Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প547 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. বকুলের বড়দাই

    হ্যাঁ, বকুলের বড়দাই ওই গুরুদায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়েছিল। বকুলের বাল্যকাল থেকেই। বকুলটা কোনো ফাঁকে পিছলে সরে গিয়ে পাশের বাড়ির ছেলেটার মুখোমুখি হচ্ছে কিনা তা দেখার।

    আচ্ছা বাল্য আর কৈশোরের সীমারেখাটা বয়সের কোন রেখায় টানা হত সে যুগে!

    বকুল জানে না সে কথা।

    বকুল দশ—এগারো বছর বয়েস থেকেই শুনে আসছে, ধাড়ি মেয়ে, তোমার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকবার এত কী দরকার?.. ধিঙ্গী অবতার! এবাড়ি ওবাড়ি বেড়িয়ে বেড়ানো হচ্ছে? যাও না সংসারের কাজ করগে না।…ছাতে ঘোরা হচ্ছিল? কেন? বড় হয়েছো, সে খেয়াল কবে হবে?

    বড়দা বলতো, বাবা বলতেন।

    বড়দাই বেশী।

    আর বড়দার ওই শাসন-বাণীর মধ্যে যেন হিতচেষ্টার চাইতে আক্ৰোশটাই প্রকট ছিল। পাশের বাড়ির ওই নির্মলটার যে এ বাড়ির বকুল নামের মেয়েটার প্রতি বেশ একটু দুর্বলতা আছে, সে সত্য বড়দার চোখে ধরা পড়তে দেরি হয়নি। অতএব এদিক ওদিক কিছু দেখলেই বড়দার দেহের শিরায় শিরায় প্রবাহিত সনাতনী রক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠতো এবং শাসনের মাত্রা চড়ে উঠতো। বড়দা নির্মলকেও দূচক্ষের বিষ দেখতো। সে কি নির্মল বড়লোকের একমাত্র ছেলে বলে?

    বকুলের মা বেঁচে থাকতে তবু বকুলের পৃষ্ঠবল ছিল। মা তার বড় ছেলের এই পারিবারিক পবিত্ৰতা রক্ষার কর্তব্যপালন দেখে রেগে উঠে বলতেন, তোর অতো সব দিকে নজর দিয়ে বেড়াবার কী দরকার? যা বারণ করবার আমি করবো।

    তুমি দেখলে তো কোনো ভাবনাই ছিল না— বলতো বড়দা, অম্লান বদনে মার মুখের উপরেই বলত, তা দেখতে তো দেখি না। বরং আমাদের ওপর টেক্কা দিয়ে মেয়েকে আস্কারা দেওয়াই দেখি। খু-ব মনের মতন মেয়ে কিনা!

    মা চুপ করে যেতেন।

    শুধু কখনো কখনো মায়ের চোখের মধ্যে যেন আগুনের ফুলকি জ্বলে উঠতো। তবু মা বকুলকেই কাছে ডেকে বলতেন, দাদা যা ভালবাসে না, তা দাদার সামনে কোরো না।

    ছেলেবেলা থেকে মা বকুলদের শিখিয়েছেন, যা করবে সাহসের সঙ্গে করবে! লুকোচুরির আশ্রয় নিয়ে কিছু করতে যেও না। অথচ মা তাঁর বড় ছেলের তীব্র তিক্ত ব্যঙ্গের মুখটা মনে করে বলতেন, ওর সামনে কোরো না। বলতেন না, কোনো সময়ই কোরো না।

    কিন্তু মা আর বকুলের ভাগ্যে কতোদিনই বা ছিলেন? মৃত্যুর অনেক দিন আগে থেকেই তো সংসারের দৃষ্টিতে মৃত হয়ে পড়েছিলেন। ছায়া দিতে পারতেন। কই?

    তারপর তো প্রখর সূর্যালোকের নীচে, সনাতনী সংসারের জাঁতার তলায় বড়দার সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড়ানো বকুলের।

    অকারণেই হঠাৎ-হঠাৎ বলে বসতো বড়দা, ওদের বাড়ির জানলার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে কী করছিলি?…বলত-বারান্দায় দাঁড়িয়ে কার সঙ্গে ইশারায় কথা হচ্ছিল?

    অপরাধটা সত্যি হোক বা কাল্পনিক হোক, প্রতিবাদ করবার সাহস ছিল না বকুলের। বকুল শুধু মাথা হেঁট করে অস্ফুটে বলতো, কার সঙ্গে আবার, বাঃ!

    বলতো, জানলার দিকে দাঁড়াতে যাবো কেন?

    এর বেশী জবাব দেবার সাহস ছিল না বকুলের। বকুলের ভয়ে বুক টিপ টিপ করতো।

    এ যুগের মেয়েরা যদি বকুলের সেই অবস্থাটা দেখতে পেতো, না জানি কতো জোরেই হেসে উঠতো।

    অনামিকা দেবীর ভাইঝিটাই যদি দর্শক হত সেই অতীতের ছবির?

    তা ও হয়তো হেসে উঠতো না।

    ওর প্রাণে মায়া-মমতা আছে।

    ও হয়তো শুধু মুখের রেখায় একটি কৃপার প্রলেপ বুলিয়ে বলতো, বেচারা!

    তা শুধু ভাইঝি কেন, অনামিকা দেবীরও তো ওই ভীরু নির্বোধ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে-বেচারা! কী ভীরু! কী ভীরু!

    কিন্তু ভীরু হওয়া ছাড়া উপায়ই বা কী ছিল বকুলের? কার ভরসায় সাহসী হবে? পাশের বাড়ির সেই ছেলেটার ভরসায়? অনামিকা দেবীর মুখে সূক্ষ্ম একটি কৃপার হাসি ফুটে ওঠে।

    হাতে একবার হাত ছোঁয়ালে শীতের দিনে ঘেমে যেতো ছেলেটা। একটু ভালবাসা মত কথা কইতে গেলে কথাটা জিভে জড়িয়ে যেতো তার। আর জেঠিপিসির ভয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখত।

    তা জেঠি-পিসিদেরও তো ভীষণ ভাবে রাইট ছিল তখন শাসন করবার। নির্মল নামের সেই ছেলেটা তার দূর্দান্ত এক জেঠির ভয়ে তটস্থ থাকতো। জেঠির ঘ্রাণশক্তিটাও ছিল তীব্র। বিড়ালরা যেমন মাছ বস্তুটা বাড়ির যেখানেই থাকুক তার আঘ্রাণ পায়, জেঠিরও তেমনি বাড়ির যেখানেই কোনো অপরাধ সংঘটিত হোক তার আঘ্রাণ পেতেন।

    অতএব নির্মলদের তিনতলার ছাতের সিঁড়ির ঘরটাকে অথবা সাতজন্ম ধুলো হয়ে পড়ে থাকা বাড়ির পিছন দিকের চাতালটাকে যখন বেশ নিশ্চিন্ত নিরাপদ ভেবে ওরা দুমিনিট দাঁড়িয়ে কথা বলছে, হঠাৎ জেঠির সাদা ধবধবে থানধুতির আঁচলের কোণটা ওদের চোখের সামনে দুলে উঠতো।

    ওমা নির্মল তুই এখানে? আর আমি তোকে সারাবাড়ি গরু খোঁজা করে খুঁজে বেড়াচ্ছি!

    ওই দুমিনিটের আগের মিনিটটায় নির্মল জেঠিমার চোখের সামনেই ছিল, মানে আর কি ইচ্ছে করেই চোখের সামনে ঘোরাঘুরি করে এসেছিল, যাতে তার অনুপস্থিতির পিরিয়ডটা অনেকক্ষণের ধূসবতায় ছড়িয়ে না পড়ে। তবু জেঠিমা ইতিমধ্যেই নির্মলকে গরুখোঁজা খুঁজে ফেলে বাড়ির এই অব্যবহৃত অবান্তর জায়গাটায় খুঁজতে এসেছেন!

    কিন্তু খোঁজার কারণ?

    সেটা তা অনুক্তই থেকে যায়।

    জেঠিমার বিস্ময়োক্তিটাই যে শ্রোতা যুগলের বুকের মধ্যেটা ছুরি দিয়ে কেটে কেটে নুন দেয়।

    ওমা! বকুলও যে এখানে? কতক্ষণ এলি মা? আহা মা-হারা প্ৰাণ, বাড়িতে তিষ্ঠোতে পারে না, ছুটে ছুটে পাড়া বেড়িয়ে বেড়ায়। আয় মা আয়, আমার কাছে এসে বোস।

    অতএব মাতৃহীনা বালিকাকে ওই মাতৃস্নেহ-ছায়ায় আশ্রয় নিতে গুটিগুটি এগোতে হয়। নির্মল তো আগেই হাওয়া হয়ে গেছে, কোনো বানানো কৈফিয়তটুকু পর্যন্ত দেবার চেষ্টা না করে।

    জেঠিমা বালবিধবা, জেঠিমা অতএব নিঃসন্তান। কিন্তু জেঠিমার সীমাহীন স্নেহসমূদ্র সৰ্বক্ষণ অভিষিক্ত করছে দেবর-পুত্রকন্যাদের। সেই অভিষিক্ত প্রাণীগুলো কি এমনই অকৃতজ্ঞ হবে যে তার প্রতি সশ্রদ্ধ সমীহশীল হবে না? বকুলেরই বা উপায় কি সেটা না হবার?

    বকুলকেও জেঠির সঙ্গে সঙ্গে হয়তো তার নিরিমিষ রান্নাঘরের দরজায় গিয়ে বসতে হত এবং জেঠি শাক বাছতে বাছতে, কিংবা খুন্তি নাড়তে নাড়তে সুমধুর প্রশ্ন করতেন, তা হ্যাঁরে বকুল, তোর বাবা কি নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে? তোর বিয়ের কিছু করছে না?

    বলা বাহুল্য বকুলের দিক থেকে এ প্রশ্নের কোনো জবাব যেতো না। জেঠি পুনঃপ্রশ্ন করতেন, হচ্ছে কোনো কথাবার্তা? শুনতে পাস কিছু? তারপর ওই নিরুত্তর প্রাণীটার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে নির্মলের মায়ের দিকে তাকিয়ে বলতেন, বুঝলে ছোটবৌ…মেয়ের বিয়েটিয়ে আর দিচ্ছে না বকুলের বাবা, লাউ-কুমড়োর মতো পাঁড় রাখবে!

    নির্মলের মা মানুষটা বড় সভ্য ছিলেন, এ ধরনের কথায় বিব্রত বোধ করতেন, কিন্তু দোর্দণ্ড প্রতাপ বড় জায়ের কথার উপর কথা বলার ক্ষমতা তার ছিল না।

    তিনি অতএব শ্যাম কুল দুই রাখার পদ্ধতিতে বলতেন, মা-টি মারা যাওয়াতে আরো গড়িয়ে গেল! নইলে দিদি হয়ে যেতো এতোদিনে। ভদ্রলোক আরও তিন-তিনটে মেয়ে তো পার করেছেন।

    জেঠিমা এ যুক্তিতে থেমে যেতেন না, তেতো-তেতো গলায় বলতেন, করেছেন, তখন সময়কালে। মেয়েরা নিজের ছক্কা পাঞ্জা হয়ে ওঠকার আগে। এবার ক্রমশঃ যতো শেষ, ততো বেশ। বকুল হল নভেলপাড়া একেলে মেয়ে, ও হয়তো একখানা লভ-টিভ করে বসে ব্যাপকে বলে বলবে, বাবা, হাড়ি ডোম বামুন কায়েত যাই হোক, অমুক লোকটার সঙ্গেই বিয়ে করতে চাই।…কী রে বকুল, বলবি নাকি?

    জেঠিমা হেসে উঠতেন।

    জেঠিমার সামনের একটা দাঁত ভাঙা ছিল, সেই ভাঙা দাঁতের গহ্বর দিয়ে হাসিটা যেন ছিটকে ছিটকে বেরিয়ে আসতো।

    তাই জেঠি মিনিট কয়েক পরেই বলে উঠতেন, বকুল, কুমড়োফুলের বড়া-ভাজা খাবি?. কেন, না কেন? পিটুলীবাটা দিয়ে মুচমুচে করে ভেজেছি। নে একখানা ধর। তোরা যখন এ বাড়িতে প্রেথম এলি, তুই তো তখন কাঁথায় শোওয়া মেয়ে, তোর মা মাঝে মাঝে বেড়াতে আসতো। তা একদিন এমনি কুমড়োফুলের বড় ভাজছি, বললাম, গরম গরম ভাঁজছি, খাও দুখানা; খেয়ে অবাক, বলে পিটুলীবাটা দিয়ে যে এমন বড় হয় এ তো কখনো জানি না, ভাল-বাটা দিয়ে হয় তাই জানি।

    বকুলের সেই এক আবেগ-থরথর মুহূর্তের উপর চিলের ডানার ঝাপটা বসিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে এসে এইরকম সব আলাত-পালাত অবান্তর কথা বলতে শুরু করতেন জেঠি, হয়তো বা কিছু খাইয়েও ছাড়তেন। অবশেষে বকুলকে তার বাড়ির দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে তবে ফিরতেন।

    আর শেষবেশ আর একবার বলতেন, তোর বাপকেই এবার ধরতে হবে দেখছি। সোমত্ত মেয়ে শূন্যপ্ৰাণ নিয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াবে, ঘরসংসারে মাথা দেবে না, আর বাপ বসে বসে পরিবারের শোকে তুষ হতে থাকবেন এটা তো নেয্য নয়।

    বকুল মরমে মরে যেতো, বকুল লজ্জায় লাল হয়ে যেতো, বকুল মাথা তুলতে পারতো না। ওই মাথা-নীচু চেহারাটার দিকে তাকিয়ে অনামিকা দেবীর আর একবার মনে হল, বেচারা!

    জেঠির এই নেয্য কথার হূলটির জ্বালা সহজে মিটতো না, অনেকদিন ধরেই তাই ওবাড়ির চৌকাঠে বকুলের পদচিহ্ন পড়তো না। সমন্ত আবেগ আকাঙ্খাকে দমন করে বকুল আপন খাতাপত্রের জগতে নিমগ্ন থাকতে চেষ্টা করতো। কিন্তু সে তপস্যা কি স্থায়ী হত? দুর্বার একটা আকর্ষণ যেন অবিরত টানতে থাকত বকুলকে ওই বাড়িটার দিকে। তাছাড়া ও বাড়ির রাস্তার দিকের জানলায় ছাতের আলসে ধরে একখানি বিষণ্ণ-বিষণ্ণ মুখ মিনতির ইশারায় তপোভঙ্গ করে ছাড়তো।

    ভাবলে হাসি পায়, একটা পুরুষ ছেলে প্ৰায় একটা ভীরুলাজুক তরুণী মেয়ের ভূমিকায় রেখে দিতো নিজেকে।

    বকুল ওই আবেদন-ভরা চোখের আহ্বানকে অগ্রাহ্য করতে পারতো না। বকুল আবার একদিন কোনো একটা ছুতো করে আস্তে ও-বাড়ির দরজায় গিয়ে দাঁড়াতো।

    বকুলের সেই ছুতোটা আদৌ জোরালো হত না, কাজেই ছুতোটা অতি সহজেই ছুতো বলেই ধরা পড়তো।

    কিন্তু অবোধ বকুল আর তার অবোধ প্ৰেমাস্পদ দুজনেই ওরা ভেবে নিতো বড়দের বেশ ফাঁকি দেওয়া গেল।

    যেমন একদিনের কথা-বাবার আবার হাঁপানির টানের মত হয়েছে আর হোমিওপ্যাথির পর বকুলের বাবার আস্থা, এবং পাশের বাড়ির নির্মল নাকি কোন একজন ভালো হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের নাম জানে। এ কি একটা কম বড় ছুতো!

    অতএব বকুল এসে অনায়াসেই নির্মলের মার কাছে জিজ্ঞেস করতে পারে, কাকিমা নির্মলদা কি বাড়ি আছেন? বাবা বলছিলেন নির্মলদা নাকি কোন একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার—মানে সেই হাঁপানি মতনটা আবার একটু—

    স্পষ্ট স্পষ্ট করে নির্মলদা নামটা উচ্চারণ করতে হয়, যেন কিছুই না। যেন ওই নামটা উচ্চারণ করতে গিযে ওর গলা কাঁপে না, ওর বুকের মধ্যেটা কেমন যেন ভয়-ভয় করে না। তবে নির্মলের মা মানুষটি নিতান্তই ভালমানুষ, অতএব সরলচিত্ত। ওই ছেলেবেলা থেকে বড়চিত ছেলেমেয়ে দুটো যে আবার কোনো নতুন পরিচয়ের মধ্যে নতুন হয়ে উঠতে পারে, এমন সম্ভাবনা তার মাথায় আসতো না। এবং তার ভালমানুষ ছেলেটা এবং পাশের বাড়ির নিরীহ মেয়েটা যে তাঁর সঙ্গে এমন চাতুরী খেলতে পারে তা ভাবতেও পারতেন না। কাজে কাজেই জানলা থেকে চোখের ডাক পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে চলে আসা বকুল ওঁর সামনে বেশ সপ্ৰতিভ গলায় বলতে পারতো, কাকিমা নির্মলদা কি বাড়ি আছেন?

    কাকিমার এক মস্ত বাতিক চটের আসন বোনা, তাই তিনি সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে বড় জা ও দজ্জাল ননদের চোখ এড়িয়ে যখন-তখনই ওই চটের আসন নিয়ে বসতেন। ওই আসনের ঘর থেকে চোখ না তুলেই তিনি জবাব দিলেন, নির্মল? এই তো একটু আগেই ছিল। আছে বোধ হয়। দেখগে দিকি তার পড়ার ঘরে। বাবার আবার শরীর খারাপ হল?

    হুঁ।

    আহা তোর মা গিয়ে অবধি যা অবস্থা হয়েছে! মানুষটা আর বোধ হয় বাঁচবে না। যা দেখগে যা। কোন ডাক্তার কে জানে? আমাদের অনাদিবাবু তো-

    ততক্ষণে বকুল হাওয়া হয়ে গেছে। পৌঁছে গেছে নির্মলের পড়ার ঘর, মানে এদের তিনতলার ছাদের চিলেকোঠার ঘরে।

    কিন্তু এসে কি বকুল তার প্ৰেমাস্পদের বুকে আছড়ে পড়তো? নাকি নিবিড় সান্নিধ্যের স্বাদ নিতো?

    কিছু না, কিছু না।

    এ যুগের ছেলেমেয়েরা সেকালের সেই জোলো জোলো প্রেমকে শহুরে গোয়ালার দুধের সঙ্গে তুলনা করবে।

    ধরা সেদিনের কথাই

    বকুল হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বললো, বলতে হল বাবার হাঁপানিটা আবার বেড়েছে, সেই পাপে নিজেরই হাঁপানি ধরে গেল।

    নির্মল এগিয়ে এসে হাতটাও ধরলো না, শুধু কৃতাৰ্থমন্যের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, কাকে বললে?

    বললাম কাকিমাকে। এই মিছে কথা বলার পাপটি হল তোমার জন্যে।

    নির্মলের মুখে অপ্রতিভের ছাপ।

    খুব মিছে কথা আর কি? মেসোমশাই তো ভুগছেনই।

    নির্মলের মাকে বকুল কাকিমা বলে, নির্মলের জেঠাইমাকে জেঠাইমা, কিন্তু নির্মল বকুলের মাকে যে কোন নিয়মে মাসীমা বলতো, আর বাবাকে মেসোমশাই,-কে জানে! তবে বলতো তাই।

    ডাকা হচ্ছিল কেন?

    এমনি। দেখা-টেখা তো হয়ই না। আর। অথচ লাইব্রেরী থেকে সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের একখানা নতুন বই আনা পড়ে রয়েছে।

    বকুল উৎসুক গলায় বলে, কই?

    দেব পারে। আগে একটু বসবে, তবে।

    বসে কি হবে?

    এমনি।

    খালি এমনি আর এমনি! নিজে যেতে পারেন না বাবু!

    নিজে?

    নির্মল একটা ভয়ের ভান করে বলে, ও বাবা! তোমার বড়দার রক্তচক্ষু দেখলেই গায়ের রক্ত বরফ হয়ে যায়! যা করে তোকান আমার দিকে!

    বড়দা তোমার থেকে কী এমন বড় শুনি যে এতো ভয়! বাবা তো কিছু বলেন না। মা তো—তোমাকে কতো–

    হা, মাসীমা তো কত ভালোবাসতেন। গেলে কতো খুশি হতেন। কিন্তু বড়দা? মানে বেশী বড় না হলেও, সাংঘাতিক ম্যান! পুলিস অফিসার হওয়াই ওঁর উপযুক্ত পেশা ছিল।

    তা আমারই বুঝি খুব ইয়ে? পিসি আর জেঠির সামনে পড়ে গেলে-

    এই, আজকে পড়নি তো?

    নাঃ! জেঠিমা বোধ হয় পুজোর ঘরে। আর পিসি রান্নাঘরে।

    সত্যি ওঁদের জন্যে তোমার-

    নির্মল একটা হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে।

    বকুলের চোখে আবেগের ছায়া।

    বকুল ক্ষুব্ধ অভিমানের গলায় বলে, সত্যি, ওঁদের জন্যে তোমার-বলে নিঃশ্বাস ফেললেই তোমার সব কাজ মিটে গেল, কেমন?

    কী করবো বল?

    ঠিক আছে। আমি আর আসছি না।

    না না, লক্ষ্মীটি, রাণীটি! অত শাস্তি দিও না।

    ওই!

    প্ৰেম সম্বোধনের দৌড় ওই পর্যন্তই।

    আর প্রেমালাপের নমুনাও তো সেই লাইব্রেরীর বই, আর কেউ আসছে কিনা এইটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

    কেউ এসে তো কোনো দৃশ্যই দেখবে না, তবু ভয়।

    ভয়-ভয়! ভালবাসা মানেই ভয়।

    বারেবারেই মনে হয় পিছনে বুঝি কেউ এসে দাঁড়ালো। বারেবারেই মনে হয় বাড়িতে হঠাৎ খোঁজ পড়লেই ধরা পড়বে বকুল নির্মলদের বাড়ি গেছে।

    সেই ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তো ধরা পড়ে যাবে ওই ছুতোটা ছুতোই।

    বাবা বলবেন, কই, নির্মলকে বলতে যেতে তো বলিনি! শুধু বলেছিলাম, নির্মলদের বাড়িতে তো বড় বড় অসুখেও হোমিওপ্যাথি চালায়!

    আর দাদা বলবে, ও বাড়িতে গিয়েছিলি কী জন্যে? ও বাড়িতে? কী দরকার ওখানে? ধিঙ্গী মেয়ের এতো স্বাধীনতা কিসের?

    তবু না এসেও তো পারা যায় না।

    তবে এ বাড়িতে মুখোমুখি কেউ বলে ওঠে না, এ বাড়িতে এসেছ কি জন্যে? এ বাড়িতে? এতো বেহায়ামি কেন?

    এ বাড়িতে যেন সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি।

    দৈবাৎ যদি জেঠি এসে উপস্থিত নাও হন, সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামবার সময় তো কারুরনা-কারুর সঙ্গে দেখা হয়েই যাবে। হয়তো পিসিরই সঙ্গে।

    পিসিও ভুরু কুঁচকে বলবে, বকুল যে। কতক্ষণ এসেছিস?

    বকুলকে বলতে হবে, এই একটু আগে।

    কোথায় ছিলি? কই দেখিনি তো?

    ইয়ে-নির্মলদা লাইব্রেরীর একটা বই দেবেন বলেছিলেন–

    ও; বই! তা ভাইপোটাকে একটু পাঠিয়ে দিলেও তো পারিস বাছা! বাপের এই অসুখ, আর তুই ডাগর মেয়ে বই বই করে তাকে ফেলে রেখে এসে-আবার সেই হাঁপাতে হাঁপাতে তিনতলার ছাদে যাওয়া। নির্মল ছিল বাড়িতে?

    হাঁ।

    গলার মধ্যে মরুভূমি, চোখের সামনে অর্থই সমুদ্র। তবু সেই গলাকে ভিজিয়ে নিয়ে বলতে হয়–হ্যাঁ। এই যে দিলেন বই।

    নভেল-নাটক?

    ইয়ে, না। গল্পের বই।

    ওই একই কথা! তা এ বয়সে এতো বেশী নভেল-নাটক না পড়াই ভালো মা, কেবল কুচিন্তা মাথায় আসার গোড়া। বাবা গা করছেন না তাই, নচেৎ বয়সে বিয়ে হলে তো এতো দিনে দুছেলের মা হয়ে বসতিস।

    এই উপদেশ! এই ভাষা!

    তাই বকুল বলে, এই ছাত থেকে ছাতে যদি অদৃশ্য হয়ে উড়ে যাওয়া যেতো!

    প্ৰভাত মুখুয্যের মনের মানুষের গল্পের মতো!

    যা বলেছ। সত্যি ভীষণ ইচ্ছে হয় স্বপ্নে কোনো একটা শেকড় পেলাম, যা মাথায় ছোঁয়ালেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া যায়! তোমার মাথায় আর আমার মাথায় ঠেকিয়ে নিয়ে বেশ সকলের নাকের সামনে বসে গল্প চালানো যায়-

    হঠাৎ ভীরু নির্মল একটা সাহসীর কাজ করে বসে।

    সম্মুখবর্তিনীর একখানা হাত চেপে ধরে হেসে বলে ৰসে, অদৃশ্য হলে বুঝি শুধুই গল্পে ছাড়বো?

    আহা! ধ্যেৎ!

    ওই আহার সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য হাত ছাড়ানো হয়ে গেছে।

    ছাত থেকে ছাতে একটা ফেলা সিঁড়ি থাকলে বেশ হত! ডিটেকটিভ গল্পে যেমন দড়ির মইটই থাকে-

    হ্যাঁ, এমনই সব কথা।

    কিন্তু কেন যে, ওই সব দূরূহ পথের চিন্তা, তা দুজনের একজনও জানে না।

    শুধু যেন দেখা হওয়াটাই শেষ কথা।

    বকুল এ-যুগের এই অনামিকা দেবীর ভাইঝির মতো বলে উঠতে পারবার কথা কল্পনাও করতে পারতো না, আগে মনস্থির কর বাড়ির অমতে বিয়ে করতে পারবে এবং বিয়ে করে বৌকে রাজার হালে রাখতে পারবে, তবে প্রেমের বুলি কপচাতে এসো!

    বকুলের যুগ অন্য ছিল।

    বকুল মেয়েটাও বোধ হয় আরো বেশী অন্য টাইপের ছিল।

    তাই বকুলের অভিমান ছিল না, অভিযোগ ছিল না, শুধু ভালবাসা ছিল। মানে সেই গোয়ালার দুধের জোলো ভালোবাসাই।

    বকুল বললো, কই বইটা দাও, পালাই।

    এসেই কেবল পালাই-পালাই!

    তা কী করবো, বাঃ!

    যদি যেতে না দিই, আটকে রাখি?

    ইস! ভারী সাহস। আটকে রেখে করবে কি?

    কিছু না এমনি।

    সঙ্গীন মুহূর্তগুলো এইভাবেই ব্যর্থ করতো নির্মল।

    কারণ ওর বেশী ক্ষমতা তার ছিল না।

    ওই ছেলেটার দিকে তাকিয়েও মায়া হয় অনামিকা দেবীর।

    বলতে ইচ্ছে করে, বেচারা!

    কিন্তু সেদিন ওই বেচারাও রেহাই পায়নি। শেষরক্ষা হয়নি। যখন বইটা হাতে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে, সামনেই জেঠি জপের মালা হাতে।

    ওমা, ই কি কাণ্ড! বকুল তুই এখানে? ওদিকে তোদের বাড়ি থেকে-তা বই নিতে এসেছিলি বুঝি?

    হুঁ।

    আমি তো তা জানি না। তাহলে বলে দিতাম তোর ভাইপোকে। আমি এসেছি ছাদটা পরিষ্কার আছে কিনা দেখতে। দুটো বড়ি দেব কাল।

    কাল বড়ি দেবেন জেঠি, আজ তাই জপের মালা হাতে ছুটে এসেছেন, ছাদ পরিষ্কার আছে কিনা দেখতে!

    আর ভাইপো?

    সে খবরটা সম্পূর্ণ কল্পিতও হতে পারে। জানা তো আছে বকুল বাড়ি গিয়ে ভেরিফাই করতে যাবে না। অথবা সত্যিই হতে পারে। বড়দা যেই টের পেয়েছে বকুল বাড়ি নেই, পাঠিয়েছে।

    .

    কলকাতার দক্ষিণ অঞ্চলে রাজেন্দ্রলাল স্ট্রীটের একেবারে রাস্তার উপর বয়সের ছাপধরা এই বাড়িখানার দোতলায় সাবেকি গড়নের টানা লম্বা দালানের উঁচু  দেয়ালে সিঁড়ির একেবারে মুখোমুখি চওড়া ফ্রেমের বেষ্টনীর মধ্যে আবদ্ধ যে মুখখানি দেদীপ্যমান, সে মুখ এ বাড়ির মূল মালিক প্ৰবোধচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের।

    চারিদিকে খোলা জমির মাঝখানে সস্তায় জমি কিনে তিনিই এই বাড়ি খানি বানিয়ে একান্নাবর্তী পরিবারের অন্ন-বন্ধন ছিন্ন করে এসে আপন সংসারটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বর্তমান মালিকরা, অর্থাৎ প্ৰবোধচন্দ্রের পুত্ররা এবং তাদের বড়ো-হয়ে-ওঠা পুত্ররা অবশ্য প্ৰবোধচন্দ্রের দূরদর্শিতার অভাবকে ধিক্কার দেয়, কারণ আশেপাশের সেই ফেলাছড়া সস্তা জমির দুচার কাঠা জমি কিনে রাখলেও এখনকার বাজারে সেইটুকু জমি বেচেই লাল হয়ে যাওয়া যেতো। কিন্তু অদূরদর্শী প্ৰবোধচন্দ্ৰ কেবল নিজের মাপের মতো জমি কিনে আজেবাজে প্ল্যানে শুধু একখানা বাড়ি বানিয়ে রেখেই কর্তব্য শেষ করেছিলেন; যে বাড়িটায় তার পুত্র-পৌত্রবর্গের মাথা গুঁজে থাকাটুকু পর্যন্তই হয়। তার বেশি হয় না। অথচ সুপরিকল্পিত নক্সায় ফ্ল্যাটবাড়ির ধাঁচে বাড়িটা বানালে যে, একতলার খানিকটা অংশ ভাড়া দিয়ে কিছুটা আয় করা যেত এখন, সেটা সেই ভদ্রলোকের খেয়ালেই আসেনি।

    এদেরও অথচ খেয়ালে আসে না, ফ্ল্যাট শব্দটাই তখন অজানা ছিল তাঁদের কাছে! তখন সমাজে ফ্ল্যাটের অনুপ্রবেশ ঘটাবার আভাসও ছিল মা! বাসা ভাড়া, ঘর ভাড়া, বাড়ি ভাড়া এই তো কথা।

    খেয়াল হয় না বলেই যখন-তখন সমালোচনা করে।

    তবে হ্যাঁ, স্বীকার করে ঘরটরগুলো ঢাউশ ঢাউশ, আর ফালতু ফালতু এদিক ওদিক ক্ষুদে ক্ষুদে ঘরের মতন থাকায় ফেলে ছড়িয়ে বাস করার সুবিধে আছে।

    কিন্তু ওই যে লম্বা দালানটা একতলায়, দোতলায়? কী কাজে লাগে ও দুটো? যখন সপরিবারে পিঁড়ি পেতে পংক্তিভোজনে বসার ব্যবস্থা ছিলো, তখন নীচের তলার দালানটা যদিও বা কাজে লাগতো, এখন তো তাও নেই। এখন তো আর পরিবারের সকলেই একান্নভুক্ত নয়? যাঁরা আছেন তাঁরা নিজ নিজ অন্ন পৃথক করে নিয়েছেন এবং খাবার জন্যে এলাকাও ভাগ করে নিয়েছেন।

    প্ৰবোধচন্দ্রের বড় ছেলে অবশ্য এখন আর ইহ-পৃথিবীর অন্নজলের ভাগীদার হয়ে নেই, তার বিধবা স্ত্রী একতলায় নিজস্ব একটি পবিত্র এলাকা ভাগ করে নিয়ে আপন হবিষ্যান্নের শুচিতা রক্ষার মধ্যে বিরাজিতা, তারই জ্যৈষ্ঠপুত্র অপূর্ব দোতলার ঘর-বারান্দা ঘিরে নিয়ে নিজের মেলোচ্ছপনার গণ্ডির মধ্যে বিরাজমান।

    অপুর্বর আর দুই ভাই চাকরি-সূত্রে ঘরছাড়া, তারা দৈবাৎ কোনো ছুটিতে কেউ আসে, কোনোদিন মায়ের রান্নাঘরে, কোনোদিন বৌদির রান্নাঘরে, আর কোনো-কোনোদিন নেমন্তন্ন খেয়েই কাটিয়ে চলে যায়। একজন থাকে রেঙ্গুনে, একজন ত্রিপুরায়, যেতে আসতেই সময় যায়। নেমন্তম জোটে কাকাদের ঘরে, শ্বশুরবাড়ির দিকের আত্মীয়দের বাড়িতে, কদাচ বড় পিসির বাড়ি। কলকাতায় বড় পিসি চাঁপাই আছে।

    প্ৰবোধচন্দ্রের মেজ ছেলে, যাঁর ডাকনাম কানু, তার সংসার নিয়ে দোতলার আর এক অংশে বাস করেন। তিনি। তাঁর গিন্নী বাতের রোগী, নড়াচড়া কম, ছেলেমেয়েরা চাপা আর মুখচোরা স্বভাবের, তাদের সাড়াশব্দ খুব কম পাওয়া যায়।

    মেজ কানুও তার বড়দা-বড়বৌদির নীতিতে বিশ্বাসী, মেয়েদের যতো তাড়াতাড়ি পেরেছেন বিয়ে দিয়ে ফেলেছেন, বিবাহিতা মেয়েদের আসা-যাওয়া কম, কারণ কানু নামের ব্যক্তিটি আয়-ব্যয় সম্পর্কে যথেষ্ট সতর্ক, হৃদয়কে প্রশ্রয় দিতে গেলেই যে পকেটের প্রতি নির্দয়তা হবে, তা তিনি বোঝেন।

    বুঝতেও হয়, কারণ সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন।

    আর আছেন প্ৰবোধচন্দ্রের সেজ ছেলে, ডাকনাম মানু, ভাল নাম প্রতুল। বর্তমানে যিনি ছোট।

    এ পরিবারের পোশাকী নামের ব্যাপারে প্ৰয়ের প্রতাপ প্ৰবল!

    সুবল নামের যে ছোট ছেলেটি একদা প্ৰবোধচন্দ্রের সংসারে সম্পূর্ণ বহিরাগতের ভূমিকায় নির্লিপ্ত মুখে ঘুরে বেড়াতে, সংসার-টংসার করেনি, সে অনেকদিন আগে চলে গেছে তার জায়গা ছেড়ে দিয়ে।

    বরাবর ছোড়দা বলে বকুল।

    ছোড়দার রান্নাঘরেই বকুলের ঠাঁই।

    প্ৰবোধচন্ত্রের এই সৃষ্টিছাড়া ছোট মেয়েটা তো চিরদিনের জন্যই এই সংসারে শিকড় গেড়ে বসে আছে।

    .

    মৃত্যুকালে প্ৰবোধচন্দ্ৰ তার পুরনো বাড়ির নবনির্মিত তিনতলার ঘর বারান্দা ছাদ ইত্যাদি কেনই যে তার চির বিরক্তিভাজন হাড়জালানী ছোট মেয়ের নামে উইল করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই এক রহস্য। তবে দিয়ে গিয়েছিলেন। তার পুত্রদের চমকিত বিচলিত ও গোত্ৰান্তরিত কন্যাদের ঈর্ষিত করে।

    তিনতলার ওই ঘরের সংলগ্ন একটুকরো ঘরের মতও আছে রান্নাবাবদ কাজে লাগাতে, কিন্তু সে কাজে কোনোদিন লাগেনি সেটা। সেখানে অনামিকা দেবীর ফালতু বই কাগজের বোঝা থাকে স্তুপীকৃত হয়ে।

    পিতৃগোত্রের মধ্যে অবিচল থেকে অনামিকা অবিচল সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন।

    অনামিকার আমলে প্ৰবোধচন্দ্রের মত রক্ষণশীল ব্ৰাহ্মণের ঘরে বিয়ে না হয়ে পড়ে থাকা মেয়ের দৃষ্টান্ত প্রায় অবিশ্বাস্য, তবু এহেন অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেও ছিল। ঘটেছিল নেহাৎই ঘটনাচক্রে। না, কোনো উল্লেখযোগ্য কারণে নয়, স্রেফ ঘটনাচক্রেই।

    নামের আগে চন্দ্ৰবিন্দু হয়ে যাওয়া সেই প্ৰবোধচন্দ্রের রাশ খুব ভারী না হলেও গোঁয়ার্তুমি ছিল প্ৰবল, তিন-তিনটে মেয়ের যথাবয়সে যথারীতি বিয়ে দিয়ে এসে ছোট মেয়ের বেলায় তিনি যে হেরে গেলেন, সেটা মেয়ের জেদে অথবা তার চিরকুমারী থাকবার বায়নায় নয়, নিতান্তই নিজের আলস্যবশতঃ।

    অথবা শুধুই আলস্য নয়, আরো কিছু সূক্ষ্ম কারণ ছিল।

    তাঁর চার ছেলে আর চার মেয়ের মধ্যে সাত-সাতটাই তো হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল, ছেলেদের মধ্যে তিনটিকে নিয়ে নিয়েছিল বৌরা অর্থাৎ পরের মেয়েরা। সেই ছেলেদের পোশাকী এক-একটা গালভরা নাম থাকলেও ডাকনাম তো ওই ভানু, কানু আর মানু; বাকি ছেলেটাকে কোনো পরের মেয়ে এসে দখল করে নিতে পারেনি, কারণ সুবল নামে সেই ছেলেটাকে তো কারো দখলে পড়ার আগে ভগবানই নিয়ে নিয়েছিলেন।

    আর মেয়ে চারটের মধ্যে চাপা, চন্দন আর পারুল নামের বড় মেজো সেজো তিনটিকে যথারীতি হাতিয়ে নিয়েছিল পরের ছেলেরা। হয়তো সেই জন্যেই জামাইদের দুচক্ষে দেখতে পারতেন না প্ৰবোধচন্দ্ৰ। স্ত্রী-বিয়োগের পর আরো। মেয়েদের আনাআনির নামও করতেন না, সঙ্গে সঙ্গে ওই জামাইরা আর তাদের ছানা-পোনারা এসে ভিড় বাড়ায় এই আশঙ্কায়।

    অতএব শেষ ভরসা সর্বশেষটি।

    তাকে হাতছাড়া করার ভয়ে তার বয়স সম্পর্কে চোখ বুজে থেকে থেকে ভদ্রলোক যখন চিরতরে চোখ বুজলেন যে, তখন আর তার বিয়ে দেবার প্রশ্ন ওঠে না। কাজে কাজেই তার দাদারা সে প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামাতে বসলো না।

    আর বসবেই বা কি? পারুলের জুড়ি বকুল নামের সেই শান্ত নম্র নিরীহ মেয়েটা যে তখন অন্য নামে ঝলসে উঠে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েছে।

    তাছাড়া-বাপের উইল!

    সেই উইলের বলে বকুল যদি এ বাড়ির একাংশ দখল করে বসে থাকতেই পায়, তাকে আর বাড়িছাড়া করবার চেষ্টায় লাভ কী? বরকে সুদ্ধু নিয়ে এসে বসলেই কি ভালো?

    অতএব বিশেষ কোনো কারণে নয়, বিশেষ কোনো ইতিহাস সৃষ্টি করে নয়, নিতান্ত মধ্যবিত্ত এবং নেহাতই মধ্যবিত্ত এই পরিবারের একটা মেয়ে সেকালের সমাজ নিয়মের বজ্রআঁটুনির মধ্য থেকে ফসকে বেরিয়ে পড়ে একালের সমাজে চরে বেড়াচ্ছে।

    এখন আর কে কী বলবে? একালে কেউ কাউকে কিছু বলে না।

    কিন্তু একালের সমাজে পড়ার আগে?

    তা তখন বলেছিল বৈকি অনেকে অনেক কথা। প্ৰবোধচন্দ্ৰ অনেক দিন আগে যে–পরিবারের একান্নের বন্ধন ছিন্ন করে চলে এসেছিলেন, তারা বলেছিলো। মহিলাকুল গাড়ি ভাড়া করে কলকাতার উত্তর অঞ্চল থেকে দক্ষিণ অঞ্চলে এসে হাজির হয়ে বংশমর্যাদার কথা শুনিয়ে গিয়েছিল, তবে সেই বলার মধ্যে তেমন জোর ফোটাতে পারেনি তারা, কারণ ততদিনে তো আসামী পলাতক!

    প্ৰবোধচন্দ্রের মৃত্যুর পরই না তাদের টনক নড়েছিল? শ্রাদ্ধের সময় জ্ঞাতিভোজনে এসেই তো দেখে হাঁ হয়ে গিয়ে বয়েস হিসেব করতে বসেছিল এই অবিশ্বাস্য ঘটনার নায়িকার।

    তাছাড়া ততোদিলে–বকুলের অন্য নামটাও দিব্যি চাউর হয়ে উঠেছে।

    মোট কথা, তালগোল অথবা গোলে-হরিবোলে, বকুল রাজেন্দ্রলাল স্ট্রীটের এই বাড়িটায় শেকড় গেড়ে বসে থেকে চোখ মেলে দেখে চলেছে কেমন করে বাড়ির চারিপাশের উদার শূন্যতা সংকীর্ণ হয়ে আসছে, আর সমাজের বন্ধ সংকীর্ণতা উদার হয়ে পড়ছে।

    বকুলের নিজের জীবনটার সঙ্গে বুঝি এই পাড়াটার মিল আছে। বকুলের নিজের মধ্যে কোনোখানে আর হাঁফ ফেলবার মত ফাঁকা জমি পায় না বকুল, কোনোদিন যে কোনোখানে অনেকখানি শূন্যতা ছিল, তা স্মরণে আনতেও সময় নেই তার, সবখানটাই ঠাসবুনুনিতে ভর্তি। ঠিক ওই রাস্তার ধারের বাড়ির সারির মত।

    রাস্তার ধার থেকে দেখলে শুধু একসারি। আর তিনতলায় ওপরের ছাদে উঠলে——তার পিছনে, আরো পিছনে শুধু বাড়ি আর বাড়ির সারি।

    কিন্তু তিনতলারও ওপরের ছাদে উঠে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার মত বিলাসিতার সময় কোথায় বকুলের? ঘরের সামনের ছাদটুকুতে একটু দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখার সময় হয় না!

    আশ্চর্য!

    যখন সময় ছিল, তখন এই তিনতলার ওপরের ছাদটা পেলে একটা রাজ্য পাওয়ার সুখানুভূতি হতে পারতো, তখন ওটার জন্ম হয়নি। এখন কদাচ কোনোদিন ওই ছাদটায় ওঠবার সরু লোহার সিঁড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে মনে মনে কল্পনা করে বকুল, বকুলের কৈশোরকালে যদি এটা থাকতো!

    থাকলে যে কী হতো তা জানে না বকুল, যদি থাকতো ভাবতে গেলেই অন্য একটা বাড়ির ছাদে একখানা হাসি-হাসি মুখ ভেসে ওঠে।

    যে মুখের অধিকারীকে সেজদি পারুল বলতো, বোকা, হাঁদা, নীরেট।

    অবিশ্যি সে-সব তো সেই তামাদি কালের কথা। যখন এক-আধবার আসতো পারুল বাপের বাড়িতে। অনেক দিন আগে বিয়ে হওয়া তিন মেয়ের মধ্যে পারুলই মা মারা যাওয়ার পরও মাঝে মাঝে এসেছে।

    আর চাপা, চন্দন?

    তারা তো আর মরণকালে কেঁদে কেঁদে বলেছিলই, মা তুমিও চললে, আমাদেরও বাপের বাড়ি আসা ঘুচলো—

    যদিও তখন সেখানে উপস্থিত মহিলাকুল, যাঁরা নাকি ওদের খুড়ি জেঠি পিসি, তারা বলেছিলেন, ষাঠ-ষাঠ, বাপ বেঁচে থাকুন একশ বছর পরমায়ূ নিয়ে–

    ওরা সেই ক্ৰন্দন-বিজড়িত গলাতেই সতেজ সংসারের নিয়ম বুঝতে দিয়েছিল গুরুজনবৰ্গকে। বলেছিল, থাকুন, একশো কেন হাজার বছর, মা মরলে বাপ তালুই, এ আর কে না জানে?

    হয়তো মা থাকতেই বাপের ব্যবহারে তার আঁচ পেয়েছিল তারা। টের পেতো বাবার একান্ত অনিচ্ছার ওপরও মা প্ৰায় জোর করেই তাদের নিয়ে আসেন। যদিও এও ধরা পড়তে নাকি থাকতো না-এই যুদ্ধের মধ্যে স্নেহবিগলিত চিত্তটা ততো নয়, কর্তব্যবোধটাই কাজ করেছে বেশী।

    সুবৰ্ণলতার এই প্ৰবল কর্তব্যবোধটাই তো প্ৰবোধচন্দ্ৰকে চিরকাল জব্দ করে রেখেছিল। প্ৰবোধচন্দ্ৰ বুঝে উঠতে পারতেন না নিজের জীবনটা নিয়ে নিজে যা খুশি করতে পারে না কেন মানুষ।

    নেহাৎ অসচ্ছল অবস্থা না হলে-মানুষ তো অনায়াসেই খাওয়া থাকা আয়েস আরাম সুখভোগ করে কাটিয়ে দিতে পারে, তবে কী জন্যে মানুষ কর্তব্য নামক বিরক্তিকর একটা বস্তুকে নিয়ে ভারগ্রস্ত হতে যাবে? সেই বস্তুটার পিছনে পিছনেই তো আসবে যাতে রাজ্যের চিন্তা, আর যতো রাজ্যের অসুবিধে।

    প্ৰবোধচন্দ্রের এই মতবাদের সঙ্গে চিরকাল লড়ালড়ি ছিল সুবৰ্ণলতার, কিন্তু শেষের দিকে কতকগুলো দিন যেন সুবৰ্ণলতা হাত থেকে অস্ত্ৰ নামিয়ে যুদ্ধবিরতির অন্ধকার শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    মায়ের কথা মনে করতে গেলেই বকুলের মায়ের সেই নির্লিপ্ত নিরাসক্ত হাত থেকে হালনামানো মূর্তিটাই মনে পড়ে।

    মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই সুবৰ্ণলতা যেন এ সংসার থেকে বিদায় নিয়ে নিজেকে মৃতের পর্যায়ে রেখে দিয়েছিলেন। সেই মৃত্যুর শীতলতার মধ্যে কেটেছে বকুলের কৈশোরকাল।

    তবু আশ্চৰ্য, সেই শীতলতার মধ্যেই ফুটেছে ফুল, জ্বলেছে আলো।

    তারপর তো সুবৰ্ণলতা সত্যিই বিদায় নিলেন।

    তার কতোদিন যেন পরে সে-বার পারুল এলো বাপেরৰাড়ি।

    ঠিক মনে পড়ে না কবে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুবর্ণলতা – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }