Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ফেরা – তসলিমা নাসরিন

    তসলিমা নাসরিন এক পাতা গল্প120 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. নতুন এয়ারপোর্ট

    ২.

    কল্যাণী এয়ারপোর্টটি দেখে আর অবাক হয়। নতুন এয়ারপোর্ট, কী বড় আর ঝকঝকে! দমদম কি এর ধারে কাছে দাঁড়াতে পারবে? ঢাকার তেজগাঁ এয়ারপোর্ট থেকে প্লেনে চড়ে কল্যাণী একবার চট্টগ্রাম গিয়েছিল মাসতুতো বোনের বিয়েতে, তখন ওই এয়ারপোর্টকেই তার বিশাল মনে হয়েছিল। ছোটবেলার চোখ, তা হয়ত মনে হবেই, যে মাঠকে একসময় জগতের সবচেয়ে বড় মাঠ মনে হয়, পরে সেটিই দেখতে একরত্তি লাগে। ইমিগ্রেশন আর কাস্টমস পার হয়ে কল্যাণী যখন বাইরে এসে দাঁড়ায়, তার বিশ্বাসই হয় না তার তিরিশ বছরের স্বপ্ন আজ সত্যি সত্যিই সফল হল। কল্যাণী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, যেন তিরিশ বছর সে কোনও অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ঘরে দম আটকে পড়ে ছিল। দীপনকে বলে—’বুক ভরে শ্বাস নাও তো বাবা, এত ফ্রেশ এয়ার কলকাতায় পাবে না।’

    তিলজলার বাড়িতে কোনও গাছপালা ছিল না। একটু সবুজের ছোঁয়া পেতে তাকে যেতে হত গোবরা ঝিলের কাছে, শশিকান্তর বাড়িতে যেমন বিশাল বিশাল বৃক্ষ ছিল, ঠিক তেমন বৃক্ষে ছাওয়া ছিল এলাকাটি। হঠাৎ হঠাৎ তার চোখে পড়ত টুপি পাঞ্জাবি পরা লোকেরা খাটিয়া কাঁধে নিয়ে লোবানের ঘ্রাণ ছড়িয়ে ছড়িয়ে কাছের গোরস্থানে যায়। দেখে তার মনে পড়ে, শরিফার বাবা মারা গেলে এরকম খাটিয়া এসেছিল নিতে। বুড়ো এক লোক শরিফার বাবার ওপর ঝুঁকে তোতাপাখির মত বলে যাচ্ছিলেন—‘লাইলাহা ইল্লাললাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’, গোবরায় খাটিয়া গেলে মৌমাছির গুঞ্জনের মত লাইলাহা শব্দ হত আর কল্যাণীর চোখের সামনে ভেসে উঠত শরিফার নির্বাক চেয়ে থাকা, খাটিয়া কাঁধে নিয়ে আনিস, বুলবুল, কবিরদের গুলকিবাড়ি গোরস্থানের দিকে হেঁটে যাওয়া, যেন সে বিষণ্ণ মুখে তাদের কালিবাড়ির বাড়ির জাম গাছতলায় দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছে। সে যে কলকাতায়, সে যে গোবরায় একা নিঃসঙ্গ এক মানুষ একথাক সবুজ দেখবে বলে ছুটে এসেছে, তিলজলার স্যাঁতসেঁতে জীবন থেকে পালিয়ে সে যে একটু কেবল হাওয়া চাইত, শীতল একটু হাওয়া—তাকে যে আবার ফিরতে হবে টিমটিমে বাতির বাড়িতে—এ সে ভুলেই বসত। ননীগোপালকে কল্যাণী আগে কখনও দেখেনি, নাম শুনেছিল কেবল। সরলাবালা বলতেন তাঁর ছোটভাই সিভিল সাপ্লাইয়ের কাজ নিয়ে দেশভাগের আগেই কলকাতা চলে গেছে। ওখানে ক’দিন চন্দননগর, ক’দিন মানকুণ্ডু কাটিয়ে বিয়ে-টিয়ে করে সংসারী হয়েছে। তিলজলায় জমি কিনে ঘরও তুলেছে। কল্যাণী যখন তার মায়ের মুখে না-দেখা মামার গল্প শুনত, তার খুব কাছের মনে হত সব কিছু, যেন হাত বাড়ালেই তিলজলা ছাঁওয়া যায়, চাইলেই মামার কোলে কাঁখে চড়া যায়, যেন দেখা হলে মামা তাকে পাহাড় দেখাতে নেবে। বিকেলে কালিবাড়ির ছাদে দাঁড়ালে নদীর ওইপারের আকাশে কালো কালো ছায়া ভাসত। জ্যোতিপ্রকাশ বলত ওই যে দেখা যায় আবছা গারো পাহাড়। ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে ওই পাহাড়ের কাছে একদিন সে যাবেই মনে মনে ভাবত। জ্যোতিপ্রকাশকে বলেছিল, ‘চল নৌকা কইরা ওই পার যাই, দৌড়ে ছুঁইয়া আসি পাহাড়টারে।’ শুনে জ্যোতিপ্রকাশ বলেছে, ‘দূর বোকা, ক-ত দূরে ওই পাহাড়, শম্ভুগঞ্জ তারাকান্দা ফুলপুর তারপর কংশ নদী, কংশ পার হলে হালুয়াঘাট, জয়রামকুরা, তারপর পাহাড়, পাহাড়ের ওই পারে মেঘালয়।’ কল্যাণী অবাক হত অত দূরের পাহাড়কে এত কেন কাছের মনে হয়। তিলজলায় এসে মনে ভাবা কাছের মানুষগুলোকে তার যখন দূরের খুব দূরের বলে বোধ হল জ্যোতিদার কথা কানে বাজত—‘বোকা মেয়ে, দূরের জিনিসকে কী চাইলেই ছোঁওয়া যায়!’

    একচিলতে উঠোন ঘিরে টালির ছাদঅলা ঘর ছিল কয়েকটি, দু পশলা বৃষ্টি হলেই এত কাদা হত উঠোনে যে ইট বিছিয়ে হাঁটতে হত। কল্যাণী কাদাকে ‘প্যাক’ বলত বলে শান্তি সুনীতি তো হাসতই, মামিও হাসত। শুনিয়ে শুনিয়ে বলত—‘হাঁস ডাকে প্যাঁক প্যাঁক।’ ওরা উচ্চারণে এত ভুল ধরত যে কল্যাণী কথা বলতেই লজ্জা পেত। ওখানে বেঁচে থাকতে হলে যে ওদের মত চলা-বলা রপ্ত করতে হবে তা সে ঠিকই বুঝেছিল। বাড়িতে, বাড়ির বাইরে তার মুখের ‘আইছিলাম গেছিলাম’ নিয়ে তাকে কম অপদস্থ হতে হয়নি। সে চোরকে চুর বলে, কাটারিকে দাও, বাড়িকে বাসা—অবসরে এসবই ওদের হাসিরসের খোরাক ছিল। কল্যাণী আর পরিমল যে ঘরের মেঝেয় ঘুমোত, সে ঘরে একটি চৌকি পাতা ছিল, ওতে কখনও সৌমিত্র, কখনও তার বুড়ো দিদিমা ঘুমোত। সৌমিত্র দিনে লেকমার্কেটের দোকানে বসত, রাতে নাইট কলেজে ল’ পড়ত। শান্তি সুনীতির মত কল্যাণীকে ঘিরে সে ফড়িং ফড়িং নাচত না। প্যাঁক প্যাঁক বলেও হাসত না। কথাও কম বলত। কল্যাণীকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল—‘তোমাদের দেশের ওরা তো উর্দু বলে তাই না?’

    কল্যাণী বলেছিল—পশ্চিম পাকিস্তানের লোকেরা বলে।

    —আর ইস্টের নন-বেঙ্গলিগুলো?

    —ইস্টে আবার নন-বেঙ্গলি কোত্থেকে আসল?

    —আই মিন মুসলমানরা?

    —ওরা উর্দু কইব কেন? ওরা তো বাঙালি!

    —বাঙালি? সৌমিত্র যেন অসম্ভব একটি সংবাদ শুনেছে এমন মুখ করে তাকিয়েছিল।

    দেখতে ভালমানুষ এই ছেলেই, একরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে কল্যাণী দেখে, তার শরীরে হাত বুলোচ্ছে; সে ছিটকে সরে আসতে গেলে সৌমিত্র তাকে শক্ত হাতে চেপে ধরে, পেটিকোটের ফিতে ধরে টান দেয়, আতঙ্কে কল্যাণীর গলায় স্বর বেরোয় না। সে দুহাতে যতটুকু কুলোয় সৌমিত্রকে গা থেকে ঠেলে সরিয়ে পরিমলের দিকে গড়িয়ে গিয়েছিল, দ্রুত শ্বাস পড়ছিল তার। যে ঝিঁঝিঁ ডাকা রাতে নিজের মামাতো ভাই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই রাত পার হয়ে যখন সকাল হয়, কাক ডাকে, সূর্য ওঠে, সকলে কাজে বেরোয়, তখন ডাকপিয়ন সরলাবালার চিঠি দিয়ে যায়। চিঠিতে লেখা— ‘মা কল্যাণী, আশা করি কুশলেই আছ। মামার বাড়িকে আপন বাড়ি মনে করিয়াই থাকিবে। যাহা খাইতে ইচ্ছা করে খাইবে। লজ্জা করিও না। তোমার বাবা নিয়মিত ননীগোপালের কাছে লোক মারফত টাকা পাঠাইতেছেন, তোমাদের যাহাতে ভবিষ্যতে কোনও অসুবিধা না হয় তিনি তাহারই চেষ্টা করিতেছেন। নিরাপত্তার জন্যই তোমাদের কলকাতায় পাঠাইয়াছি, বিশেষ করিয়া তোমার। মেয়ে বড় হইলে বাপ-মা’র যে কী দুশ্চিন্তা হয়, তুমি যখন মা হইবে বুঝিবে। মন দিয়া পড়াশুনা করিও। তুমি নিরাপদে আছ ইহা ভাবিয়া আমরা শান্তি পাই। ননীকে চিঠি লিখিতে বলিও। পরিমলকে দেখিয়া রাখিও। অনেকদিন তোমার চিঠি পাই না, চিঠি দিও। মন খারাপ হইলে শান্তি সুনীতির সাথে বেড়াইতে বাহির হইও। জ্যোতির কোনও খবর পাইলে জানাইও।

    তোমার বাবার প্রেসার বাড়িয়াছে। ডায়বেটিস ধরা পড়িয়াছে। বাড়ি বিক্রির কাজ আপাতত বাদ দেওয়া হইয়াছে। তোমার বাবা সুস্থ হইলে আমরা চলিয়া আসিব। আমাদের জন্য চিন্তা করিও না।

    ইতি তোমার মা।’

    চিঠিটি মাত্র একবার পড়েই ছিঁড়ে ফেলেছিল কল্যাণী। ‘নিরাপত্তা’ শব্দটি তাকে ভোগায় বেশ, জন্মের মাটি ছেড়ে, নিজের ঘরবাড়ি চৌদ্দ পুরুষের ভিটে ফেলে এক অচেনা অদ্ভুত দেশের উদ্বাস্তু হয়ে কী নিরাপত্তা সে পেয়েছে—আজ যদি এই প্রশ্ন সে করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হরিনারায়ণ রায় এবং তাঁর স্ত্রী সরলাবালা দেবীকে? কি জবাব তাঁরা দেবেন যদি সে জানিয়ে দেয় তিলজলায় তিল তিল করে তাকে বোবা কালা বধির করে দেবার গল্প? যে কল্যাণী রুই কাতল ইলিশ ছাড়া খেতে বসে নাক সিঁটকাতো, সে এখন মুখ বুজে এক চিমটি কুচো চিংড়ি দিয়ে ভাত মাখায়। কী নিরাপত্তা তবে পেয়েছে কল্যাণী, যদি বিধর্মী মুসলমান যুবকদের ধর্ষণ থেকে বাঁচবার জন্য ভিন শহরের এঁদো গলিতে এসে তাকে স্বজন দ্বারাই ধর্ষিতা হতে হয়!

    দেশ থেকে আসা চিঠিপত্রও কল্যাণীর হাতে সব আসত না। হরিনারায়ণ এক চিঠিতে লিখলেন ‘পাঁচটি চিঠি লিখিয়াও তোমার কোনও উত্তর পাই নাই।’ পাঁচটির মধ্যে হয়ত সে একটি পেয়েছে। একদিন সৌমিত্রর সার্ট ধুতে গিয়ে দেখে বুকপকেটে বাদলের একটি চিঠি! একটি চিঠির অপেক্ষায় সে কত দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী কাটিয়েছে। বাদল তাকে আজও মনে রেখেছে, আজও সে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে একা বসে থাকে, চোখের সামনে ডিঙি নৌকো দুলতে দুলতে যায়, আর সে তার স্মৃতিগুলো চোখের জলে ধুয়ে বুকের কৌটোয় তুলে রাখে। কলঘরে দাঁড়িয়ে চিঠি পড়তে পড়তে কল্যাণীর বুক ভেঙে কান্না নামে, কান্নার শব্দ বাড়িতে যদি কোনও অঘটন ঘটায় সে কল ছেড়ে দেয় যেন জলের শব্দের তলে সেটি হারিয়ে যায়। তিলজলার জীবনকে নিয়তি মেনে সে তার পালিয়ে আসবার ইচ্ছেকে ধীরে ধীরে লালচক্ষু কসাইয়ের মত কাটে। কল্যাণী পালিয়ে আসতে পারত না বলেই কি আসেনি নাকি চরম অনিশ্চয়তার কাছে তার হাসি-আনন্দ, সুখ-স্বপ্ন সব বিকিয়ে দিয়েও সে বাবা-মাকে ‘নিশ্চিন্তি’ দিয়েছে!

    বিচ্ছেদের অভিমান তাকে এত বেশি ছেয়ে ফেলেছিল যে হরিনারায়ণ, সরলাবালা, শরিফা, মুন্নি, অনিলকাকা, বাদল—কারও চিঠির উত্তর সে দেয় না। বড়জোর ভাল আছি ধরনের দায়সারা চিঠি লিখে গা বাঁচায়। হ্যাঁ গা-ই বাঁচায় বৈকি। যে গা বাঁচাবার জন্য তাকে প্রিয় শহর, প্রিয় নদীর কোল থেকে ছুঁড়ে ফেলা হল—সেই গা-ই তো তার বাঁচানো উচিত।

    রাতে রাতে একটি নীল নেকড়ে তাকে তাড়িয়ে ফিরত। পায়ে কুটো পড়লেও চমকে উঠত সে। লজ্জায় বেদনায় আশঙ্কায় সঙ্কোচে সে এত কুঁকড়ে থাকত যে মনে হত এই পাপ তারই, জন্মের পাপে তার উড়োখুড়ো এই জীবন। জোনাকির পেছনে যে মেয়ে দৌড়োয়, সেই মেয়েকেই রাত হলে ঝোপঝাড়ে লুকোতে হয়েছে। সে এত সেঁধিয়ে থাকত নিজের ভেতর, কারও চোখের দিকে চোখ তুলত না। অনির্বাণ সেই ক্ষুদ্র, সীমাবদ্ধ, একলা জীবন থেকে তাকে হঠাৎই উদ্ধার করে। উল্টোডাঙায় পিসির বাড়িতে দেখা, ঠিক পিসির বাড়ি নয়, পিসি উঠেছিল তার ননদের বাড়ি, সেই ননদের বাড়িতে; ননদের ছেলে নিমাই, তারই বন্ধু অনির্বাণ, শ্যামলা গায়ের রঙ, চোখে হাই পাওয়ার চশমা, ছ’ফুটের কাছাকাছি লম্বা, ঘন ঘন সিগারেট ফোঁকে—কল্যাণীর মুখের দিকে পলকহীন তাকিয়েছিল, কী নাম, কোন কলেজে পড়া হয়, কোথায় থাকা হয় জিজ্ঞেস করবার পর বলল—‘আপনি খুব লাজুক নয়ত কথা কম বলেন।’ কল্যাণী বলেছিল—‘কেন বলুন তো!’ অনির্বাণ হেসে বলেছিল—‘এই দেখুন আপনি কিন্তু এখনও আমার নাম রাঘব বোয়াল কি না, আমি ঘোড়ার ঘাস কাটার কাজ করি কি না কিছুই জানতে চাননি।’ পরে নিজে থেকেই অনির্বাণ বলেছে—‘অধমের নাম অনির্বাণ দাশ, গড়িয়াহাটের ব্যাঙ্কে কাজ করি।’ এর দিন সাতেক পর কল্যাণী বাসস্টপে একা বসে বাসের অপেক্ষা করছিল, আর তখনই রোদে ভিজে অনির্বাণ আসে, কল্যাণীকে দেখে ওর চোখে আনন্দ উপচে পড়ছিল, পিসির বাড়িতে আর যাওয়া হয় কি না, নিমাই কেমন আছে এসব সৌজন্য দ্রুত সেরে বলল—‘সেদিন বাড়ি ফিরে আপনার কথা খুব মনে পড়েছে।’ কল্যাণী বলল—‘আমি তো কথাই তেমন বলিনি!’ অনির্বাণ হেসে বলল—‘আপনার না-বলা কথাগুলো।’ এরপর প্রায়ই দুজনের দেখা হয় ট্রামে বাসে রাস্তায়, কল্যাণী তখন বাঙাল-জিভের জড়তা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে, দিবামকে দোবো, নিবামকে নোবো, করেন বলেন চলেনকে করুন বলুন চলুন, নাস্তাকে জলখাবার, দাওয়াতকে নেমন্তন্ন দিব্যি তার রপ্ত হয়ে গেছে। দেখা হলে অনির্বাণের সঙ্গে সে অনর্গল কথা বলে। অনির্বাণ প্রায়ই ভুলে যেত যে কল্যাণী পশ্চিমের মেয়ে নয়। একদিন সে কল্যাণীকে বলে—‘চলুন কোথাও বসা যাক,’ ব’লে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে তাকে নিয়ে যায়, নিরালা দেখে বসে, বলে—‘জীবন খুব ছোট, তাই না কল্যাণী?’

    কল্যাণী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল—‘আমার কাছে জীবন খুব দীর্ঘ মনে হয়। যেন কাটছে না। যেন দিন যাচ্ছে না। এই জীবন কোনও রকম ফুরিয়ে গেলে বাঁচি।’

    —বল কী, তুমি তো হতাশায় ভুগছ।

    কল্যাণী ম্লান হাসে।

    অনির্বাণ একদিন বলল—চল সিনেমা দেখি।

    কল্যাণী তখনও কলকাতার কোনও ছবিঘরে যায়নি। শান্তি সুনীতিরা মাঝরাত অব্দি সিনেমার গল্প করত, কল্যাণী ওইসব গল্পের কতক বুঝত, কতক বুঝত না। এক রোববারে মৌলালির মোড়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে গিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় বসল দুজন। অনির্বাণ অর্ডার দিল ব্রেস্ট কাটলেট। কল্যাণী বুঝে পেল না জিনিসটি কী। খেতে গিয়ে সে একটু দ্বিধায় পড়েছিল। অনির্বাণ হেসে বলল—‘এই কাটলেট ভাজলে বাদামি হয়, বুঝলে! ব্রেইজড কাটলেট।’ নিজের কাটলেট থেকে একটুকরো কল্যাণীর মুখে তুলে দিয়ে সে বলল—‘ভালবাসাকে শেষ অব্দি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পেতে হল, কী বল?’

    —রাস্তা থেকে? নাকি নিমাইদের বাড়ি থেকে?

    —ও এক কথাই।

    —ছুঁড়ে ফেলে দিলেই হয়।

    —ওইসব ছোঁড়াছুঁড়িতে আমি নেই। যা পেয়েছি সেইটুকুতেই খুশি আমার মন।

    কল্যাণীর বড় ভাল লেগেছিল দেখতে উদাস উদাস ভেতরে গোছানো মানুষটিকে। সেদিন ‘প্রাচী’তে দুজন ঘন হয়ে বসে ছবি দেখল আর হল খানিকটা আঁধার হলেই অনির্বাণ যখন হাত রাখছিল তার সরু সরু আঙুলগুলোয়, তার তখন এমনও মনে হয়েছে স্বপ্নকে দূরের করে রাখলে আবছা হয়ে যায়, না হয় নাগালের মধ্যে কিছু সুখ আসুকই মাঝে মধ্যে।

    অনিবার্ণকে ভুলে থাকবার উপায় ছিল না। একদিন বলল—‘আজ ব্যাঙ্ক হলিডে, চল গড়িয়া যাই।’ গড়িয়া থেকে জয়নগর মজিলপুরের বাসে চড়ে অনিবার্ণ সারা পথ ভালবাসা হলে মন উড়ু উড়ু করে, কাজে মন বসে না, গোনায় ভুল হয় বারবার—এসব শোনাল। জয়নগরের অপেরা হাউস ঘুরে দেখতে গিয়ে কল্যাণীর খুব মুক্তাগাছার জমিদার জীবন কৃষ্ণ আচার্যের নাটমন্দিরের কথা মনে পড়ছিল। জ্যোতিপ্রকাশ বলত—এই যে দেখছিস ঘোরানো স্টেজ, এখানে আগে নাচ হত, নাটক হত; জমিদাররা পায়ের ওপর পা তুলে বসে নাটক দেখতেন।

    হঠাৎ একদিন, কল্যাণী নিজেও জানে না কেন, দেখতে সে ফর্সা বলেই কি না, তার শরীরের গড়ন আঁকবাঁক চমৎকার বলেই কি না, অথবা সে সোজা-সাপটা কথা বলে, মনে কোনও প্যাঁচ-গোচ নেই বলেই কি না অনির্বাণ তাকে একদিন বলা নেই কওয়া নেই বলে বসে—‘চল কোর্টে যাই, বিয়ে করি।’

    বিয়ে শব্দটি শুনে ধুলোর ঝড় যেমন বয়—ডাল-পাতা মুচড়ে নিয়ে যায়, তেমন তছনছ ঝড় বইছিল তার ভেতরে কোথায় যেন। ভেতরে কোথায় যেন একটি পাথর এসে থেমেছিল, ঝড়ে উড়ে বাদল নামের একটি নিঃসঙ্গ পাথর।

    অনির্বাণ তাড়া দিত—ওদিকে কিন্তু নবদ্বীপের মেয়ে দেখা প্রায় সারা, বাড়িতে তোমার কথা তুলেছিলাম সামান্য, বৌদি বলেছে রিফিউজি-টিফিউজি চলবে না। অগত্যা গান্ধর্ব মতে চল দেখি কিছু করা যায় কি না। দেরি করলে শেষ অব্দি নবদ্বীপেই সাতপাক ঘুরতে হয় কি না কে জানে!

    সে কারণেই যে কল্যাণী দেরি করেনি তা নয়। তিলজলার অন্ধকার ঘরে গাদাগাদি শুয়ে সারারাত ঢিপঢিপ করে বুক বাজবে, কেউ একটু পাশ ফিরলেই চমকে তাকাবে, পায়ের কাছে বেড়াল এসে বসলেও ধড়ফড় করে উঠে বসবে, ভোর না হওয়াতক শ্বাস বন্ধ করে পড়ে থাকবে—এমন আর কতদিন! কল্যাণী তাই আপত্তি করেনি। বিকেলে সে পার্ক সার্কাসে দুটো টিউশনি করত, টিউশনির টাকা উঠিয়ে গড়িয়াহাট থেকে দুটো শাড়ি কেনে। নতুন শাড়ি পরে বাড়ি থেকে বেরোবার সময় পরিমলকে বলে—‘জ্যোতিদার কাছে পারলে চলে যাস।’ জ্যোতিপ্রকাশ বর্ধমানে কাপড়ের ব্যবসা করে, পিসি একদিন বলেছিল। গায়ে গায়ে লেগে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে এ শহর যে কত বেশি দূরত্ব তৈরি করেছে—তা কল্যাণী তার সমস্ত একাকীত্ব দিয়ে টের পায়। ময়মনসিংহের বাড়িতে জ্যোতিপ্রকাশ, পরিমল আর সে তাসের ম্যাজিক নিয়ে হো হো করে হাসত, আড্ডায় পড়ে দুপুরের খাওয়ার কথা ভুলে যেত, পুকুরে বড়শি ফেলে সারা বিকেল তিনজোড়া চোখ পাতাকাঠির দিকে স্থির তাকিয়ে থাকত—এমন মনেই হয় না। যেন জন্ম থেকেই যোজন দূরত্ব নিয়ে তাদের বয়স বেড়েছে।

    বিয়ে জিনিসটি যে খুব মূল্যবান কিছু—এ সে মন থেকে মুছেই অনিবার্ণকে বিয়ে করতে গিয়েছিল। হরিনারায়ণ মাঝে মধ্যে বলতেন—‘আমার একটাই মেয়ে, এই মেয়েকে আমি ব্যারিস্টারি পড়াইবাম, মেয়ের বিয়া এমন ঘটা করে দিয়াম যে পুরা শহরের লোক কইব শহরে একটি বিয়া হইতাছে বটে, জামাইকে আমি ঘরজামাই রাখবাম।’ কেবল বেঁচে থাকবার জন্য যে নোংরা তাকে ঘাঁটতে হয়েছে, যে আপস সে করেছে নির্মম নিষ্ঠুর মানুষের সঙ্গে, তার মত আদরে আহ্লাদে বড় হওয়া মেয়ের পক্ষে এ কী করে সম্ভব হল—কল্যাণী অবাকই হয়। কল্যাণী এখন জানে জীবন কী জিনিস। ব্রহ্মপুত্রের হাওয়ায় ভাসা জীবন নয় এটি। এখানে একটি আস্ত মানুষের চেয়ে ঘসা একটি সিকির দাম বেশি। দেশ থেকে যেদিন টেলিগ্রম এল হরিনারায়ণ গত হয়েছেন, কল্যাণী সেদিনই বুঝেছিল এ বাড়ির পাট তাকে শিগরি চুকোতে হবে। ততদিনে ব্রেবোর্ন থেকে তার বি. এ. পাশ হয়েছে, ব্যারিস্টারি হয়নি। আর স্বয়ং হরিবাবুই যখন ইহজগতে নেই তখন ‘ঘটা’র বিয়ের আশা বাদ দিয়ে চেনা-শোনা কেউ নেই এমন ঘরে কোর্টের উকিলের সামনে অনির্বাণকে স্বামী স্বীকার করে রেজিস্ট্রি খাতায় সই করেছে।

    বিয়ে হয়ে গেল। জীবন যেভাবে গড়ায়, সেভাবে গড়াল। বড়মামা, মামি, পিসি, পিসেমশাই, নীলোৎপল কাকাকে একদিন অবসরমত প্রণাম করেও আসা হল। মামি বললেন—‘কেমন ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি। তোর বড় বোনগুলোরই বিয়ে বাকি রয়ে গেল। একটু ভাবলি ওদের কথা!’ কল্যাণ নিঃশব্দে হেসেছে। সে কী শান্তি সুনীতিকে ফাঁকি দিয়েছে, নাকি নিজেকেই দিয়েছে ফাঁকি, নিজের পুষে রাখা স্বপ্নকে সে কায়দা করে ঠকিয়েছে! কী লাভ হয়েছে তার এতে! বাদলের সঙ্গে রিক্সায়, নৌকোয়, ঘাসে বসে যখন গল্প করত, লজ্জায় আনন্দে মুখ তার রঙিন হয়ে উঠত, বুকের মধ্যে রিমঝিম রিমঝিম করে সুখের বৃষ্টি হত। কই অনির্বাণের সঙ্গে গায়ে গা লেগে বসেও ওরকম তো কখনও লাগেনি! কেউ দেখে ফেলবার ভয় ছিল না, যখন তখন বেরিয়ে যেখানে খুশি সেখানে চলে যাওয়া যেত। ঘরের কাজ সারা হলে আর কল্যাণী কোথায় যায় কি করে এ নিয়ে হল্লা করেনি মামি, তা ছাড়া কল্যাণী টিউশনি করে, তার তো যেতেই হবে বাইরে, টিউশনিতে তো তার আপত্তি চলে না। আপত্তি করবেই বা কেন, গুনে গুনে অর্ধেকের বেশি টাকা তো মামির হাতেই দিতে হত। অনির্বাণের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্বিঘ্নে কেটে গেছে ঘুরে বেড়িয়ে। বাদলের ব্যাপার অন্যরকম, বাদলের বেলায় বাড়িতে বলতে হত কলেজে প্র্যাকটিক্যাল আছে, নয়ত বান্ধবীর জন্মদিন। সাতদিন আগে থেকে জানা থাকত কবে তারা কোথায় যাবে, দিন ঘনিয়ে আসত আর বুকের ধুকপুকুনি বাড়ত। লুকিয়ে প্রেম করবার আলাদা একটা স্বাদ আছে, কল্যাণীর তাই মনে হয়। নদী-ঘেরা, বৃক্ষ-ঘেরা, পড়শি-ঘেরা, স্বজন-ঘেরা প্রাণবান একটি জীবনকে যদি আচমকা কোনও ঝড়ো হাওয়া নিরুদ্দেশে উড়িয়ে নেয়, তবে তার ভাবনার সংসারে ধুলো আর ঝরাপাতা ছাড়া থাকে কী! কোথায় শরিফা—কোথায় তার গা ছুঁয়ে ফিরে আসবার কথা দিয়ে আসা, কোথায় বাদল—কোথায় তার সঙ্গে জীবন গড়বার স্বপ্ন, ডিঙি নৌকোয় বসে তার থই থই কণ্ঠে গাওয়া ‘কোথায় পাব কলসি কইন্যা কোথায় পাব দড়ি। তুমি হও গহীন গাঙ, আমি ডুইবা মরি’ কলকাতার হাওয়ায় ধুলোর মত উড়ে গেছে। বিয়ের পর টালিগঞ্জের একটি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি জোগাড় করে নিয়েছে, চাকরিটি পেতে জুতোর সুকতলা থেকে শুরু করে মাংস মেদ মেধা সব তার খরচা গেছে। সেই স্কুলের কাজে তাকে একবার বনগাঁ যেতে হয়েছিল। বনগাঁয় হাঁটতে হাঁটতে সীমান্তের অনেকটা কাছে যখন চলে আসে, দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থেকে তার হঠাৎ, সে জানে না, বুকের মধ্যে হু হু করে ওঠে। ওইতো আকাশ—একই তো আকাশ—হাত বাড়ালেই ছোঁওয়া যায় এমন—ওই আকাশের তলে তার স্বপ্নরা এখন কেমন আছে—কেমন আছে বাদল শরিফা মুন্নি অনিলকাকা রুখসানা—কেমন আছে তার জন্মের শহর-বাড়িঘর-ব্রহ্মপুত্র—এখনও কি তার মত কোনও দুরন্ত উচ্ছল বালিকা মাঠ জুড়ে কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলে, সেই বালিকার চোখে কানামাছির রুমাল বেঁধে তাকে কি এখনও পৃথিবীর নিষ্ঠুর লোকেরা দেশান্তরী করে?

    জ্যোতিপ্রকাশ গিয়েছিল হরিনারায়ণের মুখাগ্নি করতে, গিয়ে পায়নি। দেরি হচ্ছে বলে পাড়ার লোকেরাই দায়িত্ব নিয়ে নেয়, তা নেবে না কেন, অসুখ হলে যারা হাসপাতালে নিল, ডাক্তারের পেছন পেছন দৌড়ল, ওষুধপথ্য খাওয়াল, শিয়রের কাছে রাত জেগে বসে রইল, লাশ ঘরে রেখে তারা পচতেই বা দেবে কেন—‘বলো হরি হরি বোল’ বলে কাঁধে তুলে শ্মশানে নিয়ে গিয়েছে হরিনারায়ণের নিস্পন্দ শরীর। অনিল মুখার্জির ছেলে সৌমেন চিতা জ্বালবার কাজ সেরেছে। সরলাবালাকে কলকাতায় নিয়ে আসবার অনেক চেষ্টা করেও জ্যোতি সফল হয়নি। ‘জীবনের বাকি কয়টা দিন স্বামী শ্বশুরের ভিটায় কাটাইতে দে, আমি আর বাঁচবই বা কয়দিন! আমারে নিয়া টানা হেঁচড়া আর না করলি।’—এসব বলে সরলাবালা কাঁদছিলেন, জ্যোতিপ্রকাশকে অগত্যা একাই ফিরে আসতে হয়েছে। পরে যখন সরলাবালারও খবর এল, জ্যোতিপ্রকাশ যায়নি, বলেছে—‘শ্মশানঘাটে যেতে আমার ভাল লাগে না। জ্যেষ্ঠ ছেলে হবার এই বিপত্তি—মুখে জল দেবার যো নেই, আগুন দিয়ে ফিরতে হয়।’ কল্যাণী যেতে চেয়েছিল, অনির্বাণ বলেছে—‘তুমি যাবে কী, তোমার তো এডভান্সড স্টেজ!’

    দেশ থেকে অনিল মুখার্জির চিঠি আসে—‘তোমরা আসিয়া বাড়িটির একটি ব্যবস্থা কর। দরজায় তালা লাগাইয়া দিয়াছি। আমার বয়স হইয়াছে। চোখে ভাল দেখি না। সব দিক সামলাইতে পারিব না। এইভাবে বাড়ি ফেলিয়া রাখা ঠিক না। বাড়িটি বিক্রি না করিলে পরে বেদখল হইবার আশঙ্কা আছে। ভগবান তোমাদের মঙ্গল করুন।’

    কল্যাণী জ্যোতিপ্রকাশকে বাড়ি বিক্রির কথা জানালে সে বর্ধমান থেকে চিঠি লিখে জানায়—নিজের হাতে ওই বাড়ি আমি বিক্রি করতে পারব না। এতটা পাষণ্ড আমি এখনও হইনি। আমার অত টাকার দরকার নেই যে স্মৃতিগুলো সের দরে কারও কাছে বেচে আসব। তার চেয়ে পড়ে আছে থাক, মনে মনে জানব যে আছে, ওখানে আমাদের কিছু হলেও আছে।

    পরিমলকে বলাতে বলল—ওখানে শুনছি শত্রু সম্পত্তি আইন করেছে। দেশ ছাড়লে সরকার জায়গা-জমি নিয়ে নিচ্ছে। কী দরকার ঝামেলায় গিয়ে, ও বাড়ি এনিমি প্রপার্টির ভয়ে কেউ কিনবে না এখন।

    —হ্যাঁরে পরিমল, আমাদের প্রপার্টি বুঝি এনিমি প্রপার্টি! আমরা দেশের শত্রু ছিলাম?

    পরিমল আর কথা বাড়ায় না। চলে যায়। তার ব্যস্ততাও বেড়েছে। একটি অ্যাড ফার্মে কপি লিখবার কাজ করে। পরিমল খুব প্রয়োজন ছাড়া কল্যাণীর বাড়িতে আসত না। থাকত নাকতলায়। জ্যোতিপ্রকাশের কাছে যায়নি যে তা নয়, গিয়ে দেখেছে ঠিকানা দশ ফুট বাই দশ ফুট, অর্ধেক রাত অব্দি পাড়ার লোক নিয়ে সে ঘরে বসে জুয়ো খেলে। জ্যোতিপ্রকাশ রাখঢাক না করে পরিমলকে বলে দিয়েছে—‘এ বাড়িতে থাকলে তুই মানুষ হবি না, তা ছাড়া আমার নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তার চেয়ে বরং কল্যাণীর কাছে যা।’ কল্যাণী একদিন অনির্বাণকে বলেছিল—‘আমাদের ভাইবোনদের মধ্যে কী যে মিল ছিল! পূর্ণিমায় আমরা সারারাত ছাদে বসে গান গাইতাম। লোকে বলত দুই পাতা এক কুঁড়ি। এখন তো বছরেও একবার দেখা হয় না। পরিমলটা কী খায় কোথায় থাকে, শুকিয়ে দড়ি দড়ি হয়ে গেছে। আমাদের এখানে তো এসে থাকতে পারে, কী বল?’

    অনির্বাণের মুখের দিকে বড় আশা নিয়ে তাকিয়েছিল কল্যাণী। অনির্বাণ তাকে সরাসরি বলেনি পরিমলকে এ বাড়িতে এনো না। বলেছে—‘তিলজলায় থেকে তো দেখেছই জীবন কী টাফ। এভরিওয়ান শুড স্ট্রাগল ফর এক্সিসটেন্স। কলকাতায় কত লোক ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করে তা জানো?’

    কল্যাণী এর সরল উত্তরটি বুঝে নিয়েছে।

    দশটা-পাঁচটা চাকরি করে, সংসার সামলে, বাচ্চা জন্ম দিয়ে—লালন করে, স্বামীর আদেশ-আবদার সয়ে, ছোটখাট সুখ দুঃখে অনেকগুলো বছর কল্যাণী পার করে দিয়েছে। জয়িষার জন্মের আগে তিনবার স্পনটেনিয়াস এবরশন হয়েছে তার, অনির্বাণ তখন এমন মুখ করে থাকত যেন দোষ কল্যাণীরই, গত জনমে সে কোনও পাপ করেছিল, গত জনম বলতে কল্যাণীর ময়মনসিংহের জীবনই হয়ত বোঝায়। এরপর জয়িষা হলেও অনির্বাণের মন অত ভরেনি, দীপন হলে যত ভরেছে। জয়িষার পর দীপন হতে সময় লেগেছে বারো বছর। এই বারো বছর কম মেজাজ করেনি অনিবার্ণ। কিন্তু ছেলে পেটে না এলে কী-ই বা করবার ছিল কল্যাণীর! ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেছেনও যে বাচ্চা না হবার কোনও কারণ নেই, ধৈর্য ধরুন, হবে। তবু তর সইত না অনির্বাণের। মাস মাস জিজ্ঞেস করত—কী এবারও কি লাল পতাকা উড়িয়েছ?

    কল্যাণীর লজ্জা হত শুনে। যেন ছেলে না হবার সব দোষ কল্যাণীর, ছেলে না জন্ম দিলে সংসারে যে মেয়েমানুষের কোনও মূল্য নেই তা সে ভাল বুঝতে পেরেছিল। জয়িষা তরতর করে বাড়ছিল। ওর লেখাপড়া, নিজের চাকরি এসব নিয়ে কল্যাণী ব্যস্ত থাকত তবু অনির্বাণের দীর্ঘশ্বাস তাকে রাতে রাতে ঘুমোতে দিত না। জয়িষাও বুঝত তাকে দিয়ে মন তেমন ভরছে না বাবার। একটি ছেলের আশায় অনির্বাণের মত আধুনিক ছেলে তারাপীঠ পর্যন্ত দৌড়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোক এসে চুক চুক দুঃখ করে যেত, বলত—‘বউ-এর কোনও শক্ত অসুখ আছে কি না কে জানে!’ কল্যাণী এসব কথায় ফিরে না তাকালে কি হবে অনিবার্ণ কিন্তু ছাড়ত না। বংশের বাতি জ্বালবে কে, জয়িষাকে বিয়ে দিলেই পর হয়ে যাবে, আপন তবে কে থাকল—এসব নিয়ে মাঝরাত অব্দি অনির্বাণ আর দশটা সাধারণ মানুষের মত হা-পিত্যেস করত। দেখে কল্যাণী কতবার বলেছে—আমি কি এখন ছেলে বানাবো?

    —না, তা বানাবে কেন? মা’র বয়স হয়ে গেছে। নাতির মুখ যদি দেখে যেতে পারেন তাই ভাবছি।

    —জয়িষার মুখ তো দেখেছেনই তোমার মা, তাতে হবে না?

    —ও তো নাতনি। নাতির মুখের কথা বলছি। মায়েরা নাতির মুখ দেখতে চান সে তো জানই।

    কল্যাণীর তখন মনে পড়ত সরলাবালা নিজের মেয়ের বিয়ে, নাতি-নাতনি কিছুই তো দেখে গেলেন না। সেই যে মেয়ে পার করলেন বাষট্টিতে। চার বছর পর নিজে মরলেন। তাঁর কি নাতি দেখবার কোনও বাসনা ছিল না মনে? মেয়ে তাঁর পড়ালেখা করবে, জজ ব্যারিস্টার হবে, কালো কোট পরে বাবার মত কোর্টে যাবে, এরকম স্বপ্ন হরিনারায়ণের মত সরলাবালাও দেখতেন। এসব স্বপ্নের চাপে নাতির মুখ দেখবার ইচ্ছে তাঁর কতটুকু টিকে ছিল কে জানে। দীপন জন্মাবার পর ঝাড়গ্রামে যত কাছের দূরের আত্মীয় ছিল অনির্বাণের, ভেঙে পড়েছে কলকাতার বাড়িতে। যেন বাঁজা একটি মেয়েমানুষের বাচ্চা হয়েছে, একে না দেখলে চলে না। ছেলের হাত পা ঠিক ঠিক আছে কি না, জোড়া শক্ত কি না, বুকের শ্বাস সময়মত পড়ছে কি না এসব পরখ করে যেত আত্মীয়রা। অনির্বাণের সঙ্গে দীর্ঘ সংসার জীবনে বড় কোনও খিটিমিটি বাঁধেনি কল্যাণীর, আপসের একটি অভ্যেস সে কলকাতার ভাষার মত রপ্ত করেছিল বলেই হয়ত। তিলজলা থেকে বেরিয়ে সুস্থ একটি জীবন সে যাপন করছে—নিজেকে সে এমন বোঝাতে চেয়েছে অনেক। সে খুব নিমগ্ন হতে চাইত বিষয়-আশয়ে কিন্তু তার মন ঘুরত দূরে দূরে। সংসারে একটি ছেলে জন্ম দেওয়ায় কল্যাণীর মান কিছু বেড়েছিল, আদর করে তাকে চুড়ি মালা দিয়ে যেত অনেকেই, এমনও বলত তোমার নারীজন্ম সার্থক হয়েছে গো। এসব সে শুনত, কিন্তু মনে যেন ঠিক স্পর্শ করত না কিছু। জীবন তো তার আর হঠাৎ আকাশ থেকে পড়েনি যে সে যে কোনও কিছুতে আহ্লাদিত হয়ে উঠবে! উদ্বাস্তুর জীবন ঘরদুয়োর পেল, বাঁধা একটি চাকরিও জুটল, সব পেয়েও তবু তার মনে হত কী যেন কী পাওয়া হয়নি। কল্যাণী মনে যেন শুনত পেছন থেকে তাকে কেউ ডাকছে। সে নিজেও এলোপাতাড়ি খুঁজে বেড়াত কী বা কে তাকে এত ডাকে। পেছনে কিসের ডাক তার গুছিয়ে তোলা জীবনকেও হঠাৎ হঠাৎ এলো করে দেয়। প্রায় সবটুকু জীবন কাটিয়ে এসে কল্যাণীর এই বোধ জন্ম নেয় জীবন আসলে বৃক্ষের মত, বৃক্ষ যেমন এক মাটি থেকে উঠে নতুন মাটিতে ডালপালা-পত্র-পুষ্প মেলে আগের মত বাঁচে না, জীবনও তেমনি, কেটে যায় হয়ত, কিন্তু বড় এক ফাঁকি থেকে যায়।

    গড়িয়াহাট, কাঁকুড়গাছি, টালিগঞ্জ ঘুরে ঘুরে শখের জীবন এসে থেমেছে সল্টলেকে। ঝাড়গ্রামের দুটো ধানি জমি বিক্রির টাকার সঙ্গে আরও কিছু টাকা যোগ করে সল্টলেকে আড়াই কাঠা জমি কিনেছে অনির্বাণ। সেই জমিতে প্রথম যেদিন কোদালের কোপ পড়ে, কল্যাণী বলেছিল—গেটের দুপাশে মাধবীলতা লাগাতে হবে।

    এ আর এমন কী, মাধবীলতা দুর্লভ কিছু নয়। ক্যাকটাস হত, খুঁজে পেতে সময় লাগত। অনির্বাণ বলেছিল—ঠিক আছে, দেখি।

    এর দিন দুই পর অনির্বাণ একদিন মাঝরাতে জল খেতে উঠে দেখে কল্যাণী জেগে আছে, কি ব্যাপার ঘুমোওনি বলতেই সে বলল—তুমি বুঝবে না অনির্বাণ, কালো গেটের ওপর সবুজ পাতা ছাওয়া লাল মাধবীলতা কী অপূর্ব লাগে!

    —এত রাতে তুমি মাধবীলতার কথা ভাবছ!

    আহ্লাদি বউ স্বামীর কাছে যে সুরে শাড়ি-গয়না চায় কল্যাণী সেই সুরে ঠোঁট ফুলিয়ে বলল—বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে নারকেল সুপুরির গাছ পুঁততে হবে কিন্তু। মনে মনে বলল—আর জানালার পাশে একটি কামিনী গাছ। জায়গা থাকলে একটি পুকুরও কাটা যায়। পুকুরের ধারে যদি কাঠগোলাপের একটি গাছ থাকে, জলের ওপর শাদা শাদা ফুল পড়ে ভাসতে থাকবে আর ফাঁকে ফাঁকে লাফিয়ে উঠবে খলসে মাছ।

    অনির্বাণ পাশ ফিরে একটু বিরক্ত হয়েই জবাব দিয়েছিল—নারকেলের শেকড় বড্ড ছড়ায়, বাড়ির ফাউন্ডেশনে ক্ষতি করবে।

    কল্যাণী অনির্বাণের দিকে ঝুঁকে বলল—কী যে বল ছাই, আমাদের বাড়িতে কি ফাটল ধরেছিল? আম জাম তাল লিচু নারকেল সুপুরি কী ছিল না সেখানে?

    বুকের মধ্যে অবচেতনেই যে স্বপ্ন সে লালন করে, সেটি যখন সব দেওয়াল ভেঙে সামনে দাঁড়ায়, কল্যাণী এতই ঘোরে থাকে যে সে বোঝে না সে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সে বোঝে না কলকাতার স্রোতে ভাসা কচুরিপানার জীবনে মাথা গুঁজবার ঠাঁই পাওয়াই যেখানে ঝক্কির ব্যাপার, সেখানে নারকেল সুপুরির বাগান করা একরকম বিলাসিতাই বটে—এত মাটিই বা কোথায়, আর এত সময়ই বা কার আছে!

    পল্যুটেড কলকাতায় কল্যাণী হাওয়া খুঁজে বেড়াত। মুক্ত হাওয়া। কোথাও গাছপালা দেখলে দু দণ্ড থামত। জয়িষা যখন ছোট, ভাড়াবাড়ির একচিলতে বারান্দা পাতাবাহারের টব দিয়ে ভরে ফেলেছিল কল্যাণী। দেখে অনির্বাণ বলেছিল—এই কবুতরের খোপেও হাঁটাচলার জায়গা বন্ধ করে দিলে!

    —বাচ্চাটা নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। কলের ধোঁয়া ওর কচি ফুসফুস কালো করে দিচ্ছে।

    —আমরা সবাই তো এই হাওয়ায়ই বড় হলাম।

    —তুমি বড় হয়েছ। আমি হইনি। আমার চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ ছিল, আমি খোলা হাওয়া পেয়েছি, একেবারে নদী থেকে উঠে আসা। আমাদের ওখানে মানুষ তাই বাঁচেও বেশিদিন। ঠাকুরদা বেঁচেছিলেন একশ পাঁচ বছর। ওই বয়সে ওঁর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে পঁচিশের যুবকরাও হেরে যেত।

    অনির্বাণ সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বলেছিল—পঁচিশের যুবকরাই বা হারত কেন? ওরা তো ওখানেরই লোক। ওরা কি হাওয়া খায়নি?

    কল্যাণী বিষণ্ণ মুখে বলেছিল—তা হয়ত খেয়েছে তবে আমাদের বাড়ির কথা আলাদা।

    —ও তাই বল। অনির্বাণ বাঁকা ঠোঁটে হাসত।

    দীপন বড় বড় শ্বাস নেয়। কৈশোরে বৌচি খেলতে গিয়ে দম নিয়ে দৌড়বার আগে যেমন শ্বাস নিত কল্যাণী, এখনও তেমন টেনে শ্বাস নেয়। এই শ্বাসের সঙ্গে মুক্ত হাওয়া আসে, সুগন্ধ আসে, ঝেঁপে স্মৃতিও আসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্রহ্মপুত্রের পাড়ে – তসলিমা নাসরিন
    Next Article অনড় দাঁড়ালাম – তসলিমা নাসরিন

    Related Articles

    তসলিমা নাসরিন

    সেইসব অন্ধকার – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    আমার প্রতিবাদের ভাষা – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    অগ্রন্থিত লেখার সংকলন – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    বন্দিনী – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নির্বাসন – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নেই, কিছু নেই – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }