়ার উপর কর্তৃত্ব বহাল করতেন। যদি দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের সাথে যোগ দিতাম স্পিকার জেনডিবল তৎক্ষণাৎ প্রথম ফাউণ্ডেশন এবং গায়ার উপর কর্তৃত্ব বহাল করত। দুই ক্ষেত্রেই যা ঘটত সেটা হতে অপরিবর্তনীয় এবং যদি দুটোই ভুল সমাধান হতো তাহলে যা ঘটত সেটা হতো অপরিবর্তনীয় বিপর্যয়।

    যদি গায়ার সাথে যোগ দেই প্রথম ফাউণ্ডেশন এবং দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশন উভয়েই তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র বিজয়ের অনুভূতি নিয়ে ফিরে যাবে। সবকিছুই তখন চলবে আগের মতো, গ্যালাক্সিয়ায় পরিপূর্ণ রূপান্তর না হওয়া পর্যন্ত। এবং আমাকে বলা হয়েছে সেজন্য কয়েক প্রজন্ম বা এমন কি কয়েক শতাব্দীও লাগতে পারে।

    গায়ার সাথে যোগ দেয়াটা হচ্ছে আমার নিজের পদ্ধতিতে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ এবং সেই সাথে এটাও নিশ্চিত করলাম যে ঘটনাগুলো সংশোধন বা পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে–যদি আমার সিদ্ধান্ত ভুল হয়।

    ডম ভুরু উপরে তুলল, তার বয়স্ক পাণ্ডুর মুখে আর কোনো ভাব দেখা গেল না। যান্ত্রিক স্বরে বলল, তাহলে তোমার মতে সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে?

    কাঁধ ঝাঁকাল ট্র্যাভিজ। আমার মনে হয়না। তবে নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আমাকে একটা কাজ অবশ্যই করতে হবে। আমি পৃথিবীতে যেতে চাই, যদি সেই গ্রহটাকে খুঁজে পাওয়া যায়।

    যেতে চাইলে আমরা তোমাকে আটকাবো না, ট্র্যাভ

    আপনাদের গ্রহের জন্য আমি উপযুক্ত না।

    পেলের চেয়ে বেশিনা, তারপরেও আমরা তোমাকে সবসময় স্বাগত জানাবো। কিন্তু বলতো কেন তুমি পৃথিবীতে যেতে চাও?

    আমার ধারণা আপনি বুঝতে পেরেছেন।

    না পারি নি।

    একটা বিষয় আপনি আমার কাছ থেকে গোপন করে গেছেন, ডম। হয়তো কারণ ছিল, কিন্তু সেটা ঠিক হয়নি।

    আমি এখনো বুঝতে পারছি না।

    দেখুন, ডম, সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমাকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়েছে। তখন খুব অল্প সময়ের জন্য আমার চারপাশে যারা রয়েছে তাদের মাইন্ডের সংস্পর্শে এসেছিলাম–মেয়র ব্র্যান্নো, স্পিকার জেনডিবল, নোভী। একসাথে অনেকগুলো বিষয়ের একঝলক আমি ধরতে পেরেছিলাম যার কোনো অর্থ বোধগম্য হয়নি, যেমন নোভীর মাধ্যমে ট্র্যানটরের উপর গায়ার বিভিন্ন প্রভাব–যে প্রভাবের কারণে স্পিকার গায়ায় আসার জন্য পরিচালিত হয়েছে।

    হ্যাঁ।

    এবং আরেকটা হচ্ছে ট্রানটরের লাইব্রেরী থেকে পৃথিবীর সকল তথ্য প্রমাণ সরিয়ে ফেলা।

    পৃথিবীর সকল তথ্য প্রমাণ সরিয়ে ফেলা হয়েছে?

    ঠিক। কাজেই পৃথিবী অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং মনে হয়েছে এই গ্রহের কথা শুধু দ্বিতীয় ফাউণ্ডেশনের কাছ থেকেই গোপন করা হয়নি, আমার কাছ থেকেও গোপন করা হয়েছে। যদি গ্যালাকটিক অগ্রগতির দায়িত্ব আমাকে নিতে হয়, আমার অন্ধকারে থাকা চলেনা। আপনি কি এখন বলবেন কেন পৃথিবীর কথা লুকানো এত জরুরী হয়ে পড়েছিল?

    ডম গম্ভীর গলায় বললেন, ট্র্যাভ, এ ব্যাপারে গায়া কিছু জানে না। কিছুই না।

    আপনি বলছেন এজন্য গায়া দায়ী নয়?

    সে দায়ী নয়।

    ট্র্যাভিজ চিন্তা করছে, জিভের আগা অলসভাবে নাড়ছে ঠোঁটের উপর। তারপর বলল, তাহলে কে দায়ী?

    আমি জানি না। কোনো উদ্দেশ্যও দেখছিনা।

    মানুষ দুজন পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আছে। ডম বলল, তোমার কথাই ঠিক। মনে হচ্ছে একটা সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছি, কিন্তু যতদিন এই ব্যাপারটার মীমাংসা না হচ্ছে, বিশ্রাম নেয়ার উপায় নেই। আমাদের সাথে কিছুদিন থাকো, দেখি কি যুক্তি তোমাকে দিতে পারি। তারপর ইচ্ছা হলে চলে যেয়ো, পূর্ণ সহযোগিতা পাবে।

    ধন্যবাদ, ট্র্যাভিজ বলল।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রিলিউড টু ফাউণ্ডেশন -আইজাক আসিমভ
    Next Article ফাউণ্ডেশন অ্যাণ্ড আর্থ – আইজাক আসিমভ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }