Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ফেরা – তসলিমা নাসরিন

    তসলিমা নাসরিন এক পাতা গল্প120 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. শরিফাদের বাড়ি

    ৪.

    শরিফাদের বাড়িটি সে চিনতে পারে, পলেস্তারা খসে গেছে, তবু সেই বারান্দা সেই সদর দরজা সেই খিড়কি ভুল হবার নয়। দীপনের হাত ধরে সোজা সেই বারান্দায় উঠে আসে কল্যাণী, দরজায় কড়া নাড়ে। দরজার কড়া যখন নাড়ে তার মনে পড়ে এরকম যখন তখন কড়া নাড়ত সে, ঘরে অপেক্ষা করত শরিফা, সকাল নেই বিকেল নেই শরিফা ও শরিফা খেলতে আয়, ও শরিফা জাম পড়েছে আয়, ও শরিফা সাপ খেলা দেখবি আয়, বানর নাচ আয়, ওরে শরিফা দাড়িয়াবান্ধা কোট কাটা হইছে শিগরি আয়। শরিফাও পাখির মত উড়ে আসত। শরিফার মা ভেতর থেকে চেঁচাত শসাটা কাট উঠানটা ঝাঁট দে বিছানাটা গুছা, কে শোনে কার কথা। এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় ফাঁক পেলেই দৌড় দৌড়। এর বাড়ির করমচা ওর বাড়ির কদবেল নিয়ে আরেক বাড়ি বসে হা হা হি হি করে সাবাড় করা। কড়ায় হাত ধরেই দাঁড়িয়েছিল কল্যাণী যেন আগের সেই শরিফা পাখির মত এক্ষুনি ছুটে আসবে, কল্যাণীও বলবে চল যাই ঘুট্টি ওড়াই। ঘুট্টি? কল্যাণী আকাশ দেখে, এখন কি ঘুড়ি ওড়াবার সময়? আকাশে মেঘ ভাসছে, কোন মাসে যেন ওড়াতে হয় ঘুড়ি? শরৎ নাকি বসন্ত?

    দীপন ফিসফিস করে বলে—এটিই বুঝি তোমাদের বাড়ি ছিল!

    —আরে না না। আমাদের বাড়ি ছিল পাশে। অনেক বড় বাড়ি। এ পাড়ার সবচেয়ে বড়। দু বিঘা জমির ওপর। এ রকম বাড়ি কলকাতার কোথাও নেই।

    —অশেষদাদের বাড়ির মত বড়?

    —দূর, অশেষদের বাড়ি কোনও বাড়ি হল? আমাদের বাড়ি ওদের চেয়ে দশগুণ।

    কল্যাণী আড়চোখে দেখে বাড়িটি নেই, কতগুলো নতুন বিল্ডিং দেখা যাচ্ছে। সে আড়ে দেখে কারণ ভয় লাগে তার। ভয় লাগে যদি সত্যি সত্যি বুঝতে হয় বাড়িটি নেই। কল্যাণীর চোখে সব ঝাপসা লাগে। এত বদলে গেছে সব, এত কেন বদলাবে, মরা নদীর মত হাড় জিরজিরে বাড়িঘর, গাছগুলো বোধ হয় জল না পেয়ে মরে গেছে। কল্যাণী চোখ মুছে আবার তাকায়। বারবার তার ঝাপসা লাগে সব।

    ভেতর থেকে সতেরো আঠারো বছর বয়সের এক ছেলে দরজা খুলে দেয়। পাজামা আর শার্ট পরা, লিকলিকে। ছেলেটি কোনও প্রশ্ন করবার আগেই কল্যাণী বলে—শরিফা আছে?

    —শরিফা?

    —এটা শরিফাদের বাড়ি নয়?

    —ছেলেটি দুপাশে মাথা নাড়ে।

    —অনেক আগে এ বাড়িতে শরিফারা ছিল না? শরিফা, মুন্নি?

    —হ্যাঁ।

    —তাই বল। তুমি তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে গো। এত বছর আগের, তাতে কি হয়েছে? আমার তো ভুল হবার কথা নয়। সেই বাড়ি, সেই দরজা, জানালা। ভুল হবে কেন?

    ছেলেটি দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। সে কিছু বুঝে ওঠার আগে কল্যাণী আবার বলে—শরিফা কোথায় এখন?

    —নওমহল। ছেলেটি নির্লিপ্ত কণ্ঠে উত্তর দেয়।

    —এ বাড়িতে এখন কে থাকে?

    —আমরা। শরিফা আমার ফুপু হয়।

    —ফুপু হয়। তার মানে তুমি আনিস ভাইয়ের ছেলে। তুমি কি আনিস ভাই-এর ছেলে?

    —হ্যাঁ।

    কল্যাণী ছেলেটিকে কাছে টেনে পিঠে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে—তোমার নাম কি বাবা?

    —ইয়াসির।

    —তোমার বাবাকে বল কল্যাণী এসেছে, কলকাতা থেকে।

    —আব্বা চিটাগাং গেছে।

    —ও, আর তোমার মা?

    —আম্মা ঘুমায়।

    —ঘুমোচ্ছে? ও। আচ্ছা, শরিফাকে একবার খবর পাঠানো যায় না?

    ইয়াসির চুপ হয়ে থাকে।

    —ঠিক আছে, তুমি একটু নিয়ে যেতে পারবে আমাকে ওর বাড়িতে?

    এবারও ইয়াসির কথা বলে না। ও সম্ভবত ভাবছে কোথাকার কে, এসে বলল চল, আর সে চলে যাবে এ হয় নাকি।

    কল্যাণী হেসে বলে—তোমার মাকে ডাকো, বল আমার নাম কল্যাণী। পাশেই আমাদের বাড়ি ছিল। আমার বাবার নাম হরিনারায়ণ। হরিনারায়ণ রায়।

    ইয়াসির এবার মুখ খোলে। বলে—ভিতরে আইসা বসেন।

    কল্যাণী দীপনকে নিয়ে ঘরে ঢোকে। এখন একটু হাত পা ধোয়া দরকার, ক্ষিধেও পেয়েছে খুব। বিকেল গড়াচ্ছে, সারাদিনে দুটো কলা-বিস্কুট ছাড়া দীপনের পেটে কিছু পড়েনি। বেচারা ক্ষিধের জন্যও মোটে কাতরাচ্ছে না। সল্টলেক হলে ও এতক্ষণে চিৎকার করে বাড়ি মাথায় করত। আর কল্যাণীর তো ক্ষিধের বোধই নেই। ক্ষিধে তার মনে। চোখে। ক্ষিধে তার পেটে নয়।

    —মুন্নি শাহানা ওরা থাকে কোথায়? কল্যাণীর কণ্ঠে আগ্রহ উপচে পড়ে।

    ইয়াসির দাঁতে নখ কাটতে কাটতে বলে—ছোটফুপু সৌদি আরব থাকে।

    —আর মুন্নি?

    —ঢাকায়।

    —ঢাকার কোথায় গো?

    —ধানমণ্ডি।

    —ধানমণ্ডি? ছোটবেলায় ধানমণ্ডি যেতাম। কী বড় বড় মাঠ আছে ওখানে, তাই না? বাবা নিয়ে যেতেন, আমরা ওখানে দৌড়তাম। একদিন মনে আছে, দৌড়চ্ছি দৌড়চ্ছি, বাবা বললেন, চল ঘোড়দৌড় দেখি গিয়ে। রেসকোর্সের মাঠে নিয়ে গেলেন বাবা। বাবা আমাকে একটি ঘোড়ার পিঠে চড়িয়েছিলেন, উফ খুশিতে চিৎকার করেছিলাম।

    ইয়াসির নখ কাটে দাঁতে। দীপন মায়ের আরও কাছে সরে এসে বলে—আমি রেসকোর্সে যাব।

    —ভয় পাবে না ঘোড়ার পিঠে চড়তে?

    —বাহ আমি কি দিদি যে ভয় পাব? সেদিন দেখলে না সাইকেল রাইডিং-এ দিদিটা কেমন পিছিয়ে গেল। ও তো একটা ভীতুর ডিম। জু-তে হাতির পিঠে দু দিন চড়েছি। ঘোড়ার পিঠে পারব না বুঝি?

    —ঠিক আছে দেখি শরিফার কাছে আগে তো যাই। তারপর কোথায় কোথায় যাব প্রোগ্রাম সেট হবে।

    ইয়াসির আড়চোখে তাকায় কল্যাণীদের দিকে। কল্যাণী তাকে কাছে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে—ইয়াসির, তুমি আমার নাম শোননি কখনও? কেউ বলেনি? তোমার বাবা, ফুপুরা?

    ইয়াসির না বোধক মাথা নাড়ে। কল্যাণী হেসে বলে—আসলে তুমি বোধ হয় শোননি। এই বয়সের ছেলেরা কি আর বাবাদের গল্পে বসে! তুমি বসলে শুনতে আমরা মানে আমি আর শরিফা কি ভীষণ দস্যি ছিলাম। আচ্ছা তোমার বয়স কত হবে ইয়াসির? তুমি কোন বছর জন্মেছ বল তো? আনিস ভাইয়ের বিয়ে তো আমরাই দিয়েছি। তোমার বাবা হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গিয়েছিল জানো তো? আমরা ছোটরা হাতির পিছন পিছন সে কী দৌড়! সঙ্গে ব্যান্ডপার্টি ছিল। গান বাজছিল বিউগলে। বিয়ে হল গোলপুকুর পাড়। এই যে দরজাটা, এই দরজায় আমরা সব দাঁড়িয়েছিলাম বধূবরণ করব বলে। বউ এল লাল বেনারসি পরে। মনে হয় এই সেদিনের ঘটনা। আমি আর শরিফা সেদিন সারারাত ছাদে বসে গল্প করেছি। নতুন বউকে আমরা কী কী গান শোনাবো সে নিয়ে উদ্বেগের সীমা নেই আমাদের। নাকের ওপর বউয়ের জরুল ছিল একটি। তাই না ইয়াসির নাকের ওপর তোমার মার একটি জরুল…অনিলকাকা, সৌমেন? রুখসানা, সেলিম ওরা কেমন আছে ইয়াসির?

    —জানি না।

    শরিফা, মুন্নি, শাহানা ওরা কেমন আছে, কাদের সঙ্গে বিয়ে হল, ছেলেমেয়েরা কী করে, কী পড়ে ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর দিতে ইয়াসির উদাসীনতা দেখায়। আনিসের স্ত্রীকে ডেকেও যদি গল্প করা যেত, অন্তত তিনি তো শরিফাদের খোঁজ রাখেন। ভাইফোঁটার সময় পরিমল আর জ্যোতিপ্রকাশের মত আনিসের কপালেও কল্যাণী চন্দনের ফোঁটা দিত। সরলাবালা বলতেন—‘ভাই কি কেবল মায়ের পেটের ভাইরাই হয়, কত পরকে আপন হইতে দেখলাম, কত আপনকে পর।’

    পাশের এই ভিটেয় ছিল হরিনারায়ণ রায়ের বাড়ি। নামকরা লোক ছিলেন রায়বাবু, এক ডাকে সবাই চিনত। কালিবাড়ির প্যাঁড়ার দোকান থেকে প্রতি সকালে এক সের প্যাঁড়া আসত বাড়িতে। ইসলামপুর থেকে জগৎ ঘোষাল ফি সপ্তাহে দেড় সের ঘি পাঠাত। কালিজিরা চাল আসত মোহনগঞ্জ থেকে। আর মিঠে পুকুরের মাছ তো সারাবছর লেগেই থাকত। নিজের ছেলেমেয়েকে বিদেশ পাঠিয়ে হরিনারায়ণ যাবেন বলেও কেন যাননি? কেবল কি অসুস্থতাই তাঁর না যাবার কারণ? কল্যাণী অনুমান করে হরিনারায়ণ আসলে দেশের মায়াই ছাড়তে পারেননি। ছেলেমেয়ে আত্মীয়-স্বজনের চেয়ে তাঁর কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল দেশ, দেশের মাটি, তাঁকে টেনেছিল সেই মাটির তলে খুব গোপনে রয়ে যাওয়া একটি শক্ত শেকড়। নিজের বাবা-মা’র মৃত্যুতে যে কাছে থাকতে পারে না, তার মত দুর্ভাগা আর কে আছে! কল্যাণী বড় একটি দীর্ঘশ্বাস গোপন করে। ইয়াসির ভেতর-ঘরে চলে যায়, সম্ভবত তার মাকে ডাকতে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করবার পরও আনিসের স্ত্রীর পায়ের শব্দ শোনা যায় না। তার শ্বশুরবাড়ির পাশের বাড়িতে কবে কোন কল্যাণী বাস করত—তাকে নিয়ে তার কোনও আগ্রহ থাকবার কথা নয়। কল্যাণী অস্থির হাঁটে বারান্দায়। সুতোয় টান পড়লে ঘুড়ি যেমন বাতাসে গুঁতো খেয়ে খেয়ে নাটাইয়ের দিকে যায়—কল্যাণী তেমন চৌকাঠে, সিঁড়িতে হোঁচট খেতে খেতে পাশের দালানগুলোর দিকে এগোয়। হলুদ রঙের এইসব বাড়ি কোনও চিহ্ন বহন করে না তার স্মৃতির। দালানগুলোর ধার ঘেঁষে যে ঘাসে ছাওয়া মাটি, কল্যাণী সেই মাটিতে নেমে দাঁড়ালেই কচি নেবু পাতা আর বাতাবি ফুলের ঘ্রাণ পায় হাওয়ায়। রান্নাঘরের পিছনে ছিল কাগজি নেবুর গাছ, সরলাবালা নেবু পাতা দিয়ে ছোটমাছ রাঁধতেন, জ্যোতিপ্রকাশ হাসি চেপে বলত—‘কী মা, মাছ বুঝি নরম ছিল?’ সরলাবালা বলতেন—‘আরে না, কাটবার সময় মাছগুলা ফাল পারতাছিল। এক্কেরে তাজা মাছ।’ মাছের দোষ নিজের কাঁধে নিয়ে আরও বলতেন—‘রান্দা ভাল হয় নাই বোধহয়। হলুদ বেশি হইয়া গেছে।’ সিঁড়িতে সকালের রোদ এসে পড়ত, সরলাবালা ছেলেমেয়েদের গায়ে চাদর পেঁচিয়ে ঘাড়ের পেছনে গিঁট দিয়ে দিতেন, সেই চাদর পরে শীতের রোদে জলচৌকিতে বসে কল্যাণীরা গা পোহাত, সরলাবালা ধোঁয়া ওঠা চা এনে দিতেন, সঙ্গে মুড়ি, জ্যোতিপ্রকাশের মুখে কখনও মেছোভূত মামদোভূত কখনও নিউটন আইনস্টাইনের গল্প শুনতে শুনতে কল্যাণীরা চায়ে মুড়ি ভিজিয়ে চামচে তুলে তুলে খেত। রান্নাঘরটি নেই। রোদ পড়া সিঁড়িটিও নেই। মনে আছে তিন সিঁড়ি রোদ নেমে এলে কল্যাণী স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হত। উঠোনে তুলসীর বেদি ছিল, বেদির সামনে নত হয়ে শাদা শাড়ি পরে সরলাবালা সন্ধে-প্রদীপ জ্বালাতেন, উলু দিতেন, তুলসীতলাটি নেই, কল্যাণীর ইচ্ছে করে বেদির জায়গাটি খুঁড়ে দেখতে—যদি কিছু খোয়াও মেলে! হরিনারায়ণ রায়ের এক পিসতুতো দাদা অখিলচন্দ্র সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিস করতেন, তিনি কার্তিক মাসের এক দুপুরে পুকুরের পশ্চিম দিকে একটি তালগাছ লাগিয়েছিলেন, এই গাছ ছিল কল্যাণীদের চোর চোর, গোল্লাছুট আর বৌচি খেলার গোল্লা। এর গোড়ায় বসে জ্যৈষ্ঠের কড়া দুপুরে জিহ্বায় ট্টা ট্টা শব্দ করে তারা নুন লঙ্কামাখা তেঁতুল খেত। সরলাবালাকে লুকিয়ে খেতে হত, তিনি দেখলেই বলতেন—‘তেঁতুল ফালা। তেঁতুল খাইলে শইলের রক্ত জল হইয়া যায়।’ হঠাৎ হঠাৎ তাল পড়ত গাছ থেকে। কুড়িয়ে নিয়ে মাকে দেওয়া মানে রান্নাঘরের বারান্দায় গামছায় তালের রস ঝুলে থাকা আর টুপ টুপ করে গামলায় সারারাত ধরে পড়া, সেই রস জাল দিয়ে মা পিঠে তৈরি করতেন। এখনও জিভে সেই স্বাদ লেগে আছে। তালের পিঠে কলকাতায় কখনও খেয়েছে কল্যাণী—মনে করতে পারে না! সুপুরি গাছগুলো এখন আর নেই, আগে সুপুরিগাছের পাতা পড়লে এক ধরনের মজা হত। খোলের ওপর কল্যাণী বসত, আর পরিমল পাতা ধরে টেনে টেনে পুরো মাঠ ঘুরত। আবার কখনও পরিমল বসত, কল্যাণী টানত। খোলটা মাটির ঘষায় ঘষায় না ছেঁড়া অবধি খেলা চলত। আহা এখনও কি মাটিতে সেই দাগ নেই সুপুরির খোলের? কল্যাণী সবুজ ঘাসের ফাঁকে আঙুল ডুবিয়ে মাটিতে সেই খোলের দাগ খোঁজে। এই মাটিতে জল পড়লে সোঁদা ঘ্রাণ বেরোত, খুব বড় করে শ্বাস টানলে সেই ঘ্রাণ এখনও পায় সে। কল্যাণী জল পড়া মাটি থেকে এক খাবলা মাটি তোলে। আগে এমন মাটি তুলে তারা রান্নাবাড়ির চুলো বানাতো। স্কুলের ড্রয়িং স্যার আম কাঁঠাল বানাতে দিতেন, মাটি শুকিয়ে ওর ওপর রং করতে হত। স্কুল থেকে ফিরেই কল্যাণী দৌড়ে চলে যেত পুকুর পাড়ে। পুকুরের ধার থেকে এঁটেল মাটি তুলে পুতুল বানাত, অষ্টমী স্নানের দিন মেলায় যেরকম পুতুল পাওয়া যায়, সেরকম পুতুল। আম কাঁঠাল পেঁপে বানিয়ে রোদে শুকোতে দিত। এখন পুকুর পাড়ের সেই এঁটেল মাটি নেই। কল্যাণী তার হাতের মাটিটি হাতের তেলোয় চেপে চেপে দেখে এটি ঠিক কমলালেবুর মত লাগছে। স্কুলে ভূগোল স্যার পড়াতেন পৃথিবী হচ্ছে গোল, ওপর নিচে কমলালেবুর মত সামান্য চ্যাপ্টা। হাতের গোল মাটিটুকুর দিকে তাকিয়ে ভূগোল স্যার প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের মুখখানা মনে পড়ে। স্যার কি বেঁচে আছেন? একবার যদি পায়ের ধুলো নেওয়া যেত!

    টুকরো মাঠে দাঁড়িয়ে মনে পড়ে দল বেঁধে এই মাঠে বন্দি বন্দি, গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, গোলাপ পদ্ম খেলত ওরা—দুজন হাত উঁচু করে ধরলে হাতের নিচ দিয়ে লাইন করে বাকিরা যেত আর হাত উঁচু করারা সুর করে বলত—অপেনটো বায়স্কোপ নাইনটেন তেইস্কোপ চুলটানা বিবিয়ানা সাহেব বাবুর বৈঠকখানা…, মনে হয় খুঁজলে এখনও এক্কাদোক্কা, ষোলগুটির দাগ পাওয়া যাবে, হাওয়ায় এখনও গায়ের সেই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে। পুকুর নেই, পুকুরের পাড়ে ছিল একটি কাঠগোলাপের গাছ, নক্ষত্রের মত শাদা শাদা ফুল ফুটত—নেই, বাড়ির পেছনে বাঁশঝাড়—বাঁশঝাড়ের উত্তরে ছিল গোপালভোগের দুটো আর ফজলি আমের চারটে গাছ, নেই; পেয়ারা আতা কামরাঙা কিছু নেই। খেজুরগাছও ছিল একটি, শীতের সময় গাছ কেটে মাটির কলসি বেঁধে রাখা হত, ভোরের ঘন কুয়াশায় দাঁড়িয়ে থিরথির কেঁপে রসের কলসি নামানো দেখত কল্যাণীরা, কথা বললে মুখ থেকে শাদা ধোঁয়া বেরোত। মাঠে একটি শিউলি ফুলের গাছ ছিল, শীতের ভোরে ফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথত সইরা মিলে। সরলাবালা শিউলির হলুদ বোঁটা রোদে শুকিয়ে রঙ বানাতেন, পোলাও-এ জাফরানের মত ছিটিয়ে দিতেন। কামিনী ফুলের গাছটিও নেই, রাতে কামিনী ফুলের গন্ধে ম ম করত ঘর, সরলাবালা গভীর রাতে দরজায় টোকা দিয়ে বলতেন—‘ও কল্যাণী, জানলা বন্ধ কইরা দে, ফুলের গন্ধে সাপ আসে।’

    কিছু নেই। বাড়ি নেই। বৃক্ষ নেই। সামনের মাঠে জামগাছটি কেবল আছে। একা নিঃসঙ্গ জামগাছ। কল্যাণী তার পূর্বপুরুষের ভিটেয় দাঁড়িয়ে নিজেও বড় একা বোধ করে। বড় একা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্রহ্মপুত্রের পাড়ে – তসলিমা নাসরিন
    Next Article অনড় দাঁড়ালাম – তসলিমা নাসরিন

    Related Articles

    তসলিমা নাসরিন

    সেইসব অন্ধকার – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    আমার প্রতিবাদের ভাষা – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    অগ্রন্থিত লেখার সংকলন – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    বন্দিনী – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নির্বাসন – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নেই, কিছু নেই – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }